জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওয়ার্কশপের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মালামাল ভাঙচুরসহ প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি এবং ঘরের শোকেস ভেঙে প্রায় ৮ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে আক্কেলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কৃষ্ণকোলা এলাকার বাসিন্দা কাশেম আলী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আক্কেলপুর উপজেলার কৃষ্ণকোলা এলাকায় কাশেম আলীর বাড়িতে ‘ভাই-ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি দুই ছেলে ও কর্মচারীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কাশেম আলীর ছোট ছেলে আজাদের কাছে রাজু নামে এক ব্যক্তি ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আজাদ ৫ হাজার টাকা দিতে চাইলেও রাজু তা গ্রহণ করেননি। পরে তাকে হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ আগস্ট সকালে রাজুর নেতৃত্বে এক থেকে দেড়শ লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওয়ার্কশপে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় সোনালিকা হালচাষের ট্রাক্টর, মাহিন্দ্রা ট্রাক্টর, ট্যাপ ট্রাক্টর, ধান মাড়াইয়ের ছয়টি গাড়ি, একটি পিকআপসহ ওয়ার্কশপের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয় বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।
এ ছাড়া তিনটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি ও দুটি ড্যানেস পাম্প নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি ঘরের শোকেসের তালা ভেঙে প্রায় ৮ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রবিবার ২৩ আগস্ট দুপুরে কাশেম আলীর ছেলে আজাদ আলী নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে রাজু আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি ৫ হাজার টাকা দিতে চাইলেও তিনি নেননি। পরে আমাকে হত্যাসহ বিভিন্ন ক্ষতি করার হুমকি দেন। গত ২২ আগস্ট আমি ব্যবসার কাজে বাইরে থাকাকালে রাজুর নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক লোকজন আমার ওয়ার্কশপে হামলা ও ভাঙচুর করে। তারা ঘরের তালা ভেঙে টাকা ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়ে যায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা পরিবারের নারী সদস্যদের ওপরও হামলা করেন এবং বাধা দিতে গেলে স্থানীয় লোকজনকে হুমকি দেন। মাঠে থাকা ডিপ টিউবওয়েলের ট্রান্সফরমার চুরি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানানো হয়। পরে আক্কেলপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রোববার সকালে সরেজমিনে কৃষ্ণকোলা এলাকার ওই ওয়ার্কশপে গিয়ে ভাঙচুরের বিভিন্ন চিহ্ন দেখা যায়।
এ বিষয়ে আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন রেজা বলেন, “ঘটনার দিন আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে এবং মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মতামত