বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

লাইফস্টাইল

আগরবাতি ও মশার কয়েলের ধোঁয়া কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়? জেনে নিন

আগরবাতি ও মশার কয়েলের ধোঁয়া কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়? জেনে নিন

ঘরের সুবাস তৈরি কিংবা মশার কামড় থেকে বাঁচতে গৃহস্থালিতে আগরবাতি ও মশার কয়েলের বহুল ব্যবহার দেখা যায়। তবে বন্ধ ঘরে এসব পণ্যের ধোঁয়া দীর্ঘক্ষণ শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করলে তা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় কিনা—তা নিয়ে প্রায়শই প্রশ্ন ওঠে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এনডিটিভি’-তে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এইচওসি বেদান্তের মেডিকেল অনকোলজিস্ট ডা. চিন্তন শাহ জানান, অনিয়মিত বা মাঝেমধ্যে আগরবাতি ও মশার কয়েল ব্যবহারে সরাসরি ক্যানসার হয়—এমন নিশ্চিত বা জোরালো কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে এসব পণ্যের ধোঁয়া ঘরের বাতাসের মান মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিতে পারে।আগরবাতি ও কয়েল পোড়ানোর ফলে বাতাসের সাথে সূক্ষ্ম কণা ও নানা রাসায়নিক গ্যাসীয় উপাদান মিশে যায়:দহনের সময় বাতাসে উদ্ভিজ্জ অণু ছাড়াও অতি সূক্ষ্ম কণা, উদ্বায়ী জৈব যৌগ (VOCs) এবং পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনের মতো উপাদান ছড়ায়। কিছু গবেষণায় দীর্ঘদিন এর সংস্পর্শে থাকার সাথে শ্বাসতন্ত্রের ক্যানসারের সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা বলা হলেও সরাসরি 'কারণ-ফল' (Cause and effect) সম্পর্ক নিশ্চিত নয়।ধীর দহনের ফলে মশা তাড়ানোর রাসায়নিকের পাশাপাশি অতিরিক্ত সূক্ষ্ম কণা বাতাসে দীর্ঘক্ষণ ভেসে থাকে। ছোট ও বদ্ধ ঘরে কয়েলের ধোঁয়া জমার ফলে ফুসফুস ও শ্বাসনালীতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।অনকোলজিস্টদের মতে, ক্যানসার মূলত জিনগত কারণ, তামাক, অ্যালকোহল, সংক্রমণ, স্থূলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত দূষণের যৌথ ফলাফলে তৈরি হয়। ফলে শুধু আগরবাতিকে একক কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।বন্ধ বা বাতাস চলাচলের পথহীন ঘরে ধোঁয়া জমে শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসের জটিলতা এড়াতে বিশেষজ্ঞরা নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন:দরজা-জানালা খোলা থাকে বা পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা (Ventilation) আছে এমন স্থানেই কেবল আগরবাতি বা কয়েল জ্বালাবেন।একসাথে অনেকগুলো আগরবাতি না জ্বালানো এবং অপ্রয়োজনে দীর্ঘক্ষণ জ্বালিয়ে রাখা থেকে বিরত থাকা। ঘুমানোর জন্য ব্যবহৃত আবদ্ধ ঘরে কয়েল বা আগরবাতির ধোঁয়া জমতে না দেওয়া।খুব ছোট ঘর হলে ধোঁয়াহীন বিকল্প বা প্রাকৃতিক উপায়ে মশা তাড়ানো এবং সুগন্ধি ছড়ানোর ওপর জোর দেওয়া।

অনেক সময় বসে থাকলে বাড়তে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি

আধুনিক কর্মক্ষেত্র ও যাপনে টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা টেবিলে বসে কাজ করা, টিভি দেখা কিংবা স্মার্টফোন ব্যবহারের অলস জীবনশৈলী মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘প্লস মেডিসিন’ (PLOS Medicine)-এ প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় বা বসে থাকার অভ্যাস শুধু হৃদরোগ নয়, ক্যানসার ও ক্যানসারজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।যুক্তরাজ্যের ‘ইউকে বায়োব্যাংক’ (UK Biobank)-এর ৯১ হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারীর পরিধানযোগ্য ডিজিটাল ট্র্যাকিং ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করে গড়ে ১২ বছর ধরে এই পর্যবেক্ষণ চালানো হয়।যারা একটানা বেশি সময় বসে থাকেন, তাদের ক্যানসার হওয়া এবং ক্যানসারে মারা যাওয়ার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেশি।একটানা বসে থাকার অভ্যাস প্রতি অতিরিক্ত ১ ঘণ্টার জন্য ক্যানসারজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনের সাথে মূলত কোলোরেক্টাল ক্যানসার, স্তন ক্যানসার, লিভার ক্যানসার, কিডনি ক্যানসার, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার, ডিম্বাশয়ের ক্যানসার, খাদ্যনালীর ক্যানসার এবং থাইরয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার প্রত্যক্ষ যোগসূত্র পাওয়া গেছে।ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা বা নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন ক্যান্সার হওয়া এবং ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, একটানা বসে থাকার প্রতি অতিরিক্ত ১ ঘণ্টার জন্য ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১০% বৃদ্ধি পায়।দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার সাথে কোলোরেক্টাল, স্তন, লিভার, কিডনি, অগ্ন্যাশয়, ডিম্বাশয়, খাদ্যনালী এবং থাইরয়েড ক্যান্সারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে ওজন বাড়ে, যা অতিরিক্ত চর্বি জমা হতে সাহায্য করে। শরীরের অতিরিক্ত চর্বি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সৃষ্টি করে, যা ক্যান্সার কোষ গঠনের পরিবেশ তৈরি করে।শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে হরমোনের তারতম্য ঘটে, যা বিশেষ করে স্তন ক্যান্সারের মতো হরমোন-সংবেদনশীল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতিদিন ১ ঘণ্টা বসে থাকার বদলে হালকা কাজ করলে ক্যানসারে মৃত্যুঝুঁকি ১২% পর্যন্ত কমতে পারে। প্রতিদিন ৩০ মিনিট বসে থাকার বদলে হাঁটলে ঝুঁকি ৮% কমানো সম্ভব। প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিট তীব্র শারীরিক কার্যক্রম করলে মৃত্যুঝুঁকি ২২% পর্যন্ত কমতে পারে।এটি একটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক (Observational) গবেষণা। তাই দীর্ঘ সময় বসে থাকা সরাসরি ক্যান্সারের একমাত্র কারণ কি না, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করতে আরও বিস্তর অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে।

অনেক সময় বসে থাকলে বাড়তে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি

অকালে চুল পরার কারণ জেনে নিন

চুল মানবদেহের ত্বকেরই এক বিশেষ ও সৌন্দর্যবর্ধক অংশ। সুস্থ স্ক্যাল্প থেকে প্রতিদিন স্বাভাবিকভাবে ৫০ থেকে ১০০টি চুল ঝরে যাওয়া সাধারণ বিষয় হলেও, এই সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেলে মাথার ত্বক ফাঁকা হতে শুরু করে। বিশেষ করে অল্প বয়সেই চুল পাতলা হওয়া বা পুরুষ ও নারীদের টাক পড়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, কম বয়সে অনাকাঙ্ক্ষিত চুল পড়া এবং টাক পড়ার পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ দায়ী।পুরুষের শরীরে ‘টেস্টোস্টেরন’ হরমোন যখন ‘ডাই-হাইড্রোটেস্টোস্টেরন’ (DHT)-এ রূপান্তর হয়, তখন এটি চুলের ফলিকলগুলোকে সংকুচিত ও দুর্বল করে ফেলে। ফলে চুল পাতলা হয়ে ধীরে ধীরে ঝরে পড়ে।পড়ালেখা, চাকরি বা ক্যারিয়ারভিত্তিক অতিরিক্ত স্ট্রেসের কারণে ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ (Telogen Effluvium) নামক জটিলতা দেখা দেয়, যা সাময়িকভাবে হঠাৎ প্রচুর চুল ঝরে পড়ার অন্যতম কারণ।দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে প্রোটিন, বায়োটিন ও আয়রনের ঘাটতির পাশাপাশি শহরের ধুলোবালি ও পানিতে থাকা খনিজ পদার্থ (হার্ড ওয়াটার) চুলের গোড়া দুর্বল করে দেয়।অল্প বয়সে চুল পড়া রোধ এবং নতুন চুল গজানোর পরিবেশ তৈরি করতে রূপচর্চা ও খাদ্যাভ্যাসে নিচের পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি:সালফেট ও প্যারাবেনমুক্ত মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে কিছুটা গরম নারকেল তেল বা ক্যাস্টর অয়েল স্ক্যাল্পে আলতোভাবে মাসাজ করা যেতে পারে।চুল মূলত ‘কেরাটিন’ নামক প্রোটিনে তৈরি। তাই খাবারের তালিকায় প্রতিদিন ডিম, মাছ, সয়াবিন, পালং শাক ও বাদাম রাখা উচিত।এটি স্ক্যাল্পে সূক্ষ্ম ছিদ্র তৈরি করে কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি করে এবং হেয়ার সিরাম বা ওষুধের কার্যকারিতা বাড়ায়।প্রাকৃতিক ডিএইচটি (DHT) ব্লকার হিসেবে কুমড়োর বীজ, গ্রিন টি ও আমলকী নিয়মিত খেলে হরমোনজনিত চুল পড়া নিয়ন্ত্রণে থাকে।ধূমপান চুলের ফলিকলে রক্ত প্রবাহ কমিয়ে দেয়, তাই ধূমপান পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি শরীরের কোষ মেরামতে দৈনিক অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম আবশ্যক।চুলের আসল পুষ্টি আসে ত্বকের গভীরে থাকা ‘হেয়ার বালব’-এর শিরা-উপশিরা থেকে। তাই অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া বা বংশগতভাবে টাক পড়া রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা লক্ষণ অনুযায়ী খাওয়ার ওষুধ, হেয়ার লোশন ও বিশেষ শ্যাম্পু নির্দেশ করেন।

অকালে চুল পরার কারণ জেনে নিন

আজ স্ত্রীর প্রশংসা করার দিন

দাম্পত্য জীবনের বয়স যতই হোক না কেন—সঙ্গীর কাজের প্রশংসা করা এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা সুস্থ ও সুখী সুন্দর সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আজ সেই সুযোগটি নেওয়ার সঠিক দিন; কারণ সেপ্টেম্বর মাসের এই বিশেষ দিনে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’ (Wife Appreciation Day)।প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিবসটি উদযাপিত হয়। ২০০৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এটি পালন করা শুরু হয়। পরবর্তীতে এটি অন্যান্য দেশেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।‘ডে'জ অব দ্য ইয়ার’-এর তথ্য অনুযায়ী, মূলত সংসারে স্ত্রীর নিরলস অবদান, ভালোবাসা ও ত্যাগকে বিশেষ সম্মান জানাতেই এই দিবসটির উদ্ভাবন।দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ উপহার দিয়ে ভালোবাসার মানুষকে চমকে দেওয়া যেতে পারে:প্রাচীনকাল থেকেই ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে আংটি দেওয়ার রীতি চলে আসছে। খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে রোমান কবি প্ল্যাটাস প্রথম প্রেমের প্রতীক হিসেবে আংটি দেওয়ার ঐতিহ্য শুরু করেন, যা চতুর্থ শতাব্দীতে এসে একটি স্থায়ী সামাজিক প্রথায় পরিণত হয়। আংটি ছাড়াও তাজা ফুলের তোড়া, প্রিয় পারফিউম, কিংবা জুয়েলারি উপহার দেওয়া যেতে পারে।পছন্দের রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ, সিনেমা দেখতে যাওয়া, অথবা দুজনে মিলে দূরে কোথাও ঘুরে আসার মাধ্যমে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখা সম্ভব।সব উপহারের ভিড়ে নিজের হাতে সুন্দর একটি চিঠি লিখে স্ত্রীর প্রতি মনের অনুভূতি ও প্রশংসা ব্যক্ত করাও হতে পারে সবচেয়ে অর্থবহ উপহার।সংসারের প্রতিদিনের ব্যস্ততায় হারিয়ে যাওয়া অনুভূতির প্রকাশ ঘটিয়ে স্ত্রীকে স্পেশাল ফিল করানোর জন্য ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’ হতে পারে চমৎকার এক উসিলা।

আজ স্ত্রীর প্রশংসা করার দিন

সকালের নাশতায় ৩টি উপাদান থাকা জরুরি

সকালে পেট পুরে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরও বেলা ১১টার মধ্যে দ্রুত খিদে পাওয়া বা ক্লান্ত বোধ করার প্রধান কারণ খাবারের ধরন নয়, বরং পুষ্টি উপাদানের সঠিক ভারসাম্যের অভাব। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও পরবর্তী খাবার পর্যন্ত শরীরে দীর্ঘমেয়াদি শক্তি বজায় রাখতে সকালের নাশতায় মূলত তিনটি প্রধান উপাদান নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।ডিম, পনির, দই, বাদাম বা ডালজাতীয় খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তের শর্করা হঠাৎ বাড়তে দেয় না।লাল আটার রুটি, ওটস, শাকসবজি ও খোসাসহ ফল ফাইবার সমৃদ্ধ। এগুলো খাবার হজম প্রক্রিয়া ধীর করে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে।কাঠবাদাম, চিয়া সিডস, অলিভ অয়েল বা ডিমের কুসুম শরীরে টেকসই শক্তি জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।সাদা পাউরুটি, মিষ্টি বা চিনিযুক্ত জুস খেলে রক্তে ইন্সুলিনের মাত্রা দ্রুত বেড়ে আবার হঠাৎ নেমে যায়, ফলে ক্ষুধা পায়।খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, কায়িক শ্রমের পরিমাণ এবং শরীরের মেটাবলিজমের (হজমক্ষমতা) ওপরও ক্ষুধা লাগার বিষয়টি নির্ভর করে।অতএব, সকালে শুধু পেট ভরানো নয়, বরং প্রোটিন, ফাইবার ও উপকারী চর্বির সঠিক ভারসাম্যের মাধ্যমে শরীরকে পরবর্তী সময়ের জন্য পুষ্টি ও শক্তি জোগানোই হওয়া উচিত সকালের নাস্তার মূল লক্ষ্য।(সূত্র: হেলথ লাইন)

সকালের নাশতায় ৩টি উপাদান থাকা জরুরি

গাটি কচু দিয়ে ইলিশের ঝোল

আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ। আমরা ইলিশ দিয়ে নানা পদই তো আমরা রান্না করি। এবার রেঁধে দেখুন ইলিশের মজাদার ঝোল। গাটি কচু ৩০০ গ্রাম, বেগুন ২০০ গ্রাম, ইলিশ মাছ ৪ টুকরা, পেঁয়াজকুচি ২ টেবিল চামচ, সরিষার তেল ৪ টেবিল চামচ, হলুদ, মরিচ ও ধনেগুঁড়া এক চা-চামচ করে, কাঁচা মরিচ ফালি ৫ থেকে ৬টি, ধনেপাতাকুচি ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো। গাটি কচু ও বেগুন কেটে আলাদা করে ধুয়ে রাখুন। ইলিশ মাছ কেটে ধুয়ে লবণ মাখিয়ে রাখুন। কড়াইতে সরিষার তেল গরম হলে পেঁয়াজকুচি দিয়ে সামান্য ভেজে অল্প পানি দিন। এবার হলুদ, মরিচ, ধনেগুঁড়া এবং লবণ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। পরে গাটি কচু দিয়ে আরও পাঁচ ছয় মিনিট কষিয়ে নিন। তারপর বেগুন দিয়ে আবার কষান। কষানো হলে ঝোলের পানি দিন অল্প পরিমাণে। ফুটে উঠলে কাঁচা ইলিশ মাছ দিয়ে কাঁচা মরিচ ফালি দিয়ে কড়াইতে ঢাকনা দিয়ে রান্না করুন ৫ থেকে ৬ মিনিট। শেষে ধনেপাতা ছড়িয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন।

গাটি কচু দিয়ে ইলিশের ঝোল

রাতে চুল বেণি করে ঘুমালে কি চুল লম্বা হয়?

রাতে ঘুমানোর আগে চুল আলগা করে বেণি করে রাখলে চুল দ্রুত লম্বা হয়—এমন একটি লোককথা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণার পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সম্প্রতি ‘নিউজ ১৮’-এর এক প্রতিবেদনে হেয়ার এক্সপার্টরা স্পষ্ট করেছেন যে, বেণি করলেই চুল দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো অলৌকিক ক্ষমতা তৈরি হয় না।বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন মানুষের চুল কতটা দ্রুত বা ধীরে লম্বা হবে, তা মূলত জিনগত (Genetic) বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে। তবে কিছু বাহ্যিক ও শারীরিক বিষয় এতে প্রভাব ফেলে:সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস।পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপন।নিয়মিত মাথার ত্বক ও চুলের সঠিক যত্ন।চুল লম্বা না করলেও ঘুমানোর আগে চুল হালকা বা আলগা (Loose) করে বেণি করে রাখলে চুলে কিছু পরোক্ষ সুবিধা মেলে:খোলা চুলে ঘুমালে বালিশ ও চাদরের কাপড়ের সাথে চুলে ঘর্ষণ (Friction) তৈরি হয়। এতে চুলের ডগা ফেটে যায় ও রুক্ষ হয়ে পড়ে। বেণি করলে এই ঘর্ষণ অনেকটাই কমে।খোলা চুলে রাতে সহজেই জট পেকে যায়। সকালে চিরুনি দিয়ে জোর করে জট ছাড়াতে গেলে চুল ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। আলগা বেণি চুলকে জটমুক্ত রাখে।হেয়ার এক্সপার্টরা কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, বেণি করার সময় কখনোই খুব শক্ত করে (Tight) চুল বাঁধা যাবে না।দীর্ঘ সময় চুলের গোড়ায় টান লেগে থাকলে হেয়ার ফলিকলের (Hair Follicle) ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে ‘ট্র্যাকশন অ্যালোপেসিয়া’ বা অতিরিক্ত চুল পড়ার মারাত্মক সমস্যা তৈরি হতে পারে।তাই রাতে ঘুমানোর আগে চুল রক্ষা করতে সুতি বা সিল্কের কাপড়ে ঢিলেঢালাভাবে বেণি করাই চুলের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।

রাতে চুল বেণি করে ঘুমালে কি চুল লম্বা হয়?

সকালের ৬ অভ্যাসে নিঃশব্দে ক্ষতি হচ্ছে লিভারের

সকালের শুরুটা কেমন হচ্ছে, তার সঙ্গে শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার সম্পর্ক রয়েছে। ঘুম থেকে উঠে চা পান করা, নাশতা এড়িয়ে যাওয়া কিংবা বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার এ ধরনের অভ্যাসকে অনেকেই স্বাভাবিক মনে করেন। কিন্তু প্রতিদিনের রুটিনে থাকা কিছু আচরণ দীর্ঘমেয়াদে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।লিভার খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রক্রিয়াজাত করা, চর্বি ও শর্করার বিপাক নিয়ন্ত্রণ এবং শরীর থেকে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। এ অঙ্গে সমস্যা তৈরি হলেও শুরুতে অনেক সময় তা সহজে বোঝা যায় না। তাই দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছুটা সচেতনতা জরুরি।১. নিয়মিত নাশতা না করাওজন কমানো বা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের কারণে অনেকে সকালের খাবার বাদ দেন। তবে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার অভ্যাস সবার জন্য উপযোগী নয়। রাতে দীর্ঘ সময় খাবার না খাওয়ার পর শরীরে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে লিভারকে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন কাজে লাগাতে হয়। তাই সকালে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার রাখা যেতে পারে। ওটস, সেদ্ধ ডিম, বাদাম বা চিয়া বীজের মতো খাবার এ ক্ষেত্রে বিকল্প হতে পারে।২. দিন শুরুতেই বেশি মিষ্টি খাওয়ামিষ্টি সিরিয়াল, জ্যাম দেওয়া পাউরুটি, মাফিন বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার দিয়ে দিনের শুরু করাও ভালো অভ্যাস নয়। এসব খাবারে চিনি ও ফ্রুক্টোজের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ গ্রহণ লিভারে চর্বি জমার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চিনির বদলে মধু বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক মিষ্টি ব্যবহার করলেও অতিরিক্ত গ্রহণের বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন।৩. খালি পেটে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়াচিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সকালে খালি পেটে ভিটামিন, ফুড সাপ্লিমেন্ট বা ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের তথাকথিত ‘হারবাল ক্লিনজ’ বা ভেষজ পণ্যের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। প্রয়োজন ছাড়া একাধিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।৪. ঘুম থেকে উঠে একেবারেই সক্রিয় না হওয়াঅ্যালার্ম বন্ধ করে দীর্ঘ সময় বিছানায় পড়ে থাকা এবং দিনের শুরুতে কোনো শারীরিক কর্মকাণ্ড না করাও ভালো অভ্যাস নয়। লিভারসহ শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম সচল রাখতে নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম থেকে উঠে অল্প সময় হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং বা সহজ ব্যায়াম দিয়ে দিন শুরু করা যেতে পারে।৫. ‘ডিটক্স ড্রিংক’-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করালেবু, ভিনেগার, হলুদ বা রসুন মিশিয়ে তৈরি বিভিন্ন ‘ডিটক্স ড্রিংক’কে অনেকেই লিভার পরিষ্কারের উপায় হিসেবে দেখেন। কিন্তু লিভার নিজেই শরীরের বিপাক ও বর্জ্য অপসারণের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। তাই তথাকথিত ডিটক্স পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে পর্যাপ্ত পানি পান ও সুষম খাবারের দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।৬. আগের রাতের অনিয়মের প্রভাবসকালের অনেক অভ্যাসের পেছনে আসলে আগের রাতের রুটিনও দায়ী। নিয়মিত দেরিতে ঘুমানো, ঘুমানোর আগে ভারী ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া কিংবা রাত জেগে দীর্ঘ সময় মোবাইল-ল্যাপটপ ব্যবহার শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ও বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রভাব লিভারের কার্যক্রমেও পড়তে পারে।লিভার সুস্থ রাখতে তাই আলাদা কোনো ‘ম্যাজিক’ পানীয় বা ব্যয়বহুল সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা এবং প্রয়োজন ছাড়া ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট না খাওয়ার মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সকালের ৬ অভ্যাসে নিঃশব্দে ক্ষতি হচ্ছে লিভারের

বইপড়ুয়া পুরুষের প্রতি বেশি আকর্ষণ নারীদের

গেমিং কনসোল বা ভিডিও গেমের হেডসেট সরিয়ে রেখে হাতে বই তুলে নেওয়া পুরুষরাই নারীদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। সম্পর্ক ও মনস্তত্ত্ববিষয়ক সংস্থা ‘ডেট সাইকোলজি’র সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল-এ প্রকাশিত ওই সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষদের বই পড়ার অভ্যাসকে নারীরা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক গুণ হিসেবে বিবেচনা করেন।সমীক্ষায় মোট ৭৪টি ভিন্ন ভিন্ন শখ ও জীবনযাত্রার অভ্যাসের ওপর নারীদের মতামত সংগ্রহ করা হয়। এতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী নারীদের প্রায় ৯৮.২ শতাংশই জানিয়েছেন, বই পড়তে ভালোবাসেন এমন পুরুষদের প্রতি তাদের আকর্ষণ অন্য যেকোনো অভ্যাসের চেয়ে বেশি।গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শখ মূলত আত্মোন্নয়ন, সৃজনশীলতা, প্রজ্ঞা ও নতুন দক্ষতা অর্জনের সাথে সম্পর্কিত, সেগুলোর প্রতিই নারীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি:বই পড়া (৯৮.২% নারী ইতিবাচক হিসেবে দেখেন)বিদেশি ভাষা শেখাবাদ্যযন্ত্র বাজানোরান্না করাকাঠের কাজ বা উডওয়ার্কিং (Woodworking)এছাড়াও চিত্রাঙ্কন, লেখালেখি, ফটোগ্রাফি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, হাইকিং, কামারশিল্প (Blacksmithing) এবং তীরন্দাজির (Archery) মতো সুনির্দিষ্ট ও গঠনমূলক শখগুলোকেও নারীরা পুরুষদের ব্যক্তিত্বের চমৎকার দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।সমীক্ষায় কিছু বিতর্কিত ও অপছন্দনীয় অভ্যাসকেও চিহ্নিত করা হয়েছে, যা পুরুষদের প্রতি নারীদের আকর্ষণ দ্রুত কমিয়ে দেয়:নারীবিদ্বেষী অনলাইন সংস্কৃতি বা ‘ম্যানোস্ফিয়ার’-এ যুক্ত থাকা, পর্নোগ্রাফি দেখা, জুয়া খেলা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট বক্সে অহেতুক বিতর্কে জড়ানো। ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং, কসপ্লে, কমিক বই বা ফাঙ্কো পপ ফিগার সংগ্রহ করা।বিখ্যাত ডেটিং কোচ কোর্টনি রায়ানের মতে, অতিরিক্ত মদ্যপান বা নাইটক্লাবকেন্দ্রিক জীবনযাত্রাকে অনেক নারীই মানসিক অসংলগ্নতা বা ‘অপরিণত আচরণ’ (Immaturity) হিসেবে গণ্য করেন।মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু কাউকে আকৃষ্ট করার জন্য কৃত্রিমভাবে এসব শখ গড়ে তোলার প্রয়োজন নেই। কৃত্রিমতার চেয়ে একজন পুরুষের নিজের ভালো লাগার কাজে সত্যিকারের আগ্রহ ও নিজস্ব ব্যক্তিত্বই দীর্ঘমেয়াদে সুন্দর ও টেকসই সম্পর্কের মূল ভিত্তি তৈরি করে।

বইপড়ুয়া পুরুষের প্রতি বেশি আকর্ষণ নারীদের

এক লাফে কমলো সোনার দাম

জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফনের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (Fed) সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় দরপতন ঘটেছে। টানা তিন সপ্তাহ ধরে দরপতনের ধারাবাহিকতায় দাম আরও নিচে নেমেছে।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৩৪.৩১ ডলারে নেমে আসে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম ০.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,৩৭৫ ডলারে লেনদেন হয়।সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কায় স্বর্ণের বাজারে চাপ:  ফেডের কড়া অবস্থান: সিএমই ফেডওয়াচ (CME FedWatch) টুলের তথ্য মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার ও বুধবার অনুষ্ঠেয় বৈঠকে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বেড়ে ৮৬.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ও মৌলিক সূচক চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ডলারের দিকে ঝুঁকিছেন। স্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটের কারণে চলতি শুক্রবার ব্যাংক অব জাপানও (BOJ) সুদের হার বাড়াতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।  কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, তেল ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার বাড়ানোর গুঞ্জন স্বর্ণের ওপর বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে। যেহেতু স্বর্ণ কোনো নির্দিষ্ট সুদ বা লভ্যাংশ দেয় না, তাই উচ্চ সুদের হারের বাজারে এতে বিনিয়োগের আকর্ষণ সাময়িকভাবে কমে যায়।  বাড়ছে তেলের দাম  সোনার দাম কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক দিনেই ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে:সৌদিতে হামলা ও পাইপলাইন বন্ধ: সৌদি আরবে হুথিদের নতুন হামলা এবং সে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের ভীতি জোরালো হয়েছে।  

এক লাফে কমলো সোনার দাম

চল্লিশের কোঠায় নারীরা কেন আরও বেশি আবেদনময়ী ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন?

বয়স ৪০ পার হলে নারীদের যৌন আকাঙ্ক্ষা ও আত্মবিশ্বাস কমে যায়—এই প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ডেটিং প্ল্যাটফর্ম ‘অ্যাশলে ম্যাডিসন’-এর সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স চল্লিশের কোঠা পার করার পরই অনেক নারী নিজেদের শারীরিক ও মানসিক চাহিদার চূড়ায় পৌঁছান এবং পুরুষদের কাছে আরও বেশি আবেদনময়ী হয়ে ওঠেন।সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪৫ শতাংশ নারী স্বীকার করেছেন, ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সে পৌঁছেই তারা তাদের যৌন আকাঙ্ক্ষার সর্বোচ্চ শিখর স্পর্শ করেছেন।বিশেষজ্ঞ ও সমীক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের অভিজ্ঞতার পরিপক্বতাই এই পরিবর্তনের মূল কারণ:দীর্ঘ বছরের সাংসারিক অভিজ্ঞতা, ক্যারিয়ার সামলানো এবং জীবনকে গভীরভাবে বোঝার পর নারীরা তাদের নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পারেন। এর ফলে সঙ্গীর কাছে নিজেদের চাহিদার কথা নিঃসঙ্কোচে প্রকাশ করতে পারেন, যা বিছানায় নতুন অভিজ্ঞতার পথ খুলে দেয়।বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক দ্বিধা-দ্বন্দ কাটিয়ে উঠে নিজেদের শরীর ও মন নিয়ে নারীরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কের কোনো টানাপোড়েন বা দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের ইতি টানার (যেমন ডিভোর্স) পর প্রাথমিক শোক কেটে গেলে নারীরা নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার বা এক্সপ্লোর করতে চান। এই পর্যায় অতিক্রমের পর নতুন করে ডেটিং এবং যৌনতার জন্য উৎসাহ বেড়ে যায়।তবে যৌনতা বিশেষজ্ঞ ট্যামি নেলসন স্পষ্ট করেছেন যে, ৪০ বছর বয়সে এসে প্রতিটি নারীর চাহিদায় পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক এবং এই জাগরণ একেকজনের ক্ষেত্রে একেকভাবে ঘটে। কারণ শরীরী কামনার কোনো নির্দিষ্ট ‘এক্সপায়ারি ডেট’ বা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ থাকে না। সমীক্ষার সারকথা হলো—বয়স বাড়া মানে শারীরিক আকর্ষণ কমে যাওয়া নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও পরিপক্বতার হাত ধরে তা আরও পূর্ণতা পায়।

চল্লিশের কোঠায় নারীরা কেন আরও বেশি আবেদনময়ী ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন?

ঘুম থেকে উঠেই ক্লান্ত লাগার কারণ কী?

আমাদের অনেকেরই সারারাত ঘুমানোর পরও সকালে ঘুমঘুম ভাব, শরীরে অবসাদ আর কাজে অনীহা লাগে।  তাই ‘আরও ঘুম দরকার’ বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। ঘুমের অনিয়ম, জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস থেকে শুরু করে স্লিপ অ্যাপনিয়া, রক্তস্বল্পতা কিংবা অতিরিক্ত মানসিক চাপ—বিভিন্ন কারণেই পর্যাপ্ত ঘুমের পরও সকালে ক্লান্তি থেকে যেতে পারে। গভীর ঘুম থেকে হঠাৎ জেগে উঠলে শরীর ও মস্তিষ্ক পুরোপুরি সক্রিয় হতে কিছুটা সময় নেয়। এই অবস্থাকে স্লিপ ইনার্শিয়া বলা হয়। তখন ঘুমঘুম ভাব, মাথা ভার লাগা, মনোযোগ কমে যাওয়া বা সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা হতে পারে। সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে এই জড়তা কেটে যায়। প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুমানো ও জাগা, দিনের বেলা দীর্ঘ সময় ঘুমানো কিংবা ঘুমের আগে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল-কম্পিউটার ব্যবহার ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় বিছানায় থাকার পরও ঘুমের মান ভালো নাও হতে পারে। অতিরিক্ত আলো, শব্দ বা গরম পরিবেশের পাশাপাশি অস্বস্তিকর বালিশ ও বিছানাও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। রাতে বারবার ঘুম ভেঙে গেলে সকালে স্বাভাবিকভাবেই শরীর অবসন্ন লাগতে পারে।  ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত ঝাল, তেল-চর্বিযুক্ত বা ভারী খাবার খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। এতে ঘুমের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়ে ঘুম বারবার ভাঙতে পারে। ক্যাফেইন: সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চা, কফি, চকলেট বা অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত খাবার ও পানীয় ঘুম আসতে দেরি করাতে পারে। এর প্রভাব পরদিন সকালেও থাকতে পারে। অতিরিক্ত পানি: ঘুমানোর আগে বেশি পরিমাণে পানি পান করলে রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যেতে পারে। এতে ঘুমের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে সকালে ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। স্লিপ অ্যাপনিয়া: ঘুমের মধ্যে সাময়িকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার এই সমস্যায় ঘুমের মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। জোরে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে হাঁসফাঁস করা বা বাতাসের জন্য জেগে ওঠা, সকালে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্তি—এসব এর সম্ভাব্য লক্ষণ। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম ভালো ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকলে ঘুমের মান খারাপ হতে পারে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে খুব ভারী ব্যায়াম না করে দিনের অন্য সময়ে হাঁটা বা মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা করার অভ্যাস করা ভালো। ভালো ঘুমের অভ্যাস মেনে চলার পরও যদি প্রায় প্রতিদিন সকালে অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগে, তাহলে ঘুমের কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। শরীরে আয়রনের ঘাটতি থেকে হওয়া রক্তস্বল্পতার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে দুর্বলতা ও অবসাদ থাকতে পারে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও অতিরিক্ত ক্লান্তি এর একটি প্রকাশ হতে পারে। এর সঙ্গে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা বা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত চিন্তার কারণে ঘুমাতে দেরি হওয়া কিংবা রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠেও সতেজ অনুভূত নাও হতে পারে। মনোযোগের সমস্যা, অস্থিরতা, অতিরিক্ত চিন্তা, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা ঘাম হওয়ার মতো উপসর্গও উদ্বেগের সঙ্গে দেখা দিতে পারে। তবে এসব অভ্যাস মেনে চলার পরও যদি দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ঘুমের পর সকালে অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকে, বিশেষ করে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা, মাথাব্যথা বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।  

ঘুম থেকে উঠেই ক্লান্ত লাগার কারণ কী?

দুপুরে খাবার পরেই কেন ঘুম আসে?

দুপুরের খাবার পেট পুরে খাওয়ার পরেই কি চোখে ভারী হয়ে ঘুম নেমে আসে? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় খাবারের পর তৈরি হওয়া এই তীব্র অলসতা বা ক্লান্তিবোধকে বলা হয় ‘ফুড কোমা’ বা ‘পোস্টপ্রান্ডিয়াল সোমনোলেন্স’। কর্মব্যস্ত দিনের মাঝে হুট করে নেমে আসা এই ঝিমুনি ভাব কাজের তীব্র ব্যাঘাত ঘটায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যতালিকা ও দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের কারণে শরীর হঠাৎ এই বিশ্রামাবস্থায় চলে যায়।সাক্ষাৎকারে বিশেষজ্ঞ ডা. আইলিন ক্যান্ডে ব্যাখ্যা করেছেন খাবারের পর এমন তন্দ্রাচ্ছন্নতা তৈরির মূল কারণ এবং তা থেকে সতেজ থাকার কৌশল।💤 খাবারের পর কেন ঘুম পায়?সাধারণত খাবার খাওয়ার ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে এই তন্দ্রাভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এর নেপথ্যে রয়েছে প্রধান কয়েকটি শারীরিক ও জৈবিক প্রক্রিয়া:হজমপ্রক্রিয়া ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র: খাওয়ার পর শরীরের রক্তপ্রবাহের বড় অংশ অন্ত্রের দিকে প্রবাহিত হয় এবং স্নায়ুতন্ত্র শরীরকে ‘বিশ্রাম ও হজম’ (Rest and Digest) মোডে নিয়ে যায়।রক্তে শর্করার ওঠানামা (রিঅ্যাকটিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া): অতিরিক্ত পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট (যেমন: সাদা ভাত, মিষ্টি, পেস্ট্রি বা চিনিযুক্ত পানীয়) খেলে রক্তে হুট করে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। তা নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়লে পরবর্তীতে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত নেমে যায়, যাকে রিঅ্যাকটিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। এর ফলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত বোধ করে।হরমোনের প্রভাব: প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার থেকে শরীর ‘ট্রিপটোফ্যান’ তৈরি করে, যা পরে ঘুম ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন সেরোটোনিন ও মেলাটোনিনে রূপান্তরিত হয়।অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার: অতি-চর্বিযুক্ত খাবার পাকস্থলী থেকে খাবার খালি হওয়ার গতি ধীর করে দেয় এবং বিপাকীয় চাপ বাড়ায়, ফলে ঝিমুনি ভাব তৈরি হয়।এছাড়া রাতে অপর্যাপ্ত ঘুম, দেহের অভ্যন্তরীণ সার্কাডিয়ান ছন্দ (Circadian Rhythm), পানিশূন্যতা ও কিছু ওষুধের প্রভাবেও দুপুরবেলার এই ঘুমভাব দ্বিগুণ হতে পারে। দুপুরে সতেজ ও কর্মক্ষম থাকার উপায়বিষয়করণীয়সুষম খাদ্য নির্বাচনখাবারে গোটা শস্য (Whole Grains), হালকা প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির পরিমিত সমন্বয় রাখুন।পরিশোধিত কার্ব কমানোঅতিরিক্ত সাদা ভাত, প্রক্রিয়াজাত মিষ্টি কিংবা কোমল পানীয় পরিহার করে শাকসবজি ও ফাইবারের পরিমাণ বাড়ান।একবারে বেশি না খাওয়াদুপুরে ভারী খাবারের বদলে পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।কখন এটি শারীরিক জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে?ভারী খাবারের পর সাময়িক ক্লান্তি সাধারণ হলেও, খাবারের পরিমাণ নির্বিশেষে যদি প্রতিবারই তীব্র ক্লান্তি আসে এবং তার সাথে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা বারবার প্রস্রাবের বেগ।অস্বাভাবিকভাবে ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়া।চোখে ঝাপসা দেখা বা ঘন ঘন মনোযোগ হারিয়ে ফেলা।এ জাতীয় দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গগুলোর নেপথ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা অন্য কোনো সুপ্ত নিদ্রাহীনতার ব্যাধি (Sleep Apnea) থাকতে পারে।

দুপুরে খাবার পরেই কেন ঘুম আসে?

মিষ্টি আর অতিরিক্ত ভাতেই কি লিভারে চর্বি জমছে?

আমাদের ​শরীরের ভেতরের বড় ও ব্যস্ততম অঙ্গটি হলো লিভার। পরিপাক, রক্ত পরিশোধন ও শক্তি সঞ্চয়ের মতো অন্তত ৫০০-এর বেশি বৈচিত্র্যময় কাজ একা সামলায় এই অঙ্গ। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় অলসতা ও ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে আমাদের অজান্তেই লিভারে জমছে অতিরিক্ত মেদ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার। প্রাথমিক অবস্থায় দৃশ্যমান কোনো লক্ষণ না থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে এটি লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ​শুধু তেল-চর্বি নয়, মূল অপরাধী অতিরিক্ত শর্করা। ​অনেকের ধারণা, শুধু তেল-চর্বিজাতীয় খাবার খেলে লিভারে মেদ জমে। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্য কিন্তু ভিন্ন। আমাদের প্রাত্যহিক খাদ্যাভ্যাসে থাকা অতিরিক্ত মিষ্টি, কোল্ড ড্রিংকস, প্যাকেটজাত জুস, সাদা ময়দা এবং পরিমাণের চেয়ে বেশি ভাত-রুটি; যেগুলো রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট হিসেবে পরিচিত, রক্তে দ্রুত গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। শরীর যখন এই অতিরিক্ত চিনি প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না, তখন লিভার সেই শর্করাকে ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তর করে নিজের কোষেই চর্বি হিসেবে জমাতে শুরু করে। ​কোনো কঠোর ক্র্যাশ ডায়েট বা না খেয়ে থেকে ফ্যাটি লিভার কমানো যায় না। বরং সঠিক খাদ্য নির্বাচনেই মেলে সমাধান। নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্ত থাকতে যা করতে হবে—  লাল চালের ভাত, ওটস, ইসবগুলের ভুসি ও রঙিন শাকসবজিতে থাকা দ্রবণীয় আঁশ রক্তের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ও শর্করা শুষে নেয়। ফলে লিভারে চর্বি জমার সুযোগ কমে। সবুজ চা বা গ্রিন টি, কাঁচা হলুদ, রসুন এবং লেবু বা আমলকীর মতো সাইট্রাস জাতীয় ফল লিভারের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে এবং লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ​ রান্নায় কেমিক্যালযুক্ত প্রক্রিয়াজাত রিফাইন্ড তেলের বদলে পরিমিত খাঁটি সরিষার তেল এবং খাদ্যতালিকায় সামুদ্রিক মাছ, তিল, তিসি বা বাদাম থেকে পাওয়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রাখুন। শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিতে এবং লিভারের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে দিনে আড়াই থেকে ৩ লিটার পানি পান করুন। প্যাকেটজাত জুস, বেকারির খাবার, কোমল পানীয় এবং কৃত্রিম মিষ্টিজাতীয় খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন। ​ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে নিয়ম মেনে চলা মোটেও কঠিন কিছু নয়। প্রতিদিনের পাতে সচেতন পুষ্টি নির্বাচন, প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দেওয়া এবং দিনে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাসই পারে আপনার লিভার দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে।

মিষ্টি আর অতিরিক্ত ভাতেই কি লিভারে চর্বি জমছে?

আক্কেল দাঁত ওঠার সময় কেন এত ব্যথা?

আমাদের মুখগহ্বরের পেছনের সারিতে সবার শেষে যে দাঁত গজায়, তাকে ‘থার্ড মোলার’ বা তৃতীয় পেষণ দাঁত বলা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সন্ধিক্ষণে মানুষের বিচারবুদ্ধি পরিপক্ব হওয়ার বয়সে এটি ওঠে বলে বাংলায় একে ‘আক্কেল দাঁত’ এবং ইংরেজিতে ‘উইজডম টুথ’ বলা হয়ে থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের উপসর্গ ছাড়াই এটি স্বাভাবিকভাবে উঠলেও অনেকের জন্য তা তীব্র যন্ত্রণা, মাড়ির প্রদাহ এবং জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণত ১৭ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে এই দাঁত মাড়ি ভেদ করে বের হতে শুরু করে। তবে ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি বয়সেও আক্কেল দাঁত উঠতে পারে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মুখের ওপর-নিচের চোয়ালের চার কোণে চারটি আক্কেল দাঁত থাকার নিয়ম থাকলেও সবার ক্ষেত্রে সবকটি ওঠে না। বৈজ্ঞানিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি দশজনের মধ্যে অন্তত আটজনের ক্ষেত্রেই এক বা একাধিক আক্কেল দাঁত অনুপস্থিত থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আক্কেল দাঁতকে মূলত মানবদেহের একটি অবশিষ্টাঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আদিম যুগে মানুষের খাদ্যাভ্যাস যখন শক্ত ও অপুষ্ট ফলমূল, বীজ এবং কাঁচা মাংসের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তখন খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে হজমের উপযোগী করতে বাড়তি মোলার দাঁতের প্রয়োজন হতো। তবে কালের পরিক্রমায় উন্নত খাদ্যাভ্যাস ও রান্নার প্রচলনের কারণে বিবর্তনের ধারায় মানুষের চোয়ালের আকার আগের চেয়ে ছোট হয়ে এসেছে। ফলে আধুনিক মানুষের মুখে এই দাঁত স্বাভাবিকভাবে ওঠার মতো পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। মাড়িতে পর্যাপ্ত স্থান না থাকার কারণে আক্কেল দাঁত মাড়ি বা চোয়ালের হাড়ের মধ্যে আংশিক অথবা সম্পূর্ণ বাঁকা হয়ে আটকে পড়ে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ইমপ্যাক্টেড টুথ’ বলা হয়। আংশিক বের হওয়া দাঁতের ওপর মাড়ির ফাঁকে খাদ্যকণা ও জীবাণু জমে তীব্র সংক্রমণ ও প্রদাহের সৃষ্টি করে, যাকে ‘পেরিকোরোনাইটিস’ বলে। এর ফলে তীব্র ব্যথা, মাড়ি ফুলে যাওয়া, দাঁতে ক্ষয়রোগ (ক্যাভিটি), এমনকি দাঁতের গোড়ায় সিস্ট বা পুঁজ জমে পাশের সুস্থ দাঁতটিও নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।  চোয়ালের গঠন ও দাঁতের অবস্থান স্বাভাবিক থাকলে বড় কোনো সমস্যা ছাড়াই আক্কেল দাঁত উঠে আসতে পারে। তবে স্থানসংকটের কারণে দাঁত আটকে গেলে প্রচণ্ড ব্যথার পাশাপাশি রোগীদের মুখ পুরোপুরি খুলতে কিংবা খাবার গিলতে সমস্যা হয়। মাড়ির এই সংক্রমণ দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে তা বিরল ক্ষেত্রে মুখ ও গলার গভীরে ছড়িয়ে পড়ে ‘লুডউইগস অ্যাঞ্জাইনা’র মতো প্রাণঘাতী সংক্রমণ ঘটাতে পারে, যার জন্য রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অস্ত্রোপচার করাতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্কেল দাঁত যদি মুখে কোনো জটিলতা তৈরি না করে, তবে তা তুলে ফেলার প্রয়োজন পড়ে না। তবে ঘন ঘন সংক্রমণ, অসহ্য যন্ত্রণা কিংবা পাশের দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দাঁতটি ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। সাধারণত মাড়িতে লোকাল অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ করে অবশ করার মাধ্যমে অত্যন্ত কম সময়ে এই ক্ষুদ্র অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। আক্কেল দাঁত অপসারণের পর পুরোপুরি সেরে উঠতে কয়েক দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ সময়ে ক্ষত নিরাময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি কুসুম গরম লবণপানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার রাখা এবং শক্ত খাবারের বদলে তরল বা নরম খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ক্ষতস্থানে রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে ধূমপান ও শক্ত খাবার পুরোপুরি পরিহার করা জরুরি, অন্যথায় ‘ড্রাই সকেট’ বা ক্ষতের রক্ত সরে গিয়ে মারাত্মক যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।   সূত্র: বিবিসি বাংলা

আক্কেল দাঁত ওঠার সময় কেন এত ব্যথা?

ব্রেক আপ করলেই মিলবে ৭ দিনের ছুটি

অনেকেই প্রেম বা সম্পর্ক ভেঙে গেলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে ব্যতিক্রমী ছুটির ব্যবস্থা চালু করেছে ভারতের ফিনটেক ও সোশ্যাল লার্নিং স্টার্টআপ স্টকগ্রো। কোনো কর্মীর প্রেম বা সম্পর্ক ভেঙে গেলে তিনি চাইলে নিতে পারবেন সাত দিনের বেতনসহ ছুটি। এই ছুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্রেকআপ লিভ’।সাধারণত কর্মক্ষেত্রে পরিকল্পিত, নৈমিত্তিক, অসুস্থতাজনিত কিংবা চিকিৎসাজনিত ছুটির ব্যবস্থা থাকে। কিছু প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মীদের জন্য পিরিয়ডকালীন ছুটিও চালু রয়েছে। তবে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার মতো ব্যক্তিগত ও মানসিক পরিস্থিতির জন্য আলাদা ছুটির ব্যবস্থা বেশ ব্যতিক্রমী।স্টকগ্রোর এই নীতির আওতায় কোনো কর্মীর সম্পর্ক ভেঙে গেলে তিনি সাত দিনের বেতনসহ ছুটির সুযোগ পাবেন। এই ছুটি নিতে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কোনো প্রমাণও জমা দিতে হবে না। তবে ছুটি দেওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।প্রতিষ্ঠানটির এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কর্মীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা। কারণ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় কাজ করলে কর্মীদের মনোযোগ ও কাজের মান দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।স্টকগ্রোর ‘ব্রেকআপ লিভ’ চালুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। অনেকে এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রতিষ্ঠানটিতে চাকরির আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এমন ছুটির ব্যবস্থা কেন নেই।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে মজার মন্তব্যও কম হয়নি। কেউ কেউ রসিকতা করে জানতে চেয়েছেন প্রেমিকার বা প্রেমিকের সঙ্গে ‘ব্রেকআপ’ হলে ছুটি মিললেও ম্যানেজারের সঙ্গে ‘ব্রেকআপ’ হলে কি একই সুবিধা পাওয়া যাবে?সম্পর্ক ভাঙার মতো ব্যক্তিগত বিষয়কে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত করে ছুটির নীতি চালুর এই উদ্যোগ তাই নতুন করে আলোচনায় এনেছে কর্মক্ষেত্রে মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব।

ব্রেক আপ করলেই মিলবে ৭ দিনের ছুটি
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream