বাংলা চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক জগতের অবিসংবাদিত সম্রাট, কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন এন্ড্রু কিশোরের ৭১তম জন্মদিন আজ। ১৯৫৫ সালের এই দিনে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করা এই কিংবদন্তি শিল্পী ২০২০ সালের ৬ জুলাই ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। আজ তাঁর জন্মদিনে চারপাশের অনুরাগীদের মুখে যেন একটাই দীর্ঘশ্বাস—‘বড় ভালো লোক ছিল’।
রাজশাহীর ললিতকলা একাডেমিতে ওস্তাদ আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে সংগীতের হাতেখড়ি হয়েছিল তাঁর। সত্তরের দশকের শেষের দিকে সলিল চৌধুরীর সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্লেব্যাকে পথচলা শুরু করেন তিনি। তবে তাঁর অনন্য প্রতিভার পূর্ণ প্রকাশ ঘটে ১৯৮২ সালে মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘বড় ভালো লোক ছিল’ চলচ্চিত্রে। সৈয়দ শামসুল হকের লেখা আর আলম খানের সুরে গাওয়া ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, দম ফুরাইলেই ঠুস’ গানটি তাঁকে এনে দেয় জীবনের প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি রেকর্ডসংখ্যক ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
এন্ড্রু কিশোর শুধু গানই গাইতেন না, তিনি সিনেমার চরিত্রের সুনিপুণ আবেগকে নিজের কণ্ঠে ধারণ করতেন। রোমান্টিক বিরহ, জীবনের গভীর দর্শন কিংবা চটুল আনন্দ—সব ধরনের গানেই তাঁর কণ্ঠ ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’—এমন অসংখ্য কালজয়ী গানে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস।
সংগীত অঙ্গনে এন্ড্রু কিশোর কেবল একজন অসাধারণ শিল্পীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক অমায়িক ব্যক্তিত্বের অধিকারী। নতুন ও জুনিয়র শিল্পীদের মেন্টরিং করা, সহকর্মীদের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁর সদালাপী স্বভাবের জন্য চলচ্চিত্র পাড়ায় তিনি সবার প্রিয় ‘কিশোর দা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে সংগীত অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা আজও অপূরণীয়। জন্মদিনে এই মহান শিল্পীর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।
মতামত