রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

জাতীয়

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে জনভোগান্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে জনভোগান্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

দেশে চলমান তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের যে সীমাহীন কষ্ট হচ্ছে, তার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে এই সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের একটি বিশেষ দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর ফার্মগেটস্থ বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কাইব) মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সরকারপ্রধান এই দুঃখ প্রকাশ ও নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন।আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আজকে যেহেতু বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছে, সেহেতু দেশের বহু শিল্প-কারখানার মালিকসহ সাধারণ মানুষ এই জ্বালানি সমস্যায় কষ্ট পাচ্ছেন—আমি এবং আমার দলের পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জবাবদিহিতামূলক। তাই বিগত স্বৈরাচারী শাসনের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ ও সংকটকে স্রেফ অজুহাত বা ‘এক্সকিউজ’ হিসেবে না দেখিয়ে বাস্তবতাকে স্বীকার করে কাজ করাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে জানান, এই জ্বালানি সংকট নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নে কিছু সময়ের প্রয়োজন। তবে এমন একটি সুদৃঢ় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলেও দেশের মানুষকে আর এমন ক্রান্তিকালের মুখোমুখি হতে না হয়।‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই আলোচনা সভার শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সব প্রয়াত নেতাকর্মী ও বীর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও অংশ নেন—মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, ড. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং ইসমাইল জবিউল্লাহ প্রমুখ।

হাসিনাকে কেন ফেরত দিচ্ছে না ভারত?

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পরোয়ানা জারি ও রায় ঘোষণার পর ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ বন্দি বিনিময় (Extradition) চুক্তির আওতায় তাকে প্রত্যর্পণের এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ভারতীয় শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দু-র এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ভারতকে এখনই হাসিনাকে হস্তান্তরে বাধ্য করা যাবে না।২০১৩ সালের বন্দি বিনিময় চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনো বিচার বা মামলা যদি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হয় কিংবা অভিযুক্তের অপরাধ ‘রাজনৈতিক প্রকৃতির’ বলে মনে হয়, তবে সংশ্লিষ্ট দেশকে ফেরত দিতে বাধ্য নয় অপর পক্ষ। চুক্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচারে যদি শতভাগ নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার বজায় না থাকে, তবে প্রত্যর্পণ আবেদন খারিজ করা সম্ভব। অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে মামলা পরিচালনা করা এবং ট্রাইব্যুনাল থেকে চূড়ান্ত সাজা বা মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন রয়েছে।ভারতের ১৯৬২ সালের নিজস্ব ‘প্রত্যর্পণ আইন’ (Extradition Act 1962) অনুযায়ী সাজানো বা রাজনৈতিক বিচারের ক্ষেত্রে কাউকে অন্য রাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া আটকানোর আইনি বিধান রয়েছে।দিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান:আইনি ব্যাখ্যার পাশাপাশি নতুন দিল্লির রাজনৈতিক হিসেব-নিকাশকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। সংকটের সময়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া কোনো সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানকে সাজা খাটার জন্য ঢাকা কর্তৃপক্ষের হাতে সোপর্দ করা হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের কূটনৈতিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হতে পারে।ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকার চিঠি পাওয়ার পরও চুক্তির আইনি অজুহাত দেখিয়ে ভারত এই প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রী করতে পারে বা শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরে সরাসরি না বলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাসিনাকে কেন ফেরত দিচ্ছে না ভারত?

মন্ত্রিসভার ব্যাপক রদবদলের প্রস্তুতি চলছে

প্রশাসনিক কাজের গতি বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বর্তমান বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার কলেবর সম্প্রসারণ ও ব্যাপক রদবদলের জোর প্রস্তুতি চলছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষভাগে অথবা আগামী অক্টোবরের শুরুতেই এই পরিবর্তন আসতে পারে। মূলত দফতরগুলোর কাজের পরিধি বিবেচনা, পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন, “রদবদলের আলোচনা সত্য, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সময় নির্ধারণ সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে।”গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভার ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে গত ১৬ আগস্ট। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৫১ জন (২৬ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী)। পাশাপাশি ১১ জন উপদেষ্টা (৬ জন মন্ত্রী ও ৫ জন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার) দায়িত্ব পালন করছেন। সরকার গঠনের ৬ মাসের মাথায় দফতর পুনর্বণ্টন হলেও দক্ষতা ও বিতর্কহীনতা বজায় রাখতে নতুন করে কিছু স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া দুর্যোগকালীন পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন বক্তব্যে সরকারপ্রধান বিব্রত। তাঁকে সরিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে তরুণ ও সুশিক্ষিত উপদেষ্টা মাহাদী আমিন অথবা শিক্ষক নেতা সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়াকে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ‘অতি কথন’ ও বিগত সরকারের আলোচিত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের ‘মিঠু’ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সরকার ক্ষুব্ধ। অন্যদিকে, পরিমিতভাষী বর্তমান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাজ আশানুরূপ না হওয়ায় বর্তমান মন্ত্রী হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াসিনের দপ্তর পরিবর্তন বা রদবদল হতে পারে। এ ছাড়া, সার্কিট হাউস সড়কে উল্টো পথে গাড়ি চালিয়ে ট্রাফিক মামলার শিকার হওয়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ওপর প্রধানমন্ত্রী মারাত্মক ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।বর্তমানে ৩টি করে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলানো মন্ত্রীদের বোঝা কমিয়ে এক মন্ত্রীর দায়িত্বের কিছু অংশ সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে দেওয়া হতে পারে।রাজপথের ত্যাগী, অভিজ্ঞ ও নির্যাতিত নেতাদের মূল্যায়ন করতে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও শীর্ষ নেতাদের মধ্য থেকে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। স্বরাষ্ট্র, কৃষি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বাড়ায় নতুন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এ বিষয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গেলেও দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন জানান, রদবদলের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারভুক্ত এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থেই তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

মন্ত্রিসভার ব্যাপক রদবদলের প্রস্তুতি চলছে

ডাক বিভাগের নতুন সেবা, ঘরে পৌঁছাচ্ছে ভারী পণ্য

ডাকযোগে শুধু চিঠি কিংবা প্যাকেট নয়; এখন গ্রাহকের কাছে যাচ্ছে ফ্রিজ, মোটরসাইকেলের মতো ভারী পণ্যও। গত দুই মাসে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবায় পরিবহন হয়েছে প্রায় ৪০০ টন পণ্য। প্রথম কেজিতে ১০ টাকা, এরপর প্রতি কেজিতে আরও ৫ টাকা—এই মাশুলেই চলছে স্পিড পোস্ট। সম্প্রতি কান্ত সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়ে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, দেশের আইনে অবৈধ নয়, এমন যেকোনো পণ্যই এখন ডাকের গাড়িতে তোলা, নামানো এবং পোস্টম্যানের মাধ্যমে বিলি করা যায়। তিনি বলেন, সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলও ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। সঙ্গে গেছে ফ্রিজ, আলমারি ও ওয়ার্ডরোবের মতো বড় আসবাবপত্র। শিক্ষার্থীদের কাঁথা-বালিশ ও বিছানাপত্রও পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া রান্নাঘরের দা-বঁটি-ছুরি, হাঁড়ি-পাতিল, প্রেশার কুকার, ইন্ডাকশন চুলা থেকে শুরু করে এলইডি টিভি, এয়ার কন্ডিশনার, বাইসাইকেল এমনকি কীটনাশক স্প্রে মেশিনও এখন ডাকযোগে পাঠানো যাচ্ছে। ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, মৌসুমি ফলসহ স্পিড পোস্টের মাধ্যমে গত দুই মাসে মোট প্রায় ৪০০ টন পণ্য পরিবহন হয়েছে, যা এর আগে ডাক বিভাগের মাধ্যমে কখনো পরিবহন হয়নি। এসব পণ্য যেন সহজে ও সুন্দরভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য সেবাটিকে গ্রাহকবান্ধব করতে বাড়তি কিছু ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের সুবিধার জন্য চালু হয়েছে অনলাইন মাশুল ক্যালকুলেটর। এর মাধ্যমে আগে থেকেই পণ্য পরিবহনের খরচ জেনে নেওয়া যায়। বর্তমানে রাজধানীর জিপিওসহ গুলশান, বনানী, মিরপুর ও উত্তরার মতো বেশ কয়েকটি সাব-পোস্ট অফিস থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে। দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পার্সেলের জন্য রয়েছে বৈদেশিক ইএমএস সেবাও। কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, সেবাটি যেন সুশৃঙ্খলভাবে চলে, সে জন্য এর কার্যপ্রণালী সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে ডাক অধিদপ্তর। স্পিড পোস্টে ইস্যুকৃত পণ্য জেলা শহর থেকে ঢাকায় সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা আর প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে বিলির জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসকে। তবে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু দ্রব্য এই সেবার আওতার বাইরেও রাখা হয়েছে। বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ, ক্ষতিকর বা বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্য, মাদকদ্রব্য, জীবন্ত প্রাণী, আগ্নেয়াস্ত্র এবং ভরা বা খালি গ্যাস সিলিন্ডার স্পিড পোস্টে পাঠানো যাবে না। এত কম মূল্যে সেবা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কাজী আসাদুল বলেন, টাকার অঙ্কের চেয়ে মানুষে-মানুষে সংযোগ স্থাপনকে আমি বড় অর্জন বলে মনে করি। একজন মা যেমন কষ্ট করে সন্তান লালন-পালন করেন, বিনিময়ে কিছুই চান না; সন্তানের ভালো থাকাতেই যার তৃপ্তি-রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগও তেমনি জনগণকে সেবা দিতে পারার মধ্যেই সার্থকতা খুঁজে পায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডাক বিভাগের এ সেবার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোট দিতে নিবন্ধন করেন। এরপর ভোট দেওয়া থেকে শুরু করে সেই ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে মুহূর্তে মুহূর্তে বার্তা পেয়ে ভোটের অগ্রগতি জানতে পেরেছেন প্রবাসীরা। এতে করে ডাক বিভাগের প্রতি তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে। ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, এই অভিজ্ঞতাই পরে বিনা প্রচারণায় মুখে মুখে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররাই এই সেবা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন। তারাই নিজ উদ্যোগে তারা সেবাটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন। এই জনপ্রিয়তা ডাক বিভাগের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি একজন গ্রাহক বদলি হয়ে অন্য জেলায় বাসা পরিবর্তনের সময় পুরো বাসার আসবাবপত্রই ডাকযোগে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিশ্বের অনেক দেশের ডাক বিভাগ এমন আন্তজেলা বাসা বদল সেবা দিয়ে থাকে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এমন সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সে লক্ষ্যে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সক্ষমতা গড়ে তোলা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব একটি প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে ৫০টি বৈদ্যুতিক বাইক, যা চলবে গ্রিন এনার্জিতে। সক্ষমতা বাড়ানোর এই ধারাবাহিকতায় বদলেছে ডাক বিভাগের অভ্যন্তরীণ কর্মপরিকল্পনাও। মহাপরিচালক বলেন, সহকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী এক কর্মশালার পর সম্প্রতি সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকার তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মেইল প্রসেসিং সেন্টারকে শতভাগ কাজে লাগানো হবে। এর মধ্য দিয়ে সারা দেশ থেকে ঢাকামুখী মেইল, ঢাকা থেকে সারা দেশে যাওয়া মেইল আর ঢাকা শহরের ভেতরকার মেইল—সবই প্রক্রিয়াজাত হবে একটি জায়গা থেকে। এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে কার্যকরও হয়েছে বলে জানান তিনি। কমলাপুরের রেলওয়ে মেইল সার্ভিসের বর্তমান সক্ষমতা এখন সীমিত হয়ে পড়েছে জানিয়ে আসাদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার খাতা কিংবা গাছের চারার মতো নানা রকম পণ্য একসঙ্গে সামলানো ক্রমেই তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। তাই ঢাকা জিপিও ক্যাম্পাসকে সম্প্রসারিত করে সেখানে শুধু বিদেশগামী ও বিদেশ থেকে আসা রপ্তানি-আমদানি পার্সেলের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এভাবে তেজগাঁও, কমলাপুরসহ মোট তিনটি হাব মিলিয়ে সমন্বিতভাবে চলবে ডাক বিভাগের মেইল ব্যবস্থাপনা। মহাপরিচালক বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাভের অঙ্ক আমাদের কাছে মুখ্য নয়। সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ সেবা দিয়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করাই হবে স্পিড পোস্টের প্রকৃত সাফল্য। বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে চালু হয় ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবা। প্রথমে মৌসুমি ফল পরিবহনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই সেবা এখন সম্প্রসারিত হয়েছে নিত্যব্যবহার্য বড় বড় পণ্যসামগ্রী পরিবহনেও।

ডাক বিভাগের নতুন সেবা, ঘরে পৌঁছাচ্ছে ভারী পণ্য

কারাগারে নতুন সুবিধা, স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ

ভিডিও কলের বিশেষ সুবিধা চালু হচ্ছে কারাগারের চার দেয়ালের বন্দিজীবনে স্বজনদের সরাসরি দেখার আকুলতা দূর করতে। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ সুবিধা চালু হয়েছে। শিগগিরই সারাদেশে এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে কারা অধিদফতর। কারা কর্তৃপক্ষের এই আধুনিক ও মানবিক উদ্যোগের ফলে সপ্তাহে একবার ১০ মিনিট নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কয়েদি ও হাজতিরা ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে পারবেন। সম্প্রতি ঢাকা কারা অধিদফতরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো: মাসুদ হাসান জুয়েল রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, সারাদেশে শিগগিরই কারাবন্দিরা স্বজনদের সাথে ভিডিও কলে কথা বলতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে। এদিকে কারাগারে বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন কারাগারে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং ও অন্যান্য মানসিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। মাসুদ হাসান জুয়েল জানান, কারাগারে বন্দিদের উৎপাদনশীল কাজে প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য দক্ষ করে তোলার কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ২-এ সাবান উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং উৎপাদিত সাবান বন্দি ও স্টাফদের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বন্দিদের প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, বন্দিদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কারা সদর দফতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্যাথলজি ল্যাব চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্সের সুপারিশ পাওয়া গেছে এবং তাদের পদায়নের মাধ্যমে কারাগারের স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে। কারা অধিদফতর জানায়, বন্দি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ২-এ মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্ট স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পানি সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কারাগারের মৌলিক সেবাগুলোর মান উন্নয়নের বিষয়টি ভবিষ্যতেও অগ্রাধিকার পাবে। এছাড়া একটি আধুনিক কারা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রশিক্ষিত লোকবল অপরিহার্য বলে জানায় কারা অধিদফতর। কারা অধিদফতর আরো জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এই লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর, ডেপুটি জেলার, জেলার ও জেল সুপারদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ঢাকা জেলে রুটি তৈরির কার্যক্রমকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে চায়না থেকে আমদানি রুটি মেকার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বৃহৎ সংখ্যক বন্দির জন্য কম সময়ে একই মানের রুটি স্বাস্থ্যসম্মত ও দক্ষতার সাথে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমছে। তিনি বলেন, কারাগারে বিশেষ দিবসে খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা আছে। বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার জন্য বিভিন্ন কারাগারে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও বন্দিদের বিভিন্ন পোশাক ও জুতা-সেন্ডেল তৈরি ও বেকারির প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। বন্দিদের খেলাধুলার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। কারাগারে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। কারা অধিদফতর জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের একটি যৌক্তিক প্রত্যাশা ছিল অবসর-পরবর্তী কল্যাণ। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষীদের আজীবন রেশন প্রদানের বিষয়টি সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে এবং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়াও কারাগারের নিরাপত্তা রক্ষা, বন্দি পালানো প্রতিরোধ, অনিয়ম প্রতিরোধ, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সেবা এবং দায়িত্ব পালনে অসাধারণ অবদান রাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ যথাযথভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যোগ্য সদস্যদের পদক, প্রশংসাপত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা আরো কার্যকর করারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কারাগারে মাদক প্রবেশ ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কারা সদর দফতরে ড্রাগ পরীক্ষার মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করবে। কারাগারকে আরো স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে ব্যাপক সবুজায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট-১, কিশোরগঞ্জ-১ ও খুলনা নতুন কারাগারে প্রায় ১৮ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা, বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ, ভালো কাজের যথাযথ স্বীকৃতি, পরিবেশবান্ধব কারা ব্যবস্থাপনা এবং একটি আধুনিক ও পেশাদার সংশোধনমূলক পরিষেবা সৃষ্টির কাজ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কারা অধিদফতর জানায়, কারাগার সম্পর্কে মানুষের প্রচলিত ধারণায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কারাগার হবে নিরাপদ ও মানবিক। কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হবেন দক্ষ, সৎ ও মর্যাদাবান। বন্দিরা পাবেন সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ। আর পুরো প্রতিষ্ঠানটি হবে স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক। সূত্র : বাসস

কারাগারে নতুন সুবিধা, স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ

সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন নৌবাহিনী প্রধান

নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম সরকারি সফরে সৌদি আরবে গেছেন। আজ শনিবার ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি সরকারি সফরে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে। সফরকালে নৌবাহিনী প্রধান সৌদি আরবের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ, রয়েল সৌদি নেভাল ফোর্সের প্রধান এবং মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স কোয়ালিশন কমান্ডারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সাক্ষাতে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও অনুষ্ঠিতব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসমূহে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার বিদ্যমান পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং নৌবাহিনীর মধ্যে বিভিন্ন সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। নৌবাহিনী প্রধান সৌদি আরব অবস্থানকালে বিভিন্ন সামরিক ও নৌ স্থাপনা পরিদর্শন এবং দু’দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক, প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করবেন। নৌবাহিনী প্রধানের এ সফর দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো জোরদার করবে বলে আশা করা যায়।

সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন নৌবাহিনী প্রধান

চেনা শহরে নতুন পরিচয়ে ফিরছেন মির্জা ফখরুল

তাঁর শৈশব-কৈশোর ঠাকুরগাঁও শহরের কোলাহলেই কেটেছে । শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়মাঠ নিজ বাড়ির পাশেই। সেই শহরই এখন ব্যস্ত তাঁকে ঘিরে যে শহরের অলিগলি, বাজার-পাড়া আর রাস্তাঘাট তাঁর চেনা। আগামীকাল রোববার রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথমবারের মতো নিজ মাটি ঠাকুরগাঁও আসছেন। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও জুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। কোথাও চলছে আলোকসজ্জার কাজ, কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের যেন দম ফেলারও সময় নেই। শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে তুলতে দিন-রাত কাজ করে চলেছেন পৌরসভার কর্মীরা। সব মিলিয়ে এলাকার প্রিয় সন্তানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ শহরে বরণ করে নিতে প্রস্তুত ঠাকুরগাঁও। শহরের পথে পথে এখন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগমনের প্রতীক্ষা। প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বাড়তি কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আগামী রবি ও সোমবার সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রীয় এই সফর ঘিরে প্রশাসনের নানা প্রস্তুতির সঙ্গে সাধারণ মানুষের আগ্রহ যেন এর চেয়েও বেশি, এর চেয়েও বেশি আবেগের। কারও কাছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় রাজনীতির সুপরিচিত মুখ, কারও কাছে তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা। আবার ঠাকুরগাঁওয়ের অনেকের কাছে তিনি আজও সেই পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’-নিজ শহরের আপনজন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ শেকড়ের টানে নিজ মাটিতে আসা তাই ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়, এটি একই সঙ্গে গর্ব, আনন্দ, ভালোবাসা আর গভীর আবেগের ক্ষণ। রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো: লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি যাবেন জেলা সার্কিট হাউসে। রাষ্ট্রপতি সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।  এরপর রাষ্ট্রপতি শহরের সেনুয়া পাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন। কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহরের কালীবাড়িতে তাঁর নিজ বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রামের পর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। সংবর্ধনা শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেখানেই তাঁর রাত্রিযাপনের কথা রয়েছে। সফরের দ্বিতীয় দিন রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম করবেন। পরে তিনি সার্কিট হাউসে যাবেন। এরপর হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁর। এদিকে, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সফরের সম্ভাব্য স্থান, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘তিনি শুধু রাষ্ট্রপতি নন, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি নিজের মানুষের কাছে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত। আমরা চাই, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে তাঁকে স্বাগত জানাক।’ জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম আগমন জেলার মানুষের জন্য আনন্দ, গর্ব ও আবেগের বিষয়। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরের প্রতিটি কর্মসূচি, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের চলাচল ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

চেনা শহরে নতুন পরিচয়ে ফিরছেন মির্জা ফখরুল

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৪৩৪ জন গ্রেপ্তার

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে ৪৩৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। একই সময়ে মামলা দায়ের হয়েছে ৪৪টি। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়।  ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পুলিশের রমনা বিভাগ ২৬ জনকে, লালবাগ বিভাগ ৩৩ জনকে, ওয়ারী বিভাগ ৪২ জনকে, মতিঝিল বিভাগ ৫৯ জনকে, তেজগাঁও বিভাগ ৫৯ জনকে, মিরপুর বিভাগ ১৩৬ জনকে, গুলশান বিভাগ ৩৬ জনকে, উত্তরা বিভাগ ৩৬ জনকে ও গোয়েন্দা বিভাগ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।  অভিযানে একটি বিদেশি রিভলবার, ২ রাউন্ড গুলি, ১ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজা, ৩৫৮৯ পিস ইয়াবা, ৯.৪ গ্রাম হেরোইন, ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ২টি বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন, নগদ ১৫৪০ টাকা ও একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।   

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৪৩৪ জন গ্রেপ্তার

দুবাইয়ে থাকা সম্পদ নিয়ে ৭৩ বাংলাদেশির তথ্য চায় দুদক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে সম্পদ গড়ার অভিযোগে ৭৩ বাংলাদেশির বিষয়ে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তের অংশ হিসেবে এসব ব্যক্তির দুবাইয়ে থাকা সম্পদ, অর্থের উৎস ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের তথ্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছ থেকে চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।দুদক সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের আওতায় ইউএই সরকারের কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট বা এমএলএআর পাঠানো হবে। আন্তর্জাতিক এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি এক দেশ থেকে অন্য দেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চাওয়া যায়।অনুসন্ধানে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল এবং সাবেক পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের নাম রয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কয়েকজন দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনা ও পাম জুমেইরাহতে ফ্ল্যাট বা বাড়ি কিনেছেন। তাদের কয়েকজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসাও পেয়েছেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আখতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য চেয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।নির্বাচন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকেও ৭৩ ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক। এসব তথ্য যাচাই করে পরবর্তী অনুসন্ধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করা হয়েছে।দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে এবং সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমানের সদস্য হিসেবে গঠিত বিশেষ দলটি তদন্ত পরিচালনা করছে। তবে অনুসন্ধান চলমান থাকায় তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের পেশাগত পরিচয় প্রকাশ করেনি দুদক।দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের সম্পদ নিয়ে বর্তমান অনুসন্ধানের পেছনে রয়েছে ২০২৩ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশনা। ওই বছরের ১৬ জানুয়ারি আদালত দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ (সিফোরএডিএস) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্যাক্স অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির মালিকানায় ৯৭২টি সম্পত্তির তথ্য পাওয়া যায়। এসব সম্পত্তির নথিভুক্ত মূল্য ছিল প্রায় ৩১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।২০২২ সালের মে মাসে প্রকাশিত সিফোরএডিএসের গবেষণায় সম্পত্তিগুলোর মূল্য প্রায় ৩১৫ মিলিয়ন ডলার উল্লেখ করা হয়। ওই গবেষণায় আরও বলা হয়, সম্পত্তিগুলোর মধ্যে ৬৪টি দুবাই মেরিনা এবং ১৯টি পাম জুমেইরাহ এলাকায় রয়েছে। বাংলাদেশিদের মালিকানায় অন্তত ১০০টি ভিলা ও পাঁচটি ভবনের তথ্যও উঠে আসে।এ ছাড়া চার থেকে পাঁচজন বাংলাদেশির সঙ্গে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পত্তির যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছিল।

দুবাইয়ে থাকা সম্পদ নিয়ে ৭৩ বাংলাদেশির তথ্য চায় দুদক

অন্যায়কে প্রশ্রয় নয়, রুখে দাঁড়াতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী

অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, কোনো ধরনের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে পারস্পরিক সৌহার্দ ও সম্প্রীতির মাধ্যমে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।শুক্রবার দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরের শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জন্মাষ্টমীর দিনে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং একে অপরের পাশে থাকা। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমেই সমাজে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।তিনি বলেন, ধর্ম ও বর্ণের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একসঙ্গে থাকার প্রতিজ্ঞা করতে হবে। অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে সৌন্দর্য, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক জন্মাষ্টমীর প্রত্যয়।আফরোজা খানম বলেন, দেশের সব নাগরিকের প্রতি সরকার সমান দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—ভিন্ন ধর্ম হলেও সবার জাতীয় পরিচয় এক, আমরা বাংলাদেশি।নিজ জেলা মানিকগঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এখানকার মানুষ পরস্পরের বন্ধু ও ভাই হিসেবে একে অন্যের পাশে থাকবে। ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে মানিকগঞ্জের মানুষ ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। জেলার মানুষের প্রধান পরিচয় তারা মানিকগঞ্জবাসী।অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মন্ত্রী কালীবাড়ি পূজা উদযাপন কমিটিকে এক লাখ টাকা অনুদান দেন। পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রণব কুমার সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সুনীল কুমার, কালীপদ ঘোষ, অনিল কুমার ও রঞ্জিত কুমার দে।পরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বেউথা মসজিদ প্রাঙ্গণ ও বেউথা-আন্ধারমানিক সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন খাদ্যমন্ত্রী। এ সময় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে দলীয় নেতাকর্মীসহ সবাইকে বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

অন্যায়কে প্রশ্রয় নয়, রুখে দাঁড়াতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী

বালাসীঘাট-বাহাদুরাবাদ সেতু বাস্তবায়ন হবে: বিমানমন্ত্রী

নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।  এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলে দেওয়ানগঞ্জের মানুষ সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপজেলা বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিষয়ে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত আরো বলেন, এ আসনের কোনো স্কুল ভবন কাঁচা থাকবে না। সব রাস্তা-ঘাট পাকা করা হবে, প্রয়োজনীয় স্থানে সেতু নির্মাণ করা হবে এবং নদীশাসনের ব্যবস্থা করা হবে। খাল খনন, বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর পাশাপাশি বকশীগঞ্জে শিল্প-কারখানা স্থাপন করা হবে। বাহাদুরাবাদ-বালাসী সেতু নির্মাণের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হবে।মাদক নির্মূল করা হবে এবং ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরি করা হবে। নতুন ট্রেন চালুর ব্যবস্থা করা হবে। ইউনিয়নভিত্তিক মুয়াজ্জিন ও খতিবদের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে দুটি করে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।এ ছাড়া শিক্ষিত বেকার যুবকদের বিনা খরচে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠানোর মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।এসময় জনতার উদ্দেশ্য তিনি  বলেন, ‘আমরা চাই নতুন বাংলাদেশ, তারেক রহমানের বাংলাদেশ। এই নতুন বাংলাদেশ এখনো ভঙ্গুর। দেশকে গড়ে তুলতে হলে আমাদের কিছু সময় দিতে হবে। আপনারা ছয়-এক বছর সময় দিন, এর মধ্যেই সব হবে।’উপজেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বালাসীঘাট-বাহাদুরাবাদ সেতু বাস্তবায়ন হবে: বিমানমন্ত্রী

সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে কঠোর অভিযান: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে র‌্যাব ও ডিজিএফআই যৌথভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।শুক্রবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল ও হাম চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একটি চক্র সরকারি হাসপাতালে আসা রোগীদের বিভ্রান্ত করে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সক্রিয় করা হয়েছে।একই সঙ্গে অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে বলে জানান তিনি। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, জরিমানা এবং অবৈধ প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হচ্ছে। ভুয়া চিকিৎসক কিংবা সনদপ্রাপ্ত নয় এমন টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার করানো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব কার্যক্রম পুরোপুরি কার্যকর করতে সময় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এদিকে হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের চিহ্নিত করে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগের কর্মসূচিতে নানা কারণে অনেক শিশু টিকা নিতে পারেনি। কেউ সময়মতো তথ্য না পাওয়ায়, কেউ অভিভাবকের ব্যস্ততার কারণে, আবার কেউ স্কুলে থাকার কারণে টিকা থেকে বাদ পড়ে।মন্ত্রী জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হলেও সব শিশুকে কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে নতুন করে টিকাদানের বয়সে আসা শিশুরাও রয়েছে। ফলে টিকা না পাওয়া শিশুদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।সিলেটের হাওরাঞ্চলে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চালানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মূল ক্যাম্পেইনের আগে আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।ওসমানী হাসপাতালের ড্রেনেজ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার বিষয়ে মন্ত্রী দ্রুত সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন। আগামী সাত দিনের মধ্যে ড্রেনেজ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন তিনি।দেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকটের কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের তুলনায় দেশে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা এখনও কম। সীমিত জনবল নিয়েই স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।পরিদর্শনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে কঠোর অভিযান: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেউলিয়ার পথে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পালটাপালটি হামলার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে। এর সরাসরি চাপ এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। বাড়তি দামে জ্বালানি আমদানির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি বড় হচ্ছে সরকারের লোকসান।চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকা লোকসানের হিসাব করেছিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সেই লোকসান ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।ইতোমধ্যে তেল ও গ্যাস খাতেও বড় অঙ্কের লোকসান হয়েছে। বেশি দামে তেল কিনে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করায় গত আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে বাড়তি দামে এলএনজি আমদানি করে গত ছয় মাসে পেট্রোবাংলার লোকসান হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ তেল ও গ্যাস মিলিয়ে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের হিসাব যুক্ত হলে এ অঙ্ক আরও বাড়তে পারে।কয়লার বাজারেও তৈরি হয়েছে চাপ। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ প্রতি বছর ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রায় দেড় কোটি টন কয়লা আমদানি করে। পিডিবি বলছে, গত বছর দেশটি কয়লা উত্তোলন ২৫ শতাংশ কমিয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে জাহাজ ভাড়া ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। ফলে প্রতি টন কয়লার দাম ১১০ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ১৪০ ডলারে উঠেছে। এতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও বাড়বে।এদিকে গ্যাস সংকট সামাল দিতে সম্প্রতি ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে চার হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতেও উৎপাদন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।গত জুনে বিদ্যুতের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এতে সরকারের লোকসান কমবে বলে ধারণা করা হলেও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি উল্টো দিকে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বিশ্ববাজারে গত এক সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দামও দ্রুত বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৬৩ ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে চালু না হলে দাম আরও বাড়তে পারে। এতে বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর জ্বালানি ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে।জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেনের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও জনগণকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়লেও শিল্পকারখানা সচল রাখতে আগামী কয়েক মাস বেশি দামে তেল ও এলএনজি আমদানি করতে হতে পারে। তবে শীতকালে কিছুটা লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।

দেউলিয়ার পথে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড

ধর্ম পালনে বাধা দিলে তথ্য পেলেই আইনের আওতায় আনা হবে: আইনমন্ত্রী

দেশের সব ধর্মের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে কেউ বাধা সৃষ্টি বা বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এমন কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া মাত্রই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপার মঠবাড়ি মন্দিরে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।আইনমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে নিজের ধর্ম পালন করবেন। অন্য কেউ তাতে বাধা দেওয়ার সুযোগ পাবে না। সমাজ থেকে সব ধরনের অপশক্তি দূর করতে সরকার কাজ করছে। এ কাজে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন তিনি।শ্রীকৃষ্ণের জন্মের তাৎপর্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবেই শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের কথা বলা হয়। দেশের সব ধরনের অপশক্তির বিরুদ্ধে সরকার যখন কাজ করবে, তখন সবাইকে পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।জন্মাষ্টমীর উৎসবে হিন্দু সম্প্রদায়ের আনন্দ, ভক্তি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সংহতি জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, নিজেদের ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালনে সরকার তাদের পাশে রয়েছে। ধর্ম পালনের জন্য সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট বলে জানান তিনি।পরে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালিতে অংশ নেন আইনমন্ত্রী।এ সময় ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মো. আশিস বিন হাছান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এমে মজিদ, শৈলকুপার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমানসহ স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ধর্ম পালনে বাধা দিলে তথ্য পেলেই আইনের আওতায় আনা হবে: আইনমন্ত্রী

চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে নতুন মডেলে কাজ শুরু: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম মহানগরীর বিশুদ্ধ পানির সংকট কমাতে নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপি মডেলে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, পতেঙ্গার ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এই উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পানি সংকট অনেকটাই দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।শুক্রবার সকালে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পানি সরবরাহ সেবা উন্নত করতে আয়োজিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।তিন বছর মেয়াদি এই চুক্তিতে চট্টগ্রাম ওয়াসার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড। নেদারল্যান্ডস দূতাবাস এ উদ্যোগে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।অনুষ্ঠানে আমির খসরু বলেন, জনগণের কাছে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তবে সব সেবা একা সরকারের পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে।তিনি জানান, শুধু পানি সরবরাহ নয়, বর্ষাকালে চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশন সমস্যাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা চলছে।চুক্তির আওতায় প্রথমে ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের পানির চাহিদা ও বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে নতুন পানি সরবরাহ মডেল বাস্তবায়ন করা হবে।মে মাসে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, এই দুই ওয়ার্ডের ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন বাসিন্দার নিরাপদ পানির সুবিধা সীমিত। মাত্র ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়িতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পাইপলাইন রয়েছে। ফলে অধিকাংশ মানুষ ৮৫ থেকে ১১০টি বেসরকারি ভেন্ডরের কাছ থেকে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লিটার পানি কিনছেন। এতে তাদের খরচ হচ্ছে ২৫ থেকে ৫০ টাকা।সমীক্ষায় আরও উঠে এসেছে, এলাকার ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা অনেক বেশি। জাতীয় নিরাপদ সীমা যেখানে ১ হাজার পিপিএম, সেখানে কিছু এলাকায় তা ৩ হাজার পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে নতুন মডেলে কাজ শুরু: অর্থমন্ত্রী

ধর্ম ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু লক্ষ্য এক: কৃষিমন্ত্রী

পৃথিবীর কোনো ধর্মই অন্যায়, অবিচার কিংবা অশুভ শক্তিকে সমর্থন করে না বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, ধর্ম আলাদা হলেও মানুষের কল্যাণ, ন্যায়, শান্তি, সৌন্দর্য ও সহমর্মিতার লক্ষ্য সবারই এক।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের দেশ। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ এ দেশের সমান নাগরিক এবং দেশকে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার দায়িত্বও সবার।তিনি বলেন, ‘এই দেশ আমার, এই দেশ আপনার, এই দেশ আমাদের সবার।’ দেশে বসবাসকারী প্রত্যেক মানুষকেই দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে ভূমিকা রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।আগামী প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ, মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলাকে বর্তমান প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন আমিন উর রশিদ। তার মতে, সব সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্মানের বন্ধনে আবদ্ধ থাকলে দেশ ও জাতির সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত হবে।সমাজে কিছু অসাধু ও দুষ্কৃতিকারী মানুষ থাকলেও দেশের বেশিরভাগ মানুষ ন্যায়, কল্যাণ ও সুন্দর সমাজের পক্ষে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভালো মানুষগুলো একসঙ্গে দাঁড়ালে কোনো অপশক্তিই সমাজে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না।শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটি কুমিল্লার আহ্বায়ক শ্যামল কৃষ্ণ সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ও জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার। অনুষ্ঠানে সনাতনী সমাজের নেতৃবৃন্দ, ভক্ত ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।পরে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেন কৃষিমন্ত্রী।

ধর্ম ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু লক্ষ্য এক: কৃষিমন্ত্রী
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream