শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সংকোচ নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা: প্রধানমন্ত্রী

মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবহেলা না করে তাদের কথা শোনা, পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মানসিক অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে সমাজে প্রচলিত ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবসটি পালিত হবে।বাণীতে তারেক রহমান বলেন, শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ থাকাই পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যের পরিচয় নয়। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকাও স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মানুষের সামগ্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে মানসিক স্বাস্থ্যকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর করতে এ ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য শুধু চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ব্যক্তির মর্যাদা, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক সম্পর্ক এবং সামগ্রিক কল্যাণের সঙ্গে জড়িত। মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এমন কাউকে অবহেলা কিংবা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে তাঁর প্রয়োজন ও অনুভূতি বুঝতে হবে। সম্মানের সঙ্গে তাঁদের অভিজ্ঞতা শোনা এবং সহায়তার সুযোগ তৈরি করাই ইতিবাচক পরিবর্তনের অন্যতম ভিত্তি।তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি, সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন গুরুত্ব পাবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাথমিক ও উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো, দক্ষ জনবল তৈরি, রেফারেল ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে কাউন্সেলিং সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তারেক রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য এখন বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশেও অনেক মানুষ এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন। তবে সামাজিক সংকোচ, সচেতনতার অভাব, পর্যাপ্ত সেবার সীমাবদ্ধতা এবং দক্ষ জনবলের ঘাটতির কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি, মান ও সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দিতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা এবং টেলি-কাউন্সেলিং চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, সরকারি হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। গর্ভবতী নারী, শিশু-কিশোর এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা নিতে আসা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং সহমর্মিতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে বা সাহায্য চাইতে কাউকে সংকোচে পড়তে হবে না। প্রতিটি মানুষ যেন মর্যাদা, আশা ও সম্ভাবনা নিয়ে নিরাপদ ও অর্থবহ জীবনযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই একটি মানবিক ও কল্যাণমূলক বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে।পরিশেষে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেশ-বিদেশের সবার সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী এবং দিবসটির সার্বিক সাফল্য প্রত্যাশা করেন।

শান্তিতে নোবেলজয়ী কে এই নাভি পিল্লাই?

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করে।নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন। এ ছাড়া রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।বর্ণবাদী শাসনামলে দক্ষিণ আফ্রিকায় আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন নাভি পিল্লাই। বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাঁর দীর্ঘ লড়াই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁকে পরিচিত করে তোলে। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।রুয়ান্ডার গণহত্যার বিচারেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। গণহত্যায় উসকানিমূলক প্রচারণার অভিযোগে বিচারের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।নোবেল কমিটির মতে, রাষ্ট্র ও জাতীয় নেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সহিংসতা ও সংঘাতের শিকার মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করেছেন নাভি পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ।গত বছর ২০২৫ সালে ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের আন্দোলনে ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন।

নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই

আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং সহিংসতা ও সংঘাতের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ পুরস্কারের ঘোষণা দেয়।কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, অসাধারণ সাহস ও সততার সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের আরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছেন নাভি পিল্লাই। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে তাঁর।দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্ম নেওয়া নাভি পিল্লাই বর্ণবাদী শাসনামলে আইনজীবী হিসেবে বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেন। কর্মজীবনে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।রুয়ান্ডার গণহত্যার বিচারসংক্রান্ত মামলায় তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই মামলায় ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর প্রভাব ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, গণহত্যায় উসকানিমূলক প্রচারণার অভিযোগে একজন আসামির বিচারের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।নোবেল কমিটি বলেছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাষ্ট্র এবং রাজনৈতিক নেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি সহিংসতা ও সংঘাতের শিকার মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছেন নাভি পিল্লাই।কমিটির মতে, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সংঘাত বাড়ার এই সময়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার অত্যন্ত জরুরি। আইনের শাসন দুর্বল হলে বিশ্বে স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান হুমকির মুখে পড়ে।নাভি পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবন আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে। তাঁর কাজ আরও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনে আগ্রহী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেছে নোবেল কমিটি।

শান্তিতে নোবেলটা আমারই পাওয়া উচিত, তবে ওরা বোধহয় দেবে না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া তাঁর প্রাপ্য। তবে ২০২৬ সালের সম্মাননা অর্জন নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে সংশয় প্রকাশ করেছেন।বুধবার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, শুক্রবার নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি ২০২৬ সালের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে। তবে তিনি এই পুরস্কার পাবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। ট্রাম্পের মন্তব্য, তাঁর মতো ব্যক্তিত্বদের বাদ রেখে অন্য কাউকে পুরস্কৃত করার একটি ঐতিহ্য রয়েছে ওই কমিটির।গত বছর হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প নিজেকে নোবেল পাওয়ার যোগ্য দাবি করে আসছেন। ওভাল অফিসে বক্তৃতাকালে তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি পাওয়ার উপযুক্ত সময় এখন। তবে আগে সরাসরি পদক না পেলেও গত বছরের বিজয়ীর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে এই সম্মান অনুভব করায় তিনি গর্বিত।উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে দেশটির বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো ২০২৫ সালে পাওয়া তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেন।২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বিশ্বের প্রায় আটটি সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা করার দাবি করেন। কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের বিশ্বনেতারা তাঁর নাম নোবেল কমিটির কাছে প্রস্তাব করেছেন বলেও জানা গেছে, যদিও আন্তর্জাতিকভাবে এই মনোনয়নগুলোর সতত্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।ট্রাম্প যে সংঘাতগুলো সমাধানের দাবি করেছেন, তার কয়েকটিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাঁর কূটনৈতিক ভূমিকার বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশ করেছে। এছাড়া কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্ত ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি নতুন করে রক্তক্ষয় দেখা দিয়েছে।পাশাপাশি, ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধের যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়ে আসছিলেন, তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের ফলে যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, তা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট ও আমেরিকায় তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের আলোচনায় ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিন ভূখণ্ড বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকের মতো নামগুলো বেশ জোরালোভাবে উঠে এসেছে।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সংকোচ নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা: প্রধানমন্ত্রী

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সংকোচ নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা: প্রধানমন্ত্রী

মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবহেলা না করে তাদের কথা শোনা, পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মানসিক অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে সমাজে প্রচলিত ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবসটি পালিত হবে।বাণীতে তারেক রহমান বলেন, শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ থাকাই পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যের পরিচয় নয়। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকাও স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মানুষের সামগ্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে মানসিক স্বাস্থ্যকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর করতে এ ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য শুধু চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ব্যক্তির মর্যাদা, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক সম্পর্ক এবং সামগ্রিক কল্যাণের সঙ্গে জড়িত। মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এমন কাউকে অবহেলা কিংবা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে তাঁর প্রয়োজন ও অনুভূতি বুঝতে হবে। সম্মানের সঙ্গে তাঁদের অভিজ্ঞতা শোনা এবং সহায়তার সুযোগ তৈরি করাই ইতিবাচক পরিবর্তনের অন্যতম ভিত্তি।তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি, সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন গুরুত্ব পাবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাথমিক ও উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো, দক্ষ জনবল তৈরি, রেফারেল ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে কাউন্সেলিং সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তারেক রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য এখন বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশেও অনেক মানুষ এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন। তবে সামাজিক সংকোচ, সচেতনতার অভাব, পর্যাপ্ত সেবার সীমাবদ্ধতা এবং দক্ষ জনবলের ঘাটতির কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি, মান ও সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দিতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা এবং টেলি-কাউন্সেলিং চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, সরকারি হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। গর্ভবতী নারী, শিশু-কিশোর এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা নিতে আসা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং সহমর্মিতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে বা সাহায্য চাইতে কাউকে সংকোচে পড়তে হবে না। প্রতিটি মানুষ যেন মর্যাদা, আশা ও সম্ভাবনা নিয়ে নিরাপদ ও অর্থবহ জীবনযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই একটি মানবিক ও কল্যাণমূলক বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে।পরিশেষে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেশ-বিদেশের সবার সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী এবং দিবসটির সার্বিক সাফল্য প্রত্যাশা করেন।

৮ ঘন্টা আগে
শিক্ষার্থীদের অবশ্যই প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের অবশ্যই প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর মতে, শুধু প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত দক্ষতাও প্রয়োজন।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ তজল্লী আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক মুহাম্মদ ফরিদুল আলম হোসাইনী।কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে পরিবার ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরিবারের সহযোগিতা এবং পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ ছাড়া ভালো ফলাফল অর্জন কঠিন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীরা আরও ভালো করতে পারে।আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজেও চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী। অনুষ্ঠানে তিনি নিজের স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। স্কুলের সমাবেশ, ক্রিকেট খেলা, গ্রন্থাগার এবং শিক্ষকদের স্মৃতি তাঁর মনে এখনো অমলিন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন।বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার আগের মতো কার্যকর না থাকায় দুঃখ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। পাশাপাশি স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব থাকা অত্যন্ত জরুরি। সেখানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনেরও ঘোষণা দেন তিনি।এর আগে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নির্মিত সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী। সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই ট্র্যাকটি শুধু সাইকেল আরোহীদের চলাচলের জন্য তৈরি করা হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এ ধরনের উদ্যোগ এটিই প্রথম।উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে সড়কের পাশে সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা লেন রয়েছে। মানুষ সাইকেলে কর্মস্থলে যাতায়াতের পাশাপাশি শরীরচর্চার সুযোগও পায়। বাংলাদেশেও এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে সাইকেলের ব্যবহার বাড়াতে চায় সরকার।চট্টগ্রাম নগরীতে আরও চার থেকে পাঁচটি সাইকেল চলাচলের পথ নির্মাণের জন্য মেয়রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি নগরীর খালের দুই পাশে সম্ভব হলে হাঁটার পথ তৈরির কথাও বলেন।মন্ত্রী আরও বলেন, নগরবাসীর হাঁটা, দৌড়ানো ও শরীরচর্চার সুযোগ বাড়াতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের দৈনন্দিন শারীরিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর পাশাপাশি দৌড়, উচ্চলম্ফ ও দীর্ঘলম্ফের মতো খেলায় দক্ষ ক্রীড়াবিদ তৈরিতেও সহায়ক হতে পারে।

১১ ঘন্টা আগে
চট্টগ্রামে দেশের প্রথম চার লেনের সাইকেল ট্র্যাকের শুভ উদ্বোধন

চট্টগ্রামে দেশের প্রথম চার লেনের সাইকেল ট্র্যাকের শুভ উদ্বোধন

দেশের যোগাযোগ ও ক্রীড়া অবকাঠামোতে এক নতুন মাইলফলক যুক্ত হলো বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত পর্যন্ত ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের প্রথম চার লেনের সাইকেল ট্র্যাকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজেই সাইকেল চালিয়ে আধুনিক এই ট্র্যাকটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি সারা দেশেই পরিবেশবান্ধব সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের তাগিদ দেন এবং জাতীয় মহাসড়কগুলোর পাশে সাইকেল চলাচলের জন্য পৃথক লেন রাখার আহ্বান জানান।প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এই ট্র্যাকের দু পাশে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ফুটপাত এবং মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে মিড আইল্যান্ড তৈরি করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সাথে পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা ওয়াকওয়ে।মূলত তরুণ প্রজন্মকে সাইকেলিংয়ে উৎসাহিত করা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাইকেলের নিয়মিত ব্যবহার একদিকে যেমন জ্বালানি খরচ ও যানজট কমাবে, অন্যদিকে পরিবেশদূষণ রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।উৎসবমুখর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১২ ঘন্টা আগে
শাহজালাল বিমানবন্দর ঘিরে ডাকাতির জাল, যা জানাল গোয়েন্দারা

শাহজালাল বিমানবন্দর ঘিরে ডাকাতির জাল, যা জানাল গোয়েন্দারা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় রয়েছে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এসব অপরাধে সরাসরি অংশ নিচ্ছে ভাড়ায় নিয়োগ করা পেশাদার ডাকাতরা। তাদের অনেকেই গ্রেফতার হলেও অপরাধের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীরা থেকে যাচ্ছে আড়ালে।বিমানবন্দর ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ করে দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যায় চক্রের সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেফতার করলেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারের পর জামিনে মুক্ত হতে কিছু আইনজীবীর সঙ্গে তাদের চুক্তি থাকার কথাও বলছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব আইনজীবী বাকিতে আইনি সহায়তা দেন।এ ধরনের অপরাধের শিকার হয়েছেন চাঁদপুরের দক্ষিণ বালিয়া থানার সামাদ গাজী বাড়ির বাসিন্দা মো. খোরশেদ। গত ৬ জুলাই দুবাইপ্রবাসী ভাইয়ের পাঠানো ১৭ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। শাহবাগ এলাকায় পৌঁছালে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি তাঁকে কালো গাড়িতে তুলে নেয়। পরে চোখ ও হাত-পা বেঁধে প্রায় ৩৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে তাঁকে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ফেলে রেখে যায়।খোরশেদের মতো প্রবাসফেরত যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে বিমানবন্দরসংলগ্ন সড়কগুলোতে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রকাশ্যে ভুক্তভোগীদের গাড়িতে তোলে, হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায় এবং পরে তাঁদের কাছ থেকে মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে যায়।গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতির পর চক্রের সদস্যরা দ্রুত ঢাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। কেউ কেউ বিদেশ থেকে এসেও অপরাধ করে আবার চলে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে এসব ডাকাতি চালানো হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী লুট করা মালামাল নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পর ডাকাতেরা পারিশ্রমিক পায় বলে অভিযোগ রয়েছে।সম্প্রতি কয়েকটি আলোচিত ডাকাতির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এমন একাধিক চক্রের সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব অপরাধে ভাড়াটে ডাকাতদের ব্যবহার করা হলেও নেপথ্যে থাকা মূল ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা কঠিন হয়ে পড়ছে। চক্রের অনেক সদস্যের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. ইলিয়াস কবির জানান, বিমানবন্দর ও উত্তরার এলাকায় অপরাধ ঘটিয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যায়। তাদের গ্রেফতার করা হলেও অনেকে অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়ায়। তবে পুলিশের তৎপরতার কারণে ডাকাতির ঘটনা অনেকটাই কমেছে বলে জানান তিনি।

১৩ ঘন্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীর কাছে এক মাসের সময় চাইলেন মাহবুব কবীর মিলন

প্রধানমন্ত্রীর কাছে এক মাসের সময় চাইলেন মাহবুব কবীর মিলন

রেলের টিকিট কালোবাজারি বন্ধ এবং ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এক মাসের জন্য পূর্ণ প্রশাসনিক ক্ষমতা ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ চেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন। কোনো পদ-পদবি বা পারিশ্রমিক ছাড়াই কাজ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে যাতায়াতের জন্য একটি গাড়ি চেয়েছেন।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ প্রস্তাব দেন মাহবুব কবীর মিলন।স্ট্যাটাসে তিনি জানান, এক মাসের দায়িত্ব পেলে ঢাকা-কক্সবাজার ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে রেলের টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করে দেখাতে চান। এ সময় সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। অভিযানের জন্য কিছু সৎ ও অবসরপ্রাপ্ত টিকিট পরীক্ষক নিয়োগ, কয়েকজন কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতা ও বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।টিকিট যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি বগিতে দৈবচয়নের ভিত্তিতে যাত্রীদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে টিকিটের তথ্যের অমিল পাওয়া গেলে দ্বিগুণ জরিমানা এবং ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ নীতি কার্যকরের কথা বলেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক যাত্রীদের টিকিটের সঙ্গে বাবা বা মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যুক্ত করার প্রস্তাবও দেন তিনি।টিকিট পরীক্ষক ও ট্রেনের গার্ডদের কাজে স্বচ্ছতা আনতে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন মাহবুব কবীর মিলন। অনিয়মকারীদের পক্ষে কেউ তদবির বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলে তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করার কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে ভ্রমণের তিন থেকে পাঁচ দিন আগে টিকিট ইস্যুর ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন।রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আরএনবি আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং বাহিনীটিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালনার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ ছাড়া ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধ এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশের সমন্বিত দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনা এক মাসের মধ্যে তৈরি করার প্রত্যয় জানান তিনি।প্রস্তাবিত অভিযানে ব্যর্থ হলে যেকোনো শাস্তি মেনে নেওয়ার কথাও বলেছেন সাবেক এই কর্মকর্তা। তবে কাজের পুরো সময় তাঁকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে বলে শর্ত দিয়েছেন। অভিযানের অগ্রগতি জনগণকে সরাসরি জানানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

১৪ ঘন্টা আগে
বরগুনার রিফাত হত্যাকান্ড: কেমন আছেন সেই মিন্নি

বরগুনার রিফাত হত্যাকান্ড: কেমন আছেন সেই মিন্নি

বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি বর্তমানে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কন্ডেম সেলে দিন কাটাচ্ছেন। বিচারিক আদালতের রায়ের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিল শুনানি শেষ না হওয়ায় মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ঝুলে রয়েছে।২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিচারিক আদালত রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই বছরই নথি হাইকোর্টে পৌঁছায় এবং আসামিপক্ষ হাইকোর্টে আপিল ও জামিনের আবেদন করে। তবে বর্তমানে উচ্চ আদালতে ১২৬৫টি ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় থাকায় মিন্নির আপিল শুনানি বিলম্বিত হচ্ছে।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কন্ডেম সেলের একমাত্র নারী বন্দি মিন্নি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে সময় পার করছেন। তিনি শান্ত ও চুপচাপ থাকেন এবং কারাবিধি অনুযায়ী মাসে একবার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময় পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন।মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর অভিযোগ করে জানান, তার মেয়েকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসান হয়েছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। অসুস্থতা ও নারী কয়েদি বিবেচনায় মিন্নির জামিনের আবেদন জানানো হলেও তা দীর্ঘদিন ধরে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে, আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন—চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে ১৫-২০ বছর লেগে গেলে কন্ডেম সেলে এভাবে বছরের পর বছর আসামিদের রেখে দেওয়া মানবাধিকারের লঙ্ঘন।

১৪ ঘন্টা আগে
সাত মাসে বিদেশে সোয়া চার লাখের বেশি কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ

সাত মাসে বিদেশে সোয়া চার লাখের বেশি কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ

চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন ৪ লাখ ৩২ হাজার ৭৮৬ জন বাংলাদেশি। এ সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার বেশি।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন।বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশে যাওয়া কর্মীদের মধ্যে নারী রয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৯০ জন।বিদেশে যাওয়া এবং দেশে ফিরে আসা প্রবাসী কর্মীরা যেন বিমানবন্দরে কোনো ধরনের অবহেলা বা হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বৈঠকে আরও জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানে আটকে পড়া ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে ১২ জন নারী ও ৮ জন শিশুও ছিলেন।এদিকে, দেশে সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ২ হাজার ৮৬০টি। এর মধ্যে বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে ২ হাজার ১৮৭টি এজেন্সি। এসব বৈধ প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে মূলত বিদেশে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, মো. জসীম উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম হিলালী, নাসির উদ্দিন আহমেদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম এবং আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১৬ ঘন্টা আগে
দুর্যোগমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

দুর্যোগমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রীর দফতরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে ভূমিকম্প ও বজ্রপাতসহ বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন তারা।বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়েও মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ। তারা বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।সাক্ষাতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ আবরার ফাহাদের পরিবারের

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ আবরার ফাহাদের পরিবারের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।সাক্ষাতে আবরারের বাবা তার ছেলে হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। জবাবে তারেক রহমান বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তবে পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।এ সময় কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবিও জানান আবরারের বাবা। তিনি জানান, ওই এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ সাঁকো দিয়ে নদী পার হন। প্রধানমন্ত্রী সেতু নির্মাণের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি এটি আবরার ফাহাদের নামে করার প্রতিশ্রুতি দেন।আবরারের কবর পাকাকরণ এবং পাশের মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ করার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান তার বাবা। পরে মসজিদটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।আবরার হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন তার বাবা। তিনি জানান, মামলার এক আসামি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়। পালিয়ে যাওয়া এবং এখনো গ্রেপ্তার না হওয়া আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।সাক্ষাতে আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, দেশের কোনো ক্যাম্পাসে যেন আর এমন ঘটনা না ঘটে এবং তার মতো কোনো মায়ের বুক যেন আর খালি না হয়।আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। পাশাপাশি বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি নতুন হল নির্মাণের দাবি করেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন।নতুন প্রজন্মকে আবরার ফাহাদ সম্পর্কে জানাতে পাঠ্যবইয়ে তার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানান ফাইয়াজ। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের আগে বিভিন্ন সময়ে নিহতদের একটি তালিকা তৈরির দাবি জানান তিনি। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।সাক্ষাতের সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত ছিলেন।২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ডিবি ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ওই রায় বহাল রাখেন। পরে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা নয় আসামি আপিল বিভাগে আপিল করেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামিও লিভ টু আপিল করেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা।

০৮ অক্টোবর ২০২৬
দিল্লিতে আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ-ভারত

দিল্লিতে আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ-ভারত

তিন বছর পর আবারও আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ ও ভারত। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ও শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৬তম বাংলাদেশ-ভারত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ট্রেডের (জেডব্লিউজি) বৈঠক।দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যেও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সচল রাখা, আমদানি-রপ্তানির বাধা কমানো এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়গুলো এবারের বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। এর আগে ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ১৫তম জেডব্লিউজি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে বন্দর ব্যবহারের বিধিনিষেধ, পণ্য সরবরাহ, পণ্যের মান নির্ধারণ ও পারস্পরিক স্বীকৃতি, সড়ক-রেল যোগাযোগ এবং প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) নিয়ে আলোচনা হয়।এবারের আলোচনায় বাংলাদেশের পাটপণ্যের ওপর ভারতের নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা জুট ইয়ার্ন বা টুইন, হেসিয়ান ফ্যাব্রিক এবং জুট স্যাকিং ব্যাগের ওপর শুল্ক কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করেছে ভারত।এর পাশাপাশি বাংলাদেশে ভারতীয় সুতা আমদানির ক্ষেত্রে থাকা বিধিনিষেধ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। দুই দেশই নিজ নিজ ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বাজারসুবিধা বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক বাধা কমানোর বিষয়টি তুলতে পারে।বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল প্রায় ১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার।এই ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করা এবং স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন সহজ করার বিষয়ে জোর দিতে পারে।চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি হয়েছে ৩৩৫ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি।এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো, স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামো ও সক্ষমতা উন্নয়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হবে। বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, আমদানি-রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়ানোর পথ খুঁজে বের করাই বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য।তিন বছর পর জেডব্লিউজি বৈঠক হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা সেপা নিয়েও আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।২০২৩ সালের বৈঠকে সেপা চালুর প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক সম্পর্কের ওঠানামা থাকলেও দুই দেশের অর্থনৈতিক নির্ভরতা রয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পের কাঁচামাল, তুলা, সুতা, খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ভারতের ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে বাংলাদেশের জন্য ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার।তাই রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উভয় দেশের স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

০৮ অক্টোবর ২০২৬
৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, পতিত স্বৈরাচাররা যদি অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চায়, তাহলে রিকনসিলিয়েশনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, পতিত স্বৈরাচাররা যদি অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চায়, তাহলে রিকনসিলিয়েশনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ০ জন

‘হাসিনার কবর দেশে দেওয়ার মতো সাহস আ.লীগের নাই’

অসংখ্য ডিসেম্বর এলেও শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা তো দূরের কথা, বাংলাদেশে তাঁর কবর দেওয়ার সাহসও আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেই।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে মাগুরায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রব্বির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দলটি ভারতের আওয়ামী লীগের একটি সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে কাজ করত। সেই অংশের অধিকাংশই পালিয়ে গেছে। এখনো যারা বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের মোকাবিলা করতে ছাত্রদলই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেন তিনি।শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিদেশি চাপের প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ভারতের কাছে মাথানত করে বিএনপি দেশ পরিচালনা করবে না। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে এই দুই দেশ বাংলাদেশকে চাপ দিচ্ছে এমন কোনো তথ্য তাঁর জানা নেই।ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের জনগণের প্রতি অন্যায় করেছে। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে শেখ হাসিনা এবং শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িত যাঁরা ভারতে পালিয়ে রয়েছেন, তাঁদের বাংলাদেশের সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এর আগে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মন্তব্য করেন তিনি।এ সময় আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সমালোচনাও করেন প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে পাকিস্তানি বাহিনী এ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যা করে মেধাশূন্য করার চেষ্টা করেছিল। একইভাবে ২০২৪ সালে ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায় শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।রাশেদ খাঁন আরও অভিযোগ করেন, সরকার পতনের এক মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা করে জামায়াতে ইসলামী মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। তাঁর দাবি, জুলাই আন্দোলনের অর্জনকে কাজে লাগিয়ে সংসদে আসন ভাগাভাগি করা হয়েছে।জাতীয় নাগরিক পার্টির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসে দলটির নেতাকর্মীরা সারা দেশে লুটপাট করেছেন। আরও সময় পেলে তাঁরা আওয়ামী লীগকেও ছাড়িয়ে যেতেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমানে এই গোষ্ঠী আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করছে বলেও দাবি করেন রাশেদ খাঁন।কবর জিয়ারত শেষে তিনি শহীদ মেহেদী হাসান রব্বির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন। এ সময় মাগুরা জেলা ছাত্রদলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

লিংক কপি করা হয়েছে!
“
২ দিন আগে
গতকাল শহীদ আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে রাজপথে সবাই নেমেছে। ছাত্রদল, ছাত্রঅধিকার পরিষদ, ছাত্রশিবির, এনসিপিও প্রোগ্রাম করেছে। আমার প্রশ্ন হলো, আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী হয়েছিলেন শিশির মনির, যিনি জামায়াতের একজন বিখ্যাত আইনজীবী। জামায়াতের মনোনীত এমপি প্রার্থী ছিলেন। জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির যখন আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী হন, তখন শিবির কোন লজ্জায় রাজপথে প্রোগ্রাম করে আমি সেই প্রশ্ন রাখছি। জুলাইয়ে এই শিশির মনিররা রাজপথে নামেননি। এমনকি জুলাইয়ের পক্ষে পোস্ট আছে কিনা, আমার সন্দেহ আছে। প্রোফাইল লাল পর্যন্ত করেননি। জামায়াত আমিরও প্রোফাইল লাল করেনি। আজ তারা দাবি করছে, জুলাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রেখেছে।

রাশেদ খান
রাশেদ খান
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী

নানা পাটেকরের মৃত্যু নিয়ে মামলা, তদন্তে পুলিশ

ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করেছে গোয়া পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কোনো অস্বাভাবিকতা রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭৫ বছর বয়সী নানা পাটেকর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে উত্তর গোয়ার ডোনা পাউলার ওশান পার্ক এলাকার বাসা থেকে তাঁকে বাম্বোলিমের মণিপাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৯৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম এএনআই জানিয়েছে, এ ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন পুলিশ উপপরিদর্শক নিতিন নায়েক।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাসায় একা থাকা অবস্থায় অভিনেতার মৃত্যু এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করার বিষয়টি সামনে আসার পর নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মামলাটি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুলিশ এ পদক্ষেপ নেয়। মৃত্যুর সঙ্গে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িত কি না, তা যাচাই করাই তদন্তের উদ্দেশ্য।মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শেখর সালগার বৃহস্পতিবার এএনআইকে জানান, ভোর ৪টা ২০ মিনিট থেকে ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নানা পাটেকরকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় তিনি মৃত ছিলেন। ঘটনাটি মেডিকো-লিগ্যাল হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পুলিশকে বিষয়টি জানাতে হয়।এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে পুনের উপকণ্ঠে দোনজে গ্রামের নিজের খামারবাড়িতে নানা পাটেকরের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত শেষকৃত্যে অংশ নেন হাজারো ভক্ত। ওই দিন সন্ধ্যায় গোয়া থেকে তাঁর মরদেহ পুনেতে নেওয়া হয়েছিল।শেষকৃত্যের পর অভিনেতার ছেলে মালহার পাটেকর সাংবাদিকদের বলেন, নানা পাটেকরের মতো মানুষ তাঁদের কাজ ও অর্জনের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকেন। বাবার আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।নানা পাটেকর স্ত্রী নীলকান্তি পাটেকর ও ছেলে মালহার পাটেকরকে রেখে গেছেন।সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, এএনআই

সন্তানের ওজন কমাতে যা করবেন

শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্থূলতার হার গত কয়েক দশকে দ্রুত বেড়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো বিশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।হু’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রায় ১৭ কোটি শিশু ও কিশোর-কিশোরী স্থূলতায় আক্রান্ত ছিল। এর মধ্যে ৫ থেকে ৯ বছর বয়সি প্রায় ৭ কোটি শিশু এবং ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রায় ১০ কোটি কিশোর-কিশোরী রয়েছে। ১৯৯০ সালে এই হার ছিল ২ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ শতাংশে—অর্থাৎ প্রায় চারগুণ।শিশুদের স্থূলতাকে শুধু বাড়তি ওজন বা শারীরিক গঠনের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ছোট বয়স থেকেই এর প্রভাব শরীরে পড়তে পারে। ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের মতো জটিলতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে সঠিক যত্ন ও চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।জীবনযাপন পরিবর্তনেই প্রথম গুরুত্বহু’র নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্থূলতায় আক্রান্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের চিকিৎসার শুরুতেই গুরুত্ব দিতে হবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং জীবনযাপনের পরিবর্তনের ওপর।হু’র পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের ডিরেক্টর ডা. লুজ মারিয়া দে রেগিল বলেন, শিশু-কিশোরদের স্থূলতার চিকিৎসার ভিত্তি ওষুধ বা অস্ত্রোপচার নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ১০ বছরের আগে ওজন কমানোর ওষুধ নয়নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৯ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের স্থূলতার চিকিৎসায় ওজন কমানোর ওষুধ, বেরিয়াট্রিক সার্জারি বা ওজন কমানোর বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।তবে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এর আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের তত্ত্বাবধানে খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যক্রম ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এসব ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত ফল না এলে তখন ওষুধ ব্যবহারের কথা ভাবা যেতে পারে।স্থূলতা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে শরীরে একাধিক অসুস্থতার কারণ হলে নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত মেনে বেরিয়াট্রিক সার্জারিও বিবেচনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ শিশুর বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই চিকিৎসা নির্ধারণের কথা বলেছে হু।শুধু ওজন কমানোই লক্ষ্য নয়শিশুর স্থূলতার চিকিৎসার উদ্দেশ্য শুধু ওজন কমানো হওয়া উচিত নয়। বরং শিশুর সামগ্রিক স্বাস্থ্য, দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতা এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার উন্নতিকে গুরুত্ব দিতে হবে।চিকিৎসা হতে হবে বয়স অনুযায়ী এবং প্রয়োজনভিত্তিক। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে শিশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াও জরুরি।মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজরস্থূলতার সঙ্গে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছে হু। উদ্বেগ, অবসাদ, আত্মসম্মান কমে যাওয়া ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যার কারণে অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝোঁক, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং সামাজিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।অন্যদিকে, স্থূলতায় আক্রান্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা শরীর নিয়ে কটূক্তি বা অপমানের শিকার হতে পারে। এতে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।তাই স্থূলতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাকে আলাদা করে না দেখে একসঙ্গে মোকাবিলা করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এক্ষেত্রে শিশুর বয়স, মানসিক বিকাশ এবং পরিবারের ভূমিকার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা শিশু-কিশোরদের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে হু’র মূল বার্তা হলো—বাড়তি ওজনকে শুধু ‘ডায়েট’-এর সমস্যা হিসেবে না দেখে সময়মতো বৈজ্ঞানিক ও দীর্ঘমেয়াদি যত্ন নিশ্চিত করা।

সিলেটে ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত দুই পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

সিলেটে ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত দুই পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

সিলেটে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে মাদক মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে সিলেটের শাহপরান (রহ.) থানাধীন দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।এসআরবি-৯,সিপিসি-৩,সুনামগঞ্জ ও সদর কোম্পানি,সিলেটের যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান দুটি পরিচালনা করে।এসআরবি-৯-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম অভিযানটি রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহপরান (রহ.) থানাধীন আল-ইসলাহ ত্রিমুখী পয়েন্ট এলাকায় পরিচালিত হয়। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় মো. জিয়াউর রহমান (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকে। তিনি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানার পশ্চিম মাছিমপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আব্দুল মান্নান।অন্যদিকে,রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে একই থানার উত্তর বালুচর নতুন বাজার এলাকার একটি বসতবাড়িতে দ্বিতীয় অভিযান চালানো হয়। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় সৈয়দ রহিম আলীকে। তিনি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানার লোহারগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত মো. ছমির আলী।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,গ্রেপ্তার দুজনই সিলেটের জকিগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি মাদক মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি। মামলাটি ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ দায়ের করা হয়েছিল।গ্রেপ্তার দুজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।এসআরবি-৯,সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে আরও বলা হয়,দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসআরবি-৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream