প্রধানমন্ত্রীর ভারত ও জাপান সফর চূড়ান্ত হয়নি: শামা ওবায়েদ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত ও জাপান সফরের সম্ভাবনা থাকলেও এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দুই দেশেই প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সংসদ অধিবেশনসহ দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ব্যস্ততা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতির ওপর সফরের সময় নির্ভর করছে।ভারত সফর প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের বিভিন্ন জটিল ইস্যু সমাধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ ইতিবাচক ও সংবেদনশীল আচরণ প্রত্যাশা করে।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে শামা ওবায়েদ বলেন, কোনো সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভারতের মাটিতে বসে বক্তব্য দিলে তা বাংলাদেশের জনগণ ভালোভাবে নেবে না—এ বিষয়টি ভারতের বিবেচনায় রাখা উচিত।জাপানকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। থার্ড টার্মিনাল, মাতারবাড়ী প্রকল্প ও দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।তিনি আরও জানান, সময় ও পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রধানমন্ত্রী দুই দেশেই সফর করবেন।
ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করায় মারুফের অভিনন্দন
বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে মির্জা ফখরুলের নতুন দায়িত্বের জন্য শুভকামনা জানান তিনি।খন্দকার মারুফ আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেলে মির্জা ফখরুল তাঁর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে নিরাপদ, উন্নত ও সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তাঁর মতে, ত্যাগী, নিরহংকার ও সজ্জন হিসেবে পরিচিত মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে সক্ষম হবেন।একই সঙ্গে মির্জা ফখরুলের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফল কর্মজীবন কামনা করেন বিএনপির এই নেতা।
তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে মির্জা ফখরুল
ছাত্ররাজনীতি দিয়ে পথচলা শুরু। এরপর শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে এবার দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার তাকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সংসদে বিএনপির বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম মির্জা ফখরুলের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার সময় বামপন্থী ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃত্বও দেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।পড়াশোনা শেষে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। ঢাকা কলেজে অর্থনীতি পড়ানোর পর সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন।১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির নেতৃত্বে আসেন। ধাপে ধাপে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে ২০০৯ সালে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পান।২০০১ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দলটির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।বিএনপির কঠিন রাজনৈতিক সময়েও দেশে থেকে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মির্জা ফখরুল। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একাধিকবার কারাগারেও যেতে হয়েছে তাকে।এবার সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার মধ্য দিয়ে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও দলের সংকটময় সময়ে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।ছাত্রনেতা থেকে শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা থেকে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি—এরপর সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে মির্জা ফখরুল এখন রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে।
লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা এবং দিন গোনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী
দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় আপাতত লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ এবং এলএনজি টার্মিনাল মেরামত শেষ হওয়ার অপেক্ষা করা ছাড়া সরকারের হাতে বড় কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীতে সিপিডি আয়োজিত জ্বালানি সংকটবিষয়ক এক সংলাপে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী জানান, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। টার্মিনালটি সচল না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে গ্যাস উত্তোলন কিংবা মজুত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ সীমিত।তিনি বলেন, বিদেশি প্রকৌশলীরা টার্মিনাল মেরামতে কাজ করছেন। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মূলত অপেক্ষা করতে হবে। এর পাশাপাশি শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ ঠিক রাখতে লোডশেডিংসহ বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, টার্মিনালের মেরামত শেষে নতুন দুটি বয়লার চালু করতে পুরো সিস্টেমকে প্রায় ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হতে পারে। এতে সাময়িকভাবে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।দীর্ঘমেয়াদে সংকট কমাতে ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন এফএসআরইউ স্থাপন এবং গ্যাস অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এরই মধ্যে একটি নতুন এফএসআরইউর জন্য অর্ডার দেওয়া হয়েছে। পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে আরও তিনটি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও জানান মন্ত্রী। ভোলা থেকে কনটেইনারে করে গ্যাস শিল্পকারখানায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কনটেইনারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।এদিকে ব্যাটারিচালিত রিকশার অতিরিক্ত ব্যবহার বিদ্যুতের চাহিদার ধরন বদলে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। তার দাবি, রাত ১২টার পর এসব যানবাহন একসঙ্গে চার্জ দেওয়ার কারণে ওই সময়ও বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাচ্ছে। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা কোথাও কোথাও বাধা ও হামলার শিকার হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।সংলাপে সিপিডি জানায়, গ্যাসের ঘাটতি ও আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি চাপের মধ্যে রয়েছে। সংগঠনটি দ্রুত দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে।শিল্প উদ্যোক্তারা জানান, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ পরিস্থিতিতে শিল্পে জ্বালানি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি জরুরি সহায়তা প্যাকেজের দাবি জানিয়েছেন তারা।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সরবরাহ বাড়িয়ে সংকট সমাধান সম্ভব নয়। জ্বালানির অপচয় ও চুরি বন্ধ, বাস্তবসম্মত মূল্যনীতি এবং চাহিদা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি।
এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাওয়া কি যৌক্তিক মনে করেন?
টিভি চ্যানেল বন্ধ করতে আরাফাতকে নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। Obaidul Quader | Bangla FM
টিভি চ্যানেল বন্ধ করতে আরাফাতকে নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। Obaidul Quader | Bangla FM
জনগণ আপনাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে: জামায়াতকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী
বিএনপির দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের নাম প্রকাশের হুঁশিয়ারি ব্যারিস্টার ফুয়াদের
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছে: নাহিদ ইসলাম
জেলখানায় কাটানো দুর্বিষহ দিনের কথা জানালেন আমজনতার দলের তারেক
দাবি আদায়ে লং মার্চের ঘোষণা দিলেন জামায়াত আমীর
জুলাইয়ের বিভিন্ন পক্ষের অবদান স্মরণ না করায় প্রস্থান করলেন আখতার হোসেন