শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

হাসিনা সরকারের আমলের দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও অনিয়মের কারণে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার অবশেষে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের একাধিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা পরিচালনা করেন।উক্ত আলোচনার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের নতুন দ্বারে শুভ সূচনা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (জিরো কস্টে) নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। বিমান ভাড়াসহ অভিবাসন খরচমুক্ত এই কর্মীদের প্রথম বহরটি সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে।২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী কর্মী প্রেরণকারী এজেন্সি নির্বাচনের একক ক্ষমতা মালয়েশিয়া সরকারের হাতেই সংরক্ষিত ছিল। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই চুক্তির মেয়াদ বলবৎ থাকায় আইনগত জটিলতার মুখে পড়ে বর্তমান সরকার। তবে সরকারের অব্যাহত নেগোসিয়েশনের ফলে একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভার সার্বভৌম সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা সরাসরি ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের অনুরোধ ও সম্মান রক্ষা করে তারা আরও ৩১২টি এজেন্সিকে 'অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি' হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। এছাড়া সরকারি সংস্থা বোয়েসেলও কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া চালু রাখবে। ফলে বিদ্যমান নানা আইনি সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মোট ৩৩৮টি বাংলাদেশী এজেন্সি যৌথভাবে মালয়েশিয়ার বাজারে কর্মী পাঠাতে সক্ষম হচ্ছে।মালয়েশিয়া সরকারের মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে এসব রিক্রুটিং এজেন্সি যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে, যেখানে বাংলাদেশ সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না। আগামী ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে নতুন সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দেশের সব বৈধ এজেন্সির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বাংলাদেশের সার্বিক স্বার্থ পুরোপুরি সুরক্ষিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৫৪৭

নেপালের উত্তরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। লেন্দে ও ভোটকোশি নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৪৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন ৯৭৭ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি পর্যটক এবং ২৮ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার (২৬ আগস্ট) তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় পাহাড়ধসের পর বিপুল পরিমাণ পানি নেপালের নদীগুলোতে নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই নদীগুলোর পানি ভয়ংকর স্রোতে পরিণত হয়ে নদীতীরবর্তী সড়ক, বসতবাড়ি এবং বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী সেতু ধ্বংস করে দেয়।দুর্যোগের মূল কেন্দ্র রসুয়া জেলা হলেও নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়া মরদেহ আশপাশের পাশাপাশি দূরবর্তী বিভিন্ন জেলা থেকেও উদ্ধার হচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।নদী থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে মরদেহ সংরক্ষণের জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। চিতবন জেলায় তুলনামূলক বেশি মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় একটি পরিত্যক্ত ভবনকে অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে শুকনো বরফের মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে বিভিন্ন পরিবার অস্থায়ী মরদেহ শনাক্তকরণ কেন্দ্রে ভিড় করছেন। পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়া মরদেহের ক্ষেত্রে ডিএনএ নমুনা ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে বিশেষ নম্বর দিয়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরে দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।দুর্যোগ মোকাবিলায় চার হাজারের বেশি পুলিশ ও সেনাসদস্য উদ্ধারকাজে যুক্ত হয়েছেন। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া বিদেশি পর্যটকদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে।ভয়াবহ এই বন্যা ও পাহাড়ধসে নেপালের যোগাযোগব্যবস্থা ও স্থানীয় অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আরও মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নভেম্বরে তুরস্ক যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-৩১) অংশ নিতে আগামী নভেম্বরে তুরস্ক সফর করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ২৩তম ওআইসির কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টার্স বৈঠকের সাইডলাইন আলোচনায় তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা জানান। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান সহযোগিতার মাত্রায় সন্তোষ প্রকাশ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কূটনীতিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তা আরও বিস্তৃত করার অভিন্ন আগ্রহ ব্যক্ত করেন উভয় প্রতিনিধি।বৈঠককালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, আসন্ন কপ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফরে যেতে পারেন। একই সাথে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধস: মৃত বেড়ে ৪৭২

নেপাল-তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে এক ভয়াবহ হিমবাহ ধ্বসের ফলে সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করি আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও উদ্ধার তৎপরতায় নতুন করে আতঙ্ক যোগ করেছে পাহাড়ের উঁচুতে জমা হওয়া একটি কৃত্রিম হ্রদ। যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কায় তিব্বত সীমান্তে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়ার পর তৈরি হওয়া প্রকাণ্ড পানির তোড় মুহূর্তের মধ্যে লোকালয়, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ভাসিয়ে নিয়ে যায়। একই সাথে তিব্বত ও নেপালের মধ্যকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পারাপারটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।দুর্যোগের তীব্রতায় দুই দেশেই হতাহতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। নেপালে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে তিব্বতে ৩ জনের মৃত্যু এবং ৫৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে উভয় দেশের পরিসংখ্যানের মধ্যে কোনো পুনরাবৃত্তি (Overlap) রয়েছে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।রেড ক্রসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসি-কে জানিয়েছেন, আবারও বন্যা আঘাত হানতে পারে—এমন খবরের পর থেকে দুর্ঘটনাস্থলে বেঁচে যাওয়া মানুষদের সন্ধানে নিয়োজিত উদ্ধারকর্মীরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।প্রতিবছর এই মনোরম পাহাড়ি অঞ্চলে হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণে যান। আকস্মিক এই বিপদে স্বজনদের হারিয়ে ও নিখোঁজের খবরে দূর-দূরান্তে থাকা পরিবারগুলোর মাঝে নেমে এসেছে চরম উৎকণ্ঠা। নিখোঁজ মা-বাবার অপেক্ষায় থাকা দুই বোন বিবিসি-কে আকুতি জানিয়ে বলেন, "আমরা শুধু তাদের খুব ভালোবাসি এবং চাই তারা নিরাপদে ঘরে ফিরে আসুক।"ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখন ধ্বংসস্তূপের চিত্র। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এবং নতুন করে প্লাবনের ঝুঁকিতে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভ্যান হারিয়ে রাস্তায় কান্না, ১৪ বছরের রেজোয়ানের পাশে প্রশাসন

ভ্যান হারিয়ে রাস্তায় কান্না, ১৪ বছরের রেজোয়ানের পাশে প্রশাসন

বাবা অসুস্থ, সংসারে অভাব। পরিবারের খরচে সহযোগিতা করতে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালাত ১৪ বছরের রেজোয়ান। কিন্তু প্রতারণার শিকার হয়ে সেই ভ্যানটিও হারিয়ে এখন দিশেহারা সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী। ভ্যান হারানোর পর রাস্তায় বসে তার কান্নার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসনের। মানবিক দিক বিবেচনায় রেজোয়ানের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। তিনি রেজোয়ানের জন্য নতুন একটি ভ্যান কিনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।রেজোয়ান নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর বাহাগড়ী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের অলিয়ার হোসেনের ছেলে। সে স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় রেজোয়ান। পরে তারাগঞ্জ বাজারে দুই ব্যক্তি সৈয়দপুর যাওয়ার কথা বলে তার ভ্যানটি ভাড়া নেন। ৫০০ টাকায় সৈয়দপুর যাওয়া-আসার কথা হওয়ায় রেজোয়ান তাদের নিয়ে রওনা হয়।সৈয়দপুরে পৌঁছানোর পর ওই দুই ব্যক্তি কৌশলে তাকে ভ্যান থেকে দূরে সরিয়ে দেন বলে অভিযোগ। তাদের সঙ্গে থাকা মালামাল বিক্রির কথা বলে একজন নামাজ পড়তে যাওয়ার অজুহাত দেন। পরে অপর ব্যক্তি রেজোয়ানকে পান কিনে আনতে পাঠান।পান নিয়ে ফিরে এসে রেজোয়ান দেখতে পায়, সেখানে ভ্যানটি নেই। একই সঙ্গে ওই দুই ব্যক্তিরও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। মুহূর্তেই অসহায় হয়ে পড়ে সে। পরিবারের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন হারিয়ে রাস্তার পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটি।রেজোয়ানের কান্নার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হলে তা দ্রুত মানুষের নজরে আসে এবং সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টিতেও আসে।সৈয়দপুর ইউএনও ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা জানান, রেজোয়ানের পরিবারের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে তাকে একটি নতুন ভ্যান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারের আয় আবারও সচল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।এদিকে খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ রেজোয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়। পাশাপাশি অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির চেহারা, শারীরিক গঠন, কথাবার্তা ও চলাফেরাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, রেজোয়ানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভ্যান নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।রেজোয়ানের পরিবারের একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন হারানোর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে পরিবারটি কিছুটা স্বস্তি পেলেও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।একই সঙ্গে পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। রেজোয়ানের মতো শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের জন্য সামাজিক ও প্রশাসনিক সহায়তা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

১০ ঘন্টা আগে
আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

হাসিনা সরকারের আমলের দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও অনিয়মের কারণে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার অবশেষে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের একাধিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা পরিচালনা করেন।উক্ত আলোচনার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের নতুন দ্বারে শুভ সূচনা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (জিরো কস্টে) নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। বিমান ভাড়াসহ অভিবাসন খরচমুক্ত এই কর্মীদের প্রথম বহরটি সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে।২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী কর্মী প্রেরণকারী এজেন্সি নির্বাচনের একক ক্ষমতা মালয়েশিয়া সরকারের হাতেই সংরক্ষিত ছিল। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই চুক্তির মেয়াদ বলবৎ থাকায় আইনগত জটিলতার মুখে পড়ে বর্তমান সরকার। তবে সরকারের অব্যাহত নেগোসিয়েশনের ফলে একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভার সার্বভৌম সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা সরাসরি ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের অনুরোধ ও সম্মান রক্ষা করে তারা আরও ৩১২টি এজেন্সিকে 'অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি' হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। এছাড়া সরকারি সংস্থা বোয়েসেলও কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া চালু রাখবে। ফলে বিদ্যমান নানা আইনি সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মোট ৩৩৮টি বাংলাদেশী এজেন্সি যৌথভাবে মালয়েশিয়ার বাজারে কর্মী পাঠাতে সক্ষম হচ্ছে।মালয়েশিয়া সরকারের মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে এসব রিক্রুটিং এজেন্সি যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে, যেখানে বাংলাদেশ সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না। আগামী ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে নতুন সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দেশের সব বৈধ এজেন্সির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বাংলাদেশের সার্বিক স্বার্থ পুরোপুরি সুরক্ষিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

১২ ঘন্টা আগে
 রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানালেন পুতিন

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানালেন পুতিন

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সফলতা কামনা করেছেন তিনি।ঢাকায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পাঠানো এক শুভেচ্ছাবার্তায় পুতিন আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান।বার্তায় রুশ প্রেসিডেন্ট নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত মঙ্গল এবং বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে তার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের সাফল্য কামনা করেন।পুতিনের এই শুভেচ্ছাবার্তা বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

১৪ ঘন্টা আগে
নারীদের উন্নয়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

নারীদের উন্নয়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নারীদের শিক্ষা, দক্ষতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়লে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে। একটি পরিবারের মেয়েরা শিক্ষিত ও কর্মক্ষম হয়ে উঠলে সেই পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির সুযোগ তৈরি হয়।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষ, মেধাবী শিক্ষার্থী, নির্যাতিত নারী ও শিশুদের কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বাইসাইকেল।মন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তাই নারীদের পিছিয়ে রেখে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। মা ও মেয়েদের আর্থিকভাবে সহায়তা ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।তিনি বলেন, একজন নারী স্বাবলম্বী হলে এর ইতিবাচক প্রভাব শুধু তার নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; পুরো পরিবার উপকৃত হয়। পরিবারের আয় বাড়ে, সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হয় এবং চিকিৎসাসহ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।অনুদানের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, এই অর্থ সবজি চাষ, বাগান করা, হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কাজে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। পরিকল্পিতভাবে সরকারি সহায়তা কাজে লাগাতে পারলে ধীরে ধীরে দরিদ্র পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব।তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চায় যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মধ্যে বসবাস করবে। হিংসা ও বিদ্বেষের পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা তানজিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে ঘোড়াঘাট উপজেলার ৬০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি করে বাইসাইকেল বিতরণ করেন মন্ত্রী। এ ছাড়া ক্যান্সার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত ১১ জন, ৯৬ জন শিক্ষার্থী, ১০৬ জন দুস্থ ব্যক্তি এবং ৬৪ জন আদিবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে অনুদানের চেক দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১৮টি মসজিদ ও ৬টি মন্দিরের উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্দসহ মোট প্রায় দেড় কোটি টাকার অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।

১৪ ঘন্টা আগে
অবশেষে পে স্কেলের নতুন তারিখ প্রকাশ

অবশেষে পে স্কেলের নতুন তারিখ প্রকাশ

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে। আগামী সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য নতুন পে স্কেলের খসড়া উত্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত মিললে আগামী সপ্তাহের বৃহস্পতিবারের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, নতুন বেতন কাঠামোর যাবতীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে এটি এজেন্ডাভুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে। ওই দিন অনুমোদন পেলে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তবে অনুমোদিত চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট হার কত তা বলতে রাজি হননি অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানান, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি যেকোনো মুহূর্তে ঘোষণা করা হতে পারে। গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও জানিয়েছিলেন যে, নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রধান করে গঠিত ১০ সদস্যের সচিব কমিটি ইতিমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে। সূত্র মতে, ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে দুই ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন এবং পরবর্তী বছরে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকেও নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন-গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।উল্লেখ্য, অষ্টম পে স্কেলের প্রায় এক দশক পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে, যা ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ করেছিল। গত ১১ জুন সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার ঘোষণা দেন।

১৭ ঘন্টা আগে
খাদ্যগুদামে নয়ছয় হলে ছাড় নয়, সিন্ডিকেটও রেহাই পাবে না: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যগুদামে নয়ছয় হলে ছাড় নয়, সিন্ডিকেটও রেহাই পাবে না: খাদ্যমন্ত্রী

সরকারি খাদ্যগুদামে মজুত খাদ্যশস্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, কারসাজি বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তিনি বলেছেন, খাদ্যগুদামকে কেন্দ্র করে কোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকলে কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়মের পেছনে যারা সহযোগী বা মদদদাতা হিসেবে কাজ করবেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) যুগান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪ জেলার সরকারি খাদ্যগুদাম যাচাই ও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে। কোথাও মজুতের হিসাবের সঙ্গে বাস্তবের মিল না পাওয়া গেলে, খাদ্যশস্য আত্মসাতের প্রমাণ মিললে বা সংরক্ষণ ব্যবস্থায় অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের জন্য সংরক্ষিত খাদ্যশস্য নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। সরকারি গুদামে কত খাদ্য রয়েছে, তার সঠিক হিসাব থাকতে হবে এবং দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে।তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তাই খাদ্য মন্ত্রণালয়কে আরও জনবান্ধব ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করবে।সাময়িক অভিযানের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপর জোর দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য পরীক্ষাগার ও ল্যাবরেটরিগুলো আধুনিকায়ন করা হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে।নিজ জেলা মানিকগঞ্জের ঘিওর সরকারি খাদ্যগুদামে সম্প্রতি চাল ও গমের মজুত ঘাটতির অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এ প্রসঙ্গে আফরোজা খানম রিতা বলেন, ঘিওরের ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা হচ্ছে না। দেশের অন্য খাদ্যগুদামেও একই ধরনের কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।তিনি বলেন, সরকারি খাদ্যগুদামে কাগজে-কলমে এক ধরনের হিসাব আর বাস্তবে ভিন্ন চিত্র কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের খাদ্য জনগণের সম্পদ—এর এক কেজিও অপচয়, আত্মসাৎ বা অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। শুধু গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী নন, তদারকির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।কোনো গুদামে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সেটিকে ছোটখাটো ভুল হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী। তার ভাষায়, অনিয়ম যারই হোক, পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা করা হবে না।খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা শুধু পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রাখার বিষয় নয়। সেই খাদ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ হচ্ছে কি না, হিসাবের স্বচ্ছতা আছে কি না এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে তা পৌঁছাচ্ছে কি না—সবকিছুই নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যবস্থার কোথাও দুর্নীতি বা সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব পাওয়া গেলে তা ভেঙে দেওয়া হবে।দেশের সব সরকারি খাদ্যগুদামের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া মাত্র তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাদ্যশস্যের মজুত, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি খাদ্যগুদাম কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, জনগণের জন্য। তাই জনগণের খাদ্য নিয়ে দুর্নীতি করলে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।

১৭ ঘন্টা আগে
বিরোধী দলের আন্দোলন দেশের জন্য ক্ষতি: পানিসম্পদ মন্ত্রী

বিরোধী দলের আন্দোলন দেশের জন্য ক্ষতি: পানিসম্পদ মন্ত্রী

বিরোধী দলের চলমান আন্দোলনের পরিকল্পনা দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং এতে শেষ পর্যন্ত দেশেরই ক্ষতি হবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নের দক্ষিণ দুর্গাপুর এলাকায় এসডিএফের ‘বি স্ট্রং’ প্রকল্পের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।মন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল একদিকে লংমার্চ করেছে, অন্যদিকে আবার নতুন করে আন্দোলনের কথা বলছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যদি বারবার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল থাকে, তাহলে স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় উন্নয়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।তিনি বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অন্য পক্ষ এখন বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই তারা সহযোগিতা না করে আন্দোলনের কথা বলে আসছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে এবং এ সময় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ নানা ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করা হয়েছে। এখন সেই অর্জন ধরে রেখে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব।বিরোধী দলের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার ও বিএনপিকে চাপে ফেলার চেষ্টা করা হলে তা সফল হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল মনে করছে আন্দোলনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের দুর্বল করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া সম্ভব। তবে এ ধরনের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থেকে কাজ করতে হবে।মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের উন্নয়নের দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বকে শক্তিশালী রাখা গেলে তার বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার সময়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় আগামী পাঁচ বছরে দেশ আরও এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় স্থানীয় প্রশাসন, বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

১৭ ঘন্টা আগে
মন্ত্রী-এমপিদের যে ৩ বিষয়ে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

মন্ত্রী-এমপিদের যে ৩ বিষয়ে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং সরকারের বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচার মোকাবিলাসহ তিনটি বিষয়ে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, হুইপ ও দলীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে যাতে কোনো বিরোধ বা বিভাজন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রী-এমপিদের সতর্ক করেন তিনি।সূত্র জানায়, যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না, তাই তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো এমপি ব্যক্তিগত পছন্দে প্রার্থী সমর্থন করতে চাইলে সেটি স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই করতে হবে। এতে তৃণমূলে ক্ষোভ, বিভ্রান্তি বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এড়ানো সম্ভব হবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দেন। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার কথা বলেন তিনি।বৈঠকে বিএনপির আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন নিয়েও আলোচনা হয়। এ উপলক্ষে দলের সব মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থেকে কর্মসূচি সফল করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।এ ছাড়া সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রচার, অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডা মোকাবিলায় মন্ত্রী-এমপিদের মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিদ্যমান বিভিন্ন সংকট নিয়ে সরকার ও মন্ত্রীরা যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, সেগুলোর সঠিক তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।বিশেষ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও সারসংকটের বিষয়ে জনগণকে প্রকৃত পরিস্থিতি জানাতে দলীয় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। বৈঠকে আরও জানানো হয়, সারসংকট নিরসনে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাজ চলমান রয়েছে এবং সার সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সরকার।সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে যাতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে না পারে, সে বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

১৭ ঘন্টা আগে
প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ড তৈরিতে ব্যয় ৬০০ টাকা, অর্থের জোগান নিয়ে ধোঁয়াশা

প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ড তৈরিতে ব্যয় ৬০০ টাকা, অর্থের জোগান নিয়ে ধোঁয়াশা

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে ৪১ লাখ নারীকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। তবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের আগেই কার্ড তৈরির ব্যয় এবং সেই অর্থের উৎস নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ড তৈরিতে ৬০০ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। সেই হিসাবে প্রথম ধাপে ৪১ লাখ পরিবারের জন্য কার্ড তৈরি করতে প্রয়োজন হবে প্রায় ২৪৬ কোটি টাকা। কিন্তু এই অর্থ পুরোপুরি সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে, নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে জোগান দেওয়া হবে—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।কার্ড তৈরির ব্যয়ের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, অর্থ স্থানান্তর এবং মোবাইল আর্থিক সেবার লেনদেন খরচও রয়েছে। ফলে ৪১ লাখ পরিবারকে মাসিক সহায়তা দেওয়ার বাইরে পুরো ডিজিটাল বিতরণ ব্যবস্থায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় কত হবে, সেটিও এখন আলোচনার বিষয়।ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ বিতরণে টাকাপে ব্যবস্থার ব্যবহার এবং সরকারি ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এর সংযোগ নিয়ে সম্প্রতি সচিবালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অর্থ বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তবে কার্ড তৈরির ৬০০ টাকা খরচ কে বহন করবে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে আগামী বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হতে পারে। একই সঙ্গে সুবিধাভোগীদের ওপর কোনো অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।সরকার চলতি অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। প্রথম ধাপে ৪১ লাখ পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হলেও আগামী চার বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমান হিসাবে প্রতিটি কার্ডে ৬০০ টাকা ব্যয় হলে শুধু কার্ড তৈরিতেই ভবিষ্যতে প্রায় ৯৬০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।জানা গেছে, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে উপকারভোগীদের হিসাব পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি টাকাপে কার্ড ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমেও টাকা উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।এর আগে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, ফ্যামিলি কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে এবং কার্ডের নামে কারও কাছ থেকে টাকা দাবি করা হলে তা প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে।অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাজেট কোনো বাধা হবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। সরকারের অগ্রাধিকারমূলক এই উদ্যোগকে শুধু সামাজিক সহায়তা নয়, নারীর ক্ষমতায়ন ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

২০ ঘন্টা আগে
নভেম্বরে তুরস্ক যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নভেম্বরে তুরস্ক যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-৩১) অংশ নিতে আগামী নভেম্বরে তুরস্ক সফর করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ২৩তম ওআইসির কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টার্স বৈঠকের সাইডলাইন আলোচনায় তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা জানান। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান সহযোগিতার মাত্রায় সন্তোষ প্রকাশ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কূটনীতিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তা আরও বিস্তৃত করার অভিন্ন আগ্রহ ব্যক্ত করেন উভয় প্রতিনিধি।বৈঠককালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, আসন্ন কপ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফরে যেতে পারেন। একই সাথে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

২০ ঘন্টা আগে
২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা থাকলে সহিংসতামুক্ত স্থানীয় নির্বাচন সম্ভব। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা থাকলে সহিংসতামুক্ত স্থানীয় নির্বাচন সম্ভব। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

সরকার ধীরে ধীরে ব্যর্থতার দিকে গেলেও স্বীকার করতে চায় না: সারজিস আলম

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় সংগঠন শক্তিশালী করার কাজ চলছে।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা এনসিপির সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের সোনারবাংলা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।সারজিস আলম বলেন, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এখন দলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা সফর করছেন তারা। প্রতিটি ইউনিয়নে সংগঠনের কমিটি গঠনের পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে প্রত্যেক ইউনিয়ন থেকে একজন করে প্রাথমিকভাবে প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।তার মতে, স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের এই প্রক্রিয়া এনসিপিকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তোলা এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে কাজ করবে।বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে সারজিস বলেন, সংসদকে শুধু সরকারদলীয় কর্মকাণ্ডের জায়গায় পরিণত করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক নয়। বিরোধী দলের বক্তব্য ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।সারজিস বলেন, সরকার জনগণের স্বার্থে কাজ করলে এনসিপি সহযোগিতা করবে। তবে জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে এনসিপি জনগণের পাশে থেকে রাজনৈতিকভাবে সেই অবস্থানের বিরোধিতা করবে।বিএনপি সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সারজিসের অভিযোগ, সরকার জ্বালানি ও আইনশৃঙ্খলাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও প্রত্যাশিত ফল আসেনি। তার দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, শিল্পকারখানায় কর্মী ছাঁটাইসহ বিভিন্ন সমস্যাও মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।তিনি আরও বলেন, জনগণের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরতে এনসিপি বিভাগীয় শহরগুলোতে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে। বিরোধী দল হিসেবে সরকারের ভুল ও ব্যর্থতাগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরাই তাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন সারজিস আলম।তার অভিযোগ, বিএনপি সরকার ধীরে ধীরে ব্যর্থতার দিকে এগোলেও তারা বিষয়টি স্বীকার করতে চাইছে না। মাঠপর্যায়ে সরকারের জনপ্রিয়তা কমছে বলেও দাবি করেন তিনি।

লিংক কপি করা হয়েছে!

ফেসবুক থেকে চলে গেলেন সংগীতশিল্পী আসিফ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় ছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। ব্যক্তিগত জীবন কিংবা সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে নিয়মিতই ফেসবুকে সরব ছিলেন তিনি। তবে হঠাৎ করেই সেই প্ল্যাটফর্ম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন এই শিল্পী। ইতোমধ্যে ডিঅ্যাক্টিভেট করে দিয়েছেন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) একটি সিনেমার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি জানান আসিফ আকবর। একইসঙ্গে কেন ফেসবুক থেকে দূরে সরে গেলেন, সেটিও খোলাসা করেছেন তিনি। ফেসবুকের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়ে আসিফ আকবর বলেন, ‘ফেসবুক ছিল একটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কিন্তু ফেসবুকে এখন ধর্ম প্রচার হচ্ছে, অনলাইন অর্ডার করা হচ্ছে। ফেসবুক এখন আর ফেসবুকের জায়গায় নেই।’ তিনি বলেন, বর্তমানে ফেসবুকে কোন তথ্য সত্য আর কোনটি গুজব- তা আলাদা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। যাচাই-বাছাই ছাড়াই নানা খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেক সময় তারকাদেরও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভুল তথ্যের কারণে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন আসিফ। তার দাবি, অনেক সময় তার নামে এমন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে, যা তিনি কখনোই দেননি। আসিফ আকবর বলেন, ‘কোন নিউজ বিশ্বাস করব, কোনটি সত্য- বলা যায় না। আমাকে রিউমার স্ক্যান করে ফোন দিয়ে বলতে হয়, ভাই, আমি তো এটা বলিনি।’ পরে সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি যাচাই করে দেখেন এবং সত্যতা প্রকাশ করতে হয়। তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু বিব্রতকরই নয়, এর সঙ্গে দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও জড়িত। আসিফ মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রকাশের আগে তার সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে তারকাদের নিয়ে কোনো বক্তব্য, মন্তব্য কিংবা খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে সামান্য ভুলও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তার মতে, তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না হলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত বিভ্রান্তির মধ্যে পড়বেন। আর সেই বিভ্রান্তির দায় অনেক সময় এসে পড়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপরই। ফেসবুকের এমন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মটি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আসিফ আকবর। এরই মধ্যে ডিঅ্যাক্টিভ করা হয়েছে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে সরে গেলেও সংগীত থেকে দূরে যাচ্ছেন না এই শিল্পী। গান নিয়ে বরাবরের মতোই ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। নতুন গান রেকর্ডিংয়ের পাশাপাশি নিয়মিত স্টেজ শোতেও অংশ নিচ্ছেন আসিফ।

শিশুদের প্রতিদিন কতক্ষন ঘুমানো উচিত

বর্তমান সময়ে প্রাত্যহিক জীবনে কেবল বয়স্কদেরই নয়, ছোট শিশুদের মধ্যেও ঘুমের সমস্যা মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের ঘুমের সময়টি এখন বহু পরিবারের জন্যই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যে শিশুরা আগে সহজেই ঘুমিয়ে পড়ত, বর্তমানে তাদের অতিরিক্ত সময় জেগে থাকা, রাতে বারবার জেগে ওঠা কিংবা সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হওয়ার মতো প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।এ ধরনের সমস্যার পেছনে সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন টাইম (মোবাইল বা টিভির ব্যবহার) কে দায়ী করা হলেও, শিশু বিশেষজ্ঞ ড. মনীশ মান্নানের মতে, শিশুদের সন্ধ্যার রুটিনে যুক্ত থাকা আপাতদৃষ্টিতে ছোট কিছু অভ্যাসও এর জন্য অনেকাংশে দায়ী।৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু: প্রতিদিন ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।কিশোর-কিশোরী (১৩ থেকে ১৮ বছর): প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।পর্যাপ্ত ঘুম শিশুদের স্মৃতিশক্তি, শেখার ক্ষমতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শারীরিক বৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নিয়মিত সঠিক ঘুম না হলে শিশুদের মনোযোগ, আচরণ ও মেজাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।চিকিৎসকদের মতে, মা-বাবার অন্যতম ভুল হলো ঘুমের সময়সীমাকে শিথিল বা পরিবর্তনযোগ্য করে তোলা। হোমওয়ার্কের বাড়তি চাপ, দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া এবং শোবার সময় মোবাইল বা টিভির ব্যবহার বাড়িয়ে দেওয়া এর মূল কারণ। এ ছাড়া কর্মদিবসে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমালেও ছুটির দিনে শিশুদের অনেক দেরি করে ঘুমাতে দেওয়া হয়, যা শরীরের স্বাভাবিক ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ বা ঘুমের ছন্দ নষ্ট করে দেয়।১. ঘুমানোর ঠিক আগে স্ক্রিন ব্যবহার: মোবাইল, গেম বা সোশাল মিডিয়া মস্তিষ্কে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। তাই ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে সব স্ক্রিন বন্ধ করে ফোন শোবার ঘরের বাইরে রাখা উচিত।২. ছুটির দিনে অনিয়মিত রুটিন: ছুটির দিনগুলোতেও ঘুম ও জাগার সময় স্বাভাবিক দিনগুলোর কাছাকাছি রাখা প্রয়োজন।৩. বিছানায় অন্য কাজ করা: বিছানায় পড়াশোনা, গেম খেলা বা ভিডিও দেখা ঘুমের স্বাভাবিক আমেজ কমিয়ে দেয়। বিছানা কেবল ঘুমের জন্যই নির্দিষ্ট রাখা উচিত।৪. শিশুকে অতিরিক্ত ব্যস্ত রাখা: খেলাধুলা, টিউশন ও স্ক্রিন মিলিয়ে ব্যস্ত সন্ধ্যা শিশুকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করলেও শান্ত ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে। ঘুমানোর আগে বই পড়া বা শান্ত পরিবেশে কথা বলার রুটিন গড়ে তোলা উচিত।৫. রাতে ক্যাফেইন ও ভারী খাবার: কোলা জাতীয় পানীয়, চা, ক্যাফেইন এবং রাতে অসময়ে খাওয়ার অভ্যাস ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। সব ঘুমের সমস্যা শুধুই আচরণগত নয়। শিশু যদি নিয়মিত নাক ডাকে, ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা অস্থিরতা অনুভব করে, সকালে মাথাব্যথা নিয়ে ওঠে কিংবা সারাদিন অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব থাকে—তবে বিলম্ব না করে শিশু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি অনুমানযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট রুটিন, সন্ধ্যার হৈচৈ কমানো এবং স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণে আনার মাধ্যমেই শিশুদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও পর্যাপ্ত ঘুমের পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা: গ্রেপ্তার ২ আসামির ডিএনএ ও ডোপ টেস্টের সিদ্ধান্ত

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা: গ্রেপ্তার ২ আসামির ডিএনএ ও ডোপ টেস্টের সিদ্ধান্ত

রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ এবং ডোপ টেস্ট করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।​বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন আরপিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।​সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার জানান, এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল কারণ ও প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত করতে তদন্ত কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির অপরাধে যুক্ত থাকার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করতে এবং ঘটনার সুনির্দিষ্ট আলামত মেলানোর লক্ষ্যেই ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সময় আসামিরা কোনো প্রকার মাদকাশক্ত ছিল কি না, তা যাচাই করতেই এই ডোপ টেস্ট করা হবে।​সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। মামলার সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream