বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

রাজনীতি

সংসদে গুরুত্ব না পেয়ে রাজপথে নামতে হয়েছে: শফিকুর রহমান

সংসদে গুরুত্ব না পেয়ে রাজপথে নামতে হয়েছে: শফিকুর রহমান

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিরোধী দলের জনবান্ধব নোটিশকে সরকার মূল্যায়ন করছে না বলে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন। সংসদে বিরোধী দলের নোটিশ ও কথার গুরুত্ব দেওয়া হয় না বলেই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে।রাজধানীর মগবাজারের বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত বিটের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।জামায়াত আমির এ সময় দাবি করেন, জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন করে সরকারের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু সরকার সেই পথে না যাওয়ায় জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তেলের দাম বাড়িয়ে আশপাশের দেশের তেলের দামের সাথে তুলনা দিচ্ছে সরকার। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতি তো আশপাশের দেশের মতো বড় নয়।

কুমিল্লা সিটি নির্বাচন: প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপি-জামায়াত, মাঠে এনসিপি

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়েছে। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পাশাপাশি নগরবাসীর কাছে নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন।মসজিদে নামাজ আদায়, জানাজা, কুলখানি, বিয়ে, সামাজিক আন্দোলন ও বিভিন্ন গণজমায়েতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের উপস্থিতি আগের তুলনায় বেড়েছে। এতে এরই মধ্যে নগরজুড়ে নির্বাচনি আমেজ দেখা দিয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সিটি প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু। নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি তিনি দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় রয়েছেন। মহানগর বিএনপির সদস্য কাউসার জামান বাপ্পির নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার এবং সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এজন্য তারা বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছেন। এর আগে পরপর দুই সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর দল থেকে বহিষ্কৃত হন তারা।জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মোসলেহ উদ্দিন এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়ার নাম শোনা যাচ্ছে।অন্যদিকে এনসিপি কেন্দ্রীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। এরপর থেকে তিনি নগরীর বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন, বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরছেন।সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, দল ও দলের প্রধান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তিনি তা মেনে চলবেন। বর্তমানে তিনি নগরবাসীর সেবায় ব্যস্ত রয়েছেন। নির্বাচনে প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দলীয় হাইকমান্ড থেকেই আসবে।নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, বহিষ্কৃত হলেও তিনি দলের বাইরে নন। দলের কার্যক্রম থেকেও কখনো দূরে সরে যাননি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাপে অতীতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দল বিষয়টি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে।সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য দলের হাইকমান্ডের কাছে আবেদন করেছেন। পাশাপাশি দলের জন্য নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনে কর্মী-সমর্থকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি এগিয়ে যাবেন।মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামরুজ্জামান সোহেল বলেন, তাদের দলে ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই নির্বাচনে অংশ নেবেন। আপাতত দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।এনসিপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, নগরবাসীর সেবা করার প্রস্তুতি নিয়ে তিনি মাঠে নেমেছেন। গণসংযোগের মাধ্যমে বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক তৈরি করছেন। দল তাকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং জোটের সমর্থন পাওয়ারও আশা করছেন।আগের নির্বাচনের ফল২০১১ সালের ১০ জুলাই কুমিল্লা পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। এরপর ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি প্রথম সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মনিরুল হক সাক্কু ৬৫ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আফজাল খান পান ৩৬ হাজার ৪৭১ ভোট।২০১৭ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনিরুল হক সাক্কু ৬৮ হাজার ৯৪৮ ভোট পেয়ে আবারও মেয়র হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা পান ৫৭ হাজার ৮৬৩ ভোট।২০২২ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত ৫০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু পান ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট। ওই নির্বাচনে নিজাম উদ্দিন কায়সার পেয়েছিলেন ২৯ হাজার ২৯ ভোট।আরফানুল হক রিফাতের মৃত্যুর পর ২০২৪ সালের ৯ মার্চ মেয়র পদে উপনির্বাচন হয়। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তাহসীন বাহার সূচনা ৪৮ হাজার ৮৯০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু পান ২৬ হাজার ৮৯৭ ভোট এবং নিজাম উদ্দিন কায়সার পান ১৩ হাজার ১৫৫ ভোট।আগের দুই নির্বাচনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী এবং দলীয় বিরোধ নিয়ে আলোচনা ছিল। এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণ কী দাঁড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কুমিল্লা সিটি নির্বাচন: প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপি-জামায়াত, মাঠে এনসিপি

পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলেই বের হবে, বাসে ককটেল মারছে কারা: রাশেদ খাঁন

এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তার দাবি, পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা বেরিয়ে আসবে।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।রাশেদ খাঁন বলেন, সাত মাসের সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চের কর্মসূচি স্বাভাবিক কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। তার ভাষ্য, লংমার্চের নামে পিকনিকের মতো ছবি ও ভিডিও করে তা ফেসবুকে প্রকাশ করা হচ্ছে। একদিকে জামায়াত ও এনসিপি লংমার্চ করছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মাঠে নেমে অরাজকতা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট ও আওয়ামী লীগ এই দুই বিরোধী দলকে সামলে বিএনপিকে সরকার পরিচালনা করতে হচ্ছে। তার মতে, জামায়াত-এনসিপি একটি হঠকারী বিরোধী দল এবং আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিস্ট বিরোধী দল।রাশেদ আরও অভিযোগ করেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে জামায়াত, এনসিপি ও আওয়ামী লীগ একসঙ্গে বাস ও ট্রেনে আগুন দিচ্ছে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। তিনি বলেন, এনসিপির একজন নেতা দাবি করেছেন, ১১ দলের দাবি মেনে নেওয়া হলে ককটেল বিস্ফোরণ আর হবে না।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী বলেন, তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে কারা জড়িত, সেই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা যাবে বলে দাবি করেন তিনি।

পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলেই বের হবে, বাসে ককটেল মারছে কারা: রাশেদ খাঁন

মির্জাপুরে আ.লীগ নেতা ফালু গ্রেফতার

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা শওকত হোসেন ফালুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি গোড়াই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সদস্য।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের নাজিরপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শওকত হোসেন ফালু ওই গ্রামের সুরুজ বেপারীর ছেলে।পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে হাইওয়ে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল ও ছররা গুলি ছোড়ে। এতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া হিমেল নামে এক ব্যক্তির দুই চোখ নষ্ট হয়ে যায়।এ ঘটনায় হিমেলের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে টাঙ্গাইল আদালতে মামলা করেন। মামলায় পুলিশ, সংবাদকর্মীসহ আওয়ামী লীগের ১০০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় শওকত হোসেন ফালু এজাহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামি।মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম মিয়া বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে নাজিরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শওকত হোসেন ফালুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।দুই চোখ হারানো হিমেল উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের লালবাড়ি গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে।মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হিমেলের মা নাছিমা বেগমের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শওকত হোসেন ফালুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে দুপুরে তাকে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

মির্জাপুরে আ.লীগ নেতা ফালু গ্রেফতার

আ.লীগের সাবেক সংসদ সদস্য গ্রেফতার

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা মাহফুজুর রহমান মিতাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তাকে গ্রেপ্তারের পর রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তবে ঠিক কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কিংবা তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।মাহফুজুর রহমান মিতা চট্টগ্রাম-৩ আসন থেকে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আ.লীগের সাবেক সংসদ সদস্য গ্রেফতার

আ.লীগের ‘নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ছাত্রদলের মোটরসাইকেল মিছিল

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে রাজধানীতে মোটরসাইকেল মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহ মো. আদনান।শাহবাগ থেকে বের হয়ে মিছিলটি মৎস্য ভবন মোড়, হাইকোর্ট, শিক্ষা ভবন, দোয়েল চত্বর, টিএসসি ও ভিসি চত্বর হয়ে পলাশী, নীলক্ষেত, কাটাবন ও এলিফ্যান্ট রোড প্রদক্ষিণ করে। পরে আবার শাহবাগে ফিরে এসে মিছিলটি শেষ হয়।মিছিল শেষে শাহবাগে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। সেখানে সালেহ মো. আদনান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বাসে অগ্নিসংযোগসহ নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।তিনি বলেন, যেকোনো নৈরাজ্যকর কর্মকাণ্ড ছাত্রদলের নেতৃত্বে রাজপথে মোকাবিলা করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।ছাত্রদলের এই নেতা আরও বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের যেকোনো প্রচেষ্টা ঠেকাতে সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় থাকবেন।মিছিলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিমের বিভিন্ন ইউনিট এবং কলেজ, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও মিছিলে যোগ দেন।

আ.লীগের ‘নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ছাত্রদলের মোটরসাইকেল মিছিল

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি: শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু।এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে কৃষি, সেচ, পরিবহন, পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায়। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জনগণের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে এমন সিদ্ধান্ত সরকারকে অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।”তিনি বলেন, কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষি ও সেচ খাতে বিশেষ জ্বালানি সহায়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনের ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো বন্ধে তাৎক্ষণিক কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু সরকারের প্রতি অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বাড়তি ২০ টাকা প্রত্যাহার, বাজারে কঠোর নজরদারি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।তিনি আরও দাবি করেন, ১৫ দিনের মধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের পূর্ণাঙ্গ হিসাব—আমদানি ব্যয়, শুল্ক-কর, পরিবহন ও বিপণন ব্যয়সহ—জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি ৩০ দিনের মধ্যে জ্বালানি খাতের ব্যয়, অপচয় ও ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করে সংস্কার পরিকল্পনা প্রকাশ এবং নিম্নআয়ের মানুষ ও শ্রমজীবী পরিবারের জন্য বিশেষ সহায়তা ঘোষণা করতে হবে।তিনি বলেন, “জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং কৃষক-শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। জ্বালানি তেলের বাড়তি মূল্য প্রত্যাহারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে আর কোনো কালক্ষেপণ করা যাবে না।”

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি: শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু

এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করলেন রাশেদ খাঁন

জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন, “মনে হচ্ছে ৯৬-এর পুরাতন প্রেম আবারও জেগে উঠেছে। জানি না, এই প্রেমের মাঝখানে এনসিপির অবস্থান কী হবে!”সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে সরকারের অবস্থান ও বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকারকে একই সাথে দুটি বিরোধী শক্তির অপতৎপরতা মোকাবিলা করে দেশ চালাতে হচ্ছে।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক আগমন ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া দেশেও বাস-ট্রেনে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের এই অপতৎপরতা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করার প্রয়োজন থাকলেও জামায়াত এ বিষয়ে ‘নীরব ভূমিকা’ পালন করছে বলে মন্তব্য করেন রাশেদ।জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বর্তমান কৌশল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে লেখেন:নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে দেশ-বিদেশের অনেকে তাদের কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে মানতে পারছে না। এই দুর্বলতা ঢাকতেই দলটি রাজপথ গরম করে নিজেদের শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে জাহির করতে চাচ্ছে।এনসিপি জামায়াতের সাথে বিলীন হয়ে যাওয়ার কারণে তাদেরও পৃথক ও কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা আগেই শেষ হয়ে গেছে।আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার মুখে জামায়াতের নীরবতাকে ১৯৯৬ সালের তৎকালীন রাজনৈতিক সমীকরণের সাথে তুলনা করে তিনি মন্তব্য করেন যে, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে সেই পুরনো রাজনৈতিক সখ্য বা 'প্রেম' পুনরায় জাগ্রত হচ্ছে।একদিকে আওয়ামী লীগের সহিংস অপতৎপরতা এবং অন্যদিকে জামায়াতের হঠকারী রাজনীতি—এ দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই বর্তমানে বিএনপি সরকারকে দেশ পরিচালনা করতে হচ্ছে।

এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করলেন রাশেদ খাঁন

তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে পোস্ট করায় ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

সরকারের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়কে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদ।রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিবাগত রাতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়।এর আগে রোববার রাত ১১টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন চবি ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়। পোস্টে তিনি লেখেন:“ছাত্ররাজনীতির শুরু থেকে বিএনপির যেসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি তার অধিকাংশই ছিল তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে। আজ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবাদ জানালাম।”পরবর্তীতে ওই পোস্টেরই কমেন্ট বক্সে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি যুক্ত করেন, বিশ্ববাজারে যুদ্ধের প্রভাবে দাম বাড়লেও মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত সরকার ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিয়ে লিটারপ্রতি দাম কম রাখার চেষ্টা করেছে। আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল হলে দেশেও তেলের দাম কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রশ্ন ওঠে।কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পাঠানো নোটিশে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বশীল থেকে সংগঠনটির নীতি ও শৃঙ্খলাপন্থী আচরণের বাইরে গিয়ে পোস্ট দেওয়ায় সাজ্জাদের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ।নোটিশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাজ্জাদকে রাজধানীর নয়াপল্টনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।কেন তাঁর বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের উপস্থিতিতে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে চবি ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, “আমি সংগঠনের প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত। কেন্দ্রীয় সংসদের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নয়াপল্টন কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করব।”

তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে পোস্ট করায় ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

অপ্রতিমের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ন্যায়বিচার চাইলেন জামায়াত আমির

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের (১৩) হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে মোবাইল ফোনে অপ্রতিমের বাবার সঙ্গে কথা বলে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান জামায়াত আমির।এ সময় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর দেখে তারা অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছেন। তিনি নিহতের জন্য দোয়া করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।তিনি আরও বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অপ্রতিমের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ন্যায়বিচার চাইলেন জামায়াত আমির

গণভোটের গণরায় পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধন নয়: ১১ দলীয় ঐক্য

গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা করে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। তাদের দাবি, জুলাই জাতীয় সনদে থাকা এবং গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করতে হবে।রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। জাতীয় সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।লিখিত বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সাংবিধানিক সংস্কার এবং সেগুলো বাস্তবায়নের নির্ধারিত প্রক্রিয়া নিয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হয়। সরকারি গেজেট অনুযায়ী, বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে।তিনি বলেন, গণভোটে জনগণ শুধু কয়েকটি সংস্কার প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন দেয়নি; এসব সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানকেও অনুমোদন দিয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের বক্তব্য, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও কার্যক্রম শুরুর বদলে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের সরাসরি দেওয়া সাংবিধানিক ম্যান্ডেট পাশ কাটানো হচ্ছে।তাদের মতে, জনগণের ম্যান্ডেটের বিকল্প হিসেবে কোনো সংসদীয় বিশেষ কমিটিকে বিবেচনা করা যায় না।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ জাতীয় সংসদকে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দিলেও এ ক্ষমতা সীমাহীন নয়। মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়ে প্রতিষ্ঠিত নীতিগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।জোটটির দাবি, শুধু সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার করা হলে ভবিষ্যতে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান সংস্কার, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ও ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, একই ব্যক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচারব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণসহ বিভিন্ন প্রস্তাব রয়েছে।১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।এ ছাড়া নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়ে পরিষদ কার্যকর করার দাবি জানায় জোটটি। জনগণের সরাসরি ভোটে প্রকাশিত সাংবিধানিক ম্যান্ডেটকে সম্মান করা এবং জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানানো হয়।ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন, জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত ও গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার কার্যকর, অনুমোদিত প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ কার্যকর করা।এ ছাড়া জনগণের সম্মতি ও গণভোটের ম্যান্ডেট উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো-সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনের উদ্যোগ থেকে বিরত থাকা এবং জনগণের প্রত্যাশা, গণভোটের রায় ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটে প্রকাশিত জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখানোই বর্তমান সাংবিধানিক মতপার্থক্য নিরসনের গণতান্ত্রিক পথ।সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গণভোটের গণরায় পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধন নয়: ১১ দলীয় ঐক্য

বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ না নেওয়ার কারণ জানাবে ১১ দল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ ও এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে।জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের ভাষ্য, গণভোটে জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে, সংশোধনের পক্ষে নয়। তাদের দাবি, গণভোটের রায়ের পর সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিশেষ কমিটি গঠন জনগণের মতামতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে কমিটির আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোটের সংশ্লিষ্ট দলগুলো।জোটের নেতারা মনে করেন, গণভোটের রায় কীভাবে ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন করা হবে, সে ক্ষেত্রে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাদের বক্তব্য, সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের বর্তমান উদ্যোগ সেই অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।আজকের সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ না নেওয়ার কারণ, গণভোটের রায় নিয়ে জোটের অবস্থান এবং সংবিধান সংস্কার ও সংশোধন বিষয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরবেন নেতারা। একই সঙ্গে বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের আপত্তির বিষয়গুলোও বিস্তারিত জানানো হবে।এদিকে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে রোববার মতবিনিময় করছে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। কমিটির আমন্ত্রণ পাওয়া কয়েকটি দল সভায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ না নেওয়ার কারণ জানাবে ১১ দল

গণভোটের রায় কার্যকর ছাড়া সরকারের বিকল্প পথ নেই: মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথের কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া-বাইপাসের টাঙ্গাইল রোডে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মামুনুল হক বলেন, জনগণের বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই ১১ দল রাজপথে নেমেছে। দাবি বাস্তবায়ন করেই তারা কর্মসূচি শেষ করে ঘরে ফিরতে চান। তাঁর দাবি, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় কার্যকর করা ছাড়া সরকারের সামনে অন্য কোনো পথ নেই।তিনি বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকারেরও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে ক্ষমতা ছাড়ার পথ বেছে নিতে হবে।দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো হস্তক্ষেপ করছে বলেও অভিযোগ করেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এ দেশের মানুষ নিজেরাই নির্ধারণ করবে এ বিষয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের অবস্থান স্পষ্ট।তিস্তা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এ বিষয়ে কোনো ধরনের লুকোচুরি বা টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না বলে জানান।এ ছাড়া শহীদ শরীফ ওসমান হাদী, ইলিয়াস আলীসহ গুম ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের ঘটনার বিচার দাবি করেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার জনগণ আদায় করে ছাড়বে।শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের এখনো বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তর না করে মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে তারা তাদের দাবিতে সফল হবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মামুনুল হক।

গণভোটের রায় কার্যকর ছাড়া সরকারের বিকল্প পথ নেই: মামুনুল হক

আমরা সরকারের বিরুদ্ধে না, দেশের বিরুদ্ধেও না: কর্নেল অলি

‘আমরা সরকারের বিরুদ্ধে নই, দেশের বিরুদ্ধেও নই। আমাদের লক্ষ্য সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত একটি দেশ গড়ে তোলা’ এমন মন্তব্য করেছেন এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের একটি পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।অলি আহমেদ বলেন, দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জন্য সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্য পূরণে সফল হচ্ছে না। তাই প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট সমাধানসহ বিভিন্ন দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের এই লং মার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও রয়েছে কর্মসূচিতে।পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতিমুক্ত দেশ প্রতিষ্ঠা এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান থেকেই তাদের এই কর্মসূচি। এটি কোনো নির্দিষ্ট দলের স্বার্থে করা আন্দোলন নয়; বরং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে তারা রাজপথে নেমেছেন।তিনি বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘পানি খাবে কিন্তু ঘোলা করে খাবে।’ একই সঙ্গে আন্দোলন সফল করতে জনগণের সহযোগিতা চান তিনি।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ের দাবিতে ১১ দল উত্তরাঞ্চলের দিকে লং মার্চ করছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকারের সামনে অন্য কোনো পথ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের পর সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের কোনো ধরনের টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার দিকে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে লং মার্চের বহর।তেজগাঁও, মহাখালী, বনানী, খিলক্ষেত, উত্তরা ও টঙ্গী এলাকায় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ফুল ও স্লোগানের মাধ্যমে বহরকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসে পথসভায় অংশ নেয় লং মার্চের বহর।গাজীপুর পর্ব শেষে বহরটি রংপুরের পথে রওনা দেয়। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। সবশেষে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

আমরা সরকারের বিরুদ্ধে না, দেশের বিরুদ্ধেও না: কর্নেল অলি

এ সরকার বিএনপির সরকার না, হাসিনার সরকার: অলি আহমেদ

দেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।অলি আহমেদ বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেকেই এখন উদ্বিগ্ন। কারণ ক্ষমতা থেকে সরে গেলে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাস্তানির সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে এমন আশঙ্কা থেকেই তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্রুশ্চেভকে ঘিরে একটি ঘটনা তুলে ধরেন এলডিপি নেতা। তিনি বলেন, ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায় ক্রুশ্চেভের মা যেভাবে উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন, বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বর্তমান অবস্থার সঙ্গেও তিনি সেই ঘটনার মিল দেখতে পাচ্ছেন।অলি আহমেদ অভিযোগ করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বিএনপির সরকার নয়, বরং এটি শেখ হাসিনার সরকারের মতোই পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে তারেক রহমানসহ দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের এই লং মার্চ কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের আকাঙ্ক্ষা থেকে করা হচ্ছে না। দেশের পরিস্থিতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনাই তাদের উদ্দেশ্য।লং মার্চে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে অলি আহমেদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কে কী লিখছে, তা নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। বিভিন্ন পক্ষের সমালোচনা বা উসকানিতে কান না দিয়ে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে মনোযোগী হতে হবে।দেশের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি চালিয়ে যেতে নেতাকর্মীদের দৃঢ় থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঐক্য ধরে রেখে লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ সরকার বিএনপির সরকার না, হাসিনার সরকার: অলি আহমেদ

সরকার ভুলের পর ভুল করে জনগণের অনাস্থা পূর্ণ করে তুলেছে: মঞ্জু

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং এতে জনগণের আস্থা কমে অনাস্থা আরও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে মঞ্জু বলেন, শুরু থেকেই সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে ভুলের প্রতিফলন দেখা গেছে। একের পর এক ভুলের কারণে জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হলে বিএনপিকে জনগণ বিভিন্ন নামে অভিহিত করবে বলে মন্তব্য করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, গুম-খুনসহ বিভিন্ন অপরাধের বিচার নিশ্চিত না হলে জনগণ সরকারকে ‘বিচার না করা পার্টি’ বলবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ‘বিদ্যুৎ নাই পার্টি’ নামও দেওয়া হতে পারে।মঞ্জু বলেন, সবকিছু মিলিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারকে নতুন একটি নাম দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বাংলাদেশ নাই নাই পার্টি ।তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি গুম ও খুনের মতো ঘটনার বিচার নিশ্চিতে শক্তিশালী আইন প্রণয়নের প্রত্যাশাও ছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে এবং জুলাই সনদের প্রতিও যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।গুম ও মানবাধিকার ইস্যুতেও সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন মঞ্জু। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘমেয়াদে পার পেয়ে যেতে পারবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।ঢাকা-রংপুর লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ জোটের অন্যান্য নেতারা।

সরকার ভুলের পর ভুল করে জনগণের অনাস্থা পূর্ণ করে তুলেছে: মঞ্জু
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream