বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

দেশের সন্তানদের ভালো অর্জনকে স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে দেশের জন্য যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য বয়ে আনবে, তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অর্জন শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া হাফেজদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্যও গৌরবের বিষয়।হাফেজদের সম্মাননা ও উৎসাহ দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সন্তানরা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে ভালো কোনো অর্জন করলে সরকার রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেটির স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে। মেধাবীদের উৎসাহ দেওয়া এবং তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা গেলে এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাশাপাশি পুরো দেশ ও দেশের মানুষ পাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।সরকার গঠনের পর থেকেই যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানানোও সেই উদ্যোগের অংশ।অনুষ্ঠানে হাফেজদের শিক্ষকরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভাব্য সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেদের, দেশের এবং দেশের মানুষের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনুক—সরকার সেটিই চায়।দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। কাজের ধরন ভিন্ন হলেও দেশের মানুষের শান্তি ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করাই সবার অভিন্ন লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।সরকারের জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু করার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করতে চায়।অনুষ্ঠানে বিজয়ী হাফেজদের বই উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রতিযোগিতায় যে সূরাগুলো তিলাওয়াত করে তারা পুরস্কার অর্জন করেছেন, সেগুলোর আয়াতও তাদের কণ্ঠে শোনেন তিনি।মক্কায় অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। এতে বাংলাদেশের হাফেজ নূর উদ্দিন জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। একই বিভাগে ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াতে তৃতীয় হন হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী। ১৫ পারা বিভাগে হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান এবং ৩০ পারা বিভাগে হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং মাওলানা রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর ও সাজেদা খাতুনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

গত শাসনামলে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এ দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন ও সংবিধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ৪ হাজার ৫০০-রও বেশি ভিন্নমতাবলম্বী বা রাজনৈতিক কর্মী বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।’ আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক আইনের শাসনের জন্য লড়াই করা প্রায় ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছয় মিলিয়নের বেশি মানুষ রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এসব মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ের প্রসঙ্গ তুলে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ দেখিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে—এমন কোনো অভিযোগও তাঁরা পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে সংবিধান আমাদের পথ দেখানোর মূল ভিত্তি। এভাবেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৭৮৭ সালের সেপ্টেম্বরে গৃহীত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের শুরুতে লেখা হয়েছিল ‘উই, দ্য পিপল অব আমেরিকা’। আর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধানেও লেখা হয়েছে ‘উই, দ্য পিপল অব বাংলাদেশ’। তাঁর মতে, দুই সংবিধানের মধ্যে এটি একটি মিল। মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মূল ভিত্তি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা। স্বাধীনতার মধ্যে মতপ্রকাশ, সমাবেশ, চলাচল ও সংগঠনের স্বাধীনতাও রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানও কিছু মৌলিক ভিত্তি ও কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারণার মিল রয়েছে। তিনি বলেন, ১৮০৩ সালে মারবারি বনাম ম্যাডিসন মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বিচারিক পর্যালোচনার নীতি প্রয়োগ করে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনেও সুপ্রিম কোর্ট একই ধরনের এখতিয়ার প্রয়োগ করছে। তবে কখনো কখনো এ এখতিয়ার অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগও হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের আগে জন লক, টমাস হবস ও মন্টেস্কুর রাজনৈতিক তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা ও সেগুলো অনুসরণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এসব তত্ত্বের প্রভাব রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের সময়ও তীব্র আলোচনা ছিল। সংবিধান নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। বাংলাদেশের সংবিধান নিয়েও শুধু আইনজ্ঞদের মধ্যে নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানেও আলোচনা হয়। সংবিধানের বিভিন্ন বিধান, সংশোধনী ও প্রয়োগ নিয়ে সাধারণ মানুষের এই আলোচনা তাঁদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যখন প্রয়োজনের মধ্যে থাকে তখন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পাশে থাকা, কর্তৃত্ববাদিতার বিরুদ্ধে অবস্থান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা এবং নির্বিচার গ্রেপ্তার ও আটকানোর বিরুদ্ধে কথা বলা —এসব বিষয় তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। একই সঙ্গে সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতার পক্ষেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দেশে আরও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন করেছে। আইনের কিছু ধারা নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইনে ‘ওএফসিএটি’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের বাছাই কমিটিতে প্রেসক্লাব ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের বিধান রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, অন্যান্য কিছু দেশের তুলনায় বাংলাদেশের বাছাই প্রক্রিয়ায় ভিন্ন ধরনের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে। এখানে বাছাই কমিটির প্রধান হিসেবে স্পিকার থাকছেন এবং বিরোধী দলের নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সুশাসন বর্তমান সময়ে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে অর্থনীতি ও আইনের শাসনের ক্ষেত্রে ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, এসব অপরাধের বিচার সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘কোনো ব্যক্তি আমাদের লক্ষ্য নয়, আমাদের লক্ষ্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পন্ন করা’—বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এসব অপরাধের সঙ্গে রাজনৈতিক নির্বাহীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। চলমান বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁদের হাতে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং এসব প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণিত হবে বলে তিনি মনে করেন। অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ১৭৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের সময় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও মতপার্থক্য ছিল। তাঁর মতে, সংবিধানের শক্তি সবাই সব বিষয়ে একমত হওয়ায় নয়; বরং মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনার একটি টেকসই কাঠামো তৈরি করতে পারার মধ্যে। তিনি ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক সংশোধনের সুযোগকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের স্থায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ: হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে রোগীর ভিড়, ১৫ দিনেই ৬৭ মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক:ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ দ্রুত বাড়ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার বাইরে মেঝে ও বারান্দায় রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও একটি শয্যায় একাধিক রোগীকে রাখার ঘটনাও ঘটছে। এর মধ্যেই এক দিনে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ডেঙ্গুতে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা আগস্ট মাসের পুরো মাসের মৃত্যুকেও ছাড়িয়ে গেছে।সংক্রমণের চিত্র ও মৃত্যুর মিছিলস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জন।চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৫ হাজার চিকিৎসাধীন রোগীর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৭১ জন, দক্ষিণ সিটিতে ১৩২ জন এবং ঢাকা বিভাগে ৩৮৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ঢাকার বাইরে খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় হাসপাতালেও রোগীর চাপ লাগাতার বাড়ছে।হাসপাতালের সংকট ও চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিতরাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৬০টি নির্ধারিত শয্যার বিপরীতে সম্প্রতি ১৮৭ জন রোগী ভর্তি থাকতে দেখা গেছে। শয্যাসংকট এতটাই তীব্র যে, বাধ্য হয়ে রোগীদের মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরেও সিট না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মেঝেতে রেখে প্রিয়জনের চিকিৎসা করাচ্ছেন স্বজনরা। চিকিৎসক ও নার্সদের ওপরও তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত কাজের চাপ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালেও রোগী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কাকীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার সতর্ক করে জানিয়েছেন, তাদের পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী আগামী অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তিনি জানান, এডিস মশা এখন শুধু দিনে নয়, রাতেও কামড়াতে পারে। তাই মশার আচরণ ও প্রজননস্থল ধ্বংসের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই করা সহজ নয়। তবে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে (উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে) চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমে রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমানোর চেষ্টা চলছে।

একাদশ শ্রেণির ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, ক্লাস শুরু ২৩ সেপ্টেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক:২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রথম পর্যায়ের ফল প্রকাশিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আটটায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইট (https://xiclassadmission.gov.bd) থেকে তাদের ফলাফল জানতে পারছেন।আবেদনের চিত্র ও আসনের তথ্যআন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৯৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন পাঁচটি থেকে সর্বোচ্চ ১০টি পর্যন্ত কলেজ পছন্দ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। সারা দেশের কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। সে হিসেবে এবার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আসন সীমিত থাকায় জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থী তাদের প্রথম পছন্দের প্রতিষ্ঠানে সুযোগ নাও পেতে পারে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে এই ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে।গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও সময়সূচিফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিতকরণসহ পরবর্তী ধাপগুলোর সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে:ভর্তি নিশ্চিতকরণ ও ফি প্রদান: আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর রাত আটটার মধ্যে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে শিক্ষার্থীর প্রাথমিক নির্বাচন ও আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে।মাইগ্রেশন বা পছন্দক্রম পরিবর্তন: শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশিত হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত আটটায়।মূল ভর্তি কার্যক্রম: কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের মূল ভর্তি কার্যক্রম চলবে আগামী ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।ক্লাস শুরু: সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হবে।যেভাবে ফল দেখতে হবে১. প্রথমে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (https://xiclassadmission.gov.bd) প্রবেশ করতে হবে।২. হোম পেজে থাকা ‘ভিউ রেজাল্ট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।৩. এরপর এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নাম, পাসের সাল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।৪. সবশেষে স্ক্রিনে প্রদর্শিত ক্যাপচা কোড দিয়ে ‘সাবমিট’ করলেই শিক্ষার্থী কোন কলেজের জন্য নির্বাচিত হয়েছে, তা স্ক্রিনে ভেসে উঠবে।

দেশের সন্তানদের ভালো অর্জনকে স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দেশের সন্তানদের ভালো অর্জনকে স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে দেশের জন্য যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য বয়ে আনবে, তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অর্জন শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া হাফেজদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্যও গৌরবের বিষয়।হাফেজদের সম্মাননা ও উৎসাহ দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সন্তানরা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে ভালো কোনো অর্জন করলে সরকার রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেটির স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে। মেধাবীদের উৎসাহ দেওয়া এবং তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা গেলে এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাশাপাশি পুরো দেশ ও দেশের মানুষ পাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।সরকার গঠনের পর থেকেই যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানানোও সেই উদ্যোগের অংশ।অনুষ্ঠানে হাফেজদের শিক্ষকরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভাব্য সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেদের, দেশের এবং দেশের মানুষের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনুক—সরকার সেটিই চায়।দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। কাজের ধরন ভিন্ন হলেও দেশের মানুষের শান্তি ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করাই সবার অভিন্ন লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।সরকারের জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু করার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করতে চায়।অনুষ্ঠানে বিজয়ী হাফেজদের বই উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রতিযোগিতায় যে সূরাগুলো তিলাওয়াত করে তারা পুরস্কার অর্জন করেছেন, সেগুলোর আয়াতও তাদের কণ্ঠে শোনেন তিনি।মক্কায় অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। এতে বাংলাদেশের হাফেজ নূর উদ্দিন জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। একই বিভাগে ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াতে তৃতীয় হন হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী। ১৫ পারা বিভাগে হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান এবং ৩০ পারা বিভাগে হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং মাওলানা রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর ও সাজেদা খাতুনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

৫৭ মিনিট আগে
গত শাসনামলে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার: আইনমন্ত্রী

গত শাসনামলে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এ দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন ও সংবিধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ৪ হাজার ৫০০-রও বেশি ভিন্নমতাবলম্বী বা রাজনৈতিক কর্মী বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।’ আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক আইনের শাসনের জন্য লড়াই করা প্রায় ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছয় মিলিয়নের বেশি মানুষ রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এসব মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ের প্রসঙ্গ তুলে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ দেখিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে—এমন কোনো অভিযোগও তাঁরা পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে সংবিধান আমাদের পথ দেখানোর মূল ভিত্তি। এভাবেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৭৮৭ সালের সেপ্টেম্বরে গৃহীত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের শুরুতে লেখা হয়েছিল ‘উই, দ্য পিপল অব আমেরিকা’। আর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধানেও লেখা হয়েছে ‘উই, দ্য পিপল অব বাংলাদেশ’। তাঁর মতে, দুই সংবিধানের মধ্যে এটি একটি মিল। মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মূল ভিত্তি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা। স্বাধীনতার মধ্যে মতপ্রকাশ, সমাবেশ, চলাচল ও সংগঠনের স্বাধীনতাও রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানও কিছু মৌলিক ভিত্তি ও কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারণার মিল রয়েছে। তিনি বলেন, ১৮০৩ সালে মারবারি বনাম ম্যাডিসন মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বিচারিক পর্যালোচনার নীতি প্রয়োগ করে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনেও সুপ্রিম কোর্ট একই ধরনের এখতিয়ার প্রয়োগ করছে। তবে কখনো কখনো এ এখতিয়ার অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগও হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের আগে জন লক, টমাস হবস ও মন্টেস্কুর রাজনৈতিক তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা ও সেগুলো অনুসরণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এসব তত্ত্বের প্রভাব রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের সময়ও তীব্র আলোচনা ছিল। সংবিধান নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। বাংলাদেশের সংবিধান নিয়েও শুধু আইনজ্ঞদের মধ্যে নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানেও আলোচনা হয়। সংবিধানের বিভিন্ন বিধান, সংশোধনী ও প্রয়োগ নিয়ে সাধারণ মানুষের এই আলোচনা তাঁদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যখন প্রয়োজনের মধ্যে থাকে তখন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পাশে থাকা, কর্তৃত্ববাদিতার বিরুদ্ধে অবস্থান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা এবং নির্বিচার গ্রেপ্তার ও আটকানোর বিরুদ্ধে কথা বলা —এসব বিষয় তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। একই সঙ্গে সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতার পক্ষেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দেশে আরও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন করেছে। আইনের কিছু ধারা নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইনে ‘ওএফসিএটি’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের বাছাই কমিটিতে প্রেসক্লাব ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের বিধান রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, অন্যান্য কিছু দেশের তুলনায় বাংলাদেশের বাছাই প্রক্রিয়ায় ভিন্ন ধরনের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে। এখানে বাছাই কমিটির প্রধান হিসেবে স্পিকার থাকছেন এবং বিরোধী দলের নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সুশাসন বর্তমান সময়ে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে অর্থনীতি ও আইনের শাসনের ক্ষেত্রে ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, এসব অপরাধের বিচার সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘কোনো ব্যক্তি আমাদের লক্ষ্য নয়, আমাদের লক্ষ্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পন্ন করা’—বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এসব অপরাধের সঙ্গে রাজনৈতিক নির্বাহীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। চলমান বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁদের হাতে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং এসব প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণিত হবে বলে তিনি মনে করেন। অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ১৭৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের সময় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও মতপার্থক্য ছিল। তাঁর মতে, সংবিধানের শক্তি সবাই সব বিষয়ে একমত হওয়ায় নয়; বরং মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনার একটি টেকসই কাঠামো তৈরি করতে পারার মধ্যে। তিনি ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক সংশোধনের সুযোগকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের স্থায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করেন।

২ ঘন্টা আগে
ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ: হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে রোগীর ভিড়, ১৫ দিনেই ৬৭ মৃত্যু

ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ: হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে রোগীর ভিড়, ১৫ দিনেই ৬৭ মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক:ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ দ্রুত বাড়ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার বাইরে মেঝে ও বারান্দায় রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও একটি শয্যায় একাধিক রোগীকে রাখার ঘটনাও ঘটছে। এর মধ্যেই এক দিনে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ডেঙ্গুতে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা আগস্ট মাসের পুরো মাসের মৃত্যুকেও ছাড়িয়ে গেছে।সংক্রমণের চিত্র ও মৃত্যুর মিছিলস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জন।চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৫ হাজার চিকিৎসাধীন রোগীর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৭১ জন, দক্ষিণ সিটিতে ১৩২ জন এবং ঢাকা বিভাগে ৩৮৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ঢাকার বাইরে খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় হাসপাতালেও রোগীর চাপ লাগাতার বাড়ছে।হাসপাতালের সংকট ও চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিতরাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৬০টি নির্ধারিত শয্যার বিপরীতে সম্প্রতি ১৮৭ জন রোগী ভর্তি থাকতে দেখা গেছে। শয্যাসংকট এতটাই তীব্র যে, বাধ্য হয়ে রোগীদের মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরেও সিট না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মেঝেতে রেখে প্রিয়জনের চিকিৎসা করাচ্ছেন স্বজনরা। চিকিৎসক ও নার্সদের ওপরও তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত কাজের চাপ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালেও রোগী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কাকীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার সতর্ক করে জানিয়েছেন, তাদের পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী আগামী অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তিনি জানান, এডিস মশা এখন শুধু দিনে নয়, রাতেও কামড়াতে পারে। তাই মশার আচরণ ও প্রজননস্থল ধ্বংসের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই করা সহজ নয়। তবে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে (উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে) চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমে রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমানোর চেষ্টা চলছে।

১৬ ঘন্টা আগে
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত ৮টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল প্রকাশ করা হয়। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা তাদের ফলাফল জানতে পারছেন।চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৯৬ জন। ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দের তালিকায় রাখার সুযোগ পেয়েছেন।দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণির জন্য মোট আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে আবেদনকারীর তুলনায় এবার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন ফাঁকা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নামী ও পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসন সীমিত হওয়ায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের সবাই প্রথম পছন্দের কলেজে ভর্তির সুযোগ নাও পেতে পারেন।এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় অনলাইন পদ্ধতিতে এবারের একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও জানানো হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে প্রাথমিক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলেজগুলোতে মূল ভর্তি কার্যক্রম চলবে। সব প্রক্রিয়া শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।যেভাবে ফল দেখবেনফল জানতে প্রথমে একাদশ শ্রেণির ভর্তি-সংক্রান্ত নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর হোম পেজের ‘ভিউ রেজাল্ট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেখানে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর, শিক্ষা বোর্ড, পাসের সাল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে।সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর স্ক্রিনে থাকা ক্যাপচা কোড লিখে ‘সাবমিট’ অপশনে ক্লিক করলেই নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম দেখা যাবে।

১৭ ঘন্টা আগে
একাদশ শ্রেণির ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, ক্লাস শুরু ২৩ সেপ্টেম্বর

একাদশ শ্রেণির ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, ক্লাস শুরু ২৩ সেপ্টেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক:২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রথম পর্যায়ের ফল প্রকাশিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আটটায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইট (https://xiclassadmission.gov.bd) থেকে তাদের ফলাফল জানতে পারছেন।আবেদনের চিত্র ও আসনের তথ্যআন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৯৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন পাঁচটি থেকে সর্বোচ্চ ১০টি পর্যন্ত কলেজ পছন্দ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। সারা দেশের কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। সে হিসেবে এবার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আসন সীমিত থাকায় জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থী তাদের প্রথম পছন্দের প্রতিষ্ঠানে সুযোগ নাও পেতে পারে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে এই ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে।গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও সময়সূচিফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিতকরণসহ পরবর্তী ধাপগুলোর সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে:ভর্তি নিশ্চিতকরণ ও ফি প্রদান: আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর রাত আটটার মধ্যে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে শিক্ষার্থীর প্রাথমিক নির্বাচন ও আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে।মাইগ্রেশন বা পছন্দক্রম পরিবর্তন: শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশিত হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত আটটায়।মূল ভর্তি কার্যক্রম: কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের মূল ভর্তি কার্যক্রম চলবে আগামী ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।ক্লাস শুরু: সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হবে।যেভাবে ফল দেখতে হবে১. প্রথমে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (https://xiclassadmission.gov.bd) প্রবেশ করতে হবে।২. হোম পেজে থাকা ‘ভিউ রেজাল্ট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।৩. এরপর এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নাম, পাসের সাল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।৪. সবশেষে স্ক্রিনে প্রদর্শিত ক্যাপচা কোড দিয়ে ‘সাবমিট’ করলেই শিক্ষার্থী কোন কলেজের জন্য নির্বাচিত হয়েছে, তা স্ক্রিনে ভেসে উঠবে।

১৭ ঘন্টা আগে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী ও বৃত্তি পরীক্ষার দিনে ইউপি ভোট নির্ধারণ ইসির

খালেদা জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী ও বৃত্তি পরীক্ষার দিনে ইউপি ভোট নির্ধারণ ইসির

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার দিনে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোটের তারিখ নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের সম্ভাব্য সাতটি ধাপের তারিখ ঘোষণার বিষয়টি কমিশনের নজরে এসেছে। এ ঘটনায় ‘বিব্রত’ বোধ করছে ইসি। নির্বাচন কমিশন মনে করছে, ভোটের তারিখ নির্ধারণে যেসব বিষয় ও তথ্য-উপাত্ত আমলে নেওয়া হয়, সেসব তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ কারণে ভোটের তারিখ নির্ধারণে এমন ভুল হয়েছে। এই অবস্থায় ভোটের তারিখে পরিবর্তন আনার কথা চিন্তা করছে ইসি। শিগগিরই কমিশন সভা করে এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইসির সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।দুজন নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে বিব্রত কমিশন। তারা মনে করেন, তারিখ নির্ধারণে নিজেদের ভুল ও অদূরদর্শিতা ছিল সত্য। তবে মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন তা ইসির জন্য সম্মানজনক নয়। ইসি গত রোববার ও সোমবার অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে সাত ধাপে ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করে। ইসির ঘোষণা অনুযায়ী, সম্ভাব্য তারিখগুলো হচ্ছে- প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের (২০২৭) ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ইউপির নির্বাচন ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের ভোটের তারিখ সম্ভাব্য তারিখ হচ্ছে আগামী ১৩ ডিসেম্বর। অথচ জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৮, ১০, ১৩ ও ১৫ ডিসেম্বর। আগামী ১৩ ডিসেম্বর গণিত পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। ওইদিন দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ রাখা হয়েছে। ইসি ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইউপি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয়। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে শিক্ষকেরা কাজ করে থাকেন। পরীক্ষা বহাল রাখা হলে ৮ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্বাচন আয়োজন করার সুযোগ নেই।  তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছে ইসি। ওইদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে সরকারি দল বিএনপি। অথচ ওইদিন তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছে ইসি। সূত্রমতে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠেয় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য কিছু তারিখে পরিবর্তন আনবে কমিশন। তবে এবার আনুষ্ঠানিক কমিশন সভা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বুধবার নির্বাচন কমিশনারদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এমনই আলোচনা হয়েছে।  জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ যুগান্তরকে বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় যে আলোচনা ও পরামর্শ উঠে আসবে, তা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তীতে ইউপি ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ও ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার ইসিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা। এ সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

১৮ ঘন্টা আগে
একনেকে অনুমোদন পেল ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্প

একনেকে অনুমোদন পেল ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্প

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা। ২০৩১ সালে ট্রেনটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।একই বৈঠকে আরও তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো হলো—মেট্রোরেল লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, মেট্রোরেল লাইন-১ এবং মেট্রোরেল লাইন-৫ নর্দান রুট।সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) অর্থায়িত এমআরটি লাইন-১-এর বিমানবন্দর-কমলাপুর এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দানের হেমায়েতপুর-ভাটারা প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব রয়েছে।অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে গাবতলী-দাশেরকান্দি রুটের নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পও একনেকের অনুমোদন পেয়েছে।

১৯ ঘন্টা আগে
চেয়ারম্যান হলে গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেওয়ার ঘোষণা, নোয়াখালীতে যুবদল নেতার নামে পোস্টারিং

চেয়ারম্যান হলে গাঁজা-ইয়াবা ফ্রি দেওয়ার ঘোষণা, নোয়াখালীতে যুবদল নেতার নামে পোস্টারিং

শাহাদাৎ বাবু, নোয়াখালী সংবাদদাতা: ‘আমি চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী হলে সবার ঘরে ঘরে বিনা টাকায় গাঁজা,ইয়াবা ফ্রীতে দিবো, এমন ঘোষণা সংবলিত ভূতুড়ে পোস্টারে ছেয়ে গেছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহজাদপুর গ্রাম। পোস্টারে ছবি ও নাম রয়েছে সিরাজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান খোকনের (৩৫)। তবে তিনি বলছেন, এ পোস্টার তিনি লাগাননি। এটি জামায়াতের ষড়যন্ত্র বলে দাবি তার।ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার মুখে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পোস্টার না লাগানোর বিষয়টি উল্লেখ করে খোকন এবং এগুলো সব ষড়যন্ত্র বলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। এর আগে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে সিরাজপুর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের শাহজাতপুর গ্রামের বিভিন্ন দেয়ালে এসব পোস্টার লাগানো হয়।খোকন একই গ্রামের খলিল ভূঞা বাড়ির মো.আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি ২০১৫ সাল থেকে দু'বার ৮নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি পুনরায় ৮নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি প্রার্থী।  ওই পোস্টারে খোকনকে ‘গাঁজার ডিলার’ উল্লেখ করে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘বেকারের জন্য গাঁজা ভাতা, মাদকসেবীদের জন্য বিশেষ কার্ড, স্কুল-কলেজের সামনে ফ্রি সাপ্লাই’, ‘থানা-পুলিশ আমার ভাই’ এবং ‘উন্নয়ন হবে, আগে চাঁদা হবে’ এমন বিভিন্ন স্লোগানও লেখা রয়েছে। পোস্টারগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।পোস্টারে নিজের নাম ব্যবহারের বিষয়ে সিরাজপুর ৮নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি খোকন বলেন, কয়েক দিন আগে আমার ছেলে চাঁন মিয়াকে স্কুলে চড় মারে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাসেমের ছেলে। তা নিয়ে আমি প্রতিবাদ করি। ওই থেকে তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। আমার মাদকের সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই। দল ক্ষমতায় এলেও আমি আগের মত গাছ কেটে জীবিকা নির্বাহ করি। সমাজের মানুষ জানে। এমনকি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান পদেও প্রার্থী নই।      সিরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আবুল হাসেম অভিযোগ নাকচ করে বলেন, খোকনকে ঘিরে তার দলের মধ্যেই মাদকসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, স্কুলে খোকনের ছেলে তাদের বাড়ির এক ছাত্রীকে ইভটিজিং করায় তার ছেলে ওই ছেলে-মেয়েকে চড় মেরে বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়। তবে পোস্টার লাগানোর সঙ্গে তিনি বা তার পরিবারের কোনো সদস্য জড়িত নন বলে দাবি করেন।    এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হাকিম বলেন, পোস্টারের বিষয়টি শুনেছি। তবে এ ঘটনায় থানায় ভুক্তভোগী কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

১৯ ঘন্টা আগে
ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর পথে সরকার

ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর পথে সরকার

ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে আগামী বছর থেকেই সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, দুই দেশের বাড়তে থাকা বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা-নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দর রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠককালে এসব কথা বলেন বিমানমন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা বাড়ানো, উড়োজাহাজ কেনা, বিনিয়োগ এবং পর্যটনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তবে, যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য মার্কিন ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) ‘ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন সেফটি অ্যাসেসমেন্ট’ (আইএএসএ) ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা অর্জন করা জরুরি বলেও জানান মন্ত্রী। রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, ইতিমধ্যে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই হয়েছে।  গত এপ্রিলে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ওই চুক্তির আওতায় আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ কেনার কথা রয়েছে। ২০৩১ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে উড়োজাহাজগুলো পাওয়া যাবে। সূত্র জানিয়েছে, বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বোয়িং ও এয়ারবাসের আরও ২১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

২০ ঘন্টা আগে
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা উন্নয়নে বিনিয়োগ: সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আইডিবি'র প্রতিনিধির পরিদর্শন

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা উন্নয়নে বিনিয়োগ: সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আইডিবি'র প্রতিনিধির পরিদর্শন

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানার আধুনিকায়ন প্রকল্পে ৪ হাজার ২ শ' কোটি টাকার বিনিয়োগ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) উর্ধতন একজন প্রতিনিধি কারখানা পরিদর্শন করেছেন। এতে পরিদর্শন শেষে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল সূত্র।বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে এই পরিদর্শনে আসেন আইডিবি'র অপারেশন হেড (বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ) নাসের ইয়াকুবু। তার সফর সঙ্গী হিসেবে ছিলেন ব্যাংকের ঢাকা রিজিওনাল হাব এর প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিষ্ট সাজিয়া সুলতানা। তাঁরা কারখানায় এসে পৌঁছলে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সূফী নুর মোহাম্মদ, কর্ম ব্যবস্থাপক (ডাব্লুএম) মমতাজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এসময় কারখানার শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সূফী নুর মোহাম্মদ জানান, আইডিবি'র দুইজন প্রতিনিধি কারখানার বিভিন্ন সপ (উপ-কারখানা), নতুন প্রজেক্টের আওতায় আরেকটি ক্যারেজ সপ স্থাপনের জায়গাসহ গুরুত্বপূর্ণ মেশিনারিজ পরিদর্শন করেন। এতে তারা বেশ সন্তুষ্ট বলে জানান এবং বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এজন্য আগামীতে আরও উর্ধতন কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে যাচাই বাছাই করতে প্রয়োজনে পরিদর্শনে আসবেন বলে জানিয়েছেন। ইতোপূর্বে এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এর প্রতিনিধি দলও একইভাবে বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য পরিদর্শন করেছেন। তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আইডিবি'র সুদের হার এডিবি'র চেয়ে কম। তাই যদি আইডিবি বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে সার্বিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসে তাহলে দ্রুত আমরা আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে যেতে পারবো। কারণ এই প্রকল্পে পর্যায়ক্রমে ৪ হাজার ২শ' কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বিপুল অর্থ বিনিয়োগ হলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারসহ নতুন অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। এতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়াসহ রেলওয়ের সার্বিক ক্ষেত্রে কাঙ্খিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। আগামীর বাংলাদেশে রেলওয়ের  চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, বগি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম যোগান দিয়ে যুগোপযোগী যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। 

২০ ঘন্টা আগে
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
"অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর" স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের বক্তব্য কি সমর্থন করেন?

"অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর" স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের বক্তব্য কি সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

আ.লীগ সরকার মেগা প্রজেক্ট করে মেগা দুর্নীতি করেছে: শিবির সভাপতি

বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তাঁর দাবি, বড় প্রকল্পে বিপুল অর্থের লেনদেন থাকায় সেখানে বড় ধরনের দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়।বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নগরীর শায়েস্তা খাঁ সড়কের শিল্পকলা একাডেমিতে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবির এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।নুরুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগকে ব্যবহার করে বড় অঙ্কের দুর্নীতি করা হয়েছে।শিবির সভাপতি আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই অর্থ দেশে থাকলে পদ্মা সেতুর মতো আরও ১০ থেকে ১২টি সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হতো। ২০২৪ সালের অর্থনীতিবিষয়ক শ্বেতপত্রে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন ডলারের অবৈধ অর্থপ্রবাহের হিসাব তুলে ধরা হয়েছিল।দেশের চিকিৎসা ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, দেশের এমপি-মন্ত্রীদের সন্তানরা সাধারণত দেশে পড়াশোনা করেন না এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও তাঁরা বিদেশে যান। তাঁর মতে, যেদিন দেশের এমপি-মন্ত্রী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন, সেটি দেশের উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে।দেশে মেধাবী মানুষের অভাব নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মূল সংকট মেধার নয়; বরং সততা ও দেশপ্রেমের ঘাটতিই বড় সমস্যা।অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার, ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, মহানগর সেক্রেটারি আমজাদ হোসাইনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

লিংক কপি করা হয়েছে!

এক তরুণীর নিখোঁজের ঘটনায় উন্মোচিত হলো একাধিক প্রশ্ন

এক তরুণীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা। এরপর বীভৎস এক অপরাধ সামনে আসে। গোটা দেশ ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে। চারদিকে সাধারণ মানুষের একটাই দাবি, অপরাধীর শাস্তি চাই। কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, ততই সহজ সমীকরণগুলো জটিল হতে থাকে। অপরাধীর সন্ধানের পাশাপাশি সামনে আসে পুলিশ এনকাউন্টার, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্দেহভাজন এবং বিচারব্যবস্থার এমন কিছু প্রশ্ন, যার কোনো উত্তর এককথায় দেওয়া যায় না। এমনই এক অস্বস্তিকর প্রশ্নের সামনে দর্শককে দাঁড় করিয়েছে মেঘনা গুলজারের নতুন সিনেমা ‘দায়রা’। অপরাধ, আইন, তদন্ত, নৈতিকতা এবং বিচারব্যবস্থার জটিল সমীকরণ নিয়ে তৈরি হয়েছে এই ইনভেস্টিগেটিভ ক্রাইম থ্রিলার। তবে ‘দায়রা’ কেবল একটি অপরাধের রহস্য উন্মোচনের গল্প নয়। অপরাধের তদন্ত করতে গিয়ে আইন ও ব্যক্তিগত নৈতিকতার যে সংঘাত তৈরি হয়, সেটি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে গল্পের মূল চালিকাশক্তি।  ‘দায়রা’ সিনেমার গল্পের শুরু একটি তরুণীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা দিয়ে। পরে সামনে আসে বীভৎস এক ঘটনা; যা ছড়িয়ে পড়তে দেশজুড়ে তৈরি হয় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা। তদন্তের দায়িত্ব এসে পড়ে পুলিশের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডিপিসি আজুনি কোহলি ও ডিপিসি রমন কুমারের ওপর। দুজনেরই লক্ষ্য এক। সত্য খুঁজে বের করা এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা। সেই সত্যে পৌঁছানোর পথ নিয়ে তাদের অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা। কারিনা কাপুর খান অভিনীত আজুনি কোহলি একজন শান্ত, সংযত ও অভিজ্ঞ তদন্তকারী। আইনি প্রক্রিয়ার ওপর তাঁর আস্থা। তাঁর বিশ্বাস, অপরাধ যত ভয়াবহই হোক, একজন তদন্তকারীকে নিজের সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। কারণ আইনকে পাশ কাটিয়ে প্রতিষ্ঠিত ন্যায়বিচার শেষ পর্যন্ত নতুন অন্যায়ের জন্ম দিতে পারে। অন্যদিকে পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের রমন কুমার অনেক বেশি কঠোর। ভয়াবহ অপরাধের জন্য দ্রুত ও কঠোর শাস্তির পক্ষপাতী তিনি। তাঁর কাছে ন্যায়বিচার শুধু আদালতের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার বিষয় নয়; অপরাধের ভয়াবহতার সঙ্গে শাস্তির মাত্রারও সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। ফলে একই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে আজুনি ও রমনের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য ক্রমে স্পষ্ট হতে থাকে। তদন্ত যত এগোয়, মামলাটি ততই জটিল হয়ে ওঠে।  সামনে আসে একটি বিতর্কিত পুলিশ এনকাউন্টার এবং এক অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্দেহভাজনের সম্পৃক্ততার বিষয়। তখন প্রশ্ন আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে তার জন্য আইনের বিশেষ সুরক্ষা কি একইভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত? অপরাধের ভয়াবহতা কি বয়সের আইনি সীমাকে অতিক্রম করতে পারে? নাকি বিচারব্যবস্থার মূল নীতিই হলো–অপরাধ যত ভয়াবহ হোক, আইন সবার জন্য নির্দিষ্ট নিয়মে চলবে? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে দুই পুলিশ কর্মকর্তার দ্বন্দ্ব তীব্র হতে থাকে। একজন মনে করেন, আইনই শেষ কথা। অন্যজনের কাছে অপরাধের ভয়াবহতার সঙ্গে ন্যায়বিচারের তীব্রতা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তদন্তের প্রতিটি ধাপ শুধু মামলার রহস্য উন্মোচন করে না, বরং দুই চরিত্রের বিশ্বাসকেও পরীক্ষা করে।’ দায়রা’র গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সম্ভবত এখানেই। সিনেমাটি দর্শককে সহজ কোনো উত্তর দেয় না। মামলার সঙ্গে যখন এনকাউন্টারের প্রসঙ্গ যুক্ত হয়, তখন সেই দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সিনেমাটি নিয়ে এরই মধ্যে বলিউডের বেশ আলোচনা হচ্ছে। কারণ এই সিনেমার গল্পের সঙ্গে বাস্তবতার একটা যোগসূত্র রয়েছে। শুরুতে ধারণা তৈরি হয়েছিল, ২০১৯ সালের হায়দরাবাদ গণধর্ষণ এবং পরবর্তী বিতর্কিত পুলিশ এনকাউন্টার হয়তো ‘দায়রা’র মূল অনুপ্রেরণা। তবে নির্মাতা মেঘনা গুলজার ভারতীয় গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, সিনেমাটি কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া একাধিক সত্য ঘটনা, অপরাধ এবং আইনি জটিলতার প্রভাব রয়েছে গল্পে। ফলে ‘দায়রা’কে কোনো একটি ঘটনা বা মামলার পুনর্নির্মাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং বাস্তব জীবনের নানা ঘটনার ভেতর থেকে উঠে আসা একটি বৃহত্তর প্রশ্নের সিনেমাটিক অনুসন্ধান এটি। সেই প্রশ্ন হলো–একটি অপরাধের বিচার করতে গিয়ে রাষ্ট্র, আইন ও ব্যক্তির নৈতিক অবস্থান কোথায় গিয়ে মিলিত হয়?  মেঘনা গুলজারের নির্মাণে বাস্তব ঘটনা, সামাজিক সংকট এবং ব্যক্তিমানুষের দ্বন্দ্ব এর আগেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।  কারিনা কাপুর খান ও পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের চরিত্রের মধ্যকার দ্বন্দ্ব তাই কেবল দুই পুলিশ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মতপার্থক্য নয়। এটি মূলত দুটি ভিন্ন বিচারদর্শনের সংঘাত। একদিকে প্রমাণ, আইন ও প্রক্রিয়া; অন্যদিকে দ্রুত বিচার, কঠোর শাস্তি এবং অপরাধের ভয়াবহতার প্রতি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। দুজনই নিজেদের অবস্থান থেকে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চান। ন্যায়ের পথ যে সবার কাছে এক নয়, সিনেমাটি সেই বাস্তবতা সামনে আনে। গল্প যত এগোয়, দর্শকের কাছেও হয়তো প্রশ্নটি বদলে যেতে থাকে। শুরুতে মনে হতে পারে, অপরাধীকে খুঁজে বের করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরে প্রশ্ন আসে অপরাধী কে, সেটিই কি একমাত্র বিষয়? নাকি তাকে বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়াটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ? উত্তরটি দর্শকের কাছে ছেড়ে দিয়েছেন মেঘনা গুলজার।

রাতে চুল বেণি করে ঘুমালে কি চুল লম্বা হয়?

রাতে ঘুমানোর আগে চুল আলগা করে বেণি করে রাখলে চুল দ্রুত লম্বা হয়—এমন একটি লোককথা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণার পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সম্প্রতি ‘নিউজ ১৮’-এর এক প্রতিবেদনে হেয়ার এক্সপার্টরা স্পষ্ট করেছেন যে, বেণি করলেই চুল দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো অলৌকিক ক্ষমতা তৈরি হয় না।বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন মানুষের চুল কতটা দ্রুত বা ধীরে লম্বা হবে, তা মূলত জিনগত (Genetic) বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে। তবে কিছু বাহ্যিক ও শারীরিক বিষয় এতে প্রভাব ফেলে:সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস।পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপন।নিয়মিত মাথার ত্বক ও চুলের সঠিক যত্ন।চুল লম্বা না করলেও ঘুমানোর আগে চুল হালকা বা আলগা (Loose) করে বেণি করে রাখলে চুলে কিছু পরোক্ষ সুবিধা মেলে:খোলা চুলে ঘুমালে বালিশ ও চাদরের কাপড়ের সাথে চুলে ঘর্ষণ (Friction) তৈরি হয়। এতে চুলের ডগা ফেটে যায় ও রুক্ষ হয়ে পড়ে। বেণি করলে এই ঘর্ষণ অনেকটাই কমে।খোলা চুলে রাতে সহজেই জট পেকে যায়। সকালে চিরুনি দিয়ে জোর করে জট ছাড়াতে গেলে চুল ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। আলগা বেণি চুলকে জটমুক্ত রাখে।হেয়ার এক্সপার্টরা কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, বেণি করার সময় কখনোই খুব শক্ত করে (Tight) চুল বাঁধা যাবে না।দীর্ঘ সময় চুলের গোড়ায় টান লেগে থাকলে হেয়ার ফলিকলের (Hair Follicle) ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে ‘ট্র্যাকশন অ্যালোপেসিয়া’ বা অতিরিক্ত চুল পড়ার মারাত্মক সমস্যা তৈরি হতে পারে।তাই রাতে ঘুমানোর আগে চুল রক্ষা করতে সুতি বা সিল্কের কাপড়ে ঢিলেঢালাভাবে বেণি করাই চুলের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।

বকশীগঞ্জে মাদক সেবন করায় ৬ মাসের কারাদণ্ড

বকশীগঞ্জে মাদক সেবন করায় ৬ মাসের কারাদণ্ড

জামালপুরের বকশীগঞ্জে মাদক সেবন করায় রেজোয়ান মিয়া নামে এক ব্যাক্তিকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুরাদ হোসেন তাকে দন্ডিত  করেন।বুধবার( ১৬ সেপ্টেম্বর)  দিবাগত রাত ১১ ঘটিকার সময় বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর  ইউনিয়নের মোরারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ঘটনার সময় মোরার পাড়া গ্রামের মমতাজ আলীর ছেলে রেজোয়ান মিয়া(২৪) প্রকাশ্যে মাদক সেবন করছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত  পরিচালনা করে। আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুরাদ হোসেন মাদক সেবনকারী রেজোয়ানকে  ৬ মাসের কারাদন্ডে দণ্ডিত করেন। একই সময় তাকে ১ শত টাকা জরিমানা করা হয়।দণ্ডিত মাদক সেবনকারী রেজোয়ানকে বৃহস্পতিবার সকালে  বকশীগঞ্জ থানা পুলিশের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুরাদ হোসেন বলেন, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream