শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM
সর্বশেষ

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠক বাতিল

ভারতের নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্ধারিত বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। শুক্রবার বৈঠকটি হওয়ার কথা থাকলেও কোনো কারণ না জানিয়ে তা বাতিল করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ভারতে অবস্থানরত দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতার ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমকেও বৈঠকে থাকার জন্য বলা হয়েছিল।সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনা যে বাসভবনে অবস্থান করছেন, সেখানেই বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকৌশল নিয়ে সেখানে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি শেখ হাসিনার আগে দেওয়া ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে দলীয় পর্যায়ে ধারণা ছিল।তবে শেষ মুহূর্তে বৈঠকটি বাতিল হওয়ায় এর কারণ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। এখন পর্যন্ত বৈঠক বাতিলের বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সামরিক হেলিকপ্টারে বাংলাদেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।

সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্র সফরটি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়। ফলে ২৪ সেপ্টেম্বর বক্তৃতা দেওয়ার পরদিন, অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর ২১ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফর আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এমনকি নিউইয়র্ক থেকে সান ফ্রান্সিসকো যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল তার। সরকারি সূত্রগুলো জানায়, নিউইয়র্কে সংক্ষিপ্ত সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের তালিকাও ছোট। অতীতের সরকারগুলোর তুলনায় ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সংক্ষিপ্ত সফরের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কৃচ্ছ্রসাধনের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নিউইয়র্কে অবস্থানের সময় জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি বৈঠক, বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে পৃথকভাবে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি বৈঠকের মধ্যে রয়েছে উন্নয়ন, মহামারি প্রতিরোধ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ। পাশাপাশি বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যাসহ একাধিক আলোচনার আয়োজন করছে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে। নিউইয়র্ক থেকে কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্ভাব্য যেসব দেশের নেতাদের বৈঠক হতে পারে, সে তালিকায় রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেঙ্কোভিচ ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সল বিন ফারহান আল সৌদ। এছাড়াও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, বিশ্বব‍্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হবে।  সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী বলে জানা গেছে।  

ইউপি নির্বাচনে জামানত বাড়ছে পাঁচ গুণ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যার আধিক্যে লাগাম টানতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতার শর্তে নানা কঠোর বিধি আরোপ করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত আগের তুলনায় পাঁচ গুণ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়সীমাও বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, নির্বাচনী অপরাধে সাজা বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচন বন্ধ করার ক্ষমতা ইসির হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হচ্ছে না। ফলে আগের মতো যে কেউ ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন। এসব বিধানসহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালার সংশোধনী চূড়ান্ত হয়েছে। ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় পরিবর্তন এনে প্রণীত এই সংশোধনী এরই মধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হয়ে ইসিতে এসেছে। আগামী সপ্তাহে এসআরও নম্বর দেওয়ার জন্য এটি আবারও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে। স্থানীয় সরকারের অন্য চার প্রতিষ্ঠান-উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের আলাদা নির্বাচনী বিধিমালাও আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। জামানত বাড়ছে পাঁচ গুণ, ব্যয়সীমা দ্বিগুণ সংশোধিত ইউপি নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। সাধারণ আসনের সদস্য (মেম্বার) ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। বর্তমান বিধি অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত বা বাতিল হয়। অন্যদিকে, চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয় ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। ইসি সূত্র বলছে, এবার থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নির্দলীয় ও প্রতীকবিহীন হওয়ায় বিশেষ করে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানেও প্রার্থী সংখ্যা বাড়তে পারে। এতে ব্যালটে প্রার্থী ও প্রতীকের সংখ্যা বেশি রাখতে হবে। এ ছাড়া বেশি সংখ্যক প্রার্থী এবং তাদের এজেন্ট ও কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয়তার কারণে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়ও বেশি বেগ পেতে হবে। ভোট পরিচালনার ব্যয়ও অনেক বেড়ে যাবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা করছে ইসি। এ কারণে নির্বাচনী বিধিমালায় নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। তবে ইসির সংশোধনী অনুযায়ী, প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ বাড়ানোর ফলে নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা অনেক কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে আর্থিক সক্ষমতা তুলনামূলক কম-এমন যোগ্য প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হতে পারে বলেও মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল আলীম সমকালকে বলেন, জামানত বাড়ানো এবং জামানত রক্ষার শর্ত কঠোর করার ফলে প্রার্থী সংখ্যা কমবে, নির্বাচন পরিচালনার ব্যয় কমবে এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে-এটি ঠিক। তবে জামানত বেশি করার ফলে অনেক যোগ্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তির নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আবার জামানত হারানোর ভয়ে অনেকে প্রার্থী হতে চাইবেন না। এতে যেকোনো যোগ্য ব্যক্তির ভোটে দাঁড়ানোর নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘিত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, তবে এই বিধানের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বর্তমানে অনেক প্রার্থী নিজের জয় নিশ্চিত করতে ‘ডামি’ প্রার্থী দিয়ে থাকেন। পরে এসব ডামি প্রার্থীর নামে বাড়তি এজেন্ট নিয়োগ করে তাঁদের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হলে এসব ‘ডামি’ প্রার্থী করা এবং এজেন্ট কেনাবেচার প্রবণতা কমে আসবে। বর্তমান সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবকে সমর্থন করেন আবদুল আলীম। তবে প্রার্থীরা যেন নির্ধারিত নির্বাচনী ব্যয়সীমার মধ্যে থাকেন, তা কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইসিকে নিশ্চিত করতে হবে বলেও তিনি মনে করেন। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ অবশ্য জামানত বেড়ে যাওয়ায় যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার শঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জীবনযাত্রার ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে, ২৫ হাজার টাকা জামানত একজন প্রার্থীর জন্য খুব বেশি হওয়ার কথা নয়। তা ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত আগে থেকেই এই পরিমাণ নির্ধারিত আছে। সেটির সঙ্গে সমন্বয় করতে আমরা ইউপি নির্বাচনে জামানত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছি। সেই সঙ্গে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী ব্যয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালার সংশোধনী আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং হয়ে এসেছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিধিমালাও দ্রুত ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। সংশোধিত ইউপি নির্বাচন বিধিমালায় নির্বাচনী হলফনামায় বেশ কিছু নতুন তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। হলফনামায় নতুন তথ্য যুক্ত করা এবং অসত্য তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। একক প্রার্থী থাকলে আগের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণার বিধান বহাল রাখা হয়েছে। বিধিমালায় নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনরত কোনো ব্যক্তিকে হুমকি, ভয় দেখানো বা আঘাত করলে অথবা ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দিলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ডের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে জরিমানা আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচনী অপরাধের সাজাও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচনী অপরাধে ন্যূনতম ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। অনিয়মের কারণে ভোট বাতিলের ক্ষমতা ইসির হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া ইসির প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর এজেন্ট না থাকলেও নির্বাচন বৈধ বলে গণ্য হবে। নির্বাচনী প্রতীকেও পরিবর্তন আনছে নির্বাচন কমিশন।  

ইউপি নির্বাচন আগামী বছরের ৬ জুনের আগে শেষ করতে হবে: ইসি সানাউল্লাহ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর নির্দিষ্ট সময় এখনো চূড়ান্ত করেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে দুপুর আড়াইটায় বৈঠকটি শুরু হয়।ইসি সানাউল্লাহ জানান, বিভিন্ন পরীক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। একই কারণে ভোটের ধাপও কমানো হতে পারে।তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীদের যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় ওই সময়ে ভোট আয়োজন নিয়ে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও তখন রমজান মাস থাকছে।নির্বাচন কমিশনার জানান, এ বিষয়ে কমিশন আরও কয়েক দফা আলোচনা করবে। এরপর কমিশনের সভায় ভোটের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে। যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি জানানো হবে।এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

খালেদা জিয়ার পাঠানো শুভেচ্ছা চিঠিটি আজও পরম যত্নে রেখেছেন ছাইফুল্লাহ

খালেদা জিয়ার পাঠানো শুভেচ্ছা চিঠিটি আজও পরম যত্নে রেখেছেন ছাইফুল্লাহ

একটি চিঠি সময়ের সঙ্গে কেবল পুরোনো কাগজ হয়ে যায় না, কখনো কখনো সেটিই হয়ে ওঠে জীবনের মূল্যবান স্মৃতি। তেমনই একটি চিঠি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যত্ন করে রেখে দিয়েছেন কক্সবাজারের চকরিয়ার মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ্। ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর করা ওই চিঠি তিনি পেয়েছিলেন ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জনের পর। ২০০৪ সালের ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিটির সঙ্গে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে ছাইফুল্লাহকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল দুটি বই। চিঠিতে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলা হয়েছিল, ‘তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ।’ পাশাপাশি পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হয়ে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছিল। চিঠির শেষাংশে নিজের পরিচয় দিতে খালেদা জিয়া লিখেছিলেন—‘তোমাদের আপনজন।’ এই একটি বাক্যই শিশুমনে গভীর ছাপ ফেলেছিল বলে জানান ছাইফুল্লাহ। ২২ বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিঠিটির ছবি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, সেই সময় থেকেই বেগম জিয়া তার কাছে একান্ত কাছের একজন হয়ে ওঠেন। বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি স্থানীয় পত্রিকায় সাংবাদিকতা করা ছাইফুল্লাহ জানান, চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি বৃত্তি পরীক্ষায় জেলা পর্যায়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিলেন। তাদের ব্যাচে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেড মিলিয়ে মোট ১৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছিল। সেই সময় জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ছিল শিক্ষার্থীদের কাছে বিশেষ মর্যাদার বিষয়। বৃত্তিপ্রাপ্তদের নিয়ে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনন্দের পাশাপাশি সংবাদপত্রেও তাদের নিয়ে খবর প্রকাশিত হতো বলে স্মৃতিচারণ করেন তিনি। ছাইফুল্লাহ বলেন, একদিন ক্লাস চলার সময় তৎকালীন প্রধান শিক্ষক প্রয়াত নুরুল কবির এসে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অফিসে যেতে বলেন। সেখানে প্যাকেটভর্তি উপহার দেখে তারা জানতে পারেন, এগুলো প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্যাকেট খুলে বইয়ের সঙ্গে খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর করা চিঠি দেখতে পেয়ে তিনি ও সহপাঠীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন। চিঠিতে নিজের নামের নিচে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর দেখার সেই মুহূর্ত আজও তার মনে গেঁথে আছে। ছাইফুল্লাহর কাছে সংরক্ষিত চিঠিটি এখন তার শৈশবের একটি বিশেষ স্মারক। তার মতে, একজন শিশুর সাফল্যকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার সেই উদ্যোগ তাকে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতেও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৯ মিনিট আগে
সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বজায় থাকবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বজায় থাকবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে কোনো ধরনের দুর্নীতিবাজ চক্র, অসাধু গোষ্ঠী বা অনৈতিক সিন্ডিকেট গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের হলিডে ইন হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত দুই দিনব্যাপী উচ্চতর নৈতিকতা প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।‘স্ট্রেনদেনিং দ্য প্রিন্সিপালস অ্যান্ড প্র্যাকটিসেস অব প্রসিকিউটোরিয়াল এথিক্স ফর দ্য অ্যাটর্নি জেনারেলস অফিস অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণে রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের পেশাগত নৈতিকতা ও দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা অর্থপাচারের মতো অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইন কর্মকর্তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে কাজ করার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।রুহুল কুদ্দুস কাজল আরও বলেন, রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব কেবল আদালতে মামলা জেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আদালতকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করাও তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে এই প্রথম অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে কর্মরত আইন কর্মকর্তাদের জন্য প্রসিকিউটোরিয়াল এথিকস বা পেশাগত নৈতিকতা বিষয়ে এ ধরনের উচ্চতর প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। দুই দিনের এই প্রশিক্ষণে কার্যালয়ের ১৬০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অংশ নিচ্ছেন।

৫৯ মিনিট আগে
স্বর্ণের দুল নিয়ে বিরোধ, সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বার গর্ভের সন্তান মৃত্যুর অভিযোগ

স্বর্ণের দুল নিয়ে বিরোধ, সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বার গর্ভের সন্তান মৃত্যুর অভিযোগ

ভোলার চরফ্যাশনে স্বর্ণের কানের দুলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার গর্ভের সন্তান মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের আরও চারজন আহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার নজরুল নগর ইউনিয়নের চর নলুয়া গ্রামের আলমগীর বেপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার আবদুল মাঝি ও আলমগীর বেপারীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আবদুল মাঝির স্ত্রী পান্না, ছেলে রাকিব ও হেলালসহ কয়েকজন আলমগীরের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী মাইনুর বেগম এবং দুই মেয়ে বকুল ও জান্নাতকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ।এ সময় তাদের চিৎকার শুনে আলমগীরের আরেক মেয়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাছিমা সেখানে এগিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, তখন রাকিব, পান্না ও হেলাল তাকে পেটে ও পিঠে লাথি এবং কিল-ঘুসি মারেন। একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে নাছিমা অচেতন হয়ে পড়লে হামলাকারীরা চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান।নাছিমাকে উদ্ধার এবং সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে দুই পক্ষের আরও চারজন আহত হন। পরে সবাইকে চরফ্যাশন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাছিমার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গুরুতর আঘাতের পর তার গর্ভের সন্তান মারা যায় বলে জানা গেছে। নাছিমার স্বামী বাচ্চু বলেন, তিনি নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন।চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মাকলুকুর রহমান জানান, মারধরের পর নাছিমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার থ্রেটেন্ড অ্যাবরশন ধরা পড়ে এবং প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়া ও আল্ট্রাসনোগ্রামের প্রতিবেদনে ইনকমপ্লিট অ্যাবরশন শনাক্ত হলে তার ডাইলেশন অ্যান্ড কিউরেটেজ (ডিএন্ডসি) করা হয়।অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাকিব ও আবদুল মাঝির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।দক্ষিণ আইচা থানার ওসি আহসান কবির বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। গর্ভের সন্তান মৃত্যুর অভিযোগটি সংবেদনশীল। তবে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১ ঘন্টা আগে
সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্র সফরটি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়। ফলে ২৪ সেপ্টেম্বর বক্তৃতা দেওয়ার পরদিন, অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর ২১ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফর আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এমনকি নিউইয়র্ক থেকে সান ফ্রান্সিসকো যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল তার। সরকারি সূত্রগুলো জানায়, নিউইয়র্কে সংক্ষিপ্ত সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের তালিকাও ছোট। অতীতের সরকারগুলোর তুলনায় ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সংক্ষিপ্ত সফরের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কৃচ্ছ্রসাধনের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নিউইয়র্কে অবস্থানের সময় জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি বৈঠক, বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে পৃথকভাবে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি বৈঠকের মধ্যে রয়েছে উন্নয়ন, মহামারি প্রতিরোধ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ। পাশাপাশি বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যাসহ একাধিক আলোচনার আয়োজন করছে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে। নিউইয়র্ক থেকে কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্ভাব্য যেসব দেশের নেতাদের বৈঠক হতে পারে, সে তালিকায় রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেঙ্কোভিচ ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সল বিন ফারহান আল সৌদ। এছাড়াও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, বিশ্বব‍্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হবে।  সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী বলে জানা গেছে।  

২ ঘন্টা আগে
ইউপি নির্বাচনে জামানত বাড়ছে পাঁচ গুণ

ইউপি নির্বাচনে জামানত বাড়ছে পাঁচ গুণ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যার আধিক্যে লাগাম টানতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতার শর্তে নানা কঠোর বিধি আরোপ করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত আগের তুলনায় পাঁচ গুণ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়সীমাও বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, নির্বাচনী অপরাধে সাজা বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচন বন্ধ করার ক্ষমতা ইসির হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হচ্ছে না। ফলে আগের মতো যে কেউ ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন। এসব বিধানসহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালার সংশোধনী চূড়ান্ত হয়েছে। ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় পরিবর্তন এনে প্রণীত এই সংশোধনী এরই মধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হয়ে ইসিতে এসেছে। আগামী সপ্তাহে এসআরও নম্বর দেওয়ার জন্য এটি আবারও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে। স্থানীয় সরকারের অন্য চার প্রতিষ্ঠান-উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের আলাদা নির্বাচনী বিধিমালাও আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। জামানত বাড়ছে পাঁচ গুণ, ব্যয়সীমা দ্বিগুণ সংশোধিত ইউপি নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। সাধারণ আসনের সদস্য (মেম্বার) ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। বর্তমান বিধি অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত বা বাতিল হয়। অন্যদিকে, চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয় ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। ইসি সূত্র বলছে, এবার থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নির্দলীয় ও প্রতীকবিহীন হওয়ায় বিশেষ করে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানেও প্রার্থী সংখ্যা বাড়তে পারে। এতে ব্যালটে প্রার্থী ও প্রতীকের সংখ্যা বেশি রাখতে হবে। এ ছাড়া বেশি সংখ্যক প্রার্থী এবং তাদের এজেন্ট ও কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয়তার কারণে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়ও বেশি বেগ পেতে হবে। ভোট পরিচালনার ব্যয়ও অনেক বেড়ে যাবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা করছে ইসি। এ কারণে নির্বাচনী বিধিমালায় নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। তবে ইসির সংশোধনী অনুযায়ী, প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ বাড়ানোর ফলে নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা অনেক কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে আর্থিক সক্ষমতা তুলনামূলক কম-এমন যোগ্য প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হতে পারে বলেও মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল আলীম সমকালকে বলেন, জামানত বাড়ানো এবং জামানত রক্ষার শর্ত কঠোর করার ফলে প্রার্থী সংখ্যা কমবে, নির্বাচন পরিচালনার ব্যয় কমবে এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে-এটি ঠিক। তবে জামানত বেশি করার ফলে অনেক যোগ্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তির নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আবার জামানত হারানোর ভয়ে অনেকে প্রার্থী হতে চাইবেন না। এতে যেকোনো যোগ্য ব্যক্তির ভোটে দাঁড়ানোর নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘিত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, তবে এই বিধানের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বর্তমানে অনেক প্রার্থী নিজের জয় নিশ্চিত করতে ‘ডামি’ প্রার্থী দিয়ে থাকেন। পরে এসব ডামি প্রার্থীর নামে বাড়তি এজেন্ট নিয়োগ করে তাঁদের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হলে এসব ‘ডামি’ প্রার্থী করা এবং এজেন্ট কেনাবেচার প্রবণতা কমে আসবে। বর্তমান সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবকে সমর্থন করেন আবদুল আলীম। তবে প্রার্থীরা যেন নির্ধারিত নির্বাচনী ব্যয়সীমার মধ্যে থাকেন, তা কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইসিকে নিশ্চিত করতে হবে বলেও তিনি মনে করেন। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ অবশ্য জামানত বেড়ে যাওয়ায় যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার শঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জীবনযাত্রার ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে, ২৫ হাজার টাকা জামানত একজন প্রার্থীর জন্য খুব বেশি হওয়ার কথা নয়। তা ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত আগে থেকেই এই পরিমাণ নির্ধারিত আছে। সেটির সঙ্গে সমন্বয় করতে আমরা ইউপি নির্বাচনে জামানত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছি। সেই সঙ্গে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী ব্যয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালার সংশোধনী আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং হয়ে এসেছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিধিমালাও দ্রুত ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। সংশোধিত ইউপি নির্বাচন বিধিমালায় নির্বাচনী হলফনামায় বেশ কিছু নতুন তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। হলফনামায় নতুন তথ্য যুক্ত করা এবং অসত্য তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। একক প্রার্থী থাকলে আগের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণার বিধান বহাল রাখা হয়েছে। বিধিমালায় নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনরত কোনো ব্যক্তিকে হুমকি, ভয় দেখানো বা আঘাত করলে অথবা ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দিলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ডের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে জরিমানা আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচনী অপরাধের সাজাও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচনী অপরাধে ন্যূনতম ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। অনিয়মের কারণে ভোট বাতিলের ক্ষমতা ইসির হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া ইসির প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর এজেন্ট না থাকলেও নির্বাচন বৈধ বলে গণ্য হবে। নির্বাচনী প্রতীকেও পরিবর্তন আনছে নির্বাচন কমিশন।  

৩ ঘন্টা আগে
ওসি রাকিবুলকে গ্রেপ্তারের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ

ওসি রাকিবুলকে গ্রেপ্তারের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডের ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ন্যাশনাল ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু এ নোটিশ দেন। স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং ডিএমপি কমিশনারকে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।নোটিশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত অডিওটির প্রকৃত উৎস, সত্যতা এবং সেটি সম্পাদনা বা বিকৃত করা হয়েছে কি না তা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অডিওটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে।নোটিশে বলা হয়, তদন্তে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধের আইনগত উপাদান ও প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রাথমিকভাবে এমন অপরাধের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ব্যবস্থাও নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।এ ছাড়া তদন্তের প্রয়োজনে এবং প্রচলিত আইনে তা সমর্থিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জনস্বার্থে যথাসম্ভব স্বচ্ছতা বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।নোটিশদাতা আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু বলেন, প্রচারিত অডিওটির প্রকৃত সত্য বের করতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। তদন্তে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।নোটিশ পাওয়ার পর কী ধরনের আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

১৭ ঘন্টা আগে
এবার কলেজে শিক্ষার্থীর জন্য হাহাকার, যে ১০ কলেজে সর্বোচ্চ আবেদন

এবার কলেজে শিক্ষার্থীর জন্য হাহাকার, যে ১০ কলেজে সর্বোচ্চ আবেদন

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশের পর দেশের অনেক কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সংকটের চিত্র সামনে এসেছে। ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য কোনো আবেদনই জমা পড়েনি। আর আবেদন পাওয়ার পরও ৪১৬টি কলেজ কোনো শিক্ষার্থী বরাদ্দ পায়নি। এর বাইরে প্রায় ৮০০ কলেজ ও মাদ্রাসায় ১ থেকে ১০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে।অন্যদিকে পরিচিত ও জনপ্রিয় কয়েকটি কলেজে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। এসব প্রতিষ্ঠানে আসনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। এবার সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজে। ৯৮১টি আসনের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটিতে আবেদন করেছেন ৩২ হাজার ৬৭৮ জন। আসনসংখ্যা অনুযায়ী ৯৮১ জনকে ভর্তির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবেদন পড়েছে ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে। ২ হাজার ৩৭৯টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছে ৩২ হাজার ৬৪০ জন। আর ঢাকা সিটি কলেজে ৪ হাজার ২৮০টি আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৩১ হাজার ৯৫১টি।আবেদনের দিক থেকে শীর্ষ দশে থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সরকারি বাঙলা কলেজ, বিএএফ শাহীন কলেজ-ঢাকা, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ ও সরকারি তোলারাম কলেজ।এবার সারা দেশে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। তবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার পাসের হার গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম হওয়ায় বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার আশঙ্কা আগেই তৈরি হয়েছিল।দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। তাদের মধ্যে ১১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পৌনে দুই লাখের বেশি একাদশে ভর্তির জন্য আবেদন করেনি।প্রথম ধাপে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩০ জন। এর মধ্যে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জনকে কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। অর্থাৎ আবেদন করেও ১৪ হাজার ৪১৫ জন শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠান পায়নি। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী রয়েছে ২ হাজার ২০৫ জন।শিক্ষার্থী না পাওয়া প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরেপ্রথম ধাপে কোনো আবেদন না পাওয়া ১১টি কলেজের মধ্যে নয়টি বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন। এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে তাদের পাঠদান আগেই বাতিল করা হয়েছে।এদিকে আবেদন করেও কোনো শিক্ষার্থী পায়নি ৪১৬টি প্রতিষ্ঠান। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস মডেল কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ৪৫০টি আসন থাকলেও একটি আসনের জন্যও শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়নি।আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে আসনের তুলনায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা অত্যন্ত কম। যেমন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বরগুনার আমতলীর টিয়াখালী কলেজে ৩০০টি আসনের বিপরীতে একাদশে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে মাত্র চারজন।এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের মতামত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।দ্বিতীয় দফায় আবেদনের সুযোগএসএসসি ও সমমানের ফল, শিক্ষার্থীর পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে এবারও কেন্দ্রীয় অনলাইন প্রক্রিয়ায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়েছে। একজন শিক্ষার্থীকে কমপক্ষে পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়।প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিশ্চায়ন ও মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর ভর্তি কার্যক্রম চলবে। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।যেসব শিক্ষার্থী আবেদন করেও প্রতিষ্ঠান পায়নি কিংবা কোনো কারণে আবেদন করতে পারেনি, তাদের জন্য পরবর্তী সময়ে আবার আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান। প্রথম ধাপের ভর্তি শেষ হয়ে ক্লাস শুরুর পর এ সুযোগ দেওয়া হবে।

১৯ ঘন্টা আগে
ইউপি নির্বাচন আগামী বছরের ৬ জুনের আগে শেষ করতে হবে: ইসি সানাউল্লাহ

ইউপি নির্বাচন আগামী বছরের ৬ জুনের আগে শেষ করতে হবে: ইসি সানাউল্লাহ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর নির্দিষ্ট সময় এখনো চূড়ান্ত করেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে দুপুর আড়াইটায় বৈঠকটি শুরু হয়।ইসি সানাউল্লাহ জানান, বিভিন্ন পরীক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। একই কারণে ভোটের ধাপও কমানো হতে পারে।তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীদের যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় ওই সময়ে ভোট আয়োজন নিয়ে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও তখন রমজান মাস থাকছে।নির্বাচন কমিশনার জানান, এ বিষয়ে কমিশন আরও কয়েক দফা আলোচনা করবে। এরপর কমিশনের সভায় ভোটের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে। যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি জানানো হবে।এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

২০ ঘন্টা আগে
‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে কিছু হবে না’ বলা ওসি প্রত্যাহার

‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে কিছু হবে না’ বলা ওসি প্রত্যাহার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থান করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে রাকিবুল ইসলামের কথোপকথন শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরলেও কোনো সমস্যা হবে না। পাশাপাশি তিনি চলতি মাসেই তার দেশে ফেরার কথা বলেন এবং পুলিশের সক্ষমতা নিয়েও মন্তব্য করেন। কথোপকথনে ‘পুলিশ কিছুই করতে পারবে না’ এমন বক্তব্যও শোনা যায়।গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও গণমাধ্যমে অডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা তৈরি হওয়ার পর ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুল ইসলামকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২১ ঘন্টা আগে
দেশের সন্তানদের ভালো অর্জনকে স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দেশের সন্তানদের ভালো অর্জনকে স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে দেশের জন্য যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য বয়ে আনবে, তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অর্জন শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া হাফেজদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্যও গৌরবের বিষয়।হাফেজদের সম্মাননা ও উৎসাহ দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সন্তানরা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে ভালো কোনো অর্জন করলে সরকার রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেটির স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে। মেধাবীদের উৎসাহ দেওয়া এবং তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা গেলে এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাশাপাশি পুরো দেশ ও দেশের মানুষ পাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।সরকার গঠনের পর থেকেই যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানানোও সেই উদ্যোগের অংশ।অনুষ্ঠানে হাফেজদের শিক্ষকরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভাব্য সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেদের, দেশের এবং দেশের মানুষের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনুক—সরকার সেটিই চায়।দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। কাজের ধরন ভিন্ন হলেও দেশের মানুষের শান্তি ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করাই সবার অভিন্ন লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।সরকারের জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু করার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করতে চায়।অনুষ্ঠানে বিজয়ী হাফেজদের বই উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রতিযোগিতায় যে সূরাগুলো তিলাওয়াত করে তারা পুরস্কার অর্জন করেছেন, সেগুলোর আয়াতও তাদের কণ্ঠে শোনেন তিনি।মক্কায় অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। এতে বাংলাদেশের হাফেজ নূর উদ্দিন জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। একই বিভাগে ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াতে তৃতীয় হন হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী। ১৫ পারা বিভাগে হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান এবং ৩০ পারা বিভাগে হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং মাওলানা রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর ও সাজেদা খাতুনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, গত সাত মাসে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একবারও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, গত সাত মাসে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একবারও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামে আসছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলটির সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা। তাঁদের দাবি, চলতি সেপ্টেম্বরেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।দলীয় নেতাদের ভাষ্য, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা এবং ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের কাঠামো নিয়ে আলোচনার মধ্যেই পুনর্গঠনের উদ্যোগটি নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পুতুলকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আনার বিষয়টি সামনে এসেছে। তাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করার প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন নেতা।এদিকে পুনর্গঠনের বিষয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা ডাকা হয়েছে। প্রথমে নয়াদিল্লিতে নেতাদের সরাসরি উপস্থিতিতে সভা আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। শেষ পর্যন্ত সভাটি ভার্চুয়াল মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পুতুলের পাশাপাশি প্রেসিডিয়ামে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগ থেকে একজন করে নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কাউন্সিল অথবা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দলীয় সভাপতি প্রেসিডিয়াম সদস্য মনোনয়ন দিতে পারেন।তবে শুক্রবারের সভাতেই পুতুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। দলীয় কার্যনির্বাহী কমিটি যদি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শেখ হাসিনাকে দেয়, তাহলে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্য ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে পারেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।এর আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের দিল্লিতে জড়ো করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন নেতা দিল্লিতে পৌঁছেছেন। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির সবাই ভারতে না থাকায় এবং মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আসায় সরাসরি সভার পরিকল্পনা থেকে সরে আসা হয়।দিল্লিতে অবস্থানরত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ও এএফএম বাহাউদ্দিন নাসিমসহ কেন্দ্রীয় কমিটির আরও কয়েকজন নেতা সেখানে রয়েছেন।দলের একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-ভারতের বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় বিবেচনায় দিল্লিতে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য না দেওয়ার জন্য নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা ভারতে চলে যান। সে সময় পুতুলও নয়াদিল্লিতে ছিলেন। তখন তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যদিও বর্তমানে ওই পদে নেই।শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন। তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং দেশে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কীভাবে পরিচালিত হবে এ প্রশ্নও দলের ভেতরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই প্রেক্ষাপটেই পুতুলকে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা।

লিংক কপি করা হয়েছে!

মাতৃত্বের পর ক্যাটরিনাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কটূক্তি, প্রতিবাদে নাদিয়া

২০২৫ সালের নভেম্বরে মা হওয়ার পর দীর্ঘদিন সংবাদমাধ্যম ও পাপারাজ্জিদের থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন বলিউড তারকা ক্যাটরিনা কাইফ। সম্প্রতি স্বামী ভিকি কৌশলের সঙ্গে আম্বানিদের এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে আসেন তিনি। সন্তান জন্মের পর নারীদের শরীরে স্বাভাবিক পরিবর্তন এলেও, ক্যাটরিনার এই পরিবর্তিত অবয়ব ও বাড়তি ওজন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় নেটিজেনদের একশ্রেণির অসংবেদনশীল কটূক্তি।তারকাদের শরীর নিয়ে এই ট্রোলিং ও অসংবেদনশীল মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন জনপ্রিয় বাংলাদেশি অভিনেত্রী সালহা খানম নাদিয়া। নিজেও একজন মা হওয়ায় ক্যাটরিনার এই ছবির সঙ্গে নিজের ছবি জুড়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন ও প্রতিবাদী পোস্ট দেন তিনি।সামাজিক মাধ্যমের ওই দীর্ঘ বার্তায় মাতৃত্বকালীন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাদিয়া লিখেন: “একজন নারী যখন মা হন, তখন শুধু তার জীবনটাই বদলে যায় না, বদলে যায় তার শরীরও। গর্ভধারণ, সন্তান জন্ম দেওয়া, ঘুমহীন রাত, মানসিক চাপ ও হরমোনের পরিবর্তনের ছাপ শরীরে থাকাটাই স্বাভাবিক। নতুন এক জীবনকে পৃথিবীতে আনার সুযোগ সৃষ্টিকর্তার এক অপার আশীর্বাদ।”সামাজিক মাধ্যমের ‘ফিগার সচেতন’ নেটিজেনদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “'আগের ফিগার কোথায়?', 'ওজন এত বাড়ল কেন?'—এ ধরনের সাধারণ মন্তব্যগুলো একজন মায়ের আত্মবিশ্বাস ও নিজের পরিচয়কে ভেঙে দেয়।”নারীদের এই রূপান্তরকে সামাজিক বিচারে না ফেলে ভালোবাসা ও সম্মানের চোখে দেখার আহ্বান জানান নাদিয়া।সন্তান জন্মের পর এটিই ছিল প্রকাশ্যে ক্যাটরিনা কাইফের প্রথম উপস্থিতি। অনুষ্ঠানে হাসিমুখে পাপারাজ্জিদের ক্যামেরায় পোজ দিলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ফিগার ও চেহারার পরিবর্তন নিয়ে চর্চা শুরু হলে বিনোদন জগতের অনেক তারকা ও সাধারণ ভক্তরাও ক্যাটরিনা ও নাদিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে এই মানসিকতার নিন্দা জানান।

গাটি কচু দিয়ে ইলিশের ঝোল

আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ। আমরা ইলিশ দিয়ে নানা পদই তো আমরা রান্না করি। এবার রেঁধে দেখুন ইলিশের মজাদার ঝোল। গাটি কচু ৩০০ গ্রাম, বেগুন ২০০ গ্রাম, ইলিশ মাছ ৪ টুকরা, পেঁয়াজকুচি ২ টেবিল চামচ, সরিষার তেল ৪ টেবিল চামচ, হলুদ, মরিচ ও ধনেগুঁড়া এক চা-চামচ করে, কাঁচা মরিচ ফালি ৫ থেকে ৬টি, ধনেপাতাকুচি ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো। গাটি কচু ও বেগুন কেটে আলাদা করে ধুয়ে রাখুন। ইলিশ মাছ কেটে ধুয়ে লবণ মাখিয়ে রাখুন। কড়াইতে সরিষার তেল গরম হলে পেঁয়াজকুচি দিয়ে সামান্য ভেজে অল্প পানি দিন। এবার হলুদ, মরিচ, ধনেগুঁড়া এবং লবণ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। পরে গাটি কচু দিয়ে আরও পাঁচ ছয় মিনিট কষিয়ে নিন। তারপর বেগুন দিয়ে আবার কষান। কষানো হলে ঝোলের পানি দিন অল্প পরিমাণে। ফুটে উঠলে কাঁচা ইলিশ মাছ দিয়ে কাঁচা মরিচ ফালি দিয়ে কড়াইতে ঢাকনা দিয়ে রান্না করুন ৫ থেকে ৬ মিনিট। শেষে ধনেপাতা ছড়িয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন।

ফেনসিডিল মামলায় শার্শার পাকশিয়ার স্বামী-স্ত্রীর যাবজ্জীবন

ফেনসিডিল মামলায় শার্শার পাকশিয়ার স্বামী-স্ত্রীর যাবজ্জীবন

যশোরে শার্শা উপজেলায় ফেনসিডিলের মামলায় পাকশিয়া শিমুলতলা গ্রামের স্বামী-স্ত্রীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন যশোরের একটি আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো বাবু মিয়া ও তার স্ত্রী রেখা খাতুন।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) যশোরের বিশেষ দায়রা (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক এস এম নূরুল ইসলাম এ রায়ে এ সাজা দিয়েছেন। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় শার্শার পাকশিয়া এলাকায় টহল ডিউটিতে থাকা বিজিবি সদস্যরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারেন, পাকশিয়া শিমুলতলা গ্রামের বাবু মিয়ার বাড়িতে ফেনসিডিল মজুদ রয়েছে। পরে বিজিবি সদস্যরা ওই বাড়ির কাছে গেলে বাবু মিয়া ও তার স্ত্রী রেখা খাতুন বাড়ির পেছন দিয়ে পালিয়ে যান। এ সময় বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উঠানের চুলার ভেতর একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ৯৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় বিজিবির সুবেদার মো. আব্দুস সালাম বাদী হয়ে শার্শা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত দুজনই কারাগারে আটক আছে।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream