মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
সর্বশেষ

বিশেষ আদালত গঠনের কথা ভাবছে সরকার: আইনমন্ত্রী

প্রবাসীদের অর্থ-সম্পদ সুরক্ষা এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ আদালতের মাধ্যমে প্রবাসীদের নানা ধরনের সংকট মোকাবিলা ও আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মিলন-২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।আইনমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে অন্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় বাংলাদেশের কর্মীরা শ্রমের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর পেছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।তিনি আরও জানান, প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, সংকট ও মামলা পরিচালনার জন্য বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক খসড়া তৈরির কাজ চলছে এবং শিগগিরই উদ্যোগটি বাস্তবায়নের দিকে এগোবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

হুতিদের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বন্ধ রিয়াদ বিমানবন্দর

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবে একের পর এক হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, হুতিরা খুবই খারাপ আচরণ করছে। এদিকে হামলার কারণে সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম আগামী শনিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হুতিদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আসলে হুতিরা খুবই খারাপ আচরণ করছে। এটা মোটেও ভালো না।’ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ ও দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশটির বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেবে কি না, তা বিবেচনার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি তিনি। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত শনিবারের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এরপর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরদিন রোববার সেখানে আরেক দফা হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বিমানবন্দরের পাশাপাশি দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতেও ধারাবাহিক হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে হুতিদের বিরুদ্ধে। হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে একাধিক এয়ারলাইনস। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইতিহাদ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, আবুধাবি থেকে রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামগামী কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এয়ারলাইনটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, আবুধাবি থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট আগামী সোমবার (১৯ অক্টোবর) পর্যন্ত পরিচালিত হবে না। দাম্মামগামী মঙ্গলবার ও বুধবারের সব ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ। গতকাল হালনাগাদ করা এক ভ্রমণ নির্দেশনায় এয়ারলাইনটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌদি আরবের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যাত্রীদের ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে যেসব যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হবে বলেও জানিয়েছে এয়ারলাইনটি। এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাইজে হুতিদের গোলাবর্ষণে পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সাবা। আহতদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, আহতদের চারজন একই পরিবারের সদস্য। তাঁদের মধ্যে ৪ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে। আল-ধাহরা আবাসিক এলাকায় হামলায় তারা আহত হয়। এ ছাড়া বীর বাশা এলাকার কাছে গোলাবর্ষণের পৃথক ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী এক নারী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সাবা।

দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারো কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মঙ্গলবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।  বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমিয়ে করা হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে।

ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা যথেষ্ট নয়: জুবাইদা রহমান

বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে নারীস্বাস্থ্য খাতে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে আমাদের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন উদ্ভাবনী অর্থায়ন, জাতীয় পর্যায়ে অঙ্গীকার, সহজ শর্তে বিনিয়োগ, অনুদানভিত্তিক কারিগরি সহায়তা এবং টেকসই অভ্যন্তরীণ সম্পদের সমন্বয়।’ রোববার ( ১১ অক্টোবর) জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে (ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট) ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাউ: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, রাজনৈতিক অঙ্গীকার, উদ্ভাবনী অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের সমন্বয়ে কীভাবে নারীস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটানো যায়, বাংলাদেশ তা করে দেখাবে।’ তিনি নারীস্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান। ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘খণ্ডিত ও বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্বল্পমেয়াদি সহায়তার পরিবর্তে টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপান্তর করা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ কেবল স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় নয়; এটি মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং জাতির ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নতির দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার মাতৃস্বাস্থ্যের প্রচলিত সেবার পরিধি বাড়িয়ে কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা, মাতৃ অপুষ্টি, প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু এবং নারীদের আক্রান্তকারী প্রাণঘাতী ক্যানসার মোকাবিলায় বিনিয়োগ সম্প্রসারণে অঙ্গীকারবদ্ধ।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার মতো সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগগুলোও নারী ও মেয়েদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করছে।’ তিনি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে এক লাখ কর্মী নিয়োগে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান। মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সরকার দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে এক লাখ কমিউনিটি ও ওয়েলবিইং কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। পাশাপাশি আরও ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রত্যেক নারীর দক্ষ ও সহানুভূতিশীল মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।’ জুবাইদা রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো প্রান্তের কোনো নারীকে প্রয়োজনীয় ও সমন্বিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা পেতে নিজের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালের বাইরে যেতে হবে না।’ তিনি বলেন, ‘সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো নারীর বেঁচে থাকা কখনোই ঢাকা পর্যন্ত যাতায়াতের সামর্থ্য কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসা নেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়, এটি কেবল স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য নয়; বরং সমতা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।’ নারীর ক্ষমতায়নে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা, নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের অপরিহার্য ভূমিকা রেখেছেন। যার সুফল পাচ্ছেন নারীরা। ‘ তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ এবং পরিবার পরিকল্পনার ওপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গুরুত্বারোপ সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।’ অন্যদিকে, বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগ প্রজন্মের পর প্রজন্মের তরুণীর সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জুবাইদা রহমান। নারীদের আক্রান্তকারী ক্যানসারে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের নতুন নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান। এ উদ্যোগে অংশীদারত্বের জন্য তিনি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বাংলাদেশের প্রতিটি মেয়ে নিরাপদ শৈশবের অধিকারী উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি মা নিরাপদে সন্তান জন্ম দেওয়ার অধিকারী। আর গ্রাম ও শহরের প্রতিটি নারীর দীর্ঘ ও উৎপাদনশীল জীবন যাপনের সুযোগ পাওয়া উচিত।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওই অধিবেশনে ডা. জুবাইদা রহমান সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে সরকার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিগণ প্রচলিত সহায়তার বাইরে নারীস্বাস্থ্য খাতে নতুন অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। অধিবেশনে ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক দিয়েন কেইতা, ঘানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোয়াবেনা মিনতাহ আকানদোহ, ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা, জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের বির্গিট পিকেল এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। সম্মেলনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল টেকসই স্বাস্থ্য অর্থায়ন এবং মিডওয়াইফারি খাতে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনায় অংশ নেয়। এ ছাড়া নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল বায়ার, রোশে, বার্লিন ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং শারিতে- ইউনিভার্সিটেটসমেডিজিন বার্লিন। নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ২৫ কোটি ইউরোর ঋণ পুনর্বিন্যাস: এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) ২৫ কোটি ইউরোর একটি সার্বভৌম ঋণ নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে ইউএনএফপিএ।

আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি ট্যাক্সি ও ট্রাক ড্রাইভারসহ দক্ষ শ্রমিকদের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে এক ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও আরব আমিরাতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্বের গভীর বন্ধন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে দুই দেশের এই ঐতিহাসিক কূটনৈতিক ভিত্তি যা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে সুসংহত হয়েছিল, তা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। বৈঠকে সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকের ধারাবাহিক আলোচনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার আরও প্রসারিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। বিশেষ করে আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ট্যাক্সি ড্রাইভার ও ট্রাক ড্রাইভারের পেশায় কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং অধিক সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বের সাথে কথা বলেন উভয় প্রতিনিধি। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বাংলাদেশে ইউএই’র বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদার এবং কৌশলগত অবকাঠামো ও শিল্প খাতে নতুন অংশীদারিত্ব সৃষ্টির সুযোগ নিয়ে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।

১১ মিনিট আগে
বিশেষ আদালত গঠনের কথা ভাবছে সরকার: আইনমন্ত্রী

বিশেষ আদালত গঠনের কথা ভাবছে সরকার: আইনমন্ত্রী

প্রবাসীদের অর্থ-সম্পদ সুরক্ষা এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ আদালতের মাধ্যমে প্রবাসীদের নানা ধরনের সংকট মোকাবিলা ও আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মিলন-২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।আইনমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে অন্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় বাংলাদেশের কর্মীরা শ্রমের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর পেছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।তিনি আরও জানান, প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, সংকট ও মামলা পরিচালনার জন্য বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক খসড়া তৈরির কাজ চলছে এবং শিগগিরই উদ্যোগটি বাস্তবায়নের দিকে এগোবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

২৪ মিনিট আগে
চকবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত গুদামের মালামাল না সরালে আবারও আগুন ধরতে পারে: ফায়ার সার্ভিস

চকবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত গুদামের মালামাল না সরালে আবারও আগুন ধরতে পারে: ফায়ার সার্ভিস

পুরান ঢাকার চকবাজারের মনসুর খান প্লাজা মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে ১২ থেকে ১৪টি গুদামসহ সাত-আটটি দোকানের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১২ থেকে ১৪টি গুদাম থাকা ছয়তলায় আগুন বেশি ছড়ায়। সাততলার কিছু অংশও সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় আটটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পরও ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল সরানো ও পানি দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত গুদামের মালামাল না সরালে আবারও ঘটনাস্থলে আগুন ধরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ফায়ার সার্ভিস। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে চকবাজারে প্রেস ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান এসব তথ্য জানান। ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, মার্কেটের ছাতা, প্রসাধনী, আতর ও আতরের বোতলসহ বিভিন্ন পণ্যে গুদামগুলো পরিপূর্ণ ছিল। এসব পণ্যের নিচে তাপ ও ধোঁয়া থাকায় সেগুলো সরিয়ে পানি দিতে হচ্ছে। মালামাল সরানো না হলে আবার আগুন জ্বলে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, গতকাল সোমবার বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে লালবাগ, সদর দপ্তর সিদ্দিকবাজার ও পলাশী থেকে ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা হয়। পরে আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ভোর ৫টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তিনি বলেন, ছয়তলা ও সাততলায় প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপ ছিল। গুদামগুলো শাটার ও একাধিক তালা দিয়ে বন্ধ থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়। প্রচণ্ড তাপ ও ধোঁয়ার মধ্যে তালা কেটে গুদামে প্রবেশ করে আগুন নেভানোর কাজ করতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের। অগ্নিকাণ্ডের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে কাজী নাজমুল জামান বলেন, চকবাজারের সরু সড়ক ও যানজটের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। এ ছাড়া ভবনের ভেতরে ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ফায়ার ফাইটারদের প্রচণ্ড তাপের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। আশপাশের পানির রিজার্ভারগুলো বারবার খালি হয়ে যাওয়ায় পানি সরবরাহেও সমস্যা হয়েছে। পরে রিজার্ভার পরিবর্তন করে আগুন নেভানোর কার্যক্রম চালানো হয়। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের সম্ভাবনা থাকলেও তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, আগুন যেন আশপাশের মার্কেট ও ভবনে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। মার্কেটের স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থা সহযোগিতা করেছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষও পানি সরবরাহ করেছে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন আশপাশের মার্কেটগুলোতে ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য আহত হয়েছেন জানিয়ে কাজী নজমুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো নিহত বা অন্য কারও আহত হওয়ার খবর তাঁদের কাছে নেই। গুদামে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, আগুনের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সেগুলো ব্যবহার করে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। আগুনের ধরন বিবেচনায় এটি সলিড ফায়ার হওয়ায় পানি ব্যবহার করা হয়েছে। জ্বালানি বা পেট্রোলজাতীয় পদার্থে আগুন লাগলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ফোম ব্যবহার করা হতো।

৩৭ মিনিট আগে
আমলাতান্ত্রিক সংস্কার ছাড়া কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ সম্ভব নয়: ঢাবিতে ডেপুটি স্পিকার

আমলাতান্ত্রিক সংস্কার ছাড়া কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ সম্ভব নয়: ঢাবিতে ডেপুটি স্পিকার

কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন দিয়ে দেশ এগোবে না উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, আমলাতান্ত্রিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার না হলে বাংলাদেশ কখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। একই সঙ্গে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ছায়া মন্ত্রিসভা (শ্যাডো ক্যাবিনেট) গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।  সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইআর) আয়োজিত ‘শরৎ উৎসব ও ৩১তম ব্যাচের নবীনবরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  ইতিহাসের উদাহরণ টেনে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার না হওয়ার কারণে দেশ কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। বরং কালের পরিক্রমায় দেশে ফ্যাসিজম কায়েম হয়েছিল।দেশকে একটি সঠিক সুশৃঙ্খল সিস্টেমের মধ্যে আনতে হলে আমলাতন্ত্রে ব্যাপক সংস্কার আনতে হবে বলে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে সংস্কার এনে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে এবং পেশাদারিত্বের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।সংসদের ভূমিকা তুলে ধরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জাতীয় সংসদকে সব ধরনের নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে। সংসদ কার্যকর হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।আইইআর-এর পরিচালক অধ্যাপক হোসনে আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেসানী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম।  অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিরা অংশ নেন।

৪৬ মিনিট আগে
সৌদিতে হামলার কারণে ৯ হাজার ২৬৯ বাংলাদেশি যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত

সৌদিতে হামলার কারণে ৯ হাজার ২৬৯ বাংলাদেশি যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত

সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার জেরে বিভিন্ন ফ্লাইটের ৯ হাজার ২৬৯ জন বাংলাদেশি যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই যাত্রীদের ঢাকা থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার কথা ছিল। তবে এই হিসাবের মধ্যে রিয়াদ এয়ারওয়েজের যাত্রীর সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত নয়। আজ মঙ্গলবার সকালে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বেবিচক বলছে, রিয়াদ এয়ারওয়েজের তথ্য পাওয়া গেলে মোট ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর হিসাব হালনাগাদ করা হবে। বেবিচকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরের কার্যক্রমে বিধিনিষেধ চলছে। এ কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ৬১টি ফ্লাইটে সরাসরি প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল ও কিছু স্থগিত হয়েছে। বেবিচক বলছে, গত শনিবার রাত থেকে গতকাল সোমবার মধ্যরাত নাগাদ এসব ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। বেবিচকের তথ্যমতে, ৬১টি ফ্লাইটের মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি চলাচলকারী ফ্লাইট ২২টি। বাকি ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ৪টি ও রিয়াদ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট ৭টি। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি, সালাম এয়ারের ৩টি ও ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট রয়েছে। বেবিচকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রমের ওপর বিধিনিষেধের প্রভাব এখন শুধু সরাসরি ফ্লাইটে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ট্রানজিট ফ্লাইটও এর আওতায় এসেছে। এতে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে দফায় দফায় সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে হামলা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হয় গত শনিবার। এসব হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ মোট ১৪ জন নিহত হন। আহত অনেকে। এরপর ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে থাকে। ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪–এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদগামী সব ফ্লাইট হয় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে, নয়তো বাতিল করা হয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান। অন্যদিকে, ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা পথে ইউএস–বাংলার সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

১ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশ ও ইইউ’র মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

বাংলাদেশ ও ইইউ’র মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার সাথে ইইউ’র অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, প্রত্যাবর্তন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অভিবাসী চোরাচালান বিরোধী সহযোগিতাসহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং নিয়মিত অভিবাসনের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি নিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করতে ব্যবহারিক, চাহিদা-ভিত্তিক ও ফলাফল-মুখী ‘মবিলিটি করিডোর’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণ করতে ইইউ এবং এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। শামা ওবায়েদ ইসলাম ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন’ (জিসিএম)-এর লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নে সরকারের গৃহীত ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (এনএপি) ২০২৬-২০৩০’ এর বিষয়টি তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকালে ইইউ কমিশনার ইইউ’র ‘ইস্টার্ন করিডোর ইনিশিয়েটিভ’  উপস্থাপন করেন, যার লক্ষ্য উৎস ও ট্রানজিট দেশ এবং সমস্ত অংশীজনদের সাথে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ইইউতে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ করা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এই উদ্যোগে বাংলাদেশের সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় ডকুমেন্ট জালিয়াতি এবং অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে উদ্যোগসহ বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ কমিশনারকে অবহিত করেন। তিনি নিয়মিত অভিবাসনের পথ সুগম করতে অনিয়মিত অভিবাসনের মূল কারণগুলো চিহ্নিত ও সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই সমস্যাটি ব্যাপকভাবে সমাধানের জন্য সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব স্বীকার করে উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাংলাদেশের বহুমুখী দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। উভয় পক্ষই অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অব্যাহত দ্বিপক্ষীয় সংলাপ এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে। বিডি প্রতিদিন/এআরএ

১৬ ঘন্টা আগে
ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা যথেষ্ট নয়: জুবাইদা রহমান

ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা যথেষ্ট নয়: জুবাইদা রহমান

বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে নারীস্বাস্থ্য খাতে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে আমাদের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন উদ্ভাবনী অর্থায়ন, জাতীয় পর্যায়ে অঙ্গীকার, সহজ শর্তে বিনিয়োগ, অনুদানভিত্তিক কারিগরি সহায়তা এবং টেকসই অভ্যন্তরীণ সম্পদের সমন্বয়।’ রোববার ( ১১ অক্টোবর) জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে (ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট) ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাউ: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, রাজনৈতিক অঙ্গীকার, উদ্ভাবনী অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের সমন্বয়ে কীভাবে নারীস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটানো যায়, বাংলাদেশ তা করে দেখাবে।’ তিনি নারীস্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান। ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘খণ্ডিত ও বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্বল্পমেয়াদি সহায়তার পরিবর্তে টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপান্তর করা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ কেবল স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় নয়; এটি মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং জাতির ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নতির দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার মাতৃস্বাস্থ্যের প্রচলিত সেবার পরিধি বাড়িয়ে কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা, মাতৃ অপুষ্টি, প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু এবং নারীদের আক্রান্তকারী প্রাণঘাতী ক্যানসার মোকাবিলায় বিনিয়োগ সম্প্রসারণে অঙ্গীকারবদ্ধ।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার মতো সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগগুলোও নারী ও মেয়েদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করছে।’ তিনি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে এক লাখ কর্মী নিয়োগে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান। মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সরকার দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে এক লাখ কমিউনিটি ও ওয়েলবিইং কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। পাশাপাশি আরও ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রত্যেক নারীর দক্ষ ও সহানুভূতিশীল মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।’ জুবাইদা রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো প্রান্তের কোনো নারীকে প্রয়োজনীয় ও সমন্বিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা পেতে নিজের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালের বাইরে যেতে হবে না।’ তিনি বলেন, ‘সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো নারীর বেঁচে থাকা কখনোই ঢাকা পর্যন্ত যাতায়াতের সামর্থ্য কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসা নেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়, এটি কেবল স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য নয়; বরং সমতা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।’ নারীর ক্ষমতায়নে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা, নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের অপরিহার্য ভূমিকা রেখেছেন। যার সুফল পাচ্ছেন নারীরা। ‘ তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ এবং পরিবার পরিকল্পনার ওপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গুরুত্বারোপ সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।’ অন্যদিকে, বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগ প্রজন্মের পর প্রজন্মের তরুণীর সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জুবাইদা রহমান। নারীদের আক্রান্তকারী ক্যানসারে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের নতুন নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান। এ উদ্যোগে অংশীদারত্বের জন্য তিনি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বাংলাদেশের প্রতিটি মেয়ে নিরাপদ শৈশবের অধিকারী উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি মা নিরাপদে সন্তান জন্ম দেওয়ার অধিকারী। আর গ্রাম ও শহরের প্রতিটি নারীর দীর্ঘ ও উৎপাদনশীল জীবন যাপনের সুযোগ পাওয়া উচিত।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওই অধিবেশনে ডা. জুবাইদা রহমান সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে সরকার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিগণ প্রচলিত সহায়তার বাইরে নারীস্বাস্থ্য খাতে নতুন অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। অধিবেশনে ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক দিয়েন কেইতা, ঘানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোয়াবেনা মিনতাহ আকানদোহ, ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা, জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের বির্গিট পিকেল এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। সম্মেলনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল টেকসই স্বাস্থ্য অর্থায়ন এবং মিডওয়াইফারি খাতে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনায় অংশ নেয়। এ ছাড়া নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল বায়ার, রোশে, বার্লিন ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং শারিতে- ইউনিভার্সিটেটসমেডিজিন বার্লিন। নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ২৫ কোটি ইউরোর ঋণ পুনর্বিন্যাস: এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) ২৫ কোটি ইউরোর একটি সার্বভৌম ঋণ নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে ইউএনএফপিএ।

১৬ ঘন্টা আগে
সৌদি প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসের জরুরি নির্দেশনা

সৌদি প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসের জরুরি নির্দেশনা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষের জারি করা নিরাপত্তা ও আইনি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।  রবিবার (১২ অক্টোবর) দূতাবাসের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি-সম্পর্কিত কোনও তথ্য, ছবি বা ভিডিও ধারণ, মুঠোফোনে সংরক্ষণ, অন্যের সঙ্গে আদান-প্রদান কিংবা ফেসবুক, ইউটিউব ও এক্সসহ (সাবেক টুইটার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা সৌদি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই সৌদি আরবের আইন মেনে এ ধরনের ছবি, ভিডিও ও স্পর্শকাতর তথ্য প্রচার এবং আদান-প্রদান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের বিভিন্ন হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। শ্রমসংক্রান্ত বিষয়ে ৮০০১০০০১২৫ নম্বর এবং পাসপোর্টসংক্রান্ত বিষয়ে ৮০০১০০০১২৬ নম্বরে বিনামূল্যে কল করা যাবে। ডিপ্লোম্যাটিক উইং-সংক্রান্ত প্রয়োজনে বিজ্ঞপ্তিতে ৮০০১০০০১২৪ নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।  এ ছাড়া মৃত্যু-সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে +৯৬৬৫৭০২১২১৮০ নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।    মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

১৭ ঘন্টা আগে
রাজবাড়ীতে প্রায় কোটি টাকার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

রাজবাড়ীতে প্রায় কোটি টাকার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ঝুটবোঝাই একটি ট্রাক ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯০ লাখ টাকা। আজ সোমবার ভোরে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া মহাসড়কের গোয়ালন্দ ঘাট থানাধীন দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালের সামনে বিশেষ চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার গয়রা এলাকার আমিন উদ্দিনের ছেলে রমজান আলী (৩৪), দিঘীরপাড় এলাকার মৃত কওসার আলীর ছেলে ট্রাকচালক আরমান হোসেন ইউনুস (৩০) এবং কাগমারী এলাকার মালেক মোড়লের ছেলে ট্রাকের সহকারী আরিফ হোসেন (৩২)। পুলিশের দাবি, রমজান আলী এই মাদক চালানের মূল কারবারি। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে একটি ট্রাক পাটুরিয়া ফেরিঘাট হয়ে যশোরের দিকে যাচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ভোর সাড়ে চারটার দিকে দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-১১১৮ নম্বরের ঝুটবোঝাই একটি ট্রাক থামানো হয়। ট্রাকের চালক, সহকারী ও চালকের পেছনের বক্সে শুয়ে থাকা এক ব্যক্তির কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তাঁরা ট্রাক থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে ডিবি পুলিশের সদস্যরা তাঁদের আটক করেন। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ট্রাকের চালকের পেছনের বক্সে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সেখানে শুয়ে থাকা রমজান আলীর মাথার নিচ থেকে ১৫০টি নীল রঙের জিপার ব্যাগে রাখা ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তথ্যমতে, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক ওজন তিন কেজি এবং বাজারমূল্য ৯০ লাখ টাকা। অভিযানে ট্রাকটি ছাড়াও দুটি স্মার্টফোন ও একটি বাটন ফোন জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বিক্রির উদ্দেশ্যে ইয়াবাগুলো ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। ট্রাকচালক ও তাঁর সহকারীর সহযোগিতায় সেগুলো যশোরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ৯(গ)/১০(গ) অনুযায়ী গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৭ ঘন্টা আগে
রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। আজ সোমবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় ও তারিখ অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। স্থগিত ফ্লাইটগুলোর পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং নতুন যাত্রাসূচি সম্পর্কে যথাসময়ে হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিমান। এর আগে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে রিয়াদগামী যাত্রীদের যাত্রাসূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফ্লাইট স্থগিতের কারণে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। একই সঙ্গে পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।

১৭ ঘন্টা আগে
১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
খুলনার চার থানায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে আপনি যৌক্তিক মনে করেন কি?

খুলনার চার থানায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে আপনি যৌক্তিক মনে করেন কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন

ঢাকায় বাধা, রাউজানে সম্প্রীতি: রোটনকে শেষ বিদায়

রাজধানী ঢাকায় জানাজা করতে না পারা ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন শেষ পর্যন্ত নিজ জন্মভূমি চট্টগ্রামের রাউজানে পেলেন শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ বিদায়। দল মতের ভিন্নতা ভুলে তার জানাজায় অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষ, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ১০ অক্টোবর, কলকাতার একটি হাসপাতালে মারা যান। পরদিন তার মরদেহ ভারতের পেট্রাপোল হয়ে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়। ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। বেনাপোল সীমান্তে তখন পুলিশ, বিজিবি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মরদেহ দেশে আনার পুরো প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা। পরিকল্পনা ছিল, ঢাকায় একটি জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে রোটনের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানে। রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে বাদ আসর জানাজার আয়োজনের কথা ছিল। কিন্তু সাইন্সল্যাব মোড়ে পুলিশ মরদেহবাহী গাড়িটি ধানমন্ডির দিকে যেতে বাধা দেয়। মসজিদ এলাকায় জানাজায় অংশ নিতে জড়ো হওয়া কয়েকজনের ওপর হামলার অভিযোগও ওঠে, পুলিশ চারজনকে আটক করে। শেষ পর্যন্ত ঢাকায় আর জানাজা হয়নি এবং মরদেহ নিয়ে যাত্রা শুরু হয় চট্টগ্রামের পথে। রোববার দিবাগত রাত প্রায় দুইটার দিকে মরদেহবাহী গাড়ি রাউজান পৌরসভার গহিরায় বক্স আলী চৌধুরী বাড়িতে পৌঁছায়। সেখানে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও মরদেহ গ্রহণ করেন। পরদিন সোমবার সকাল ১১টায় বাড়ির উঠানে অনুষ্ঠিত হয় জানাজা। জানাজা ও দাফন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তার নির্দেশনায় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এলাকায় অবস্থান নিয়ে শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাউজান থানার তথ্য অনুযায়ী, তিন প্লাটুন পুলিশ ও এক প্লাটুন আনসার সদস্য সেখানে মোতায়েন ছিলেন। শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। রোটনের বড় ভাই নাসিমুল হায়দার চৌধুরী মিল্টন জানাজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি উপস্থিত সবার কাছে ভাইয়ের জন্য দোয়া চান এবং তার কোনো ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান। আরও তাৎপর্যপূর্ণ ছিল একই বাড়ির বাসিন্দা এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা জুয়েল চৌধুরীর বক্তব্য। রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে প্রতিবেশী ও একই বাড়ির মানুষ হিসেবে রোটনের শেষ বিদায়কে দেখার আহ্বান জানান তিনি। জুয়েল চৌধুরীর বলেন, রোটন তাদের গ্রামের, তাদের বাড়ির মানুষ; জানাজায় যার যে রাজনৈতিক পরিচয়ই থাকুক না কেন, এমন কিছু করা উচিত নয় যাতে মৃত ব্যক্তির অসম্মান হয়। একদিকে জানাজায় ছিলেন রোটনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ও ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা; অন্যদিকে ছিলেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। ছিলেন স্থানীয় সামাজিক ব্যক্তিত্ব, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং সাধারণ মানুষও। রাজনৈতিক বিভাজনের বদলে সেখানে বড় হয়ে উঠেছিল একজন মৃত মানুষকে শেষ বিদায় জানানোর সামাজিক ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতা। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। জানাজায় ইমামতি করেন রোটনের স্বজন মাওলানা মঈনুল হায়দার চৌধুরী। পরে বক্স আলী চৌধুরী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। শেষ পর্যন্ত কোনো স্লোগান নয়, কোনো সংঘাত নয়; দোয়া, ক্ষমা আর মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের শেষযাত্রা। ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নও চেয়েছিলেন তিনি। ২০২১ সালে দলের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হন

লিংক কপি করা হয়েছে!

বিমানকর্মীদের পর পুলিশ ও নার্সকে লাথি, নতুন মামলায় সেলমা ব্লেয়ার

হলিউড অভিনেত্রী সেলমা ব্লেয়ারকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উড়োজাহাজে দুই কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর এবার এক পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নার্সকে লাথি মারার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ১২ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে ৫৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী অভিযোগের একাংশ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তাঁর আইনজীবীর দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে এমন আচরণ করেননি সেলমা। গুরুতর শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন।অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সিবিএস নিউজ ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর রাতে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্কগামী ডেলটা এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, উড়োজাহাজে থাকা অবস্থায় তিনি এক অ্যাটেনডেন্টকে ঘুষি মারেন এবং আরেকজনকে কামড় দেন। এ ছাড়া আকাশে থাকা অবস্থায় উড়োজাহাজের দরজা খোলার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। হাসপাতালেও হামলার অভিযোগউড়োজাহাজে ঘটনার পর সেলমাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। অভিযোগপত্রে এক পুলিশ কর্মকর্তার বর্ণনা অনুযায়ী, স্ট্রেচারে সেলমাকে নিরাপদে রাখার সময় তিনি বাঁধন থেকে একটি পা বের করে ওই কর্মকর্তার মুখ, ঘাড় ও বুকে বারবার লাথি মারেন। হাসপাতালে নেওয়ার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি বলে অভিযোগ। সেখানে দায়িত্ব পালন করা এক নার্সকে বুকে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে সেলমার বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের কুইন্স আদালতে দ্বিতীয় মাত্রার হামলার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ১২ অক্টোবর রাতে আদালতে হাজির করা হলে সেলমার আইনজীবী শন বার্নস তাঁর পক্ষে অভিযোগ অস্বীকার করেন। বিচারক জামিনের অঙ্ক নির্ধারণ করেন নগদ ২০ হাজার ডলার অথবা ৬০ হাজার ডলারের বন্ড। পরবর্তী শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে আগামী জানুয়ারিতে। এদিকে উড়োজাহাজের ভেতরে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য পৃথকভাবে ফেডারেল অভিযোগও আনা হয়েছে। এপির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফবিআই সেলমাকে উড়োজাহাজে হামলার অভিযোগসংক্রান্ত নোটিশ দিয়েছে। বিষয়টি ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে নিষ্পত্তির কথা রয়েছে। তবে এ মামলায় তাঁর হাজিরার তারিখ তখনো নির্ধারিত হয়নি। অর্থাৎ ঘটনাটিকে ঘিরে অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল—দুই পর্যায়েই আইনি প্রক্রিয়া চলছে। কী ঘটেছিল উড়োজাহাজেডেলটা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩৮ লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্ক যাচ্ছিল। উড়োজাহাজটি জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে অবতরণের পর রাত ১১টার দিকে কর্তৃপক্ষের কাছে এক যাত্রীর শারীরিকভাবে আক্রমণাত্মক আচরণের খবর পৌঁছায়। এরপর বন্দর কর্তৃপক্ষের পুলিশ সদস্যরা উড়োজাহাজের কাছে যান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনায় দুজন অ্যাটেনডেন্ট আহত হওয়ার কথা জানান। তাঁদের একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। উড়োজাহাজের পাইলটের সঙ্গে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডিংয়েও আহত ব্যক্তিদের কথা উঠে এসেছে। সেখানে নাক দিয়ে রক্ত পড়া ও কামড়ের দাগের উল্লেখ করেন পাইলট। আহত ব্যক্তিদের পরীক্ষা করার জন্য বিমানবন্দরে চিকিৎসাকর্মী প্রস্তুত রাখার অনুরোধও জানান তিনি। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, উড়োজাহাজের কর্মীদের সেলমাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছিল বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে উড়োজাহাজের ভেতরে ঠিক কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল, তা নিয়ে সবিস্তার তথ্য প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আইনজীবীর দাবি, ওষুধ বাদ পড়া ও মাথায় আঘাতে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন সেলমাসেলমার আইনজীবী আদালতে দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেলের আচরণ ইচ্ছাকৃত ছিল না। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনের বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সেলমা একাধিক মাত্রায় এমন একটি ওষুধ খেতে পারেননি, যা তাঁর গুরুতর স্নায়বিক উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসে কাজের অতিরিক্ত চাপের পর উড়োজাহাজে উঠেছিলেন সেলমা। যাত্রাপথে তাঁর মাথায়ও আঘাত লাগে বলে দাবি করা হয়েছে। ওষুধের মাত্রা বাদ পড়া, মাথায় আঘাত এবং উড়োজাহাজের উচ্চতার প্রভাব মিলিয়ে তিনি তীব্র বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছিলেন বলে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়।সেলমার প্রতিনিধিও এর আগে ভ্যারাইটিকে বলেছিলেন, তাঁর শারীরিক জরুরি অবস্থা থেকেই কথিত ঘটনাগুলো ঘটেছে। অবতরণের পরপরই তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল ছিল বলে জানানো হয়েছিল। ২০১৮ সালে মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানানসেলমা ব্লেয়ারের শারীরিক অবস্থার প্রসঙ্গ সামনে আসায় তাঁর দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কথাও আলোচনায় এসেছে। ২০১৮ সালে তিনি জানান, তিনি মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসে (এমএস) আক্রান্ত। এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যা মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের স্নায়ুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। রোগ নির্ণয়ের কথা প্রকাশ্যে জানানোর পর থেকে সেলমা নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিয়েও কাজ করেছেন। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারবিষয়ক আইন প্রণয়নের বার্ষিকী উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের একটি অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়। ২০১৬ সালেও উড়োজাহাজে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেনউড়োজাহাজে সেলমার এমন পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। ২০১৬ সালে মেক্সিকোর কানকুন থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী একটি ফ্লাইটে ভ্রমণের সময়ও তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করেছিলেন। সে সময় তাঁকে স্ট্রেচারে করে উড়োজাহাজ থেকে নামানো হয়। ওই যাত্রায় তাঁর সঙ্গে ছিল চার বছর বয়সী ছেলে। পরে সেলমা জানান, এক গ্লাস ওয়াইন পান করার পর ওষুধ খাওয়ায় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, ওই অভিজ্ঞতা ছিল ভয়াবহ ও আতঙ্কজনক। একজন মা হিসেবে এমন পরিস্থিতিতে পড়া তাঁর নিজের কাছেও অস্বাভাবিক ছিল বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। ১৯৯৯ সালের চলচ্চিত্র ‘ক্রুয়েল ইনটেনশনস’ এবং ২০০১ সালের ‘লিগ্যালি ব্লন্ড’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পরিচিতি পান সেলমা ব্লেয়ার। পরে ২০০৪ সালের ‘হেলবয়’ ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

যেভাবে ছড়াতে পারে এইচআইভি

এইচআইভি (হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস) একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা মানুষের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয়। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এটি এইডসে রূপ নিতে পারে। এ বিষয়ে সচেতনতার অভাব এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে যে কেবল শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমেই এই ভাইরাস ছড়ায়, যা সঠিক নয়।সংক্রমিত রক্ত, বীর্য, যোনিরস, পায়ুপথের তরল এবং বুকের দুধের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। তবে সাধারণ স্পর্শ, একসঙ্গে খাওয়া বা করমর্দনে এইচআইভি ছড়ায় না। শারীরিক সম্পর্ক ছাড়াও যেসব কারণে সংক্রমণ হতে পারে:যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া রক্তদাতা বা রক্ত গ্রহণকারীর মাধ্যমে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।মাদক গ্রহণকারী বা চিকিৎসায় একাধিক ব্যক্তির একই সুচ ব্যবহারের ফলে।অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসার যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত না করলে।আক্রান্ত মায়ের গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় বা স্তন্যদানের মাধ্যমে (যদিও সঠিক চিকিৎসায় ঝুঁকি কমানো সম্ভব)। স্বাস্থ্যকর্মী বা অন্য কারও শরীরে দুর্ঘটনাবশত সংক্রমিত রক্ত প্রবেশ করলে।জীবাণুমুক্ত নয় এমন সুচ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র বা ট্যাটু করার সময়।প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বর, গলাব্যথা, ফুসকুড়ি, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, রাতের ঘাম বা লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে অনেকের দীর্ঘকাল কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। তাই নিশ্চিত হতে পরীক্ষা করানো জরুরি।ঝুঁকিপূর্ণ সংস্পর্শের ক্ষেত্রে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ‘পিইপি’ (পোস্ট-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস) শুরু করলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা এবং অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। সচেতনতা, নিরাপদ সরঞ্জাম ব্যবহার এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসাই এইচআইভি প্রতিরোধের মূল উপায়।

লালমনিরহাটে অবৈধ ব্যবসায়ীর কাছে সার বিক্রি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

লালমনিরহাটে অবৈধ ব্যবসায়ীর কাছে সার বিক্রি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

‎‎লালমনিরহাট প্রতিনিধি:‎‎লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চাঁদনী বাজার এলাকায়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক অনুমোদিত বীজ ও সার ডিলার মেসার্স রেহান সীডসের বিরুদ্ধে, কৃষক ব্যতীত অবৈধ ব্যবসায়ীর কাছে সার বিক্রির অপরাধে, ভ্রাম্যমাণ আদালত উক্ত ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। আদালত বিক্রিত ৬ বস্তা সার জব্দ করে, স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে।‎রোববার বিকেলে ৩ টার সময় অভিযান চলাকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ  উপস্থিত থেকে প্রসিকিউশন দাখিল করেন। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ‎রাকিবুল ইসলাম সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে এ অর্থদণ্ড প্রদান করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার টাকা আদায় করা হয়।এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ‎রাকিবুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে সার বিক্রি বন্ধে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে এবং জব্দ করা ছয় বস্তা সার স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ‎পুনরায় অবৈধভাবে সার বিক্রি করলে তার ডিলারশিপের লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে বলে জানানো হয়।লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ জানান, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, সারের সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করা এবং সার বিপণনে অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream