বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

বিনোদন

‘প্যাশিয়েন্ট জিরো’ নিয়ে ফিরছেন টেলর সুইফট

‘প্যাশিয়েন্ট জিরো’ নিয়ে ফিরছেন টেলর সুইফট

মার্কিন পপ তারকা টেলর সুইফট বিয়ের পর নতুন গান নিয়ে হাজির হচ্ছেন। তার নতুন একক গান ‘প্যাশিয়েন্ট জিরো’ মুক্তি পাবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর। এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে মঞ্চে ওঠার মাত্র দুই দিন আগে গানটি প্রকাশ করবেন এই তারকা।ইনস্টাগ্রামে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক পোস্টের মাধ্যমে নতুন গানের ঘোষণা দেন টেলর সুইফট। নতুন একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি লেখেন, গানটি নিয়ে ঘোষণাটি দেওয়ার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন।ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ এক সময়েই নতুন গানটির ঘোষণা দিলেন টেলর। গত ৩ জুলাই নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এনএফএল তারকা ট্রাভিস কেলসিকে বিয়ে করেন তিনি। প্রায় এক হাজার অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই বিয়েতে ছিল তাদের নিজেদের লেখা শপথ এবং অভিনেতা অ্যাডাম স্যান্ডলারের পরিচালনায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।টেলর সুইফটের ওয়েবসাইটে এরই মধ্যে গানটির প্রি-অর্ডারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মূল সংস্করণের পাশাপাশি গানটির অ্যাকুস্টিক ও পিয়ানো সংস্করণও পাওয়া যাবে। পিয়ানো সংস্করণের প্রচ্ছদে টেলরকে তার বাগদানের আংটি প্রদর্শন করতে দেখা যায়।টেলরের সর্বশেষ অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’ প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে। অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০-এর শীর্ষে ১২ সপ্তাহ অবস্থান করে। এতে ‘দ্য ফেট অব ওপেলিয়া’ ও ‘ওপালাইট’-এর মতো শীর্ষস্থানীয় গান ছিল। এ বছর ‘টয় স্টোরি ৫’ সিনেমার সাউন্ডট্র্যাকের জন্য ‘আই নিউ ইট আই নিউ ইউ’ গানটিও প্রকাশ করেন তিনি।এদিকে ২৫ সেপ্টেম্বর গানটি প্রকাশের মাত্র দুই দিন পর এমটিভি ভিএমএ-তে টেলরকে প্রথমবারের মতো দেওয়া ‘আর্টিস্ট ডিরেক্টরস অনার্স’ সম্মানে ভূষিত করা হবে। একই অনুষ্ঠানে নয়টি পুরস্কারের জন্য মনোনয়নও পেয়েছেন তিনি।

সহকারীর ওড়নায় মুখ মুছে আলোচনায় শাহরুখ

ফের আলোচনায় শাহরুখ খান মুম্বাইয়ের জনপ্রিয় গণেশ উৎসবের মণ্ডপ লালবাগচা রাজার দর্শনে গিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, গণেশপূজা উপলক্ষে মুম্বাইয়ের বিখ্যাত লালবাগচা রাজার মণ্ডপে গিয়ে একটি বিশেষ মুহূর্তে নিজের সহকারী পূজা দাদলানীর ওড়না দিয়ে মুখ মুছছেন তিনি। এ সময় তার পাশে ছিলেন স্ত্রী গৌরী খান ও মেয়ে সুহানা খান।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গণেশপূজা উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে লালবাগচা রাজার মণ্ডপে যান শাহরুখ। এ সময় তাকে নীল পাঞ্জাবি পরা অবস্থায় দেখা যায়। ভিড় ঠেলে মণ্ডপে প্রবেশের পর সন্ধ্যার আরতিতেও অংশ নেন তিনি। সেখানে শাহরুখের উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।তবে এসবের মধ্যে একটি ভিডিও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, শাহরুখ তার দীর্ঘদিনের সহকারী পূজা দাদলানীর ওড়না দিয়ে মুখ মুছছেন। তখন তার পাশেই ছিলেন গৌরী ও সুহানা।পূজা দাদলানী শাহরুখ খানের বিজনেস ম্যানেজার। পাশাপাশি তিনি শাহরুখের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের প্রডাকশন হেড হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।শাহরুখ ও পূজার দীর্ঘদিনের পেশাগত সম্পর্কের পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। এবার তাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত মুহূর্ত দেখে ভালোবাসা জানিয়েছেন ভক্তরা।ভিডিওটির নিচে একজন লিখেছেন, ‘কিছু মানুষের মধ্যে এমন সুন্দর বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকে।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘পূজা দাদলানি শুধু শাহরুখের ম্যানেজার নন, তিনি তার পরিবারেরই একজন।’ কেউ লিখেছেন, ‘তিনি খুব আন্তরিক।’ অন্য একজনের মন্তব্য, ‘সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত।’আবার বিষয়টি নজরে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকের প্রশ্ন, স্ত্রী বা মেয়ের ওড়না থাকতে পূজার ওড়না কেন ব্যবহার করলেন তিনি। যদিও গৌরী বা সুহানা কারও চোখেমুখে কোনো বিরক্তি বা রাগের অভিব্যক্তি লক্ষ্য করা যায়নি এ সময়।

সহকারীর ওড়নায় মুখ মুছে আলোচনায় শাহরুখ

‘স্টার ট্রেক’খ্যাত জেমস স্লোয়েন আর নেই

মার্কিন অভিনেতা জেমস স্লোয়েন মারা গেছেন। ‘দ্য স্টিং’ ও ‘জ্যানাডু’র মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ‘স্টার ট্রেক’ সিরিজের বিভিন্ন পর্বে কাজ করে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে গত ২২ জুলাই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি জেমস স্লোয়েনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। সপ্তাহের শেষে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।‘স্টার ট্রেক’ ভক্তদের কাছে জেমস স্লোয়েন পরিচিত ছিলেন ‘দ্য নেক্সট জেনারেশন’, ‘ডিপ স্পেস নাইন’ ও ‘ভয়েজার’ সিরিজে অভিনয়ের জন্য। ‘দ্য নেক্সট জেনারেশন’-এ তিনি একজন রোমুলান অ্যাডমিরালের চরিত্রে অভিনয় করেন। পরে ক্লিঙ্গন চরিত্র ওয়ার্কের ছেলের ভূমিকাতেও দেখা যায় তাকে। ‘ডিপ স্পেস নাইন’-এ বিজ্ঞানী ড. মোরা এবং ‘ভয়েজার’-এ হাকোনিয়ান বিজ্ঞানী মা’বোর জেটরেল চরিত্রে অভিনয় করেন।১৯৭৩ সালে জর্জ রয় হিল পরিচালিত অস্কারজয়ী সিনেমা ‘দ্য স্টিং’-এ মোটোলা চরিত্রে অভিনয় করেন স্লোয়েন। সিনেমাটিতে তিনি অপরাধী ডয়েল লনেগানের হয়ে জুয়া পরিচালনাকারী এক কর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়া অলিভিয়া নিউটন-জন অভিনীত মিউজিক্যাল ফ্যান্টাসি সিনেমা ‘জ্যানাডু’তেও অভিনয় করেন তিনি।১৯৪১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইন্ডিয়ানাপোলিসে জন্মগ্রহণ করেন জেমস স্লোয়েন। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তার বাবা জেমস ছিলেন নির্মাণ প্রকৌশলী। বিদেশে ও নিউইয়র্কের অ্যালবানিতে কিছু সময় কাটানোর পর দ্য আমেরিকান একাডেমি অব ড্রামেটিক আর্টস থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেন তিনি। পরে তিন বছর মার্কিন সেনাবাহিনীতেও দায়িত্ব পালন করেন।সেনাবাহিনীর চাকরি শেষে নিউইয়র্কে ফিরে জোসেফ প্যাপের নিউইয়র্ক শেক্সপিয়ার ফেস্টিভ্যালে অভিনয়ের পাশাপাশি ফাইটিং দৃশ্যের কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৯ সালে আর্থার কপিটের ‘ইন্ডিয়ান’ নাটকের মাধ্যমে ব্রডওয়েতে অভিষেক হয় তার। ১৯৭০ সালের ‘দ্য ট্রাভেলিং এক্সিকিউশনার’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় যাত্রা শুরু করেন তিনি।১৯৭৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যান জেমস স্লোয়েন। এরপর ‘দ্য গ্যাং দ্যাট কুডন্ট শুট স্ট্রেইট’, ‘দ্য ডক্টরস’, ‘দ্য স্ট্রিটস অব সান ফ্রানসিসকো’, ‘কোজাক’ ও ‘ডেলভেকিও’-সহ বিভিন্ন সিনেমা ও টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করেন। ১৯৭৭ সালে এবিসির নাটক ‘ওয়েস্টসাইড মেডিকেল’-এ নিয়মিত চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেছেন স্লোয়েন। ১৯৮৯ সাল থেকে প্রায় ১৮ বছর টয়োটার বিলাসবহুল ব্র্যান্ড লেক্সাসের বিজ্ঞাপনে ভয়েসওভার শিল্পী হিসেবে কাজ করেন তিনি।জেমস স্লোয়েন মৃত্যুকালে স্ত্রী অভিনেত্রী ডিআরড্রে লেনিগান, ছেলে সংগীতশিল্পী ড্যানিয়েল এবং মেয়ে অভিনেত্রী সামান্থা স্লোয়েনকে রেখে গেছেন। তার ভাই লেখক ও পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী সাংবাদিক প্যাট্রিক স্লোয়েন ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান।

‘স্টার ট্রেক’খ্যাত জেমস স্লোয়েন আর নেই

‘সোনার গহনা পরে চলাফেরা নিরাপদ মনে হয় না’: তানজিন তিশা

বরাবরই আলোচনায় থাকেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। তিনি সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে দেশে অনেক জায়গায়। এ ছাড়া সোনার গহনা পরে বাংলাদেশে চলাফেরাও নিরাপদ মনে করেন না অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তানজিন তিশা।তিশা বলেন, নানা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা এমন সব সমস্যার মুখোমুখি হন, যা তাদের প্রাপ্য নয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিষয়কে অন্যায় মনে হয় এবং ন্যায়বিচারও পাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন ছোটপর্দার এই অভিনেত্রী।তানজিন তিশা বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না। আমাদের দেশে অনেক জায়গায় নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। আমরা নিজেরাই অনেক ঝামেলায় পড়ি, যেগুলো আমরা ডিজার্ভ করি না। অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়গুলো অন্যায় মনে হয়, ন্যায়বিচারও পাই না।’ তিশা আরও বলেন, ‘আমাদের মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। যে কোনো পরিস্থিতিতে নারীদের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো দরকার।’ উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ছোটপর্দায় কাজ করার পর এবার বড়পর্দায় পা রাখতে চলেছেন তানজিন তিশা। বর্তমানে তিনি শাকিব খানের বিপরীতে আসন্ন ‘সোলজার’ সিনেমা মুক্তির আশায় ক্ষণ গুনছেন । 

‘সোনার গহনা পরে চলাফেরা নিরাপদ মনে হয় না’: তানজিন তিশা

অপি করিম-ঋত্বিকের ‘মায়ার জঞ্জাল’ আসছে ওটিটিতে

বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র ‘মায়ার জঞ্জাল’ ছয় বছর আগে নির্মিত হয়েছিল। কলকাতার নির্মাতা ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী জসিম উদ্দিনের প্রযোজনায় সিনেমাটি পরিচালনা করেন। বাংলাদেশের অপি করিম ও কলকাতার ঋত্বিক চক্রবর্তী এতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রদর্শিত হওয়ার পর এবার ওটিটিতে আসছে সিনেমাটি।২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতে একযোগে মুক্তি পায় ‘মায়ার জঞ্জাল’। যদিও মুক্তির অনেক আগে থেকেই চীন, রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে সিনেমাগুলোর প্রদর্শন হয়। ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত ‘এশিয়াটিকা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এর ‘এনকাউন্টার উইথ এশিয়ান সিনেমা’ বিভাগে এটি সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে জুরি অ্যাওয়ার্ড পায়। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ‘রেইনবো চলচ্চিত্র উৎসব’-এ ছবিটি সেরা চলচ্চিত্রের সম্মাননা জয় করে। পাশাপাশি ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এশিয়ান কমপিটিশন বিভাগে প্রতিযোগিতা করে এটি সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার লাভ করে।সোমবার রাতে চলচ্চিত্রটি ওটিটিতে আসার খবর দেয় চরকি। সিনেমাটি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে চরকিতে দেখা যাবে, জানানো হয়।এছাড়াও, ওটিটিতে এই সিনেমা মুক্তির খবর জানিয়ে অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ছবিতে তার স্ত্রীর ভূমিকায় অপি করিম অত্যন্ত অসাধারণ অভিনয় করেছেন।  সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন সোহেল মণ্ডল (সোহেল রানা) ও অমিত সাহাসহ একঝাঁক গুণী শিল্পী। সোহেল মণ্ডলের সঙ্গে কাজ করা প্রসঙ্গে ঋত্বিক জানান, এই সিনেমার মাধ্যমেই তাদের প্রথম আলাপ ও একসঙ্গে কাজ করা।উল্লেখ্য, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি ছোটগল্প (বিষাক্ত প্রেম ও সুবালা) অবলম্বনে নির্মিত ‘মায়ার জঞ্জাল’। অপি করিম ও ঋত্বিক চক্রবর্তী ছাড়াও এ ছবিতে অভিনয় করেছেন সোহেল মণ্ডল, ওপার বাংলার গুণী অভিনেতা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অনেকে। বাংলাদেশের ভিউস অ্যান্ড ভিশনস এবং কলকাতার প্রতিষ্ঠান ফ্লিপবুক যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে।

অপি করিম-ঋত্বিকের ‘মায়ার জঞ্জাল’ আসছে ওটিটিতে

দেব-শুভশ্রীকে ঘিরে নতুন প্রেমের গুঞ্জন

দেব-শুভশ্রী টালিউডের দুই জনপ্রিয় তারকা। তাদের প্রেম ও বিচ্ছেদের কথা জানা সবার। তবে তাদের সম্পর্ক সম্প্রতি আবারও আলোচনায় এসেছে। অনেকেই বলছেন দেব-শুভশ্রী নতুন করে সম্পর্কে জড়িয়েছেন।লাদাখের পাহাড়ি সৌন্দর্যের মাঝে রোমান্টিক গানে জুটি বাঁধার পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেব-শুভশ্রীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। এরই মাঝে শুভশ্রীর একটি ক্যাপশন ভক্তদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে দেব পরিচালিত সিনেমা ‘দেশু ৭’-এর প্রথম গান ‘তোর শুধু তোর’। লাদাখের মনোরম পাহাড় ও প্রকৃতির মাঝে ধারণ করা গানটিতে দেব ও শুভশ্রীর রসায়ন বেশ নজর কেড়েছে দর্শকদের। গান প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।এর মধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে দুই তারকার বেশ কিছু রোমান্টিক ছবি। কোনো ছবিতে একে অপরকে জড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, আবার কোনো ফ্রেমে ধরা পড়েছে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত।এরই মাঝে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে শুভশ্রীর দেওয়া একটি ক্যাপশন। ছবিগুলো শেয়ার করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘তুই ছাড়া না এ জগতে কিছুই আগে না।’ ক্যাপশনটি প্রকাশের পর ভক্তদেরদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে ছবিগুলো সিনেমার প্রচারণা ও চরিত্রের প্রেক্ষাপটের অংশ হিসেবেই প্রকাশ করা হয়েছে।একটি ছবিতে দেখা যায়, শুভশ্রীর সামনে বসে রয়েছেন দেব। পেছন থেকে দেবকে জড়িয়ে রেখেছেন অভিনেত্রী। আরেকটি ফ্রেমে দেবের বুকে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে রয়েছেন শুভশ্রী। দেবের হাতও আলতোভাবে ছুঁয়ে আছে তার মুখ।পর্দার জুটির পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন দেব-শুভশ্রী। পরে সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে এবং দুজনেই নিজেদের জীবনে এগিয়ে যান। তবে বহু বছর পর পর্দায় তাদের এই পুনর্মিলন যে দর্শকদের পুরনো দিনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়াই তার প্রমাণ।

দেব-শুভশ্রীকে ঘিরে নতুন প্রেমের গুঞ্জন

ফেরদৌস-প্রিয়াঙ্কার সেই ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ এবার নতুন রূপে

কালজয়ী সিনেমা ‘হঠাৎ বৃষ্টি’। বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনা। নব্বই দশকে ফেরদৌস-প্রিয়াঙ্কা জুটির এ সিনেমা বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছিল। দেখতে দেখতে দীর্ঘ ২৮টি বছর কেটে গেছে। এবার নতুন প্রজন্মের সামনে সেই মধুর স্মৃতিকে নতুন আঙ্গিকে ফিরিয়ে আনতে নির্মিত হয়েছে ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’। মূল গল্পকে অপরিবর্তিত রেখে আধুনিক সময়ের প্রেক্ষাপটে সিনেমাটি তৈরি করেছেন তরুণ নির্মাতা কামরুজ্জামান। বাসুদেব চ্যাটার্জির পরিচালনায় ১৯৯৮ সালের ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র মূল আকর্ষণ ছিল নতুন দুই মুখ ফেরদৌস আহমেদ ও প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী। তাদের রসায়ন ও অভিনয়ের মুগ্ধতা আজও সিনেপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে। ইতিহাস পুনরাবৃত্তির লক্ষ্যেই হয়তো এবারও কেন্দ্রীয় দুই মূল চরিত্রে বেছে নেওয়া হয়েছে দুই নবীন অভিনয়শিল্পীকে। সিনেমাটিতে ফেরদৌসের জায়গায় অভিনয় করেছেন আরিয়ান এবং প্রিয়াঙ্কার চরিত্রে দেখা যাবে রাদিফাকে। আশীর্বাদ চলচ্চিত্র ও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের যৌথ প্রযোজনায় রূপালী পর্দায় আসছে এই নতুন জুটি। সিনেমাটিতে আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম, ফারজানা ছবি, ক্রিস্টিয়ানো তন্ময়, কায়েস আরজু, মৌ খান ও ঝুনা চৌধুরীসহ একঝাঁক তারকা।‘হঠাৎ বৃষ্টি’ সিনেমাটির তুমুল জনপ্রিয়তার অন্যতম বড় কারণ ছিল নচিকেতা চক্রবর্তীর সুরে এর কালজয়ী গানগুলো। ‘ছোট ছোট স্বপ্নের নীল মেঘ’, ‘একদিন স্বপ্নের দিন’ কিংবা ‘সোনালি প্রান্তরে’র মতো গানগুলো আজও শ্রোতাদের স্মৃতিতুর করে তোলে।সেই আবহ বজায় রাখতে পুরোনো ছয়টি কালজয়ী গানের মধ্য থেকে তিনটি গানের রিমেক করা হয়েছে ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’তে। এর পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের রুজি-পছন্দ মিলিয়ে যুক্ত করা হয়েছে একদম নতুন দুটি গান।জানা গেছে, নতুন এই সিনেমা ও নতুন মুখদের নিয়ে বেশ আশাবাদি এই নির্মাতা। আগামী ২ অক্টোবর সারা দেশের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

ফেরদৌস-প্রিয়াঙ্কার সেই ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ এবার নতুন রূপে

মা হলেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার

বৃষ্টিভেজা রবিবারে টলিউডের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি অভিনেত্রী সোহিনী সরকার ও সঙ্গীতশিল্পী শোভন গঙ্গোপাধ্যায়ের কোল আলো করে এল প্রথম সন্তান। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন অভিনেত্রী। বর্তমানে মা ও নবজাতক উভয়ই সুস্থ রয়েছেন।   সামাজিক মাধ্যমে আংটির পরিবর্তে নবজাতকের ছোট্ট দুটি পায়ের ছবি যুক্ত একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে এই খুশির খবর ভক্তদের সাথে ভাগ করে নেন সোহিনী-শোভন দম্পতি।সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট   নবজাতকের আগমনের বার্তা জানিয়ে যৌথ বার্তায় সোহিনী ও শোভন লেখেন:   “আমাদের বীরপুরুষ, আমাদের নতুন সদস্য এসেছে। তোমরা সবাই আশীর্বাদ করো— সোহিনী ও শোভন (২০/০৯/২০২৬)।” খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই টলিউডের সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও ভক্তদের শুভেচ্ছার বন্যায় ভেসে যাচ্ছে এই দম্পতির কমেন্ট বক্স। বিবাহবার্ষিকীতে মিলেছিল শুভসংবাদ   ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই এক অন্তরঙ্গ পরিবেশে আইনি মতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সোহিনী ও শোভন। বিয়ের পর থেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন কিছুটা আড়ালেই রাখতে পছন্দ করতেন এই যুগল।  ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই নিজেদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকীর দিনে প্রথমবার ঘর আলো করে নতুন অতিথি আসার ঘোষণা দেন তারা।   সাজ ও সামাজিক মাধ্যম: স্ফীতোদর আগলে আকাশি পাঞ্জাবি পরা শোভন এবং লাল ফুল ও সাদা কুর্তিতে সেজে ওঠা সোহিনীর ছবি পোস্ট করে তারা লিখেছিলেন, “তিন বছরের বিবাহবার্ষিকীতে... আমরা দুই থেকে তিনের পথে।”   অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় একাধিক সিনেমা ও সিরিজের কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন সোহিনী। সব জল্পনা ও দিনগোনার অবসান ঘটিয়ে এবার তাঁদের ঘর আলো করে এল খুদে ‘বীরপুরুষ’।   

মা হলেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার

‘পুরুষদেরও পিরিয়ড হওয়া দরকার’—শ্রুতি হাসান

সমাজের প্রত্যেক শ্রেণির নারীরা একটা জায়গায় এসে এক। নারী শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও পিরিয়ড নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয় তাদের। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় মুখ খুলেছেন বলিউডের নারী অভিনেত্রীরা। এবার দক্ষিণ ভারতীয় ও বলিউডের অভিনেত্রী শ্রুতি হাসান পিরিয়ডের শারীরিক যন্ত্রণা, পিসিওএস এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রচলিত সংকোচের বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। সোহা আলি খানের পডকাস্টে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রসিকতা করে তিনি বলেছেন, পুরুষদেরও পিরিয়ড হওয়া উচিত। তাহলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য ‘পিরিয়ড লিভ’ বিষয়টি হয়তো আরও গুরুত্ব পেত।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সোহা আলি খানের পডকাস্টে ঋতুকালীন তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা নিয়ে মুখ খোলেন শ্রুতি। ঋতুস্রাবকে গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত বলে মনে করেন তিনি। নারীদের ঋতুস্রাবের সময় কর্মক্ষেত্রে ছুটি দাবি করেন। শ্রুতি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পিসিওএসের কারণে তাকে তীব্র পিরিয়ডের ব্যথা ও পেটের ক্র্যাম্প সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু শুটিং সেটে এ ধরনের শারীরিক সমস্যার কথা প্রকাশ্যে বলতে একসময় অস্বস্তি বোধ করতেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলাকে প্রায় নিষিদ্ধ বলেই মনে হতো তার। পডকাস্টে শ্রুতি বলেন, আমার মনে হয় এর একটাই সমাধান আছে। আমি হাজারবার ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছি, যেন পুরুষদেরও পিরিয়ড শুরু হয়! তাহলে অন্তত কাজের কন্ট্রাক্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পিরিয়ড লিভ’ লেখা থাকত।শ্রুতির কথায় সহমত জানিয়ে সোহা বলেন, পুরুষরাও তখন হয়তো কে, কতটা রক্তপাতের মুখোমুখি হচ্ছেন বা কার ট্যাম্পনের আকার কত বড়? সেসব নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করতেন।নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পুরুষ সহকর্মীদের পাওয়া সুবিধার তুলনাও তুলে ধরেন শ্রুতি। তিনি বলেন, একবার খেয়াল করলাম, আমার এক সহ-অভিনেতা নিজের হাঁটুর অস্ত্রোপচারের কথা জানিয়ে শুটিং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করার কথা বললেন। আমিও তখন নিজের পিরিয়ডসের কথা জানাই পরিচালককে। ওই প্রথমবার আমি কোনো পরিচালককে এ কথা বললাম। তার নিজেরও মেয়ে আছে। তিনি তখন জানালেন যে তার মেয়েরও পিরিয়ডের সময় খুব ব্যথা হয়। তারপর থেকেই আমার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।শ্রুতির বক্তব্যে কর্মক্ষেত্রে নারীদের মাসিকজনিত শারীরিক সমস্যাকে স্বাভাবিকভাবে দেখার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। তার মতে, নারীদের এমন স্বাস্থ্যগত বিষয় নিয়ে কথা বলার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা থাকা জরুরি।এর আগে রাশ্মিকা-জাহ্নবী-দীপিকাও পিরিয়ড নিয়ে কথা বলেছেন। শ্রুতির মতো তারাও পুরুষের পিরিয়ড চেয়েছেন। কেননা তারা মনে করেন পুরুষরা এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলেই অনুভব করতে পারবে পিরিয়ডকালীন শারীরিক যন্ত্রণা। 

‘পুরুষদেরও পিরিয়ড হওয়া দরকার’—শ্রুতি হাসান

ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের চাপ নিয়ে মুখ খুললেন রাধিকা

পর্দায় সাহসী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বলিউডের অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে পরিচিত। তবে তিনি চরিত্রের প্রয়োজনে সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করা আর অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঘনিষ্ঠ বা নগ্ন দৃশ্যে অভিনয়ের চাপ দুটিকে এক করে দেখার বিরোধিতা করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কিছু অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।রাধিকা জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে চার-পাঁচটি সিনেমায় নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করার পর তার সম্পর্কে ইন্ডাস্ট্রির কিছু মানুষের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল। তারা মনে করতেন, যেহেতু তিনি আগে এমন দৃশ্যে অভিনয় করেছেন, তাই পরবর্তী কাজেও সহজেই এ ধরনের দৃশ্যে রাজি হয়ে যাবেন।অভিনেত্রীর ভাষ্য, কোনো দৃশ্যে চুম্বন রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে অনেক সময় বলা হতো, ‘একটু করে নাও’, এমনকি ১৫ সেকেন্ডের জন্য ইম্প্রোভাইজ করার কথাও বলা হতো। রাধিকা জানান বিষয়টি তাকে অস্বস্তিতে ফেলত।এমনকি একটি অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং নিয়েও অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি। রাধিকা বলেন, তাকে শার্টের বোতাম না লাগিয়ে অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, অ্যাকশন দৃশ্যে শার্ট নড়াচড়া করলে সেটি সরে যেতে পারে এ কথা বলার পর তাকে শুধু ব্রা ও অন্তর্বাস পরে দৃশ্যটি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে বিস্মিত হয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, তাকে দিয়ে আসলে কী করানো হচ্ছে।২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া রাধিকার ‘পার্চড’ সিনেমার একটি নগ্ন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। অভিনেত্রীর মতে, সিনেমাটি শুধু ওই একটি দৃশ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অথচ ওই দৃশ্য নিয়েই সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি আলোচনা হওয়ায় তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন।রাধিকা আরও জানান, তিনি জানতেন ‘পার্চড’-এ তার চরিত্রের প্রয়োজনে ওই দৃশ্যে অভিনয় করতে হবে। তবে কোনো সিনেমায় চরিত্রের প্রয়োজনে সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করা এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে এমন দৃশ্য যোগ করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে তার বক্তব্যে সেটিই উঠে এসেছে। বর্তমানে রাধিকা আপ্তেকে ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’ অ্যান্থলজি সিনেমায় দেখা যাচ্ছে।সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের চাপ নিয়ে মুখ খুললেন রাধিকা

ফিরে আসার গল্পে ফিরছেন না সুমাইয়া শিমু

মোস্তফা কামাল রাজের ‘ফিরে আসার গল্প’ দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর ধারাবাহিক নাটকে ফেরার কথা ছিল অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমুর। উচ্ছ্বসিত ছিলেন তিনি নাটকটি নিয়ে। জানিয়েছিলেন, অভিনয়কে মিস করছিলেন, ক্যামেরার সামনে আবার ফিরতে পেরে অনেক খুশি। তবে হঠাৎ জানা গেল, ধারাবাহিকটিতে সুমাইয়া শিমু থাকছেন না। ফিরে আসার গল্পে রুকাইয়া চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল শিমুর। চরিত্রটি নিয়ে শিমু বলেছিলেন, ‘বিরতির পর ফেরার মতো গল্প ও চরিত্র।’ তবে পর্দায় আর রুকাইয়া হয়ে ওঠা হলো না তাঁর। সুমাইয়া শিমুর পরিবর্তে এই চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপা খন্দকার। আগে থেকেই এই নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দীপা। তাঁর অভিনয় করার কথা ছিল মরিয়ম চরিত্রে। সেই চরিত্রে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন রোজী সিদ্দিকী। ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিকের অভিনয়শিল্পী পরিবর্তনের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিনেমাওয়ালা। তবে প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে সুমাইয়া শিমুর ফটোশুটের সব ছবি। নতুন করে মরিয়ম চরিত্রে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে রোজী সিদ্দিকীকে। ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিক থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ জানতে সুমাইয়া শিমুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। নির্মাতার সঙ্গে যোগাযোগ করেও মেলেনি উত্তর। জানা গেছে, অসুস্থতার কারণে ধারাবাহিকটি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিমু। চোখের সমস্যার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে আছেন তিনি। সুমাইয়া শিমু অভিনয় করতে না পারলেও ফিরে আসার গল্প দিয়ে দীর্ঘদিন পর ধারাবাহিক নাটকে ফিরেছেন জাহিদ হাসান ও তানজিম সাইয়ারা তটিনী। এতে আরও অভিনয় করছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, খায়রুল বাসার, মনিরা মিঠু, ফয়জুল ইয়ামিন, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, মুকিত জাকারিয়া, এজাজুল ইসলাম, রাজু প্রমুখ। আগামী ৭ অক্টোবর থেকে সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার শুরু হবে ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিকের। দেখা যাবে প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায়। এখন পুরোদমে চলছে শুটিং।

ফিরে আসার গল্পে ফিরছেন না সুমাইয়া শিমু

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ পাভেলের থাকা না থাকা নিয়ে গুঞ্জন

অভিনেতা সাইদুর রহমান পাভেল জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে বাদ পড়ছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি তার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নাটকের নিয়মিত অভিনয়শিল্পীদের নতুন তালিকায় নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে নেটদুনিয়ায় জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ধারাবাহিকটির পরিচালক কাজল আরেফিন অমি নিজের ফেসবুক পেজে নাটকের অভিনয়শিল্পীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেন। সেখানে নিয়মিত কলাকুশলীদের নাম থাকলেও পাভেলের নাম অনুপস্থিত ছিল। এতেই দর্শকদের মনে প্রশ্ন জাগে, তবে কি এই জনপ্রিয় ধারাবাহিক থেকে তিনি ছিটকে পড়েছেন? এর আগে পাভেলের একটি বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নানা সমালোচনা তৈরি হয়। ওই ঘটনার পরপরই প্রকাশিত শিল্পী তালিকায় তার নাম না থাকায় বাদ পড়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়। তবে পাভেলকে আসলেই নাটকটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি কিংবা অভিনেতা সাইদুর রহমান পাভেলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মেলেনি। ফলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত খবরটিকে সামাজিক মাধ্যমের গুঞ্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর চরিত্রগুলো নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ সবসময়ই বেশি। নতুন মৌসুমে পাভেলের থাকা না-থাকা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হলেও বিষয়টি স্পষ্ট হতে নির্মাতা বা সংশ্লিষ্ট অভিনেতার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ পাভেলের থাকা না থাকা নিয়ে গুঞ্জন

আজও হৃদয়ে সালমান শাহ, জন্মদিনে বিশেষ ট্রিবিউট

৫৫তম জন্মবার্ষিকী আজ চিত্রনায়ক সালমান শাহর। আজ বেঁচে থাকলে ৫৬ বছরে পা দিতেন তিনি। এই অভিনেতা ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর প্রয়াত হন ক্ষণজন্মা। মৃত্যুর ৩০ বছর পর, তাঁর জনপ্রিয়তা আজও অমলিন। সালমান শাহর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে ট্রিবিউট করে নির্মিত হয়েছে ‘ব্যাকডেটেড’ নামের স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা। ব্যাকডেটেড বানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ জিসান আহমেদ। যিনি এর আগে ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘মনপুরা’সহ বিশ্বসেরা কিছু সিনেমার গল্প পুনর্নির্মাণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তৈরি করেছেন। এ ছাড়া আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড অবলম্বনে বানিয়েছে ‘রুম নম্বর ২০১১’ নামের স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা। সালমান শাহকে ট্রিবিউট করে নির্মিত ব্যাকডেটেড নিয়ে জিসান আহমেদ বলেন, ‘চলচ্চিত্রে সালমান শাহর ক্যারিয়ার, ওই সময়ে তাঁর জনপ্রিয়তার গল্প উঠে আসবে এই সিনেমায়। তাঁর সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যাবে এতে। স্বল্প সময় হলেও এখানে একটি বার্তাও থাকবে। আশা করছি সবার ভালো লাগবে।’ নির্মাতা জানান, সালমান শাহর পরিবারের অনুমতি নিয়েই স্বল্পদৈর্ঘ্যটি বানিয়েছেন তিনি। এতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারুক আহমেদ। আরও আছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আজ সন্ধ্যা ৭টায় জিসু এন্টারটেইনমেন্ট ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে স্বল্পদৈর্ঘ্যটি।

আজও হৃদয়ে সালমান শাহ, জন্মদিনে বিশেষ ট্রিবিউট

মাতৃত্বের পর ক্যাটরিনাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কটূক্তি, প্রতিবাদে নাদিয়া

২০২৫ সালের নভেম্বরে মা হওয়ার পর দীর্ঘদিন সংবাদমাধ্যম ও পাপারাজ্জিদের থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন বলিউড তারকা ক্যাটরিনা কাইফ। সম্প্রতি স্বামী ভিকি কৌশলের সঙ্গে আম্বানিদের এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে আসেন তিনি। সন্তান জন্মের পর নারীদের শরীরে স্বাভাবিক পরিবর্তন এলেও, ক্যাটরিনার এই পরিবর্তিত অবয়ব ও বাড়তি ওজন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় নেটিজেনদের একশ্রেণির অসংবেদনশীল কটূক্তি।তারকাদের শরীর নিয়ে এই ট্রোলিং ও অসংবেদনশীল মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন জনপ্রিয় বাংলাদেশি অভিনেত্রী সালহা খানম নাদিয়া। নিজেও একজন মা হওয়ায় ক্যাটরিনার এই ছবির সঙ্গে নিজের ছবি জুড়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন ও প্রতিবাদী পোস্ট দেন তিনি।সামাজিক মাধ্যমের ওই দীর্ঘ বার্তায় মাতৃত্বকালীন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাদিয়া লিখেন: “একজন নারী যখন মা হন, তখন শুধু তার জীবনটাই বদলে যায় না, বদলে যায় তার শরীরও। গর্ভধারণ, সন্তান জন্ম দেওয়া, ঘুমহীন রাত, মানসিক চাপ ও হরমোনের পরিবর্তনের ছাপ শরীরে থাকাটাই স্বাভাবিক। নতুন এক জীবনকে পৃথিবীতে আনার সুযোগ সৃষ্টিকর্তার এক অপার আশীর্বাদ।”সামাজিক মাধ্যমের ‘ফিগার সচেতন’ নেটিজেনদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “'আগের ফিগার কোথায়?', 'ওজন এত বাড়ল কেন?'—এ ধরনের সাধারণ মন্তব্যগুলো একজন মায়ের আত্মবিশ্বাস ও নিজের পরিচয়কে ভেঙে দেয়।”নারীদের এই রূপান্তরকে সামাজিক বিচারে না ফেলে ভালোবাসা ও সম্মানের চোখে দেখার আহ্বান জানান নাদিয়া।সন্তান জন্মের পর এটিই ছিল প্রকাশ্যে ক্যাটরিনা কাইফের প্রথম উপস্থিতি। অনুষ্ঠানে হাসিমুখে পাপারাজ্জিদের ক্যামেরায় পোজ দিলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ফিগার ও চেহারার পরিবর্তন নিয়ে চর্চা শুরু হলে বিনোদন জগতের অনেক তারকা ও সাধারণ ভক্তরাও ক্যাটরিনা ও নাদিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে এই মানসিকতার নিন্দা জানান।

মাতৃত্বের পর ক্যাটরিনাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কটূক্তি, প্রতিবাদে নাদিয়া

আপত্তিকর সেই ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন পাভেল

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিকের অভিনেতা সাইদুর রহমান পাভেলকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। ভিডিওটি নিয়ে নানা মন্তব্যের মধ্যেই এবার নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন এই অভিনেতা।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা নারীকে নিজের বান্ধবী বলে পরিচয় দিয়েছেন পাভেল। তার দাবি, ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের আলোচনা হচ্ছে, বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই।পাভেল জানান, ভিডিওতে থাকা নারীর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এর বাইরে তাদের মধ্যে অন্য কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে পাভেল বলেন, ভিডিওতে থাকা নারীকে ঘিরে যেসব কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো সঠিক নয়।‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান পাভেল। এরপর বিভিন্ন নাটক ও ধারাবাহিকে অভিনয় করে ছোট পর্দায় নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। তবে এবার অভিনয়ের কোনো কাজ নয়, ব্যক্তিগত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করেই আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেতা।

আপত্তিকর সেই ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন পাভেল

এক তরুণীর নিখোঁজের ঘটনায় উন্মোচিত হলো একাধিক প্রশ্ন

এক তরুণীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা। এরপর বীভৎস এক অপরাধ সামনে আসে। গোটা দেশ ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে। চারদিকে সাধারণ মানুষের একটাই দাবি, অপরাধীর শাস্তি চাই। কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, ততই সহজ সমীকরণগুলো জটিল হতে থাকে। অপরাধীর সন্ধানের পাশাপাশি সামনে আসে পুলিশ এনকাউন্টার, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্দেহভাজন এবং বিচারব্যবস্থার এমন কিছু প্রশ্ন, যার কোনো উত্তর এককথায় দেওয়া যায় না। এমনই এক অস্বস্তিকর প্রশ্নের সামনে দর্শককে দাঁড় করিয়েছে মেঘনা গুলজারের নতুন সিনেমা ‘দায়রা’। অপরাধ, আইন, তদন্ত, নৈতিকতা এবং বিচারব্যবস্থার জটিল সমীকরণ নিয়ে তৈরি হয়েছে এই ইনভেস্টিগেটিভ ক্রাইম থ্রিলার। তবে ‘দায়রা’ কেবল একটি অপরাধের রহস্য উন্মোচনের গল্প নয়। অপরাধের তদন্ত করতে গিয়ে আইন ও ব্যক্তিগত নৈতিকতার যে সংঘাত তৈরি হয়, সেটি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে গল্পের মূল চালিকাশক্তি।  ‘দায়রা’ সিনেমার গল্পের শুরু একটি তরুণীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা দিয়ে। পরে সামনে আসে বীভৎস এক ঘটনা; যা ছড়িয়ে পড়তে দেশজুড়ে তৈরি হয় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা। তদন্তের দায়িত্ব এসে পড়ে পুলিশের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডিপিসি আজুনি কোহলি ও ডিপিসি রমন কুমারের ওপর। দুজনেরই লক্ষ্য এক। সত্য খুঁজে বের করা এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা। সেই সত্যে পৌঁছানোর পথ নিয়ে তাদের অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা। কারিনা কাপুর খান অভিনীত আজুনি কোহলি একজন শান্ত, সংযত ও অভিজ্ঞ তদন্তকারী। আইনি প্রক্রিয়ার ওপর তাঁর আস্থা। তাঁর বিশ্বাস, অপরাধ যত ভয়াবহই হোক, একজন তদন্তকারীকে নিজের সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। কারণ আইনকে পাশ কাটিয়ে প্রতিষ্ঠিত ন্যায়বিচার শেষ পর্যন্ত নতুন অন্যায়ের জন্ম দিতে পারে। অন্যদিকে পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের রমন কুমার অনেক বেশি কঠোর। ভয়াবহ অপরাধের জন্য দ্রুত ও কঠোর শাস্তির পক্ষপাতী তিনি। তাঁর কাছে ন্যায়বিচার শুধু আদালতের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার বিষয় নয়; অপরাধের ভয়াবহতার সঙ্গে শাস্তির মাত্রারও সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। ফলে একই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে আজুনি ও রমনের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য ক্রমে স্পষ্ট হতে থাকে। তদন্ত যত এগোয়, মামলাটি ততই জটিল হয়ে ওঠে।  সামনে আসে একটি বিতর্কিত পুলিশ এনকাউন্টার এবং এক অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্দেহভাজনের সম্পৃক্ততার বিষয়। তখন প্রশ্ন আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে তার জন্য আইনের বিশেষ সুরক্ষা কি একইভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত? অপরাধের ভয়াবহতা কি বয়সের আইনি সীমাকে অতিক্রম করতে পারে? নাকি বিচারব্যবস্থার মূল নীতিই হলো–অপরাধ যত ভয়াবহ হোক, আইন সবার জন্য নির্দিষ্ট নিয়মে চলবে? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে দুই পুলিশ কর্মকর্তার দ্বন্দ্ব তীব্র হতে থাকে। একজন মনে করেন, আইনই শেষ কথা। অন্যজনের কাছে অপরাধের ভয়াবহতার সঙ্গে ন্যায়বিচারের তীব্রতা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তদন্তের প্রতিটি ধাপ শুধু মামলার রহস্য উন্মোচন করে না, বরং দুই চরিত্রের বিশ্বাসকেও পরীক্ষা করে।’ দায়রা’র গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সম্ভবত এখানেই। সিনেমাটি দর্শককে সহজ কোনো উত্তর দেয় না। মামলার সঙ্গে যখন এনকাউন্টারের প্রসঙ্গ যুক্ত হয়, তখন সেই দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সিনেমাটি নিয়ে এরই মধ্যে বলিউডের বেশ আলোচনা হচ্ছে। কারণ এই সিনেমার গল্পের সঙ্গে বাস্তবতার একটা যোগসূত্র রয়েছে। শুরুতে ধারণা তৈরি হয়েছিল, ২০১৯ সালের হায়দরাবাদ গণধর্ষণ এবং পরবর্তী বিতর্কিত পুলিশ এনকাউন্টার হয়তো ‘দায়রা’র মূল অনুপ্রেরণা। তবে নির্মাতা মেঘনা গুলজার ভারতীয় গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, সিনেমাটি কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া একাধিক সত্য ঘটনা, অপরাধ এবং আইনি জটিলতার প্রভাব রয়েছে গল্পে। ফলে ‘দায়রা’কে কোনো একটি ঘটনা বা মামলার পুনর্নির্মাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং বাস্তব জীবনের নানা ঘটনার ভেতর থেকে উঠে আসা একটি বৃহত্তর প্রশ্নের সিনেমাটিক অনুসন্ধান এটি। সেই প্রশ্ন হলো–একটি অপরাধের বিচার করতে গিয়ে রাষ্ট্র, আইন ও ব্যক্তির নৈতিক অবস্থান কোথায় গিয়ে মিলিত হয়?  মেঘনা গুলজারের নির্মাণে বাস্তব ঘটনা, সামাজিক সংকট এবং ব্যক্তিমানুষের দ্বন্দ্ব এর আগেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।  কারিনা কাপুর খান ও পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের চরিত্রের মধ্যকার দ্বন্দ্ব তাই কেবল দুই পুলিশ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মতপার্থক্য নয়। এটি মূলত দুটি ভিন্ন বিচারদর্শনের সংঘাত। একদিকে প্রমাণ, আইন ও প্রক্রিয়া; অন্যদিকে দ্রুত বিচার, কঠোর শাস্তি এবং অপরাধের ভয়াবহতার প্রতি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। দুজনই নিজেদের অবস্থান থেকে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চান। ন্যায়ের পথ যে সবার কাছে এক নয়, সিনেমাটি সেই বাস্তবতা সামনে আনে। গল্প যত এগোয়, দর্শকের কাছেও হয়তো প্রশ্নটি বদলে যেতে থাকে। শুরুতে মনে হতে পারে, অপরাধীকে খুঁজে বের করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরে প্রশ্ন আসে অপরাধী কে, সেটিই কি একমাত্র বিষয়? নাকি তাকে বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়াটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ? উত্তরটি দর্শকের কাছে ছেড়ে দিয়েছেন মেঘনা গুলজার।

এক তরুণীর নিখোঁজের ঘটনায় উন্মোচিত হলো একাধিক প্রশ্ন
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream