জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন সময়কাল জুড়ে কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যা, উসকানি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে মামলার অন্য তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।রায়ে পলাতক চার আসামির প্রত্যেকের অর্ধেকেরও বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।আসামিদের বিরুদ্ধে আনা তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগই আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে:২০২৪ সালের ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন এবং ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে সন্ত্রাসী ট্যাগ দিয়ে হত্যার নির্দেশ ও প্ররোচনা প্রদান।২৭ জুলাই হানিফের নির্দেশে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী কার্যালয়ে বৈঠক ডেকে আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগ ও সশস্ত্র আক্রমণের নির্দেশ প্রদান।৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিনে নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে কুষ্টিয়া শহরে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র ক্যাডাররা অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে। এ হামলায় আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজী ও ইউসুফ শেখ—এই ৬ জন ছাত্র-জনতা শহীদ হন।প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মামলাটির আইনি সময়রেখা ছিল নিম্নরূপ:২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তদন্ত শুরু হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর ২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করা হয়।৮ ডিসেম্বর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়ে চলতি ২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।পরবর্তীতে নতুন আলামত ও সাক্ষ্য নিয়ে পুনরায় শুনানির পর ৭ অক্টোবর ২০২৬ যুক্তিতর্ক সমাপ্ত হলে রায় অপেক্ষমাণ (CAV) রাখা হয়। গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন।আসামিরা বর্তমানে পলাতক থাকলেও গ্রেপ্তারের পর বা আইনানুগ আত্মসমর্পণের পরই তাদের সাজা কার্যকর করা হবে।
তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্টের মরদেহ
রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে নিখোঁজের এক দিন পর বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (৩৬) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ।গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নৌপুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন।পুলিশ সূত্র ও উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান, গতকাল বিকেলে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বর থেকে খবর পেয়ে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নদী থেকে ভাসমান মরদেহটি ডাঙায় নিয়ে আসে।মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় নিহতের পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা, হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। উক্ত সচল আইফোনের সূত্র ধরেই তাঁর নিখোঁজ ও পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ।নিহত কে এম তাহসিফ সাউরি বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট। তাঁর বাবার নাম কে এম এনায়েতুর। তিনি রাজধানীর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের ১৪/বি নম্বর সড়কের বাসিন্দা ছিলেন।নিহতের স্বজন ও স্বজনদের খবর দেওয়ার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে হস্তান্তর করা হয়েছে।পুলিশ কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন জানান, সাউরির মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট কিছু বলা যাচ্ছে না। এটি কোনো দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ময়নাতদন্তের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
বিশেষ ফ্লাইটে আজ রাতে ঢাকায় ফিরছেন তারেক রহমান
জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। টোকিওর হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার অবতরণের কথা রয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।সফরকালে কৃষি, অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি ও শিল্পের মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।এ ছাড়া সফরের ব্যস্ত সূচির মধ্যে জাপানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং ভবিষ্যৎ কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদারের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পাশাপাশি তিনি জাপানি বিনিয়োগকারী ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট’-এ অংশ নিয়ে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের নানা সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। সফরের শেষ ভাগে টোকিওতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেন তিনি।
ঢাকার বাতাস কতটা দূষিত জানাল আইকিউএয়ার
ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ছিল ১৪১। এই মান অনুযায়ী, ঢাকার বাতাস সংবেদনশীল ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যের জন্য অস্বাস্থ্যকর।সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ২৮৭ স্কোর নিয়ে শীর্ষে ছিল পাকিস্তানের লাহোর।তালিকায় ২২২ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। আর ১৯৬ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেক। অন্যদিকে, বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১১তম। একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তার লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক জানিয়ে থাকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। আর বায়ুর মান ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয়। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে বায়ু ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করা না গেলে মৃত্যুর মিছিল থামানো যাবে না। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান: আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান: আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন
স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই: নাহিদ ইসলাম
আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, ফ্যাসিস্টদের ক্লাব: শফিকুর রহমান
ক্ষমতাসীন সরকার পূর্বের অবস্থায় ফিরতে চায়: গোলাম পরওয়ার
গুম, ক্রসফায়ার ও ফ্যাসিবাদ নিয়ে উত্তাল বক্তব্য
সালাহউদ্দিন আহমেদের খায়েস হয় উপরাষ্ট্রপতি বা উপপ্রধানমন্ত্রী হবেন: সারোয়ার তুষার
ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরতে চায় যুক্তরাজ্য? যা বললেন অ্যান্ডি বার্নহাম