শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ আবরার ফাহাদের পরিবারের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।সাক্ষাতে আবরারের বাবা তার ছেলে হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। জবাবে তারেক রহমান বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তবে পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।এ সময় কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবিও জানান আবরারের বাবা। তিনি জানান, ওই এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ সাঁকো দিয়ে নদী পার হন। প্রধানমন্ত্রী সেতু নির্মাণের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি এটি আবরার ফাহাদের নামে করার প্রতিশ্রুতি দেন।আবরারের কবর পাকাকরণ এবং পাশের মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ করার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান তার বাবা। পরে মসজিদটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।আবরার হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন তার বাবা। তিনি জানান, মামলার এক আসামি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়। পালিয়ে যাওয়া এবং এখনো গ্রেপ্তার না হওয়া আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।সাক্ষাতে আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, দেশের কোনো ক্যাম্পাসে যেন আর এমন ঘটনা না ঘটে এবং তার মতো কোনো মায়ের বুক যেন আর খালি না হয়।আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। পাশাপাশি বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি নতুন হল নির্মাণের দাবি করেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন।নতুন প্রজন্মকে আবরার ফাহাদ সম্পর্কে জানাতে পাঠ্যবইয়ে তার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানান ফাইয়াজ। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের আগে বিভিন্ন সময়ে নিহতদের একটি তালিকা তৈরির দাবি জানান তিনি। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।সাক্ষাতের সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত ছিলেন।২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ডিবি ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ওই রায় বহাল রাখেন। পরে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা নয় আসামি আপিল বিভাগে আপিল করেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামিও লিভ টু আপিল করেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা।

জনআস্থা ধরে রাখাই পুলিশের কাজ, আরও বাড়ানো চ্যালেঞ্জ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা কতটা রয়েছে, সেটির মূল্যায়ন জনগণই করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পুলিশের প্রতি অর্জিত জনআস্থা ধরে রাখার পাশাপাশি তা আরও বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা রয়েছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই আস্থা আরও শক্তিশালী করাই পুলিশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।এ সময় এক সাংবাদিক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। সেখানে আইজিপি পুলিশের জন্য জনআস্থা অর্জনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে জানান ওই সাংবাদিক। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের আট মাস এবং এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছর মিলিয়ে দীর্ঘ সময় পার হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থার সংকট রয়েছে কি না এবং আস্থা ফিরতে আরও কত সময় লাগবে, তা জানতে চান তিনি।জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি তো সিদ্ধান্তই দিয়ে দিলেন যে জনআস্থা নাই!’পরে সাংবাদিক আইজিপির বক্তব্যের প্রসঙ্গ আবার তুলে ধরলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাঁর বোঝাপড়া অনুযায়ী আইজিপি জনআস্থা ধরে রাখার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ‘জনআস্থা আমরা অর্জন করেছি।’

জঙ্গল সলিমপুরে হবে পুলিশ একাডেমি ও কেন্দ্রীয় কারাগার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্থূলতার হার গত কয়েক দশকে দ্রুত বেড়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো বিশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।হু’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রায় ১৭ কোটি শিশু ও কিশোর-কিশোরী স্থূলতায় আক্রান্ত ছিল। এর মধ্যে ৫ থেকে ৯ বছর বয়সি প্রায় ৭ কোটি শিশু এবং ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রায় ১০ কোটি কিশোর-কিশোরী রয়েছে। ১৯৯০ সালে এই হার ছিল ২ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ শতাংশে—অর্থাৎ প্রায় চারগুণ।শিশুদের স্থূলতাকে শুধু বাড়তি ওজন বা শারীরিক গঠনের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ছোট বয়স থেকেই এর প্রভাব শরীরে পড়তে পারে। ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের মতো জটিলতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে সঠিক যত্ন ও চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।জীবনযাপন পরিবর্তনেই প্রথম গুরুত্বহু’র নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্থূলতায় আক্রান্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের চিকিৎসার শুরুতেই গুরুত্ব দিতে হবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং জীবনযাপনের পরিবর্তনের ওপর।হু’র পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের ডিরেক্টর ডা. লুজ মারিয়া দে রেগিল বলেন, শিশু-কিশোরদের স্থূলতার চিকিৎসার ভিত্তি ওষুধ বা অস্ত্রোপচার নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।১০ বছরের আগে ওজন কমানোর ওষুধ নয়নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৯ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের স্থূলতার চিকিৎসায় ওজন কমানোর ওষুধ, বেরিয়াট্রিক সার্জারি বা ওজন কমানোর বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।তবে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এর আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের তত্ত্বাবধানে খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যক্রম ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এসব ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত ফল না এলে তখন ওষুধ ব্যবহারের কথা ভাবা যেতে পারে।স্থূলতা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে শরীরে একাধিক অসুস্থতার কারণ হলে নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত মেনে বেরিয়াট্রিক সার্জারিও বিবেচনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ শিশুর বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই চিকিৎসা নির্ধারণের কথা বলেছে হু। শুধু ওজন কমানোই লক্ষ্য নয়শিশুর স্থূলতার চিকিৎসার উদ্দেশ্য শুধু ওজন কমানো হওয়া উচিত নয়। বরং শিশুর সামগ্রিক স্বাস্থ্য, দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতা এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার উন্নতিকে গুরুত্ব দিতে হবে।চিকিৎসা হতে হবে বয়স অনুযায়ী এবং প্রয়োজনভিত্তিক। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে শিশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াও জরুরি। মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজরস্থূলতার সঙ্গে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছে হু। উদ্বেগ, অবসাদ, আত্মসম্মান কমে যাওয়া ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যার কারণে অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝোঁক, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং সামাজিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।অন্যদিকে, স্থূলতায় আক্রান্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা শরীর নিয়ে কটূক্তি বা অপমানের শিকার হতে পারে। এতে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।তাই স্থূলতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাকে আলাদা করে না দেখে একসঙ্গে মোকাবিলা করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এক্ষেত্রে শিশুর বয়স, মানসিক বিকাশ এবং পরিবারের ভূমিকার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা শিশু-কিশোরদের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে হু’র মূল বার্তা হলো—বাড়তি ওজনকে শুধু ‘ডায়েট’-এর সমস্যা হিসেবে না দেখে সময়মতো বৈজ্ঞানিক ও দীর্ঘমেয়াদি যত্ন নিশ্চিত করা।

বেসরকারি শিক্ষকদের জাতীয়করণ আজ হোক বা কাল, হবেই: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ একদিন হবেই।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের ছাদে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করা যাবে।তার দাবি, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে। পাশাপাশি ছুটির দিন ও অতিরিক্ত সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবে।বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষা বাজেট তিন গুণ এবং স্বাস্থ্য বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদার গুরুত্ব তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, শিক্ষকতা এমন একটি পেশা, যার মাধ্যমে পৃথিবীর অন্যান্য সব পেশার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকরা সমাজের চালিকাশক্তি ও গণতন্ত্রের বার্তাবাহক উল্লেখ করে তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার দায়িত্ব নিয়েছে এবং শিক্ষা খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজ করছে।তিনি জানান, আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসরে যাওয়া প্রায় এক লাখ শিক্ষক-শিক্ষিকার ভাতা পরিশোধের জন্য এরই মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। এ দাবিতে সুশৃঙ্খল ও বৃহৎ পরিসরে জাতীয় সমাবেশ করে মানবিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি তুলে ধরার পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী। বর্তমান সরকার এ দাবির গুরুত্ব বিবেচনা করবে বলেও আশাবাদ জানান তিনি।এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশ নিতে আইনি বা নীতিগত কোনো বাধা নেই।

দুর্যোগমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

দুর্যোগমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রীর দফতরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে ভূমিকম্প ও বজ্রপাতসহ বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন তারা।বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়েও মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ। তারা বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।সাক্ষাতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

৭ ঘন্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ আবরার ফাহাদের পরিবারের

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ আবরার ফাহাদের পরিবারের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।সাক্ষাতে আবরারের বাবা তার ছেলে হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। জবাবে তারেক রহমান বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তবে পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।এ সময় কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবিও জানান আবরারের বাবা। তিনি জানান, ওই এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ সাঁকো দিয়ে নদী পার হন। প্রধানমন্ত্রী সেতু নির্মাণের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি এটি আবরার ফাহাদের নামে করার প্রতিশ্রুতি দেন।আবরারের কবর পাকাকরণ এবং পাশের মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ করার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান তার বাবা। পরে মসজিদটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।আবরার হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন তার বাবা। তিনি জানান, মামলার এক আসামি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়। পালিয়ে যাওয়া এবং এখনো গ্রেপ্তার না হওয়া আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।সাক্ষাতে আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, দেশের কোনো ক্যাম্পাসে যেন আর এমন ঘটনা না ঘটে এবং তার মতো কোনো মায়ের বুক যেন আর খালি না হয়।আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। পাশাপাশি বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি নতুন হল নির্মাণের দাবি করেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন।নতুন প্রজন্মকে আবরার ফাহাদ সম্পর্কে জানাতে পাঠ্যবইয়ে তার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানান ফাইয়াজ। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের আগে বিভিন্ন সময়ে নিহতদের একটি তালিকা তৈরির দাবি জানান তিনি। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।সাক্ষাতের সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত ছিলেন।২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ডিবি ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ওই রায় বহাল রাখেন। পরে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা নয় আসামি আপিল বিভাগে আপিল করেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামিও লিভ টু আপিল করেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা।

৮ ঘন্টা আগে
দিল্লিতে আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ-ভারত

দিল্লিতে আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ-ভারত

তিন বছর পর আবারও আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ ও ভারত। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ও শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৬তম বাংলাদেশ-ভারত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ট্রেডের (জেডব্লিউজি) বৈঠক।দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যেও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সচল রাখা, আমদানি-রপ্তানির বাধা কমানো এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়গুলো এবারের বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। এর আগে ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ১৫তম জেডব্লিউজি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে বন্দর ব্যবহারের বিধিনিষেধ, পণ্য সরবরাহ, পণ্যের মান নির্ধারণ ও পারস্পরিক স্বীকৃতি, সড়ক-রেল যোগাযোগ এবং প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) নিয়ে আলোচনা হয়।এবারের আলোচনায় বাংলাদেশের পাটপণ্যের ওপর ভারতের নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা জুট ইয়ার্ন বা টুইন, হেসিয়ান ফ্যাব্রিক এবং জুট স্যাকিং ব্যাগের ওপর শুল্ক কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করেছে ভারত।এর পাশাপাশি বাংলাদেশে ভারতীয় সুতা আমদানির ক্ষেত্রে থাকা বিধিনিষেধ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। দুই দেশই নিজ নিজ ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বাজারসুবিধা বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক বাধা কমানোর বিষয়টি তুলতে পারে।বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল প্রায় ১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার।এই ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করা এবং স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন সহজ করার বিষয়ে জোর দিতে পারে।চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি হয়েছে ৩৩৫ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি।এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো, স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামো ও সক্ষমতা উন্নয়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হবে। বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, আমদানি-রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়ানোর পথ খুঁজে বের করাই বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য।তিন বছর পর জেডব্লিউজি বৈঠক হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা সেপা নিয়েও আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।২০২৩ সালের বৈঠকে সেপা চালুর প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক সম্পর্কের ওঠানামা থাকলেও দুই দেশের অর্থনৈতিক নির্ভরতা রয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পের কাঁচামাল, তুলা, সুতা, খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ভারতের ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে বাংলাদেশের জন্য ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার।তাই রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উভয় দেশের স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

৯ ঘন্টা আগে
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিতে প্রশাসনিক তদন্ত সাজানো হতো

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিতে প্রশাসনিক তদন্ত সাজানো হতো

বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড জনসম্মুখে এলে সেটিকে বৈধতা দেওয়ার জন্য লোক দেখানো প্রশাসনিক তদন্ত করা হতো বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে এসব তথ্য পেয়েছেন বলে জানান তিনি।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।এদিন ১৫তম সাক্ষী হিসেবে জিয়াউলের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দেন তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে চলে এলে প্রকৃত অপরাধীদের আড়ালে রাখতে নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক তদন্তের ব্যবস্থা করা হতো। ওই তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হতো।রফিকুল ইসলাম আরও জানান, প্রকৃত মৃত্যুর কারণ আড়াল করে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে কর্মকর্তাদের ভুল বা মিথ্যা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং পুলিশ প্রতিবেদন তৈরিতে বাধ্য করা হতো। প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করাই এর উদ্দেশ্য ছিল বলে জানান তিনি।মামলাটিতে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ তৃতীয় দিনের মতো শেষ হয়েছে। বাকি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী রোববার (১১ অক্টোবর) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।প্রসিকিউশন জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সেদিন তিনি আংশিক জবানবন্দি দেন। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি কোথায় কোথায় গেছেন, কী কী তথ্য-উপাত্ত ও আলামত সংগ্রহ করেছেন এবং সেগুলো কীভাবে মামলার অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত—জবানবন্দিতে তার বিস্তারিত তুলে ধরেন।এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর মামলায় সাক্ষ্য দেন কামরুল ইসলাম। তদন্তের সময় বিভিন্ন স্থান থেকে জব্দ করা আলামতের তথ্য ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন তিনি। একই দিন মামলার ১৩তম সাক্ষী র‍্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা শেষ হয়। তিনি ছিলেন মামলার সর্বশেষ চাক্ষুষ সাক্ষী।জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলায় তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার কথা বলা হয়েছে।তৃতীয় অভিযোগে একই সময়ের মধ্যে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় এবং একই দিন প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করে।

৯ ঘন্টা আগে
ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৫ জনের

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৫ জনের

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৩৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী রয়েছেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগ থেকেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।নতুন করে পাঁচজনের মৃত্যুর ফলে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৪ জনে। একই সঙ্গে এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বেড়ে চলেছে।এক দিনে প্রায় দুই হাজার মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপের তীব্রতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

৯ ঘন্টা আগে
জনআস্থা ধরে রাখাই পুলিশের কাজ, আরও বাড়ানো চ্যালেঞ্জ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জনআস্থা ধরে রাখাই পুলিশের কাজ, আরও বাড়ানো চ্যালেঞ্জ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা কতটা রয়েছে, সেটির মূল্যায়ন জনগণই করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পুলিশের প্রতি অর্জিত জনআস্থা ধরে রাখার পাশাপাশি তা আরও বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা রয়েছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই আস্থা আরও শক্তিশালী করাই পুলিশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।এ সময় এক সাংবাদিক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। সেখানে আইজিপি পুলিশের জন্য জনআস্থা অর্জনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে জানান ওই সাংবাদিক। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের আট মাস এবং এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছর মিলিয়ে দীর্ঘ সময় পার হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থার সংকট রয়েছে কি না এবং আস্থা ফিরতে আরও কত সময় লাগবে, তা জানতে চান তিনি।জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি তো সিদ্ধান্তই দিয়ে দিলেন যে জনআস্থা নাই!’পরে সাংবাদিক আইজিপির বক্তব্যের প্রসঙ্গ আবার তুলে ধরলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাঁর বোঝাপড়া অনুযায়ী আইজিপি জনআস্থা ধরে রাখার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ‘জনআস্থা আমরা অর্জন করেছি।’

৯ ঘন্টা আগে
জঙ্গল সলিমপুরে হবে পুলিশ একাডেমি ও কেন্দ্রীয় কারাগার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জঙ্গল সলিমপুরে হবে পুলিশ একাডেমি ও কেন্দ্রীয় কারাগার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্থূলতার হার গত কয়েক দশকে দ্রুত বেড়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো বিশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।হু’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রায় ১৭ কোটি শিশু ও কিশোর-কিশোরী স্থূলতায় আক্রান্ত ছিল। এর মধ্যে ৫ থেকে ৯ বছর বয়সি প্রায় ৭ কোটি শিশু এবং ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রায় ১০ কোটি কিশোর-কিশোরী রয়েছে। ১৯৯০ সালে এই হার ছিল ২ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ শতাংশে—অর্থাৎ প্রায় চারগুণ।শিশুদের স্থূলতাকে শুধু বাড়তি ওজন বা শারীরিক গঠনের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ছোট বয়স থেকেই এর প্রভাব শরীরে পড়তে পারে। ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের মতো জটিলতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে সঠিক যত্ন ও চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।জীবনযাপন পরিবর্তনেই প্রথম গুরুত্বহু’র নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্থূলতায় আক্রান্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের চিকিৎসার শুরুতেই গুরুত্ব দিতে হবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং জীবনযাপনের পরিবর্তনের ওপর।হু’র পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের ডিরেক্টর ডা. লুজ মারিয়া দে রেগিল বলেন, শিশু-কিশোরদের স্থূলতার চিকিৎসার ভিত্তি ওষুধ বা অস্ত্রোপচার নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।১০ বছরের আগে ওজন কমানোর ওষুধ নয়নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৯ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের স্থূলতার চিকিৎসায় ওজন কমানোর ওষুধ, বেরিয়াট্রিক সার্জারি বা ওজন কমানোর বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।তবে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এর আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের তত্ত্বাবধানে খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যক্রম ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এসব ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত ফল না এলে তখন ওষুধ ব্যবহারের কথা ভাবা যেতে পারে।স্থূলতা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে শরীরে একাধিক অসুস্থতার কারণ হলে নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত মেনে বেরিয়াট্রিক সার্জারিও বিবেচনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ শিশুর বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই চিকিৎসা নির্ধারণের কথা বলেছে হু। শুধু ওজন কমানোই লক্ষ্য নয়শিশুর স্থূলতার চিকিৎসার উদ্দেশ্য শুধু ওজন কমানো হওয়া উচিত নয়। বরং শিশুর সামগ্রিক স্বাস্থ্য, দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতা এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার উন্নতিকে গুরুত্ব দিতে হবে।চিকিৎসা হতে হবে বয়স অনুযায়ী এবং প্রয়োজনভিত্তিক। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে শিশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াও জরুরি। মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজরস্থূলতার সঙ্গে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছে হু। উদ্বেগ, অবসাদ, আত্মসম্মান কমে যাওয়া ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যার কারণে অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝোঁক, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং সামাজিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।অন্যদিকে, স্থূলতায় আক্রান্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা শরীর নিয়ে কটূক্তি বা অপমানের শিকার হতে পারে। এতে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।তাই স্থূলতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাকে আলাদা করে না দেখে একসঙ্গে মোকাবিলা করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এক্ষেত্রে শিশুর বয়স, মানসিক বিকাশ এবং পরিবারের ভূমিকার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা শিশু-কিশোরদের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে হু’র মূল বার্তা হলো—বাড়তি ওজনকে শুধু ‘ডায়েট’-এর সমস্যা হিসেবে না দেখে সময়মতো বৈজ্ঞানিক ও দীর্ঘমেয়াদি যত্ন নিশ্চিত করা।

১১ ঘন্টা আগে
১২ ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ : পানিসম্পদ মন্ত্রী

১২ ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ : পানিসম্পদ মন্ত্রী

চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বরের আগে ভারতের সঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ পুনরায় যুক্ত করাকে বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।তিনি জানান, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বর্তমান ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। এর আগেই নতুন চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিয়মিত কাজ চলছে। বৈঠকগুলোর ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী সরকার।শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ১৯৭৭ সালে প্রথমবারের মতো পাঁচ বছর মেয়াদি গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল। পরে ১৯৯৬ সালে চুক্তি নবায়নের সময় ওই ধারা রাখা হয়নি। নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের মতো এই গ্যারান্টি ক্লজ ফিরিয়ে আনাই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।পদ্মা ব্যারাজের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির কাজ দৃশ্যমান করার জন্য একনেকে অনুমোদন হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের মধ্যে এর কাজ দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।তিস্তা বহুমুখী প্রকল্প নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, তিস্তা একটি খরস্রোতা নদী এবং উজান থেকে আসা পানির কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা নিয়ে স্টাডি শেষ করে প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করতে চায় সরকার।তিনি বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে ওই বছরই তিস্তা প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করার দিকে সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে।পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্পে কোনো বহিরাগত চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্পের সঙ্গে দেশের মানুষের স্বার্থ জড়িত। পদ্মা ও তিস্তার তীরবর্তী মানুষের স্বার্থ ও প্রয়োজনই সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।পদ্মা ব্যারাজের প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, এর স্টাডি শেষ করতে ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছিল। পরে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ হাতে নিয়েছে।তিস্তার মতো বড় প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই এক-দুই মাসে শেষ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে পর্যাপ্ত কারিগরি সহায়তা নিয়ে কাজ শেষ করা হয়নি। এবার সরকার নিজ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগোতে চায়।

১১ ঘন্টা আগে
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব করার উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব করার উদ্যোগ

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিমানবন্দরে রানওয়ে ও টার্মিনালের পর্যাপ্ত সুবিধা থাকলেও এর সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।এ লক্ষ্যে একটি পিডিপিপি তৈরির পাশাপাশি ১৮ মাস মেয়াদি ফার্স্ট ট্রেক প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার।খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ন্যূনতম একটি আঞ্চলিক হাব গড়ে তোলা হবে। এতে ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ পরিচালনা, ট্রান্সফার যাত্রী এবং অতিরিক্ত এয়ার কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৭৫ মিলিয়ন ডলার উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নেওয়ার কথা রয়েছে। বাকি ৭৫ মিলিয়ন ডলার সরকার ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দেবে।শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নূর হোসেন বলেন, যাত্রী ও কার্গো পরিবহনের জন্য বড় জায়গার প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সিভিল এভিয়েশনের হাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ জায়গা নেই।তিনি জানান, আপাতত টেকনিক্যাল ল্যান্ডিংয়ের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দূরপাল্লার অনেক উড়োজাহাজ এক দেশ থেকে উড্ডয়ন করে অন্য দেশে অবতরণ করে জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নেয়। চট্টগ্রামেও এ ধরনের সুবিধা চালু করা তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।কর্তৃপক্ষের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে শাহ আমানত বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৫০ লাখ থেকে বেড়ে এক কোটিতে উন্নীত হবে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরের ভৌগোলিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে এটিকে টেকনিক্যাল হাবে পরিণত করা গেলে সরকারের আয় বাড়তে পারে।চট্টগ্রাম এভিয়েশন ক্লাবের সভাপতি মো. আসিফ চৌধুরী বলেন, জাপান, কোরিয়াসহ পূর্বাঞ্চলের দেশগুলোর উড়োজাহাজ ইউরোপ বা ফার ইস্টের দিকে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামকে ফুয়েল হাব হিসেবে ব্যবহার করতে পারলে চট্টগ্রাম ও দেশের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।তবে পর্যাপ্ত কার্গো না থাকায় এরই মধ্যে অনেক এয়ারলাইন এই সেবা থেকে সরে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে কার্গো হ্যান্ডলিং বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।সবজি ও ফলমূল রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মো. মাহবুব রানা বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ইউরোপে ফ্রেশ শাকসবজি ও ফলমূল রপ্তানির সুযোগ থাকলেও বর্তমানে প্রয়োজনীয় পরিবহন সুবিধা নেই।সংশ্লিষ্টদের মতে, শাহ আমানত বিমানবন্দরকে কার্যকর আঞ্চলিক হাবে পরিণত করতে হলে পর্যাপ্ত যাত্রী ও কার্গো চাহিদা তৈরি করার পাশাপাশি এয়ারলাইনগুলোকে আকৃষ্ট করার ব্যবস্থা করতে হবে।

১১ ঘন্টা আগে
বেসরকারি শিক্ষকদের জাতীয়করণ আজ হোক বা কাল, হবেই: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

বেসরকারি শিক্ষকদের জাতীয়করণ আজ হোক বা কাল, হবেই: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ একদিন হবেই।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের ছাদে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করা যাবে।তার দাবি, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে। পাশাপাশি ছুটির দিন ও অতিরিক্ত সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবে।বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষা বাজেট তিন গুণ এবং স্বাস্থ্য বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদার গুরুত্ব তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, শিক্ষকতা এমন একটি পেশা, যার মাধ্যমে পৃথিবীর অন্যান্য সব পেশার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকরা সমাজের চালিকাশক্তি ও গণতন্ত্রের বার্তাবাহক উল্লেখ করে তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার দায়িত্ব নিয়েছে এবং শিক্ষা খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজ করছে।তিনি জানান, আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসরে যাওয়া প্রায় এক লাখ শিক্ষক-শিক্ষিকার ভাতা পরিশোধের জন্য এরই মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। এ দাবিতে সুশৃঙ্খল ও বৃহৎ পরিসরে জাতীয় সমাবেশ করে মানবিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি তুলে ধরার পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী। বর্তমান সরকার এ দাবির গুরুত্ব বিবেচনা করবে বলেও আশাবাদ জানান তিনি।এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশ নিতে আইনি বা নীতিগত কোনো বাধা নেই।

১১ ঘন্টা আগে
৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেছেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে ব্যাংক খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেছেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে ব্যাংক খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ০ জন

শিশির মনিরকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার চাইলেন রাশেদ খাঁন

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আইনজীবী শিশির মনিরকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহের উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন রাশেদ খাঁন। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি জানান।রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, একদিকে জামায়াত-শিবির আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদ করেছে, অন্যদিকে শিশির মনিরকে ওই মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। তার মতে, এ অবস্থান পরস্পরবিরোধী।তিনি বলেন, আবরার হত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন সংগঠন মাঠে কর্মসূচি পালন করেছে। শিবির ও এনসিপিও কর্মসূচি করেছে। কিন্তু একই সময়ে আবরার হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে শিশির মনির আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দাবি, শিশির মনির জামায়াতের আইনজীবী ছিলেন এবং একই সঙ্গে দলটির এমপি প্রার্থীও ছিলেন।রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, জামায়াতের আইনজীবী হিসেবে শিশির মনির যখন আবরার হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তখন শিবির কীভাবে ওই হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে কর্মসূচি পালন করে।এ ছাড়া জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় শিশির মনিরদের রাজপথে দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। ওই সময়ের আন্দোলনের পক্ষে শিশির মনিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পোস্ট ছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

লিংক কপি করা হয়েছে!
“
১ দিন আগে
গতকাল শহীদ আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে রাজপথে সবাই নেমেছে। ছাত্রদল, ছাত্রঅধিকার পরিষদ, ছাত্রশিবির, এনসিপিও প্রোগ্রাম করেছে। আমার প্রশ্ন হলো, আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী হয়েছিলেন শিশির মনির, যিনি জামায়াতের একজন বিখ্যাত আইনজীবী। জামায়াতের মনোনীত এমপি প্রার্থী ছিলেন। জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির যখন আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী হন, তখন শিবির কোন লজ্জায় রাজপথে প্রোগ্রাম করে আমি সেই প্রশ্ন রাখছি। জুলাইয়ে এই শিশির মনিররা রাজপথে নামেননি। এমনকি জুলাইয়ের পক্ষে পোস্ট আছে কিনা, আমার সন্দেহ আছে। প্রোফাইল লাল পর্যন্ত করেননি। জামায়াত আমিরও প্রোফাইল লাল করেনি। আজ তারা দাবি করছে, জুলাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রেখেছে।

রাশেদ খান
রাশেদ খান
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী

প্রথম পর্বেই বাজিমাত, ‘ফিরে আসার গল্প’-এর ৪৭ লাখ ভিউ

‘এটা আমাদেরই গল্প’–এর সাফল্যের পর ‘ফিরে আসার গল্প’ মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের নতুন ধারাবাহিক। গতকাল চ্যানেল আই ও সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে সম্পর্কের গল্প নিয়ে তৈরি ধারাবাহিকটি প্রচার শুরু হয়েছে। প্রথম পর্ব গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় মুক্তি পেয়েছে। নাটকটির ভিউ মুক্তির ২৩ ঘণ্টায় ৪৭ লাখের বেশি! ইউটিউবে মন্তব্যের ঘরে অনেকেই প্রশংসা করেছেন নাটকটির।মামুন নামের এক দর্শক লিখেছেন, ‘“এটা আমাদেরই গল্প” নাটকের ভক্তরা কে কে “ফিরে আসার গল্প” নাটকের অপেক্ষায় ছিলেন।’ বাপ্পা নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো...আমরা খুব আনন্দিত। যারা এই নাটকের অভিনেতা যুক্ত আছে, তাদের অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ।’‘এটা আমাদেরই গল্প’-এ খায়রুল বাসার, ইরফান সাজ্জাদ, কেয়া পায়েল, দীপা খন্দকার, নাদের চৌধুরী, মনিরা মিঠুসহ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী আলোচনায় ছিলেন। নতুন ধারাবাহিকটিতে তাঁদের সবাইকে দেখা যাচ্ছে না। তবে দীপা খন্দকার, খায়রুল বাসার, মনিরা মিঠুসহ বেশ কয়েকজন আছেন। ধারাবাহিকটি দিয়ে সুমাইয়া শিমুর অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার কথা ছিল। এক দিন শুটিং করেছিলেন। কিন্তু চোখে ভাইরাস সংক্রমণের কারণে শেষ পর্যন্ত আর কাজটি করতে পারেননি। তাঁর পরিবর্তে গল্পে যুক্ত হন দীপা খন্দকার আর দীপার চরিত্রে রোজী সিদ্দিকী। তবে ‘ফিরে আসার গল্প’ নাটকের সবচেয়ে বড় চমক জাহিদ হাসান ও শহীদুজ্জামান সেলিম। সঙ্গে আছেন তরুণ প্রজন্মের তানজিম সাইয়ারা তটিনী ও খায়রুল বাসার। আরও অভিনয় করছেন এজাজুল ইসলাম, ফয়জুল ইয়ামিন, মুকিত জাকারিয়া প্রমুখ।স্যাটেলাইট টেলিভিশনের যুগ শুরুর আগেই এক ঘণ্টার নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন শহীদুজ্জামান সেলিম ও জাহিদ হাসান। পরে এটিএন বাংলার ‘লাল নীল বেগুনি’ ধারাবাহিকে প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করেন। সেই নাটকের পরিচালক ছিলেন জাহিদ হাসান। এরপর ২০১৩ সালে এসএ টিভির ‘সাঙরিলা’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেন দুজন। সেটির পরিচালক ছিলেন শহীদুজ্জামান সেলিম। এরপর দীর্ঘ বিরতি। প্রায় ১৩ বছর পর আবার একই নাটকে অভিনয় করছেন নব্বই দশকের জনপ্রিয় এই দুই তারকা। এই পুনর্মিলন উপভোগ করছেন তাঁরাও।প্রথম লটে ‘ফিরে আসার গল্প’ ধারাবাহিকের ১০ পর্বের শুটিং হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ঢাকার উত্তরায় শুরু হয়েছে দ্বিতীয় লটের শুটিং। এই লটে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ১৮ পর্বের শুটিং শেষ হবে। মোট ৫২ পর্বে শেষ হবে ‘ফিরে আসার গল্প’। প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সিনেমাওয়ালার ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে এর নতুন নতুন পর্ব।

সন্তানের ওজন কমাতে যা করবেন

শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্থূলতার হার গত কয়েক দশকে দ্রুত বেড়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো বিশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।হু’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রায় ১৭ কোটি শিশু ও কিশোর-কিশোরী স্থূলতায় আক্রান্ত ছিল। এর মধ্যে ৫ থেকে ৯ বছর বয়সি প্রায় ৭ কোটি শিশু এবং ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রায় ১০ কোটি কিশোর-কিশোরী রয়েছে। ১৯৯০ সালে এই হার ছিল ২ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ শতাংশে—অর্থাৎ প্রায় চারগুণ।শিশুদের স্থূলতাকে শুধু বাড়তি ওজন বা শারীরিক গঠনের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ছোট বয়স থেকেই এর প্রভাব শরীরে পড়তে পারে। ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের মতো জটিলতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে সঠিক যত্ন ও চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।জীবনযাপন পরিবর্তনেই প্রথম গুরুত্বহু’র নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্থূলতায় আক্রান্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের চিকিৎসার শুরুতেই গুরুত্ব দিতে হবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং জীবনযাপনের পরিবর্তনের ওপর।হু’র পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের ডিরেক্টর ডা. লুজ মারিয়া দে রেগিল বলেন, শিশু-কিশোরদের স্থূলতার চিকিৎসার ভিত্তি ওষুধ বা অস্ত্রোপচার নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ১০ বছরের আগে ওজন কমানোর ওষুধ নয়নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৯ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের স্থূলতার চিকিৎসায় ওজন কমানোর ওষুধ, বেরিয়াট্রিক সার্জারি বা ওজন কমানোর বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।তবে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এর আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের তত্ত্বাবধানে খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যক্রম ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এসব ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত ফল না এলে তখন ওষুধ ব্যবহারের কথা ভাবা যেতে পারে।স্থূলতা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে শরীরে একাধিক অসুস্থতার কারণ হলে নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত মেনে বেরিয়াট্রিক সার্জারিও বিবেচনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ শিশুর বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই চিকিৎসা নির্ধারণের কথা বলেছে হু।শুধু ওজন কমানোই লক্ষ্য নয়শিশুর স্থূলতার চিকিৎসার উদ্দেশ্য শুধু ওজন কমানো হওয়া উচিত নয়। বরং শিশুর সামগ্রিক স্বাস্থ্য, দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতা এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার উন্নতিকে গুরুত্ব দিতে হবে।চিকিৎসা হতে হবে বয়স অনুযায়ী এবং প্রয়োজনভিত্তিক। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে শিশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াও জরুরি।মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজরস্থূলতার সঙ্গে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছে হু। উদ্বেগ, অবসাদ, আত্মসম্মান কমে যাওয়া ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যার কারণে অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝোঁক, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং সামাজিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।অন্যদিকে, স্থূলতায় আক্রান্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা শরীর নিয়ে কটূক্তি বা অপমানের শিকার হতে পারে। এতে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।তাই স্থূলতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাকে আলাদা করে না দেখে একসঙ্গে মোকাবিলা করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এক্ষেত্রে শিশুর বয়স, মানসিক বিকাশ এবং পরিবারের ভূমিকার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা শিশু-কিশোরদের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে হু’র মূল বার্তা হলো—বাড়তি ওজনকে শুধু ‘ডায়েট’-এর সমস্যা হিসেবে না দেখে সময়মতো বৈজ্ঞানিক ও দীর্ঘমেয়াদি যত্ন নিশ্চিত করা।

চুনারুঘাটে বাঁশঝাড়ে বিদেশি পিস্তল-গুলি

চুনারুঘাটে বাঁশঝাড়ে বিদেশি পিস্তল-গুলি

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে একটি বাঁশঝাড় থেকে ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯-এর একটি আভিযানিক দল।বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে উপজেলার বৈরাগী টিলার পাশে অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।এসআরবি-৯,সিপিসি-৩-এর শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়,রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে,চুনারুঘাট থানার বৈরাগী টিলার পাশে কয়েকজন ব্যক্তি মাদকদ্রব্য কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। খবর পেয়ে রাত ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে এসআরবির একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।অভিযানের সময় বৈরাগী টিলার পাশের একটি বাঁশঝাড়ে তল্লাশি চালিয়ে সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় পরিত্যক্ত একটি বস্তু দেখতে পান সদস্যরা। পরে সেটি খুলে ম্যাগাজিনসহ ৭.৬৫ মিমি মডেলের একটি সক্রিয় বিদেশি পিস্তল এবং একই মডেলের দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।এসআরবি জানিয়েছে,উদ্ধার করা পিস্তলটির গায়ে ‘ASUPER UNIVERSEL, MADE IN ITALY’ এবং ‘026M KLR NO-11011’ লেখা রয়েছে।তবে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এসআরবি-৯-এর তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধারকৃত আলামত জিডির মাধ্যমে চুনারুঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।এসআরবি-৯,সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।এসআরবি-৯ জানিয়েছে,দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream