বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

আন্তর্জাতিক

এপস্টিন মামলায় এবার প্রকাশ হলো বাদীর পরিচয়

এপস্টিন মামলায় এবার প্রকাশ হলো বাদীর পরিচয়

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে ব্যাংক অব আমেরিকার বিরুদ্ধে করা ৭ কোটি ২৫ লাখ ডলারের মামলায় ‘জেন ডো’ নামেই পরিচিত ছিলেন এক নারী। এবার প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসেছে তার আসল পরিচয় ও ছবি। তিনি ৩৭ বছর বয়সী জুলিয়া মলচানোভা।ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মলচানোভা নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তার দাবি, মাত্র ২২ বছর বয়সে নিউইয়র্কে এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয়ের পরই তার জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ এক অধ্যায়।২০১১ সালে নিউইয়র্কের একটি সড়কে আকস্মিকভাবে এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয় হয় রাশিয়ার এই তরুণ ডিজাইন শিক্ষার্থীর। সে সময় ইংরেজিতে তার দক্ষতা ছিল খুবই সীমিত। এপস্টেইন তাকে নিউইয়র্কের ফ্যাশন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।মলচানোভার ভাষ্য, সেই সহায়তার প্রতিশ্রুতির আড়ালেই শুরু হয় যৌন নির্যাতন ও নিয়ন্ত্রণের একটি দীর্ঘ অধ্যায়। তার অভিযোগ, ধীরে ধীরে এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত জীবনের প্রায় প্রতিটি সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে থাকেন।পোশাক কী হবে, চুল কতটা লম্বা রাখা যাবে, কোন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে, কার সঙ্গে দেখা বা সময় কাটানো যাবে এমনকি অর্থ কীভাবে ব্যয় করবেন, সেসব বিষয়ও এপস্টেইন নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে দাবি মলচানোভার। তার আরও অভিযোগ, তার অজান্তেই একটি কোম্পানি খোলা হয়েছিল এবং ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এমন কিছু আর্থিক লেনদেন করা হয়, যার বিষয়ে তার কোনো ধারণা ছিল না।পরবর্তীতে মলচানোভা ‘জেন ডো’ পরিচয়ে একটি শ্রেণি-অ্যাকশন মামলার প্রধান বাদী হন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, এপস্টেইনের যৌন পাচার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেনে একাধিক সতর্কসংকেত থাকার পরও ব্যাংক অব আমেরিকা তাকে সহযোগিতা করেছিল।ব্যাংক অব আমেরিকা অবশ্য সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে মামলা নিষ্পত্তিতে ৭ কোটি ২৫ লাখ ডলার দিতে সম্মত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই অর্থ এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকার কয়েক ডজন ব্যক্তির মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে।মলচানোভা মনে করেন, শুধু এপস্টেইন নয়, তাকে দীর্ঘদিন আইনের আওতার বাইরে রাখার ক্ষেত্রে পুরো ব্যবস্থারই ব্যর্থতা ছিল। তার অভিযোগ, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এপস্টেইন আগেও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন। এরপরও তিনি মুক্ত অবস্থায় থেকে আরও অনেক নারীর জীবনে প্রবেশের সুযোগ পান।ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মলচানোভা বলেন, এপস্টেইনের কারাগারে থাকার কথা ছিল, কিন্তু পুরো ব্যবস্থাই তাদের ব্যর্থ করেছে।ব্যাংকের সঙ্গে এই আর্থিক নিষ্পত্তি ভুক্তভোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এপস্টেইন কাণ্ডের সব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। বিপুল অর্থ ও প্রভাবের অধিকারী একজন অভিযুক্ত যৌন অপরাধী কীভাবে বছরের পর বছর নিজের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন, সেই প্রশ্নই এখনো সামনে।মলচানোভার প্রকাশ্যে আসা গল্প সেই কেলেঙ্কারির আরেকটি মানবিক দিক তুলে ধরেছে—এক তরুণীর অভিযোগ, যার শরীর, অর্থ ও ব্যক্তিজীবনের ওপর এপস্টেইন এমন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যে একপর্যায়ে তার ডাকে সাড়া দেওয়াও মলচানোভার কাছে নিজের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হয়েছিল।

বাংলাদেশসহ কয়েক দেশে ইসরায়েলিদের সতর্ক করল ইসরায়েল

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলিদের ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বিভিন্ন ব্যক্তির হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্কতা জারি করেছে। বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে নতুন সতর্কবার্তায় ইসরায়েলিদের ভ্রমণ ও অবস্থানের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইহুদিদের আসন্ন পবিত্র দিনগুলোকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলিদের ওপর হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে মূল্যায়ন করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। সংস্থাটির মতে, ইরান, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের কারণে এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার তিন বছর পূর্তিকে ঘিরে বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের বিক্ষোভ হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এসব বিক্ষোভের কিছু ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে সহিংস রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থাটি আরও বলেছে, হামাস ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলিদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে হুতিরাও আফ্রিকা মহাদেশে ইসরায়েলিদের ওপর হামলার কথা জানিয়েছে। ইরানের আশপাশের দেশগুলোকে ইসরায়েলিদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আজারবাইজান, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড এবং মিসর—সিনাই উপত্যকাসহ—ইসরায়েলিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করা হয়েছে। এসব দেশে ভ্রমণ না করা এবং অবস্থানরত ইসরায়েলিদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশগুলোতে বিমানের ট্রানজিট থাকলে বিমানবন্দর না ছাড়তেও বলা হয়েছে। ইরাক, কুর্দিস্তান, ইয়েমেন, ইরান, সিরিয়া, লেবানন ও সৌদি আরবে ইসরায়েলিদের ভ্রমণ আইনিভাবে নিষিদ্ধ বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। এই নিষেধাজ্ঞা দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, লিবিয়া, আলজেরিয়া ও সোমালিয়াকেও ইসরায়েলিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এসব দেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট  

বাংলাদেশসহ কয়েক দেশে ইসরায়েলিদের সতর্ক করল ইসরায়েল

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই মার্কিন ব্যাংকে ইরানের ৯০০ কোটি ডলার

২০২৪ সালে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৯০০ কোটি ডলার মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও লেনদেন হয়েছে বলে এক তদন্তে উঠে এসেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরোক্ষভাবে বিদেশি ব্যাংকের মধ্যস্থতায় এই বিপুল অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে স্থানান্তর হওয়া প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের ইরানি তহবিল শনাক্ত করেছে। এই অর্থ বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেল কোম্পানি ও মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। এমন সময়ে এই তথ্য সামনে এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে। ওয়াশিংটন সতর্ক করে দিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে সংশ্লিষ্ট দেশ বা প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে রাখা হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থপ্রবাহ সচল রাখতে ইরান বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। দেশটির অর্থনীতির প্রধান আয়ের উৎস এখনও তেল খাত। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে তেল রপ্তানি সীমিত হলেও ইরানের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এখনও ট্যাংকারে মজুত রয়েছে। এর বড় অংশ এশিয়ার জলসীমায়, বিশেষ করে মালয়েশিয়ার আশপাশে সংরক্ষিত আছে। চীন বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। দেশটি ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশেরও বেশি গ্রহণ করে। জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে চীন প্রতিদিন পাঁচ লাখ ব্যারেলের বেশি ইরানি তেল আমদানি করেছে। ইরান তেলের উৎস গোপন করতেও নানা পদ্ধতি ব্যবহার করছে। সমুদ্রে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ট্যাংকারের তেল অন্য উৎসের বলে দেখানো হয়। পরে চীনে পৌঁছালে সেই তেল ভিন্ন দেশের তেল হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারে। জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে এশিয়ার জলসীমায় ভাসমান সংরক্ষণাগারে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। যার বাজারমূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে ইরান ধীরে ধীরে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে। চীনা ক্রেতাদের সঙ্গে তেল বাণিজ্যের লেনদেন এখন অনেক ক্ষেত্রে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে সম্পন্ন হচ্ছে। এই ইউয়ান ব্যবহার করে ইরান চীনা পণ্য ও সেবা কিনছে। কিছু ক্ষেত্রে অবকাঠামো প্রকল্পের বিনিময়েও তেল দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ক্রিপ্টোকারেন্সিও ব্যবহার করছে তেহরান। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য পরিচালনা এবং অস্ত্রসহ বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহে ইরান বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) চীনা ক্রেতাদের কাছ থেকে তেলের মূল্য গ্রহণের ক্ষেত্রেও ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আমদানি ব্যয়, সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তার জন্য ইরানের এখনও মার্কিন ডলার ও অন্যান্য প্রধান মুদ্রার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে হংকং ও দুবাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রে শেল কোম্পানি ও মানি এক্সচেঞ্জ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে তেহরান। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তেল রপ্তানি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক আয়কে ডলার, ইউরো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহামে রূপান্তর করা হয়। একই সঙ্গে অর্থের সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতাও আড়াল করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নানা নিষেধাজ্ঞা বসিয়ে এই অর্থপ্রবাহ লাগাম টানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচ্ছিন্নভাবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংক বা কোম্পানির ওপর ব্যবস্থা নিয়ে পুরো আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক অচল করা সম্ভব হচ্ছে না।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই মার্কিন ব্যাংকে ইরানের ৯০০ কোটি ডলার

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক টেকসই করতে আলোচনায় জোর রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরো জোরদার ও টেকসই করতে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির সাথে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো: সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ন্যায়সঙ্গত ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান করা গেলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরো বৃদ্ধি পাবে। অভিন্ন নদ-নদীর পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের জনগণের জীবন ও জীবিকার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান। হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ ব্যাপারে তার সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে রাষ্ট্রপতিকে জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সাথে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়।’ তিনি বলেন, ‘সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা এবং জনগণের কল্যাণকে সমুন্নত রেখে ভারতের সাথে সম্মানজনক, ভবিষ্যতমুখী ও পারস্পরিকভাবে শ্রদ্ধাপূর্ণ ও লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী বাংলাদেশ।’ সাক্ষাৎকালে ভারতের হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন, শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানান। বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ককে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে হাইকমিশনার ত্রিবেদী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণে তার দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তার দেশ পারস্পরিক মর্যাদা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো দৃঢ়, উন্নত ও শক্তিশালী করতে প্রবল আগ্রহী। রাষ্ট্রপতি তাকে অভিনন্দন জানানোর জন্য হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান এবং ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানানোর অনুরোধ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাণিজ্য, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের জনগণের সামর্থ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অভিন্ন শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে ভারত ও বাংলাদেশ আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে।’ ভারতের হাইকমিশনার দুই দেশ একসাথে কাজ করে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং তার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি এ সময় তার সফল কর্মকাল কামনা করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আরো ফলপ্রসূ, ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী করার আশা প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক টেকসই করতে আলোচনায় জোর রাষ্ট্রপতির

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সড়ক যোগাযোগে নতুন দুয়ার

প্রথম সড়ক সেতু  রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে চালু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সহজ হবে তুমেন নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে । রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন ও ২ হাজার ৩২৩ জন মানুষ সেতুটি পার হতে পারবেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেতুটি ‘জনবল বিনিময়, পর্যটন ও বাণিজ্যের’ কাজে ব্যবহার করা হবে। ইউক্রেনের উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ট্রুথ হাউন্ডস বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার জন্য ‘মূলত একটি গোপন সামরিক রসদ সরবরাহ করিডর’ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন সেতুটিকে ‘বন্ধুত্বের নতুন প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থায়ে সং এটিকে ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ বলেছেন। ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মিশুস্তিন বলেন, সেতুটি বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার উন্নয়নে ‘শক্তিশালী গতি’ সৃষ্টি করবে। মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক এখন ‘নজিরবিহীন উচ্চতায়’ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়া সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে সেতুটি পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হবে। পরে চলতি বছরের শেষ দিকে এটি যাত্রী পরিবহনের জন্য খুলে দেওয়া হবে। দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই বিমান যোগাযোগ ও রেলপথ রয়েছে। তবে এত দিন একমাত্র সড়ক যোগাযোগ ছিল অস্থায়ী ব্যবস্থা। রয়টার্সের তথ্যমতে, বিশেষ ব্যবস্থায় রেলসেতুর ওপর কাঠের তক্তা বসিয়ে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করা হতো। চলতি বছরের মে মাসে বিবিসির প্রকাশিত উপগ্রহচিত্রে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটির সঙ্গে কয়েকটি নতুন সংযোগ সড়ক, একটি সীমান্ত তল্লাশিচৌকি, সহায়ক অবকাঠামো ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা দেখা যায়। ২০২৪ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উত্তর কোরিয়া সফরের সময় সেতু নির্মাণের বিষয়ে চুক্তি হয়। ২৪ বছর পর সেটিই ছিল উত্তর কোরিয়ায় পুতিনের প্রথম সফর। ওই সফরেই দুই দেশের মধ্যে অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ২০২৫ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিছু বিলম্বের পর ৪৯৫ দিনে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন এর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দুই দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন’ হলে তারা একে অপরকে সহায়তা করবে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে জাহাজে করে ৭ বিলিয়ন থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামানের গোলা রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। আনুমানিক ১১ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা বর্তমানে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। ট্রুথ হাউন্ডস সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছে, ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তির কারণে সেতুটি ব্যবহার করে উত্তর কোরীয় সামরিক সদস্য, নির্মাণশ্রমিক ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের সরাসরি রাশিয়ায় পাঠানো হতে পারে। সেতুটির মাধ্যমে বিপরীত দিক থেকে রাশিয়ার প্রযুক্তি ও সম্পদ উত্তর কোরিয়ায় প্রবাহের সুযোগও তৈরি হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৪ সালে অনুমতি পাওয়ার পর থেকে সীমিতসংখ্যক রুশ পর্যটক উত্তর কোরিয়ায় যেতে শুরু করেছেন। উত্তর কোরিয়া তাঁদের রাজধানী পিয়ংইয়ং এবং ওনসান-কালমা সমুদ্রসৈকত রিসোর্টে আতিথ্য দিচ্ছে। অন্য দেশের নাগরিকদের জন্য দেশটি এখনো প্রবেশের সুযোগ সীমিত রেখেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এক হিসাবে, বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার উত্তর কোরীয় রাশিয়ার বিভিন্ন নির্মাণস্থল ও কাঠ কাটার শিবিরে কাজ করছেন। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞায় বিভিন্ন দেশে উত্তর কোরীয় শ্রমিক নিয়োগ নিষিদ্ধ হলেও তাঁদের অনেকেই শিক্ষার্থী ভিসার আড়ালে রাশিয়ায় প্রবেশ করেন। চলতি বছরের মে মাসে কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক ভিক্টর চা বিবিসি ভেরিফাইকে বলেন, ‘নির্মাণকাজের গতি দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিমাণের প্রতিফলন।’ ভিক্টর চা বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনকে সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়ার সেনা, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও শ্রমিক সরবরাহের কারণেই মূলত এ কার্যক্রম গতি পেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের আগে উত্তর কোরিয়া ও তার দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে নিষ্ক্রিয় যোগাযোগগুলোর একটি।’

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সড়ক যোগাযোগে নতুন দুয়ার

যুক্তরাষ্ট্র জিতলেই তেলের দাম নামবে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত ও বড় আকারে কমে যাবে বলে দাবি করেছেন। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, পেট্রলের দাম যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ৩ ডলারে নেমে আসবে। শেষ পর্যন্ত তা ২ ডলারের নিচেও নামতে পারে। এক গ্যালনে প্রায় ৩ দশমিক ৮ লিটার। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তেলের দাম দ্রুত কমবে।’ একই সঙ্গে তিনি পুনরায় সতর্ক করে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তবে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৩৪ ডলারে উঠেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ১৫ ডলার বা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৬৩ ডলার। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভূখণ্ড বা সম্পদে নতুন করে হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। এ পরিস্থিতিতে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় তেলের দামে ঝুঁকিমূল্য যুক্ত হয়েছে। সর্বশেষ লেনদেনে ব্রেন্ট তেলের দাম ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বের অপরিশোধিত তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে এই নৌপথে তেল পরিবহন ব্যাহত হলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র জিতলেই তেলের দাম নামবে: ট্রাম্প

দুই বছরে ৪ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বৈশ্বিক গাড়ি শিল্পের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আগামী দুই বছরে প্রায় ৪ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা করেছে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার (JLR)। এর বড় অংশই যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ের কর্মীদের ওপর প্রভাব ফেলবে।চীনা গাড়ি নির্মাতাদের বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তরের চাপ—সব মিলিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে ব্রিটিশ এই গাড়ি নির্মাতা। এর সঙ্গে গত বছরের একটি বড় সাইবার হামলার প্রভাবও কোম্পানির ওপর পড়েছে। ওই হামলার কারণে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে JLR-এর উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল।কোম্পানির প্রধান নির্বাহী পিবি বালাজি জানিয়েছেন, কর্মী কমানোর প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে যতটা সম্ভব ন্যায্য ও সম্মানজনক আচরণ করা হবে।JLR প্রথম পর্যায়ে স্বেচ্ছায় অবসর বা চাকরি ছাড়ার মাধ্যমে কর্মী সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য কর্মীদের আবেদন করার সময়সীমা ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে বাধ্যতামূলক ছাঁটাইও করা হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের এ বিষয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ই-মেইলে জানানো হবে।কর্মী কমানোর মাধ্যমে আগামী দুই বছরে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়েছে JLR।JLR-এর ব্যবসায় সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। গত মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরের হিসাবে কোম্পানিটির বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এবং সাইবার হামলাকে এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।চীনা গাড়ি নির্মাতাদের প্রতিযোগিতাও JLR-এর জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। একসময় চীনকে কোম্পানিটি প্রধানত সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে দেখলেও এখন সেখানকার নির্মাতাদের কাছ থেকেই বাড়তি প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও শুল্কনীতির কারণে চাপ বেড়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী কয়েকটি গাড়ি নির্মাতার সেখানে উৎপাদন কারখানা থাকলেও JLR-এর যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব উৎপাদন কেন্দ্র নেই।BMW-এর সাবেক পরিচালক ইয়ান রবার্টসনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয়ভাবে গাড়ি উৎপাদনের সিদ্ধান্ত JLR আরও আগে নিলে বর্তমান পরিস্থিতির কিছুটা মোকাবিলা করা সহজ হতে পারত। বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারেও কোম্পানিটি প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।JLR ২০১৮ সালে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক I-PACE মডেল বাজারে আনে। তবে এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নতুন বৈদ্যুতিক মডেল আনার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সীমিত ছিল। সম্প্রতি বৈদ্যুতিক Range Rover উন্মোচনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।যুক্তরাজ্যের গাড়ি শিল্পে উদ্বেগJLR-এর কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণায় যুক্তরাজ্যের গাড়ি শিল্প ও পশ্চিম মিডল্যান্ডস অঞ্চলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান যুক্ত।ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছাঁটাইয়ের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তবে সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা বা ‘বেইলআউট’ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না।দেশটির ব্যবসা ও বাণিজ্যবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান লিয়াম বায়রন এই সিদ্ধান্তকে কর্মী, পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের দ্রুত নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।শ্রমিক সংগঠন ইউনাইটও JLR-এর সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে। সংগঠনটির মতে, কোম্পানির সমস্যার দায় কর্মীদের ওপর চাপানো উচিত নয় এবং চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে থাকা কর্মীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।এদিকে যুক্তরাজ্যের গাড়ি শিল্পের সংকটের জন্য দেশটির Zero Emission Vehicle (ZEV) mandate-কেও কেউ কেউ দায়ী করছেন। এই নীতির আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে বিক্রি হওয়া নতুন গাড়ি ও ভ্যানের সবগুলোকে শূন্য-নিঃসরণ প্রযুক্তিতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। তবে পরিবেশবান্ধব গাড়ির বাজার গড়ে তুলতে এই নীতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে টেকসই বিনিয়োগ খাতের একটি সংগঠন।সব মিলিয়ে চীনা প্রতিযোগিতা, বাণিজ্যিক শুল্ক, বৈদ্যুতিক গাড়িতে বিনিয়োগ এবং সাম্প্রতিক সাইবার হামলার ধাক্কা মোকাবিলা করে JLR কীভাবে ব্যবসায় ঘুরে দাঁড়ায়, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুই বছরে ৪ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার

মার্কিন নির্ভরতা কমিয়ে আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়া

সিউল এখন নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে হঠাৎ পরিবর্তনের মুখে থাকায়। দেশের নিরাপত্তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা করে হাত গুটিয়ে বসে থাকার সময় শেষ বলে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংসদে দাঁড়িয়ে শাসক দলের নেতা কিম মিন-সক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো দয়ালু বড় ভাই নয়। তারা এখন নিজেদের স্বার্থে কঠিন দরকষাকষি করছে। তাই সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়াকে এখন থেকেই নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এই উদ্বেগের মূল কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত। ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে শিগগির বৈঠক করার পরিকল্পনা করেছেন। একই সঙ্গে খরচের অজুহাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। তার দাবি, এসব মহড়ায় অনেক টাকা নষ্ট হয় এবং উত্তর কোরিয়াকে অযথা উসকে দেওয়া হয়। সিউলের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে বাধ্য না করে শুধু নতুন অস্ত্র তৈরি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কোনো চুক্তিতে রাজি হয়ে যেতে পারে। এ কারণে ডেমোক্রেটিক পার্টি মনে করে, ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে হঠাৎ কোনো চুক্তি হলেও যেন দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা বিপন্ন না হয়, সে জন্য স্বাধীন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা ছাড়া উপায় নেই। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পথ খোঁজারও পরামর্শ দিয়েছে তারা। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মার্কিন নির্ভরতা কমিয়ে আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়া

ইইউর আপত্তি উপেক্ষা করে ম্লাদিচের শেষকৃত্য

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলগ্রেডের একটি সার্বিয়ান অর্থোডক্স গির্জায় যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বসনিয়ান সার্ব কমান্ডার রাতকো ম্লাদিচের মরদেহ শেষ শ্রদ্ধার জন্য রাখা হয়। তাঁর শেষকৃত্যে পূর্ণ সামরিক মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছে সার্বিয়া। সিএনএন জানিয়েছে, বেলগ্রেডের ছোট্ট সেন্ট লুক গির্জায় সকাল থেকেই হাজারো মানুষ জড়ো হন। অনেক সার্ব এখনো ম্লাদিচকে জাতীয় বীর হিসেবে বিবেচনা করেন। কফিনের ওপর রাখা ছিল তাঁর সামরিক টুপি ও তলোয়ার। পাশে সামরিক পোশাক পরা সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। সার্বিয়ার সরকারপন্থী গণমাধ্যম জানিয়েছে, ম্লাদিচকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সমাহিত করা হবে এবং সার্বিয়ান অর্থোডক্স চার্চের প্রধান প্যাট্রিয়ার্ক পোরফিরিয়ে শেষকৃত্যের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় নেতৃত্ব দেবেন। ম্লাদিচ ২৭ আগস্ট ৮৪ বছর বয়সে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে মারা যান। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সালের বসনিয়া যুদ্ধের সময় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। ২০১৭ সালে তাঁকে ১৯৯৫ সালের স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই ঘটনায় ৮ হাজারের বেশি বসনিয়াক মুসলিম পুরুষ ও কিশোর নিহত হন। সারায়েভোর দীর্ঘ অবরোধসহ আরও বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধের সঙ্গেও তাঁর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়। জানা গেছে, পরিবারের উদ্যোগে ম্লাদিচের শেষকৃত্যের আয়োজন করা হলেও সার্বিয়া সরকার তাঁর মরদেহ দেশে আনতে বিমান পাঠায়। গত শনিবার দেশটির সেনাবাহিনীর একটি সরকারি স্থাপনাতেও তার প্রতি সামরিক শ্রদ্ধা জানানো হয়। ম্লাদিচকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানোর ঘটনায় ইইউ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের সম্প্রসারণ বিষয়ক কমিশনার মার্তা কোস সার্বিয়ায় তাঁর নির্ধারিত সফর বাতিল করে বলেছেন—ম্লাদিচের মৃত্যুকে ঘিরে যে মহিমান্বিত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা ইইউ-এর মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ অবশ্য সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, সার্বরা কয়েক দশক ধরে নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার এবং সব ঘটনার জন্য তাঁদেরই দায়ী করা হয়। ১৯৯৫ সালে স্রেব্রেনিৎসায় জাতিসংঘ ঘোষিত ‘নিরাপদ আশ্রয়’ দখল করে সার্ব বাহিনী। সেখানে পুরুষ ও কিশোরদের আলাদা করে হত্যা এবং তাদের মরদেহ গণকবরে পুঁতে ফেলা হয়। বসনিয়া যুদ্ধের পুরো সময় এক লাখের বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। সার্বিয়া এখনো স্রেব্রেনিৎসার ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকার করে না। ম্লাদিচের মৃত্যুর পর তার সমর্থকেরা বেলগ্রেডে শোকসভা, দেয়ালচিত্র ও মশাল প্রজ্বলনের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করছে। এই ঘটনায় সার্বিয়ার ইইউ সদস্যপদ পাওয়ার প্রচেষ্টাও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

ইইউর আপত্তি উপেক্ষা করে ম্লাদিচের শেষকৃত্য

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের বিশেষ দূতের বৈঠক

মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকন্সিলিয়েশন বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ সোমবার এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশেষ দূত বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকন্সিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার ভূমিকার কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান। রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে জাপানের বিশেষ দূত বলেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সঙ্কট। এ সঙ্কট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। বিশেষ দূত বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে তার সাথে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার সরকার এই সঙ্কটের সমাধানে আন্তরিক বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অগ্রগতিতে সময় লাগছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী। কারণ নিজ দেশে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, তার অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। এসময় রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সাথে কাজ করবেন বলে জানান। এছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী এবং দেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে জানান। একইসাথে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তিনি তুলে ধরেন। এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের বিশেষ দূতের বৈঠক

জ্বালানি সংকটে ছাদে ছাদে সৌরবিদ্যুতের উদ্যোগ থাইল্যান্ডের

জ্বালানির দাম মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মার্কিন–ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ–সংকটের কারণে বেড়ে যাওয়ার প্রভাব থেকে দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে থাইল্যান্ড আগামী এক বছরের মধ্যে ১০ লাখ পরিবারকে বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসাতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে মোট ৫ গিগাওয়াট (৫ হাজার মেগাওয়াট) সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী আকানাত প্রমফান। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ২০০ বিলিয়ন বাথ বা ৬ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি রূপান্তর জরুরি তহবিল থেকে এই কর্মসূচিতে অর্থায়ন করা হবে । এশিয়ার বড় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডই সর্বশেষ দেশ, যারা বাড়ির ছাদের সৌরবিদ্যুৎকে জ্বালানির দাম বাড়ার ঝুঁকি মোকাবিলার উপায় হিসেবে ব্যবহার করছে। এর আগে ফিলিপাইন ও বাংলাদেশও একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুন পর্যন্ত ছয় মাসে থাইল্যান্ডের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ এসেছে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে। অন্যদিকে, গ্যাস থেকে এসেছে ৬০ শতাংশেরও বেশি বিদ্যুৎ। জ্বালানি খাত নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস বা আইইইএফএ’র তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি আমদানি করতে হয় থাইল্যান্ডকে। পণ্যবাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য বলছে, থাইল্যান্ড তার মোট এলএনজির অর্ধেকই স্পট মার্কেট থেকে কেনে। ফলে এলএনজির দামের বড় ধরনের ওঠানামার ঝুঁকিতে দেশটি তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার পর এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় এই ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়েছে। আকানাত রয়টার্সকে বলেন, জরুরি তহবিল ব্যবহার করে জ্বালানি রূপান্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটছে, তার প্রভাব থাইল্যান্ডকে ভবিষ্যতেও বারবার মোকাবিলা করতে হবে। ৫ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এই লক্ষ্য থাইল্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগামী ২৫ বছরে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের রূপরেখা নির্ধারণকারী এই পরিকল্পনা আগামী মাসে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী আকানাত। এই লক্ষ্য অর্জন করা গেলে থাইল্যান্ডের ছোট আকারের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি হবে। জ্বালানি খাতের মডেলিং প্রতিষ্ঠান ট্রানজিশনজিরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ থাইল্যান্ডে ছোট আকারের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল আনুমানিক ৩ দশমিক ৬ গিগাওয়াট। এর মধ্যে আবাসিক বাড়ির ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ছিল ১ দশমিক ৪ গিগাওয়াট। ট্রানজিশনজিরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে থাইল্যান্ড ছিল সবচেয়ে এগিয়ে। কিন্তু সরকারি প্রণোদনা কমে যাওয়ার পর দেশটিতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের গতি কমে যায়। পরে গত দশকের শেষ দিকে ভিয়েতনাম থাইল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যায়। থাইল্যান্ড সরকার প্রতিটি পরিবারকে বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসানোর জন্য ৫০ হাজার বাথ বা প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর পাশাপাশি প্যানেল স্থাপনের জন্য ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে বলে গত মাসে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী একনিতি নিথিতানাপ্রাপাস। এর পাশাপাশি, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে থাইল্যান্ড সরকার দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের নতুন উৎস খুঁজছে। দেশটি তার আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনতে নতুন দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি ক্রয় চুক্তি করার চেষ্টাও করছে বলে জানিয়েছেন আকানাত। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পিটিটির অনুসন্ধান ও উৎপাদন শাখা পিটিটিইপি আন্দামান সাগর ও মিয়ানমারে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য বাজেট বরাদ্দ করেছে বলেও জানান তিনি।

জ্বালানি সংকটে ছাদে ছাদে সৌরবিদ্যুতের উদ্যোগ থাইল্যান্ডের

উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনী হবে পারমাণবিক: কিম

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন তার দেশের নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত বাহিনীতে রূপ দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর যৌথ নৌ মহড়া শুরুর মধ্যেই। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানানো হয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে চলতি সপ্তাহের এই নৌ মহড়া ২০২৩ সালে শুরু হয়। কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হুমকি মোকাবেলা এবং দেশটিকে নিবৃত্ত করতেই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। রোববার বন্দরনগরী ওয়ানসানে ‘ক্যাং কন’ নামের একটি যুদ্ধজাহাজের আনুষ্ঠানিক নৌবহরে অন্তর্ভুক্তির অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কিম। ২০২৫ সালের মে মাসে পানিতে নামানোর সময় জাহাজটি আংশিকভাবে কাত হয়ে পড়েছিল। উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তাসংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ অ্যাজেন্সি (কেসিএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে। কিম বলেন, ‘আমাদের নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত বাহিনীতে পরিণত করার মাধ্যমে পারমাণবিক যুদ্ধব্যবস্থাগুলোর বৈচিত্র্যময় ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রকৃত যুদ্ধের পরিস্থিতিতে এগুলো পরিচালনা করা যায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘যেকোনো সময় নির্দেশ পেলেই নতুন প্রজন্মের এই ডেস্ট্রয়ার শত্রুর বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী পাল্টা আঘাত হানবে। কারণ এটি রাষ্ট্রের পারমাণবিক পাল্টা আঘাত ব্যবস্থার একটি অংশ।’ প্রকাশিত ছবিতে কিম জং উনকে তার মেয়ে জু আয়ের সাথে দেখা গেছে। ধারণা করা হয়, বাবার পর উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বের দায়িত্ব তার হাতেই যেতে পারে। গত জুলাইয়ে কিম ‘কাং কন’-এর একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও তদারক করেন। গত বছর পানিতে নামানো পাঁচ হাজার টন শ্রেণির দু’টি যুদ্ধজাহাজের একটি হলো ‘কাং কন’। জাহাজটি পানিতে নামানোর সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এক বছরের কিছু বেশি সময় পর এর পরীক্ষা করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুল বলেন, কিমের ‘পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত নৌবাহিনী’ গড়ার বক্তব্য থেকে ধারণা করা যায়, এসব যুদ্ধজাহাজ কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। কিম আরো বলেন, উত্তর কোরিয়া নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করছে, যার ফলাফল আগামী আট মাসের মধ্যে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হবে। অধ্যাপক লিমের মতে, এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) বহনে সক্ষম নতুন কোনো সাবমেরিনের মতো বড় ধরনের কৌশলগত অস্ত্র বা সামরিক সক্ষমতা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে— এমন ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। লিম আরো বলেন, ‘কাং কন’কে পূর্ব সাগরে মোতায়েনের মাধ্যমে পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের যৌথ নৌ মহড়া এবং পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সামরিক সম্পদের সরাসরি ও আঘাতের আওতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে।’ এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার এবারের যৌথ নৌ মহড়ার নাম ‘ফ্রিডম এজ’। দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক পানিসীমায় চলা এই মহড়া শুক্রবার পর্যন্ত চলবে। উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই এই মহড়া হচ্ছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সাথে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আবারো কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর চেষ্টা করছেন। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে আরেকটি সামরিক মহড়ার পরিসর কমিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এখনো তেমন সাড়া মেলেনি। বরং পিয়ংইয়ং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার কমিয়ে আনা সামরিক মহড়ার সমালোচনা করেছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন এবং উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য নথিভুক্ত করার কর্মসূচিতে অর্থায়নের পরিকল্পনারও নিন্দা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। সূত্র : বাসস

উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনী হবে পারমাণবিক: কিম

শীতেও গড়াতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দুই দূতের সাথে বৈঠকের পর বলেছেন, রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ সামনে শীতের সময়েও গড়াতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। ওই বৈঠক শেষে বড় কোনো অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এই প্রথম ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইউক্রেনে সফর করলেন। এর আগের দিন তারা মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠক করেছিলেন। উইটকফ বলেছেন, কিয়েভে অনুষ্ঠিত আলোচনাকে তিনি ‘আশাব্যঞ্জক’ মনে করছেন এবং বৈঠকটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও ‘ফলপ্রসূ’। জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি এমন একটি ন্যায়সঙ্গত শান্তি চান, যাতে রাশিয়ার জন্য ভবিষ্যতে আবার আগ্রাসন চালানোর কোনো সুযোগ না থাকে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) কয়েক ঘণ্টা ধরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা শিগগিরই আবার বৈঠক করবেন এবং আলোচনা চালিয়ে যাবেন। তিনি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেরও আহ্বান জানান। উইটকফ বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে এখানে একটি ভালো সমাধান আসবে।’ তিনি আরো বলেন, মস্কোতে তাদের আলোচনায় ‘অনেক অগ্রগতি হয়েছে’। মস্কোর বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে কুশনার বলেন, মার্কিন দল এমন অনেক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে, যেগুলো ‘এখন পর্যন্ত কাজ করেনি’। এরপর থেকে তারা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য কী কী উপাদান প্রয়োজন, তা নিয়ে চিন্তা করেছেন। তিনি আরো বলেন, পুতিনের সাথে ‘খুব ভালো সংলাপ’ হয়েছে। পুতিন অনেক প্রশ্ন করেছেন এবং তারাও অনেক প্রশ্ন করেছেন। উইটকফ জানান, কিয়েভে যাওয়ার আগে তারা পুতিনের সাথে দেখা করেছিলেন, কারণ ‘তার অবস্থান কী, সেটা আমাদের জানতে হতো’। জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, যদি যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত চলতে থাকে তাহলে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জ্বালানি খাতে সহায়তা প্রয়োজন হবে। তিনি মনে করেন, এখন পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলায় ইউক্রেন মার্কিন-নির্মিত প্যাট্টিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে আসছে। তবে ইরানের সাথে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার অনেক মজুত ব্যবহার করেছে। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনকে নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। তবে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছর উৎপাদন বাড়াবে এবং ইউক্রেন সেটির ওপর নির্ভর করছে। মার্কিন দূতরা বিমানে পোল্যান্ডে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে ট্রেনে করে কিয়েভ যান। জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, তাদের বিমানের অবতরণের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি কিয়েভে নামানো সম্ভব হয়নি। আলোচনার সময় তিন দিনের জন্য একে অপরের রাজধানীতে হামলা না চালাতে সম্মত হয়েছিলেন পুতিন ও জেলেনস্কি। জেলেনস্কি কিয়েভের সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের কাছে উইটকফ ও কুশনারকে স্বাগত জানান। ওই এলাকায় শুক্রবার একটি রুশ ড্রোন ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সদর দফতরে আঘাত করেছিল। এদিকে রাতভর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত ছিল। ইউক্রেন জানায়, তারা একটি তেল শোধনাগার, একটি বিমানঘাঁটি এবং দু’টি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলা চালিয়েছে। এর আগে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, রাশিয়া ১০৮টি দূরপাল্লার ড্রোন ও কয়েকটি ছোট ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৮২টি ড্রোন ও ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। তবে ১১টি স্থানে হামলা হয়েছে এবং আরো সাতটি স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। শনিবার মস্কোর ক্রেমলিনে পুতিনের সাথে বৈঠকটি তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং তা রুদ্ধদ্বার ছিল বলে রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়। পুতিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বৈঠকটিকে ‘গঠনমূলক ও অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, যুদ্ধের সমাধান, অর্থনৈতিক বিষয় এবং সম্ভাব্য ‘পারস্পরিক লাভজনক রুশ-মার্কিন প্রকল্প’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উশাকভ বলেন, আলোচনায় যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনীর ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ নিয়ে কথা হয়েছে এবং সংঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধান করা প্রয়োজন বলে স্বীকার করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের শহরগুলো বিশেষ করে কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বেড়ে গেলেও যুদ্ধের বেশিভাগ সময় রুশ স্থলবাহিনীর অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর ছিল এবং এতে বিপুলসংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়া এখনো ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে- যার বেশিভাগই ২০২২ সালে দখল করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই আকাশপথে হামলা বাড়ানোর পর এই নতুন দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো। সূত্র : বিবিসি

শীতেও গড়াতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: জেলেনস্কি

হরমুজে উত্তেজনা, ১০০ ডলারের পথে তেল

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাতের কারণে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বেড়ে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৭ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।গত সপ্তাহে তেলের বাজারের দর জুলাইয়ের পর থেকে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল, যেখানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯৬ দশমিক ২৮ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৯১ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছায়। তেলের বাজার বিশ্লেষণে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের অনিশ্চয়তাই তেলের মূল্যে অতিরিক্ত ঝুঁকি বা প্রিমিয়াম যুক্ত রাখছে। আজ সকাল সাড়ে আটটার বাজার চিত্র অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৬ দশমিক ৬৯ ডলারে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে ৯২ দশমিক ০৩ ডলারে দাঁড়ায়। তবে মারবান ক্রুড ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমে ১০৩ দশমিক ৩০ ডলার এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ২ দশমিক ৯২৯ ডলারে নেমেছে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায় যে একটি নির্দিষ্ট সময়ে মাত্র চারটি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করতে পেরেছে, যা সাধারণ ১০ দিনের গড়ে দৈনিক ১৩টির তুলনায় অনেক কম। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ঝুঁকির মুখোমুখি হয়ে ব্রেন্ট ক্রুড বর্তমানে মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের চেয়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৪ দশমিক ৬৬ ডলার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত বাড়লে বা জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই মূল্যের পার্থক্য আরও বাড়তে পারে। সূত্র: গালফ নিউজ

হরমুজে উত্তেজনা, ১০০ ডলারের পথে তেল

মিয়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫

রানওয়ে ছাড়িয়ে গাড়িতে আঘাত, আগুনে পুড়ে যায় বিমান; আহত আরও ৫যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে সড়কে থাকা একাধিক গাড়িতে আঘাত করেছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে অবতরণের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানটি রানওয়ে ছাড়িয়ে যায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, রানওয়ে থেকে বের হওয়ার সময় বোয়িং ৭৬৭-৩০০ বিমানটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২০৭ কিলোমিটার।বিমানটি রানওয়ের পাশের সড়কে থাকা একাধিক গাড়িতে আঘাত করার পর আগুন ধরে যায়। পরে সেটি একটি অ্যামাজন গুদামের কাছের এলাকায় গিয়ে সামনের অংশ নিচের দিকে কাত হয়ে থেমে যায়।মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ৬০টির বেশি ইউনিটের প্রায় ২০০ দমকলকর্মী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। উদ্ধারকর্মীরা একটি গাড়ির নিচে আটকে থাকা একজনকেও উদ্ধার করেন। বিমানের ইঞ্জিন এলাকায় আগুন জ্বলছিল এবং জ্বালানি লিকেজ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ দল কাজ করে।আহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় একটি ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। অন্য দুজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।মিয়ামি-ডেড কাউন্টির মেয়র ড্যানিয়েলা লেভিন ক্যাভা অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত কঠিন দিন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে সাধারণ মানুষকে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।অ্যামাজন জানিয়েছে, তাদের অ্যামাজন এয়ারের একটি ফ্লাইট মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানটি ২১ এয়ার পরিচালনা করছিল। দুর্ঘটনার কারণ জানতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।বিমানটি রোববার পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ানের লুইস মুনোজ মারিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মিয়ামির উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।দুর্ঘটনার সময় মিয়ামিতে বজ্রঝড় ও দমকা বাতাস ছিল বলে ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে। তবে এসব আবহাওয়াগত পরিস্থিতি দুর্ঘটনার সরাসরি কারণ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।দুর্ঘটনার পর মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে বিমান চলাচলে কয়েক ঘণ্টা ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।দুর্ঘটনার কারণ ও বিমানের অবতরণের সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তা তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মিয়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream