নতুন পে স্কেলে বড় পরিবর্তন, ১ জুলাই থেকে কার্যকর
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করেছে সরকার। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারির মাধ্যমে নতুন জাতীয় বেতনস্কেল বাস্তবায়নের বিধান দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ থেকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬ জারি করা হয়।নতুন আদেশ অনুযায়ী, জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। এতে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেডের জন্য নতুন বেতনস্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন কাঠামোয় সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদে মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। আর সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।অন্যদিকে ২০তম গ্রেডে নতুন বেতনস্কেল শুরু হবে ২০ হাজার টাকা থেকে। ধাপে ধাপে এ বেতন ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত উন্নীত হবে।তবে নতুন বেতন কাঠামো একবারে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। আদেশ অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ৯ম গ্রেড ও তার ওপরের গ্রেডের কর্মচারীরা নতুন নির্ধারিত বেতন ও বর্তমান বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ পাবেন। একই সময়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে এ পার্থক্যের ৫০ শতাংশ বর্তমান বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।পরবর্তী ধাপে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বের জন্য ওই পার্থক্যের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ৭৫ শতাংশ প্রদান করা হবে। এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ নতুন মূল বেতন শতভাগ কার্যকর হবে।আদেশে বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের বেতন সরকারি কর্মচারীরা বকেয়া হিসেবে পাবেন। একইভাবে অবসরপ্রাপ্ত ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য নতুন পেনশন কাঠামো অনুযায়ী বকেয়া পাওনার বিধান রাখা হয়েছে।নতুন আদেশে মূল বেতনের পাশাপাশি পেনশন, বিভিন্ন ধরনের ভাতা, ঝুঁকি ভাতা ও বিশেষ ভাতার বিষয়েও বিধান রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিশেষ বা ঝুঁকি ভাতার ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত ভাতার ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।নতুন বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া অনলাইনে iBAS++ ও Pay Fixation ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। সরকারি কর্মচারীরা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে বেতন নির্ধারণ করবেন। পরে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস তা যাচাই করে অনুমোদন করবে।নতুন আদেশ জারির মাধ্যমে এর আগে কার্যকর থাকা ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫’ রহিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার নতুন আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।
নতুন পে স্কেলের ভেটিং সম্পন্ন, প্রজ্ঞাপনের দিনক্ষণ নিয়ে সবশেষ যা জানা যাচ্ছে
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) প্রজ্ঞাপন ছাপার কাজ চলছে। দুপুরের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রজ্ঞাপন জারির আগে প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংও শেষ হয়েছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপনের মুদ্রণকাজ চলেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবারই গেজেট প্রকাশ করা হবে।এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। এতে গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন। তবে অনুমোদনের প্রায় তিন সপ্তাহ পর এটি প্রকাশের পর্যায়ে এসেছে।নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল থাকছে। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব গ্রেডে মূল বেতন আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হবে।এদিকে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি। প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো একবারে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে না; মোট তিন ধাপে তা কার্যকর হবে। তবে নতুন পে স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে ধরা হবে।প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা।নতুন পে স্কেলের ভিত্তি তৈরিতে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কমিশন গত ২২ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।কমিশনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ ছিল। একই সঙ্গে বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের যাতায়াত ভাতায় পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।পরে ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।এখন বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপনের মুদ্রণকাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষা। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবার দুপুরের পরই নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হতে পারে।
রংপুর অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চ
বিভিন্ন দাবিতে রাজধানী ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে লং মার্চ শুরু করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।গণভোটে দেওয়া গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসনের দাবিতে এ লং মার্চের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের দাবিও জানিয়েছে জোটটি।কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও রয়েছে।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়। এতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।এ ছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন শরিক দলের শীর্ষ নেতারাও সমাবেশে অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম।সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা রংপুরের উদ্দেশে লং মার্চে অংশ নেন।
লংমার্চের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চসহ ধারাবাহিক কর্মসূচির ওপর বিএনপি নজর রাখছে। একইসঙ্গে বিরোধী দলের এমন কর্মসূচির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, সংসদে ও রাজনৈতিক বক্তব্যে জবাব দিলেও তারা বিরোধী দলের এসব কর্মসূচিকে এখনই বড় কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছেন না। এমনকি পাল্টা কোনো কর্মসূচির কথাও ভাবছেন না বলেও উল্লেখ করেন তারা। সরকারে থেকে বিরোধীদের কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বিএনপির নেতারা জানান, সরকার সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। তবে দলের নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকলে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। জ্বালানি, বিদ্যুৎ–সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠের কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো। লংমার্চসহ এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে তারা। অপরদিকে বিএনপির কোনো পাল্টা কর্মসূচি নেই। এমতাবস্থায় বিরোধীদের তৎপরতাকে ক্ষমতাসীন দল কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, সেই প্রশ্নও রাজনৈতিক মহলে উঠেছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচিকে গণতান্ত্রিক চর্চার একটা অংশ হিসেবে দেখছি। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করার অধিকার সবার আছে। আমরা এটাকে সেভাবেই দেখছি, এর বেশি কিছু না।’ তবে বিএনপির এই অবস্থানকে জামায়াতে ইসলামী ভিন্নভাবে দেখছে। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিরোধী দলের কর্মসূচিকে গুরুত্ব না দিলে কি সংসদে প্রতিক্রিয়া দেয়? আমরা মনে করি, সরকারি দলের পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার ক্যাপাসিটি নেই, বিএনপির আগের সেই নৈতিক অবস্থানও নেই।’ জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটের সমাধান, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১–দলীয় জোট ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ করে। আজ জোটের রংপুর অভিমুখে লংমার্চ। পর্যায়ক্রমে খুলনা ও সিলেটসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর অভিমুখেও একই কর্মসূচি করার ঘোষণা রয়েছে জোটের। এর আগে, প্রথম দফা লংমার্চের বিভিন্ন পথসভা থেকে সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধী দলের নেতারা। একাধিক পথসভায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, দেশে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, জ্বালানি তেল নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চারদিকে নাই আর নাই শব্দ। ফেনীর মহিপালের পথসভায় সরকারকে আরও সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, এ সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কারও চোখ রাঙানি সহ্য করব না। আমরা যেখানে বাধা পাব, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’ বিরোধীদের এসব বক্তব্য ও কর্মসূচির প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি এখন পর্যন্ত সংসদ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যেই সীমিত থাকছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও লংমার্চের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে জ্বালানিসংকটের সমাধানে লংমার্চ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বলেন, ‘আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল। বাইরে বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কি না? গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।’ পাশাপাশি বিরোধীদের লংমার্চের সমালোচনা করেছেন সরকারি দলের অন্য নেতারাও। তাদের বক্তব্যে মূলত এই কর্মসূচির যৌক্তিকতা, জ্বালানিসংকটের বাস্তবতা এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়গুলো সামনে আসছে। বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য, বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির কারণে এখনই এমন কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন না, যার জন্য দলকে পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। বিরোধীদের কর্মসূচি নজরে রাখলেও রাজপথে একই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে জবাব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন না তারা। দলটির নেতাদের ধারণা, কর্মসূচি পালন বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার। তবে কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। ফলে আপাতত সরকারি কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধীদের মোকাবিলার কৌশলেই থাকছে বিএনপি। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে রাজনৈতিক কর্মীদের অনেকে মনে করছেন, বিরোধীদের কর্মসূচিকে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে না ক্ষমতাসীন দল। দলটির নেতাদের একটি অংশেরও বক্তব্য, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বদলেছে। প্রায় দুই দশক বিরোধী রাজনীতিতে থাকার সময় রাজপথের আন্দোলন ছিল দলের প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার। এখন সরকার পরিচালনাই প্রধান দায়িত্ব। তাই বিরোধীদের কর্মসূচির জবাবে একই ধরনের কর্মসূচিতে যাওয়ার তাগিদ নেই। তবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের মতো জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা নিয়মিত কর্মসূচি দিতে থাকলে সরকারের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা জনগণের কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন হতে পারে- বলে দলের ভেতরেই কেউ কেউ মনে করছেন। ক্ষমতায় আসার পর দলীয় সংগঠন কতটা সক্রিয় রয়েছে, সেই প্রশ্নও বিএনপির সামনে আসছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় অংশ ব্যস্ত মন্ত্রিসভা, সংসদ ও প্রশাসনিক কাজে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। এদিকে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে বিএনপি কতটা সক্রিয় হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিরোধী দলগুলো নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক তৎপরতার বিষয়টিও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অপরাধের উৎসমুখে সমাধান আনা গেলে অপরাধের হার কার্যকরভাবে কমানো সম্ভব। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?
সরকার সমালোচকদের সমালোচনা করার অধিকারকে ছোট করে দিচ্ছে: ব্যারিস্টার ফুয়াদ
সরকার সমালোচকদের সমালোচনা করার অধিকারকে ছোট করে দিচ্ছে: ব্যারিস্টার ফুয়াদ
সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোর দেখিয়ে জনগণের বিরুদ্ধে যাবেন না : বিএনপিকে মিয়া গোলাম পরওয়ার
সখীপুরে সন্তানকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে
ছাত্রদল নেত্রীকে নিয়ে তরুণদের আপত্তিকর ভিডিও, বিচার না পেলে পদত্যাগের ঘোষণা!
ভোগডাবুড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এখন ছাগল ও হাঁসের খামার
কোটা আন্দোলনে রাশেদ খাঁনকে নি*র্যা*ত*নের অভিযোগ তদন্তে ট্রাইব্যুনাল
সাত দফা দাবিতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ১১ দলের রংপুর অভিমুখে লংমার্চ: মিয়া গোলাম পরওয়ার