মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
সর্বশেষ

প্রবীণদের সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি

প্রবীণদের সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এজন্য তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একটি আলাদা ‘প্রবীণ সেল’ গঠনসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। আজ বঙ্গভবনে বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের সভাপতি ফেরদৌস আরা বেগমের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল প্রবীণদের জন্য বয়স্ক ভাতা, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব নাগরিকদের মেট্রোরেল, ট্রেন ও গণপরিবহনে ৫০ শতাংশ ছাড়, প্রবীণ বান্ধব চিকিৎসাসেবা, সার্বজনীন সিনিয়র সিটিজেন কার্ডসহ প্রভৃতি দাবি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি দাবিগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এসময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক খবির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান। তিনি জানান, বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দু’টির অবস্থান, নকশা ও প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ওয়াই-আকৃতির সংযোগ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এছাড়া বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ব্যারেজের মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও বৈঠকে প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ও উঠে আসে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব। বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহা. এনামূল হক, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন এবং পদ্মা ব্যারেজের প্রকল্প পরিচালক মাহমুদ হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তাহসিফ হত্যা মামলায় দীপের আরও ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে নৌ পুলিশ।আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন ঢাকার আদালতে এই রিমান্ড আবেদন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।এর আগে গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) মামলার প্রথম দফায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনের বিপরীতে আদালত দীপের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে জমা দেওয়া রিমান্ড আবেদনে ঘটনার দিন রাতের চাঞ্চল্যকর বেশ কিছু তথ্য ও প্রাথমিক তদন্তের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে:তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, ঘটনার দিন (২৭ অক্টোবর) রাতে নিহত তাহসিফ সাউরিকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন আসামি দীপ।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ স্বীকার করেছেন সাউরি তাঁর সিনিয়র বড় ভাই ছিলেন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দীপের সরাসরি জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।মামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং আসামি যাতে কোনোভাবে জামিনে মুক্ত হয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে না পারেন—সেজন্য তাঁকে আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন বলে পুলিশ জানিয়েছে।মামলার নথি ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যায় ছোট ভাই বা জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ সাউরি।তাহসিফ রাতে না ফেরায় তাঁর মা ফোন করলে তিনি জানান দ্রুত ফিরছেন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মায়ের ফোনে মেসেঞ্জারে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বলেন, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। এরপর থেকেই তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে ২৯ অক্টোবর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।গত ৩০ অক্টোবর রাতে নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দীপকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।

ধানমন্ডিতে বহুতল ভবনে আগুন

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মোট পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে।আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ধানমন্ডির ১০/এ সড়কে অবস্থিত একটি ভবনে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। হঠাৎ ভবন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখলে আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, খবর পাওয়ার পরপরই আগুন নিয়ন্ত্রণে একে একে পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কর্মীরা দ্রুত আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ কিংবা কোনো ধরনের হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট কিছু জানা যায়নি।

শিল্প পুলিশ প্রধানসহ শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল

শিল্প পুলিশ প্রধানসহ শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল

শিল্প পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) প্রধানসহ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের সাত কর্মকর্তার দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে।  এসআরবির নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হয়েছেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ। অন্যদিকে, শিল্প পুলিশের প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (অতিরিক্ত আইজিপি) ইসরাইল হাওলাদার। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ রদবদলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এসআরবির মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশকে পুলিশ সদরদফতরের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদকে এসআরবির নতুন ডিজি করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ সদরদফতরের অতিরিক্ত আইজিপি মো. সায়েদুর রহমানকে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান করা হয়েছে। শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দিনকে পুলিশ টেলিকম সংস্থায় বদলি করা হয়েছে। শিল্প পুলিশের প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (অতিরিক্ত আইজিপি) ইসরাইল হাওলাদার। রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার করা হয়েছে। আর রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি মীর আশরাফ আলীকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

৪ ঘন্টা আগে
বিমানের দাম্মামগামী ফ্লাইট পরিচালনায় নতুন তারিখ নির্ধারণ

বিমানের দাম্মামগামী ফ্লাইট পরিচালনায় নতুন তারিখ নির্ধারণ

ঢাকা-দাম্মাম-ঢাকা রুটে আবারও নিয়মিত ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আগামী ৭ নভেম্বর থেকে এ রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবে সাম্প্রতিক বিমান হামলার ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত ঢাকা-দাম্মাম রুটে প্রতিদিন দিনের বেলায় ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।এদিকে, রিয়াদগামী যাত্রীদের বড় একটি অংশ বিকল্প পথে সৌদি আরবে যাতায়াত করায় এ রুটে যাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে। ফলে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান।টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেলস সেন্টারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

৪ ঘন্টা আগে
প্রবীণদের সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি

প্রবীণদের সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি

প্রবীণদের সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এজন্য তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একটি আলাদা ‘প্রবীণ সেল’ গঠনসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। আজ বঙ্গভবনে বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের সভাপতি ফেরদৌস আরা বেগমের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল প্রবীণদের জন্য বয়স্ক ভাতা, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব নাগরিকদের মেট্রোরেল, ট্রেন ও গণপরিবহনে ৫০ শতাংশ ছাড়, প্রবীণ বান্ধব চিকিৎসাসেবা, সার্বজনীন সিনিয়র সিটিজেন কার্ডসহ প্রভৃতি দাবি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি দাবিগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এসময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক খবির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

৪ ঘন্টা আগে
অক্টোবরে গণপিটুনি-মব-রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৩৫: এইচআরএসএস

অক্টোবরে গণপিটুনি-মব-রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৩৫: এইচআরএসএস

চলতি বছরের অক্টোবর মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতার অন্তত ৭০টি ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ৩৩৪ জন। একই সময়ে গণপিটুনির ৩৩ ঘটনায় ২২ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। মব সহিংসতার ২২ ঘটনায় নিহত হয়েছেন একজন এবং আহত হয়েছেন ৩৬ জন। এছাড়া মাসজুড়ে কারাগারে ১৯ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৪৬ সাংবাদিক। আর নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৬১ জন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) অক্টোবর মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।  মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংগঠনটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ১৬ জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, এইচআরএসএসের নিজস্ব তথ্য সংগ্রহ এবং ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে অক্টোবর মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, অক্টোবর মাসে অন্তত ৭০ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং ৩৩৪ জন আহত হয়েছেন। সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় অক্টোবর মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতের সংখ্যা কমলেও ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। গত সেপ্টেম্বরে অন্তত ৬৮ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় চারজন নিহত এবং ৫২৭ জন আহত হয়েছিলেন। অক্টোবর মাসে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৩৫ ঘটনায় অন্তত ১৮৫ জন আহত এবং নয়জন নিহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ছয়টি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১৬ জন। বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে সাতটি সংঘর্ষে ২৭ জন আহত ও দু’জন নিহত হয়েছেন।  আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে একটি ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। বিএনপি-এনসিপির মধ্যে দুটি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন তিনজন। বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে ১১ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৩৩ জন। এছাড়া বিভিন্ন দলের মধ্যে আটটি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৭০ জন। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১২ জনের মধ্যে বিএনপির ১০ জন এবং আওয়ামী লীগের দু’জন রয়েছেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখেও প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ মাসে নির্বাচনকেন্দ্রিক ছয়টি সহিংসতার ঘটনায় ৩৫ জন আহত এবং একজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে চারটি ঘটনায় ৩১ জন আহত ও একজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন দলের মধ্যে দুটি ঘটনায় আহত হয়েছেন চারজন। প্রতিবেদনে বলা হয়, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, হামলা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলীয় কোন্দল ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর পৃথক হামলা, গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া দুর্বৃত্তদের হামলায় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের হতাহতের অন্তত ১১ ঘটনায় ছয়জন আহত এবং সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির দু’জন, আওয়ামী লীগের চারজন এবং একজন চরমপন্থি রয়েছেন। এ মাসে অন্তত ৩১ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আধিপত্য বিস্তার, দখলদারিত্ব, রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সারাদেশে অন্তত ২২ ঘটনায় ৭০ বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, সংঘর্ষ, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আটক ও মামলার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবর মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ২০২ জনের নামোল্লেখ করে এবং আরও প্রায় ৩১৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক, যৌথ অভিযান ও বিশেষ অভিযানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে এ মাসে অন্তত ২৫ হাজার ১৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের অন্তত ৩৮৪ জন, বিএনপির ৮১ জন, জামায়াতে ইসলামীর ২৭ জন, এনসিপির একজন এবং উগ্রপন্থি ও চরমপন্থী সংগঠনের ১৮ জন সদস্য রয়েছেন। গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবর মাসে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে সারাদেশে গণপিটুনির ৩৩ ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে মব সহিংসতার ২২ ঘটনায় ৩৬ জন আহত এবং একজন নিহত হয়েছেন। এ সময়ে মব সহিংসতাকে কেন্দ্র করে দু’জনকে হেনস্তা, ছয়জন পুলিশ সদস্যকে আহত, সাতটি বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা এবং চারটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অক্টোবর মাসে সাংবাদিক নির্যাতনের অন্তত ২৮ ঘটনায় ৪৬ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় একজন সাংবাদিক নিহত, অন্তত ৩১ জন আহত, সাতজন লাঞ্ছিত এবং ছয়জন হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। এছাড়া সংবাদ প্রকাশের জেরে মানহানির অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় একজন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সভা-সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মাসে নয়টি সভা ও সমাবেশ আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বাধা দিয়েছে। এতে ১০৮ জন আহত, চারজন গুলিবিদ্ধ এবং ৩১ জন আটক হয়েছেন। এছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অন্তত ১৫ ঘটনায় ২০ জনকে আটক এবং ১৫ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় অন্তত ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনার জেরে দুটি ঘটনায় তিনজনকে আটক ও দুটি মামলা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক বিষয়ে সমালোচনার কারণে চারজন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও কটূক্তির অভিযোগে পাঁচজন এবং অন্যান্য ইস্যুতে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এ মাসে জুলাই ইস্যু, মাদক, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ধর্মীয় অবমাননাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার জেরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে একজনকে পিটিয়ে হত্যা, তিনজনকে নির্যাতন এবং একজনকে সাময়িকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অন্যদিকে সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা একটি মামলায় একজনকে আটক এবং দু’জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যা ও কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবর মাসে সারাদেশের কারাগারে অন্তত ১৯ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন কয়েদি এবং ১৫ জন হাজতি। মৃতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের দু’জন এবং বাকি ১৭ জন সাধারণ বন্দি। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। তিনজনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে মারা গেছেন। আটক এড়াতে জুয়া ও মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মামলার তদন্তের জন্য বাসায় অভিযানের সময় আতঙ্কিত হয়ে স্ট্রোক করে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সারাদেশে নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থানে দুর্বৃত্তদের হাতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবর মাসে এ ধরনের ৫৩ ঘটনায় ৫৫ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে তিনটি ছিল বস্তাবন্দি, চারটি ঝুলন্ত অবস্থায় এবং সাতটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া গলাকাটা অবস্থায় সাতটি এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় চারটি মরদেহ পাওয়া গেছে। অন্যান্য পরিস্থিতিতে আরও ২২ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সীমান্তে হতাহত ও আটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবর মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে তিনটি ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হামলায় একজন নিহত এবং দু’জন আহত হয়েছেন। আহত দু’জনই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময়ে দু’জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আরও দু’জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরের এক যুবক আহত হয়েছেন। শ্রমিক নির্যাতন ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবর মাসে অন্তত ৭১ শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং কমপক্ষে ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও শ্রমিকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৮ জন শ্রমিক মারা গেছেন। এছাড়া পৃথক তিনটি ঘটনায় একজনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে এবং তিনজন গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জন শিশু বা কিশোরী। অন্যদিকে চারজন গৃহকর্মীর মধ্যে দু’জন ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অক্টোবর মাসে ২৬১ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৮২ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের শিকারদের মধ্যে ৪২ জন (৫১ শতাংশ) ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরী। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০ জন নারী ও কন্যাশিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে পাঁচজনকে, তাদের মধ্যে একজন শিশু। এছাড়া ধর্ষণের কারণে একজন নারী আত্মহত্যা করেছেন। অন্যদিকে ৭২ জন নারী ও কন্যাশিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৬ জন (৫০ শতাংশ) শিশু। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন নয়জন এবং আহত হয়েছেন দুজন নারী। পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে ৪৭ জন নারী নিহত, ২৬ জন আহত এবং ২১ জন আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়া দাহ্য পদার্থ ও অ্যাসিড নিক্ষেপের মাধ্যমে একজন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ মাসে ২০১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং ১৬৩ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, এ মাসে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির কিছু সূচকে উন্নতি হলেও কয়েকটি ক্ষেত্রে অবনতি হয়েছে। মাসজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘাত, ক্যাম্পাসে সহিংসতা, গণপিটুনি ও মব সহিংসতা, কারাগারে মৃত্যু, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সীমান্তে সহিংসতা এবং শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান করা না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

৪ ঘন্টা আগে
বগুড়ায় পাসশূন্য কলেজের কমিটি নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের উত্তেজনা

বগুড়ায় পাসশূন্য কলেজের কমিটি নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের উত্তেজনা

বগুড়ার গাবতলীতে একটি কলেজের পরিচালনা কমিটি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এক পক্ষের আয়োজিত মানববন্ধনে অপর পক্ষের বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনারায় ইউনিয়নের তছলিম উদ্দিন তরফদার ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার ৪৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই কলেজটির পরিচালনা কমিটি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ এবং শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে উত্তেজনা শুরু হয়। এরই মধ্যে সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সদস্য রাজা মণ্ডলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে আজ মঙ্গলবার সকালে মানববন্ধনের আয়োজন করেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর অনুসারীরা। মানববন্ধনে বক্তারা বক্তব্য দেওয়া শুরু করলে বর্তমান সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টনের অনুসারীরা সেখানে গিয়ে ব্যানার ও ফেস্টুন কেড়ে নেন বলে অভিযোগ করেন আয়োজকেরা। এ নিয়ে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোলে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টনের অনুসারীরা মানববন্ধনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেন। কলেজের শিক্ষক ও অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধ এবং শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে কলেজটির শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তাঁদের দাবি, নিয়মিত পাঠদান না করে অনেক শিক্ষক দলাদলি ও রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কেউ কেউ নামমাত্র হাজিরা দিয়ে বাজারে আড্ডা দেন। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলে অভিভাবকদের হয়রানি ও লাঞ্ছিত করা হয়। কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষ নিয়োগ ও পরিচালনা কমিটির বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে আমাকে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এতে সম্মত না হওয়ায় আমাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, নিয়োগ-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের সময় তাঁকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট পরিবারের একজনকে অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষ থাকা অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। মানববন্ধনে বক্তারা সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজা মণ্ডলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন। তাঁদের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিভিন্ন সেবা নিতে গেলে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন সনদ ও নিবন্ধন নিতে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। মানববন্ধনে সোনারায় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল হালিম বলেন, নির্বাচনী প্রচারে মানুষের দ্বারে দ্বারে গেলে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের নানা অভিযোগ শুনতে হয়। বিভিন্ন সনদ ও নিবন্ধন নিতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতা কর্মী সংসদ সদস্যের কাছ থেকে যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না বলেও দাবি করেন আব্দুল হালিম। এসব অভিযোগের বিষয়ে সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজা মণ্ডল জানান, কলেজের ৪৭ জন পরীক্ষার্থীর কেউ পাস না করায় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে তাঁরা মানববন্ধন করেছিলেন। পরে কলেজের গভর্নিং বডির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতেই তাঁরা এদিন অবস্থান নিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের সেবার বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে রাজা মণ্ডল বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী রয়েছেন। তাঁদের কাছে খোঁজ নিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ বা সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হাসান বলেন, এক পক্ষ মানববন্ধন করতে গেলে অপর পক্ষ বাধা দেয়। এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

৪ ঘন্টা আগে
‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভা

‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভা

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভা আজ সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় কমিটির সদস্য হুইপ এ.বি.এম. আশরাফ উদ্দিন (নিজান), নায়াব ইউসুফ আহমেদ, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এবং আন্না মিন্জ অংশগ্রহণ করেন। সভায় শুরুতে সভাপতি উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানান। পরে তার নির্দেশনায় ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্পের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। সভায় সংসদীয় কার্যক্রমকে অধিকতর আধুনিক, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এসময় প্রকল্পের কার্যক্রমের যথাযথ বাস্তবায়ন, বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং প্রকল্পের আওতাভুক্ত কাজের পুনরাবৃত্তি পরিহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের নাম ‘ই-পার্লামেন্ট’ পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রকল্পের আওতায় সাউন্ড সিস্টেমসহ অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে যাতে কোনো ধরনের পুনরাবৃত্তি বা কাজের দ্বৈততা (ওভারল্যাপিং) না থাকে, তা নিশ্চিত করতে বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে একটি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি উপকমিটি গঠন করা হয়।  কমিটির সদস্য সাঈদ আল নোমান, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিন্জকে নিয়ে এ উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপ-কমিটিকে প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন মূল কমিটির কাছে উপস্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/এআরএ

৪ ঘন্টা আগে
এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের কথা মাথায় রেখে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের কথা মাথায় রেখে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের কথা মাথায় রেখেই তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, ভর্তুকি দেওয়ার সামর্থ্য সরকারের ক্রমাগত কমছে। সরকারের নিয়মিত কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এই কথা বলেন। উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি বিশেষ করে রান্নার গ্যাস, ‘এলপিজির মূল্যবৃদ্ধিতে জনগণের ওপর কতটা চাপ পড়ে, এটা সরকার বোঝে। বুঝতেই হবে। তারপরও সরকার এ কাজটা (মূল্য বৃদ্ধি) করল। এখন আপনি প্রশ্ন করছেন আমরা তো জনগণের কল্যাণের কথা বলি, তারপরও কেন করছি? আমি যদি এভাবে বলি, এই মূল্যবৃদ্ধিও দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের কথা মাথায় রেখে।’ উপদেষ্টা বলেন, ‘কী হতে পারে? এটার মূল্য কমানোর জন্য সরকারকে এখন ভর্তুকি দিতে হতে পারে, তাই তো। যেমন আমরা অনেকেই প্রায়ই ভারতের জ্বালানি খাত, বিশেষ করে রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি আছে আমরা অনেকেই জানি না। কিন্তু দাম তুলনা করি যে সেখানে দাম কম। তো সরকারের একটা অপশন হতে পারে ভর্তুকি দিতে পারে, দিয়ে দামটা একটা নাগালের মধ্যে রাখতে পারে।’ জাহেদ উর রহমান বলেন, যে জিনিসগুলো আমদানি করা হয়, সেগুলো আর দেশের প্রস্তুত জিনিসের ভর্তুকি এক রকম নয়। বিদেশ থেকে আমদানি করা জিনিসের মধ্যে পার্থক্য হলো এটার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়। রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হয়। এখন সরকার ভর্তুকি আসলে কতটা দিতে পারবে। জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘একটা জিনিস জানিয়ে রাখি, আগেও বলেছি, আমাদের এই চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার একটি পরিকল্পনা। আমি একটা ব্রিফিংয়ে আড়াই মাসের মাথায় জানিয়েছিলাম, ৪৮ হাজার কোটি টাকার অর্ধেক ২৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। আমরা এখন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনছি প্রতি ইউনিট ৩০ ডলারে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার পর্যন্ত প্রতি ইউনিটের দাম ছিল ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ ডলার।’ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও এ সংকটকে বৈশ্বিক উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এখন বিপদ হয়েছে বাংলাদেশের মতো একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির দেশে সরকারকে বেছে নিতে হচ্ছে কোথায় কতটুকু ছাড় দেবে, কতটুকু করবে। এর আঁচ কারও না কারও, কোনো না কোনোভাবে নিতে হবে। ঘটনা হচ্ছে এই। জাহেদ উর রহমান বলেন, এরপরও এটা যদি বড় প্রভাব পড়ে থাকে, পড়ছে কোনো সন্দেহ নেই। সরকার যদি অন্য ক্ষেত্রে আরও ভালো কিছু করতে পারে, এ ক্ষেত্রে সরকার বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, ‘আবারও বলছি, ভর্তুকি দেওয়ার সামর্থ্য সরকারের ক্রমাগত কমছে। এটা মাথায় রাখতে হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম।

৫ ঘন্টা আগে
ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ধর্মের অপব্যবহার এবং ধর্মকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ইসলাম শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণের ধর্ম। সঠিকভাবে ইসলামের প্রচার ও চর্চা হলে তা সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পীর-মাশায়েখ ও আলেমরা দীর্ঘদিন ধরে ইসলামের প্রসার এবং মানুষের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।  এ সময় অন্যায়, বিভাজন ও ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীনের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে পাঠানো সাংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে বলেন, আপনারা সঠিক ইসলাম প্রচার করে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছেন। যারা ধর্মকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটে, তাদের থেকে দূরে থেকেছেন এবং এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দেশের মাদরাসা শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রসার এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আলেমগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে পারস্পরিক ঐক্য ও সংহতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা জোরদার করা গেলে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হবে। দেশকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবির বিষয়ে রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন এবং বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের উদ্যোগে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা কবি রূহুল আমীন খান, মহাসচিব মাওলানা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী, উপদেষ্টা মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী, সহ-সভাপতি আলহাজ মাওলানা সৈয়দ আবু নোমান মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

৫ ঘন্টা আগে
ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণে মিলবে বিনা খরচে ইতালি যাওয়ার সুযোগ: মাহদী আমিন

ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণে মিলবে বিনা খরচে ইতালি যাওয়ার সুযোগ: মাহদী আমিন

ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের বিনা খরচে ইতালি যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। খুব শিগগিরই সীমিত পরিসরে এ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর হোটেল রিজেন্সিতে ‘ইতালিতে দক্ষ অভিবাসনের জন্য ভাষা, নাগরিক ও পেশাগত প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা জানান।মাহদী আমিন বলেন, ইতালিয়ান ভাষা শিক্ষা, নির্দিষ্ট পেশায় দক্ষতা অর্জন এবং কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আচরণ ও মূল্যবোধ শেখানোর এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে জাতীয় পর্যায়ে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে চায়।তিনি বলেন, দক্ষ ও স্বল্প খরচে বৈধভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশ যাওয়ার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভব হলে কর্মীদের শূন্য খরচে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, ইতালি সরকারের উদ্যোগটি সফল হলে এর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্যান্য দেশ ও পেশাগত খাতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।তিনি জানান, প্রবাসীদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের আদলে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তরুণদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ইতালিয়ান ভাষাসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ভাষা কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও যোগ্যতার অভাব নেই। প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণরা বিদেশে সম্মানজনক কর্মজীবন গড়ে তুলতে পারবেন।তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইতালিতে আড়াই লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন। দেশটির সমাজ ও অর্থনীতিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।সেমিনারে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) বাংলাদেশ মিশন প্রধান ড. লরা টম বন্ডেসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।উল্লেখ্য, ইতালির অভিবাসন আইন ২০২৩-এর ২৩ ধারা অনুযায়ী, অনুমোদিত প্রস্থান-পূর্ব প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা দক্ষ কর্মীরা নির্ধারিত ‘ফ্লো ডিক্রি’র কোটার বাইরেও বৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন। এসব প্রশিক্ষণে ইতালিয়ান ভাষা, দেশটির সমাজ ও নাগরিক জীবন এবং সংশ্লিষ্ট পেশার দক্ষতা শেখানো হয়।

৫ ঘন্টা আগে
দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান। তিনি জানান, বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দু’টির অবস্থান, নকশা ও প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ওয়াই-আকৃতির সংযোগ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এছাড়া বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ব্যারেজের মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও বৈঠকে প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ও উঠে আসে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব। বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহা. এনামূল হক, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন এবং পদ্মা ব্যারেজের প্রকল্প পরিচালক মাহমুদ হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

৫ ঘন্টা আগে
৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, রাজনৈতিক দলের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ অতিমাত্রায় অর্থনির্ভর হওয়ায় দলগুলো ব্যবসায়ীনির্ভর হয়ে পড়ছে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, রাজনৈতিক দলের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ অতিমাত্রায় অর্থনির্ভর হওয়ায় দলগুলো ব্যবসায়ীনির্ভর হয়ে পড়ছে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ০ জন

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লোহ। রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে জামায়াত। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, দুর্নীতি প্রতিরোধ, শিল্প-বাণিজ্যের উন্নয়ন, গণতন্ত্রের অগ্রগতি, গণভোট এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। জামায়াত আরও জানায়, ডেরেক লোহ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় জামায়াতে ইসলামীর ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার, সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং উভয় দেশের উন্নয়ন উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরির আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ অং এবং সিঙ্গাপুরের ফরেন অ্যাফেয়ার্স মিনিস্ট্রির সাউথ এশিয়া ও সাব সাহারা আফ্রিকান ডিরেক্টরেটের কান্ট্রি অফিসার ম্রিথিনি টিজি গ্রিথারান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লিংক কপি করা হয়েছে!

নিজেকেই বলিউডের এক নম্বর অভিনেত্রী বললেন কারিনা কাপুর

বলিউডে নিজের অবস্থান নিয়ে বরাবরই আত্মবিশ্বাসী অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান। এবার জনপ্রিয় টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এ হাজির হয়ে নিজেকেই বর্তমান প্রজন্মের বলিউডের এক নম্বর অভিনেত্রী বলে দাবি করেছেন তিনি। স্বামী সাইফ আলি খানের সামনেই এমন মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী।সম্প্রতি ‘কফি উইথ করণ ৯’-এর চতুর্থ পর্বের টিজার প্রকাশ করেছেন অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক করণ জোহর। সেখানে অতিথি হিসেবে দেখা যাবে কারিনা কাপুর ও তাঁর স্বামী সাইফ আলি খানকে।এর আগে ২০১০ সালে ‘কফি উইথ করণ’-এর তৃতীয় সিজনে একসঙ্গে হাজির হয়েছিলেন এই তারকা দম্পতি। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও একই মঞ্চে তাঁদের উপস্থিতি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। তবে টিজারে কারিনার আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রকাশিত টিজারে কারিনার সঙ্গে করণ জোহরের খুনসুটি বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। অনুষ্ঠানটির শেষ সিজন নিয়ে নিজের স্বস্তির কথা জানিয়ে কারিনা বলেন, বারবার এই অনুষ্ঠানে আসার প্রয়োজন নেই। তাঁর এমন মন্তব্যের জবাবে করণও রসিকতা করতে ছাড়েননি। এদিকে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কথোপকথনের মধ্যে সাইফ মজা করে বলেন, এই অনুষ্ঠানে তাঁকে কিছুটা বেমানান অতিথি হিসেবে মনে হচ্ছে। তবে টিজারের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তটি আসে যখন করণ জোহর কারিনাকে প্রশ্ন করেন, বর্তমান প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যে কে এক নম্বরে? উত্তরের জন্য অপেক্ষা না করেই যেন নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দেন কারিনা। তার আত্মবিশ্বাসী মনোভাবের পর সাইফ মজা করে বলেন, অন্য অভিনেত্রীদের প্রশংসা করতেও কারিনার আপত্তি থাকা উচিত নয়। অনুষ্ঠানের খেলাধুলার পর্বেও দেখা যায় দম্পতির মজার কথোপকথন। ‘কে’ অক্ষর দিয়ে শুরু হওয়া অভিনেতাদের নাম বলতে বলা হলে সাইফ হঠাৎ ‘কবিতা’ নামটি বলেন। পরে রসিকতা করে যোগ করেন, কবিতার মতো কেউ তো থাকবেই! উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর আবেগঘন একটি ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে ‘কফি উইথ করণ’-এর শেষ সিজনের ঘোষণা দেন করণ জোহর। এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ২২ বছরের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি। করণ জানান, ২০০৪ সালে অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা বাবার কাছে তুলে ধরলে প্রযোজক যশ জোহর এর সাফল্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে কথোপকথন দেখার জন্য দর্শক কেন অর্থ ব্যয় করবেন, এমন প্রশ্নও তুলেছিলেন তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে অনুষ্ঠানটি ভারতীয় বিনোদনজগতের অন্যতম আলোচিত আয়োজনে পরিণত হয়। আবেগাপ্লুত করণ আরও বলেন, এই অনুষ্ঠান তাঁর জীবনে অনেক কিছু দিয়েছে। তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, প্রেম, বন্ধুত্ব, বিয়ে ও নানা বিতর্ক নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে ‘কফি উইথ করণ’ একসময় দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। এবারের সিজনে ইতোমধ্যে সালমান খান, রশ্মিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরকোন্ডা এবং জাহ্নবী কাপুর ও বরুণ ধাওয়ানের মতো তারকারা অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন। সূত্র: এনডিটিভি

টক ফলের ৭টি উপকারিতা: জেনে নিন

মিষ্টি ও উজ্জ্বল রঙের সাইট্রাস বা টক ফল কেবল শীতের রোদের আমেজই আনে না, বরং সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি এটি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। লেবু, কমলা, জাম্বুরা বা বাতাবি লেবুর মতো টক ফলগুলোতে রয়েছে পুষ্টির এক অপার ভাণ্ডার। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ক্যানসার ও মস্তিষ্কের সুরক্ষায় এই ফলগুলোর কার্যকারিতা চিকিৎসাবিজ্ঞানেও স্বীকৃত।টক ফল ভিটামিন ‘সি’-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎস, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ত্বক মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, মাত্র একটি মাঝারি আকারের কমলালেবু থেকেই দৈনিক চাহিদার পুরো ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া সম্ভব। এছাড়া এতে ভিটামিন ‘বি’, পটাসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম ও তামার পাশাপাশি ৬০টিরও বেশি ধরনের ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে।এই জাতীয় ফলগুলো ফাইবারের দারুণ উৎস (যেমন—মাত্র এক কাপ কমলায় প্রায় চার গ্রাম ফাইবার থাকে)। এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে দারুণ সাহায্য করে। বিশেষ করে কমলায় থাকা দ্রবণীয় ফাইবার রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।যারা ওজন বা ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের খাদ্যতালিকায় টক ফল আদর্শ পছন্দ। এতে ক্যালোরির পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকলেও পর্যাপ্ত পানি ও ফাইবার থাকায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে।প্রস্রাবে সাইট্রেটের মাত্রা কমে গেলে অনেক সময় কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সাইট্রাস ফল প্রস্রাবে সাইট্রেটের মাত্রা প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে, যা কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমিয়ে দেয়।বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত টক ফল খাওয়ার অভ্যাস খাদ্যনালী, পাকস্থলী, স্তন ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েডসহ বিভিন্ন উদ্ভিদ যৌগ নতুন ক্যানসার কোষ গঠনে বাধা দেয় এবং ক্ষতিকারক কার্সিনোজেনকে নিষ্ক্রিয় করে।সাইট্রাস ফল নিয়মিত খাওয়ার ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। এসব ফলের মধ্যে থাকা বিশেষ কিছু ফ্ল্যাভোনয়েড (যেমন—নারিংজিন) শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।টক ফলে বিদ্যমান ফ্ল্যাভোনয়েড মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ রক্ষায় দারুণ কার্যকরী। এগুলো আলঝেইমার ও পারকিনসনের মতো মারাত্মক নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ বা স্মৃতিভ্রংশ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

তাহসিফ হত্যা মামলায় দীপের আরও ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

তাহসিফ হত্যা মামলায় দীপের আরও ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে নৌ পুলিশ।আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন ঢাকার আদালতে এই রিমান্ড আবেদন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।এর আগে গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) মামলার প্রথম দফায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনের বিপরীতে আদালত দীপের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে জমা দেওয়া রিমান্ড আবেদনে ঘটনার দিন রাতের চাঞ্চল্যকর বেশ কিছু তথ্য ও প্রাথমিক তদন্তের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে:তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, ঘটনার দিন (২৭ অক্টোবর) রাতে নিহত তাহসিফ সাউরিকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন আসামি দীপ।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ স্বীকার করেছেন সাউরি তাঁর সিনিয়র বড় ভাই ছিলেন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দীপের সরাসরি জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।মামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং আসামি যাতে কোনোভাবে জামিনে মুক্ত হয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে না পারেন—সেজন্য তাঁকে আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন বলে পুলিশ জানিয়েছে।মামলার নথি ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যায় ছোট ভাই বা জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ সাউরি।তাহসিফ রাতে না ফেরায় তাঁর মা ফোন করলে তিনি জানান দ্রুত ফিরছেন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মায়ের ফোনে মেসেঞ্জারে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বলেন, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। এরপর থেকেই তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে ২৯ অক্টোবর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।গত ৩০ অক্টোবর রাতে নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দীপকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream