সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
সর্বশেষ

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী

আব্দুল লতিফ মৃধা, বিশেষ প্রতিনিধি: তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রেখে সুস্থ, সুন্দর ও সৃজনশীল সমাজ গঠনে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, তরুণদের মাঠমুখী করা এবং তাদের দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন প্রয়োজন।রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে লালমনিরহাট জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক আলোকিত কিশোর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, একসময় লালমনিরহাটে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে নিয়মিত ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই ধারাবাহিকতা বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় স্টেডিয়ামটি তালাবদ্ধ থাকায় মাঠ ঘাস ও আগাছায় ভরে গিয়েছিল। বর্তমানে মাঠটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আবারও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, তরুণ ও যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে তাদের জন্য সুস্থ বিনোদন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। তরুণদের একটি অংশ বিভিন্ন কারণে মাদকাসক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তাদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে। এ জন্য পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।মন্ত্রী আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। তাদের এই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনতে হবে। শুধু প্রতিযোগিতার আয়োজন করলেই হবে না, খেলাধুলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও জরুরি। কিশোর ও তরুণদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হলে তারা ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়েও নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবে।জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে কিশোরদের মধ্যে ফুটবলচর্চা বাড়বে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।টুর্নামেন্টের সভাপতি ও লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাঃ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের মাঠমুখী করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। এসব কর্মকাণ্ড তাদের শৃঙ্খলাবোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও দায়িত্বশীলতা বিকাশে সহায়তা করে। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে তারা সুস্থ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে পারে।অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সন্তানদের শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলায় অংশ নিতে উৎসাহিত করতে হবে। তাদের নিয়মিত খেলার মাঠে আসার সুযোগ করে দিতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকলে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।তিনি আশা প্রকাশ করেন, জেলা প্রশাসক আলোকিত কিশোর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে জেলার কিশোর ফুটবলারদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আব্দুল হাকিম, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানসহ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।অনুষ্ঠান শেষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মর্নিং স্টার ফুটবল একাডেমির মুখোমুখি হয় বড়বাড়ি বসুন্ধরা ক্রীড়া চক্র। খেলায় মর্নিং স্টার ফুটবল একাডেমিকে ২-০ গোলে হারিয়ে জয় তুলে নেয় বড়বাড়ি বসুন্ধরা ক্রীড়া চক্র।আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক আলোকিত কিশোর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এ মোট ১৬টি দল অংশ নিচ্ছে। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে জেলার কিশোর ফুটবলাররা নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন এবং প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে।

রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে এ জন্য শুধু বাংলাদেশের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। এ কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে ‘রোহিঙ্গা সংকট: টেকসই প্রত্যাবাসন ও আঞ্চলিক স্থায়ী সমাধানের উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতায় সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন করে চীন ও জাপান সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। দেশ দুটি বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান তিনি।সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মিয়ানমারের দুটি এলাকায় দেশটির আইনি সরকারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। বাকি অধিকাংশ এলাকা আরাকান আর্মির দখলে। তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের প্রয়োজন রয়েছে। তবে মিয়ানমারের আইনি সরকার ও কার্যত নিয়ন্ত্রণকারী পক্ষ কেউই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতেও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় কূটনৈতিকভাবে সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে।নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (এফএসডিএস) আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজল এলাহী আকবর।সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গা সংকট শুধু মানবিক বা দ্বিপক্ষীয় সমস্যা নয়। এর সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিষয়ও জড়িত। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করে তাদের নিজ ভূমিতে ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বাড়ায় শিবিরগুলোতে চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।সেমিনারে বক্তারা বলেন, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে এই সংকট আরও জটিল হয়েছে। তাই সমাধানের জন্য আঞ্চলিক কূটনীতি, রাখাইন রাজ্যের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।বক্তারা আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুধু তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। প্রত্যাবাসন টেকসই করতে নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব ও অধিকার, আবাসন, জীবিকা, মৌলিক সেবা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।সেমিনারে অধ্যাপক এ.এস.এম. আলী আশরাফ, অধ্যাপক শাহাব এনাম খান ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাফাআত আহমেদসহ দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বন্ধ ঘোষণা করা হলো সাজেক পর্যটনকেন্দ্র

রাঙ্গামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। আজ  রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাজেকে বর্তমানে অবস্থানরত পর্যটকদের আগামী মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৫টার মধ্যে পর্যটন এলাকা ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যেতে হবে।এর আগে রোববার সকাল ৬টা থেকে সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু করে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি। অবরোধের সমর্থনে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন সংগঠন দুটির সমর্থকেরা। এতে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।পরে রোববার সন্ধ্যায় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় সংগঠন দুটি। তবে এর আগেই সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন।

হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি / দেশে হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৭৩ জন।প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে সিলেট বিভাগে সর্বোচ্চ তিনজন, এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রংপুর বিভাগে একজন করে শিশু মারা গেছে।গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে সারা দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১০৪ জন নিশ্চিত হামে এবং ১ হাজার ৫৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ২৮ জনে। অন্যদিকে, ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত ৯৩ জনসহ এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২২ হাজার ৪২১ জন।১৫ মার্চ থেকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৭ জন রোগী। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৭৪ ৪৬৯ জন সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছেন।

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী

আব্দুল লতিফ মৃধা, বিশেষ প্রতিনিধি: তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রেখে সুস্থ, সুন্দর ও সৃজনশীল সমাজ গঠনে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, তরুণদের মাঠমুখী করা এবং তাদের দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন প্রয়োজন।রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে লালমনিরহাট জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক আলোকিত কিশোর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, একসময় লালমনিরহাটে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে নিয়মিত ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই ধারাবাহিকতা বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় স্টেডিয়ামটি তালাবদ্ধ থাকায় মাঠ ঘাস ও আগাছায় ভরে গিয়েছিল। বর্তমানে মাঠটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আবারও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, তরুণ ও যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে তাদের জন্য সুস্থ বিনোদন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। তরুণদের একটি অংশ বিভিন্ন কারণে মাদকাসক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তাদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে। এ জন্য পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।মন্ত্রী আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। তাদের এই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনতে হবে। শুধু প্রতিযোগিতার আয়োজন করলেই হবে না, খেলাধুলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও জরুরি। কিশোর ও তরুণদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হলে তারা ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়েও নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবে।জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে কিশোরদের মধ্যে ফুটবলচর্চা বাড়বে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।টুর্নামেন্টের সভাপতি ও লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাঃ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের মাঠমুখী করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। এসব কর্মকাণ্ড তাদের শৃঙ্খলাবোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও দায়িত্বশীলতা বিকাশে সহায়তা করে। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে তারা সুস্থ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে পারে।অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সন্তানদের শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলায় অংশ নিতে উৎসাহিত করতে হবে। তাদের নিয়মিত খেলার মাঠে আসার সুযোগ করে দিতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকলে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।তিনি আশা প্রকাশ করেন, জেলা প্রশাসক আলোকিত কিশোর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে জেলার কিশোর ফুটবলারদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আব্দুল হাকিম, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানসহ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।অনুষ্ঠান শেষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মর্নিং স্টার ফুটবল একাডেমির মুখোমুখি হয় বড়বাড়ি বসুন্ধরা ক্রীড়া চক্র। খেলায় মর্নিং স্টার ফুটবল একাডেমিকে ২-০ গোলে হারিয়ে জয় তুলে নেয় বড়বাড়ি বসুন্ধরা ক্রীড়া চক্র।আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক আলোকিত কিশোর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এ মোট ১৬টি দল অংশ নিচ্ছে। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে জেলার কিশোর ফুটবলাররা নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন এবং প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে।

৫ ঘন্টা আগে
ইজতেমা নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিগত হামলার বিচার দাবিতে ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশের ৫ দফা

ইজতেমা নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিগত হামলার বিচার দাবিতে ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশের ৫ দফা

বিশ্ব ইজতেমা ২০২৭-এর তারিখ ও আয়োজন নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচারের প্রতিবাদ এবং টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট প্রদানসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেছে ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ। রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশ শুরায়ী নেজামের অধীনে আগামী জানুয়ারিতে দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও একটি পক্ষ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, যা সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুফতি কেফায়তুল্লাহ আজহারী। এ সময় উপস্থিত নেতারা ২০১৮ ও ২০২৪ সালের হামলায় নিহতদের পরিবার ও আহতদের বিচার এবং চিকিৎসা-পুনর্বাসনের দাবি জানান। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা বন্ধ, অনাকাঙ্ক্ষিত সরকারি হস্তক্ষেপ রোধে নীতিমালা প্রণয়ন এবং ইজতেমা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে সাদপন্থী নেতা ওয়াসীফুল ইসলাম ও ওসামা ইসলামের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।

৫ ঘন্টা আগে
রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে এ জন্য শুধু বাংলাদেশের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। এ কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে ‘রোহিঙ্গা সংকট: টেকসই প্রত্যাবাসন ও আঞ্চলিক স্থায়ী সমাধানের উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতায় সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন করে চীন ও জাপান সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। দেশ দুটি বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান তিনি।সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মিয়ানমারের দুটি এলাকায় দেশটির আইনি সরকারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। বাকি অধিকাংশ এলাকা আরাকান আর্মির দখলে। তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের প্রয়োজন রয়েছে। তবে মিয়ানমারের আইনি সরকার ও কার্যত নিয়ন্ত্রণকারী পক্ষ কেউই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতেও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় কূটনৈতিকভাবে সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে।নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (এফএসডিএস) আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজল এলাহী আকবর।সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গা সংকট শুধু মানবিক বা দ্বিপক্ষীয় সমস্যা নয়। এর সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিষয়ও জড়িত। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করে তাদের নিজ ভূমিতে ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বাড়ায় শিবিরগুলোতে চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।সেমিনারে বক্তারা বলেন, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে এই সংকট আরও জটিল হয়েছে। তাই সমাধানের জন্য আঞ্চলিক কূটনীতি, রাখাইন রাজ্যের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।বক্তারা আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুধু তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। প্রত্যাবাসন টেকসই করতে নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব ও অধিকার, আবাসন, জীবিকা, মৌলিক সেবা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।সেমিনারে অধ্যাপক এ.এস.এম. আলী আশরাফ, অধ্যাপক শাহাব এনাম খান ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাফাআত আহমেদসহ দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

৬ ঘন্টা আগে
সুষ্ঠু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পুরোপুরি প্রস্তুত নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

সুষ্ঠু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পুরোপুরি প্রস্তুত নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও প্রস্তুতি নেওয়ার সময় দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। বাহিনী এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় নির্বাচন নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে মনে করছে কমিটি। তাই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করেই নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে। জনস্বার্থ বিবেচনায় অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দিয়ে প্রয়োজনীয় ও বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার তাগিদও দিয়েছে কমিটি।আজ রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি কে এম সেলিম রেজা হাবিব।বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি জানান, সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তবে জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা বেশি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে প্রস্তুতি দরকার, তা এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে আগামী বছরের শুরুর দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে।স্থানীয় নির্বাচনের ঝুঁকি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এ নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা তুলনামূলক বেশি থাকে। ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান, সাধারণ ওয়ার্ডের সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।বৈঠকে এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) তদারকিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।এ ছাড়া গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টির বিপরীতে জামানত নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। নির্মাণকাজের তদারকি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার চলমান প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় কমিটির কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতির উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। এসব প্রকল্প চিহ্নিত করে তদন্তের উদ্যোগ নিতে মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেন তাঁরা। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কিছু প্রকল্পের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনও কাজ করছে।কমিটির সভাপতি বলেন, আগের সরকারের সময়ে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় ও দুর্নীতির অভিযোগযুক্ত প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করে সেগুলো বাদ দেওয়া এবং জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে তাঁরা মত দিয়েছেন।তিনি আরও বলেন, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। এতে নির্মাণকাজে মানের সঙ্গে আপস করার সুযোগ কমবে।বৈঠকে কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতিমুক্ত আচরণ ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। উপজেলা পর্যায়ে অনলাইনভিত্তিক হাজিরা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্সেনিকপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রকল্প নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

৬ ঘন্টা আগে
‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’: সাক্ষীর উদ্দেশ্যে পলক

‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’: সাক্ষীর উদ্দেশ্যে পলক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাদানুবাদ হয়েছে। এ সময় সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রসিকিউশনের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন?’ পরে সাক্ষীর বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করায় পলককে থামিয়ে কথা কম বলার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।রোববার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে শুনানি চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।এদিন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে মামলায় দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তা মাহদী আমিন।জবানবন্দির একপর্যায়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী একটি বিষয়কে ‘ভূতাপেক্ষ’ বলে উল্লেখ করেন। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক প্রসিকিউশনের উদ্দেশে বলেন, ‘এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন? এখানে আমার বিচার হচ্ছে, ধৈর্য নিয়ে কথা বলবেন। এখানে সবাই বিচারপ্রার্থী। আমরা আপনার কোনো আদেশ বা কথা শুনতে আসিনি।’এর জবাবে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আসামিপক্ষের কোনো বক্তব্য থাকলে তা আইনজীবীদের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো আসামি এভাবে কথা বলতে পারেন না। এ নিয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাইব্যুনাল পলককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন।’ বিচারক জানান, কথা বলতে হলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। এখানে কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই এবং কোনো বিষয় ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।পরে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় মাহদী আমিন ২০২৪ সালের ২৮ জুলাইয়ের একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের কথা বলেন। বিষয়টি মামলার মূল অভিযোগের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয় উল্লেখ করে ওই অংশ বাদ দেওয়ার আবেদন জানায় প্রসিকিউশন। সাক্ষীও এতে সম্মতি দেন।এ সময় কাঠগড়া থেকে পলক বলে ওঠেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে।’ তখন ট্রাইব্যুনাল তাঁকে থামিয়ে বলেন, ‘একটু বসতে পারেন, দয়া করে কথা কম বলেন।’পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে পলক বলেন, প্রসিকিউশন প্রশ্ন করে সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছে। এখন সেই বক্তব্য বাদ দিতে হলে সাক্ষীকে ‘হোস্টাইল’ বা স্বার্থবিরোধী ঘোষণা করতে হবে।ট্রাইব্যুনালে পলকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ শুনানি করেন। অন্যদিকে সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তাঁর পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী মনজুর আলম উপস্থিত ছিলেন।প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে পলক ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এর পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও হত্যায় সহায়তার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় রাসেল ও মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর উত্তরায় ৩৪ জনকে হত্যায় সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে।২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

৭ ঘন্টা আগে
সরানো হচ্ছে সচিবালয়

সরানো হচ্ছে সচিবালয়

রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ উদ্যোগের কাজ এগিয়ে চলছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সাবেক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার মাঠে নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। আর বর্তমান সচিবালয় এলাকায় পুরান ঢাকার নিম্ন আদালত স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।তবে নতুন সচিবালয় নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি। সব প্রস্তুতি শেষ করে আগামী ডিসেম্বরেই প্রকল্পের কাজ উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, সচিবালয় স্থানান্তরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে প্রকল্পের নকশা দেখেছেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম চলছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা। চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন ভবনগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে একটি নকশাও তৈরি করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে চলতি বছরের মধ্যেই কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ডিসেম্বরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করবেন—এমন লক্ষ্য সামনে রেখে প্রস্তুতি চলছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে তিন বছরের মধ্যে কয়েকটি মন্ত্রণালয় নতুন কমপ্লেক্সে স্থানান্তরের লক্ষ্য রয়েছে। তবে পুরো নির্মাণকাজ শেষ করতে চার থেকে পাঁচ বছর লাগতে পারে।গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে। তবে ডিসেম্বরের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।এদিকে স্থাপত্য অধিদপ্তর প্রধানমন্ত্রীর সামনে নতুন সচিবালয়ের তিনটি বিকল্প নকশা উপস্থাপন করেছে। প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়ার পর গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

৭ ঘন্টা আগে
দেশে ২০০টির বেশি বিমান রাখার পরিকল্পনা: বিমানমন্ত্রী

দেশে ২০০টির বেশি বিমান রাখার পরিকল্পনা: বিমানমন্ত্রী

প্রথম ধাপে ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিমানবহর ২০০টিরও বেশি উড়োজাহাজে উন্নীত করতে চান বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।আজ রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।বিমানমন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের মেধা ও বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিমানবহর আরও বড় করতে চান তিনি। তাঁর আশা, একসময় দেশে ২০০টিরও বেশি উড়োজাহাজ থাকবে।মন্ত্রী জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩১ সাল থেকে ধাপে ধাপে নতুন উড়োজাহাজ আসা শুরু হবে। সব উড়োজাহাজ দেশে পৌঁছাতে ২০৩৬ থেকে ২০৩৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের বহরে থাকা উড়োজাহাজগুলো একসময় পুরোনো হয়ে যাবে। তখন বিমান পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখা এবং ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন হবে। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এখন থেকেই কাজ করতে হবে।মন্ত্রী আরও বলেন, ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা ভবিষ্যতে দেশের বিমান পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর একটি অংশ। পর্যায়ক্রমে বিমানবহর সম্প্রসারণের মাধ্যমে ২০০টির বেশি উড়োজাহাজ পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করতে চায় বাংলাদেশ।এ ছাড়া কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো দেশে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এসব রুটে ফ্লাইট চালাতে প্রয়োজনীয় স্লট নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ করার কথা জানান মন্ত্রী।বিমান পরিবহন খাতের পাশাপাশি পর্যটনশিল্পের বিকাশে নেত্রকোণার বিরিশিরিকে জাতীয় পর্যায়ের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

৭ ঘন্টা আগে
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা এক হাজারে উন্নীত করা হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা এক হাজারে উন্নীত করা হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা এক হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন ।আজ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন অডিটোরিয়ামে ইন্টার্ন সমাপনী অনুষ্ঠান (কুম-২৯) ও ডাক্তার পুনর্মিলনী ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, মেডিকেল কলেজের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বরাদ্দের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।চিকিৎসা সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতি যাতে দ্রুত নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের যত্নবান হতে হবে। বেসরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসকদের চেম্বারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির মতো সরকারি মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতিরও নির্ধারিত কার্যকাল পর্যন্ত কার্যকর থাকা নিশ্চিত করতে হবে।চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, রোগী যখন চিকিৎসকের কাছে যান, তখন তিনি চান চিকিৎসক তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন, শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানবেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। রোগীকে যথেষ্ট সময় দেওয়া এবং তার সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার মাধ্যমে চিকিৎসক রোগীর মধ্যে মানসিক স্বস্তি ও আস্থা তৈরি করতে পারেন। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর প্রতি আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে পরিবেশদূষণ এবং খাদ্যের গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব বিষয় মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ক্ষতিকর কীটনাশক নিয়ন্ত্রণে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রোগীদের ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে সুস্থ থাকা যায়, সে বিষয়েও সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে পরামর্শ দিতে হবে।মন্ত্রী বলেন, সুস্থ থাকার জন্য সঠিক ও নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব আবারও বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ওষুধের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করেও খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ বিষয়ে চিকিৎসকেরা মানুষকে সচেতন করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।নতুন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, চিকিৎসা পেশায় প্রবেশের পর তাদের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা মানুষের জন্য ভালো কিছু করবেন, সমাজের জন্য ভালো কিছু করবেন। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।'কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: মো: মাছুম হাছানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো: ইউসুফ মোল্লা টিপু। অনুষ্ঠানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

৮ ঘন্টা আগে
অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তের সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।এ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এডিস মশা নিধনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) তদারকিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব।বৈঠকে কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতি এড়িয়ে চলা এবং জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে অনলাইনভিত্তিক হাজিরা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।দেশের যেসব এলাকায় পানিতে আর্সেনিকের সমস্যা রয়েছে, সেসব এলাকা চিহ্নিত করে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় প্রকল্প নেওয়ার সুপারিশও করেছে কমিটি।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টির জন্য জামানত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং তদারকি বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর জোর দেওয়া হয়।বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে উপস্থাপনা দেওয়া হয়। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে মন্ত্রণালয়ের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কেও কমিটিকে জানানো হয়।বৈঠকের শুরুতে কমিটির সভাপতি তাঁর বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।বৈঠকে কমিটির সদস্য, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

৮ ঘন্টা আগে
ছুটি ঘোষণা করে নতুন জাতীয় দিবসের পরিপত্র জারি

ছুটি ঘোষণা করে নতুন জাতীয় দিবসের পরিপত্র জারি

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনের নিয়মে পরিবর্তন এনে নতুন পরিপত্র প্রকাশ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালন করা হবে এবং এ দিন সরকারি ছুটি থাকবে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয় কমানো ও দাপ্তরিক কাজ স্বাভাবিক রাখতে দিবস পালনে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।রোববার (১১ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ পরিপত্র জারি করে। এর মাধ্যমে গত ১১ মার্চ জারি করা আগের পরিপত্রটি বাতিল করা হয়েছে।নতুন নির্দেশনায় জাতীয় পর্যায়ের প্রধান উৎসব ছাড়া অন্যান্য দিবস পালনে অতিরিক্ত খরচ ও জাঁকজমক এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। আলোকসজ্জা, সৌন্দর্যবর্ধন এবং বড় পরিসরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যথাসম্ভব সীমিত রাখতে বলা হয়েছে।দিবস পালনের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য রেডিও ও টেলিভিশনে আলোচনা প্রচারের পাশাপাশি ছোট পরিসরে সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা যাবে। তবে কর্মদিবসে জনদুর্ভোগ এড়াতে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।সরকারি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কোনো বিশেষ সপ্তাহ পালন করতে হলে সাধারণত তিন দিনের মধ্যে কর্মসূচি শেষ করতে হবে।পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছুটির দিনে অথবা অফিস সময়ের পর আয়োজনের চেষ্টা করতে হবে। তবে অর্থ বা উপকরণ ব্যয় ছাড়াই করা যায়—এমন আয়োজন সাধারণ কর্মদিবসেও করা যাবে। দিবস বা সপ্তাহ পালনের জন্য জেলা কিংবা ঢাকার বাইরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজধানীতে আনা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে একই ধরনের দিবসগুলো একসঙ্গে পালনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। একই বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস থাকলে আন্তর্জাতিক দিবসকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় দিবসগুলো একই তারিখে পালনের কথা বলা হয়েছে।প্রয়োজনে এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে। নতুন পরিপত্রের নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

৮ ঘন্টা আগে
১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
খুলনার চার থানায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে আপনি যৌক্তিক মনে করেন কি?

খুলনার চার থানায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে আপনি যৌক্তিক মনে করেন কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ০ জন

শপথের পর এক টাকাও দুর্নীতি করিনি: আমির হামজা

শপথ নেওয়ার পর গত সাড়ে ছয় মাসে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হননি বলে দাবি করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। একই সময়ে দায়িত্ব পালন করা অন্য সংসদ সদস্যরাও দুর্নীতি করেননি—এমন নিশ্চয়তা দিতে পারবেন কি না, সেই চ্যালেঞ্জও জানিয়েছেন তিনি।সম্প্রতি এক বক্তব্যে আমির হামজা বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর থেকে নিজের বিবেক ও সজ্ঞানে বলতে পারেন, এই সাড়ে ছয় মাসে সরকারি অর্থের এক টাকারও দুর্নীতি করেননি তিনি। তাঁর দাবি, তাঁর পাশে থাকা সংসদ সদস্যরাও একই কথা বলতে পারবেন।আমির হামজা আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জন সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকেও একই ধরনের নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব। তবে বাকি ২১২ জন সংসদ সদস্য দুর্নীতি করেননি—এমন নিশ্চয়তা দিতে পারলে তাঁরা রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বক্তব্যে দেশের চিনি উৎপাদন ও আমদানিনির্ভরতা নিয়েও কথা বলেন এই সংসদ সদস্য। তাঁর ভাষ্য, দেশে বছরে প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা রয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোতে উৎপাদন কম হওয়ায় চাহিদার বড় অংশ মেটাতে বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করতে হয়।আমির হামজা বলেন, বন্ধ চিনিকলগুলো চালু করা গেলে দেশে চিনির উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এতে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা মিলবে।তিনি বলেন, নিজেদের সম্পদ কাজে লাগিয়ে চিনির উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন। তাঁর দাবি, চিনিকলের অধীনে প্রায় ৭২০ বিঘা জমি পড়ে আছে। এত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কেন বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করতে হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।সরকারের সমালোচনা করে আমির হামজা বলেন, দেশে সার, বীজ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। তবে এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের যথেষ্ট মনোযোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, বরং দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা চলছে।

লিংক কপি করা হয়েছে!

কেন আটক করা হলো, প্রশ্ন ইমরান খান ও তাঁর সঙ্গীদের

বলিউড অভিনেতা ইমরান খান, তাঁর প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন এবং চাচাতো বোন জায়েন মারি খান ভারতের মুম্বাইয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তির পর আটকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের অভিযোগ, আটকের কারণ জানানো হয়নি, এমনকি বাড়ি ফেরার পথেও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। গত শনিবার মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের বাইরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেন ইমরান ও তার দুই সঙ্গী। কর্মসূচিতে আরও অনেকে যোগ দেন। বিকেল ৪টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইমরান ও তার সঙ্গীদের টেনেহিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তোলা হচ্ছে। পরে তাদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। মুক্তির পর ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে লেখা ওয়াশিংটন জানান, তারা নিরাপদে আছেন। পরে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়িতে ফিরে তিনজন পরস্পরকে জড়িয়ে ধরছেন। তবে মুক্তি পেলেও পুলিশের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লেখা। তার অভিযোগ, বাড়ি ফেরার জন্য ট্যাক্সি নিতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ চালকদের হুমকি দিচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। আটকের সময়কার অভিজ্ঞতা ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তুলে ধরেন জায়েন মারি খান। তার ভাষ্য, কেন তাদের আটক করা হয়েছে, তা জানতে চেয়েও পুলিশের কাছ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ইয়েলো গেট থানার কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে তাদের কিছু জানাননি। জায়েনের দাবি, পরে থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এক পুলিশ কর্মকর্তা তাদের পিছু নেন। আটকের কারণ জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা শুধু ‘দুই মিনিট’ বলে সময়ক্ষেপণ করেন। এরপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলতে থাকেন তিনি। অভিনেতা ইমরান খানের অভিযোগ, তাদের তিনজনকে পুলিশের গাড়িতে করে প্রায় দুই ঘণ্টা ঘোরানো হয়। কিন্তু আটকের কারণ জানানো হয়নি। আটকের ঘটনা নিয়ে রসিকতাও করেছেন এই অভিনেতা। পুলিশের গাড়িতে বসে নিজের একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, মনে হচ্ছে, আমাকে গাড়িতে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কেন আটক হয়েছিলেন ইমরান খান? প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বাইয়ে বিক্ষোভের আয়োজন করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে দেশটির বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। মুম্বাই পুলিশের ভাষ্য, আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে সিজেপির কর্মীদের দাবি, তারা ই-মেইলের মাধ্যমে অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো জবাব পাননি। মুম্বাইয়ের বাইরেও ভারতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে চার হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস

কন্যাশিশুদের অধিকার সুরক্ষার বার্তা ও তাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে আজ ১১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। ২০১২ সাল থেকে যাত্রা শুরু করা এই দিবসটি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী কন্যাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণামূলক দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘এন্ড চাইল্ড ম্যারেজ অ্যান্ড ইনভেস্ট ইন গার্লস রাইটস’ (বাল্যবিয়ে বন্ধ করুন এবং মেয়েদের অধিকার সুরক্ষায় বিনিয়োগ করুন)।এই প্রতিপাদ্যের মূল তাৎপর্য হলো কন্যাশিশুর সুরক্ষাকে কেবল একটি ক্ষতিকর প্রথা বন্ধ করার মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও নেতৃত্ব বিকাশের মতো মৌলিক অধিকারগুলোকে সমান্তরালে এগিয়ে নেওয়া। প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি উপলক্ষে দেশে দেশে নানা সভা, সেমিনার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত এক প্রস্তাবের মাধ্যমে এই দিবসটি ঘোষণা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর থেকে বিশ্বব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালিত হয়ে আসছে।

লালমনিরহাটে অবৈধ ব্যবসায়ীর কাছে সার বিক্রি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

লালমনিরহাটে অবৈধ ব্যবসায়ীর কাছে সার বিক্রি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

‎‎লালমনিরহাট প্রতিনিধি:‎‎লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চাঁদনী বাজার এলাকায়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক অনুমোদিত বীজ ও সার ডিলার মেসার্স রেহান সীডসের বিরুদ্ধে, কৃষক ব্যতীত অবৈধ ব্যবসায়ীর কাছে সার বিক্রির অপরাধে, ভ্রাম্যমাণ আদালত উক্ত ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। আদালত বিক্রিত ৬ বস্তা সার জব্দ করে, স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে।‎রোববার বিকেলে ৩ টার সময় অভিযান চলাকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ  উপস্থিত থেকে প্রসিকিউশন দাখিল করেন। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ‎রাকিবুল ইসলাম সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে এ অর্থদণ্ড প্রদান করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার টাকা আদায় করা হয়।এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ‎রাকিবুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে সার বিক্রি বন্ধে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে এবং জব্দ করা ছয় বস্তা সার স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ‎পুনরায় অবৈধভাবে সার বিক্রি করলে তার ডিলারশিপের লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে বলে জানানো হয়।লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ জানান, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, সারের সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করা এবং সার বিপণনে অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream