বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

আন্তর্জাতিক

গাজায় সহায়তা বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা কী: ম্যাক্রোঁ

গাজায় সহায়তা বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা কী: ম্যাক্রোঁ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত না হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কি শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি দেখবে?’জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এসব কথা বলেন ম্যাক্রোঁ। ট্রাম্প তার গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে একই মঞ্চে তুলে ধরার কয়েক ঘণ্টা পর ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য আসে।ম্যাক্রোঁ বলেন, কেউ কেউ কথিত শান্তির কথা বলছেন। কিন্তু সেই শান্তি গাজায় এক সেকেন্ডের জন্যও মানবিক প্রবেশাধিকার পুনরায় চালু করতে পারেনি। এরপর তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, আমরা কি শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এমন একটি দৃশ্য দেখব, যা আমাদের সবার জন্য লজ্জার?জাতিসংঘের মঞ্চে নিজের শেষ ভাষণে গাজার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেন তিনি। এক বছর আগে একই মঞ্চে প্রায় এক ডজন দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তখন অনেকে বলেছিলেন, স্বীকৃতি শুধু কাগজের টুকরো। কিন্তু গাজার পরিস্থিতিতে নিষ্ক্রিয় থাকলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে বলে সতর্ক করেন ম্যাক্রোঁ।গাজার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। সেখানে প্রতিদিন নানা ধরনের লঙ্ঘন ঘটছে বলে মন্তব্য করেন ম্যাক্রোঁ। ‘এসব কর্মকাণ্ড কার নামে করা হচ্ছে? হামাস তো কখনো পশ্চিম তীরে কার্যক্রম পরিচালনা করেনি’,এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। পশ্চিম তীরের চলমান পরিস্থিতি ফিলিস্তিনিদের বৈধ অস্তিত্বের অধিকারকে সম্মান করে কোনো রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে প্রতিদিন আরও কঠিন করে তুলছে বলেও জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট।গত এক বছরে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিষয়ে ফ্রান্স তার অবস্থান কঠোর করেছে। দেশটি কিছু জাতীয় নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে।ইসরায়েলের সঙ্গে ফ্রান্সের সম্পর্ক গত এক বছরে বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। ম্যাক্রোঁ বলেন, ইসরায়েলের প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলেই দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এমন ধারণা ভুল। বরং এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসরায়েলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাকে দুর্বল করছে।ম্যাক্রোঁর সমালোচনার জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি ট্রাম্পের গাজা নীতির পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ শেষ করেছেন, জীবিত সব জিম্মিকে মুক্ত করেছেন এবং নিহত জিম্মিদের মরদেহ স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি গাজায় ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নেতৃত্বও তিনি দিচ্ছেন বলে দাবি করেন হোয়াইট হাউস। তাদের ভাষ্য, অন্যরা যখন শুধু কথা বলছে, তখন ট্রাম্প জটিল এই সংকট সরাসরি মোকাবিলা করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য তার মতো আর কেউ এত বেশি কাজ করেননি বলেও দাবি করা হয়।২০১৭ সালে প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বক্তব্য দিয়েছিলেন ম্যাক্রোঁ। আগামী বছরের মে মাসে তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ফলে মঙ্গলবারের ভাষণটি ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর শেষ বক্তব্য।ভাষণে তিনি বিশ্বে শক্তি ও জবরদস্তির ওপর নির্ভরশীল নতুন ব্যবস্থা গড়ে ওঠার বিষয়ে সতর্ক করেন। তার মতে, বিশ্বকে এমন একটি ব্যবস্থা বেছে নিতে হবে, যেখানে ক্ষমতার বদলে একটি ‘সভ্য আন্তর্জাতিক সমাজ’ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি হবে। ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি, জাতিসংঘের পাশে দাঁড়ানো। কেউ কেউ যে দায়মুক্তির নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান, আমরা তা মেনে নিতে পারি না।’ভাষণের শেষে জাতিসংঘের প্রতি নিজের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ দীর্ঘজীবী হোক।’

নিউইয়র্কে বিল-হিলারির সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাৎ

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটনের সঙ্গে নিউইয়র্কে ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের ২০২৬ সালের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে সাক্ষাৎ করেছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সম্মেলনে তাকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অধ্যাপক ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ ধারণার শুরুর দিকের সমর্থকদের একজন ছিলেন বিল ক্লিনটন। আরকানসাসের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় (১৯৭৯–১৯৮১ এবং ১৯৮৩–১৯৯২) তিনি অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে কাজ করেন। সে সময় আরকানসাসে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ মডেল কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, তা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ কর্মসূচি গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে যায়।ক্ষুদ্রঋণের অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে হিলারি ক্লিনটনের নামও উল্লেখ করা হয়। নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দারিদ্র্য মোকাবিলায় ক্ষুদ্রঋণের ভূমিকার কথা তিনি বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরেছেন।১৯৯৫ সালে মেয়ে চেলসিকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসে গ্রামীণ ব্যাংক পরিদর্শন করেছিলেন হিলারি ক্লিনটন। ওই সময় তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম এবং এর মাধ্যমে নারী ও তাঁদের পরিবারের ওপর তৈরি হওয়া প্রভাব সম্পর্কে ধারণা নেন।

নিউইয়র্কে বিল-হিলারির সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাৎ

ভারতের পর ট্রাম্পপুত্রদের বিনিয়োগের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক চুক্তি

পাকিস্তান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলেদের বিনিয়োগ করা ড্রোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পাওয়ারাসের সঙ্গে সামরিক সমঝোতা চূড়ান্ত করেছে। তবে ইতিমধ্যে ভারতের সঙ্গেও সংস্থাটির একগুচ্ছ চুক্তি রয়েছে। এছাড়াও প্রতিষ্টানটির অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাবেক ইসরায়েলি সেনা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের সেনা প্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদলের বৈঠকের পরদিন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। কোম্পানিটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্পের বিনিয়োগ থাকলেও তাদের পক্ষ থেকে ব্যবসায়িক পরিচালনায় কোনো ভূমিকা না থাকার কথা জানানো হয়েছে।এর আগে জুন মাসে ভারতের পরাশ ডিফেন্স এন্ড স্পেস টেকনোলজিসকে তাদের তৈরি গার্ডিয়ান ড্রোনের প্রস্তুত ও বিক্রির একচ্ছত্র লাইসেন্স দেয় সংস্থাটি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত একই কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত থাকার পরও পাকিস্তানের এমন চুক্তিকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং অস্বাভাবিক বলে অভিহিত করেছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।পাকিস্তান ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার না করলেও পাওয়ারাসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জিব মারোম সাবেক ইসরায়েলি সেনা এবং সংস্থাটির অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ কৌশলগত প্রয়োজনীয়তার চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির একটি মাধ্যম হতে পারে।দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি ইতিমধ্যে চীন ও তুরস্ক থেকে উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন এবং নিজস্ব শাহপার-টু সিস্টেম ব্যবহার করছে। তবুও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই নতুন প্রতিষ্ঠানে চুক্তি করার পেছনে প্রযুক্তিগত সুবিধার পাশাপাশি মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।সূত্র: আল জাজিরা

ভারতের পর ট্রাম্পপুত্রদের বিনিয়োগের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক চুক্তি

গাজা ও পশ্চিম তীরে নিষ্ক্রিয় থাকবে না যুক্তরাজ্য: বার্নহাম

যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে চরম দুর্ভোগ বাড়তে থাকা এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের ওপর আঘাত আসার পরিস্থিতিতে নিষ্কর্মা হয়ে বসে থাকবে না। এটা বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। টিআরটি ওয়ার্ল্ড বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এই খবর নিশ্চিত করেছে।বার্নহাম নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে জানান, অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর ওপর সম্প্রতি যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে আন্তর্জাতিক আইনে ইসরায়েলের এই দখলদারিত্ব সম্পূর্ণ বেআইনি।৭ অক্টোবরের হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই ঘটনা কোনোভাবেই গাজা কিংবা পশ্চিম তীরে ইসরায়েল সরকারের কর্মকাণ্ডকে যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ করে না, যেখানে অসংখ্য শিশুসহ বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।বার্নহাম আরও জানান, দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান নষ্ট হওয়ার মুখে নীরব না থেকে বিশ্বনেতাদের রূপরেখা অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় বিশ্বজুড়ে বিশ্বাস ও আস্থা পুরোপুরি বিনষ্ট হবে।প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো রক্ষায় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করা হচ্ছে, যাতে এ ধরনের প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্তগুলো অনিশ্চয়তার ওপর ছেড়ে দেওয়া না হয়।রাশিয়ার কাছ থেকে আসা নিরাপত্তা হুমকির কথা তুলে ধরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেন, যুক্তরাজ্য অহেতুক উসকানিমূলক বক্তব্য এড়িয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার অব্যাহত রাখবে, তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা আতঙ্কিত না হয়ে প্রস্তুত থাকবেন।সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

গাজা ও পশ্চিম তীরে নিষ্ক্রিয় থাকবে না যুক্তরাজ্য: বার্নহাম

আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সকে খামেনির হাতে লেখা চিঠি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি ইসলামিক রিভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের ‘ক্লান্তিহীন প্রচেষ্টার’ ভূয়সী প্রশংসা করে সংস্থাটিকে একটি হাতে লেখা চিঠি পাঠিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডারকে উদ্দেশ্য করে লেখা খামেনির ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘আপনি আপনার এবং আপনার নিরহংকার সহযোদ্ধাদের অক্লান্ত পরিশ্রম নিয়ে খুব কমই লিখেছেন—সৎ মানুষের স্বভাব এমনই হয়ে থাকে।’হাতে লেখা বার্তাটিতে খামেনি আরও উল্লেখ করেন, ঐশ্বরিক করুণা ও প্রজ্ঞার গুণে নিষ্ঠাবান ব্যক্তিদের কাজের ফলস্বরূপ আল্লাহ তাদের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান এবং অপার বরকত ও বিজয় দান করবেন।সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সকে খামেনির হাতে লেখা চিঠি

রাশিয়া হামলা বন্ধ করলে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে’ রাজি ইউক্রেন

ইউক্রেন ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ করতে প্রস্তুত যদি রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ, উত্তাপ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা চালানো বন্ধ করে। এ কথা বলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পৃথক বৈঠকের পর তিনি এই সম্মতির কথা জানান।টেলিগ্রাম ও এক্সে দেওয়া বার্তায় জেলেনস্কি ট্রাম্পের সঙ্গে ৪০ মিনিটের আলোচনাকে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, উভয় দেশই শীত মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই এই অর্থহীন যুদ্ধের অবসান চায় এবং কূটনৈতিক পথ সুগম করতে সম্ভাব্য উত্তেজনা হ্রাসের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে ইউক্রেন একতরফাভাবে আক্রমণ বন্ধ করবে বা রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে—এমন কোনো সম্ভাবনা তিনি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বৈশ্বিক ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকট নিয়ে চিন্তিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠকের আগেই জানান, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বাড়ছে, যা নিয়ে তারা সমাধান খুঁজছেন। ক্রেমলিনও পূর্বে মার্কিন জ্বালানি বিরতির প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও তাদের সামুদ্রিক জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি তুলেছিল।আগামী শীতে সম্ভাব্য রুশ বিমান হামলা থেকে রক্ষা পেতে জেলেনস্কি ট্রাম্পের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নতুন চালান চেয়েছেন। মার্কিন সংকট মেটাতে তিনি প্রস্তাব দেন, ২০২৭ ও ২০২৮ সালে জার্মানির কাছ থেকে ইউক্রেনের ৬০০টি প্যাট্রিয়ট পাওয়ার কথা রয়েছে, তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজস্ব মজুত থেকে ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্র দিলে পরবর্তীতে জার্মানির সরবরাহ থেকে তা যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত দেওয়া হবে। ট্রাম্প প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করলেও এখনো চূড়ান্ত সম্মতি দেননি।একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে জানান, গোয়েন্দা তথ্যানুসারে রাশিয়া যেকোনো সময় ইউক্রেনের ওপর আবার বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে পারে। ২০ সেপ্টেম্বর ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে মস্কো তেল শোধনাগারের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, অন্যদিকে ১৫ সেপ্টেম্বর রাশিয়া প্রায় ২০০টি ড্রোন দিয়ে কিয়েভের পেট্রোল পাম্প ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে আঘাত হানে।যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন জ্বালানি যুদ্ধবিরতির পক্ষে জোর তদ্বির করেছেন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেনকে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে আরও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।সূত্র: আল জাজিরা

রাশিয়া হামলা বন্ধ করলে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে’ রাজি ইউক্রেন

জ্বালানি সরবরাহ বাড়ায় আরও কমলো তেলের দাম

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন পুনরায় চালু হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধিতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও কমেছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) টানা ষষ্ঠ সেশনের মতো কমে অপরিশোধিত তেলের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলে ১ দশমিক ০৯ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ১৬ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১ দশমিক ৫০ ডলার বা ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে ৮৯ দশমিক ০১ ডলারে নেমে আসে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ধ্বংসের হুমকি দিলেও তার প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানি প্রতিনিধিদের সাথে ইতিবাচক আলোচনা করেছেন বলে জানান। নিউ ইয়র্কে এই বৈঠকের পর বাজারে প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাত অবসানের আশা দেখা দেওয়ায় মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবারের মতো ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে।এবার প্রতি লিটারে জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়াল সরকারএবার প্রতি লিটারে জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়াল সরকারইরাকি মিলিশিয়াদের ড্রোন হামলার কারণে গত ১১ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ৪ শতাংশ অর্থাৎ দৈনিক ৪০ লাখ ব্যারেল তেল ইয়ানবু বন্দরে পাঠানোর এই ব্যবস্থাটি মঙ্গলবার পুনরায় চালু করা হয়, যা বাজারে সরবরাহ সংক্রান্ত স্বস্তি বাড়িয়েছে।এর পাশাপাশি ইরাকের তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ জানান, তাদের দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বেড়ে দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেল অতিক্রম করেছে এবং তুরস্কের মাধ্যমে তা দৈনিক ৬ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ১৮ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যারেল বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানির বাজারে মন্দাভাব আরও জোরদার হয়েছে।সূত্র: রয়টার্স

জ্বালানি সরবরাহ বাড়ায় আরও কমলো তেলের দাম

নিউইয়র্কে একের পর এক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

একাধিক সাইডলাইন বৈঠকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে থাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যস্ত সময় পার করছেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে এসব বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ। এ সময় রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ। বৈঠকে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।এদিকে নিউইয়র্কের তুর্কি হাউসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা।আলোচনায় অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা উঠে আসে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন দুই নেতা।এ ছাড়া জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক করেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও হাইতির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। পারস্পরিক কল্যাণে সহযোগিতা আরও জোরদার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন তারা।

নিউইয়র্কে একের পর এক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জামায়াতের ইসলামাবাদমুখী লং মার্চ ঠেকাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জামায়াতে ইসলামীর ইসলামাবাদমুখী লং মার্চ স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন। পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে চলমান এই মার্চ নিয়ে তিনি জামায়াতের আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানকে ফোন করে এ অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি কর বিষয়ে দলটির সঙ্গে অর্থবহ আলোচনায় বসার প্রস্তাবও দিয়েছেন।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল এক মুখপাত্রের বরাতে জানিয়েছে, মুলতানে পৌঁছানোর পর জামায়াতের আমিরকে ফোন করেন শেহবাজ শরিফ। সে সময় তিনি মার্চ স্থগিত রাখার অনুরোধ করেন।জবাবে হাফিজ নাঈম বলেন, সরকারকে সংঘাত বা আইনশৃঙ্খলার অবনতির মুখে ফেলা তাদের উদ্দেশ্য নয়। জনগণের সমস্যা তুলে ধরতেই তারা রাস্তায় নেমেছেন। প্রতিবাদ করার অধিকার সরকারকে সম্মান করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলের কেন্দ্রীয় শুরার সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। মার্চ স্থগিত হলেও প্রতিবাদের অধিকার ছাড়বে না জামায়াত।পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে হাফিজ নাঈমের নেতৃত্বে ট্রেন মার্চ সোমবার গভীর রাতে মুলতানে পৌঁছায়। রেলস্টেশনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, ট্রেন চার ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছালেও সমর্থকদের স্বাগত জানানো ঠেকানো যায়নি। যারা ষড়যন্ত্র করেছিল, তারা দেখুক মুলতানে কত মানুষ বেরিয়ে এসেছে। বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার বিভিন্ন শহরেও একইভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এখন মার্চ দক্ষিণ পাঞ্জাব হয়ে মধ্য পাঞ্জাবের দিকে এগোবে।সরকারকে উদ্দেশ করে জামায়াতের আমির বলেন, রাস্তায় কনটেইনার ফেলে বা বাধা দিয়ে এই মার্চ থামানো যাবে না। পেট্রোলিয়াম লেভির মধ্যে থাকা ‘চাঁদাবাজির কর’ প্রত্যাহার এবং জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি। দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের সমস্যা তুলে ধরছেন বলে উল্লেখ করে হাফিজ নাঈম অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলো এসব বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। গম, আটা ও চিনির দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আটা ও চিনি ব্যবসায়ীদের প্রভাব রয়েছে দলগুলোর মধ্যে। চিনি আমদানি-রপ্তানির নীতিতেও অসঙ্গতি আছে।স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের সঙ্গে সরকারের চুক্তি নিয়ে আগের আন্দোলনের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ওই সময়ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার কথা বলেছিলেন জামায়াত।গত রোববার করাচি থেকে শুরু হওয়া এই লং মার্চ ট্রেন ও সড়কপথে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ইসলামাবাদের দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর আগে দলটি দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনাও হয়েছে। মুলতানের পর বহর লাহোরের দিকে যাবে। এরপর ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হবেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

জামায়াতের ইসলামাবাদমুখী লং মার্চ ঠেকাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ কর্মী ভিসায় বদল, জানুন নতুন নিয়ম

অস্ট্রেলিয়ায় নতুন ব্যবস্থায় সব আবেদন একই ক্রমে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে না। দক্ষ কর্মী হিসেবে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন আবেদনকারীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণে নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থা চালু করেছে দেশটির সরকার। আবেদনকারীর পেশা বা কর্মখাত, আবেদন করার সময় তিনি অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন কি না এবং কোন ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করেছেন- এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আবেদন প্রক্রিয়াকরণের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।নতুন এই ব্যবস্থা ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে আগের মন্ত্রী পর্যায়ের নির্দেশনা ১১৯-এ নির্ধারিত প্রক্রিয়াকরণ অগ্রাধিকার ব্যবস্থা প্রতিস্থাপিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন নির্দেশনায় ভিসার যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তন করা হয়নি। অর্থাৎ কে ভিসার জন্য যোগ্য হবেন, সেই বিষয়টি আগের নিয়মেই নির্ধারিত হবে। নতুন ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো-যোগ্য আবেদনগুলোর মধ্যে কোন আবেদন আগে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে, তা নির্ধারণ করা।যেসব খাতের আবেদন পাবে অগ্রাধিকারমন্ত্রী পর্যায়ের নির্দেশনা ১২১ অনুযায়ী, অস্থায়ী দক্ষ কর্মী ভিসার ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে-নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষকতা ও শিক্ষা, কৃষি, অ্যাকুয়াকালচার বা জলজ চাষ, মৎস্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ বা রিসোর্স খাত।এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রতিরক্ষা খাতের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত আবেদনও অগ্রাধিকার পাবে।ফলে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় কাজের জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুকদের ক্ষেত্রে নিজের পেশা বা চাকরির ক্ষেত্রটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।৪৮২ ভিসায় পরবর্তী অগ্রাধিকারঅস্থায়ী দক্ষ কর্মী ভিসার ক্ষেত্রে পরবর্তী অগ্রাধিকার দেওয়া হবে স্কিলস ইন ডিমান্ড ভিসা বা সাবক্লাস ৪৮২-এর স্পেশালিস্ট স্কিলস স্ট্রিমের আবেদনগুলোকে।এরপর আবেদনকারীর অবস্থান বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারী অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন নাকি দেশের বাইরে ছিলেন-সেটিও প্রক্রিয়াকরণের অগ্রাধিকারে প্রভাব ফেলবে।অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আবেদনকারীদের আবেদন আগে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে করা আবেদন পরবর্তী পর্যায়ে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।এর অর্থ হলো, বাংলাদেশে অবস্থান করে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ কর্মী ভিসার আবেদন করলে একই ধরনের কোনো আবেদনের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আবেদনকারীর আবেদন আগে প্রক্রিয়াকরণ হতে পারে।তবে বিদেশ থেকে করা আবেদন সংশ্লিষ্ট অগ্রাধিকার শ্রেণিতে পড়তে হলে সেটি অন্য কোনো ব্যক্তির আবেদনের সঙ্গে একত্রিত করা থাকা যাবে না। এসব অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত আবেদন প্রক্রিয়াকরণের পর অন্যান্য আবেদন বিবেচনা করা হবে।পুরোনো ৪৮২ ভিসা নিয়ে যা জানা দরকারনতুন নির্দেশনায় স্কিলস ইন ডিমান্ড ভিসা (সাবক্লাস ৪৮২)-এর পাশাপাশি আগের টেম্পোরারি স্কিল শর্টেজ (টিএসএস) ভিসা বা সাবক্লাস ৪৮২-এর কথাও উল্লেখ রয়েছে।তবে টিএসএস ভিসার পরিবর্তে ৭ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে স্কিলস ইন ডিমান্ড ভিসা চালু করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে সাবক্লাস ৪৮২-এর ক্ষেত্রে নতুন ভিসা কাঠামোই কার্যকর।স্থায়ী ভিসাতেও নতুন অগ্রাধিকারশুধু অস্থায়ী দক্ষ কর্মী ভিসা নয়, স্থায়ী ভিসার আবেদনেও নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে।স্থায়ী ভিসার ক্ষেত্রে নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষকতা ও শিক্ষা, কৃষি, অ্যাকুয়াকালচার, মৎস্য এবং রিসোর্স খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত আবেদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রতিরক্ষা খাতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আবেদনও অগ্রাধিকার পাবে।এরপর অগ্রাধিকার দেওয়া হবে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত অবস্থায় জমা দেওয়া আবেদনকে। তার পরের পর্যায়ে থাকবে এমন আবেদন, যেখানে প্রধান আবেদনকারী আবেদন করার সময় অস্ট্রেলিয়ার বাইরে ছিলেন।এ ক্ষেত্রেও কোনো আবেদন অন্য ব্যক্তির আবেদনের সঙ্গে একত্রিত থাকলে সংশ্লিষ্ট অগ্রাধিকার প্রযোজ্য হবে না।আগে আবেদন করা ব্যক্তিদের কী হবে?নতুন নিয়ম ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হলেও এটি শুধু ওই তারিখের পর জমা দেওয়া আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এর আগে জমা দেওয়া এবং বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন আবেদনগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন প্রক্রিয়াকরণ অগ্রাধিকার প্রযোজ্য হবে।অর্থাৎ, আগে আবেদন করেছেন এমন বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থার প্রভাব পড়তে পারে।ভিসা পেতে কত সময় লাগবে?নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থায় কোনো আবেদন তুলনামূলকভাবে আগে প্রক্রিয়াকরণ করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভিসা পাওয়া যাবে-এমন নিশ্চয়তা নেই।অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দেওয়া হয়েছে কি না, অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হলে আবেদনকারী কত দ্রুত তা সরবরাহ করছেন, স্বাস্থ্য ও চরিত্র যাচাই সম্পন্ন হতে কত সময় লাগছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রয়োজন হচ্ছে কি না।এ ছাড়া আবেদনের জটিলতা এবং সংশ্লিষ্ট সময়ে কতসংখ্যক আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তার ওপরও প্রক্রিয়াকরণের সময় নির্ভর করতে পারে।স্থায়ী ভিসার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের অধীনে নির্দিষ্ট ভিসা স্থান বা কোটা কতটা রয়েছে, সেটিও প্রক্রিয়াকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তাঅস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ কর্মী হিসেবে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে শুধু নিজের পেশা ভিসার জন্য যোগ্য কি না, সেটিই বিবেচনা করার বিষয় নয়। নিজের পেশা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের মধ্যে পড়ে কি না, আবেদন করার সময় আবেদনকারী কোথায় অবস্থান করছেন এবং আবেদনটি প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি দিয়ে সঠিকভাবে সম্পূর্ণ করা হয়েছে কি না-এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।তবে কোনো আবেদন অগ্রাধিকার পেলেই ভিসা নিশ্চিত হবে না। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ভিসার যোগ্যতার শর্ত, প্রয়োজনীয় নথি, স্বাস্থ্য ও চরিত্রসংক্রান্ত শর্তসহ অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য অভিবাসন বিধি পূরণ করতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ কর্মী ভিসায় বদল, জানুন নতুন নিয়ম

দরপতন থামিয়ে ফের বাড়ল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা কয়েকদিন দরপতনের পর তেলের দাম সামান্য বেড়েছে। বাজার স্থিতিশীল হওয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক পরিস্থিতির দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকায় তেলের দামে এ ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (সেপ্টেম্বর ২২) জিএমটি সময় রাত ১২টা ২১ মিনিট পর্যন্ত নভেম্বরের জন্য ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ২২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ৫৭ সেন্টে পৌঁছেছে।এদিকে, মঙ্গলবার মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া অক্টোবরের জন্য ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড কনট্রাক্ট ২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ ডলার ৮০ সেন্টে লেনদেন হয়েছে।পাশাপাশি অধিক পরিমাণে বেচাকেনা হওয়া নভেম্বরের ডব্লিউটিআই কনট্রাক্ট ১৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯২ ডলার ৪৯ সেন্ট হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

দরপতন থামিয়ে ফের বাড়ল তেলের দাম

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বড় অভিযান, আটক ৫৭ হাজার

মালয়েশিয়াজুড়ে অভিযান চালিয়ে চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। এ সময় সারাদেশে ৯ হাজার ৭০০টির বেশি অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপমহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে কুয়ালালামপুরের একটি আবাসিক এলাকায় সমন্বিত অভিযান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে লোকমান এফেন্দি জানান, ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৬০ দিনে সারাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৩৭টি করে অভিযান পরিচালিত হয়েছে।তিনি জানান, আটক হওয়া ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে ৩৫ হাজারের বেশি জনকে অভিবাসন বিভাগের নিজস্ব অভিযানে আটক করা হয়। বাকি ২২ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে দেশের বিভিন্ন প্রবেশপথে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় আটক করা হয়েছে।অভিযানে মূলত তিনটি প্রধান অপরাধ শনাক্ত করা হয়েছে—বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়া বসবাস, নির্ধারিত ভিসার মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান এবং ওয়ার্ক পারমিটের শর্ত ভেঙে ভিন্ন খাতে কাজ করা।লোকমান এফেন্দি সতর্ক করে বলেন, এই অভিযান কেবল অবৈধ কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; যেসব নিয়োগকর্তা অবৈধ জেনেও তাঁদের কাজে নিচ্ছেন কিংবা যেসব বাড়ির মালিক তাঁদের কাছে বাসা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাড়া দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১ হাজার ৭২০ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ছয়টি।সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে অভিবাসন বিভাগের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, অবৈধ অভিবাসী বা কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন। বরং ছবি ও সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ অবিলম্বে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি, যাতে সুশৃঙ্খলভাবে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বড় অভিযান, আটক ৫৭ হাজার

ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)-এর ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে। ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রা  বিরতির পর স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৬টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বাসস'কে একথা জানিয়েছেন। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটরশোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হাইয়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপি নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা `হাইয়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলের সামনে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন হাতে মিছিল এবং স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান `হাইয়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলেই  অবস্থান করবেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ছাড়াও সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, মিশিগান, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে আসা নেতাকর্মীসহ নিউইয়র্কস্থ বিএনপি নেতা-কর্মীরা দুপুর থেকেই তাদের প্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আশপাশের এলাকায় ভীড় জমাতে থাকেন।এ সময় তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন হাতে নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। মাঝেমধ্যে স্লোগান ধরেন- ' প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম। 'নেতাকর্মীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধুমাত্র একটি প্রটোকলভিত্তিক সমাবেশ নয়, বরং বৈশ্বিক নীতিনির্ধারক ও মার্কিন মহলের সামনে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরার এক উন্মুক্ত মঞ্চ।আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তার ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুমুখী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কার প্রাধান্য পাবে।প্রধানমন্ত্রীর ​সফরসূচি:​২২ সেপ্টেম্বর: ​এদিন সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাদের জীবনসঙ্গীদের জন্য স্বাগত প্রাতরাশ।​ইউএনজিএ-এর ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগদান।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ার ফিলস-আইমে-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।​জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান বৈশ্বিক বিষয়াবলি কর্মকর্তা জোয়েল কাপলানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ।​সন্ধ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ।​২৩ সেপ্টেম্বর: ​জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে প্রাতরাশ বৈঠক।​রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে  উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ। 'জলবায়ু পদক্ষেপ এবং ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর' শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ গ্রহণ ।ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। বোয়িং গ্লোবাল-এর প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান।​২৪ সেপ্টেম্বর: ​সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য প্রদান। ​পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।​মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য।জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সাথে বৈঠক।​জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ: নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে (সময় পরিবর্তন হতে পারে)। তার জন্য বরাদ্দকৃত সময় ১৫ মিনিট।এরপর ​রাতে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে নৈশভোজে অংশগ্রহণ।২৫ সেপ্টেম্বর: ​জেপিমরগান হেডকোয়ার্টার্সে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সাথে প্রাতরাশ বৈঠক।​কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।​ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জাইদ আল হুসেইনের সাথে মধ্যাহ্নভোজ।​যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের সাথে মতবিনিময়।​রাত ১১ টায় (নিউইয়র্ক সময়) এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ​প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।বাবা-মায়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে আসা অনন্য নজির স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী

শ্রীলঙ্কায় মিলল সবচেয়ে বড় গণকবর, উদ্ধার ৫৭২ কঙ্কাল

একটি শ্মশান সম্প্রসারণের কাজ চলছিল উত্তর শ্রীলঙ্কার জাফনা অঞ্চলের চেম্মানি এলাকায়। হঠাৎ মানবদেহের অবশিষ্টাংশ মাটি খুঁড়তে গিয়ে শ্রমিকেরা দেখতে পান। এরপর শুরু হয় তদন্ত এবং প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ চালানো হয়। আগস্টের মধ্যে খননের তৃতীয় ধাপ শেষ হয়েছে। এতে শিশু ও নবজাতকসহ মোট ৫৭২ জনের কঙ্কালাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এটিকে শ্রীলঙ্কায় আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় গণকবর বলে মনে করা হচ্ছে।চেম্মানিতে গণকবর থাকার কথা আগে থেকেই জানা ছিল। গৃহযুদ্ধের সময় এক তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় দোষী সাব্যস্ত এক সেনাসদস্য আদালতে জানিয়েছিলেন, নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে সেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে কবর দেওয়া হয়েছিল। অধিকারকর্মীদের ধারণা, এসব মরদেহের মধ্যে গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ হওয়া বেসামরিক মানুষও থাকতে পারে। ১৯৯৮ সালে চেম্মানিতে প্রথম খনন করে ১০টির বেশি মানব কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সেই আবিষ্কার বা অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো বিচার হয়নি।এবারের গণকবরটি এমন একটি এলাকায় পাওয়া গেছে, যেটি গৃহযুদ্ধের সময় কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৯৯৬ সালে জেয়ারুবি জয়পালানের বাবা কান্দাইয়া জয়পালানকে চেম্মানির কাছে একটি সেনা চেকপয়েন্ট থেকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। জেয়ারুবি মনে করেন, নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে তার বাবাসহ নিখোঁজ হাজারো মানুষের ভাগ্য সম্পর্কে উত্তর পাওয়া যেতে পারে। একই এলাকায় ১৮ বছর বয়সী তামিল স্কুলছাত্রী কৃষান্তি কুমারস্বামীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাও ঘটেছিল। পরে ওই মামলায় পাঁচ সেনাসদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং তাদের মরদেহ চেম্মানি এলাকায় পাওয়া যায়।বর্তমান গণকবর নিয়ে তামিলদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ও ন্যায়বিচারের দাবি তৈরি হয়েছে। অনেকের বিশ্বাস, এখানে গৃহযুদ্ধের সময় বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার মানুষের দেহাবশেষ থাকতে পারে। শ্রীলঙ্কা মানবাধিকার কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাফনগুলো অবৈধ ছিল এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। দেহাবশেষগুলোর অনেকগুলো কাপড়বিহীন অবস্থায়, ঘনভাবে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটির ওপর আরেকটি স্তূপ করে অগভীর গর্তে পাওয়া গেছে। তবে এখনো ডিএনএ পরীক্ষা হয়নি। তাই উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় বা মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হয়নি।শ্রীলঙ্কায় ১৯৮৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চলা গৃহযুদ্ধে আনুমানিক এক লাখ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ২৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ হন। নিরাপত্তা বাহিনী ও তামিল টাইগার উভয়ের বিরুদ্ধেই নৃশংসতা ও অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েক দশকে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ২০টির বেশি গণকবর পাওয়া গেলেও কোনোটিকেই নিশ্চিতভাবে জোরপূর্বক গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা যায়নি এবং কোনো ক্ষেত্রেই বিচার হয়নি। ২০১৮ সালে মান্নারে পাওয়া আরেকটি গণকবরে ৩৫০টির বেশি কঙ্কাল পাওয়া গেলেও তদন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।চেম্মানির দেহাবশেষগুলো এখন জাফনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক বিভাগের কাছে আদালতের হেফাজতে রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ববিদেরা অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন তৈরি করছেন। দেহাবশেষের বয়স ও মৃত্যুর কারণ জানতে আরও পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে কিছু নমুনা বিদেশেও পাঠানো হতে পারে। সরকার বলছে, তারা তদন্তে সহযোগিতা করছে এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করবে। তবে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী বেসামরিক মানুষকে হত্যা করে চেম্মানিতে কবর দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, সব অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে হবে।সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, এই ৫৭২ জন আসলে কারা ছিলেন, কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছিল এবং এর মধ্যে গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ হওয়া মানুষের সংখ্যাই বা কত? তবে এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। এদিকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ, মৃত্যুর কারণ উন্মোচন ও দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। ফলে নিখোঁজদের স্বজনরা বহু বছর ধরে যে সত্যের সন্ধান করছেন, এই গণকবরের নিরপেক্ষ তদন্ত তাদের কাছে সেই উত্তর পাওয়ার একটি বড় সুযোগ হয়ে উঠেছে।সূত্র: বিবিসি

শ্রীলঙ্কায় মিলল সবচেয়ে বড় গণকবর, উদ্ধার ৫৭২ কঙ্কাল

ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচনে বড় জয় ইউনাইটেড রাশিয়ার

বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়েছে রাশিয়ার সাধারণ নির্বাচনে ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া। স্থানীয় সময় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর)ভোরে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ২০২২ সালে মস্কো ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর এটিই রাশিয়ার প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। যুদ্ধ এখনো চলছে। ভোট চলাকালেই সাইবার হামলা ও ড্রোন হামলা চালিয়ে গেছে ইউক্রেন। এবার নির্বাচনে যুদ্ধবিরোধী কোনো দলকে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে ভোটের কয়েক সপ্তাহ আগে ইয়াবলোকো পার্টির প্রতীক ব্যালট থেকে বাদ দেওয়া হয়। রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনের অঞ্চলগুলোতেও ভোট হয়েছে।৭১ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে ইউনাইটেড রাশিয়া পেয়েছে ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ। কমিউনিস্ট পার্টি পেয়েছে ১৪ শতাংশ এবং এলডিপিআর ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিল, ক্ষমতাসীন দল স্টেট ডুমার ৪৫০টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখবে। এতে তারা সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা পাবে।রোববার ভোট গ্রহণের শেষ দিনে ইউক্রেন মস্কো ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ড্রোন হামলা চালায়। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, যুদ্ধ শুরুর পর এটিই মস্কোর ওপর সবচেয়ে বড় হামলা। প্রায় ১৬০০টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে ৪৫০টি সরাসরি মস্কোকে লক্ষ্য করে। এতে দুজন নিহত হন এবং একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগে। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, নিহতদের একজন ৪৪ বছর বয়সী নারী এবং অন্যজন বয়স্ক পুরুষ।ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ হামলার প্রশংসা করে বলেন, মস্কো অঞ্চলে দূরপাল্লার পাল্টা হামলার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে। রাশিয়া এর জবাবে কিয়েভে আরও তীব্র হামলার হুমকি দিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়ার ভেতরে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জবাবে তারা কিয়েভের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আরও নির্ভুল ও তীব্র হামলা চালাবে।একই সময়ে রাশিয়া ইউক্রেনের দুটি পণ্যবাহী জাহাজ, ইজমাইল বন্দর এবং একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।সাইবার হামলার খবর থাকলেও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এলা পামফিলোভা জানান, তিন দিনব্যাপী ভোট গ্রহণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, অত্যন্ত দক্ষ গোষ্ঠীগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এসব হামলা চালিয়ে থাকতে পারে।কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা কমেনি, বরং বেড়েছে। এদিকে জেলেনস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ট্রাম্প কিয়েভকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।ক্রেমলিন এ ফলাফলকে পুতিনের নীতি ও যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে দেখাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে এবং শিগগির শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।

ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচনে বড় জয় ইউনাইটেড রাশিয়ার

মসজিদুল হারামের প্রবীণ মুয়াজ্জিন ইবরাহিম আল-মাদানি আর নেই

প্রবীণ মুয়াজ্জিন মসজিদুল হারামের শায়খ ইবরাহিম বিন আদেল আল-মাদানি ইন্তেকাল করেছেন। তার মৃত্যুর খবর হারামাইন শরিফাইনের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টের পোস্টে নিশ্চিত করা হয়েছে। মক্কা নগরীতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ফজরের ওয়াক্তে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শায়খ ইবরাহিম মাদানি মসজিদুল হারামের মুকাব্বিরিয়ার অন্যতম সদস্য ছিলেন। মুকাব্বিরিয়ায় দায়িত্ব পালনকারী মুয়াজ্জিনরা আজান দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনমতো ইমামের তাকবির মুসল্লিদের কাছে পৌঁছে দেন। পবিত্র মসজিদুল হারামে মোট ২৪ জন নিয়মিত মুয়াজ্জিন রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রতিদিন ছয়জন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান ও ফজরের প্রথম আজানের দায়িত্বে থাকেন। শায়খ ইবরাহিম বিশেষভাবে ফজরের আজান ও তাকবিরের জন্য পরিচিত ছিলেন।জানা গেছে, মসজিদুল হারামে তার সর্বশেষ আজান ছিল গত ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরিতে। আজান, হজ ও ঈদের তাকবিরসহ তার কণ্ঠের বিভিন্ন রেকর্ড এখনো সংরক্ষিত আছে।শায়খ ইবরাহিম আল-মাদানি ১৩৯৭ হিজরিতে মদিনা মুনাওয়ারায় জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিকভাবে তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ করেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে মদিনার একটি স্থানীয় মসজিদে আজান দিয়ে তার মুয়াজ্জিন জীবনের শুরু হয়। ১৪২৮ হিজরিতে তিনি মদিনার মসজিদ আল-মাদ্দাহতে আজানের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৪৩৯ হিজরিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ পান।মদিনায় বেড়ে ওঠার কারণে শায়খ ইবরাহিম আজানের মাদানি রীতি ও সুরের সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত ছিলেন। একই সঙ্গে বাবার সঙ্গে মক্কায় গিয়ে তিনি মক্কি আজানের স্বতন্ত্র ধারার সঙ্গেও পরিচিত হন। মক্কায় অবস্থানকালে তিনি মসজিদুল হারামের সাবেক মুয়াজ্জিন শায়খ আবদুল লতিফ মুল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ফলে তিনি মক্কি ও মাদানি দুই ধারার আজানের বৈশিষ্ট্য কাছ থেকে শেখার সুযোগ পান।

মসজিদুল হারামের প্রবীণ মুয়াজ্জিন ইবরাহিম আল-মাদানি আর নেই
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream