বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

রাজনীতি

ফ্যাসিবাদের আমলে নারী-শিশুরা বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে: রিজভী

ফ্যাসিবাদের আমলে নারী-শিশুরা বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে: রিজভী

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নারী ও শিশুরাই সবচেয়ে বেশি নির্যাতন, লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকার হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এসব নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল সবসময় প্রতিবাদ জানিয়েছে।বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রিজভী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশ করা নারীরাও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তাদের লেখালেখি ও মতামতের কারণে নানা ধরনের হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।নারীদের ওপর হামলাকারীদের কাপুরুষ আখ্যা দিয়ে রিজভী ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাকে নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন।জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, এটি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সমস্যা। কোনো একক রাষ্ট্রের পক্ষে একা এ সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে দেশের গ্যাস সংকট ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।এ সময় বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে।

ইউপি নির্বাচনে সারা দেশে প্রার্থী দেবে এনসিপি: সারজিস আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বরগুনা পৌর শহরের হোটেল বে অব বেঙ্গলে এনসিপির জেলা শাখার আয়োজনে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।সারজিস আলম বলেন, বাংলাদেশের ৪ হাজার ৬শ ইউনিয়নে এনসিপি এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের প্রার্থী ঘোষণা করেছি। আমরা খুব শিগগিরই এনসিপি সমর্থিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পদপ্রার্থী ঘোষণা করব। তবে সেটি কেন্দ্রীয়ভাবে না জেলার পক্ষ থেকে ঘোষণা হবে। আমরা আশা করছি আগামী স্থানীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ইউনিয়নে এনসিপির প্রার্থী এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং বিজয়ী হবে ইনশাল্লাহ।বিএনপি সরকারের ছয় মাস পার হয়েছে উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, এখন আর কিন্তু বিএনপির এই সুযোগ নেই যে- তারা মাত্র ক্ষমতায় এসেছে, শিশু সরকার এগুলো বলার। কারণ পাঁচ বছরের মধ্যে ছয় মাস পরেও যদি আপনি শিশু সরকার বলেন, তাহলে আপনি যুবক হবেন কবে? আপনি পরিপূর্ণ বৃদ্ধ বা উপযুক্ত হবেন কবে? সেই জায়গা থেকে এখন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে। একইসাথে সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে। বিএনপি যদি তাদের জায়গা থেকে সমস্যাগুলো স্বীকার করে এবং তারা যদি বলে আমাদের একসাথে কাজ করা প্রয়োজন, তাহলে তাদের সহযোগিতা করার মানসিকতা আমাদের সবসময় ছিল, আছে এবং থাকবে। কিন্তু তাদের অবস্থা যদি এমন হয়, আমরা সমস্যার কথা স্বীকারই করি না। আমরা বললাম, চাঁদাবাজি সবাই মিলে বন্ধ করতে হবে। কিন্তু তারা স্বীকারই করে না কোথায় চাঁদাবাজি হয়। আমরা বললাম প্রশাসনে ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে, দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। তারা স্বীকারই করে না দলীয়করণ হয়। তাহলে তো সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব না। তিনি আরও বলেন, সারা দেশে যারা শুধু মার্কায় ভোট দিয়েছে বা শুভাকাঙ্ক্ষী কিন্তু কোনো অপরাধ করেনায় তারা চাইলে অন্যান্য দলে যেতে পারেন। বিএনপি, জামায়াত বা এনসিপিতেও যেতে পারে। কিন্তু যারা অপরাধী তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা বিএনপিকে আহ্বান জানাব, তারা যাতে এই প্রশ্নে ছাড় না দেয়। যদি তারা ছাড় দেয় তাহলে তাদের জন্য এটা হিতে বিপরীত হবে। আজকে হয়তো ভোটের জন্য কিংবা প্রার্থী হিসেবে জেতার জন্য ছাড় দিচ্ছি, অভ্যন্তরীণ সমঝোতা করছে, কিন্তু আগামীতে যদি তারা শক্তিশালী হয় তাহলে তাদের জন্যই হিতে বিপরীত হবে; কিন্তু আমরা তাদের শক্তিশালী হতে দেব না ইনশাআল্লাহ। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, আমরা আর কথার ফুলঝুরি চাই না। আমরা কাজ দেখতে চাই। আমরা আর শুধুমাত্র প্রেজেন্টেশন দেখতে চাই না। বিভিন্ন বিষয়ে আমরা আমাদের জায়গা থেকে দেখতে চাই- আপনারা এইগুলোকে কাজে পরিণত করেছেন। আমরা দেখলাম, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে একজন মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দিয়েছেন। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয় সবসময় ঠিক রাখা উচিত। কারণ সামগ্রিকভাবে দেশের স্থিতিশীলতা ঠিক রাখতে তার নিরাপত্তা ঠিক রাখতে হবে। আজমিরী হক বাঁধনকে হেনস্তার বিষয়ে তিনি বলেন, যারা অপরাধী ও স্বৈরাচারের একদম স্বীকৃত দোসর ছিল, মানুষের ওপর অন্যায় করেছে এবং অপরাধ করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু আমরা দেখছি, অনেক জায়গায় তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। এটা দেওয়া হচ্ছে বলেই, আমরা দেখলাম সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব আজমিরী হক বাঁধন যিনি আমাদের জুলাইয়ের একজন সহযোদ্ধা, স্বৈরাচার ও খুনির বিরুদ্ধে নেমেছিলেন। তাকে যখন ওই পতিত স্বৈরাচারের কাছে যারা বিবেক বিক্রি করে দিয়েছে তারা হেনস্তা করে তখন তো আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; কিন্তু আমরা বিএনপির জায়গা থেকে কোনো দলীয় স্টেটমেন্ট ও কোনো ব্যবস্থা দেখলাম না। এটা বাংলাদেশের যারা অফিসিয়াল দায়িত্বে আছেন তারা মিলে ওই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। এবং যারা একজন নারীকে এভাবে হেনস্তা করেছে তাদের বিরুদ্ধে যাতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নিয়ে তা নিশ্চিত করতে হবে।হামলার শিকার চোখ হারানো অলিফের বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, আমাদের ভাই অলিফের একটা চোখ রড দিয়ে তুলে ফেলা হয়েছে এবং সারাজীবন সে চোখে দেখতে পারবে না। কিন্তু এখন পর্যন্ত একজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। ২০-৩০ মিলে হামলা করেছে তাদের কথা বাদ দিলাম, কিন্তু যে একজন রড দিয়ে আঘাত করল তাকে তো অন্তত গ্রেফতার করার দরকার ছিল। বিএনপি যদি শুধু দলীয় কর্মী দেখে অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া শুরু করে তাহলে একদিন তারা অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে। অনুষ্ঠানে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সারোয়ার তুষার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আল নাহিয়ান, কেন্দ্রীয় সংগঠক মহিউদ্দিন রনি এবং বরিশাল অঞ্চলের বিভাগীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলামসহ জেলা ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউপি নির্বাচনে সারা দেশে প্রার্থী দেবে এনসিপি: সারজিস আলম

সাধারণ ক্ষমা করে আ.লীগকে নরমালাইজ করেছেন জামায়াত আমির: রাশেদ খাঁন

জামায়াতের আমির সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে আওয়ামী লীগকে নরমালাইজ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তার পোস্টটি যুগান্তরের পাঠকদের জন্য হুবহু দেওয়া হলো-‘গণঅভ্যুত্থানের ১ মাস যেতে না যেতেই আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা করেন জামায়াতের আমির! মূলত ভোটের রাজনীতির কারণে তিনি আওয়ামী লীগের প্রতি নমনীয়তা দেখান। আর এটিই হয়ে যায় আওয়ামী লীগের বিচারের পথে বড় বাধা। ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগ নরমালাইজড হয়ে যায়। এরপর আওয়ামী লীগের নেতারা বলা শুরু করেন, যারা আওয়ামী লীগ করতেন, তারা জামায়াতে যোগদান করলে পুরো দায়দায়িত্ব নেওয়া হবে। এরপর বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে, বিভিন্ন জায়গায় গোপনে সব আওয়ামী লীগ রাতারাতি জামায়াত হয়ে যায়!আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকে জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার লিপ্সার কারণে আওয়ামী অপরাধীদের সঠিক বিচার হয়নি। আর অপরাধের বিচার না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে যায়। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে সেই বেপরোয়া আচরণ পরিলক্ষিত হলো। আওয়ামী লীগ জাস্ট সুযোগের অপেক্ষায় আছে। জামায়াত যতোই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করে ভোটব্যাংক বাড়াতে চেষ্টা করুক না কেন, ওরা কখনো কামব্যাক করতে পারলে সবার আগে জামায়াতকে দিয়েই প্রতিশোধ শুরু করবে। তাই জামায়াত-এনসিপির প্রতি অনুরোধ থাকবে আওয়ামী ব্যবসায়ী ও নেতাদের থেকে লংমার্চ বা কর্মসূচির জন্য অর্থ ও প্রাডো গাড়ি নিয়ে পুনর্বাসন বন্ধ করুন।আওয়ামী লীগ জাতির শত্রু, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ও আওয়ামী অপরাধীদের বিচারে সামাজিক ও রাজনৈতিক ঐক্য দরকার। যেহেতু জামায়াতের আমির গণঅভ্যুত্থানের পরপর আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। সুতরাং জামায়াতের আমিরের উচিত সংসদে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে রাজনৈতিক ঐক্যমতের প্রস্তাব করা। বিএনপি সরকার বিচার করবে, আর ভোটের জন্য জামায়াত তলে তলে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করতে চাইলে, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ প্রাসঙ্গিক হয়ে ফিরে আসবে।’

সাধারণ ক্ষমা করে আ.লীগকে নরমালাইজ করেছেন জামায়াত আমির: রাশেদ খাঁন

ওমরাতে গিয়ে প্রবাসীদের কষ্ট-দুর্দশার কথা শুনলেন হাসনাত

সৌদি আরবে ওমরাহ পালনকালে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় প্রবাসীরা তাঁদের বিদেশের মাটিতে ভিসা প্রতারণা, কর্মসংস্থানের চরম অনিশ্চয়তা, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং ধারাবাহিক হয়রানির নানামুখী অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।প্রবাসীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমাতে একজন শ্রমিকের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। বিদেশে ভালো চাকরি ও আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিলেও সৌদিতে পৌঁছানোর পর বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেয়।মিথ্যা আশ্বাস ও বেতনের অনিশ্চয়তা: দেশে থাকতে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের বেতন (প্রায় ৬০ হাজার টাকা) এবং কয়েক মাস পর বেতন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা মিলছে না। কাজ না পাওয়া কিংবা কিছুদিন পর ছাঁটাইয়ের কারণে থাকা-খাওয়ার তীব্র সংকটে দিন কাটাচ্ছেন অনেকে।প্রবাসীদের অনেকেই শেষ সম্বল বা বসতবাড়ি বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। তবে এসে প্রতিশ্রুত কাজ না পাওয়ায় পুরো পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।স্বদেশী দালালদের মাধ্যমেই প্রতারণার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রবাসীরা। চাকরির ভয় ও আইনি হয়রানির আশঙ্কায় অনেকেই মুখ ফুটে প্রতিবাদ করতে পারছেন না। বছরের পর বছর প্রবাসে থেকেও কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা বা আর্থিক স্বস্তি মিলছে না।প্রবাসী বাংলাদেশীরা সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর মাধ্যমে এসব জ্বলন্ত সংকট সরকারের উচ্চপর্যায়ে ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তুলে ধরার দাবি জানান। কর্মী পাঠানোর আগে দেশে দালালচক্র প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিদেশে অবস্থানরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা, নির্ধারিত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন প্রবাসীরা।

ওমরাতে গিয়ে প্রবাসীদের কষ্ট-দুর্দশার কথা শুনলেন হাসনাত

চক্রান্তকারীরা বারবার ধর্মীয় সম্প্রীতি ভাঙার চেষ্টা করেছে: রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দেশে বছরের পর বছর ধরে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের এই দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক মেলবন্ধন কোনো চক্রান্তেই বিনষ্ট হবে না এবং ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার জিয়া উদ্যানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি প্রয়াত নেতাদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় প্রার্থনা করেন।এ সময় রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষায় বিএনপি সবসময় সচেষ্ট। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই প্রথম দলমত ও ধর্ম নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকারের বিষয়টি রাজনীতিতে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি যোগ করেন, সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সর্বস্তরের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহাবস্থানে বিশ্বাস করে।

চক্রান্তকারীরা বারবার ধর্মীয় সম্প্রীতি ভাঙার চেষ্টা করেছে: রিজভী

বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফেরাতে বিএনপিই লড়েছে: মাহদী আমিন

যখনই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশে , তখনই তা ফিরিয়ে এনেছে বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। রাজধানীতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মাহদী আমিন বলেন, ‘যতবার বাংলাদেশ গণতন্ত্রের বাধার মুখে পড়েছে, ততবারই বিএনপি লড়াই করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে।’ তিনি বলেন, দেশের জন্য বিএনপির যে ত্যাগ, তা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে দেখা যায় না। দলটি দেশের স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে নানা ত্যাগ স্বীকার করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ নানা ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তারেক রহমান সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফেরাতে বিএনপিই লড়েছে: মাহদী আমিন

দারিদ্র্য দূরীকরণে বিএনপি সবসময়ই ছিল চ্যাম্পিয়ন: রিজভী

দারিদ্র্য বিমোচনে বিএনপি বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ এ সভার আয়োজন করে।রুহুল কবির রিজভী বলেন, অর্থমন্ত্রী হিসেবে এম সাইফুর রহমান দেশের অর্থনীতিকে পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তার সময়ে অর্থপাচার ও ব্যাংক লুটের মতো ঘটনা দেখা যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি। কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে সাইফুর রহমান দেশের দুর্ভিক্ষ ও অভাব মোকাবিলায় ভূমিকা রেখেছিলেন বলে মন্তব্য করেন রিজভী।তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে ব্যাংক থেকে অর্থ লুট ও পাচারের যে চিত্র দেখা গেছে, সাইফুর রহমানের দায়িত্ব পালনকালে এমন পরিস্থিতি ছিল না। তার ভাষ্য, গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে এবং ব্যাপক লুটপাট হয়েছে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিএনপির শাসনামলে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রেও দলটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।এম সাইফুর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, তার সময়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর পাশাপাশি কৃষিকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠায় তিনি ভূমিকা রেখেছেন।তিনি আরও বলেন, দেশে সামাজিক সুরক্ষার ধারণা প্রবর্তনের ক্ষেত্রেও সাইফুর রহমানের অবদান রয়েছে। তার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল।রিজভী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ আবারও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে যাবে।

দারিদ্র্য দূরীকরণে বিএনপি সবসময়ই ছিল চ্যাম্পিয়ন: রিজভী

জামায়াত ছেড়ে শার্শায় বিএনপিতে ২০ পরিবারের ৬০ জন

যশোরের শার্শার বাগআঁচড়ায় জামায়াতে ইসলামী থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন ২০ পরিবারের ৬০ জন সদস্য। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে যশোরে শার্শা উপজেলায় বাগআঁচড়া বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আলী বিশ্বাসের মাধ্যমে এসব পরিবারের সদস্যরা বিএনপিতে যোগ দেন।যোগদানকারীদের মধ্যে মনিরুল হক, জাহানারা, রোজিনা, সানজিদা, কোহিনূর, শুকজান, হাসনো আরা, রুপালি, মনিরুজ্জামান মনি, মিনু, ইসমাইল, রুমা, সালমা, আন্না, আবু তাহের, রেবেকা, জোসনা ও ঝরনাসহ ২০ পরিবারের সদস্য রয়েছেন।যোগদানকারীরা বলেন, নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে চিন্তাভাবনা করেই তাঁরা বিএনপিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলের সঙ্গে থেকে মানুষের পাশে থাকা, এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা তাঁদের।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির আলম, সহসভাপতি মোনায়েম হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি শাহাজান কবির, বাগআঁচড়া শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুর রহমান বাবু এবং বিএনপি নেতা ইসমাইল হোসেন।এ সময় বিএনপি নেতারা নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানান। তাঁদের অংশগ্রহণে বাগআঁচড়ায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।

জামায়াত ছেড়ে শার্শায় বিএনপিতে ২০ পরিবারের ৬০ জন

আমার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার অনুপস্থিতিতে শেখ ফজলুল করিম সেলিম আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এখন শেখ সেলিম সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য। আমার অনুপস্থিতিতে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।’ ছোট বোন শেখ রেহানা সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নয়।’ দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনে দেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলেন শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই তাকে হত্যার আশঙ্কা রয়েছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রত্যেকের জীবনের ঝুঁকি আছে। আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না।’ তিনি জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে বলে দাবি করেন শেখ হাসিনা। এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদীদের উত্থানের খেসারত ভারতকেও দিতে হবে।’ তার বক্তব্য, বাংলাদেশের অস্থিরতা এবং মৌলবাদী শক্তির বিস্তার ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আঞ্চলিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মনে করেন। বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ভারত সরকার কী ভেবে বাংলাদেশের নির্বাচন সমর্থন করল, তারেককে ফিরিয়ে আনল সেটা ভারত সরকারই ভালো বলতে পারবে।’ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা। তার মতে, কোনো সামরিক জোটের পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ সময় তারেক রহমানের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বিদেশে অবস্থান করে রাজনীতি করেছেন। তার ভাষায়, ‘আমি তো বাধা দিইনি। আমি দিল্লি থেকে কথা বললেই দোষ?’ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দর-কষাকষি বাংলাদেশের জন্য সম্মানজনক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। দেশের পরিস্থিতি তাকে কতটা ব্যথিত করছে, তা বোঝাতে তিনি বলেন, ‘আমার তো হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যখন দেখছি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’ দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানালেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে অন্য কারও জীবন যাতে ঝুঁকিতে না পড়ে, সেই আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি। দেশে ফেরার জন্য সরকার ট্রাভেল ডকুমেন্ট না দিলে কীভাবে ফিরবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশটা আমার। আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করেছে। আমরা এই দেশেই ছোটবেলা থেকে মানুষ হয়েছি। আর রাজনীতিতো স্কুল জীবন থেকেই আমি শুরু করেছি। সেখানে আমার দেশে কেন আমাকে ফিরতে দেবে না, সেটাই আমার প্রশ্ন।’ তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার ভারত সরকারের কাছে তাঁকে ফেরত দেওয়ার কথা বলছে। তার বক্তব্য, ‘যখন ফেরত দেওয়ার কথা বলছে তখন ফেরত কেন, আমি নিজেই যাব।’ দেশে ফেরার অনুমতি না দিলে অন্য কোনোভাবে প্রবেশ করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেটা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বর্তমান পরিস্থিতিকে অনুকূল নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে মানুষ নির্যাতিত হচ্ছে। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারেরও সমালোচনা করেন তিনি এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ বলে মন্তব্য করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি দেশের মানুষের কাছে যাব। কারণ, মানুষ এখন কষ্ট পাচ্ছে। তাদের পাশে আমাকে দাঁড়াতে হবে। তাতে যদি আমার জীবনও যায় যাবে। কিন্তু আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণভবন থেকে ভারতে যাওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশ ছেড়ে আসার ইচ্ছা তাঁর ছিল না এবং কী ঘটতে যাচ্ছে, তা-ও তিনি আগে জানতেন না। তার ভাষ্য, একটি পরিস্থিতিতে তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়। এমনকি হেলিকপ্টারে করে সীমান্ত পার হওয়ার পর তাকে জানানো হয় যে তারা ভারতে যাচ্ছেন। এর আগে পর্যন্ত তিনি মনে করেছিলেন, তাঁকে তাঁর গ্রামের বাড়ি টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি তো মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে কাজ করেছি। তাদের লাশ ফেলার মাধ্যমে আমাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে কেন! এ অবস্থায় আমি বললাম আমার থাকার দরকার নেই। আমি চলে যাব।’ তিনি বলেন, ‘আমি যাব কোথায়? আমি বললাম যে, আমি যাব টুঙ্গিপাড়া গ্রামের বাড়িতে। যখন আমি এয়ারক্রাফটে তখন আমি জানলাম আমি এখানে (ভারত) চলে এসেছি।’ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন শেখ হাসিনা। তার দাবি, ‘আমার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৬ লক্ষ মামলা দেওয়া হয়েছে।’ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ‘যত জঙ্গি, সন্ত্রাসী ছিল তাদেরকে তারা ছেড়ে দিয়েছে।’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও পুলিশের সদস্যদের ওপর সহিংসতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এসব বক্তব্যের বিষয়ে সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তার নিজস্ব ব্যাখ্যা ও দাবি তুলে ধরেছেন। ডিসেম্বরের আগেই দেশে ফেরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে ফিরবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ডিসেম্বর মাসটি তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসটা আমি বেছে নিয়েছি, আসলে এটা আমাদের বিজয়ের মাস।’ তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথাও জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘এখন আমি আমার তৃণমূলের মানুষদের সঙ্গে কথা বলছি। তাদেরকে কোপায়, মারে, অত্যাচার করে, নির্যাতন করে। এগুলি চলছে। তারপরও এই অবস্থায় মানুষ আমাদের সঙ্গে কথা বলে।’ তিনি বলেন, ‘আগে না, ডিসেম্বর মাসেই যাবো আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেভাবেই আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

আমার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিম

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আওয়ামী লীগ নেতার গাড়িতে চড়েছেন, লংমার্চের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন রাশেদ খাঁনের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আওয়ামী লীগ নেতার দামি গাড়িতে চড়েছেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে ১১ দলের সাম্প্রতিক লংমার্চের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি এটিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রেক্ষাপট তৈরির চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব অভিযোগ করেন।ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, মন্ত্রীপাড়ায় আলোচনার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পূর্বে আওয়ামী লীগের সম্পদ দখলের বিষয়ে কথা বলতেন। তিনি প্রশ্ন তুলে লেখেন, এক আওয়ামী লীগ নেতার প্রাডো গাড়িতে চড়ে লংড্রাইভ করেছেন নাসীরুদ্দীন। ওই নেতাকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিনিময়ে তিনি গাড়িটি উপহার পেয়েছেন, নাকি সম্পদ দখলের অংশ হিসেবে গাড়িটি নেওয়া হয়েছে, তা তদন্তের দাবি রাখে।লংমার্চের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী লেখেন, এই কর্মসূচিতে গণঅভ্যুত্থানের হত্যাযজ্ঞের বিচার বা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বক্তব্য ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, লংমার্চটির মূল লক্ষ্য ছিল উসকানিমূলক স্লোগান ও বহরে লাঠিসোঁটা ব্যবহারের মাধ্যমে একটি অস্থিরতা তৈরি করা। তবে বিএনপি বা এর সহযোগী সংগঠনগুলো এ ধরনের পরিস্থিতিতে পা দেয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। উক্ত বিষয়ে এনসিপি কোনো সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয় কি না, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন বলেও জানান তিনি।উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সার সংকট দূর করার দাবিতে ১১-দলীয় জোট ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই লংমার্চ কর্মসূচির আয়োজন করে। শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের পর প্রায় দেড় হাজার যানবাহনের বহর নিয়ে কুমিল্লা ও ফেনী হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভার মাধ্যমে এটি সমাপ্ত হয়। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আওয়ামী লীগ নেতার গাড়িতে চড়েছেন, লংমার্চের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন রাশেদ খাঁনের

ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে গেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রোববার  দুপুর ১টার দিকে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে।রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সফরে রয়েছেন তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম। হেলিকপ্টার অবতরণের পর তাকে স্বাগত জানান রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক ও পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীও উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ড. আবু মোহাম্মদ খায়রুল কবির এবং সদস্য সচিব ড. শহিদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।পরে ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতিকে পুলিশের একটি দল গার্ড অব অনার দেয়।রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই মির্জা ফখরুলের প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর। সফরের প্রথম দিন বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক সমাজের আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।সফরসূচি অনুযায়ী, এর আগে কালীবাড়ির নিজ বাসভবনে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম নেবেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি তিনি মা-বাবার কবর জিয়ারত এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি।অনুষ্ঠান শেষে নিজ বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পর হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়বেন তিনি।

ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি

লংমার্চে পরিকল্পিতভাবে ঝামেলার প্ল্যান ছিল জামায়াতের: রাশেদ খাঁন

জামায়াতের লংমার্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হলেও দলটির ‘পরিকল্পিতভাবে ঝামেলা করার প্ল্যান ছিল’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। আজ রোববার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ অভিযোগ করেন। রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ‘জামায়াতের লংমার্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। যেহেতু তারা সহযোগিতা চেয়েছিল, পুলিশ প্রটেকশন দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত জামায়াতের গাড়িবহর নিয়ে যায়। সহযোগিতা না চাইলেও পুলিশ একই ধরনের নিরাপত্তা প্রদান করত।’ তবে লংমার্চকে কেন্দ্র করে জামায়াত ‘পরিকল্পিতভাবে একটা ঝামেলা করার প্ল্যান’ করেছিল বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, ‘পরিকল্পিতভাবে একটা ঝামেলা করার প্ল্যান ছিল জামায়াতের। রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোটা জড়ো করেছিল। জানি না, এই লাঠিগুলো পরে বহরের গাড়িতে তোলা হয় কি না।’ জামায়াতের বহরে শীর্ষ নেতারা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘হৈ হৈ রৈ রৈ, ছাত্রদল, যুবদল গেলি কই’- এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়েছে। রাশেদ খাঁন আরও বলেন, সবকিছু দেখে অনেকের মনে হয়েছে, এটি জামায়াতের ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবলে এনসিপির লংমার্চ। তার দাবি, জামায়াত সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না। এ কারণে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে এবং আওয়ামী লীগকে পেছনে রেখে মাঝখান থেকে রাজনৈতিক খেলায় নামতে চায় দলটি। তবে জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট এনসিপিকে জামায়াতের মুখপাত্র বানানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। তাদের বক্তব্য তুলে ধরে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘এনসিপি আজ হোক আর আগামীকাল হোক, জামায়াত জোট ছাড়বে। সুতরাং তাদের কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?’ জামায়াতের জোটসঙ্গীদের নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, এনসিপিকে বিএনপি চারটির বেশি আসন ছাড়েনি বলেই তারা জামায়াতে গেছে। মাওলানা মামুনুল হকের দলও পর্যাপ্ত আসন পেলে বিএনপির সঙ্গে থাকত বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও আসন সমঝোতার বিষয়টি তুলে ধরে ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন সমন্বয় করতে পারলে তারা জোট পরিবর্তন করতে পারে বলে দাবি করেন। ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন সমন্বয় করতে পারলে এসব দল আবার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জামায়াত যাদের ওপর ভরসা রেখে এত অর্থকড়ি খরচ করছে, তারাই একদিন জামায়াতকে এমন ধাক্কা দেবে যে, জামায়াত আর ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে না।’ সবশেষে জামায়াতের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘ভবিষ্যতের ডায়েরি এখন থেকে কিনে রাখুন, কী কী বলবে সেটি নোট করার জন্য!’ তিনি দাবি করেন, এনসিপি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে এবং বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও শক্তি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এনসিপির অতীতের বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দলটির সঙ্গে জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে দাবি করেন, এনসিপি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। স্ট্যাটাসের শেষ দিকে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি লেখেন, ‘একদিন আপনারাই বলবেন, দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষলাম।’ 

লংমার্চে পরিকল্পিতভাবে ঝামেলার প্ল্যান ছিল জামায়াতের: রাশেদ খাঁন

ডিসেম্বরে দেশে ফিরছেন না শেখ হাসিনা

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরবেন—এমন ঘোষণা আগে এলেও বর্তমানে সেই সম্ভাবনা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। তার দেশে ফেরার বিষয়টি এখন শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইনি প্রক্রিয়া, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং নিরাপত্তার মতো একাধিক বিষয়।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা বিদেশে চলে যান, কেউ কারাগারে এবং অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে দলটি সাংগঠনিকভাবে বড় ধরনের সংকটে পড়ে।এর মধ্যেও ভার্চুয়াল মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন শেখ হাসিনা। গত জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানান। এতে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত তার দেশে ফেরাকে ঘিরে দলীয় পর্যায়ে বড় কোনো প্রস্তুতি দৃশ্যমান হয়নি।শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পাশাপাশি বর্তমানে ঢাকার কাছে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারত যদি তাকে সেখানে রাখে, তাহলে যেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ না দেওয়া হয় এমন অবস্থান রয়েছে সরকারের।বাংলাদেশের আশঙ্কা, ভারতের মাটি থেকে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া বা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার প্রভাব পড়তে পারে। ফলে প্রত্যর্পণের পাশাপাশি তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও ঢাকা-দিল্লির আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।শেখ হাসিনার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের আলোচনায় বাণিজ্য, সীমান্ত ও অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর পাশাপাশি শেখ হাসিনার অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।দেশে ফেরার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার জন্য অন্যতম বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে আইনি কারণে। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিচার হয়েছে এবং একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ও দেওয়া হয়েছে।এ অবস্থায় দেশে ফিরলে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। ফলে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে যাওয়ার সুযোগ কতটা থাকবে, সেটিও বড় প্রশ্ন।এ ছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের মাটিতে রয়েছেন। তাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়টি তাই ভারতের সিদ্ধান্ত, দেশটির নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়া এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও নির্ভরশীল।শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থাও আগের মতো নেই। দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অনেক নেতা কারাগারে, কেউ বিদেশে এবং অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরাও মামলা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।ফলে শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেও তাকে ঘিরে আগের মতো বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনার সাংগঠনিক সক্ষমতা আওয়ামী লীগের রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা জনক্ষোভ, সম্ভাব্য বিক্ষোভ এবং পাল্টা কর্মসূচি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার ভাষ্য, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি তার একার সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হওয়ার সুযোগ নেই। ভারত, আইনি প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।দলের একটি অংশ অবশ্য মনে করছে, দেশে অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়লে ভবিষ্যতে শেখ হাসিনার ফেরার রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তবে ডিসেম্বরের মধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত কোনো ইঙ্গিত নেই।রাজনীতি বিশ্লেষক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা কম। তার মতে, দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও আইনি বাস্তবতা বড় বিষয়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানও মনে করেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন এখন আর তার একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল নয়। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, দুই দেশের অবস্থান, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতের আইনি প্রক্রিয়ার মতো বিষয় এতে যুক্ত হয়েছে।তার মতে, ডিসেম্বর খুব বেশি দূরে নয়; কিন্তু এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পক্ষে দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতি বা বাস্তব অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগের মধ্যেও তাকে ঘিরে বড় ধরনের প্রস্তুতির লক্ষণ নেই।সব মিলিয়ে, ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা থাকলেও বর্তমান আইনি, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই প্রত্যাবর্তন এখনো অনিশ্চিত।সুত্রঃ আগামীর সময়

ডিসেম্বরে দেশে ফিরছেন না শেখ হাসিনা

জনগণের সংকট দেখছে না সরকার: শফিকুর রহমান

বিরোধদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসহ জনগণের নানা ‘সংকট’ সমাধানে সরকার ব্যর্থ। তিনি বলেছেন, ‘সংসদে দাঁড়িয়ে যারা দেশের কোনো সংকট নেই বলে মিথ্যা কথা বলেন, তাদের দিয়ে জনগণের সমস্যার সমাধান হবে না।’ আজ শনিবার ফেনীর মহিপালে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই পথসভার আয়োজন করা হয়। জামায়াত আমির বলেন, ‘বিদ্যুৎ কোথাও নেই কিন্তু বিদ্যুৎ শুধু সংসদে আছে। জিজ্ঞেস করলে বলেন, কোনো সংকট নেই! সংসদে দাঁড়িয়ে যারা মিথ্যা কথা বলেন, তাদের দ্বারা দেশের মানুষের সমস্যার সমাধান হবে না।’ গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে সমবেত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘‘আপনারা দুটো ভোট দিয়েছেন। একটি সংসদের জন্য, আরেকটি বাংলাদেশকে মেরামত ও সংস্কার করার জন্য। সরকারি দল ও বিরোধী দল সবাই একমত হয়েছিলাম—গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। ছয় মাস চলে গেছে, সরকার এখনো তা বাস্তবায়ন করেনি। ” বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ তুলে বলেন, ‘শুরু থেকেই এই সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জনগণের দাবি অগ্রাহ্য করেছে। অতীতে যারা জনগণের দাবি অগ্রাহ্য করেছে, তাদের করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।’ সরকার সব জায়গায় দলীয়করণ করছে অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সব জায়গায় আপনারা দলীয়করণ করবেন, আর বিরোধী দল বসে বসে কি আঙুল চুষবে? বিরোধী দল সেসব জায়গায় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে!’

জনগণের সংকট দেখছে না সরকার: শফিকুর রহমান

বিদ্যুৎ-গ্যাসের বাড়তি বিলের হিসাব কোথায়: আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘মানুষের বিদ্যুৎ ও গ্যাস পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিকমতো না থাকলেও গ্রাহকদের বিল আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। এই অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তার হিসাব জনগণ এখনো পায়নি।’ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পথসভায় অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ-গ্যাস সরকার আমাদের বিনা মূল্যে দেয় না। এগুলোর জন্য জনগণকেই টাকা দিতে হয়। অথচ বিদ্যুৎ থাকে না, কিন্তু আগে যে বিল এক হাজার ২০০ টাকা ছিল, এখন তা চার হাজার টাকা হয়ে গেছে। এই অর্থ কোথায় যায়, তার কোনো হিসাব আমরা আজ পর্যন্ত পাইনি।’ বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ মন্ত্রী বিদ্যুতের পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে আইসিইউতে চলে গেছেন।’ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে এনসিপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি কঠিন সঙ্কটময় সময় পার করছে। নির্বাচনের আগে জনগণকে বলা হয়েছিল, নির্বাচনের পর সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এখনো দেশের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সংস্কার পায়নি। অনেক মানুষ তিনবেলা খাবারের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত।’ তিনি বলেন, ‘বাসায় বিদ্যুৎ নেই, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল আছে, গ্যাসের চুলায় আগুন নেই, গরিবের কাজ নেই। লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাচ্ছে।’ গণভোটের প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের পর ১৮ কোটি মানুষকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্যজোট ও জাতীয় নাগরিক পার্টি গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে মানুষের অধিকার ও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনেও জনগণের সমর্থন নিয়ে তাদের অধিকার আদায়ের কথা বলা হবে।’ ‘কোনো বাধা, সঙ্কট, হুমকি, হামলা ও মামলাকে ভয় না করে আমরা আপনাদের প্রতিবাদের ভাষা হয়ে থাকব’ বলে বক্তব্য শেষ করেন আসিফ মাহমুদ। পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

বিদ্যুৎ-গ্যাসের বাড়তি বিলের হিসাব কোথায়: আসিফ মাহমুদ

সংসদের বিতর্ক রাজপথে নেওয়া গণতন্ত্রের জন্য বাধা: জহির স্বপন

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন জাতীয় সংসদ যখন সন্তোষজনকভাবে কার্যকর রয়েছে, ঠিক সেই সময়ে আন্দোলনের নামে রাজপথে লংমার্চ করার মতো কর্মসূচি সাধারণ মানুষের গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘সংসদীয় রাজনীতিতে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সংসদের বিতর্ককে দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্ত করে।’ রাজধানীর বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (বিলিয়া) মিলনায়তনে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পর্যালোচনা : সুশাসন, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের যৌথ আয়োজন করে ‘সিটিজেন ফোরাম বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ইনিশিয়েটিভস’ (বিসিএআই)। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রকে গতিশীল ও অর্থবহ রাখতে সরকারি দলকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা বিরোধী দলের দায়িত্ব। কিন্তু সংসদীয় বিতর্ককে অহেতুক ও দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়া এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে দেশের সচেতন মহলকে সজাগ থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো কতটা বুঝে এসব করছে তা জানি না, তবে এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নেয়ার জন্য দেশী-বিদেশী নানা অপশক্তি ওঁৎপেতে বসে থাকে।’ সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল্যায়ন তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিগত দুই দশকের ফ্যাসিবাদের চর্চা, ভঙ্গুর সমাজ ব্যবস্থা ও দেউলিয়া অর্থনীতির চরম অচল অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তুলে সরকার নতুন একটি সঠিক গতিমুখ নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে। সঙ্কট এতই গভীর ছিল যে, রাতারাতি জাদুকরী কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়; তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি সুনিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপ নিয়েছে।

সংসদের বিতর্ক রাজপথে নেওয়া গণতন্ত্রের জন্য বাধা: জহির স্বপন
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream