সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু
সৌদি আরবের মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় এলাকায় এবং নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা সবাই ‘আল আবীর কোল্ড স্টোর ট্রেডিং কোম্পানি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিভিন্নভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তাদের সবার বাড়ি বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায়। প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং ম্যানেজার নুরুজ্জামানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে আল আবীর কোল্ড স্টোর ট্রেডিং কোম্পানির স্টোরকিপার জিয়াউর রহমান, তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন। দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ এবং নিহত বাকিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রবাসীরা কাজ করছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড তাওহিদ হৃদয়ের
মাইলফলক স্পর্শ করেই সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের মতো অভিজ্ঞদের কাতারে নাম লিখিয়েছিলেন তাওহিদ হৃদয়। চতুর্থ বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ পান এই তরুণ টপ-অর্ডার ব্যাটার।কিন্তু শুধু মুশফিকদের স্পর্শ করেই থামেননি হৃদয়, শেষ পর্যন্ত সবাইকে ছাড়িয়ে নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসে—টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের নতুন বিশ্বরেকর্ড এখন তাঁর দখলে।সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টেস্টের তৃতীয় দিনে ভেঙে গেছে একের পর এক দীর্ঘদিনের রেকর্ড:মুশফিকের ২১৯ রানের রেকর্ড ভঙ্গ: ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে খেলা মুশফিকুর রহিমের ২১৯ রানের ইনিংসটি প্রায় ৮ বছর ধরে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড হিসেবে অক্ষত ছিল। ৩৫০-এর বেশি বল খেলে অবিশ্বাস্য ধৈর্য ও দারুণ শট নির্বাচনের মাধ্যমে মুশফিককে টপকে যান তাওহিদ হৃদয়।মুমিনুলের প্রথম সেঞ্চুরিতে বড় ইনিংসের রেকর্ড ভাঙন: ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ১৮১ রানের বিশাল ইনিংসে রূপ দিয়েছিলেন মুমিনুল হক। দীর্ঘ ১৩ বছর পর দ্বিতীয় সেশনেই সেই রেকর্ড নিজের করে নেন হৃদয়।সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে মাহমুদুল হাসান জয়ের আগের ১৭১ রানের ইনিংস টপকে মাঠের সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের একক মালিক হন তিনি। ধৈর্যশীল ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মিশেলে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপান্তরিত করে তাওহিদ হৃদয় বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে যুক্ত করলেন এক নতুন ও বর্ণিল স্বর্ণ অধ্যায়।
গ্রামপুলিশের বেতন বৃদ্ধি ও ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
গ্রামপুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন ও অবসরকালীন আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) বাড়ানোর বড় ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণ গ্রামপুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রামপুলিশ প্রধানদের বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এ ছাড়া সাধারণ গ্রামপুলিশ সদস্যদের অবসরকালীন আনুতোষিকের পরিমাণ ৭০ হাজার টাকার পরিবর্তে ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রামপুলিশ প্রধানদের জন্য ৮০ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রামপুলিশের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান। তিনি ঘোষণা দেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর থেকেই সরকারের এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তসমূহ কার্যকর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রামপুলিশের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য তারা সবার আগে জানতে পারেন। এসব তথ্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সময়মতো জানালে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।তিনি আরও বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষের শিকড় এখনও গ্রামে। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা জরুরি।অতীতের রাজনৈতিক ও সামাজিক দূরবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সমাজে ব্যাপক সামাজিক অবক্ষয় ঘটানো হয়েছিল। প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার পরিবেশ তৈরি করে পারিবারিক ও সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করা হয়।তিনি স্পষ্ট করেন যে, এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়। সমাজের অপরাধ কমাতে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সম্প্রীতির সংস্কৃতিকে পুনর্জীবিত করতে হবে, যেখানে গ্রামপুলিশ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
যতবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবারই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বক্তব্যের শুরুতে তরুণ প্রজন্মের পরিবেশিত ডিসপ্লের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী সকলকে নজরুলবর্ষের শুভেচ্ছা জানান। দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গৌরবের দিন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী সব চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছিল।১৯৭৫ সালের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়েছিল। সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে এবং দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। এ কারণেই ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর।ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপটের সঙ্গে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ ছিল দেশের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের অবদানকে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ণয়ের দিন। সময়ের সাথে সাথে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, যতবার দেশ ৭ নভেম্বরের এই মূল পথরেখা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, ততবারই বাংলাদেশ ও তার জনগণের সার্বভৌমত্ব চরম হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলতে পারে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?
সিপাহি জনতার বিপ্লবে কীভাবে উত্থান ঘটে জিয়াউর রহমানের
সিপাহি জনতার বিপ্লবে কীভাবে উত্থান ঘটে জিয়াউর রহমানের
ব্রহ্মপুত্র নদ দখল ও বালু লুটপাট বন্ধের দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন
গাইবান্ধায় চুরির অপবাদে বৃদ্ধাকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, থানায় অভিযোগ
‘সরকারের উপকার ও নতুন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই আমরা একজোট হয়েছি’—নুরুল হক নুর
মাদকের সঙ্গে পরিবহন-ফার্মেসি কোম্পানির সংশ্লিষ্টতা, নির্মূল নয় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব
মোবাইলে লাউডস্পিকারে গান বাজানো নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংঘর্ষ, আহত ২৫ জন
২২ দিন পর সাগরে মাছ ধরা শুরু, জেলেদের মাঝে উৎসবের আমেজ