শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

‘এমন পরিস্থিতি ৮৮ বছরে দেখিনি’: অলি আহমদ

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দাবি করেন, বিভিন্ন স্থানে নারী-পুরুষকে বিএনপিকে আর কখনো ভোট না দেয়ার কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেছেন, তার ৮৮ বছরের জীবনে তিনি কখনো এমন পরিস্থিতির কথা শোনেননি, যেখানে একটি সরকার গঠনের পরপরই মানুষ বলতে শুরু করে—এই সরকার টিকবে না।  রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে অলি আহমদ বলেন, এত সকালে একত্রিত হয়ে তারা ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। এলডিপি ও ১১ দলের পক্ষ থেকে তিনি উপস্থিত সবাইকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এত সকালে এ ধরনের বিশাল জনসমাবেশ আয়োজন অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে সম্ভব নয় বলেও তার দাবি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে অলি আহমদ বলেন, তিনি চেষ্টা করে দেখতে পারেন তার দলের নেতাকর্মীরা এত সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারেন কি না। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অতীতের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছাড়’—এখন এ বিষয়ে ফখরুল ইসলাম আলমগীর কী বলবেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রসঙ্গ টেনে এলডিপি সভাপতি বলেন, তিনি আগে কোরআন-সুন্নাহর বাইরে কোনো কাজ করবেন না বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এখন তিনি আগের অবস্থানে আছেন কি না, সে প্রশ্নও করেন অলি আহমদ। তিনি বলেন, দেশ ভালোভাবে পরিচালনার জন্য ঈমানদার ও সৎ মানুষকে বেছে নিতে হবে। বেইমান, মুনাফেক ও বিদেশি দালালদের দিয়ে দেশ পরিচালিত হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ১১ দলের কর্মসূচির প্রসঙ্গে অলি আহমদ বলেন, জনগণের দাবি মেনে না নিলে ১১ দল নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করবে। প্রথম ধাপের কর্মসূচি শেষ করে তারা এখন দ্বিতীয় ধাপ শুরু করেছেন বলেও জানান তিনি। তিনি সরকারকে সঠিক পথে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় অতীতে যেভাবে বিভিন্ন শাসক দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন, সরকারকেও সেই পথ অনুসরণ করতে হতে পারে। লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের সুশৃঙ্খল থাকার আহ্বান জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হবে। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর পথে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তা আরও শক্তভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, তারা কোনো ভোজ বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেননি; জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে তারা মনে করেন। তিনি বলেন, সরকার সঠিক পথে না এলে তাদের আন্দোলন আরও কঠোর হবে। লংমার্চের মধ্য দিয়ে সরকারকে সেই বার্তা দেয়া শুরু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মামুনুল হক সরকারকে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের দাবি উপেক্ষা করা হলে অতীতের স্বৈরশাসকদের মতো পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

সাভারে স্বামী-স্ত্রী ও শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

সাভারের আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের সদ্যোজাত এক শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নৃশংস এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোরে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তালাবদ্ধ ওই ঘরের ভেতর থেকে স্বামী, স্ত্রী ও তাঁদের এক নবজাতক সন্তানের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের সময় স্বামীর গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় দেখা যায়। গভীর রাতে ঘরটি থেকে পচা দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে লাশগুলো দেখতে পায়। রহস্যজনক এ মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ঢল নামে এবং এলাকাবাসী দ্রুততম সময়ে হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও রহস্য উদঘাটনের দাবি জানান।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নিহতরা স্বামী-স্ত্রী। ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। নিহতদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা ও পরিচয় শনাক্তের জোর চেষ্টা চলছে।তিনি আরও জানান, মর্মান্তিক এ ঘটনার পর সিআইডির (CID) ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে আশুলিয়া থানা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (DB) মাঠে নেমেছে এবং লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৪৩৪ জন গ্রেপ্তার

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে ৪৩৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। একই সময়ে মামলা দায়ের হয়েছে ৪৪টি। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়।  ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পুলিশের রমনা বিভাগ ২৬ জনকে, লালবাগ বিভাগ ৩৩ জনকে, ওয়ারী বিভাগ ৪২ জনকে, মতিঝিল বিভাগ ৫৯ জনকে, তেজগাঁও বিভাগ ৫৯ জনকে, মিরপুর বিভাগ ১৩৬ জনকে, গুলশান বিভাগ ৩৬ জনকে, উত্তরা বিভাগ ৩৬ জনকে ও গোয়েন্দা বিভাগ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।  অভিযানে একটি বিদেশি রিভলবার, ২ রাউন্ড গুলি, ১ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজা, ৩৫৮৯ পিস ইয়াবা, ৯.৪ গ্রাম হেরোইন, ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ২টি বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন, নগদ ১৫৪০ টাকা ও একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।   

ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের যোগদান নিয়ে তথ্য নেই ভারতের: রণধীর জয়সোয়াল

নয়াদিল্লীর ভারত মণ্ডপমে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সাপ্তাহিক এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।এদিকে, সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রচারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জয়সোয়াল শুধু বলেন, এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই।এদিকে, নেপালে এখনও ২৭৫ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কাছে থাকা সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৬৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২৭৫ জন ভারতীয় নাগরিক।’এ বিষয়ে ভারত নেপাল সরকার, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারতের সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান তিনি।জয়সোয়াল বলেন, উদ্ধার হওয়া ভারতীয় নাগরিকদের নাম নিয়মিতভাবে প্রকাশ করছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধারে নেপালি কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন তিনি।

মন্ত্রিসভার ব্যাপক রদবদলের প্রস্তুতি চলছে

মন্ত্রিসভার ব্যাপক রদবদলের প্রস্তুতি চলছে

প্রশাসনিক কাজের গতি বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বর্তমান বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার কলেবর সম্প্রসারণ ও ব্যাপক রদবদলের জোর প্রস্তুতি চলছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষভাগে অথবা আগামী অক্টোবরের শুরুতেই এই পরিবর্তন আসতে পারে। মূলত দফতরগুলোর কাজের পরিধি বিবেচনা, পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন, “রদবদলের আলোচনা সত্য, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সময় নির্ধারণ সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে।”গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভার ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে গত ১৬ আগস্ট। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৫১ জন (২৬ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী)। পাশাপাশি ১১ জন উপদেষ্টা (৬ জন মন্ত্রী ও ৫ জন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার) দায়িত্ব পালন করছেন। সরকার গঠনের ৬ মাসের মাথায় দফতর পুনর্বণ্টন হলেও দক্ষতা ও বিতর্কহীনতা বজায় রাখতে নতুন করে কিছু স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া দুর্যোগকালীন পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন বক্তব্যে সরকারপ্রধান বিব্রত। তাঁকে সরিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে তরুণ ও সুশিক্ষিত উপদেষ্টা মাহাদী আমিন অথবা শিক্ষক নেতা সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়াকে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ‘অতি কথন’ ও বিগত সরকারের আলোচিত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের ‘মিঠু’ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সরকার ক্ষুব্ধ। অন্যদিকে, পরিমিতভাষী বর্তমান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাজ আশানুরূপ না হওয়ায় বর্তমান মন্ত্রী হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াসিনের দপ্তর পরিবর্তন বা রদবদল হতে পারে। এ ছাড়া, সার্কিট হাউস সড়কে উল্টো পথে গাড়ি চালিয়ে ট্রাফিক মামলার শিকার হওয়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ওপর প্রধানমন্ত্রী মারাত্মক ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।বর্তমানে ৩টি করে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলানো মন্ত্রীদের বোঝা কমিয়ে এক মন্ত্রীর দায়িত্বের কিছু অংশ সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে দেওয়া হতে পারে।রাজপথের ত্যাগী, অভিজ্ঞ ও নির্যাতিত নেতাদের মূল্যায়ন করতে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও শীর্ষ নেতাদের মধ্য থেকে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। স্বরাষ্ট্র, কৃষি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বাড়ায় নতুন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এ বিষয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গেলেও দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন জানান, রদবদলের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারভুক্ত এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থেই তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

১ ঘন্টা আগে
ডাক বিভাগের নতুন সেবা, ঘরে পৌঁছাচ্ছে ভারী পণ্য

ডাক বিভাগের নতুন সেবা, ঘরে পৌঁছাচ্ছে ভারী পণ্য

ডাকযোগে শুধু চিঠি কিংবা প্যাকেট নয়; এখন গ্রাহকের কাছে যাচ্ছে ফ্রিজ, মোটরসাইকেলের মতো ভারী পণ্যও। গত দুই মাসে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবায় পরিবহন হয়েছে প্রায় ৪০০ টন পণ্য। প্রথম কেজিতে ১০ টাকা, এরপর প্রতি কেজিতে আরও ৫ টাকা—এই মাশুলেই চলছে স্পিড পোস্ট। সম্প্রতি কান্ত সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়ে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, দেশের আইনে অবৈধ নয়, এমন যেকোনো পণ্যই এখন ডাকের গাড়িতে তোলা, নামানো এবং পোস্টম্যানের মাধ্যমে বিলি করা যায়। তিনি বলেন, সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলও ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। সঙ্গে গেছে ফ্রিজ, আলমারি ও ওয়ার্ডরোবের মতো বড় আসবাবপত্র। শিক্ষার্থীদের কাঁথা-বালিশ ও বিছানাপত্রও পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া রান্নাঘরের দা-বঁটি-ছুরি, হাঁড়ি-পাতিল, প্রেশার কুকার, ইন্ডাকশন চুলা থেকে শুরু করে এলইডি টিভি, এয়ার কন্ডিশনার, বাইসাইকেল এমনকি কীটনাশক স্প্রে মেশিনও এখন ডাকযোগে পাঠানো যাচ্ছে। ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, মৌসুমি ফলসহ স্পিড পোস্টের মাধ্যমে গত দুই মাসে মোট প্রায় ৪০০ টন পণ্য পরিবহন হয়েছে, যা এর আগে ডাক বিভাগের মাধ্যমে কখনো পরিবহন হয়নি। এসব পণ্য যেন সহজে ও সুন্দরভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য সেবাটিকে গ্রাহকবান্ধব করতে বাড়তি কিছু ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের সুবিধার জন্য চালু হয়েছে অনলাইন মাশুল ক্যালকুলেটর। এর মাধ্যমে আগে থেকেই পণ্য পরিবহনের খরচ জেনে নেওয়া যায়। বর্তমানে রাজধানীর জিপিওসহ গুলশান, বনানী, মিরপুর ও উত্তরার মতো বেশ কয়েকটি সাব-পোস্ট অফিস থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে। দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পার্সেলের জন্য রয়েছে বৈদেশিক ইএমএস সেবাও। কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, সেবাটি যেন সুশৃঙ্খলভাবে চলে, সে জন্য এর কার্যপ্রণালী সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে ডাক অধিদপ্তর। স্পিড পোস্টে ইস্যুকৃত পণ্য জেলা শহর থেকে ঢাকায় সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা আর প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে বিলির জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসকে। তবে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু দ্রব্য এই সেবার আওতার বাইরেও রাখা হয়েছে। বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ, ক্ষতিকর বা বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্য, মাদকদ্রব্য, জীবন্ত প্রাণী, আগ্নেয়াস্ত্র এবং ভরা বা খালি গ্যাস সিলিন্ডার স্পিড পোস্টে পাঠানো যাবে না। এত কম মূল্যে সেবা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কাজী আসাদুল বলেন, টাকার অঙ্কের চেয়ে মানুষে-মানুষে সংযোগ স্থাপনকে আমি বড় অর্জন বলে মনে করি। একজন মা যেমন কষ্ট করে সন্তান লালন-পালন করেন, বিনিময়ে কিছুই চান না; সন্তানের ভালো থাকাতেই যার তৃপ্তি-রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগও তেমনি জনগণকে সেবা দিতে পারার মধ্যেই সার্থকতা খুঁজে পায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডাক বিভাগের এ সেবার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোট দিতে নিবন্ধন করেন। এরপর ভোট দেওয়া থেকে শুরু করে সেই ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে মুহূর্তে মুহূর্তে বার্তা পেয়ে ভোটের অগ্রগতি জানতে পেরেছেন প্রবাসীরা। এতে করে ডাক বিভাগের প্রতি তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে। ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, এই অভিজ্ঞতাই পরে বিনা প্রচারণায় মুখে মুখে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররাই এই সেবা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন। তারাই নিজ উদ্যোগে তারা সেবাটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন। এই জনপ্রিয়তা ডাক বিভাগের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি একজন গ্রাহক বদলি হয়ে অন্য জেলায় বাসা পরিবর্তনের সময় পুরো বাসার আসবাবপত্রই ডাকযোগে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিশ্বের অনেক দেশের ডাক বিভাগ এমন আন্তজেলা বাসা বদল সেবা দিয়ে থাকে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এমন সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সে লক্ষ্যে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সক্ষমতা গড়ে তোলা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব একটি প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে ৫০টি বৈদ্যুতিক বাইক, যা চলবে গ্রিন এনার্জিতে। সক্ষমতা বাড়ানোর এই ধারাবাহিকতায় বদলেছে ডাক বিভাগের অভ্যন্তরীণ কর্মপরিকল্পনাও। মহাপরিচালক বলেন, সহকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী এক কর্মশালার পর সম্প্রতি সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকার তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মেইল প্রসেসিং সেন্টারকে শতভাগ কাজে লাগানো হবে। এর মধ্য দিয়ে সারা দেশ থেকে ঢাকামুখী মেইল, ঢাকা থেকে সারা দেশে যাওয়া মেইল আর ঢাকা শহরের ভেতরকার মেইল—সবই প্রক্রিয়াজাত হবে একটি জায়গা থেকে। এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে কার্যকরও হয়েছে বলে জানান তিনি। কমলাপুরের রেলওয়ে মেইল সার্ভিসের বর্তমান সক্ষমতা এখন সীমিত হয়ে পড়েছে জানিয়ে আসাদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার খাতা কিংবা গাছের চারার মতো নানা রকম পণ্য একসঙ্গে সামলানো ক্রমেই তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। তাই ঢাকা জিপিও ক্যাম্পাসকে সম্প্রসারিত করে সেখানে শুধু বিদেশগামী ও বিদেশ থেকে আসা রপ্তানি-আমদানি পার্সেলের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এভাবে তেজগাঁও, কমলাপুরসহ মোট তিনটি হাব মিলিয়ে সমন্বিতভাবে চলবে ডাক বিভাগের মেইল ব্যবস্থাপনা। মহাপরিচালক বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাভের অঙ্ক আমাদের কাছে মুখ্য নয়। সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ সেবা দিয়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করাই হবে স্পিড পোস্টের প্রকৃত সাফল্য। বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে চালু হয় ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবা। প্রথমে মৌসুমি ফল পরিবহনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই সেবা এখন সম্প্রসারিত হয়েছে নিত্যব্যবহার্য বড় বড় পণ্যসামগ্রী পরিবহনেও।

২ ঘন্টা আগে
কারাগারে নতুন সুবিধা, স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ

কারাগারে নতুন সুবিধা, স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ

ভিডিও কলের বিশেষ সুবিধা চালু হচ্ছে কারাগারের চার দেয়ালের বন্দিজীবনে স্বজনদের সরাসরি দেখার আকুলতা দূর করতে। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ সুবিধা চালু হয়েছে। শিগগিরই সারাদেশে এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে কারা অধিদফতর। কারা কর্তৃপক্ষের এই আধুনিক ও মানবিক উদ্যোগের ফলে সপ্তাহে একবার ১০ মিনিট নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কয়েদি ও হাজতিরা ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে পারবেন। সম্প্রতি ঢাকা কারা অধিদফতরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো: মাসুদ হাসান জুয়েল রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, সারাদেশে শিগগিরই কারাবন্দিরা স্বজনদের সাথে ভিডিও কলে কথা বলতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে। এদিকে কারাগারে বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন কারাগারে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং ও অন্যান্য মানসিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। মাসুদ হাসান জুয়েল জানান, কারাগারে বন্দিদের উৎপাদনশীল কাজে প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য দক্ষ করে তোলার কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ২-এ সাবান উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং উৎপাদিত সাবান বন্দি ও স্টাফদের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বন্দিদের প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, বন্দিদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কারা সদর দফতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্যাথলজি ল্যাব চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্সের সুপারিশ পাওয়া গেছে এবং তাদের পদায়নের মাধ্যমে কারাগারের স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে। কারা অধিদফতর জানায়, বন্দি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ২-এ মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্ট স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পানি সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কারাগারের মৌলিক সেবাগুলোর মান উন্নয়নের বিষয়টি ভবিষ্যতেও অগ্রাধিকার পাবে। এছাড়া একটি আধুনিক কারা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রশিক্ষিত লোকবল অপরিহার্য বলে জানায় কারা অধিদফতর। কারা অধিদফতর আরো জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এই লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর, ডেপুটি জেলার, জেলার ও জেল সুপারদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ঢাকা জেলে রুটি তৈরির কার্যক্রমকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে চায়না থেকে আমদানি রুটি মেকার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বৃহৎ সংখ্যক বন্দির জন্য কম সময়ে একই মানের রুটি স্বাস্থ্যসম্মত ও দক্ষতার সাথে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমছে। তিনি বলেন, কারাগারে বিশেষ দিবসে খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা আছে। বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার জন্য বিভিন্ন কারাগারে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও বন্দিদের বিভিন্ন পোশাক ও জুতা-সেন্ডেল তৈরি ও বেকারির প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। বন্দিদের খেলাধুলার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। কারাগারে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। কারা অধিদফতর জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের একটি যৌক্তিক প্রত্যাশা ছিল অবসর-পরবর্তী কল্যাণ। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষীদের আজীবন রেশন প্রদানের বিষয়টি সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে এবং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়াও কারাগারের নিরাপত্তা রক্ষা, বন্দি পালানো প্রতিরোধ, অনিয়ম প্রতিরোধ, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সেবা এবং দায়িত্ব পালনে অসাধারণ অবদান রাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ যথাযথভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যোগ্য সদস্যদের পদক, প্রশংসাপত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা আরো কার্যকর করারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কারাগারে মাদক প্রবেশ ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কারা সদর দফতরে ড্রাগ পরীক্ষার মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করবে। কারাগারকে আরো স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে ব্যাপক সবুজায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট-১, কিশোরগঞ্জ-১ ও খুলনা নতুন কারাগারে প্রায় ১৮ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা, বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ, ভালো কাজের যথাযথ স্বীকৃতি, পরিবেশবান্ধব কারা ব্যবস্থাপনা এবং একটি আধুনিক ও পেশাদার সংশোধনমূলক পরিষেবা সৃষ্টির কাজ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কারা অধিদফতর জানায়, কারাগার সম্পর্কে মানুষের প্রচলিত ধারণায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কারাগার হবে নিরাপদ ও মানবিক। কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হবেন দক্ষ, সৎ ও মর্যাদাবান। বন্দিরা পাবেন সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ। আর পুরো প্রতিষ্ঠানটি হবে স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক। সূত্র : বাসস

২ ঘন্টা আগে
সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন নৌবাহিনী প্রধান

সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন নৌবাহিনী প্রধান

নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম সরকারি সফরে সৌদি আরবে গেছেন। আজ শনিবার ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি সরকারি সফরে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে। সফরকালে নৌবাহিনী প্রধান সৌদি আরবের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ, রয়েল সৌদি নেভাল ফোর্সের প্রধান এবং মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স কোয়ালিশন কমান্ডারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সাক্ষাতে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও অনুষ্ঠিতব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসমূহে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার বিদ্যমান পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং নৌবাহিনীর মধ্যে বিভিন্ন সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। নৌবাহিনী প্রধান সৌদি আরব অবস্থানকালে বিভিন্ন সামরিক ও নৌ স্থাপনা পরিদর্শন এবং দু’দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক, প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করবেন। নৌবাহিনী প্রধানের এ সফর দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো জোরদার করবে বলে আশা করা যায়।

৩ ঘন্টা আগে
চেনা শহরে নতুন পরিচয়ে ফিরছেন মির্জা ফখরুল

চেনা শহরে নতুন পরিচয়ে ফিরছেন মির্জা ফখরুল

তাঁর শৈশব-কৈশোর ঠাকুরগাঁও শহরের কোলাহলেই কেটেছে । শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়মাঠ নিজ বাড়ির পাশেই। সেই শহরই এখন ব্যস্ত তাঁকে ঘিরে যে শহরের অলিগলি, বাজার-পাড়া আর রাস্তাঘাট তাঁর চেনা। আগামীকাল রোববার রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথমবারের মতো নিজ মাটি ঠাকুরগাঁও আসছেন। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও জুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। কোথাও চলছে আলোকসজ্জার কাজ, কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের যেন দম ফেলারও সময় নেই। শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে তুলতে দিন-রাত কাজ করে চলেছেন পৌরসভার কর্মীরা। সব মিলিয়ে এলাকার প্রিয় সন্তানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ শহরে বরণ করে নিতে প্রস্তুত ঠাকুরগাঁও। শহরের পথে পথে এখন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগমনের প্রতীক্ষা। প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বাড়তি কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আগামী রবি ও সোমবার সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রীয় এই সফর ঘিরে প্রশাসনের নানা প্রস্তুতির সঙ্গে সাধারণ মানুষের আগ্রহ যেন এর চেয়েও বেশি, এর চেয়েও বেশি আবেগের। কারও কাছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় রাজনীতির সুপরিচিত মুখ, কারও কাছে তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা। আবার ঠাকুরগাঁওয়ের অনেকের কাছে তিনি আজও সেই পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’-নিজ শহরের আপনজন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ শেকড়ের টানে নিজ মাটিতে আসা তাই ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়, এটি একই সঙ্গে গর্ব, আনন্দ, ভালোবাসা আর গভীর আবেগের ক্ষণ। রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো: লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি যাবেন জেলা সার্কিট হাউসে। রাষ্ট্রপতি সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।  এরপর রাষ্ট্রপতি শহরের সেনুয়া পাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন। কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহরের কালীবাড়িতে তাঁর নিজ বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রামের পর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। সংবর্ধনা শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেখানেই তাঁর রাত্রিযাপনের কথা রয়েছে। সফরের দ্বিতীয় দিন রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম করবেন। পরে তিনি সার্কিট হাউসে যাবেন। এরপর হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁর। এদিকে, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সফরের সম্ভাব্য স্থান, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘তিনি শুধু রাষ্ট্রপতি নন, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি নিজের মানুষের কাছে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত। আমরা চাই, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে তাঁকে স্বাগত জানাক।’ জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম আগমন জেলার মানুষের জন্য আনন্দ, গর্ব ও আবেগের বিষয়। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরের প্রতিটি কর্মসূচি, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের চলাচল ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

৩ ঘন্টা আগে
রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৪৩৪ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ৪৩৪ জন গ্রেপ্তার

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে ৪৩৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। একই সময়ে মামলা দায়ের হয়েছে ৪৪টি। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়।  ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পুলিশের রমনা বিভাগ ২৬ জনকে, লালবাগ বিভাগ ৩৩ জনকে, ওয়ারী বিভাগ ৪২ জনকে, মতিঝিল বিভাগ ৫৯ জনকে, তেজগাঁও বিভাগ ৫৯ জনকে, মিরপুর বিভাগ ১৩৬ জনকে, গুলশান বিভাগ ৩৬ জনকে, উত্তরা বিভাগ ৩৬ জনকে ও গোয়েন্দা বিভাগ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।  অভিযানে একটি বিদেশি রিভলবার, ২ রাউন্ড গুলি, ১ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজা, ৩৫৮৯ পিস ইয়াবা, ৯.৪ গ্রাম হেরোইন, ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ২টি বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন, নগদ ১৫৪০ টাকা ও একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।   

৪ ঘন্টা আগে
দুবাইয়ে থাকা সম্পদ নিয়ে ৭৩ বাংলাদেশির তথ্য চায় দুদক

দুবাইয়ে থাকা সম্পদ নিয়ে ৭৩ বাংলাদেশির তথ্য চায় দুদক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে সম্পদ গড়ার অভিযোগে ৭৩ বাংলাদেশির বিষয়ে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তের অংশ হিসেবে এসব ব্যক্তির দুবাইয়ে থাকা সম্পদ, অর্থের উৎস ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের তথ্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছ থেকে চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।দুদক সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের আওতায় ইউএই সরকারের কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট বা এমএলএআর পাঠানো হবে। আন্তর্জাতিক এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি এক দেশ থেকে অন্য দেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চাওয়া যায়।অনুসন্ধানে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল এবং সাবেক পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের নাম রয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কয়েকজন দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনা ও পাম জুমেইরাহতে ফ্ল্যাট বা বাড়ি কিনেছেন। তাদের কয়েকজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসাও পেয়েছেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আখতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য চেয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।নির্বাচন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকেও ৭৩ ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক। এসব তথ্য যাচাই করে পরবর্তী অনুসন্ধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করা হয়েছে।দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে এবং সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমানের সদস্য হিসেবে গঠিত বিশেষ দলটি তদন্ত পরিচালনা করছে। তবে অনুসন্ধান চলমান থাকায় তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের পেশাগত পরিচয় প্রকাশ করেনি দুদক।দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের সম্পদ নিয়ে বর্তমান অনুসন্ধানের পেছনে রয়েছে ২০২৩ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশনা। ওই বছরের ১৬ জানুয়ারি আদালত দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ (সিফোরএডিএস) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্যাক্স অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির মালিকানায় ৯৭২টি সম্পত্তির তথ্য পাওয়া যায়। এসব সম্পত্তির নথিভুক্ত মূল্য ছিল প্রায় ৩১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।২০২২ সালের মে মাসে প্রকাশিত সিফোরএডিএসের গবেষণায় সম্পত্তিগুলোর মূল্য প্রায় ৩১৫ মিলিয়ন ডলার উল্লেখ করা হয়। ওই গবেষণায় আরও বলা হয়, সম্পত্তিগুলোর মধ্যে ৬৪টি দুবাই মেরিনা এবং ১৯টি পাম জুমেইরাহ এলাকায় রয়েছে। বাংলাদেশিদের মালিকানায় অন্তত ১০০টি ভিলা ও পাঁচটি ভবনের তথ্যও উঠে আসে।এ ছাড়া চার থেকে পাঁচজন বাংলাদেশির সঙ্গে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পত্তির যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছিল।

১৮ ঘন্টা আগে
অন্যায়কে প্রশ্রয় নয়, রুখে দাঁড়াতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী

অন্যায়কে প্রশ্রয় নয়, রুখে দাঁড়াতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী

অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, কোনো ধরনের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে পারস্পরিক সৌহার্দ ও সম্প্রীতির মাধ্যমে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।শুক্রবার দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরের শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জন্মাষ্টমীর দিনে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং একে অপরের পাশে থাকা। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমেই সমাজে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।তিনি বলেন, ধর্ম ও বর্ণের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একসঙ্গে থাকার প্রতিজ্ঞা করতে হবে। অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে সৌন্দর্য, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক জন্মাষ্টমীর প্রত্যয়।আফরোজা খানম বলেন, দেশের সব নাগরিকের প্রতি সরকার সমান দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—ভিন্ন ধর্ম হলেও সবার জাতীয় পরিচয় এক, আমরা বাংলাদেশি।নিজ জেলা মানিকগঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এখানকার মানুষ পরস্পরের বন্ধু ও ভাই হিসেবে একে অন্যের পাশে থাকবে। ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে মানিকগঞ্জের মানুষ ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। জেলার মানুষের প্রধান পরিচয় তারা মানিকগঞ্জবাসী।অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মন্ত্রী কালীবাড়ি পূজা উদযাপন কমিটিকে এক লাখ টাকা অনুদান দেন। পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রণব কুমার সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সুনীল কুমার, কালীপদ ঘোষ, অনিল কুমার ও রঞ্জিত কুমার দে।পরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বেউথা মসজিদ প্রাঙ্গণ ও বেউথা-আন্ধারমানিক সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন খাদ্যমন্ত্রী। এ সময় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে দলীয় নেতাকর্মীসহ সবাইকে বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

১৯ ঘন্টা আগে
বালাসীঘাট-বাহাদুরাবাদ সেতু বাস্তবায়ন হবে: বিমানমন্ত্রী

বালাসীঘাট-বাহাদুরাবাদ সেতু বাস্তবায়ন হবে: বিমানমন্ত্রী

নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।  এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলে দেওয়ানগঞ্জের মানুষ সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপজেলা বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিষয়ে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত আরো বলেন, এ আসনের কোনো স্কুল ভবন কাঁচা থাকবে না। সব রাস্তা-ঘাট পাকা করা হবে, প্রয়োজনীয় স্থানে সেতু নির্মাণ করা হবে এবং নদীশাসনের ব্যবস্থা করা হবে। খাল খনন, বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর পাশাপাশি বকশীগঞ্জে শিল্প-কারখানা স্থাপন করা হবে। বাহাদুরাবাদ-বালাসী সেতু নির্মাণের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হবে।মাদক নির্মূল করা হবে এবং ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরি করা হবে। নতুন ট্রেন চালুর ব্যবস্থা করা হবে। ইউনিয়নভিত্তিক মুয়াজ্জিন ও খতিবদের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে দুটি করে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।এ ছাড়া শিক্ষিত বেকার যুবকদের বিনা খরচে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠানোর মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।এসময় জনতার উদ্দেশ্য তিনি  বলেন, ‘আমরা চাই নতুন বাংলাদেশ, তারেক রহমানের বাংলাদেশ। এই নতুন বাংলাদেশ এখনো ভঙ্গুর। দেশকে গড়ে তুলতে হলে আমাদের কিছু সময় দিতে হবে। আপনারা ছয়-এক বছর সময় দিন, এর মধ্যেই সব হবে।’উপজেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

১৯ ঘন্টা আগে
সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে কঠোর অভিযান: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে কঠোর অভিযান: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে র‌্যাব ও ডিজিএফআই যৌথভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।শুক্রবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল ও হাম চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একটি চক্র সরকারি হাসপাতালে আসা রোগীদের বিভ্রান্ত করে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সক্রিয় করা হয়েছে।একই সঙ্গে অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে বলে জানান তিনি। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, জরিমানা এবং অবৈধ প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হচ্ছে। ভুয়া চিকিৎসক কিংবা সনদপ্রাপ্ত নয় এমন টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার করানো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব কার্যক্রম পুরোপুরি কার্যকর করতে সময় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এদিকে হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের চিহ্নিত করে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগের কর্মসূচিতে নানা কারণে অনেক শিশু টিকা নিতে পারেনি। কেউ সময়মতো তথ্য না পাওয়ায়, কেউ অভিভাবকের ব্যস্ততার কারণে, আবার কেউ স্কুলে থাকার কারণে টিকা থেকে বাদ পড়ে।মন্ত্রী জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হলেও সব শিশুকে কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে নতুন করে টিকাদানের বয়সে আসা শিশুরাও রয়েছে। ফলে টিকা না পাওয়া শিশুদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।সিলেটের হাওরাঞ্চলে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চালানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মূল ক্যাম্পেইনের আগে আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।ওসমানী হাসপাতালের ড্রেনেজ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার বিষয়ে মন্ত্রী দ্রুত সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন। আগামী সাত দিনের মধ্যে ড্রেনেজ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন তিনি।দেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকটের কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের তুলনায় দেশে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা এখনও কম। সীমিত জনবল নিয়েই স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।পরিদর্শনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১৯ ঘন্টা আগে
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৪ এএম
সুযোগ পেলে আপনি বাংলাদেশে থাকবেন, নাকি বিদেশে যাবেন?

সুযোগ পেলে আপনি বাংলাদেশে থাকবেন, নাকি বিদেশে যাবেন?

  বাংলাদেশেই থাকব
  বিদেশে যাব
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

সংসদের বিতর্ক রাজপথে নেওয়া গণতন্ত্রের জন্য বাধা: জহির স্বপন

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন জাতীয় সংসদ যখন সন্তোষজনকভাবে কার্যকর রয়েছে, ঠিক সেই সময়ে আন্দোলনের নামে রাজপথে লংমার্চ করার মতো কর্মসূচি সাধারণ মানুষের গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘সংসদীয় রাজনীতিতে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সংসদের বিতর্ককে দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্ত করে।’ রাজধানীর বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (বিলিয়া) মিলনায়তনে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পর্যালোচনা : সুশাসন, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের যৌথ আয়োজন করে ‘সিটিজেন ফোরাম বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ইনিশিয়েটিভস’ (বিসিএআই)। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রকে গতিশীল ও অর্থবহ রাখতে সরকারি দলকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা বিরোধী দলের দায়িত্ব। কিন্তু সংসদীয় বিতর্ককে অহেতুক ও দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়া এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে দেশের সচেতন মহলকে সজাগ থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো কতটা বুঝে এসব করছে তা জানি না, তবে এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নেয়ার জন্য দেশী-বিদেশী নানা অপশক্তি ওঁৎপেতে বসে থাকে।’ সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল্যায়ন তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিগত দুই দশকের ফ্যাসিবাদের চর্চা, ভঙ্গুর সমাজ ব্যবস্থা ও দেউলিয়া অর্থনীতির চরম অচল অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তুলে সরকার নতুন একটি সঠিক গতিমুখ নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে। সঙ্কট এতই গভীর ছিল যে, রাতারাতি জাদুকরী কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়; তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি সুনিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপ নিয়েছে।

লিংক কপি করা হয়েছে!

ফিরেই নতুন ব্যস্ততায় শাকিব খান

ঢালিউডের শীর্ষ তারকা শাকিব খান দুই মাসের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন। তিনি গত মঙ্গলবার ঢাকা পৌঁছান। দীর্ঘ সফর শেষে এই অভিনেতা দেশে ফিরলেও বিশ্রামের সুযোগ খুব একটা পাচ্ছেন না। ব্যস্ততা শাকিবের ক্যারিয়ারে যেন নিত্যসঙ্গী। একদিকে একের পর এক সিনেমার প্রস্তাব, অন্যদিকে নিজের পছন্দের গল্প ও চরিত্র বেছে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে প্রতিনিয়ত আলোচনায় থাকেন তিনি। দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও নিজের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছেন এ অভিনেতা। নতুন কোনো সিনেমায় যুক্ত হওয়ার খবর এলে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় বাড়তি আগ্রহ। গত ২ জুলাই রাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন শাকিব। প্রায় দুই মাসের সফরে ব্যক্তিগত কাজের পাশাপাশি ব্যবসায়িক কিছু দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। নির্ধারিত কাজগুলো শেষ করে দেশে ফেরেন। তবে দেশে ফেরার পর তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে চলচ্চিত্রের ব্যস্ত সময়। নিজের কাজ প্রসঙ্গে শাকিবের ভাবনাও বরাবরের মতো পরিষ্কার। তিনি মনে করেন, দর্শকের প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজের মান ধরে রাখাটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।  তাঁর ভাষায়, ‘আমি সব সময় চেষ্টা করি দর্শককে ভালো কিছু দেওয়ার। একটি সিনেমায় অভিনয়ের আগে গল্প, চরিত্র ও নির্মাণ–সবকিছু নিয়ে ভাবি। সামনে যে কাজগুলো করছি, সেগুলো নিয়েও আমার অনেক প্রত্যাশা আছে। আশা করছি, দর্শক নতুন কাজগুলোও পছন্দ করবেন।’ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে নতুন একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবর দিয়েছিলেন শাকিব। মেহেদী হাসান হৃদয়ের পরিচালনায় নির্মিতব্য সিনেমাটিতে অভিনয় করবেন তিনি। শিগগির সিনেমাটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে দেশে ফিরে নতুন চরিত্র ও গল্প নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করতে হচ্ছে তাঁকে। তবে নতুন সিনেমায় ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগে শেষ করতে হবে পুরোনো একটি কাজ। আগামী সপ্তাহে ‘সোলজার’ সিনেমার বাকি থাকা কয়েকটি দৃশ্যের শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে শাকিবের। এই কাজ শেষ করে নতুন সিনেমার শুটিংয়ে যোগ দেবেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাবনায়ও রয়েছে কাজের ধারাবাহিকতার বিষয়টি। শাকিব বলেন, ‘দেশে ফিরেছি, এখন মূল মনোযোগ সিনেমার কাজে। সামনে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। একটার পর একটা কাজ শেষ করতে চাই। তবে কাজের মানের সঙ্গে কোনো আপস করতে চাই না।’ সাম্প্রতিক সময়ে শাকিব খানের ক্যারিয়ারে এসেছে নতুন গতি। ‘প্রিয়তমা’, ‘তুফান’সহ একাধিক সিনেমা তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। ফলে নতুন সিনেমা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এখন আগের চেয়ে বেশি সতর্ক এই তারকা।  দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শাকিবের জন্য অবশ্য নতুন কিছু নয়। সিনেমার শুটিং, পারিবারিক প্রয়োজন ও ব্যক্তিগত নানা কাজে একাধিকবার সেখানে অবস্থান করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী হওয়ায় বছরের নির্দিষ্ট একটি সময় তাঁকে দেশটিতে অবস্থান করতে হয়। এবারের সফরেও সে বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। তবে সফর শেষে দেশে ফেরার পর এখন তাঁর সামনে শুধু কাজের ব্যস্ততা। নতুন গল্প, নতুন চরিত্র আর নতুন নির্মাতাদের সঙ্গে কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে কতটা নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পারেন–এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করবে যেসব খাবার

ক্যালসিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ উপাদান। রক্ত সঞ্চালন, পেশি সংকোচন ও স্নায়ুর কার্যকারিতা বজায় রাখতেও এর ভূমিকা অপরিসীম। সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন হয় (যা বয়স ও শারীরিক অবস্থাবেধে বাড়তে পারে)। অনেকেই ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস হিসেবে দুধের কথা ভাবেন; তবে যাঁরা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট বা দুধ খেতে পারেন না, তাঁদের জন্য প্রকৃতিতে রয়েছে ক্যালসিয়ামে ভরপুর বহু বিকল্প খাবার।১. রাগি (ফিঙ্গার মিলেট)রাগি বা ফিঙ্গার মিলেট ক্যালসিয়ামের একটি অনবদ্য উদ্ভিজ্জ উৎস। দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলতে চাইলে এটি দারুণ বিকল্প। রুটি, দোসা, জাউ (পোরিজ) কিংবা খিচুড়ি বানিয়ে সহজেই এটি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়।২. সাদা ও কালো তিলপ্রচুর স্বাস্থ্যকর চর্বির পাশাপাশি তিলে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ক্যালসিয়াম। সালাদ, চাটনি, মিষ্টান্ন (লাড্ডু) বা বিভিন্ন রান্নায় টপিং হিসেবে তিল ব্যবহার করা যায়। তবে তিলে ক্যালোরির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।৩. টোফু ও সয়া-ভিত্তিক খাবারযাঁরা দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার সহ্য করতে পারেন না, তাঁদের জন্য সয়াবিনের দুধ থেকে তৈরি টোফু এবং সয়া-ভিত্তিক খাবার খুবই পুষ্টিকর বিকল্প। তবে একেক ব্র্যান্ডের টোফুতে ক্যালসিয়ামের মাত্রা ভিন্ন হতে পারে, তাই প্যাকেটের গায়ে পুষ্টি তথ্যের লেবেল দেখে কেনা বুদ্ধিমানের কাজ।৪. শাকসবজি ও সরিষা পাতাসবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি যেমন—কপি, বক চয়, ব্রোকলি ও সরিষা পাতায় প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের তাজা শাকসবজি খেলে শরীরে ক্যালসিয়ামের স্বাভাবিক ঘাটতি পূরণ হয়।৫. পালং শাক পালং শাকে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকলেও এতে 'অক্সালেট' নামক একটি উপাদানের মাত্রা বেশি থাকে, যা শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করে। তাই শরীর সুস্থ রাখতে কেবল পালং শাকের ওপর ভরসা না করে অন্যান্য ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।৬. কাঁটাসহ ছোট মাছছোট মাছ (যা কাঁটাসহ চিবিয়ে খাওয়া যায়) ক্যালসিয়ামের অতুলনীয় উৎস। নিয়মিত দেশি ছোট মাছ খেলে ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট ছাড়াই রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বজায় রাখা সম্ভব।৭. বাদামবিশেষ করে কাঠবাদামসহ অন্যান্য ড্রাই ফ্রুটস ও বাদামে ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি নানা ধরনের প্রয়োজনীয় অসম্পৃক্ত চর্বি ও খনিজ উপাদান থাকে। নিরামিষাশীদের জন্য বাদাম ক্যালসিয়ামের একটি আদর্শ উৎস।বিশেষজ্ঞরা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, কেবল উচ্চ ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খেলেই হবে না; তা শরীরে সঠিকভাবে শোষিত হতে ভিটামিন ডি (Vitamin D)-এর উপস্থিতি অপরিহার্য। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে কিছুটা সময় সূর্যালোক গ্রহণ করা এবং খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।

সিরাজগঞ্জে আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়া সেই আসামি গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জে আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়া সেই আসামি গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানা থেকে পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া চুরির মামলার আসামি আব্দুল মমিন বড় গেদাকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল মমিন বড় গেদা সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের কোবদাসপাড়ার মহল্লার আব্দুস সবুরের ছেলে।শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে সদর থানা পুলিশ ও জেলা ডিএসবি শাখার যৌথ অভিযানে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলি বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাজতখানার ভেতরে থাকা আরেক আসামির হাতকড়া খোলার সময় আব্দুল মোমিন গেটে দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে যান। পরে আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় গিয়ে গ্রিল না থাকার সুযোগে নিচে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। ঘটনার পর তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। দুই দিন পর শনিবার দুপুরে যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলার হাজতখানা থেকে পালিয়ে যান আব্দুল মমিন @ বড় গেদা। 

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream