বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
সর্বশেষ

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৬

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৫ নভেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৬ জন। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে তিনজন, চট্টগ্রাম বিভাগে তিনজন এবং খুলনা বিভাগে একজন রয়েছেন। নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৫৯৬ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে (ঢাকা মহানগরসহ) সর্বোচ্চ ৫৮৮ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৯৫ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৩ জন, খুলনা বিভাগে ২২১ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৪৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৩ জন, রংপুর বিভাগে ৬৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৪৫২ জনের। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ জন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫ হাজার ৮৩৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২ হাজার ৫৯৮ জন, খুলনা বিভাগে ৯৭৩ জন, বরিশাল বিভাগে ৬৯১ জন, রাজশাহী বিভাগে ৬৫২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪০২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ২২৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৬০ জন রয়েছেন। ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে এক দিনে সাতজনের মৃত্যু এবং দেড় হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অগ্রগতির ফলে মানুষের আয়ু বেড়েছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অগ্রগতির ফলে মানুষ আগের চেয়ে বেশি দিন বাঁচছে। তিনি বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অগ্রগতির ফলে মানুষ আগের চেয়ে বেশি দিন বাঁচছে, তবে এর সঙ্গে সঙ্গে অসংক্রামক ব্যাধির প্রকোপও বাড়ছে। ২০২২ সালের জাতীয় জরিপ অনুযায়ী দেশে মোট মৃত্যুর ২১ শতাংশই ঘটছে হৃদরোগজনিত জটিলতায়। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স হলে ‘সাশ্রয়ী হৃদরোগ পুনর্বাসন : সমন্বিত কৌশলগত প্রচার গবেষণা’-শীর্ষক পাঁচ বছর মেয়াদি গবেষণা প্রকল্পের স্টেকহোল্ডার সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মুহিত বলেন, উন্নত বিশ্বে প্রমাণিত হয়েছে যে ব্যায়ামভিত্তিক কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন পরবর্তী হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুলাংশে কমায়, হাসপাতালে পুনঃভর্তির হার হ্রাস করে এবং রোগীর জীবনের মান বাড়ায়। তিনি বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশই ঘটছে অসংক্রামক ব্যাধিতে, যার মধ্যে একক কারণ হিসেবে হৃদরোগ শীর্ষে। কার্ডিয়াক ইভেন্টের পর রোগীদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক মানসম্মত, সাশ্রয়ী ও স্থানীয়ভাবে কার্যকর ‘কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন’ মডেল বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ নীতিগত ও কাঠামোগত সহায়তা দেবে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা দিলেই চলবে না; কার্ডিয়াক অ্যাটাকের পর রোগীদের মধ্যে যে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়, বিশেষ করে কর্মক্ষম বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে-সেটিকে এই গবেষণার অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত সময়োপযোগী। গবেষণা এবং স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গবেষকদের কাজ শুধু ল্যাবরেটরি বা জার্নালে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, তা তৃণমূলের নীতিমালায় অনুবাদ করতে হবে। বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং তারই অংশ হিসেবে স্বাধীনতার ৫৪ বছরের ইতিহাসে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে তরুণ গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের সক্ষমতা তৈরি হবে এবং বাংলাদেশ হৃদরোগ পুনর্বাসনে একটি টেকসই দিশা পাবে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণার প্রধান ও গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রড এস টেলর। আরো বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিউদ্দিন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক জে এম এ হান্নান। বিডি-প্রতিদিন/বিএম

সীমান্তের ওপার থেকে গার্মেন্টস শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা: প্রধানমন্ত্রী

গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে শ্রমিকদের দাবির আড়ালে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, গার্মেন্টসের বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হচ্ছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছে, গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু সরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত গার্মেন্টস শিল্প কোনো অবস্থাতেই ধ্বংস হতে দেবে না বলে জানান তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের কাটাখালী মোড়ে পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।  প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গার্মেন্টস শিল্পে লাখ-লাখ ভাই-বোন ও মায়েরা কাজ করছেন, এই শিল্পে তাদের কর্মস্থান হয়েছে। কোনো শ্রমজীবী মানুষ কিংবা শ্রমিক ভাই-বোনেরা কখনো শিল্পকারখানার ক্ষতি করতে পারেন না। বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে যন্ত্রপাতি ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা করতে পারেন না।  পথসভায় তিনি আরো বলেন, শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে, সরকার তা জানে। তাদের দাবিগুলো বিবেচনা ও পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। মজুরি বোর্ড কাজ শুরুও করেছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে। যাতে করে শ্রমিক ভাই-বোনেরা ভালো থাকতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি মহল গত ১৫-১৬ বছরেও দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি। তারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছিল। গণঅভ্যুত্থানের মুখে যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, তারা এখন সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে। দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে পথসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহণ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান; বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম; বিএনপি নেতা সোমনাথ দে, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। বিডি-প্রতিদিন/এমই

খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবহার সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী

খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টায় মোংলা বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় মোংলা বন্দরের সুবিধাদির সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে পঞ্চগড় থেকে মোংলা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ, বন্দরের সাপ্লাই চেইন ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণে সরকার উদ্যোগ নিতে চায়। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। তিনি আরও বলেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান; বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম; বাগেরহাটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য; সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চীনা প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে বাগেরহাটের কাটাখালী মোড়ে পৌঁছে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে পথসভায় বক্তব্য দেন। পরে খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে তিনি খুলনার উদ্দেশে রওনা হন।

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অগ্রগতির ফলে মানুষের আয়ু বেড়েছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অগ্রগতির ফলে মানুষের আয়ু বেড়েছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অগ্রগতির ফলে মানুষ আগের চেয়ে বেশি দিন বাঁচছে। তিনি বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অগ্রগতির ফলে মানুষ আগের চেয়ে বেশি দিন বাঁচছে, তবে এর সঙ্গে সঙ্গে অসংক্রামক ব্যাধির প্রকোপও বাড়ছে। ২০২২ সালের জাতীয় জরিপ অনুযায়ী দেশে মোট মৃত্যুর ২১ শতাংশই ঘটছে হৃদরোগজনিত জটিলতায়। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স হলে ‘সাশ্রয়ী হৃদরোগ পুনর্বাসন : সমন্বিত কৌশলগত প্রচার গবেষণা’-শীর্ষক পাঁচ বছর মেয়াদি গবেষণা প্রকল্পের স্টেকহোল্ডার সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মুহিত বলেন, উন্নত বিশ্বে প্রমাণিত হয়েছে যে ব্যায়ামভিত্তিক কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন পরবর্তী হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুলাংশে কমায়, হাসপাতালে পুনঃভর্তির হার হ্রাস করে এবং রোগীর জীবনের মান বাড়ায়। তিনি বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশই ঘটছে অসংক্রামক ব্যাধিতে, যার মধ্যে একক কারণ হিসেবে হৃদরোগ শীর্ষে। কার্ডিয়াক ইভেন্টের পর রোগীদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক মানসম্মত, সাশ্রয়ী ও স্থানীয়ভাবে কার্যকর ‘কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন’ মডেল বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ নীতিগত ও কাঠামোগত সহায়তা দেবে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা দিলেই চলবে না; কার্ডিয়াক অ্যাটাকের পর রোগীদের মধ্যে যে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়, বিশেষ করে কর্মক্ষম বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে-সেটিকে এই গবেষণার অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত সময়োপযোগী। গবেষণা এবং স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গবেষকদের কাজ শুধু ল্যাবরেটরি বা জার্নালে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, তা তৃণমূলের নীতিমালায় অনুবাদ করতে হবে। বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং তারই অংশ হিসেবে স্বাধীনতার ৫৪ বছরের ইতিহাসে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে তরুণ গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের সক্ষমতা তৈরি হবে এবং বাংলাদেশ হৃদরোগ পুনর্বাসনে একটি টেকসই দিশা পাবে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণার প্রধান ও গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রড এস টেলর। আরো বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিউদ্দিন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক জে এম এ হান্নান। বিডি-প্রতিদিন/বিএম

২ ঘন্টা আগে
সীমান্তের ওপার থেকে গার্মেন্টস শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা: প্রধানমন্ত্রী

সীমান্তের ওপার থেকে গার্মেন্টস শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা: প্রধানমন্ত্রী

গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে শ্রমিকদের দাবির আড়ালে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, গার্মেন্টসের বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হচ্ছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছে, গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু সরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত গার্মেন্টস শিল্প কোনো অবস্থাতেই ধ্বংস হতে দেবে না বলে জানান তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের কাটাখালী মোড়ে পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।  প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গার্মেন্টস শিল্পে লাখ-লাখ ভাই-বোন ও মায়েরা কাজ করছেন, এই শিল্পে তাদের কর্মস্থান হয়েছে। কোনো শ্রমজীবী মানুষ কিংবা শ্রমিক ভাই-বোনেরা কখনো শিল্পকারখানার ক্ষতি করতে পারেন না। বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে যন্ত্রপাতি ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা করতে পারেন না।  পথসভায় তিনি আরো বলেন, শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে, সরকার তা জানে। তাদের দাবিগুলো বিবেচনা ও পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। মজুরি বোর্ড কাজ শুরুও করেছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে। যাতে করে শ্রমিক ভাই-বোনেরা ভালো থাকতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি মহল গত ১৫-১৬ বছরেও দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি। তারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছিল। গণঅভ্যুত্থানের মুখে যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, তারা এখন সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে। দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে পথসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহণ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান; বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম; বিএনপি নেতা সোমনাথ দে, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। বিডি-প্রতিদিন/এমই

২ ঘন্টা আগে
আমরা শেখ হাসিনাকে হ্যান্ডওভার চাই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

আমরা শেখ হাসিনাকে হ্যান্ডওভার চাই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ভারত থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে কোনো পাসপোর্ট লাগবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। হুমায়ুন কবির বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে দিল্লি থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার নিয়ে পরিকল্পিত ত্রিপক্ষীয় করিডোর নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, করিডোর নিয়ে কোনো ভূ-রাজনৈতিক শঙ্কা দেখছে না বাংলাদেশ। এটি বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে। এই আঞ্চলিক করিডোরে যুক্ত হতে ঢাকার যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। তবে এর আগে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, লিউ হাইশিংয়ের এই সফরের মধ্য দিয়ে আগামী দিনে চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর ও গতিশীল হবে।

২ ঘন্টা আগে
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না। এমনটাই জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। হুমায়ুন কবির বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাঁকে দিল্লি থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার নিয়ে পরিকল্পিত ত্রিপক্ষীয় করিডোর নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, করিডোর নিয়ে কোনো ভূ-রাজনৈতিক শঙ্কা দেখছে না বাংলাদেশ। এটি বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে। এই আঞ্চলিক করিডোরে যুক্ত হতে ঢাকার যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। তবে এর আগে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। লিউ হাইশিংয়ের এই সফরের মধ্য দিয়ে আগামী দিনে চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর ও গতিশীল হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

২ ঘন্টা আগে
বদলগাছীর ৮৯৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ মাত্র একজন

বদলগাছীর ৮৯৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ মাত্র একজন

স্বপ্ন ছিল অনেকের, প্রস্তুতিও ছিল। তবে ফল প্রকাশের পর সেই স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবতার বড় ব্যবধান দেখা গেছে। নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার চার কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৮৯৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২০৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৬৯১ জন। সম্মিলিত পাসের হার ২২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র একজন। হতাশার এই ফলাফলের মধ্যে ব্যতিক্রম হয়ে উঠেছেন সুপ্রিয়া তাম্মী মিথিলা। চার কলেজের ৮৯৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে একমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী তিনি। বদলগাছী সরকারি কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে এই সাফল্য অর্জন করেছেন মিথিলা। তিনি উপজেলার পারিচা গ্রামের বাসিন্দা শামীম হোসেনের মেয়ে। মিথিলার এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিয়মিত পড়াশোনা, ক্লাসে উপস্থিতি, শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস। প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করার চেষ্টা করেছেন তিনি। কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়েছেন। মিথিলা বলেন, ‘আমার এই সাফল্য প্রথমেই বাবা-মাকে দিতে চাই। তাঁরা সব সময় আমাকে সহযোগিতা করেছেন। এরপর আমার কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষিকা রওশন আরা খান সোমা ম্যাডাম ও আইসিটির শিক্ষক শহিদুল ইসলাম স্যারকে কৃতিত্ব দিতে চাই। তাঁরা আমাকে সব সময় অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আমি নিয়মিত ক্লাস করতাম এবং প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন প্রস্তুত করতাম। কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে ম্যাডাম বুঝিয়ে দিতেন।’ জিপিএ-৫ পাওয়াই মিথিলার শেষ লক্ষ্য নয়। তাঁর স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়াশোনা করা। সেই লক্ষ্য পূরণে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। মিথিলার সাফল্যের পেছনে শিক্ষকদের অনুপ্রেরণার কথাও উঠে এসেছে। বদলগাছী সরকারি কলেজের শিক্ষক রওশন আরা খান সোমা বলেন, ‘শুধু মিথিলা নয়, অন্য শিক্ষার্থীদেরও একইভাবে অনুপ্রেরণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমিও গ্রাম থেকে অনেক সংগ্রাম করে আজকের জায়গায় এসেছি। আমার জীবনের গল্পগুলো তাদের সঙ্গে ভাগ করেছি। আমি আশাবাদী, মিথিলা তার স্বপ্নের সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’ আইসিটি শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আজকাল অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত হতে চায় না। তবে যারা ক্লাসে আসে, তাদের হাতে-কলমে শেখানোর পাশাপাশি অনুপ্রেরণা দেওয়ার চেষ্টা করি। মিথিলাও নিয়মিত ক্লাস করেছে। আমি আশাবাদী, সে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করবে।’ মিথিলার ব্যক্তিগত সাফল্য আনন্দের হলেও উপজেলার চার কলেজের সামগ্রিক ফলাফল উদ্বেগজনক। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বদলগাছী সরকারি কলেজ থেকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পাস করেছেন। এ কলেজের ৪৬৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৬১ জন। পাসের হার ৩৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে বদলগাছী মহিলা ডিগ্রি কলেজের ১২৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১৩ জন। পাসের হার ১০ দশমিক ২৩ শতাংশ। গোবরচাঁপাহাট ডিগ্রি কলেজের ১৫৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৭ জন। পাসের হার ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। সবচেয়ে কম পাসের হার কোলা আদর্শ ডিগ্রি কলেজে। এ কলেজের ১৪৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১৪ জন। পাসের হার ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। অর্থাৎ এ কলেজের ৯০ শতাংশের বেশি পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। চার কলেজে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে তিনটি কলেজে পাসের হার ১২ শতাংশের নিচে নেমে আসার কারণ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষকসংকট, পাঠ্যক্রম শেষ করা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা। স্থানীয় অভিভাবক ইবনে তাহির মুহাম্মদ নয়নসহ কয়েকজন বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসমুখী করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাড়িতে শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি কমাতে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। বদলগাছী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম শেখসহ উপজেলার অন্য তিন কলেজের অধ্যক্ষরাও ফলাফলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানান, এ ফলাফলে তাঁরা খুশি নন। আগের সরকারের নীতি ছিল শতভাগ পাস নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকারের নীতি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসমুখী করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একদিকে ৬৯১ শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার হতাশা, অন্যদিকে একমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া মিথিলার সাফল্য। এই দুই বিপরীত চিত্র বদলগাছীর কলেজ শিক্ষার বাস্তবতা নতুন করে সামনে এনেছে।

৩ ঘন্টা আগে
৯৫ বছর বয়সে গাছতলায় ঠাঁই হওয়া শামসুল হকের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী, উপহারও দিলেন

৯৫ বছর বয়সে গাছতলায় ঠাঁই হওয়া শামসুল হকের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী, উপহারও দিলেন

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ৯৫ বছর বয়সী শামসুল হক মোল্লার খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শামসুল হককে উপহার ও সহমর্মিতার বার্তা দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ‘আমরা বিএনপি পরিবার’–এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’–এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘ছয় সন্তানকে বড় করেছেন, ৯৫ বছর বয়সে বাবার ঠাঁই হলো গাছতলায়’ শিরোনামে ৩ নভেম্বর প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটির কথা উল্লেখ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এটি বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’–এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। এরপর তিনি তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আজ বৃহস্পতিবার ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার উত্তর হিরন গ্রামে শামসুল হকের বাড়িতে যায়। তারা তাঁর শারীরিক ও পারিবারিক অবস্থার খোঁজখবর নেয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শামসুল হককে উপহার ও সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেয় প্রতিনিধিদল। এই সাক্ষাৎকালে মোকছেদুল মোমিন বলেন, শামসুল হকের নিরাপদ আশ্রয়, প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁরা সরেজমিনে এসে জানতে পারেন, শামসুল হকের ছেলেরা তাঁকে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়েছেন। আমৃত্যু তাঁর দায়িত্ব পালনের আশ্বাস দিয়েছেন। বিষয়টি তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শামসুল হক তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করে দুই ছেলে ও চার মেয়েকে বড় করেছেন। সম্প্রতি নিজের জমিজমা ছয় সন্তানের মধ্যে ভাগ করে দেন। পরে তিনি আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁকে বসতবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি বাড়ির পাশের একটি গাছতলায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তাঁর এই দুরবস্থার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সদস্য মাসুদ রানা লিটন, শাকিল আহমদ, শাহাদাত হোসেন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, ছাত্রনেতা মশিউর রহমান মহান, আব্দুল্লাহ আল মিসবাহ প্রমুখ।

৩ ঘন্টা আগে
আর্টিলারি রেজিমেন্টের সম্মেলন ও পুনর্মিলনী, সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

আর্টিলারি রেজিমেন্টের সম্মেলন ও পুনর্মিলনী, সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্টিলারি রেজিমেন্টের ৪৫তম বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন, ষষ্ঠ পুনর্মিলনী এবং আর্টিলারি সেন্টার ও স্কুলের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে রেজিমেন্টের ১১তম কর্নেল কমান্ড্যান্টের অভিষেকও অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চট্টগ্রামের হালিশহরে অবস্থিত আর্টিলারি সেন্টার ও স্কুলে তিন দিনব্যাপী এসব আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ৩ নভেম্বর শুরু হওয়া আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি আর্টিলারি রেজিমেন্টের গৌরবোজ্জ্বল অবদানের কথা তুলে ধরেন। পরিবর্তিত যুদ্ধপরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ আভিযানিক সক্ষমতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পেশাগত উৎকর্ষ বজায় রেখে সর্বদা প্রস্তুত থাকার জন্য সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন। বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন শেষে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন সেনাপ্রধান। এ সময় তিনি মনোমুগ্ধকর পুনর্মিলনী কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন এবং রেজিমেন্টের বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। আর্টিলারি সেন্টার ও স্কুলের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ দশকের পথচলায় আধুনিক প্রশিক্ষণে অবদান রাখা সদস্যদেরও স্মরণ করেন সেনাপ্রধান। এর আগে, ৩ নভেম্বর আর্টিলারি রেজিমেন্টের ১১তম কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। এ উপলক্ষে শহীদ মেজর নাজমুল হক প্যারেড গ্রাউন্ডে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে রেজিমেন্টের জ্যেষ্ঠতম অধিনায়ক ও জ্যেষ্ঠতম মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার তাকে কর্নেল কমান্ড্যান্টের র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি টেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড; সেনাবাহিনীর এ্যাডজুটেন্ট জেনারেল; কর্নেল কমান্ড্যান্ট ও মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ; জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, চট্টগ্রাম এরিয়া; সামরিক ও বেসামরিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ; আর্টিলারি রেজিমেন্টে কর্মরত, অবসরপ্রাপ্ত সদস্যগণ ও পরিবারবর্গ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩ ঘন্টা আগে
খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবহার সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী

খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবহার সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী

খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টায় মোংলা বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় মোংলা বন্দরের সুবিধাদির সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে পঞ্চগড় থেকে মোংলা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ, বন্দরের সাপ্লাই চেইন ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণে সরকার উদ্যোগ নিতে চায়। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। তিনি আরও বলেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান; বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম; বাগেরহাটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য; সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চীনা প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে বাগেরহাটের কাটাখালী মোড়ে পৌঁছে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে পথসভায় বক্তব্য দেন। পরে খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে তিনি খুলনার উদ্দেশে রওনা হন।

৩ ঘন্টা আগে
ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবায়ন

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবায়ন

বিশ্ব অর্থনীতির বহুমুখী অভিঘাত, মূল্যস্ফীতির লাগামহীন চাপ, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি সংকটের আবর্তে বাংলাদেশের প্রান্তিক ও মেহনতি মানুষ এক নীরব লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছে। রাষ্ট্র যখন একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায্যতাভিত্তিক সমাজ নির্মাণের প্রত্যয়ে অগ্রগামী, তখন সাধারণ মানুষের জীবনমানের সুরক্ষা এবং মৌলিক অধিকার সুদৃঢ় করা সর্বাগ্রে প্রয়োজন। এই পটভূমিতে সরকার-প্রবর্তিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, কার্ডগুলোর অন্তর্নিহিত লক্ষ্য হলো প্রচলিত সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর জীর্ণ কাঠামোগুলো সংস্কার করে দুর্নীতি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলা এবং সরাসরি প্রকৃত অংশীজনের কাছে রাষ্ট্রীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। চলতি জাতীয় বাজেটে এটিকে সরকারের অন্যতম প্রধান ‘সিগনেচার প্রোগ্রাম’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই জনকল্যাণমুখী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন প্রান্তিক মানুষকে কতটা সুসংহত সুরক্ষা দিতে পারবে? বাংলাদেশে অতীতে বহু কল্যাণমুখী উদ্যোগ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, রাজনৈতিক পক্ষপাত ও দীর্ঘসূত্রতার আবর্তে পড়ে মূল অভীষ্ট থেকে বিচ্যুত হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড সেই ত্রুটিপূর্ণ বলয় ভেদ করে একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ কল্যাণকাঠামো গড়ে তোলার সাহসী এবং কিছুটা উচ্চাভিলাষী অঙ্গীকার। অতীতে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমসমূহ ছিল মূলত জীবনচক্রভিত্তিক। যেমন বয়স্ক ভাতা বা মাতৃত্বকালীন ভাতা। কিন্তু এবারের উদ্যোগের লক্ষ্য দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে সামাজিক নায্যতা প্রতিষ্ঠা, যার সরাসরি সুবিধাভোগী হবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।  এবারের বাজেট বক্তব্যে সামাজিক সুরক্ষা জালের ব্যাপ্তি সম্প্রসারণ এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করার তাগিদে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ নারীকে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে; যেখানে প্রতিটি খানা বা পরিবারের নারী প্রধানের অনুকূলে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করা হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সুচারুভাবে সম্পাদনের জন্য বাজেটে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কৃষক কার্ড হলো গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষির ভিত্তি আরও টেকসই করার চাবিকাঠি। চলতি বাজেটে ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে এই কার্ডের বৃত্তে নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সার, বীজ, ডিজেল, কীটনাশক ও সেচের ভর্তুকি যখন ডিজিটাল মাধ্যমে কৃষকের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে অথবা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হবে, তখন উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকের শ্রমের অর্জিত ফসল কুক্ষিগত করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। গবেষণা সংস্থা র্যাপিডের (আরএপিআইডি) দারিদ্র্য হ্রাসের মাইক্রো-সিমুলেশন মডেল এবং খানা আয় ও ব্যয় জরিপ (এইচআইইএস) অনুযায়ী, প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে যদি শতভাগ নির্ভুলভাবে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং উল্লিখিত টার্গেট অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনা সম্ভব। ফ্যামিলি কার্ডের নগদ সহায়তা বাস্তবায়িত হলে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ শতাংশ থেকে ১১.৩ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে প্রাক্কলন করা যায়। তবে এই প্রাক্কলনের সম্ভাব্যতা নির্ভর করছে সফল বাস্তবায়নের ওপর। বাজারদর ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি জর্জরিত। এই প্রেক্ষাপটে মাসিক নগদ সহায়তা বা ভর্তুকিযুক্ত কার্ড প্রান্তিক পরিবারগুলোর জন্য একটি কার্যকর প্রতিরোধক বা নিরাপত্তা ঢাল হিসেবে কাজ করে তাদের ন্যূনতম পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। তবে যেকোনো জনকল্যাণমূলক নীতির তাত্ত্বিক উৎকর্ষ শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে তার সফল প্রয়োগের ওপর। এই কর্মসূচি থেকে সর্বোচ্চ সুফল আহরণের জন্য জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতাপ্রসূত পদক্ষেপ অনুসরণ করা অপরিহার্য। বিশেষ করে নিখুঁত ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ডেটাবেজ প্রণয়ন করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। অতীতের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা নয় (ইনক্লুশন এরর) এমন মানুষের হার ছিল উদ্বেগজনকভাবে বেশি। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের ক্ষেত্রে এই ত্রুটির মাত্রা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। স্থানীয় সামাজিক প্রভাব বা রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব সম্পূর্ণ পরিহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) বা বৈজ্ঞানিক মাপকাঠির ভিত্তিতে একটি সর্বাধুনিক ও স্বচ্ছ ডেটাবেজ তৈরি করাই হবে সরকারের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্যে দেশজুড়ে কাজ করছে। চলতি বাজেটেও এ ধরনের কঠোর ও মেধার ভিত্তিতে ডিজিটাল যাচাইয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা বিতরণে কোনো অবস্থাতেই নগদ বা ম্যানুয়াল হস্তান্তরের অবকাশ রাখা যাবে না। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রেরণের মধ্য দিয়ে দুর্নীতির সুযোগ সংকোচন করতে হবে। বৃহৎ পরিসরের সামাজিক সুরক্ষার সফল রূপায়ণের জন্য শক্তিশালী তদারকি ও মূল্যায়ন কাঠামো অপরিহার্য। এই ব্যবস্থার স্বরূপ হতে হবে বহুস্তরীয় ও স্বাধীন। সমাজের সব অংশীজনকে বিশেষ করে স্থানীয় তরুণ সমাজ ও কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সেল গঠন করা বাঞ্ছনীয়, যারা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের গুণগত মান মূল্যায়ন করবে। বরাদ্দকৃত সহায়তা নির্ধারিত সময়ে সঠিক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণের জন্য আধুনিক ডেটা অ্যানালিটিকস ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। কার্ড প্রাপ্তি বা প্রক্রিয়াকরণে কোনো অনিয়ম কিংবা হয়রানির শিকার হলে নাগরিকেরা যেন তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিকার চাইতে পারেন, সে জন্য একটি জবাবদিহিমূলক হটলাইন ও হেল্পডেস্ক ২৪ ঘণ্টা সচল রাখা আবশ্যক। উন্নত ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে সামাজিক সুরক্ষা কোনো কৃপা বা সাময়িক অনুকম্পা নয়, বরং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের (এসএনএপি) মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে অত্যন্ত কঠোর ডিজিটাল মনিটরিংয়ের আওতায় সুনির্দিষ্ট খাদ্যসহায়তার কার্ড প্রদান করা হয়, যা কেবল পুষ্টিকর খাদ্য ক্রয়ে ব্যবহৃত হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অনেক দেশ ইউনিভার্সাল সোশ্যাল সিকিউরিটি সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিকের জীবনযাত্রার মান রাষ্ট্র নিশ্চিত করে, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের অর্থনৈতিক প্রোফাইল ও প্রয়োজন রাষ্ট্রের নিখুঁত ডিজিটাল তথ্যের অধীনে পরিচালিত হয়। উন্নত বিশ্বের এই সফল প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা, জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনার আর্থিক সক্ষমতা এবং বিভিন্ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সুচিন্তিত নীতিগত পরামর্শগুলো সমন্বিত করে আমাদের নিজস্ব আর্থসামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের একটি আধুনিক মডেল গড়ে তুলতে হবে। সেই সঙ্গে এই প্রকল্পের ব্যয় সংকোচন ও সরকারের অর্থ সাশ্রয়ের জন্য ম্যানুয়াল কার্ডের পরিবর্তে কিউআর কোড–সংবলিত ডিজিটাল কার্ড একটি টেকসই সমাধান হতে পারে। এই বিশাল কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে কিছু অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা অগ্রাহ্য করার উপায় নেই। প্রথমত, প্রশাসনিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব মাঠপর্যায়ে কার্ড বণ্টনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। দ্বিতীয়ত, উপকারভোগী নির্ধারণে ডেটাবেজ তৈরির সময় ভুল অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি প্রকৃত যোগ্যদের বাদ পড়ার ঝুঁকি থাকে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে। পাশাপাশি সুশীল সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে। প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও অডিট প্রক্রিয়ার কঠোর প্রয়োগই এই কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে পারে। একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রের চূড়ান্ত মাপকাঠি নিহিত থাকে তার সাধারণ মানুষের স্বস্তি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের ওপর। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড যদি মাঠপর্যায়ে এর প্রকৃত স্পিরিট বজায় রেখে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা জাতীয় জীবনে এক বহুমুখী ইতিবাচক রূপান্তর ঘটাবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হাতে সরাসরি নগদ অর্থ বা ভর্তুকিযুক্ত পরিষেবা পৌঁছানোর ফলে তাদের ভোগ ব্যয় ও সামগ্রিক কার্যকর চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এই বর্ধিত চাহিদা দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং খুচরা পণ্যের বাজারকে প্রাণবন্ত করে তোলে। দারিদ্র্য বিমোচনের কাঠামোগত রূপান্তরের এই উদ্যোগ সাময়িক ত্রাণের সংস্কৃতি বা হিতৈষী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সমাজকে মুক্ত করে একটি কাঠামোগত ও মর্যাদাপূর্ণ অর্থনৈতিক মুক্তির পথ উন্মোচন করে। ফ্যামিলি কার্ডের আর্থিক সুবিধা পরিবারের নারীপ্রধানের নামে হস্তান্তরিত হলে ঘরে ও বাইরে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এটি কেবল পারিবারিক কাঠামোটাই বদলে দেবে না, বরং সমাজে নারীর সামগ্রিক অবস্থান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করবে।  তবে মনে রাখতে হবে, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কাঠামোগত সংকট উত্তরণের একটি সোপান, বিশেষ করে দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত, বিপন্ন পরিবারগুলো যারা সামগ্রিক জীবনচক্রের কোনো পর্যায়ে আর্থিক ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে, তাদের জন্য এটি সাময়িক সুরক্ষাবলয় মাত্র। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্ডভিত্তিক ভর্তুকি বা নির্ভরতার সংস্কৃতি থেকে অর্থনীতিকে সফলভাবে উত্তরণের পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য সুদূরপ্রসারী কৌশল প্রণয়ন জরুরি। প্রান্তিক পরিবারের কর্মক্ষম সদস্য ও যুবসমাজকে আধুনিক কারিগরি শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তির দক্ষতা ও সহজ শর্তে বিনিয়োগ সহায়তা প্রদান করে তাদের জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। মানুষ যখন নিজে আয়বর্ধক কার্যক্রমে যুক্ত হবে, তরুণ উদ্যোক্তারা স্বল্প ও মাঝারি বিনিয়োগভিত্তিক বাণিজ্যে যুক্ত হবে, তখন তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সহায়তার ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে ফেলতে পারবে। এ কারণে গ্রামীণ অর্থনীতি, বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজলভ্য পুঁজি এবং উৎপাদিত পণ্যের আধুনিক বাজারজাতকরণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডকে নির্দিষ্ট কিছু তালিকাভুক্ত পরিবারের জন্য চিরস্থায়ী কোনো সমাধান হিসেবে না নিয়ে শুধু দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রয়োজনভিত্তিক সমাধান হিসেবে দেখতে হবে। একই সঙ্গে এই উদ্যোগ দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের আর্থিক কাঠামোতে বহাল রাখতে হবে যেকোনো আর্থিক সংকটগ্রস্ত পরিবারের আপৎকালীন সহায়তার জন্য। একটি নির্দিষ্ট সময় পর যখন কোনো পরিবার বা কৃষক অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে নির্দিষ্ট আয়সীমা অতিক্রম করবে, তখন তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই তালিকা থেকে বেরিয়ে আসবে এবং তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে অন্য কোনো নতুন দুস্থ পরিবার। এভাবে একটি ঘূর্ণমান, গতিশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনৈতিক চক্র নির্মিত হবে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কেবল একটি সরকারি অনুদান নয়, এটি একটি বৈষম্যহীন, নায্যতাভিত্তিক এবং মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের এক কল্যাণমুখী উদ্যোগ। বাজেটে এর জন্য বরাদ্দকৃত বিপুল অর্থের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার, সুচিন্তিত সুপারিশমালার প্রায়োগিক প্রতিফলন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে যদি এই কর্মসূচি কাঙ্ক্ষিত মানে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে তা এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জীবনধারায় এক গভীর ও সুদূরপ্রসারী বিপ্লব সাধনে সক্ষম হবে। এম আবু ইউসুফ: অধ্যাপক, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নির্বাহী পরিচালক, র‍্যাপিড

৩ ঘন্টা আগে
৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলতে পারে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলতে পারে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন

৭ নভেম্বর ঢাকায় বিএনপির র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান

আগামী ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ঢাকায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করবে বিএনপি। এদিন বিকাল ৩টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর মিরপুরে একটি কমিউনিটি সেন্টারে মতবিনিময় সভায় তা নিশ্চিত করেন মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও সিটি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি জানান, সেদিন ঢাকার রাজপথে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন। ৭ নভেম্বরের কর্মসূচি ঘিরে নেতাকর্মীদের নির্দেশনাও দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এই প্রশাসক।   শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, বিএনপিকে ব্যবহার করে কেউ সুবিধা নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের বদনাম করছে, এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। যারা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

লিংক কপি করা হয়েছে!

পরীমনির নিরাপত্তাকর্মীদের আঘাতে আহত বিচারপ্রার্থী

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মারধর ও ভাঙচুর মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে বের হওয়ার পরপরই চিত্রনায়িকা পরীমনির ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের (বাউন্সার) হামলায় আদালত প্রাঙ্গণ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পরীমনির বাউন্সারদের অতর্কিত হামলা, লাঠিপেটা ও ধাক্কাধাক্কিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত একাধিক গণমাধ্যমকর্মী এবং এক সাধারণ বিচারপ্রার্থী রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়েছেন।আজ বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর ২০২৬) সকালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে এই সংঘাত ও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে।মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর আজ সকালে ১০ জন ব্যক্তিগত সশস্ত্র বাউন্সার বা নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আসেন পরীমনি। শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর পুনরায় জামিন মঞ্জুর করেন।আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরীমনি আদালত ভবন থেকে বের হওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা ছবি ও বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় পরীমনির নিরাপত্তাকর্মীরা পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সংবাদকর্মী এবং আশেপাশে থাকা সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হন এবং একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে পেটানো ও কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন।পরীমনি ও তাঁর নিরাপত্তাকর্মীদের সরাসরি হামলায় বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী আঘাতপ্রাপ্ত ও লাঞ্ছিত হয়েছেন:বাউন্সারদের অতর্কিত হামলায় মারাত্মক আঘাত পান ‘জাগো নিউজ’-এর নিজস্ব প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান এবং মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আবদুল্লাহ আল কাউছার। আশিকুজ্জামানের পিঠে এবং কাউছারের কাঁধ ও হাতে মারাত্মক চোট লাগে। এ সময় আশিকুজ্জামানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়ার তীব্র অভিযোগ ওঠে। আহত আশিকুজ্জামানকে দ্রুত পাশের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। ‘সমকাল’-এর আদালত প্রতিবেদক রবিউল হোসেন অভিযোগ করেন, চিত্রনায়িকা পরীমনি নিজেই তাঁর হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে ‘আগামীর সময়’-এর প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন অভিযোগ তুলে জানান, পরীমনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর হাতে খামচি দিয়েছেন।পরীমনির বাউন্সারদের এলোপাতাড়ি লাঠিপেটা ও হামলায় আদালতের কাজ শেষে বের হওয়া এক সাধারণ বিচারপ্রার্থী মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হন। পরে প্রত্যক্ষদর্শীরা তাঁকে মাথায় ব্যান্ডেজ পরা অবস্থায় উদ্ধার করেন।আদালত চত্বরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্পর্শকাতর স্থানে এমন সহিংসতা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার সময় উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পুলিশ সদস্যরা কেন নীরব ভূমিকা পালন করছিলেন—তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আদালত বিটে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

রিলসের আসক্তি কাটিয়ে মনোযোগ ফেরানোর নতুন উপায়

সময় দেখার জন্য হাতে ফোন নেওয়ার পর টিকটক, ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকের রিলসের চক্রে পড়ে কখন যে মূল্যবান ৪০-৪৫০ মিনিট পার হয়ে যায়, তা অনেক সময় টেরই পাওয়া যায় না। দক্ষিণ কোরিয়ার অচেনা ব্যক্তির খাবার খাওয়ার ভিডিও, নতুন কোনো গানের নাচ কিংবা এআই দিয়ে তৈরি কাল্পনিক প্রেমের গল্প—আমাদের মস্তিষ্ককে খুব সহজেই আটকে রাখে এই অন্তহীন স্ক্রলিংয়ের ফাঁদে। মজার ব্যাপার হলো, অতিরিক্ত রিলস দেখার কুফল নিয়ে সচেতনতামূলক ভিডিও যারা দেখেন, তারাও এই চক্র থেকে বের হতে পারেন না।এই স্ক্রিন আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কিছুটা দূরে থাকতে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নতুন একটি কৌশল। এর নাম ‘ব্রেন স্ট্যাকিং’ (Brain Stacking)।ব্রেন স্ট্যাকিং হলো এমন কিছু বাস্তব ও আনন্দদায়ক কাজের একটি ছোট্ট তালিকা বা সংগ্রহ তৈরি করা, যেখানে কোনো ধরনের স্মার্টফোন, গ্যাজেট বা ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয় না।কী থাকে এই তালিকায়? উপন্যাস পড়া, সুডোকু বা ক্রসবোর্ড মেলানো, ডায়েরি বা নোট লেখা, স্কেচ বা ছবি আঁকা কিংবা পত্রিকার কোনো ধাঁধার সমাধান করা।পদ্ধতিটি কীভাবে কাজ করে? এই জিনিসগুলো বা বই-খাতা একসঙ্গে নিজের হাতের কাছে (যেমন পড়ার টেবিলে বা খাটের পাশে) গুছিয়ে রাখতে হয়। যখনই আপনার মনে হবে একটু ফোন হাতে নিয়ে ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকে ঢুঁ মারি, ঠিক তখনই ফোনের বদলে চোখের সামনে থাকা সেই অফলাইন কাজগুলোর মধ্য থেকে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ট্রেন্ডটি জনপ্রিয় করে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছেন কনটেন্ট নির্মাতা ম্যান্ডি রুলজ। অনেকে একটানা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এই অফলাইন কার্যক্রমে সময় কাটালেও এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট বা কঠোর সময়সীমা নেই; আপনি আপনার সুবিধামতো ১০ মিনিট দিয়েও শুরু করতে পারেন।সুডোকু বা লজিক পাজল খেলার মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি এবং যুক্তি দিয়ে জটিল বিষয় চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ে।বই পড়া বা ডায়েরি লেখার মতো অভ্যাসের ফলে মানুষের মনোযোগ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং গভীর মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা ফিরে আসে।রিলসের জগত থেকে বের হয়ে বাস্তব ও মননশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকায় মানসিক ক্লান্তি ও অস্থিরতা কমে, ফলে গভীর মানসিক তৃপ্তি লাভ করা সম্ভব হয়।এর জন্য নতুন করে কোনো ব্যয়বহুল সরঞ্জাম বা বই কেনার প্রয়োজন নেই। বাড়িতে পড়ে থাকা পুরোনো কোনো উপন্যাস, অসমাপ্ত বই, কোনো পুরোনো খাতা কিংবা খবরের কাগজের ধাঁধার পাতা দিয়েই এটি শুরু করা যেতে পারে।কফি বা চা খাওয়ার পরের সময়টিতে কিংবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে মাত্র ১০ মিনিট ফোন দূরে রেখে এই অভ্যাসটি চর্চা করতে পারেন।মনে রাখবেন, প্রথম দিন থেকেই রাতারাতি রিলসের নেশা কেটে যাবে না। কোনো কোনো দিন হয়তো আবারও রিলস দেখার তীব্র ইচ্ছা জাগতে পারে, যা খুব স্বাভাবিক। তবে নিয়মিত চর্চা করলে ফোনের ওপর অযাচিত নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি শৈশবের বা তারুণ্যের হারিয়ে যাওয়া সুন্দর শখগুলোও নতুন করে নিজের জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সিংগাইরে আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলার রায়, ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮জনের যাবজ্জীবন

সিংগাইরে আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলার রায়, ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮জনের যাবজ্জীবন

 মানিকগঞ্জের সিংগাইরে আলোচিত তিন হত্যা মামলার ১০ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড,৮ জনকে যাবজ্জীবন এবং ৭জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৪ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সব আসামির উপস্থিতিতে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. জিয়ার উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৮জন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।এ ছাড়া শামীম ও হাবু মিয়াকে ৫ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মজনু মিয়াকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ৬ মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে ৩ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।খালাসপ্রাপ্ত ৪ আসামি হলেন উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর ও রাজা।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আ.ফ.ম নুরতাজ আলম বাহার।মামলা সূত্রে জানাযায়, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তার স্বামী ও সন্তান না থাকায় মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তার স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি।২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিশ বৈঠকের দিন ধার্য ছিল। তবে ওই দিন সকাল পৌনে ৮টার দিকে জসিম তার মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে গেলে রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।এ হামলায় আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে তিনজনই মারা যান। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন মো. ফরিদা আক্তার। পরে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream