বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

বাংলাদেশে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ

সাধারণত বর্ষা মৌসুমই নেপালের জন্য প্রাচুর্যপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়। দেশটির নদীগুলো ভারী বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে ওঠে। এসব নদীর পানিতে পরিচালিত ‘রান অব দ্য রিভার’ অর্থাৎ নদীর পানি দিয়ে চালিত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে তখন উৎপাদন বাড়ে। ফলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেপাল তার প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে বিক্রি করতে পারে। কিন্তু এ বছর সেই নদীগুলোই হয়ে উঠেছে বিপর্যয়ের উৎস। ভোতে কোশি নদীতে গত ২৬ আগস্ট আকস্মিক বন্যায় বন্ধ হয়ে গেছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো। যার ফলে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে সম্প্রতি নেপাল থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া শুরু করা বাংলাদেশ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটিতে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করত। এখন তা কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। শুষ্ক শীত মৌসুমে, বিশেষ করে বছরের পর বছর বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরশীল থাকার পর নেপাল যখন নিজেকে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তখন এই বিঘ্ন দেখা দিল। ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ হতো। গত সপ্তাহ থেকে দুটি প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। চিলিমে প্রকল্প থেকে ভারতে ২১ দশমিক ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন ছিল। অন্যদিকে ত্রিশূলী প্রকল্পের অনুমোদন ছিল ১৮ দশমিক ৬ মেগাওয়াট। ভারত হয়ে বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন পেয়েছিল প্রকল্প দুটি। বাংলাদেশে বিক্রি করা বিদ্যুতের মূল্য নেপাল মার্কিন ডলারে পায়। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা দুটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো প্রকল্পের বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি দিতে আমরা ভারতকে অনুরোধ করেছি। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্য।’ ক্ষয়ক্ষতি শুধু এই দুটি প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ নেই। বন্যার পর থেকে ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সানজেন, আপার সানজেন ও সালাসুঙ্গি প্রকল্পকে ‘আইসোলেটেড মোডে’ রেখেছে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এর অর্থ, প্রকল্পগুলো জাতীয় গ্রিডের বাইরে থেকে পরিচালিত হচ্ছে এবং শুধু আশপাশের এলাকার চাহিদা মেটাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। তবে বিদ্যুৎ রপ্তানিতে বিঘ্ন শুধু বন্যার কারণে হয়নি। যে সময়ে নেপাল সাধারণত ভারতে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বিদ্যুৎ রপ্তানি করে, সেই সময়েও ভারত তিনটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের রপ্তানি অনুমোদন নবায়ন না করায় দেশটি ওই প্রকল্পগুলো থেকে ৭৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারছে না। ৩৮ দশমিক ৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার আপার চামেলিয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের রপ্তানি অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ জুন শেষ হয়েছে। তবে তা এখনো নবায়ন করা হয়নি। ২৪ দশমিক ২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সেতি রিভার এবং ১০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আপার তাদি খোলা প্রকল্পের অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩১ জুলাই। অনুমোদনগুলো নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ প্রকল্প তিনটির সম্মিলিত ৭৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারতে বিক্রি করতে পারবে না। এসব অনুমোদন প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ আমদানি ও রপ্তানির অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানি করার আগে নেপালকে ওই সংস্থার অনুমোদন নিতে বা বিদ্যমান অনুমোদন নবায়ন করতে হয়। নেপাল বিদ্যুৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণের চেষ্টা করলেও এই সমস্যাটি দেশটির সামনে থাকা সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরে। এ পর্যন্ত নেপাল ৩৭টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য ভারতের অনুমোদন পেয়েছে। এসব প্রকল্পের সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। চিলিমে ও ত্রিশূলীও এসব প্রকল্পের মধ্যে ছিল। নেপাল ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জের ডে-অ্যাহেড ও রিয়েল-টাইম বাজারের মাধ্যমে ভারতে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে। এ ছাড়া ভারতের হরিয়ানা ও বিহার রাজ্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মধ্যমেয়াদি বিদ্যুৎ বিক্রয় চুক্তির আওতায়ও বিদ্যুৎ বিক্রি করে দেশটি। ৪০০ কিলোভোল্ট ক্ষমতার ঢালকেবর–মুজাফফরপুর সঞ্চালন লাইন এবং ১৩২ কিলোভোল্ট ক্ষমতার তানকপুর–মহেন্দ্রনগর, কাটাইয়া–কুশাহা, রাকসৌল–পরওয়ানীপুর, গান্ধক–রামনগর ও মাইনাহিয়া–সম্পতিয়া সঞ্চালন লাইনসহ বেশ কয়েকটি সংযোগের মাধ্যমে দুই দেশ বিদ্যুৎ বাণিজ্য করে। বাংলাদেশের বাজার এই ব্যবস্থায় আরও একটি জটিলতার মাত্রা যোগ করেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকায় নেপাল ও বাংলাদেশের জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি আরও ২০ মেগাওয়াট বাড়াতে দুই দেশ সম্মত হয়েছিল। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করতেও তারা সম্মত হয়। তবে পরে ভারত জানায়, সঞ্চালন সক্ষমতার ঘাটতির কারণে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করা সম্ভব নয়। জুনে নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে নেপাল আবারও অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন দিতে ভারতের কাছে অনুরোধ জানায়। ৪৫৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার আপার তামাকোশী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ অন্যান্য প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদনও চেয়েছে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। তবে চীনা বিনিয়োগ, চীনা ঠিকাদার অথবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে চীনা সরঞ্জাম যুক্ত প্রকল্পগুলোর জন্য ভারতের অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে না। আপার তামা কোশি এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। প্রকল্পটির হাইড্রোমেকানিক্যাল, ইলেকট্রোমেকানিক্যাল ও সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজের চুক্তি ভারতীয় কোম্পানিগুলো পেলেও বেসামরিক নির্মাণকাজ করেছে একটি চীনা কোম্পানি। এ প্রকল্পের বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন এখনো দেয়নি ভারত। দ্বিপক্ষীয় জ্বালানি বৈঠকগুলোতে নেপাল বারবার বিষয়টি উত্থাপন করেছে। আনুষ্ঠানিক বিধিনিষেধটি এমন প্রকল্পের বিদ্যুতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত রয়েছে কিন্তু ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ খাত সহযোগিতাবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নেই—এমন তৃতীয় কোনো দেশের বিনিয়োগ রয়েছে। তবে নেপালি কর্মকর্তা ও জ্বালানি খাতের অংশীজনেরা বলছেন, চীনা ঠিকাদার বা চীনা সরঞ্জাম যুক্ত প্রকল্প থেকেও বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন দিতে ভারত অনিচ্ছুক। এমনকি প্রকল্পগুলোতে চীনা বিনিয়োগ না থাকলেও এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তাঁদের যুক্তি, নেপাল যদি বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়াতে চায়, তাহলে কূটনৈতিক তৎপরতা প্রয়োজন হবে। সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী কুলমান ঘিসিং বলেন, ‘বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন নবায়ন বা নতুন অনুমোদন পেতে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করতে হয়। কখনো কর্মকর্তাদের সঙ্গে, কখনো নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে, আবার কখনো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের মাধ্যমে আলোচনা করতে হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের আলোচনা করতে হবে এবং বিদ্যুৎ বাণিজ্যের অনুমোদন পাওয়া ও নবায়নের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে হবে।’ ঘিসিং বলেন, তিনি প্রতি ইউনিট ৫ দশমিক ৪৫ ভারতীয় রুপিতে ভারতে ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে নেপাল ওই পরিমাণ বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়াতে পারেনি। ২০২১ সালে নেপাল বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করার পর এই নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। এর মাধ্যমে এমন একটি দেশের জন্য বড় পরিবর্তন এসেছিল, যে দেশটি আগে ব্যাপকভাবে বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নেপাল ভারত ও বাংলাদেশে ২ হাজার ৯৩২ কোটি রুপি মূল্যের বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে। একই সময়ে শুষ্ক মৌসুমে ভারত থেকে ১ হাজার ২৩ কোটি রুপি মূল্যের বিদ্যুৎ আমদানি করেছে দেশটি। ফলে বিদ্যুৎ বাণিজ্যে নেপালের নিট উদ্বৃত্ত ছিল ১ হাজার ৯০৯ কোটি রুপি। এই মডেলটি নেপালের মৌসুমি নদীগুলোর ওপর নির্ভরশীল। বর্ষা মৌসুমে পানির প্রাচুর্যে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, যা রপ্তানি করা হয়। শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ কমে গেলে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেশি থাকলে নেপাল ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে। ভোটেকোশীর বন্যা এমন এক সময়ে এই মডেলকে ব্যাহত করেছে, যখন নেপালের সাধারণত বিদ্যুৎ রপ্তানি থেকে সর্বোচ্চ আয় করার কথা। এখন নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে চালু থাকা অন্য প্রকল্পগুলো থেকে বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমোদন পেতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করছে।

সাত পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

ঘুষ নিয়ে চাকরির প্রতিশ্রুতি প্রদান, অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং পলাতক থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশের ৭ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণ ও বরখাস্ত করা হয়েছে।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—ডিবি-র সাবেক যুগ্ম কমিশনার সঞ্চিত কুমার রায় (২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে অনুপস্থিত), ডিএমপির সাবেক উপ-কমিশনার মানস কুমার পোদ্দার (২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে অনুপস্থিত), রংপুরের সাবেক পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান (২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি থেকে অনুপস্থিত) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) হাফিজ আল ফারুক (২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুপস্থিত)।অন্যদিকে, ঘুষের বিনিময়ে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়ার প্রমাণিত অভিযোগে নেত্রকোনা ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্তে উঠে আসে, তিনি সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) পদে চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে ১৭ লাখ টাকা দাবি করেন এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সাড়ে ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে চাকরি না হওয়া সত্ত্বেও তিনি সংগৃহীত অর্থ ফেরত দেননি। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক তদন্তে তা প্রমাণিত হয়।এছাড়া, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম (২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে অনুপস্থিত) এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালাল (২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি ছুটি নেওয়ার পর কর্মস্থলে অযোগদানকৃত) নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ না দেওয়ায় বরখাস্তের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছে, পেশাগত শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনস্বার্থে এই বরখাস্ত ও অপসারণের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, সিসমিক জরিপ, বাপেক্সকে শক্তিশালী করা, পিএসসি ও বিডিংয়ের মাধ্যমে অনুসন্ধান এবং এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না করা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সরকার একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে।দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৩০টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে এবং সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হয়েছে। চলমান আরও সাতটি কূপের কাজ শেষ হলে অতিরিক্ত ৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে।এ ছাড়া গ্যাসের নতুন উৎস খুঁজতে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সিসমিক জরিপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়াও চলছে।অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলছে।এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোম এলাকায় গভীর সমুদ্রে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ২০২৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ওই টার্মিনাল দিয়ে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে।তিনি জানান, আগামী দুই বছরে এলএনজি আমদানি দৈনিক আরও ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পায়রা, মোংলা বা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে আরও একাধিক ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

মক্কা চুক্তি ইরানের বিরুদ্ধে নয়: জালিল রাহিমি

ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে চলেছে উল্লেখ করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের চিন্তিত করে না। আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো চুক্তি মনে করি না।’পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে আজ বুধবার সকালে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইরানের রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন। তিনি এদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই মক্কা চুক্তি আসলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার দুর্বলতার একটি লক্ষণ।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো চ্যালেঞ্জ বা বিরোধিতা নেই। তুরস্ক ও পাকিস্তানের কথা বললে, তারা ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের খুব ভালো বন্ধু। আর আমাদের সৌদি আরবের সঙ্গেও সুসম্পর্ক রয়েছে। এটি এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে আমরা ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলছি। তাই মক্কা চুক্তি নিয়ে আমাদের কোনো উদ্বেগ বা চিন্তা নেই।’রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জানান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইরান কোনো আরব দেশের ভূখণ্ডকে নিশানা করেনি। তিনি বলেন, ‘​আপনারা জানেন, ইরান এবং আমেরিকার সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আমরা কেবল এই সব আরব দেশগুলোতে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করেছি। আমরা কখনো কোনো আরব দেশের ভূখণ্ড বা মাটিতে আক্রমণ করিনি।’বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মক্কা চুক্তিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে গঠিত হচ্ছে। তাই যেসব মুসলিম দেশ এতে যোগ দিচ্ছে, তারা কি পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থই পূরণ করছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বলেন, ‘না, বিষয়টি তা নয়। মক্কা চুক্তি এমন একটি সময়ে গঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ও তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে।’এ প্রসঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ​অতীতের বছরগুলোতে এই অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সব সময় স্পষ্ট ছিল। তারা বলত, ‘আমাদের সামরিক ঘাঁটি করার জন্য জমি দাও এবং আমাদের কাছ থেকে অস্ত্র কেন, তাহলে আমরা তোমাদের নিরাপত্তা দেব।’ ​যুক্তরাষ্ট্র এই একই অজুহাত দিয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছিল—যেন তারা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সরকার পরিবর্তন করতে পারে, ইরানের ইউরেনিয়াম দখল করতে পারে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বন্ধ করতে পারে এবং বিশ্বে তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করতে পারে।​জালিল রাহিমি বলেন, ‘কিন্তু আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আমাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনো আমাদের হাতেই আছে। আর গত রাতেও আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে।’যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি বা সমুদ্রপথ খোলার জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে উল্লেখ করে ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে, এই মক্কা চুক্তি আসলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরাজয়ের একটি সম্পূরক অংশমাত্র। এই অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলো এখন বুঝতে পেরেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের স্তূপ তাদের প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারে না। তাই আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে মনে করি না এবং এটি নিয়ে আমরা একেবারেই চিন্তিত নই।’ইরান কি এই মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য কোনো প্রস্তাব দিয়েছে বা দেবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত ​জালিল রাহিমি বলেন, ‘আমরা যোগ দেওয়ার জন্য নিজ থেকে কোনো প্রস্তাব জমা দিইনি। তবে মক্কা চুক্তির সদস্যদেশগুলো যদি আমাদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান বা প্রস্তাব দেয়, তাহলে আমরা তা বিবেচনা করব।’আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে ইরান মক্কা চুক্তির মতোই একটি প্রস্তাব দিয়েছিল জানিয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা একটি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, যেন মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে। কিন্তু ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র কি সেই প্রস্তাব সমর্থন করেছিল? না, করেনি। আমাদের দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সব ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করা। কিন্তু তখন আরব দেশগুলো এই প্রস্তাব সমর্থন করেনি, কারণ, তারা ভেবেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যই তাদের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট।’‘এখন বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডানের মতো আরব দেশগুলোর কাছে আমাদের প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র কি আপনাদের কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা দিতে পেরেছে? আপনাদের আকাশসীমা অতিক্রম করে আমাদের যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের দিকে গেছে, যুক্তরাষ্ট্র কি সেগুলো থামাতে পেরেছে?,’ বলেন তিনি।

সাত পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

সাত পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

ঘুষ নিয়ে চাকরির প্রতিশ্রুতি প্রদান, অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং পলাতক থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশের ৭ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণ ও বরখাস্ত করা হয়েছে।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—ডিবি-র সাবেক যুগ্ম কমিশনার সঞ্চিত কুমার রায় (২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে অনুপস্থিত), ডিএমপির সাবেক উপ-কমিশনার মানস কুমার পোদ্দার (২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে অনুপস্থিত), রংপুরের সাবেক পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান (২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি থেকে অনুপস্থিত) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) হাফিজ আল ফারুক (২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুপস্থিত)।অন্যদিকে, ঘুষের বিনিময়ে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়ার প্রমাণিত অভিযোগে নেত্রকোনা ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্তে উঠে আসে, তিনি সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) পদে চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে ১৭ লাখ টাকা দাবি করেন এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সাড়ে ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে চাকরি না হওয়া সত্ত্বেও তিনি সংগৃহীত অর্থ ফেরত দেননি। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক তদন্তে তা প্রমাণিত হয়।এছাড়া, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম (২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে অনুপস্থিত) এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালাল (২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি ছুটি নেওয়ার পর কর্মস্থলে অযোগদানকৃত) নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ না দেওয়ায় বরখাস্তের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছে, পেশাগত শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনস্বার্থে এই বরখাস্ত ও অপসারণের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

১১ ঘন্টা আগে
১৮ বছরে সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার সুযোগ ছিল, লোভে পা দিইনি: পার্থ

১৮ বছরে সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার সুযোগ ছিল, লোভে পা দিইনি: পার্থ

গত ১৮ বছরে চাইলে অনেক সুযোগ-সুবিধা নিতে পারতেন, কিন্তু কোনো ধরনের লোভ-লালসায় পা দেননি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনি এলাকা ভোলায় গিয়ে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে ফুল দিয়ে মন্ত্রীকে স্বাগত জানান। ছাদখোলা গাড়িতে করে শহরে প্রবেশের সময় তিনি তাদের অভ্যর্থনার জবাব দেন। পরে নতুন বাজার চত্বরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন পার্থ।নিজের দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা সততার সঙ্গে পালন করবেন। এমপি হিসেবে গত ছয় মাসের দায়িত্ব পালনে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি এবং ভবিষ্যতেও দেবেন না বলেও জানান তিনি।ভোলা-বরিশাল সেতু প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, এ সেতুর দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন এবং সংসদেও বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সরকার বিকল্প পথে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে সময় কম লাগলেও এ নিয়ে কোনো মহল যেন বিভ্রান্তি না ছড়ায়।ভোলার জন্য যে সিদ্ধান্তটি সবচেয়ে ভালো হবে, সেটিই চান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিশেষজ্ঞরা সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে ভোলার মানুষের দাবিও তারা তুলে ধরে যাবেন।এ সময় টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইউএনও কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী।এর আগে ঢাকা থেকে সড়কপথে বরিশাল হয়ে লাহারহাটে পৌঁছান পার্থ। পরে স্পিডবোটে ভোলা খেয়াঘাটে গেলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপি ও বিজেপির নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

১৬ ঘন্টা আগে
জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার

জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, সিসমিক জরিপ, বাপেক্সকে শক্তিশালী করা, পিএসসি ও বিডিংয়ের মাধ্যমে অনুসন্ধান এবং এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না করা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সরকার একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে।দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৩০টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে এবং সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হয়েছে। চলমান আরও সাতটি কূপের কাজ শেষ হলে অতিরিক্ত ৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে।এ ছাড়া গ্যাসের নতুন উৎস খুঁজতে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সিসমিক জরিপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়াও চলছে।অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলছে।এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোম এলাকায় গভীর সমুদ্রে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ২০২৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ওই টার্মিনাল দিয়ে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে।তিনি জানান, আগামী দুই বছরে এলএনজি আমদানি দৈনিক আরও ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পায়রা, মোংলা বা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে আরও একাধিক ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

১৭ ঘন্টা আগে
আরও চড়া দামে এলএনজি কিনছে সরকার

আরও চড়া দামে এলএনজি কিনছে সরকার

আরও চড়া দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে যাচ্ছে সরকার। এবার প্রতি ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ২৮ মার্কিন ডলারের ওপরে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই এলএনজি কেনার অনুমোদন দিয়েছে। আজ বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে, গত ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ দশমিক ৬৩ মার্কিন ডলারে এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। তার এক সপ্তাহ আগে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৩ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলারে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অথচ গত বছরের ডিসেম্বরেও প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি সাড়ে ১০ ডলারের নিচে কিনতে পেরেছিল সরকার। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানে এলএনজির দাম বেড়ে প্রায় তিন গুণ হয়ে গেছে।  সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এখন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে তিন কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এর মধ্যে ২৫ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বরের জন্য ৪৯তম কার্গো, ১-২ অক্টোবরের জন্য ৫০তম কার্গো এবং ৫ থেকে ৬ অক্টোবরের জন্য ৫১তম কার্গো কেনার প্রস্তাব রয়েছে। তিন কার্গোর জন্য পৃথক তিনটি প্রতিষ্ঠানের দর সুপারিশ করা হয়েছে। ৪৯তম কার্গোর জন্য আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুরের দর প্রতি এমএমবিটিইউ ২৭ দশমিক ৫৪ মার্কিন ডলার। ৫০তম কার্গোর জন্য বিপি সিঙ্গাপুরের দর প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮ দশমিক ০৩ মার্কিন ডলার। আর ৫১তম কার্গোর জন্য ভিটল এশিয়া পিটিই লিমিটেড, সিঙ্গাপুরের দর প্রতি এমএমবিটিইউ ২৬ দশমিক ৬৬৮৮ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, জিটুজি ভিত্তিতে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর ও পেট্রোবাংলার মধ্যে স্বাক্ষরিত স্বল্পমেয়াদি এলএনজি ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত পরিমাণ হিসেবে আরও এক কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এই কার্গোটি আগামী ১০ সেপ্টেম্বর কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৩ দশমিক ৯৮ মার্কিন ডলার দরে এই এলএনজি কেনা হবে। বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উত্থাপিত উভয় প্রস্তাবই অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। 

১৮ ঘন্টা আগে
মনে হয় আমি সবার টার্গেট, সুবিচার চাই: ট্রাইব্যুনালকে জিয়াউল আহসান

মনে হয় আমি সবার টার্গেট, সুবিচার চাই: ট্রাইব্যুনালকে জিয়াউল আহসান

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনার সময় হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও শরীরে ভেস্ট পরানো থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। এ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ‘মনে হয় আমি সবার টার্গেট। আমি ট্রাইব্যুনালের কাছে সুবিচার চাই।’বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন তিনি। বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এদিন তার বিরুদ্ধে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আব্বাস মল্লিক।জবানবন্দিতে আব্বাস মল্লিক তার ভাই আলকাছ মল্লিককে হত্যার জন্য জিয়াউল আহসানকে দায়ী করেন। একই সঙ্গে গুম-খুনের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন তিনি।পরে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান ও সাহিদুর রহমান সাক্ষীকে জেরা করেন। জেরা শেষ হলে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।এরপর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলার অনুমতি চান জিয়াউল। তিনি জানান, সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের সময় প্রশিক্ষণে কোমর ও ঘাড়ে ব্যথা পেয়েছিলেন। কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনার সময় হাতকড়া, হেলমেট ও বুকে ভেস্ট পরানোয় তিনি অস্বস্তির কথা জানান এবং এসব থেকে অব্যাহতি চান।এ বিষয়ে প্রসিকিউশনের মতামত জানতে চাইলে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি মূলত কারা কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার। নিরাপত্তার কারণে তাকে এভাবে আনা হয়ে থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।জিয়াউল বলেন, প্রিজনভ্যান থেকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানা মাত্র কয়েক গজ দূরে এবং নামানোর সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকেন। জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, দূরত্ব কম হলেও নিরাপত্তার ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।পরে হাতকড়া ও ভেস্ট থেকে অব্যাহতি চেয়ে লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দেন বিচারক। জিয়াউলের আইনজীবী নাজনীন নাহার জানান, তারা এ বিষয়ে আবেদন করবেন।

১৮ ঘন্টা আগে
এলপি গ্যাসের দাম কমল

এলপি গ্যাসের দাম কমল

সেপ্টেম্বর মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নতুন এই মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৫ দশমিক ৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৭২৭ টাকা এবং সাড়ে ১২ কেজির দাম ১ হাজার ৬৫২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এ ছাড়া ১৫ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৯৮২ টাকা, ১৬ কেজি ২ হাজার ১১৪ টাকা, ১৮ কেজি ২ হাজার ৩৭৮ টাকা, ২০ কেজি ২ হাজার ৬৪২ টাকা, ২২ কেজি ২ হাজার ৯০৭ টাকা এবং ২৫ কেজি ৩ হাজার ৩০৩ টাকা দরে বিক্রি হবে।অন্যদিকে ৩০ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩ হাজার ৯৬৪ টাকা, ৩৩ কেজি ৪ হাজার ৩৬০ টাকা, ৩৫ কেজি ৪ হাজার ৬২৪ টাকা এবং ৪৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫ হাজার ৯৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।বিইআরসি জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম এবং আমদানি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয়ের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে এলপিজি ও অটোগ্যাসের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করে থাকে বিইআরসি।

১৮ ঘন্টা আগে
বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ল, লিটার ২০৪ টাকা

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ল, লিটার ২০৪ টাকা

দেশের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৪ টাকায় বিক্রি হবে। এর আগে দাম ছিল ১৯৯ টাকা।তবে খোলা সয়াবিন তেল ও পাম তেলের দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভোজ্যতেলের নতুন দাম সমন্বয় করা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেই বোতলজাত সয়াবিন তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন দাম নির্ধারণের পরও খুচরা বাজারে অঞ্চল বা দোকানভেদে তেলের দাম এবং সরবরাহে কিছুটা পার্থক্য দেখা দিতে পারে।

১৯ ঘন্টা আগে
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাড়ছে এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ: প্রধানমন্ত্রী

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাড়ছে এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ: প্রধানমন্ত্রী

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবদিয়া এলাকায় গভীর সমুদ্রে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে আগ্রহী একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত টার্মিনালটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সেখান থেকে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।তিনি জানান, নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে। এর ফলে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি কমিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি করা যাবে বলে আশা করছে সরকার।এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা পূরণে পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব নিয়েও কাজ চলছে বলে সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী।জ্বালানি চাহিদার কথা বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে এসব টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আশা, টার্মিনালগুলো চালু হলে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং বিদ্যমান গ্যাস সংকটও অনেকটা কমে আসবে।

১৯ ঘন্টা আগে
সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও বর্তমানে কেউ গুম হচ্ছেন না: রিজভী

সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও বর্তমানে কেউ গুম হচ্ছেন না: রিজভী

বর্তমানে বিরোধী দলের নেতারা সরকারের পাশাপাশি শীর্ষ নেতৃত্বেরও সমালোচনা করছেন। তবে এজন্য কাউকে গুম হতে হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার মতে, এটিই বাকস্বাধীনতা ও প্রকৃত গণতন্ত্রের অন্যতম উদাহরণ।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম এ সভার আয়োজন করে।রিজভী বলেন, তারেক রহমান যখন রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে নতুন, তখন তাকে কারাবন্দি করার পেছনে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে দুর্বল করে দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল। এটি শুধু অভ্যন্তরীণ কোনো ষড়যন্ত্র নয়, বরং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা চক্রান্তের সম্মিলিত রূপ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান সততা, নিষ্ঠা, উৎপাদন, উন্নয়ন, পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার মাধ্যমে দেশের জন্য যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, তারেক রহমান সেই আদর্শের ধারাই এগিয়ে নিচ্ছেন।অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে দুর্ভিক্ষ, লুটপাট, সহিংসতা, বিরোধী মত দমন এবং সংবাদপত্র ও রাজনৈতিক দল বন্ধের মতো ঘটনায় দেশে সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের সুযোগ ফিরিয়ে দেন বলে দাবি করেন তিনি।তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, ২০১৮ সাল থেকে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সংগঠিত করেছেন। গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন।তারেক রহমানকে নিয়ে নানা অপপ্রচার চালানো হলেও জনগণ এখন তার কর্মকাণ্ড দেখছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি দাবি করেন, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তারেক রহমান কাজ করছেন। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে এর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।অন্যদিকে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে মেগা প্রকল্পের অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ তোলেন রিজভী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো বিস্তারিত প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।রিজভী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে তারেক রহমান যে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়েছেন, তা ছাত্রসমাজসহ দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তার দাবি, তারেক রহমান তার বাবা-মায়ের দেশ গড়ার আদর্শ অনুসরণ করেই এগিয়ে যাচ্ছেন।সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর হেলাল। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

২০ ঘন্টা আগে
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দুর্নীতি কমবে বলে মনে করেন কি?

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দুর্নীতি কমবে বলে মনে করেন কি?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অভিযোগ যাচাই করতে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান দলও গঠন করেছে সংস্থাটি। দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে দলটি অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করবে।অনুসন্ধানের আওতায় থাকা অন্য তিনজন হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।দুদক সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টেন্ডার ও সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে।সূত্রটি জানায়, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে জমা পড়ার পর সেটি যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পরবর্তী অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি।দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলামও জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে সেই সরকারে উপদেষ্টা হন আসিফ মাহমুদ। শুরুতে শ্রম এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পান।২০২৫ সালের ডিসেম্বরে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর একই মাসের শেষ দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন আসিফ মাহমুদ। বর্তমানে তিনি দলটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

লিংক কপি করা হয়েছে!

তরুণীর সঙ্গে সুইমিংপুলে মামুনুর রশীদ, ভাইরাল ছবির নেপথ্যে যা জানা গেল

সুইমিংপুলে এক তরুণীর সঙ্গে বরেণ্য অভিনেতা মামুনুর রশীদের একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি ঘিরে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা। তবে পরে জানা গেছে, এটি বাস্তব কোনো ঘটনার ছবি নয়; একটি ধারাবাহিক নাটকের দৃশ্য।‘আমরা ভাইরাল’ নামের নতুন এই ধারাবাহিক নাটকটি সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত বিভিন্ন ভাইরাল ঘটনা ও চরিত্রকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। আল আমিন স্বপনের গল্পে নাটকটি পরিচালনা করেছেন সাজিন আহমেদ বাবু।নাটকের একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করছেন মামুনুর রশীদ। তার বিপরীতে রয়েছেন তরুণ অভিনেত্রী প্রিসিলা ডি কস্তা। গল্পে মামুনুর রশীদের চরিত্রটি নিজের চেয়ে অনেক কম বয়সী এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। একপর্যায়ে পরিবারের মতের বিরুদ্ধে ওই তরুণী তার কাছে চলে আসে।এরপর তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি শুরু করে। তাদের কর্মকাণ্ড ঘিরে মানুষের মধ্যে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়, তেমনি বিরক্তিও দেখা দেয়। নাটকের গল্পেরই অংশ হিসেবে ধারণ করা সুইমিংপুলের দৃশ্যের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা শুরু হয়।নির্মাতা সাজিন আহমেদ বাবু জানান, ছবিটি নাটকের একটি দৃশ্যের অংশ। পুরো প্রেক্ষাপট না জেনেই অনেকে ছবিটি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। ভাইরাল ঘটনা ও চরিত্রগুলোকে হাস্যরসের মাধ্যমে উপস্থাপনের পাশাপাশি দর্শকদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়াই নাটকটির উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।মামুনুর রশীদও নাটকটি নিয়ে আশাবাদী। তার ভাষ্য, অনেক দিন পর ভিন্ন ধরনের গল্পে কাজ করেছেন তিনি। পরিচিত বিভিন্ন ঘটনা ও বিষয়কে নির্মাতা গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন, যা দর্শকদের বিনোদনের পাশাপাশি ভাবাবে।নাটকটির শুটিং ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ধারাবাহিকটির প্রচার শুরু হবে।

স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত

দাম্পত্য জীবনের সুখ ও স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ফারাক কতটা হওয়া উচিত—এ নিয়ে নানা সামাজিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক মতামত রয়েছে। তবে সমাজবিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র; একটি দীর্ঘমেয়াদি ও শান্তিময় দাম্পত্যের মূল চাবিকাঠি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা এবং মানসিক পরিপক্বতা।বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৫ থেকে ৭ বছরের ব্যবধান থাকলে দম্পতিদের মানসিক পরিপক্বতা ও সমঝোতায় ভালো ভারসাম্য তৈরি হয়, যা অনাকাঙ্ক্ষিত মতবিরোধ কমায়। আবার ১০ বছরের ফারাক থাকলেও অভিন্ন মূল্যবোধ ও জীবনের লক্ষ্য থাকলে সম্পর্ক সুন্দরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব; তবে এ ক্ষেত্রে সম্পর্কে একক কর্তৃত্ব এড়িয়ে চলা জরুরি। অন্যদিকে ব্যবধান ২০ বছর বা তার বেশি হলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা জীবনধারায় অমিল দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বাড়লেও, গভীর বোঝাপড়ার মাধ্যমে এমন বহু সম্পর্ক সফলভাবে টিকে থাকার নজির রয়েছে।২০১৭ সালের একটি অস্ট্রেলীয় গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব দম্পতির বয়সের ফারাক ১ থেকে ৩ বছর এবং যেখানে পুরুষ সঙ্গী বয়সে বড়, তাদের দাম্পত্য জীবনের সন্তুষ্টির মাত্রা বেশি। তবে বিয়ের ৬ থেকে ১০ বছরের মধ্যে যাদের বিচ্ছেদ ঘটে, তাদের বড় একটি অংশে বয়সের ব্যবধান ৭ বছর বা তার বেশি ছিল। আবার নারীদের বয়স পুরুষ সঙ্গীর চেয়ে বেশি হওয়ার পরও সফল ও সুখী দাম্পত্য বজায় রাখার অঢেল উদাহরণ রয়েছে।তবে সন্তান গ্রহণের ক্ষেত্রে বয়স একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য মতে, পুরুষের সন্তান জন্মদানের আদর্শ সময় ২১ থেকে ৩৫ বছর। ৩৫ বছরের পর শুক্রাণুর গুণমান কমতে শুরু করে এবং ৪০ পেরোলে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। নারীদের ক্ষেত্রে বিশের কোঠার শুরুর দিক এবং ২৫ থেকে ২৯ বছর মা হওয়ার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ। ত্রিশের পর নারীদের প্রজননক্ষমতা কমে যায় এবং চল্লিশ পেরোলে গর্ভধারণ মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে সন্তানপ্রত্যাশী হলে পুরুষের বয়স ৫০-এর নিচে এবং নারীর বয়স ৪০-এর নিচে থাকা ইতিবাচক।দিনশেষে কোনো গাণিতিক সূত্রের ওপর নয়, বরং দুটি মানুষের মানসিক নৈকট্য, বিশ্বাস, পারস্পরিক দায়বদ্ধতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পাশে থাকার মাধ্যমেই একটি দাম্পত্যের দীর্ঘস্থায়িত্ব নির্ধারিত হয়।

সিলেটে অনলাইন জুয়ার আসর থেকে চারজন আটক

সিলেটে অনলাইন জুয়ার আসর থেকে চারজন আটক

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজার এলাকায় একটি চা দোকানে বসে অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৯। এ সময় তাদের কাছ থেকে জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত ছয়টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শাহ সিকান্দর এলাকার মো. জলিল উদ্দিন (৩৮),হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার সিংহগ্রামের মো. সামাইন (৩০),ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা এলাকার মো. নাইম মিয়া (৩৩) এবং হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মনতৈল উত্তরপাড়া এলাকার মো. শাহিন মিয়া (৩৫)।র‌্যাব জানায়,র‌্যাব-৯-এর সদর কোম্পানির একটি দল সোমবার রাতে দক্ষিণ সুরমা এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সূত্রে জানতে পারে,লালাবাজারের মাহতাজ ভেরাইটিজ স্টোর নামের একটি চা দোকানে কয়েকজন ব্যক্তি অনলাইনে জুয়া খেলছেন।খবর পেয়ে রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে র‌্যাবের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের হেফাজত থেকে জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত ছয়টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জুয়া খেলার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব। জব্দ করা মোবাইল ফোন যাচাই করেও অনলাইনে জুয়া খেলার বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় জুয়া প্রতিরোধ আইন,২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার চারজন ও জব্দ করা আলামত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।র‌্যাব-৯,সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream