শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

মাদ্রাসায় বলাৎকার বন্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার: ধর্মমন্ত্রী

মাদ্রাসায় বলাৎকার ও অশালীন ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত 'বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি'র ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।সম্মেলন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ধর্মমন্ত্রী জানান, মাদ্রাসার মতো পবিত্র স্থানে যাতে কোনোভাবেই এমন গর্হিত ও অনৈতিক কাজ না ঘটে, সে বিষয়ে জুমার খুতবাসহ বিভিন্ন সভায় ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য ও সমাজকে জাগ্রত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এর আগে অনুষ্ঠিত ইমাম সম্মেলনে দেশজুড়ে সমবেত হওয়া হাজারো ইমাম ও আলেম-ওলামাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার সময় মন্ত্রী বলেন, “কোনো অশুভ চক্র যেন উসকানি দিয়ে বা ষড়যন্ত্র করে দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে আলেম সমাজ ও ইমামদের সদাসর্বদা সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।”তিনি আরও বলেন, সমাজে সাধারণ মানুষের কাছে ইমামদের মতামত ও বক্তব্যের বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাই ইমামদের উচিত প্রতি শুক্রবারের জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাসসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধ ও অপকর্মের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য রাখা।কাউন্সিল অধিবেশন চলাকালে জাতীয় ইমাম সমিতির নেতৃবৃন্দ তাদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ও বর্তমান বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ ইমাম সমাজের নানা দাবি ও পেশাগত সমস্যার বিষয়গুলো সরকারের কাছে তুলে ধরেন।

স্বর্ণের পর কমল রুপার দামও

দেশের বাজারে সবশেষ শুক্রবার আরেক দফা স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ওইদিন সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। আজ শনিবারও একইদামে বিক্রি হবে স্বর্ণ। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।  নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে স্বর্ণের দাম কমানোর সঙ্গে দেশের বাজারে কমানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ১৭৫ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা।  এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৩৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬ উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় স্টেডিয়ামে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন তিনি।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক, মোবাইল আসক্তি ও হতাশা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। সুস্থ জাতি গঠনে খেলার মাঠ ও খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো জরুরি।তিনি বলেন, অ্যাথলেটিকসকে সব খেলার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ খেলায় একজন ক্রীড়াবিদের গতি, শক্তি, ক্ষিপ্রতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার পরীক্ষা হয়। অ্যাথলেটিকসের ভিত্তি শক্তিশালী হলে অন্য খেলাতেও দেশের সক্ষমতা বাড়বে।রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো এবং বিজয়মঞ্চে জাতীয় সংগীত বাজানো পুরো জাতির জন্য গর্বের বিষয়। দেশের নিজস্ব খেলোয়াড় তৈরি করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলাধুলার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।রাষ্ট্রপতি জানান, খেলাধুলার প্রসার, সুস্থ জাতি গঠন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্পোর্টস কার্ড, স্পোর্টস অ্যালাউন্স, তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণ এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা।তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন এবং এ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে দখল হওয়া মাঠ উদ্ধার ও সংরক্ষণ এবং নতুন খেলার মাঠ চিহ্নিত করার আহ্বান জানান তিনি।নারী অ্যাথলেটদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন রাষ্ট্রপতি। আর্থিক সংকটে যেন কোনো প্রতিভা হারিয়ে না যায়, সে জন্য স্কুল, কলেজ ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি। বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতারও আহ্বান জানান।প্রতিযোগিতা থেকে ভবিষ্যতে অনেক প্রতিভাবান অ্যাথলেট উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি এবারের প্রতিযোগিতা উৎসর্গ করা হয়েছে উল্লেখ করে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।এর আগে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৫৭টি দলের মার্চ পাস্ট অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতিযোগিতার থিম সং পরিবেশন করা হয়। সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ ও সুমিতা রানী দাস গেমসের মশাল প্রজ্বালন করেন।উদ্বোধন শেষে রাষ্ট্রপতি নারী ও পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন এবং বিজয়ীদের হাতে মেডেল তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে তিন লক্ষ্য

জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, তৈরি পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর টোকিও সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে ২৭ অক্টোবর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। এতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, জ্বালানি, প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ইপিএ কার্যকর হলে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। আগামী সংসদ অধিবেশনে চুক্তিটি অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।জাপানের বাজারে ৭ হাজার ৩৭৯ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধার সুযোগগত ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ইপিএ সই হয়। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া আলোচনা শেষে সম্পাদিত এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশ, অর্থাৎ ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবে।অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে। অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে সর্বোচ্চ ১৮ বছর পর্যন্ত শুল্ক কমানোর ব্যবস্থা রয়েছে।চুক্তিতে পণ্য ও সেবা বাণিজ্যের পাশাপাশি বিনিয়োগ, ই-কমার্স, মেধাস্বত্ব, শুল্ক ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।জাপানে পোশাক রপ্তানি ৩০০ কোটি ডলারে নেওয়ার লক্ষ্যবাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য জাপান একটি সম্ভাবনাময় বাজার। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাপানে প্রায় ১১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই রপ্তানি আয় ৩০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।জাপানের বার্ষিক পোশাক আমদানির বাজার প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের। ফলে শুল্ক সুবিধা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়লে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। নিট ও ওভেন পোশাক, ডেনিম এবং উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্যের পাশাপাশি চামড়া ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত মাছ, চিংড়ি এবং কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনাও রয়েছে।বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান মনে করেন, জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি সফরে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। জাপানের বাজারে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গত মাসে বিজিএমইএর উত্তরার কার্যালয়ে একটি ‘জাপান ডেস্ক’ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি এশীয় পোশাক ব্র্যান্ডগুলোকে আকৃষ্ট করতে হংকংয়ে একটি রোডশো আয়োজনের প্রস্তুতিও চলছে।বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা করতে চায় টয়োটাবাংলাদেশে উৎপাদন খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।এর আগে গত ৬ অক্টোবর টয়োটা তসুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে বাংলাদেশে টয়োটা গাড়ি উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ সালে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে হাইব্রিড বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা স্থাপনের কাজ শুরুর পরিকল্পনা করছে।এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে গাড়ি রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন বাংলাদেশের রানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছে। ১৪ বিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা প্যাকেজের প্রস্তাবজাপানের কাছ থেকে উন্নয়ন সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে সরকারের। ২০২৬ থেকে ২০৩১ মেয়াদে প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি সহযোগিতা প্যাকেজ প্রস্তাবের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।প্রস্তাবিত প্যাকেজে সহজ শর্তের ঋণ, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবহণ অবকাঠামো, মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী বন্দর, শিল্পাঞ্চল, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতকে সম্ভাব্য অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।মাতারবাড়ী বন্দরকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা ও শিল্প অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে রপ্তানিমুখী শিল্পের পণ্য পরিবহণ আরও সহজ হতে পারে। সফরে চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি, নতুন অর্থায়ন এবং জাপানি ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।সফর ঘিরে কূটনৈতিক প্রস্তুতিপ্রধানমন্ত্রীর সফরকালে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী ঢাকায় থাকবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে, সফরের কূটনৈতিক কার্যক্রম ও আয়োজন সমন্বয়ের দায়িত্ব নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব এম নজরুল ইসলাম টোকিও যাচ্ছেন।আগামী ২৭ অক্টোবর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে ইপিএ বাস্তবায়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে। সরকারের প্রত্যাশা, এই সফরের মাধ্যমে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং বাংলাদেশের রপ্তানি ও উৎপাদন খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

মাদ্রাসায় বলাৎকার বন্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার: ধর্মমন্ত্রী

মাদ্রাসায় বলাৎকার বন্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার: ধর্মমন্ত্রী

মাদ্রাসায় বলাৎকার ও অশালীন ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত 'বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি'র ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।সম্মেলন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ধর্মমন্ত্রী জানান, মাদ্রাসার মতো পবিত্র স্থানে যাতে কোনোভাবেই এমন গর্হিত ও অনৈতিক কাজ না ঘটে, সে বিষয়ে জুমার খুতবাসহ বিভিন্ন সভায় ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য ও সমাজকে জাগ্রত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এর আগে অনুষ্ঠিত ইমাম সম্মেলনে দেশজুড়ে সমবেত হওয়া হাজারো ইমাম ও আলেম-ওলামাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার সময় মন্ত্রী বলেন, “কোনো অশুভ চক্র যেন উসকানি দিয়ে বা ষড়যন্ত্র করে দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে আলেম সমাজ ও ইমামদের সদাসর্বদা সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।”তিনি আরও বলেন, সমাজে সাধারণ মানুষের কাছে ইমামদের মতামত ও বক্তব্যের বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাই ইমামদের উচিত প্রতি শুক্রবারের জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাসসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধ ও অপকর্মের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য রাখা।কাউন্সিল অধিবেশন চলাকালে জাতীয় ইমাম সমিতির নেতৃবৃন্দ তাদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ও বর্তমান বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ ইমাম সমাজের নানা দাবি ও পেশাগত সমস্যার বিষয়গুলো সরকারের কাছে তুলে ধরেন।

১০ মিনিট আগে
যে কারণে বাতিল হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা, জানাল দূতাবাস

যে কারণে বাতিল হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা, জানাল দূতাবাস

কোনো মামলায় কেউ গ্রেফতার হলে তার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে দূতাবাস এ তথ্য জানায়। পোস্টে দূতাবাস জানায়, আপনি গ্রেফতার হলে আপনার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে। আপনাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হতে পারে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। এর আগে এক পোস্টে দূতাবাস জানিয়েছিল, বি১/বি২ ভিজিটর ভিসায় পর্যটন, অবকাশযাপন (ছুটি কাটানো), কেনাকাটা, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা, ব্যবসায়িক সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করা, সভা ও সম্মেলনে অংশ নেওয়া-এসব ক্ষেত্রে কাজের অনুমতি মিলতে পারে।

২৪ মিনিট আগে
এনআইডি সংশোধনে ইসির বড় অগ্রগতি, ৬৪ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তি

এনআইডি সংশোধনে ইসির বড় অগ্রগতি, ৬৪ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তি

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন পর্যন্ত জমা পড়া ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি সংশোধন আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি নিষ্পত্তি করেছে সংস্থাটি। তবে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির পরও এখনো অপেক্ষমাণ রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ১০টি আবেদন। অন্যদিকে, বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়েছে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন। ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এনআইডি সংশোধন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও আবেদন নিষ্পত্তি, অযৌক্তিক আবেদন বাছাই এবং জালিয়াতি প্রতিরোধ-এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে এখন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। আবেদন নিষ্পত্তিতে সময়সীমা নির্ধারণ, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত জমা পড়া এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ায় কিছু আবেদন অপেক্ষমাণ থাকছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সংশোধনের অযোগ্য আবেদন এবং একই বিষয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুনরায় আবেদন করার প্রবণতা। ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ প্রায় ৭০ হাজার আবেদন ইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৬৮ হাজার ২৬৯টি আবেদন। এছাড়া ২০২৫ সালের একই ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ আবেদন রয়েছে ৯৮৩টি। সব মিলিয়ে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা ৬৯ হাজার ২৫২টি। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ঢাকা অঞ্চলে ১০ হাজার ৬১৫টি, ফরিদপুরে ৫ হাজার ১৪০টি, খুলনায় ৫ হাজার ৮৭১টি, ময়মনসিংহে ৮ হাজার ৩৩২টি এবং রংপুরে ৪ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে। এছাড়া সিলেটে ৬ হাজার ৪৬৯টি, রাজশাহীতে ৬ হাজার ৮৭৫টি, বরিশালে ৪ হাজার ২২৬টি, চট্টগ্রামে ৬ হাজার ৬৮৮টি এবং কুমিল্লায় ১০ হাজার ৫৫৯টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এই পরিসংখ্যান বলছে, অপেক্ষমাণ আবেদনের চাপ অঞ্চলভেদে ভিন্ন। ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চলে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ফলে দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে অঞ্চলভিত্তিক তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আবেদন নিষ্পত্তিতে সময়সীমা, কমানো হয়েছে প্রশাসনিক ধাপ এনআইডি সংশোধন কার্যক্রমে গতি আনতে আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইসি। পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিষ্পত্তির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকেরা নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আবেদন নিষ্পত্তির মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্ভুলভাবে কাজ করা। এমনভাবে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের প্রয়োজন না পড়ে। তিনি বলেন, অতীতে অযৌক্তিক আবেদনগুলো সব ক্ষেত্রে যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এখন যুক্তিসংগত নয়—এমন আবেদন বাতিল করা হচ্ছে এবং প্রতিটি আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত বছর বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ইসি সচিবের ভাষ্য, সংশোধন আবেদনের মধ্যে এমন অনেক আবেদন রয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে সংশোধনের প্রয়োজন আর নেই। আবার বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের কিছু আবেদনেও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেওয়া তথ্যের অসংগতি পাওয়া যায়। এসব বিষয় যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। জন্মতারিখ সংশোধনে নতুন নজরদারি এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষাসনদকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে তদারকি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি এ বিষয়ে সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে ইসি। গত ১৩ আগস্ট জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাসনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ প্রযোজ্য নয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার অন্তত তিনটি আবেদন যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। গত ১৩ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের প্রতিবেদন ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতি মাসের প্রতিবেদন পরের মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে জন্মতারিখ সংশোধনে সিদ্ধান্তের যথার্থতা ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় কমিশন। অযোগ্য আবেদন বাতিল, বয়সের অসংগতিতে কঠোর যাচাই এনআইডি সংশোধনের অপেক্ষমাণ আবেদন ও বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অনেক আবেদন রয়েছে যেগুলো সংশোধনযোগ্য নয়। বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে কখনো দেখা যায়, বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান মাত্র ১০ বছর। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশোধনের পর দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোটার হওয়ার সময় বয়স ১৮ বছরের কম ছিল। এ ধরনের অসংগতি থাকলে আবেদন বাতিল করা হয় বলে জানান তিনি। সাইফুল ইসলাম বলেন, কোনো আবেদন একটি ক্যাটাগরিতে বাতিল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অন্য ক্যাটাগরিতে আবার আবেদন করেন। এতে একই ধরনের আবেদনের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বেশি বলে মনে হতে পারে। তিনি আরও জানান, অপেক্ষমাণ আবেদনগুলো নিষ্পত্তির জন্য নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সেবার মানসিকতা ও দায়িত্ববোধের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকিও নিষ্পত্তির অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে। জালিয়াতি রোধে কঠোর অবস্থান, আসছে প্রযুক্তিগত উদ্যোগ এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে। কমিশনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত থাকলে তভদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, জালিয়াতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে শুধু অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে জালিয়াতির ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে। ইসি সচিবের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা গেলে এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতির ঘটনা আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এদিকে, সাধারণ মানুষকে প্রতারক চক্রের প্রলোভনে পা না দিতে সতর্ক করছে এনআইডি বিভাগ। এ বিষয়ে হেল্পডেস্ক থেকেও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম। নির্ভুল নিবন্ধনই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রতি মাসে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ার বাস্তবতায় কেবল নিষ্পত্তির গতি বাড়িয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নিবন্ধনের সময় তথ্য যাচাই জোরদার করা, আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা এবং সংশোধনের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা মনে করেন, ৬৪ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তির সাফল্যের পর এখন নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় পরীক্ষা-অবশিষ্ট আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংশোধনের প্রয়োজন কমিয়ে নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

১ ঘন্টা আগে
শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে ৪ বই, থাকছে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ

শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে ৪ বই, থাকছে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ

দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার গতানুগতিক মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে এনে আরও বেশি আনন্দময়, জীবনমুখী ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দক্ষ করে গড়ে তুলতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের দুই শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন চারটি ভিন্নমাত্রার পাঠ্যবই। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, নীতি-নৈতিকতা, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি এবং বাস্তবমুখী কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বইগুলো প্রণয়ন করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। বইগুলো হলো-চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দময়, বাস্তবমুখী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন করে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৫ বছরের রূপকল্প, বহুমুখী গবেষণা ও নির্দেশনার আলোকেই এনসিটিবি এই নতুন চার পাঠ্যপুস্তক শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে । এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সংস্কারে মনোনিবেশ করেন। শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দময়, বাস্তবমুখী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন করে তুলতে দীর্ঘ বছর উনি (প্রধানমন্ত্রী) কাজ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যে চিন্তাধারা, অভিজ্ঞতা ও গবেষণা পরিচালনা করেছেন-তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে নতুন এই বইগুলো।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সাথে গত ১৫ বছর এ বিষয়ে আমি নিজে কাজ করে যেটা বুঝেছি-উনি চান শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক শিষ্টাচার, পারিবারিক সংস্কৃতি ও সুনাগরিকের গুণাবলি তৈরি হবে। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি হবে। যার কারণে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার জন্য এনসিটিবিকে সম্পৃক্ত করা হয়। এর অধীনে এনসিটিবি একটি টিম গঠন করে, যেখানে এসব পলিসি প্রণয়নে যারা প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করেছেন, তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি আরও অনেক বরেণ্য শিক্ষাবিদ আছেন, যারা বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে জড়িত; তারা প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্পটাকে বাস্তবায়নের জন্য ধারাবাহিকভাবে কনসালটেশন এবং মিটিং করেন।’ এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আনন্দ, খেলাধুলা, সংস্কৃতির মেলবন্ধন এবং হাতে-কলমে কারিগরি দক্ষতানির্ভর পাঠ্যপুস্তক প্রণীত হয়েছে। এই নতুন পাঠ্যপুস্তক বদলে দেবে নতুন প্রজন্মের শিখন পদ্ধতি ও অভিজ্ঞতা। আগামীকাল ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসি) সভায় বইগুলো চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। এনসিটিবি জানিয়েছে, চারটি বইয়ের প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ কপি বই মুদ্রণ করা হবে। এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, ‘নতুন চারটি পাঠ্যপুস্তকের পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও ভ্যালিডেশন কাজ ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২৫ অক্টোবর এনসিসির সভায় অনুমোদনের পরই কন্টেন্টগুলো মুদ্রণের জন্য প্রেসে পাঠানো হবে।’ এনসিটিবি জানায়, গত ১২ জুলাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে চার মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় বইগুলোর রূপরেখা উপস্থাপনের পর বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি তৈরি করা হয়। এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মাদ আবু নাসের টুকু জানান, নতুন চার বই মুদ্রণের জন্য সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এনসিসি কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি কপি বই মুদ্রণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। খেলাধুলা: সুস্থ জীবনধারা ও আত্মরক্ষার কৌশল এনসিটিবি জানায়, শিক্ষার্থীদের বয়স ও মানসিক বিকাশ বিবেচনায় চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইটি প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৪টি গতিশীল অধ্যায়ে সাজানো এই বইটির মূল উদ্দেশ্য শিশুদের শৈশব থেকেই সুস্থ জীবনধারা ও ক্রীড়াচর্চায় আগ্রহী করে তোলা। বইটিতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস ও দাবাসহ বিভিন্ন খেলার মৌলিক নিয়মকানুন সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আত্মরক্ষার কৌশল শেখাতে কারাতে, জুডো ও তায়কোয়ান্দোর মতো আত্মরক্ষামূলক কৌশল স্থান পেয়েছে। এছাড়া খেলার মাঠে বা দৌড়ানোর সময় কেটে যাওয়া, মচকানো, নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা হিট স্ট্রোকের মতো পরিস্থিতিতে করণীয় বাস্তবসম্মত ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জরুরি প্রয়োজনে প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রীর ব্যবহার ও ইনজুরি প্রতিরোধের কৌশল এতে হাতে-কলমে শিখবে। শুধু খেলাই নয়; এতে পুষ্টি, সামাজিক দক্ষতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে ‘স্বপ্ন যখন আকাশ ছোঁয়া’ শীর্ষক একটি বাস্তবমুখী অনুপ্রেরণামূলক গল্প যুক্ত করা হয়েছে। যেখানে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আয়মান স্যার ও তার সহকর্মী সাদিয়া আপার হাত ধরে মেয়েদের ফুটবল দল গঠনের প্রেরণার গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সামাজিক বাধা ও কুসংস্কার পেরিয়ে মেহজাবিনসহ একাধিক শিক্ষার্থী ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হওয়ার গল্প দিয়ে এতে দেখানো হয়েছে কীভাবে খেলাধুলা শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি পেশা হিসেবে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ঘটাতে পারে। এ বিষয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে একমুখী ও ক্লান্তিকর না হয়ে ওঠে, সেদিকে বিশেষ নজর রেখে ‘খেলাধুলা’ বইটি প্রথমবারের মতো প্রণয়ন করা হয়েছে।’ বাংলাদেশের সংস্কৃতি : ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও নতুন কুঁড়ি এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিবিড় পরিচয় ঘটাতে ১১টি অধ্যায়ে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইটি। এতে ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা, খাদ্য সংস্কৃতি, সামাজিক রীতিনীতি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা বর্ণিল চিত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বইটিতে বাংলা বর্ণমালা চর্চা, বিদ্যালয় উৎসব, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পিঠা-পুলির মেলবন্ধনের পাশাপাশি বাবা-মায়ের যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও গৃহস্থালির পারস্পরিক সহযোগিতার আধুনিক রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।  এছাড়া একটি বিশেষ অধ্যায়ে শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণমূলক আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ির’ ইতিহাস, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ এবং বিজয়ীদের দুর্লভ ছবি যুক্ত করা হয়েছে। লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস : ভীতিহীন ও আনন্দময় শিখনদর্শন এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা জানান, পড়াশোনাকে ভীতিমুক্ত ও অত্যন্ত আনন্দদায়ক করার দর্শন নিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৬টি অধ্যায়ে প্রণীত হয়েছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটি, যা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত হতে যাওয়া একটি নতুন ধারণা ও পাঠ্যক্রম। প্রচলিত পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে আনন্দময় অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও সহপাঠক্রমিক নানা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে কীভাবে জ্ঞান অর্জন করা যায়-তা এতে তুলে ধরা হয়েছে। বইটি পাঠ্যভার অনেকাংশে হালকা করবে। এতে শিক্ষার্থীরা নিজ স্বাস্থ্য, চারপাশের পরিবেশ ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার আলোকেই আনন্দঘন উপায়ে শিখন ফল অর্জনে সক্ষম হবে। এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারবে-শেখা শুধু মুখস্থ করা বা পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয় নয়; বরং নিজের জীবন, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, নিরাপত্তা, সৃজনশীলতা, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও শেখা সম্ভব। আমার কারিগরি শিক্ষা: ছোট উদ্যোগ, বড় সম্ভাবনা এনসিটিবি জানিয়েছে, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতে-কলমে শেখার অভ্যাস ও সমস্যা সমাধানের মানসিকতা তৈরিতে ৮টি অধ্যায়ে প্রণয়ন করা হয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বই। শিক্ষার্থীকে শুধু ‘আমি কী জানি’ তত্ত্বের মাঝে আটকে না রেখে ‘আমি কী করতে পারি’ সে বিষয়ে স্বাবলম্বী করে তোলাই এর মূল শিক্ষাদর্শন। কারিগরি শিক্ষা পরিচিতি, চারপাশের প্রযুক্তি ও নতুন বিশ্ব, ছোট উদ্যোগ বড় সম্ভাবনা, যারা গড়ে, তারাই বদলায়, সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই জীবনযাপনসহ বাস্তব জীবনের নানা কারিগরি সমস্যা চিহ্নিত করা এবং প্রযুক্তির সহায়ক ব্যবহারের মাধ্যমে মৌলিক সমাধান খোঁজার একটি শক্ত ভিত্তি স্থাপন করবে বইটি। এছাড়া নতুন চারটি বইয়ে শব্দকোষের মতো বিশেষ অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে। উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, আমাদের লক্ষ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শুরু হওয়া ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয় দু’টি আগামী শিক্ষাবর্ষে শুরু হয়ে পরবর্তী সময়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে। অন্যদিকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং কারিগরি শিক্ষা বিষয় দুটি ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব ক্লাসের পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হবে। এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) প্রফেসর ড. এ. কে. এম শওকত আলী খান বলেন, ‘নতুন এই চারটি পাঠ্যপুস্তক প্রবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে গিয়ে আনন্দময় পরিবেশে বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে।’

১ ঘন্টা আগে
কক্সবাজারের হোটেলে ফের আগুন, অল্পে রক্ষা পেলেন ৩ শতাধিক পর্যটক

কক্সবাজারের হোটেলে ফের আগুন, অল্পে রক্ষা পেলেন ৩ শতাধিক পর্যটক

কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্টে দ্য সি প্রিসেন্স আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে হোটেলটির নিচতলার পার্কিং এলাকায় আগুন লাগে। এ সময় হোটেলে তিন শতাধিক পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তবে দ্রুত তাঁদের সরিয়ে নেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।বিকেল ৪টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস ও হোটেল কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।অগ্নিকাণ্ডে পার্কিং এলাকায় থাকা জেনারেটরসহ বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে জেনারেটরের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।হোটেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাদের বলেন, হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে। কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। হোটেলে থাকা সব পর্যটক নিরাপদে রয়েছেন।এর আগে গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার ছয় দিনের মাথায় শহরের আরেকটি আবাসিক হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায় পর্যটনকেন্দ্রের হোটেল ও রিসোর্টগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।কক্সবাজারে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটক বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে অবস্থান করেন। তাঁদের নিরাপত্তায় অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক সংযোগ, জেনারেটর এবং জরুরি বহির্গমনপথ নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। পাশাপাশি আগুন লাগলে পর্যটকদের দ্রুত সরিয়ে নিতে হোটেলকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি থাকা দরকার।দ্য সি প্রিসেন্স হোটেলে কোনো প্রাণহানি না হলেও সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পরিদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

১৬ ঘন্টা আগে
ব্যক্তিগতভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা যাবে না: পানিসম্পদ মন্ত্রী

ব্যক্তিগতভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা যাবে না: পানিসম্পদ মন্ত্রী

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন,কোনভাবেই ব্যক্তিগতভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা যাবে না। দেশের জন্য ব্যবহার করতে হবে,জনগণের জন্য ব্যবহার করতে হবে। নির্বাচিত সরকারের জন্য এটি একটি বড় দায়িত্ব। কারণে নির্বাচিত সরকারের জবাবদিহিতা রয়েছে। ১৭ বছর পুলিশ বিভাগকে যেভাবে চালিয়েছে, সেভাবেই চলেছে। আবার আমরা এখন আমাদের মন মানসিকতা দিয়ে দেশের নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের জন্য চালাবো, সেটার ওপর নির্ভর করে।শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশনের (বাজুস) লক্ষ্মীপুর নব নির্বাচিত জেলা কমিটির কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লক্ষ্মীপুর টাউন হল মিলনায়তনে এই উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বিগত সময় যে সরকার ছিল তাদের কোন জবাবদিহিতা ছিল না। যা ইচ্ছা তা, যখন যেটা মনে পড়েছে, যখন যেটা দরকার পড়েছে, সেটা করে নিয়েছে। এভাবেতো স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে না, অন্য ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে না, সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়নি। এজন্য ভোটের অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমাদেরকে আন্দোলন করতে হয়েছে। গণতন্ত্রের ভিত যত শুক্তিশালী হবে, আপনাদের ব্যবসা ও অবস্থান ততবেশি মজবুত হবে।পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, শুধু সরকার দেশপ্রেমিক হলে চলবে না, আমাদের সবাইকে দেশপ্রেমিক হতে হবে। সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। স্বর্ণ ব্যবসার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মজবুত রাখতে পারবেন, তাহলে আপনাদের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারি। সেই সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে দেশের আইনশৃঙ্খলাকেও অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রত্যেকটা ব্যবসা দেশের আইনশৃঙ্খলার ওপর নির্ভর করে। তাহলে আইন শৃঙ্খলাকে স্বাভাবিক রাখার জন্য আমাদেরকে খুব সতর্ক থাকা উচিত।বাজুসের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খানের সভাপতিত্বে ও লক্ষ্মীপুর জেলা বাজুসের চেয়ারম্যান সমীর কর্মকারের পরিচালনায় বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ডিস্ট্রিক মনিটরিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট আজাদ আহমেদ, বাজুস ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, বাজুসের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন, বাজুস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মানিক, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শংকর মজুমদার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র নাথ, সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহা বক্তব্য রাখেন। এর আগে নবনির্বাচিত কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ্য করান মিজানুর রহমান মানিক।

১৭ ঘন্টা আগে
শিশু আবু বক্করের চোখের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

শিশু আবু বক্করের চোখের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

বগুড়ার নন্দীগ্রামের তিন বছর বয়সী শিশু আবু বক্করের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চোখের ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুটির চিকিৎসায় ইতোমধ্যে তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, আরও দু’টি অস্ত্রোপচার করা গেলে তার চোখটি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবু বক্করের বাড়ি নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের সিদেল গ্রামে। তার বাবা একজন দিনমজুর। দুই সন্তানের সংসারে সীমিত আয়ে জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি ছেলের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন তিনি।  এমতাবস্থায় শিশুটির চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার আকুতি জানিয়ে দেয়া একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি তারেক রহমানের নজরে এলে তিনি শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।  এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন এবং সদস্য সচিব মুকছেদুল মোমিন মিথুনের তত্ত্বাবধানে শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সার্বিক খোঁজ খবর রাখছেন বিএনপি মিডিয়া সেলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সমন্বয়ক কালাম আজাদ এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর বগুড়ার প্রতিনিধি মো. রাশেদুজ্জামান পিয়াস। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের এই উদ্যোগে আবু বক্করের পরিবার নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছেন তার স্বজনরা। 

১৭ ঘন্টা আগে
তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬ উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় স্টেডিয়ামে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন তিনি।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক, মোবাইল আসক্তি ও হতাশা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। সুস্থ জাতি গঠনে খেলার মাঠ ও খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো জরুরি।তিনি বলেন, অ্যাথলেটিকসকে সব খেলার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ খেলায় একজন ক্রীড়াবিদের গতি, শক্তি, ক্ষিপ্রতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার পরীক্ষা হয়। অ্যাথলেটিকসের ভিত্তি শক্তিশালী হলে অন্য খেলাতেও দেশের সক্ষমতা বাড়বে।রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো এবং বিজয়মঞ্চে জাতীয় সংগীত বাজানো পুরো জাতির জন্য গর্বের বিষয়। দেশের নিজস্ব খেলোয়াড় তৈরি করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলাধুলার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।রাষ্ট্রপতি জানান, খেলাধুলার প্রসার, সুস্থ জাতি গঠন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্পোর্টস কার্ড, স্পোর্টস অ্যালাউন্স, তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণ এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা।তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন এবং এ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে দখল হওয়া মাঠ উদ্ধার ও সংরক্ষণ এবং নতুন খেলার মাঠ চিহ্নিত করার আহ্বান জানান তিনি।নারী অ্যাথলেটদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন রাষ্ট্রপতি। আর্থিক সংকটে যেন কোনো প্রতিভা হারিয়ে না যায়, সে জন্য স্কুল, কলেজ ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি। বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতারও আহ্বান জানান।প্রতিযোগিতা থেকে ভবিষ্যতে অনেক প্রতিভাবান অ্যাথলেট উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি এবারের প্রতিযোগিতা উৎসর্গ করা হয়েছে উল্লেখ করে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।এর আগে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৫৭টি দলের মার্চ পাস্ট অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতিযোগিতার থিম সং পরিবেশন করা হয়। সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ ও সুমিতা রানী দাস গেমসের মশাল প্রজ্বালন করেন।উদ্বোধন শেষে রাষ্ট্রপতি নারী ও পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন এবং বিজয়ীদের হাতে মেডেল তুলে দেন।

১৭ ঘন্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে তিন লক্ষ্য

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে তিন লক্ষ্য

জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, তৈরি পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর টোকিও সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে ২৭ অক্টোবর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। এতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, জ্বালানি, প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ইপিএ কার্যকর হলে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। আগামী সংসদ অধিবেশনে চুক্তিটি অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।জাপানের বাজারে ৭ হাজার ৩৭৯ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধার সুযোগগত ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ইপিএ সই হয়। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া আলোচনা শেষে সম্পাদিত এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশ, অর্থাৎ ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবে।অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে। অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে সর্বোচ্চ ১৮ বছর পর্যন্ত শুল্ক কমানোর ব্যবস্থা রয়েছে।চুক্তিতে পণ্য ও সেবা বাণিজ্যের পাশাপাশি বিনিয়োগ, ই-কমার্স, মেধাস্বত্ব, শুল্ক ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।জাপানে পোশাক রপ্তানি ৩০০ কোটি ডলারে নেওয়ার লক্ষ্যবাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য জাপান একটি সম্ভাবনাময় বাজার। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাপানে প্রায় ১১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই রপ্তানি আয় ৩০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।জাপানের বার্ষিক পোশাক আমদানির বাজার প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের। ফলে শুল্ক সুবিধা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়লে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। নিট ও ওভেন পোশাক, ডেনিম এবং উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্যের পাশাপাশি চামড়া ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত মাছ, চিংড়ি এবং কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনাও রয়েছে।বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান মনে করেন, জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি সফরে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। জাপানের বাজারে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গত মাসে বিজিএমইএর উত্তরার কার্যালয়ে একটি ‘জাপান ডেস্ক’ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি এশীয় পোশাক ব্র্যান্ডগুলোকে আকৃষ্ট করতে হংকংয়ে একটি রোডশো আয়োজনের প্রস্তুতিও চলছে।বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা করতে চায় টয়োটাবাংলাদেশে উৎপাদন খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।এর আগে গত ৬ অক্টোবর টয়োটা তসুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে বাংলাদেশে টয়োটা গাড়ি উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ সালে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে হাইব্রিড বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা স্থাপনের কাজ শুরুর পরিকল্পনা করছে।এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে গাড়ি রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন বাংলাদেশের রানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছে। ১৪ বিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা প্যাকেজের প্রস্তাবজাপানের কাছ থেকে উন্নয়ন সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে সরকারের। ২০২৬ থেকে ২০৩১ মেয়াদে প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি সহযোগিতা প্যাকেজ প্রস্তাবের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।প্রস্তাবিত প্যাকেজে সহজ শর্তের ঋণ, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবহণ অবকাঠামো, মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী বন্দর, শিল্পাঞ্চল, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতকে সম্ভাব্য অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।মাতারবাড়ী বন্দরকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা ও শিল্প অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে রপ্তানিমুখী শিল্পের পণ্য পরিবহণ আরও সহজ হতে পারে। সফরে চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি, নতুন অর্থায়ন এবং জাপানি ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।সফর ঘিরে কূটনৈতিক প্রস্তুতিপ্রধানমন্ত্রীর সফরকালে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী ঢাকায় থাকবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে, সফরের কূটনৈতিক কার্যক্রম ও আয়োজন সমন্বয়ের দায়িত্ব নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব এম নজরুল ইসলাম টোকিও যাচ্ছেন।আগামী ২৭ অক্টোবর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে ইপিএ বাস্তবায়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে। সরকারের প্রত্যাশা, এই সফরের মাধ্যমে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং বাংলাদেশের রপ্তানি ও উৎপাদন খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

১৮ ঘন্টা আগে
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে রাজনীতি করতে চায় বিএনপি: মীর শাহে আলম

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে রাজনীতি করতে চায় বিএনপি: মীর শাহে আলম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ দেশের সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে রাজনীতি করতে চায় বিএনপি। মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে চায় দলটি। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গড়া বিএনপি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে। কোনো ধর্ম বা বিশেষ গোষ্ঠীকে পুঁজি করে রাজনীতি করার ইচ্ছা দলটির নেই। এ সময় ধর্মকে পুঁজি করে ভোটের রাজনীতি বন্ধ করে জনগণের জন্য রাজনীতি করতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।  জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচনের আগে জামায়াত নেতারা বেহেশতের কথা বলে ভোট নিয়েছেন। দুর্গোৎসবের সময় পূজামণ্ডপে গিয়ে ঢাকের তালে নেচেছেন, মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরেছেন। কিন্তু এবার দুর্গাপূজায় তাদের কোনো পূজামণ্ডপে দেখা যায়নি। তিনি বলেন, সরকার সংসদে ও সংসদের বাইরে বিরোধী দলের কথা শুনছে এবং তাদের মূল্যায়ন করছে।  বাকস্বাধীনতার পাশাপাশি বক্তব্যের শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলের অনেক নেতা জাতীয় নেতাদের অসম্মান করে অশালীন ভাষায় কথা বলছেন। এ ধরনের বক্তব্য অব্যাহত থাকলে দেশের জনগণ তা ভালোভাবে নেবে না। জনগণ বিরোধী দলের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে।  জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের কর্মসূচির সমালোচনা করে মীর শাহে আলম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বিএনপি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারকে সময় দেওয়া উচিত। অথচ সংসদের বাইরে গিয়ে তারা ‘তেল দে, গ্যাস দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’ স্লোগান দিয়ে লংমার্চ করছে। তিনি বলেন, তেল ও গ্যাসের দাবিতে লাখ লাখ টাকা খরচ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-রংপুর লংমার্চ করা হয়েছে। সামনে ঢাকা-খুলনা লংমার্চের কর্মসূচিও রয়েছে। এসব কর্মসূচি বন্ধ করে আগামী ৯ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে বিরোধী দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ যেসব বিষয়ে বিরোধী দলের বক্তব্য রয়েছে, সেসব বিষয়ে সংসদে এসে আলোচনা করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

১৯ ঘন্টা আগে
২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ০ জন

চুক্তির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার অভিযোগ, প্রমাণ চাইলেন রিজভী

আওয়ামী লীগের সঙ্গে চুক্তি করে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে বলে দাবির বিষয়ে বিরোধী দলকে সেই চুক্তিপত্র প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ করেছেন তিনি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ফকিরাপুলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ শেষে এসব কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের রক্ত শুকানোর আগেই জামায়াতের আমির আওয়ামী লীগের সবকিছু ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এ সময় বিরোধী দলের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার অভিযোগও করেন তিনি। বিরোধীদের অপপ্রচার মাথায় না নিয়ে সরকার দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে কাজ করছে বলে জানান রিজভী। এসময় তিনি আরোও বলেন, ‘দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। এজন্য বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ- এমন মন্তব্য করেন তিনি।

লিংক কপি করা হয়েছে!

মগবাজারে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে এক অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) ভোরে রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।হাতিরঝিল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মগবাজার ওয়ারলেস গামী রাস্তার বাম পাশে অবস্থিত বিশাল সেন্টার মার্কেটের নিচে পার্কিং স্থানে আসিফ আকবরের গাড়িটি রাখা ছিল। এ সময় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে গাড়িটি লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।ঘটনার সময় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর বিশাল সেন্টার মার্কেটের তৃতীয় তলায় অবস্থিত তাঁর নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন।খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে গায়ক আসিফ আকবর ও তাঁর বন্ধুর উপস্থিতিতে প্রাইভেট কারের পেছনের জানালা খুলে ভেতরের অংশ থেকে একটি ব্যবহৃত গুলির খোসা/কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ। এ হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ জানিয়েছে, এই হামলার পেছনে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত নাকি পেশাগত শত্রুতা জড়িত রয়েছে, সে বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণসহ অপরাধীকে শনাক্তে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, জনপ্রিয় সংগীত জীবনের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও আসিফ আকবরের সুপরিচিতি রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

উৎসব-পার্বণে ঘরের তৈরি নারকেলের নাড়ু: জেনে নিন রেসিপি

বাঙালি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে মিষ্টি মুখ করাতে নারকেলের নাড়ুর জুড়ি নেই। পূজা-পার্বণ কিংবা যেকোনো ঘরোয়া উৎসবে এই ঐতিহ্যবাহী খাবারটি স্বাদের পূর্ণতা এনে দেয়। শিশু থেকে বয়স্ক—সবার কাছেই নারকেলের নাড়ু সমান প্রিয়। অনেকেই ভাবেন নাড়ু তৈরি করা বেশ জটিল, তবে সঠিক নিয়ম জানা থাকলে খুব সহজেই ঘরে বসে তৈরি করা যায় এই সুস্বাদু খাবার।প্রয়োজনীয় উপকরণ:কোড়ানো নারকেল: ২ কাপচিনি: ১ কাপঘি: ১ টেবিল চামচএলাচ: ২টি (গুঁড়া করা)গুঁড়া দুধ: ১/২ কাপতরল দুধ: ১ কাপময়দা: ২ চামচকাঠবাদাম কুচি: ১ চামচপ্রস্তুত প্রণালী:১. প্রথমে একটি কড়াই বা প্যানে কোড়ানো নারকেল, তরল দুধ ও চিনি একসঙ্গে দিয়ে মাঝারি আঁচে ভাজতে থাকুন। খেয়াল রাখতে হবে যেন প্যানের তলায় লেগে মিশ্রণটি বেশি বাদামি বা পোড়া না হয়ে যায়।২. মিশ্রণটি সামান্য ঘন হয়ে এলে তার মধ্যে এলাচ গুঁড়া, গুঁড়া দুধ ও ময়দা যুক্ত করে ভালো করে নেড়ে মিশিয়ে নিন।৩. মিশ্রণটি আঠালো ও নাড়ু বাঁধার মতো উপযুক্ত হলে চুলা থেকে নামিয়ে কিছুটা ঠান্ডা হতে দিন।৪. এবার হাতের তালুতে সামান্য ঘি মেখে নিয়ে সামান্য ইষদুষ্ণ গরম থাকা অবস্থাতেই অল্প অল্প করে মিশ্রণ নিয়ে গোল গোল আকৃতিতে নাড়ু গড়ে নিন। উপর থেকে ছড়িয়ে দিতে পারেন কাঠবাদাম কুচি।নাড়ুগুলো পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার পর একটি এয়ার টাইট কাচের বয়ামে সংরক্ষণ করুন। এভাবে সঠিক নিয়মে রাখলে বেশ কিছুদিন নাড়ু চমৎকার ও সতেজ থাকে।

পঞ্চগড়ে রাস্তার কাজ তদারকির সময় টাকাসহ প্রকৌশলী আটক

পঞ্চগড়ে রাস্তার কাজ তদারকির সময় টাকাসহ প্রকৌশলী আটক

পঞ্চগড়ে রাস্তার কাজ তদারকির সময় অবৈধ লেনদেনের টাকা রাখার অভিযোগে এলাকাবাসী কর্তৃক এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে আটকের ঘটনা ঘটেছে।বৃহস্পতিবার(২২অক্টোবর) বিকেলে জেলার বোদা উপজেলার সাকোয়া গিদালপাড়া নামক স্থানে এঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়রা জানান, সাকোয়া-নয়াদীঘি ভায়া বোয়ালমারী পাকা রাস্তার কাজ চলাকালীন নিম্নমানের কাজ নিয়ে অভিযোগ করে আসছিলেন তারা। তবে, তাতে মোটেও কর্ণপাত করছিলেন না রাস্তার তদারকির দ্বায়িত্বে থাকা বোদা উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী নূরই আকরাম। বরাদ্দ অনুযায়ী কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে এলাকাসী কাগজপত্র দেখতে চাইলে মুহুর্তে সে স্থান ত্যাগ করার চেষ্টা করেন প্রকৌশলী আকরাম। এসময় পেছন পেছন ধাওয়া করে পথ আটকে তার ব্যাগ তল্লাশি করতে চান তারা। তবে তাতে রাজি ছিলেন না সেই পৌকৌশলী। এতে সৃষ্টি হয় বাকবিতণ্ডা। পরে পুলিশ প্রশাসনে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে ব্যাগ তল্লাশি করে নগদ একলাখ এবং তার পকেট থেকে আরো পঞ্চাশ হাজার, মোট দেড়লাখ টাকা সহ হেফাজতে নেওয়া হয় তাকে। এর আগে টাকার পরিমান এবং নগদ এতগুলো টাকা সাথে রাখার কারন সম্পর্কে অসংলগ্ন কথা বলতে শোনা যায় তাকে।তবে, টাকাগুলো তার একান্ত নিজস্ব এবং ব্যাক্তিগত কাজে ব্যাবহারের উদ্দেশ্য সাথে রেখেছিলেন উল্লেখ করে, নিজেকে নির্দোশ দাবি করেছেন অভিযুক্ত প্রকৌশলী নূরই আকরাম।এদিকে দ্বায়িত্ব পালন কালে সাথে এতগুলো নগদ টাকা পরিবহনের সুযোগ নেই জানিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমান জানান, তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। 

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream