রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার

শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে শেখ হাসিনা সান্ত্বনা দিতেন এবং তাদের স্বজনদের ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিতেন। অথচ তার ভেতরেই গুমের সঙ্গে জড়িত থাকার হিংস্র মনোভাব লুকিয়ে ছিল বলে দাবি করেন তিনি।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্পিকার।হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের শেখ হাসিনা আশ্বস্ত করতেন যে তাদের স্বজনদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তিনি নিজেই জানতেন, নিখোঁজ ব্যক্তিরা কোথায় রয়েছেন। তার এসব আচরণ ও অভিনয়ের কারণে তখন জনগণ প্রকৃত বিষয়টি বুঝতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।স্পিকারের দাবি, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে গুমের ঘটনায় দেওয়া সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণের মাধ্যমে বিষয়গুলো এখন জনগণের সামনে পরিষ্কার হয়েছে। শেখ হাসিনাই গুমের নির্দেশদাতা ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।হাফিজ উদ্দিন বলেন, ১৭ বছরের কর্মকাণ্ডের কারণে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। একই সময়ে প্রধান বিচারপতি ও বায়তুল মোকাররম মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অনেকে দেশ ছেড়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, ক্যান্টনমেন্টে ৬০০ পুলিশ কর্মকর্তা আশ্রয় নিয়েছেন।সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার-নিপীড়নের অভিযোগ করেন। বেনজীরের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ নিজের পরিবারের সদস্যদের নামে নেওয়া এবং বনাঞ্চল দখলেরও অভিযোগ তোলেন তিনি।এ ছাড়া আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধেও বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ করেন স্পিকার। গ্রাম, ঢাকা ও বিদেশে তাদের সম্পদ রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, রাজনীতির নামে একের পর এক লুটপাটের কারণে দেশের মানুষ রাজনীতিবিদদের ওপর আস্থা হারিয়েছে।মতবিনিময় সভায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের তরুণ সমাজ চাইলে একটি দেশকে পরিবর্তন করা সম্ভব। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণরা তাদের সক্ষমতা পুরো বিশ্বকে দেখিয়েছে উল্লেখ করে তিনি এবার রাষ্ট্র ও দেশ পুনর্গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাসে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। শতভাগ সফলতা সম্ভব না হলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অন্তত ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি-বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগগুলোকে সমন্বিত করার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা ভাঙারি, কাগজ, প্লাস্টিক ও মাটির সামগ্রীতে পানি জমে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। তাই সবাই একসঙ্গে সচেতনভাবে কাজ করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।তিনি বলেন, যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেললে ধীরে ধীরে তা জমে বড় ধরনের বর্জ্যে পরিণত হয় এবং সেখান থেকে রোগজীবাণু ছড়াতে পারে। এতে ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন। তাই নিজেকে, পরিবারকে, সমাজকে এবং দেশকে সুস্থ রাখতে পরিচ্ছন্নতার প্রতি সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ কিংবা কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে ব্যয় করলে দ্রুত পরিবর্তন আনা সম্ভব। একই সঙ্গে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে মানুষকে সচেতন ও নিরুৎসাহিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, আগামী দিনের মূল লক্ষ্য হতে হবে—‘কাজ, কাজ আর কাজ’ এবং ‘পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন আর পরিচ্ছন্নতা’।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন কমিটি’র আহ্বায়ক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

হাম উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাতেই মারা গেছেন পাঁচজন। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯ জনে।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৮৫৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৭৭ জন, চট্টগ্রামে ২০০, সিলেটে ১২১, বরিশালে ৬০, রাজশাহীতে ৫৫, ময়মনসিংহে ৩৭, খুলনায় ৩১ এবং রংপুরে চারজন রয়েছেন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ১ লাখ ৫০ হাজার ২০২ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৬৫ জন।এদিকে একই সময় থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৩৮ জনে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় ২০ হাজার ৬ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশীয় উদ্ভাবনকে ল্যাবরেটরি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রূপান্তর এবং সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।আজ সকালে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন তিনি।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ মেলায় দেশীয় উদ্ভাবক ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের একটি টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।মেলায় সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্বতন্ত্র গবেষক, শিক্ষার্থী, নতুন স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান (এসএমই) এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা অংশ নিয়েছেন। আয়োজনে প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি নতুন ও সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন প্রদর্শিত হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা জানান, তৃণমূল পর্যায়ে বহু সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি ও ধারণা তৈরি হলেও নীতি সহায়তা, প্রাথমিক তহবিল ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাবে তা বাস্তবে রূপ পায় না। প্রশাসনিক ও আর্থিক এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ করাই এ প্রদর্শনীর প্রধান লক্ষ্য।আগামীকাল মেলার দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য উদ্ভাবন: সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক এক বিশেষ আন্তর্জাতিক সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেয়ার প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে। সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।এই মেলায় কৌশলগত অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি), ফরেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফআইসিসিআই) এবং কারিগরি অংশীদার হিসেবে রয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।

সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি বিআরজেইউর

সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি বিআরজেইউর

নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর পেছনে কোনো দায় বা প্ররোচনা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিআরজেইউ।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান সংগঠনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও মহাসচিব শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, পুলক চ্যাটার্জির রেখে যাওয়া পাঁচটি চিরকুটে তার চাকরি ও পাওনা টাকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষ করে দৈনিক সমকালে তার পাওনা টাকা আদায় করে পরিবারের হাতে দেওয়ার অনুরোধটি বিষয়টিকে গভীরভাবে তদন্তের দাবি রাখে।বিআরজেইউ নেতারা বলেন, ২০২৩ সাল থেকে পুলক চ্যাটার্জির পাওনা টাকা পরিশোধ না হয়ে থাকলে সেটি তার পারিবারিক ও চিকিৎসাজনিত সংকটকে কতটা প্রভাবিত করেছে, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একজন সাংবাদিক আর্থিক ও পেশাগত সংকটে পড়ে নিজের জীবনের অবসান ঘটাবেন—এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো দায় পাওয়া গেলে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।তারা আরও বলেন, পুলক চ্যাটার্জি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন। তিনি দৈনিক যুগান্তর ও দৈনিক সমকালে ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও তিনি সাংবাদিক সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার মতো একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিকের এমন মৃত্যু পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।বিবৃতিতে বিআরজেইউ নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর স্থান, সময়, চিরকুটের বক্তব্য, তার দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, চাকরিচ্যুতি এবং পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে তদন্ত করা জরুরি। তিনি কেন দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরো অফিসে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তার মৃত্যুর ঘটনা ঘটল—এ বিষয়টিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।পাঁচ চিরকুটে পাওনা টাকার প্রসঙ্গ:পুলিশের উদ্ধারের কথা জানানো পাঁচটি চিরকুটের মধ্যে স্ত্রী ও মেয়ের উদ্দেশ্যে লেখা চিরকুটে পারিবারিক বিষয় ও নিজের অনুপস্থিতিতে পরিবারের প্রতি দায়িত্বের কথা উল্লেখ রয়েছে। ছোট ভাই দীপক চ্যাটার্জি, বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন এবং দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্বে থাকা সুমন চৌধুরীর উদ্দেশ্যেও পৃথক বার্তা রেখে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।সহকর্মী সুমন চৌধুরীর উদ্দেশ্যে লেখা চিরকুটে পুলক চ্যাটার্জি দৈনিক সমকালে তার পাওনা টাকা আদায় করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়টিকেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিআরজেইউ।বিআরজেইউ নেতৃবৃন্দ বলেন, পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুকে শুধু একটি ব্যক্তিগত ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না। তার রেখে যাওয়া চিরকুট, চাকরিজীবনের পরিস্থিতি, পাওনা টাকা, চিকিৎসা ব্যয় এবং মৃত্যুর আগে তার অবস্থান—সবকিছু গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বেতন-পাওনা পরিশোধ, চাকরির নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তারা।

১১ ঘন্টা আগে
<span class='techtaranga_subtitle'> সাদপন্থীদের প্রবেশ বন্ধসহ ৮ দফা দাবি / </span>টঙ্গী ইজতেমা মাঠে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশের সম্মেলন

সাদপন্থীদের প্রবেশ বন্ধসহ ৮ দফা দাবি / টঙ্গী ইজতেমা মাঠে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশের সম্মেলন

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পূর্ববর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল এবং সাদপন্থীদের টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে কার্যক্রম ও প্রবেশ বন্ধ রাখাসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছে ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশের সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ওলামায়ে কেরাম, মাশায়েখ, বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার শীর্ষস্থানীয় আলেম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ, তাবলিগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও মাশায়েখ টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা, দাওয়াত ও তাবলিগের চলমান পরিস্থিতি এবং সরকারের করণীয় নিয়ে বক্তব্য দেন।সম্মেলন থেকে ঘোষিত ৮ দফা দাবি হলো:১. টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে দায়ের করা জিআর ও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।২. টঙ্গীর হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ও আহতদের বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।৩. হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যে পক্ষেরই হোক, তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না। ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।৪. টঙ্গী ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের বিষয়ে পূর্ববর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে হবে। সাদপন্থীদের টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে ইজতেমা বা তাবলিগের কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানানো হয়।৫. সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাদপন্থীরা টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ বা কোনো কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এ ধরনের কার্যক্রম প্রতিহত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।৬. বিগত ২০১৮ এবং ২০২৪ মামলায় দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি না হওয়ায় অপরাধিরা মনে করতেছে তারা এরকম অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে সেই লক্ষে গত দুই তিন দিন আগে ওয়াসিফুল ইসলামের ফরেন করেস্পন্ডার হিসেবে দাবিকৃত রেজা আরিফের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিদেশী নাগরিকদের কাছে সাদপন্থিদের ইজতেমা টঙ্গী ময়দানে দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রি এবং বিদেশী এম্বাসি গুলোতে এপ্লিকেশন দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয় (কপি সংযুক্ত) এবং ওলামায় কেরামদের বিষয়ে বিদেশীদের কাছে নেতিবাচক বার্তা প্রদান করা হয় এ ধরনের মানহানিকর বার্তা প্রদানের জন্য দায়ী ওয়াসিফুল ইসলাম, রেজা আরিফ, ওয়াসিফপুত্র ওসামা এবং সায়েম এদেরকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র বিরোধী মামলা দেওয়া হোক।৭. দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখ ও মুফতিয়ানে কেরামের পরামর্শের ভিত্তিতে দাওয়াত ও তাবলিগের চলমান সমস্যাগুলো নিরূপণ করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। এ বিষয়ে দেশের বৃহৎ আলেম সমাজের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়।৮. দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, দ্বীনি পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারকে বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে এবং দাওয়াত ও তাবলিগের বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।বক্তারা বলেন, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে বিচারহীনতার সংস্কৃতির সুযোগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে।সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।লিখিত বক্তব্যে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে কোনো সংঘাত বা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীকে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।বক্তব্যে বিশ্ব ইজতেমা শুরায়ী নিজামের অধীনে আলেমদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার পাশাপাশি কাকরাইল মারকাজের কার্যক্রমও ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার দাবি জানানো হয়।এ ছাড়া মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিভিন্ন বক্তব্য ও ধর্মীয় বিষয়ে তাঁর অবস্থান নিয়ে ওলামায়ে কেরামের আপত্তির কথা তুলে ধরা হয়। তাঁকে সংশোধনের জন্য দারুল উলুম দেওবন্দের মুরব্বিসহ বিভিন্ন আলেমের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা হয়। লিখিত বক্তব্যে মাওলানা সাদ তওবা করে দেওবন্দের মুরব্বিদের কাছে রুজু না করা পর্যন্ত তাঁকে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।সম্মেলনে ওলামা-মাশায়েখরা বলেন, দাওয়াত ও তাবলিগ একটি দ্বীনি মেহনত। এ সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে আলেমদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।বক্তারা বলেন, দেশের লক্ষ লক্ষ ওলামা-মাশায়েখ, ছাত্র-জনতা ও তাবলিগের সাথীদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পূর্ববর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা দেশের বৃহত্তর আলেম সমাজ ও তাবলিগের সাথীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করেন।সম্মেলনে উপস্থিত ওলামা-মাশায়েখরা বলেন, “আমাদের তথা দেশের বৃহত্তর তাওহিদী জনগোষ্ঠীর যৌক্তিক দাবি মেনে না নিলে আজকের সম্মেলনে উপস্থিত সারা দেশের তথা ৬৪ জেলার দ্বীন সচেতন মুসল্লি ও ওলামায়ে কেরাম দ্বীন রক্ষার স্বার্থে এবং দেশে স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে পরবর্তী বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, আল্লামা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা শায়খ সাজিদুর রহমান, মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন হাটহাজারী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ ফরিদাবাদ, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা আব্দুল আউয়াল নারায়ণগঞ্জ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা ইকরাম হুসাইন ওয়াদুদী পটিয়া, মাওলানা শাব্বির আহমদ রশীদ কিশোরগঞ্জ, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী ময়মনসিংহ, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা খুবাইব বিন তৈয়ব জিরি, মাওলানা ফয়জুল্লাহ মাদানী নগর, মাওলানা আনোয়ারুল করীম যশোর, মাওলানা আবদুল হক হক্কানি বগুড়া, মাওলানা মুশতাক আহমদ খুলনা, মাওলানা আবদুল হালিম বরিশাল, মুফতি মুহাম্মদ আলী আফতাবনগর, মাওলানা আব্দুল বাসেত খান, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি লালবাগ, মাওলানা নিজামুদ্দিন নোয়াখালী, মাওলানা লেহাজ উদ্দিন গাজীপুর, মাওলানা নিয়ামাতুল্লাহ আল ফরিদী, মাওলানা কামরুজ্জামান ফরিদপুর, মুফতি বশিরুল্লাহ মাদানীনগর, মুফতি জাবের কাসেমী, মাওলানা নজরুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ, মুফতি নুরুল্লাহ বরিশাল, মাওলানা আব্দুল হামিদ কুষ্টিয়া, মাওলানা সাঈদ নূর মানিকগঞ্জ এবং মাওলানা আবু বকর শরীয়তপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার আলেম ও মাশায়েখ।সম্মেলনে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মাওলানা নাজমুল হোসাইন কাসেমী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মুফতি কেফায়েত উল্লাহ আজহারী ও মাওলানা লোকমান মাজহারী।সম্মেলনের শেষে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও দ্বীনের সঠিক মেহনতের জন্য দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে কোনো পক্ষের আবেগ দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে দেশের বৃহৎ আলেম সমাজের মতামত বিবেচনা করে বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

১২ ঘন্টা আগে
উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল

উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল

উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব গবেষণা ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল। প্রায় ২৫ বছরের গবেষণা ও শিক্ষকতা জীবনে তিনি উদ্ভিদের রোগ ব্যবস্থাপনা, জৈবিক নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, রোগজীবাণু ও উদ্ভিদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করে আসছেন।তাঁর নেতৃত্বে দেশীয় মাটি থেকে সংগৃহীত ট্রাইকোডারমা অ্যাসপ্যারেল্লাম অণুজীব ব্যবহার করে ‘পিজি ট্রাইকোডারমা (প্ল্যান্ট গার্ড ট্রাইকোডারমা)’ নামে একটি উদ্ভাবনী জৈব-প্রযুক্তি পণ্য উন্নয়ন করা হয়েছে। এই প্রযুক্তিটি একই সঙ্গে জৈব-ছত্রাকনাশক ও জৈব-সার হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে কৃষিতে রাসায়নিক উপকরণের ব্যবহার কমিয়ে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন হলো পিজি ট্রাইকোডারমা। দেশীয় মাটি থেকে বাছাই করা ট্রাইকোডারমা অ্যাসপ্যারেল্লাম অণুজীবকে কাজে লাগিয়ে তৈরি এই প্রযুক্তির কার্যকর স্ট্রেইন হিসেবে এমবিসিটি উল্লেখ করা হয়েছে, যার এনসিবিআই জেনব্যাঙ্ক অ্যাকসেশন নম্বর-ওআর ১০১২৫৬২৩। পণ্যটির ফর্মুলেশন ১.৫ শতাংশ ভেটেবল পাউডার এবং এটি জৈব-ছত্রাকনাশক ও জৈব-সার হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি।বিভিন্ন ফসলে মাঠপর্যায়ের পরীক্ষায় এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। গবেষণায় টমেটোতে ৪০–৭০ শতাংশ, আলুতে ৩০-৪০ শতাংশ, ধানে ৩০-৫০ শতাংশ এবং গমে ৩০-৩৫ শতাংশ পর্যন্ত ফলন বৃদ্ধির সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পিজি ট্রাইকোডারমা ব্যবহারের মাধ্যমে রাসায়নিক সারের ব্যবহার প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হতে পারে বলে জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমকক্ষ-পর্যালোচিত (পিয়ার-রিভিউড) জার্নালে ৫৫টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। ২০২৪ সালে ‘প্ল্যান্ট ফিজিওলজি’ জার্নালেও তাঁর গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার পাশাপাশি তিনি ২০১১ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বর্ণপদক অর্জন করেন এবং ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জাপান সরকারের মনবুকাগাকুশো মেক্সট ফেলোশিপ লাভ করেন।তাঁর শিক্ষাজীবনও উল্লেখযোগ্য। তিনি জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৩ সালে উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিষয়ে পিএইচডি এবং ২০১০ সালে কৃষি বিজ্ঞান (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব) বিষয়ে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৩ সালে উদ্ভিদ রোগতত্ত্বে এমএস এবং ২০০১ সালে বিএসসি কৃষি (সম্মান) সম্পন্ন করেন। বিএসসি পর্যায়ে ৪৬৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।২০০২ সালে প্রভাষক (লেকচারার) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে তিনি পর্যায়ক্রমে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শহীদ জামাল হোসেন হলের প্রভোস্ট, বীজ রোগতত্ত্ব কেন্দ্র -এর সাবেক পরিচালক এবং উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান হিসেবেও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থী সমিতির সভাপতি হিসেবেও ২০১১-২০১২ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে উদ্ভিদ রোগ শনাক্তকরণ ও রোগ ব্যবস্থাপনা, জৈবিক নিয়ন্ত্রণ, অণুজীবীয় জৈব-নিয়ন্ত্রণ উপাদান, ট্রাইকোডারমা এবং ব্যাকটেরিয়াল জৈব-উপাদান, অণুজীবীয় বালাইনাশক ফর্মুলেশন, উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, পোষক-রোগজীবাণু পারস্পরিক সম্পর্ক, বীজ রোগতত্ত্ব ও বীজবাহিত ছত্রাক। পাশাপাশি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি উন্নয়নেও তিনি কাজ করছেন।গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি উন্নয়নে বিশেষ অবদানের পাশাপাশি স্বর্ণপদক এবং জাপানিজ গভর্নমেন্ট মনবুকাগাকুশো মেক্সট ফেলোশিপসহ বিভিন্ন স্বীকৃতি তাঁর গবেষণা ও একাডেমিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত।প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপনা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। দেশীয় অণুজীবভিত্তিক প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং রাসায়নিক উপকরণের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণা কার্যক্রম কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।

১২ ঘন্টা আগে
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সন্ত্রাসী চক্র মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার অপচেষ্টা করছে: খন্দকার মারুফ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সন্ত্রাসী চক্র মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার অপচেষ্টা করছে: খন্দকার মারুফ

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন অভিযোগ করেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি ‘সন্ত্রাসী চক্র’ আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলায় সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, সহিংসতা কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনো অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। শান্তিপ্রিয় মানুষও এসব কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, শান্তিপ্রিয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইনসম্মত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।তিনি বলেন, তাদের এই সংগ্রাম কোনো প্রতিহিংসার লড়াই নয়; বরং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য।দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলার মানুষের নিরাপদ জীবন এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি রক্ষা নিজেদের অঙ্গীকার উল্লেখ করে খন্দকার মারুফ বলেন, কোনো উসকানি, ষড়যন্ত্র বা অপতৎপরতা এই অঙ্গীকার থেকে তাদের সরাতে পারবে না।আইনের শাসন, জনগণের ঐক্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই সব ধরনের ‘অপশক্তির’ জবাব দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শেষে দেশের মানুষের জন্য আল্লাহর সহায়তা কামনা করেন খন্দকার মারুফ হোসেন।

১৫ ঘন্টা আগে
শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার

শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার

শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে শেখ হাসিনা সান্ত্বনা দিতেন এবং তাদের স্বজনদের ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিতেন। অথচ তার ভেতরেই গুমের সঙ্গে জড়িত থাকার হিংস্র মনোভাব লুকিয়ে ছিল বলে দাবি করেন তিনি।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্পিকার।হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের শেখ হাসিনা আশ্বস্ত করতেন যে তাদের স্বজনদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তিনি নিজেই জানতেন, নিখোঁজ ব্যক্তিরা কোথায় রয়েছেন। তার এসব আচরণ ও অভিনয়ের কারণে তখন জনগণ প্রকৃত বিষয়টি বুঝতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।স্পিকারের দাবি, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে গুমের ঘটনায় দেওয়া সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণের মাধ্যমে বিষয়গুলো এখন জনগণের সামনে পরিষ্কার হয়েছে। শেখ হাসিনাই গুমের নির্দেশদাতা ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।হাফিজ উদ্দিন বলেন, ১৭ বছরের কর্মকাণ্ডের কারণে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। একই সময়ে প্রধান বিচারপতি ও বায়তুল মোকাররম মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অনেকে দেশ ছেড়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, ক্যান্টনমেন্টে ৬০০ পুলিশ কর্মকর্তা আশ্রয় নিয়েছেন।সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার-নিপীড়নের অভিযোগ করেন। বেনজীরের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ নিজের পরিবারের সদস্যদের নামে নেওয়া এবং বনাঞ্চল দখলেরও অভিযোগ তোলেন তিনি।এ ছাড়া আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধেও বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ করেন স্পিকার। গ্রাম, ঢাকা ও বিদেশে তাদের সম্পদ রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, রাজনীতির নামে একের পর এক লুটপাটের কারণে দেশের মানুষ রাজনীতিবিদদের ওপর আস্থা হারিয়েছে।মতবিনিময় সভায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

১৫ ঘন্টা আগে
আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি: প্রধানমন্ত্রী

আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের তরুণ সমাজ চাইলে একটি দেশকে পরিবর্তন করা সম্ভব। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণরা তাদের সক্ষমতা পুরো বিশ্বকে দেখিয়েছে উল্লেখ করে তিনি এবার রাষ্ট্র ও দেশ পুনর্গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাসে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। শতভাগ সফলতা সম্ভব না হলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অন্তত ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি-বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগগুলোকে সমন্বিত করার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা ভাঙারি, কাগজ, প্লাস্টিক ও মাটির সামগ্রীতে পানি জমে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। তাই সবাই একসঙ্গে সচেতনভাবে কাজ করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।তিনি বলেন, যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেললে ধীরে ধীরে তা জমে বড় ধরনের বর্জ্যে পরিণত হয় এবং সেখান থেকে রোগজীবাণু ছড়াতে পারে। এতে ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন। তাই নিজেকে, পরিবারকে, সমাজকে এবং দেশকে সুস্থ রাখতে পরিচ্ছন্নতার প্রতি সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ কিংবা কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে ব্যয় করলে দ্রুত পরিবর্তন আনা সম্ভব। একই সঙ্গে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে মানুষকে সচেতন ও নিরুৎসাহিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, আগামী দিনের মূল লক্ষ্য হতে হবে—‘কাজ, কাজ আর কাজ’ এবং ‘পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন আর পরিচ্ছন্নতা’।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন কমিটি’র আহ্বায়ক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

১৫ ঘন্টা আগে
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানি সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে রাজবাড়ীর কলিমহড় গ্রামে নিজের বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।তিতুমীর বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন গ্যাসকূপ খনন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে পানি সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।বিদ্যুৎ খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রাহকদের শুধু বিদ্যুতের ভোক্তা হিসেবে না দেখে উৎপাদনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত করা গেলে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকরা নিজেরাই বিদ্যুৎ উৎপাদনে অংশ নিতে পারতেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য অতীত সরকারের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিকে দায়ী করেন তিতুমীর। তার ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি সংকটকে আরও তীব্র করেছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা লোকসান করেছে বলেও জানান তিনি।তিনি বলেন, গ্যাস ব্যবহার করে তুলনামূলক কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। তাই দেশে নতুন গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রায় ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা করা হয়েছে।তিতুমীর আরও বলেন, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কাজে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড বাপেক্সকে কাজে লাগানো হবে। অতীতের সরকার স্বজনপ্রীতির কারণে বাপেক্সের সক্ষমতাকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

১৫ ঘন্টা আগে
দুর্গাপূজায় ইলিশ চায় ভারত

দুর্গাপূজায় ইলিশ চায় ভারত

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কলকাতার মাছ আমদানিকারকদের সংগঠন ‘ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে ইলিশ রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে পুনরায় আমদানির সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।চিঠিতে সংগঠনটি জানায়, ১৯৯৬ সাল থেকে বেনাপোল ও আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত ইলিশ আমদানি করে আসছেন তারা। তবে ২০১২ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ সরকার ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন আমদানিকারকরা।তাদের দাবি, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিবছর সীমিত সময়ের জন্য ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে মাত্র এক মাসের এই বিশেষ অনুমতি তাদের ব্যবসায়িক চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।আমদানিকারকরা চিঠিতে দুই বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি ও খাবারের ঐতিহ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসাম ও ত্রিপুরাতেও বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।এ অবস্থায় ইলিশ রপ্তানির ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে বলেও চিঠিতে আশা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

১৬ ঘন্টা আগে
বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে অক্সফোর্ড একিউএ ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস আয়োজিত ‘স্কুল লিডারস কনফারেন্স ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীরা কোন মাধ্যমে পড়াশোনা করছে সেটি ভিন্ন বিষয় হলেও সবার মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে একটি ন্যূনতম অভিন্ন মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে কারিকুলাম, অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।তিনি বলেন, বিশ্বের ভালো শিক্ষাব্যবস্থার অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ শিক্ষা নেবে। তবে ভবিষ্যতে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য, যা অন্য দেশগুলোর জন্যও অনুসরণীয় হয়ে উঠবে।প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ে কার্যকর পাঠদানের সময়, শ্রেণিকক্ষের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার্থীর সংখ্যা, অবকাঠামো এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলোতে ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থায় অ্যাক্টিভিটি-বেজড লার্নিং ও খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান ববি হাজ্জাজ। পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমের প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা এবং লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের কার্যকর ব্যবহার থেকেও শিক্ষা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।নতুন কারিকুলাম তৈরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে কারিকুলাম, অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি—এই চারটি ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষার মৌলিক মানের বৈষম্য কমিয়ে একটি সমতাভিত্তিক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।অনুষ্ঠানে অক্সফোর্ড একিউএ’র বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহীন রেজা সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধি এবং ঢাকার বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

১৭ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশীয় উদ্ভাবনকে ল্যাবরেটরি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রূপান্তর এবং সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।আজ সকালে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন তিনি।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ মেলায় দেশীয় উদ্ভাবক ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের একটি টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।মেলায় সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্বতন্ত্র গবেষক, শিক্ষার্থী, নতুন স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান (এসএমই) এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা অংশ নিয়েছেন। আয়োজনে প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি নতুন ও সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন প্রদর্শিত হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা জানান, তৃণমূল পর্যায়ে বহু সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি ও ধারণা তৈরি হলেও নীতি সহায়তা, প্রাথমিক তহবিল ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাবে তা বাস্তবে রূপ পায় না। প্রশাসনিক ও আর্থিক এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ করাই এ প্রদর্শনীর প্রধান লক্ষ্য।আগামীকাল মেলার দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য উদ্ভাবন: সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক এক বিশেষ আন্তর্জাতিক সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেয়ার প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে। সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।এই মেলায় কৌশলগত অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি), ফরেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফআইসিসিআই) এবং কারিগরি অংশীদার হিসেবে রয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।

১৭ ঘন্টা আগে
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেছেন, ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেছেন, ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

'প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চায় বলেই আওয়ামী লীগ মিছিল দিতে পারে'

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।পোস্টে সারজিস আলম সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, “প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চায় বলেই… পতিত স্বৈরাচার নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মিছিল দিতে পারে।” তিনি অভিযোগ তোলেন যে, প্রশাসনের নজরদারি ও সদিচ্ছার অভাবেই রাজপথে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ ধরনের সাহস দেখাচ্ছে।শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কের একটি সরু গলিতে ১৫০ থেকে ২০০ জন নেতাকর্মী একত্রিত হয়ে হঠাৎ ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টা চালায়।মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাল্টা দুটি রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে মিছিলটি তছনছ করে দেয় এবং এলাকাটি কর্ডন করে নেয়।রাজধানীর উচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টিত কূটনৈতিক এলাকা গুলশানে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির এমন ঝটিকা উপস্থিতি এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

লিংক কপি করা হয়েছে!

মুসলিমদের চেয়ে হিন্দুরাই বেশি গরুর মাংস খায়: তিথি বসু

বাংলাদেশের খাবারের প্রশংসা করতে গিয়ে প্রকাশ্যে গরুর মাংস (বিফ) খাওয়ার কথা স্বীকার করে নেট দুনিয়ায় তীব্র কটাক্ষ ও বিতর্কের মুখে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। এমতাবস্থায় প্রবীণ এই অভিনেতার সমর্থনে মতামত প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ‘মা’ ধারাবাহিক খ্যাত অভিনেত্রী ‘ঝিলিক’ ওরফে তিথি বসু।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আনন্দবাজার ও হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার পৃথক প্রতিবেদন থেকে এই বিতর্কের কথা জানা যায়।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের আতিথেয়তা ও রূপালি জগতের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ওপারের খাবার বিশেষ করে ইলিশ ও বিফ রান্নার ভুয়সী প্রশংসা করেন বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর একশ্রেণীর নেটিজেনরা হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ তুলে প্রবীণ এই অভিনেতার প্রতি কটূক্তি শুরু করেন।বিতর্ক উসকে দিয়ে অভিনেত্রী দাবি করেন, কলকাতার বিনোদন জগতের অনেকেই প্রকাশ্যে না বললেও আড়ালে বিফ খেয়ে থাকেন। তিনি বলেন, “আমাদের ধারাবাহিকেই এমন অনেক ব্রাহ্মণ শিল্পী ছিলেন যারা সেটে বসে গরুর মাংসের গল্প করতেন। ২০১০ সাল নাগাদ কলকাতার জনপ্রিয় জায়গায় যখন গরুর মাংস বিক্রি হতো, সেখানে অনেক হিন্দু ও খ্যাতনামা গায়ক-কর্মকর্তাদের ভিড় করতে দেখেছি।”খাদ্যাভ্যাস নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করতে গিয়ে তিথি যোগ করেন, “বাস্তব এটাই যে বহু মানুষ গরুর মাংস খায়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মুসলিমদের চেয়ে হিন্দুরাই বেশি খায়। যারা প্রকাশ্যে বলে না, তারাও আড়ালে খায়। কার কী ধর্ম বা খাদ্যাভ্যাস—তা অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।”তিথি বসুর এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ওপর চড়াও হয়েছেন ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “তুমিও বিফ খাও? তোমার ওপর থেকে সব শ্রদ্ধা চলে গেল”, কিংবা “হিন্দুর নামে তুমি কলঙ্ক!”। কেউ কেউ পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন, এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা না বলাই তাঁর জন্য ভালো ছিল। সব মিলিয়ে বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর সমর্থনে কথা বলতে গিয়ে ওপার বাংলার সিনেপাড়ায় এখন আলোচনার শীর্ষে তিথি বসু।

দুপুরে খাবার পরেই কেন ঘুম আসে?

দুপুরের খাবার পেট পুরে খাওয়ার পরেই কি চোখে ভারী হয়ে ঘুম নেমে আসে? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় খাবারের পর তৈরি হওয়া এই তীব্র অলসতা বা ক্লান্তিবোধকে বলা হয় ‘ফুড কোমা’ বা ‘পোস্টপ্রান্ডিয়াল সোমনোলেন্স’। কর্মব্যস্ত দিনের মাঝে হুট করে নেমে আসা এই ঝিমুনি ভাব কাজের তীব্র ব্যাঘাত ঘটায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যতালিকা ও দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের কারণে শরীর হঠাৎ এই বিশ্রামাবস্থায় চলে যায়।সাক্ষাৎকারে বিশেষজ্ঞ ডা. আইলিন ক্যান্ডে ব্যাখ্যা করেছেন খাবারের পর এমন তন্দ্রাচ্ছন্নতা তৈরির মূল কারণ এবং তা থেকে সতেজ থাকার কৌশল।💤 খাবারের পর কেন ঘুম পায়?সাধারণত খাবার খাওয়ার ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে এই তন্দ্রাভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এর নেপথ্যে রয়েছে প্রধান কয়েকটি শারীরিক ও জৈবিক প্রক্রিয়া:হজমপ্রক্রিয়া ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র: খাওয়ার পর শরীরের রক্তপ্রবাহের বড় অংশ অন্ত্রের দিকে প্রবাহিত হয় এবং স্নায়ুতন্ত্র শরীরকে ‘বিশ্রাম ও হজম’ (Rest and Digest) মোডে নিয়ে যায়।রক্তে শর্করার ওঠানামা (রিঅ্যাকটিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া): অতিরিক্ত পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট (যেমন: সাদা ভাত, মিষ্টি, পেস্ট্রি বা চিনিযুক্ত পানীয়) খেলে রক্তে হুট করে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। তা নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়লে পরবর্তীতে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত নেমে যায়, যাকে রিঅ্যাকটিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। এর ফলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত বোধ করে।হরমোনের প্রভাব: প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার থেকে শরীর ‘ট্রিপটোফ্যান’ তৈরি করে, যা পরে ঘুম ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন সেরোটোনিন ও মেলাটোনিনে রূপান্তরিত হয়।অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার: অতি-চর্বিযুক্ত খাবার পাকস্থলী থেকে খাবার খালি হওয়ার গতি ধীর করে দেয় এবং বিপাকীয় চাপ বাড়ায়, ফলে ঝিমুনি ভাব তৈরি হয়।এছাড়া রাতে অপর্যাপ্ত ঘুম, দেহের অভ্যন্তরীণ সার্কাডিয়ান ছন্দ (Circadian Rhythm), পানিশূন্যতা ও কিছু ওষুধের প্রভাবেও দুপুরবেলার এই ঘুমভাব দ্বিগুণ হতে পারে। দুপুরে সতেজ ও কর্মক্ষম থাকার উপায়বিষয়করণীয়সুষম খাদ্য নির্বাচনখাবারে গোটা শস্য (Whole Grains), হালকা প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির পরিমিত সমন্বয় রাখুন।পরিশোধিত কার্ব কমানোঅতিরিক্ত সাদা ভাত, প্রক্রিয়াজাত মিষ্টি কিংবা কোমল পানীয় পরিহার করে শাকসবজি ও ফাইবারের পরিমাণ বাড়ান।একবারে বেশি না খাওয়াদুপুরে ভারী খাবারের বদলে পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।কখন এটি শারীরিক জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে?ভারী খাবারের পর সাময়িক ক্লান্তি সাধারণ হলেও, খাবারের পরিমাণ নির্বিশেষে যদি প্রতিবারই তীব্র ক্লান্তি আসে এবং তার সাথে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা বারবার প্রস্রাবের বেগ।অস্বাভাবিকভাবে ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়া।চোখে ঝাপসা দেখা বা ঘন ঘন মনোযোগ হারিয়ে ফেলা।এ জাতীয় দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গগুলোর নেপথ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা অন্য কোনো সুপ্ত নিদ্রাহীনতার ব্যাধি (Sleep Apnea) থাকতে পারে।

কক্সবাজারে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

কক্সবাজারে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

কক্সবাজার সদরে অভিযান চালিয়ে মাদক মামলায় ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এবং একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মোঃ কামাল হোসেনকে (২৫) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৫। গতকাল বিকেলে গোপন সংবাদে এই অভিযান পরিচালিত হয়।গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কক্সবাজার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড তারাবনিয়াছড়া মসজিদ সংলগ্ন রফিকের নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের সামনে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক সাজাপ্রাপ্ত আসামি অবস্থান করছে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিত র‌্যাব অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।গ্রেফতার কামাল টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পশ্চিম সাতঘরিয়া পাড়ার হোসেন আলী পুতিয়ার সন্তান। প্রাথমিক অনুসন্ধান ও মামলার বিবরণ মতে জানা যায়, ধৃত আসামির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সিএমপি কর্ণফুলী থানা, চন্দনাইশ থানা ও কক্সবাজারের রামু থানায় একাধিক মাদক মামলা ও সাজা পরোয়ানা রয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত এই আসামির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream