মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
সর্বশেষ

বাংলাদেশের ওষুধে শতভাগ শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দিলো ট্রাম্প

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২০টি দেশ ও অঞ্চল থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট কিছু জটিল ও বিশেষায়িত ওষুধে শতভাগ শুল্কছাড় (শূন্য শুল্ক) সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বাণিজ্য বিভাগের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি (বিআইএস) সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত ও সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের তালিকা প্রকাশ করে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের নীতিমালার আলোকে গৃহীত এ সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি ওষুধ শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি স্বাস্থ্য চাহিদা মেটাতে সক্ষম এবং বিশেষ চিকিৎসা প্রযুক্তির আওতাভুক্ত পণ্যগুলো এই শূন্য শুল্ক সুবিধার অন্তর্ভুক্ত থাকবে:বিরল বা দুর্লভ রোগের ওষুধ, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, রক্তের প্লাজমা (রক্তরস) থেকে উৎপাদিত উপাদান, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা সামগ্রী, সেল ও জিন থেরাপি এবং অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেট।রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক (CBRN) হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রাণিচিকিৎসার পণ্য।উল্লেখিত বিশেষায়িত পণ্যের কাঁচামাল ও প্রাসঙ্গিক উপাদানসমূহ শুল্কছাড় পাবে। পাশাপাশি সাধারণ জেনেরিক ওষুধ ও এর উপাদানগুলোকে সেকশন ২৩২-এর আওতায় আরোপিত এই বিশেষ শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর তথ্যমতে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সুবিধা পেতে দুটি মূল শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে—প্রথমত, দেশটির সঙ্গে কার্যকর বা প্রস্তাবিত বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামো চুক্তি থাকতে হবে; এবং দ্বিতীয়ত, পণ্যগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি স্বাস্থ্য অবকাঠামোর জন্য অপরিহার্য হতে হবে।বাংলাদেশের পাশাপাশি তালিকায় রয়েছে ভারত, যুক্তরাজ্য, জাপান, সুইজারল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, জর্ডান এবং উত্তর মেসিডোনিয়া। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ স্পষ্ট করেছে যে, নির্দিষ্ট এই বিষেশায়িত তালিকার বাইরে থাকা পেটেন্টযুক্ত সাধারণ বা প্রচলিত ওষুধের ওপর আগের নিয়মেই শতভাগ (১০০%) শুল্ক বহাল থাকবে—যদি না তা অন্য কোনো দ্বিপাক্ষিক বিশেষ চুক্তির যোগ্য হয়।

এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা: তথ্য উপদেষ্টা

দেশে এলপিজি বা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এলপিজি মজুত করে বাজারে অস্থিরতা বা জনঅসন্তোষ তৈরির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।জাহেদ উর রহমান জানান, গত আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন। এসব তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলপিজির সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে।তিনি বলেন, দেশের বাজারে এলপিজির কোনো ঘাটতি নেই বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে জানিয়েছেন এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা। সম্প্রতি এলপিজির আমদানি, মজুত, সরবরাহ ও বাজারদর পর্যালোচনায় অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তারা এ তথ্য জানান।তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও দেশের কিছু এলাকায় এলপিজির দাম বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ যাতে এলপিজি মজুত করে কৃত্রিম সংকট বা জনঅসন্তোষ তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছেন মন্ত্রী।বিশ্ববাজারে বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে বর্তমানে এক ধরনের জল্পনামূলক প্রবণতা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাবেও দাম বাড়তে পারে। বিষয়টি সরকার নজরদারিতে রেখেছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।সরকারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, আগের তুলনায় নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থেকে দেশ অনেকটাই বেরিয়ে এসেছে এবং সহিংসতাও কমেছে।তিনি আরও বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হলে অপতথ্যের বিস্তারও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

বাংলাদেশকে নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি দিতে পারবে না কাতার এনার্জি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার প্রধান ক্রেতা দেশগুলোতে আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে কাতার এনার্জি।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি তাদের ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির নোটিশের সময়সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত এপ্রিল মাস থেকেই কাতারি এলএনজি সরবরাহে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। রয়টার্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার ফলে কাতারের এলএনজি রপ্তানি ৯৬ শতাংশ কমে গেছে।গত বছর এই একই সময়ে কাতার যেখানে ৫০৯টি এলএনজি কার্গো বিশ্ববাজারে পাঠাতে পেরেছিল, সেখানে এ বছরের আগস্টের শেষ পর্যন্ত তারা মাত্র ১৮টি কার্গো পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।ইতালির শীর্ষ জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এডিসন’ জানিয়েছে, কাতার এনার্জি সম্প্রতি তাদের আরও ৬টি এলএনজি কার্গো বাতিল করেছে। এ নিয়ে এডিসনের বাতিল হওয়া চালানের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৫টিতে। কাতার এনার্জির সঙ্গে ২০০৯ সাল থেকে চলা ২৫ বছর মেয়াদী চুক্তি থাকার পরও ইতালি এখন ঘাটতি মেটাতে চড়া দামে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকেছে।আসন্ন শীত মৌসুমকে সামনে রেখে যখন এশীয় ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে গ্যাসের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, ঠিক সেই মুহূর্তে কাতারের এই সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্তে বৈশ্বিক বাজারে গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে।কাতার এনার্জির দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশের জাতীয় গ্যাস গ্রিড মারাত্মক সংকটে পড়তে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন এবং সার কারখানা চালুর ক্ষেত্রে বড় ধরনের গ্যাস ঘাটতির আশঙ্কা করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।সংকট এড়াতে জার্মানি সহ ইউরোপের ধনী দেশগুলো বিকল্প উৎস থেকে তাদের গ্যাস মজুদ পূরণে নামায় বাজার সরবরাহ সীমিত হয়ে এসেছে, যা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনৈতিক দেশের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ভ্যাটের রিটার্ন জমার নিয়মে পরিবর্তন আসছে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে ভ্যাটের দাখিলপত্র বা রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়মে পরিবর্তন আনছে সরকার। এখন থেকে প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে একবার রিটার্ন জমা দেওয়ার পরিবর্তে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তা জমা দেওয়ার বিধান চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এ সংক্রান্ত ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ খসড়াটি উপস্থাপন করে।মন্ত্রিসভার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজস্ব আদায় ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে ‘মূল্য সংযোজন কর আইন, ২০১২’-এর ৬৪ ধারায় সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রস্তাবিত সংশোধন অনুযায়ী, প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দাখিলপত্র জমা দিতে হবে। নির্ধারিত ১৫তম দিন সরকারি ছুটির আওতায় পড়লে পরবর্তী কার্যদিবসে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।তবে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ২০ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দিতে পারবে।মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে আরও গতি আনতেই রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা ও প্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে অধ্যাদেশটির খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

দেশে এখন নৈরাজ্য নেই, অন্তর্বর্তী সময়ের চেয়ে অবস্থা ভালো: তথ্য উপদেষ্টা

দেশে এখন নৈরাজ্য নেই, অন্তর্বর্তী সময়ের চেয়ে অবস্থা ভালো: তথ্য উপদেষ্টা

দেশে অপরাধের ঘটনা থাকলেও বর্তমানে কোনো নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন ভালো।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে অপরাধ হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় কিছু অপরাধ বেড়েছে, আবার কিছু কমেছেও। তথ্য-উপাত্তে এর প্রতিফলন রয়েছে। তবে বর্তমানে দেশে নৈরাজ্য নেই এবং আগের সময়ের তুলনায় পরিস্থিতি অনেক ভালো বলে মন্তব্য করেন তিনি।জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ পরিস্থিতিতে ৫৫ লাখ মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু রয়েছে।এলপিজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বাজারে এলপিজি গ্যাসের কোনো সংকট নেই বলে আমদানিকারক ও অপারেটররা সরকারকে জানিয়েছেন। অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ যাতে এলপিজি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী সতর্ক করেছেন। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা নেবে বাংলাদেশ। এর আওতায় প্রযুক্তি বিনিময়, পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং বেসামরিক জ্বালানি খাতে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় রয়েছে। এই সমঝোতার কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো সমস্যা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।যৌথ বাহিনী বা বিশেষ অভিযান প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পুলিশ তাদের কার্যক্রম বাড়াচ্ছে। প্রয়োজন হলে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে আইনের সীমার মধ্যে থেকে সরকার প্রয়োজনীয় যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যৌথ বাহিনীও তাদের কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করছে বলে জানান তিনি।বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগ জড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ। বর্তমান সরকারের সময়ে সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ বা দলের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করছে না—এমন দাবি তিনি করছেন না। তবে বিএনপিকে চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত করে একটি ‘ব্র্যান্ডিং’ বা ‘ন্যারেটিভ’ তৈরির চেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন এবং বাংলাদেশ তাকে ফেরত চায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতকে তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এ বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় ইস্যু হিসেবে দেখছে এবং এতে অন্য কোনো দেশের যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে বোঝাতে চেয়েছে।তিনি আরও বলেন, কোনো দেশের চাপ বা শর্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত নেবে না। এয়ারবাস কিংবা বোয়িং—যে উড়োজাহাজই কেনা হোক, তা দেশের প্রয়োজন বিবেচনা করেই কেনা হবে।

৩২ মিনিট আগে
৫৫ লাখ মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চলছে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

৫৫ লাখ মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চলছে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

দেশে ৫৫ লাখ মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।এলপিজি প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশের বাজারে এলপিজি গ্যাসের কোনো সংকট নেই বলে আমদানিকারক ও অপারেটররা সরকারকে জানিয়েছেন। কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে এলপিজি মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা নেবে বাংলাদেশ। এর আওতায় প্রযুক্তি বিনিময়, পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং বেসামরিক জ্বালানি খাতে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় রয়েছে। এ সহযোগিতার কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো সমস্যা হবে বলে মনে করেন না তিনি।দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে অপরাধ ঘটছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় কিছু অপরাধ বেড়েছে, আবার কিছু কমেছে—তথ্য-উপাত্তে এমন চিত্রই পাওয়া যাচ্ছে। তবে বর্তমানে দেশে কোনো নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি নেই এবং তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।যৌথ বাহিনী বা বিশেষ অভিযান পরিচালনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ তাদের কার্যক্রম বাড়াচ্ছে। প্রয়োজন হলে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে আইনের সীমার মধ্যে থেকে সরকার যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি সফরে এলে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানাত। বাংলাদেশ ও ভারতে অনেক সময় গুজব ও অনুমাননির্ভর খবর প্রকাশিত হয়। অজিত দোভাল বাংলাদেশ সফর করেছেন—এমন কোনো তথ্য সরকারের কাছে নেই।বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগ জড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ। বর্তমান সরকারের সময়ে সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ বা দলের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করছে না—এমনটা বলা হচ্ছে না। তবে বিএনপিকে চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত করে একটি ‘ব্র্যান্ডিং’ বা ‘ন্যারেটিভ’ তৈরির চেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ তাকে চায় এবং ভারতকে তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, বিষয়টি বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অংশ এবং এতে অন্য কোনো দেশের সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোনো দেশের চাপ বা শর্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে না। এয়ারবাস কিংবা বোয়িং—যে উড়োজাহাজই কেনা হোক, দেশের প্রয়োজন বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

১ ঘন্টা আগে
বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নে ১১ দল কর্মসূচি দিচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নে ১১ দল কর্মসূচি দিচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হিসেবে ১১ দলের বিভিন্ন কর্মসূচিকে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামে শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বেহেশতের কথা বলে ভোট নিলেও মসজিদ, মাদরাসা, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় শিক্ষকদের নিয়ে ভাবেনি। তার ভাষ্য, এসব বিষয় নিয়ে তারেক রহমান চিন্তা করেছেন।সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে শাহে আলম বলেন, সরকারের নেওয়া কর্মসূচিগুলোতে সমর্থন না দিয়ে দেশের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব তৎপরতা সফল হবে না এবং সরকার তার নিজস্ব গতিতে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এ সময় শহিদ আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।কবর জিয়ারতের সময় জেলা পরিষদ প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১ ঘন্টা আগে
এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা: তথ্য উপদেষ্টা

এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা: তথ্য উপদেষ্টা

দেশে এলপিজি বা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এলপিজি মজুত করে বাজারে অস্থিরতা বা জনঅসন্তোষ তৈরির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।জাহেদ উর রহমান জানান, গত আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন। এসব তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলপিজির সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে।তিনি বলেন, দেশের বাজারে এলপিজির কোনো ঘাটতি নেই বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে জানিয়েছেন এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা। সম্প্রতি এলপিজির আমদানি, মজুত, সরবরাহ ও বাজারদর পর্যালোচনায় অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তারা এ তথ্য জানান।তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও দেশের কিছু এলাকায় এলপিজির দাম বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ যাতে এলপিজি মজুত করে কৃত্রিম সংকট বা জনঅসন্তোষ তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছেন মন্ত্রী।বিশ্ববাজারে বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে বর্তমানে এক ধরনের জল্পনামূলক প্রবণতা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাবেও দাম বাড়তে পারে। বিষয়টি সরকার নজরদারিতে রেখেছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।সরকারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, আগের তুলনায় নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থেকে দেশ অনেকটাই বেরিয়ে এসেছে এবং সহিংসতাও কমেছে।তিনি আরও বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হলে অপতথ্যের বিস্তারও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

২ ঘন্টা আগে
রিমান্ডে পুলিশকে নতুন তথ্য জানালেন এমপি নজরুল

রিমান্ডে পুলিশকে নতুন তথ্য জানালেন এমপি নজরুল

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে ন্যাম ভবনের বারান্দায় ঘুমাতে হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল প্রথমে মরিয়মকে মৌখিকভাবে বিয়ে করার কথা স্বীকার করেছেন বলেও আদালতকে জানানো হয়েছে।মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম।এদিন নজরুলকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। প্রসিকিউশনের পক্ষে পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য আদালতকে জানান।তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলার বাদী মরিয়মের বাবা এসএম মাসুম বিল্লাহ তার আত্মীয়। নজরুলের সঙ্গে তার ভাগনে সম্পর্ক রয়েছে। মরিয়ম তার নাতনি সম্পর্কের। ঢাকায় এলে মরিয়মের বাবার বাসায় থাকতেন নজরুল এবং সেখান থেকেই সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এভাবে মরিয়মের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।পুলিশ জানায়, গত ১৭ জুন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মরিয়মকে মৌখিকভাবে বিয়ে করেন নজরুল। পরে নিজ এলাকায় তাদের বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়।আদালতে দেওয়া আবেদনে পুলিশ আরও জানায়, ন্যাম ভবনে গাজী নজরুল ইসলাম তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মকে নিয়ে থাকতেন। সেখানে মরিয়মকে কখনো কখনো নজরুলের শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায় ঘুমাতে হতো। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনা সম্পর্কে নজরুলের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তদন্ত কর্মকর্তা।তবে আদালতে নজরুলের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান তার জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, প্রথমে থানা পুলিশ এবং পরে ডিবি পুলিশ নজরুলকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কিন্তু আত্মহত্যায় প্ররোচনার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পুলিশ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই রাতেই গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে নজরুল, মাকছুদা ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার বাবা এসএম মাসুম বিল্লাহ।পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই রাতে মামলার তদন্তভার ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিমান্ড শেষে মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।এর আগে ২০ জুলাই ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। পরে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন। এরপর সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী।

৩ ঘন্টা আগে
ভ্যাটের রিটার্ন জমার নিয়মে পরিবর্তন আসছে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

ভ্যাটের রিটার্ন জমার নিয়মে পরিবর্তন আসছে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে ভ্যাটের দাখিলপত্র বা রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়মে পরিবর্তন আনছে সরকার। এখন থেকে প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে একবার রিটার্ন জমা দেওয়ার পরিবর্তে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তা জমা দেওয়ার বিধান চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এ সংক্রান্ত ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ খসড়াটি উপস্থাপন করে।মন্ত্রিসভার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজস্ব আদায় ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে ‘মূল্য সংযোজন কর আইন, ২০১২’-এর ৬৪ ধারায় সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রস্তাবিত সংশোধন অনুযায়ী, প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দাখিলপত্র জমা দিতে হবে। নির্ধারিত ১৫তম দিন সরকারি ছুটির আওতায় পড়লে পরবর্তী কার্যদিবসে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।তবে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ২০ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দিতে পারবে।মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে আরও গতি আনতেই রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা ও প্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে অধ্যাদেশটির খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

৪ ঘন্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আলহুমৌদি। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিপাক্ষিক এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনশক্তি রপ্তানি জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা: বাংলাদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তার সুযোগ প্রসারের ওপর জোর দেওয়া হয়। বিশেষ করে এনার্জি ও ডিজিটাল হাব বিনির্মাণে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।   জনশক্তি ও শ্রমবাজার: মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের পরিধি বাড়ানো, নতুন শ্রমবাজার তৈরি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।   প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি: বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সহ ইউএই দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সুদৃঢ় সম্পর্কের কথা স্মরণ করে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের প্রধান বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে ইউএই-এর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতৃত্বকে শুভকামনা জানান এবং পারস্পরিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করেন।

২১ ঘন্টা আগে
সাইবার সুরক্ষা আইন নিপীড়নমূলক হবে না, সাংবাদিকদের সুরক্ষায় যুক্ত হচ্ছে বিশেষ বিধান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাইবার সুরক্ষা আইন নিপীড়নমূলক হবে না, সাংবাদিকদের সুরক্ষায় যুক্ত হচ্ছে বিশেষ বিধান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রস্তাবিত 'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬' যাতে কোনোভাবেই কোনো নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত না হয় এবং কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম যেন এর শিকার না হন, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের মতামত গ্রহণ এবং বিস্তৃত আলোচনার মাধ্যমেই এই আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।মন্ত্রী আজ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে (কক্ষ নং: ১২০১, বিল্ডিং নং: ৬) 'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬'-এর খসড়া পর্যালোচনার নিমিত্ত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অংশীজনদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কন্সালটেশন সভা শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।প্রেস ব্রিফিংয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পর্যালোচনার বিস্তারিত তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের সংশোধন আনার লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত খসড়া বিলটি ইতিপূর্বে মন্ত্রিসভায় (কেবিনেট) উপস্থাপন করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভা থেকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে যাতে সাইবার স্পেসে কর্মরত আইটি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের (স্টেকহোল্ডার) সাথে বিস্তৃত আলোচনা ও পরামর্শ করা হয়। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় আইনটি যাতে কোনো নিপীড়নমূলক হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সেজন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত সংগ্রহের জন্য খসড়া বিলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং সাইবার স্পেসের ব্যবহারকারীরা তাদের মূল্যবান মতামত পাঠিয়েছেন এবং তা সরকারের পক্ষ থেকে সংকলন করা হয়েছে।মন্ত্রী বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক, প্রতিনিধি, বিশিষ্ট সাংবাদিক, বিভিন্ন সংবাদপত্রের সংগঠন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন পেশাজীবী অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে এটি সরকারের দ্বিতীয় বৈঠক। গত ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে সম্পাদকদের সাথে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, তারা পরবর্তী সভায় সুস্পষ্ট লিখিত মতামত প্রদান করবেন বা ওয়েবসাইটে পাঠাবেন। অনেকে আজকের বক্তব্যে মতামতের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছেন এবং লিখিত মতামত হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সভার আলোচনার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহবুব আনাম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেছেন। তিনি প্রস্তাব করেন যে, মিডিয়া ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আরও কিছু সময় নিয়ে নিবিড় আলোচনা করা প্রয়োজন, যাতে গণমাধ্যম কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ভিকটিমাইজ না হয় এবং আইনের মধ্যে প্রয়োজনীয় 'সেভিং ক্লজ' বা সুরক্ষা অনুচ্ছেদ নিশ্চিত করা যায়। সরকার এই প্রস্তাবটি সানন্দে গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইন করতে চাইনি এবং চাই না। কোনো সাংবাদিক যেন এই আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।"সংবাদপত্র, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সুরক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এসেছে যে— কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে। সরকার এই প্রস্তাবটিকে অত্যন্ত উপযুক্ত ও যুক্তিযুক্ত মনে করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অংশীজনদের কাছ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ আসার পর তা বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া, মামলা বা আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে যাতে অনির্দিষ্টকাল ধরে কাউকে ঝুলে থাকতে না হয়, সেজন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (Time Limit) নির্ধারণের বিধান রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মন্ত্রী বলেন, আইনের খসড়া চূড়ান্তকরণের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিশেষ সমন্বয় কাঠামো গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সার্বিক সমন্বয় ও পরামর্শ গ্রহণের সুবিধার্থে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও)-কে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ প্রক্রিয়ার সমন্বয় সাধন করবে। এই সমন্বিত কার্যক্রমে সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং আইটি মন্ত্রণালয়ের গঠিত সাইবার বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ প্যানেল সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তারা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করবেন এবং ১৫ দিন পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যরা যৌথভাবে বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার পর্যায়সমূহ বর্ণনা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় নিয়ে যাওয়ার আগে পুনরায় ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ও অংশীজনেরা আবারও মতামত প্রদানের পূর্ণ স্বাধীনতা পান। প্রাপ্ত মতামত গ্রহণযোগ্য হলে তাও খসড়ায় যুক্ত করা হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর বিলটি কেবিনেটের অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। কেবিনেট অনুমোদন দিলে তা জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপিত হবে। তবে সংসদে নেওয়া হলেও তাড়াহুড়ো করে তা পাস করা হবে না; সংসদীয় আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬' এর মূল উদ্দেশ্য বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইন তৈরি করতে চায়, যার মাধ্যমে দেশ, সমাজ এবং বিশেষ করে যুবসমাজকে সাইবার স্পেসের বিভিন্ন অপরাধ ও সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি (Social and Religious Harmony) এবং পারিবারিক বন্ধন ও দেশীয় সংস্কৃতির সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের (International Standards) সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

২৩ ঘন্টা আগে
সংবিধানে মৌলিক সংশোধনের জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধানে মৌলিক সংশোধনের জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধানে যেকোনো ধরনের মৌলিক সংশোধনী আনতে হলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগেই জনগণের রায়ের জন্য গণভোট (রেফারেন্ডাম) আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে আয়োজিত সংবিধান সংস্কার বিষয়ক বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসেই সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব বিল আকারে জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।বৈঠক শেষে সাংবিধানিক নিয়মের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের মৌলিক কোনো জায়গায় হাত দিলে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সম্মতি নেওয়া বাধ্যবাধকতা।কোন ক্ষেত্রে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, "আমরা যদি সংবিধানে এমন কোনো পরিবর্তন আনি, যাতে সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং অনুচ্ছেদ ৮, ৪৮, ৫৬ কিংবা ১৪২-এর মধ্যে কোনো সংশোধনী আসে—তবে অবশ্যই সেটিকে রেফারেন্ডামে দিতে হবে। সংসদে পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরের পূর্বেই তা জনগণের গণভোটে দেওয়া হবে।" এই সংশোধনীতে 'জুলাই জাতীয় সনদ'-কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিজয়ী দল হিসেবে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের প্রতিফলনে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সংবিধানে যুক্ত করা হবে। এর মধ্যে মূল প্রস্তাবনায় 'মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' পুনর্বহাল করার বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে।কমিটির ৩য় এই বৈঠকে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা অংশ নেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া গণমাধ্যমকর্মীরা সংবিধানের অন্যতম মূল স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ (Fourth Estate) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার জোর দাবি জানান। বৈঠকে অংশ নিয়ে দৈনিক দেশ রূপান্তর-এর সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি বলেন, "আমরা কমিটিকে স্পষ্ট বলেছি, সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে যাতে প্রধান বিরোধী দলকে সংবিধান সংস্কারের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যায়, সরকারকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।"বিরোধী দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দলকে কমিটিতে অংশ নেওয়ার জন্য বারবার উন্মুক্ত আহ্বান জানানো হয়েছে এবং এখনো আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে চূড়ান্তভাবে বৈঠকে অংশ নেওয়া বা না নেওয়া বিরোধী দলের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়।

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে বেরিয়ে আসছে নতুন রহস্য

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে বেরিয়ে আসছে নতুন রহস্য

আইফোন দিয়ে ছবি তোলা ও টিকটক ভিডিও তৈরির সুবাদে গড়ে উঠেছিল বন্ধুত্ব। তবে সেই দামি আইফোনের লোভেই শেষ পর্যন্ত বলি হতে হলো ১৩ বছর বয়সি স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে। হত্যার এক সপ্তাহ আগে পরিকল্পনা করে তাকে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে নিয়ে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত তিন আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।মামলায় গ্রেফতার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) এবং অপর দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে তুহিন জানায়, ৫-৬ মাস আগে অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। বন্ধু সিয়ামের মোটরসাইকেলে ঘুরে ছবি তোলা ও টিকটক করার মাধ্যমেই তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।সাত দিন আগের পরিকল্পনা: আইফোনের লোভে ঘটনার আগের শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে তুহিন ও অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরটি মিলে অপ্রতিমকে হত্যা করে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত ছক কষে।পরিকল্পিত আক্রমণ: ঘটনার দিন ছবি তোলার কথা বলে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাত থেকে আইফোন কেড়ে নিলে অপ্রতিম তা ফেরত চায়। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কোদালের হাতল দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করা হয়।আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, তিন আসামির জবানবন্দিতে অপ্রতিমকে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং কোদালের হাতল দিয়ে আঘাত করার ঘটনায় পূর্ণ মিল রয়েছে।তবে হত্যার মূল দায়ভার চাপানোর ক্ষেত্রে আসামিরা একে অপরকে অভিযুক্ত করেছে। দোকান কর্মচারী কিশোরটির দাবি, তুহিন একাই আইফোনের লোভে অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। আর তৃতীয় কিশোর জানায়, ঘটনার দিন বিকেলে তাকে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। তবে তিনজনের জবানবন্দি থেকেই স্পষ্ট যে, এটি কোনো তাৎক্ষণিক ঘটনা ছিল না; বরং আইফোন আত্মসাৎ করতেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে কিশোর অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে।

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
টিআইবি বলেছে, দখল-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

টিআইবি বলেছে, দখল-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ০ জন

রাড্ডার ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত থাকলেও ব্যবস্থা: ডা. জাহেদ

ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।এ সময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে সহযোগিতা চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে ভারত, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সমঝোতা করবে বাংলাদেশ। কোনো দেশের শর্ত বা চাপের কাছে বাংলাদেশ নতি স্বীকার করবে না। বোয়িং কিংবা এয়ারবাস কেনার ক্ষেত্রেও দেশের প্রয়োজনকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।এলপিজি প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, আমদানিকারক ও অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী দেশে এলপি গ্যাসের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।তিনি জানান, গত আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন। সংশ্লিষ্ট বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলপিজির সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, সম্প্রতি এলপিজির আমদানি, মজুত, সরবরাহ ও বাজারদর নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আমদানিকারক ও অপারেটররা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে জানিয়েছেন, দেশের বাজারে এলপিজির ঘাটতি নেই।

লিংক কপি করা হয়েছে!

আবারও জামিন পেলেন তানজিন তিশা

অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’-এর দায়ের করা প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশার  জামিনের মেয়াদ আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছেন আদালত।আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ২৩ নম্বর কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট কামালউদ্দিনের আদালত এ আদেশ দেন।মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ফ্যাশন হাউস 'অ্যাপোনিয়া' থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে প্রচারণা (প্রমোশন) না করা, মূল্য পরিশোধ না করা এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে তিশার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ পাঠানোর পর কোনো সাড়া না পাওয়ায় গত ৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে অ্যাপোনিয়ার এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় মামলাটি (সিআর মামলা নম্বর ৯৬২/২০২৫) দায়ের করেন।আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে তিশার বিরুদ্ধে আনা প্রতারণা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কথোপকথনের সত্যতা ডিবি প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়।এর আগে গত ১৩ আগস্ট তিশা ১০ নম্বর কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। আজ ২৯ সেপ্টেম্বর শুনানির পর তাঁর জামিনের সময়সীমা পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।বাদীপক্ষের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট সলিমুল্লাহ সরকার বলেন, "তানজিন তিশা দেশের একজন খ্যাতনামা সেলিব্রিটি, যাঁকে অসংখ্য মানুষ অনুসরণ করেন। তাঁর কাছ থেকে একজন নারী উদ্যোক্তার এ ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।"অন্যদিকে, ঘটনার শুরুতে অভিনেত্রী তানজিন তিশা সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছিলেন যে শাড়িটি উদ্যোক্তা তাঁকে 'উপহার' হিসেবে দিয়েছিলেন। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে হওয়া ডিজিটাল যোগাযোগের পর্যালোচনায় প্রতারণার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় বিষয়টি এখন বিচারাধীন।

ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখার অভ্যাস, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আধুনিক জীবনযাত্রায় ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনাকাঙ্ক্ষিত তুলনা মানসিক অবসাদ ও ক্লান্তির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠছে। মনস্তাত্ত্বিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দৈনন্দিন কাজের বাহ্যিক চাপের চেয়েও মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত তথ্য প্রবেশ এবং সবকিছু নিয়ে অতিরিক্ত সচেতন থাকা মানুষকে দ্রুত অবসাদগ্রস্ত করে তুলছে।বিবর্তন ও মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মন মূলত একটি নির্দিষ্ট ও ছোট সামাজিক পরিমণ্ডলে সীমিত সমস্যা মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে উঠেছিল। দূরবর্তী অঞ্চলের রাজনৈতিক সংকট, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা কিংবা অচেনা মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের সাফল্য ও ভ্রমণের ঝলকানি সার্বক্ষণিকভাবে স্ক্রিনে হাজির হচ্ছে।নিজের বাস্তব জীবনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগসূত্র না থাকা সত্ত্বেও মানুষ অবচেতনভাবেই পৃথিবীর বহুমাত্রিক বিষয়ের মানসিক চাপ নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছে, যা মস্তিষ্ককে ক্লান্ত করে তুলছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের আপাত সফল জীবনের সঙ্গে নিজের বাস্তবতার ক্রমাগত তুলনা মানুষের মানসিক ভার বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।সামাজিক মাধ্যমে কেবল মানুষের জীবনের সাজানো ও চমকপ্রদ মুহূর্তগুলোই প্রদর্শিত হয়, যা পুরো জীবনের প্রকৃত প্রতিচ্ছবি নয়।এই কৃত্রিম ও বাস্তবতাহীন তুলোনায় জড়িয়ে পড়ার ফলে ব্যক্তি নিজের সক্ষমতা, অর্জিত সাফল্য ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে এক ধরনের অযাচিত অতৃপ্তি ও হীনমন্যতায় ভুগতে শুরু করে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক এই ডিজিটাল ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে হলে জীবনযাত্রায় কিছু মৌলিক ও কার্যকর পরিবর্তন আনা জরুরি:দীর্ঘমেয়াদি বা এক মাসের দুশ্চিন্তায় একবারে ভারাক্রান্ত না হয়ে প্রতিদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একক কাজটি সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া উচিত।কোন বিষয়গুলো নিজের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে আছে এবং কোনটি কেবলই বাইরের তথ্য—এই পার্থক্য স্পষ্ট করে অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের মানসিক দায়ভার এড়িয়ে চলা জরুরি।সারাদিন নিরবচ্ছিন্নভাবে সামাজিক মাধ্যম বা সংবাদের পেছনে না ছুটে দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময় ডিভাইস থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা প্রয়োজন। কর্মঘণ্টা শেষে নিজস্ব সময়কে আলাদা করাই মনোযোগ ও ভেতরের স্বস্তি পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি।সব বিষয় একসঙ্গে সামলানোর মানসিকতা পরিহার করে অপ্রয়োজনীয় তথ্য ও কৃত্রিম তুলনা জীবন থেকে ছেঁটে ফেলাই বর্তমান যুগে মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখার সবচেয়ে কার্যকরী পথ।

জয়পুরহাটে ৮ম শ্রেনির শিক্ষার্থী  ধর্ষণের পর সন্তানের জন্ম, একজনের যাবজ্জীবন

জয়পুরহাটে ৮ম শ্রেনির শিক্ষার্থী ধর্ষণের পর সন্তানের জন্ম, একজনের যাবজ্জীবন

জয়পুরহাটে পাঁচবিবিতে ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর সন্তানের জন্ম মামলায় হামিদুল শেখ (৫৬) নামে একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার  টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের আরো কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন । মঙ্গলবার  (২৯ সেপ্টেম্বর ) দুপুর দুইটায়  শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহমান এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত হামিদুল শেখ  পাঁচবিবি  উপজেলার শন্তাদিগর গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন শেখের ছেলে।মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার শন্তাদিগর গ্রামের হামিদুল শেখ প্রতিবেশী ভাতিজার ৮ম শ্রেণিতে পড়াশুনা করা মেয়ের নিজ বাড়ির সকলের অনুপস্থিতিতে ধর্ষনের শিকার হয়। এসময়  অভিযুক্ত হামিদুল শেখ মেয়েটিকে ভয়ভীতি দেখায়। পরবর্তীতে ৩/৪ মাস পর মেয়েটি গর্ভবতী হলে পরিবারের  লোকজন জানতে পারেন। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই শিশু শিক্ষার্থীর পিতা বাদী হয়ে ২০০৫ সালের ১৯ আগস্ট পাঁচবিবি থানায় একজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা  পাঁচবিবি থানার উপ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুম আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন।     এ মামলার শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত আজ এই রায় দেন। মামলার রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী ছিলেন, স্পেশাল পিপি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী রিনাত ফেরদৌসি রিনি। আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন এ্যাডভোকেট হেনা কবীর। মামলার রাষ্ট্র পক্ষের স্পেশাল পিপি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী রিনাত ফেরদৌসি রিনি জানান, দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক আজ এই রায় প্রদান করেন। এই রায়ে তিনি সন্তুষ্ট।  উল্লেখ ধর্ষনের পর জন্ম দেওয়া  সন্তানের বয়স ২১ বছর পূর্ণ হওয়া  পর্যন্ত সন্তানের ভরন পোশন করবেন হামিদুল শেখ।  

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream