দেশের সন্তানদের ভালো অর্জনকে স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে দেশের জন্য যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য বয়ে আনবে, তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অর্জন শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া হাফেজদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্যও গৌরবের বিষয়।হাফেজদের সম্মাননা ও উৎসাহ দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সন্তানরা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে ভালো কোনো অর্জন করলে সরকার রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেটির স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে। মেধাবীদের উৎসাহ দেওয়া এবং তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা গেলে এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাশাপাশি পুরো দেশ ও দেশের মানুষ পাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।সরকার গঠনের পর থেকেই যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানানোও সেই উদ্যোগের অংশ।অনুষ্ঠানে হাফেজদের শিক্ষকরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভাব্য সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেদের, দেশের এবং দেশের মানুষের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনুক—সরকার সেটিই চায়।দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। কাজের ধরন ভিন্ন হলেও দেশের মানুষের শান্তি ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করাই সবার অভিন্ন লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।সরকারের জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু করার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করতে চায়।অনুষ্ঠানে বিজয়ী হাফেজদের বই উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রতিযোগিতায় যে সূরাগুলো তিলাওয়াত করে তারা পুরস্কার অর্জন করেছেন, সেগুলোর আয়াতও তাদের কণ্ঠে শোনেন তিনি।মক্কায় অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। এতে বাংলাদেশের হাফেজ নূর উদ্দিন জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। একই বিভাগে ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াতে তৃতীয় হন হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী। ১৫ পারা বিভাগে হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান এবং ৩০ পারা বিভাগে হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং মাওলানা রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর ও সাজেদা খাতুনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
গত শাসনামলে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এ দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন ও সংবিধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ৪ হাজার ৫০০-রও বেশি ভিন্নমতাবলম্বী বা রাজনৈতিক কর্মী বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।’ আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক আইনের শাসনের জন্য লড়াই করা প্রায় ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছয় মিলিয়নের বেশি মানুষ রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এসব মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ের প্রসঙ্গ তুলে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ দেখিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে—এমন কোনো অভিযোগও তাঁরা পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে সংবিধান আমাদের পথ দেখানোর মূল ভিত্তি। এভাবেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৭৮৭ সালের সেপ্টেম্বরে গৃহীত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের শুরুতে লেখা হয়েছিল ‘উই, দ্য পিপল অব আমেরিকা’। আর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধানেও লেখা হয়েছে ‘উই, দ্য পিপল অব বাংলাদেশ’। তাঁর মতে, দুই সংবিধানের মধ্যে এটি একটি মিল। মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মূল ভিত্তি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা। স্বাধীনতার মধ্যে মতপ্রকাশ, সমাবেশ, চলাচল ও সংগঠনের স্বাধীনতাও রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানও কিছু মৌলিক ভিত্তি ও কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারণার মিল রয়েছে। তিনি বলেন, ১৮০৩ সালে মারবারি বনাম ম্যাডিসন মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বিচারিক পর্যালোচনার নীতি প্রয়োগ করে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনেও সুপ্রিম কোর্ট একই ধরনের এখতিয়ার প্রয়োগ করছে। তবে কখনো কখনো এ এখতিয়ার অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগও হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের আগে জন লক, টমাস হবস ও মন্টেস্কুর রাজনৈতিক তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা ও সেগুলো অনুসরণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এসব তত্ত্বের প্রভাব রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের সময়ও তীব্র আলোচনা ছিল। সংবিধান নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। বাংলাদেশের সংবিধান নিয়েও শুধু আইনজ্ঞদের মধ্যে নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানেও আলোচনা হয়। সংবিধানের বিভিন্ন বিধান, সংশোধনী ও প্রয়োগ নিয়ে সাধারণ মানুষের এই আলোচনা তাঁদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যখন প্রয়োজনের মধ্যে থাকে তখন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পাশে থাকা, কর্তৃত্ববাদিতার বিরুদ্ধে অবস্থান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা এবং নির্বিচার গ্রেপ্তার ও আটকানোর বিরুদ্ধে কথা বলা —এসব বিষয় তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। একই সঙ্গে সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতার পক্ষেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দেশে আরও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন করেছে। আইনের কিছু ধারা নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইনে ‘ওএফসিএটি’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের বাছাই কমিটিতে প্রেসক্লাব ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের বিধান রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, অন্যান্য কিছু দেশের তুলনায় বাংলাদেশের বাছাই প্রক্রিয়ায় ভিন্ন ধরনের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে। এখানে বাছাই কমিটির প্রধান হিসেবে স্পিকার থাকছেন এবং বিরোধী দলের নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সুশাসন বর্তমান সময়ে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে অর্থনীতি ও আইনের শাসনের ক্ষেত্রে ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, এসব অপরাধের বিচার সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘কোনো ব্যক্তি আমাদের লক্ষ্য নয়, আমাদের লক্ষ্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পন্ন করা’—বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এসব অপরাধের সঙ্গে রাজনৈতিক নির্বাহীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। চলমান বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁদের হাতে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং এসব প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণিত হবে বলে তিনি মনে করেন। অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ১৭৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের সময় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও মতপার্থক্য ছিল। তাঁর মতে, সংবিধানের শক্তি সবাই সব বিষয়ে একমত হওয়ায় নয়; বরং মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনার একটি টেকসই কাঠামো তৈরি করতে পারার মধ্যে। তিনি ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক সংশোধনের সুযোগকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের স্থায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করেন।
ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ: হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে রোগীর ভিড়, ১৫ দিনেই ৬৭ মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক:ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ দ্রুত বাড়ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার বাইরে মেঝে ও বারান্দায় রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও একটি শয্যায় একাধিক রোগীকে রাখার ঘটনাও ঘটছে। এর মধ্যেই এক দিনে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ডেঙ্গুতে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা আগস্ট মাসের পুরো মাসের মৃত্যুকেও ছাড়িয়ে গেছে।সংক্রমণের চিত্র ও মৃত্যুর মিছিলস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জন।চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৫ হাজার চিকিৎসাধীন রোগীর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৭১ জন, দক্ষিণ সিটিতে ১৩২ জন এবং ঢাকা বিভাগে ৩৮৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ঢাকার বাইরে খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় হাসপাতালেও রোগীর চাপ লাগাতার বাড়ছে।হাসপাতালের সংকট ও চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিতরাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৬০টি নির্ধারিত শয্যার বিপরীতে সম্প্রতি ১৮৭ জন রোগী ভর্তি থাকতে দেখা গেছে। শয্যাসংকট এতটাই তীব্র যে, বাধ্য হয়ে রোগীদের মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরেও সিট না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মেঝেতে রেখে প্রিয়জনের চিকিৎসা করাচ্ছেন স্বজনরা। চিকিৎসক ও নার্সদের ওপরও তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত কাজের চাপ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালেও রোগী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কাকীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার সতর্ক করে জানিয়েছেন, তাদের পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী আগামী অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তিনি জানান, এডিস মশা এখন শুধু দিনে নয়, রাতেও কামড়াতে পারে। তাই মশার আচরণ ও প্রজননস্থল ধ্বংসের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই করা সহজ নয়। তবে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে (উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে) চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমে রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমানোর চেষ্টা চলছে।
একাদশ শ্রেণির ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, ক্লাস শুরু ২৩ সেপ্টেম্বর
নিজস্ব প্রতিবেদক:২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রথম পর্যায়ের ফল প্রকাশিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আটটায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইট (https://xiclassadmission.gov.bd) থেকে তাদের ফলাফল জানতে পারছেন।আবেদনের চিত্র ও আসনের তথ্যআন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৯৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন পাঁচটি থেকে সর্বোচ্চ ১০টি পর্যন্ত কলেজ পছন্দ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। সারা দেশের কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। সে হিসেবে এবার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আসন সীমিত থাকায় জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থী তাদের প্রথম পছন্দের প্রতিষ্ঠানে সুযোগ নাও পেতে পারে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে এই ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে।গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও সময়সূচিফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিতকরণসহ পরবর্তী ধাপগুলোর সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে:ভর্তি নিশ্চিতকরণ ও ফি প্রদান: আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর রাত আটটার মধ্যে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে শিক্ষার্থীর প্রাথমিক নির্বাচন ও আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে।মাইগ্রেশন বা পছন্দক্রম পরিবর্তন: শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশিত হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত আটটায়।মূল ভর্তি কার্যক্রম: কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের মূল ভর্তি কার্যক্রম চলবে আগামী ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।ক্লাস শুরু: সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হবে।যেভাবে ফল দেখতে হবে১. প্রথমে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (https://xiclassadmission.gov.bd) প্রবেশ করতে হবে।২. হোম পেজে থাকা ‘ভিউ রেজাল্ট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।৩. এরপর এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নাম, পাসের সাল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।৪. সবশেষে স্ক্রিনে প্রদর্শিত ক্যাপচা কোড দিয়ে ‘সাবমিট’ করলেই শিক্ষার্থী কোন কলেজের জন্য নির্বাচিত হয়েছে, তা স্ক্রিনে ভেসে উঠবে।
"অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর" স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের বক্তব্য কি সমর্থন করেন?
ছাত্রদল নেত্রীকে নিয়ে তরুণদের আপত্তিকর ভিডিও, বিচার না পেলে পদত্যাগের ঘোষণা!
ছাত্রদল নেত্রীকে নিয়ে তরুণদের আপত্তিকর ভিডিও, বিচার না পেলে পদত্যাগের ঘোষণা!
ভোগডাবুড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এখন ছাগল ও হাঁসের খামার
কোটা আন্দোলনে রাশেদ খাঁনকে নি*র্যা*ত*নের অভিযোগ তদন্তে ট্রাইব্যুনাল
সাত দফা দাবিতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ১১ দলের রংপুর অভিমুখে লংমার্চ: মিয়া গোলাম পরওয়ার
প্রেমের নামে অর্ধকোটি টাকার প্রতারণা
মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের সাত জনের মৃ''ত্যুদণ্ড
এস এম ফরহাদকে দেখলে আমার মিনি সাদ্দাম মনে হয়: আমানউল্লাহ আমান