বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

ক্যাম্পাস

সরকারি চাকুরিতে ভাইবা নম্বর বৃদ্ধির প্রতিবাদে কুবিতে বিক্ষোভ

সরকারি চাকুরিতে ভাইবা নম্বর বৃদ্ধির প্রতিবাদে কুবিতে বিক্ষোভ

সরকারি চাকুরির ১১ম থেকে ২০তম গ্রেডে মৌখিক নম্বর বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবির, জাতীয় ছাত্র শক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা।বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ চলাকালে তারা 'জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে', 'ভাইবা না মেধা, মেধা মেধা', 'কোটা গেছে যেদিকে, ভাইবা যাবে সেদিকে', 'ভাইবা নামে দলীয়করণ, চলবে না চলবে না', 'সুপারিশের প্রহসন, চলবে না চলবে না', স্লোগানসহ অবিলম্বে ভাইবা নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করার আহ্বান জানায় শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় রাজপথে সরকার পতনের আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ার দেয় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা।এ সময় বিক্ষোভ মিছিলে শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি আবছার উদ্দিন ইফতি বলেন, ১১-২০তম গ্রেডের চাকরির ভাইভাতে ৪০ মার্ক বৃদ্ধি করে সরকার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত বলে দিচ্ছে সরকার মেধাবীদের বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। চব্বিশ পরবর্তী সময়ে একটা সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চেয়েছিলাম, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর মেধাবীদের বাদ দিয়ে, যে পাঁয়তারা শুরু করেছে আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সরকারকে বলছি এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন নইলে আমরা চব্বিশের মত ঐ পথে যেতে বাধ্য হব।কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক নাঈম ভূঁইয়া বলেন, একটা দল কীভাবে প্রত্যেকটা জায়গায় দলীয়করণ করে, তার উদাহরণ আপনি চারদিকে তাকালে দেখতে পারবেন। এমন কোনো সেক্টর নাই, প্রতিষ্ঠান নাই, যেখানে দলীয়করণ করা হয় নাই। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও এমন দলীয়করণ দেখি নাই, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর ১৪০০ শহিদের উপর দাঁড়িয়ে সরকার সর্বোচ্চ দলীয়করণ করেছে। চাকরিতে ১১-২০ গ্রেড কর্মচারী পর্যন্তও দলীয়করণ করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বলে দিতে চাই আপনি যদি সেই ফ্যাসিবাদী কায়দায় ফিরে যেতে চান, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সেটা মেনে নিবে না।শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, 'যে বৈষম্যের কারণে ১৪০০ মানুষ শহিদ হয়েছে, ২০ হাজার পঙ্গুত্ব বরণ করেছে তাদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসে আবার বৈষম্যের পথ বেছে নিয়েছে। সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এটা একটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। সরকার যদি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে এই আন্দোলন দাবানলের মতো সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। এই আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে আপনাদের পিছনে ফেরার রাস্তাও বন্ধ হয়ে যাবে।

কুবিতে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে নূরে মুজাসসাম কনফারেন্স

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) নূরে মুজাসসাম কনফারেন্স ও নাতে রাসুল (সা.) অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে পঞ্চমবারের মতো এ আয়োজন করা হয়।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও কর্ম শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুলে ধরার পাশাপাশি নবীপ্রেম ও ইসলামী মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোহাম্মদ সাইদুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন কান্দিরপাড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম আল কাদ্বেরী। প্রধান আলোচক ছিলেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক শাইখ মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাকসুদুল করিম।আয়োজকরা জানান, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ তুলে ধরতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে এবারের আয়োজনে সীরাত অলিম্পিয়াড, নবীন বরণ, নূরে মুজাসসাম কনফারেন্স ও নাতে রাসুল (সা.) পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাকসুদুল করিম বলেন, “আজকে আমরা ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আমাদের ক্ষুদ্র সামর্থে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আমাদের ভালোবাসা প্রদর্শন করার জন্য এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছি। আজকে আমাদের কুমিল্লা ইউনিভার্সিটির এই অনুষ্ঠানেও কষ্ট করে যারা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসা প্রদর্শন করার জন্য এসেছেন আপনাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং আমাদের ছাত্র-ছাত্রী সবাইকেই আন্তরিকভাবে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, “পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক। বিচ্ছিন্ন মুসলিম জনতা যে নামের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়, সে নাম হজরত মুহাম্মদ (সা.)। এই ধারণাকে সামনে রেখেই আমাদের নূরে মুজাসসাম কনফারেন্স ও নাতে রাসুলের আয়োজন। আয়োজনটি সফল করতে সংগঠনের সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রশাসনকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাই।”

কুবিতে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে নূরে মুজাসসাম কনফারেন্স

ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের জন্য ইবি শিক্ষার্থীর আকুতি

মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী মোঃ নূরশেদ। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি ও তার পরিবার। তাই মাকে বাঁচাতে সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে আকুতি জানিয়েছেন এই শিক্ষার্থী। নুরশেদ ইবির ইংরেজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ডুমখালী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা তিনি। তাঁদের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। বাবা আব্দুল মালেক বর্তমানে বয়সের ভারে কাজ করতে পারছেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী তার প্রবাসী বড় ভাই। গত ১৯ আগস্ট তার মা সেতারা বেগমের পাকস্থলীর ক্যান্সার (তৃতীয় পর্যায়) শনাক্ত হয়। নূরশেদ জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর মাকে প্রাথমিকভাবে ছয়টি কেমোথেরাপি দিতে হবে। প্রতিটিতে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা খরচ হবে। ইতোমধ্যে একটি কেমোথেরাপি সম্পন্ন হয়েছে। কেমোথেরাপিতে আশানুরূপ উন্নতি না হলে পরবর্তী ধাপে লেজার থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এরপর অস্ত্রোপচার করতে হবে যার সম্ভাব্য খরচ আট লক্ষাধিক টাকা। এতে তার মায়ের চিকিৎসায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার প্রয়োজন পড়বে। তবে চিকিৎসার এই বহুল ব্যয়ভার বহন করা তার পরিবারের জন্য দুষ্কর হয়ে পড়েছে। প্রথম ধাপের কেমোথেরাপির চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তাঁরা। তাই সকলের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন নূরশেদ। নূরশেদ বলেন, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে মায়ের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু চিকিৎসার ব্যয় আমাদের সামর্থ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। কেমোথেরাপি ও পরবর্তী অপারেশনের খরচ জোগাতে না পারলে মাকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যাবে। তাই বাধ্য হয়ে সবার কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছি। সহযোগিতা পাঠানোর মাধ্যম-বিকাশ/নগদ: ০১৮৭৮-৩৮১০৩৪ ব্যাংক: সিটি ব্যাংক, পাঁচ রাস্তার মোড় শাখা, কুষ্টিয়া, হিসাব নম্বর: ১৭৮১৮৩০০০২৬৩৫ রাউটিং নম্বর: ২২৫৫০০৯৪৩

 ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের জন্য ইবি শিক্ষার্থীর আকুতি

বাকৃবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফিশারিজ বায়োলজি এণ্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামের সরদার। তিনি এনিমেল ব্রিডিং এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার স্থলাভিষিক্ত হবেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামের সরদার কে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ- যেটি আগে হবে, সে সময় পর্যন্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য যে কোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার একজন খ্যাতনামা গবেষক। সম্প্রতি মৎস্যসম্পদ গবেষণা ও বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৬’ (স্বর্ণপদক)’ অর্জন করেন তিনি। তিনি ২০২৪ সাল থেকে বাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ গত ২০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।

বাকৃবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার

শব্দদূষণে নষ্ট হচ্ছে পড়াশোনার পরিবেশ, ভোগান্তিতে কুবির শিক্ষার্থীরা

​একদিকে চলছে বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা, অন্যদিকে একই সময়ে বাজছে ঢোল, বাঁশি আর উচ্চশব্দের সাউন্ড বক্স। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এমন চিত্র নিয়মিতই চোখে পড়ে শিক্ষার্থীদের। উচ্চ শব্দের আয়োজনে প্রায়ই ক্লাস–পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন, ভাইবা ইত্যাদিতে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি বিভাগের সপ্তাহব্যাপী সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন আয়োজন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে ব্যান্ডপার্টিসহ র‍্যালি, ফ্ল্যাশমব আয়োজন ইত্যাদি। এসকল আয়োজন ক্যাম্পাসের অভ্যন্তর থেকে সরিয়ে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে আয়োজনের দাবি শিক্ষার্থীদের। ​বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আফতাবুল হক খান বলেন, "ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় উচ্চ শব্দের কারণে আমাদের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম, বিশেষ করে ক্লাস পরিচালনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বিঘ্ন ঘটে। এছাড়া অনেক সহপাঠী আছেন যারা অতিরিক্ত শব্দের কারণে মাথাব্যথা, মাইগ্রেন ও উদ্বেগজনিত শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। উচ্চ শব্দ তৈরি করে এমন অনুষ্ঠানগুলো একাডেমিক ভবন থেকে দূরে নির্দিষ্ট কোনো মাঠে করা হলে একদিকে যেমন আনন্দ-উৎসব বিঘ্নিত হবে না, অন্যদিকে শিক্ষার পরিবেশও বজায় থাকবে।" ​একই কথা জানান পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী খাইরুল আমিন রাব্বি। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক কিংবা ক্রীড়া উৎসব হওয়া অবশ্যই ইতিবাচক। তবে ক্লাস চলাকালে অতিরিক্ত বাদ্যযন্ত্র ও সাউন্ড বক্সের আওয়াজ শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট করে এবং শিক্ষকের সাথে দূরত্বের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বিভিন্ন বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন ও ভাইভা সেশন চলায় এই ধরনের উচ্চ শব্দ চরম বিড়ম্বনা তৈরি করে। উক্ত বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পরিবেশে বিঘ্ন ঘটানোর অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইউসুফ কালাম খান। তিনি বলেন, "শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশই শিক্ষার প্রথম শর্ত। পরীক্ষা ও ক্লাস চলাকালে শব্দদূষণ রোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনতিবিলম্বে শক্ত ভূমিকা পালন ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।" ​শিক্ষার্থীদের এই অভিযোগ ও দুর্ভোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপরামর্শক ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দীন জানান, তাঁরা ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে সতর্ক করেছেন যাতে অনুষ্ঠানগুলো একাডেমিক ভবন থেকে পর্যাপ্ত দূরত্বে করা হয়। পাশাপাশি ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন ও শব্দমুক্ত রাখতে বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা কমিটির নজরে আনা হয়েছে। ​বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম বলেন, "আমরা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি যেন ক্লাস-পরীক্ষার সময় ভবনের কাছাকাছি বাদ্যযন্ত্র বা সাউন্ড বক্স ব্যবহার না করা হয়। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।"

শব্দদূষণে নষ্ট হচ্ছে পড়াশোনার পরিবেশ, ভোগান্তিতে কুবির শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-ইচ্ছুকদের ভোগান্তি কমাতে ‘অ্যাডমিশন হাব’

ভর্তি পরীক্ষার সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করতে হয় শিক্ষার্থীদের। কোথায় কখন পরীক্ষা, কোন বিষয়ে কত নম্বর, নেগেটিভ মার্কিং কত, আবেদন কখন শুরু ও শেষ, আবেদন ফি কত কিংবা ফলাফল কোথায় প্রকাশ হয়েছে- এসব তথ্য জানতে গিয়ে সময় অপচয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিতেও পড়তে হয় ভর্তি-ইচ্ছুকদের।শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তি কমিয়ে ভর্তি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিভিন্ন সহায়ক সেবা একটি ওয়েবসাইটে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফার্ম স্ট্রাকচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মো. জাহিদুল ইসলাম তালুকদার। তাঁর উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ওয়েব প্ল্যাটফর্ম 'অ্যাডমিশন হাব'। ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারবেন।প্ল্যাটফর্মটিতে পরীক্ষার সময়, তথ্য, আবেদন, অ্যাডমিট, ফলাফল, সাবজেক্ট রিভিউ এবং ভর্তি ব্লগ ও গাইড এই মোট ৭ টি প্রধান সুবিধা থাকছে। সেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও সময়, কোন বিষয়ে কত নম্বরের পরীক্ষা হবে এবং নেগেটিভ মার্কিং কত- এসব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে। পাশাপাশি আবেদনের শুরুর ও শেষ তারিখ, বিভিন্ন বিভাগ বা ইউনিটের আবেদন ফি এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখার সুযোগ রয়েছে। অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোডের সময়সীমা জানা যাবে এবং সেটি ডাউনলোড করেও নেওয়া যাবে।ভর্তি পরীক্ষার পর ফলাফল দেখার ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে যেতে হবে না। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল এক জায়গায় দেখার সুবিধা রাখা হয়েছে প্ল্যাটফর্মটিতে।'অ্যাডমিশন হাব'-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো 'সাবজেক্ট রিভিউ'। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন ডিগ্রি ও বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। কোনো বিষয়ে কী পড়ানো হয়, কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই বিষয় পড়ানো হয়, আসন সংখ্যা কত এবং ওই বিষয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে কী ধরনের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে- এসব তথ্যও পাওয়া যাবে এখানে।ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য 'অ্যাডমিশন হাব'- এ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিটভিত্তিক ভর্তি গাইড। এসব গাইডে ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন, আবেদনের প্রয়োজনীয় লিংক এবং প্রস্তুতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও অনুষদভেদে ভর্তি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আলাদাভাবে সাজানো থাকায় শিক্ষার্থীরা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউনিটের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সহজেই ধারণা নিতে পারবেন।ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি সহায়ক সুবিধাও রাখা হয়েছে। আবেদন করার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী ছবি ও স্বাক্ষরের আকার নির্ধারিত মাপে পরিবর্তন করার সুবিধা রয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন বাসের রুট ও ভাড়ার তথ্য, চলন্ত ট্রেনের বর্তমান অবস্থান ও বিলম্বের তথ্য, মেট্রোরেলের ভাড়ার তালিকা, সময়সূচি ও স্টেশনসংক্রান্ত তথ্য এবং ট্রেনের সময়সূচিও পাওয়া যাবে প্ল্যাটফর্মটিতে। এছাড়া কৃষি গুচ্ছে আবেদন করার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী তার এসএসসি ও এইচএসসির শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জিপিএ অনুযায়ী আবেদন করার জন্য যোগ্য কি না, তা যাচাই করতে পারবেন কৃষি গুচ্ছ জিপিএ ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে।নতুন এ উদ্যোগটি নিয়ে মো. জাহিদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ভর্তি পরীক্ষার সময় একজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ঘুরে ঘুরে ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য খুঁজতে হয়। আমিও শিক্ষার্থী হিসেবে এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির চিন্তা আসে, যেখানে একজন শিক্ষার্থী এক জায়গা থেকেই দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পেতে পারে।তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট কমানো এবং সঠিক ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য সহজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্ল্যাটফর্মটিতে আরও বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।প্ল্যাটফর্মটির পাশাপাশি বর্তমানে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরির কাজও চলছে। তবে অ্যাপটি এখনো চালু হয়নি; কাজ শেষ হলে ভবিষ্যতে এটি চালু করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-ইচ্ছুকদের ভোগান্তি কমাতে  ‘অ্যাডমিশন হাব’

কুবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃত্বে নিলয়–নাফিজা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) জাতীয় ছাত্রশক্তির ১০ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের নিলয় বড়ুয়া এবং সদস্যসচিব হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সৈয়দা নাজিফা নাফিল।এছাড়া মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রসায়ন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের আরিফুল ইসলাম রনি। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় ছাত্রশক্তির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহসান লাবিব ও সাধারণ সম্পাদক আবু বকর মজুমদারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।এ ছাড়াও কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন আলামিন মজুমদার, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে ওমর ফারুক। যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) হিসেবে মোহাম্মদ উসমান, যুগ্ম সদস্যসচিব (মিডিয়া) হিসেবে জোবায়ের আজম খান।তাছাড়া আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন নাঈম ভূঁইয়া, বিল্লাল হোসেন এবং জি. এম. তৈয়বুর ইসলাম।এ বিষয়ে সদস্যসচিব সৈয়দা নাজিফা নাফিল বলেন, "জাতীয় ছাত্রশক্তি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব পদে নির্বাচিত হওয়ায় আমি গভীর কৃতজ্ঞ ও দায়বদ্ধ। এই দায়িত্ব আমার কাছে কেবল পদ নয়–এটি একটি আমানত, যা আমি নিষ্ঠার সাথে পালন করার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ। আমাদের ক্যাম্পাসের প্রতিটি শিক্ষার্থীর অধিকার ও কল্যাণে কাজ করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। আপনারা আমার পাশে থাকবেন–এটাই প্রত্যাশা।"আহ্বায়ক নিলয় বড়ুয়া বলেন, "জাতীয় ছাত্রশক্তির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করা, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো নিয়ে সোচ্চার থাকাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তিকে আরও শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।"উল্লেখ্য, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কুবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃত্বে নিলয়–নাফিজা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে চাইনিজ ভাষা শিক্ষা কোর্স

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষার্থীদের জন্য তিন মাস মেয়াদি চাইনিজ ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চায়নার কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে কি-নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইয়াং হু। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি চীনা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে শুধু ভাষা শিক্ষা নয়, একাডেমিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালুর ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি অপশন প্রস্তাব করা হয়েছে— সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে ভাষা শিক্ষা, সরাসরি চীনা শিক্ষক দিয়ে ক্লাস পরিচালনা (যা তুলনামূলক সময়সাপেক্ষ বলে জানানো হয়েছে) এবং অনলাইন-হাইব্রিড পদ্ধতি। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেরাই কোর্সটি অফলাইনে পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে। এই বিষয়গুলো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি শিগগিরই কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর যে পদ্ধতি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উপযোগী মনে হবে, সেটিই কার্যকর করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, প্রাথমিকভাবে অফলাইন পদ্ধতিতে তিন মাস মেয়াদি এই ভাষা কোর্স চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালককে মাসে অন্তত একবার সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে চীনা শিক্ষকদের আবাসন সুবিধা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া হবে, আর বাকি সার্বিক সহায়তা দেবে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজ নামে একটি ডিগ্রি বা সাবজেক্ট চালু থাকলেও, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে একটি স্বল্পমেয়াদি ভাষা কোর্স দিয়ে যাত্রা শুরু করতে চায়। পরবর্তী ধাপে একাডেমিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম নিয়েও অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্রস্তাব শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে উপস্থাপন করা হবে। কাউন্সিলে তিন মাস মেয়াদি এবং প্রধানত অফলাইনভিত্তিক প্রোগ্রামটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। পাশাপাশি চতুর্থ বর্ষ অথবা মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করে তাদের এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেহেতু তারা এক বছরের মধ্যেই স্নাতক শেষ করে বের হয়ে যাবেন। মূলত এই শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের দ্রুত কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করে দিতেই ফোর্থ ইয়ার ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, চাইনিজ ভাষা রপ্ত করা শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা চীনে গিয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগও পেতে পারবেন। উল্লেখ্য, একই সময়ে জাপানের সঙ্গে একটি 'টু প্লাস টু' শিক্ষা কর্মসূচি নিয়েও কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়, যাতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে চাইনিজ ভাষা শিক্ষা কোর্স

প্রার্থনা, পূজা ও উৎসবের আমেজে কুবিতে জন্মাষ্টমী উদযাপন

ভক্তি, শ্রদ্ধা ও উৎসবের আবহে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী মহোৎসব পালন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সংগঠন 'পূজা উদযাপন পরিষদ' এর উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ উৎসব পালিত হয়। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থনা কক্ষে মঙ্গল আরতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে সকাল ১০ টায় একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। শোভাযাত্রা শেষে সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার প্রত্যয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেন আয়োজকরা। দিনব্যাপী আয়োজনে বিকেল ৪টায় কীর্তন, বিকেল ৫টায় আলোচনা সভা, সন্ধ্যা ৬টায় সন্ধ্যা-আরতি এবং রাত আটটার দিকে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাভিষেক করা হবে। পরিশেষে রাত শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে। এ বিষয়ে পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রুবেল বৈরাগী বলেন, "ভগবান ধর্ম প্রতিষ্ঠা ও দুষ্টের দমনের জন্য যুগে যুগে অবতীর্ণ হন। তাঁর এই আদর্শ শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রাসঙ্গিক। আমরা বৈষম্যহীন সমাজের কথা শুনলেও বাস্তবে এখনো কিছু বৈষম্য রয়ে গেছে। দীর্ঘ আন্দোলনের পর একটি প্রার্থনা কক্ষ পেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আশা করি বর্তমান প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে।" পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সজীব বিশ্বাস বলেন, "ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ আমাদের সত্য, ন্যায়, প্রেম ও মানবতার পথে চলার শিক্ষা দেয়। এই পবিত্র দিনে আমাদের প্রার্থনা জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক, শান্তিতে থাকুক এবং সকলের জীবনে মঙ্গল ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হোক, শুভ জন্মাষ্ঠমী।"

প্রার্থনা, পূজা ও উৎসবের আমেজে কুবিতে জন্মাষ্টমী উদযাপন

জবির সাবেক শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস পুকুরে, আহত ১৫

​পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ডাবল ডেকার স্লিপার কোচ পুকুরে পড়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাবেক শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৫ জন পর্যটক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কুয়াকাটা যাওয়ার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।​শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের খলিলপুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।​জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১ ও ২০২৩ ব্যাচের একদল সাবেক শিক্ষার্থী কুয়াকাটা ভ্রমণের জন্য আইকনিক পরিবহনের ওই দোতলা স্লিপার বাসটি রিজার্ভ করেছিলেন।​পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে ২০-২৫ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সকালে খলিলপুর পৌঁছালে চালক বাসটির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারান, ফলে যানটি সড়কের পাশে থাকা একটি পুকুরে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হন।​ঘটনার পরপরই কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের টিম দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদের উদ্ধার করে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর আহত ছয়জনকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, বাসটি জব্দ করা হলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

জবির সাবেক শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস পুকুরে, আহত ১৫

জবি রসায়ন বিভাগ ডিবেটিং ক্লাবের নেতৃত্বে ফাহিম ও তারিক

গত ২ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ রসায়ন বিভাগ ডিবেটিং ক্লাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর বাৎসরিক সভা গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিক্ষার্থীদের ভোটের মাধ্যমে ২০২৬-২০২৭ সেশনের জন্য নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হয়। রসায়ন ১৮তম আবর্তনের আকরামুল হোসেন (ফাহিম) সভাপতি এবং মোঃ তারিক আজিজ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। পরবর্তীতে ৪৩ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের মডারেটর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল মামুন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের উপদেষ্টা ও রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ আমিনুল হক। এ ছাড়া বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর সাধারণ সম্পাদক তারিক আজিজ বলেন, বিতর্ক মানুষের সৃজনশীলতা ও বুদ্ধিমত্তা বিকাশে সহায়ক, এবং রসায়নের শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনা ও গবেষণার পাশাপাশি বিতর্কেও এগিয়ে যায় সেজন্য তারা কাজ করে যাবেন। জুনিয়র শিক্ষার্থীদের বিতর্কে আগ্রহী করে তোলাও তাদের লক্ষ্য বলে তিনি জানান।নবনির্বাচিত সভাপতি আকরামুল হোসেন (ফাহিম) বলেন, রসায়ন শিক্ষা ও গবেষণায় জবি রসায়ন বিভাগ দেশব্যাপী সুনাম অর্জন করে আসছে, এবং পড়াশোনার পাশাপাশি বিতর্ক চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা আরও বিকশিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। গবেষণার মতো বিতর্কও যেন বিভাগের শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে, সেই লক্ষ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানোর কথা জানান তিনি। এই দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ায় তিনি ক্লাবের মডারেটর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল মামুনকে ধন্যবাদ জানান।

জবি রসায়ন বিভাগ ডিবেটিং ক্লাবের নেতৃত্বে ফাহিম ও তারিক

গত একবছরে ৮টি জার্নাল প্রকাশ, অতঃপর MIST-এ লেকচারার হলেন জবি রসায়নের রাকিব

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাকিব খান মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (MIST) রসায়ন বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগদান করেছেন। গত ২২ জুলাই তিনি এই পদে যোগ দেন।এর আগে রাকিব খান জবি রসায়ন বিভাগ থেকে অনার্স সম্পন্ন করেন এবং মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। অনার্স শেষে তিনি জবি রসায়ন বিভাগের শিক্ষক এ. জে. সালেহ আহমেদের রিসার্চ গ্রুপে যোগ দেন এবং একে একে প্রকাশ করেন ৮টি গবেষণাপত্র, যার মধ্যে রয়েছে ২টি রিসার্চ পেপার, ৪টি রিভিউ পেপার এবং ২টি বুক রিভিউ। এর মধ্যে শুধু ২০২৬ সালেই তিনি প্রকাশ করেন ৬টি গবেষণাপত্র, এবং প্রকাশিত সবগুলো গবেষণাপত্রই স্থান পায় Q1 জার্নালে।রাকিবের এই অর্জন প্রসঙ্গে জবি রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আমিনুল হক বলেন, “আমাদের রসায়নের শিক্ষার্থীরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে গেছে। তারা যেখানেই গেছে, নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। রাকিব আমাদের সিআর এবং অত্যন্ত মেধাবী একজন ছাত্র ছিল। এক বছরে ৮টি পেপার Q1 জার্নালে প্রকাশনা করা অনেক কঠিন কাজ । কিন্তু সেটাই করে দেখিয়েছে আমাদের এই ছাত্র। এখন সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্বিত।”জুনিয়রদের উদ্দেশ্যে রাকিব খান বলেন, "গবেষণা হোক বা জীবন—বারবার ব্যর্থতা আসবে, নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু থেমে না গিয়ে প্রতিটি সমস্যা থেকে শিখতে হবে, সমাধান খুঁজতে হবে এবং আবার এগিয়ে যেতে হবে। একসময় সফলতা অবশ্যই আসবে।"তিনি আরও বলেন, "তবে দুটি বিষয় সবসময় মনে রাখবে—Be honest and work hard in the right way. সততা ও সঠিক পথে কঠোর পরিশ্রম করলে সফলতা হয়তো দেরিতে আসবে, কিন্তু তা অবশ্যই আসবে। Keep learning, keep moving forward, and never give up."

গত একবছরে ৮টি জার্নাল প্রকাশ, অতঃপর MIST-এ লেকচারার হলেন জবি রসায়নের রাকিব

পবিপ্রবিতে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে নতুন একাডেমিক ভবন

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) আগামী ৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) (সম্ভাব্য)  উদ্বোধন হতে যাচ্ছে নতুন একাডেমিক ভবন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান আনুষ্ঠানিকভাবে ভবনটির উদ্বোধন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।উদ্বোধনের পর ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ (বিবিএ) এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) অনুষদের ডিনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নতুন ভবন চালু হওয়ার ফলে দীর্ঘদিনের ক্লাসরুম সংকট অনেকাংশে দূর হবে এবং এ দুই অনুষদের শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ সুবিধা পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ২৩-২৪ সেশনের সেশনাল পরীক্ষা চলার কারণে বাকি সেশনের শিক্ষার্থীদের অফলাইনে সরাসরি ক্লাস বন্ধ রয়েছে। তারা তাদের শ্রেণি কার্যক্রম অনলাইনে চালিয়ে নিচ্ছেন। এদিকে ক্লাসরুম সংকটের কারণে নিয়মিত এমবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হয় শিক্ষকদের চেম্বারে। অনেকসময় তাদের পরীক্ষা দিতে হয় আন্ডারগ্র‍্যাড শিক্ষার্থীদের সাথে। এব্যাপারে কথা বলতে চাইলে এমবিএর শিক্ষার্থী ইমন হতাশা প্রকাশ করেন। ক্লাসরুম সংকট প্রকট আকার ধারণ করায় তিনি বলেন, "এভাবে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেগুলার প্রোগ্রাম(এমবিএ) চলতে পারেনা। আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।" এদিকে আন্ডারগ্র্যাড শিক্ষার্থী মাহিন বলেন, "এত কম সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আমাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে তা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা গত ৯ তারিখে শেষ হবার পরেও ক্লাসরুম সংকট এর কারণে আমরা এখনো নতুন সেমিস্টারের ক্লাস শুরু করতে পারি নি। এভাবে তো একটা অনুষদ চলতে পারেনা।" এ বিষয়ে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক বদিউজ্জামান বলেন, "নতুন একাডেমিক ভবনটি আমাদের অনুষদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শ্রেণিকক্ষ সংকট অনেকটাই লাঘব হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নতুন শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের এই ভবনে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত।"বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যাশা, নতুন একাডেমিক ভবনটি চালু হওয়ার মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষার্থীরা আধুনিক ও অনুকূল পরিবেশে পাঠদান গ্রহণের সুযোগ পাবে।

পবিপ্রবিতে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে নতুন একাডেমিক ভবন

বাকৃবির হলগুলোতে পরপর চুরি-ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ শিক্ষার্থীদের

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একাধিক আবাসিক হলে গত কয়েকদিনে পরপর চুরির অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানেও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে আবাসিক হলগুলোর পেছনের অংশ, প্রবেশপথ ও জানালার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের ‘ডি’ ব্লকের তৃতীয় তলায় একাধিক কক্ষে চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই হলের শিক্ষার্থীরা জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। পরে আরও একটি কক্ষে চুরির চেষ্টা করার সময় কক্ষের বাসিন্দার নজরে পড়লে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান। এ সময় তার জুতা ও কিছু আলামত ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে। এর আগে ২২ আগস্ট রাত আড়াইটায় 'ডি' ব্লকের ২৪০ নং রুম থেকে ২টি ফোন চুরির অভিযোগ রয়েছে। তবে এর একদিন পর ১টি ফোন(আইফোন) ফেরত দিয়ে যায় বলে জানান শিক্ষার্থরা।ফজলুল হক হলের শিক্ষার্থী সোয়াইব বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য হলের পেছনের অংশ নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। দেওয়ালের কাঁটাতার দ্রুত মেরামত করতে হবে। পুরো হলকে সিসিটিভির আওতায় আনার পাশাপাশি পেছনের গেটে সার্বক্ষণিক একজন নিরাপত্তাকর্মী রাখার দাবি জানান তিনি।এদিকে একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহীদ শামসুল হক হলের ‘এ’ ব্লকের তৃতীয় তলা থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে গত ৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে হলের ‘সি’ ব্লকের পেছন দিয়ে এক ব্যক্তি প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বাথরুমের পাইপ বেয়ে উঠে পেছনের জানালা দিয়ে ২২৮ নম্বর কক্ষ থেকে টেবিলে রাখা একটি স্মার্টফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।শামসুল হক হলের শিক্ষার্থী দিগন্ত বলেন, হলে কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা জরুরি। বিশেষ করে হলের পেছনের অংশ দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীন। ওই অংশের বাউন্ডারি টপকে সহজেই হলে প্রবেশ করা সম্ভব। তাই সেখানে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।এদিকে গত ২২ আগস্ট মাওলানা ভাসানী হলে ‘এ’ ব্লকের ১০৫ নম্বর কক্ষে থাকা নেপালি শিক্ষার্থীদের দুটি ফোন চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি ফোন ২৪ আগস্ট অজ্ঞাতভাবে ফেরত পাওয়া গেলেও ওই শিক্ষার্থীদের মানিব্যাগ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এরপর গত ২৭ আগস্ট একই ব্লকের ১০৪ নম্বর কক্ষ থেকেও একটি ফোন চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়।মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থী জায়েদ মন্ডল বলেন, হলে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীদের আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি থাকলে চুরির ঝুঁকি বাড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।এছাড়া গত ৩০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও বৈশাখী চত্বরে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পরে পৃথক অভিযান চালিয়ে দুই স্থান থেকে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি।পরপর এসব ঘটনায় আবাসিক হলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী ও নিয়মিত নজরদারির ঘাটতির কারণে হলের বিভিন্ন প্রবেশপথ, পেছনের অংশ ও জানালা দিয়ে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ এস এম খায়রুল ফাত্তাহ বলেন, বৈশাখী চত্বর ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে ছিনতাইয়ের ঘটনায় একই ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই ৭-৮টি মামলা রয়েছে এবং তিনি জামিনে ছিলেন। প্রথম ঘটনার পর পর্যাপ্ত প্রমাণ ও বাদী না থাকায় তাকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দিতে হয়েছিল। বর্তমানে অপরাধ দমনে প্রক্টর অফিসের সঙ্গে যৌথভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক টহলের জন্য একটি স্থায়ী পুলিশ টিম মোতায়েনের চেষ্টা চলছে। অনিয়ন্ত্রিত অনুপ্রবেশ বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে জনবল ঘাটতি পূরণ এবং প্রয়োজনীয় গাড়ি ও সিসিটিভি ক্যামেরা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. রায়হান হাবিব বলেন, চুরি রোধে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মূল্যবান জিনিসপত্র লকারে তালাবদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি বাইরে থেকে হাত বাড়িয়ে নেওয়া যায় এমন স্থানে না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হলের পেছনের অন্ধকার জায়গাগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো পেছনের এলাকা কভার করে এমন একটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।শামসুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবুল মঞ্জুর খান বলেন, চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীরা একজনকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করেছে। পরবর্তী কার্যক্রম পুলিশ পরিচালনা করছে। নিরাপত্তা জোরদারে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। হলে বিভিন্ন ধরনের লোকজনের আসা-যাওয়া থাকায় মনিটরিং সহজ করতে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় সবার নাম খাতায় লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি একজন নিরাপত্তাকর্মীও বাড়ানো হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, সম্প্রতি আবাসিক হলগুলোতে বেশ কিছু চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভায় আলোচনা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট বৈশাখী চত্বর থেকে দুজন এবং পরে বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। হলগুলোর পেছনের অংশে আলোর স্বল্পতা আছে কি না, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হল প্রশাসনকেও নিজ নিজ দায়িত্বে কোনো ধরনের গাফিলতি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রক্টর বলেন, জব্বারের মোড় থেকে ফার্স্ট গেট পর্যন্ত সড়কে বর্তমানে নির্মাণকাজ চলছে। এ কারণে সড়কের লাইটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে সন্ধ্যার পর রাস্তাটি অন্ধকার থাকে। সড়কটি সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেখানে নতুন করে লাইট স্থাপন করতে পারছে না। শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পর ঝুঁকিপূর্ণ এসব সড়ক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছি। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে।

বাকৃবির হলগুলোতে পরপর চুরি-ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ শিক্ষার্থীদের

হাওরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে বাউরেসের ২২ গবেষণা, উপকৃত ৯০৪ কৃষক

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) উদ্যোগে হাওরাঞ্চলের কৃষি গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবন বিষয়ক প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যালোচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সমাপনী কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, 'ফাইনাল রিভিউ ওয়ার্কশপ অব সিটি ব্যাংক'স এগ্রিকালচারাল রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট আন্ড ইনোভেশন ইন দি অগ্র ইকোলজিক্যাল রিজিওন অব বাংলাদেশ' শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পের অর্থায়ন করে সিটি ব্যাংক। তিন বছর মেয়াদী প্রকল্পের আওতায় বাকৃবির গবেষকদের তত্ত্বাবধানে ২২টি উপ প্রকল্প পরিচালিত হয়। বাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সমাপনী কর্মশালায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুস সালাম, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মো. মনোয়ার করিম খান, সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশরুর আরেফিন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাউরেসের সাবেক সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাভিদুল হক ভূঁঞা। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাউরেসের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. হাম্মাদুর রহমান। তিনি বলেন, হাওর অঞ্চলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, পরিবেশ ও জীবিকার নানা সংকট মোকাবিলার উদ্দ্যেশে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গবেষণায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি উৎপাদন, ফসল বহুমুখীকরণ, রোগ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দেশের হাওর বেস্টিত সাত জেলায় ২২ টি গবেষণা পরিচালিত হয়। সম্পূর্ণ প্রকল্পে চার কোটি টাকা অর্থায়ন করে সিটি ব্যাংক।তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির উদ্বোধনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পুরো প্রকল্পে বাকৃবির ২২ জন প্রধান গবেষকসহ মোট ৮১ জন গবেষক, ৩৬ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও চারজন পিএইচডি ফেলো গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে ২১টি কর্মশালা ও ১৩ টি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্পূর্ণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ৯০৪ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। উপ প্রকল্পসমূহের গবেষণালব্ধ ফলাফলসমূহের মধ্যে ইতোমধ্যে নয়টি ইমপ্যাক্ট জার্নালে ৪৩টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমে ১২৪টি স্বল্পমেয়াদি কর্মক্ষেত্র সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।প্রকল্পের সফলতা নিয়ে ড. হাম্মাদুর রহমান বলেন, সিটি ব্যাংকের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) বিনিয়োগের মাধ্যমে কৃষি গবেষণায় অর্থায়নের মাধ্যমে শুরু হয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও উদ্ভাবন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত কৃষকের জীবনযাত্রার মান ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা উন্নত করেছে৷ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ, শিল্প, শিক্ষা ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়, আন্তর্জাতিক জ্ঞান বিনিময়, কৃষককেন্দ্রিক উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত, শক্তিশালী বাজার সংযোগ, কার্যকর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন এবং ডিজিটাল জ্ঞানভান্ডারের মাধ্যমে গবেষণার ফলাফল, তথ্য-উপাত্ত ও প্রশিক্ষণসামগ্রী সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। এসময় বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, দেশের হাওরাঞ্চলের কৃষির উন্নয়নে এত বড় অর্থায়ন করার জন্য সিটি ব্যাংককে ধন্যবাদ জনাই। আমি গবেষকদের অনুরোধ করবো এই ২২ গবেষণা থেকে জনসাধারণের জন্য সমস্যা ভিত্তিক সমাধানগুলো পত্রিকায় লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরেন। আমি বিশ্বাস করি গবেষণা এত সহজ নয়। কিন্তু বাকৃবির গ্রাজুয়েটরা তাদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশের খাদ্য উৎপাদন, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও কৃষির উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। খামারির কান্নাকে হাসিতে পরিণত করার জন্য সেইরকম মানসিকতা দিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের তৈরি করি।দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রকল্পধীন ২২ টি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট গবেষকবৃন্দ। এরপর গবেষকদের স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। 

হাওরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে বাউরেসের ২২ গবেষণা, উপকৃত ৯০৪ কৃষক

হাসিনাকে ফেরানোর তৎপরতায় পবিপ্রবির শিক্ষক, ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে প্রশাসন

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর গোপন তৎপরতায় জড়িত ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের তালিকায় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কয়েকজন শিক্ষকের নাম আসার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনেকাংশে প্রস্তুত হয়েছে।৩১ আগস্ট (সোমবার) এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।এতে আরও জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে খুব দ্রুতই প্রতিবেদনটি সবার সামনে আসা হবে।গত ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে জারি করা অফিস আদেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলামকে আহ্বায়ক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান ও অধ্যাপক ড. নেছার উদ্দিন আহমেদকে সদস্য এবং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়।ইতোমধ্যে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির কাজে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। তারা জানান, বিষয়টির ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক মো. জামাল হোসেন এ বিষয়ে বলেন, “আমাদের তদন্ত প্রতিবেদন খুব শিগগিরই জমা দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য এবং তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা অনেকাংশেই তদন্ত প্রতিবেদনের কাজ সম্পন্ন করে ফেলেছি, খুব দ্রুতই জমা দেওয়া হবে। এখানে আমরা বৃহত্তর পরিসরে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। গণমাধ্যমে যেসব নাম এসেছে তার বাইরে আরও অনেক কিছুই আছে। আমরা শীঘ্রই সবকিছু সামনে নিয়ে আসব।”উপ-উপাচার্য আরও জানান, এ মুহূর্তে তদন্তের স্বার্থে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না, তবে শাস্তি প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুই প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হবে। এবং শীঘ্রই আমরা সে প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

হাসিনাকে ফেরানোর তৎপরতায় পবিপ্রবির শিক্ষক, ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে প্রশাসন
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream