রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

ক্যারিয়ার

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা গ্র্যাজুয়েটদের নিয়ে অভিন্ন নেটওয়ার্ক

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা গ্র্যাজুয়েটদের নিয়ে অভিন্ন নেটওয়ার্ক

পেশাদার থিয়েটারে বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা ও থিয়েটার নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর অনেকেই যুক্ত হন। কেউ শিক্ষকতা বা গবেষণায় যান, কেউ আবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন নানা কারণে নাট্যচর্চা থেকে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও থিয়েটার বিভাগের শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েটদের এই বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে একটি অভিন্ন নেটওয়ার্কে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। থিয়েটার গ্র্যাজুয়েটস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিজিএবি) এ লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক, সাবেক শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে টিজিএবির ৪১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ও ১৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষণা করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ এহসানুর রহমানকে আহ্বায়ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী রোকসানা রুমাকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদয় কিশোর সৌরভকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। সংগঠনটির উদ্যোক্তারা বলছেন, নাট্যশিক্ষা শেষ করার পর একজন গ্র্যাজুয়েটের সামনে পেশাগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ কতটা- এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই টিজিএবির যাত্রা। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শিক্ষা ও পেশাদার থিয়েটারচর্চার মধ্যে যে দূরত্ব রয়েছে, তা কমানো প্রয়োজন। টিজিএবির অন্যতম লক্ষ্য হলো বিভিন্ন নাট্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো। একই সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করার পর পেশাগত দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি এবং থিয়েটারচর্চার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির। তবে শুধু যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়েই থেমে থাকতে চায় না টিজিএবি। গবেষণা ও জ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিত করা, পেশাগত নাট্যচর্চায় সহযোগিতা বাড়ানো এবং দেশীয় সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে বিশ্বসংস্কৃতির সম্পর্ক নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসর তৈরির কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে থিয়েটার প্রদর্শনী, গবেষণা, সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের নাট্যশিক্ষা ও থিয়েটারচর্চার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরের যোগাযোগ আরও জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে সংগঠনটির। অনুষ্ঠানে নবগঠিত উপদেষ্টা পরিষদের প্রতিনিধিরা টিজিএবির উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, নাট্যশিক্ষাকে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে পেশাগত নাট্যচর্চার কার্যকর সংযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মের নাট্যশিক্ষার্থীরা যাতে তাদের অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগ পান, সে ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। টিজিএবির আহ্বায়ক শেখ এহসানুর রহমানের সঙ্গে নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী রোকসানা রুমা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদয় কিশোর সৌরভ। সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাদের সহযোগিতা করবেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াহিদা সুলতানা আশা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হাবীবুর রহমান হাবীব। আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছেন আবু হেনা রনি (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়), আহসান হাবীব (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), আফসানা আক্তার (জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়), সাইফুল ইসলাম শাহীন (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), মোঃ ইমরান হোসেন ইমু (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), রাইসুল ইসলাম রোমান (তেজগাঁ কলেজ) এবং মোঃ নাসিম উদ্দিন (হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ)। কমিটির সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়েদ জুলহাস। দপ্তর ও নথি সম্পাদকের দায়িত্বও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দিগার মোঃ কৌশিকের হাতে। কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মোঃ ফয়সাল। প্রচার ও মিডিয়া কার্যক্রম দেখবেন তনিমা সাহা (জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়), সায়মা আক্তার ও ইন্দ্রাণী দাশ নিশি (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এবং শরণ এহসান (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়)। টিজিএবির জ্ঞানচর্চা ও দক্ষতা উন্নয়নের দায়িত্বে থাকছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অমিত হাসান ও তানজীম তাজোয়ার। অনুষ্ঠান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কার্যক্রমের দায়িত্ব পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাবেরী সুলতানা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্বে রয়েছেন রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের মোঃ মোর্শেদ ইসলাম আকন্দ। আইন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খালিদ সাইফুল্লাহ এবং ফটোগ্রাফি ও আর্কাইভ বিষয়ক সম্পাদক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোঃ ইব্রাহিম জামান এলিন। নাট্যোৎসব ও মঞ্চায়ন কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আসাদুজ্জামান আশিক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্ছ্বাস তালুকদার। প্রকাশনা ও সম্পাদনার দায়িত্বে রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কনজ কান্তি রায়; তাঁর সঙ্গে উপ-সম্পাদক হিসেবে থাকছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসেল আহমেদ। এ ছাড়া সংগঠনের সম্মানিত সদস্য হিসেবে রয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক কৃপাময় কর কৌশিক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব নাসির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেহানা রাহা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিএম একরামুল হক এবং হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের প্রভাষক শংকর কুমার বিশ্বাস। কার্যকরী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নুসরাত জাহান সাদিয়া, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের তারেক রহমান এবং রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজীমউদ্দৌলা জুয়েল।

যোগ্যতা-দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার আহ্বান ভিসির

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পেশাদারিত্ব, সুশাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্যতা, দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’ গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সিনেট হলে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া পরিষদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সততা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করতে হবে। দল ও সরকারকে যেমন এক করা যায় না, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় ও কোনো দলের সাংগঠনিক কাঠামো এক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে তার নিজস্ব আইন, বিধি-বিধান, অ্যাকাডেমিক মূল্যবোধ ও প্রশাসনিক পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হবে। মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার সততা ও সাধারণ জীবনযাপন নিয়ে তরুণ প্রজন্মের সামনে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। একইসাথে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার অটল ও আপসহীন ভূমিকা নিয়ে গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক চর্চা হওয়া দরকার। রাজনৈতিক ইতিহাসকে শুধু দলীয় আবেগের জায়গা থেকে নয়; বরং গবেষণা ও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।’ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক মো: লুৎফর রহমান বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুদৃঢ় করা ও মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই ছিল এ দলের লক্ষ্য।’দ প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘দেশের অগ্রযাত্রার জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং তরুণদের মাঝে নাগরিক দায়িত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।’ কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের সততা ও দক্ষতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে; ক্যাম্পাসে কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয়।’ জিয়া পরিষদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আলমগীর সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও সেবা দফতরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মিয়া হোসেন রানা, জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো: রবিউল ইসলাম ও গাজীপুর জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ইয়াকুব মিয়া। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

যোগ্যতা-দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার আহ্বান ভিসির

সীমান্তবর্তী যুবকদের স্বাবলম্বী করতে বিজিবির উদ্যোগে হাঁস-মুরগি পালন প্রশিক্ষণ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি: সীমান্তবর্তী এলাকার বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি)-এর উদ্যোগে হাঁস ও মুরগি পালনের ওপর চার সপ্তাহব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।জয়পুরহাটের বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে গত ২৮ জুলাই থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার ১০ জন বেকার যুবক অংশগ্রহণ করেন।যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দক্ষ প্রশিক্ষকদের পরিচালনায় প্রশিক্ষণে হাঁস-মুরগি পালন, পরিচর্যা, রোগ প্রতিরোধ এবং এ খাতকে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি দিনাজপুর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান, বিজিবিএম, পিবিজিএম, পিএসসি। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র ও প্রশিক্ষণ সামগ্রী তুলে দেন।প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যুবসমাজকে মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রেখে ইতিবাচক ও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী, পিবিজিএমএস, পদাতিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।বিজিবি জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকার যুবসমাজকে দক্ষ, কর্মমুখী ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা এবং সীমান্তবর্তী জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সীমান্তবর্তী যুবকদের স্বাবলম্বী করতে বিজিবির উদ্যোগে হাঁস-মুরগি পালন প্রশিক্ষণ

রাশিয়ায় পরপর ২টি আন্তর্জাতিক আয়োজনে পুতিনের আমন্ত্রণ পেলেন সাবেক জবি শিক্ষার্থী শিফা

বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্ব ও দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে রাশিয়ার পরপর দুটি আন্তর্জাতিক যুব আয়োজনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরাসরি আমন্ত্রণ পেয়েছেন প্রশিক্ষক, পাবলিক স্পিকার ও যুব উন্নয়নকর্মী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী সাবিতা বিনতে আজাদ শিফা।আগামী ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গে অনুষ্ঠিতব্য International Festival of Youth 2026 উপলক্ষ্যে এই আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি।আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই উৎসব প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এর আয়োজক রাশিয়ার Federal Agency for Youth Affairs (Rosmolodezh) ও Sverdlovsk Region Government। যেখানে রাশিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার তরুণ নেতা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক এই উৎসবে বিভিন্ন দেশের তরুণ নেতা, উদ্যোক্তা, বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, সৃজনশীল শিল্পী, গণমাধ্যমকর্মী, আইটি ও ডিজিটাল খাতের পেশাজীবী এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত তরুণদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকছে।এরপর ১৭ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর আরও একটি আন্তর্জাতিক যুব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন শিফা। রাশিয়া, আবখাজিয়া ও সাউথ ওসেটিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত এ আঞ্চলিক কর্মসূচির মূল আয়োজন হবে রাশিয়ার Veliky Novgorod-এ।দুটি আয়োজনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি দ্বিতীয় কর্মসূচিতে নিজের প্রতিষ্ঠিত Global Village Empowerment-এর তরুণদের জন্য নেওয়া প্রকল্প, এর কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সামনে উপস্থাপন করবেন শিফা। তার লক্ষ্য, তরুণদের Soft Skills, নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য আরও প্রস্তুত করে তোলা।জানা যায়, এটি হবে সাবিতা বিনতে আজাদ শিফার রাশিয়ায় চতুর্থ সফর। এর আগে ২০২৪ সালেও তিনি রাশিয়ার একটি আন্তর্জাতিক যুব আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন। ওই আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ নেতাদের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে জানান শিফা।শিফা বর্তমানে STS Group-এর Training, Development and Research-এর In-Charge হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানে Training and Development, Leadership এবং Public Speaking Development-সংক্রান্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি পেশাগত উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগেও তিনি কাজ করছেন। তার দায়িত্বের সঙ্গে ISD, Glenrich International School, Universal College Bangladesh, Educo Pathway ও Evercare Hospital-এর মতো প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমও সম্পৃক্ত।সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক শিফা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত Soft Skills Trainer হিসেবেও কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ১০০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে বক্তৃতা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন তিনি। এছাড়াও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এখন পর্যন্ত ৭ লাখের বেশি তরুণের কাছে Soft Skills Education পৌঁছে দিয়ে নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা, পেশাগত উন্নয়ন ও ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে নিয়মিত কাজ করছেন শিফা।২০২৫ সালে STS Group-এ যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি সরাসরি ৬০০-এর বেশি সিনিয়র ও উচ্চপর্যায়ের নেতাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে ৫ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীকে প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করেছেন বলে জানান তিনি।নিজের প্রতিষ্ঠিত Global Village Empowerment-এর মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ১ লাখ বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীকে সরাসরি ও In-Person প্রশিক্ষণের মাধ্যমে Soft Skills-এ দক্ষ করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে শিফার।এবারের আন্তর্জাতিক সফর নিয়ে সাবিতা বিনতে আজাদ শিফা বলেন, রাশিয়ার দুটি ভিন্ন আন্তর্জাতিক যুব আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি তরুণদের জন্য তার প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের সম্ভাবনা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে চান তিনি।উল্লেখ্য, গত বছর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন ‘রোসাটম’ স্বীকৃত বিশ্বের শীর্ষ ৫০ নারী নেত্রীর তালিকায় স্থান পেয়ে আলোচনায় আসেন বাংলাদেশের এই যুব উন্নয়নকর্মী সাবিতা বিনতে আজাদ শিফা।

রাশিয়ায় পরপর ২টি আন্তর্জাতিক আয়োজনে পুতিনের আমন্ত্রণ পেলেন সাবেক জবি শিক্ষার্থী শিফা
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream