শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

ইতিহাসের এক অবিশ্বাস্য অধ্যায়: তরবারিতে জয়ী হলেও আধ্যাত্মিকতায় মুসলিমদের কাছে মঙ্গোলদের আত্মসমর্পণ


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ইতিহাসের এক অবিশ্বাস্য অধ্যায়: তরবারিতে জয়ী হলেও আধ্যাত্মিকতায় মুসলিমদের কাছে মঙ্গোলদের আত্মসমর্পণ
সংগৃহীত ছবি

সালটা ১২৫৮। হালাকু খানের নেতৃত্বে মঙ্গোল বাহিনীর নির্মম হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো আব্বাসীয় খিলাফতের রাজধানী বাগদাদ। টাইগ্রিস নদীর পানি একদিকে নিহত লাখো মানুষের রক্তে লাল, অন্যদিকে লাইব্রেরি থেকে ফেলে দেওয়া অমূল্য বইয়ের কালিতে কালো হয়ে গিয়েছিল। সেসময় চারদিকের ধ্বংসলীলা দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, পৃথিবীতে হয়তো ইসলামের আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই।

কিন্তু ইতিহাস বড়ই রহস্যময়! বাগদাদ ধ্বংসের মাত্র কয়েক দশকের মধ্যেই ঘটল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। যে মঙ্গোলরা মুসলিম বিশ্বের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল, সেই মঙ্গোলরাই দলে দলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে শুরু করল!

মঙ্গোল সাম্রাজ্য যখন বিশাল আকার ধারণ করে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে, তখন 'গোল্ডেন হোর্ড' (Golden Horde) সাম্রাজ্যের নেতা বারকা খান (Berke Khan) প্রথম মঙ্গোল শাসক হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো— বারকা খান ছিলেন সেই বাগদাদ ধ্বংসকারী হালাকু খানের আপন চাচাতো ভাই! ইসলাম গ্রহণের পর বারকা খান মুসলিমদের রক্ষার জন্য নিজের ভাই হালাকু খানের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন।

পরবর্তীতে মঙ্গোলদের আরেকটি শক্তিশালী শাখা 'ইলখানাত'-এর শাসক গাজান খানও (Ghazan Khan) ইসলাম গ্রহণ করেন। নেতার দেখাদেখি লাখ লাখ দুর্ধর্ষ মঙ্গোল সৈন্য তাদের প্রাচীন তেনগ্রি ধর্ম ও শামানবাদ ছেড়ে ইসলামে দীক্ষিত হয়।

প্রচলিত ইতিহাসে সবসময় দেখা যায়, যারা যুদ্ধে হেরে যায় তারা সাধারণত বিজয়ীদের ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি গ্রহণ করে। কিন্তু মঙ্গোলদের ক্ষেত্রে ঘটেছিল ঠিক উল্টো! তারা সামরিক শক্তিতে মুসলিমদের পরাজিত করলেও, আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিকভাবে মুসলিমদের কাছেই পরাজিত হয়েছিল। ইবনে খালদুন থেকে শুরু করে অনেক বিখ্যাত ইতিহাসবিদ বলেছেন— "বিজয়ীরা গ্রহণ করেছিল বিজিতদের ধর্ম!"

তলোয়ার দিয়ে নয়, বরং সুফি সাধকদের প্রচার, মুসলিম বণিকদের সততা এবং উন্নত জীবনাদর্শ দেখেই মঙ্গোলরা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল।

অস্ত্রের জোরে বিশ্বজয় করা একটি দুর্ধর্ষ জাতির এভাবে আধ্যাত্মিক পরাজয় বরণ করার এই ইতিহাস সত্যিই রোমাঞ্চকর।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


ইতিহাসের এক অবিশ্বাস্য অধ্যায়: তরবারিতে জয়ী হলেও আধ্যাত্মিকতায় মুসলিমদের কাছে মঙ্গোলদের আত্মসমর্পণ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সালটা ১২৫৮। হালাকু খানের নেতৃত্বে মঙ্গোল বাহিনীর নির্মম হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো আব্বাসীয় খিলাফতের রাজধানী বাগদাদ। টাইগ্রিস নদীর পানি একদিকে নিহত লাখো মানুষের রক্তে লাল, অন্যদিকে লাইব্রেরি থেকে ফেলে দেওয়া অমূল্য বইয়ের কালিতে কালো হয়ে গিয়েছিল। সেসময় চারদিকের ধ্বংসলীলা দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, পৃথিবীতে হয়তো ইসলামের আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই।

কিন্তু ইতিহাস বড়ই রহস্যময়! বাগদাদ ধ্বংসের মাত্র কয়েক দশকের মধ্যেই ঘটল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। যে মঙ্গোলরা মুসলিম বিশ্বের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল, সেই মঙ্গোলরাই দলে দলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে শুরু করল!

মঙ্গোল সাম্রাজ্য যখন বিশাল আকার ধারণ করে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে, তখন 'গোল্ডেন হোর্ড' (Golden Horde) সাম্রাজ্যের নেতা বারকা খান (Berke Khan) প্রথম মঙ্গোল শাসক হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো— বারকা খান ছিলেন সেই বাগদাদ ধ্বংসকারী হালাকু খানের আপন চাচাতো ভাই! ইসলাম গ্রহণের পর বারকা খান মুসলিমদের রক্ষার জন্য নিজের ভাই হালাকু খানের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন।

পরবর্তীতে মঙ্গোলদের আরেকটি শক্তিশালী শাখা 'ইলখানাত'-এর শাসক গাজান খানও (Ghazan Khan) ইসলাম গ্রহণ করেন। নেতার দেখাদেখি লাখ লাখ দুর্ধর্ষ মঙ্গোল সৈন্য তাদের প্রাচীন তেনগ্রি ধর্ম ও শামানবাদ ছেড়ে ইসলামে দীক্ষিত হয়।

প্রচলিত ইতিহাসে সবসময় দেখা যায়, যারা যুদ্ধে হেরে যায় তারা সাধারণত বিজয়ীদের ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি গ্রহণ করে। কিন্তু মঙ্গোলদের ক্ষেত্রে ঘটেছিল ঠিক উল্টো! তারা সামরিক শক্তিতে মুসলিমদের পরাজিত করলেও, আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিকভাবে মুসলিমদের কাছেই পরাজিত হয়েছিল। ইবনে খালদুন থেকে শুরু করে অনেক বিখ্যাত ইতিহাসবিদ বলেছেন— "বিজয়ীরা গ্রহণ করেছিল বিজিতদের ধর্ম!"

তলোয়ার দিয়ে নয়, বরং সুফি সাধকদের প্রচার, মুসলিম বণিকদের সততা এবং উন্নত জীবনাদর্শ দেখেই মঙ্গোলরা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল।

অস্ত্রের জোরে বিশ্বজয় করা একটি দুর্ধর্ষ জাতির এভাবে আধ্যাত্মিক পরাজয় বরণ করার এই ইতিহাস সত্যিই রোমাঞ্চকর।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream