মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
সর্বশেষ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আলহুমৌদি। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিপাক্ষিক এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনশক্তি রপ্তানি জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা: বাংলাদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তার সুযোগ প্রসারের ওপর জোর দেওয়া হয়। বিশেষ করে এনার্জি ও ডিজিটাল হাব বিনির্মাণে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।   জনশক্তি ও শ্রমবাজার: মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের পরিধি বাড়ানো, নতুন শ্রমবাজার তৈরি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।   প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি: বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সহ ইউএই দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সুদৃঢ় সম্পর্কের কথা স্মরণ করে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের প্রধান বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে ইউএই-এর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতৃত্বকে শুভকামনা জানান এবং পারস্পরিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করেন।

সাইবার সুরক্ষা আইন নিপীড়নমূলক হবে না, সাংবাদিকদের সুরক্ষায় যুক্ত হচ্ছে বিশেষ বিধান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রস্তাবিত 'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬' যাতে কোনোভাবেই কোনো নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত না হয় এবং কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম যেন এর শিকার না হন, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের মতামত গ্রহণ এবং বিস্তৃত আলোচনার মাধ্যমেই এই আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।মন্ত্রী আজ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে (কক্ষ নং: ১২০১, বিল্ডিং নং: ৬) 'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬'-এর খসড়া পর্যালোচনার নিমিত্ত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অংশীজনদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কন্সালটেশন সভা শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।প্রেস ব্রিফিংয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পর্যালোচনার বিস্তারিত তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের সংশোধন আনার লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত খসড়া বিলটি ইতিপূর্বে মন্ত্রিসভায় (কেবিনেট) উপস্থাপন করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভা থেকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে যাতে সাইবার স্পেসে কর্মরত আইটি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের (স্টেকহোল্ডার) সাথে বিস্তৃত আলোচনা ও পরামর্শ করা হয়। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় আইনটি যাতে কোনো নিপীড়নমূলক হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সেজন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত সংগ্রহের জন্য খসড়া বিলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং সাইবার স্পেসের ব্যবহারকারীরা তাদের মূল্যবান মতামত পাঠিয়েছেন এবং তা সরকারের পক্ষ থেকে সংকলন করা হয়েছে।মন্ত্রী বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক, প্রতিনিধি, বিশিষ্ট সাংবাদিক, বিভিন্ন সংবাদপত্রের সংগঠন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন পেশাজীবী অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে এটি সরকারের দ্বিতীয় বৈঠক। গত ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে সম্পাদকদের সাথে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, তারা পরবর্তী সভায় সুস্পষ্ট লিখিত মতামত প্রদান করবেন বা ওয়েবসাইটে পাঠাবেন। অনেকে আজকের বক্তব্যে মতামতের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছেন এবং লিখিত মতামত হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সভার আলোচনার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহবুব আনাম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেছেন। তিনি প্রস্তাব করেন যে, মিডিয়া ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আরও কিছু সময় নিয়ে নিবিড় আলোচনা করা প্রয়োজন, যাতে গণমাধ্যম কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ভিকটিমাইজ না হয় এবং আইনের মধ্যে প্রয়োজনীয় 'সেভিং ক্লজ' বা সুরক্ষা অনুচ্ছেদ নিশ্চিত করা যায়। সরকার এই প্রস্তাবটি সানন্দে গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইন করতে চাইনি এবং চাই না। কোনো সাংবাদিক যেন এই আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।"সংবাদপত্র, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সুরক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এসেছে যে— কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে। সরকার এই প্রস্তাবটিকে অত্যন্ত উপযুক্ত ও যুক্তিযুক্ত মনে করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অংশীজনদের কাছ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ আসার পর তা বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া, মামলা বা আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে যাতে অনির্দিষ্টকাল ধরে কাউকে ঝুলে থাকতে না হয়, সেজন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (Time Limit) নির্ধারণের বিধান রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মন্ত্রী বলেন, আইনের খসড়া চূড়ান্তকরণের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিশেষ সমন্বয় কাঠামো গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সার্বিক সমন্বয় ও পরামর্শ গ্রহণের সুবিধার্থে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও)-কে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ প্রক্রিয়ার সমন্বয় সাধন করবে। এই সমন্বিত কার্যক্রমে সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং আইটি মন্ত্রণালয়ের গঠিত সাইবার বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ প্যানেল সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তারা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করবেন এবং ১৫ দিন পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যরা যৌথভাবে বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার পর্যায়সমূহ বর্ণনা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় নিয়ে যাওয়ার আগে পুনরায় ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ও অংশীজনেরা আবারও মতামত প্রদানের পূর্ণ স্বাধীনতা পান। প্রাপ্ত মতামত গ্রহণযোগ্য হলে তাও খসড়ায় যুক্ত করা হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর বিলটি কেবিনেটের অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। কেবিনেট অনুমোদন দিলে তা জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপিত হবে। তবে সংসদে নেওয়া হলেও তাড়াহুড়ো করে তা পাস করা হবে না; সংসদীয় আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬' এর মূল উদ্দেশ্য বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইন তৈরি করতে চায়, যার মাধ্যমে দেশ, সমাজ এবং বিশেষ করে যুবসমাজকে সাইবার স্পেসের বিভিন্ন অপরাধ ও সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি (Social and Religious Harmony) এবং পারিবারিক বন্ধন ও দেশীয় সংস্কৃতির সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের (International Standards) সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

লালম‌নিরহা‌টের পাটগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪

আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ঘুন্টি বাজার এলাকায় বুড়িমারী-লালমনিরহাট মহাসড়কে লালম‌নিরহাট থে‌কে বুড়িমারী যাবার সময় এ‌ক‌টি ট্রাক নিয়ন্ত্রন হা‌রিয়ে বিপরীত থে‌কে আসা এক‌টি ইজিবাইক কে চাপা দি‌লে ৪ জন নিহত হন। পাটগ্রাম থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, লালম‌নিরহাট থে‌কে আসা ট্রাক‌টির সাম‌নের চাকা ফে‌টে গে‌লে (পাংচার) ট্রাকটি নিয়ন্ত্রন হা‌রি‌য়ে বু‌ড়িমা‌রি থে‌কে আসা  ইজবাই‌কে চাপা দি‌য়ে পার্শ্ববর্তী এক‌টি দোকা‌নে ঢু‌কে প‌রে এতে  ঘটনাস্থ‌লে ২ নিহত হয়েছেন এবং উপ‌জেলা স্বাস্থ‌্য কে‌ন্দ্রে চি‌কিৎসাধীন অবস্থায় আরও ২ জন মারা গে‌ছেন। আহত পাঁচজন কে উন্নত চি‌কিৎসার জন‌্য রংপুর মে‌ডি‌কেল ক‌লে‌জে রেফার্ড করা হ‌য়ে‌ছে।ঘটনার পর ট্রা‌কের চালক ও হেলপার পলাতক রয়ে‌ছে। পু‌লিশ নিহত‌তের সুরতহাল রি‌পোট তৈরী ক‌রে‌ছে, নিহত‌দের প‌রিবার ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নি‌তে চাই‌লে তা‌দের কোন দাবী না থাকায় পু‌লিশ নিহ‌তের প‌রিবা‌রের কা‌ছে লাশ হস্তান্তর ক‌রে‌ছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনাস্থে‌লে তাৎক্ষ‌নিক ভা‌বে উপস্থিত হ‌য়ে‌ছেন, উপ‌জেলা প্রশাসন, হাইও‌য়ে পু‌লিশ, ফায়ার সা‌র্ভিস ও পু‌লিশ প্রশাসন। 

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় তেহরানের একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখানকার ধ্বংসস্তূপ থেকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে উদ্ধার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন দেশটির ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর সদস্য মোহসেন হায়দারি।কাতারি টেলিভিশন চ্যানেল আল আরাবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট ও গালফ নিউজ-এর প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।মোহসেন হায়দারির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বে হামলায় আহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনিকে তেহরানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই হাসপাতালসহ রাজধানীর আরও দুটি হাসপাতালে বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার শিকার তৃতীয় হাসপাতালটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলে সেখান থেকেই ৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পরপরই তাঁকে একটি চরম সুরক্ষিত ও গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। হামলার পর থেকে তিনি আর জনসম্মুখে আসেননি বা কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য দেননি, যা তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা সৃষ্টি করেছে।ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর কুম শহরের সচিবালয়েও রক্তক্ষয়ী হামলা চালানো হয়। এতে সংস্থার আটজন কর্মকর্তা নিহত হন এবং নেতৃত্ব নির্বাচনসংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি ধ্বংস হয়ে যায়।বিপর্যয়ের পর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বজায় রেখে কাগজের ব্যালটে ভোট গ্রহণ করা হয়। হায়দারি নিজেই সর্বপ্রথম মোজতবা খামেনির নাম সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রস্তাব করেন। মোট ৫৯টি ভোটের মধ্যে মোজতবা খামেনি ৫০টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি পান ৮টি ভোট এবং একজন সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন।ভোটের আগে সদস্যদের নিশ্চিত করা হয় যে মোজতবা খামেনি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য শারীরিকভাবে সক্ষম। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত মোজতবা নিজেও জানতেন না যে তিনি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।মোহসেন হায়দারি মোজতবা খামেনিকে ‘আড়ালের মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, পূর্বে ইরান সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক পদ তাঁর ছিল না। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পিতা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নের বরাতে নিউইয়র্ক পোস্ট দাবি করেছে, হামলায় মোজতবা খামেনির মুখে গুরুতর আঘাত লেগে থাকতে পারে। তবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে এখনো তাঁর শারীরিক অবস্থার আনুষ্ঠানিক তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।সুত্রঃ গলফ নিউজ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আলহুমৌদি। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিপাক্ষিক এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনশক্তি রপ্তানি জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা: বাংলাদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তার সুযোগ প্রসারের ওপর জোর দেওয়া হয়। বিশেষ করে এনার্জি ও ডিজিটাল হাব বিনির্মাণে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।   জনশক্তি ও শ্রমবাজার: মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের পরিধি বাড়ানো, নতুন শ্রমবাজার তৈরি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।   প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি: বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সহ ইউএই দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সুদৃঢ় সম্পর্কের কথা স্মরণ করে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের প্রধান বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে ইউএই-এর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতৃত্বকে শুভকামনা জানান এবং পারস্পরিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করেন।

৯ ঘন্টা আগে
সাইবার সুরক্ষা আইন নিপীড়নমূলক হবে না, সাংবাদিকদের সুরক্ষায় যুক্ত হচ্ছে বিশেষ বিধান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাইবার সুরক্ষা আইন নিপীড়নমূলক হবে না, সাংবাদিকদের সুরক্ষায় যুক্ত হচ্ছে বিশেষ বিধান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রস্তাবিত 'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬' যাতে কোনোভাবেই কোনো নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত না হয় এবং কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম যেন এর শিকার না হন, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের মতামত গ্রহণ এবং বিস্তৃত আলোচনার মাধ্যমেই এই আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।মন্ত্রী আজ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে (কক্ষ নং: ১২০১, বিল্ডিং নং: ৬) 'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬'-এর খসড়া পর্যালোচনার নিমিত্ত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অংশীজনদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কন্সালটেশন সভা শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।প্রেস ব্রিফিংয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পর্যালোচনার বিস্তারিত তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের সংশোধন আনার লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত খসড়া বিলটি ইতিপূর্বে মন্ত্রিসভায় (কেবিনেট) উপস্থাপন করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভা থেকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে যাতে সাইবার স্পেসে কর্মরত আইটি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের (স্টেকহোল্ডার) সাথে বিস্তৃত আলোচনা ও পরামর্শ করা হয়। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় আইনটি যাতে কোনো নিপীড়নমূলক হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সেজন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত সংগ্রহের জন্য খসড়া বিলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং সাইবার স্পেসের ব্যবহারকারীরা তাদের মূল্যবান মতামত পাঠিয়েছেন এবং তা সরকারের পক্ষ থেকে সংকলন করা হয়েছে।মন্ত্রী বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক, প্রতিনিধি, বিশিষ্ট সাংবাদিক, বিভিন্ন সংবাদপত্রের সংগঠন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন পেশাজীবী অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে এটি সরকারের দ্বিতীয় বৈঠক। গত ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে সম্পাদকদের সাথে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, তারা পরবর্তী সভায় সুস্পষ্ট লিখিত মতামত প্রদান করবেন বা ওয়েবসাইটে পাঠাবেন। অনেকে আজকের বক্তব্যে মতামতের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছেন এবং লিখিত মতামত হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সভার আলোচনার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহবুব আনাম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেছেন। তিনি প্রস্তাব করেন যে, মিডিয়া ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আরও কিছু সময় নিয়ে নিবিড় আলোচনা করা প্রয়োজন, যাতে গণমাধ্যম কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ভিকটিমাইজ না হয় এবং আইনের মধ্যে প্রয়োজনীয় 'সেভিং ক্লজ' বা সুরক্ষা অনুচ্ছেদ নিশ্চিত করা যায়। সরকার এই প্রস্তাবটি সানন্দে গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইন করতে চাইনি এবং চাই না। কোনো সাংবাদিক যেন এই আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।"সংবাদপত্র, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সুরক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এসেছে যে— কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে। সরকার এই প্রস্তাবটিকে অত্যন্ত উপযুক্ত ও যুক্তিযুক্ত মনে করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অংশীজনদের কাছ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ আসার পর তা বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া, মামলা বা আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে যাতে অনির্দিষ্টকাল ধরে কাউকে ঝুলে থাকতে না হয়, সেজন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (Time Limit) নির্ধারণের বিধান রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মন্ত্রী বলেন, আইনের খসড়া চূড়ান্তকরণের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিশেষ সমন্বয় কাঠামো গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সার্বিক সমন্বয় ও পরামর্শ গ্রহণের সুবিধার্থে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও)-কে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ প্রক্রিয়ার সমন্বয় সাধন করবে। এই সমন্বিত কার্যক্রমে সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং আইটি মন্ত্রণালয়ের গঠিত সাইবার বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ প্যানেল সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তারা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করবেন এবং ১৫ দিন পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যরা যৌথভাবে বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার পর্যায়সমূহ বর্ণনা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় নিয়ে যাওয়ার আগে পুনরায় ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ও অংশীজনেরা আবারও মতামত প্রদানের পূর্ণ স্বাধীনতা পান। প্রাপ্ত মতামত গ্রহণযোগ্য হলে তাও খসড়ায় যুক্ত করা হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর বিলটি কেবিনেটের অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। কেবিনেট অনুমোদন দিলে তা জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপিত হবে। তবে সংসদে নেওয়া হলেও তাড়াহুড়ো করে তা পাস করা হবে না; সংসদীয় আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬' এর মূল উদ্দেশ্য বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইন তৈরি করতে চায়, যার মাধ্যমে দেশ, সমাজ এবং বিশেষ করে যুবসমাজকে সাইবার স্পেসের বিভিন্ন অপরাধ ও সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি (Social and Religious Harmony) এবং পারিবারিক বন্ধন ও দেশীয় সংস্কৃতির সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের (International Standards) সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

১১ ঘন্টা আগে
সংবিধানে মৌলিক সংশোধনের জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধানে মৌলিক সংশোধনের জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধানে যেকোনো ধরনের মৌলিক সংশোধনী আনতে হলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগেই জনগণের রায়ের জন্য গণভোট (রেফারেন্ডাম) আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে আয়োজিত সংবিধান সংস্কার বিষয়ক বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসেই সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব বিল আকারে জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।বৈঠক শেষে সাংবিধানিক নিয়মের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের মৌলিক কোনো জায়গায় হাত দিলে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সম্মতি নেওয়া বাধ্যবাধকতা।কোন ক্ষেত্রে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, "আমরা যদি সংবিধানে এমন কোনো পরিবর্তন আনি, যাতে সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং অনুচ্ছেদ ৮, ৪৮, ৫৬ কিংবা ১৪২-এর মধ্যে কোনো সংশোধনী আসে—তবে অবশ্যই সেটিকে রেফারেন্ডামে দিতে হবে। সংসদে পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরের পূর্বেই তা জনগণের গণভোটে দেওয়া হবে।" এই সংশোধনীতে 'জুলাই জাতীয় সনদ'-কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিজয়ী দল হিসেবে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের প্রতিফলনে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সংবিধানে যুক্ত করা হবে। এর মধ্যে মূল প্রস্তাবনায় 'মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' পুনর্বহাল করার বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে।কমিটির ৩য় এই বৈঠকে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা অংশ নেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া গণমাধ্যমকর্মীরা সংবিধানের অন্যতম মূল স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ (Fourth Estate) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার জোর দাবি জানান। বৈঠকে অংশ নিয়ে দৈনিক দেশ রূপান্তর-এর সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি বলেন, "আমরা কমিটিকে স্পষ্ট বলেছি, সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে যাতে প্রধান বিরোধী দলকে সংবিধান সংস্কারের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যায়, সরকারকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।"বিরোধী দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দলকে কমিটিতে অংশ নেওয়ার জন্য বারবার উন্মুক্ত আহ্বান জানানো হয়েছে এবং এখনো আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে চূড়ান্তভাবে বৈঠকে অংশ নেওয়া বা না নেওয়া বিরোধী দলের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়।

১৪ ঘন্টা আগে
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে বেরিয়ে আসছে নতুন রহস্য

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে বেরিয়ে আসছে নতুন রহস্য

আইফোন দিয়ে ছবি তোলা ও টিকটক ভিডিও তৈরির সুবাদে গড়ে উঠেছিল বন্ধুত্ব। তবে সেই দামি আইফোনের লোভেই শেষ পর্যন্ত বলি হতে হলো ১৩ বছর বয়সি স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে। হত্যার এক সপ্তাহ আগে পরিকল্পনা করে তাকে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে নিয়ে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত তিন আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।মামলায় গ্রেফতার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) এবং অপর দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে তুহিন জানায়, ৫-৬ মাস আগে অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। বন্ধু সিয়ামের মোটরসাইকেলে ঘুরে ছবি তোলা ও টিকটক করার মাধ্যমেই তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।সাত দিন আগের পরিকল্পনা: আইফোনের লোভে ঘটনার আগের শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে তুহিন ও অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরটি মিলে অপ্রতিমকে হত্যা করে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত ছক কষে।পরিকল্পিত আক্রমণ: ঘটনার দিন ছবি তোলার কথা বলে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাত থেকে আইফোন কেড়ে নিলে অপ্রতিম তা ফেরত চায়। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কোদালের হাতল দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করা হয়।আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, তিন আসামির জবানবন্দিতে অপ্রতিমকে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং কোদালের হাতল দিয়ে আঘাত করার ঘটনায় পূর্ণ মিল রয়েছে।তবে হত্যার মূল দায়ভার চাপানোর ক্ষেত্রে আসামিরা একে অপরকে অভিযুক্ত করেছে। দোকান কর্মচারী কিশোরটির দাবি, তুহিন একাই আইফোনের লোভে অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। আর তৃতীয় কিশোর জানায়, ঘটনার দিন বিকেলে তাকে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। তবে তিনজনের জবানবন্দি থেকেই স্পষ্ট যে, এটি কোনো তাৎক্ষণিক ঘটনা ছিল না; বরং আইফোন আত্মসাৎ করতেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে কিশোর অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে।

১৫ ঘন্টা আগে
খুব শিগগিরই সুপেয় পানির জন্যও যুদ্ধে নামতে হতে পারে: পানিসম্পদমন্ত্রী

খুব শিগগিরই সুপেয় পানির জন্যও যুদ্ধে নামতে হতে পারে: পানিসম্পদমন্ত্রী

পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, দেশে চারদিকে পানি থাকলেও শিল্পবর্জ্য ও দূষণের কারণে এর বড় অংশই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ঢাকার আশপাশে গড়ে ওঠা ১১টি শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য পরিবেশ ও পানির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।রোববার বিকেলে রাজধানীর পানি ভবনে আয়োজিত ‘বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ উদযাপন ও মার্ক এঞ্জেলো রিভার অ্যাওয়ার্ড গিভিং’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, দেশে সুপেয় পানির সংকট ক্রমেই বাড়ছে। অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই শুধু গভীর নলকূপ স্থাপন করে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।সুপেয় পানির ভবিষ্যৎ সংকটের কথা তুলে ধরে শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, তেলের জন্য যেমন বিশ্বে যুদ্ধ চলছে, ভবিষ্যতে পানির জন্যও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তখন অর্থ থাকলেও পানি পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে।তিনি জানান, নির্বাচনি এলাকায় গেলে মানুষের কাছ থেকে প্রায়ই গভীর নলকূপ স্থাপনের আবেদন আসে। কিন্তু ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের বিপরীতে বছরে মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০টি গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।দূষিত পানির ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এমন পানিতে গোসল করাও নিরাপদ নয়। কোথাও কোথাও দূষিত পানিতে মাছ চাষ হলেও সেসব মাছ মানুষের খাওয়ার উপযোগী কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় পানিতে বিষাক্ত ধাতুর উপস্থিতির বিষয়টিও উঠে এসেছে বলে জানান তিনি।পানির সংকট মোকাবিলায় সবাইকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান পানিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু সরকারের উদ্যোগে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি খাল খননসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে।শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, শুধু রাজনৈতিক আন্দোলন বা নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশকে গণতান্ত্রিক করা যথেষ্ট নয়; এখন মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্যও আন্দোলন প্রয়োজন। বর্তমান প্রজন্মকে আগামী প্রজন্মের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ক্ষতির কারণে বাংলাদেশের যে সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছে, সেগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অধিকার ও দাবিগুলো স্পষ্টভাবে উপস্থাপনের আহ্বান জানান পানিসম্পদমন্ত্রী।

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলা কিউআরে লেনদেনে বড় সুবিধা

বাংলা কিউআরে লেনদেনে বড় সুবিধা

বাংলা কিউআর কোডের ব্যবহার বাড়াতে নতুন প্রণোদনা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই সুবিধার আওতায় ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনে সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ৬ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২ থেকে এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হয়। এতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট স্কিমগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।নতুন নিয়মে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে এনপিএসবি লেনদেন হলে অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাবে ০.১০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২ টাকা। আর ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান পাবে ০.২০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৪ টাকা। অর্থাৎ ২ হাজার টাকার লেনদেনে দুই প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট ৬ টাকা প্রণোদনা পাবে।একইভাবে ১ হাজার টাকার লেনদেনে অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠান ১ টাকা এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান ২ টাকা প্রণোদনা পাবে। এই অর্থ সরাসরি গ্রাহক বা বিক্রেতাকে দেওয়া হবে না।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তিক রিটেইল হিসাবের মাধ্যমে অনবোর্ড হওয়া ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারীদের মার্চেন্ট পয়েন্ট এ সুবিধার আওতায় থাকবে। পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্সধারী অন্যান্য মার্চেন্ট পয়েন্টে হওয়া বাংলা কিউআরভিত্তিক এনপিএসবি লেনদেনও প্রণোদনার জন্য বিবেচিত হবে।এর আগে গত ১০ আগস্ট জারি করা সার্কুলারে বাংলা কিউআর লেনদেনের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সেই বিধান পরিবর্তন করে প্রণোদনার পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী ও সেবা প্রদানকারীদের পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্সধারী অন্যান্য মার্চেন্টরাও বাংলা কিউআর লেনদেনে এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দখল-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি

দখল-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি

দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারা সরকারের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে আত্মশুদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক লিখিত বিবৃতিতে এ কথা জানায় টিআইবি।এর আগে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর, কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শনিবার বিবৃতি দিয়েছিল সংস্থাটি। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে নয়জনকে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতে প্রায় ৫০ বছর ধরে দরিদ্র মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখলের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগের। এ ধরনের ঘটনা সরকারের জন্যও বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেন তিনি।বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, হাটবাজার, কেবল ও ইন্টারনেট ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, এসব কর্মকাণ্ডকে ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যেও বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। দৈনিক, মাসিক ও এককালীন চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলেও তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।কিশোরগঞ্জের জলমহাল নিয়ে সংঘর্ষ এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ঘটে আসা বিভিন্ন ঘটনার ধারাবাহিকতা। টিআইবির মতে, এসব ঘটনা সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ ও সদিচ্ছার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দখলবাজ

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
<span class='techtaranga_subtitle'>রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা-লুটপাট / </span>পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা-লুটপাট / পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকায় রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার ঘটনায় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।ঘটনাটি তদন্ত ও সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি। পুলিশ এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মালামাল ও আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলে শুধু বদলি করেই বিষয়টি শেষ করা হবে না। কোনো কর্মকর্তা ফৌজদারি অপরাধ বা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মতো ঘটনায় জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি নিয়মিত মামলাও করা হচ্ছে।এ প্রসঙ্গে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা, মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। পুলিশ বাহিনীতে কোনো ধরনের অপরাধ বরদাশত করা হবে না বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলে বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জানুয়ারিতে সংসদে উঠছে সংবিধান সংশোধন বিল, এরপর গণভোট

জানুয়ারিতে সংসদে উঠছে সংবিধান সংশোধন বিল, এরপর গণভোট

আগামী জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন এ বিষয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, সংশোধনীতে পরিবর্তন আসায় বিলটি পাসের পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোট আয়োজন করা হবে।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতাদের কাছ থেকে সংবিধান সংশোধন নিয়ে মতামত নেয় বিশেষ কমিটি। সেখানে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে বিরোধী দলকে আলোচনায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে, কোনো ধরনের বিভেদ ছাড়াই সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আনা হলে গণভোট আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।এর আগে গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটিতে বিরোধী দল থেকে পাঁচজন প্রতিনিধি রাখার কথা থাকলেও তারা কোনো নাম দেয়নি। পরে বিরোধী দল এই কমিটিও প্রত্যাখ্যান করে।

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হামের উপসর্গে দেশে আরও ৯ মৃত্যু

হামের উপসর্গে দেশে আরও ৯ মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৩৪১ জন।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৬ জনে।

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০০ পিএম
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন,'জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতাদের আত্মপ্রচারের জন্য নামফলকে ব্যক্তির নাম ব্যবহার বন্ধ করা উচিত'। আপনিও কি তাই মনে করেন?

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন,'জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতাদের আত্মপ্রচারের জন্য নামফলকে ব্যক্তির নাম ব্যবহার বন্ধ করা উচিত'। আপনিও কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ০ জন

আল্লাহর রহমতে আমাকে বিএনপির ট্যাগ বহন করতে হচ্ছে না: রুমিন ফারহানা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকাকে এবং দলটির রাজনৈতিক পরিচয় বহন না করতে হওয়াকে ‘আল্লাহর অশেষ রহমত’ বলে তীব্র মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।  রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি বিশেষ ফটোকার্ড শেয়ার করে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। ফটোকার্ডটি শেয়ার করে ক্যাপশনে তিনি লেখেন—‘আল্লাহর কসম’। ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টরুমিন ফারহানার শেয়ার করা ফটোকার্ডটিতে লেখা রয়েছে:   "আল্লাহর অশেষ রহমত যে আমাকে এই ট্যাগ, অর্থাৎ বিএনপির ট্যাগ বহন করতে হচ্ছে না।"   পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দূরত্বপ্রাক্তন বিএনপি নেত্রী ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দলীয় সিদ্ধান্ত ও মনোনয়ন সংক্রান্ত নানা টানাপোড়েনের ধারাবাহিকতায় দল থেকে বিচ্ছিন্ন হন।পরবর্তীতে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচনে জয়লাভ করেন।নির্বাচনী লড়াইয়ের পর থেকেই দলীয় হাইকামান্ড ও সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হয়। সম্প্রতি ডিএমপি কর্তৃক প্রকাশিত রাজধানীর চাঁদাবাজ ও দখলদারদের তালিকায় বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মীর নাম উঠে আসা এবং জাতীয় রাজনীতিতে দলটির সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্কিত ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করেই রুমিন ফারহানা এই মন্তব্য করেছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।   তবে এ বিষয়ে বিএনপি কিংবা দলটির নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে এখনো কোনো পাল্টা বক্তব্য বা দাপ্তরিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

লিংক কপি করা হয়েছে!

কণ্ঠশিল্পী চৈতালী কণ্ঠে কালজয়ী সঙ্গীতের মূর্ছনা, মুগ্ধ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র

জ্যোৎস্নামাখা রাতে, নীরব আকাশের নিচে চারদিকে সুরের আবেশ। কখনো প্রেম, কখনো বিরহ, কখনো পুরোনো দিনের স্মৃতির মায়া—কণ্ঠশিল্পী চৈতালী মুখার্জির কণ্ঠে একের পর এক কালজয়ী গান যেন ছুঁয়ে যায় শ্রোতাদের হৃদয়। তাঁর কণ্ঠের মাধুর্যে শনিবার রাতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ছাদ হয়ে ওঠে এক মায়াবী সংগীতমঞ্চ।গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে ঐতিহ্যবাহী বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দক্ষিণ পাশের ছাদে ‘আলোর ইশকুল—চৈতন্যের আলোকযাত্রা’র বিশেষ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় কণ্ঠশিল্পী চৈতালী মুখার্জির একক সংগীত সন্ধ্যা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সদস্যবৃন্দের আয়োজনে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এই সংগীতের আয়োজন।একটানা তিন ঘণ্টার এই সুরেলা সন্ধ্যায় চৈতালী মুখার্জির কণ্ঠে প্রাণ পায় বাংলা গানের বহু জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান। ‘এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায়’, ‘এ শুধু গানের দিন’, ‘এ লগন গান শোনাবার’, ‘ঘুম ঘুম চাঁদ ঝিকিমিকি তারা’, ‘মরমী গো, আজি মনের কথাটি বলোনা’, ‘আর দেখো না সেই মধু নামে’, ‘এই মন জোছনায় অঙ্গ ভিজিয়ে’ এবং ‘অলিরও কথা শুনে বকুল হাসে’—এমন সব গানে ভরে ওঠে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ছাদ।এরপর একে একে পরিবেশন করেন ‘আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা’, ‘তারা ঝিলমিল স্বপ্ন মিছিল’, ‘তখন তোমার একুশ বছর বোধহয়’, ‘নিশি রাত বাঁকা চাঁদ’, ‘ও চাঁদ সামলে রাখো জোছনাকে’, ‘যদি কাগজে লেখ নাম মুছে যাবে’, ‘নদীর যেমন ঝরনা আছে, আমার আছে তুমি’ এবং ‘আমার সন্ধ্যায় প্রান্ত পাখিরা’সহ আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় গান।চৈতালীর কণ্ঠে কখনো ছিল নরম প্রেমের আবেশ, কখনো বিরহের বিষণ্নতা, আবার কখনো ছিল পুরোনো দিনের স্মৃতিমেদুরতা। গানের সঙ্গে তাঁর কণ্ঠের আবেগ আর জ্যোৎস্নামাখা রাতের পরিবেশ মিলে তৈরি করে এক অনন্য অনুভূতি। উপস্থিত শ্রোতারা গভীর মনোযোগে উপভোগ করেন প্রতিটি পরিবেশনা। গান শেষে করতালি আর ভালোবাসায় শিল্পীকে অভিবাদন জানান তাঁরা।অনুষ্ঠানে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন অঙ্গনের গুণীজনসহ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতি এবং শ্রোতাদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে সংগীতসন্ধ্যাটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণময়।চৈতালী মুখার্জির সংগীত পরিবেশনে মুগ্ধ হয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অবসরপ্রাপ্ত সচিব, লেখক ও গবেষক ড. মোহাম্মদ আলী খান শিল্পীর হাতে তাঁর সংকলন ও সম্পাদনায় প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি ও Song Offerings’ এবং তাঁর নিজের লেখা ‘৫০১ টাকা ও অন্যান্য গল্প’—এই দুটি বই উপহার দেন। সংগীতের প্রতি ভালোবাসা ও শিল্পীর পরিবেশনার প্রতি সম্মান হিসেবে দেওয়া এই উপহার মুহূর্তটি অনুষ্ঠানে ভিন্ন আবেগের জন্ম দেয়।অনুষ্ঠান শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে চৈতালী মুখার্জি বলেন, “এটি আমার সংগীত জীবনের একটি বড় অর্জন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মতো একটি জায়গায় একক সংগীত অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। এমন একটি আয়োজনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।”বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মননশীলতার চর্চার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়ে আসছে। ‘আলোকিত মানুষ চাই’—এই দর্শনকে ধারণ করে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটির আঙিনায় সংগীতের এমন আয়োজন যেন সাহিত্য ও সংস্কৃতির সেই আলোর সঙ্গে সুরেরও এক সুন্দর সংযোগ তৈরি করে।রাত যত গভীর হয়েছে, আকাশের জ্যোৎস্না ততই মিশে গেছে চৈতালীর কণ্ঠের সুরে। তিন ঘণ্টার পরিবেশনা শেষে অনুষ্ঠান শেষ হলেও শ্রোতাদের মনে থেকে যায় গানের রেশ। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ছাদে সেই রাত যেন হয়ে ওঠে এমন এক স্মরণীয় সন্ধ্যা—যেখানে জ্যোৎস্নার সঙ্গে মিশে ছিল সুর, আর সুরের সঙ্গে মিশে ছিল চৈতালীর কণ্ঠের মায়া।

হঠাৎ অসুস্থতায় অকাল মৃত্যু: জানা গেল কারণ

অফিসে কাজ করার সময় হঠাৎ অসুস্থতা কিংবা আকস্মিক ঢলে পড়ে অকাল মৃত্যুর খবর এখন দেশে নিত্যদিনের চিত্র। সম্প্রতি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের ৪২ বছর বয়সী কর্মকর্তা মুকসেমুল হাকিমের অফিসে কর্মরত অবস্থায় নিঃশব্দে স্ট্রোক করা এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনা অসংক্রামক ব্যাধির ভয়ানক বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনেছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও আইইডিসিআর (IEDCR)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটছে অসংক্রামক ব্যাধি (Non-Communicable Diseases - NCDs) বা দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন রোগের কারণে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগে যে ৭১ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়, তার প্রায় অর্ধেকই ঘটে আকস্মিক বা অকাল (Premature Death) হিসেবে—অর্থাৎ ৭০ বছর বয়স হওয়ার পূর্বেই। আইইডিসিআরের গবেষণাপত্র অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী প্রায় দেড় কোটি লোক নানা ধরনের অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।বিশ্বব্যাপী অসংক্রামক ব্যাধিতে অকাল মৃত্যুর প্রায় ৮২ শতাংশই ঘটে বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।জিনগত, পরিবেশগত, মানসিক ও আচরণগত জীবনযাত্রার সংমিশ্রণে অসংক্রামক রোগগুলো তৈরি হয়। বাংলাদেশে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত ৫টি মূল অসংক্রামক ব্যাধি ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো হলো:হঠাৎ শরীরের এক পাশ অবশ হওয়া, ঘাড় ও হাত-পায়ে অস্বাভাবিক ব্যথা, বমিভাব এবং মাথা ঝিমঝিম করা স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ হলেও অনেকেই তা অলক্ষ্যে এড়িয়ে যান।নীরব ঘাতক হিসেবে রক্তনালি ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ অকেজো করে দেয়। বিলম্বে শনাক্ত হওয়ার কারণে নিরাময়ের সম্ভাবনা কমে যায়। ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD) ও হাঁপানি। আইইডিসিআরের গবেষণায় উঠে এসেছে মানসিক চাপ ও অবসাদও আকস্মিক মৃত্যুর বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।চিকিৎসকেরা বলছেন, স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের সময় ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যে রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া গেলে বড় ধরনের বিপর্যয় বা মৃত্যুঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। অফিসে বা কাজের স্থানে প্রাথমিক লক্ষণ (যেমন—তীব্র ক্লান্তি, ঘাড়ে ব্যথা, বমিভাব ও মাথা ঘোরা) দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

কুলাউড়ার নসিরগঞ্জে ২৯ শতক সরকারি খাস জমি উদ্ধার

কুলাউড়ার নসিরগঞ্জে ২৯ শতক সরকারি খাস জমি উদ্ধার

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় ব্যক্তিগত দখলে থাকা ২৯ শতক সরকারি খাস জমি উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই অভিযানে সরকারি জায়গা থেকে গাছ কাটার অপরাধে এক ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ১০ নম্বর হাজীপুর ইউনিয়নের নসিরগঞ্জ বাজারসংলগ্ন বিলেরপাড় এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব জমি উদ্ধার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় বিশ্বাস।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় বিলেরপাড় এলাকায় সরকারি ২৯ শতক খাস জমি বিভিন্ন ব্যক্তির দখলে থাকার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। পরে দখলমুক্ত করে জমিগুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।এ সময় সরকারি জায়গা থেকে গাছ কাটার অপরাধে রফু মিয়াকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় বিশ্বাস বলেন, সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রাখার কোনো সুযোগ নেই। জনস্বার্থে সরকারি জমি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream