রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
সর্বশেষ

রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তারেক রহমান।বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দেশটির ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক করার কথা রয়েছে।সফরের সম্ভাব্য কর্মসূচিতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), জেট্রো, জেবিআইসি ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদরদপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে।বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সফরের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরকালে কৃষি, মৎস্য, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন খাতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অথবা সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে।

সরকারি সফরে স্পেন ও যুক্তরাজ্য যাচ্ছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী 

স্পেন ও যুক্তরাজ্যে ৫ দিনের সরকারি সফর করবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আগামী ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর তিনি এ সফর করবেন। রবিবার (২৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তিতে এ তথ্য জা‌নিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বল‌ছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম মূল ভিত্তি হিসেবে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গভীরতর করা এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে এ সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দুদেশ সফরকালে তিনি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ব্যবসা, পর্যটন, দক্ষতা উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। সফরের শুরুতে ২৬ অক্টোবর স্পেনের সেভিল শহরে প্রতিমন্ত্রী ‘তৃতীয় স্পেন-বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধন করবেন। ‘দৃঢ়তর অংশীদারিত্ব, অভিন্ন সমৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ এক্সপোটির উদ্যোক্তা হলো ‘স্পেন-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’। এর মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশি রফতানিকারকদের সঙ্গে স্প্যানিশ উৎপাদক, আমদানিকারক ও বিনিয়োগকারীদের সংযোগ স্থাপন করা। স্পেন সফর শেষে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ২৯ থেকে ৩০ অক্টোবর যুক্তরাজ্য সফর করবেন। যুক্তরাজ্যে তার কার্যক্রমের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির প্রসার, আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অংশীদারিত্বের পরিধি বাড়ানো এবং বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতি উন্নয়নের সুযোগ অন্বেষণ করা। এ সফরগুলো ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

আবারও সস্তা হলো সোনা, ভরিপ্রতি যত হলো

সোনার দামে দুদিন পর ফের বড় দরপতন হলো। দেশের বাজারে আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৫০৮ টাকা, যা গত শুক্রবার ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। অর্থাৎ ভরিতে কমেছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা। আজ সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টায় বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তেজাবী সোনার (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। নতুন দামের তালিকায় আরও দেখা গেছে, ২১ ক্যারেটের সোনার গয়নার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৩৩ টাকা। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির সোনার গয়নার প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা। সোনার দাম কমালেও রুপার গয়নার দামে পরিবর্তন আনেনি বাজুস। মূল্য তালিকায় দেখা গেছে, ২২ ক্যারেটের রুপার গয়নার প্রতি ভরির দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার গয়নার প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার গয়নার প্রতি ভরির দাম ২ হাজার ৩৯১ টাকা। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানিয়েছেন, গয়নার নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। সোনা ও রুপার গয়নার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এ ছাড়া মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে গয়না এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে।

খাগড়াছড়িতে ৭ ঘণ্টার অবরোধ শেষ, এখনো অচল সাজেক সড়ক

খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ সমর্থিত ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা ৭ ঘণ্টার টানা সড়ক অবরোধ শেষে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ১২টার পর খাগড়াছড়ি থেকে রাঙামাটিসহ দেশের বিভিন্ন দূরপাল্লার গন্তব্যে গণপরিবহন ও যানবাহন চলাচল শুরু হয়। তবে পৃথক সংগঠনের ডাকা অনিকালের অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে যান চলাচল এখনো বন্ধ রয়েছে।এর আগে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সমর্থিত ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদ শনিবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই সড়ক অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেয়। অবরোধ চলাকালে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে।পিকেটিং চলাকালে পানছড়ি, রামগড়, মাটিরাঙ্গা, লক্ষ্মীছড়ি, দীঘিনালা ও সাজেক সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা।তবে পুরো সময়জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পুলিশের সতর্ক অবস্থানের কারণে অবরোধ চলাকালে কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। দুপুর ১২টার পর অবরোধ প্রত্যাহার হলে জেলা শহরের জীবনযাত্রা ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে।

দেশের ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার পরিমাণ বেশি

দেশের ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার পরিমাণ বেশি

দেশে নিম্ন আয়ের পরিবারের তুলনায় ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রা বেশি পাওয়া গেছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পেয়েছেন গবেষকেরা।গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারের ৩০ দশমিক ২ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা বেশি। অন্যদিকে, সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে এ হার ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ দুই শ্রেণির মধ্যে ব্যবধান ২১ দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট।দেশের ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে সামগ্রিকভাবে ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশের রক্তে প্রতি ডেসিলিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি সিসা পাওয়া গেছে। সহজ হিসাবে, এই বয়সী প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে প্রায় ৩৯ জনের রক্তে সিসার মাত্রা নির্ধারিত সীমায় বা তার ওপরে রয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের গবেষক সৈয়দ তৌসিক হোসেন ও মো. ইমাম হাসান এ গবেষণা পরিচালনা করেন। ‘সোশ্যাল প্যাটার্নিং অব এলিভেটেড ব্লাড লিড অ্যামাং চিলড্রেন এজড ১২-৫৯ মান্থস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাটি চলতি মাসের ১৪ অক্টোবর চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণাপত্র প্রকাশের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মেডআর্কাইভে প্রকাশিত হয়।গবেষকেরা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৫ সালের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (মিকস) থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করেন। জরিপটি পরিচালিত হয় জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের কারিগরি সহায়তায়। এতে শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, জীবনযাত্রা এবং পরিবেশগত ঝুঁকিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।গবেষণায় ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১৮ হাজার ৯০৫ শিশুকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ১০ হাজার ৬২২ শিশুর রক্তে সিসার পরীক্ষার ফল পাওয়া যায়। বিভিন্ন আর্থসামাজিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে মূল বিশ্লেষণ করা হয় ৯ হাজার ৭১৭ শিশুর তথ্যের ভিত্তিতে।ধনী পরিবারের শিশুদের ঝুঁকি বেশি কেন?গবেষক সৈয়দ তৌসিক হোসেনের মতে, ধনী পরিবারের শিশুরা প্যাকেটজাত খাবার বেশি খেতে পারে। তাদের বাসায় আসবাব, দেয়ালের রং ও বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্রও বেশি থাকতে পারে। এসব পণ্যের কোনো কোনোটিতে সিসা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এগুলোর সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে শিশুদের শরীরে সিসা প্রবেশ করতে পারে।শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লাও মনে করেন, ধনী পরিবারের শিশুদের আমদানি করা খেলনা ও ঘরের সাজসজ্জার সামগ্রীর সংস্পর্শে আসার সুযোগ বেশি হতে পারে। এ ছাড়া পোলট্রির মুরগির খাবারে সিসা থাকলে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমেও তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।তবে গবেষণাটিতে এসব সম্ভাব্য উৎস আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। তাই নির্দিষ্ট কোনো খাবার বা গৃহস্থালি পণ্যের কারণেই ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা বেশি—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।শিশুর মস্তিষ্ক ও বিকাশে ক্ষতিকর প্রভাবসিসা একটি বিষাক্ত ভারী ধাতু, যা শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এর প্রভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা, মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা ও আচরণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে শিশুর শিক্ষাগত অর্জনেও এর প্রভাব পড়তে পারে।এ ছাড়া সিসার সংস্পর্শ রক্তস্বল্পতা, কিডনির ক্ষতি ও উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে সম্পর্কিত। অনেক ক্ষেত্রে শিশুর শরীরে সিসার ক্ষতিকর প্রভাব থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, শিশুদের রক্তে সিসার এমন কোনো মাত্রা প্রতিষ্ঠিত নেই, যাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যায়। বাংলাদেশের আগের কয়েকটি গবেষণাতেও রক্তে সিসার মাত্রা এবং শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের পরীক্ষায় কম স্কোর পাওয়ার মধ্যে সম্পর্ক দেখা গেছে।বিভাগভেদেও বড় পার্থক্য২০২৫ সালের মিকসের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকায়। এখানে ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৬৫ দশমিক ২ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার উচ্চমাত্রা পাওয়া গেছে। সিলেটে এ হার ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ৪২ দশমিক ১ শতাংশ।অন্যদিকে বরিশালে এ হার ২৯ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ, খুলনায় ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ, রাজশাহীতে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রংপুরে ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ।গবেষণার ফলাফল শিশুদের সিসার সংস্পর্শে আসার উৎস শনাক্ত করা এবং তা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য দূষণের উৎস চিহ্নিত করা এবং সিসাযুক্ত পণ্যের সংস্পর্শ কমানোর উদ্যোগ জরুরি।

৫ মিনিট আগে
নতুন নম্বরপ্লেট ভুল নিয়মে বানালে হতে পারে শাস্তি

নতুন নম্বরপ্লেট ভুল নিয়মে বানালে হতে পারে শাস্তি

মোটরসাইকেলের পেছনের ডিজিটাল নম্বরপ্লেটের পাশাপাশি এবার সামনেও ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট লাগানো বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত নিয়ম মেনে নম্বরপ্লেট স্থাপন করতে হবে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। গত ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয় সংস্থাটি।বিআরটিএ জানিয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী মোটরসাইকেলের পেছনে আরএফআইডি সংযুক্ত রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ নম্বরপ্লেট ব্যবহার করতে হয়। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি আরও কার্যকর করতে এবার সামনের দিকেও নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাইকের মালিকদের নিজ উদ্যোগে নির্ধারিত মান অনুযায়ী এই নম্বরপ্লেট তৈরি ও স্থাপন করতে হবে।নির্দেশনা অনুযায়ী, সামনের নম্বরপ্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। প্লেটের পটভূমি হবে সাদা এবং বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা লিখতে হবে কালো রঙে। নম্বরপ্লেটে কোনো ধরনের নকশা বা অতিরিক্ত সাজসজ্জা করা যাবে না। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলে নিবন্ধন নম্বর একটি আনুভূমিক রেখায় লেখা যাবে।বিআরটিএ স্কুটার ও অন্যান্য মোটরসাইকেলের জন্য নম্বরপ্লেটের মাপও নির্ধারণ করে দিয়েছে। স্কুটারের সামনের নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য হতে হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। এতে ব্যবহৃত অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে।অন্যদিকে, স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২৮৫ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার। এ ক্ষেত্রেও অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার হতে হবে।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব নিয়ম অনুসরণ করে মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট স্থাপন করতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিআরটিএ। নির্ধারিত মাপ, রং ও উপকরণ অনুসরণ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই নম্বরপ্লেট তৈরির আগে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

২৪ মিনিট আগে
গত ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির অভিযানে ৫৯৮ জন গ্রেপ্তার, মামলা ৪১

গত ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির অভিযানে ৫৯৮ জন গ্রেপ্তার, মামলা ৪১

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত অভিযানে রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৯৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ৪১টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানে অস্ত্র, মাদক, জাল টাকা, যানবাহন ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জামসহ একজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান। তিনি আরও বলেন, গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩৬ জন, লালবাগ বিভাগে ৪২ জন, ওয়ারী বিভাগে ৭১ জন, মতিঝিল বিভাগে ৭১ জন, তেজগাঁও বিভাগে ১০০ জন, মিরপুর বিভাগে ১৭৮ জন, গুলশান বিভাগে ৫৪ জন, উত্তরা বিভাগে ৪৩ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে ৩ জন রয়েছেন। অভিযানে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ২ রাউন্ড গুলি, ১টি ব্যবহৃত গুলির অংশ, ৩টি ছুরি, ৮টি রড, ১ কেজি ৪৫০ গ্রাম ও ২১ পুরিয়া গাঁজা, ৯ হাজার ৫৮টি ইয়াবা, ২ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১টি প্রাইভেটকার, ১টি মোটরসাইকেল, ১২টি মুঠোফোন, ২০০ টাকা মূল্যমানের ৩২০টি জাল নোট, ১টি সিপিইউ, ১টি স্ক্যানার, ১টি মাউস, ১টি কিবোর্ড এবং ১০ হাজার ১০০ টাকা। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

৫৫ মিনিট আগে
হত্যার হুমকির পর এজেআর কুরিয়ারের স্টোররুমে আগুন দেওয়ার চেষ্টা

হত্যার হুমকির পর এজেআর কুরিয়ারের স্টোররুমে আগুন দেওয়ার চেষ্টা

রাজধানীর হাজারীবাগে এজেআর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিসের স্টোররুমের পেছনে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার ভোরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। আশপাশের লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলেন। এ সময় আগুন দিতে আসা ব্যক্তিদের ধাওয়া করলে তাঁরা পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে। হাজারীবাগ থানা-পুলিশ বলছে, তাঁরা বিষয়টি জেনেছেন। ঘটনা খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের প্রধান ওয়্যারহাউসে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে একদল দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, ওই ঘটনায় ৭০ থেকে ৮০ জন অংশ নেন। পরে ২১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিন চাঁদাবাজি, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার পর গত শুক্রবার আফসার উদ্দিনকে ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ‘লাশ রাস্তায় পড়ে থাকবে’—এমন কথা বলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। প্রাণনাশের আশঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে গতকাল শনিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন আফসার উদ্দিন। এ ছাড়া শনিবার হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ এলাকায় চার থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেলে আসা ব্যক্তিরা এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের পাঁচটি ট্রাক ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একের পর এক হামলা, হত্যার হুমকি ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

১ ঘন্টা আগে
মুকসুদপুরে পিকআপের চাপায় বাবা-মেয়ে নিহত

মুকসুদপুরে পিকআপের চাপায় বাবা-মেয়ে নিহত

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে মাছবাহী পিকআপের চাপায় অটোভ্যানে থাকা বাবা ও তাঁর ছয় বছর বয়সী মেয়ে নিহত হয়েছেন। আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গ্যাড়াখোলা ব্রিজের ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম সাইফুল ইসলাম রঞ্জু (৪৫)। তিনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পবন বেগ গ্রামের হেমায়েত মোল্লার ছেলে। নিহত শিশুর নাম সামিরা আক্তার (৬)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে গোপালগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল মাছবাহী একটি পিকআপ। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মুকসুদপুরগামী একটি অটোভ্যানকে পিকআপটি চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে অটোভ্যানে থাকা বাবা ও মেয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

১ ঘন্টা আগে
রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তারেক রহমান।বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দেশটির ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক করার কথা রয়েছে।সফরের সম্ভাব্য কর্মসূচিতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), জেট্রো, জেবিআইসি ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদরদপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে।বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সফরের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরকালে কৃষি, মৎস্য, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন খাতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অথবা সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে।

১ ঘন্টা আগে
দেশের ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার পরিমাণ বেশি

দেশের ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার পরিমাণ বেশি

দেশে নিম্ন আয়ের পরিবারের তুলনায় ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রা বেশি। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিয়ে পরিচালিত জাতীয় জরিপের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পেয়েছেন গবেষকেরা। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারের শিশুদের ৩০ দশমিক ২ শতাংশের রক্তে সিসার মাত্রা বেশি। সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে এ হার ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ। শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রা উদ্বেগজনক। সিসা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে ক্ষতি করতে পারে। এর প্রভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা, মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা ও আচরণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব ক্ষতির সব সময় তাৎক্ষণিক লক্ষণ থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে শিশুকে সুস্থ দেখালেও তার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। দেশের বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্নায়ুর বিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, শিশুদের রক্তে সিসার এমন কোনো মাত্রা জানা নেই, যাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যায়। বাংলাদেশে আগের গবেষণায়ও শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রার সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের পরীক্ষায় কম স্কোর পাওয়ার সম্পর্ক দেখা গেছে। ১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর ডব্লিউএইচওর উদ্যোগে পালিত হচ্ছে ১৪তম আন্তর্জাতিক সিসা বিষক্রিয়া প্রতিরোধ সপ্তাহ। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘শনাক্তকরণ থেকে প্রতিরোধে’। ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রা নিয়ে গবেষণাটির শিরোনাম ‘সোশ্যাল প্যাটার্নিং অব এলিভেটেড ব্লাড লিড অ্যামাং চিলড্রেন এজড ১২-৫৯ মান্থস ইন বাংলাদেশ: অ্যা ন্যাশনাল ক্রস-সেকশনাল অ্যানালাইসিস অব মিকস ২০২৫’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের গবেষক সৈয়দ তৌসিক হোসেন ও মো. ইমাম হাসান গবেষণাটি করেছেন। চলতি মাসের ১৪ তারিখে এটি চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণাপত্র প্রকাশের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মেডআর্কাইভে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকেরা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত ২০২৫ সালের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (মিকস) থেকে পাওয়া উপাত্ত বিশ্লেষণ করেছেন। জাতিসংঘের শিশু তহবিল-ইউনিসেফের কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত এ জরিপে শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, জীবনযাত্রা, পরিবেশগত ঝুঁকিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। মিকসের এ প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশুদের রক্তে সিসাসহ কয়েকটি ভারী ধাতুর মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। গবেষকেরা নতুন করে শিশুদের রক্ত পরীক্ষা করেননি। জরিপে আগে থেকে সংগ্রহ করা রক্ত পরীক্ষার ফল ও পরিবারের আর্থসামাজিক তথ্য ব্যবহার করে তাঁরা নতুন পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ করেছেন। জরিপে ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১৮ হাজার ৯০৫ শিশুকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১০ হাজার ৬২২ শিশুর রক্তে সিসার পরীক্ষার ফল পাওয়া যায়। বিভিন্ন আর্থসামাজিক বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে করা মূল বিশ্লেষণে সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় ৯ হাজার ৭১৭ শিশুর। প্রতি ডেসিলিটার রক্তে ৫ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি সিসা থাকলে তাকে উচ্চমাত্রা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। পরিবারের সম্পদ, মায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বসবাসের এলাকা, ঘরের অবস্থা ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশের রক্তে প্রতি ডেসিলিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি সিসা রয়েছে। অর্থাৎ এই বয়সী প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে প্রায় ৩৯ জনের রক্তে সিসার মাত্রা গবেষণায় নির্ধারিত সীমায় বা তার ওপরে। তবে পরিবারের সম্পদ অনুযায়ী এ হারে বড় পার্থক্য রয়েছে। পরিবারের সম্পদ অনুযায়ী শিশুদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারের শিশুদের মধ্যে সিসার উচ্চমাত্রার হার ৩০ দশমিক ২ শতাংশ। সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে তা ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ। দুই শ্রেণির মধ্যে ব্যবধান ২১ দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট। অর্থাৎ সবচেয়ে ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রার হার সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। গবেষকেরা দেখেছেন, পরিবারের সম্পদের শ্রেণি যত ওপরে উঠেছে, শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রার হারও তত বেড়েছে। পরিবারের সম্পদ, মায়ের শিক্ষা, ঘরের অবস্থা ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নেওয়ার পরও এ সম্পর্ক বজায় ছিল। ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে গবেষক সৈয়দ তৌসিক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন,ধনী  শিশুরা প্যাকেটজাত খাবার বেশি খেতে পারে। এ ছাড়া তাদের বাসায় আসবাব, দেয়ালের রং ও বিভিন্ন ধরনের তৈজস বেশি থাকে। এসব পণ্যে সিসা থাকতে পারে। ফলে পণ্যগুলোর সংস্পর্শ শিশুদের শরীরে সিসা প্রবেশের সম্ভাব্য পথ হতে পারে। তবে গবেষণায় এসব উৎস আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে প্যাকেটজাত খাবার, আসবাব বা দেয়ালের রঙের কারণে ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা বেশি, এমন সিদ্ধান্ত সরাসরি টানা যায় না। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লাও মনে করেন, ধনী পরিবারের শিশুদের সিসার সংস্পর্শে আসার সুযোগ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, এসব পরিবারের শিশুরা আমদানি করা খেলনা বেশি পায়। বাসায় সাজসজ্জার নানা সামগ্রীও থাকে। এ ছাড়া পোলট্রির মুরগিকে দেওয়া খাবারে সিসা থাকতে পারে। অপেক্ষাকৃত সম্পন্ন পরিবারের অনেক শিশু মুরগির মাংস বেশি খায়। এসব খাবারের মাধ্যমেও তাদের শরীরে সিসা প্রবেশ করা অস্বাভাবিক নয়। সিসা শরীরে প্রবেশের পর রক্তের মাধ্যমে মস্তিষ্ক, যকৃৎ, কিডনি, হাড়সহ বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছাতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, তাদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র তখনো বিকাশের পর্যায়ে থাকে। সিসার সংস্পর্শে শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা, শেখার অসুবিধা ও আচরণগত পরিবর্তনের ঝুঁকি থাকে। দীর্ঘ মেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে শিক্ষাগত অর্জনেও। সিসার সংস্পর্শ রক্তস্বল্পতা, কিডনির ক্ষতি ও উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গেও সম্পর্কিত। শিশুবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, শিশুর শরীরে সিসার ক্ষতি হয়েছে কি না, তা শুধু বাহ্যিক চেহারা বা তাৎক্ষণিক উপসর্গ দেখে বোঝা যায় না। এই শিশুবিশেষজ্ঞ আরও বলেন, উচ্চমাত্রার সিসার সংস্পর্শে গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে অপেক্ষাকৃত কম মাত্রার সংস্পর্শেও শিশুর বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সিসা মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত করতে পারে এবং অনুভূতি সৃষ্টিকারী স্নায়ুর কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে। অনেক সময় হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও কমে যায়। অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা ও অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা দুজনই জানিয়েছেন, আগের তুলনায় স্নায়ুগত সমস্যায় আক্রান্ত শিশু তাঁদের কাছে বেশি আসছে। বাংলাদেশে শিশুদের রক্তে সিসার উপস্থিতি এবং বিকাশের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আগেও গবেষণা হয়েছে। ২০১৬ সালে এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় সিরাজদিখান ও পাবনার ৫২৪ শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। ২০ থেকে ৪০ মাস বয়সী শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা পরিমাপের পাশাপাশি তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও মোটর বিকাশ মূল্যায়ন করা হয়েছিল। গবেষণায় সিরাজদিখানের শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। ওই এলাকায় রক্তে সিসার মাত্রা বাড়ার সঙ্গে শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের পরীক্ষায় কম স্কোর পাওয়ার সম্পর্কও দেখা যায়। তবে গবেষকেরা এ ফলাফলকে দুটি বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক হিসেবে তুলে ধরেছেন। এর ভিত্তিতে প্রতিটি শিশুর বিকাশজনিত সমস্যার একমাত্র কারণ সিসা, এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। ২০২০ সালে জার্নাল অব নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারস সাময়িকীতে প্রকাশিত বাংলাদেশের ৭৩৪ শিশুর আরেকটি গবেষণায় জন্মের সময় নাড়ির রক্তে সিসার মাত্রা এবং দুই থেকে তিন বছর বয়সে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বিশ্লেষণ করা হয়। এতে অপুষ্টিজনিত খর্বাকৃতির শিশুদের ক্ষেত্রে গর্ভকালীন সিসার সংস্পর্শের সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক স্কোর কমার সম্পর্ক পাওয়া যায়। তবে গবেষণার সব স্থানে এ সম্পর্ক একই রকম ছিল না। গবেষকদের ধারণা, অপুষ্টি বা খর্বাকৃতি শিশুদের সিসার ক্ষতিকর প্রভাবের প্রতি আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রার ক্ষেত্রে বিভাগভেদেও বড় পার্থক্য রয়েছে। ২০২৫ সালের মিকসের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকায় ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৬৫ দশমিক ২ শতাংশের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রা পাওয়া গেছে। সিলেটে এ হার ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ৪২ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে বরিশালে এ হার ২৯ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ, খুলনায় ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ, রাজশাহীতে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রংপুরে ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ। গবেষকদের সমন্বিত পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণেও বিভাগভেদে পার্থক্য পাওয়া গেছে। বরিশালকে তুলনার ভিত্তি ধরে বিশ্লেষণে ঢাকায় শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রার সঙ্গে বেশি সম্পর্ক এবং রাজশাহীতে কম সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

২ ঘন্টা আগে
সরকারি সফরে স্পেন ও যুক্তরাজ্য যাচ্ছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী 

সরকারি সফরে স্পেন ও যুক্তরাজ্য যাচ্ছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী 

স্পেন ও যুক্তরাজ্যে ৫ দিনের সরকারি সফর করবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আগামী ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর তিনি এ সফর করবেন। রবিবার (২৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তিতে এ তথ্য জা‌নিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বল‌ছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম মূল ভিত্তি হিসেবে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গভীরতর করা এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে এ সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দুদেশ সফরকালে তিনি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ব্যবসা, পর্যটন, দক্ষতা উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। সফরের শুরুতে ২৬ অক্টোবর স্পেনের সেভিল শহরে প্রতিমন্ত্রী ‘তৃতীয় স্পেন-বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধন করবেন। ‘দৃঢ়তর অংশীদারিত্ব, অভিন্ন সমৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ এক্সপোটির উদ্যোক্তা হলো ‘স্পেন-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’। এর মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশি রফতানিকারকদের সঙ্গে স্প্যানিশ উৎপাদক, আমদানিকারক ও বিনিয়োগকারীদের সংযোগ স্থাপন করা। স্পেন সফর শেষে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ২৯ থেকে ৩০ অক্টোবর যুক্তরাজ্য সফর করবেন। যুক্তরাজ্যে তার কার্যক্রমের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির প্রসার, আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অংশীদারিত্বের পরিধি বাড়ানো এবং বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতি উন্নয়নের সুযোগ অন্বেষণ করা। এ সফরগুলো ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

২ ঘন্টা আগে
খুতবার মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির আহ্বান ধর্মমন্ত্রীর

খুতবার মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির আহ্বান ধর্মমন্ত্রীর

সমাজ থেকে মাদক, ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, জিনা ও অন্যায়-অবিচার দূর করতে জুমার খুতবার মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরিতে ইমামদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।   ধর্মমন্ত্রী বলেন, সমাজের বিভিন্ন অন্যায় ও অনৈতিকতা দূর করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ইমামদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাধারণ মানুষ ইমামদের কথা পরম আস্থার সাথে শোনে ও বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি জুমার খুতবার মাধ্যমে সার্বিক নৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য সকল ইমামদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। সম্মেলনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের আর্থিক সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন খাতে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় নেতাদের পর্যায়ক্রমে সরকারি সম্মানী কাঠামোর আওতায় আনা হবে। আরও পড়ুনআরও পড়ুনএনসিপির নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ৩ নেতার পদাবনতি, নেপথ্যে কী ইমাম ও আলেম সমাজের ঐতিহাসিক অবদানের কথা উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েও দেশের ইমাম, ওলামা ও পীর-মাশায়েখরা সমর্থন ও সহযোগিতা করেছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ‘আস্থা গণভোট’ (হ্যাঁ-না)-এর নির্বাচনেও আলেম-ওলামারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়া, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ১৯৯৪ সালে বেগম খালেদা জিয়া ২ কোটি টাকার কল্যাণ তহবিল গঠনের যে ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে বলেও সম্মেলনে জানান ধর্মমন্ত্রী।   সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন ধর্মমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে বলেন, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও তার ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে বিবেচিত হয়।  তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে আলেম-ওলামা ও ইমাম সমাজকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর শক্তিকে উন্নয়নের কাজে সম্পৃক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হুরায়রার সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামাল, বিএনপির চেয়ারপারসনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান, এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহিল বাকী নদভী।

১৭ ঘন্টা আগে
২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ০ জন

জামায়াতের জেলা নেতৃত্বে বছরের পর বছর একই মুখ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আমির সৈয়দ মো. আবদুল মোমেন। ১৯৯৮ সাল থেকে টানা প্রায় ২৮ বছর ধরে তিনি জেলা জামায়াতের আমিরের পদে আছেন। সারা দেশে জেলা ও মহানগর মিলে জামায়াতের ৭৯টি সাংগঠনিক ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ৪৩টি ইউনিটের খোঁজ নিয়েছে প্রথম আলো। খাগড়াছড়ির মতো অনেক সাংগঠনিক ইউনিটে বছরের পর বছর শীর্ষ নেতা হিসেবে একই ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করছেন। জামায়াত নেতা ও প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা তথ্যে দেখা গেছে, একনাগাড়ে ১০ বছর বা এরও বেশি সময় ধরে আমির পদে কোনো পরিবর্তন নেই, এমন ইউনিটের সংখ্যা ১৯। ৫ থেকে ৯ বছর পর্যন্ত আমির পদে আছেন আরও ১১টি ইউনিটে। একটি জেলায় বিরতি দিয়ে ২২ বছর আমির পদ সামলাচ্ছেন এক নেতা। ১৪ অক্টোবর কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা মহানগর কার্যালয় চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির হিসেবে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ২৮ বছর দায়িত্ব পালন করেন। কমিটি নিয়ে সংঘর্ষের পর ১৬ অক্টোবর তাঁকে আমির পদ থেকে অব্যাহতি এবং কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লার এই ঘটনাকে জামায়াতের সাংগঠনিক রাজনীতিতে চাপা অসন্তোষের একটা বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন দলের কেউ কেউ। এ ঘটনার পর জামায়াতের অপর একটি জেলার সাবেক এক প্রচার সম্পাদক ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কু’ এর “লু” হাওয়া কত দূর ছড়ায় আল্লাহ ভালো জানেন। অধস্তনের অসন্তোষ কেন্দ্রে আমলে নেওয়া জরুরি।’ জামায়াতের ভেতর কেউ কেউ এমন প্রশ্নও তুলেছেন যে দল কি নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে পারছে না? নাকি পুরোনো নেতাদের একটি অংশ পদ আঁকড়ে থাকছেন। জামায়াতের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, একই ব্যক্তির দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ পদে থাকা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভেতরে আলোচনা আছে। কুমিল্লার সংঘর্ষের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় কমিটি ও আমিরের পদ তিন বছর মেয়াদি। আর জেলা ও মহানগর কমিটির মেয়াদ দুই বছর। দুই ক্ষেত্রেই রুকনদের গোপন ভোটে আমির নির্বাচিত হন। সে কারণে জামায়াত তাদের নেতা নির্বাচনপদ্ধতিকে ‘সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক’ বলে অভিহিত করে। তবে ভোটারদের সংখ্যা, প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে না দলটি। ফলে দীর্ঘদিন একই ব্যক্তির নেতৃত্বে থাকার কারণ ও নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রতিযোগিতা কতটা কার্যকর, তা স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশের মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোতে শীর্ষ পদে দীর্ঘদিন একই ব্যক্তির দায়িত্ব পালন করা নতুন কিছু নয়। তবে অন্য দলগুলোতে শীর্ষ পদের বাইরে অন্য পদে পরিবর্তন আসে। কিন্তু জামায়াতে দ্বিতীয় শীর্ষ পদেও একই ব্যক্তির দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের নজির দেখা যায়। জামায়াতের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কমিটি এবং জেলা ও মহানগর কমিটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যাঁরা সার্বক্ষণিক দলকে সময় দেন, তাঁদের খরচও দল চালায়। ক্ষেত্রবিশেষে গাড়িসহ প্রয়োজনীয় অন্য সুবিধা দেওয়া হয়। তাঁরা জামায়াতের মধ্যে ‘ফুল টাইমার’ (বেতনভুক্ত) হিসেবে পরিচিত। ফুল টাইমারদের মধ্যে কাউকে কাউকে দলের অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদে বসানো হয়। সেখান থেকে বেতন পেয়ে থাকেন তাঁরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের একাধিক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ফুল টাইমারদের অনেকের মধ্যে পদ আঁকড়ে থাকার একটা প্রবণতা দেখা যায়। আবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে জেলা ও মহানগরের আমিরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এ জন্যও শীর্ষ পদ ধরে রাখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুনদের নেতৃত্বে আসার সুযোগ সীমিত হচ্ছে। অবশ্য জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও ইসলামি আন্দোলনের প্রতি একনিষ্ঠতার ভিত্তিতেই আমির নির্বাচিত হন। কারও চাওয়া-পাওয়া মুখ্য বিষয় নয়। জামায়াতের বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক মুয়াযযম হোসাইন হেলাল দলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে ‘গণতান্ত্রিক’ বলে দাবি করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রুকনেরা (শপথধারী কর্মী) পছন্দ করে ভোট দিয়ে আমির নির্বাচিত করেন। দল প্রয়োজন মনে করলে কাউকে সরিয়েও দেয়। জামায়াতের দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরে রুহুল আমীন ভূঁইয়া ২৩ বছর, ঝালকাঠিতে হাফিজুর রহমান ২২ বছর এবং জয়পুরহাটে ফজলুর রহমান সাঈদ ২০ বছর ধরে জেলা আমির পদে আছেন। রাজবাড়ীর আমির নুরুল ইসলাম ২০০৯ সালে দায়িত্ব পান। এর আগে দুই বছর ভারপ্রাপ্ত আমির এবং তিন বছর জেলা সেক্রেটারি ছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে আমির পদে তিনি আছেন ১৯ বছর ধরে। খুলনা জেলা জামায়াতের আমির এমরান হুসাইন ১৮ বছর ও বরিশালের আবদুল জব্বার ১৭ বছর একই পদে আছেন। বান্দরবানের এস এম আবদুস সালাম আজাদ ও রাঙামাটির আবদুল আলিম জেলা আমির পদে আছেন ১৬ বছর ধরে। সিরাজগঞ্জে শাহীনুর আলম ১৪ বছর এবং গাজীপুরে জাহাঙ্গীর আলম ১৩ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। বগুড়া জেলা ও মহানগর এবং ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আমির পদে একই ব্যক্তিরা আছেন ১১ বছর ধরে। টাঙ্গাইল, মেহেরপুর ও পাবনার বর্তমান আমিরদের দায়িত্বকাল ১০ বছর চলছে। কুড়িগ্রামের মো. আজিজুর রহমান ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা ২২ বছর আমির ছিলেন। তিনি ভূরুঙ্গামারী ডিগ্রি কলেজের (বর্তমান ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজ) অধ্যক্ষ ছিলেন। কলেজটি সরকারীকরণের বিষয় সামনে এলে তিনি আমিরের পদ ছাড়েন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি আবার জেলা আমিরের দায়িত্ব পেয়েছেন। জেলা আমিরদের মধ্যে পাঁচজন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হয়েছেন। তাঁরা হলেন নড়াইলের আতাউর রহমান, চুয়াডাঙ্গার মো. রুহুল আমিন, মেহেরপুরের মো. তাজউদ্দীন খান, ঝিনাইদহের আলী আজম মো. আবুবকর ও পাবনার অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর ছাত্র সংসদ নির্বাচিত প্রতিনিধি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির বলেছিলেন, ‘তরুণেরা ককপিটে বসে দেশ পরিচালনা করবে। আমরা পেছন থেকে শক্তি জোগাব।’ কিন্তু জেলা পর্যায়ে অনেকের পদ আঁকড়ে থাকার প্রবণতার কারণে তরুণেরা সেভাবে নেতৃত্বে এগোতে পারছে না বলে ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের কেউ কেউ মনে করেন। তবে জামায়াতের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, জেলা আমির যাঁদের নেতা হিসেবে তৈরি করেন, তাঁদের হাতেই নেতৃত্বের ভার ওঠে। তাই নতুন নেতৃত্ব গড়ে ওঠে না, এই কথা ঠিক নয়। বর্তমান সংসদে ৭৬টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াতে ইসলামী। সংসদীয় রাজনীতিতে এটিই দলটির সেরা সাফল্য। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রভাব এবং রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে দলটির। নতুন নতুন নেতা, সমর্থক যুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান জামায়াতে যোগ দেন। সব মিলিয়ে দলের পদ ও প্রভাব নিয়ে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতাও বেড়েছে বলে দলটির নেতারা মনে করছেন। ১২ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করেন জামায়াতের যুব বিভাগের ইউনিয়ন শাখার সভাপতি আহাদ আলী। দল অন্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার পরই দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন আহাদ আলী। পরে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। জামায়াতকে সুশৃঙ্খল দল এবং দলের নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রের নির্দেশনার বাইরে কিছু করেন না—এমন বক্তব্য দিয়ে থাকেন দলটির শীর্ষ নেতারা। তবে গত সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে দল থেকে প্রার্থী ঘোষণার পর স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। গত নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সারোয়ার ওরফে সারোয়ার তুষারকে নরসিংদী-২ আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু দল ও জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমজাদ হোসাইন ভোটে অংশ নেন। চট্টগ্রাম-৮ আসনও জামায়াত ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী এনসিপির জুবাইরুল হাসানকে ছেড়ে দিয়েছিল। তবে জামায়াতের আবু নাছের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি, নির্বাচন থেকেও সরে দাঁড়াননি। জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করা কিংবা পদের জন্য সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া আগামী দিনে দলটির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে। এ জন্য কুমিল্লার ঘটনা গুরুত্বসহকারে নিয়েছে দলটি। অবশ্য জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম মনে করেন, কুমিল্লার মতো ঘটনা আর কোথাও ঘটবে না।

লিংক কপি করা হয়েছে!

যেভাবে সংগীতজগতে যাত্রা শুরু টেলর সুইফটের

কিশোরী বয়সে হাতে গিটার তুলে সংগীতজগতে যাত্রা শুরু করেছিলেন টেলর সুইফট। সময়ের সঙ্গে সেই পথচলাই তাকে নিয়ে গেছে বিশ্বসংগীতের শীর্ষস্থানে। ২০০৬ সালে প্রকাশিত তার প্রথম অ্যালবাম ‘টেলর সুইফট’ দিয়েই শুরু হয় এই তারকার বর্ণিল সংগীতজীবন।২০০৬ সালের ২৪ অক্টোবর মুক্তি পায় অ্যালবামটি। সে সময় টেলর সুইফটের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। অ্যালবামটির সাধারণ সংস্করণে ১১টি এবং ডিলাক্স সংস্করণে ১৫টি গান ছিল। কৈশোরের প্রেম, বিচ্ছেদ, অভিমান আর আবেগের নানা গল্প উঠে এসেছিল এসব গানে, যা সহজেই শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।অ্যালবামটির জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘টিম ম্যাকগ্র’, ‘পিকচার টু বার্ন’, ‘টিয়ারড্রপস অন মাই গিটার’, ‘আওয়ার সং’ ও ‘শুড হ্যাভ সেইড নো’। নাথান চ্যাপম্যানের সংগীতায়োজনে কান্ট্রি সংগীতের সুর, সঙ্গে ব্যাঞ্জোর ব্যবহার অ্যালবামটিকে দিয়েছিল আলাদা পরিচিতি। এই অ্যালবামের মধ্য দিয়েই নিজের গীতিকার ও সংগীতশিল্পীসত্তার জানান দেন টেলর সুইফট, যা পরবর্তী সময়ে তার বিশ্বজোড়া সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, প্রতিটি গানই টেলর এককভাবে লিখেছিলেন অথবা সহ-লেখক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। ২০০৬ সালের জুনে প্রকাশিত হয় টেলরের প্রথম একক গান ‘টিম ম্যাকগ্র’, যা লিজ রোজের সঙ্গে যৌথভাবে লিখেছিলেন তিনি। গানটি কান্ট্রি সংগীতের তালিকায় শীর্ষ দশে জায়গা করে নেয়। ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গল্প বলার নিজস্ব ধরন দিয়ে গানটি শ্রোতাদের নজর কাড়ে। অ্যালবামের আরেকটি উল্লেখযোগ্য গান ‘আওয়ার সং’ এককভাবে লিখেছিলেন টেলর। নবম শ্রেণির একটি প্রতিভা অন্বেষণ অনুষ্ঠানের জন্য গানটি লিখেছিলেন বলে জানা যায়। পরে গানটি কান্ট্রি সংগীতের তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করে। এর মধ্য দিয়ে গায়িকা হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি গীতিকার হিসেবেও নিজের দক্ষতা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। প্রকাশের পর অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০ তালিকায় পঞ্চম স্থানে অভিষেক করে এবং কান্ট্রি অ্যালবামের তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করে। দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রিয়তা ধরে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে মাল্টি-প্ল্যাটিনাম মর্যাদাও পায় এটি। অ্যালবাম প্রকাশের আগেই ১৬ বছর বয়সে কান্ট্রি সংগীতের মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ গ্র্যান্ড ওলে অপ্রিতে পরিবেশনা করেছিলেন টেলর। পরবর্তী সময়ে ‘ফিয়ারলেস’ (২০০৮), ‘স্পিক নাও’ (২০১০), ‘রেড’ (২০১২) ও ‘১৯৮৯’ (২০১৪) অ্যালবামের মাধ্যমে সংগীতের বিভিন্ন ধারায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন তিনি। তার সংগীতজীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় প্রথম ছয়টি অ্যালবামের মাস্টার রেকর্ডিংয়ের মালিকানা নিয়ে বিরোধ। বিগ মেশিন রেকর্ডস ছাড়ার পর মূল রেকর্ডিংগুলোর স্বত্ব অন্য মালিকের কাছে চলে যায়। পরে পুরোনো অ্যালবাম নতুন করে রেকর্ড করে ‘টেলরস ভার্সন’ নামে প্রকাশের উদ্যোগ নেন তিনি। ২০২৫ সালের মে মাসে নিজের প্রথম ছয়টি অ্যালবামের মাস্টার রেকর্ডিংয়ের স্বত্ব পুনরায় কেনার ঘোষণা দেন টেলর। টেলরের প্রথম অ্যালবামের পুনরায় রেকর্ড করা সংস্করণ প্রকাশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি রেকর্ডিং অ্যাকাডেমির সঙ্গে এক আলোচনায় তার পোশাক, ফুলে সাজানো পিয়ানো এবং কান্ট্রি সংগীতকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার বক্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সূত্র ও সম্ভাব্য বার্ষিকী সংস্করণের তালিকা নিয়ে আলোচনা হলেও অ্যালবামটির নতুন সংস্করণ প্রকাশের তারিখ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা নেই। দুই দশক আগে গিটার হাতে যে কিশোরী সংগীতজগতে যাত্রা শুরু করেছিলেন, আজ তিনি বিশ্বসংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী। ‘টেলর সুইফট’ অ্যালবামটি শুধু তার ক্যারিয়ারের সূচনা নয়, বরং ব্যক্তিগত অনুভূতি, গল্প বলার দক্ষতা ও নিজস্ব সংগীতভাষার মাধ্যমে শ্রোতাদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির ভিত্তিও গড়ে দিয়েছিল। দুই দশক পরও অ্যালবামটি টেলরের সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে। দ্য স্টেটসম্যান

উৎসব-পার্বণে ঘরের তৈরি নারকেলের নাড়ু: জেনে নিন রেসিপি

বাঙালি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে মিষ্টি মুখ করাতে নারকেলের নাড়ুর জুড়ি নেই। পূজা-পার্বণ কিংবা যেকোনো ঘরোয়া উৎসবে এই ঐতিহ্যবাহী খাবারটি স্বাদের পূর্ণতা এনে দেয়। শিশু থেকে বয়স্ক—সবার কাছেই নারকেলের নাড়ু সমান প্রিয়। অনেকেই ভাবেন নাড়ু তৈরি করা বেশ জটিল, তবে সঠিক নিয়ম জানা থাকলে খুব সহজেই ঘরে বসে তৈরি করা যায় এই সুস্বাদু খাবার।প্রয়োজনীয় উপকরণ:কোড়ানো নারকেল: ২ কাপচিনি: ১ কাপঘি: ১ টেবিল চামচএলাচ: ২টি (গুঁড়া করা)গুঁড়া দুধ: ১/২ কাপতরল দুধ: ১ কাপময়দা: ২ চামচকাঠবাদাম কুচি: ১ চামচপ্রস্তুত প্রণালী:১. প্রথমে একটি কড়াই বা প্যানে কোড়ানো নারকেল, তরল দুধ ও চিনি একসঙ্গে দিয়ে মাঝারি আঁচে ভাজতে থাকুন। খেয়াল রাখতে হবে যেন প্যানের তলায় লেগে মিশ্রণটি বেশি বাদামি বা পোড়া না হয়ে যায়।২. মিশ্রণটি সামান্য ঘন হয়ে এলে তার মধ্যে এলাচ গুঁড়া, গুঁড়া দুধ ও ময়দা যুক্ত করে ভালো করে নেড়ে মিশিয়ে নিন।৩. মিশ্রণটি আঠালো ও নাড়ু বাঁধার মতো উপযুক্ত হলে চুলা থেকে নামিয়ে কিছুটা ঠান্ডা হতে দিন।৪. এবার হাতের তালুতে সামান্য ঘি মেখে নিয়ে সামান্য ইষদুষ্ণ গরম থাকা অবস্থাতেই অল্প অল্প করে মিশ্রণ নিয়ে গোল গোল আকৃতিতে নাড়ু গড়ে নিন। উপর থেকে ছড়িয়ে দিতে পারেন কাঠবাদাম কুচি।নাড়ুগুলো পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার পর একটি এয়ার টাইট কাচের বয়ামে সংরক্ষণ করুন। এভাবে সঠিক নিয়মে রাখলে বেশ কিছুদিন নাড়ু চমৎকার ও সতেজ থাকে।

বিএনপিতে পদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে প্রতারণা, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গ্রেফতার

বিএনপিতে পদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে প্রতারণা, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গ্রেফতার

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের স্টাফ পরিচয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে নাটোরের সিংড়া থেকে আবু হুরায়রা ওরফে খালেদ ওরফে রাসেদ (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আবু হুরায়রা সিংড়া শহরের বালুয়া বাসুয়া মহল্লার জিয়াদুল ইসলামের ছেলে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সিংড়া পৌর শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার শরিফুল হক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে হোয়াটসঅ্যাপ, বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, সরকারি চাকরিজীবী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। এ সময় নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের স্টাফ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়া এবং বিএনপির রাজনৈতিক পদে পদায়ন বা মনোনয়ন দেওয়ার আশ্বাস দিতেন। পুলিশ সুপার জানান, গত ১৯ অক্টোবর বিকাল ৩টা ১১ মিনিটে সিংড়ায় নিজের বাড়ি থেকে হোয়াটসঅ্যাপে মো. কাদের গনি চৌধুরীকে ফোন করে রাজনৈতিক পদে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। একইভাবে ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিনের কাছেও অর্থ দাবি করা হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের নজরে এলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালায় নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। পরে সিংড়া থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় সিংড়া থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream