বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

ফিচার

দিনাজপুরের বিরামপুরে ইতিহাসের পাতায় জমিদার বাড়ি

দিনাজপুরের বিরামপুরে ইতিহাসের পাতায় জমিদার বাড়ি

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৩নং খানপুর ইউনিয়নে অবস্থিত রক্ষুনী কান্ত বাবুর জমিদার বাড়ী ধ্বংসের পথে। হতে পারতো এখানে পর্যটন কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে আজ তার ধ্বংসের দিকে পতিত হচ্ছে। জানালা, দরজা কিছুই নেই, নেই প্রবেশের বাঁধা অভিভাবকহীন চমকপ্রদ এই সু-দৃশ্য দ্বিতল অট্টালিকাটিতে অনেকটা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে স্থানীয়রা। তারা রাতের আঁধারে সবই খুলে নিয়ে গিয়েছেন। তবে অনেকটা সুরক্ষিত রয়েছে কংক্রিটের দেয়ালের ইটগুলো। নিপুণ হাতের গাঁথুনির দেয়ালের ইটগুলো এখনো অনেকটা চকচকেই রয়ে গেছে। স্তরে স্তরে সাজানো দ্বিতল ভবনের ১৪টি ঘরের দেয়াল, ছাদে রয়েছে অনেক নিদর্শন। বর্তমান সিঁড়িটি স্থাপত্বের একটি নিদর্শন মাত্র। তবে আগের মতো যৌলুশ নেই, নেই কর্তা বাবুদের নজরদারি। সংস্কার আর নজরদারির অভাবে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন স্বরূপ রক্ষুনী কান্ত বাবুর জমিদার বাড়িটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তবুও প্রতিদিনই এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসেন সৌন্দর্য পিপাসু অনেক দর্শনার্থী ও পর্যটকরা।জমিদার বাড়িটির ইতিহাস:ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধ দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার রয়েছে বহু দর্শনীয় স্থান। উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের রতনপুর বাজারের উত্তর পার্শ্বে অবস্থিত এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন স্বরূপ জমিদার বংশের যুগযুগ ধরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তথ্যনুযায়ী জানাযায়, বিরামপুর সহ আশেপাশে অঞ্চলগুলোতে প্রজাদের নিকট থেকে খাজনা আদায় করার জন্য অষ্টাদশ শতকে ব্রিটিশরাফুলবাড়ী জমিদার বাড়ির পক্ষে রাজকুমার সরকারকে রতনপুর কাচারীতে প্রেরণ করেন। কিন্তু রাজকুমারের মেধা চতুরতা আর কৌশলতায় তার ভাগ্যের চাকা বদলে জীবনের মোড়ে ঘুরিয়ে দিয়ে ছিল। অবাক ব্যাপার যে, রাজকুমারের খাজনা আদায়ে পারদর্শিতায় ও নৈপুণ্যে জমিদার সাড়ে ৬শ বিঘা জমি উপহারসহ তার নিজের বোনের সাথে রাজকুমারের বিয়ে দেন। আঙুল ফুলে কলাগাছের মত সৌভাগ্যক্রমে সাধারণ খাজনা আদায়কারী থেকে জমিদার বনে যান। শুধু তাই নয়, রাজকুমার অধিক অর্থসম্পদের লিন্সায় মেতে উঠে স্থানীয় রঘু হাসদা নামের এক অঢেল সম্পত্তির প্রতাপশালী সাঁওতালের কাছ থেকে ধার করে নেয়ার কথা বলে ৫ বস্তা কাঁচা টাকা দিয়ে অন্য জমিদারগণের নিকট ৩শ বিঘা জমি কিনে নেন। এ ঘটনায় ২ বছর পর রঘু হাসদার আড়াইশো বিঘার ফলের বাগান চতুরতায় কয়েদ করে নিয়ে অত্যন্ত সু-কৌশলে উপকারী রঘু হাসদাকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করেন মোট ১২শ বিঘার ফলদ, বনজ ঔষধি জমির মালিক ধূর্ত রাজকুমার নামের নব্য জমিদার আরাম আয়েশের জন্য বিলাস বহুল অভিজাত চমকপ্রদ এই সু-দৃশ্য দ্বিতল অট্টালিকা নির্মাণ করেন। কিন্তু, তার এ সুখ বেশী দিন স্থায়ী হয়নি। জমিদারের দুই পুত্র রতন কুমার ও রক্ষুনী কান্ত বাবুর মধ্যে বড় ছেলে রতন কুমার ১৬ বছর বয়সে মন্দিরের পুষ্করিনীতে স্নান করতে গিয়ে ডুবে মারা যান। এতে পুত্রের অনাকাক্সিক্ষত বিয়োগান্তে জমিদার শোকে বিহব্বল আচ্ছন্নের মত নির্বিকার হন। যা পরবর্তীতে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে নিজের জীবন প্রদীপও নিভে যায়। পুত্র শোকে কাতরতায় অবসাদ- বিশাদগ্রস্ততায় আর হতাশায় জমিদারও মারা যান রতনপুর জমিদার বাড়ির পরবর্তি অধ্যায়ে উত্তরাধিকার হিসেবে পিতার মৃত্যুর পর ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রমার্ধে এক মাত্র পুত্র রক্ষুনী কান্ত বাবুই পৈত্রিক সূত্রে জমিদারী লাভ করেন ও মালিক হন এই জমিদার বাড়িটির। যতদূর জানা যায়, রক্ষুনী কান্ত বাবু জমিদারি থাকা কালীন সময়ে তার বাড়িতে ১০০ টি বিড়াল পুষে ছিলেন, যে বিড়াল গুলোর দুধের বাটি দিয়েও দুধ পান করত না যতক্ষণ পর্যন্ত মনিবের হুকুম না হত। জমিদার রক্ষুনী কান্তর দরবারে প্রতিবেশী কেউ গেলে প্রস্থানের পর উক্ত ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে নেয়া হত। আরো জানাযায়, জমিদার রক্ষুনী কান্ত বাবুর কোন সন্তান ছিল না। কিন্তু, ১৯৭১ সালে এদেশে স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হলে জমিদার রক্ষুনী কান্তর বাবু স্বস্ত্রীক নিয়ে একটি মহিষের গাড়িতে চড়ে রাতের আঁধারে কলকাতার উদ্দেশ্যে তার বংশধরদের কাছে পাড়ি দেন। জমিদার বাড়িটি ভূমি অফিস হিসেবে ব্যবহার হলেও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উত্তর পার্শ্বে আর একটি নতুন ভবন তৈরি করা হয়েছে। যেটি খানপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। বর্তমান জমিদার রক্ষুনী কান্তর বাবুর জমিদার বাড়ির পাশে রয়েছে ইসলামিক মিশন, মাদ্রাসা, মসজিদ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সহ বিলাস একটি পুকুর। বর্তমানে জমিদার রক্ষুনী কান্ত বাবুর ১২শ বিঘা জমি ফলদ, বনজ ও ঔষধি বাগান রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে সম্পত্তি বিলিন ও বেদখল হয়ে গেছে, যতটুকুর হদিস মিলেছে ততটুকুই দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মহোদয় জমিদার রক্ষুনী কান্ত বাবুর সম্পত্তি ১ নম্বর খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্তি করেছেন। লতায় পাতায় ছেয়ে যাওয়া জীর্ণ জঙ্গলময় ভুতুড়ে পরিত্যক্ত এই জমিদার বাড়িটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার্থে সংস্কারের জন্য দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষে এর আগে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। স্থানীয়রা জানান, বিরামপুর উপজেলার কোল ঘেঁষে আশুড়াল বিল দৃষ্টি নন্দন আঁকা বাঁকা কাঠের সেতু। দেশের যে কোন এলাকা থেকে পর্যটক আসলে যেন এক সাথে সব উপভোগ করতে পারে। সেই জন্য রতনপুর জমিদার বাড়িটি সংস্কার করে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করলে এই এলাকার কয়েক হাজার মানুষের কর্মস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

শেখ সোলায়মানের নতুন গান ‘মানব জীবন’, ফুটে উঠবে যমুনার পাড়ের সৌন্দর্য

গ্রামের আঁকাবাঁকা আলপথ কিংবা নদীতীরে বাঁশির সুরে শ্রোতাদের হৃদয়ে যে আবেগ ও বেদনা ছড়িয়ে দিয়েছেন বাঁশিওয়ালা শেখ সোলায়মান, সেই সুর এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও আলোচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাঁশির সুরের জন্য ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। বাঁশির পাশাপাশি গানেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন এই শিল্পী।কভার গানে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জনের পর সাম্প্রতিক সময়ে মৌলিক গান তৈরিতে মনোযোগ দিয়েছেন শেখ সোলায়মান। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রকাশ হতে যাচ্ছে তার নতুন মৌলিক গান ‘মানব জীবন’।গানটির কথা ও সুর করেছেন খ্যাতনামা সাংবাদিক সাইফুল শাহীন। সংগীতায়োজন করেছেন এআর রানা। ইতোমধ্যে গানটির অডিও নির্মাণের পাশাপাশি সম্পন্ন হয়েছে নান্দনিক মিউজিক ভিডিওর চিত্রায়ণ।টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর তীর, ঐতিহাসিক হেমনগর জমিদারবাড়ি, নবগ্রামসহ জেলার বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে মিউজিক ভিডিওটির দৃশ্যধারণ করা হয়েছে। লোকজ আবহে নির্মিত এই ভিডিওতে গানটির কথা ও সুরের পাশাপাশি টাঙ্গাইলের নদী, গ্রামবাংলার প্রকৃতি এবং অপরূপ বাংলাদেশের নান্দনিক দৃশ্যও উঠে আসবে।শেখ সোলায়মানের নতুন গান ‘মানব জীবন’ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অডিও প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি গানটির মিউজিক ভিডিও প্রকাশ পাবে শেখ সোলায়মানের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে।নতুন এই গান ও মিউজিক ভিডিও নিয়ে ইতোমধ্যে শ্রোতা-দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। শিল্পীর প্রত্যাশা, ‘মানব জীবন’ গানটি দেশ-বিদেশের বাংলা গানের শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে।

শেখ সোলায়মানের নতুন গান ‘মানব জীবন’, ফুটে উঠবে যমুনার পাড়ের সৌন্দর্য

পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও টিকে থাকার অদম্য রূপরেখা

পার্বত্য চট্টগ্রামের (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) ১১টি প্রধান ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী—চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, লুসাই, বম, পাংখোয়া, খিয়াং, খুমি ও চাক। প্রকৃতি, জুম চাষ ও স্বতন্ত্র সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে বাঁধা এদের জীবনপ্রবাহ। পাহাড়ের ভৌগোলিক প্রতিকূলতা, পরিবেশগত পরিবর্তন ও বাজার অর্থনীতির আধুনিক ধাক্কা সামলেও এরা হাজার বছর ধরে নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে টিকে রয়েছে।জীবনযাত্রার প্রধান তিন মূল ভিত্তি:জুম চাষ (লেঙবা/ঝুম): পাহাড়ের ঢালে ধাপ কেটে ধান, মারফা, তুলা, তিল ও শাকসবজি ফলানোর যৌথ ও ঐতিহ্যবাহী কৃষি ব্যবস্থা।মাচাং ঘর: আর্দ্রতা, বন্যপ্রাণী ও পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মাটির ওপর উঁচুতে নির্মিত বাসস্থান।ঝিরি ও ঝরনা নির্ভরতা: পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা প্রাকৃতিক ঝিরি-ঝরনাই তাদের সুপেয় পানি ও দৈনন্দিন গৃহস্থালির প্রধান উৎস। ১১ জাতিগোষ্ঠীর ভৌগোলিক অবস্থান ও বৈচিত্র্যময় জীবনধারাজাতিগোষ্ঠীপ্রধান প্রধান অঞ্চলজীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতির বিশেষত্বচাকমারাঙামাটি, খাগড়াছড়িসমতলের কাছাকাছি বাস; স্থায়ী কৃষি, ব্যবসায় ও তাঁতশিল্পে অগ্রগামী। বিজু উৎসব পালনে মুখর।মারমা বান্দরবান, খাগড়াছড়িবৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী; সাংগ্রাই উৎসব ও জলকেলি তাদের মূল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।ত্রিপুরা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটিবৈসুক উৎসব ও ঐতিহ্যবাহী গড়াইয়া নৃত্যের জন্য প্রসিদ্ধ; জুম ও জঙ্গলনির্ভর কৃষিভিত্তিক জীবন।তঞ্চঙ্গ্যা রাঙামাটি (কাপ্তাই, রাজস্থলী)ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা রঙিন পোশাক (পিনোন-হাদি) ও গহনার নকশায় অত্যন্ত দক্ষ। ম্রো বান্দরবান (রুমা, থানচি)প্রকৃতিপূজারি; সুউচ্চ মাচাং ঘর, বাঁশের বাদ্যযন্ত্র ‘জিয়াং’ ও রিবাং নৃত্যের জন্য সুপরিচিত। লুসাই রাঙামাটি, বান্দরবানসুতি কাপড়ের নিজস্ব বুননশিল্প ও পাহাড়ি ফলমূল সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী। বম বান্দরবানখ্রিস্টধর্মীয় প্রভাব বেশি; কোরাস গান, বাঁশশিল্প ও দলবদ্ধ জুমচাষে অত্যন্ত সুসংগঠিত। পাংখোয়া রাঙামাটি (বিলাইছড়ি) ঝরনাপারের দুর্গম এলাকায় বসবাস; বাঁশ ও বেতের ঝুড়ি তৈরিতে সিদ্ধহস্ত।খিয়াংবান্দরবানপ্রান্তিক ও ছোট আকারের জনগোষ্ঠী; মারমা ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির মেলবন্ধনে জীবনযাপন। খুমি বান্দরবান (থানচি, রুমা) চরম দুর্গম পাহাড়ি চূড়ায় বাস; নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি ও জুমনির্ভর আত্মনির্ভরশীল জীবন। চাক বান্দরবান (নাইক্ষ্যংছড়ি)বিলুপ্তপ্রায় নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির বাহক; সীমান্তঘেঁষা বনে জুম ও বনজ সম্পদ সংগ্রহজীবী। রূপান্তর, সংগ্রাম ও নারীদের ভূমিকাপ্রকৃতির পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে গিয়ে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোকে প্রতিনিয়ত বন্যা, পাহাড়ি ঢলে ভূমিধস ও জুমের ফলন বিপর্যয় মোকাবিলা করতে হয়। কাপ্তাই বাঁধের ইতিহাস থেকে শুরু করে বর্তমানের আধুনিক বাজার ব্যবস্থা—উভয় সামাজিক পরিবর্তনের সাথে লড়াই করেই তারা শিক্ষা ও প্রযুক্তির নতুন দিগন্তে পা রাখছে।বিশেষ করে পাহাড়ি নারীদের ভূমিকা এই জীবনসংগ্রামে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; জুমের খেত পরিচর্যা, ঝিরি থেকে পানি বহন এবং কোমর তাঁতে কাপড় বোনার মাধ্যমেই মূলত এই অঞ্চলগুলোর পারিবারিক অর্থনীতির চাকা সচল থাকে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও টিকে থাকার অদম্য রূপরেখা

সবুজের রাজ্য: পাহাড়ের বুকে ধানক্ষেত আর মেঘের আল্পনা

বৃষ্টি শেষে বান্দরবানের পাহাড়গুলো এখন যেন নতুন করে সেজেছে। চারপাশে শুধু সবুজ আর সবুজ। সামনে ঢেউ খেলানো ধানক্ষেত, পেছনে ঘন জঙ্গল, আর দূরে আকাশে গোলাপি-বেগুনি মেঘের ছোঁয়া। ছবিতে দেখা যায়, পাহাড়ের ঢালে ঢালে জুম চাষের ফসল বড় হচ্ছে। একপাশে টিনের চালের ছোট্ট কুঁড়েঘর। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে গেছে আঁকাবাঁকা মেঠো পথ। কলাগাছ আর বুনো লতায় ঘেরা এই দৃশ্য দেখলে মনে হয় প্রকৃতি নিজেই এখানে শিল্পী।পাহাড়ি জীবনের রূপএই দৃশ্য বান্দরবানের থানছি, রুমা কিংবা আলীকদমের যেকোনো পাহাড়ি পাড়ার হতে পারে। এখানকার মানুষের জীবন জড়িয়ে আছে এই জমি আর প্রকৃতির সাথে। জুমের ধান, ভুট্টা আর বিভিন্ন সবজিই তাদের বছরের ভরসা।স্থানীয় একজন কৃষক বলেন,  “বর্ষায় পাহাড় সবুজ হয়ে উঠে। এই সময়টা আমাদের কাছে উৎসবের মতো। ফসল ভালো হলে সারা বছরের খাবারের চিন্তা থাকে না।পর্যটকদের নতুন আকর্ষণইদানিং শহরের কোলাহল ছেড়ে অনেক পর্যটকই ছুটে আসছেন এমন নির্জন পাহাড়ি গ্রামগুলোতে। এখানকার শান্তি, বিশুদ্ধ বাতাস আর এই অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাদের টানে। বিকেলের শেষ আলোয় পাহাড়ের রং বদলানো দেখতে ভিড় করছেন অনেকে।প্রকৃতি ও মানুষের বন্ধনবান্দরবানের এই সবুজ পাহাড় শুধু সৌন্দর্যই না, এটা এখানকার মানুষের জীবিকা। এই মাটি, এই জুম, এই কুঁড়েঘর - সব মিলিয়েই পাহাড়ি জনপদের আসল চিত্র। কংক্রিটের শহরে যারা হাঁপিয়ে উঠেছেন, একবার ঘুরে আসুন বান্দরবানের এই সবুজ উপত্যকা থেকে। দেখবেন মনটা নিজে থেকেই ভালো হয়ে যাবে।

সবুজের রাজ্য: পাহাড়ের বুকে ধানক্ষেত আর মেঘের আল্পনা

শতকোটি টাকার অবকাঠামো, চিলাহাটি স্থলবন্দরে মিলছে না প্রত্যাশিত সুফল

‎প্রায় ১৩০ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত চিলাহাটি আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন এখন অবহেলিত ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সীমান্ত ঘোষা নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি এলাকায় অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন এই ভবনটি দূর থেকে দেখলে নজর কাড়ে। কিন্তু বাস্তবে এই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল যে উদ্দেশ্যে সেটি বন্ধ রয়েছে । ‎বর্তমানে ভবনটির ভিতরের আসবাবপত্রগুলো অব্যবস্থাপনা অবস্থায় ধুলোবালিতে জরাজীর্ণ নোংরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্টেশনের ভবনের আশপাশে বেশ কিছু বিল্ডিং যেগুলো নির্মিত হয়েছিল চিলাহাটি স্থলবন্দরের বিভিন্ন কাজ পরিচালনার জন্য । এর মধ্যে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ভিআইপি রেস্ট হাউজ ।‎ভবনের দ্বিতীয় তলায় ব্যাংক ও শুল্ক কর্মকর্তাদের জন্য রাখা ঘরগুলো খালি পড়ে আছে। তৃতীয় তলায় রেস্তোরাঁর জায়গাটি ফাঁকা। বহুমুখী এই স্টেশন ভবনের পাশে দোতলা ভিআইপি অতিথিশালাটিও তালাবদ্ধ। বেকার পড়ে আছে ওভারব্রিজ, যাত্রীছাউনি ও গার্ডরুম। সীমান্ত পর্যন্ত টানা রেললাইনে মরিচা পড়েছে।‎পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ কয়েক বছরে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব নির্মাণ করা হয়েছিল উত্তরের জেলা নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি স্থলবন্দরের জন্য। সেসময় স্থলবন্দরটি দিয়ে ভারতের সঙ্গে রেলপথে পণ্য ও যাত্রী চলাচল শুরুও হয়েছিল, যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করলেও চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রী ওঠা নামার সুযোগ মেলেনি, খুব দ্রুতই এই রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রী ওঠানামার কথা ছিল । তবে ২০২৪ সালের কোন অভ্যুত্থানের পর তা থেমে যায়।‎পরবর্তীতে ২০২৫ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক অবকাঠামো না থাকার যুক্তিতে প্রজ্ঞাপন দিয়ে চিলাহাটি স্থলবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। সুতরাং ভবন, রেলপথ সবই বেকার খরচের খাতায় চলে গেছে। থমকে গেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগ-আয়োজন আর আশা।‎২০১৩ সালে চিলাহাটিকে স্থল বন্দর হিসেবে ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর চিলাহাটি স্টেশন দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনটিও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকে আর আয়ের মুখ দেখেনি স্টেশনটি। তিনি আরও বলেন, পূর্ণরায় যদি এই স্টেশন দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া শুরু করার পাশাপাশি যাত্রী ওঠানামা বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তাহলে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে যেমন রাজস্ব আদায় বাড়বে তেমনি যাত্রী ওঠানামার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যাত্রী এসে যখন চিলাহাটি স্টেশন থেকে ওঠানামা করবে তখন সেখান থেকেও সরকার ব্যাপক রাজস্ব আয় করতে পারবে। ‎এছাড়াও চিলাহাটি স্টেশন থেকে যাত্রী ওঠানামা করতে যেসব আনুষঙ্গিক অবকাঠামো প্রয়োজন যেমন, ভিআইপি রেস্ট হাউস, ব্যাংক, যাত্রী চেকিং করার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি এখানে রয়েছে। তিনি বলেন, এখানে আরএমবি, জিআরপি এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পরিচালনার অফিস থাকার জায়গারও সুব্যবস্থা রয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা যাত্রী ওঠানামা ও পণ্য আনা নেওয়াসহ খালাসের ক্ষেত্রেও আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি। মূলত সব ধরনের অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশনে রয়েছে।‎চিলাহাটির স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পণ্য পরিবহন চালু থাকাকালে শ্রমিক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের আনাগোনা ছিল এই স্থলবন্দরকে ঘিরে। সেসময় আশপাশের জমির দামও বেড়ে গিয়েছিল। বন্দর কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখে অনেকে বিনিয়োগেরও পরিকল্পনা করেছিলেন।‎এবিষয়ে চিলাহাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুল হক ওহাবুল এবং সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক কাজল জানায়, বন্দরটি দিয়ে পণ্য আনা নেওয়া শুরু হওয়ার পর থেকে এখানকার পরিবেশটাই চেঞ্জ হয়ে গেছে। অনেক দরিদ্র মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর থেকে সেই মানুষ গুলো কাজকর্ম হারিয়ে বেকারত্বের অভিসাপে ভুকছে।তারা আরও জানায়, স্থলবন্দরটি দ্রুত চালু হলে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে। এছাড়াও বর্তমানে স্টেশনের আয় কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। শত কোটি টাকা খরচ করে অবকাঠামো তৈরির পর স্থলবন্দরটির পাশাপাশি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ লোকসান গুনছেন।‎চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, দুই দেশের মধ্যে পণ্য সেবা চালুর পর পাথরের এক একটি চালানে ভাড়া বাবদ রেল কর্তৃপক্ষ ২০ থেকে ২৬ লাখ টাকা পেত। এবং মাস শেষে সেটা দাঁড়াত প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকা। স্টেশনের আয়-ব্যয়ের খাতা বলছে, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে স্টেশনের আয় হয়েছিল প্রায় ৮০ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তা নেমে আসে ৩৫ লাখ টাকায়। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে আয় অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। এছাড়াও স্টেশনটিতে দুজন স্টেশন মাস্টারসহ ৫০ জনের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এখন তাঁদের কাজও কমে গেছে। বর্তমানে কেবল অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী ট্রেনই চলছে।‎চিলাহাটির স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করেন, এ বন্দরটির কার্যক্রম পূর্ণরায় চালু হলে ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুবিধা হতো। বর্তমানে স্থলবন্দরটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন তাঁরা বিপাকে পড়েছেন।‎নীলফামারী চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহাবুব-উর রহমান জানায়, চিলাহাটি স্থলবন্দর নিয়ে আমরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এটা চালু করার জন্য যেখানে যেখানে কথা বলা দরকার আমরা সেই যোগাযোগ অব্যহত রেখেছি। পাশাপাশি এখানে রেলপথটি যেহেতু আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে সম্পৃক্ত এবং বর্তমানে পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে আমাদের সম্পর্ক নাজুক, তারপরও আমরা চিলাহাটি স্থলবন্দর ও রেলপথ চালুর বিষয়ে আমাদের চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব স্থলবন্দর ও রেলপথ চালুর বিষয়ে আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বলে তিনি জানান।‎এবিষয়ে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা যায় চিলাহাটি স্থলবন্দরটি আপাতত চালু হচ্ছে না। তবে চালু করতে হলে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সম্মতি প্রয়োজন। এ জন্য উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।‎

শতকোটি টাকার অবকাঠামো, চিলাহাটি স্থলবন্দরে মিলছে না প্রত্যাশিত সুফল

রিমঝিম বৃষ্টিতে ভিজে মেঘ ছুঁয়ে দেখছে পর্যটকরা, নীলাচল-মেঘলায় এখন প্রকৃতির আসল রূপ

প্রকৃতির রানী বান্দরবান এখন রূপে-রসে ভরপুর। রিমঝিম বৃষ্টির সাথে মেঘের খেলা দেখতে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন হাজারো পর্যটক। আজ মঙ্গলবার  সকাল থেকে নীলাচল, মেঘলা, সুপ্রভাত, স্বর্ণ মন্দির সহ জেলার সকল পর্যটন স্পটে ছিল পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা আর মেঘ-কুয়াশার মধ্য দিয়ে গাড়ি চলার দৃশ্য দেখে পর্যটকরা বলছেন, "ভিডিওতে যা দেখি তার চেয়েও সুন্দর বাস্তবের বান্দরবান। না আসলে বোঝা যাবে না।"নীলাচলে দাঁড়িয়ে মেঘের ভেতর দিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছেন তরুণ-তরুণীরা। মেঘলা পার্কের ঝুলন্ত ব্রিজে সেলফি আর বৃষ্টিতে ভিজে শিশুদের দৌড়াদৌড়ি। সুপ্রভাত পয়েন্ট থেকে মেঘের সাগর দেখে মুগ্ধ সবাই। ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক বলেন,  “ইউটিউবে বান্দরবানের ভিডিও দেখে এসেছিলাম। কিন্তু সামনাসামনি যা দেখলাম তা ক্যামেরায় ধরা সম্ভব না। এই বৃষ্টি, এই মেঘ, এই আঁকাবাঁকা রাস্তা... বান্দরবান না আসলে বুঝবেন না ভাই। উপেক্ষা করে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সব স্পটে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাহাড়ি রাস্তায় সাবধানে গাড়ি চালানোর জন্য চালকদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টিতেও পর্যটকদের আগমনে খুশি স্থানীয় হোটেল-মোটেল ও গাড়ি চালকরা। তাদের মতে, এই মৌসুমেই বান্দরবানের আসল সৌন্দর্য ধরা দেয়।বৃষ্টি মানেই বান্দরবান। আর বান্দরবান মানেই মেঘ-পাহাড়ের প্রেম। যারা এখনো আসেননি, ব্যাগ গুছিয়ে চলে আসুন। প্রকৃতি আপনাকে ডাকছে।

রিমঝিম বৃষ্টিতে ভিজে মেঘ ছুঁয়ে দেখছে পর্যটকরা, নীলাচল-মেঘলায় এখন প্রকৃতির আসল রূপ

রূপালী পর্দার বাইরে কেমন ছিলেন সালমান শাহ?

বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেতা সালমান শাহ (চৌধুরী সালমান শাহরিয়ার ইমন)। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্ম নেওয়া এই ‘স্বপ্নের নায়ক’ রূপালী পর্দায় স্টাইল ও অভিনয়ে নতুন যুগ এনেছিলেন। তবে তরুণ প্রজন্মের অনেকেরই জানা নেই, পর্দার বাইরে কেমন ছিল তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, খাদ্যাভ্যাস কিংবা মানুষ হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন।সালমান শাহ বেশ স্পিডে গাড়ি চালাতে পছন্দ করতেন। রাতের বেলা প্রায়ই বন্ধুদের নিয়ে গুলশানের একটি সাধারণ রেস্তোরাঁয় চলে যেতেন মিল্কশেক খেতে। দোকানদার ভালোবেসে অনেক রাতেও শুধু তাঁর জন্য রেস্তোরাঁ খোলা রাখতেন।উত্তরার ফুটপাতের চিতই পিঠা ও ‘নানি’র গল্প: পিঠা খেতে খুব ভালোবাসতেন সালমান শাহ। বিশেষ করে উত্তরার ফুটপাতের এক বয়স্ক নারীর হাতের চিতই পিঠা ছিল তাঁর ভীষণ পছন্দের। সহশিল্পী ও বন্ধু ডনকে নিয়ে প্রায়ই সেই দোকানে যেতেন এবং দোকানদার বৃদ্ধাকে ‘নানি’ বলে ডাকতেন। এক বসায় ৯-১০টি পিঠা খেয়ে ফেলতেন এবং পিঠার বিলের চেয়ে অনেক বেশি টাকা (যেমন: আটটি পিঠার জন্য ৫০০ টাকা) দিয়ে আসতেন।সালমানের সঙ্গে জুটি বেঁধে সফল হওয়া চিত্রনায়িকা শাবনূর তাঁর স্মৃতিচারণে জানান, মানুষকে সম্মান দেওয়ার অসাধারণ গুণ ছিল সালমানের। শাবনূর বলেন, “একদিন আমার মা শুটিংয়ের সেটে গেছেন, সেখানে বসার কিছু ছিল না। হঠাৎ ও পকেট থেকে টাকা বের করে প্রোডাকশনের একজনকে বলল দ্রুত একটা মোড়া কিনে নিয়ে আসার জন্য। মুরব্বিদের কীভাবে শ্রদ্ধা আর ছোটদের কীভাবে আদর করতে হয়, তা সালমান খুব ভালো করেই জানত। চলচ্চিত্রের কেউ বিপদে পড়ে সালমানের কাছে গিয়ে সহযোগিতা পায়নি—এমন নজির নেই। সে ছিল অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ।”আজ ৬ সেপ্টেম্বর। ৩০ বছর আগে ঢাকায় চলচ্চিত্রে রাজত্ব করা মানুষটি আজ অনতিক্রমণীয় দূরত্বে। তিনি কী দেখছেন ছেড়ে যাওয়া ভক্ত ও অনুরাগীরা কী গভীর শ্রদ্ধা আর নিখাদ ভালোবাসায় স্মরণে রেখেছে তাঁকে? এ প্রশ্নের উত্তর কারও জানা নেই। তবে তিনি বেঁচে থাকবেন ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘প্রেমযুদ্ধ’, ‘দেনমোহর’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আঞ্জুমান’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘জীবন সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো ব্যবসা সফল চলচ্চিত্রের ভেতর; নিজ অভিনয় গুণে। বেঁচে থাকবেন ভক্তদের অন্তরে।

রূপালী পর্দার বাইরে কেমন ছিলেন সালমান শাহ?

জীবনের ঝুঁকি নিয়েও থামেনি সংগ্রাম: ৭৫ বছর বয়সেও নারকেল গাছে ওঠেন জলিল গাছি

বয়স ৭৫ বছর। শরীর নুয়ে পড়েছে, কপালে বয়সের ছাপ। তবু থেমে নেই জীবনসংগ্রাম। দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় নারিকেল কেটে পরিস্কার (গাছ ঝুরে)করে সাত সদস্যের সংসার চালিয়ে আসছেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের বাহাদিয়া ইমামনগর গ্রামের আব্দুল জলিল গাছি।মাত্র ২০ বছর বয়সে নারিকেল গাছ ঝুরা বা পরিস্কারের কাজ শুরু করেন জলিল। এরপর কেটে গেছে ৫ যুগেরও বেশি সময়। এখন তাকে জলিল গাছি নামে এলাকার সবাই চিনেন। মানিকগঞ্জ ও সিংগাইরের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে গাছের মালিকদের অনুরোধে নারিকেল গাছ পরিষ্কার ও পরিচর্যার কাজ করেন তিনি। গাছের মাথায় উঠে শুকনা ডাওগা বা ডাল কাটা, গাছের গুচ্ছ ও গোড়া পরিষ্কার এবং নারিকেল পেড়ে দেওয়াই তার কাজ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উঁচু গাছে উঠতে হয় তাকে।জানাগেছে, জলিল মিয়ার সংসারে স্ত্রী, এক ছেলে, ছেলের বউ, দুই নাতি ও এক নাতনিসহ সাতজন সদস্য। তার ছেলে গাজীপুরের একটি সুতার কারখানায় কাজ করেন। মাসে ১০ হাজার টাকা বেতন পান। সাত সদস্যের সংসারের ব্যয় মেটাতে এ আয় যথেষ্ট না। তাই সংসারের বাড়তি খরচ মেটাতে বৃদ্ধ বয়সেও ঝুঁকির কাজ করতে হচ্ছে জলিলকে।জলিল মিয়া বলেন, ২০ বছর বয়স থেকে গাছ ঝুরার কাজ করছি। এ কাজ করেই ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে সংসার চালাচ্ছি। আগে দিনে অনেক গাছে উঠতে পারতাম। এখন বয়স হয়েছে, শরীর আগের মতো চলে না। অভাবের সংসার। তাই এখনো বাধ্য হয়ে মাসের ১০/১৫ দিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নারিকেল গাছ ঝুড়ার কাজ করি।স্থানীয়রা জানান, ৭৫ বছর বয়সেও কারও কাছে হাত না পেতে পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করছেন জলিল। দীর্ঘদিন ধরে সততার সঙ্গে কাজ করে আসছেন তিনি। তবে বয়স ও পারিবারিক আর্থিক সংকট বিবেচনায় সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে জীবনের শেষ সময়টা কিছুটা স্বস্তিতে কাটাতে পারবেন তিনি।তারা আরও জানান, উঁচু গাছে উঠে নারিকেল গাছ পরিষ্কার ও পরিচর্যার পুরোনো পেশাটি এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। এর মধ্যেও জলিল মিয়ার পাঁচ দশকের শ্রম ও জীবনসংগ্রাম পরিশ্রমী মানুষের অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে।

জীবনের ঝুঁকি নিয়েও থামেনি সংগ্রাম: ৭৫ বছর বয়সেও নারকেল গাছে ওঠেন জলিল গাছি

চিঠি চত্বর থাকলেও নেই চিঠির সেই দিন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একসময় জায়গাটি ছিল ময়লা-আবর্জনায় ভরা। শিক্ষার্থীদের চলাচলও ছিল সীমিত। সেখানে একদিন রং-তুলির ছোঁয়া লাগল। তৈরি হলো বসার জায়গা, আঁকা হলো দেয়ালজুড়ে নানা ছবি, স্থাপন করা হলো একটি ডাকবাক্স। নাম দেওয়া হলো ‘চিঠি চত্বর’। চিঠি লেখার পুরোনো সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন বৃত্ত কুবির উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল এই চত্বর। উদ্দেশ্য ছিল, মুঠোফোনের বার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা হাতে লেখা চিঠির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। শুধু ডাকবাক্স বসিয়েই থেমে থাকেনি উদ্যোগটি। ক্যাম্পাসের ভেতরে চিঠি আদান-প্রদানের জন্য গড়ে তোলা হয়েছিল একটি স্বেচ্ছাসেবী দল। প্রেরকের চিঠি যত্ন করে পৌঁছে দেওয়া হতো প্রাপকের হাতে। চিঠি চত্বর উদ্বোধনের আগেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আসতে শুরু চিঠি। আয়োজনটি ঘিরে তৈরি হয়েছিল আলাদা আগ্রহও। কিন্তু কয়েক বছর পর বদলে গিয়েছে সেই চিত্র। চিঠি দিবসে এসে চিঠি চত্বরের দিকে তাকালে এখন চোখে পড়ে অনেকটাই ভিন্ন দৃশ্য। যে জায়গাটি একসময় শিক্ষার্থীদের আড্ডা, চিঠি লেখা ও সাংস্কৃতিক চর্চার একটি আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠেছিল, সেখানে এখন আগের মতো প্রাণচাঞ্চল্য নেই। অবহেলা আর অযত্নে হারিয়েছে সেই শুরুর জৌলুশ। কোথাও জমেছে ময়লা, কোথাও বিবর্ণ হয়ে গেছে দেয়ালের আঁকা ছবি, নেই সেই ডাকবাক্সও।  যে ভাবনা থেকে কুবির চিঠি চত্বর: চিঠি চত্বরের ভাবনাটি এসেছিলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিঠি লেখার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার তাগিদ থেকেই। বৃত্ত কুবির উদ্যোগে ক্যাম্পাসের একটি অব্যবহৃত ও অপরিচ্ছন্ন স্থানকে সাজিয়ে সেখানে স্থাপন করা হয় ডাকবাক্স। তখন সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এই চত্বর শুধু চিঠি আদান-প্রদানের জায়গা নয়; এটি হবে শিক্ষার্থীদের বসার, গল্প করার এবং নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের একটি জায়গা। ক্যাম্পাসের ভেতরে চিঠি পৌঁছে দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল আলাদা একটি দল। শিক্ষার্থীদের উৎসাহও কম ছিল না। কেউ বন্ধুদের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন, কেউ পরিবারের, কেউ আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সমস্যা নিয়ে লিখেছিলেন প্রশাসনের কাছেও। এখন কোথায় সেই চিঠির ব্যস্ততা? চিঠি চত্বরের বর্তমান চিত্র অবশ্য শুরুর সময়ের সঙ্গে মেলে না। ডাকবাক্সের সাথে, আগের সেই কৌতূহল কিংবা চিঠি লেখার ব্যস্ততা সবই হারিয়েছে। জায়গাটির বিভিন্ন অংশেও দেখা যায় অযত্নের ছাপ। একসময় যে স্থানটি শিক্ষার্থীদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতার জন্ম দিয়েছিল, এখন সেটি অনেকের কাছেই কেবল ক্যাম্পাসের আরেকটি জায়গা। নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় চিঠি চত্বরের মূল উদ্দেশ্যও ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে আড়ালে। এনিয়ে আক্ষেপ জানান শিক্ষার্থীরাও। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনিকা ইসলাম সুমাইয়া বলেন, "চিঠি চত্বর মানেই তো আমাদের স্মৃতি আর আড্ডার ঠিকানা, কিন্তু আজ চিঠি দিবসেও এটার বাজে অবস্থা দেখে খুব খারাপ লাগছে। যে জায়গাটা ক্যাম্পাসের প্রাণ হওয়ার কথা, সেটা আজ অবহেলায় পড়ে আছে। আমাদের এই প্রিয় চত্বরটাকে আগের মতো সুন্দর করতে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।"  সিএসই ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সেলিনা পারভীন মিম বলেন, "ক্যাম্পাসে এসে চিঠি চত্বরের কথা শুনে আমি খুব আগ্রহী হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, এটি শিক্ষার্থীদের অনুভূতি ও না বলা কথা প্রকাশের একটি সুন্দর স্থান হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখেছি, দীর্ঘদিনের অবহেলায় চিঠি চত্বরটি প্রায় হারিয়ে গেছে। আজ চিঠি দিবসেও জায়গাটি যে চিঠি চত্বর, তা বোঝার উপায় নেই। আমার মনে হয়, যথাযথ পরিচর্যা ও নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে চিঠি চত্বরকে আবার শিক্ষার্থীদের অনুভূতি প্রকাশের প্রাণবন্ত মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।" আবার কি ফিরবে কুবিতে চিঠির দিন? প্রযুক্তির এই সময়ে মুহূর্তেই পৌঁছে যায় বার্তা। তাও হাতে লেখা চিঠির আবেদন আলাদা। কাগজের ভাঁজে লুকিয়ে থাকে অনুভূতি, স্মৃতি আর অপেক্ষার গল্প যেন অন্যরকম অনুভূতি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি চত্বর ছিল সেই অনুভূতিগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার এক সুন্দর উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের রং-তুলির ছোঁয়ায় গড়ে ওঠা এই জায়গাটি একসময় ছিল চিঠি আর আবেগের মিলনস্থল।

চিঠি চত্বর থাকলেও নেই চিঠির সেই দিন

লঞ্চ নেই, যাত্রী নেই—ভোলা খেয়াঘাটে এখন নীরবতা

একসময় ভোলা শহরের ব্যস্ততম নৌযান টার্মিনাল ছিল ভোলা খেয়াঘাট। ভোলা-ঢাকা রুটের আটটি যাত্রীবাহী লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করত এ ঘাট থেকে। যাত্রীদের পদচারণ, ঘাটশ্রমিকদের হাঁকডাক আর লঞ্চের ভেঁপুর শব্দে দিন-রাত মুখর থাকত পুরো এলাকা। সেই ঘাট এখন প্রায় প্রাণহীন। লঞ্চ নেই, যাত্রী নেই, নেই আগের ব্যস্ততাও।যাত্রীসংকটের কারণে ভোলা-ঢাকা রুটের সর্বশেষ দুটি লঞ্চও গত ৫ জুলাই থেকে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। ফলে বর্তমানে ভোলা খেয়াঘাটে কোনো যাত্রীবাহী লঞ্চ নোঙর করে না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যেখানে ছিল কর্মচাঞ্চল্য, সেখানে এখন বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা।বর্তমানে সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে ভোলা-ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ওই ঘাটে লঞ্চের যাত্রী ওঠানামা করলেও ভোলা খেয়াঘাট পড়ে আছে অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায়।সম্প্রতি সরেজমিনে ভোলা খেয়াঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটের টার্মিনালে কোনো যাত্রীবাহী লঞ্চ নেই। যাত্রীদেরও দেখা মিলছে না। ঘাটশ্রমিকদের সেই পরিচিত হাঁকডাক নেই। ফাঁকা পড়ে আছে ঘাটসংলগ্ন এলাকা।বিআইডব্লিউটিএ, ঘাট ইজারাদার, শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকেই ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরশিফলী গ্রামের তেঁতুলিয়া নদীসংলগ্ন খালপাড়ে গড়ে ওঠে ভোলা খেয়াঘাট। ২০০৪ সালে বিআইডব্লিউটিএ ঘাটটিকে জেলার প্রথম ও একমাত্র লেবার হ্যান্ডেলিং পয়েন্ট হিসেবে ঘোষণা করে।এরপর দীর্ঘদিন ধরে এ ঘাট দিয়ে ভোলার বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার মানুষ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন। একসময় আটটি যাত্রীবাহী লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করায় ঘাটটি ছিল জেলার গুরুত্বপূর্ণ নৌ যোগাযোগকেন্দ্র।ঘাটশ্রমিক মো. জসিম বলেন, লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘাটের শ্রমিকদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় এখানকার শতাধিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ী কাজের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছেন।ঘাটের ইজারাদার মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর ভাই খোকন জানান, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের ৩০ জুলাই পর্যন্ত এক বছরের জন্য ৫২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে তাঁরা ঘাটটি ইজারা নিয়েছেন। কিন্তু ইজারা নেওয়ার পর মাত্র পাঁচ দিন ভোলা-ঢাকা রুটে ‘এমভি আবে জমজম-৩’ ও ‘এমভি কর্ণফুলী-৯’ চলাচল করে। এরপর লঞ্চ দুটি বন্ধ হয়ে যায়।ইজারাদারদের দাবি, লঞ্চ চলাচল বন্ধ হওয়ায় তাঁরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ অবস্থায় ইজারার টাকা ফেরত চেয়ে গত ১৭ জুলাই বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেছেন তাঁরা।বিআইডব্লিউটিএ ভোলা নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বলেন, লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইজারাদার তাঁর ইজারার টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছেন।‘এমভি কর্ণফুলী-৯’ লঞ্চের ভোলার ব্যবস্থাপক মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘যাত্রীসংকটের কারণে আমাদের লোকসান হচ্ছে। তাই আপাতত ভোলা খেয়াঘাট থেকে ঢাকায় আমাদের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।একসময় জেলার নৌ যোগাযোগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল যে ঘাট, সেখানে এখন লঞ্চ না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের মতে, নৌপথের পরিবর্তিত বাস্তবতা, যাত্রীদের বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা এবং ঘাটের অবস্থান—সব মিলিয়ে ভোলা খেয়াঘাট তার পুরোনো গুরুত্ব হারিয়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যস্ত ঘাটটির ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটিই এখন স্থানীয়দের প্রশ্ন।

লঞ্চ নেই, যাত্রী নেই—ভোলা খেয়াঘাটে এখন নীরবতা

কুবি শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় ৫২ বছরের ‘শফিক স্টোর’

সালটা সম্ভবত ১৯৭২ কিংবা ১৯৭৩। দেশ স্বাধীন হয়েছে মাত্র এক-দুই বছর। অভাবের সংসারে তখন বয়স মাত্র ১৩-১৪ বছর। বাবার সামান্য জমি বিক্রি করে পাওয়া এক হাজার টাকা নিয়ে ছোট্ট একটি ব্যবসা শুরু করেছিলেন শফিক মিয়া। চা আর খাস্তা-গোলগোল্লা দিয়ে শুরু হওয়া সেই পথচলার প্রায় ৫২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো টিকে আছে তার মাটির ঘরের ছোট্ট দোকান-‘শফিক স্টোর’।কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর মোড়সংলগ্ন মসজিদ সড়ক ধরে কিছুদূর এগোলেই চোখে পড়ে আধুনিকতার চাকচিক্যের মাঝেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা পুরোনো মাটির ঘরটি। প্রায় ৫২ বছরের পুরোনো এই দোকানের নাম ‘শফিক স্টোর’।মাটির দেয়াল, চুলা থেকে বেরিয়ে আসা ধোঁয়া আর দোকানের ভেতরে বসে থাকা সত্তর ছুঁই ছুঁই এক প্রবীণের হাসিমুখ-সব মিলিয়ে জায়গাটিতে রয়েছে অন্যরকম এক প্রশান্তি। তিনিই শফিক মিয়া। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘শফিক কাকা’ নামেই বেশি পরিচিত।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কেউ তাকে ‘কাকা’, আবার কেউ ‘মামা’ বলে ডাকেন। আপন করে ডাকা এসব শিক্ষার্থীর প্রতি শফিক মিয়ার স্নেহও কম নয়। কোনো শিক্ষার্থী দোকানে এলেই হাসিমুখে বলেন, ‘বসেন আব্বা, কী দিমু? যতটুকু খাইতে পারেন, খান আব্বা।’চারপাশে আধুনিকতা আর নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রতিযোগিতায় যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস, তখন স্বল্প আয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমী এক ব্যবস্থা চালু রেখেছেন শফিক মিয়া। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে তিনি চালু রেখেছেন ৬০ টাকার ‘পেট চুক্তি’ প্যাকেজ।মাত্র এক বছরে এ প্যাকেজের দাম বেড়েছে ১০ টাকা। সামান্য এই টাকায় শিক্ষার্থীরা ভাতের সাথে মাছ, মুরগি কিংবা সবজি পান। কোনো কোনো দিন মেন্যুতে থাকে হাঁস বা গরুর মাংসও।শিক্ষার্থীদের প্রতি নিজের এই ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে শফিক মিয়া বলেন, রিজিকের মালিক ওপরওয়ালা। মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করলে তিনি ফিরিয়ে দেন না। মানুষের উপকার করলে আল্লাহ তার প্রতিদান দেন। সামর্থ্য থাকলে শিক্ষার্থীদের আমি বিনা পয়সায় খাওয়াতাম। তবে সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব, আমি চেষ্টা করি।জীবনের দীর্ঘ এই পথচলায় মাটির ঘরের দোকানটিই ছিল শফিক মিয়ার পরিবারের প্রধান ভরসা। এই দোকানকে ঘিরেই তিনি সন্তানদের বড় করেছেন, গড়ে তুলেছেন তাদের ভবিষ্যৎ। তার এক ছেলে বর্তমানে শালবন জাদুঘরে কর্মরত। আর মেয়ে পড়াশোনা করছেন একটি টেকনিক্যাল কলেজে।সন্তানদের প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যেতে দেখাকেই জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা মনে করেন শফিক কাকা। এক হাজার টাকা নিয়ে শুরু করা সেই কিশোরের সংগ্রামের গল্প আজও তাই টিকে আছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ছোট্ট সেই মাটির ঘরে-চুলার ধোঁয়া, সাদামাটা খাবার আর শিক্ষার্থীদের জন্য অফুরন্ত মমতা নিয়ে।

কুবি শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় ৫২ বছরের ‘শফিক স্টোর’

এ কোন ভয়ঙ্কর মায়াজালে আটকে যাচ্ছে আমাদের প্রকৃতি?

বান্দরবানের সাঙ্গু, মাতামুহুরি সহ বিভিন্ন নদী-খাল-ছড়ায় এখন আর জালের ছপছপ শব্দ শোনা যায় না। তার বদলে রাতের আঁধারে শোনা যায় জেনারেটরের ও ব্যাটারি  গোঁ গোঁ আওয়াজ। আর ভোরে নদীর পাড়ে ভেসে থাকে হাজার হাজার ছোট-বড় মাছের মৃতদেহ।অভিযোগ উঠেছে, একটা বড় বোয়াল বা মহাশোল ধরার লোভে কিছু অসাধু চক্র ইলেকট্রিক শক মেশিন আর বিষ প্রয়োগ করে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে। একটা বড় মাছের জন্য তারা মেরে ফেলছে হাজারো পুঁটি, মলা, ডারকা, চেলা আর কাঁকড়ার পোনা। নদীর তলদেশের কেঁচো, শামুক পর্যন্ত মরে সাফ হয়ে যাচ্ছে।মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা শুধু মাছ ধরা নয়, এটা একটা নীরব গণহত্যা। ইলেকট্রিক শকে মাছের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হয়। বিষে নদীর পুরো ফুড চেইন ভেঙে পড়ে। ফলে দেশি প্রজাতির মাছ দ্রুত বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে।স্থানীয় জেলেরা আক্ষেপ করে বলেন, "আগে এক জালেই ৫-৬ কেজি দেশি মাছ উঠত। এখন সারাদিন জাল ফেলেও ২০০ গ্রাম পাই না। নদী মরে গেলে আমরা খাব কী?"মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ অনুযায়ী ইলেকট্রিক শক ও বিষ দিয়ে মাছ ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ। জরিমানা আর জেল দুটোই আছে। কিন্তু অভিযোগ, আইনের ফাঁকফোকর আর রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতি রাতেই চলছে এই ধ্বংসযজ্ঞ।আজ যদি আমরা না থামাই, তাহলে ১০ বছর পর আমাদের সন্তানরা "দেশি মাছ" বলতে ইউটিউব আর গুগলের ছবিই দেখবে। মাছে-ভাতে বাঙালির যে হাজার বছরের ঐতিহ্য, যে রূপালি বাংলার গল্প — তা শুধু বইয়ের পাতায় থেকে যাবে।পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন:বান্দরবানের প্রতিটি নদীতে রাতের বেলা মোবাইল কোর্ট ও নজরদারি বাড়াতে হবে। ইলেকট্রিক মেশিন ও বিষ বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। ধরা পড়লে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।আপনার চোখের সামনে এমন অপরাধ দেখলে নিকটস্থ থানা বা উপজেলা মৎস্য অফিসে তথ্য দিন। একটি ফোনই বাঁচাতে পারে একটি নদী, একটি প্রজন্ম। আমাদের প্রাণ-প্রকৃতি আর দেশি মাছগুলোকে বাঁচান। নইলে ক্ষমা করবে না আগামী প্রজন্ম।

এ কোন ভয়ঙ্কর মায়াজালে আটকে যাচ্ছে আমাদের প্রকৃতি?

ব্যাঙছড়ি পাহাড়ে বিরল ধনেশ: জানালায় ঠোঁটের টোকায় অনন্য প্রেমের গল্প

​পাহাড়ে ঘেরা সবুজ প্রকৃতি, ঝিরিঝিরির কলতান আর বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য—রাঙামাটির কাপ্তাই যেন প্রকৃতির এক অপরূপ কাব্য। এই রূপের মাঝেই এবার যোগ হয়েছে এক স্নিগ্ধ, আবেগঘন ও বিরল অধ্যায়। কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের ব্যাঙছড়ি মুসলিম পাড়া বিট অফিস এলাকায় সপরিবারে দেখা মিলেছে প্রকৃতি প্রেমীদের কাঙ্ক্ষিত বিরল ‘ধনেশ পাখি’র। দীর্ঘ বিরতির পর তাদের এই ফিরে আসা এবং নতুন অতিথির আগমন পাহাড়ি অরণ্যে বইয়ে দিয়েছে আনন্দের জোয়ার।​ভালোবাসার প্রতীক ও ধনেশ পাখির প্রজনন রহস্য প্রকৃতিজগতে ধনেশ পাখি তাদের স্বভাবসুলভ রোমান্টিকতা ও জীবনসঙ্গীর প্রতি আজীবন একনিষ্ঠতার জন্য অনন্য এক উদাহরণ। সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে ধনেশ পাখি প্রজনন করে এবং ডিম পেড়ে বাচ্চা দেয়। এই সময়ে এরা বড় গাছের কোটরে বা খোঁড়লে নিরাপদ বাসা বাঁধে। ঠিক এ নিয়মেই কাপ্তাইয়ের ব্যাঙছড়ি এলাকার একটি চুন্দুল গাছের কোটরে তারা গড়ে তুলেছে তাদের ভালোবাসার সংসার।ব্যাঙছড়ি স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে এই এলাকায় এক জোড়া ধনেশ পাখি নিয়মিত দেখা গেলেও মাঝখানে তারা উধাও হয়ে গিয়েছিল। এবার তারা কেবল ফিরে আসেইনি, বরং সফলভাবে তিনটি ডিম পেড়ে ছানাও ফুটিয়েছে। বর্তমানে তাদের সাথে একটি ছানাকে উড়ে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয়দের কৌতূহল ও আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।​এই বিরল অতিথিদের নিয়ে কাপ্তাই  রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান শেয়ার করেছেন এক দারুণ মজার ও আবেগঘন অভিজ্ঞতা। তিনি জানান, প্রতিদিন সকালের প্রথম আলো ফোটার সাথে সাথেই ধনেশ পাখিগুলো এসে হাজির হয় বিট অফিসের জানালার কাঁচে। ঠিক যেন ঘুম ভাঙানিয়া সকালে কেউ কড়া নাড়ছে দরজায়!​"একদম ভোরে জানালার কাচে এসে ওরা কড়া নাড়ে। মনে হয় যেন কেউ সাতসকালে দরজায় কলিং বেল বাজাচ্ছে। কাচে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে পাখিটি অন্য কেউ মনে করে রেগে যায় এবং টকটক শব্দে ঠোঁট দিয়ে কাচে আঘাত করতে থাকে। কাচের ওপাশে থাকা সেই অবয়বকে সে প্রতিপক্ষ মনে করে নিজের পরিবার ও সংসারকে রক্ষা করতে চায়—তাদের এই সরলতা ও আত্মরক্ষার তাগিদ সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।"​প্রকৃতির সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠা এই ধনেশ পরিবার পাহাড়ি বনের জীববৈচিত্র্যের এক অমূল্য সম্পদ। ভোরে বিট অফিসের জানালে কড়া নাড়া এই ধনেশ পরিবারের মিতালী কাপ্তাইয়ের অরণ্যকে করে তুলেছে আরও বেশি জীবন্ত ও প্রাণোচ্ছ্বল। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, বনের এই নির্বিঘ্ন পরিবেশ এবং কাপ্তাইয়ের অপরূপ সৌন্দর্য রক্ষায় এসব বিরল প্রাণীর নিরাপত্তা ও বিচরণক্ষেত্র আরও জোরদার করা হবে।

ব্যাঙছড়ি পাহাড়ে বিরল ধনেশ: জানালায় ঠোঁটের টোকায় অনন্য প্রেমের গল্প

অভিনয় থেকে বিদায় নিয়েও কেন এত জনপ্রিয় শাবানা

বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী শাবানা কেবল একজন নায়িকা নন; তিনি ছিলেন একটি যুগের প্রতীক, সামাজিক মূল্যবোধ এবং সাধারণ মানুষের আবেগের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। রূপালী পর্দায় তাঁর অভিনয় লক্ষ কোটি দর্শকের মনে এক চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।শাবানা এমন একটি সময়ে অভিনয় করেছেন যখন চলচ্চিত্র ছিল বাঙালি পরিবারের বিনোদনের প্রধান মাধ্যম। মা, ভাবি, স্ত্রী কিংবা আত্মত্যাগী বোনের চরিত্রে তাঁর অভিনয় এতই নিখুঁত ও জীবন্ত ছিল যে সাধারণ মানুষ তাঁর চরিত্রের মধ্যে নিজেদের দুঃখ-সুখ ও জীবন সংগ্রাম খুঁজে পেত।পর্দার চরিত্র নির্বাচন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবন—সবক্ষেত্রেই তিনি দারুণ শালীনতা বজায় রেখেছেন। ফলে তিনি কেবল তরুণ প্রজন্মের কাছেই নায়িকা ছিলেন না, বরং পরিবারের আবালবৃদ্ধবনিতার কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন।ভাত দে, ছুটির ঘণ্টা, রাঙাভাবী, পেনশন, সত্য মিথ্যা কিংবা অবুঝ শিশু-র মতো অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা তাঁকে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে দিয়েছে। ভাত দে সিনেমায় 'বাসন্তী' চরিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয় বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অনন্য এক দৃষ্টান্ত। рекорд ৫ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়।শুধু শান্ত ও আত্মত্যাগী চরিত্রই নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদী নারীর চরিত্রেও তিনি ছিলেন অনন্য। গ্রামীণ বধূ থেকে শুরু করে শহরের শিক্ষিত ও কর্মজীবী নারী—সব ধরনের রূপেই তিনি দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন।ক্যারেরিয়ারের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অবস্থায় ১৯৯৮ সালে তিনি অভিনয়কে বিদায় জানান। খ্যাতি বা লাইমলাইটের লোভে পড়ে মানহীন কাজ করেননি। অন্তরালে গিয়েও নিজের সম্মান ও ব্যক্তিত্ব ধরে রাখা এবং নীরবে নানা সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজ করে যাওয়া তাঁর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।মূলত তাঁর অভিনয়শৈলী, পারিবারিক মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্বের কারণেই যুগের পর যুগ পার হলেও শাবানাকে সাধারণ দর্শক আজও ভুলতে পারেনি।

অভিনয় থেকে বিদায় নিয়েও কেন এত জনপ্রিয় শাবানা
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream