রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
সর্বশেষ

রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। তবে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া গেলে আগামী ২১ অক্টোবর থেকে দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রিয়াদগামী ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রিয়াদ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়ার পর এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ সংক্রান্ত তথ্য যাত্রীদের যথাসময়ে জানানো হবে।অন্যদিকে, সৌদি আরবের জেদ্দা ও মদিনা রুটে বিমানের ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা এ দুটি বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন।যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামলাতে মদিনা রুটে বেশি যাত্রী বহনে সক্ষম উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে বিমান। আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এ ব্যবস্থা চালু থাকবে। এরপর ১৯ অক্টোবর থেকে এ রুটে আগের মতো বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ চলবে।এ ছাড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, ফ্লাইট চলাচল ও সময়সূচি নিয়ে পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য যথাসময়ে জানানো হবে। টিকিট, বুকিং ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমানের বিক্রয় কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

ইনানীর ওই রিসোর্ট ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল গত জুনে: ফায়ার সার্ভিস

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ‘টুপটুপ রিসোর্ট’ ফায়ার সার্ভিসের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই চলছিল বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। তিনি বলেন, গত জুনেই পরিদর্শনের পর রিসোর্টটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু সেই সতর্কতা উপেক্ষা করেই রিসোর্টটি অবৈধভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর কাজী আলাউদ্দীন রোডে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক এ তথ্য জানান। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনিরাপত্তাবিষয়ক প্রস্তুতি তুলে ধরতে মূলত এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন কাঠের তৈরি ওই রিসোর্টে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বেলা দেড়টা পর্যন্ত রিসোর্টটি থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় দগ্ধ ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেন, তিনতলা কাঠের তৈরি এই রিসোর্টের নিচতলায় রেস্তোরাঁ ছিল। সেখানে খাবার তৈরি করা হতো। আর দোতলা ও তিনতলায় ছিল পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা। তবে ফায়ার সার্ভিসের নজরদারি ও বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির কোনো অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছিল না। সুলতানুল আফরীন জানান, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। দুর্ঘটনাস্থল থেকে নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশনের দূরত্ব ছিল প্রায় ২২ কিলোমিটার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পরে তা পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়। কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ দিয়ে তৈরি রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা ও বৈধতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নোটিশের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে নিরাপত্তাবিষয়ক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে। সামনে শুষ্ক মৌসুমে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে উল্লেখ করে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। আগুনের সূত্রপাত প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি নোটিশ দেওয়ার পরও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চালু থাকা এবং দেশজুড়ে এ ধরনের রিসোর্টের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের বিদ্যমান আইন, নজরদারির সীমাবদ্ধতা ও করণীয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। পুরান ঢাকায় ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ড, অনুমোদনহীন কারখানা, গুদাম ও বিস্ফোরক পদার্থের ঝুঁকি নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার সরু রাস্তা এবং ভবনগুলোর পারস্পরিক দূরত্বের অভাব ফায়ার সার্ভিসের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এর ফলে অগ্নিনির্বাপণকারী ভারী গাড়ি ও সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড ও সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। পুরোনো বসতিগুলোতে রাতারাতি সব নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। নতুন ভবনের ক্ষেত্রে নিয়ম মানতে বারবার সচেতন করা হলেও অনেকেই তা মানছেন না। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, ঘিঞ্জি ও সরু রাস্তায় দ্রুত পৌঁছাতে বিশেষ ধরনের তিন চাকার যান ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলে করে হোস পাইপ নিয়ে গিয়ে আশপাশের ভবনের পানির আধারের (রিজার্ভার) সঙ্গে যুক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানো যায় কি না, তা নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।

সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ স্পট পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩টি স্পট আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা ছাড়াও মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাতও ঘুরে দেখেন তিনি। শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে পরিদর্শন শুরু করে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সেবার মান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী প্রথমে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এরপর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ও মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে যান। পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার এবং সরকারি বাংলা কলেজ ঘুরে দেখেন। পরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে যান তিনি। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা ও বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। এ ছাড়া ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে বিভিন্ন স্থানের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের সময় দেন। এর আগে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী পরিদর্শন করে হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেন তিনি।  পরিদর্শনের একপর্যায়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ওই চিকিৎসকের কক্ষও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়  এর বাইরে মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাথ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন। আকস্মিক এই পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিডি-প্রতিদিন/বিএম

চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে তারেক রহমানের কঠোর অবস্থান এবং সুশাসনের রূপরেখা

আমাদের রাজনীতিতে দীর্ঘকাল ধরে শিকড় গেড়ে বসা চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং অপরাধমূলক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরকার ও দলের প্রধানের আসন থেকে যে নজিরবিহীন ও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে, তা এ দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত হতাশার মাঝে এক ফালি স্বস্তির আলো হয়ে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সুনির্দিষ্ট ও আপসহীন নির্দেশনা দিয়েছেন, তা কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচার ফিরিয়ে আনার ঘোষণা নয়; এটি এক নতুন ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যে আর পার পাবে না এবং সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় অপরাধীদের প্রশ্রয় না দিয়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখবেন-এই বার্তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মোড় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।   রবিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারদলীয় সদস্যদের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাড়ে তিন ঘণ্টার ওই বৈঠকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সরকারি কার্যক্রমের জবাবদিহি, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা এবং সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলা এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, বিএনপিতে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের কোনো স্থান নেই। বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি গণমাধ্যমকে জানান যে, দলের নাম ব্যবহার করে অন্যায় করে কেউ পার পাবে না-এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সুনির্দিষ্টভাবে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার চাঁদাবাজ ও দখলদারদের নিয়ন্ত্রণের কড়া নির্দেশ দেওয়া হলো। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে বলেন, দলের কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাকে প্রশ্রয় না দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান সার্বিক পরিস্থিতি ও জবাবদিহির বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।   প্রধানমন্ত্রী তিনি মুখে নয়, নিজের কাজ ও আচরণের মাধ্যমে প্রতিমুহূর্তে প্রমাণ করে চলেছেন যে, তিনি এ দেশকে ও দেশের মানুষকে কতটা ভালোবাসেন। এর আগেও তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, দেশের সর্বত্র দুর্নীতি ও জঞ্জালের পাহাড় জমেছে এবং দেশ ও জাতির উন্নয়নের স্বার্থে তিনি সেই পাহাড় ভেঙে চুরমার করে দিতে চান। মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একজন নারী সংসদ সদস্যকে সরাসরি পদ থেকে অপসারণ করার ঘটনা প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল মুখের বুলি নয়, কাজের মাধ্যমেই জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করছেন।   চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতে হলে শুধু ‘লেজ ধরে টানাটানি’ করলে চলবে না, সোজা ‘মাথা ধরে টান’ দিতে হবে। আমাদের দেশে দীর্ঘকাল ধরে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর দু-একজন চুনোপুঁটি বা স্থানীয় মাস্তানকে গ্রেপ্তার করে কিংবা দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে দায়সারা কাজ করার সংস্কৃতি চলে আসছে। কিন্তু এই ছোট অপরাধীদের পেছনে যে শক্তিশালী সিন্ডিকেট এবং রাজনৈতিক তোষামোদির চক্র কাজ করে, তাদের গায়ে হাত না দিলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। রাজনীতি যখন জনসেবার পরিবর্তে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়, তখন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা চাঁদাবাজিকে নিজেদের ‘অধিকার’ বলে মনে করতে শুরু করে। এই চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্জিত কালো টাকা অবৈধ ক্ষমতার নানা সিঁড়ি বেয়ে বহুদূর পর্যন্ত প্রবাহিত হয় এবং ওপরতলা থেকে আসা সবুজ সংকেত মাঠপর্যায়ের অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তোলে।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার ঠিক সেই মূল শিকড় বা মাথাতেই হাত দিয়েছেন। সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি মূলত ক্ষমতার মূল স্রোত থেকে অপরাধের উচ্ছিষ্টভোগীদের বিচ্ছিন্ন করার মহড়া শুরু করেছেন। সংসদ সদস্যরা যদি তাঁদের প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন, তবে অপরাধীদের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়তে বাধ্য।   চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি-একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থাকে দুর্বল করে দেওয়ার জন্য এসব অপরাধই যথেষ্ট। সাধারণ মানুষ যখন নিজের উপার্জন, ব্যবসা, জমি কিংবা নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটায়, তখন উন্নয়নের বড় বড় প্রতিশ্রুতিও তাদের কাছে অর্থহীন হয়ে পড়ে। একজন ব্যবসায়ী নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারবেন কি না, একজন কৃষক তাঁর জমি ও ফসলের ন্যায্য অধিকার ভোগ করতে পারবেন কি না, একজন সাধারণ নাগরিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে নিরাপদ থাকতে পারবেন কি না-এসব প্রশ্নের উত্তরেই নির্ধারিত হয় একটি সরকার মানুষের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য।   এমন বাস্তবতায় চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর অবস্থান এবং সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি তাঁর সুস্পষ্ট নির্দেশনা নিঃসন্দেহে জনমনে স্বস্তি ও প্রত্যাশা জাগানোর মতো একটি বার্তা। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্ব করে পার পাবে না, বিএনপিতে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের কোনো স্থান নেই-প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়কে ব্যবহার করে অপরাধ করার প্রবণতা বন্ধ করতে না পারলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কার্যকর করা কঠিন।   জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী যে বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন, তার মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সরকারি কার্যক্রমের জবাবদিহি এবং জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকার প্রতি দায়িত্বশীলতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই নির্দেশনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াইকে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হিসেবে না দেখে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দায়িত্বের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে। একজন সংসদ সদস্য কেবল আইন প্রণয়নের জন্য নির্বাচিত হন না; তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশারও একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি। তাঁর এলাকায় দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তিনি নীরব থাকতে পারেন না। অপরাধী নিজের দলের লোক হলেও তাঁকে প্রশ্রয় না দেওয়া, অভিযোগ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা তাঁর দায়িত্বের অংশ।   বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই দায়িত্বের গুরুত্ব অপরিসীম। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা দাবি, সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি দখল এবং স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অভিযোগ জনপরিসরে আলোচিত হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অপরাধ সংঘটনের যে ঝুঁকি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে বারবার সামনে এসেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সরকার পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থাকে, রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আসবে। মানুষ শুধু নতুন মুখ বা নতুন নেতৃত্ব দেখতে চায় না; তারা চায় দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা, ব্যবসায় স্বস্তি, সম্পত্তির নিশ্চয়তা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং ন্যায়বিচারের বাস্তব অভিজ্ঞতা। কোনো ব্যবসায়ীকে যদি দোকান চালাতে গিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কারও অন্যায় দাবির মুখোমুখি হতে হয়, কোনো জমির মালিক যদি প্রভাবশালীদের কারণে নিজের সম্পত্তি নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, কিংবা কোনো সাধারণ মানুষ যদি অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিশোধের আশঙ্কা করেন, তাহলে সেই বাস্তবতায় সুশাসনের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে বলা যায় না।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে যে অবস্থান ঘোষণা করেছেন, সেটিকে কেবল একটি দলীয় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখলে এর তাৎপর্য পুরোপুরি উপলব্ধি করা যাবে না। এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সেই পরিবর্তন কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করবে ঘোষণার পরবর্তী পদক্ষেপ, অপরাধের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত আইন প্রয়োগের ওপর।   তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হতে পারে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সন্তান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহনকারী হিসেবে তাঁর সামনে যেমন ঐতিহাসিক প্রত্যাশা রয়েছে, তেমনি রয়েছে সেই প্রত্যাশার যথার্থতা প্রমাণের দায়িত্বও। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য কিংবা নির্বাচনী বিজয় একজন নেতাকে মানুষের আস্থা অর্জনের সুযোগ দিতে পারে; কিন্তু সেই আস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয় কাজের মাধ্যমে, বিশেষ করে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে।   প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সাফল্য তাই শুধু সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তাঁর নেতৃত্ব কতটা কার্যকর, তার একটি বড় মাপকাঠি হবে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের অপরাধ থেকে দূরে রাখা এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তিনি সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেছেন-এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এখন দেখতে হবে, সেই সতর্কবার্তা মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকর হয় এবং অপরাধের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতারা কী ভূমিকা পালন করেন।   বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণ করা কোনো সহজ কাজ নয়। কারণ, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যবসায়িক স্বার্থ, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত আনুগত্যের মধ্যে কখনো কখনো এমন সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা অপরাধের অভিযোগ তদন্ত ও বিচারকে জটিল করে তোলে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিকে রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখার উপায় হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। আবার কোথাও প্রশাসনের কর্মকর্তা কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপরও স্থানীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কেবল মৌখিক নির্দেশনা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি, অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা, স্বাধীন তদন্ত এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃশ্যমান শাস্তি।   এখানে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় নজর রাখতে বলেছেন। কিন্তু এই নজরদারির অর্থ হওয়া উচিত অপরাধ প্রতিরোধে সহযোগিতা করা, প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দেওয়া এবং নাগরিকদের অভিযোগ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কোনো সংসদ সদস্যের কাজ হবে না ব্যক্তিগতভাবে কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা কিংবা প্রশাসনকে আইনবহির্ভূত নির্দেশ দেওয়া। একইভাবে, প্রশাসনের কর্মকর্তারাও জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে নয়, আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন। সুশাসনের জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় যেমন জরুরি, তেমনি একে অপরের বৈধ এখতিয়ার ও স্বাধীনতার প্রতি সম্মানও অপরিহার্য।   প্রধানমন্ত্রী নিজেও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রিয় ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমর্থন দেওয়ার এবং স্বজনপ্রীতি পরিহারের নির্দেশ দিয়েছেন বলে বৈঠক শেষে জানানো হয়েছে। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রকৃত অর্থে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচিত হতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কারণ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা কিংবা সিটি করপোরেশনের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা না থাকলে নাগরিক সেবা ব্যাহত হয়; আর জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে পেশিশক্তি, অর্থের প্রভাব কিংবা রাজনৈতিক আনুগত্য প্রাধান্য পেলে স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহি দুর্বল হয়ে পড়ে। সুতরাং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি হবে তৃণমূল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক চর্চা, নেতৃত্বের যোগ্যতা এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। প্রধানমন্ত্রী যদি সত্যিকার অর্থে স্বজনপ্রীতিমুক্ত প্রার্থী বাছাই, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করা এবং জনগণের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে পারেন, তাহলে তা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে এই অঙ্গীকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করবে ক্ষমতাসীন দলের পছন্দের প্রার্থীরাও একই নিয়মের আওতায় থাকছেন কি না, তার ওপর।   চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অর্থনীতি। বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানমালিক, পরিবহনসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, নির্মাণ ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সেবা খাতের মানুষ যদি অবৈধ আর্থিক দাবির মুখে পড়েন, তাহলে তাঁদের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়। এই ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম, সেবার মূল্য কিংবা কর্মসংস্থানের সুযোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিনিয়োগকারীরাও এমন পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে অনাগ্রহী হতে পারেন, যেখানে সম্পত্তির নিরাপত্তা এবং ব্যবসা পরিচালনার নিশ্চয়তা প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব প্রতিরোধ শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, বাজারের স্থিতিশীলতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও পূর্বশর্ত।   সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে আরও কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ জানানোর জন্য সহজলভ্য ও নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। অভিযোগকারীর পরিচয় ও নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ পৌঁছানোর পর তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে যথাযথ তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলা প্রত্যাহার, তদন্ত বাধাগ্রস্ত করা কিংবা অপরাধীকে রক্ষা করার চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে কতগুলো অভিযোগ তদন্ত হলো, কতগুলো প্রমাণিত হলো এবং কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলো-এসব বিষয়ে নিয়মিত ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রকাশ করলে সরকারি অঙ্গীকারের বাস্তব অগ্রগতি মূল্যায়ন করা সহজ হবে।   মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও দখলসংক্রান্ত অভিযোগের পর সংরক্ষিত আসনের একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার যে তথ্য আলোচনায় এসেছে, সেটিও দলীয় জবাবদিহির প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য। তবে এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা, অভিযোগের প্রকৃতি এবং গৃহীত ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা উচিত। কোনো ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য তখনই স্থায়ী হয়, যখন ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে নেওয়া ব্যবস্থা একটি ধারাবাহিক নীতিতে পরিণত হয় এবং একই ধরনের অভিযোগে অন্যদের ক্ষেত্রেও নিরপেক্ষতা বজায় থাকে। একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ইতিবাচক হতে পারে, কিন্তু তা দিয়ে পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তন নিশ্চিত হয়েছে বলা যায় না।   আসন্ন দুর্গাপূজায় হিন্দু সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেটিও নাগরিক অধিকারের বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপদে ধর্ম পালন, উপাসনালয় রক্ষা এবং সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ভয় দেখিয়ে, তাদের সম্পত্তি দখল করে কিংবা উৎসব পালনে বাধা দিয়ে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত সুবিধা নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রের; কোনো সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা যেন কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল না থাকে।   বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই আমরা রাজনৈতিক বিভাজনের সুযোগ নিয়ে অপরাধীদের পুনর্বাসিত হতে দেখেছি। এক দলের আমলে কোণঠাসা হওয়া চাঁদাবাজ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অন্য দলের ব্যানার জড়িয়ে পুনরায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে-এই দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। অপরাধীকে যদি এক দল বহিষ্কার করে, তবে সে অন্য দলের ব্যানারে আত্মপ্রকাশ করে। এই চক্রাকারে ঘুরতে থাকা অপরাধের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি সাধারণ ইস্যুতে এক টেবিলে বসতে হবে এবং স্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে-চাঁদাবাজ ও অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারবে না। চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত কাউকে কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য করা যাবে না এবং তাদের আজীবনের জন্য রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করতে হবে। তাই আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, আপনি সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে এক টেবিলে বসুন। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একটি সর্বসম্মত ‘জাতীয় ও রাজনৈতিক ঐক্য’ গড়ে তুলুন এবং এর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী চূড়ান্ত জাতীয় অভিযান ঘোষণা করুন।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। তিনি যদি নিজের দলের নেতাকর্মীদের জন্য স্পষ্ট করে দিতে পারেন যে, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস কিংবা দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ই সুরক্ষা দেবে না, তাহলে তাঁর ঘোষিত অবস্থান সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। এ জন্য সংসদ সদস্যদের শুধু সতর্ক করলেই হবে না; তাঁদের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করতে হবে, অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করার পরিবেশ দিতে হবে।   আমি বিশ্বাস করি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থান কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ভিত্তি শক্তিশালী হতে পারে। তবে কোনো সরকার বা নেতার প্রতি আস্থা কেবল প্রশংসা কিংবা প্রত্যাশার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; তার ভিত্তি গড়ে ওঠে বাস্তব ফলাফলে। প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তার প্রতিফলন যদি বাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, জমি-সম্পত্তি, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দেখা যায়, তাহলেই এই উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য প্রতিষ্ঠিত হবে। বস্তুতপক্ষে বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি রাষ্ট্র চায়, যেখানে দলীয় পরিচয়ের কারণে কেউ বিশেষ সুবিধা পাবে না, অপরাধ করে কেউ রাজনৈতিক আশ্রয়ে পার পাবে না এবং ন্যায়বিচারের জন্য সাধারণ মানুষকে ক্ষমতাবান কারও দ্বারস্থ হতে হবে না। তারেক রহমানের ঘোষিত কঠোর অবস্থান সেই প্রত্যাশা পূরণের একটি সম্ভাবনাময় সূচনা বলেই মনে হচ্ছে। এখন প্রয়োজন ঘোষণাকে কার্যকর নীতিতে,ধারাবাহিক পদক্ষেপে এবং দৃশ্যমান জনস্বস্তিতে রূপান্তর করা। সুতরাং আমি মনে করি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার সাফল্যই হবে রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকের সবচেয়ে বড় বিজয়। পরিশেষে বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, প্রশাসনিক দৃঢ়তা এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের এই যাত্রায় যদি আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতা করি, তবে অচিরেই বাংলাদেশ চাঁদাবাজ-দখলবাজমুক্ত একটি নিরাপদ, মানবিক ও উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হবে-ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ সুবাহানাতালা আমাদের সহায় হোন।   লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন। ই-মেইল: [email protected]    বিডি-প্রতিদিন/বিএম

ট্রেড লাইসেন্স সহজ করতে একক অনলাইন পোর্টাল চালুর পরিকল্পনা

ট্রেড লাইসেন্স সহজ করতে একক অনলাইন পোর্টাল চালুর পরিকল্পনা

ব্যবসায়ীদের সময় ও ব্যয় সাশ্রয় এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে একক অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে একাধিক সংস্থার যৌথ ব্যবস্থা চালু এবং বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।  শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স অন ডিরেগুলেশন অ্যান্ড বিজনেস ফ্যাসিলিটেশন’-এর প্রথম সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ব্যবসা পরিচালনায় অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা দূর করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানি কমাতে হবে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস, অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার গৃহীত উদ্যোগ ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এক পোর্টালে ট্রেড লাইসেন্স ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনভেদে পৃথক ব্যবস্থায় ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। এ প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত অনলাইন পোর্টালের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবসায়ীরা একটি নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল, আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, লাইসেন্সের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার পাশাপাশি প্রচলিত ট্রেড লাইসেন্সকে ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ বা সমজাতীয় নামে রূপান্তরের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে লাইসেন্স প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি সেবাপ্রাপ্তিতে সময়ক্ষেপণ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিদেশি কর্মীদের অনুমোদন নবায়ন সহজ করার আহ্বান বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র (সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স) নবায়নের বিদ্যমান প্রক্রিয়া নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশে কোনো না কোনো বৈধ ও নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করতে আসেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত কর পরিশোধ করে এবং তাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা পরিচালকরাও দেশের বৈধ নাগরিক। এসব প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নিয়ে আবেদন ও প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন দেওয়ার পরও নিরাপত্তা ছাড়পত্রের নামে নবায়ন প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক জটিলতা সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়। বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যৌথ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের ক্ষেত্রেও ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও ভোগান্তি কমাতে সমন্বিত পরিদর্শন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর নেতৃত্বে প্রস্তাবিত এ ব্যবস্থায় ভবন নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিষয়সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থার পরিদর্শন পৃথক সময়ে না করে একই দিনে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় পূর্বনির্ধারিত তারিখে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে যৌথ পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে একই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সংস্থার বারবার পরিদর্শনের প্রয়োজনীয়তা কমবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সময়, ব্যয় ও প্রশাসনিক ভোগান্তি হ্রাস পাবে বলে সভায় আশা প্রকাশ করা হয়।   আরও পড়ুনআরও পড়ুনঅফিসার্স ক্লাবে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের লাশ, যা বলছে পুলিশ পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ সভায় জানানো হয়, ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন অনুমোদন, পারমিট ও লাইসেন্স প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা এবং একাধিক সংস্থার কার্যক্রমে দ্বৈততা দূর করতে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব খাতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা পর্যালোচনা করে অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খাতেও এ উদ্যোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসা পরিচালনায় অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ, অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সেবাপ্রাপ্তি সহজ করার পাশাপাশি সেবার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সভায় টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে অংশ নেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান, অর্থ বিভাগের সচিব, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) নিবন্ধক এবং অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত সেবাকে আরও গতিশীল, সহজলভ্য ও কার্যকর করতে প্রশাসনিক সংস্কার, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় ও সময় কমার পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও সুসংহত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

৭ ঘন্টা আগে
স্থানীয় নির্বাচন : ২৫ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ

স্থানীয় নির্বাচন : ২৫ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২৫ নভেম্বর প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়। মাঠ কর্মকর্তাদের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের লক্ষ্যে ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩ (জ) অনুযায়ী যোগ্যতা অর্জনের তারিখ হিসেবে ৩১ জুলাই ২০০৮ কমিশন নির্ধারণ করেছে। সে প্রেক্ষিতে, ভোটার তালিকা ডাটাবেইজে ৩১ জুলাই ২০০৮ তারিখ বা তার আগে যাদের জন্ম এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত যারা ডাটাবেইজে নিবন্ধিত হয়েছেন বা হবেন তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরত: চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিল এবং দাখিলকৃত আবেদন নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ সংক্রান্তে বিস্তারিত সময়সূচি কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, হালনাগাদকৃত খসড়া ভোটার তালিকার পিডিএফ প্রস্তুত ও মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে লিংক প্রেরণের শেষ তারিখ আগামী ৪ নভেম্বর, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ৫ নভেম্বর, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিলের শেষ তারিখ ২০ নভেম্বর সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত আবেদনসমূহ নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ২৩ নভেম্বর দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত আবেদনের উপর গৃহীত সিদ্ধান্ত সন্নিবেশের শেষ তারিখ ২৪ নভেম্বর, হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ২৫ নভেম্বর। এ কার্যক্রম চলাকালীন মুদ্রিত খসড়া ভোটার তালিকা জনসাধারণের পরিদর্শন ও ভুলত্রুটি সংশোধনের আবেদন দাখিলের আহ্বান জানিয়ে মসজিদ/মন্দিরসহ ধর্মীয় উপসনালয়ে ইমাম/পুরোহিতদের মাধ্যমে নামাজ/প্রার্থনার আগে বা পরে ঘোষণা প্রদান, স্থানীয় সাংবাদিক ও ক্যাবল অপারেটরের মাধ্যমে জনস্বার্থে তা প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭ ঘন্টা আগে
দুর্গাপূজায় গুজব ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা সাইবার নজরদারি টিম সক্রিয় রয়েছে: এসআরবি

দুর্গাপূজায় গুজব ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা সাইবার নজরদারি টিম সক্রিয় রয়েছে: এসআরবি

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে এসআরবি। গুজব প্রতিরোধে সংস্থাটির সাইবার মনিটরিং টিম ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর কলাবাগান থানাধীন ধানমন্ডি সর্বজনীন পূজামণ্ডপ ও কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে নিরাপত্তাবিষয়ক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান এসআরবি-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান। ব্রিফিংয়ে ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, পূজামণ্ডপ এলাকায় ইউনিফর্মধারী সদস্যদের টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পূজা উপলক্ষে এসআরবি-২-এর কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে বা গুজব-সংক্রান্ত তথ্য জানাতে ০১৭৭৭৭১০২৯৯ নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা উসকানিমূলক প্রচারণা ছড়ানো হলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। এ ছাড়া বিসর্জনের দিন হেলিকপ্টার ও ড্রোনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, বৈচিত্র্য বাংলাদেশের শক্তি। শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এসআরবি-২-এর সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব। এ সময় ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে এলাকাবাসীকে নির্ভয়ে উৎসব উদ্‌যাপনের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি কোনো গুজবে কান না দিয়ে সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়।

৭ ঘন্টা আগে
রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। তবে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া গেলে আগামী ২১ অক্টোবর থেকে দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রিয়াদগামী ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রিয়াদ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়ার পর এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ সংক্রান্ত তথ্য যাত্রীদের যথাসময়ে জানানো হবে।অন্যদিকে, সৌদি আরবের জেদ্দা ও মদিনা রুটে বিমানের ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা এ দুটি বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন।যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামলাতে মদিনা রুটে বেশি যাত্রী বহনে সক্ষম উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে বিমান। আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এ ব্যবস্থা চালু থাকবে। এরপর ১৯ অক্টোবর থেকে এ রুটে আগের মতো বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ চলবে।এ ছাড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, ফ্লাইট চলাচল ও সময়সূচি নিয়ে পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য যথাসময়ে জানানো হবে। টিকিট, বুকিং ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমানের বিক্রয় কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

৮ ঘন্টা আগে
দুর্গাপূজা ঘিরে নীলফামারীতে এসআরবি-১৩’র নিরাপত্তা জোরদার

দুর্গাপূজা ঘিরে নীলফামারীতে এসআরবি-১৩’র নিরাপত্তা জোরদার

শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে নীলফামারীতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩। পূজামণ্ডপে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সাদা পোশাকে সদস্য মোতায়েন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে নীলফামারী কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরে আয়োজিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১৩-এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবু রোহানী পারভেজ রনী।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে স্থানীয় পূজা উদ্‌যাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে এসআরবি। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় টহল জোরদারের পাশাপাশি সাদা পোশাকে সদস্য মোতায়েন থাকবে।এ ছাড়া যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের দিনও বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে বলে জানানো হয়।এসআরবি-১৩ জানায়, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট, পূজামণ্ডপে হামলা-ভাঙচুর কিংবা প্রতিমা ও পূজার উপকরণ নষ্টের চেষ্টা করা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা যাবে না। অনলাইনে গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং টিম সক্রিয় থাকবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্‌যাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে এসআরবি-১৩। পাশাপাশি কোনো ধরনের নাশকতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

৮ ঘন্টা আগে
যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস : এনবিআরের দুই কর্মী সাময়িক বরখাস্ত

যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস : এনবিআরের দুই কর্মী সাময়িক বরখাস্ত

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে জারি করা পৃথক অফিস আদেশে তাদের সাময়িক বরখাস্তের কথা জানানো হয়। বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মী হলেন-এনবিআরের কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চলের অধীনে কর্মরত অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিটে কর্মরত অফিস সহায়ক মো. নুর মোহাম্মদ। এর আগে, শুক্রবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পাঁচ সরকারি কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেফতারের কথা জানানো হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে এনবিআরের এই দুই কর্মীও ছিলেন। গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্যপদের বিপরীতে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ওই দিন সকাল ১০টার পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। বিডি প্রতিদিন/এমআই

৮ ঘন্টা আগে
ইনানীর ওই রিসোর্ট ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল গত জুনে: ফায়ার সার্ভিস

ইনানীর ওই রিসোর্ট ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল গত জুনে: ফায়ার সার্ভিস

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ‘টুপটুপ রিসোর্ট’ ফায়ার সার্ভিসের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই চলছিল বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। তিনি বলেন, গত জুনেই পরিদর্শনের পর রিসোর্টটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু সেই সতর্কতা উপেক্ষা করেই রিসোর্টটি অবৈধভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর কাজী আলাউদ্দীন রোডে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক এ তথ্য জানান। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনিরাপত্তাবিষয়ক প্রস্তুতি তুলে ধরতে মূলত এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন কাঠের তৈরি ওই রিসোর্টে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বেলা দেড়টা পর্যন্ত রিসোর্টটি থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় দগ্ধ ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেন, তিনতলা কাঠের তৈরি এই রিসোর্টের নিচতলায় রেস্তোরাঁ ছিল। সেখানে খাবার তৈরি করা হতো। আর দোতলা ও তিনতলায় ছিল পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা। তবে ফায়ার সার্ভিসের নজরদারি ও বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির কোনো অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছিল না। সুলতানুল আফরীন জানান, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। দুর্ঘটনাস্থল থেকে নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশনের দূরত্ব ছিল প্রায় ২২ কিলোমিটার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পরে তা পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়। কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ দিয়ে তৈরি রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা ও বৈধতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নোটিশের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে নিরাপত্তাবিষয়ক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে। সামনে শুষ্ক মৌসুমে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে উল্লেখ করে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। আগুনের সূত্রপাত প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি নোটিশ দেওয়ার পরও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চালু থাকা এবং দেশজুড়ে এ ধরনের রিসোর্টের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের বিদ্যমান আইন, নজরদারির সীমাবদ্ধতা ও করণীয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। পুরান ঢাকায় ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ড, অনুমোদনহীন কারখানা, গুদাম ও বিস্ফোরক পদার্থের ঝুঁকি নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার সরু রাস্তা এবং ভবনগুলোর পারস্পরিক দূরত্বের অভাব ফায়ার সার্ভিসের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এর ফলে অগ্নিনির্বাপণকারী ভারী গাড়ি ও সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড ও সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। পুরোনো বসতিগুলোতে রাতারাতি সব নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। নতুন ভবনের ক্ষেত্রে নিয়ম মানতে বারবার সচেতন করা হলেও অনেকেই তা মানছেন না। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, ঘিঞ্জি ও সরু রাস্তায় দ্রুত পৌঁছাতে বিশেষ ধরনের তিন চাকার যান ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলে করে হোস পাইপ নিয়ে গিয়ে আশপাশের ভবনের পানির আধারের (রিজার্ভার) সঙ্গে যুক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানো যায় কি না, তা নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।

৯ ঘন্টা আগে
সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ স্পট পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ স্পট পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩টি স্পট আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা ছাড়াও মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাতও ঘুরে দেখেন তিনি। শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে পরিদর্শন শুরু করে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সেবার মান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী প্রথমে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এরপর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ও মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে যান। পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার এবং সরকারি বাংলা কলেজ ঘুরে দেখেন। পরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে যান তিনি। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা ও বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। এ ছাড়া ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে বিভিন্ন স্থানের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের সময় দেন। এর আগে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী পরিদর্শন করে হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেন তিনি।  পরিদর্শনের একপর্যায়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ওই চিকিৎসকের কক্ষও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়  এর বাইরে মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাথ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন। আকস্মিক এই পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিডি-প্রতিদিন/বিএম

১১ ঘন্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসছেন রাজশাহীতে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসছেন রাজশাহীতে

মাননীয় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহীতে আসছেন । এই সফর ও জনসভা সফল করতে প্রস্তুতি জোরদার করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। এর অংশ হিসেবে জনসভাস্থল হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ (মাদ্রাসা মাঠ) পরিদর্শন করেছেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, দেয়াল রংকরণ, মাঠসংলগ্ন সড়ক সংস্কার ও জনসভার মঞ্চ নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রস্তুতির অগ্রগতি ঘুরে দেখেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন তিনি।পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরের সিদ্ধান্তে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন রাজশাহীবাসীর জন্য আবেগ ও অনুভূতির বিষয়। তাঁকে একনজর দেখতে নগরবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, মহানগর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি সড়ক বিভাজকের আইল্যান্ড রংকরণ, প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কার এবং নগরীর সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান রাসিক প্রশাসক।সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। পরে বিকেল ৩টায় মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেওয়ার পাশাপাশি আখচাষিদের মধ্যে প্রণোদনা বিতরণ করবেন।পরিদর্শনকালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের ও আহমদ আল মঈন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি জয়নাল আবেদীন শিবলী, কাশিয়াডাঙ্গা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিউল আহসান হিমেল, শাহ মখদুম থানা বিএনপির সদস্যসচিব নাসিম খান, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক মুঈদুর রহমান মঈদ, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবিরসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

১১ ঘন্টা আগে
বোনের বিয়ের দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা, যুবক নিহত

বোনের বিয়ের দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা, যুবক নিহত

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বোনের বিয়ের দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইদের হামলায় নাজিম উদ্দিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে জগন্নাথপুর পৌরসভার লুদরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাজিম উদ্দিন ওই এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার নাজিম উদ্দিনের ছোট বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের দাওয়াত দেওয়া নিয়ে চাচাতো ভাই মাসুম মিয়াসহ তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য হয়। শনিবার সকালে বিয়ের ওয়ালিমার দাওয়াত দিতে নাজিম উদ্দিন চাচাতো ভাই মাসুম মিয়ার বাড়িতে গেলে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাসুম ও তাঁর ভাইয়েরা নাজিম উদ্দিনের ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বোন সাজিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘মাসুমের নেতৃত্বে ৭-৮ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার ভাইয়ের ওপর হামলা করেন। তাঁরা ছুলফি দিয়ে আমার ভাইয়ের বুকে উপর্যুপরি আঘাত করে তাঁকে হত্যা করেছেন। আমি তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার চাই।’ জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, নাজিম উদ্দিনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

১১ ঘন্টা আগে
১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
বিআইডিএসের মহাপরিচালক এনামুল হক বলেছেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো না গেলে কৃষকের ঋণের বোঝা বাড়তে পারে এবং অনেকে কৃষি ছেড়ে দিতে পারেন। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

বিআইডিএসের মহাপরিচালক এনামুল হক বলেছেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো না গেলে কৃষকের ঋণের বোঝা বাড়তে পারে এবং অনেকে কৃষি ছেড়ে দিতে পারেন। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ০ জন

সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, উন্নয়ন তো হবেই: মির্জা ফয়সল আমীন

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বলেছেন, ‘উন্নয়ন তো হবেই, সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ আছে। উন্নয়ন না হয়ে যাবে কোথায়? তবে সবার আগে আমাদের সমাজ থেকে মাদক ও জুয়া নির্মূল করতে হবে। আপনারা আমার হাতকে শক্ত করেন, ২৯ তারিখের পর এই এলাকায় আর কোনো মাদক থাকবে না।’ শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মটরাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। পথসভায় মাদক ও জুয়ার সামাজিক ক্ষতির কথা তুলে ধরে মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, মাদকের কারণে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সন্তানের মাদকাসক্তির কারণে মা-বাবারা অসহায় হয়ে পড়ছেন। মাদকের পাশাপাশি জুয়া ও ক্যাসিনোও ছড়িয়ে পড়ছে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এসব বন্ধ করতে হবে। সবাই সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে তা সম্ভব। মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি নেতৃত্বের সদিচ্ছার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি নেতার সদিচ্ছাও জরুরি। নেতা যদি চান মাদক থাকবে না, তবে এলাকায় মাদক থাকতে পারে না।’ মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের জন্য এটি আমার অনুরোধ নয়, ফাইনাল ওয়ার্নিং এবং নোটিশ—এই পথ ছেড়ে দিন। মহান আল্লাহর দেওয়া এই পৃথিবীতে বহু হালাল ব্যবসা রয়েছে, সেগুলো করুন।’ মাদক সেবনকারীদের এ পথ থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যদের মুখের দিকে তাকিয়ে এবং নিজেদের জীবনের কথা ভেবে মাদক সেবন পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি সবাইকে নিজ নিজ ধর্মের অনুশাসন মেনে চলা এবং পরিবারের প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পথসভায় স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

লিংক কপি করা হয়েছে!

অপুর সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংস, কে এই আদনান

চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করলেন আদনান আজাদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তাদের নিয়ে বেশ আলোচনা। বৃহস্পতিবার আদনানের সঙ্গে বেশ কয়েকটি রোমান্টিক আবহে স্থিরচিত্র প্রকাশ করেন অভিনেত্রী।  অপু ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘টুকরো টুকরো অসংখ্য মুহূর্ত মিলে আজ রূপ নিয়েছে আমাদের এই সুন্দর গল্পে।’ একই রকম স্থিরিচিত্র প্রকাশ করেন আদনানও। সেখানে তিনি জানান, অপুর সঙ্গে লাইফের সেকেন্ড ইনিংস শুরু করলেন তিনি। পোস্টে আদনান অপুকে সম্বোধন করেছেন ‘প্রফেসর’ বলে। তিনি লিখেছেন, ‘১৮ বছর আগে নায়কগিরি শুরু করেছিলাম তোমার হাত ধরে। এরপর অনেক লম্বা বিরতি। লাইফের সেকেন্ড ইনিংসও শুরু হলো তোমার সাথে। ধন্যবাদ প্রফেসর অপু বিশ্বাস।’ ছবিগুলো প্রকাশের পর অনেকেই প্রথমে চিনতে পারেননি আদনানকে। পরে জানা যায়, ১৮ বছর আগে এই অপুর সঙ্গেই নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়েছিল তার। দীর্ঘ বিরতির পর পুরোনো এই জুটিকে নতুন রূপে দেখে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। তবে কি আবারও একসঙ্গে পর্দায় ফিরছেন তারা? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে অপু বিশ্বাস ও আদনান আজাদের। সে সম্ভাবনা মাথায় রেখেই হয়েছে ফটোশুটটি। বিষয়টি নিশ্চিত করে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘কাজের প্রয়োজনে সম্প্রতি বেশ কয়েকজনের সঙ্গে ফটোশুট করেছি। তবে আদনান আজাদের সঙ্গে করা ফটোশুটের ছবিগুলো প্রকাশের পর তুলনামূলক বেশি সাড়া দেখতে পাচ্ছি।’ ১৮ বছর আগে পরিচালক, প্রযোজক ও গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ার পরিচালিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের সিনেমা ‘পাষাণের প্রেম’-এ একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন অপু বিশ্বাস ও আদনান। এ সিনেমার মাধ্যমেই চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় আদনানের। অপু বিশ্বাস ও আদনান আজাদ দুজনেরই বাড়ি বগুড়ায়। সেখান থেকে ঢাকায় এসে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন তারা। পরে শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে ঢাকাই চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তা পান অপু। অন্যদিকে আদনান অভিনয় ও মডেলিংয়ে যুক্ত থাকলেও চলচ্চিত্রে নিয়মিত হতে পারেননি।

রুপালি গয়নার উজ্জ্বলতা ধরে রাখার ৫ উপায়

পূজার সাজে শাড়ি হোক কিংবা কুর্তি, রুপালি গিলটি করা হার, ঝুমকা, চোকার ও চুড়ি সহজেই নজর কাড়ে। সাশ্রয়ী দামে নানা নকশার গয়না পাওয়া যায় বলে তরুণীদের মধ্যেও এই ধরনের গয়নার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে নিয়মিত ব্যবহারে অনেক সময় গয়নার রং ফিকে হয়ে যায়, কালচে ছোপ পড়ে, হারিয়ে যায় নতুনের মতো উজ্জ্বলতা। সামান্য অসতর্কতাও এর অন্যতম কারণ হতে পারে। তাই সাধের গয়না দীর্ঘদিন ভালো রাখতে কয়েকটি ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি। ১. ঘাম জমতে দেবেন না পূজার মণ্ডপে ঘোরাঘুরি বা দীর্ঘক্ষণ গয়না পরে থাকার ফলে ঘাম জমতে পারে। ঘামের লবণ ও অন্যান্য উপাদান গয়নার ওপর থাকা ধাতব পরতের ক্ষতি করতে পারে। তাই বাড়ি ফিরে গয়না খুলে নরম, শুকনো কাপড় দিয়ে আলতো করে মুছে নিন। তার পর সংরক্ষণ করুন। ২. খোলা জায়গায় ফেলে রাখবেন না ড্রেসিং টেবিল কিংবা খোলা তাকের ওপর গয়না ফেলে রাখলে বাতাসের আর্দ্রতা ও অন্যান্য উপাদানের সংস্পর্শে তার রং বদলে যেতে পারে। তাই গয়না ব্যবহারের পর শুকনো, পরিষ্কার জায়গায় রাখুন। সম্ভব হলে ছোট জিপলক পাউচ বা গয়না রাখার উপযুক্ত বাক্স ব্যবহার করুন। ৩. পানি বা টুথপেস্ট দিয়ে পরিষ্কার করবেন না রুপালি গিলটি করা গয়না পরিষ্কারের জন্য পানি, টুথপেস্ট কিংবা ঘষে পরিষ্কার করার উপাদান ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে গয়নার ওপর থাকা রঙের পরত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পরিষ্কারের জন্য নরম, শুকনো কাপড়ই বেছে নিন। গয়নার সঙ্গে বিশেষ পরিচর্যার নির্দেশ থাকলে তা মেনে চলুন। ৪. সব গয়না একসঙ্গে রাখবেন না হার, ঝুমকা, চুড়ি ও আংটি এক বাক্সে গাদাগাদি করে রাখলে একটির সঙ্গে অন্যটির ঘষা লাগতে পারে। এতে গয়নার উপরিভাগে আঁচড় পড়ার পাশাপাশি রঙের পরতও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই প্রতিটি গয়না আলাদা পাউচে অথবা বাক্সের পৃথক খোপে রাখুন। ৫. প্রসাধনী ব্যবহারের পরেই গয়না পরবেন না পারফিউম, হেয়ার স্প্রে, লোশন ও অন্যান্য প্রসাধনীর রাসায়নিক উপাদান গয়নার রঙের পরতের ক্ষতি করতে পারে। তাই সাজগোজের সময় প্রথমে প্রসাধনী ব্যবহার করে তা শুকিয়ে নিতে হবে। তার পর গয়না পরুন। একইভাবে গয়না খোলার পর তার গায়ে প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ লেগে থাকলে নরম কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। রুপালি গিলটি করা গয়নার উজ্জলতা কত দিন থাকবে, তা নির্ভর করে গয়নার গুণমান, ব্যবহারের ধরন ও সংরক্ষণের ওপর। সঠিক যত্ন নিলে পছন্দের হার, ঝুমকা কিংবা চোকার দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব।

প্রশ্ন ফাঁসের মামলায় জামিন নাকচ, দুই আসামি কারাগারে

প্রশ্ন ফাঁসের মামলায় জামিন নাকচ, দুই আসামি কারাগারে

যুব উন্নয়ন অধিদফতরের ‘সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা’ পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় দুই আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনাইদ এ আদেশ দেন। আসামিরা হলেন নুর মোহাম্মদ ও জাহাঙ্গীর আলম। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারের পর শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মির্জা মোহাম্মদ মুক্তা আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মো. আব্দুল ওয়ারেছ আকন্দ ও মো. শাহীন ইকবাল জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে শুক্রবার একই মামলায় গ্রেফতার হওয়া আরও পাঁচ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। তারা হলেন মো. মফিউল ইসলাম, মো. রুবেল ইসলাম, মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন, আসাদুল ইসলাম ও এসএম এমদাদুল রহমান। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে (গ্রেড-১১) ২৪২টি শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নিয়োগের প্রথম ধাপে ১০ অক্টোবর ঢাকা মহানগরীর ৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এমসিকিউ পদ্ধতিতে বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এজাহারে বলা হয়, পরীক্ষা শুরুর প্রায় ৫৪ মিনিট আগে, সকাল ১০টা ৬ মিনিটের দিকে, ফেসবুকে ওই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রকাশের তথ্য পান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রশ্নপত্রের সঙ্গে অধিদপ্তরে সংরক্ষিত মূল প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখা হয়। এতে দুটির মধ্যে হুবহু মিল পাওয়া যায়। এরপর নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। এতে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ, জনবল ও অন্যান্য সম্পদের অপচয় হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ, সংরক্ষণ, পরিবহন কিংবা বিতরণের কোনো পর্যায়ে যোগসাজশের মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে এজাহারে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আতিকুর রহমান বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মামলা করেন।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream