স্ত্রীর শারীরিক অসুস্থতা স্বাভাবিক নয় বলে মনে হওয়া এবং এর পেছনে জাদুটোনার সন্দেহ প্রকাশ করে ইসলামি ফতোয়া বিভাগের কাছে এক ব্যক্তি প্রতিকার জানতে চেয়েছেন। জবাবে আলেম ও ফতোয়া বোর্ডের পক্ষ থেকে কোরআনের নির্দিষ্ট আয়াত, মাসনুন দোয়া এবং শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ বা ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসার বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে।
জাদুর প্রভাব বা উপসর্গ দূর করতে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন সুরা ও আয়াত পড়ে ফুঁ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
আয়াতুল কুরসি।
সুরা আরাফ, সুরা ইউনুস এবং সুরা ত্বহার জাদু-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট আয়াতসমূহ।
সুরা কাফিরুন, সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস।
বিশেষ করে শেষ তিন কুল (সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস) তিনবার করে পড়ে অসুস্থ ব্যক্তির শরীরে ফুঁ দেওয়া এবং হাত বুলিয়ে দেওয়ার পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে।
অসুস্থতার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত একটি বিশেষ দোয়া পাঠ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দোয়াটির বাংলা অর্থ হলো—
“হে মানুষের প্রতিপালক, কষ্ট দূর করে দিন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্যই প্রকৃত আরোগ্য; এমন আরোগ্য দান করুন, যাতে রোগের কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট না থাকে।”এছাড়াও জিবরাইল (আ.) কর্তৃক রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ঝাড়ফুঁক করার দোয়াটি পাঠ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
জাদুর চিকিৎসার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ আলেমদের বর্ণনামূলক একটি পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। সেটি হলো—
সাতটি কাঁচা বরইপাতা ভালোভাবে গুঁড়া করে পানিতে মেশাতে হবে।
এরপর ওই পানির ওপর সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, উল্লিখিত সুরাসমূহের জাদু-সম্পর্কিত আয়াত, দরুদ শরিফ এবং দোয়া পাঠ করে ফুঁ দিতে হবে।
প্রস্তুতকৃত ওই পানি থেকে কিছু অংশ অসুস্থ ব্যক্তিকে পান করাতে হবে এবং বাকি পানি দিয়ে তাকে গোসল করাতে হবে।
ফতোয়ার শেষাংশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়েছে, কেবল কিছু বাহ্যিক লক্ষণ বা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কোনো অসুস্থতাকে নিশ্চিতভাবে জাদুটোনা বা আচর হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। শারীরিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রথমে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে আধুনিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি মানসিক শান্তি ও আত্মিক শক্তির জন্য শরিয়তসম্মত উপায়ে দোয়া ও রুকইয়াহ চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে।
মতামত