বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

ফুটবল

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে মেসির আকস্মিক বিদায়

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে মেসির আকস্মিক বিদায়

বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হওয়ার মাস দেড়েক পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানিয়ে দিলেন ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের হাতে লেখা একটি ভাবাবেগপূর্ণ নোট পোস্ট করে ৩৯ বছর বয়সী এই বিশ্বজয়ী অধিনায়ক তাঁর অবসরের কথা জানান। গত জুলাইয়ে স্পেনের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়া বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটিই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আর্জেন্টিনার হয়ে এই কিংবদন্তির শেষ ম্যাচ হয়ে থাকল।পোস্টের শেষে এক বিশেষ টীকায় মেসি উল্লেখ করেন, গত ২১ জুলাই অর্থাৎ ফাইনালের মাত্র দুই দিন পরই তিনি মূলত কথাগুলো লিখে রেখেছিলেন। ৮ আগস্ট রোসারিও শহরের একটি হাসপাতালে ৬৮ বছর বয়সে তাঁর বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর ঘটনাটি এই সিদ্ধান্তকে আরও ত্বরান্বিত করেছে বলে জানান তিনি। দীর্ঘ চিন্তা-ভাবনা শেষে জাতীয় দল ছাড়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়ে আবেগাপ্লুত মেসি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে লেখেন, এই সিদ্ধান্ত তাকে অত্যন্ত কষ্ট দিচ্ছে, কিন্তু বিদায় জানানোর উপযুক্ত সময় এটাই। দেশের জন্য নিজের সবটুকু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, শুধু সাম্প্রতিক সাফল্যের সময়েই নয়, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি এই আকাশি-সাদা জার্সির জন্য লড়াই করেছেন এবং আর্জেন্টাইনদের গর্বিত করতে মাঠে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন।

২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে রাখার পরিকল্পনা স্পেনের

সম্প্রতি ২০২৬ বিশ্বকাপ শিরোপা জেতানো কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (RFEF)। ২০২৮ সাল পর্যন্ত তাঁর বর্তমান চুক্তি থাকলেও তা বাড়িয়ে ২০৩০ সালে মরক্কো ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাঁকে বহাল রাখতে চায় দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা। লা ফুয়েন্তের সঙ্গে স্পেনের বর্তমান চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্ত। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতার পরই তাঁর মেয়াদ আরও বাড়ানোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে স্প্যানিশ ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আরএফইএফ সভাপতি রাফায়েল লুসান জানিয়েছেন, দে লা ফুয়েন্তের কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে রাখতে চায় ফেডারেশন। রেডিও নাসিওনাল দে এস্পানিয়া (আরএনই)-কে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, লুইস এটা প্রাপ্য এবং আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। এখনই আমরা এ নিয়ে কাজ করব, আসলে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে। তাঁর চুক্তি বর্তমানে ২০২৮ সাল পর্যন্ত আছে। সেটি ২০৩০ সাল পর্যন্ত বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত বাড়াতে চাই আমরা। কারণ, এই প্রকল্পের অংশ তাঁকে হতেই হবে।’ দে লা ফুয়েন্তের নেতৃত্বের প্রশংসা করে লুসান আরও বলেন, ‘তাঁর সরলতা ও কাজ করার সক্ষমতাই এই সাফল্য এনে দিয়েছে। অবশ্যই এর সঙ্গে ছিল এই স্প্যানিশ জাতীয় দলের অসাধারণ একদল খেলোয়াড়, যাদের আমরা কখনো ভুলব না।’ ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনে আয়োজনের লক্ষ্যেও কাজ করে যাচ্ছে আরএফইএফ। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ নিজেদের দেশে আয়োজন করতে বেশ আশাবাদী লুসান, ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন হবে যে ওই মহান বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনে অনুষ্ঠিত হবে না।’ বিশ্বকাপ জয়ের পর এখন শিরোপা ধরে রাখার নতুন অভিযানে নামতে হবে স্পেনকে। লা ফুয়েন্তেকে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে রাখলে দলটির কৌশলগত ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। একই সঙ্গে তাঁর অধীনে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। সামনের মাসেই লা ফুয়েন্তের দলের সামনে রয়েছে বড় পরীক্ষা। উয়েফা নেশন্স লিগে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। বিশ্বকাপ জয়ের পর নতুন চক্রের শুরুতেই তাই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে লা ফুয়েন্তের দলকে।

২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে রাখার পরিকল্পনা স্পেনের

নেইমারের দিকে হাত বাড়ালেন না পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী

থিয়াগো মেন্দেস ও নেইমারের দ্বন্দ্ব বেশ পুরোনো। আবারও নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সেই দ্বন্দ্ব। সাও জানুয়ারিওতে রোববার (১৬ আগস্ট) ভাস্কো দা গামা ও সান্তোসের ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের খেলোয়াড়দের করমর্দনের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে মেন্দেস নেইমারকে এড়িয়ে যান। নেইমার হাত বাড়ালেও ভাস্কোর এই মিডফিল্ডার করমর্দন না করেই চলে যান। ঘটনাটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গ্যালারিতেও পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত। ভাস্কো সমর্থকদের একাংশ নেইমারের কান্নার মুখাবয়বের মাস্ক পরে তাকে উদ্দেশ্য করে বিদ্রূপ করেন। মেন্দেসের এই আচরণে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ জানিয়েছেন নেইমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জোতা আমানসিও। তিনি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহোর সঙ্গে জালাতান ইব্রাহিমোভিচকে ঘিরে প্রচলিত একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মেন্দেসকে কটাক্ষ করেন। আমানসিওর বক্তব্যের মূল কথা ছিল, বড় মাপের তারকারা সাধারণত সহজ-সরল ও স্বাভাবিক থাকেন, অথচ তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের মধ্যেই অহংকার বেশি দেখা যায়।নেইমার ও মেন্দেসের দ্বন্দ্বের শুরু হয় ২০২০ সালে ফরাসি লিগ ওয়ানে পিএসজি ও লিঁওর ম্যাচে। সেই ম্যাচে মেন্দেসের একটি ভয়ংকর ট্যাকেলে গুরুতরভাবে চোট পান নেইমার। ট্যাকেলটির পর মেন্দেস লাল কার্ড দেখেন এবং পরবর্তীতে প্রকাশ্যে নেইমারের কাছে ক্ষমাও চান। তবে ঘটনাটি নেইমার ও তার পরিবারের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করে।তৎকালীন সময়ে নেইমারের বাবা নেইমার সিনিয়রও মেন্দেসের ট্যাকেল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, বারবার শারীরিক ও হিংসাত্মক ফাউলের শিকার হওয়ার পরও কেন ভুক্তভোগীকেই দায়ী করা হবে।দুজনই চলতি বছরে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ফেরার পর পুরোনো দ্বন্দ্ব আবার সামনে আসে। সাম্প্রতিক এক ম্যাচের প্রথমার্ধে মেন্দেসের ফাউলে ক্ষুব্ধ হয়ে নেইমার তার মুখোমুখি হন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে মেন্দেসের স্পর্শে নেইমার মাটিতে পড়ে যান। ঘটনার পর দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখানো হয়। তবে উত্তেজনা সেখানেই শেষ হয়নি। বিরতির সময় ড্রেসিংরুমের টানেলেও দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চলতে থাকে।ম্যাচের পর নেইমার মেন্দেসকে নিয়ে আরও কড়া মন্তব্য করেন। স্পোর্টভিকে তিনি বলেন, মেন্দেস সবসময় ঝামেলা শুরু করতে চান এবং নিজেকে খুব শক্তিশালী দেখানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে নেইমার তাকে সরাসরি ‘ইডিয়ট’ বলেও মন্তব্য করেন।

নেইমারের দিকে হাত বাড়ালেন না পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী

মেসির কঠিন সময়ে পাশে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদো

ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি বাবা হোর্হে মেসির আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন। সাবেক ও বর্তমান তারকা ফুটবলাররা তার এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশ করছেন।তবে সব সহানুভূতিকে ছাড়িয়ে ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছে তার দীর্ঘদিনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রতিক্রিয়া। পর্তুগিজ উইঙ্গার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে বাবাকে লেখা মেসির এক আবেগঘন বার্তার নিচে  কমেন্ট করেছেন, 'এই কঠিন সময়ে তোমার এবং তোমার পরিবারের জন্য রইল অনেক অনেক ভালোবাসা লিও। শক্ত থেকো।' দুই মহাতারকার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় স্পর্শ করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ল এক নতুন রেকর্ড।রোনালদোর মেসির প্রতি এই সমবেদনা জানানোর বার্তাটি এখন পর্যন্ত ইনস্টাগ্রামের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি লাইক পাওয়া রিপ্লাই হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। পোস্ট করার মাত্র তিন দিনের মাথায় এই লাইকের সংখ্যা অর্ধ কোটি ছাড়িয়ে যায়, বর্তমানে যা প্রায় ৬৫ লাখে পৌঁছেছে। কাকতালীয়ভাবে, এর আগের সর্বোচ্চ লাইক পাওয়া কমেন্টের রেকর্ডটিও ছিল স্বয়ং রোনালদোর দখলেই। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রোনালদোর করা কমেন্টে লাইকের সংখ্যা ৬০ লাখ অতিক্রম করেছিল। এবার নিজের সেই পুরোনো রেকর্ড ভেঙেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসির পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে নতুন ইতিহাস লিখলেন সিআরসেভেন। এর আগে গত বুধবার আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি তার প্রয়াত বাবাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি দীর্ঘ ও অত্যন্ত স্পর্শকাতর বার্তা শেয়ার করেন। সেখানে তিনি বাবার চলে যাওয়ার কঠিন বাস্তবতাকে মানতে না পারার কষ্টের কথা ব্যক্ত করেন।

মেসির কঠিন সময়ে পাশে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদো

বিশ্বকাপের মাঝেই দেশে ফেরার কথা ভেবেছিলেন মেসি

বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসির পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। ৩৯ বছর বয়সে এসে তিনি করেছেন আট গোল, খেলেছেন একের পর এক নজরকাড়া ম্যাচ। বিশ্বকাপ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অসুস্থ বাবাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি।পরিস্থিতি একপর্যায়ে এতটাই কঠিন হয়ে উঠেছিল যে বিশ্বকাপ ছেড়ে বাবার কাছে দেশে ফিরে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন মেসি। দিয়ারিও ওলের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছেন সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো। বিশ্বকাপ তাই মেসির জন্য ছিল একইসঙ্গে সাফল্য, আনন্দ ও উৎকণ্ঠার সময়। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর পরিবারের কঠিন পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেই মুহূর্তে তার চোখের পানি যেন মাঠের বাইরের লড়াইটাকেও সামনে নিয়ে এসেছিল।আগের প্রতিটি বড় মঞ্চে বাবা হোর্হে মেসির উপস্থিতি ছিল একেবারে নিয়মিত বিষয়। এবার হোর্হে তার পাশে থাকতে পারেননি। মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা, সন্তানরা এবং শ্বশুর গ্যালারিতে ছিলেন। কিন্তু ছিলেন না মা সেলিয়া কিংবা বাবা হোর্হে।কোচ স্কালোনির অধীনে দলের ক্যাম্পে থেকেও মেসি এই কঠিন সময় সামলে নিয়েছিলেন। নিজের স্বভাব অনুযায়ী তিনি এই কষ্ট নিজের মধ্যেই রেখেছিলেন। তবে তার সতীর্থ এবং কোচিং স্টাফরা প্রতি মুহূর্তে খোঁজ রাখতেন তার বাবার শারীরিক অবস্থার।কিছু সময় এমনও এসেছিল, যখন তাকে ব্যক্তিগত বিমানে রোজারিওতে গিয়ে বাবার সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবার দলে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি জাতীয় দলের সঙ্গেই থেকে যান।এবারের বিশ্বকাপে মেসি অসাধারণ কিছু মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন। একই সঙ্গে বাবা হোর্হের অসুস্থতার সঙ্গে তাকে লড়তে হয়েছে। রোজারিওতে হোর্হে তখন প্যালিয়েটিভ চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। এত আবেগ আর দুশ্চিন্তার মধ্যেই মেসি পার করেছেন তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। মাঠে দিয়েছেন সবকিছু, আর মনে মনে ভেবেছেন বাবার স্বাস্থ্যের কথা। এতসব লড়াই যেন তার ২০২৬ বিশ্বকাপের মাহাত্ম্য বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণে।

বিশ্বকাপের মাঝেই দেশে ফেরার কথা ভেবেছিলেন মেসি
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream