মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
সর্বশেষ

ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা যথেষ্ট নয়: জুবাইদা রহমান

বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে নারীস্বাস্থ্য খাতে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে আমাদের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন উদ্ভাবনী অর্থায়ন, জাতীয় পর্যায়ে অঙ্গীকার, সহজ শর্তে বিনিয়োগ, অনুদানভিত্তিক কারিগরি সহায়তা এবং টেকসই অভ্যন্তরীণ সম্পদের সমন্বয়।’ রোববার ( ১১ অক্টোবর) জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে (ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট) ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাউ: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, রাজনৈতিক অঙ্গীকার, উদ্ভাবনী অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের সমন্বয়ে কীভাবে নারীস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটানো যায়, বাংলাদেশ তা করে দেখাবে।’ তিনি নারীস্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান। ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘খণ্ডিত ও বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্বল্পমেয়াদি সহায়তার পরিবর্তে টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপান্তর করা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ কেবল স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় নয়; এটি মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং জাতির ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নতির দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার মাতৃস্বাস্থ্যের প্রচলিত সেবার পরিধি বাড়িয়ে কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা, মাতৃ অপুষ্টি, প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু এবং নারীদের আক্রান্তকারী প্রাণঘাতী ক্যানসার মোকাবিলায় বিনিয়োগ সম্প্রসারণে অঙ্গীকারবদ্ধ।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার মতো সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগগুলোও নারী ও মেয়েদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করছে।’ তিনি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে এক লাখ কর্মী নিয়োগে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান। মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সরকার দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে এক লাখ কমিউনিটি ও ওয়েলবিইং কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। পাশাপাশি আরও ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রত্যেক নারীর দক্ষ ও সহানুভূতিশীল মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।’ জুবাইদা রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো প্রান্তের কোনো নারীকে প্রয়োজনীয় ও সমন্বিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা পেতে নিজের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালের বাইরে যেতে হবে না।’ তিনি বলেন, ‘সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো নারীর বেঁচে থাকা কখনোই ঢাকা পর্যন্ত যাতায়াতের সামর্থ্য কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসা নেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়, এটি কেবল স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য নয়; বরং সমতা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।’ নারীর ক্ষমতায়নে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা, নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের অপরিহার্য ভূমিকা রেখেছেন। যার সুফল পাচ্ছেন নারীরা। ‘ তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ এবং পরিবার পরিকল্পনার ওপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গুরুত্বারোপ সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।’ অন্যদিকে, বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগ প্রজন্মের পর প্রজন্মের তরুণীর সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জুবাইদা রহমান। নারীদের আক্রান্তকারী ক্যানসারে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের নতুন নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান। এ উদ্যোগে অংশীদারত্বের জন্য তিনি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বাংলাদেশের প্রতিটি মেয়ে নিরাপদ শৈশবের অধিকারী উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি মা নিরাপদে সন্তান জন্ম দেওয়ার অধিকারী। আর গ্রাম ও শহরের প্রতিটি নারীর দীর্ঘ ও উৎপাদনশীল জীবন যাপনের সুযোগ পাওয়া উচিত।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওই অধিবেশনে ডা. জুবাইদা রহমান সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে সরকার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিগণ প্রচলিত সহায়তার বাইরে নারীস্বাস্থ্য খাতে নতুন অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। অধিবেশনে ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক দিয়েন কেইতা, ঘানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোয়াবেনা মিনতাহ আকানদোহ, ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা, জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের বির্গিট পিকেল এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। সম্মেলনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল টেকসই স্বাস্থ্য অর্থায়ন এবং মিডওয়াইফারি খাতে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনায় অংশ নেয়। এ ছাড়া নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল বায়ার, রোশে, বার্লিন ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং শারিতে- ইউনিভার্সিটেটসমেডিজিন বার্লিন। নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ২৫ কোটি ইউরোর ঋণ পুনর্বিন্যাস: এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) ২৫ কোটি ইউরোর একটি সার্বভৌম ঋণ নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে ইউএনএফপিএ।

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন: ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ নারীর ক্ষমতায়নে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, নারীর অংশগ্রহণ কর্মসংস্থান ও আয়মূলক কর্মকাণ্ডে তাঁদের পরিবার ও সমাজে অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধসহ নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগগুলোকে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে সমন্বিত করতে হবে। আজ সোমবার কোইকা ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শংকরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের সমাজে একজন নারীকে তাঁর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে গ্রামীণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য তাঁদের পরিবারকে সম্পৃক্ত করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নারীর ক্ষমতায়নকে কেবল একটি সাধারণ ধারণা হিসেবে দেখলে হবে না। ব্যক্তিগত ক্ষমতায়ন, শিক্ষাগত ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়গুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সেগুলোর সমন্বয়ে কার্যকর কর্মসূচি তৈরি করতে হবে। একজন নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার আগে তাঁর আত্মবিশ্বাস, নিজের অধিকার সম্পর্কে ধারণা এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাও জরুরি। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ, সামাজিক চাপ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিবারগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কাজ করতে হবে।

ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০৭, আক্রান্ত লাখের বেশি

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এ নিয়ে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৭ জনে। নতুন করে একই সময়ে ২ হাজার ১৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে এ বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে ১ লাখ ১ হাজার ৪৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৩০৭ জনের মধ্যে নারী ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ। মাসভিত্তিক হিসাবে, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে কেউ মারা যাননি। মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। এরপর জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। ওই মাসে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। আর চলতি অক্টোবরের ১২ দিনেই মারা গেছেন ৬২ জন। এর মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হয় ৬ অক্টোবর। রোগী ভর্তির হিসাবেও সেপ্টেম্বর ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ মাসগুলোর একটি। ওই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। চলতি অক্টোবরের প্রথম ১২ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১ হাজার ৮২২ জন। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল—জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে ২ হাজার ৯০৭, জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ এবং আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯৫ হাজার ৩৩১ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

হয়রানির প্রতিবাদে দুই দিন এলপি গ্যাসের দোকান বন্ধের ঘোষণা

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে সারা দেশে সব এলপি গ্যাসের দোকান আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (১৫ ও ১৬ অক্টোবর) বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খান।

বাংলাদেশ ও ইইউ’র মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

বাংলাদেশ ও ইইউ’র মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার সাথে ইইউ’র অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, প্রত্যাবর্তন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অভিবাসী চোরাচালান বিরোধী সহযোগিতাসহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং নিয়মিত অভিবাসনের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি নিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করতে ব্যবহারিক, চাহিদা-ভিত্তিক ও ফলাফল-মুখী ‘মবিলিটি করিডোর’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণ করতে ইইউ এবং এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। শামা ওবায়েদ ইসলাম ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন’ (জিসিএম)-এর লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নে সরকারের গৃহীত ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (এনএপি) ২০২৬-২০৩০’ এর বিষয়টি তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকালে ইইউ কমিশনার ইইউ’র ‘ইস্টার্ন করিডোর ইনিশিয়েটিভ’  উপস্থাপন করেন, যার লক্ষ্য উৎস ও ট্রানজিট দেশ এবং সমস্ত অংশীজনদের সাথে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ইইউতে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ করা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এই উদ্যোগে বাংলাদেশের সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় ডকুমেন্ট জালিয়াতি এবং অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে উদ্যোগসহ বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ কমিশনারকে অবহিত করেন। তিনি নিয়মিত অভিবাসনের পথ সুগম করতে অনিয়মিত অভিবাসনের মূল কারণগুলো চিহ্নিত ও সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই সমস্যাটি ব্যাপকভাবে সমাধানের জন্য সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব স্বীকার করে উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাংলাদেশের বহুমুখী দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। উভয় পক্ষই অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অব্যাহত দ্বিপক্ষীয় সংলাপ এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে। বিডি প্রতিদিন/এআরএ

৭ ঘন্টা আগে
ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা যথেষ্ট নয়: জুবাইদা রহমান

ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা যথেষ্ট নয়: জুবাইদা রহমান

বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে নারীস্বাস্থ্য খাতে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে আমাদের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন উদ্ভাবনী অর্থায়ন, জাতীয় পর্যায়ে অঙ্গীকার, সহজ শর্তে বিনিয়োগ, অনুদানভিত্তিক কারিগরি সহায়তা এবং টেকসই অভ্যন্তরীণ সম্পদের সমন্বয়।’ রোববার ( ১১ অক্টোবর) জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে (ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট) ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাউ: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, রাজনৈতিক অঙ্গীকার, উদ্ভাবনী অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের সমন্বয়ে কীভাবে নারীস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটানো যায়, বাংলাদেশ তা করে দেখাবে।’ তিনি নারীস্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান। ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘খণ্ডিত ও বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্বল্পমেয়াদি সহায়তার পরিবর্তে টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপান্তর করা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ কেবল স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় নয়; এটি মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং জাতির ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নতির দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার মাতৃস্বাস্থ্যের প্রচলিত সেবার পরিধি বাড়িয়ে কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা, মাতৃ অপুষ্টি, প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু এবং নারীদের আক্রান্তকারী প্রাণঘাতী ক্যানসার মোকাবিলায় বিনিয়োগ সম্প্রসারণে অঙ্গীকারবদ্ধ।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার মতো সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগগুলোও নারী ও মেয়েদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করছে।’ তিনি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে এক লাখ কর্মী নিয়োগে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান। মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সরকার দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে এক লাখ কমিউনিটি ও ওয়েলবিইং কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। পাশাপাশি আরও ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রত্যেক নারীর দক্ষ ও সহানুভূতিশীল মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।’ জুবাইদা রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো প্রান্তের কোনো নারীকে প্রয়োজনীয় ও সমন্বিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা পেতে নিজের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালের বাইরে যেতে হবে না।’ তিনি বলেন, ‘সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো নারীর বেঁচে থাকা কখনোই ঢাকা পর্যন্ত যাতায়াতের সামর্থ্য কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসা নেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়, এটি কেবল স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য নয়; বরং সমতা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।’ নারীর ক্ষমতায়নে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা, নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের অপরিহার্য ভূমিকা রেখেছেন। যার সুফল পাচ্ছেন নারীরা। ‘ তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ এবং পরিবার পরিকল্পনার ওপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গুরুত্বারোপ সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।’ অন্যদিকে, বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগ প্রজন্মের পর প্রজন্মের তরুণীর সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জুবাইদা রহমান। নারীদের আক্রান্তকারী ক্যানসারে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের নতুন নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান। এ উদ্যোগে অংশীদারত্বের জন্য তিনি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বাংলাদেশের প্রতিটি মেয়ে নিরাপদ শৈশবের অধিকারী উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি মা নিরাপদে সন্তান জন্ম দেওয়ার অধিকারী। আর গ্রাম ও শহরের প্রতিটি নারীর দীর্ঘ ও উৎপাদনশীল জীবন যাপনের সুযোগ পাওয়া উচিত।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওই অধিবেশনে ডা. জুবাইদা রহমান সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে সরকার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিগণ প্রচলিত সহায়তার বাইরে নারীস্বাস্থ্য খাতে নতুন অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। অধিবেশনে ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক দিয়েন কেইতা, ঘানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোয়াবেনা মিনতাহ আকানদোহ, ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা, জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের বির্গিট পিকেল এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। সম্মেলনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল টেকসই স্বাস্থ্য অর্থায়ন এবং মিডওয়াইফারি খাতে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনায় অংশ নেয়। এ ছাড়া নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল বায়ার, রোশে, বার্লিন ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং শারিতে- ইউনিভার্সিটেটসমেডিজিন বার্লিন। নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ২৫ কোটি ইউরোর ঋণ পুনর্বিন্যাস: এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) ২৫ কোটি ইউরোর একটি সার্বভৌম ঋণ নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে ইউএনএফপিএ।

৭ ঘন্টা আগে
সৌদি প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসের জরুরি নির্দেশনা

সৌদি প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসের জরুরি নির্দেশনা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষের জারি করা নিরাপত্তা ও আইনি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।  রবিবার (১২ অক্টোবর) দূতাবাসের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি-সম্পর্কিত কোনও তথ্য, ছবি বা ভিডিও ধারণ, মুঠোফোনে সংরক্ষণ, অন্যের সঙ্গে আদান-প্রদান কিংবা ফেসবুক, ইউটিউব ও এক্সসহ (সাবেক টুইটার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা সৌদি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই সৌদি আরবের আইন মেনে এ ধরনের ছবি, ভিডিও ও স্পর্শকাতর তথ্য প্রচার এবং আদান-প্রদান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের বিভিন্ন হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। শ্রমসংক্রান্ত বিষয়ে ৮০০১০০০১২৫ নম্বর এবং পাসপোর্টসংক্রান্ত বিষয়ে ৮০০১০০০১২৬ নম্বরে বিনামূল্যে কল করা যাবে। ডিপ্লোম্যাটিক উইং-সংক্রান্ত প্রয়োজনে বিজ্ঞপ্তিতে ৮০০১০০০১২৪ নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।  এ ছাড়া মৃত্যু-সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে +৯৬৬৫৭০২১২১৮০ নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।    মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

৭ ঘন্টা আগে
রাজবাড়ীতে প্রায় কোটি টাকার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

রাজবাড়ীতে প্রায় কোটি টাকার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ঝুটবোঝাই একটি ট্রাক ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯০ লাখ টাকা। আজ সোমবার ভোরে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া মহাসড়কের গোয়ালন্দ ঘাট থানাধীন দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালের সামনে বিশেষ চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার গয়রা এলাকার আমিন উদ্দিনের ছেলে রমজান আলী (৩৪), দিঘীরপাড় এলাকার মৃত কওসার আলীর ছেলে ট্রাকচালক আরমান হোসেন ইউনুস (৩০) এবং কাগমারী এলাকার মালেক মোড়লের ছেলে ট্রাকের সহকারী আরিফ হোসেন (৩২)। পুলিশের দাবি, রমজান আলী এই মাদক চালানের মূল কারবারি। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে একটি ট্রাক পাটুরিয়া ফেরিঘাট হয়ে যশোরের দিকে যাচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ভোর সাড়ে চারটার দিকে দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-১১১৮ নম্বরের ঝুটবোঝাই একটি ট্রাক থামানো হয়। ট্রাকের চালক, সহকারী ও চালকের পেছনের বক্সে শুয়ে থাকা এক ব্যক্তির কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তাঁরা ট্রাক থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে ডিবি পুলিশের সদস্যরা তাঁদের আটক করেন। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ট্রাকের চালকের পেছনের বক্সে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সেখানে শুয়ে থাকা রমজান আলীর মাথার নিচ থেকে ১৫০টি নীল রঙের জিপার ব্যাগে রাখা ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তথ্যমতে, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক ওজন তিন কেজি এবং বাজারমূল্য ৯০ লাখ টাকা। অভিযানে ট্রাকটি ছাড়াও দুটি স্মার্টফোন ও একটি বাটন ফোন জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বিক্রির উদ্দেশ্যে ইয়াবাগুলো ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। ট্রাকচালক ও তাঁর সহকারীর সহযোগিতায় সেগুলো যশোরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ৯(গ)/১০(গ) অনুযায়ী গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

৭ ঘন্টা আগে
রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। আজ সোমবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় ও তারিখ অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। স্থগিত ফ্লাইটগুলোর পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং নতুন যাত্রাসূচি সম্পর্কে যথাসময়ে হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিমান। এর আগে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে রিয়াদগামী যাত্রীদের যাত্রাসূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফ্লাইট স্থগিতের কারণে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। একই সঙ্গে পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।

৮ ঘন্টা আগে
নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন: ববি হাজ্জাজ

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন: ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ নারীর ক্ষমতায়নে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, নারীর অংশগ্রহণ কর্মসংস্থান ও আয়মূলক কর্মকাণ্ডে তাঁদের পরিবার ও সমাজে অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধসহ নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগগুলোকে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে সমন্বিত করতে হবে। আজ সোমবার কোইকা ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শংকরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের সমাজে একজন নারীকে তাঁর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে গ্রামীণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য তাঁদের পরিবারকে সম্পৃক্ত করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নারীর ক্ষমতায়নকে কেবল একটি সাধারণ ধারণা হিসেবে দেখলে হবে না। ব্যক্তিগত ক্ষমতায়ন, শিক্ষাগত ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়গুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সেগুলোর সমন্বয়ে কার্যকর কর্মসূচি তৈরি করতে হবে। একজন নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার আগে তাঁর আত্মবিশ্বাস, নিজের অধিকার সম্পর্কে ধারণা এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাও জরুরি। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ, সামাজিক চাপ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিবারগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কাজ করতে হবে।

৮ ঘন্টা আগে
সিনেমা হলের উন্নয়নে এক হাজার কোটি টাকা ছাড়ের উদ্যোগ

সিনেমা হলের উন্নয়নে এক হাজার কোটি টাকা ছাড়ের উদ্যোগ

দেশের সিনেমা হলগুলোর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বরাদ্দ এক হাজার কোটি টাকা ছাড়ের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সিনেমা হলে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালু, মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং নতুন শিল্পী তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।  সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীতে সিনেমা হল মালিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘আপনাদের জন্য যে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে, সেটি ছাড়ের বিষয়ে আমি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গেও পরামর্শ করবো। নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কীভাবে এই অর্থ ছাড় করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘সিনেপ্লেক্সগুলোর জন্য যদি অর্থ ছাড় করা যায়, তাহলে আপনাদের সিনেমা হলগুলোর জন্য কেন করা যাবে না, সেটিও দেখতে হবে। অবশ্যই আপনাদের জন্য এই অর্থ ছাড় করা প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।’ দেশের সিনেমা হলগুলোতে দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একজন সহকর্মী বললেন, সিঙ্গেল স্ক্রিনের সিনেমা হলে বিপুলসংখ্যক আসন থাকলেও ৫০ জন দর্শকও পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে হল মালিক, প্রযোজক ও পরিচালকদের যৌথভাবে আলোচনা করা উচিত। কী ধরনের সিনেমা নির্মাণ করলে দর্শক হলে ফিরবেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন, সেটি নিয়ে ভাবতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিনেমা ভালো হলে প্রযোজক ও পরিচালকরা উপকৃত হবেন, হল মালিকরাও উপকৃত হবেন। দর্শকরাও ভালো বিনোদন পাবেন। তাই মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি অভিনেতা, পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।’ চলচ্চিত্রে নতুন শিল্পী তৈরির উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন, এফডিসির মাধ্যমে অতীতে নতুন মুখের সন্ধানে একটি কর্মসূচি পরিচালিত হতো। আমরা সেই কর্মসূচি আবার চালু করেছি। অতীতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে অনেক ভালো শিল্পী উঠে এসেছেন। আমরা আশা করি, এবারও নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে প্রতিভাবান শিল্পীরা উঠে আসবেন।’ দেশের সিনেমা হলগুলোতে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ২০২৬ সালে এসেও সিনেমা হলগুলোতে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারিনি। অথচ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই সিনেমা হলে এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এটি বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতোমধ্যে এফডিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ই-টিকিটিং বাস্তবায়নে আপনারাও আন্তরিক হবেন বলে আশা করি। এতে সরকারের রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিনেমা হল মালিকদের স্বার্থও রক্ষা করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে দর্শকরাও আধুনিক ব্যবস্থায় সিনেমা দেখার সুযোগ পাবেন।’ ই-টিকিটিং ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগে বরাদ্দ অর্থের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না, তা বিবেচনার জন্যও হল মালিকদের পরামর্শ দেন তিনি। হল মালিকদের দাবিদাওয়া লিখিতভাবে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আপনাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দাবিদাওয়াগুলো লিখিতভাবে আমাদের দিন। সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমরা কাজ করবো।’ আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও হল মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হলো, সেগুলো বাস্তবায়নে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, কোথায় বাধা রয়েছে এবং কীভাবে সেসব বাধা দূর করা যায়, তা নিয়ে আবার বসতে চাই।’ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগামী বৈঠকে আজ যারা উপস্থিত হতে পারেননি, তাদেরও সঙ্গে নিয়ে আসবেন। সবাই মিলে আন্তরিকভাবে কাজ করলে দেশের চলচ্চিত্র শিল্প ও সিনেমা হলগুলোকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

১২ ঘন্টা আগে
রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ অবস্থান পরিস্থিতি আরও জটিল করছে: তারেক রহমান

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ অবস্থান পরিস্থিতি আরও জটিল করছে: তারেক রহমান

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের অবস্থান দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন। জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নানা অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে তিনি বলেছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ সংকটের টেকসই সমাধান হলো তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। এ সময় রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের গুরুত্বের বিষয়ে একমত পোষণ করেন কানাডার প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু অর্থায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশের কানাডার মতো বন্ধুরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রয়োজন। বৈঠকে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে কানাডা। বিশেষ করে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের ক্ষেত্রে দেশটি বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অংশীদার হতে পারে বলে জানানো হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার কথা জানানো হয়েছে। বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে কানাডা। এ ক্ষেত্রে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) খাতে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া নার্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং দক্ষ নার্স তৈরির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ জানিয়েছে কানাডা। বর্তমানে এ খাতে দেশটির কার্যক্রম রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ডাল ও তৈলবীজের মতো কৃষিপণ্যের উৎপাদন এবং সরবরাহব্যবস্থায় সহযোগিতা জোরদারের সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে কানাডা। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিমিট) মাধ্যমে বাংলাদেশে চলমান কার্যক্রমের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন কানাডার প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। ফলে কৃষি খাতে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সরকারি সহায়তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। তথ্য ব্যবস্থাপনা ও উপাত্তভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে কানাডার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ সহযোগিতা নিতে পারে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাল খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। কানাডার প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নে ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার দেওয়ার বিষয়ে তাঁর দেশের আগ্রহ রয়েছে। এ অর্থায়ন থেকে বাংলাদেশেরও উপকৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে কানাডা। বৈঠকে কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয়দের প্রশংসা করেন রণদীপ সরাই। তাঁদের উদ্যোগ, কর্মদক্ষতা ও ইতিবাচক মানসিকতার কথা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুজন ব্যক্তি কানাডার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও প্রধানমন্ত্রীকে জানান। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কানাডা সফরের আমন্ত্রণ জানান দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কানাডার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার অজিত সিংসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

১২ ঘন্টা আগে
বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ নিয়ে ট্রাইব্যুনালে বিটিআরসি কর্মকর্তার জবানবন্দি

বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ নিয়ে ট্রাইব্যুনালে বিটিআরসি কর্মকর্তার জবানবন্দি

তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) উপপরিচালক মাহদী আহমদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দিতে এ কথা বলেছেন। রোববার (১২ অক্টোবর) জবানবন্দিতে মাহদী আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার পর বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজার রহমান তাকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করেন। ওই সময় পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে পলক এ নির্দেশনা দেন বলে তাকে জানানো হয়। সাক্ষী জানান, তৎকালীন মহাপরিচালক মোবাইল অপারেটরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশনা পাঠান। পরে ১৬ জুলাই দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একইভাবে থ্রিজি ও ফোরজি সেবা বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ নির্দেশনা পলক বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যানকে দেন। চেয়ারম্যান তা মহাপরিচালককে জানালে তিনি মোবাইল অপারেটরগুলোর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি এ বিষয়ে জানতে পারেন। তখন তিনি দাপ্তরিক কাজে অফিসে ছিলেন। মাহদী আহমদ আরও বলেন, ১৬ জুলাই একটি পূর্বনির্ধারিত উচ্চপর্যায়ের সভা ছিল। এতে অনলাইনে অংশ নেন তৎকালীন আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সভায় তার একটি এজেন্ডা থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তবে নিজের তৈরি করা নথি মহাপরিচালকের কাছে দিয়েছিলেন। সেদিন ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে নথিতে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন নেওয়া হয়। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ২৮ জুলাই আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে পলকের সভাপতিত্বে আরেকটি সভা হয়। এতে ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি, এমএফএস সংস্থা ও মোবাইল অপারেটরগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় পলক এনটিএমসির তৎকালীন মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানকে চারটি মোবাইল অপারেটরের থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক চালুর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ফেসবুক, টিকটক, আকামাই ও বাইসানের ক্যাশ সার্ভার বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন বিটিআরসিকে। পরে ৩১ জুলাই পলক ফেসবুক, টিকটক, আকামাই ও বাইসানের ক্যাশ সার্ভার চালুর নির্দেশ দেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন মাহদী আহমদ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য দিচ্ছেন মাহদী আহমদ। গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

১৩ ঘন্টা আগে
১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
খুলনার চার থানায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে আপনি যৌক্তিক মনে করেন কি?

খুলনার চার থানায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে আপনি যৌক্তিক মনে করেন কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

অভিনয়ের বাইরে কুসুমের যে গান ঝড় তুলেছে

নাটক থেকে শুরু করে বড়পর্দা সব জায়গায় একসময় নিয়মিত কাজ করে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী কুসুম শিকদার। মাঝপথে অভিনয়ে লম্বা বিরতি দেওয়া গানের জগতেও রয়েছে পদচারণা এই তারকার। ‘নেশা’ শিরোনামের একটি গান ২০১৭ সালে প্রকাশ পায় কুসুম শিকদারের লেখা ও গাওয়া। গানটির ভিডিও সেই সময় মিডিয়াপাড়ায় রীতিমতো আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। তখন ‘নেশা’র সেই খোলামেলা আর বোল্ড লুকের কারণে চারদিকে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। সংস্কৃতির সঙ্গে বেমানান ও ‘অশ্লীলতা’ ছড়ানোর অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর আইনি নোটিশ পেয়ে শেষ পর্যন্ত ইউটিউব থেকে গানটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। যদিও তখন কুসুম শিকদার সাফাই গেয়ে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই রোমান্টিক ধাঁচে গানটি বানানো হয়েছিল, সেখানে কোনো অনৈতিকতা ছিল না। কিন্তু তাতেও গায়িকা ও অভিনেত্রী হিসেবে তার ক্যারিয়ারে একটা বড় ধাক্কা লেগেছিল বৈকি! আরও পড়ুনআরও পড়ুন১৭ বছর পর ফিরছে আসিফ আকবরের ‘ট্র্যাজেডি পিলখানায়’ সেই সব জলঘোলা পরিস্থিতি আর বিতর্কের স্মৃতি পেছনে ফেলে দীর্ঘ নয় বছর পর এবার একেবারে নতুন এক মৌলিক গান নিয়ে হাজির হয়েছেন এই তারকা। গানের শিরোনাম—‘প্রবল ঘোর’। এই গানটির কথাও কুসুম নিজেই লিখেছেন, সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন মাহমুদ সানি। সানির ইউটিউব চ্যানেলেই রিলিজ হওয়া এই গানের ভিডিওতে কুসুমের সঙ্গে মডেল হিসেবে আছেন শাহ রাসেল। ‘নেশা’র সেই পুরোনো খোলামেলা ও উত্তাল ইমেজ ঝেড়ে ফেলে এবার একদম নতুন, পরিপক্ব ও মার্জিত লুকে দর্শকদের সামনে এসেছেন কুসুম। পুরোনো বিতর্ককে সঙ্গী করেই তিনি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন। অবশ্য শুধু গান নয়, ২০২৪ সালে ‘শরতের জবা’ সিনেমা দিয়ে পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়েও কামব্যাক করেছিলেন এই তারকা। তবে বড় পর্দায় ফেরার পর ভক্তদের সেই চেনা জাদুকরি চমকটা সেভাবে আর দিতে পারেননি। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ নয় বছরের ‘ঘোর’ ভেঙে নতুন এই গানে কুসুম শিকদার কতটা বাজিমাত করতে পারেন এবং শ্রোতাদের মন কতটা জয় করতে পারেন।  

যেভাবে ছড়াতে পারে এইচআইভি

এইচআইভি (হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস) একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা মানুষের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয়। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এটি এইডসে রূপ নিতে পারে। এ বিষয়ে সচেতনতার অভাব এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে যে কেবল শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমেই এই ভাইরাস ছড়ায়, যা সঠিক নয়।সংক্রমিত রক্ত, বীর্য, যোনিরস, পায়ুপথের তরল এবং বুকের দুধের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। তবে সাধারণ স্পর্শ, একসঙ্গে খাওয়া বা করমর্দনে এইচআইভি ছড়ায় না। শারীরিক সম্পর্ক ছাড়াও যেসব কারণে সংক্রমণ হতে পারে:যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া রক্তদাতা বা রক্ত গ্রহণকারীর মাধ্যমে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।মাদক গ্রহণকারী বা চিকিৎসায় একাধিক ব্যক্তির একই সুচ ব্যবহারের ফলে।অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসার যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত না করলে।আক্রান্ত মায়ের গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় বা স্তন্যদানের মাধ্যমে (যদিও সঠিক চিকিৎসায় ঝুঁকি কমানো সম্ভব)। স্বাস্থ্যকর্মী বা অন্য কারও শরীরে দুর্ঘটনাবশত সংক্রমিত রক্ত প্রবেশ করলে।জীবাণুমুক্ত নয় এমন সুচ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র বা ট্যাটু করার সময়।প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বর, গলাব্যথা, ফুসকুড়ি, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, রাতের ঘাম বা লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে অনেকের দীর্ঘকাল কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। তাই নিশ্চিত হতে পরীক্ষা করানো জরুরি।ঝুঁকিপূর্ণ সংস্পর্শের ক্ষেত্রে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ‘পিইপি’ (পোস্ট-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস) শুরু করলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা এবং অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। সচেতনতা, নিরাপদ সরঞ্জাম ব্যবহার এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসাই এইচআইভি প্রতিরোধের মূল উপায়।

লালমনিরহাটে অবৈধ ব্যবসায়ীর কাছে সার বিক্রি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

লালমনিরহাটে অবৈধ ব্যবসায়ীর কাছে সার বিক্রি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

‎‎লালমনিরহাট প্রতিনিধি:‎‎লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চাঁদনী বাজার এলাকায়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক অনুমোদিত বীজ ও সার ডিলার মেসার্স রেহান সীডসের বিরুদ্ধে, কৃষক ব্যতীত অবৈধ ব্যবসায়ীর কাছে সার বিক্রির অপরাধে, ভ্রাম্যমাণ আদালত উক্ত ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। আদালত বিক্রিত ৬ বস্তা সার জব্দ করে, স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে।‎রোববার বিকেলে ৩ টার সময় অভিযান চলাকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ  উপস্থিত থেকে প্রসিকিউশন দাখিল করেন। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ‎রাকিবুল ইসলাম সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে এ অর্থদণ্ড প্রদান করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার টাকা আদায় করা হয়।এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ‎রাকিবুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে সার বিক্রি বন্ধে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে এবং জব্দ করা ছয় বস্তা সার স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ‎পুনরায় অবৈধভাবে সার বিক্রি করলে তার ডিলারশিপের লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে বলে জানানো হয়।লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ জানান, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, সারের সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করা এবং সার বিপণনে অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream