শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা এফ এম

আন্তর্জাতিক

অস্ত্রের মজুত নিয়ে ট্রাম্প-হেগসেথের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার দাবি

অস্ত্রের মজুত নিয়ে ট্রাম্প-হেগসেথের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে ইরান ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত নিয়ে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান নিয়ে প্রস্তুতির সময় অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত সম্পর্কে হোয়াইট হাউসকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ট্রাম্প হেগসেথকে বলেন, তিনি মনে করেছিলেন দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতির সমস্যা ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে। একই দিনে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মার্কিন সেনাবাহিনী থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার প্রায় ৫০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ফেলেছে। ফলে এসব অস্ত্রের মজুত উদ্বেগজনকভাবে কমে এসেছে।তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনকে ‘শতভাগ ভুয়া’ বলে দাবি করেছেন। একইভাবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কখনোই অস্ত্রের মজুত নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেননি বা তার ডেপুটির ওপর দায় চাপাননি। তার ভাষায়, এ ধরনের সব দাবি ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক।বৃহস্পতিবার ট্রাম্প নিজেও এসব প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে এবং যারা এর বিপরীত দাবি করছে, তাদের কারাদণ্ড দেওয়ার হুমকিও দেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘বিপুল পরিমাণে গোলাবারুদ রয়েছে, বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের গোলাবারুদ।’ তবে তিনি এর বিস্তারিত জানাননি।ট্রাম্প ও হেগসেথের কথাকাটাকাটির বিষয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন প্রকাশের সময়ই এনবিসি নিউজও জানায়, গত সপ্তাহে ট্রাম্প তার কয়েকজন সহযোগীর ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তবে এনবিসির প্রতিবেদনটি একই ক্যাম্প ডেভিডের মন্ত্রিসভা বৈঠকের ঘটনা নিয়ে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে ট্রাম্প এবং তাঁর শীর্ষ সহযোগীরা প্রকাশ্যে সন্তুষ্টির ভাব দেখালেও বাস্তবে কেউই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট নন বলে এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সামনে কীভাবে এগোনো হবে, তা নিয়েও ট্রাম্পের সহযোগীদের মধ্যে কোনো ঐকমত্য নেই। তাঁর ভাষায়, ‘এত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোনো ঐক্য নেই।’সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলা এক ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মিত্র এনবিসি নিউজকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত হতাশ।’ ওই মিত্র আরও বলেন, ‘ইরানিদের একটি চুক্তিতে রাজি করানো এত কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেননি। কতদিন ধরে কী করা উচিত, কিংবা শেষ লক্ষ্যে কীভাবে পৌঁছানো হবে, সে বিষয়ে আসলে কোনো বাস্তব কৌশল ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, ‘তিনি এটিকে দীর্ঘস্থায়ী, টেনে নেওয়া যুদ্ধ হিসেবে চাননি।’তবে লেভিট ট্রাম্পের মেজাজ হারানো দাবি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এটি মিথ্যা। প্রেসিডেন্টের একটি দুর্দান্ত দল রয়েছে, যাদের তিনি বিশ্বাস করেন। আর দলের প্রত্যেকেই জানেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী তিনিই।’যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে স্পষ্টতার অভাব—ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানো, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা, নাকি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি ধ্বংস করা—যুদ্ধের শেষপর্যায়ের পরিকল্পনা তৈরি করা কঠিন করে তুলেছে বলে ওই মার্কিন কর্মকর্তা এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা ছাড়াই মার্কিন সামরিক বাহিনী নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা একের পর এক কৌশলগত সাফল্য অর্জন করেছি। কিন্তু স্পষ্ট নীতিগত নির্দেশনা বা এই যুদ্ধ কোথায় গিয়ে শেষ হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না থাকায় আমরা একটি কৌশলগত পরাজয়ের মুখোমুখি হচ্ছি।’তবে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের মুখপাত্র পারনেল বলেন, প্রতিরক্ষা দপ্তর ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত, সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত এবং যেকোনো মুহূর্তে প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত।’ তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রী হেগসেথ, সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল কুপার এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান কেইন—ইরান-সংশ্লিষ্ট বিদেশি সামরিক অভিযান নিয়ে সম্পূর্ণভাবে একমত এবং মিশন, কৌশল ও সংকল্পের দিক থেকে তারা ঐক্যবদ্ধ।’ট্রাম্প বারবার ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু এরপর আবারও হামলা থেকে সরে এসেছেন এবং আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। সোমবার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এমন আলোচনা চলছে, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি আবার খুলে দেওয়া হতে পারে।আলোচনা সম্পর্কে বুধবার একটি ফক্স অ্যাফিলিয়েট টেলিভিশন চ্যানেলের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি শুনছি, তারা খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ইরান আমাকে ফোন করেছিল। তারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলাটি চায়নি। আর আমরা বলেছিলাম, “ঠিক আছে, আমি বরং এভাবেই করতে চাই। আমি মানুষ হত্যা করতে এবং সবকিছু পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে চাই না। ” আমরা সেদিকেই এগোচ্ছিলাম। তারা আলোচনা করতে চেয়েছে এবং আমরা তা করছি। মনে হচ্ছে, বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে।’আগের আলোচনা, এমনকি যেসব আলোচনা শেষ পর্যন্ত একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিল, সেগুলোও যখন সংঘাতের সমাধান করতে পারেনি, তখন এবারের আলোচনা কেন ভিন্ন হবে বলে তিনি মনে করেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হতেও পারে, নাও হতে পারে।’যে হামলা তিনি শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছিলেন, সেটির প্রসঙ্গে ফিরে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধ আবার শুরু করার হুমকিটি ‘শুধু হুমকি ছিল না। আমরা প্রস্তুত ছিলাম। আর জীবনে মানুষ বুঝতে পারে, আপনি সত্যিই প্রস্তুত কি না, নাকি শুধু ধাপ্পা দিচ্ছেন।’তিনি আরও বলেন, ‘না, আমরা প্রস্তুত ছিলাম এবং যদি প্রয়োজন হয়, আমরা এখনো প্রস্তুত।’ তবে ইরান বুধবার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। কিন্তু হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে, যা যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের পথ তৈরি করতে পারে।আলোচনা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রস্তাবিত চুক্তিটি হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান বিরোধের একটি অস্থায়ী সমাধান হিসেবে কাজ করতে পারে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনার পথও খুলে দেবে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে কারণগুলো সামনে এনেছিল, তার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্যতম প্রধান ছিল।প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সর্বশেষ পর্বে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশাধিকার অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। ইরান এই কৌশলগত জলপথে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ছিল হরমুজ প্রণালি।

রুশ হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৬, আহত বহু মানুষ

পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ লক্ষ্য করে উড়ে আসা শত শত ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে মস্কো। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রুশ ড্রোন হামলায় খারকিভ ও সুমি অঞ্চলে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সুমি শহরে আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমার হামলায় আরও ১২ জন আহত হয়েছেন। এদিকে, ওডেসার গভর্নর ওলেহ কিপার জানিয়েছেন, কৃষ্ণ সাগরে রুশ হামলায় গমবাহী একটি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে একজন নাবিক নিহত হয়েছেন।ইউক্রেনের সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বার্তায় জানায়, গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ‘মেরা কুইন’ নামের জাহাজটি বুধবার গভীর রাতে রাশিয়ার হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়া ইউক্রেনের বাণিজ্য ও রফতানি পথ রুদ্ধ করার প্রচেষ্টা জোরদার করছে এবং দেশটির কৃষ্ণ সাগর তীরবর্তী বন্দরগুলোতে প্রায় প্রতিদিন হামলা চালাচ্ছে।এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রুশ বাহিনী গত বুধবার রাতে ৬০৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

রুশ হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৬, আহত বহু মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল ইরান

ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও দেশটির ওপর সামরিক হামলা চালায়, তাহলে এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য উত্তেজনা মোকাবিলায় তেহরান আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে।ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২৮ জুলাই ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়ার পরই ইরান সক্রিয় কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করে। এ সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গেও আলোচনা করেন।আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে ট্রাম্পের ওপর প্রভাব খাটিয়ে নতুন হামলা ঠেকানোর আহ্বান জানান আরাঘচি। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোও ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল ইরান

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে উত্তাল ভারতের ঝাড়খণ্ড, রাস্তায় চাকরিপ্রার্থীরা

দিল্লির সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর এবার ভারতের ঝাড়খণ্ডে চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাঁচিতে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী। বুধবার (২৯ জুলাই) থেকে ছাত্র নেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতোর নেতৃত্বে চলা এ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করছেন, জেপিএসসি ও জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষায় কোটি কোটি রুপির বিনিময়ে আসন বিক্রি করা হয়েছে এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ঘটেছে।বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষা বাতিল এবং সিবিআই অথবা রাজ্য বাইরের হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের দ্বারা স্বাধীন তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন। বারংবার আবেদনের পরও সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা আমরণ অনশনের মতো চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান। এর ফলে আগামী ২৫ থেকে ২৭ জুলাই নির্ধারিত জেপিএসসি প্রধান পরীক্ষাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।দিল্লির জন্তর মন্তরে আয়োজিত ছাত্র আন্দোলনটি মূলত দ্বাদশ শ্রেণী উত্তীর্ণ তরুণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত নিট পরীক্ষার দুর্নীতি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল, যা ইতোমধ্যে তার পদত্যাগের মাধ্যমে উদযাপিত হয়েছে। অন্যদিকে রাঁচির আন্দোলনটিতে বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারী হলেন ২৫ বছরের বেশি বয়সী জ্যেষ্ঠ চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থী।ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় জানান যে প্রশ্নফাঁস সমস্যাটি একটি জাতীয় সংকট এবং তার সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে তদন্ত সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক কাজ করছে এবং অপরাধীদের জেলে পাঠানো হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের প্রস্তাব ও দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য একটি পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলকে তার বাসভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। ইতোপূর্বে রাঁচির সাব-ডিভিশনাল অফিসার কুমার রজত ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ধনঞ্জয় কুমার আন্দোলনস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের এই আমন্ত্রণের কথা পৌঁছে দেন।সূত্র: এনডিটিভি

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে উত্তাল ভারতের ঝাড়খণ্ড, রাস্তায় চাকরিপ্রার্থীরা

মোজতবা খামেনির নেতৃত্ব ইরানের জন্য বড় শক্তি: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ সহজ না হলেও দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তার নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মোজতবার নেতৃত্ব দেশকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখছে। বুধবার (৫ আগস্ট) প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর বিশেষজ্ঞদের পরিষদ মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেয়। এরপর থেকেই তিনি দেশের নেতৃত্বে রয়েছেন।ইরান বর্তমানে ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা, বৈদেশিক লেনদেনে কড়াকড়ি, নৌ অবরোধ এবং চলমান যুদ্ধের কারণে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই পরিস্থিতির মাঝেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নতুন ব্যবস্থা নিয়ে ইরান ও ওমানের চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।ফার্স বার্তা সংস্থার বরাতে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির বাস্তব বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার পর পেন্টাগন ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, যার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে ইরান।সূত্র: গালফ নিউজ

মোজতবা খামেনির নেতৃত্ব ইরানের জন্য বড় শক্তি: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

বিদেশি কর্মী নিয়োগে গতি আনতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, দ্রুত নিষ্পত্তি হবে ১৫ হাজার আবেদন

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শিল্প ও সেবাখাতে শ্রমিক সংকট দূর করতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। এ লক্ষ্যে জমে থাকা প্রায় ১৫ হাজার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠক শেষে সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল জানান, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়কে আবেদনগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শ্রমিকের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করা যায়।এর আগে গত ২৪ জুলাই আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, ভারতীয় মুসলিম রেস্তোরাঁ খাতে বিদেশি কর্মীর ঘাটতি নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোকে এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, রেস্তোরাঁ মালিকদের শ্রমিক সংকটের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া অবশ্যই সুশৃঙ্খলভাবে এবং বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করেই সম্পন্ন করতে হবে।

বিদেশি কর্মী নিয়োগে গতি আনতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, দ্রুত নিষ্পত্তি হবে ১৫ হাজার আবেদন

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যগণ ও পাকিস্তানি নাগরিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।হাইকমিশনের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। হাইকমিশনের কর্মকর্তাগণ, সার্ক চেম্বার্স উইমেন এন্টারপ্রেনার কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন হিনা মনসাব খান এবং রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন চৌধুরী আলোচনায় অংশ নেন। /বাসস

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত