মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

দিনাজপুরে শিশু রুহি হত্যা লাশ গুমের ঘটনায় মা ও কথিত প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩



দিনাজপুরে শিশু রুহি হত্যা লাশ গুমের ঘটনায় মা ও কথিত প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩
গ্রেফতারকৃত রিপন টুডু, সুজন টুডু ও শিশুটির মা জিন্নাতুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

দিনাজপুরের জামতলী বাজার এলাকায় চার বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহি হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আট ঘন্টা অভিযান চালিয়ে শিশুর রুহির বস্তাবন্দী অর্ধ গলিত লাশ ও হাড় কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন—রিপন টুডু (৩৫) ও সুজন টুডু (২০)। এর মধ্যে রিপন টুডুকে এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার রিপন টুডুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার সকালে জামতলী এলাকার একটি নারকেল বাহান থেকে শিশু রুহির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সোমবার রাতে রিপন টুডুকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও শিশুটির সন্ধান পায়নি পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য পুনরায় যাচাই করে মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন। 

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রিপন টুডু দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের জামতলী বাজারসংলগ্ন এলাকার নেপাল টুডুর ছেলে। সুজন টুডু একই এলাকার বাসিন্দা এবং রিপন টুডুর ভাতিজির জামাতা বলে পুলিশ জানিয়েছে। শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগম সদর উপজেলার নশিপুর গ্রামের জমশেদ আলীর মেয়ে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জিন্নাতুন বেগমের সঙ্গে রিপন টুডুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। জিন্নাতুনের আগের সংসারে চার বছর বয়সী মেয়ে রাকিবা আক্তার রুহি ছিল। আদিবাসী রিপন টুডুর সাথে জিন্নাতুন এর প্রেমের সম্পর্ক থাকায়। গত ছয় মাস পূর্বে জিন্নাতুন তার মেয়েকে নিয়ে রিপন টুডুর বাড়িতে বসবাস শুরু করে।

 শিশু রুহিকে নিয়ে রিপন টুডু ও জিন্নাতুনের মধ্যে বিভিন্ন সময় বিরোধ সৃষ্টি হতো।  গত ৫ জুন রাতে কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে রিপন টুডুর সঙ্গে শিশু রুহির কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিশুটির ওপর নির্যাতন করে রিপন টুডু। সাথে যুক্ত হয় জিন্নাতুন বেগম। শিশু রুহি কান্নাকাটি শুরু করলে শিশুটির গলা ও মুখ ওড়না দিয়ে চিপে ধরে। একপর্যায়ে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে গেলে এক পর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পরে রাতেই রিপন টুডু মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সুজন টুডুকে ডেকে আনে।

এরপর শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের নারকেল বাগানে  ৬ ফুট গর্ত করে বস্তার মধ্যে ঢুকিয়ে মাটিচাপা দেয়া সুজন টুডু আর রিপন টুডু।

ঘটনাটি আড়াল করতে ওই স্থানের আশপাশে অন্য একটি গর্ত করে সেখানে একটি কুকুরের মরদেহ পুঁতে রাখে রিপন টুডু ।

রিপন টুডুকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার রাতে তাকে সঙ্গে নিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে অভিযানে নামে দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জামতলী বাজারসংলগ্ন আমবাগান, হলুদখেত ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর তল্লাশি চালানো হয়।

অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন কয়েকটি স্থানে মাটি খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরে গ্রেপ্তার রিপন টুডুর দেওয়া তথ্য পুনরায় যাচাই করে মঙ্গলবার সকালে দ্বিতীয় দফায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। 

একপর্যায়ে জামতলী এলাকার একটি নির্জন ও নারকেল বাগাের নির্দিষ্ট স্থান শনাক্ত করা হয়। সেখান থেকে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহাদাত হোসেন, দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিমসহ সাদা পোশাক ও পোশাকধারী পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গ্রেপ্তার রিপন টুডুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে শিশু রুহির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রিপন টুডু ও শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সুজন টুডুকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এদিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে জামতলী এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। 

উল্লেখ্য যে, গ্রেপ্তারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ এর আগে শিশু রুহির সন্ধান এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গত রোববার জামতলী বাজার এলাকায় বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। 

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দিনাজপুরে শিশু রুহি হত্যা লাশ গুমের ঘটনায় মা ও কথিত প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের জামতলী বাজার এলাকায় চার বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহি হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আট ঘন্টা অভিযান চালিয়ে শিশুর রুহির বস্তাবন্দী অর্ধ গলিত লাশ ও হাড় কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন—রিপন টুডু (৩৫) ও সুজন টুডু (২০)। এর মধ্যে রিপন টুডুকে এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার রিপন টুডুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার সকালে জামতলী এলাকার একটি নারকেল বাহান থেকে শিশু রুহির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সোমবার রাতে রিপন টুডুকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও শিশুটির সন্ধান পায়নি পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য পুনরায় যাচাই করে মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন। 

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রিপন টুডু দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের জামতলী বাজারসংলগ্ন এলাকার নেপাল টুডুর ছেলে। সুজন টুডু একই এলাকার বাসিন্দা এবং রিপন টুডুর ভাতিজির জামাতা বলে পুলিশ জানিয়েছে। শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগম সদর উপজেলার নশিপুর গ্রামের জমশেদ আলীর মেয়ে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জিন্নাতুন বেগমের সঙ্গে রিপন টুডুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। জিন্নাতুনের আগের সংসারে চার বছর বয়সী মেয়ে রাকিবা আক্তার রুহি ছিল। আদিবাসী রিপন টুডুর সাথে জিন্নাতুন এর প্রেমের সম্পর্ক থাকায়। গত ছয় মাস পূর্বে জিন্নাতুন তার মেয়েকে নিয়ে রিপন টুডুর বাড়িতে বসবাস শুরু করে।

 শিশু রুহিকে নিয়ে রিপন টুডু ও জিন্নাতুনের মধ্যে বিভিন্ন সময় বিরোধ সৃষ্টি হতো।  গত ৫ জুন রাতে কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে রিপন টুডুর সঙ্গে শিশু রুহির কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিশুটির ওপর নির্যাতন করে রিপন টুডু। সাথে যুক্ত হয় জিন্নাতুন বেগম। শিশু রুহি কান্নাকাটি শুরু করলে শিশুটির গলা ও মুখ ওড়না দিয়ে চিপে ধরে। একপর্যায়ে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে গেলে এক পর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পরে রাতেই রিপন টুডু মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সুজন টুডুকে ডেকে আনে।

এরপর শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের নারকেল বাগানে  ৬ ফুট গর্ত করে বস্তার মধ্যে ঢুকিয়ে মাটিচাপা দেয়া সুজন টুডু আর রিপন টুডু।

ঘটনাটি আড়াল করতে ওই স্থানের আশপাশে অন্য একটি গর্ত করে সেখানে একটি কুকুরের মরদেহ পুঁতে রাখে রিপন টুডু ।

রিপন টুডুকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার রাতে তাকে সঙ্গে নিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে অভিযানে নামে দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জামতলী বাজারসংলগ্ন আমবাগান, হলুদখেত ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর তল্লাশি চালানো হয়।

অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন কয়েকটি স্থানে মাটি খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরে গ্রেপ্তার রিপন টুডুর দেওয়া তথ্য পুনরায় যাচাই করে মঙ্গলবার সকালে দ্বিতীয় দফায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। 

একপর্যায়ে জামতলী এলাকার একটি নির্জন ও নারকেল বাগাের নির্দিষ্ট স্থান শনাক্ত করা হয়। সেখান থেকে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহাদাত হোসেন, দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিমসহ সাদা পোশাক ও পোশাকধারী পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গ্রেপ্তার রিপন টুডুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে শিশু রুহির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রিপন টুডু ও শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সুজন টুডুকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এদিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে জামতলী এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। 

উল্লেখ্য যে, গ্রেপ্তারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ এর আগে শিশু রুহির সন্ধান এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গত রোববার জামতলী বাজার এলাকায় বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। 


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream