শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

সৌদিতে নিহত শাহেদের মরদেহ গ্রহণ করলেন শামা ওবায়েদ

সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি শ্রমিক মো. শাহেদ আহম্মەদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে মরদেহ বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানব্দরে মরদেহের কফিন গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোট ১৩ জন নিহত হন, যার মধ্যে দুজন বাংলাদেশি ছিলেন। শাহেদ আহম্মেদ ছাড়া নিহত অপর বাংলাদেশি হলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের ওমরাহ ভিসাধারী মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। ওই ভয়াবহ হামলায় আরও ২৭ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছিলেন।বিমানবন্দরে শাহেদের মরদেহ হস্তান্তরের সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারকে তাৎক্ষণিক আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়:লাশ দাফন ও যাতায়াত খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।শাহেদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘সা’দ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানি’র কাছে পাওনা বকেয়া বেতন ও সার্ভিস বেনিফিট বাবদ প্রায় ৯ লাখ টাকা রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। অতি শিগগিরই ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে এ অর্থ তাঁর পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।নিহত কর্মীর বিএমইটি (BMET) কার্ড বা বৈধ কাগজপত্র থাকায় পরবর্তীতে কল্যাণ বোর্ডের আইন অনুযায়ী আরও ৩ লাখ টাকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বীমা সুবিধা থাকলে তাঁর পরিবার অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবারও কমলো স্বর্ণের দাম

স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমায় দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভালো মানের (২২ ক্যারেট) স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে।শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) সকালে বাজুসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একই দিন সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে নতুন এই দর কার্যকর করা হয়েছে।স্বর্ণের ক্যাটাগরি অনুযায়ী নতুন মূল্য তালিকা (ভ্যাটসহ):ক্যারেট/ক্যাটাগরিপ্রতি ভরির (১১.৬৬৪ গ্রাম) নতুন দাম২২ ক্যারেট২,২৪,১৮২ টাকা২১ ক্যারেট২,১৪,০৯৩ টাকা১৮ ক্যারেট১,৮৩,৮৮৩ টাকাসনাতন পদ্ধতি১,৫০,২৩২ টাকাবিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে খাঁটি বা তেজাবি স্বর্ণের দাম হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হলো।

আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সরকারি সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে এ সফরে ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে টোকিওতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে ঢাকায় ফেরার নির্দেশ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সফরের কূটনৈতিক কার্যক্রম ও সার্বিক তদারকির বিশেষ দায়িত্বে ইতোমধ্যে টোকিও পৌঁছেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি) মো. নজরুল ইসলাম।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেয়ে রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী গত এক সপ্তাহ ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের সফরের ঠিক আগমুহূর্তে কোনো দেশে নিযুক্ত স্বাগতিক রাষ্ট্রদূতকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনা কূটনৈতিক শিষ্টাচারে অত্যন্ত বিরল। ১৫তম বিসিএস ক্যাডারের এই কর্মকর্তা রোমানিয়ায় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনের পর জাপানে নিযুক্ত হন। আগামী ৭ ডিসেম্বর তাঁর অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা রয়েছে।রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিতিতে বুধবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) টোকিও পৌঁছান সচিব মো. নজরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করে দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি ও প্রস্তুতির মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবেন।জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ সফরে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হতে পারে। আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়ন এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার। জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করা।কৃষি, মৎস্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল, পরিবেশ সংরক্ষণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল রূপান্তর।বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব (Strategic Partnership) আরও গভীর করা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর এ সফর অত্যন্ত সময়োপযোগী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সাজেকে সড়ক অবরোধ ঘিরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও গোলাগুলি

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের উজোবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব জানান, একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি হয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তবে সাজেকে অবস্থান করা পর্যটকেরা নিরাপদে এলাকা ছেড়েছেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাজেক সড়কে অবরোধের কারণে আটকে পড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়িতে নিয়ে যেতে ব্যারিকেড সরানোর উদ্যোগ নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় অবরোধকারীরা বাধা দেন। একপর্যায়ে বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর গুলি ছোড়ার অভিযোগ ওঠে অবরোধকারীদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান।সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাজেক থেকে ফিরতে থাকা পর্যটকেরা সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় নিরাপদে খাগড়াছড়ির কাছাকাছি পৌঁছেছেন। সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় প্রায় তিন হাজার পর্যটক সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পর্যটকবাহী গাড়িগুলো উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়ে। এ নিয়ে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক দুই সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) বিরোধের জেরে সাজেক সড়কে অবরোধের ডাক দিয়েছে ইউপিডিএফ-সমর্থিত সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।এদিকে জেএসএসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংগঠনটির রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি গঙ্গামানিক চাকমা। তিনি বলেন, ‘এসব ইউপিডিএফের ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার। দীর্ঘদিন ধরে সাজেকে ইউপিডিএফ যে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও জনগণের ওপর শোষণ-পীড়ন চালাচ্ছে, সেখান থেকে নজর সরাতেই তারা এ কাজ করছে।’রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় সংবাদ সম্মেলন করে সাজেকের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

সৌদিতে নিহত শাহেদের মরদেহ গ্রহণ করলেন শামা ওবায়েদ

সৌদিতে নিহত শাহেদের মরদেহ গ্রহণ করলেন শামা ওবায়েদ

সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি শ্রমিক মো. শাহেদ আহম্মەদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে মরদেহ বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানব্দরে মরদেহের কফিন গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোট ১৩ জন নিহত হন, যার মধ্যে দুজন বাংলাদেশি ছিলেন। শাহেদ আহম্মেদ ছাড়া নিহত অপর বাংলাদেশি হলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের ওমরাহ ভিসাধারী মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। ওই ভয়াবহ হামলায় আরও ২৭ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছিলেন।বিমানবন্দরে শাহেদের মরদেহ হস্তান্তরের সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারকে তাৎক্ষণিক আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়:লাশ দাফন ও যাতায়াত খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।শাহেদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘সা’দ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানি’র কাছে পাওনা বকেয়া বেতন ও সার্ভিস বেনিফিট বাবদ প্রায় ৯ লাখ টাকা রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। অতি শিগগিরই ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে এ অর্থ তাঁর পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।নিহত কর্মীর বিএমইটি (BMET) কার্ড বা বৈধ কাগজপত্র থাকায় পরবর্তীতে কল্যাণ বোর্ডের আইন অনুযায়ী আরও ৩ লাখ টাকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বীমা সুবিধা থাকলে তাঁর পরিবার অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

১ ঘন্টা আগে
সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদেশি আহত

সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদেশি আহত

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি কোম্পানি আরামকোর তেল শোধনাগারে পৃথক জোড়া হামলায় ৪ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) এবং ইয়েমেনের সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ২ জন নিহত ও ৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১ জন সৌদি নাগরিক, ২ জন ভারতীয়, ২ জন ইয়েমেনি, ২ জন বাংলাদেশি এবং ১ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন।একই সময়ে অপর এক পৃথক হামলায় আরও ২ জন নিহত ও ২ জন আহত হন বলে জানা গেছে।ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি সমর্থিত সরকারের চলমান সংঘাতের জেরে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চলতি অক্টোবর মাসের শুরু থেকে বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর অবকাঠামোয় হুথি হামলায় অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয় যে, বিমানবন্দর হামলায় দুই বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাঁরা বর্তমানে দাম্মামের ‘সৌদি-জার্মান হাসপাতালে’ চিকিৎসাধীন।আহত দুই প্রবাসীর পরিচয়:১. সজল চন্দ্র দাস: পিতা—অনুকূল চন্দ্র দাস, সাং—রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন, থানা—বাঙ্গরাবাজার, জেলা—কুমিল্লা।২. মোহাম্মদ আবদুর রহিম: পিতা—সিরাজুল হক, সাং—দিনমনিরহাট, থানা—সদর, জেলা—নোয়াখালী।প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় সৃষ্টি হওয়া ধোঁয়া ও অতিরিক্ত গরমে তাঁরা সাময়িকভাবে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। তবে তাঁদের শরীরে গুরুতর কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা তদারকি করেছেন এবং আহতদের সঙ্গে কথা বলেছেন। চিকিৎসা শেষে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৭ ঘন্টা আগে
আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সরকারি সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে এ সফরে ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে টোকিওতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে ঢাকায় ফেরার নির্দেশ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সফরের কূটনৈতিক কার্যক্রম ও সার্বিক তদারকির বিশেষ দায়িত্বে ইতোমধ্যে টোকিও পৌঁছেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি) মো. নজরুল ইসলাম।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেয়ে রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী গত এক সপ্তাহ ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের সফরের ঠিক আগমুহূর্তে কোনো দেশে নিযুক্ত স্বাগতিক রাষ্ট্রদূতকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনা কূটনৈতিক শিষ্টাচারে অত্যন্ত বিরল। ১৫তম বিসিএস ক্যাডারের এই কর্মকর্তা রোমানিয়ায় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনের পর জাপানে নিযুক্ত হন। আগামী ৭ ডিসেম্বর তাঁর অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা রয়েছে।রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিতিতে বুধবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) টোকিও পৌঁছান সচিব মো. নজরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করে দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি ও প্রস্তুতির মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবেন।জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ সফরে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হতে পারে। আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়ন এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার। জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করা।কৃষি, মৎস্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল, পরিবেশ সংরক্ষণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল রূপান্তর।বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব (Strategic Partnership) আরও গভীর করা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর এ সফর অত্যন্ত সময়োপযোগী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

১৯ ঘন্টা আগে
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, শেখ হাসিনার ফেরা অনিশ্চিত: স্পিকার

রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, শেখ হাসিনার ফেরা অনিশ্চিত: স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম শেখ হাসিনার আগামী ১০ বছরেও ফেরার সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন । তিনি বলেছেন, আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয় আগামী ১০ বছরেরও শেখ হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা নেই।  বৃহস্পতিবার সকালে ভোলা সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার আরও বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতার সময় এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছিল, তখন সমাজের সৎ, ভালো ও নিরপেক্ষ মানুষের পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। নির্বাচনি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন। একজন মানুষ অর্থশালী বা বিত্তবান নয়, কিন্তু তার জনপ্রিয়তা আছে এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা আছে, তাদেরকে নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া উচিত। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে এমন একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষের নির্বাচন করা সুযোগ হয়।  হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া উচিত এবং প্রয়োজন। গত ১৭ বছর নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তাই আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, ভোলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস আছে। সারাদেশের বর্তমানের রিজার্ভ সমান দেখা যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে আরও গ্যাসের ভান্ডার আছে এখানে। ভোলার সাধারণ মানুষেরও গ্যাস প্রয়োজন। ভোলাবাসী অনেক দিন ধরে কষ্ট করছে। গ্যাস ভোলাবাসীর ন্যায্য অধিকার। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি। এ বিষয়ে আমি জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। এসময় ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২২ অক্টোবর ২০২৬
সৌদিতে ফ্লাইট চালানো নিয়ে সুখবর দিল বিমান

সৌদিতে ফ্লাইট চালানো নিয়ে সুখবর দিল বিমান

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পর সৃষ্ট পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ঢাকা-দাম্মাম রুটে আবারও ফ্লাইট চালু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ঢাকা-রিয়াদ রুটেও একটি ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। এ ছাড়া জেদ্দা ও মদিনা রুটে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার (২১ অক্টোবর) থেকে ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ঢাকা থেকে দাম্মামের উদ্দেশে ফ্লাইট ছেড়ে যাবে। এসব ফ্লাইট পরিচালিত হবে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ দিয়ে।এদিকে, আগামী ২৫ অক্টোবর দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে ঢাকা থেকে রিয়াদের উদ্দেশে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান। সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলাজনিত পরিস্থিতির উন্নতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে রিয়াদ রুটে পরবর্তী ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।রিয়াদগামী যাত্রীদের যাদের টিকিট রয়েছে, তারা চাইলে বিমানের নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করে টিকিট পরিবর্তনের মাধ্যমে দাম্মাম হয়ে সৌদি আরব যেতে পারবেন। তবে এ সুযোগ নির্ভর করবে টিকিট পরিবর্তনের শর্ত ও আসনপ্রাপ্যতার ওপর।জেদ্দা রুটেও ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আগামী ২২ অক্টোবর ঢাকা থেকে জেদ্দার উদ্দেশে দুটি ফ্লাইট ছেড়ে যাবে। এ ছাড়া ২৩, ২৪ ও ২৫ অক্টোবর প্রতিদিন বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।অন্যদিকে, মদিনা রুটে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর থেকে এ রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান। বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ দিয়ে এসব ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ রুটের সময়সূচি অপরিবর্তিত থাকবে।সৌদি আরবের বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালু ও সংখ্যা বাড়ানোর ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। টিকিট পরিবর্তন, আসনপ্রাপ্যতা ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য জানতে যাত্রীদের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

২১ অক্টোবর ২০২৬
২০৩০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধি করা হবে: তিতুমীর

২০৩০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধি করা হবে: তিতুমীর

২০৩০ সালের মধ্যে রাজস্ব আয় ১০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজবাড়ী পৌরসভার মিলনায়তনে জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ক্ষমতাচ্যুত সরকার দেশের ব্যাংকিং খাতের যে পরিস্থিতি রেখে গেছে, তা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে বর্তমান সরকার। একই সঙ্গে দেশ থেকে পাচার হওয়া ৪০ বিলিয়ন ডলার ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ধ কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সামাজিক খাতে সরকারি ব্যয় পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক মনে করে, সরকার অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নির্ধারণ করেছে। এসব সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

২১ অক্টোবর ২০২৬
টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, সন্তানসহ বাবা-মা দগ্ধ

টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, সন্তানসহ বাবা-মা দগ্ধ

গাজীপুরের টঙ্গীর মুদাফা এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। আজ বুধবার সকাল ৬টার দিকে চেরাগ আলী মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ ব্যক্তিদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন মো. লালচান (৬০), তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগম (৫০) ও মেয়ে তানিসা আক্তার (১৬)। দগ্ধ লালচান ও নাসিমাকে জরুরি বিভাগে এবং তানিসাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন সুলতান মাহমুদ শিকদার সাংবাদিকদের জানান, লালচানের শরীরের ৯৫ শতাংশ, তানিসার ৮৬ শতাংশ এবং নাসিমার ৮৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, সকালে নাসিমা রান্না করতে চুলা জ্বালালে ঘরে আগুন ধরে যায়। এ সময় স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের মেয়ে দগ্ধ হন। তাঁরা বর্তমানে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন।

২১ অক্টোবর ২০২৬
ছুটির মধ্যেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাউশির ৪ নির্দেশনা

ছুটির মধ্যেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাউশির ৪ নির্দেশনা

শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি চললেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চারটি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নির্দেশনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার মাউশির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানদের এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. নাজমুল হক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন। এর অংশ হিসেবে তিনি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মিরপুর বাঙলা কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন।এ পরিস্থিতিতে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানিয়েছে মাউশি। ১) প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষ, বারান্দা, ছাদ, শৌচাগার, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ২) কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা পরীক্ষা করে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৩) শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। ৪) প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শৃঙ্খলা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য দেয়া এই নির্দেশনা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টিকে ‘অতিব জরুরি’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

২১ অক্টোবর ২০২৬
রাস্তার পাশের পিঠা-পুরির দোকানেরও নিতে হবে নিবন্ধন

রাস্তার পাশের পিঠা-পুরির দোকানেরও নিতে হবে নিবন্ধন

রাস্তার পাশের পিঠা, পুরি-পিঁয়াজুর দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান ও খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।  আগামী ১ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যাবে। বিধান অনুযায়ী, যেসব ব্যবসার নিবন্ধন বা লাইসেন্স নেয়া বাধ্যতামূলক, সেগুলো প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালনা করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। বুধবার বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ১৬ জুলাই সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এ খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন ও লাইসেন্সের বিষয়ে এসব বিধান রাখা হয়েছে। নতুন প্রবিধানমালার আওতায় খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন, ব্যবসায়িক লাইসেন্স, স্থাপনার লাইসেন্স, খাদ্য উৎপাদন ও আমদানির লাইসেন্স এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত খাদ্যপণ্যের নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রবিধানমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও স্থাপনাকে নিবন্ধন নিতে হবে। এই তালিকায় রয়েছে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং নির্ধারিত খাদ্যপণ্যের আমদানিকারক। পাশাপাশি পাইকারি মুদি ব্যবসা, খাদ্য সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদনসংশ্লিষ্ট নির্ধারিত ব্যবসাও নিবন্ধনের আওতায় আসবে। এমনকি রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজু বিক্রির দোকানও এই বাধ্যবাধকতার বাইরে থাকবে না। শুধু সাধারণ খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধনই নয়, বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য লাইসেন্স নিতে হবে। স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য এই ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিশুদের ফর্মুলা দুধের পাশাপাশি বয়স্ক ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি বিশেষ খাবারের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিধান প্রযোজ্য হবে। বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত বা সংশোধিত খাদ্য, জৈব খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য এবং অভিনব খাদ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান অনুসারে নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে। কোনো খাদ্যপণ্য বাজারজাত করার সময় স্বাস্থ্যগত উপকার বা রোগের ঝুঁকি কমানোর দাবি করা হলে সে ক্ষেত্রে ‘নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন ও দাবি) প্রবিধানমালা, ২০২৫’ অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে।  বিএফএসএ জানিয়েছে, নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে। তবে নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হবে। অন্যদিকে, বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের স্থাপনার লাইসেন্সের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ভিত্তিতে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য লাইসেন্স ফি ১০ হাজার টাকা। আর ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্স নিতে ফি দিতে হবে ৬০ হাজার টাকা। নতুন ব্যবস্থায় খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করার বিধানও রাখা হয়েছে। এর ফলে প্যাকেটে থাকা নম্বরের মাধ্যমে ভোক্তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন। একই সঙ্গে কোনো খাদ্যপণ্য বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অভিযোগ থাকলে নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করেও তা জানানো যাবে। প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন জমা দেয়া যাবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে শতভাগ অনলাইন আবেদন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিএফএসএ বলছে, নির্ধারিত ক্ষেত্রে নিবন্ধন বা লাইসেন্স নেয়া বাধ্যতামূলক হলেও তা ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এ কারণে সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্স নেয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

২১ অক্টোবর ২০২৬
পথের পিঠার দোকান থেকে রেস্তোরাঁ, লাগবে নিবন্ধন

পথের পিঠার দোকান থেকে রেস্তোরাঁ, লাগবে নিবন্ধন

রাস্তার পাশের পিঠা, পুরি-পিঁয়াজুর দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান ও খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান—সব ধরনের নির্ধারিত খাদ্য ব্যবসাকে নিবন্ধনের আওতায় আনছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।আগামী ১ নভেম্বর থেকে এসব খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যাবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বা লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক, সেগুলো প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালনা করলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।বুধবার বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।গত ১৬ জুলাই সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এ এ বিষয়ে বিস্তারিত বিধান রাখা হয়েছে। নতুন প্রবিধানমালায় খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন, ব্যবসায়িক লাইসেন্স, স্থাপনার লাইসেন্স, খাদ্য উৎপাদন ও আমদানির লাইসেন্স এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত খাদ্যপণ্যের নিবন্ধনের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রবিধানমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও স্থাপনাকে নিবন্ধন নিতে হবে। এই তালিকায় রয়েছে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং নির্ধারিত খাদ্যপণ্যের আমদানিকারক। পাশাপাশি পাইকারি মুদি ব্যবসা, খাদ্য সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদনসংশ্লিষ্ট নির্ধারিত ব্যবসাও নিবন্ধনের আওতায় আসবে। এমনকি রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজু বিক্রির দোকানও এই বাধ্যবাধকতার বাইরে থাকবে না। শুধু সাধারণ খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধনই নয়, বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য লাইসেন্স নিতে হবে। স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য এই ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিশুদের ফর্মুলা দুধের পাশাপাশি বয়স্ক ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি বিশেষ খাবারের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিধান প্রযোজ্য হবে। বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত বা সংশোধিত খাদ্য, জৈব খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য এবং অভিনব খাদ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান অনুসারে নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে। কোনো খাদ্যপণ্য বাজারজাত করার সময় স্বাস্থ্যগত উপকার বা রোগের ঝুঁকি কমানোর দাবি করা হলে সে ক্ষেত্রে ‘নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন ও দাবি) প্রবিধানমালা, ২০২৫’ অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে।  বিএফএসএ জানিয়েছে, নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে। তবে নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হবে। অন্যদিকে, বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের স্থাপনার লাইসেন্সের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ভিত্তিতে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য লাইসেন্স ফি ১০ হাজার টাকা। আর ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্স নিতে ফি দিতে হবে ৬০ হাজার টাকা। নতুন ব্যবস্থায় খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করার বিধানও রাখা হয়েছে। এর ফলে প্যাকেটে থাকা নম্বরের মাধ্যমে ভোক্তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন। একই সঙ্গে কোনো খাদ্যপণ্য বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অভিযোগ থাকলে নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করেও তা জানানো যাবে। প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন জমা দেয়া যাবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে শতভাগ অনলাইন আবেদন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিএফএসএ বলছে, নির্ধারিত ক্ষেত্রে নিবন্ধন বা লাইসেন্স নেয়া বাধ্যতামূলক হলেও তা ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এ কারণে সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্স নেয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

২১ অক্টোবর ২০২৬
২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আপনিও কি তাই মনে করেন?

আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আপনিও কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন

নিরাপত্তা না পেয়ে থানায় রুমিন ফারহানা: ওসিকে বললেন, ‘চোর’ ওসি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। দুর্গাপূজায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা না দেওয়া এবং ওসির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে থানায় অবস্থান নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) রাত আটটার দিকে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা শতাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে সরাইল থানায় প্রবেশ করেন এবং রাত ৯টা পর্যন্ত ওসির কক্ষে অবস্থান করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।পূজায় নিরাপত্তা না পাওয়ার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা ওসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি আওয়ামী লীগ চোর ওসি। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি।” এছাড়াও তিনি ওসির বিরুদ্ধে এলাকায় মাটি কাটা, ইটভাটা থেকে মাসোহারা নেওয়া এবং দাঙ্গা দমনে বিলম্ব করার মতো বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “আপনি তো আওয়ামী লীগের লোকজনকে সবসময় শেল্টার দেন, তাদের ধরতে গেলে আপনি নিষেধ করেন। আমার কাছে লিস্ট আছে। আপনি রাজ্জিকে ধরতে নিষেধ করেছেন।” ওসির মন্তব্যের জবাবে রুমিন ফারহানা জানান, রাজ্জি মূলত আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত একজন নেতা।থানায় এমপি-র সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুললে ওসি তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন, উক্ত ব্যক্তিকে শেখানো কথা বলতে থানায় আনা হয়েছে। এছাড়া ইটভাটার চাঁদার অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, এলাকার ইটভাটাগুলো বর্তমানে হাওরের পানির নিচে রয়েছে, ফলে এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।পূজার নিরাপত্তা বিষয়ে রুমিন ফারহানা জানান, নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকা ও তাঁর সুরক্ষায় পুলিশী সহযোগিতা পাওয়া তাঁর অধিকার। ওসির আক্রমণাত্মক আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওসি তাঁকে বলেছেন ‘জনগণই নিরাপত্তা দেবে’।অন্যদিকে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, সমগ্র সরাইলে পূজামণ্ডপগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে সংসদ সদস্যের জন্য পৃথক ব্যক্তিগত পুলিশ টিম বরাদ্দ দেওয়া সেই মুহূর্তে সম্ভব ছিল না। এছাড়া বিপুল সংখ্যক লোক নিয়ে থানায় এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগও করেন তিনি।ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সরাইল উপজেলাজুড়ে চরম উত্তেজনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

লিংক কপি করা হয়েছে!

খ্যাতির শীর্ষে থেকেও যে কারণে ক্যামেরার সামনে থেকে সরে গেলেন শাবানা

চলচ্চিত্রে মাত্র আট বছর বয়সে তাঁর অভিষেক, এরপর তিন যুগ ধরে অভিনয়। একের পর এক উপহার দিয়েছেন দর্শকনন্দিত সব সিনেমা। আর পেয়েছেন হৃদয় উজাড় করা ভালোবাসা। এর মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের অনন্য এক জায়গা তৈরি করেছিলেন। পুরো নাম আফরোজা সুলতানা রত্না হলেও তিনি বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে শাবানা নামেই পরিচিত। অভিনয়জীবনের ব্যস্ত সময়ে হঠাৎ ক্যামেরার সামনে থেকে সরে দাঁড়ান তিনি, পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। ফেলে যান দীর্ঘদিনের কর্মজীবন, সহশিল্পী ও অগণিত ভক্তকে। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই অভিনয়শিল্পী? শাবানার মতে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং মা হিসেবে তাঁদের পাশে থাকার তাগিদ থেকেই অভিনয় ছেড়েছিলেন তিনি।বাবা–মায়ের আফরোজা সুলতানা রত্না, ষাটের দশকের শুরুতে এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। ১৯৬৭ সালে একই পরিচালকের উর্দু ছবি ‘চকোরী’তে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরে একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় এই নায়িকা। এরপর নায়িকা থেকে ভাবি, মা—বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ১১টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং দেশের চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে দেওয়া হয় আজীবন সম্মাননা।শাবানার বাবার নাম ফয়েজ চৌধুরী, যিনি চট্টগ্রাম আদালতপাড়ায় টাইপিস্ট ছিলেন, একটা সময় চলচ্চিত্র পরিচালক আজিজুর রহমানের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় পরিচালনাও করেন। আর মা ফজিলাতুন্নেসা ছিলেন গৃহিণী। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই প্রথম সিনেমায় অভিনয়ে নাম লেখান শাবানা। ‘নতুন সুর’ ছবিতে শাবানা যখন অভিনয় করেন, তখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। পারিবারিক পরিচয়ের সূত্রে শাবানার বাবাকে তখন এহতেশামই বলেছিলেন, ‘তোর মেয়েটাকে আমি একটি ছবিতে নিতে চাই।’ শাবানার বাবা তখন নাকি এভাবেই বলেছিলেন, ‘রত্না (শাবানার ডাক নাম) কীভাবে অভিনয় করবে! সে এত লাজুক, কারও সামনেই আসতে চায় না।’ নাছোড়বান্দা এহতেশাম বলেছিলেন, ‘তোর মেয়েটার মতো একটা মেয়েই আমি খুঁজছি। এরপর শাবানার বাবা রাজি হন।’ ওই ছবির নায়ক-নায়িকা ছিলেন রহমান-রওশান আরা।সেই সময়ের কথা মনে করে শাবানা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘ছবিতে আমার প্রথম দৃশ্য ছিল এমন, খুশিতে আমি দৌড়ে এসে বলব, “ভাইয়া, ভাইয়া, আপুর বিয়ে।” আমাকে জড়িয়ে ভাইয়া বলবে, “তাই নাকি রে!” প্রথমবারে শট ওকে! তার পর থেকে মায়ের চেয়ে বাবাই সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করতেন, অনুপ্রেরণা দিতেন। আমার বাবাও কিন্তু কয়েকটি ছবি পরিচালনা করেছিলেন। “মুক্তি” (১৯৬৯), “মালকাবানু” (১৯৭৪), “বিজয়িনী সোনাভান” (১৯৭৯), “আলতাবানু” (১৯৮২) ও “রাজার মেয়ে বেদিনী” (১৯৯১)। এর মধ্যে তো “মালকাবানু” সুপারহিট। গানগুলো এখনো মানুষ গায়।’বাবা যে রত্নাকে তাঁর জীবনের শুরুতে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে দিতে চাননি, পরে সেই বাবাই হয়ে ওঠেন তাঁর অনুপ্রেরণা। একটা সময় বাবা ফয়েজ চৌধুরী পরিচালিত সিনেমায়ও অভিনয় করেছিলেন শাবানা। এভাবে ধীরে ধীরে শাবানা হয়ে ওঠেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের একটা বড় অধ্যায়। এ অধ্যায়ে তিনি শেষ করেন ২৯৯টি সিনেমার কাজ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন আলমগীরের বিপরীতে। এই নায়কের বিপরীতে তাঁর অভিনীত ছবির সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১৩০। এরপরই যাঁর সঙ্গে জুটি হয়ে বেশি অভিনয় করেছেন, তিনি নায়করাজ রাজ্জাক।জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় অভিনয় ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি শাবানার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। দীর্ঘদিনের পেশা ও চেনা জগৎ ছেড়ে যাওয়ার পেছনে ছিল সন্তানদের নিয়ে তাঁর উদ্বেগ। সন্তানদের ভবিষ্যৎ ঠিকঠাকভাবে করে দিতে চলে যান তিনি। বড় মেয়ে সুমী এ লেভেল শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে ছোট মেয়ে ঊর্মি ও ছেলে নাহিনও সেখানে চলে যান। সন্তানদের কাছ থেকে দূরে থেকে তাঁদের বেড়ে ওঠার সময়টুকু হারাতে চাননি শাবানা।প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে শাবানা বলেন, ‘লাখো-কোটি মানুষের ভালোবাসায় শাবানা হলাম। হঠাৎ মনে হলো, সন্তানদেরও তো সময় দেওয়া দরকার। আমার বড় মেয়ে সুমী তখন এ লেভেল শেষ করল। উচ্চশিক্ষার জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলো। কিছুদিন পর ছোট মেয়ে ঊর্মি আর ছেলে নাহিনও যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেল। ওদের সবার বয়সই–বা তখন আর কত। বাচ্চারা আমাকে খুব মিস করছিল। দেশে যখন ছিল, তখন তো আমার চোখের সামনেই ছিল। কাজের ফাঁকে দেখতাম। তখন আমিও ভাবলাম, মা হিসেবে আমার তো কিছু দায়িত্ব আর কর্তব্য আছে। সন্তানদের যদি ঠিকভাবে গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে আমার এই অভিনয়জীবন দিয়ে কী হবে! তাই কষ্ট হলেও সিনেমা ছেড়ে সন্তানদের ব্যাপারে মনোযোগী হলাম। এ জন্যই বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।’সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে শাবানাকে তাঁর প্রযোজক স্বামী ওয়াহিদ সাদিক বেশ সহযোগিতা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ব্যবসার সুযোগ ছিল। তাই পরিবারের সঙ্গে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন শাবানা।দেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি এই অভিনয়শিল্পীর মতে, ‘সাদিক সাহেবও ওখানে কিছু ব্যবসার ব্যবস্থা করলেন। আমিও দেখলাম, অনেক দিন তো সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে ছিলাম, এবার ঘরের দিকে মনোযোগী হই। তাই চলে গেলাম। তবে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিও কিন্তু আমার কাছে একটা পরিবারের মতো ছিল। সেখানে আমি রাতদিন অবসরবিহীন কাজ করেছি। সহশিল্পী, পরিচালকদের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক গড়ে উঠল। কাউকে ভাই, আবার কাউকে চাচা ডাকতাম। সবাইকে খুব মিস করলেও কিন্তু মানুষের জীবনে একটা সময় আসে, যখন কোনো উপায় থাকে না। জীবনের ধাপে ধাপে কিছু সময় আসে, সে সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব দরকার। সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া, আমি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছি।’সন্তানদের জন্য নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের পর কেটে গেছে বহু বছর। বড় মেয়ে সুমী ইকবাল এমবিএ শেষ করে বিয়ে করেছেন। ছোট মেয়ে ঊর্মি সাদিক হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন। ছেলে নাহিন সাদিক রটগার্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরি করছেন। তিনিও বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন। সন্তানদের পড়াশোনা শেষ করে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখা শাবানার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি।শৈশব থেকেই অভিনয়ে যুক্ত থাকায় নিজের জন্য সময় বের করার সুযোগ খুব কমই পেয়েছিলেন শাবানা। কাজের প্রতি একাগ্রতা ছিল এতটাই যে অভিনয়ের সময় অন্য সবকিছু ভুলে থাকতেন। তবে একটা পর্যায়ে পরিবারকে সময় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এ প্রসঙ্গে শাবানা বলেন, ‘শৈশবে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হই। নিজেকে দেওয়ার মতো সময় পাইনি। কাজ, কাজ আর কাজ। এভাবেই কেটেছে একটানা ৩৫ বছর। পরিবার ও সন্তানদের সময় দেওয়ার ব্যাপারটি আমার কাছে জরুরি হয়ে পড়ে। তাই সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অভিনয়টা ছাড়তে হয়েছে।’অভিনয় ছেড়ে দিলেও দেশের চলচ্চিত্রের খোঁজখবর একেবারে অজানা থাকে না শাবানার। যুক্তরাষ্ট্রে বসে ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে যতটুকু পারেন, খোঁজ রাখেন। ঢাকায় থাকাকালে শাকিব খানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। স্বামী ওয়াহিদ সাদিক একটি ছবি নির্মাণের পরিকল্পনা করায় শাকিবের সঙ্গে তাঁদের বাসায় কথা হয়। শাবানার স্মৃতিতে, শাকিব ছিলেন সুদর্শন, ভদ্র ও অমায়িক।জানা গেছে, কয়েক বছর আগে শাকিব যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালে একবার শাবানার নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে শাবানার সঙ্গে ফোনেও কথা হয় শাকিব খানের। দেশের সিনেমা নিয়ে জানতে চাইলে শাকিব খানের নামই বেশি শোনেন বলে জানান শাবানা। তিনি বলেন, ‘শাকিব তো অনেকটা সময় ধরে কাজ করছে। শুনছি, এখন বেশ ভালো করছে। তার সিনেমা মুক্তি পেলে আমাদের এখানেও চলে। বিশ্বের আরও দেশে শাকিবের সিনেমা মুক্তি পায়; এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের, গর্বের।’বিভিন্ন সময়ে নতুন চলচ্চিত্রে শাবানার ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বেগম রোকেয়ার জীবনীভিত্তিক একটি চলচ্চিত্রে তাঁকে দেখা যেতে পারে বলে শোনা গিয়েছিল। তবে এখন আর অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা নেই তাঁর। বয়স বেড়েছে, জীবনের ব্যস্ততাও বদলেছে। এখন পরিবার, সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নিয়েই তাঁর সময় কাটে। শাবানা বলেন, ‘এই বয়সে আর কীভাবে? এখন তো অনেক বয়স হয়ে গেছে। আল্লাহর নাম নিয়ে পার করে দিচ্ছি সময়। মাঝেমধ্যে কাজের সময়ের স্মৃতি মনে করি। ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনিরা মাঝেমধ্যে আমার ছবি সম্পর্কে নানা কিছু জিজ্ঞাসা করে। আমিও তখন বলি, ওই ছবিটা দেখো। এখন পরিবারটাই আমার জগৎ। এ জগতে আমার অনেক ব্যস্ততা।’

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ৫টি সহজলভ্য খাবার

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, ত্বকের সুস্থতা রক্ষা ও ক্ষত নিরাময়ে ভিটামিন সি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুষ্টি উপাদানটির কথা উঠলেই আমরা সাধারণত কমলার কথা ভাবি। তবে কমলার চেয়েও বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে এমন পাঁচটি পরিচিত ও সহজলভ্য খাবার নিয়ে বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:১. পেয়ারাপেয়ারা ভিটামিন সি-এর অন্যতম সেরা উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারায় কমলার চেয়ে বহুগুণ বেশি ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এতে থাকা ডায়েটারি ফাইবার হজমে সহায়তা করে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।সকালের নাশতায় গোটা পেয়ারা বা টুকরো করে ফ্রুট সালাদে খেতে পারেন। স্বাদের জন্য সামান্য ভাজা জিরার গুঁড়া ছেটাতে পারেন, তবে অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।২. আমলকীআমলকী ভিটামিন সি এবং ভেষজ গুণাবলীতে ভরপুর। এটি সাধারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং পুষ্টিকর খাদ্যতালিকায় একটি আদর্শ সংযোজন।তাজা আমলকী খাওয়ার পাশাপাশি চাটনি বা সালাদে গ্রেট করে যুক্ত করে খাওয়া যায়।৩. লাল ও হলুদ ক্যাপসিকামরঙিন ক্যাপসিকামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও ক্যারোটিনয়েড থাকে। বিশেষ করে লাল ও হলুদ ক্যাপসিকামে কমলার চেয়েও বেশি ভিটামিন সি পাওয়া যায়।পনির টিক্কা, সবজি ফ্রাই, স্যান্ডউইচ বা সালাদে ক্যাপসিকাম ব্যবহার করতে পারেন। ভিটামিন সি তাপ-সংবেদনশীল হওয়ায় এটি কাঁচা বা হালকা সাঁতলালে (stir-fry) পুষ্টিগুণ বেশি বজায় থাকে।৪. কাঁচা মরিচকাঁচা মরিচ ভিটামিন সি-এর অত্যন্ত ঘনীভূত উৎস। এতে থাকা 'ক্যাপসাইসিন' যৌগ ঝাল সৃষ্টি করে। সামান্য পরিমাণ কাঁচা মরিচ থেকেই দৈনন্দিন ভিটামিন সি-এর চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ হতে পারে।চাটনি, ডাল বা তরকারিতে কুচানো কাঁচা মরিচ যোগ করে খাওয়া যায়। তবে সংবেদনশীল পেট বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত ঝাল পরিহার করা উচিত।৫. পেঁপেসহজলভ্য ফল পেঁপেতে ভিটামিন সি-এর পাশাপাশি প্রচুর ডায়েটারি ফাইবার ও ক্যারোটিনয়েড রয়েছে। নরম গঠনের কারণে এটি সহজে হজমযোগ্য।এক বাটি পাকা পেঁপে অথবা পেয়ারা-পেঁপের ফ্রুট সালাদ বানিয়ে খাওয়া যায়। জুস বা রসের চেয়ে গোটা ফল খাওয়াই স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী।একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ৬৫ থেকে ৮০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি প্রয়োজন হয়। গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালে এ চাহিদা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।ভিটামিন সি তাপ, বাতাস ও আলোতে নষ্ট হয়ে যায়। তাই শাকসবজি বা ফলমূল অতিরিক্ত রান্না না করে সতেজ ও তাজা অবস্থায় খাওয়া ভালো।

প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্যকারী যুবক গ্রেপ্তার

প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্যকারী যুবক গ্রেপ্তার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন রাজশাহী ও রংপুর সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিতর্কিত ও কটূক্তিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ওই তরুণ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফর ও সফর ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে উসকানিমূলক এবং আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশ করেন। বিষয়টি নজরে আসার পর সাইবার নিরাপত্তা ও স্থানীয় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিজিটাল উপায়ে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণ পোস্টটি করার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream