শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

নতুন পে স্কেলে বড় পরিবর্তন, ১ জুলাই থেকে কার্যকর

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করেছে সরকার। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারির মাধ্যমে নতুন জাতীয় বেতনস্কেল বাস্তবায়নের বিধান দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ থেকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬ জারি করা হয়।নতুন আদেশ অনুযায়ী, জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। এতে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেডের জন্য নতুন বেতনস্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন কাঠামোয় সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদে মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। আর সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।অন্যদিকে ২০তম গ্রেডে নতুন বেতনস্কেল শুরু হবে ২০ হাজার টাকা থেকে। ধাপে ধাপে এ বেতন ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত উন্নীত হবে।তবে নতুন বেতন কাঠামো একবারে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। আদেশ অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ৯ম গ্রেড ও তার ওপরের গ্রেডের কর্মচারীরা নতুন নির্ধারিত বেতন ও বর্তমান বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ পাবেন। একই সময়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে এ পার্থক্যের ৫০ শতাংশ বর্তমান বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।পরবর্তী ধাপে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বের জন্য ওই পার্থক্যের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ৭৫ শতাংশ প্রদান করা হবে। এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ নতুন মূল বেতন শতভাগ কার্যকর হবে।আদেশে বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের বেতন সরকারি কর্মচারীরা বকেয়া হিসেবে পাবেন। একইভাবে অবসরপ্রাপ্ত ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য নতুন পেনশন কাঠামো অনুযায়ী বকেয়া পাওনার বিধান রাখা হয়েছে।নতুন আদেশে মূল বেতনের পাশাপাশি পেনশন, বিভিন্ন ধরনের ভাতা, ঝুঁকি ভাতা ও বিশেষ ভাতার বিষয়েও বিধান রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিশেষ বা ঝুঁকি ভাতার ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত ভাতার ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।নতুন বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া অনলাইনে iBAS++ ও Pay Fixation ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। সরকারি কর্মচারীরা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে বেতন নির্ধারণ করবেন। পরে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস তা যাচাই করে অনুমোদন করবে।নতুন আদেশ জারির মাধ্যমে এর আগে কার্যকর থাকা ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫’ রহিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার নতুন আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

নতুন পে স্কেলের ভেটিং সম্পন্ন, প্রজ্ঞাপনের দিনক্ষণ নিয়ে সবশেষ যা জানা যাচ্ছে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) প্রজ্ঞাপন ছাপার কাজ চলছে। দুপুরের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রজ্ঞাপন জারির আগে প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংও শেষ হয়েছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপনের মুদ্রণকাজ চলেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবারই গেজেট প্রকাশ করা হবে।এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। এতে গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন। তবে অনুমোদনের প্রায় তিন সপ্তাহ পর এটি প্রকাশের পর্যায়ে এসেছে।নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল থাকছে। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব গ্রেডে মূল বেতন আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হবে।এদিকে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি। প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো একবারে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে না; মোট তিন ধাপে তা কার্যকর হবে। তবে নতুন পে স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে ধরা হবে।প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা।নতুন পে স্কেলের ভিত্তি তৈরিতে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কমিশন গত ২২ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।কমিশনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ ছিল। একই সঙ্গে বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের যাতায়াত ভাতায় পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।পরে ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।এখন বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপনের মুদ্রণকাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষা। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবার দুপুরের পরই নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হতে পারে।

রংপুর অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চ

বিভিন্ন দাবিতে রাজধানী ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে লং মার্চ শুরু করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।গণভোটে দেওয়া গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসনের দাবিতে এ লং মার্চের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের দাবিও জানিয়েছে জোটটি।কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও রয়েছে।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়। এতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।এ ছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন শরিক দলের শীর্ষ নেতারাও সমাবেশে অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম।সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা রংপুরের উদ্দেশে লং মার্চে অংশ নেন।

লংমার্চের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চসহ ধারাবাহিক কর্মসূচির ওপর বিএনপি নজর রাখছে। একইসঙ্গে বিরোধী দলের এমন কর্মসূচির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, সংসদে ও রাজনৈতিক বক্তব্যে জবাব দিলেও তারা বিরোধী দলের এসব কর্মসূচিকে এখনই বড় কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছেন না।  এমনকি পাল্টা কোনো কর্মসূচির কথাও ভাবছেন না বলেও উল্লেখ করেন তারা। সরকারে থেকে বিরোধীদের কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বিএনপির নেতারা জানান, সরকার সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। তবে দলের নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকলে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। জ্বালানি, বিদ্যুৎ–সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠের কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো। লংমার্চসহ এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে তারা।  অপরদিকে বিএনপির কোনো পাল্টা কর্মসূচি নেই। এমতাবস্থায় বিরোধীদের তৎপরতাকে ক্ষমতাসীন দল কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, সেই প্রশ্নও রাজনৈতিক মহলে উঠেছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচিকে গণতান্ত্রিক চর্চার একটা অংশ হিসেবে দেখছি। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করার অধিকার সবার আছে। আমরা এটাকে সেভাবেই দেখছি, এর বেশি কিছু না।’ তবে বিএনপির এই অবস্থানকে জামায়াতে ইসলামী ভিন্নভাবে দেখছে।  দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিরোধী দলের কর্মসূচিকে গুরুত্ব না দিলে কি সংসদে প্রতিক্রিয়া দেয়? আমরা মনে করি, সরকারি দলের পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার ক্যাপাসিটি নেই, বিএনপির আগের সেই নৈতিক অবস্থানও নেই।’ জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটের সমাধান, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১–দলীয় জোট ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ করে। আজ জোটের রংপুর অভিমুখে লংমার্চ। পর্যায়ক্রমে খুলনা ও সিলেটসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর অভিমুখেও একই কর্মসূচি করার ঘোষণা রয়েছে জোটের। এর আগে, প্রথম দফা লংমার্চের বিভিন্ন পথসভা থেকে সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধী দলের নেতারা। একাধিক পথসভায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, দেশে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, জ্বালানি তেল নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চারদিকে নাই আর নাই শব্দ। ফেনীর মহিপালের পথসভায় সরকারকে আরও সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, এ সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কারও চোখ রাঙানি সহ্য করব না। আমরা যেখানে বাধা পাব, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’ বিরোধীদের এসব বক্তব্য ও কর্মসূচির প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি এখন পর্যন্ত সংসদ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যেই সীমিত থাকছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও লংমার্চের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে জ্বালানিসংকটের সমাধানে লংমার্চ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বলেন, ‘আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল। বাইরে বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কি না? গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।’ পাশাপাশি বিরোধীদের লংমার্চের সমালোচনা করেছেন সরকারি দলের অন্য নেতারাও। তাদের বক্তব্যে মূলত এই কর্মসূচির যৌক্তিকতা, জ্বালানিসংকটের বাস্তবতা এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়গুলো সামনে আসছে। বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য, বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির কারণে এখনই এমন কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন না, যার জন্য দলকে পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। বিরোধীদের কর্মসূচি নজরে রাখলেও রাজপথে একই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে জবাব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন না তারা। দলটির নেতাদের ধারণা, কর্মসূচি পালন বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার। তবে কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। ফলে আপাতত সরকারি কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধীদের মোকাবিলার কৌশলেই থাকছে বিএনপি। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে রাজনৈতিক কর্মীদের অনেকে মনে করছেন, বিরোধীদের কর্মসূচিকে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে না ক্ষমতাসীন দল। দলটির নেতাদের একটি অংশেরও বক্তব্য, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বদলেছে। প্রায় দুই দশক বিরোধী রাজনীতিতে থাকার সময় রাজপথের আন্দোলন ছিল দলের প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার। এখন সরকার পরিচালনাই প্রধান দায়িত্ব। তাই বিরোধীদের কর্মসূচির জবাবে একই ধরনের কর্মসূচিতে যাওয়ার তাগিদ নেই। তবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের মতো জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা নিয়মিত কর্মসূচি দিতে থাকলে সরকারের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা জনগণের কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন হতে পারে- বলে দলের ভেতরেই কেউ কেউ মনে করছেন। ক্ষমতায় আসার পর দলীয় সংগঠন কতটা সক্রিয় রয়েছে, সেই প্রশ্নও বিএনপির সামনে আসছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় অংশ ব্যস্ত মন্ত্রিসভা, সংসদ ও প্রশাসনিক কাজে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।  এদিকে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে বিএনপি কতটা সক্রিয় হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিরোধী দলগুলো নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক তৎপরতার বিষয়টিও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।  

নতুন পে স্কেলে বড় পরিবর্তন, ১ জুলাই থেকে কার্যকর

নতুন পে স্কেলে বড় পরিবর্তন, ১ জুলাই থেকে কার্যকর

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করেছে সরকার। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারির মাধ্যমে নতুন জাতীয় বেতনস্কেল বাস্তবায়নের বিধান দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ থেকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬ জারি করা হয়।নতুন আদেশ অনুযায়ী, জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। এতে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেডের জন্য নতুন বেতনস্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন কাঠামোয় সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদে মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। আর সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।অন্যদিকে ২০তম গ্রেডে নতুন বেতনস্কেল শুরু হবে ২০ হাজার টাকা থেকে। ধাপে ধাপে এ বেতন ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত উন্নীত হবে।তবে নতুন বেতন কাঠামো একবারে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। আদেশ অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ৯ম গ্রেড ও তার ওপরের গ্রেডের কর্মচারীরা নতুন নির্ধারিত বেতন ও বর্তমান বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ পাবেন। একই সময়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে এ পার্থক্যের ৫০ শতাংশ বর্তমান বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।পরবর্তী ধাপে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বের জন্য ওই পার্থক্যের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ৭৫ শতাংশ প্রদান করা হবে। এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ নতুন মূল বেতন শতভাগ কার্যকর হবে।আদেশে বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের বেতন সরকারি কর্মচারীরা বকেয়া হিসেবে পাবেন। একইভাবে অবসরপ্রাপ্ত ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য নতুন পেনশন কাঠামো অনুযায়ী বকেয়া পাওনার বিধান রাখা হয়েছে।নতুন আদেশে মূল বেতনের পাশাপাশি পেনশন, বিভিন্ন ধরনের ভাতা, ঝুঁকি ভাতা ও বিশেষ ভাতার বিষয়েও বিধান রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিশেষ বা ঝুঁকি ভাতার ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত ভাতার ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।নতুন বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া অনলাইনে iBAS++ ও Pay Fixation ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। সরকারি কর্মচারীরা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে বেতন নির্ধারণ করবেন। পরে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস তা যাচাই করে অনুমোদন করবে।নতুন আদেশ জারির মাধ্যমে এর আগে কার্যকর থাকা ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫’ রহিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার নতুন আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

৪ মিনিট আগে
নতুন পে স্কেলের ভেটিং সম্পন্ন, প্রজ্ঞাপনের দিনক্ষণ নিয়ে সবশেষ যা জানা যাচ্ছে

নতুন পে স্কেলের ভেটিং সম্পন্ন, প্রজ্ঞাপনের দিনক্ষণ নিয়ে সবশেষ যা জানা যাচ্ছে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) প্রজ্ঞাপন ছাপার কাজ চলছে। দুপুরের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রজ্ঞাপন জারির আগে প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংও শেষ হয়েছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপনের মুদ্রণকাজ চলেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবারই গেজেট প্রকাশ করা হবে।এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। এতে গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন। তবে অনুমোদনের প্রায় তিন সপ্তাহ পর এটি প্রকাশের পর্যায়ে এসেছে।নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল থাকছে। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব গ্রেডে মূল বেতন আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হবে।এদিকে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি। প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো একবারে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে না; মোট তিন ধাপে তা কার্যকর হবে। তবে নতুন পে স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে ধরা হবে।প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা।নতুন পে স্কেলের ভিত্তি তৈরিতে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কমিশন গত ২২ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।কমিশনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ ছিল। একই সঙ্গে বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের যাতায়াত ভাতায় পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।পরে ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।এখন বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপনের মুদ্রণকাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষা। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবার দুপুরের পরই নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হতে পারে।

৩৪ মিনিট আগে
জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কূপটি থেকে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর এলাকায় গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয়। একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কূপটির খনন সম্পন্ন করা হয়। প্রায় ৩ হাজার ৫২৬ মিটার গভীরতায় পৌঁছানোর পর কূপটিতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়।পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত ১৯ জুন থেকে কূপটি দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।এখন থেকে তিতাস-২৮ নম্বর কূপ থেকে প্রতিদিন নিয়মিত ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে ২৩টি কূপ উৎপাদনে রয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন কূপটি উৎপাদনে যুক্ত হওয়ায় দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

৩৮ মিনিট আগে
হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি: বিচারিক শৃঙ্খলায় কমবে মামলার চাপ

হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি: বিচারিক শৃঙ্খলায় কমবে মামলার চাপ

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে চলতি বছর নতুন রিট মামলা দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে নতুন মামলার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি রিট নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত বিরোধ ও ব্যক্তিস্বার্থে রিট দায়েরের প্রবণতা বন্ধ করা গেলে আদালতে মামলার চাপ আরও কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর আদালতে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। বিচারিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে রিটের সংখ্যা কমবে এবং আদালতের কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল হবে। তাঁর মতে, আদালতে শৃঙ্খলা থাকলে প্রকৃত অর্থেই মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ পায়।সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে হাইকোর্টে বিচারাধীন রিটের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬০টি। বছরের প্রথম তিন মাসে নতুন রিট দায়ের হয় ৪ হাজার ১১২টি। এ সময়ে নিষ্পত্তি হয় ২ হাজার ২১৩টি মামলা।এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে নতুন রিট দায়ের হয় ৪ হাজার ৭২৯টি। বিপরীতে নিষ্পত্তি করা হয় ৯ হাজার ৫৯০টি। অর্থাৎ এ সময়ে নতুন মামলার তুলনায় দ্বিগুণের বেশি রিট নিষ্পত্তি হয়েছে। জুনের শেষে বিচারাধীন রিটের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৯টিতে।লক্ষাধিক রিট বিচারাধীন থাকার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অনেক সময় জনস্বার্থের মামলা বা পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশনের (পিআইএল) আড়ালে ব্যক্তিস্বার্থের বিষয় আদালতে আনা হয়। এমনকি মামলা করার পর তা নিয়ে প্রচারের প্রবণতাও দেখা যায়, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত হাইকোর্টের জন্য অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কোন ধরনের মামলা হাইকোর্ট গ্রহণ করতে পারবেন এবং কোনগুলো পারবেন না—এ বিষয়ে আপিল বিভাগের একাধিক রায়ে নির্দেশনা রয়েছে। তার পরও এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে কিছু ক্ষেত্রে মামলা গ্রহণ ও আদেশ দেওয়ায় বিচারিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে।অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়েও সরাসরি হাইকোর্টে রিট করার প্রবণতা রয়েছে। জমি দখল, সীমানা নির্ধারণ কিংবা বিল-বাঁওড়সংক্রান্ত বিরোধের মতো বিষয় সাধারণত নিম্ন আদালতে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কেউ কেউ সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে সরাসরি হাইকোর্টে রিট করছেন। এতে রিট মামলার সংখ্যা বাড়ছে এবং আদালতের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে হাইকোর্টে পাঁচ ধরনের রিটের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে হেবিয়াস করপাস বেআইনি আটক ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করার জন্য, ম্যান্ডামাস আইন অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিতে, সার্টিওরারি বেআইনি আদেশ বাতিল করতে, প্রহিবিশন ক্ষমতার সীমার বাইরে বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ করতে এবং কো-ওয়ারেন্টো কোনো সরকারি পদে কারও বৈধতা যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিটের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় ‘মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ’ মামলার রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এরপর জনস্বার্থে রিটের মাধ্যমে নদী রক্ষা, দখল উচ্ছেদ, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, পাহাড় কাটা প্রতিরোধ, জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ এসেছে।এ ধরনের মামলার সুফল অনেক সময় শুধু মামলাকারী নয়, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীও পেয়ে থাকে। নারী, শিশু ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার সুরক্ষা এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রেও রিটের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা এসেছে।

২ ঘন্টা আগে
লংমার্চের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির

লংমার্চের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চসহ ধারাবাহিক কর্মসূচির ওপর বিএনপি নজর রাখছে। একইসঙ্গে বিরোধী দলের এমন কর্মসূচির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, সংসদে ও রাজনৈতিক বক্তব্যে জবাব দিলেও তারা বিরোধী দলের এসব কর্মসূচিকে এখনই বড় কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছেন না।  এমনকি পাল্টা কোনো কর্মসূচির কথাও ভাবছেন না বলেও উল্লেখ করেন তারা। সরকারে থেকে বিরোধীদের কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বিএনপির নেতারা জানান, সরকার সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। তবে দলের নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকলে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। জ্বালানি, বিদ্যুৎ–সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠের কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো। লংমার্চসহ এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে তারা।  অপরদিকে বিএনপির কোনো পাল্টা কর্মসূচি নেই। এমতাবস্থায় বিরোধীদের তৎপরতাকে ক্ষমতাসীন দল কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, সেই প্রশ্নও রাজনৈতিক মহলে উঠেছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচিকে গণতান্ত্রিক চর্চার একটা অংশ হিসেবে দেখছি। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করার অধিকার সবার আছে। আমরা এটাকে সেভাবেই দেখছি, এর বেশি কিছু না।’ তবে বিএনপির এই অবস্থানকে জামায়াতে ইসলামী ভিন্নভাবে দেখছে।  দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিরোধী দলের কর্মসূচিকে গুরুত্ব না দিলে কি সংসদে প্রতিক্রিয়া দেয়? আমরা মনে করি, সরকারি দলের পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার ক্যাপাসিটি নেই, বিএনপির আগের সেই নৈতিক অবস্থানও নেই।’ জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটের সমাধান, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১–দলীয় জোট ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ করে। আজ জোটের রংপুর অভিমুখে লংমার্চ। পর্যায়ক্রমে খুলনা ও সিলেটসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর অভিমুখেও একই কর্মসূচি করার ঘোষণা রয়েছে জোটের। এর আগে, প্রথম দফা লংমার্চের বিভিন্ন পথসভা থেকে সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধী দলের নেতারা। একাধিক পথসভায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, দেশে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, জ্বালানি তেল নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চারদিকে নাই আর নাই শব্দ। ফেনীর মহিপালের পথসভায় সরকারকে আরও সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, এ সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কারও চোখ রাঙানি সহ্য করব না। আমরা যেখানে বাধা পাব, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’ বিরোধীদের এসব বক্তব্য ও কর্মসূচির প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি এখন পর্যন্ত সংসদ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যেই সীমিত থাকছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও লংমার্চের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে জ্বালানিসংকটের সমাধানে লংমার্চ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বলেন, ‘আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল। বাইরে বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কি না? গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।’ পাশাপাশি বিরোধীদের লংমার্চের সমালোচনা করেছেন সরকারি দলের অন্য নেতারাও। তাদের বক্তব্যে মূলত এই কর্মসূচির যৌক্তিকতা, জ্বালানিসংকটের বাস্তবতা এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়গুলো সামনে আসছে। বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য, বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির কারণে এখনই এমন কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন না, যার জন্য দলকে পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। বিরোধীদের কর্মসূচি নজরে রাখলেও রাজপথে একই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে জবাব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন না তারা। দলটির নেতাদের ধারণা, কর্মসূচি পালন বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার। তবে কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। ফলে আপাতত সরকারি কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধীদের মোকাবিলার কৌশলেই থাকছে বিএনপি। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে রাজনৈতিক কর্মীদের অনেকে মনে করছেন, বিরোধীদের কর্মসূচিকে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে না ক্ষমতাসীন দল। দলটির নেতাদের একটি অংশেরও বক্তব্য, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বদলেছে। প্রায় দুই দশক বিরোধী রাজনীতিতে থাকার সময় রাজপথের আন্দোলন ছিল দলের প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার। এখন সরকার পরিচালনাই প্রধান দায়িত্ব। তাই বিরোধীদের কর্মসূচির জবাবে একই ধরনের কর্মসূচিতে যাওয়ার তাগিদ নেই। তবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের মতো জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা নিয়মিত কর্মসূচি দিতে থাকলে সরকারের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা জনগণের কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন হতে পারে- বলে দলের ভেতরেই কেউ কেউ মনে করছেন। ক্ষমতায় আসার পর দলীয় সংগঠন কতটা সক্রিয় রয়েছে, সেই প্রশ্নও বিএনপির সামনে আসছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় অংশ ব্যস্ত মন্ত্রিসভা, সংসদ ও প্রশাসনিক কাজে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।  এদিকে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে বিএনপি কতটা সক্রিয় হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিরোধী দলগুলো নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক তৎপরতার বিষয়টিও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।  

৩ ঘন্টা আগে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া সেই ভাষণে জিন্নাহ যা বলেছিলেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া সেই ভাষণে জিন্নাহ যা বলেছিলেন

ব্রিটিশ শাসনের অবসান এবং ভারত ভাগের প্রায় সাত মাস পর ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় আসেন পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। এটি ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তাঁর প্রথম এবং একমাত্র সফর। শারীরিকভাবে অসুস্থ জিন্নাহর জীবনে সফরটি ছিল শেষ দিকের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর একটি। ঢাকায় আসার প্রায় ছয় মাস পরই তিনি মারা যান।প্রায় ১০ দিনের সফরে জিন্নাহ ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং একাধিক বক্তব্য দেন। এর মধ্যে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে দেওয়া তাঁর বক্তব্য ইতিহাসে বিশেষভাবে আলোচিত। বিশেষ করে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুর পক্ষে তাঁর অবস্থান তৎকালীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জিন্নাহ শুরুতেই বলেন, আনুষ্ঠানিক সমাবর্তন বক্তৃতা প্রস্তুত করার মতো পর্যাপ্ত সময় তাঁর ছিল না। তাই শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি নিজের কিছু কথা তুলে ধরছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং নতুন রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তাদের সামনে থাকা দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।জিন্নাহর বক্তব্যে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পটভূমি, স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনার চ্যালেঞ্জ এবং জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পায়। তাঁর মতে, স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র গঠনের কাজ আরও কঠিন। তাই তরুণদের শৃঙ্খলা, ঐক্য ও দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।বক্তৃতার একটি বড় অংশজুড়ে ছিল তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং অভ্যন্তরীণ বিভেদের আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি ‘প্রাদেশিকতাবাদ’ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেন। ভাষা নিয়ে চলমান বিতর্ককেও তিনি সেই রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।ভাষার প্রশ্নে জিন্নাহ স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ নিজেদের প্রাদেশিক ও সরকারি ব্যবহারের ভাষা নির্ধারণ করতে পারে। তবে পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য একটি অভিন্ন ভাষা প্রয়োজন এবং সেই ভাষা হিসেবে তিনি উর্দুর পক্ষে মত দেন। তাঁর মতে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ঐক্যের স্বার্থে একটিই রাষ্ট্রভাষা থাকা উচিত এবং সেটি হবে উর্দু।বাংলা ও উর্দু দুই ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবির বিরুদ্ধেও তিনি অবস্থান নেন। ভাষা প্রশ্নকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত দাবিগুলোকে তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করে দেখানোর চেষ্টা করেন।তরুণদের রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হাতিয়ার না হওয়ার আহ্বান জানান জিন্নাহ। পড়াশোনায় মনোযোগ দিয়ে নিজেদের দেশের সম্পদ ও শক্তিতে পরিণত করার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি সততা ও জনকল্যাণে কাজ করা সরকারি কর্মচারীদের সহযোগিতা করার কথাও বলেন।মুসলিম লীগের ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য দেন জিন্নাহ। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় দলটির অবদানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রেও মুসলিম লীগকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। যারা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কেও সতর্ক থাকতে বলেন।বক্তৃতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল তরুণদের কর্মজীবন নিয়ে। শুধু সরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে ব্যবসা, ব্যাংকিং, বাণিজ্য, আইন, শিল্প ও কারিগরি শিক্ষার দিকে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর যুক্তি ছিল, একটি নতুন রাষ্ট্রের পক্ষে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণকে সরকারি চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়। তাই নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বেসরকারি ও উৎপাদনমুখী খাতে কাজ করার সুযোগ খুঁজতে হবে।কায়িক শ্রমকে ছোট করে না দেখার পরামর্শও দেন জিন্নাহ। তাঁর মতে, কারিগরি দক্ষতা ও বাস্তবমুখী শিক্ষা নতুন পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। নতুন শিল্প-কারখানা, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় তরুণদের জন্য এসব ক্ষেত্রে কাজের সুযোগও তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।নিজের বক্তব্যের উদাহরণ হিসেবে এক তরুণের কর্মজীবনের কথাও তুলে ধরেন জিন্নাহ। সরকারি চাকরি ছেড়ে ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়া ওই ব্যক্তি কয়েক বছরের মধ্যে উচ্চতর পদে উন্নীত হয়ে উল্লেখযোগ্য আয় করছেন বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে তরুণদের সরকারি চাকরিনির্ভর মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার বার্তা দেন পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা।শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জিন্নাহ। পূর্ব বাংলার তরুণদের ওপর নিজের আস্থা প্রকাশ করে তাদের ভবিষ্যৎ পাকিস্তান গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

১৯ ঘন্টা আগে
সার্ককে আবার সক্রিয় করতে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ

সার্ককে আবার সক্রিয় করতে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক/SAARC) পুনরায় সক্রিয় ও শক্তিশালী করতে ভুটানের অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতি করলে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সার্ক পুনরুজ্জীবনে তাঁর দেশটির ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।ভুটানের প্রধানমন্ত্রী জার্মানির উদ্দেশে যাত্রাপথে ঢাকার ভিভিআইপি লাউঞ্জে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। এ সময় বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভিবাদন ও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।আঞ্চলিক সমৃদ্ধি ও দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর যৌথ কল্যাণে সার্ককে পুনরায় সক্রিয় করার ওপর জোর দেয় বাংলাদেশ। বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সার্ক প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে বাংলাদেশের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি ও ঐতিহাসিক অবদান তুলে ধরেন।ভুটানের নতুন মেগা প্রকল্প ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ গঠনে বাংলাদেশি পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি সরবরাহ করে সরাসরি অবদান রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে ঢাকা।১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি দেওয়া দেশ ভুটান। ভৌগোলিক ও সামাজিকভাবে দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসা করেন উভয় পক্ষ।সংক্ষিপ্ত দ্বিপাক্ষিক ওই বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূতসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা সফরকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ভুটান সরকারের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা পৌঁছানো হয়।

১৯ ঘন্টা আগে
সার্ক পুনরুজ্জীবনে ভুটানের সহযোগিতা চাইলেন দুই মন্ত্রী

সার্ক পুনরুজ্জীবনে ভুটানের সহযোগিতা চাইলেন দুই মন্ত্রী

সার্ককে আবারও সক্রিয় করার উদ্যোগে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগের সঙ্গে আলোচনা করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শেরিং তোবগের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ আহ্বান জানান তারা। জার্মানি যাওয়ার পথে স্বল্প সময়ের জন্য ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী।সাক্ষাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শেরিং তোবগেকে শুভেচ্ছা জানান দুই মন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভুটানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ভুটান প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বৈঠকে স্মরণ করা হয়। এ ছাড়া পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন তারা।বৈঠকে ভুটানের গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশের সহযোগিতার আগ্রহের কথা জানানো হয়। ওই প্রকল্পে বাংলাদেশ থেকে পেশাজীবী, দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনবল দেওয়ার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন দুই মন্ত্রী।আলোচনায় দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আঞ্চলিক সহযোগিতার ভাবনার প্রসঙ্গও আসে। একই সঙ্গে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগে ভুটানের সহযোগিতা কামনা করা হয়।সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে ঢাকায় পৌঁছে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। পরে তিনি জার্মানির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

২০ ঘন্টা আগে
<span class='techtaranga_subtitle'>আইনমন্ত্রী / </span>জামায়াত মেনে নিয়েছে একাত্তরে তাদের ভূমিকা সঠিক ছিল না

আইনমন্ত্রী / জামায়াত মেনে নিয়েছে একাত্তরে তাদের ভূমিকা সঠিক ছিল না

একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ও অবস্থান সঠিক ছিল না সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে দলটি এমন অবস্থান মেনে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।আইনমন্ত্রী বলেন, একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক যে মূল্যায়ন করেছিলেন, সেটি জাতির সামনে তুলে ধরতে তিনি একটি বক্তব্য দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে ওই বক্তব্যে স্বাক্ষর করা হলে জামায়াতকে ঘিরে থাকা অনেক প্রশ্নের সমাধান হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে জামায়াতের অবস্থানও ওই বক্তব্যের আলোকে তৈরি হয়েছে।আসাদুজ্জামান আরও বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইনে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় ‘তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও পরিচালিত যুদ্ধ’ শব্দগুলো যুক্ত করার বিল সংসদে এলে জামায়াত এর বিপক্ষে ভোট দেয়নি।তিনি বলেন, ২০১৬ সালে ব্যারিস্টার রাজ্জাক তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও নীতির আলোকে একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা জাতির সামনে তুলে ধরার জন্য একটি বক্তব্যের খসড়া তৈরি করেছিলেন। সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে ওই বিষয়ে বিরোধিতা না করার মাধ্যমে জামায়াত পরোক্ষভাবে তাদের তৎকালীন ভূমিকা স্বীকার করেছে বলে তিনি মনে করেন। এ ঘটনাকে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের দূরদর্শিতার উদাহরণ হিসেবেও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে জামায়াতের আইনজীবীদের উপস্থিত না থাকা নিয়েও সমালোচনা করেন আইনমন্ত্রী।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে অভ্যন্তরীণভাবে আরও অনেক সংস্কারের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

২৩ ঘন্টা আগে
<span class='techtaranga_subtitle'>ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন  / </span>নভেম্বরে ভারত সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন / নভেম্বরে ভারত সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

চলতি বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যেতে পারেন বলে জানিয়েছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস নাউ’। দুই দেশের মধ্যে স্থগিত থাকা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার পর এই সফরের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গণমাধ্যমটি তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করে।  সফরের প্রস্তুতি ও গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডাপ্রতিবেদনে জানানো হয়, সফরের প্রস্তুতি হিসেবে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও বৈঠক অব্যাহত রেখেছেন।ভারত সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে যেসব বিষয় প্রাধান্য পাবে:   সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসন: সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখা ও অনুপ্রবেশ রোধে সুনির্দিষ্ট আলোচনা।বাণিজ্য প্রসার: দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা ও গতিশীল করা।  চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন।🌐 কূটনৈতিক সম্পর্কের টানা-পোড়েন ও নতুন সমীকরণবাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, ঢাকাকে ঘিরে ভারতের অতিরিক্ত 'মোহ' বা নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে দুই দেশের মধ্যে সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক একটি ভারসাম্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ।

২৩ ঘন্টা আগে
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অপরাধের উৎসমুখে সমাধান আনা গেলে অপরাধের হার কার্যকরভাবে কমানো সম্ভব। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অপরাধের উৎসমুখে সমাধান আনা গেলে অপরাধের হার কার্যকরভাবে কমানো সম্ভব। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

গণভোটের রায় কার্যকর ছাড়া সরকারের বিকল্প পথ নেই: মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথের কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া-বাইপাসের টাঙ্গাইল রোডে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মামুনুল হক বলেন, জনগণের বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই ১১ দল রাজপথে নেমেছে। দাবি বাস্তবায়ন করেই তারা কর্মসূচি শেষ করে ঘরে ফিরতে চান। তাঁর দাবি, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় কার্যকর করা ছাড়া সরকারের সামনে অন্য কোনো পথ নেই।তিনি বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকারেরও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে ক্ষমতা ছাড়ার পথ বেছে নিতে হবে।দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো হস্তক্ষেপ করছে বলেও অভিযোগ করেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এ দেশের মানুষ নিজেরাই নির্ধারণ করবে এ বিষয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের অবস্থান স্পষ্ট।তিস্তা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এ বিষয়ে কোনো ধরনের লুকোচুরি বা টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না বলে জানান।এ ছাড়া শহীদ শরীফ ওসমান হাদী, ইলিয়াস আলীসহ গুম ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের ঘটনার বিচার দাবি করেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার জনগণ আদায় করে ছাড়বে।শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের এখনো বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তর না করে মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে তারা তাদের দাবিতে সফল হবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মামুনুল হক।

লিংক কপি করা হয়েছে!

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ পাভেলের থাকা না থাকা নিয়ে গুঞ্জন

অভিনেতা সাইদুর রহমান পাভেল জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে বাদ পড়ছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি তার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নাটকের নিয়মিত অভিনয়শিল্পীদের নতুন তালিকায় নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে নেটদুনিয়ায় জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ধারাবাহিকটির পরিচালক কাজল আরেফিন অমি নিজের ফেসবুক পেজে নাটকের অভিনয়শিল্পীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেন। সেখানে নিয়মিত কলাকুশলীদের নাম থাকলেও পাভেলের নাম অনুপস্থিত ছিল। এতেই দর্শকদের মনে প্রশ্ন জাগে, তবে কি এই জনপ্রিয় ধারাবাহিক থেকে তিনি ছিটকে পড়েছেন? এর আগে পাভেলের একটি বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নানা সমালোচনা তৈরি হয়। ওই ঘটনার পরপরই প্রকাশিত শিল্পী তালিকায় তার নাম না থাকায় বাদ পড়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়। তবে পাভেলকে আসলেই নাটকটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি কিংবা অভিনেতা সাইদুর রহমান পাভেলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মেলেনি। ফলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত খবরটিকে সামাজিক মাধ্যমের গুঞ্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর চরিত্রগুলো নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ সবসময়ই বেশি। নতুন মৌসুমে পাভেলের থাকা না-থাকা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হলেও বিষয়টি স্পষ্ট হতে নির্মাতা বা সংশ্লিষ্ট অভিনেতার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।

গাটি কচু দিয়ে ইলিশের ঝোল

আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ। আমরা ইলিশ দিয়ে নানা পদই তো আমরা রান্না করি। এবার রেঁধে দেখুন ইলিশের মজাদার ঝোল। গাটি কচু ৩০০ গ্রাম, বেগুন ২০০ গ্রাম, ইলিশ মাছ ৪ টুকরা, পেঁয়াজকুচি ২ টেবিল চামচ, সরিষার তেল ৪ টেবিল চামচ, হলুদ, মরিচ ও ধনেগুঁড়া এক চা-চামচ করে, কাঁচা মরিচ ফালি ৫ থেকে ৬টি, ধনেপাতাকুচি ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো। গাটি কচু ও বেগুন কেটে আলাদা করে ধুয়ে রাখুন। ইলিশ মাছ কেটে ধুয়ে লবণ মাখিয়ে রাখুন। কড়াইতে সরিষার তেল গরম হলে পেঁয়াজকুচি দিয়ে সামান্য ভেজে অল্প পানি দিন। এবার হলুদ, মরিচ, ধনেগুঁড়া এবং লবণ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। পরে গাটি কচু দিয়ে আরও পাঁচ ছয় মিনিট কষিয়ে নিন। তারপর বেগুন দিয়ে আবার কষান। কষানো হলে ঝোলের পানি দিন অল্প পরিমাণে। ফুটে উঠলে কাঁচা ইলিশ মাছ দিয়ে কাঁচা মরিচ ফালি দিয়ে কড়াইতে ঢাকনা দিয়ে রান্না করুন ৫ থেকে ৬ মিনিট। শেষে ধনেপাতা ছড়িয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন।

ফেনসিডিল মামলায় শার্শার পাকশিয়ার স্বামী-স্ত্রীর যাবজ্জীবন

ফেনসিডিল মামলায় শার্শার পাকশিয়ার স্বামী-স্ত্রীর যাবজ্জীবন

যশোরে শার্শা উপজেলায় ফেনসিডিলের মামলায় পাকশিয়া শিমুলতলা গ্রামের স্বামী-স্ত্রীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন যশোরের একটি আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো বাবু মিয়া ও তার স্ত্রী রেখা খাতুন।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) যশোরের বিশেষ দায়রা (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক এস এম নূরুল ইসলাম এ রায়ে এ সাজা দিয়েছেন। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় শার্শার পাকশিয়া এলাকায় টহল ডিউটিতে থাকা বিজিবি সদস্যরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারেন, পাকশিয়া শিমুলতলা গ্রামের বাবু মিয়ার বাড়িতে ফেনসিডিল মজুদ রয়েছে। পরে বিজিবি সদস্যরা ওই বাড়ির কাছে গেলে বাবু মিয়া ও তার স্ত্রী রেখা খাতুন বাড়ির পেছন দিয়ে পালিয়ে যান। এ সময় বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উঠানের চুলার ভেতর একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ৯৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় বিজিবির সুবেদার মো. আব্দুস সালাম বাদী হয়ে শার্শা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত দুজনই কারাগারে আটক আছে।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream