বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

প্রবাস

ইতালির নাপোলিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মাদারীপুরের তরুণের মৃত্যু

ইতালির নাপোলিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মাদারীপুরের তরুণের মৃত্যু

 ইতালির নাপোলিতে সড়ক দুর্ঘটনায় শরিফুল ইসলাম (১৯) নামে এক বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দেশটির ভিল্লে লিতেরনো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত শরিফুল ইসলাম মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিঠাপুর গ্রামের প্রামাণিক বাড়ির নশু প্রামাণিকের একমাত্র ছেলে।পরিবার ও প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন শরিফুল। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ।স্বজন ও প্রবাসী সূত্র জানায়, জীবিকার সন্ধানে মাত্র কয়েক মাস আগে ইতালিতে পাড়ি জমান শরিফুল। নাপোলির ভিল্লে লিতেরনো এলাকায় একটি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতেন তিনি।শরিফুলের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রবাসের মাটিতে তার আকস্মিক মৃত্যুতে মাদারীপুরের মিঠাপুর গ্রাম এবং ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।এদিকে শরিফুলের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন রোমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ টি এম রকিবুল হক।

তারেক রহমানের সঙ্গে শিগগির সাক্ষাতের আশা ট্রাম্পের

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিগগিরই সরাসরি সাক্ষাৎ করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প এ আগ্রহের কথা জানান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন প্রতিকূলতা অতিক্রম করেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের সামনে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।বাংলাদেশের জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে ট্রাম্প তাদের জন্য তাঁর আন্তরিকতা ও শুভকামনার কথাও চিঠিতে তুলে ধরেন।চিঠিতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।বোয়িংয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাবে—এমন আশ্বাসও দেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত আগ্রহ ও মনোযোগের বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন।ট্রাম্পের এই চিঠিকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিমান চলাচল, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনাও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সম্ভাব্য সরাসরি বৈঠক হলে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

তারেক রহমানের সঙ্গে শিগগির সাক্ষাতের আশা ট্রাম্পের

জেদ্দা বন্দর ও রিয়াদ মেট্রো নিয়ে সৌদি-ফ্রান্সের বড় বাণিজ্যিক চুক্তি

প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরোর সৌদি আরব ও ফ্রান্সের মধ্যে পরিবহন ও অবকাঠামো খাতে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তি হয়েছে। প্যারিসে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সোমবার (২৪ আগস্ট) ফ্রান্স সফরের সময় চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় জেদ্দা বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং রিয়াদ মেট্রোর জন্য নতুন ট্রেন সরবরাহ করা হবে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিজে প্রাসাদ জানিয়েছে, ফরাসি প্রতিষ্ঠান সিএমএ সিজিএম ও আলস্টমের সৌদি আরবের সাথে চুক্তিগুলোর মোট মূল্য প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরো। এসব চুক্তিকে সৌদি আরবের পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশটিকে বৈশ্বিক লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তির একটি হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান সিএমএ সিজিএম এবং জেদ্দা বন্দরের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)-এর মধ্যে। এর আওতায় লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত জেদ্দা বন্দরে একটি নতুন কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটিতে প্রায় ৪৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ৩৭২ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করা হবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে জেদ্দা বন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন টার্মিনালে গভীর পানির নতুন জাহাজ নোঙরের স্থান বা জেটি নির্মাণ করা হবে। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কনটেইনারবাহী জাহাজগুলোও সেখানে সরাসরি নোঙর করতে পারবে। পাশাপাশি বন্দরের কনটেইনার ওঠানামা ও সংরক্ষণের সক্ষমতা বছরে প্রায় ২৬ লাখ টিইইউ বাড়বে। অর্থাৎ বছরে প্রায় ২৬ লাখ ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের সমমানের কনটেইনার অতিরিক্তভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। সিএমএ সিজিএম জানিয়েছে, এই অংশীদারত্ব জেদ্দা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে সৌদি আরবের অবস্থান আরো শক্তিশালী করবে। প্রতিষ্ঠানটি সৌদি আরবকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকসের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে গড়ে তোলার প্রচেষ্টার সাথে প্রকল্পটিকে যুক্ত করেছে। লোহিত সাগরের তীরে অবস্থানের কারণে জেদ্দা বন্দর ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য লোহিত সাগর গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ফলে জেদ্দা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ সৌদি আরবের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে সৌদি রাজধানী রিয়াদের গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নেও বড় ধরনের চুক্তি হয়েছে। ফরাসি রেল ও পরিবহন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলস্টম এবং রয়্যাল কমিশন ফর রিয়াদ সিটির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, রিয়াদ মেট্রোর ৩ ও ৬ নম্বর লাইনের জন্য অতিরিক্ত মেট্রো ট্রেন সরবরাহ করবে আলস্টম। এ চুক্তির মূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ইউরো। রিয়াদ মেট্রো সৌদি আরবের অন্যতম বড় নগর পরিবহন প্রকল্প। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে মেট্রো ব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে সৌদি সরকার। অতিরিক্ত ট্রেন যুক্ত হলে বিদ্যমান মেট্রো লাইনগুলোর যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে। তবে আলস্টমের সাথে সৌদি আরবের সহযোগিতা শুধু ট্রেন সরবরাহে সীমাবদ্ধ থাকছে না। দুই পক্ষ রিয়াদ মেট্রোর প্রস্তাবিত ৭ নম্বর লাইনের জন্য সৌদি আরবের অভ্যন্তরে মেট্রো ট্রেনের সংযোজন বা অ্যাসেম্বলি কারখানা স্থাপনের বিষয়েও একটি চুক্তি করেছে। নতুন কারখানাটি রিয়াদ মেট্রোর ৭ নম্বর লাইনের জন্য ট্রেন সংযোজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আলস্টম ও রিয়াদ নগরীর রয়্যাল কমিশন জানিয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবে আলস্টমের বিনিয়োগ ও স্থানীয় শিল্প সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং রেল খাতে দক্ষ লোকবল তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’-এর সাথেও এসব প্রকল্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে পর্যটন, শিল্প, পরিবহন, লজিস্টিকস ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করার লক্ষ্য নিয়েছে দেশটি। ফ্রান্সের সাথে সাম্প্রতিক চুক্তিগুলো সেই কৌশলেরই আরেকটি উদাহরণ। জেদ্দা বন্দরের সম্প্রসারণ সৌদি আরবকে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে। একইসাথে রিয়াদ মেট্রোর সম্প্রসারণ রাজধানীর নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক করার সুযোগ তৈরি করবে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্যারিস সফরের সময় স্বাক্ষরিত এসব চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব ও ফ্রান্সের মধ্যে পরিবহন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরো গভীর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরোর এই চুক্তি সৌদি আরবের বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও পরিবহন রূপান্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

জেদ্দা বন্দর ও রিয়াদ মেট্রো নিয়ে সৌদি-ফ্রান্সের বড় বাণিজ্যিক চুক্তি

সৌদির অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে দেশে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া নয়জনের মরদেহ আজ বৃহস্পতিবার দেশে আনা হচ্ছে। বিকেল ৪টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।নিহতদের মধ্যে সাতজন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা। অন্য দুজনের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা ও রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বজনরা এখন প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে প্রথম দফায় নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তবে বাকি সাতজনের ডিএনএ পরীক্ষা এখনো শেষ না হওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।এ কারণে কয়েকটি পরিবারের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। আত্রাইয়ের নিহত মিনহাজের মা পারুল বিবি ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। তার আকুতি, অন্তত শেষবারের মতো যেন ছেলেকে দেখতে পারেন।আত্রাই উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শনাক্ত হওয়া সাতজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে বিনা খরচে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে শুক্রবার রাতের মধ্যে মরদেহগুলো নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।এদিকে বাকি সাতজনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের মরদেহও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। প্রবাসে পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় পাড়ি দেওয়া মানুষগুলোর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজনদের ঘরে এখন শুধু শোক আর অপেক্ষা।

সৌদির অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে দেশে

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোল দিয়ে ফেরানোর স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

ভারতের কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার চারজন ও সাভারের একজনের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা।শুক্রবার সন্ধায় পর থেকে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ওসি ফেরদৌস হোসেন খান বলেন, “কখন তাদের মরদেহ দেশে আসবে, তা এখনও আমাদেরকে জানানো হয়নি।”এ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন- কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৪০), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (৩৫), তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪) এবং সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার আদম আলীর ছেলে আহম্মেদ বাবু (৩৭)।মরদেহ সংগ্রহের জন্য শুক্রবার বিকাল থেকেই বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট এলাকায় অবস্থান করছেন আহম্মেদ বাবুর স্বজনরা।মরদেহ নিতে আসা আহম্মেদ বাবুর মেজো ভাই মনির হোসেন বলেন, সোমবার রাতে ব্যবসায়িক কাজে কলকাতা যান আহম্মেদ বাবু। সেখান থেকে পরিবারের সঙ্গেও কথা হয়। কিন্তু কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগার পর আর বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।বুধবার দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে মোবাইলে ফোন দিয়ে তার নিহতের খবর জানানো হয়। পরবর্তীতে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে নিহতের ছবি পাঠালে পরিবারের পক্ষ থেকে বাবুকে শনাক্ত করা হয়।মনির হোসেন বলেন, “রাত সাড়ে ৮টার দিকে কলকাতায় যারা মরদেহ গ্রহণ করবেন তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই তারা মরদেহ গ্রহণ করবেন এবং পরে রওনা দেবেন।”আজ শনিবার বিকেল চারটার মধ্যে মরদেহ বাংলাদেশের  পাঠানো হতে পারে।#

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোল দিয়ে ফেরানোর স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

২৫ আগস্ট বন্ধ থাকবে লিসবনের বাংলাদেশ দূতাবাস

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আগামী ২৫ আগস্ট (মঙ্গলবার) পর্তুগালের লিসবনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বন্ধ থাকবে। গত ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দূতাবাসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৫ আগস্ট পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে লিসবনের বাংলাদেশ দূতাবাসের সকল বিভাগীয় কার্যক্রম ও কনস্যুলার সেবা বন্ধ থাকবে।একই সঙ্গে ওই দিন (২৫ আগস্ট) যেসব প্রবাসী বাংলাদেশির পাসপোর্ট এনরোলমেন্ট বা পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারিত ছিল, তাদের সুবিধার্থে নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৫ আগস্টের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট সেবাগ্রহীতাদের আগামী ২৬ আগস্ট (বুধবার) প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ দূতাবাসে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে প্রবাসীদের দূতাবাসের অফিশিয়াল ইমেইল (mission.lisbon@mofa.gov.bd) অথবা হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

২৫ আগস্ট বন্ধ থাকবে লিসবনের বাংলাদেশ দূতাবাস

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপদাহ ও দাবানল: চরম আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন

ইউরোপ, ২১ আগস্ট ২০২৬: ইউরোপজুড়ে চলতি গ্রীষ্মে একের পর এক তীব্র তাপপ্রবাহ আঘাত হানছে। ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, গ্রিস, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার পাশাপাশি খরা ও দাবানল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নাসার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে ইউরোপে ধারাবাহিক তাপপ্রবাহ রেকর্ড ভাঙছে এবং এর প্রভাব মানুষের জীবন ও পরিবেশে পড়ছে।১৩৫ মিলিয়নের বেশি মানুষ তীব্র গরমের মুখেআগস্টের মাঝামাঝি ইউরোপের নতুন তাপপ্রবাহে ১৩৫ মিলিয়নের বেশি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রার মুখোমুখি হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে প্রায় ৩৪ কোটি মানুষের এলাকায় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। ফ্রান্সের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠেছে; প্যারিসেও ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়।স্পেন ও ইতালির বিস্তীর্ণ এলাকাতেও তীব্র গরম অব্যাহত ছিল। ইতালিতে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ মানুষ এবং স্পেনে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তাপপ্রবাহের প্রভাবে পড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।যুক্তরাজ্যেও রেকর্ড তাপমাত্রাতাপপ্রবাহের প্রভাব থেকে বাদ যায়নি যুক্তরাজ্য। আগস্টের মাঝামাঝি দেশটির ৪০টি স্থানে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি উঠেছিল। লন্ডনের কিউ গার্ডেনে ১৩ আগস্ট ৩৮.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা ২০২৬ সালের তখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এবং দেশটির ইতিহাসে অন্যতম উষ্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়।মেট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবহন এবং দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে চাপ বাড়ছে।দাবানলে বিপর্যস্ত দক্ষিণ ইউরোপতাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি ও গ্রিসে আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনীকে ব্যাপকভাবে কাজ করতে হচ্ছে।গ্রিসে উত্তরাঞ্চলের দাবানলের কারণে পর্যটকদের নৌপথে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকাতেও দাবানলে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।জার্মানির নর্থ রাইন-ভেস্টফালিয়া রাজ্যে আগস্টে একটি বড় দাবানল ৩০০ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়িয়ে দেয় এবং আগুনের কাছাকাছি থাকা একটি গ্রামের ২ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় ১,৫০০ জরুরি কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।নদীর পানি কমে বিপাকে অর্থনীতিতাপপ্রবাহের প্রভাব শুধু মানুষের স্বাস্থ্য ও বনাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই। দীর্ঘস্থায়ী খরা ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর পানির স্তরও কমিয়ে দিয়েছে।জার্মানির রাইন নদীতে পানির গভীরতা কিছু এলাকায় এতটাই কমে গেছে যে পণ্যবাহী জাহাজগুলো স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পণ্য বহন করতে পারছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং শিল্প খাতের সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।ডানিউব নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ায় অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরিতেও নৌপরিবহন এবং শিল্প কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিয়েছে। হাঙ্গেরির একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের শীতলীকরণ ব্যবস্থার ওপরও নদীর নিম্ন পানিস্তরের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছেবিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ তাপমাত্রা থাকলে বয়স্ক মানুষ, শিশু, বাইরে কাজ করা শ্রমিক এবং হৃদ্‌রোগ বা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এবারের ইউরোপীয় তাপপ্রবাহে মৃত্যুহার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জুনের এক সপ্তাহের চরম তাপপ্রবাহের সময় ইউরোপে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৬ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটতে পারে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও জার্মানির মতো তুলনামূলকভাবে কম গরমের সঙ্গে অভ্যস্ত দেশগুলোও এতে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাববিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) বলছে, চরম তাপপ্রবাহ ক্রমেই বেশি ঘন ঘন, বেশি তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। ইউরোপে ২০২৬ সালের ধারাবাহিক তাপপ্রবাহের সঙ্গে খরা, দাবানল এবং অস্বাভাবিক উষ্ণ ভূমি ও সমুদ্রের সম্পর্ক রয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপ দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। ফলে আগে যে ধরনের তাপমাত্রা বিরল ছিল, তা এখন আরও ঘন ঘন দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী গরমের কারণে কৃষি উৎপাদন, পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ, পরিবহন, পর্যটন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে।ব্যবসা ও পর্যটনেও প্রভাবতীব্র গরমে ইউরোপের পর্যটননির্ভর অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়ছে। ইতালির কিছু শহরে মানুষ দিনের বেলা বাইরে বের হওয়া কমিয়ে দেওয়ায় রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আয় কমেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতালির পাদুয়ায় জরিপ করা ৮০ শতাংশের বেশি ব্যবসা সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহের সময় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিক্রি কমার কথা জানিয়েছে।সামনে আরও কঠিন সময়ের আশঙ্কাইউরোপে এবারের গ্রীষ্মে একাধিক তাপপ্রবাহ ইতোমধ্যে আঘাত হেনেছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে। শুধু দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নয়, রাতের তাপমাত্রাও দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকায় মানুষের শরীর স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ কমছে।ইতালির সিসিলির ফ্লোরিডিয়া শহর, যেখানে ২০২১ সালে ইউরোপের সর্বোচ্চ ৪৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল, সেখানকার বাসিন্দারাও এখন দীর্ঘস্থায়ী গরমকে দৈনন্দিন জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। কৃষি ও মৌমাছি পালনের মতো স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব পড়ছে।ইউরোপের চলমান তাপদাহ তাই শুধু একটি আবহাওয়াজনিত ঘটনা নয়; এটি স্বাস্থ্য, পরিবেশ, কৃষি, অর্থনীতি ও অবকাঠামোর ওপর একই সঙ্গে চাপ সৃষ্টি করা একটি বড় আঞ্চলিক সংকট। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের চরম তাপ মোকাবিলায় নগর পরিকল্পনা, পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, দাবানল প্রতিরোধ এবং জলবায়ু অভিযোজন নীতিতে আরও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।রেফারেন্স: NASA Earth Observatory, Euronews/AFP, Reuters, WMO, AP ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদ ও সরকারি আবহাওয়া-সংক্রান্ত সূত্র।

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপদাহ ও দাবানল: চরম আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন

জাফর ইকবালের বৈধকরণে কোনো এনওসি দেয়নি মাদ্রিদে বাংলাদেশ দূতাবাস

মাদ্রিদ, ২১ আগস্ট: স্পেনে বৈধকরণ প্রক্রিয়ার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস, মাদ্রিদ থেকে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ইসমাত আরা বেগমের স্বামী জাফর ইকবালের অনুকূলে কোনো অনাপত্তিপত্র বা এনওসি (NOC) দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে দূতাবাস।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে বিষয়টি স্পষ্ট করে দূতাবাস।বিবৃতিতে বলা হয়, জাফর ইকবালের স্পেনে বৈধকরণ প্রক্রিয়ার জন্য দূতাবাস কোনো ধরনের অনাপত্তিপত্র বা NOC ইস্যু করেনি।এ বিষয়ে স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ধরনের অপতথ্য সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।দূতাবাসের এই বক্তব্যের বিষয়টি দেশ রূপান্তরের ২০ আগস্ট ২০২৬-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। দূতাবাসের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টেও একই বক্তব্যের উল্লেখ পাওয়া যায়।রেফারেন্স:দেশ রূপান্তর — “এনওসি সংক্রান্ত অপতথ্য ছড়ানো নিয়ে সতর্ক করল মাদ্রিদের বাংলাদেশ দূতাবাস”বাংলাদেশ দূতাবাস, মাদ্রিদ — সংশ্লিষ্ট বিবৃতি

জাফর ইকবালের বৈধকরণে কোনো এনওসি দেয়নি মাদ্রিদে বাংলাদেশ দূতাবাস

ফ্রান্সের কারাগারে ড্রোনে মাদক পাচার ৫ জন গ্রেপ্তার

প্যারিস, ২১ আগস্ট: ফ্রান্সের কারাগারগুলোতে ড্রোন ব্যবহার করে মাদক, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রী পাচারের ঘটনা দ্রুত বাড়ছে। সর্বশেষ এক ঘটনায় ভিলফ্রঁশ-সুর-সোন কারাগারে মাত্র ৫১ দিনে ১,৮২৬টি ড্রোন ডেলিভারি শনাক্ত করেছে তদন্তকারীরা। এসব চালানের মাধ্যমে ৩০ কেজির বেশি মাদক কারাগারের ভেতরে পৌঁছেছে বলে কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে Euronews জানিয়েছে।৪ আগস্টের অভিযানে পুলিশ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। অভিযানে প্রায় ৫০০ গ্রাম ক্যানাবিস, ৬,০০০ ইউরো নগদ অর্থ, একটি গাড়ি এবং ড্রোনসহ ১৮টি ব্যাটারি জব্দ করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, চক্রটি অত্যন্ত সংগঠিতভাবে কাজ করত এবং কারাগারের কাছাকাছি দুটি স্থান থেকে ড্রোন উড়ানো হতো।এদিকে স্ট্রাসবুর্গে ড্রোনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রভাব কারাগারের বাইরেও পড়েছে। হোটপিয়ের হাসপাতালের হেলিপ্যাডে রাতে মেডিকেল হেলিকপ্টার অবতরণে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা তৈরি হওয়ায় রোগীদের অন্য প্ল্যাটফর্মে নামিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নিতে হচ্ছে।ফরাসি কারা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি বাড়াচ্ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশটির কারাগারগুলোতে ৬২টি অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা চালু ছিল এবং আরও ১৬টি ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে

ফ্রান্সের কারাগারে ড্রোনে মাদক পাচার  ৫ জন গ্রেপ্তার

জার্মান নাগরিকত্বে বড় পরিবর্তন: ৩ বছরের ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ বাতিল, ৫ বছর পর নাগরিকত্বের সুযোগ

জার্মান নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। বিশেষভাবে দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য চালু থাকা ৩ বছরের ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ বা দ্রুত নাগরিকত্বের পথ বাতিল করা হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালে জার্মান নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে আগ্রহীদের মধ্যে আগের নিয়ম নিয়ে যে বিভ্রান্তি রয়েছে, তা দূর করতে বর্তমান বিধানগুলো পরিষ্কারভাবে জানা জরুরি।জার্মান ফেডারেল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নাগরিকত্ব আইনের সংস্কারের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ বসবাসের সময় আট বছর থেকে কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছিল। একই আইনে বিশেষভাবে ভালোভাবে একীভূত হওয়া ব্যক্তিদের জন্য মাত্র তিন বছর বসবাসের পর নাগরিকত্বের আবেদন করার একটি বিশেষ সুযোগ রাখা হয়। (Bundesregierung)তবে পরবর্তী সময়ে জার্মান সরকার এই তিন বছরের বিশেষ ব্যবস্থাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৫ সালের ২৮ মে ফেডারেল সরকার জানায়, নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে তিন বছরের ‘অ্যাডভান্সড ন্যাচারালাইজেশন’ বা দ্রুত পথ আর থাকবে না। তবে পাঁচ বছর বৈধভাবে জার্মানিতে বসবাসের পর নাগরিকত্বের সুযোগ বহাল থাকবে, যদি আবেদনকারী অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেন। (Bundesregierung)তাহলে এখন নাগরিকত্ব পেতে কত বছর লাগবে?২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে কোনো বিদেশি নাগরিককে জার্মানিতে কমপক্ষে পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাস করতে হবে। সরকারি ‘Make it in Germany’ পোর্টালেও নাগরিকত্বের অন্যতম মৌলিক শর্ত হিসেবে পাঁচ বছরের বেশি সময় বৈধ বসবাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (Make It In Germany)তবে শুধু পাঁচ বছর জার্মানিতে থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে না। আবেদনকারীর বসবাসের অধিকার, আর্থিক সক্ষমতা, ভাষাজ্ঞান, জার্মান সমাজ ও আইন সম্পর্কে জ্ঞান এবং অন্যান্য আইনি শর্তও পূরণ করতে হয়।অর্থাৎ, পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়া নাগরিকত্ব পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়; বরং যোগ্য হলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা।৩ বছরের নিয়মটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল?২০২৪ সালের সংস্কারের সময় জার্মান সরকার নাগরিকত্ব প্রক্রিয়াকে আধুনিক করার অংশ হিসেবে সাধারণ বসবাসের সময় কমিয়ে পাঁচ বছর করে। পাশাপাশি যারা অসাধারণভাবে জার্মান সমাজে একীভূত হয়েছেন, তাদের জন্য তিন বছরের দ্রুত পথ রাখা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে ভাষাজ্ঞান ও বিশেষ ধরনের একীভূত হওয়ার প্রমাণসহ অতিরিক্ত যোগ্যতা প্রয়োজন ছিল। (Bundesregierung)এই কারণে গত কয়েক বছরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অভিবাসন-সংক্রান্ত আলোচনায় ‘তিন বছরে জার্মান নাগরিকত্ব’ বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আইন পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের কারণে সেই তথ্য এখন আর ২০২৬ সালের জন্য প্রযোজ্য নয়।পাঁচ বছর পর আবেদন করতে কী কী লাগতে পারে?জার্মান সরকারের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীর বৈধভাবে জার্মানিতে বসবাসের পাশাপাশি উপযুক্ত স্থায়ী বসবাসের অধিকার বা ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের অধিকার পাওয়ার উপযোগী রেসিডেন্স স্ট্যাটাস থাকতে হয়। শুধু পড়াশোনার জন্য ব্যবহৃত কিছু ধরনের রেসিডেন্স পারমিট নাগরিকত্বের এই শর্ত পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। (Make It In Germany)এ ছাড়া আবেদনকারীর নিজের এবং নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। জার্মান ভাষার প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং দেশটির আইন, সমাজ ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে জ্ঞানও নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার অংশ।সুতরাং কেউ যদি জার্মানিতে পাঁচ বছর বসবাস করেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় ভাষাগত, আর্থিক বা অন্যান্য শর্ত পূরণ না করেন, তাহলে শুধু পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার কারণে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার তৈরি হবে না।নাগরিকত্ব ও স্থায়ী বসবাস কি একই বিষয়?এখানেই অনেকের মধ্যে আরেকটি বড় ধরনের বিভ্রান্তি রয়েছে। জার্মান নাগরিকত্ব এবং ‘সেটেলমেন্ট পারমিট’ বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি এক জিনিস নয়।কিছু দক্ষ কর্মী নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে নাগরিকত্বের পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই জার্মানিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। সরকারি ‘Make it in Germany’ তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি দক্ষ কর্মীরা তিন বছর পর সেটেলমেন্ট পারমিটের যোগ্য হতে পারেন। জার্মানিতে ডিগ্রি বা পেশাগত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা কিছু দক্ষ কর্মীর ক্ষেত্রে এই সময় আরও কম হতে পারে। (Make It In Germany)আবার EU Blue Cardধারীদের জন্যও নির্দিষ্ট শর্তে দ্রুত সেটেলমেন্ট পারমিটের সুযোগ রয়েছে। B1 স্তরের জার্মান ভাষাজ্ঞান থাকলে কিছু ক্ষেত্রে ২১ মাস পর এবং A1 থাকলে ২৭ মাস পর সেটেলমেন্ট পারমিট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। (Make It In Germany)তাই ‘তিন বছরে সেটেলমেন্ট পারমিট’ এবং ‘তিন বছরে নাগরিকত্ব’—এই দুটি বিষয়কে এক করে দেখা ঠিক নয়।২০২৬ সালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট কী?বর্তমান নিয়মকে সহজভাবে বললে, জার্মান নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে আগের ৩ বছরের বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক বাতিল, কিন্তু ৫ বছরের সাধারণ পথ বহাল রয়েছে। অর্থাৎ, যোগ্যতা পূরণকারী বিদেশিরা পাঁচ বছর বৈধভাবে জার্মানিতে বসবাসের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। (Bundesregierung)তবে আবেদন করার আগে নিজের রেসিডেন্স স্ট্যাটাস, জার্মান ভাষার যোগ্যতা, আর্থিক অবস্থা, নাগরিকত্ব পরীক্ষাসহ অন্যান্য শর্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তির পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত ভিন্ন হতে পারে।যারা আগে থেকেই জার্মানিতে আছেন!!যারা ইতোমধ্যে জার্মানিতে বসবাস করছেন, তাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের বসবাসের সময় এবং রেসিডেন্স পারমিটের ধরন সঠিকভাবে হিসাব করা। একই সঙ্গে নাগরিকত্বের পাঁচ বছরের শর্ত পূরণ হলেও অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ হয়েছে কি না, সেটিও দেখতে হবে।এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত ‘৩ বছরেই নাগরিকত্ব’ অথবা ‘সবাইকে ৫ বছর পর নাগরিকত্ব দেওয়া হবে’—এ ধরনের সরলীকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে জার্মান সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।সারকথা: ২০২৬ সালে জার্মান নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে তিন বছরের বিশেষ ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ আর নেই। বর্তমানে সাধারণভাবে পাঁচ বছর বৈধ বসবাসের পর, অন্যান্য সব আইনি ও যোগ্যতার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। একই সঙ্গে তিন বছরের কিছু সেটেলমেন্ট পারমিটের নিয়ম এখনো আলাদাভাবে রয়েছে—যা নাগরিকত্বের নিয়মের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। (Bundesregierung)রেফারেন্স: জার্মান ফেডারেল সরকার এবং সরকারের অফিসিয়াল ‘Make it in Germany’ পোর্টালের নাগরিকত্ব ও বসবাস-সংক্রান্ত তথ্য। German Federal Government — New rules for naturalisation Make it in Germany — Naturalisation Make it in Germany — Skilled Immigration Act

জার্মান নাগরিকত্বে বড় পরিবর্তন: ৩ বছরের ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ বাতিল, ৫ বছর পর নাগরিকত্বের সুযোগ

ব্রিটেনে বেনিফিট নেওয়া বিদেশির সংখ্যা রেকর্ডে, সংস্কারের পথে রিফর্ম ইউকে

যুক্তরাজ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বা কল্যাণ ভাতা নেওয়া বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। দেশটির কর্ম ও পেনশন মন্ত্রণালয়ের (ডিডব্লিউপি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে প্রায় ১৩ লাখ বিদেশি নাগরিক ‘ইউনিভার্সাল ক্রেডিট’ (ইউসি) দাবি করেছেন। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২০ হাজার।ইউনিভার্সাল ক্রেডিট যুক্তরাজ্যের প্রধান সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধাগুলোর একটি। এর সুবিধা নেওয়া বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নাগরিক। বিদেশি নাগরিকদের নেওয়া বেকারত্ব-সংশ্লিষ্ট ভাতার প্রায় অর্ধেক দাবিদারই ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিক বলে সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।এ ছাড়া ইউনিভার্সাল ক্রেডিট নেওয়া বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৩৩ হাজারের ‘ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন’ (আইএলআর) বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি রয়েছে। এ ধরনের অনেক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস ও কাজ করছেন।সাধারণত বিদেশি নাগরিকেরা স্থায়ী বসবাসের অধিকার বা ‘সেটেলড স্ট্যাটাস’ পাওয়ার পর ব্রিটিশ নাগরিকদের মতো নির্দিষ্ট শর্তে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হন। রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীরা শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পরও নির্দিষ্ট সরকারি সহায়তার জন্য যোগ্য হতে পারেন।বেনিফিট ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রস্তাব রিফর্ম ইউকেরনতুন এই পরিসংখ্যান প্রকাশের সময়েই বিদেশিদের বেনিফিট পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও কঠোর বিধিনিষেধের প্রস্তাব দিয়েছে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে পার্টি।দলটির অর্থনীতি বিষয়ক মুখপাত্র রবার্ট জেনরিক প্রায় ৫০০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বেনিফিট ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের একটি প্যাকেজের কথা জানিয়েছেন। প্রস্তাবের মধ্যে যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অধিকার পাওয়া ইইউ নাগরিকদেরও কিছু সামাজিক ভাতা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয় রয়েছে।তবে এমন পদক্ষেপ কার্যকর করতে হলে ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা করতে হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের সতর্কতাইনস্টিটিউট ফর ফিসকাল স্টাডিজের (আইএফএস) গবেষক টম ওয়াটার্স সতর্ক করে বলেছেন, অ-ব্রিটিশ নাগরিকদের বেনিফিট বন্ধ করা হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর আয়ে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে। তাঁর মতে, এই গোষ্ঠীর অনেকেই বর্তমানে তাদের আয়ের একটি বড় অংশ বা সম্পূর্ণ অংশ সরকারি ভাতার ওপর নির্ভর করে পরিচালনা করেন।তবে এ ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর হলে অনেক অভিবাসী দ্রুত ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নেওয়ার দিকে ঝুঁকতে পারেন বলেও তিনি মনে করেন।আইএফএসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে বেনিফিট দাবি করা বিদেশি নাগরিকদের প্রায় অর্ধেকই কোনো না কোনোভাবে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত।রিফর্ম ইউকে জানিয়েছে, তাদের প্রস্তাবের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাল্টা ব্যবস্থা নিলে ব্রিটিশ প্রবাসীদের কেউ কেউ বেনিফিট পাওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যে ফিরে আসতে পারেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য প্রায় ৫০ কোটি পাউন্ড অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টিও তারা বিবেচনায় রেখেছে।মোট বেনিফিট দাবিদারও রেকর্ডেসরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট নেওয়া মানুষের মোট সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড ৮৩ লাখ ৬০ হাজারে পৌঁছেছে। এদের অর্ধেকের বেশি দাবিদারের ক্ষেত্রে কাজ খোঁজার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।অন্যদিকে, অসুস্থতা ও প্রতিবন্ধিতাজনিত ভাতার ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। ২০৩০ সালের আগেই এই খাতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় ১০০ বিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, গত নভেম্বরে অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বেশি অবদান রাখা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সময় কম হতে পারে।সরকারের ভাষ্য, দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে বসবাস, কাজ এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা ব্যক্তিদের প্রয়োজনের সময় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকারকে যোগ্যতার ভিত্তিতে অর্জিত করার লক্ষ্যেই এসব সংস্কার আনা হচ্ছে।

ব্রিটেনে বেনিফিট নেওয়া বিদেশির সংখ্যা রেকর্ডে, সংস্কারের পথে রিফর্ম ইউকে

স্পেনের অভিবাসন নীতি ইইউর জন্য অনুসরণযোগ্য মডেল হতে পারে : প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ

আন্তর্জাতিক ডেস্কইউরোপের বিভিন্ন দেশে যখন অভিবাসন ঠেকাতে কঠোর নীতি গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে, তখন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে স্পেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মনে করেন, সঠিকভাবে পরিচালিত অভিবাসন শুধু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের জন্যও বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।মাদ্রিদে স্পেনের রাষ্ট্রদূতদের এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে সানচেজ বলেন, তার দেশের অভিবাসন নীতি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশ চাইলে স্পেনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে।তার ভাষায়, অভিবাসীরা স্পেনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। শ্রমবাজারে যেসব খাতে কর্মীর ঘাটতি রয়েছে, সেখানে বিদেশি কর্মীরা সেই শূন্যতা পূরণে ভূমিকা রাখছেন। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও তাদের অবদান রয়েছে।অর্থনীতিতে অভিবাসীদের ভূমিকাসানচেজের দাবি, গত কয়েক বছরে স্পেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় একটি অংশ এসেছে অভিবাসীদের শ্রম ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে। সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলেও তাদের অবদান উল্লেখযোগ্য।ইউরোপের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণে। জন্মহার কমে যাওয়া এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় অনেক দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, কৃষি, পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে কর্মীর ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।স্পেনের সরকার মনে করছে, পরিকল্পিত ও আইনসম্মত অভিবাসনের মাধ্যমে এই ঘাটতির একটি অংশ পূরণ করা সম্ভব।‘পুল ইফেক্ট’ নিয়ে বিতর্কতবে সরকারের এই নীতি নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনাও রয়েছে। স্পেনের ডানপন্থি দলগুলোর অভিযোগ, তুলনামূলক উদার অভিবাসন নীতি অনিয়মিত অভিবাসীদের দেশটিতে আসতে উৎসাহিত করতে পারে। রাজনৈতিক বিতর্কে এই ধারণাকে প্রায়ই ‘পুল ইফেক্ট’ হিসেবে তুলে ধরা হয়।প্রধানমন্ত্রী সানচেজ অবশ্য এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার মতে, স্পেনের অভিজ্ঞতা বরং দেখাচ্ছে যে মানবিক ও বাস্তবভিত্তিক অভিবাসন নীতির সঙ্গে কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্পেনে অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জমুখী আটলান্টিক রুটে আগমন কমে যাওয়ায় সামগ্রিক সংখ্যায় বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।শুধু সীমান্ত পাহারা নয়অনিয়মিত অভিবাসন কমাতে স্পেনের কৌশল শুধু সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়েছে মাদ্রিদ।উৎস দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, নজরদারি এবং মানবপাচার নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে অনিয়মিত যাত্রা শুরু হওয়ার আগেই তা ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।অর্থাৎ স্পেনের নীতিতে একই সঙ্গে দুটি বিষয় দেখা যাচ্ছে—বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো এবং অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।অর্থনৈতিক সাফল্যও আলোচনায়অভিবাসন নীতির বিতর্কের পাশাপাশি স্পেনের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পারফরম্যান্সও আলোচনায় এসেছে। সরকারি হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে।সানচেজ সরকার এই প্রবৃদ্ধির পেছনে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অভিবাসীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরছে।তবে অর্থনীতির সব সাফল্যকে কেবল অভিবাসনের ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পর্যটন, বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা ও অন্যান্য অর্থনৈতিক নীতিও স্পেনের প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। ফলে অভিবাসনের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি আরও বিস্তৃত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।ইউরোপের জন্য স্পেন কি উদাহরণ হতে পারে?ইউরোপে অভিবাসন এখন অন্যতম বিভাজনকারী রাজনৈতিক ইস্যু। একদিকে শ্রমিকের প্রয়োজন ও জনসংখ্যাগত সংকট, অন্যদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ে জনমতের উদ্বেগ—দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা ইউরোপীয় সরকারগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।স্পেনের অবস্থান হলো, অভিবাসনকে শুধু সংকট হিসেবে না দেখে অর্থনীতি ও জনসংখ্যাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটি উপায় হিসেবেও দেখতে হবে।তবে এই মডেল অন্য ইউরোপীয় দেশে একইভাবে কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে প্রতিটি দেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজার, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সামাজিক বাস্তবতার ওপর।সব মিলিয়ে, ইউরোপ যখন অভিবাসন নিয়ে আরও কঠোর হওয়ার পথে হাঁটছে, তখন স্পেন দেখাতে চাইছে নিয়ন্ত্রিত বৈধ অভিবাসন ও কঠোর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরস্পরের বিপরীত নয়। বরং সঠিক নীতি ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুটিকে একসঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব।এই মডেল আগামী দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতির বিতর্কে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

স্পেনের অভিবাসন নীতি ইইউর জন্য অনুসরণযোগ্য মডেল হতে পারে : প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ

২৪ ঘণ্টার মধ্যে রেমিট্যান্স জমার নির্দেশ, প্রবাসীদের জন্য নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক বিদেশ থেকে বৈধ পথে পাঠানো রেমিট্যান্স দ্রুত গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে সর্বোচ্চ এক কার্যদিবসের মধ্যে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগের ফলে রেমিট্যান্স গ্রহণের ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রতি প্রবাসীদের আস্থা বাড়ানোরও লক্ষ্য রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের গুরুত্ব অনেক। দেশের অসংখ্য পরিবার তাদের প্রবাসী স্বজনদের পাঠানো অর্থের ওপর নির্ভরশীল। সংসারের খরচ, সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহেও বড় অবদান রাখে। বিলম্ব হলে দিতে হবে ব্যাখ্যা নতুন ব্যবস্থায় রেমিট্যান্স গ্রহণ ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় বিলম্বকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ গ্রাহকের হিসাবে জমা দেওয়া সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-নথি সংরক্ষণ করতে হবে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপ, প্রযুক্তিগত সমস্যা, তথ্য যাচাই কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে অনেক সময় রেমিট্যান্স পেতে বিলম্ব হয়। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে এসব জটিলতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কমতে পারে অবৈধ পথে অর্থ পাঠানোর ঝুঁকি সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বৈধ পথে পাঠানো অর্থ যদি দ্রুত ও নিরাপদে গ্রাহকের হাতে পৌঁছে যায়, তাহলে প্রবাসীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও বাড়বে। এর ফলে অনানুষ্ঠানিক পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতাও কমতে পারে। বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বাড়বে জবাবদিহি নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বও বাড়ছে। কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়সীমা মেনে রেমিট্যান্স গ্রাহকের হিসাবে জমা দিতে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে। অনিয়ম বা দায়িত্বে গাফিলতি প্রমাণিত হলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। স্বস্তি আসবে প্রবাসী পরিবারে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ সময়মতো হাতে পাওয়া অনেক পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে কয়েক ঘণ্টার বিলম্বও কখনো কখনো বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই রেমিট্যান্স দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগকে শুধু ব্যাংকিং সেবার উন্নয়ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রবাসী পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবন এবং দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে রেমিট্যান্স ব্যবস্থায় গতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। সবচেয়ে বড় কথা, বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা যাতে নিশ্চিন্তে বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে পারেন এবং সেই অর্থ দ্রুত পরিবারের কাছে পৌঁছে যায়—এই উদ্যোগে সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে রেমিট্যান্স জমার নির্দেশ, প্রবাসীদের জন্য নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের ২ জন

ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার মো. আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) ও রেবতী সরকার নামের ২ জন।নিহত আলিমুজ্জামান কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্র-যুবলীগ নেতা। সে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত. ইউনুচ সরদারের ছেলে এবং ঐতিহ্যবাহী সরদার বাড়ি পরিবারের সন্তান। অপরজন একই উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা রেবতী সরকার। তবে তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি।বুধবার (১৯ আগষ্ট) রাতে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাজুর খালাতো ভাই অ্যাড. তানভীর আহম্মেদ।জানা গেছে, ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আলিমুজ্জামান ও রেবতী সরকার গুরুতর দগ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে জানানো হয়, ঘটনাটি জানার পর বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।উল্লেখ্য যে,গত মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে হোটেলটিতে অগ্নিকান্ড ঘটে। এ ঘটনায় ৯ জন নিহতদের মধ্যে ৭ জনই বাংলাদেশী।

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের ২ জন

সৌদি আরবে আগুনে নিহত ১৬ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ

সৌদি আরবের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহত ১৬ জনের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ২ জন এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১ জন রয়েছেন।প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নিহতদের প্রাথমিক পরিচয় প্রকাশ করেছে।নিহতদের জেলার ভিত্তিতে তালিকা১. নওগাঁ জেলা (আত্রাই উপজেলা – ১৩ জন):মো. রুবেল প্রামানিক (পিতা: মো. সাইদুর রহমান) — গ্রাম: গন্ডগোহালীমো. কলিমউদ্দিন (পিতা: মৃত বজলুর প্রামানিক) — গ্রাম: গন্ডগোহালীমো. মোহন (পিতা: গুফফার প্রামানিক) — গ্রাম: গন্ডগোহালীমো. সুমন (পিতা: গুফফার প্রামানিক) — গ্রাম: গন্ডগোহালীমজিদুল (পিতা: মজনু) — গ্রাম: খরস্রোতাআব্দুল জলিল — গ্রাম: খরস্রোতাফরিদ — গ্রাম: উজানপইশুভ — গ্রাম: ডুবাইসুমন — গ্রাম: ডুবাইহৃদয় — গ্রাম: বোয়ালাশাহিন — গ্রাম: নওগাঁসাগর — গ্রাম: সাদনগরমিনহাজ (গ্রামের নাম প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি)২. নাটোর জেলা (নলডাঙ্গা উপজেলা – ২ জন):শামিম — গ্রাম: দিঘীরপাড়সাব্বির — গ্রাম: খাজুরা৩. রাজশাহী জেলা (বাগমারা উপজেলা – ১ জন):শ্যামল — গ্রাম: মরুগ্রাম (ডাংগাপাড়া এলাকা)কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই ও নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে আনা ও অন্যান্য সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

সৌদি আরবে আগুনে নিহত ১৬ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream