বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

অনুমোদন পেল ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প

রাজধানীর তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি। বুধবার অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো হলো মেট্রোরেল লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, মেট্রোরেল লাইন-১ এবং মেট্রোরেল লাইন-৫ নর্দান রুট।সংশ্লিষ্টরা জানান, তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।প্রকল্পগুলোর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর) ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, শুরুতে একনেকের মূল এজেন্ডায় শুধু এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা ছিল। তবে পরে সমন্বিত অগ্রগতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধনের প্রস্তাবও একই সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।জাইকার অর্থায়নে ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।আর ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার পাতালপথসহ মোট ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।

ইরান ইস্যু নিয়ে জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-আরবের গোপন বৈঠক

গত সপ্তাহে জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক উত্তেজনা নিয়ে আলোচনার জন্য গোপন বৈঠক করেছেন। দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের উদ্যোগে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। তবে এতে অংশ নেওয়া কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের বিষয়ে কিছু জানায়নি। অতীতেও এ ধরনের বৈঠক হলেও ছয় মাসেরও বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে প্রথম বৈঠক। ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই—এমন কয়েকটি উপসাগরীয় আরব দেশের সামরিক কমান্ডারদের জন্য ইসরায়েলি নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক এবং যুদ্ধ নিয়ে মতবিনিময়ের বিরল সুযোগ তৈরি হয়। বৈঠকে অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ছাড়াও ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও মিশরের সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফরা উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলে বৈঠকে অংশ নেওয়া সামরিক নেতাদের আশ্বস্ত করেন কুপার। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার বিষয়েও তিনি অন্য সামরিক কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ জেনারেল ইয়াল যামির বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সেন্টকম এক বিবৃতিতে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, জার্মানিতে পূর্বনির্ধারিত একটি সম্মেলনে আটটি দেশের শীর্ষ সামরিক নেতাদের আতিথেয়তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যে 'নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করার নানা সুযোগ' নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মধ্যে আব্রাহাম চুক্তি সই হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা ক্রমশ বেড়েছে। এর কিছুদিন পর ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইউরোপীয় কমান্ডের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সেন্টকমের আওতায় নেওয়া হয়। এর ফলে সেন্টকমের অধীনে আরব দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাবিষয়ক আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর অংশীদার হওয়ার সুযোগ পায় ইসরায়েল। চলমান যুদ্ধের সময় আত্মরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক—দুই ধরনের সামরিক অভিযানেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিজস্ব সামরিক কর্মীসহ আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে ইসরায়েল। পাশাপাশি তারা গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি ও পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত (আইএসআর) তাৎক্ষণিক সহায়তাও দিচ্ছে। যুদ্ধ চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য আরব দেশের সঙ্গেও ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এদিকে বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবে হামলা জোরদার করেছে, স্থলভাগে অগ্রসর হচ্ছে এবং লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালির কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে ইসরায়েল কীভাবে সহায়তা করতে পারে, তা নিয়ে সেন্টকমের সহায়তায় ইসরায়েল ও সৌদি আরব আলোচনা করছে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতকে দেওয়া সহযোগিতার আদলে সৌদি আরবকে কীভাবে গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি ও পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত (আইএসআর) সহায়তা দেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা শুরু

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে শুরু হওয়া বৈঠকে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।এবারের সভায় ঢাকার গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন) প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে। প্রায় ৪৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার দুই অংশকে মেট্রোরেলের আওতায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাবতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কাওরান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও ও আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত যাবে এই রুট। ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনে মোট ১৫টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে ১১টি হবে ভূগর্ভস্থ এবং চারটি উড়ালপথে। পুরো রুটে যাতায়াতে সময় লাগবে প্রায় ২৮ মিনিট।প্রকল্পের ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ মাটির নিচে এবং ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার উড়ালপথে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যস্ত সময়ে সাড়ে চার মিনিট পরপর ট্রেন চালানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।প্রাথমিকভাবে ছয়টি কোচ নিয়ে ১৯টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ট্রেনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯০৮ জন যাত্রী বহন করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী এ পথে চলাচল করতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টদের হিসাব।প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা করে তা কমিয়ে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় আনা হয়েছে। অর্থাৎ আগের প্রস্তাবের তুলনায় ব্যয় কমেছে ৯ হাজার ১১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।তবে ব্যয় কমার একটি অংশ সরাসরি সাশ্রয় নয়। বিদেশি ঋণের সুদ ও কমিটমেন্ট চার্জ বাবদ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব অর্থ পরবর্তীতে অর্থ বিভাগের নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিশোধ করার কথা রয়েছে।এ ছাড়া জমি অধিগ্রহণ, যানবাহন, পরামর্শক, সম্মানি ও প্রশাসনিক ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতেও কাটছাঁট করা হয়েছে। জমির প্রয়োজন ২৩ দশমিক ০৯ হেক্টর থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ১০৪ হেক্টরে আনা হয়েছে। এতে অধিগ্রহণ ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পুনর্বাসনের জন্য প্রকল্পে ৪ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা বৈদেশিক ঋণ থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এ অর্থায়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফের সহযোগিতা নেওয়ার কথা রয়েছে।প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত। এরই মধ্যে প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, নকশা প্রণয়ন, দরপত্রসংক্রান্ত সহায়তা এবং জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনার কাজ এগিয়েছে।একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে অর্থায়ন চুক্তি, জমি অধিগ্রহণ ও ঠিকাদার নিয়োগসহ পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। তবে সভায় শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

মক্কার কাছে হুতির ড্রোন ঠেকাল সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী

একটি হুতি ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার কাছে। ড্রোনটি মঙ্গলবার মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয় বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বুধবার ভোরে জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, ইসলাম ধর্মের দুই পবিত্র স্থান এবং সেখানে থাকা মুসল্লি ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য ‘রেড লাইন’। হুতিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মুসলমান হজ পালনের জন্য সেখানে সমবেত হন। আল-মালিকি দাবি করেন, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের এটি দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল বলে দাবি করেছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হুতি মুখপাত্র হাজেম আল-আসাদ বলেন, মক্কায় হামলার অভিযোগ ‘পুরোনো মিথ্যা’, যা এর আগেও ব্যবহার করা হয়েছে। এদিকে মক্কার ঘটনায় হুতিদের নিন্দা জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। ৫৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের এই জোট ঘটনাটিকে ‘জঘন্য’ হামলা হিসেবে উল্লেখ করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চলমান ‘আগ্রাসনের’ নিন্দা জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। এর মধ্যে মক্কাসহ আরও কয়েকটি শহর রয়েছে। ইরান-সমর্থিত যোদ্ধাদের এক সপ্তাহের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে এসব সতর্কতা জারি করা হলো। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে সৌদি আরব আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে। নিরাপত্তা সতর্কতার পর সৌদি আরব ভ্রমণের ক্ষেত্রে নাগরিকদের ‘পুনর্বিবেচনা’ করার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। মার্কিন নাগরিকদের জন্য জারি করা সতর্কবার্তায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেন সীমান্তে সন্ত্রাসবাদের হুমকির কারণে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ওই এলাকা বাব আল-মান্দাব প্রণালির দিকে মুখ করে রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এই প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একটি অংশ পরিবহন করা হয়। গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে বেশ কয়েকটি বড় হামলার দাবি করেছে হুতিরা। সোমবার একটি বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবিও করেছে তারা। হুতিদের ভাষ্য, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।  

২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি পাবেন না যারা

২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি পাবেন না যারা

আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের সব স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় এক দিনের ছুটি থাকবে। তবে এ ছুটি সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ অন্যান্য কর্মস্থলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দিনটি স্বাভাবিক কর্মদিবস হিসেবে থাকবে।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক ছুটির তালিকায় ২৩ সেপ্টেম্বর ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় দিনটি সাধারণ ছুটি হিসেবে রাখা হয়নি।এ কারণে ২৩ সেপ্টেম্বর সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত কর্মসূচি অনুযায়ী অফিস করতে হবে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের ২৩ সেপ্টেম্বরের ছুটি শেষে পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে নিয়মিত ক্লাস ও কর্মস্থলে ফিরতে হবে।তবে কেউ ২৪ সেপ্টেম্বর ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারলে সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে টানা চার দিনের অবকাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার পর্যন্ত ছুটি পাওয়া সম্ভব।এদিকে ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ও শনিবার হওয়ায় ওই দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার শুভ মধু পূর্ণিমা। তবে দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে পড়ায় এ উপলক্ষে অতিরিক্ত কোনো ছুটি যুক্ত হচ্ছে না।

৬ মিনিট আগে
হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দেশটির সরকারের সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও ভারত তাতে সাড়া দিচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের আয়োজনে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী।তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরকে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করলেও শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে সেই সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রিজভীর দাবি, শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। তাঁদের ফেরত দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ বারবার ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।রিজভী আরও বলেন, অতীতে ভারত থেকে এক অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের উদাহরণ রয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, একইভাবে শেখ হাসিনাকে কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থানের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রিজভী। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সরকারপ্রধান হিসেবে যথাযথ মর্যাদা না দিয়ে অন্য পরিচয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এ কারণে তারেক রহমানের সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সার্বভৌম মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত।রিজভীর অভিযোগ, ওই সিদ্ধান্তের পরদিন ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিটে ত্রুটির কথা জানিয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়। তিনি এ ঘটনার সময় ও প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এটিকে কূটনৈতিক চাপের অংশ বলে দাবি করেন।বিগত সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, দীর্ঘ সময় দেশে লুটপাট, অর্থপাচার, গুম ও গুপ্তহত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।বর্তমান সময়ে বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করতে পারছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংসদ ও সংসদের বাইরে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হলেও বিরোধী নেতাদের গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটছে না। তাঁর ভাষ্য, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার।দেশের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিয়েও বক্তব্য দেন রিজভী। তাঁর দাবি, এই সংকট শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার কারণে তৈরি হয়নি; আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিরও এর ওপর প্রভাব রয়েছে। তিনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থার কথা উল্লেখ করেন।সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস আমদানির চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান রিজভী।এ ছাড়া দেশের রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি নিয়েও ইতিবাচক দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং রিজার্ভও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতির প্রতি সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানান রিজভী।তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অর্জন ও ইতিহাস মুছে ফেলার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তন বা এর ঐতিহাসিক পরিচয় বদলের কোনো উদ্যোগ থাকলে তার বিরোধিতা করার কথাও জানান তিনি।অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি কর্নেল (অব.) জয়নুল আবেদীন, আনিসুজ্জামান খোকন, মেজর (অব.) মিজানসহ সংগঠন দুটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

১৬ মিনিট আগে
অনুমোদন পেল ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প

অনুমোদন পেল ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প

রাজধানীর তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি। বুধবার অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো হলো মেট্রোরেল লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, মেট্রোরেল লাইন-১ এবং মেট্রোরেল লাইন-৫ নর্দান রুট।সংশ্লিষ্টরা জানান, তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।প্রকল্পগুলোর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর) ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, শুরুতে একনেকের মূল এজেন্ডায় শুধু এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা ছিল। তবে পরে সমন্বিত অগ্রগতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধনের প্রস্তাবও একই সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।জাইকার অর্থায়নে ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।আর ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার পাতালপথসহ মোট ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।

৪১ মিনিট আগে
জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ ও ডায়েরির ছবি যুক্ত হচ্ছে পাঠ্যবইয়ে

জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ ও ডায়েরির ছবি যুক্ত হচ্ছে পাঠ্যবইয়ে

আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। তাঁর তৎকালীন ঐতিহাসিক একটি ডায়েরির ছবিও সেই সঙ্গে বইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকে নতুন অধ্যায় হিসেবে এটি স্থান পাচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম স্মৃতিকথা হিসেবে বহুল আলোচিত এই দলিলটিকে পাঠ্যভুক্ত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)। বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, ‘আগামী বছরের শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এনসিসিসি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। যার যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে সচিবের সভাপতিত্বে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, ‘এনসিসিসি সভায় নিবন্ধটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও নির্মোহ ইতিহাস জানতে পারবে।’ এনসিটিবির কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকের ২২ নম্বর গদ্যের লেখক পরিচিত অংশে জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও ‘বীর উত্তম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এই প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধকে সর্বাত্মক ‘জনযুদ্ধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২৫শে মার্চের গণহত্যার পর শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হলে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল মুক্তিকামী মানুষের জন্য ‘তুর্যধ্বনির মতো’। এনসিটিবি জানায়, প্রবন্ধটির মূল বর্ণনা শুরুর আগে কিছু ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যায় ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ ও ১৯৮০ সালে অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ দুটিকে মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অনিবার্য নাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, গদ্যের প্রবন্ধে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রাম থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও সম্মুখসমরের আত্মত্যাগের এক অনন্য আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র দায়িত্ব গ্রহণের অনুভূতির কথা বর্ণনা করতে গিয়ে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন—‘সবাই আমরা যুদ্ধ করেছি। সৈনিক, জনগণ সবাই। জাতির চরম সংকটের মুহূর্তে কাউকে না কাউকে সামনে এগিয়ে আসতে হয়। নিতে হয় দায়িত্ব। আমি কেবল সেই দায়িত্ব পালন করেছি। নেতারা যখন উধাও হয়ে গেল—সিদ্ধান্ত দেওয়ার কেউ থাকল না, তখন জাতির পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত আমাকে ঘোষণা করতে হলো...২৬শে মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে সেই চূড়ান্ত সময়টি এল। যার জন্য গোটা মাস আমরা রুদ্ধশ্বাস হয়ে প্রতীক্ষা করছিলাম।’ চট্টগ্রামে পাক বাহিনীর ষড়যন্ত্র অনুধাবন ও ১লা মার্চ থেকে শুরু হওয়া সন্দেহজনক গতিবিধির বিবরণ দিয়ে মেজর জিয়া উল্লেখ করেন—‘১লা মার্চ থেকে ২০ তম বেলুচ রেজিমেন্টের রহস্যজনক গতিবিধি থেকে আমরা সুস্পষ্ট আঁচ করতে পারছিলাম কী ঘটতে যাচ্ছে...১৩ই মার্চ নেতাদের সঙ্গে ইয়াহিয়ার গোলটেবিল বৈঠক শুরু হলো। এর মধ্যেই পাকিস্তানি জেনারেলরা একের পর এক বিমানে আসতে লাগলেন...এ ছিল সর্বাত্মক হামলার এক ভীতিকর পূর্বাভাস...দ্রুত ঘনিয়ে এলো পঁচিশ-ছাব্বিশের সে রাতটি। রাত ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরে জেনারেল আনসারীর কাছে রিপোর্ট করার জন্য ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার আমার কাছে নির্দেশ পাঠালেন। নৌ-বাহিনীর একটি ট্রাক পাঠানো হলো আমাকে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়ার জন্য...’ নিবন্ধে জিয়াউর রহমান আরও লেখেন, ‘আগ্রাবাদের এক ব্যারিকেডের সামনে ট্রাক থেমে গেল...ঠিক সে সময়ে মেজর খালিকুজ্জামান সেখানে আমার সঙ্গে দেখা করলেন। অনুচ্চস্বরে বললেন, ওরা ক্যান্টনমেন্টে হামলা শুরু করেছে। শহরেও অভিযান চালিয়েছে। হতাহত হয়েছে বহু নিরীহ মানুষ। যে সময়ের জন্য এতদিন অপেক্ষা করছিলাম, সে সময় এসে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলাম, ‘উই রিভোল্ট’। নির্দেশ দিলাম, ষোলোশহর ছুটে যাও। পাকিস্তানি অফিসারদের আটক করো। যুদ্ধের জন্য তৈরি করে রাখো ব্যাটালিয়নের সবাইকে।’ জিয়াউর রহমান লিখেছেন-‘ষোলোশহর এসে মুহূর্তে একটি রাইফেল কেড়ে নিলাম তাদের একজনের কাছ থেকে...ব্যাটালিয়নের সব অফিসার আর জোয়ানদের এক জায়গায় একত্র করে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলাম। বললাম, আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে নেমেছি। তারা এই ঘোষণাটির জন্যই উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছিল। সঙ্গে সঙ্গে সবাই উল্লাসধ্বনি করে সাড়া দিল। পর মুহূর্তেই সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। রাত তখন ২টা ১৫ মিনিট। ২৬শে মার্চ ১৯৭১। জাতির জন্যে অবিস্মরণীয় সেই মুহূর্তটি।’ পটিয়ার পাহাড়ে প্রথম মুক্তাঞ্চল গঠন ও সামরিক কৌশলের বর্ণনা দিয়ে মেজর জিয়া লেখেন—‘রাত ৪টায় রেললাইন ধরে পটিয়ার পাহাড়ের দিকে যাত্রা করলাম। পথে ইপিআর-এর একশজন আমাদের সঙ্গে যোগ দিল...২৬শে মার্চের মধ্যেই তিনশ সদস্যের বাহিনীকে চট্টগ্রাম পাঠানো হলো হানাদারের মোকাবিলার জন্য। প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। সেই প্রথম সম্মুখসমর, পাকিস্তানি শিবিরে তখন আতঙ্ক। তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলো।’ কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ঘোষণার স্মৃতিচারণ করে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন—‘দিনটি ছিল ২৭শে মার্চ...সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রেডিও স্টেশনে এলাম। হাতের কাছে একটি এক্সারসাইজ খাতা পাওয়া গেল। তার একটি পৃষ্ঠায় দ্রুতহাতে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ঘোষণার কথা লিখলাম—স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বভার নিয়েছি, সে কথাও লেখা হলো সেই প্রথম ঘোষণায়...বেতার তরঙ্গের সে ঘোষণা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রেডিওতে ধরা পড়ল। আর বিশ্ববাসী সেই প্রথম শুনল: বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের ঘোষণা নিয়ে যুদ্ধে নেমেছে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে...২৭শে মার্চ, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ইথারে ঘোষণাটি উচ্চারিত হওয়ার পর মুহূর্তেই বিশ্বমানচিত্রে অঙ্কিত হয়ে গেল ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ কথাটি। ‘সে ছিল সত্যি এক অলৌকিক ব্যাপার!’

১ ঘন্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা শুরু

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা শুরু

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে শুরু হওয়া বৈঠকে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।এবারের সভায় ঢাকার গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন) প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে। প্রায় ৪৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার দুই অংশকে মেট্রোরেলের আওতায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাবতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কাওরান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও ও আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত যাবে এই রুট। ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনে মোট ১৫টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে ১১টি হবে ভূগর্ভস্থ এবং চারটি উড়ালপথে। পুরো রুটে যাতায়াতে সময় লাগবে প্রায় ২৮ মিনিট।প্রকল্পের ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ মাটির নিচে এবং ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার উড়ালপথে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যস্ত সময়ে সাড়ে চার মিনিট পরপর ট্রেন চালানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।প্রাথমিকভাবে ছয়টি কোচ নিয়ে ১৯টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ট্রেনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯০৮ জন যাত্রী বহন করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী এ পথে চলাচল করতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টদের হিসাব।প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা করে তা কমিয়ে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় আনা হয়েছে। অর্থাৎ আগের প্রস্তাবের তুলনায় ব্যয় কমেছে ৯ হাজার ১১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।তবে ব্যয় কমার একটি অংশ সরাসরি সাশ্রয় নয়। বিদেশি ঋণের সুদ ও কমিটমেন্ট চার্জ বাবদ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব অর্থ পরবর্তীতে অর্থ বিভাগের নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিশোধ করার কথা রয়েছে।এ ছাড়া জমি অধিগ্রহণ, যানবাহন, পরামর্শক, সম্মানি ও প্রশাসনিক ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতেও কাটছাঁট করা হয়েছে। জমির প্রয়োজন ২৩ দশমিক ০৯ হেক্টর থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ১০৪ হেক্টরে আনা হয়েছে। এতে অধিগ্রহণ ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পুনর্বাসনের জন্য প্রকল্পে ৪ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা বৈদেশিক ঋণ থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এ অর্থায়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফের সহযোগিতা নেওয়ার কথা রয়েছে।প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত। এরই মধ্যে প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, নকশা প্রণয়ন, দরপত্রসংক্রান্ত সহায়তা এবং জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনার কাজ এগিয়েছে।একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে অর্থায়ন চুক্তি, জমি অধিগ্রহণ ও ঠিকাদার নিয়োগসহ পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। তবে সভায় শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

২ ঘন্টা আগে
এশিয়ান গেমস ঘিরে জাপান সফরে সেনাপ্রধান

এশিয়ান গেমস ঘিরে জাপান সফরে সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান চার দিনের সরকারি সফরে জাপান গেছেন।  আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে। আইএসপিআর জানায়, সফরকালে তিনি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে জাপানের আইচি-নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠিতব্য ২০তম এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন।  এছাড়া, সেনাবাহিনী প্রধান এশিয়ান গেমসের বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি এশিয়ান গেমস ও অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন।

৩ ঘন্টা আগে
ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫৯৩

ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫৯৩

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৫ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৩৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩২ জন, খুলনা বিভাগে ২৯০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ৬৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।নতুন ৭ জনের মৃত্যু নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৫৫ হাজার ১৬৩ জন।

১৬ ঘন্টা আগে
একটি নয়, প্রধানমন্ত্রীকে দুই সফরের আমন্ত্রণ ভারতের

একটি নয়, প্রধানমন্ত্রীকে দুই সফরের আমন্ত্রণ ভারতের

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর একটি ছিল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য, অন্যটি বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ দেওয়া হয়। পরে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়।ভারতের এই বক্তব্য এসেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর। গত ১০ সেপ্টেম্বর তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বরং বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ না থাকলে তারেক রহমান কীভাবে ভারত সফর করবেন—এমন প্রশ্নও তুলেছিলেন তিনি।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য বা অংশীদার কোনো দেশ নয়। তবে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।অন্যদিকে, দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণটি আলাদা এবং সেটি ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বাংলাদেশে এসে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তানসহ ভারত সফরের আমন্ত্রণসংবলিত চিঠিও তার হাতে তুলে দেন।টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফরকে দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে বিবেচনা করছিল। পাশাপাশি ব্রিকসের আমন্ত্রণটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দেওয়া হয়েছিল—বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও আগে এমন অবস্থান জানানো হয়েছিল।ভারতের সর্বশেষ বক্তব্যে মূলত তারেক রহমানকে দেওয়া দুই আমন্ত্রণের ধরন ও উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি পরিষ্কার করার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৭ ঘন্টা আগে
গণতন্ত্র রক্ষা ও দেশ পুনর্গঠনই এখন প্রধান কাজ

গণতন্ত্র রক্ষা ও দেশ পুনর্গঠনই এখন প্রধান কাজ

বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা এবং তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নগর ভবনের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন, রক্তপাত ও বহু মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে একটি ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখন সেই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশকে পুনর্গঠন করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আগামী দিনের প্রধান কাজ।তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া দেশকে দ্রুত পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রপন্থি মানুষকে ফিনিক্স পাখির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এ দেশের মানুষের রয়েছে।গণতন্ত্র রক্ষায় সরকার ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংসদকে কার্যকর করতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবেই, তবে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। দেশের মৌলিক বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সময়ে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা অবহেলায় নষ্ট করা

১৭ ঘন্টা আগে
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে যা বলল ভারত

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে যা বলল ভারত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে সফরের জন্য একটি নয়, বরং দুটি আলাদা আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে একটি ভারতে দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সফরের এবং অপরটি বিমসটেক (BIMSTEC)-এর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে নয়াদিল্লির এই স্পষ্ট অবস্থানের কথা জানান।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন:“আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। পরবর্তীতে তাকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অর্থাৎ তিনি ভারতের পক্ষ থেকে দুটি ভিন্ন আমন্ত্রণ পেয়েছেন—একটি দ্বিপাক্ষিক সফর এবং অপরটি ব্রিকস সম্মেলনের জন্য।”ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানানো হয়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ ও শপথ নেওয়ার পর পরই তারেক রহমানকে স্ত্রী ও সন্তানসহ ভারতে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য প্রথম আমন্ত্রণটি পাঠানো হয়েছিল।এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এক বক্তব্যে ভারত কর্তৃক আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “(প্রধানমন্ত্রী) কীভাবে ভারতে যাবেন? বাংলাদেশ সরকারের কাউকে কি আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়।”প্রতিমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের পরই নয়াদিল্লি থেকে এই দ্বৈত আমন্ত্রণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হলো।উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস (BRICS)-এর পূর্ণাঙ্গ সদস্য বা সহযোগী দেশ নয়। তবে বিমসটেক জোটের বর্তমান চেয়ার বা সভাপতি পদটি বাংলাদেশের কাছে থাকায় জোটটির প্রধান হিসেবে তারেক রহমানকে ব্রিকসের 'আউটরিচ সেশন'-এ আমন্ত্রণ জানায় আয়োজক দেশ ভারত।গত ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্রিকসভুক্ত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অন্যান্য আঞ্চলিক জোটের নেতারাও অংশগ্রহণ করেন।

১৮ ঘন্টা আগে
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
"অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর" স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের বক্তব্য কি সমর্থন করেন?

"অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর" স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের বক্তব্য কি সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া যাচ্ছেন মির্জা আব্বাস

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আবারও মালয়েশিয়া যাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁর।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানান, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যই মির্জা আব্বাস মালয়েশিয়া যাচ্ছেন।এর আগে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন মির্জা আব্বাস। প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর তিনি দেশে ফিরেছিলেন।

লিংক কপি করা হয়েছে!

ফারিয়ার ‘ট্রাইব্যুনাল’ ছাড়ার খবরে যা বললেন নির্মাতা

চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া শিডিউল জটিলতায় রায়হান খানের ‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিষয়টি গত সোমবার নিশ্চিত করেছেন ফারিয়া। তবে আজকের পত্রিকাকে নির্মাতা রায়হান খান জানালেন, ফারিয়ার সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি তিনি জানেন না তিনি। এ নিয়ে ফারিয়ার সঙ্গে তাঁর কোনো কথা হয়নি। চট্টগ্রামে এক গৃহবধূকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ক্যারিয়ারের দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষে সিনেমার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন নির্মাতা রায়হান। এ বছরের কোনো এক ঈদে মুক্তির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন সে সময়। এতে আইনজীবীর ভূমিকায় অভিনয়ের কথা ছিল নুসরাত ফারিয়ার। তবে এখনো ফারিয়ার অংশের শুটিংসহ বাকি রয়ে গেছে অনেকাংশের শুটিং। শুটিংয়ের এই অনিশ্চয়তার কারণেই সিনেমায় না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফারিয়া। ট্রাইব্যুনাল সিনেমা থেকে সরে আসার প্রসঙ্গে ফারিয়া বলেন, ‘ক্রিটিক্যাল কোনো কারণ নেই। এই সিনেমার চরিত্রটি আমার খুব পছন্দের ছিল। অভিনয়ের জন্য এক্সাইটেড ছিলাম। কিন্তু শুটিং নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে শিডিউল জটিলতাসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে আমাদের ব্যাটে বলে মিলছিল না। তাই সরে আসা। জটিল কোনো সমস্যা নয়।’ ফারিয়ার সরে আসার বিষয়ে রায়হান খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল সিনেমা না করার বিষয়ে ফারিয়ার সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনোভাবেই আমাকে কিছু জানায়নি। তাই এ নিয়ে কোনো কথা বলতে পারব না।’ অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনাল সিনেমার অন্য দুই অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি ও মৌসুমী হামিদ এখন শুটিংয়ের জন্য প্রস্তুত নন। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে চিকিৎসাধীন তানিয়া বৃষ্টি, আর প্রথমবার মা হওয়ার অপেক্ষায় আছেন মৌসুমী হামিদ। ট্রাইব্যুনাল সিনেমার সবশেষ পরিস্থিতি জানতে চাইলে রায়হান খান বলেন, ‘তানিয়া বৃষ্টির অসুস্থতা আর মৌসুমী হামিদের মাতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়টি চাইলেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না। আমরা তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছি। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনাল একটি ইনডিপেনডেন্ট সিনেমা। যেহেতু এ ধরনের সিনেমায় নির্দিষ্ট প্রযোজক থাকেন না, তাই অনেক সময় বাজেট-সংক্রান্ত ইস্যু হয়। আশা করছি সব জটিলতা কাটিয়ে এ বছরের শেষ দিকে শুটিং শুরু করতে পারব।’

বইপড়ুয়া পুরুষের প্রতি বেশি আকর্ষণ নারীদের

গেমিং কনসোল বা ভিডিও গেমের হেডসেট সরিয়ে রেখে হাতে বই তুলে নেওয়া পুরুষরাই নারীদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। সম্পর্ক ও মনস্তত্ত্ববিষয়ক সংস্থা ‘ডেট সাইকোলজি’র সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল-এ প্রকাশিত ওই সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষদের বই পড়ার অভ্যাসকে নারীরা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক গুণ হিসেবে বিবেচনা করেন।সমীক্ষায় মোট ৭৪টি ভিন্ন ভিন্ন শখ ও জীবনযাত্রার অভ্যাসের ওপর নারীদের মতামত সংগ্রহ করা হয়। এতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী নারীদের প্রায় ৯৮.২ শতাংশই জানিয়েছেন, বই পড়তে ভালোবাসেন এমন পুরুষদের প্রতি তাদের আকর্ষণ অন্য যেকোনো অভ্যাসের চেয়ে বেশি।গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শখ মূলত আত্মোন্নয়ন, সৃজনশীলতা, প্রজ্ঞা ও নতুন দক্ষতা অর্জনের সাথে সম্পর্কিত, সেগুলোর প্রতিই নারীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি:বই পড়া (৯৮.২% নারী ইতিবাচক হিসেবে দেখেন)বিদেশি ভাষা শেখাবাদ্যযন্ত্র বাজানোরান্না করাকাঠের কাজ বা উডওয়ার্কিং (Woodworking)এছাড়াও চিত্রাঙ্কন, লেখালেখি, ফটোগ্রাফি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, হাইকিং, কামারশিল্প (Blacksmithing) এবং তীরন্দাজির (Archery) মতো সুনির্দিষ্ট ও গঠনমূলক শখগুলোকেও নারীরা পুরুষদের ব্যক্তিত্বের চমৎকার দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।সমীক্ষায় কিছু বিতর্কিত ও অপছন্দনীয় অভ্যাসকেও চিহ্নিত করা হয়েছে, যা পুরুষদের প্রতি নারীদের আকর্ষণ দ্রুত কমিয়ে দেয়:নারীবিদ্বেষী অনলাইন সংস্কৃতি বা ‘ম্যানোস্ফিয়ার’-এ যুক্ত থাকা, পর্নোগ্রাফি দেখা, জুয়া খেলা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট বক্সে অহেতুক বিতর্কে জড়ানো। ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং, কসপ্লে, কমিক বই বা ফাঙ্কো পপ ফিগার সংগ্রহ করা।বিখ্যাত ডেটিং কোচ কোর্টনি রায়ানের মতে, অতিরিক্ত মদ্যপান বা নাইটক্লাবকেন্দ্রিক জীবনযাত্রাকে অনেক নারীই মানসিক অসংলগ্নতা বা ‘অপরিণত আচরণ’ (Immaturity) হিসেবে গণ্য করেন।মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু কাউকে আকৃষ্ট করার জন্য কৃত্রিমভাবে এসব শখ গড়ে তোলার প্রয়োজন নেই। কৃত্রিমতার চেয়ে একজন পুরুষের নিজের ভালো লাগার কাজে সত্যিকারের আগ্রহ ও নিজস্ব ব্যক্তিত্বই দীর্ঘমেয়াদে সুন্দর ও টেকসই সম্পর্কের মূল ভিত্তি তৈরি করে।

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড: রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টে ককটেল হামলা

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড: রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টে ককটেল হামলা

জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণার মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ১টা ১৫ থেকে ১টা ২০ মিনিটের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের যাতায়াতের সুরক্ষিত প্রবেশপথে এই আকস্মিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুষ্কৃতকারীরা।এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সাত শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন:ওবায়দুল কাদের — সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম — যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।শেখ ফজলে শামস পরশ — সভাপতি, যুবলীগ।মাইনুল হোসেন খান নিখিল — সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগ।সাদ্দাম হোসেন — সভাপতি, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ।শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান — সাধারণ সম্পাদক, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ।(অন্যতম প্রধান সহযোগী শীর্ষ নেতা)আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিশ্চিত করেছেন যে, দণ্ডপ্রাপ্ত সকল আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।রায় ঘোষণার পর পরই সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় আদালত অঙ্গনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, “প্রধান বিচারপতির প্রবেশপথের কাছে কে বা কারা ককটেল ছুড়ে পালিয়ে গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream