৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু মিত্র চিহ্নিত করার দিন: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ৭ নভেম্বর, ২০২৬। ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের এই দিনে দেশের সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সকল চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু মিত্র চিহ্নিত করার দিন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিবৃতি দেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্ম, যুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় একটি প্রবাদ বাক্য প্রণিধানযোগ্য। ‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ’। সুতরাং, সারাবেলা ইতিহাস চর্চায় মশগুল থাকা সমীচীন নয়; একইভাবে ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল। তিনি বলেন, আমি মনে করি, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ। যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, যারা জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল, যারা দেশের শৌর্য, বীর্য, সাহস এবং সম্মানের প্রতীক সেনাবাহিনীর গৌরবকে ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহি জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছে। তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পরাজিত সেই অপশক্তি মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব এবং মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করেছিল, জনগণের ভোটের অধিকার, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। হাজারো শহিদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে, বীর ছাত্র জনতার রক্তক্ষয়ী গণ অভ্যুত্থানে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর অবশেষে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের। ২০২৪ ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে দেশ এবং জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, এটিই হোক আমাদের এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক-ভৌগোলিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে আমাদের ৭ নভেম্বরের মতো সিপাহি জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে প্রাণে ধারণ করতে হবে। ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি জনতার বিপ্লব, ৯০ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা ২৪ এর ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান, এভাবে ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে প্রতিটি বিপ্লব কিংবা অভ্যুত্থানের একটাই আকাঙ্ক্ষা, স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও নিরাপদ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী চক্রান্ত নস্যাৎ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সংঘটিত ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার বিপ্লবের ঐতিহাসিক এই দিনে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনও দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। আমি জাতীয়ভাবে ৭ নভেম্বর উদযাপন উপলক্ষ্যে সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করি। ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই হোক বাংলাদেশের আগামী নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয়।
জুমার পর শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় প্রধানমন্ত্রীর, খেলাধুলার সরঞ্জাম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি
রাজধানীর বনানীতে জুমার নামাজ আদায় শেষে একদল শিশু-কিশোরের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও খেলাধুলা নিয়ে গল্প করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তাদের জন্য খেলাধুলার সরঞ্জামের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। শুক্রবার রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের পর তিনি শিশুদের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ‘নামাজ শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং তারা কী কী খেলা খেলে ও পছন্দ করে তা জানতে চান।’ রুমন আরও জানান, কয়েকজন শিশু জানায় তারা ফুটবল ও ক্রিকেট খেলে, তখন প্রধানমন্ত্রী তারা বাস্কেটবল ও টেবিল টেনিস খেলে কি না তাও জানতে চান। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শিশুদের আশ্বাস দেন যে তিনি তাদের জন্য খেলাধুলার সরঞ্জামের ব্যবস্থা করবেন। এরপর তারেক রহমান শিশুদের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং ‘ঠিক আছে, সবাই ভালো থেকো’ বলে তাদের কাছ থেকে বিদায় নেন।
নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পুনর্মূল্যায়নে গঠিত ছয় সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। কমিটিতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আরও চার মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ-সংক্রান্ত সরকারি গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল) এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের প্রচলিত বেতনস্কেলে বিদ্যমান অসংগতি এবং এ নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করবে কমিটি। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সুপারিশ সরকারের কাছে তুলে ধরবে তারা। এ ছাড়া বেতন গ্রেডের উন্নীতকরণ, অবনমন এবং বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে সামঞ্জস্য আনার বিষয়টিও পর্যালোচনা করবে কমিটি। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন করে ঝুঁকিভাতা ও অন্যান্য ভাতা চালু করা যায় কি না, তা-ও বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে বর্তমানে চালু থাকা বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ বাড়ানো বা কমানোর প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্বও পেয়েছে কমিটি। কমিটির কাজে সহযোগিতা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বা সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অর্থ বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা। প্রয়োজন বিবেচনায় কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও পাবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কমিটির দাপ্তরিক ও সাচিবিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা দেবে অর্থ বিভাগ।
অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের
রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ) অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে কলেজের মূল ফটকের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি ও ঘোষণা দেন। এর আগে কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করায় নীলক্ষেত মোড় থেকে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।১. মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে এবং জড়িত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।২. অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। তার পদত্যাগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে আনুষ্ঠানিক সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা অধ্যক্ষকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। টানা প্রায় ১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।সে সময় পুলিশি অভিযানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনকারীদের দাবি, মধ্যরাতের ওই অভিযানে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো এবং এক নারী শিক্ষার্থীর চুল ও হিজাব ধরে টানাহেঁচড়ার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলতে পারে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?
‘সরকারের উপকার ও নতুন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই আমরা একজোট হয়েছি’—নুরুল হক নুর
‘সরকারের উপকার ও নতুন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই আমরা একজোট হয়েছি’—নুরুল হক নুর
মাদকের সঙ্গে পরিবহন-ফার্মেসি কোম্পানির সংশ্লিষ্টতা, নির্মূল নয় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব
মোবাইলে লাউডস্পিকারে গান বাজানো নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংঘর্ষ, আহত ২৫ জন
২২ দিন পর সাগরে মাছ ধরা শুরু, জেলেদের মাঝে উৎসবের আমেজ
ক্ষিপ্ত হয়ে ফার্মেসি দোকানদারকে মা'র'ধ'র করলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা
আদালত প্রাঙ্গণে পরীমণীর বাউন্সারদের তাণ্ডব: সাংবাদিকদের ওপর হা''ম'লা ও চরম বিশৃ'ঙ্খ''লা
মেজর আক্তারুজ্জামান কেন জুলাইয়ের বিপক্ষে ছিলেন, জামায়াতের উচিত তা জিজ্ঞেস করা