রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

ক্যালিফোর্নিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো শহরে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো দুজন। এএনআই এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সিয়েরা স্কাই পার্ক বিমানবন্দরের কাছে ব্লাইথ এভিনিউ এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ফ্রেসনো ফায়ার বিভাগের বরাত দিয়ে এএনআই নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। ফ্রেসনো ফায়ার বিভাগ জানায়, আহত দুজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে বিমানটি কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে সেটি তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফ্রেসনো পুলিশ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এবং নর্থ সেন্ট্রাল ফায়ার বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দুর্ঘটনার কারণে আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক কম্পানি (পিজিই) ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎবিভ্রাটের মানচিত্র অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়। হতাহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি মার্কিন কর্তৃপক্ষ। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার কারণও জানা যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে জনভোগান্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

দেশে চলমান তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের যে সীমাহীন কষ্ট হচ্ছে, তার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে এই সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের একটি বিশেষ দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর ফার্মগেটস্থ বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কাইব) মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সরকারপ্রধান এই দুঃখ প্রকাশ ও নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন।আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আজকে যেহেতু বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছে, সেহেতু দেশের বহু শিল্প-কারখানার মালিকসহ সাধারণ মানুষ এই জ্বালানি সমস্যায় কষ্ট পাচ্ছেন—আমি এবং আমার দলের পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জবাবদিহিতামূলক। তাই বিগত স্বৈরাচারী শাসনের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ ও সংকটকে স্রেফ অজুহাত বা ‘এক্সকিউজ’ হিসেবে না দেখিয়ে বাস্তবতাকে স্বীকার করে কাজ করাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে জানান, এই জ্বালানি সংকট নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নে কিছু সময়ের প্রয়োজন। তবে এমন একটি সুদৃঢ় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলেও দেশের মানুষকে আর এমন ক্রান্তিকালের মুখোমুখি হতে না হয়।‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই আলোচনা সভার শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সব প্রয়াত নেতাকর্মী ও বীর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও অংশ নেন—মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, ড. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং ইসমাইল জবিউল্লাহ প্রমুখ।

হাসিনাকে কেন ফেরত দিচ্ছে না ভারত?

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পরোয়ানা জারি ও রায় ঘোষণার পর ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ বন্দি বিনিময় (Extradition) চুক্তির আওতায় তাকে প্রত্যর্পণের এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ভারতীয় শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দু-র এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ভারতকে এখনই হাসিনাকে হস্তান্তরে বাধ্য করা যাবে না।২০১৩ সালের বন্দি বিনিময় চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনো বিচার বা মামলা যদি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হয় কিংবা অভিযুক্তের অপরাধ ‘রাজনৈতিক প্রকৃতির’ বলে মনে হয়, তবে সংশ্লিষ্ট দেশকে ফেরত দিতে বাধ্য নয় অপর পক্ষ। চুক্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচারে যদি শতভাগ নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার বজায় না থাকে, তবে প্রত্যর্পণ আবেদন খারিজ করা সম্ভব। অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে মামলা পরিচালনা করা এবং ট্রাইব্যুনাল থেকে চূড়ান্ত সাজা বা মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন রয়েছে।ভারতের ১৯৬২ সালের নিজস্ব ‘প্রত্যর্পণ আইন’ (Extradition Act 1962) অনুযায়ী সাজানো বা রাজনৈতিক বিচারের ক্ষেত্রে কাউকে অন্য রাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া আটকানোর আইনি বিধান রয়েছে।দিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান:আইনি ব্যাখ্যার পাশাপাশি নতুন দিল্লির রাজনৈতিক হিসেব-নিকাশকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। সংকটের সময়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া কোনো সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানকে সাজা খাটার জন্য ঢাকা কর্তৃপক্ষের হাতে সোপর্দ করা হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের কূটনৈতিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হতে পারে।ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকার চিঠি পাওয়ার পরও চুক্তির আইনি অজুহাত দেখিয়ে ভারত এই প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রী করতে পারে বা শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরে সরাসরি না বলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনগণের সংকট দেখছে না সরকার: শফিকুর রহমান

বিরোধদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসহ জনগণের নানা ‘সংকট’ সমাধানে সরকার ব্যর্থ। তিনি বলেছেন, ‘সংসদে দাঁড়িয়ে যারা দেশের কোনো সংকট নেই বলে মিথ্যা কথা বলেন, তাদের দিয়ে জনগণের সমস্যার সমাধান হবে না।’ আজ শনিবার ফেনীর মহিপালে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই পথসভার আয়োজন করা হয়। জামায়াত আমির বলেন, ‘বিদ্যুৎ কোথাও নেই কিন্তু বিদ্যুৎ শুধু সংসদে আছে। জিজ্ঞেস করলে বলেন, কোনো সংকট নেই! সংসদে দাঁড়িয়ে যারা মিথ্যা কথা বলেন, তাদের দ্বারা দেশের মানুষের সমস্যার সমাধান হবে না।’ গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে সমবেত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘‘আপনারা দুটো ভোট দিয়েছেন। একটি সংসদের জন্য, আরেকটি বাংলাদেশকে মেরামত ও সংস্কার করার জন্য। সরকারি দল ও বিরোধী দল সবাই একমত হয়েছিলাম—গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। ছয় মাস চলে গেছে, সরকার এখনো তা বাস্তবায়ন করেনি। ” বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ তুলে বলেন, ‘শুরু থেকেই এই সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জনগণের দাবি অগ্রাহ্য করেছে। অতীতে যারা জনগণের দাবি অগ্রাহ্য করেছে, তাদের করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।’ সরকার সব জায়গায় দলীয়করণ করছে অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সব জায়গায় আপনারা দলীয়করণ করবেন, আর বিরোধী দল বসে বসে কি আঙুল চুষবে? বিরোধী দল সেসব জায়গায় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে!’

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আগুনে পুড়ল ১১ ঘর ও ৬ দোকান

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আগুনে পুড়ল ১১ ঘর ও ৬ দোকান

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১টি বসতঘর ও ছয়টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন কয়েকটি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। রোববার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি বাজারের পাশের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আশহক আলী ব্যাপারী বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিক উল্যার ছেলে সোহেল নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিজের ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পাশাপাশি থাকা ১১টি বসতঘর ও ছয়টি দোকানেও আগুন লাগে। অবশ্য বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সোহেল। আগুনে ঘরবাড়ি ও দোকানের টিন, আসবাবপত্র, ব্যবসায়িক মালামালসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। ক্ষতিগ্রস্ত জাবের ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক হোসেন বলেন, আগুনে তার দোকানের বিপুল পরিমাণ মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোকানের পেছনের বসতঘরটিও পুরোপুরি পুড়ে গেছে। তার দাবি, ওই ঘরের সোহেলই আগুন লাগিয়েছেন। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সোহেল মাদকাসক্ত এবং তার অগ্নিসংযোগের কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। পরে স্থানীয়রা সোহেলকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। ফায়ার সার্ভিসের সরকারি পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে জানা যাবে। ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি ও দোকানের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়। সাজানো সংসার ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে অনেকেই এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের আহাজারিতে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার, রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

১৩ মিনিট আগে
রাষ্ট্রপতিকে বরণে প্রস্তুত ঠাকুরগাঁও

রাষ্ট্রপতিকে বরণে প্রস্তুত ঠাকুরগাঁও

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন। আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে যাবেন তিনি। জানা যায়, রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে শহরজুড়ে নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি; সাজানো হয়েছে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এদিকে সফরকালে মা-বাবার কবর জিয়ারত করবেন রাষ্ট্রপতি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। নাগরিক কমিটির আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন তার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা আছে। রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম লুৎফর রহমানের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে করে ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে পৌঁছাবেন রাষ্ট্রপতি। সেখান থেকে তিনি সার্কিট হাউসে যাবেন এবং গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন। পরে শহরের সেনুয়া কবরস্থানে মা-বাবার কবর জিয়ারত করবেন মির্জা ফখরুল। বেলা তিনটায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি নিজ বাড়িতে যাবেন। সেখানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। রাতে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করবেন তিনি। এর আগে, গত ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল।         

৩৮ মিনিট আগে
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে জনভোগান্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে জনভোগান্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

দেশে চলমান তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের যে সীমাহীন কষ্ট হচ্ছে, তার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে এই সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের একটি বিশেষ দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর ফার্মগেটস্থ বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কাইব) মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সরকারপ্রধান এই দুঃখ প্রকাশ ও নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন।আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আজকে যেহেতু বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছে, সেহেতু দেশের বহু শিল্প-কারখানার মালিকসহ সাধারণ মানুষ এই জ্বালানি সমস্যায় কষ্ট পাচ্ছেন—আমি এবং আমার দলের পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জবাবদিহিতামূলক। তাই বিগত স্বৈরাচারী শাসনের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ ও সংকটকে স্রেফ অজুহাত বা ‘এক্সকিউজ’ হিসেবে না দেখিয়ে বাস্তবতাকে স্বীকার করে কাজ করাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে জানান, এই জ্বালানি সংকট নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নে কিছু সময়ের প্রয়োজন। তবে এমন একটি সুদৃঢ় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলেও দেশের মানুষকে আর এমন ক্রান্তিকালের মুখোমুখি হতে না হয়।‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই আলোচনা সভার শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সব প্রয়াত নেতাকর্মী ও বীর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও অংশ নেন—মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, ড. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং ইসমাইল জবিউল্লাহ প্রমুখ।

১৬ ঘন্টা আগে
হাসিনাকে কেন ফেরত দিচ্ছে না ভারত?

হাসিনাকে কেন ফেরত দিচ্ছে না ভারত?

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পরোয়ানা জারি ও রায় ঘোষণার পর ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ বন্দি বিনিময় (Extradition) চুক্তির আওতায় তাকে প্রত্যর্পণের এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ভারতীয় শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দু-র এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ভারতকে এখনই হাসিনাকে হস্তান্তরে বাধ্য করা যাবে না।২০১৩ সালের বন্দি বিনিময় চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনো বিচার বা মামলা যদি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হয় কিংবা অভিযুক্তের অপরাধ ‘রাজনৈতিক প্রকৃতির’ বলে মনে হয়, তবে সংশ্লিষ্ট দেশকে ফেরত দিতে বাধ্য নয় অপর পক্ষ। চুক্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচারে যদি শতভাগ নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার বজায় না থাকে, তবে প্রত্যর্পণ আবেদন খারিজ করা সম্ভব। অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে মামলা পরিচালনা করা এবং ট্রাইব্যুনাল থেকে চূড়ান্ত সাজা বা মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন রয়েছে।ভারতের ১৯৬২ সালের নিজস্ব ‘প্রত্যর্পণ আইন’ (Extradition Act 1962) অনুযায়ী সাজানো বা রাজনৈতিক বিচারের ক্ষেত্রে কাউকে অন্য রাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া আটকানোর আইনি বিধান রয়েছে।দিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান:আইনি ব্যাখ্যার পাশাপাশি নতুন দিল্লির রাজনৈতিক হিসেব-নিকাশকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। সংকটের সময়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া কোনো সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানকে সাজা খাটার জন্য ঢাকা কর্তৃপক্ষের হাতে সোপর্দ করা হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের কূটনৈতিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হতে পারে।ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকার চিঠি পাওয়ার পরও চুক্তির আইনি অজুহাত দেখিয়ে ভারত এই প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রী করতে পারে বা শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরে সরাসরি না বলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৬ ঘন্টা আগে
মন্ত্রিসভার ব্যাপক রদবদলের প্রস্তুতি চলছে

মন্ত্রিসভার ব্যাপক রদবদলের প্রস্তুতি চলছে

প্রশাসনিক কাজের গতি বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বর্তমান বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার কলেবর সম্প্রসারণ ও ব্যাপক রদবদলের জোর প্রস্তুতি চলছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষভাগে অথবা আগামী অক্টোবরের শুরুতেই এই পরিবর্তন আসতে পারে। মূলত দফতরগুলোর কাজের পরিধি বিবেচনা, পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন, “রদবদলের আলোচনা সত্য, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সময় নির্ধারণ সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে।”গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভার ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে গত ১৬ আগস্ট। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৫১ জন (২৬ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী)। পাশাপাশি ১১ জন উপদেষ্টা (৬ জন মন্ত্রী ও ৫ জন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার) দায়িত্ব পালন করছেন। সরকার গঠনের ৬ মাসের মাথায় দফতর পুনর্বণ্টন হলেও দক্ষতা ও বিতর্কহীনতা বজায় রাখতে নতুন করে কিছু স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া দুর্যোগকালীন পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন বক্তব্যে সরকারপ্রধান বিব্রত। তাঁকে সরিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে তরুণ ও সুশিক্ষিত উপদেষ্টা মাহাদী আমিন অথবা শিক্ষক নেতা সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়াকে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ‘অতি কথন’ ও বিগত সরকারের আলোচিত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের ‘মিঠু’ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সরকার ক্ষুব্ধ। অন্যদিকে, পরিমিতভাষী বর্তমান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাজ আশানুরূপ না হওয়ায় বর্তমান মন্ত্রী হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াসিনের দপ্তর পরিবর্তন বা রদবদল হতে পারে। এ ছাড়া, সার্কিট হাউস সড়কে উল্টো পথে গাড়ি চালিয়ে ট্রাফিক মামলার শিকার হওয়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ওপর প্রধানমন্ত্রী মারাত্মক ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।বর্তমানে ৩টি করে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলানো মন্ত্রীদের বোঝা কমিয়ে এক মন্ত্রীর দায়িত্বের কিছু অংশ সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে দেওয়া হতে পারে।রাজপথের ত্যাগী, অভিজ্ঞ ও নির্যাতিত নেতাদের মূল্যায়ন করতে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও শীর্ষ নেতাদের মধ্য থেকে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। স্বরাষ্ট্র, কৃষি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বাড়ায় নতুন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এ বিষয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গেলেও দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন জানান, রদবদলের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারভুক্ত এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থেই তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

২১ ঘন্টা আগে
ডাক বিভাগের নতুন সেবা, ঘরে পৌঁছাচ্ছে ভারী পণ্য

ডাক বিভাগের নতুন সেবা, ঘরে পৌঁছাচ্ছে ভারী পণ্য

ডাকযোগে শুধু চিঠি কিংবা প্যাকেট নয়; এখন গ্রাহকের কাছে যাচ্ছে ফ্রিজ, মোটরসাইকেলের মতো ভারী পণ্যও। গত দুই মাসে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবায় পরিবহন হয়েছে প্রায় ৪০০ টন পণ্য। প্রথম কেজিতে ১০ টাকা, এরপর প্রতি কেজিতে আরও ৫ টাকা—এই মাশুলেই চলছে স্পিড পোস্ট। সম্প্রতি কান্ত সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়ে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, দেশের আইনে অবৈধ নয়, এমন যেকোনো পণ্যই এখন ডাকের গাড়িতে তোলা, নামানো এবং পোস্টম্যানের মাধ্যমে বিলি করা যায়। তিনি বলেন, সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলও ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। সঙ্গে গেছে ফ্রিজ, আলমারি ও ওয়ার্ডরোবের মতো বড় আসবাবপত্র। শিক্ষার্থীদের কাঁথা-বালিশ ও বিছানাপত্রও পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া রান্নাঘরের দা-বঁটি-ছুরি, হাঁড়ি-পাতিল, প্রেশার কুকার, ইন্ডাকশন চুলা থেকে শুরু করে এলইডি টিভি, এয়ার কন্ডিশনার, বাইসাইকেল এমনকি কীটনাশক স্প্রে মেশিনও এখন ডাকযোগে পাঠানো যাচ্ছে। ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, মৌসুমি ফলসহ স্পিড পোস্টের মাধ্যমে গত দুই মাসে মোট প্রায় ৪০০ টন পণ্য পরিবহন হয়েছে, যা এর আগে ডাক বিভাগের মাধ্যমে কখনো পরিবহন হয়নি। এসব পণ্য যেন সহজে ও সুন্দরভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য সেবাটিকে গ্রাহকবান্ধব করতে বাড়তি কিছু ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের সুবিধার জন্য চালু হয়েছে অনলাইন মাশুল ক্যালকুলেটর। এর মাধ্যমে আগে থেকেই পণ্য পরিবহনের খরচ জেনে নেওয়া যায়। বর্তমানে রাজধানীর জিপিওসহ গুলশান, বনানী, মিরপুর ও উত্তরার মতো বেশ কয়েকটি সাব-পোস্ট অফিস থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে। দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পার্সেলের জন্য রয়েছে বৈদেশিক ইএমএস সেবাও। কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, সেবাটি যেন সুশৃঙ্খলভাবে চলে, সে জন্য এর কার্যপ্রণালী সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে ডাক অধিদপ্তর। স্পিড পোস্টে ইস্যুকৃত পণ্য জেলা শহর থেকে ঢাকায় সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা আর প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে বিলির জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসকে। তবে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু দ্রব্য এই সেবার আওতার বাইরেও রাখা হয়েছে। বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ, ক্ষতিকর বা বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্য, মাদকদ্রব্য, জীবন্ত প্রাণী, আগ্নেয়াস্ত্র এবং ভরা বা খালি গ্যাস সিলিন্ডার স্পিড পোস্টে পাঠানো যাবে না। এত কম মূল্যে সেবা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কাজী আসাদুল বলেন, টাকার অঙ্কের চেয়ে মানুষে-মানুষে সংযোগ স্থাপনকে আমি বড় অর্জন বলে মনে করি। একজন মা যেমন কষ্ট করে সন্তান লালন-পালন করেন, বিনিময়ে কিছুই চান না; সন্তানের ভালো থাকাতেই যার তৃপ্তি-রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগও তেমনি জনগণকে সেবা দিতে পারার মধ্যেই সার্থকতা খুঁজে পায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডাক বিভাগের এ সেবার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোট দিতে নিবন্ধন করেন। এরপর ভোট দেওয়া থেকে শুরু করে সেই ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে মুহূর্তে মুহূর্তে বার্তা পেয়ে ভোটের অগ্রগতি জানতে পেরেছেন প্রবাসীরা। এতে করে ডাক বিভাগের প্রতি তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে। ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, এই অভিজ্ঞতাই পরে বিনা প্রচারণায় মুখে মুখে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররাই এই সেবা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন। তারাই নিজ উদ্যোগে তারা সেবাটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন। এই জনপ্রিয়তা ডাক বিভাগের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি একজন গ্রাহক বদলি হয়ে অন্য জেলায় বাসা পরিবর্তনের সময় পুরো বাসার আসবাবপত্রই ডাকযোগে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিশ্বের অনেক দেশের ডাক বিভাগ এমন আন্তজেলা বাসা বদল সেবা দিয়ে থাকে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এমন সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সে লক্ষ্যে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সক্ষমতা গড়ে তোলা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব একটি প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে ৫০টি বৈদ্যুতিক বাইক, যা চলবে গ্রিন এনার্জিতে। সক্ষমতা বাড়ানোর এই ধারাবাহিকতায় বদলেছে ডাক বিভাগের অভ্যন্তরীণ কর্মপরিকল্পনাও। মহাপরিচালক বলেন, সহকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী এক কর্মশালার পর সম্প্রতি সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকার তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মেইল প্রসেসিং সেন্টারকে শতভাগ কাজে লাগানো হবে। এর মধ্য দিয়ে সারা দেশ থেকে ঢাকামুখী মেইল, ঢাকা থেকে সারা দেশে যাওয়া মেইল আর ঢাকা শহরের ভেতরকার মেইল—সবই প্রক্রিয়াজাত হবে একটি জায়গা থেকে। এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে কার্যকরও হয়েছে বলে জানান তিনি। কমলাপুরের রেলওয়ে মেইল সার্ভিসের বর্তমান সক্ষমতা এখন সীমিত হয়ে পড়েছে জানিয়ে আসাদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার খাতা কিংবা গাছের চারার মতো নানা রকম পণ্য একসঙ্গে সামলানো ক্রমেই তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। তাই ঢাকা জিপিও ক্যাম্পাসকে সম্প্রসারিত করে সেখানে শুধু বিদেশগামী ও বিদেশ থেকে আসা রপ্তানি-আমদানি পার্সেলের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এভাবে তেজগাঁও, কমলাপুরসহ মোট তিনটি হাব মিলিয়ে সমন্বিতভাবে চলবে ডাক বিভাগের মেইল ব্যবস্থাপনা। মহাপরিচালক বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাভের অঙ্ক আমাদের কাছে মুখ্য নয়। সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ সেবা দিয়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করাই হবে স্পিড পোস্টের প্রকৃত সাফল্য। বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে চালু হয় ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবা। প্রথমে মৌসুমি ফল পরিবহনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই সেবা এখন সম্প্রসারিত হয়েছে নিত্যব্যবহার্য বড় বড় পণ্যসামগ্রী পরিবহনেও।

২২ ঘন্টা আগে
কারাগারে নতুন সুবিধা, স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ

কারাগারে নতুন সুবিধা, স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ

ভিডিও কলের বিশেষ সুবিধা চালু হচ্ছে কারাগারের চার দেয়ালের বন্দিজীবনে স্বজনদের সরাসরি দেখার আকুলতা দূর করতে। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ সুবিধা চালু হয়েছে। শিগগিরই সারাদেশে এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে কারা অধিদফতর। কারা কর্তৃপক্ষের এই আধুনিক ও মানবিক উদ্যোগের ফলে সপ্তাহে একবার ১০ মিনিট নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কয়েদি ও হাজতিরা ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে পারবেন। সম্প্রতি ঢাকা কারা অধিদফতরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো: মাসুদ হাসান জুয়েল রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, সারাদেশে শিগগিরই কারাবন্দিরা স্বজনদের সাথে ভিডিও কলে কথা বলতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে। এদিকে কারাগারে বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন কারাগারে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং ও অন্যান্য মানসিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। মাসুদ হাসান জুয়েল জানান, কারাগারে বন্দিদের উৎপাদনশীল কাজে প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য দক্ষ করে তোলার কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ২-এ সাবান উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং উৎপাদিত সাবান বন্দি ও স্টাফদের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বন্দিদের প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, বন্দিদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কারা সদর দফতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্যাথলজি ল্যাব চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্সের সুপারিশ পাওয়া গেছে এবং তাদের পদায়নের মাধ্যমে কারাগারের স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে। কারা অধিদফতর জানায়, বন্দি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ২-এ মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্ট স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পানি সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কারাগারের মৌলিক সেবাগুলোর মান উন্নয়নের বিষয়টি ভবিষ্যতেও অগ্রাধিকার পাবে। এছাড়া একটি আধুনিক কারা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রশিক্ষিত লোকবল অপরিহার্য বলে জানায় কারা অধিদফতর। কারা অধিদফতর আরো জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এই লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর, ডেপুটি জেলার, জেলার ও জেল সুপারদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ঢাকা জেলে রুটি তৈরির কার্যক্রমকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে চায়না থেকে আমদানি রুটি মেকার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বৃহৎ সংখ্যক বন্দির জন্য কম সময়ে একই মানের রুটি স্বাস্থ্যসম্মত ও দক্ষতার সাথে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমছে। তিনি বলেন, কারাগারে বিশেষ দিবসে খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা আছে। বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার জন্য বিভিন্ন কারাগারে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও বন্দিদের বিভিন্ন পোশাক ও জুতা-সেন্ডেল তৈরি ও বেকারির প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। বন্দিদের খেলাধুলার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। কারাগারে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। কারা অধিদফতর জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের একটি যৌক্তিক প্রত্যাশা ছিল অবসর-পরবর্তী কল্যাণ। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষীদের আজীবন রেশন প্রদানের বিষয়টি সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে এবং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়াও কারাগারের নিরাপত্তা রক্ষা, বন্দি পালানো প্রতিরোধ, অনিয়ম প্রতিরোধ, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সেবা এবং দায়িত্ব পালনে অসাধারণ অবদান রাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ যথাযথভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যোগ্য সদস্যদের পদক, প্রশংসাপত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা আরো কার্যকর করারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কারাগারে মাদক প্রবেশ ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কারা সদর দফতরে ড্রাগ পরীক্ষার মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করবে। কারাগারকে আরো স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে ব্যাপক সবুজায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট-১, কিশোরগঞ্জ-১ ও খুলনা নতুন কারাগারে প্রায় ১৮ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা, বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ, ভালো কাজের যথাযথ স্বীকৃতি, পরিবেশবান্ধব কারা ব্যবস্থাপনা এবং একটি আধুনিক ও পেশাদার সংশোধনমূলক পরিষেবা সৃষ্টির কাজ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কারা অধিদফতর জানায়, কারাগার সম্পর্কে মানুষের প্রচলিত ধারণায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কারাগার হবে নিরাপদ ও মানবিক। কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হবেন দক্ষ, সৎ ও মর্যাদাবান। বন্দিরা পাবেন সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ। আর পুরো প্রতিষ্ঠানটি হবে স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক। সূত্র : বাসস

২২ ঘন্টা আগে
সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন নৌবাহিনী প্রধান

সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন নৌবাহিনী প্রধান

নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম সরকারি সফরে সৌদি আরবে গেছেন। আজ শনিবার ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি সরকারি সফরে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে। সফরকালে নৌবাহিনী প্রধান সৌদি আরবের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ, রয়েল সৌদি নেভাল ফোর্সের প্রধান এবং মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স কোয়ালিশন কমান্ডারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সাক্ষাতে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও অনুষ্ঠিতব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসমূহে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার বিদ্যমান পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং নৌবাহিনীর মধ্যে বিভিন্ন সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। নৌবাহিনী প্রধান সৌদি আরব অবস্থানকালে বিভিন্ন সামরিক ও নৌ স্থাপনা পরিদর্শন এবং দু’দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক, প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করবেন। নৌবাহিনী প্রধানের এ সফর দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো জোরদার করবে বলে আশা করা যায়।

২৩ ঘন্টা আগে
চেনা শহরে নতুন পরিচয়ে ফিরছেন মির্জা ফখরুল

চেনা শহরে নতুন পরিচয়ে ফিরছেন মির্জা ফখরুল

তাঁর শৈশব-কৈশোর ঠাকুরগাঁও শহরের কোলাহলেই কেটেছে । শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়মাঠ নিজ বাড়ির পাশেই। সেই শহরই এখন ব্যস্ত তাঁকে ঘিরে যে শহরের অলিগলি, বাজার-পাড়া আর রাস্তাঘাট তাঁর চেনা। আগামীকাল রোববার রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথমবারের মতো নিজ মাটি ঠাকুরগাঁও আসছেন। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও জুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। কোথাও চলছে আলোকসজ্জার কাজ, কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের যেন দম ফেলারও সময় নেই। শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে তুলতে দিন-রাত কাজ করে চলেছেন পৌরসভার কর্মীরা। সব মিলিয়ে এলাকার প্রিয় সন্তানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ শহরে বরণ করে নিতে প্রস্তুত ঠাকুরগাঁও। শহরের পথে পথে এখন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগমনের প্রতীক্ষা। প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বাড়তি কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আগামী রবি ও সোমবার সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রীয় এই সফর ঘিরে প্রশাসনের নানা প্রস্তুতির সঙ্গে সাধারণ মানুষের আগ্রহ যেন এর চেয়েও বেশি, এর চেয়েও বেশি আবেগের। কারও কাছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় রাজনীতির সুপরিচিত মুখ, কারও কাছে তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা। আবার ঠাকুরগাঁওয়ের অনেকের কাছে তিনি আজও সেই পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’-নিজ শহরের আপনজন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ শেকড়ের টানে নিজ মাটিতে আসা তাই ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়, এটি একই সঙ্গে গর্ব, আনন্দ, ভালোবাসা আর গভীর আবেগের ক্ষণ। রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো: লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি যাবেন জেলা সার্কিট হাউসে। রাষ্ট্রপতি সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।  এরপর রাষ্ট্রপতি শহরের সেনুয়া পাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন। কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহরের কালীবাড়িতে তাঁর নিজ বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রামের পর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। সংবর্ধনা শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেখানেই তাঁর রাত্রিযাপনের কথা রয়েছে। সফরের দ্বিতীয় দিন রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম করবেন। পরে তিনি সার্কিট হাউসে যাবেন। এরপর হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁর। এদিকে, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সফরের সম্ভাব্য স্থান, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘তিনি শুধু রাষ্ট্রপতি নন, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি নিজের মানুষের কাছে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত। আমরা চাই, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে তাঁকে স্বাগত জানাক।’ জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম আগমন জেলার মানুষের জন্য আনন্দ, গর্ব ও আবেগের বিষয়। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরের প্রতিটি কর্মসূচি, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের চলাচল ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

২৩ ঘন্টা আগে
রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৪৩৪ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৪৩৪ জন গ্রেপ্তার

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে ৪৩৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। একই সময়ে মামলা দায়ের হয়েছে ৪৪টি। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়।  ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পুলিশের রমনা বিভাগ ২৬ জনকে, লালবাগ বিভাগ ৩৩ জনকে, ওয়ারী বিভাগ ৪২ জনকে, মতিঝিল বিভাগ ৫৯ জনকে, তেজগাঁও বিভাগ ৫৯ জনকে, মিরপুর বিভাগ ১৩৬ জনকে, গুলশান বিভাগ ৩৬ জনকে, উত্তরা বিভাগ ৩৬ জনকে ও গোয়েন্দা বিভাগ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।  অভিযানে একটি বিদেশি রিভলবার, ২ রাউন্ড গুলি, ১ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজা, ৩৫৮৯ পিস ইয়াবা, ৯.৪ গ্রাম হেরোইন, ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ২টি বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন, নগদ ১৫৪০ টাকা ও একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।   

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তিকারী সিফাত আব্দুল্লাহকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের। এই আহ্বানের সঙ্গে আপনি একমত?

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তিকারী সিফাত আব্দুল্লাহকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের। এই আহ্বানের সঙ্গে আপনি একমত?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

জনগণের সংকট দেখছে না সরকার: শফিকুর রহমান

বিরোধদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসহ জনগণের নানা ‘সংকট’ সমাধানে সরকার ব্যর্থ। তিনি বলেছেন, ‘সংসদে দাঁড়িয়ে যারা দেশের কোনো সংকট নেই বলে মিথ্যা কথা বলেন, তাদের দিয়ে জনগণের সমস্যার সমাধান হবে না।’ আজ শনিবার ফেনীর মহিপালে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই পথসভার আয়োজন করা হয়। জামায়াত আমির বলেন, ‘বিদ্যুৎ কোথাও নেই কিন্তু বিদ্যুৎ শুধু সংসদে আছে। জিজ্ঞেস করলে বলেন, কোনো সংকট নেই! সংসদে দাঁড়িয়ে যারা মিথ্যা কথা বলেন, তাদের দ্বারা দেশের মানুষের সমস্যার সমাধান হবে না।’ গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে সমবেত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘‘আপনারা দুটো ভোট দিয়েছেন। একটি সংসদের জন্য, আরেকটি বাংলাদেশকে মেরামত ও সংস্কার করার জন্য। সরকারি দল ও বিরোধী দল সবাই একমত হয়েছিলাম—গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। ছয় মাস চলে গেছে, সরকার এখনো তা বাস্তবায়ন করেনি। ” বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ তুলে বলেন, ‘শুরু থেকেই এই সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জনগণের দাবি অগ্রাহ্য করেছে। অতীতে যারা জনগণের দাবি অগ্রাহ্য করেছে, তাদের করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।’ সরকার সব জায়গায় দলীয়করণ করছে অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সব জায়গায় আপনারা দলীয়করণ করবেন, আর বিরোধী দল বসে বসে কি আঙুল চুষবে? বিরোধী দল সেসব জায়গায় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে!’

লিংক কপি করা হয়েছে!

সিডনিতে এক ফ্রেমে শাবনূর ও তাসকিন

ক্রিকেট মাঠের গতির তারকা তাসকিন আহমেদ ও ঢালিউড রূপালী পর্দার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূর—দুই ভিন্ন অঙ্গনের দুই খ্যাতনামা তারকাকে দেখা গেল এক ফ্রেমে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আয়োজিত এক ঘরোয়া আমেজের বারবিকিউ পার্টিতে দুই তারকার হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তা দ্রুতই ভক্ত-অনুরাগীদের নজর কেড়েছে।শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলস থেকে ছবিটি সামাজিকমাধ্যমে পোস্ট করেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের গতি তারকা তাসকিন আহমেদ।ছবিটিতে দেখা যায়, দুই জগতখ্যাত তারকা অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত ও হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে পোজ দিয়েছেন। পোস্টের ক্যাপশনে তাসকিন জানান, সিডনিতে শাবনূর ও তাঁর পরিবারের আন্তরিক আমন্ত্রণে একটি পারিবারিক বারবিকিউ সন্ধ্যায় অংশ নেন তিনি। দারুণ আতিথেয়তার জন্য শাবনূর ও তাঁর পরিবারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাসকিন লেখেন, “সেটা একটা সুন্দর সন্ধ্যা এবং বারবিকিউ রাত ছিল। আমাদের আতিথেয়তা করার জন্য শাবনূর আপু ও তাঁর পরিবারকে ধন্যবাদ।”ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে আসার পর থেকেই লাইক ও কমেন্টের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। ভক্তরা দুই জগতের দুই তারকাকে একসঙ্গে দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন এবং তাঁদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। ক্রিকেট মাঠের গতিময় পেসার তাসকিন আহমেদ এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূরকে আলো-ঝলমলে চেনা আঙিনার বাইরে এক ঘরোয়া ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দেখতে পাওয়া ভক্তদের জন্য ছিল এক বিশেষ চমক।

ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করবে যেসব খাবার

ক্যালসিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ উপাদান। রক্ত সঞ্চালন, পেশি সংকোচন ও স্নায়ুর কার্যকারিতা বজায় রাখতেও এর ভূমিকা অপরিসীম। সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন হয় (যা বয়স ও শারীরিক অবস্থাবেধে বাড়তে পারে)। অনেকেই ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস হিসেবে দুধের কথা ভাবেন; তবে যাঁরা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট বা দুধ খেতে পারেন না, তাঁদের জন্য প্রকৃতিতে রয়েছে ক্যালসিয়ামে ভরপুর বহু বিকল্প খাবার।১. রাগি (ফিঙ্গার মিলেট)রাগি বা ফিঙ্গার মিলেট ক্যালসিয়ামের একটি অনবদ্য উদ্ভিজ্জ উৎস। দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলতে চাইলে এটি দারুণ বিকল্প। রুটি, দোসা, জাউ (পোরিজ) কিংবা খিচুড়ি বানিয়ে সহজেই এটি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়।২. সাদা ও কালো তিলপ্রচুর স্বাস্থ্যকর চর্বির পাশাপাশি তিলে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ক্যালসিয়াম। সালাদ, চাটনি, মিষ্টান্ন (লাড্ডু) বা বিভিন্ন রান্নায় টপিং হিসেবে তিল ব্যবহার করা যায়। তবে তিলে ক্যালোরির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।৩. টোফু ও সয়া-ভিত্তিক খাবারযাঁরা দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার সহ্য করতে পারেন না, তাঁদের জন্য সয়াবিনের দুধ থেকে তৈরি টোফু এবং সয়া-ভিত্তিক খাবার খুবই পুষ্টিকর বিকল্প। তবে একেক ব্র্যান্ডের টোফুতে ক্যালসিয়ামের মাত্রা ভিন্ন হতে পারে, তাই প্যাকেটের গায়ে পুষ্টি তথ্যের লেবেল দেখে কেনা বুদ্ধিমানের কাজ।৪. শাকসবজি ও সরিষা পাতাসবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি যেমন—কপি, বক চয়, ব্রোকলি ও সরিষা পাতায় প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের তাজা শাকসবজি খেলে শরীরে ক্যালসিয়ামের স্বাভাবিক ঘাটতি পূরণ হয়।৫. পালং শাক পালং শাকে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকলেও এতে 'অক্সালেট' নামক একটি উপাদানের মাত্রা বেশি থাকে, যা শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করে। তাই শরীর সুস্থ রাখতে কেবল পালং শাকের ওপর ভরসা না করে অন্যান্য ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।৬. কাঁটাসহ ছোট মাছছোট মাছ (যা কাঁটাসহ চিবিয়ে খাওয়া যায়) ক্যালসিয়ামের অতুলনীয় উৎস। নিয়মিত দেশি ছোট মাছ খেলে ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট ছাড়াই রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বজায় রাখা সম্ভব।৭. বাদামবিশেষ করে কাঠবাদামসহ অন্যান্য ড্রাই ফ্রুটস ও বাদামে ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি নানা ধরনের প্রয়োজনীয় অসম্পৃক্ত চর্বি ও খনিজ উপাদান থাকে। নিরামিষাশীদের জন্য বাদাম ক্যালসিয়ামের একটি আদর্শ উৎস।বিশেষজ্ঞরা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, কেবল উচ্চ ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খেলেই হবে না; তা শরীরে সঠিকভাবে শোষিত হতে ভিটামিন ডি (Vitamin D)-এর উপস্থিতি অপরিহার্য। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে কিছুটা সময় সূর্যালোক গ্রহণ করা এবং খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।

সিরাজগঞ্জে আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়া সেই আসামি গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জে আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়া সেই আসামি গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানা থেকে পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া চুরির মামলার আসামি আব্দুল মমিন বড় গেদাকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল মমিন বড় গেদা সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের কোবদাসপাড়ার মহল্লার আব্দুস সবুরের ছেলে।শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে সদর থানা পুলিশ ও জেলা ডিএসবি শাখার যৌথ অভিযানে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলি বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাজতখানার ভেতরে থাকা আরেক আসামির হাতকড়া খোলার সময় আব্দুল মোমিন গেটে দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে যান। পরে আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় গিয়ে গ্রিল না থাকার সুযোগে নিচে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। ঘটনার পর তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। দুই দিন পর শনিবার দুপুরে যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলার হাজতখানা থেকে পালিয়ে যান আব্দুল মমিন @ বড় গেদা। 

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream