বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল, নিখোঁজ অন্তত ৩০০ ভারতীয়

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ হওয়া হাজার হাজার মানুষের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক অন্তত ৩০০ জন রয়েছেন। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিখোঁজ এই ভারতীয়দের বেশিরভাগই মানসরোবর যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ‘এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড অন্বেষা সামিট’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় জানান, রসুয়া অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একের পর এক শহর ধুয়েমুছে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শিশির খানাল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া অঞ্চলটি মানসরোবর যাত্রার পথ হওয়ায় সেখানে ভারতীয়সহ অনেক বিদেশি নাগরিক অবস্থান করছিলেন। নিখোঁজ ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বিদেশি নাগরিকদের সুরক্ষায় বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। হিমালয়কন্যা নেপালে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ এই দুর্যোগে তাৎক্ষণিক ত্রাণ পাঠানোয় ভারত সরকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নেপালি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে উদ্ধার এবং জরুরি ত্রাণ সরবরাহের ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি

চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাড: ৯৫ জনের মৃত্যু

 তিব্বত-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) এ পর্যন্ত অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিব্বতের জিরোং পোর্ট থেকে শুরু হওয়া এই পাহাড়ি ঢল মুহূর্তের মধ্যে নেপালের রাসুয়া জেলায় প্রবেশ করে ভোট কোশী নদী বরাবর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এতে নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় ৪০০ মানুষ, যার মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক ও ৩৭ জন অনিবাসী ভারতীয় (এনআরআই) রয়েছেন।জিরোং পোর্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পাহাড়ের ওপর থেকে আসা কাদা, পাথর ও প্রকাণ্ড ধ্বংসাবশেষসহ ঢলের প্রবল স্রোত মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো সীমান্ত এলাকা ও একটি পার্কিং লট ভাসিয়ে নিয়ে যায়। হঠাৎ আসা এই পাহাড়ি ঢল থেকে বাঁচতে মানুষ আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি শুরু করলেও মুহূর্তের মধ্যে তা সীমান্ত এলাকাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে।নেপাল ট্রাভেল বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা কবলিত এলাকা থেকে ২৯১ জন বিদেশী এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিকসহ মোট ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ভারতীয়দের মধ্যে অন্তত ৫৯ জন কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রার পুণ্যার্থী ছিলেন।উদ্ধার অভিযান ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি:নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হেলিকপ্টার এবং উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।দক্ষিণ এশিয়ায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বর্ষা মৌসুমে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হলেও এবারের এই আকস্মিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহত বেড়ে ৫৫, ৩৮৪ পর্যটক নিখোঁজ

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে সংঘটিত ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আরও ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।বুধবার (২৬ আগস্ট) নেমে আসা এ বন্যায় নেপালের রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। পানির প্রবল স্রোতে রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বহু স্থাপনা ভেসে গেছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটকের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩ জন নেপালি। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় এবং ১২ জন যুক্তরাজ্যের নাগরিক বলে চিহ্নিত করা গেছে।ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভোতেকোশি নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। সীমান্তঘেঁষা তিব্বত অঞ্চল থেকে প্রবল বেগে নেমে আসা পানির ঢল এ বন্যার তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া রসুয়া জেলায় নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ সদস্য এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৭ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার তৎপরতায় নেমেছে নেপাল সেনাবাহিনী। দুর্গত এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টার ও বিশেষ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন একই সাথে উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তের ধারণা অনুযায়ী একটি বরফধসের ফলে লেন্দে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে সৃষ্ট পানির তীব্র চাপের কারণে লেন্দে নদীর উপনদী ভোতেকোশিতে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, নেপাল সীমান্তবর্তী তিব্বত অঞ্চলেও বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে জিরং বন্দর ও শিগাতসে এলাকায় সড়ক যোগাযোগ, টেলিযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল দেশের পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, একটি ভূকম্পনের কারণে পাহাড় বা তুষারধসের সূচনা হতে পারে, যা পরবর্তীতে এই আকস্মিক বন্যার রূপ নেয়। নেপাল ও চীন—উভয় দেশের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, দুর্গম এলাকায় উদ্ধার কাজ অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সেপ্টেম্বরেই মন্ত্রীসভায় ৯ম পে স্কেল, লাখ লাখ সরকারি কর্মচারীর ভাগ্য বদলের বড় বার্তা!

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এখন একেবারে চূড়ান্ত ধাপে। যাবতীয় জটিলতা দ্রুত নিস্পত্তি করে আগামী সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই বহুল কাঙ্ক্ষিত এই গেজেট জারি করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলার জোর প্রস্তুতি চলছে।সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবর মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী হাতে বেতন পেতে পারেন। তবে নতুন এই পে স্কেলের কার্যকারিতা ধরা হবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকেই। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বকেয়া অর্থ পরবর্তীতে পুনর্নির্ধারণ করে সমন্বয় করা হবে।অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির কাজ শেষ হলেই প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পেশ করা হবে এবং চলতি বছরের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সচিব কমিটির চূড়ান্ত বৈঠক শেষে অর্থ বিভাগ প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় পাঠাবে। সেখানে অনুমোদন এবং আইন মন্ত্রণালয়ের আইনি ভেটিং সম্পন্ন হলেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।দেশের সার্বিক আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে এবার পে স্কেল বাস্তবায়নে কিছু কৌশলগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি মিলেছে। এর প্রথম ধাপে শুধু নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে ভাতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা যোগ হবে। এছাড়া জুডিশিয়াল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় রাখতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি তাদের কাজ শেষ করেছে। গেজেট প্রকাশের চূড়ান্ত বার্তা ছড়িয়ে পড়ায় এখন সারা দেশের সরকারি কর্মজীবীদের চোখ সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে।

শিক্ষার উন্নয়ন হলে দেশের সব ক্ষেত্রেই উন্নয়ন হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

শিক্ষার উন্নয়ন হলে দেশের সব ক্ষেত্রেই উন্নয়ন হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

জাহিদুল ইসলাম সখিপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এমপি বলেছেন, জাতির সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নের চেয়েও শিক্ষার উন্নয়ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার মান ভালো হলে দেশের অন্য সব ক্ষেত্রেও উন্নয়ন করা সম্ভব।তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নিজেদের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষকদের আগে নিজে পড়াশোনা ও জ্ঞানচর্চা করতে হবে, এরপর শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মেধার চর্চা করতে হবে।মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৮ বছরে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ও অন্যান্য খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার এসব খাত আবার ভালো অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়েও সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সোমবার (২৫ আগস্ট) টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলা হলরুমে শিক্ষার মানোন্নয়নে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এবং সখিপুর পিএম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামীম আল মামুন জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম মাস্টার, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন মাস্টার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. কবির হাসান ও প্রধান শিক্ষক কাইয়ুম হোসাইনসহ অন্যরা।অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

১৩ ঘন্টা আগে
মহানবীর আদর্শে শান্তি-সম্প্রীতির সমাজ গড়ার আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর

মহানবীর আদর্শে শান্তি-সম্প্রীতির সমাজ গড়ার আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নরসিংদীর পলাশে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে শান্তি, ন্যায়, মানবিকতা ও সম্প্রীতিনির্ভর সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।নিজ সংসদীয় আসন পলাশ সফরের শুরুতে মন্ত্রী তাঁর প্রয়াত পিতা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল মোমেন খান এবং মাতা খোরশেদা বেগমের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন। বিশেষ মোনাজাতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত, প্রয়াত খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয়। পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য দোয়া করা হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপসচিব আব্দুল ওয়াহাব রাশেদ, এলজিইডি নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফুলকাম বাদশা, নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার, পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।পরে মন্ত্রী পলাশ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। পলাশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুস সালাম মোল্লার সভাপতিত্বে এবং ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আলম মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় ড. আবদুল মঈন খান বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। তাঁর শিক্ষা ছিল শান্তি, ন্যায়, মানবিকতা ও সম্প্রীতির শিক্ষা।তিনি বলেন, বিভেদ ও বিদ্বেষ পরিহার করে মহানবীর আদর্শকে ধারণ করতে হবে। তাঁর দেখানো পথে চলার মধ্য দিয়েই একটি মানবিক, শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।রাজনৈতিক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি বিজয়ী হয়েছিল। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই গৌরব পুনরুদ্ধার হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ড. আবদুল মঈন খান আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশব্যাপী মেধাবীদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন। সেই মন্ত্রিসভায় পলাশের কৃতী সন্তান তাঁর প্রয়াত পিতা ড. আবদুল মোমেন খান স্থান পেয়েছিলেন এবং সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হয়ে নরসিংদীর জন্য গৌরব বয়ে এনেছিলেন।অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।পরে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ এবং মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

১৪ ঘন্টা আগে
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এক নারীকে উদ্ধারকারী কনস্টেবল অমিত হাসানকে পুরস্কৃত করলেন এসপি

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এক নারীকে উদ্ধারকারী কনস্টেবল অমিত হাসানকে পুরস্কৃত করলেন এসপি

মুহাম্মদ মহসিন আলী ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিতিতাস নদীতে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ঝাঁপ দেওয়া এক নারীকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করে মানবিকতা ও সাহসিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পুলিশ কনস্টেবল অমিত হাসান। তাঁর অসীম সাহস ও কর্তব্যনিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে পুরস্কৃত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ্ মোঃ আব্দুর রউফ।বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কনস্টেবল অমিত হাসানের হাতে ‘সার্টিফিকেট অব অ্যাপ্রেসিয়েশন’ ও অর্থ পুরস্কার তুলে দেন পুলিশ সুপার শাহ্ মোঃ আব্দুর রউফ।এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে শহরের শিমরাইলকান্দি এলাকার সেতু থেকে এক নারী তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেন। মুহূর্তের মধ্যেই বিষয়টি নজরে আসে পুলিশ কনস্টেবল অমিত হাসানের। নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে ওই নারীকে উদ্ধার করেন। পরে নৌকার সহায়তায় তাঁকে নদীর তীরে তুলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।পুলিশের দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়—বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানোও পুলিশ সদস্যদের মানবিক দায়িত্ব, অমিত হাসানের এই সাহসী উদ্যোগ তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া অমিত হাসানের এই সাহসিকতা প্রশংসিত হয়েছে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন মহলে। তাঁর এমন মানবিক ও সাহসী ভূমিকা বাংলাদেশ পুলিশের সেবার আদর্শকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

১৪ ঘন্টা আগে
বৈধপথে বিদেশ গেলে রাষ্ট্র পাশে থাকবে, অবৈধদের দায়িত্ব নেবে না: সুনামগঞ্জে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

বৈধপথে বিদেশ গেলে রাষ্ট্র পাশে থাকবে, অবৈধদের দায়িত্ব নেবে না: সুনামগঞ্জে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন অন্যায় নয়, তবে অবৈধ পথে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে সাগর পাড়ি দেওয়া স্পষ্ট অন্যায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বৈধপথে বিদেশে গিয়ে কোন সমস্যায় পড়লে রাষ্ট্র সবসময় পাশে দাঁড়াবে, কিন্তু অবৈধপথে গমনে বিপদে পড়লে রাষ্ট্র তার দায় নেবে না।মঙ্গলবার বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত 'নিরাপদ অভিবাসন ও অবৈধ পথে বিদেশ গমন প্রতিরোধ' শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।সম্প্রতি সুনামগঞ্জের তিনটি উপজেলার আটজন যুবক অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে ট্রলারে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিস যাওয়ার ঘটনায় গভীর অনুশোচনা ও দুঃখ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। আগামীতে দালালের খপ্পরে পড়ে কোনো যুবক যেন এমন জীবনের ঝুঁকি না নেন, সেজন্য আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী আরও আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং তারা বাংলাদেশ থেকে বৈধ উপায়ে নতুন শ্রমিক নিতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব মো. মোখতার আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন মিলন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. জিললুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী ও পুলিশ সুপার এবিএম জারিক হোসেন।সভা শেষে সন্ধ্যায় জেলা বিএনপি এবং যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পৃথক এক সৌজন্য ও সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী।

১৪ ঘন্টা আগে
সেপ্টেম্বরেই মন্ত্রীসভায় ৯ম পে স্কেল, লাখ লাখ সরকারি কর্মচারীর ভাগ্য বদলের বড় বার্তা!

সেপ্টেম্বরেই মন্ত্রীসভায় ৯ম পে স্কেল, লাখ লাখ সরকারি কর্মচারীর ভাগ্য বদলের বড় বার্তা!

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এখন একেবারে চূড়ান্ত ধাপে। যাবতীয় জটিলতা দ্রুত নিস্পত্তি করে আগামী সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই বহুল কাঙ্ক্ষিত এই গেজেট জারি করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলার জোর প্রস্তুতি চলছে।সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবর মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী হাতে বেতন পেতে পারেন। তবে নতুন এই পে স্কেলের কার্যকারিতা ধরা হবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকেই। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বকেয়া অর্থ পরবর্তীতে পুনর্নির্ধারণ করে সমন্বয় করা হবে।অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির কাজ শেষ হলেই প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পেশ করা হবে এবং চলতি বছরের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সচিব কমিটির চূড়ান্ত বৈঠক শেষে অর্থ বিভাগ প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় পাঠাবে। সেখানে অনুমোদন এবং আইন মন্ত্রণালয়ের আইনি ভেটিং সম্পন্ন হলেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।দেশের সার্বিক আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে এবার পে স্কেল বাস্তবায়নে কিছু কৌশলগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি মিলেছে। এর প্রথম ধাপে শুধু নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে ভাতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা যোগ হবে। এছাড়া জুডিশিয়াল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় রাখতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি তাদের কাজ শেষ করেছে। গেজেট প্রকাশের চূড়ান্ত বার্তা ছড়িয়ে পড়ায় এখন সারা দেশের সরকারি কর্মজীবীদের চোখ সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে।

১৫ ঘন্টা আগে
কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা: প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা: প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

বিরোধী দল কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল ৪টায় নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে গাওছিয়া কমিটি চিলাহাটি শাখার আয়োজনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সারের সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যত সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, বিএনপির আমলে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আমরা আগের ডিলার বাতিল না করে শূন্য পদে ডিলার নিয়োগের দ্বিতীয় পরিপত্র দিয়েছি। তৃতীয় পরিপত্রের সময় বাড়িয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে ইউএনওর মাধ্যমে একজন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে জনগণ সহজেই সার পাবেন।”তিনি বলেন, কেউ যেন বেশি দামে সার বিক্রি করতে না পারে, সে জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “২০২৭ সালে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করবই। এটি আমাদের নির্বাচনী কমিটমেন্ট। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হবে।”তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষ যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কৃষিকাজ, মাছ চাষ ও হাঁস পালন করতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হবে। এর মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যারা আপনাদের জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং ভোট নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তাদের আমির বলেছিলেন - ‘কিসের ফ্যামিলি কার্ড?’ আজ প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে ১০টি উপজেলায় প্রায় ১৪টি ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু করেছেন।”তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকা করা হয়েছে। এ কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচটি ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম তিনটি ক্রাইটেরিয়ার আওতাভুক্ত ব্যক্তিদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিষয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সরকার গঠন করতে পারলে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি।”তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় পানির স্তর প্রতিনিয়ত নিচে নেমে যাচ্ছে। একসময় ২০ থেকে ২৫ ফুট গভীরতায় টিউবওয়েলে পানি পাওয়া গেলেও এখন অনেক জায়গায় ২০০ ফুট গভীরেও পানি পাওয়া যায় না। বরেন্দ্র অঞ্চলের রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোথাও কোথাও ৬০০ থেকে ৭০০ ফুট গভীরেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।বাংলাদেশ-ভারত অভিন্ন নদী প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। কিন্তু এসব নদীর অনেকগুলোই এখন আর স্বাভাবিক প্রবাহে নেই।”তিনি বলেন, কুড়িগ্রামে দেশের সবচেয়ে বেশি- ৫৪টি নদী এবং পঞ্চগড়ে ৫০টি নদী রয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চগড়ের বেশ কয়েকটি নদী এখন আর জীবন্ত নেই।ভারতের উদ্দেশে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ভারত সরকারকে আমি অনুরোধ করব, যদি আমাদের বন্ধু মনে করেন, তাহলে জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যার পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। এতে আমরা মনে করব, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আপনারা আন্তরিক।”তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী দিনে বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের দিন। তাঁর ৬৩ বছরের জীবনে ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনের এমন আদর্শ রেখে গেছেন, যা প্রায় ১ হাজার ৪০০ বছর পরও বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ অনুসরণ করে আসছেন। সামাজিক, পারিবারিক ও আত্মিক জীবনসহ মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা আজও প্রাসঙ্গিক। তিনি মহান আল্লাহর কাছে সবাইকে মহানবী (সা.)-এর দেখানো পথে চলার তাওফিক কামনা করেন।অনুষ্ঠানে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী, ডোমার থানার ওসি মো. হাবিবুল্লাহ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ভোগডাবুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মো. রেয়াজুল ইসলাম কালু, ডিমলা ঠাকুরগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি শাহ মোহাম্মদ ইমরান এবং মদিনাতুন নুর মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক ক্বারি মোহাম্মদ আলামিন ইসলাম আছ ছাদেকীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

১৬ ঘন্টা আগে
সংস্কৃতির মঞ্চে অনিশ্চয়তার ছায়া

সংস্কৃতির মঞ্চে অনিশ্চয়তার ছায়া

একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের স্বাভাবিক চিত্র গান হবে, শিল্পীরা মঞ্চে উঠবেন, দর্শক-শ্রোতা উপভোগ করবেন–এটাই ছিল । বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক সময়ে সেই স্বাভাবিকতার জায়গা দখল করে নিচ্ছে অনিশ্চয়তা। অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে ভাবতে হচ্ছে কেউ আপত্তি তুলবে কিনা, কোনো পক্ষ বিক্ষোভ করবে কিনা, শেষ মুহূর্তে প্রশাসন অনুমতি বাতিল করবে কিনা। বিশেষ করে ‘তৌহিদী জনতা’, ‘ইমাম-ওলামা পরিষদ’ কিংবা ধর্মীয় অনুভূতির কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন আয়োজন বন্ধের দাবি জানানোর ঘটনা সংস্কৃতি অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। কোথাও কনসার্ট বাতিল হচ্ছে, কোথাও বাউলগানের আসর ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, কোথাও সিনেমা প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে শিল্পী ও আয়োজকদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের আতঙ্ক। গত ১৯ আগস্ট কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে ব্যান্ড অ্যাশেজ ও গায়ক নোবেলের কনসার্ট হওয়ার কথা ছিল। স্থানীয় ইমাম-ওলামা পরিষদের আপত্তির পর জেলা প্রশাসন অনুষ্ঠানটির অনুমতি বাতিল করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য ধর্মীয় আপত্তির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও আয়োজক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নিয়ে প্রশ্নের কথাও বলা হয়েছে। এর ঠিক আগের দিন, ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পুলিশের আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এবার কোনো বেসরকারি আয়োজক নয়, পুলিশের নিজস্ব আয়োজনই নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ে। বাউল গান থেকে নৌকাবাইচ নিয়ে আপত্তি কনসার্টের বাইরেও গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরেই নানা চাপের মুখে। সিলেটের বিশ্বনাথে ইব্রাহিম শাহের মাজারসংলগ্ন বাউলগানের আসরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা তার বড় উদাহরণ। বাদ্যযন্ত্র, শব্দযন্ত্র ও চেয়ার ভাঙচুরের পর পণ্ড হয়ে যায় ঐতিহ্যবাহী সেই আয়োজন। নেত্রকোনার মদনেও বাউলগানের একটি আয়োজন বন্ধের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।  দেশের জাতীয় এক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মাসে শুধু ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে অন্তত ১১টি সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধার তথ্য রয়েছে। ধর্মীয় কটূক্তির অভিযোগে বাধার মুখে পড়েছে আরও ৩৬টি আয়োজন। এই বাধার মুখে পড়ার ধারাবাহিকতায় এবার নৌকাবাইচ নিয়েও আপত্তি উঠেছে। সিলেটের বিয়ানীবাজারে ২৮ আগস্টের নির্ধারিত নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একটি পক্ষ। আয়োজনে জুয়া ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।  এদিকে দুই বছর বন্ধ থাকার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকাবাইচ শর্তসাপেক্ষে চালু করার অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। তবে বাইচ আয়োজনে উস্কানিমূলক কোনো কিছু করা যাবে না। বাইচ উপভোগকারীরা তাদের নৌকায় সাউন্ড সিস্টেম চালাতে পারবে না। বাদ্যযন্ত্র চালিয়ে নাচানাচিও করতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।  আপত্তি উঠলেই কেন সব বন্ধ করা হচ্ছে? কনসার্ট, মঞ্চনাটক, বাউল গানের আয়োজন কিংবা নৌকাবাইচ–সবই কেন আপত্তি ওঠামাত্রই স্থগিত করে দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে  উদ্বিগ্ন শিল্পীরা।  নাট্যজন মামুনুর রশীদ বলেন, সংস্কৃতি অঙ্গনের কোনো আয়োজন নিয়ে আপত্তি থাকলে অনুষ্ঠান বন্ধ না করে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। যে কোনো আয়োজন নিয়ে আপত্তি উঠলেই বন্ধ করতে হবে কেন। আমাদের সংস্কৃতিচর্চা তো আবহমানকাল ধরেই চলে আসছে। সেটি কেন এখন বাধার মুখে পড়বে। সংস্কৃতিচর্চা বন্ধ হলে তো দেশের যুবসমাজ বিপথে যাবে। দেশও পিছিয়ে পড়বে।  বরেণ্য নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার বলেন, সংস্কৃতিচর্চায় বাধা আমরা কোনো সময়ই কামনা করি না। এসব বাধা আমাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। আমরা চাই, সবাই যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে নিজ নিজ সংস্কৃতিচর্চা করতে পারে, সে সুযোগ যেন অবারিত থাকে। গেল বছর নানা বাধার মুখে মহানগর নাট্যোৎসব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি সামনে এনে ডিরেক্টরস গিল্ডের সাবেক সভাপতি নির্মাতা অনন্ত হীরা বলেন, আমরা মুক্ত পরিবেশে থিয়েটার করতে অভ্যস্ত। গেল বছর বাধার মুখে আমরা মহানগর নাট্যোৎসব বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলাম। সে সময় সরকারের সাহায্য চেয়েও পাইনি। এ রকম ঘটনা সারাদেশেই ঘটছে। যেখানে কালচারাল অ্যাক্টিভিটিজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেখানে একটি গোষ্ঠী সংস্কৃতিচর্চাকে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে; যা আর বাড়তে দেওয়া ঠিক হবে না। আশা করি, বর্তমান সরকার এর একটা সুন্দর সমাধান দেবে। ব্যান্ডশিল্পী হামিন আহমেদ মনে করেন, কোনো গোষ্ঠী আপত্তি করলেই প্রশাসনের দায়িত্ব অনুষ্ঠান বাতিল করা নয়; বরং শিল্পী, আয়োজক ও দর্শকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করাই প্রশাসনের কাজ।  আসিফ আকবর সরকারের কাছে বিষয়টি দ্রুত পরিষ্কার করার দাবি জানিয়ে বলেন, দেশে গান-বাজনা হবে কিনা, তা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। সংবিধানে নিষেধ থাকলে শিল্পীরা বিদেশ চলে যাবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘যে সরকারই থাকুক, আমার মুখ কখনও বন্ধ হবে না।’ ভয় থেকে আত্মসংকোচন সংস্কৃতির ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত সবসময় হামলা দিয়ে আসে না। অনেক সময় হামলার ভয়ই যথেষ্ট। একজন আয়োজক ভাবেন, অনুষ্ঠান করলে সমস্যা হতে পারে। শিল্পী ভাবেন, দূরের জেলায় গিয়ে মঞ্চে ওঠা নিরাপদ তো? হলমালিক ভাবেন, অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষতির দায় কে নেবে? প্রশাসনও কখনও সংঘাতের আশঙ্কায় পিছু হটে। এভাবেই আত্মসংকোচনের পথে হাঁটছে সংস্কৃতি অঙ্গন। আগামীতে তাই মঞ্চ না ভাঙলেও,  পোস্টার না ছিঁড়লেও অজানা এক আতঙ্কে ক্রমাগত সংকোচন হচ্ছে সংস্কৃতিবিষয়ক আয়োজন।  সংস্কৃতি কারও একার নয় বাংলাদেশের সংস্কৃতি কোনো একক ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয়ের সম্পত্তি নয়। এই ভূখণ্ডের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে বহু শতাব্দীর সামাজিক মেলবন্ধনে। বাউল, ভাটিয়ালি, জারি-সারি, মুর্শিদি, মারফতি, কীর্তন, গম্ভীরা, যাত্রা, পালাগান, কবিগান–সব মিলিয়েই বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয়। ইউনেস্কো ২০০৮ সালে বাংলাদেশের বাউলগানকে মানবজাতির অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। অথচ সেই বাউলগানের আসরেই যদি শিল্পীকে ভয় নিয়ে গান গাইতে হয়, সেটি শুধু একজন শিল্পীর সংকট নয়– বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সংকট। একইভাবে একটি সিনেমা ভালো না লাগলে সেটি না দেখার অধিকার যেমন একজন দর্শকের আছে, তেমনি অন্য একজনের সেই সিনেমা দেখার অধিকারও রয়েছে। কোনো গান পছন্দ না হলে তা না শোনার স্বাধীনতা যেমন আছে, তেমনি অন্যের গান শোনার স্বাধীনতাও থাকতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আসকও বলেছে, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভিন্নমত বা সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে। কিন্তু ভয়ভীতি, জবরদস্তি, প্রচারণা কিংবা বেআইনি চাপ প্রয়োগ করে কোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে সব ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন অক্ষুণ্ন রাখা। মতপার্থক্য থাকতেই পারে। আপত্তিও থাকতে পারে। কিন্তু আইন ভাঙলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া–দুটি এক বিষয় নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হওয়া উচিত আইন মেনে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

১৭ ঘন্টা আগে
২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৫৫০ ডেঙ্গু রোগী, এই মাসে আক্রান্ত ১৬ হাজারের বেশি

২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৫৫০ ডেঙ্গু রোগী, এই মাসে আক্রান্ত ১৬ হাজারের বেশি

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫৫০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তের হাসপাতালে এসব রোগী ভর্তি হন। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ হাজার অতিক্রম করল। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৮৮ জন, যার মধ্যে কেবল আগস্ট মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ৩৪ জন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে মাসভিত্তিক ডেঙ্গু আক্রান্তের চিত্রে ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখা গেছে:জানুয়ারি: ১,০৮১ জনফেব্রুয়ারি: ৪০৯ জনমার্চ: ৩৫৩ জনএপ্রিল: ৬৪০ জনমে: ৭১৪ জনজুন: ২,৯০৭ জনজুলাই: ৯,২০৬ জনআগস্ট (চলতি): ১৬,০০০+ জনআঞ্চলিক ডেঙ্গু পরিস্থিতির চিত্র:২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা গেছে ঢাকার বাইরে। বরিশাল বিভাগে ৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০২ জন, খুলনা বিভাগে ৩৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ জন, রংপুর বিভাগে ৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ৪৯ জন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ৮৪ জন এবং এই দুই সিটির বাইরের জেলাগুলোতে ২১৫ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৬ হাজার ২৭২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৪ হাজার ৩৭৪ জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬২৭ জন।উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুর হিসাব রাখা শুরু করে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সবচেয়োবহ রূপ নেয়, যেখানে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন আক্রান্ত হন এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের প্রাণহানি ঘটে। আর গত বছর ১ লাখ ২ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

১৭ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার বসছে ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

বৃহস্পতিবার বসছে ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসবে। সংসদের এই অধিবেশনটি রাজনৈতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিবেশন চলাকালে সংসদ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

১৯ ঘন্টা আগে
বাঘাবাড়ির ঘি ও বম্বে সুইটসের ৫ মসলাসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

বাঘাবাড়ির ঘি ও বম্বে সুইটসের ৫ মসলাসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় মানদণ্ড (বিডিএস) পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের পাঁচ ধরনের মসলা এবং বাঘাবাড়িসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ঘি ও বাটার অয়েলসহ মোট ১০টি নিম্নমানের পণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স বাতিলের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।বিএসটিআই ভোক্তাদের এসব পণ্য ক্রয় থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।পরীক্ষায় দেখা যায়, বাঘাবাড়ির ‘ঘি’তে কোনো মিল্কফ্যাট নেই; পাম অলিন ও বনস্পতি দিয়ে তা তৈরি হচ্ছিল। এছাড়া বম্বে সুইটসের মসলাগুলোতে অতিরিক্ত অ্যাশ ও লবণের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।নিষিদ্ধ ও মানহীন পণ্যের তালিকা:বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেড• কারী পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা (ব্যাচ: ১৪১২২৪)• তেহারি মসলা (ব্যাচ: ১৪০২২৬)• কালাভুনা মসলা (ব্যাচ: ২৬০৯২৭)• গরুর মাংসের মসলা (ব্যাচ: এ)• মাছের মসলা (ব্যাচ: এ)ঘি ও বাটার অয়েল• বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানি: ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি (উৎপাদন: ০১.০৭.২০২৬, মেয়াদ: ৩০.০৭.২০২৮)• কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টস: ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি (উৎপাদন: ১৭.০৭.২০২৬, মেয়াদ: ২৪.১২.২০২৭)• মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্ট: ‘নিউ রাঁধুনী’ ব্র্যান্ডের ঘি (উৎপাদন: ১৫.০৪.২০২৫, মেয়াদ: ১৪.০৪.২০২৭)• মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্ট: ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি (উৎপাদন: ১০.০১.২০২৬, মেয়াদ: ১০.১২.২০২৮)• এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস: ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল (ব্যাচ: ০২২০২৬)এসব ঘি ও বাটার অয়েলে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক জানান, ভেজাল রুখতে ও মান নিয়ন্ত্রণে সংস্থার কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।পণ্য ক্রয়ের আগে ক্রেতাসাধারণকে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক। একইসঙ্গে কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত বিএসটিআইকে হটলাইন ১৬১১৯-এ কল করে অথবা dg@bsti.gov.bd-তে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

২০ ঘন্টা আগে
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে মিয়ানমারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে মিয়ানমারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

রাষ্ট্রের অফিসিয়াল পেজে কী প্রচার হবে, ন্যূনতম বোধ থাকা উচিত: সারজিস

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম একটি রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে কী ধরনের বিষয়বস্তু প্রচার করা উচিত, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের ন্যূনতম কাণ্ডজ্ঞান বা সাধারণ বোধ থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের একটি পোস্টের মন্তব্য ঘরে (কমেন্ট সেকশন) এই প্রতিক্রিয়া জানান। মূলত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড পেজটিতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারের প্রচার চালিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয়, প্রতিমন্ত্রী সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছেন এবং সাক্ষাৎকারের ভিডিও লিংকটি প্রথম কমেন্টে যুক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের পেজে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের লিংক প্রচারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সারজিস আলম। ওই পোস্টের মন্তব্যে তিনি লেখেন, ‘একটা দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড পেজ থেকে কী পোস্ট করা উচিত সেই বিষয়ে আপনাদের মিনিমাম কমনসেন্স থাকা দরকার।’ এদিকে সারজিস আলমের এই মন্তব্য এবং তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনার প্রেক্ষাপটে পরবর্তীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ওই নির্দিষ্ট পোস্টটিতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মন্তব্য করার সুযোগ সীমিত করে দেয়।

লিংক কপি করা হয়েছে!
১০ দিন আগে

রাশেদ খান
রাশেদ খান
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী

বাংলাদেশি ছবির শুটিংয়ে নেপালে গিয়ে দুর্যোগে খরাজ-রজতাভ

বাংলাদেশের একটি সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে টালিউডের দুই প্রখ্যাত অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় এবং রজতাভ দত্ত নেপালে প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েছেন।   হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনযায়ী, টালিউডডের এই দুই শিল্পী বাংলাদেশের একটি ছবির শ্যুটিংয়ের কাজে নেপালে গিয়েছেন। অভিনেতা খরাজের সঙ্গে তার স্ত্রী এবং শুটিং দলের অন্যান্য সদস্যরাও সেখানে রয়েছেন।  নেপালের চীন সীমান্ত লাগোয়া রাসুয়া জেলায় হড়পা বানের দাপটে ধূলিসাৎ বিস্তীর্ণ এলাকা। স্বাভাবিকভাবেই যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। অভিনেতার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। খরাজের চিন্তায় উদ্বিগ্ন পরিবার থেকে শুরু করে অনুরাগীর। অভিনেতাদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খরাজ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যে তারা বর্তমানে হোটেলেই অবস্থান করছেন এবং নিরাপদে আছেন। তিনি জানান গত ২০ তারিখ তারা নেপালে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু পৌঁছানোর পর থেকেই প্রবল বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বারবার শুটিং ব্যাহত হয়। অত্যন্ত কষ্ট করে বৃষ্টির মধ্যেই শুটিং শেষ করতে হয়েছে তাদের। খরাজ আরও জানান, দুর্যোগের কারণে কাঠমান্ডু যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সকালের বিমানটি তারা ধরতে পারেননি। ফলে সড়কপথে ভারত সীমানার কাছে গোরক্ষপুর পৌঁছে সেখান থেকে ২৮ তারিখে সরাসরি কলকাতার বিমান ধরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন তারা। তিব্বত থেকে নেমে আসা ভোতে কোশি নদীতে আচমকা জলস্তর মারাত্মক বৃদ্ধি পাওয়ায় তিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি-সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাজার, রাস্তা ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বহু পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে শতাধিক ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। আপাতত নেপাল সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধারে নেমেছে এবং দুর্যোগের কবলে থাকা ভারতীয়রা নিরাপদে ফিরে আসার পথ খুঁজছেন। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রসুয়া জেলায় হড়পা বানের ঘটনায় ইতিমধ্যেই অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

অতিরিক্ত সন্দেহ কি সম্পর্ক নষ্ট করছে?

ভালোবাসার সম্পর্কে টুকটাক মান-অভিমান স্বাভাবিক হলেও সঙ্গীর ভালোবাসা বা নিজের অনুভূতি নিয়ে অনবরত দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকা মানসিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। এই ধরনের সংশয় যখন স্থায়ী রূপ নেয় এবং ব্যক্তির স্বাভাবিক চিন্তাভাবনাকে গ্রাস করে ফেলে, তখন তা গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।চিকিৎসকের মতে, এ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই নিজের আবেগ-অনুভূতি নিয়ে দ্বন্দ্বে ভোগেন। মনের ভেতর ‘আমি কি আসলেই তাকে ভালোবাসি?’ বা ‘আমি কি কোনো ভুল সম্পর্কে জড়ালাম?’—এ জাতীয় প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে। কোনো উত্তর পাওয়ার পরও নতুন করে সংশয় মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে তা মানসিক চিন্তার নেতিবাচক চক্রে রূপ নেয়। এ অবস্থায় অনেকেই সঙ্গীর সান্নিধ্যে রোমাঞ্চ কাজ করছে কি না মেপে দেখেন, পুরোনো ছবি দেখে প্রেমের গভীরতা যাচাই করেন কিংবা অন্যদের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের অবাস্তব তুলনা করেন। এতে নিশ্চিন্ত হওয়ার বদলে সন্দেহের পরিধি আরও বৃদ্ধি পায়।এছাড়া সঙ্গীর সামান্য নীরবতা, খুদে বার্তার দেরিতে উত্তর দেওয়া বা প্রশংসায় ঘাটতি দেখলেই অনেকে ধরে নেন ভালোবাসা কমে গেছে। মনের অস্বস্তি কাটাতে অনেকে সঙ্গীর কাছ থেকে বারবার নিশ্চয়তা চান বা বন্ধুদের কাছে মতামত খোঁজেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িকভাবে এটি কিছুটা সান্ত্বনা দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্কের সাবলীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যান্য যুগলদের আনন্দঘন মুহূর্তের প্রদর্শনী দেখে বাস্তব সম্পর্কের তুলনা করাও এই অনিশ্চয়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।তবে ডা. সানজিদা শাহরিয়া স্পষ্ট করেছেন যে সব দ্বিধাই কাল্পনিক নয়। সম্পর্কে স্পষ্ট প্রতারণা, নিয়মিত মিথ্যাচার, অসম্মান বা দায়িত্বহীনতার মতো সুনির্দিষ্ট কারণ থাকলে সেটি যৌক্তিক সমস্যা। কিন্তু কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়া কেবল কাল্পনিক অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সারাক্ষণ সম্পর্কের স্থায়িত্ব যাচাই করার প্রবণতা মানসিক সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।এই নেতিবাচক চিন্তার চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটিক পরামর্শ দিয়েছেন:তাৎক্ষণিক মীমাংসা বন্ধ করা: সন্দেহ মাথায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই সেটির সমাধান বা উত্তর খোঁজার তাগিদ বন্ধ করতে হবে।বাস্তবতার বোধ জাগ্রত করা: অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো চিন্তা মাথায় আসা মানেই তা বাস্তব সত্য নয়—এই বোধ তৈরি করা জরুরি।তুলনা ও নিশ্চয়তা চাওয়া থেকে বিরত থাকা: বারবার নিশ্চয়তা চাওয়া, অনুভূতি পরীক্ষা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে তুলনা করা থেকে ধীরে ধীরে সরে আসতে হবে।পেশাদার পরামর্শ গ্রহণ: সমস্যাটি দৈনন্দিন কাজ ও সম্পর্কের স্বাভাবিকতায় তীব্র ব্যাঘাত ঘটালে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি শতভাগ নিশ্চিত কোনো গাণিতিক সূত্রের ওপর নির্ভর করে না; বরং কিছুটা অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনকে মেনে নিয়ে পরস্পরের পাশে থাকার মধ্যেই সম্পর্কের মূল সৌন্দর্য নিহিত থাকে।

সালথায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পদত্যাগ করা সেই কৃষকলীগ নেতা গ্রেপ্তার

সালথায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পদত্যাগ করা সেই কৃষকলীগ নেতা গ্রেপ্তার

বিধান মন্ডল (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:ফরিদপুরের সালথায় জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় মো. আমিন খন্দকার (৪৫) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা মোন্তারমোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া মো. আমিন খন্দকার উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা গ্রামের মৃত খন্দকার হাসান আলীর ছেলে। তিনি উপজেলা আওয়ামী কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক। তিনি ২০২৬ সালের ১৯শে জানুয়ারি নিজের ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে কৃষকলীগ নেতা আমিন খন্দকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত সোমবার বিকেলে সোনাপুর ইউনিয়নের বড় বাংরাইল গ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি ছিলেন তিনি। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।উল্লেখ্য, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বড় বাংরাইল এলাকার মনির বিশ্বাস সঙ্গে মিশরু মিয়ার বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার বিকেলে উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও পাল্টাপাল্টি হামলা করা হয়। এ সময় বেশ কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী ধরে চলে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ।সংঘর্ষের পর পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে উভয়পক্ষের অন্তত ৮টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত ৬ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream