জয়পুরহাটের কালাইয়ে মোবাইল ফোন ঠিক করতে আসা এক সৌদি প্রবাসী নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মোস্তেকুল হাসান ওরফে খাইরুল (৩৪) নামে এক মোবাইল মেকানিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে অভিযুক্ত মোস্তারেকুল হাসান ওরফে খাইরুলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার মোস্তারেকুল হাসান কালাই পৌর এলাকার কাজীপাড়া মহল্লার গোলজার রহমানের ছেলে। গত ১৯ আগস্ট রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে কালাই থানাধীন তালুকদার শপিং কমপ্লেক্সের অগ্রণী ব্যাংক কালাই শাখা ভবনের নিচতলার মার্কেট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী সৌদি আরব প্রবাসী। দেশে ফেরার পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নষ্ট হলে কালাইয়ের ছয় ভাই সুপার মার্কেটে অভিযুক্তের দোকানে সেটি ঠিক করতে যান। এ সময় কৌশলে ওই নারীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন মোস্তেকুল। পরে ফোনে কথাবার্তার মাধ্যমে তাদের মধ্যে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। মোস্তারেকুল নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
পুলিশ ও আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মোস্তেকুল ওই নারীর বাবার বাড়ি কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের মান্দাই গ্রামে যাতায়াত শুরু করেন। তিনি ওই নারীকে বিয়ে করবেন বলে তার বাবা-মাকেও আশ্বস্ত করেন। পাশাপাশি ব্যবসা বড় করার কথা বলে ওই নারীর কাছ থেকে এক লাখ টাকা এবং ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি আইফোন নেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাই রাত ৯টার দিকে মোস্তেকুল ওই নারীর বাবার বাড়িতে যান। এ সময় তার বাবা-মা পাশের বাড়িতে সাংসারিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গেলে ওই নারী বাড়িতে একা ছিলেন। এই সুযোগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য বলে মোস্তারেকুল চলে যান।
পরদিন ওই নারী তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মোবাইল ফোন বন্ধ পান। পরে অভিযুক্তের দোকানের আশপাশে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার একাধিক স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, আমার ব্যক্তিগত ব্যবহারের ফোনটি নষ্ট হলে ছয় ভাই সুপার মার্কেটে তার দোকানে সার্ভিসিং করাতে যাই। তখন সে কৌশলে আমার নম্বর নেয়। পরে নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে আমার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তার ঘরে দুটি স্ত্রী রয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। তিনি আরও বলেন মোবাইল সার্ভিসিং ব্যবসার আড়ালে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক তৈরি করে থাকেন।
এ ঘটনায় ওই নারী জয়পুরহাট আদালতে মামলা করেন। পরে মামলাটি কালাই থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়। মামলার নম্বর-১৬, তারিখ ১৯ আগস্ট ২০২৬; জিআর নম্বর-১৪৭। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২৫)-এর ৯(খ) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
কালাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বলেন, আদালতের একটি ধর্ষণ মামলা থানায় রেকর্ডভুক্ত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে মামলার অভিযুক্ত মোস্তারেকুল হাসান ওরফে খাইরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মতামত