সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

জয়পুরহাটে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, আটক ৫



জয়পুরহাটে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, আটক ৫
জয়পুরহাটে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, আটক ৫

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে অজ্ঞাতনামা এক যুবককে হত্যা এবং অপর একজনকে গুরুতর আহত করে ফেলে রাখার ঘটনায় ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষেতলাল থানাধীন মাহমুদপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর মৌজার সাকিদাড়পাড়া গ্রামের পদ্মপুকুর হাওরের কাঁচা রাস্তার ওপর গত ১৫ আগস্ট অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। এ সময় মরদেহের পাশে অপর এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

নিহত ব্যক্তি হলেন ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের নলপুকুর আদর্শ গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে বাদশা মিয়া (২৫)। আহত ব্যক্তি একই গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে মাজেদুল ইসলাম (১৮)।

ঘটনার পর বিষয়টি জেলা পুলিশের নজরে এলে পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)-এর নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি চৌকস দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেন।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গত ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে জামালগঞ্জ চারমাথায় মেসার্স জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে রাখা একটি বাসের ছাদে থাকা স্পেয়ার চাকা চুরির চেষ্টা করছিলেন বাদশা ও মাজেদুল। এ সময় বাসের চালক রফিকসহ পাম্পের কয়েকজন কর্মচারী তাদের চোর সন্দেহে আটক করে মারধর করেন। পরে কিছু সময়ের জন্য তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশের দাবি, পরবর্তীতে শান্তর নেতৃত্বে কয়েকজন পুনরায় সংগঠিত হয়ে বাদশা ও মাজেদুলকে আটক করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মারধর করা হয়। একপর্যায়ে বাদশা মারা গেলে এবং মাজেদুলকে মৃত মনে করে তারা দুজনকেই ক্ষেতলাল থানাধীন মহব্বতপুর মৌজার সাকিদাড়পাড়া গ্রামের পদ্মপুকুর হাওরের কাঁচা রাস্তার ওপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী পলাতক আসামি শান্তকে গ্রেপ্তারের জন্য জয়পুরহাট ডিবি পুলিশের একটি দল নওগাঁ ও বগুড়া জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে।

জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, নিহত বাদশা মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষেতলাল থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে৷ 

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


জয়পুরহাটে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, আটক ৫

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে অজ্ঞাতনামা এক যুবককে হত্যা এবং অপর একজনকে গুরুতর আহত করে ফেলে রাখার ঘটনায় ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষেতলাল থানাধীন মাহমুদপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর মৌজার সাকিদাড়পাড়া গ্রামের পদ্মপুকুর হাওরের কাঁচা রাস্তার ওপর গত ১৫ আগস্ট অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। এ সময় মরদেহের পাশে অপর এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

নিহত ব্যক্তি হলেন ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের নলপুকুর আদর্শ গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে বাদশা মিয়া (২৫)। আহত ব্যক্তি একই গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে মাজেদুল ইসলাম (১৮)।

ঘটনার পর বিষয়টি জেলা পুলিশের নজরে এলে পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)-এর নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি চৌকস দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেন।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গত ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে জামালগঞ্জ চারমাথায় মেসার্স জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে রাখা একটি বাসের ছাদে থাকা স্পেয়ার চাকা চুরির চেষ্টা করছিলেন বাদশা ও মাজেদুল। এ সময় বাসের চালক রফিকসহ পাম্পের কয়েকজন কর্মচারী তাদের চোর সন্দেহে আটক করে মারধর করেন। পরে কিছু সময়ের জন্য তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশের দাবি, পরবর্তীতে শান্তর নেতৃত্বে কয়েকজন পুনরায় সংগঠিত হয়ে বাদশা ও মাজেদুলকে আটক করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মারধর করা হয়। একপর্যায়ে বাদশা মারা গেলে এবং মাজেদুলকে মৃত মনে করে তারা দুজনকেই ক্ষেতলাল থানাধীন মহব্বতপুর মৌজার সাকিদাড়পাড়া গ্রামের পদ্মপুকুর হাওরের কাঁচা রাস্তার ওপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী পলাতক আসামি শান্তকে গ্রেপ্তারের জন্য জয়পুরহাট ডিবি পুলিশের একটি দল নওগাঁ ও বগুড়া জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে।

জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, নিহত বাদশা মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষেতলাল থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে৷ 



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream