নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের সড়ক দুর্ভোগ লাঘবে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে ব্যক্তিগত আর্থিক সহযোগিতা ও গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। মোঃ রাশেদুজ্জামান মিন্টুর আর্থিক সহযোগিতায় এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে শুক্রবার ১৬ অক্টোবর সকাল ১০টায় সড়কটির সংস্কারকাজের শুভ সূচনা করা হয়। এ উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে।
সড়কটি প্রয়াত বজলার রহমান বজু মেম্বারের কবরস্থানসংলগ্ন পাকা রাস্তা থেকে শুরু হয়ে আব্দুল মালেকের বাড়ির সামনে দিয়ে মোঃ মকবুলার রহমানের বাড়ি সীমান্ত পাড়ার যাদুর বাঁধ হয়ে দাসপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। পর্যায়ক্রমে পুরো সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আর্থিক সহযোগিতাকারী মোঃ রাশেদুজ্জামান মিন্টু।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে এলাকাবাসীকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছিল। বিশেষ করে দৈনন্দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে সড়কটির দুরবস্থা স্থানীয়দের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ সমস্যা তুলে ধরে ইতিপূর্বে দৈনিক অগ্রযাত্রা পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সরকারি পর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ চোখে না পড়ায় শেষ পর্যন্ত নিজেরাই এগিয়ে আসেন এলাকাবাসী।
এরই ধারাবাহিকতায় মোঃ রাশেদুজ্জামান মিন্টুর আর্থিক সহযোগিতা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত উদ্যোগে যাদুর বাঁধ এলাকা থেকে সংস্কারকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন উপলক্ষে উপস্থিত সবাইকে মিষ্টিমুখ করানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে এলাকাবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নিজেদের উদ্যোগে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় আমরা আশাবাদী। কাজটি সম্পন্ন হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ রবিউল ইসলাম শাহ বলেন, “গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের জন্য রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের প্রয়োজন থাকলেও কাজটি শুরু করা সম্ভব হয়নি। ব্যক্তিগত আর্থিক সহযোগিতা ও গ্রামবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় আমরা আনন্দিত। আশা করি, সবার সহযোগিতায় পুরো রাস্তাটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শাহিনুর রহমান শাহীন বলেন, “এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত প্রশংসনীয়। রাস্তাটি সংস্কার করা হলে সাধারণ মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরবে। আমরা চাই, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাজটি সম্পন্ন হোক এবং ভবিষ্যতেও রাস্তাটির রক্ষণাবেক্ষণে সবাই সচেতন থাকুক।”
সংস্কারকাজে আর্থিক সহযোগিতাকারী মোঃ রাশেদুজ্জামান মিন্টু জানান, যাদুর বাঁধ এলাকা থেকে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো রাস্তাটির সংস্কার করা হবে। এর ফলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের চলাচলজনিত দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয়দের এ উদ্যোগ গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি ও সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণ যে স্থানীয় সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, এ উদ্যোগ তারই প্রতিফলন। এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংস্কারকাজটি পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কাটিয়ে সড়কটি তাঁদের স্বাভাবিক চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠবে।
মতামত