বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

বারবার প্রস্রাবের সংক্রমণ? কিডনির সুস্থতায় ৩ যোগাসন


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বারবার প্রস্রাবের সংক্রমণ? কিডনির সুস্থতায় ৩ যোগাসন
যোগাসন (ছবি: পেক্সেলস)

মূত্রনালির সংক্রমণ হলে বারবার প্রস্রাবে জ্বালা, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ কিংবা তলপেটে অস্বস্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেকেই দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখেন, আবার কেউ কেউ পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। এসব অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কিডনির সুস্থতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান, সময়মতো প্রস্রাব করা এবং পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি জীবনযাপনে যত্ন নেওয়া জরুরি।


যোগাসন শরীরচর্চার একটি উপায়। নিয়মিত যোগাভ্যাস শরীরের নমনীয়তা ও সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক করে। তবে মনে রাখা দরকার, কোনও যোগাসনই মূত্রনালির সংক্রমণ সারানোর বা কিডনিতে পাথর হওয়া প্রতিরোধের নিশ্চিত উপায় নয়। এ ধরনের সমস্যা কমাতে দৈনন্দিন অভ্যাসের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

এই আসনটি করতে প্রথমে ম্যাটের উপর চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। দুই পা সোজা রাখুন এবং হাত শরীরের দুপাশে রাখুন। এরপর পা দুটি মুড়ে পদ্মাসনের ভঙ্গি তৈরি করুন। ডান পা বাঁ ঊরুর উপর এবং বাঁ পা ডান ঊরুর উপর রাখুন। ধীরে ধীরে পিঠ সামান্য তুলে শরীরকে ধনুকের মতো বাঁকানোর চেষ্টা করুন। স্বাচ্ছন্দ্য থাকলে হাত দিয়ে পায়ের বুড়ো আঙুল ধরতে পারেন। স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন। ঘাড়, পিঠ বা হাঁটুতে অস্বস্তি হলে জোর করে এই ভঙ্গি করবেন না।

বিপরীত নমস্কার বদ্ধ কোণাসন

ম্যাটের উপর পিঠ সোজা করে বসুন। দুই হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের পাতা পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। এরপর দুই হাত পিঠের পিছনে নিয়ে গিয়ে নমস্কারের ভঙ্গি করার চেষ্টা করুন। শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে শরীর সামনের দিকে ঝোঁকাতে পারেন, তবে যতটা সম্ভব স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখুন। মাথা মাটিতে ঠেকানোর জন্য জোর করবেন না। এই ভঙ্গিতে অসুবিধা হলে সোজা হয়ে বসে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়াই ভালো। পিঠ, হাঁটু বা কাঁধে সমস্যা থাকলে আগে প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিন।

নৌকাসন করতে প্রথমে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। এরপর ধীরে ধীরে শরীরের উপরের অংশ ও পা মাটি থেকে তুলুন। হাত সামনের দিকে বাড়িয়ে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করুন। শরীরের ভঙ্গি নৌকার মতো হলে কয়েক সেকেন্ড থাকুন। তারপর ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন। শুরুতে অল্প সময় ধরে অভ্যাস করুন এবং শরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী সময় বাড়ান। কোমর বা পিঠে ব্যথা থাকলে এই আসন করার আগে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিন।

মূত্রনালির সংক্রমণ ও কিডনির পাথর এড়াতে কী করবেন?

পর্যাপ্ত পানি পান করুন, দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখবেন না এবং শৌচাগার ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। তবে কতটা পানি পান করা প্রয়োজন, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। বিশেষ করে কিডনি বা হৃদ্‌রোগের কারণে যাদের পানি পানের পরিমাণ সীমিত রাখতে বলা হয়েছে, তারা চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চলুন।

মূত্রনালির সংক্রমণ বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সংক্রমণ সাধারণত নিজে থেকেই কিডনিতে পাথর তৈরি করে না। তবে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ পাথর তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। প্রস্রাবে জ্বালা, ঘন ঘন প্রস্রাব, জ্বর, কাঁপুনি, কোমর বা পিঠের এক পাশে ব্যথা কিংবা প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। জ্বরের সঙ্গে তীব্র ব্যথা বা বমি হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

বিষয় : হেলথ-টিপস

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


বারবার প্রস্রাবের সংক্রমণ? কিডনির সুস্থতায় ৩ যোগাসন

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মূত্রনালির সংক্রমণ হলে বারবার প্রস্রাবে জ্বালা, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ কিংবা তলপেটে অস্বস্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেকেই দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখেন, আবার কেউ কেউ পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। এসব অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কিডনির সুস্থতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান, সময়মতো প্রস্রাব করা এবং পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি জীবনযাপনে যত্ন নেওয়া জরুরি।


যোগাসন শরীরচর্চার একটি উপায়। নিয়মিত যোগাভ্যাস শরীরের নমনীয়তা ও সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক করে। তবে মনে রাখা দরকার, কোনও যোগাসনই মূত্রনালির সংক্রমণ সারানোর বা কিডনিতে পাথর হওয়া প্রতিরোধের নিশ্চিত উপায় নয়। এ ধরনের সমস্যা কমাতে দৈনন্দিন অভ্যাসের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

এই আসনটি করতে প্রথমে ম্যাটের উপর চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। দুই পা সোজা রাখুন এবং হাত শরীরের দুপাশে রাখুন। এরপর পা দুটি মুড়ে পদ্মাসনের ভঙ্গি তৈরি করুন। ডান পা বাঁ ঊরুর উপর এবং বাঁ পা ডান ঊরুর উপর রাখুন। ধীরে ধীরে পিঠ সামান্য তুলে শরীরকে ধনুকের মতো বাঁকানোর চেষ্টা করুন। স্বাচ্ছন্দ্য থাকলে হাত দিয়ে পায়ের বুড়ো আঙুল ধরতে পারেন। স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন। ঘাড়, পিঠ বা হাঁটুতে অস্বস্তি হলে জোর করে এই ভঙ্গি করবেন না।

বিপরীত নমস্কার বদ্ধ কোণাসন

ম্যাটের উপর পিঠ সোজা করে বসুন। দুই হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের পাতা পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। এরপর দুই হাত পিঠের পিছনে নিয়ে গিয়ে নমস্কারের ভঙ্গি করার চেষ্টা করুন। শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে শরীর সামনের দিকে ঝোঁকাতে পারেন, তবে যতটা সম্ভব স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখুন। মাথা মাটিতে ঠেকানোর জন্য জোর করবেন না। এই ভঙ্গিতে অসুবিধা হলে সোজা হয়ে বসে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়াই ভালো। পিঠ, হাঁটু বা কাঁধে সমস্যা থাকলে আগে প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিন।

নৌকাসন করতে প্রথমে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। এরপর ধীরে ধীরে শরীরের উপরের অংশ ও পা মাটি থেকে তুলুন। হাত সামনের দিকে বাড়িয়ে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করুন। শরীরের ভঙ্গি নৌকার মতো হলে কয়েক সেকেন্ড থাকুন। তারপর ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন। শুরুতে অল্প সময় ধরে অভ্যাস করুন এবং শরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী সময় বাড়ান। কোমর বা পিঠে ব্যথা থাকলে এই আসন করার আগে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিন।

মূত্রনালির সংক্রমণ ও কিডনির পাথর এড়াতে কী করবেন?

পর্যাপ্ত পানি পান করুন, দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখবেন না এবং শৌচাগার ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। তবে কতটা পানি পান করা প্রয়োজন, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। বিশেষ করে কিডনি বা হৃদ্‌রোগের কারণে যাদের পানি পানের পরিমাণ সীমিত রাখতে বলা হয়েছে, তারা চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চলুন।

মূত্রনালির সংক্রমণ বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সংক্রমণ সাধারণত নিজে থেকেই কিডনিতে পাথর তৈরি করে না। তবে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ পাথর তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। প্রস্রাবে জ্বালা, ঘন ঘন প্রস্রাব, জ্বর, কাঁপুনি, কোমর বা পিঠের এক পাশে ব্যথা কিংবা প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। জ্বরের সঙ্গে তীব্র ব্যথা বা বমি হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream