বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

লাইফস্টাইল

প্রতিদিন মন ভালো রাখার উপায়

প্রতিদিন মন ভালো রাখার উপায়

আমাদের জীবনে পারিবারিক টানাপোড়ন , কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যস্ততাসহ দৈনন্দিন জীবনের নানা ঘটনায় কখনও কখনও উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তায় মন ভারী হয়ে উঠে। কিছু অভ্যাস আয়ত্ত করতে পারলে এসব দূরে সরিয়ে রাখা যায়। যেমন- ৪-৭-৮ পদ্ধতিতে শ্বাস নিন এই পদ্ধতিতে শ্বাস নিলে হৃৎস্পন্দন কমে আসে। মানসিক চাপও দ্রুত কমে যায়। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করার সংকেত পাঠায়, এর ফলে মন স্থির হয়। রোদে দাঁড়ান কিছুক্ষণ প্রাকৃতিক আলো গায়ে লাগালে সেরোটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, যা ফিল গুড হরমোন নামে পরিচিত। এতে মন ভালো লাগে। বাইরে সম্ভব না হলে জানালার কাছে দাঁড়ান। রোদ এসে গায়ে লাগলে সঙ্গে সঙ্গে মন ভালো হয়ে যেতে পারে।  কাঁধ ঘোরান কাঁধের পেশি শিথিল করলে পিঠের উপরের অংশের আরাম হয়। এর ফলে শরীরে জমে থাকা চাপ কমে। কয়েক সেকেন্ড এই ব্যায়াম করলে শরীর হালকা অনুভব হবে।  এক গ্লাস পানি পান করুন শরীরে পানির ঘাটতি হলে অনেক সময় শরীরের শক্তি কমে যায়, খিটখিটে ভাব হয়। এক গ্লাস পানি পান করলে শরীর সতেজ হয়। মস্তিষ্কও জেগে ওঠে।  এক মিনিট নিজের প্রশংসা করুন আমি আজ আমার সেরাটা দিচ্ছি- নিজেকে এমন ইতিবাচক কথা। দেখবেন নিজের প্রতি সহৃদয়তা আপনার মানসিক শক্তি বাড়িয়ে দেবে।  পছন্দের কোনও গন্ধ নিন কফি, পারফিউম বা এসেনশিয়াল অয়েলের সুগন্ধ মস্তিষ্কের আবেগ কেন্দ্রকে সক্রিয় করে। পছন্দের গন্ধ মুহূর্তে মনের মধ্যে আরাম এবং ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করতে পারে। সূত্র: এশিয়াননেট

লেবুপাতা দিয়ে রুই মাছের মজাদার রেসিপি

আমরা মাছে ভাতে বাঙালি। আমাদের প্রতিদিন খাদ্যের তালিকায় মাছ থাকেই। তারমধ্যে অন্যতম রুই মাছ। এবার একটু ভিন্ন স্বাদে রেঁধে দেখুন। জিভে জল আনা রেসিপি লেবু পাতা দিয়ে রুইমাছ।  যা লাগবে রান্না করতে...রুই মাছ ৬ টুকরা, পেঁয়াজকুচি আধা কাপ, আদা ও রসুনবাটা এক চা-চামচ, হলুদ, মরিচ ও ধনেগুঁড়া এক চা-চামচ করে, লবণ স্বাদমতো, জিরাগুঁড়া আধা চা-চামচ, লেবুপাতা চার-পাঁচটি, কাঁচা মরিচ ফালি পাঁচ-ছয়টি, ধনেপাতাকুচি ২ টেবিল চামচ, সয়াবিন তেল চার টেবিল চামচ। কড়াইতে সয়াবিন তেল গরম হলে পেঁয়াজকুচি হালকা ভেজে নিন। তারপর পানি দিন অল্প করে। আদা-রসুনবাটা, হলুদ, মরিচ ও ধনেগুঁড়া আর লবণ দিয়ে কষিয়ে নিন। তারপর কাঁচা মাছ দিয়ে কড়াই ঢেকে দিয়ে ৫-৬ মিনিট রান্না করুন। তারপর কাঁচা মরিচ ফালি, জিরাগুঁড়া, ধনেপাতাকুচি দিয়ে হালকাভাবে নেড়ে দিন। সব শেষে লেবুপাতা ছিঁড়ে দিন। সুগন্ধি বের হলে লবণ দেখে নামিয়ে নিলে তৈরি হয়ে যাবে লেবুপাতা দিয়ে রুই মাছের রসা।

লেবুপাতা দিয়ে রুই মাছের মজাদার রেসিপি

ব্রেকআপের পর কী করবেন?

হঠাৎ কোনো সম্পর্কের সমাপ্তি মানুষকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে বুকের ভেতর জমে থাকা শোক, একাকিত্ব ও অস্থিরতা অনেক সময় দৈনন্দিন জীবনেও। হঠাৎ করে বদলে যেতে পারে ঘুম ও খাওয়ার অভ্যাস, কমে যেতে পারে কাজে মনোযোগ, বাড়তে পারে একাকীত্ব ও উদ্বেগ। বিশেষ করে ব্রেকআপের পর প্রথম কয়েকটি দিন অনেকের জন্য সবচেয়ে কঠিন সময় হয়ে ওঠে। আবেগের তীব্রতায় কেউ কেউ এমন সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেন, যা পরে অনুশোচনার কারণ হতে পারে।  এ সময় নিজেকে সামলে নেওয়ার কিছু উপায় তুলে ধরা হয়েছে। ভারতের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘মার্গ মাইন্ডকেয়ার’-এর মনোবিজ্ঞানী শিরীন দারগানের পরামর্শ অনুযায়ী, ব্রেকআপের পর প্রথম সপ্তাহে লক্ষ্য হওয়া উচিত দ্রুত প্রাক্তন সঙ্গীকে ভুলে যাওয়া নয়; বরং নিজের মানসিক স্থিরতা ফিরিয়ে আনা। ব্রেকআপের পর ‘সামনে এগিয়ে যাওয়া’ মানেই কোনো ‘রিভেঞ্জ গ্লো-আপ’ (প্রতিশোধমূলকভাবে নিজেকে আকর্ষণীয় প্রমাণ করার চেষ্টা) পরিকল্পনা করা নয়, কিংবা প্রাক্তন সঙ্গী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কী করছেন, নতুন কারও সাথে যুক্ত হচ্ছেন কি না তা বারবার পরীক্ষা করাও নয়।  প্রথম সপ্তাহের লক্ষ্য এই নয় যে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাক্তনকে মন থেকে মুছে ফেলতে হবে; বরং এই সময়টির মূল লক্ষ্য হলো নিজেকে মানসিকভাবে স্থিতিশীল করা, নিজের অনুভূতিগুলো বুঝতে পারা এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক রুটিনে ফিরে এসে নিজের পায়ের নিচের মাটি পুনরায় খুঁজে পাওয়া।  নিজের মৌলিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিনমানসিক চাপের সময় ঘুম, খাওয়া ও শরীরের যত্ন নেওয়ার মতো সাধারণ বিষয়গুলোও অবহেলিত হতে পারে। অথচ এগুলো ঠিক না থাকলে মন খারাপ ও উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম, সময়মতো খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান এবং হালকা শারীরিক নড়াচড়া বজায় রাখার চেষ্টা করা উচিত। খুব বেশি কিছু করার শক্তি না থাকলেও কিছুক্ষণ হাঁটা, গোসল করা কিংবা স্বাস্থ্যকর কিছু খাওয়ার মতো ছোট কাজ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। আবেগকে চেপে রাখবেন নাব্রেকআপের পর দুঃখ, রাগ, হতাশা কিংবা একাকীত্ব অনুভব করা স্বাভাবিক। এসব আবেগ থেকে পালানোর বদলে সেগুলোকে স্বীকার করা প্রয়োজন। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট নিজের অনুভূতির জন্য আলাদা করে রাখা যেতে পারে। এ সময় ডায়েরিতে লেখা, কান্না করা কিংবা নিজের অনুভূতিগুলো নিয়ে নিরিবিলি ভাবার সুযোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে আবেগকে বোঝা ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতে পারে। তবে সারাদিন যেন এসব চিন্তাই দখল করে না নেয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। প্রাক্তনকে ঘিরে ডিজিটাল ট্রিগার এড়িয়ে চলুনব্রেকআপের পর প্রাক্তন সঙ্গীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বারবার দেখা, পুরোনো ছবি বা মেসেজ ঘাঁটা কিংবা তিনি কখন অনলাইনে আসছেন তা খেয়াল করা মানসিক কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই কিছুদিনের জন্য এসব যোগাযোগ সীমিত করা যেতে পারে। প্রয়োজনে আনফলো, মিউট বা অন্যান্য গোপনীয়তা সেটিং ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি প্রতিহিংসার প্রকাশ নয়; বরং নিজের মানসিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় দূরত্ব তৈরি করার একটি উপায়। কাছের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুনব্রেকআপের পর নিজেকে সবার কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। কিন্তু পুরোপুরি একা হয়ে যাওয়ার বদলে অন্তত এক বা দুজন বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ভালো। সবসময় নিজের সমস্যা নিয়ে আলোচনা বা সমাধান খোঁজার প্রয়োজন নেই। কাছের কারও সঙ্গে কিছুক্ষণ বসে থাকা, একসঙ্গে হাঁটতে যাওয়া কিংবা একবেলা খাবার খাওয়াও একাকীত্ব কমাতে সাহায্য করতে পারে। এতে একই চিন্তা বারবার মাথায় ঘুরতে থাকার প্রবণতাও কিছুটা কমতে পারে। আবেগের বশে বড় সিদ্ধান্ত নেবেন নাব্রেকআপের পর মানসিক অস্থিরতার মধ্যে হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দেওয়া, প্রাক্তনকে বারবার মেসেজ পাঠানো, অতিরিক্ত মাদক বা অন্য ক্ষতিকর উপায়ে আশ্রয় নেওয়া কিংবা দ্রুত নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। এ সময় কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেকে কিছুটা সময় দেওয়া জরুরি। কারণ তীব্র আবেগের মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকতে পারে। মনে রাখবেন, সেরে ওঠার পথ একরকম নয়ব্রেকআপের পর মানসিকভাবে স্বাভাবিক হয়ে ওঠা কোনো সরলরেখার মতো প্রক্রিয়া নয়। একদিন হয়তো বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ভালো লাগতে পারে, আবার পরদিনই মন খারাপ হয়ে কান্না আসতে পারে। এমন ওঠানামা স্বাভাবিক এবং এর অর্থ এই নয় যে আপনি আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিষণ্ণতা বা উদ্বেগ, ঘুম ও খাওয়ার সমস্যা চলতে থাকলে কিংবা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা এলে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন।

ব্রেকআপের পর কী করবেন?

ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ডা. জাহাঙ্গীর কবির ইনসুলিন বন্ধ করে ‘কিটো ডায়েট’ ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দেওয়ার পর এক ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগও তদন্ত করবে কমিটি। ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠান হেলথ রেভল্যুশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগও রয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর ওই কমিটি গঠন করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ গত ৫ মে অপচিকিৎসা প্রদান ও অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদের অভিযোগে বলা হয়েছে, সুমি বেগম নামের ৩৬ বছর বয়সী ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবহার করতেন। পরে অনলাইনের মাধ্যমে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠান হেলথ রেভল্যুশন লিমিটেডের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়।  প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে ইনসুলিন বন্ধ করে নির্দিষ্ট শর্করাবিহীন খাদ্যতালিকা অনুসরণ এবং উচ্চমূল্যের কিছু সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দেয়। ওই পরামর্শ অনুসরণ করে ইনসুলিন বন্ধ করার পর তাঁর ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। পরে তিনি সিভিয়ার ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে (ডিকেএ) আক্রান্ত হন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢামেক হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ইনসুলিন বন্ধের পরামর্শ, কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের পরামর্শের সঙ্গে রোগীর মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যে কোনো অভিযোগ এলে তা আমলে নেওয়া আমাদের কর্তব্য। যেহেতু ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, এটিও তদন্ত হবে। এই অভিযোগ তদন্তে আমরা কমিটি গঠন করেছি। এ ছাড়া অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারসহ অভিযোগগুলো তদন্ত করবে কমিটি।’ কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানকে। সদস্যসচিব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. মাহমুদুর রহমান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ হালিম খান, ঢামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুরজাহান বানু এবং বারডেম হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আজিমুন্নেছা শিউলী।

ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করবে যেসব খাবার

ক্যালসিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ উপাদান। রক্ত সঞ্চালন, পেশি সংকোচন ও স্নায়ুর কার্যকারিতা বজায় রাখতেও এর ভূমিকা অপরিসীম। সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন হয় (যা বয়স ও শারীরিক অবস্থাবেধে বাড়তে পারে)। অনেকেই ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস হিসেবে দুধের কথা ভাবেন; তবে যাঁরা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট বা দুধ খেতে পারেন না, তাঁদের জন্য প্রকৃতিতে রয়েছে ক্যালসিয়ামে ভরপুর বহু বিকল্প খাবার।১. রাগি (ফিঙ্গার মিলেট)রাগি বা ফিঙ্গার মিলেট ক্যালসিয়ামের একটি অনবদ্য উদ্ভিজ্জ উৎস। দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলতে চাইলে এটি দারুণ বিকল্প। রুটি, দোসা, জাউ (পোরিজ) কিংবা খিচুড়ি বানিয়ে সহজেই এটি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়।২. সাদা ও কালো তিলপ্রচুর স্বাস্থ্যকর চর্বির পাশাপাশি তিলে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ক্যালসিয়াম। সালাদ, চাটনি, মিষ্টান্ন (লাড্ডু) বা বিভিন্ন রান্নায় টপিং হিসেবে তিল ব্যবহার করা যায়। তবে তিলে ক্যালোরির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।৩. টোফু ও সয়া-ভিত্তিক খাবারযাঁরা দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার সহ্য করতে পারেন না, তাঁদের জন্য সয়াবিনের দুধ থেকে তৈরি টোফু এবং সয়া-ভিত্তিক খাবার খুবই পুষ্টিকর বিকল্প। তবে একেক ব্র্যান্ডের টোফুতে ক্যালসিয়ামের মাত্রা ভিন্ন হতে পারে, তাই প্যাকেটের গায়ে পুষ্টি তথ্যের লেবেল দেখে কেনা বুদ্ধিমানের কাজ।৪. শাকসবজি ও সরিষা পাতাসবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি যেমন—কপি, বক চয়, ব্রোকলি ও সরিষা পাতায় প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের তাজা শাকসবজি খেলে শরীরে ক্যালসিয়ামের স্বাভাবিক ঘাটতি পূরণ হয়।৫. পালং শাক পালং শাকে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকলেও এতে 'অক্সালেট' নামক একটি উপাদানের মাত্রা বেশি থাকে, যা শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করে। তাই শরীর সুস্থ রাখতে কেবল পালং শাকের ওপর ভরসা না করে অন্যান্য ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।৬. কাঁটাসহ ছোট মাছছোট মাছ (যা কাঁটাসহ চিবিয়ে খাওয়া যায়) ক্যালসিয়ামের অতুলনীয় উৎস। নিয়মিত দেশি ছোট মাছ খেলে ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট ছাড়াই রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বজায় রাখা সম্ভব।৭. বাদামবিশেষ করে কাঠবাদামসহ অন্যান্য ড্রাই ফ্রুটস ও বাদামে ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি নানা ধরনের প্রয়োজনীয় অসম্পৃক্ত চর্বি ও খনিজ উপাদান থাকে। নিরামিষাশীদের জন্য বাদাম ক্যালসিয়ামের একটি আদর্শ উৎস।বিশেষজ্ঞরা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, কেবল উচ্চ ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খেলেই হবে না; তা শরীরে সঠিকভাবে শোষিত হতে ভিটামিন ডি (Vitamin D)-এর উপস্থিতি অপরিহার্য। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে কিছুটা সময় সূর্যালোক গ্রহণ করা এবং খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।

ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করবে যেসব খাবার

ভ্রমণে সুস্থ থাকতে কী করবেন?

একটুখানি সময় পেলেই ডানা মেলে ঘুরতে যাওয়ার মজাই আলাদা। তবে দীর্ঘ ভ্রমণে শরীর সুস্থ না থাকলে আনন্দটাই মাটি হয়ে যায়। অনিয়মিত বা অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার কারণে পেটের সমস্যা হলে পুরো ট্যুর বানচাল হতে বাধ্য। তাই ভ্রমণে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে খাবারের দিকে দেওয়া চাই বিশেষ নজর।ভ্রমণে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত, ভাজাপোড়া বা গুরুপাক খাবার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। ভারি খাবার সহজে হজম হতে চায় না; ফলে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দেয়। তাই সাধ্যমতো সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করুন।দীর্ঘ যাত্রায় প্রচুর পানি পান করুন এবং সবসময় নিজের পানির বোতল সাথে রাখুন। অচেনা স্থানের ঝরনা, নদী বা অনিরাপদ উৎসের পানি সরাসরি না খাওয়াই ভালো। সবসময় নিরাপদ ও বোতলজাত পানি পানের চেষ্টা করুন।ভ্রমণে বের হওয়ার সময় ব্যাগে কিছু শুকনো খাবার সাথে নিয়ে নিন। যেমন—চিড়াভাজা, মুড়ি, গুড়, ডালভাজা, চানাচুর, বিস্কুট বা কেক। এগুলো ঝটপট ক্ষুধা মেটাতে এবং আপনাকে স্বাচ্ছন্দ্যে রাখতে সাহায্য করবে।বাস বা ট্রেন জার্নির জন্য পাউরুটির ভেতর পছন্দের সবজি ও মাংসের পুর দিয়ে স্যান্ডউইচ বানিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া ডিম সেদ্ধ ও তাৎক্ষণিক এনার্জির জন্য খেজুর সঙ্গে রাখা খুবই স্বাস্থ্যকর।ভ্রমণে গিয়ে সেখানকার স্থানীয় খাবার বা স্ট্রিট ফুড চেখে দেখা অভিজ্ঞতারই অংশ। তবে অস্বাস্থ্যকর বা নোংরা পরিবেশের খাবার খেয়ে পেট খারাপ যেন না হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন।যাদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়, তারা ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, ইনহেলার বা ইনসুলিন হাতের নাগালে আলাদা একটা পাউচে রাখুন। যাতে জরুরি প্রয়োজনে সহজেই তা ব্যবহার করা যায়।

 ভ্রমণে সুস্থ থাকতে কী করবেন?

স্বামী-স্ত্রীর জামাতে নামাজ আদায়ের নিয়ম ও ফজিলত

স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করলে দাম্পত্য সম্পর্কে সৌহার্দ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ঘরে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও বরকত নাজিল হয়। গ্রহণযোগ্য কোনো ওজর থাকলে ফরজ নামাজ এবং সাধারণ অবস্থায় নফল বা তাহাজ্জুদের নামাজ স্বামী-স্ত্রী ঘরে জামাতে আদায় করা অত্যন্ত সুন্নাহসম্মত ও প্রশংসনীয় আমল।ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে ইকামতও স্বামীই দেবেন। নারীদের জন্য আজান বা ইকামত দেওয়া শরিয়তে মাকরুহ। বায়হাকি শরিফের হাদিসে এসেছে, হজরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— নারীদের ওপর আজান, ইকামত, জুমা এবং জুমার গোসল আবশ্যক নয়।নফল বা তাহাজ্জুদের জামাতে স্বামী ইমামতি করবেন, তবে এতে ইকামতের প্রয়োজন নেই।জামাতে স্ত্রী স্বামীর ডান পাশে কিছুটা পিছিয়ে দাঁড়াবেন (স্ত্রীর পায়ের গোড়ালি যেন স্বামীর গোড়ালি থেকে কিছুটা পেছনে থাকে)।পুরুষ মুক্তাদি একজন হলে একদম পাশে বরাবর দাঁড়ানোর নিয়ম থাকলেও, নারী মুক্তাদির ক্ষেত্রে সামান্য পিছিয়ে দাঁড়ানোই শরিয়তের বিধান।স্ত্রী কখনোই স্বামীর একদম সমান বরাবর দাঁড়াবেন না; বরাবর দাঁড়িয়ে নামাজ পড়লে নামাজ ফাসিদ বা বাতিল হয়ে যায়।নামাজে ইমাম (স্বামী) কোনো ভুল করলে স্ত্রী কথা না বলে নিজ বাম হাতের পিঠের ওপর ডান হাত দিয়ে চাপড়ে মৃদু শব্দ (তালি বা তাসফিক) সৃষ্টি করে স্বামীকে সতর্ক করবেন।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "নামাজে কোনো সমস্যা উপস্থিত হলে সে যেন 'সুবহানাল্লাহ' বলে... আর তালিয়া বা হাতে আওয়াজ করা তো নারীদের জন্য।" (বুখারি: ১২০১)আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন— "তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা কর..." (সুরা আল-মায়েদাহ: ২)।যে দম্পতি গভীর রাতে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করে এবং একে অপরকে নামাজের জন্য ডেকে তোলে, তাদের জন্য মহানবী (সা.) বিশেষ রহমতের দোয়া করেছেন। হাদিস অনুযায়ী, আল্লাহ সেই পুরুষ ও নারীর ওপর রহম করেন, যারা রাতে নিজে সালাত আদায় করে এবং অন্যজনকে ভালোবেসে ডেকে তোলে (প্রয়োজনে চেহারায় হালকা পানি ছিটিয়ে জাগিয়ে দেয়)।

স্বামী-স্ত্রীর জামাতে নামাজ আদায়ের নিয়ম ও ফজিলত

তরুণীরা কেন বয়সে বড় পুরুষের প্রেমে পড়ে?

প্রেম বা ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সমবয়সীদের ছেড়ে নিজের চেয়ে বয়সে বড় পুরুষদের প্রতি তরুণীদের আকৃষ্ট হওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার চেয়ে মানসিক স্থিতিশীলতা, পরিপক্বতা এবং দায়িত্বশীল আচরণই মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।জীবনের অভিজ্ঞতা বেশি থাকায় বয়সে বড় পুরুষরা আবেগ নিয়ন্ত্রণে বেশ দক্ষ হন। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অযথা উত্তেজিত না হয়ে তারা ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দেন, যার ফলে সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি বা অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কম হয়।তারা অবাস্তব কল্পনায় না ভেসে পারস্পরিক সম্মান এবং দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্ব দেন। যেকোনো সমস্যা এড়িয়ে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পছন্দ করেন।কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে দৃঢ়তা কাজ করে। এই স্থিরতা ও নির্ভরযোগ্যতা নারীদের কাছে বেশ নিরাপত্তাদায়ক মনে হয়।ক্যারিয়ার, পরিবার ও ব্যক্তিগত লক্ষ্য নিয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকায় সম্পর্কের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা বা অনিশ্চয়তা কম দেখা যায়।জীবনের নানা উঠানামা পার করে আসার কারণে তারা মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ নমনীয় হন। তারা সঙ্গীর মতামতকে গুরুত্ব দেন এবং সঙ্গীর ব্যক্তিগত পরিসরকে (Personal Space) সম্মান জানান।আধুনিক সমাজে বর্তমান প্রজন্মের নারীরা সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্থবিত্তের চেয়ে মানসিক পরিপক্বতা, দায়িত্ববোধ ও স্থিতিশীলতাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। তবে সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, কেবল বয়স বেশি হলেই কেউ আদর্শ সঙ্গী হয়ে যান না। একটি সফল সম্পর্কের মূল ভিত্তি শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক বোঝাপড়া, শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাসের ওপরই নির্ভর করে।

তরুণীরা কেন বয়সে বড় পুরুষের প্রেমে পড়ে?

স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত

দাম্পত্য জীবনের সুখ ও স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ফারাক কতটা হওয়া উচিত—এ নিয়ে নানা সামাজিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক মতামত রয়েছে। তবে সমাজবিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র; একটি দীর্ঘমেয়াদি ও শান্তিময় দাম্পত্যের মূল চাবিকাঠি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা এবং মানসিক পরিপক্বতা।বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৫ থেকে ৭ বছরের ব্যবধান থাকলে দম্পতিদের মানসিক পরিপক্বতা ও সমঝোতায় ভালো ভারসাম্য তৈরি হয়, যা অনাকাঙ্ক্ষিত মতবিরোধ কমায়। আবার ১০ বছরের ফারাক থাকলেও অভিন্ন মূল্যবোধ ও জীবনের লক্ষ্য থাকলে সম্পর্ক সুন্দরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব; তবে এ ক্ষেত্রে সম্পর্কে একক কর্তৃত্ব এড়িয়ে চলা জরুরি। অন্যদিকে ব্যবধান ২০ বছর বা তার বেশি হলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা জীবনধারায় অমিল দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বাড়লেও, গভীর বোঝাপড়ার মাধ্যমে এমন বহু সম্পর্ক সফলভাবে টিকে থাকার নজির রয়েছে।২০১৭ সালের একটি অস্ট্রেলীয় গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব দম্পতির বয়সের ফারাক ১ থেকে ৩ বছর এবং যেখানে পুরুষ সঙ্গী বয়সে বড়, তাদের দাম্পত্য জীবনের সন্তুষ্টির মাত্রা বেশি। তবে বিয়ের ৬ থেকে ১০ বছরের মধ্যে যাদের বিচ্ছেদ ঘটে, তাদের বড় একটি অংশে বয়সের ব্যবধান ৭ বছর বা তার বেশি ছিল। আবার নারীদের বয়স পুরুষ সঙ্গীর চেয়ে বেশি হওয়ার পরও সফল ও সুখী দাম্পত্য বজায় রাখার অঢেল উদাহরণ রয়েছে।তবে সন্তান গ্রহণের ক্ষেত্রে বয়স একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য মতে, পুরুষের সন্তান জন্মদানের আদর্শ সময় ২১ থেকে ৩৫ বছর। ৩৫ বছরের পর শুক্রাণুর গুণমান কমতে শুরু করে এবং ৪০ পেরোলে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। নারীদের ক্ষেত্রে বিশের কোঠার শুরুর দিক এবং ২৫ থেকে ২৯ বছর মা হওয়ার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ। ত্রিশের পর নারীদের প্রজননক্ষমতা কমে যায় এবং চল্লিশ পেরোলে গর্ভধারণ মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে সন্তানপ্রত্যাশী হলে পুরুষের বয়স ৫০-এর নিচে এবং নারীর বয়স ৪০-এর নিচে থাকা ইতিবাচক।দিনশেষে কোনো গাণিতিক সূত্রের ওপর নয়, বরং দুটি মানুষের মানসিক নৈকট্য, বিশ্বাস, পারস্পরিক দায়বদ্ধতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পাশে থাকার মাধ্যমেই একটি দাম্পত্যের দীর্ঘস্থায়িত্ব নির্ধারিত হয়।

স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত

গরমে প্রাণজুড়ানো তালের দুই রেসিপি

ভাদ্রের তালপাকা গরমে জীবন অতিষ্ঠ। তাই এই গরমে প্রশান্তি দিতে পারে তালের শরবত। তাল দিয়েই তৈরি করে নিন প্রাণজুড়ানো দুই রেসিপি।  তালের রস ১ কাপ, ঘন করে জ্বাল দেওয়া ঠান্ডা তরল দুধ ২ কাপ, মিষ্টি দই বা ভ্যানিলা আইসক্রিম ৪ টেবিল চামচ, পাকা কলা ১টি, চিনি স্বাদমতো, কাজুবাদাম বা কাঠবাদামকুচি করা, আখরোট সাজানোর জন্য, বরফকুচি প্রয়োজনমতো। একটি ব্লেন্ডারে তালের রস, ঠান্ডা দুধ, দই বা আইসক্রিম, কলার টুকরা ও চিনি একসঙ্গে নিয়ে নিন। উপকরণগুলো মসৃণ বা স্মুদ না হওয়া পর্যন্ত ভালো করে ব্লেন্ড করুন। এবার গ্লাসে ঢেলে ওপরে বাদামের কুচি, আখরোট এবং বরফকুচি দিয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন। তালের ঘন রস ১ কাপ, ১ লিটার ঘন দুধ জ্বাল দিয়ে আধা লিটার করে নেওয়া, চিনি আধা কাপ, আইসক্রিম তৈরির হেভি ক্রিম ১ কাপ, এলাচির গুঁড়া ১ চা-চামচের ৪ ভাগের ১ ভাগ, যেকোনো বাদামকুচি সাজানোর জন্য, আধা কাপ গরম পানিতে গুলিয়ে নেওয়া জেলাটিন ১ টেবিল চামচ। এক লিটার তরল দুধ চুলায় দিয়ে ফুটিয়ে অর্ধেক করে নিন। ঘন দুধের সঙ্গে তালের রস এবং চিনি বা কনডেন্সড মিল্ক মিশিয়ে দিন। মিশ্রণটি চুলায় বসিয়ে মাঝারি আঁচে ৫ থেকে ৭ মিনিট অনবরত নাড়ুন, যাতে নিচে লেগে না যায়। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে নামিয়ে এলাচির গুঁড়া মেশান এবং সম্পূর্ণ ঠান্ডা হতে দিন। এবার একটি পাত্রে আইসক্রিম তৈরির হেভি ক্রিম বিট করে নিয়ে ঠান্ডা তালের মিশ্রণের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এটি কুলফিকে ক্রিমি করবে। এরপর ২ টেবিল চামচ জেলাটিন মেশানো পানি দিন। এবার মিশ্রণটি কুলফি বা আইসক্রিমের মোল্ডে ঢালুন। ওপর থেকে বাদামকুচি ছড়িয়ে দিন। মোল্ডের মুখ বন্ধ করে ডিপ ফ্রিজে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বা সারা রাত রেখে দিন। ফ্রিজ থেকে বের করে পরিবেশন করুন।

গরমে প্রাণজুড়ানো তালের দুই রেসিপি

প্রতিদিন ৫ মিনিট হাটলেই কি আয়ু বাড়বে? কি বলছে গবেষণা

সম্প্রতি চিকিৎসাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী 'দ্য ল্যানসেট'-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় উঠে এসেছে অত্যন্ত চমকপ্রদ তথ্য। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর টানা আট বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিট মাঝারি মাত্রায় দ্রুত হাঁটলেই (ঘণ্টায় ৩ থেকে সাড়ে ৪ মাইল গতিতে) মানুষের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি হ্রাস পেতে পারে এবং সার্বিক আয়ু প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষ করে যারা সারাদিনে খুব একটা শারীরিক পরিশ্রম করেন না বা আলসে জীবনযাপন করেন, তাদের জন্য এই সামান্য ৫ মিনিটের হাঁটাই সবচেয়ে বেশি সুফল এনে দেয়।গবেষকরা জানান, নড়াচড়া বা শারীরিক পরিশ্রম শুরু করার সাথে সাথেই শরীরে নানা ইতিবাচক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটতে থাকে। নিয়মিত দ্রুত হাঁটলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ক্ষতিকর প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন কমে। ফলে হৃদ্রোগ ও ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। তবে গবেষকরা সময় বাড়ানোর পরামর্শও দিয়েছেন—প্রতিদিন যদি এই শারীরিক কর্মকাণ্ড ১০ মিনিটে উন্নীত করা যায়, তবে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসে।প্রতিদিন দীর্ঘ সময় জিমে কাটানো বা কঠিন ব্যায়াম সবার পক্ষে সম্ভব না হলেও লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা, কাছাকাছি কোথাও হেঁটে যাওয়া কিংবা প্রতিদিন অন্তত ৫ মিনিট একটু দ্রুতগতিতে হাঁটার মতো ছোট ছোট পরিবর্তনই দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি হতে পারে।

প্রতিদিন ৫ মিনিট হাটলেই কি আয়ু বাড়বে? কি বলছে গবেষণা

গরুর মাংস সবুজ হওয়ার কারণ

খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংসের রং লাল থেকে হঠাৎ উজ্জ্বল সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনার সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বিষাক্ত কোনো ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব কিংবা পচনের প্রমাণের বদলে রাসায়নিক পরিবর্তনের কারণেই এমনটি ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে বিএফএসএ জানিয়েছে, মাংসটি দীর্ঘ সময় ফ্রিজে সংরক্ষণের পর উচ্চ তাপে রান্না করা হয়েছিল। ফলে মাংসের ‘মায়োগ্লোবিন’ বা হিম-রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক ও গাঠনিক রূপান্তর ঘটে, যা মাংসকে সবুজ রঙে পরিবর্তিত করে থাকতে পারে।বিএফএসএর খাদ্য বিশ্লেষণ শাখার প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয় যে, সংগৃহীত নমুনায় কোনো ক্ষতিকারক বা পিগমেন্ট উৎপাদনকারী Pseudomonas ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মেলেনি। মাংসটিতে কোনো পচনশীল দুর্গন্ধ বা আঠালো ভাবও ছিল না। ফলে ব্যাকটেরিয়াজনিত পচন বা জীবাণুর সংক্রমণে এটি ঘটেনি তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে পরীক্ষাগার থেকে রাসায়নিক পরিবর্তনের বিষয়টিকেই সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল খুলনার পাইকগাছা বাজারের ‘মর্ডান বেকারি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে। স্থানীয় মাংস বিক্রেতা ইসমাইলের কাছ থেকে চার কেজি গরুর মাংস কিনে রান্নার বসানো হলে হুট করেই তার স্বাভাবিক লালচে রং বদলে উজ্জ্বল সবুজ হয়ে যায়। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। পরে বেকারির কর্মীরা কড়াইসহ বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে অবহিত করেন।পরিস্থিতি বিবেচনায় পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসীউজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খুলনা জেলা কার্যালয় কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠায়। ল্যাব পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পর মাংসের রং পরিবর্তনের মূল কারণ প্রকাশ পেল।

গরুর মাংস সবুজ হওয়ার কারণ

স্ত্রীকে ‘আপু’ বা ‘বোন’ বললে কি তালাক হয়ে যাবে?

স্ত্রীকে ‘আপু’ বা ‘বোন’ এবং একইভাবে স্ত্রী স্বামীকে ‘ভাই’ বা ‘ভাইয়া’ বলে ডাকলে তালাক হবে না এবং কোনো কাফফারাও দিতে হবে না। তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে এভাবে সম্বোধন করা মাকরুহ (অপছন্দনীয়)।ভালোবাসা বা অভ্যাসবশত কাউকে বোন বা আপু ডাকলে বিবাহবিচ্ছেদ (তালাক) ঘটে না এবং শরিয়ত অনুযায়ী কোনো কাফফারাও ওয়াজিব হয় না। বৈবাহিক সম্পর্ক পূর্বের মতোই বহাল থাকবে।হাদিস শরিফে এভাবে সম্বোধন করতে নিষেধ করা হয়েছে:আবু তমিমা আল জুহামী (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল, ‘হে আমার বোন’। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, “সে কি তোমার বোন?” তিনি এ রকম সম্বোধন অপছন্দ করলেন এবং তা থেকে নিষেধ করলেন। (সুনানে আবু দাউদ: ২২০৪, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক: ৭/১৫২)স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ পায়—এমন সম্মানজনক নামে ডাকা উচিত।পরস্পরকে নিজস্ব নাম ধরে ডাকা যাবে (যদি স্থানীয় সংস্কৃতিতে তা অসম্মানজনক না হয়)।সন্তানদের নামের সাথে সম্পৃক্ত করে (যেমন: অমুকের আব্বু/আম্মু) অথবা অন্য যেকোনো ভালোবাসাপূর্ণ নামে সম্বোধন করা সর্বোত্তম।

স্ত্রীকে ‘আপু’ বা ‘বোন’ বললে কি তালাক হয়ে যাবে?

রাতে আপেল চা কেন পান করবেন?

এক কাপ গরম আপেল চা যদি আপনার রাতের ঘুম শান্ত করে এবং দিনের শুরু বা শেষের মুহূর্তটি আরামদায়ক করে তোলে, তবে বিষয়টি দারুণ হয় না! অনেকে রাতে ঘুমানোর আগে এক কাপ সাধারণ চা বা কফি পান করতে চান। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন রাতের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। যাঁরা একটু ভিন্ন স্বাদ ও স্বাস্থ্যকর পানীয় দিয়ে দিনের ক্লান্তি মেটাতে চান, তাঁদের জন্য হালকা গরম আপেল চা বা সিডার টি হতে পারে চমৎকার একটি বিকল্প। আপেলে থাকা কার্বোহাইড্রেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশ কম এবং এটি আঁশসমৃদ্ধ। কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবার রক্তে শর্করার পরিমাণ হঠাৎ বাড়ায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে তা ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়তা করে। ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্টের তুলনায় আপেলের মেলাটোনিন খুব নগণ্য। ভিটামিন সি দেহের কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করে এবং প্রদাহ কমায়। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কম থাকলে পরোক্ষভাবে তা ভালো ঘুমে সহায়তা করতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা আপেল খাওয়ার চেয়ে হালকা গরম আপেল চা বা সেদ্ধ আপেলের পানি পাকস্থলীর জন্য সহজে হজমযোগ্য। রাতে গরম তরল পান করার ফলে শরীর ও মন শান্ত হয়, যা ঘুমানোর পরিবেশ তৈরি করে। আপেলের সঙ্গে দারুচিনি, আদা বা অন্যান্য ভেষজ উপাদান মিশিয়ে চা তৈরি করলে এর স্বাদ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। দারুচিনি: রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায়। আদা: পেটের অস্বস্তি, বমি ভাব কমায় এবং হজমপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে সাহায্য করে। হলুদ: শরীরের প্রদাহ কমায় এবং জয়েন্টের ব্যথা উপশমে সাহায্য করে। রসুন ও কায়েন মরিচ: রক্তনালি নমনীয় রেখে হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে ও ব্যথা কমাতে কার্যকর। আপেল-দারুচিনি ভেষজ চা আপেল-দারুচিনি ভেষজ চা তৈরি করতে চাইলে প্রয়োজন ২টি আপেল, পরিমাণমতো পানি, ৪ চা-চামচ লিকার, ২টি দারুচিনি ও সামান্য মধু। প্রথমে একটি পাত্রে খোসা ছাড়িয়ে ছোট টুকরা করা আপেল নিন। এরপর এতে পানি, দারুচিনি এবং চা একসঙ্গে মিশিয়ে মৃদু আঁচে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ফোটান। পানি কমে এলে ছেঁকে কাপে ঢালুন। ইচ্ছে হলে সামান্য মধু মিশিয়ে রাতে হালকা গরম-গরম পরিবেশন করুন। এর জন্য প্রয়োজন টুকরা করে কাটা ৪টি আপেল, ১ ইঞ্চি আদা কুচি করা, ৪টি এলাচি, ২টি দারুচিনি, ৪ চা-চামচ গ্রিন টি ও ৪৫০ মিলি পানি। প্রথমে একটি পাত্রে আপেল, আদা, এলাচি, দারুচিনি ও পানি দিয়ে ১৫ মিনিট হালকা আঁচে সেদ্ধ করুন। চুলা থেকে নামিয়ে ৫ মিনিট ঠান্ডা হতে দিন। এরপর এতে গ্রিন টি দিয়ে ৩ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। ভালো করে ছেঁকে নিন। এটি সকাল বা বিকেলের সতেজতায় পান করতে পারেন। সূত্র: হেলথ লাইন

রাতে আপেল চা কেন পান করবেন?

শিশুদের প্রতিদিন কতক্ষন ঘুমানো উচিত

বর্তমান সময়ে প্রাত্যহিক জীবনে কেবল বয়স্কদেরই নয়, ছোট শিশুদের মধ্যেও ঘুমের সমস্যা মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের ঘুমের সময়টি এখন বহু পরিবারের জন্যই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যে শিশুরা আগে সহজেই ঘুমিয়ে পড়ত, বর্তমানে তাদের অতিরিক্ত সময় জেগে থাকা, রাতে বারবার জেগে ওঠা কিংবা সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হওয়ার মতো প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।এ ধরনের সমস্যার পেছনে সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন টাইম (মোবাইল বা টিভির ব্যবহার) কে দায়ী করা হলেও, শিশু বিশেষজ্ঞ ড. মনীশ মান্নানের মতে, শিশুদের সন্ধ্যার রুটিনে যুক্ত থাকা আপাতদৃষ্টিতে ছোট কিছু অভ্যাসও এর জন্য অনেকাংশে দায়ী।৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু: প্রতিদিন ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।কিশোর-কিশোরী (১৩ থেকে ১৮ বছর): প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।পর্যাপ্ত ঘুম শিশুদের স্মৃতিশক্তি, শেখার ক্ষমতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শারীরিক বৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নিয়মিত সঠিক ঘুম না হলে শিশুদের মনোযোগ, আচরণ ও মেজাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।চিকিৎসকদের মতে, মা-বাবার অন্যতম ভুল হলো ঘুমের সময়সীমাকে শিথিল বা পরিবর্তনযোগ্য করে তোলা। হোমওয়ার্কের বাড়তি চাপ, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া এবং শোবার সময় মোবাইল বা টিভির ব্যবহার বাড়িয়ে দেওয়া এর মূল কারণ। এ ছাড়া কর্মদিবসে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমালেও ছুটির দিনে শিশুদের অনেক দেরি করে ঘুমাতে দেওয়া হয়, যা শরীরের স্বাভাবিক ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ বা ঘুমের ছন্দ নষ্ট করে দেয়।১. ঘুমানোর ঠিক আগে স্ক্রিন ব্যবহার: মোবাইল, গেম বা সোশাল মিডিয়া মস্তিষ্কে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। তাই ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে সব স্ক্রিন বন্ধ করে ফোন শোবার ঘরের বাইরে রাখা উচিত।২. ছুটির দিনে অনিয়মিত রুটিন: ছুটির দিনগুলোতেও ঘুম ও জাগার সময় স্বাভাবিক দিনগুলোর কাছাকাছি রাখা প্রয়োজন।৩. বিছানায় অন্য কাজ করা: বিছানায় পড়াশোনা, গেম খেলা বা ভিডিও দেখা ঘুমের স্বাভাবিক আমেজ কমিয়ে দেয়। বিছানা কেবল ঘুমের জন্যই নির্দিষ্ট রাখা উচিত।৪. শিশুকে অতিরিক্ত ব্যস্ত রাখা: খেলাধুলা, টিউশন ও স্ক্রিন মিলিয়ে ব্যস্ত সন্ধ্যা শিশুকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করলেও শান্ত ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে। ঘুমানোর আগে বই পড়া বা শান্ত পরিবেশে কথা বলার রুটিন গড়ে তোলা উচিত।৫. রাতে ক্যাফেইন ও ভারী খাবার: কোলা জাতীয় পানীয়, চা, ক্যাফেইন এবং রাতে অসময়ে খাওয়ার অভ্যাস ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। সব ঘুমের সমস্যা শুধুই আচরণগত নয়। শিশু যদি নিয়মিত নাক ডাকে, ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা অস্থিরতা অনুভব করে, সকালে মাথাব্যথা নিয়ে ওঠে কিংবা সারাদিন অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব থাকে—তবে বিলম্ব না করে শিশু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি অনুমানযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট রুটিন, সন্ধ্যার হৈচৈ কমানো এবং স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণে আনার মাধ্যমেই শিশুদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও পর্যাপ্ত ঘুমের পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

শিশুদের প্রতিদিন কতক্ষন ঘুমানো উচিত

রাতে ত্বকের যত্ন নিবেন যেভাবে

দিনের ব্যস্ততা শেষে রাতে ত্বকের যত্নে একটি সহজ ও নিয়মিত রুটিন অনুসরণ করা উপকারী হতে পারে। তবে ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন বুঝে পণ্য বেছে নেওয়া জরুরি। একসঙ্গে অনেক পণ্য ব্যবহার করলেই ভালো ফল পাওয়া যাবে এমন ধারণা ঠিক নয়। ফুলের নকশাবিদ রেন ম্যাকডোনাল্ড বালাসিয়া, মেকআপ শিল্পী লিসা এলড্রিজ এবং ফ্যাশন ব্র্যান্ড কমে সি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সৃজনশীল পরিচালক জেনি লি তাদের রাতের ত্বক পরিচর্যার অভ্যাস নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। রাতে ঘুমানোর আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। রেন ম্যাকডোনাল্ড বালাসিয়া জানান, ফুল নিয়ে কাজ করার কারণে তাঁর ত্বক নানা উপাদানের সংস্পর্শে আসে। তাই রাত যত দেরিই হোক, তিনি ঘুমানোর আগে মুখ পরিষ্কার করেন। ক্লিনজার দিয়ে প্রায় ৪৫ সেকেন্ড মুখে হালকা ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলেন তিনি। মেকআপ শিল্পী লিসা এলড্রিজও বাড়ি ফেরার পর মুখ পরিষ্কার করেন। প্রথমে ক্লিনজিং বাম দিয়ে মেকআপের ওপরের স্তর সরিয়ে নেন। এরপর একই পণ্য দিয়ে আবার মুখ ম্যাসাজ করেন। চোখের চারপাশে ফোলাভাব থাকলে হালকা ম্যাসাজও করেন তিনি। জেনি লি প্রথমে ক্লিনজিং ওয়াইপ দিয়ে মেকআপের কিছু অংশ পরিষ্কার করেন। এরপর ক্লিনজিং অয়েল দিয়ে মুখ পরিষ্কার করেন। মুখ পরিষ্কারের পর ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে মিস্ট, এসেন্স বা সিরাম ব্যবহার করা যেতে পারে। রেন গোলাপজলভিত্তিক মিস্ট ব্যবহারের পর রোজ বাম লাগান। জেনি লি প্রথমে এসেন্স, এরপর সিরাম ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেন। গরমের সময় তিনি হালকা সিরাম ও ক্রিম বেছে নেন। শীতকালে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে তুলনামূলক ঘন ক্রিম ব্যবহার করেন। ত্বকের মৃতকোষ দূর করতে এক্সফোলিয়েশন করা হলেও এটি প্রতিদিন করার প্রয়োজন নেই। লিসা এলড্রিজ সপ্তাহে এক থেকে দুইবার পিল বা এক্সফোলিয়েটিং মাস্ক ব্যবহার করেন। তার ব্যবহৃত একটি পণ্যে ল্যাকটিক ও ম্যান্ডেলিক অ্যাসিড রয়েছে। অ্যাসিডযুক্ত পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে ত্বকের সংবেদনশীলতা বিবেচনা করা জরুরি। বেশি ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালা বা শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। লিসা এলড্রিজ ব্রণ ও বয়সজনিত ত্বকের পরিবর্তনের জন্য রেটিনয়েডযুক্ত তেল ব্যবহার করেন। পাশাপাশি পেপটাইডযুক্ত সিরামও ব্যবহার করেন। তবে রেটিনয়েড, অ্যাসিড বা অন্য কোনো শক্তিশালী সক্রিয় উপাদান নতুন করে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ধীরে শুরু করা উচিত। পণ্যের নির্দেশনা মেনে ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। চোখের নিচের ত্বকের যত্নেও গুরুত্ব দেন লিসা। তিনি নিয়মিত গোল্ড আন্ডার-আই মাস্ক ব্যবহার করেন। তার মতে, সকালে এটি ব্যবহারের পর চোখের চারপাশের ত্বক তুলনামূলক মসৃণ ও সতেজ দেখায়। রেন ম্যাকডোনাল্ড বালাসিয়া সপ্তাহে কয়েক রাত মাইক্রোকারেন্ট ডিভাইস ব্যবহার করেন। লিসা এলড্রিজ রাতে এলইডি লাইট থেরাপি প্যানেল ব্যবহার করেন। তবে এসব যন্ত্র সবার জন্য অপরিহার্য নয়। ব্যবহারের আগে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। ত্বকে কোনো সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াও ভালো। জেনি লি মুখের পাশাপাশি শোবার আগে হাত ও ঠোঁটের যত্ন নেন। তার বিছানার পাশে হ্যান্ড ক্রিম ও লিপ বাম থাকে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সহজেই ব্যবহার করতে পারেন। রাতের ত্বক পরিচর্যার মূল বিষয় হলো মুখ পরিষ্কার করা, ত্বকে আর্দ্রতা জোগানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত পণ্য ব্যবহার করা। তাই অনেক পণ্য একসঙ্গে ব্যবহার না করে ত্বকের ধরন ও সমস্যার ভিত্তিতে একটি সহজ রুটিন তৈরি করাই ভালো। একটি সাধারণ রাতের রুটিন হতে পারে প্রথমে মেকআপ ও ময়লা পরিষ্কার করা, এরপর ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধোয়া। প্রয়োজনে এসেন্স বা সিরাম ব্যবহার করে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। এক্সফোলিয়েশন সপ্তাহে সীমিত দিনে করা যেতে পারে। ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট চিকিৎসাধর্মী পণ্য বা সৌন্দর্যচর্চার যন্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে রেটিনয়েড বা শক্তিশালী অ্যাসিডের মতো সক্রিয় উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকের ধরন ও সংবেদনশীলতা বিবেচনা করা জরুরি। প্রয়োজনে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। তবে এসব বিউটি ডিভাইস সবার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। ব্যবহার করার আগে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং ত্বকে কোনও সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। জেনি লি ময়েশ্চারাইজিং এসেন্স ও সিরামের পর হালকা বা ভারী ক্রিম ব্যবহার করেন—ঋতুভেদে পণ্যের ধরন বদলান। তিনি এলইডি সেটিংসহ একটি বিউটি ডিভাইসও ব্যবহার করেন। শুধু মুখ নয়, শোবার আগে হাত ও ঠোঁটের যত্নও নেন তিনি। বেডসাইড টেবিলে রাখেন হ্যান্ড ক্রিম ও লিপ বাম। রাতের স্কিন কেয়ার রুটিনের মূল বিষয় হলো পরিষ্কার করা, ত্বকে আর্দ্রতা দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত পণ্য ব্যবহার করা। একসঙ্গে অনেক পণ্য ব্যবহার করাই যে ভালো ফল দেবে, এমন নয়। সহজ একটি রাতের রুটিন হতে পারে:১. মেকআপ ও ময়লা পরিষ্কার করা২. ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধোয়া৩. প্রয়োজনে এসেন্স বা সিরাম ব্যবহার৪. ময়েশ্চারাইজার লাগানো৫. সপ্তাহে সীমিত দিনে এক্সফোলিয়েশন৬. প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ট্রিটমেন্ট বা ডিভাইস ব্যবহার ত্বকের ধরন, বয়স ও সমস্যা অনুযায়ী পণ্যের প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে রেটিনয়েড বা শক্তিশালী অ্যাসিড ব্যবহারের ক্ষেত্রে ত্বকের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ। সূত্র: দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস

রাতে ত্বকের যত্ন নিবেন যেভাবে
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream