বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

কৃষি

আউশ ধানের দামে হতাশ চাষিরা

আউশ ধানের দামে হতাশ চাষিরা

নওগাঁর পত্নীতলায় আউশ ধানের বাম্পার ফলন কিন্ত দামে কম। আউশ চাষিদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। উৎপাদিত ধান বাজারে এনে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় তাদের হিসাব মিলছে না।ধান বিক্রয় করে উৎপাদন খরচই উঠছে না।একদিকে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজারদর পতন, অন্যদিকে ঋণের চাপ,পারিবারিক ব্যয় এবং আমন চাষের প্রস্তুতি সব মিলিয়ে আউশের ভালো ফলন সত্ত্বেও কৃষকের হাতে কাঙ্ক্ষিত আয় থাকছে না।উপজেলার  বিভিন্ন ধানের হাটে গিয়ে দেখা যায়, ধান বর্তমানে প্রতি মণ ৭ শ থেকে ৮ শ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।দিন দিন দাম কমের দিকে।কৃষকরা জানান,গত বছরের তুলনায় এবার জাতভেদে প্রতি মণ ধানের দাম ৪ শ থেকে ৫ শ টাকা পর্যন্ত কমেছে।অপরদিকে সার,বীজ,সেচ, কীটনাশক, জমিচাষ ও শ্রমিকের মজুরিসহ চাষাবাদের ব্যয় বেড়েছে।উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী,চলতি মৌসুমে পত্নীতলায় প্রায় ৬ হাজার ৭ শ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ করা হয়েছে।

বান্দরবানে পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ: রঙিন ফলের কাপে ড্রাগন, তরমুজ, আমসহ নানা স্বাদের সমাহার

প্রকৃতির রানী বান্দরবান এখন শুধু পাহাড়-ঝর্ণা নয়, পর্যটকদের জন্য নিয়ে এসেছে স্বাদেরও নতুন চমক। পাহাড়ি ফলের সাথে এখন পাওয়া যাচ্ছে স্বাস্থ্যকর ও আকর্ষণীয় ফ্রুট কাপ"বান্দরবান শহরের বিভিন্ন স্পট ও পর্যটন কেন্দ্রে এখন দেখা যাচ্ছে স্বচ্ছ কাপে সাজানো রঙিন ফলের ছড়াছড়ি। যার মধ্যে রয়েছে লাল টুকটুকে ড্রাগন ফল, রসালো তরমুজ, পাকা আম, জাম্বুরা সহ মৌসুমি বিভিন্ন ফল। পর্যটকদের প্রথম পছন্দছবিতে দেখা যায়, পরিষ্কার প্লাস্টিকের কাপে সুন্দর করে কেটে রাখা হয়েছে ফলগুলো। উপরে পাতলা প্যাকেট দিয়ে মোড়ানো, যাতে ধুলো-ময়লা না লাগে এবং পর্যটকরা হাতে নিয়ে সহজে খেতে পারেন। এক পর্যটক বলেন,  “পাহাড় ঘুরতে এসে গরমে এই ফ্রুট কাপগুলো সত্যিই অসাধারণ। ড্রাগন ফলটা দেখতেই যত সুন্দর, খেতেও তত মজা। স্বাস্থ্যকরও বটে।স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগস্থানীয় ফল বিক্রেতারা জানান, পর্যটকদের চাহিদা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ। বান্দরবানে উৎপাদিত ও আশেপাশের এলাকার টাটকা ফল দিয়েই তৈরি করা হচ্ছে এই ফলের কাপ। এতে যেমন পর্যটকরা পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছেন, তেমনি স্থানীয় কৃষকরাও উপকৃত হচ্ছেন।নতুন রূপে বান্দরবানের ফলআগে যেখানে আস্ত ফল কিনতে হতো, এখন সেখানে কেটে-ধুয়ে রেডি করে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ড্রাগন ফল যা আগে বান্দরবানে সহজে পাওয়া যেত না, এখন সেটিই হয়ে উঠেছে এই ফ্রুট কাপের মূল আকর্ষণ।পাহাড় ভ্রমণের পাশাপাশি এখন বান্দরবানের এই রঙিন ফলের কাপও পর্যটকদের কাছে "সরুপাত" বা স্মৃতি হিসেবে থেকে যাচ্ছে।

বান্দরবানে পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ: রঙিন ফলের কাপে ড্রাগন, তরমুজ, আমসহ নানা স্বাদের সমাহার

ঘোড়াঘাটে এক নলকূপে ১২৫ একর, সেচের অভাবে ফেটে চৌচির আমনের জমি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ১২৫ একর জমির সেচের জন্য রয়েছে মাত্র একটি গভীর নলকূপ। পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় একবার সেচ দেওয়ার পর পরবর্তী সেচের জন্য কৃষকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ দিন। এর মধ্যে পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে আমন ধানের গোড়া। কোথাও কোথাও জমিতে দেখা দিয়েছে ফাটল।বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ করে এখন ফসল ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। দ্রুত আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবিতে রোববার মানববন্ধন করেছেন তারা।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নূরজাহনপুর গ্রামের ৩৫ থেকে ৪০ জন কৃষক অংশ নেন।কৃষকদের অভিযোগ, ঘোড়াঘাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নূরজাহনপুর গ্রামের প্রায় ১২৫ একর জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য একটি মাত্র গভীর নলকূপ রয়েছে। এর অধিকাংশ জমি উঁচু হওয়ায় একবার সেচ দেওয়ার পর পানি বেশিদিন ধরে রাখা যায় না। ফলে সেচের পানি পেতে কৃষকদের সিরিয়ালে দাঁড়াতে হচ্ছে। একবার সেচ দেওয়ার পর পরবর্তী সেচের জন্য অনেককে ১০ থেকে ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে ধানের প্রয়োজনীয় সময়ে জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকরা জানান, প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে। বর্তমানে ধানের কুশি গজানো ও দ্রুত বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সময়। কিন্তু পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকায় আনুমানিক ১৫০ বিঘা জমির ধানের গোড়া শুকিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও মাটিতে ফাটলও দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।মানববন্ধনে কৃষক সামছুল বলেন, ‘১২৫ একর জমির জন্য এখানে মাত্র একটি নলকূপ বসানো হয়েছে। এই একটি নলকূপ দিয়ে সবাইকে সময়মতো পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেউ পানি পাচ্ছেন, আবার কেউ পাচ্ছেন না। পানির অভাবে জমিতে ফাটল ধরেছে।’তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বিঘাপ্রতি বীজ, সার ও কীটনাশক বাবদ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আরও ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হবে। এর সঙ্গে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের খরচও রয়েছে। সময়মতো পানি দিতে না পারলে এই বিনিয়োগ লোকসানে পরিণত হবে।’কৃষক সুরুজ মিয়া বলেন, ‘৩৩ শতকে ২৫ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করি। এই জমির ফসল দিয়েই সারা বছরের সংসার চলে। দ্রুত আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা না হলে ধানের ফলন নিয়ে বড় ধরনের বিপদে পড়তে হবে।’তিনি বলেন, ‘জমির দূরত্ব ও কৃষকদের প্রয়োজন বিবেচনা করে দ্রুত এখানে আরেকটি নলকূপ স্থাপন করা দরকার।’এ বিষয়ে বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা সেচ কমিটির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান সুজন বলেন, ‘নূরজাহনপুরের বিষয়টি আমরা জানি ও অবগত আছি। বিষয়টি আবার সুবিবেচনাপূর্বক পুনরায় তদন্ত করে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হব।’ঘোড়াঘাট উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও ইউএনও রুবানা তানজিন বলেন, ‘সেচের একটি নীতিমালা আছে। নীতিমালার বাইরে কিছুই করার সুযোগ নেই।’তিনি বলেন, ‘নীতিমালার মধ্যে থাকলে আমরা লাইসেন্স দিয়ে থাকি। কেউ নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন করলে অবশ্যই লাইসেন্স পেয়ে যাবেন।’কৃষকদের দাবি, প্রতিবছরই সেচের পানির সংকটে পড়তে হয় তাদের। তাই সাময়িকভাবে পানি সরবরাহের পরিবর্তে জমির পরিমাণ ও কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।মানববন্ধন থেকে দ্রুত আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপন, বিদ্যমান সেচব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এবং আমন মৌসুমে সময়মতো সেচের পানি নিশ্চিত করার দাবি জানান কৃষকরা।

ঘোড়াঘাটে এক নলকূপে ১২৫ একর, সেচের অভাবে ফেটে চৌচির আমনের জমি

জয়পুরহাটে অবৈধ সার মজুত, ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ৫৭ বস্তা সার কৃষকদের মাঝে বিক্রি

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় অবৈধভাবে সার মজুত ও বিক্রির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দোকান থেকে জব্দ করা ৫৭ বস্তা সার কৃষকদের মাঝে সরকারের নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ভরতারা ইউনিয়নের পাঠানপাড়া বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানের নেতৃত্ব দেন ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ।অভিযান সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে সার মজুতের অভিযোগে পাঠানপাড়া বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মেসার্স নুর ইসলাম ট্রেডার্সে অবৈধভাবে সার মজুতের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আবু হাসানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ জানান, অভিযানের সময় দোকান থেকে ৪৯ বস্তা টিএসপি, ৫ বস্তা এমওপি এবং ৩ বস্তা ইউরিয়া সারসহ মোট ৫৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত সার কৃষকদের মাঝে সরকারের নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়।ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সি বলেন, কৃষকদের কাছে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং অবৈধভাবে সার মজুত ও বিক্রি বন্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় এক ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কৃষকের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জয়পুরহাটে অবৈধ সার মজুত, ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ৫৭ বস্তা সার কৃষকদের মাঝে বিক্রি

কৃষকের সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণকারী মোট ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিরোধী দলের (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে সরকারের এ বড় পদক্ষেপের কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।অর্থমন্ত্রী জানান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া ঋণ ও তার ওপর অর্জিত সুদ বাবদ বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা মোট ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে পরিশোধ করেছে।এই বিশেষ কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলার প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা সুবিধা পেয়েছেন।একই আসনে চুয়াডাঙ্গা জেলায় করদাতার সংখ্যা সম্পর্কিত অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে জেলাটিতে টিআইএন (TIN) ধারী করদাতার সংখ্যা ৭২ হাজার ৪৬৩ জন। এর মধ্যে সর্বশেষ ২০২৫-২৬ করবর্ষে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন ২১ হাজার ৫৬৭ জন করদাতা।

কৃষকের সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ

সুনামগঞ্জের বোরো ধানের বাজারে ধস: গোলায় ধান রেখে দিশাহারা সহস্র কৃষক

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার চারাটি ইউনিয়নের সহস্র কৃষকেরা বোরোধান ফলিয়ে বিপাকে পরেছেন তাঁরা।বিক্রিও করতে পারছেন'না ফেলেও দিতেও পারছেন না।শুকনো ধান পড়ে রয়েছে কৃষকের গোলায়।বিগত বোরো মৌসুমে অতিভারী বৃষ্টি আর আগাম বন্যায় ফলিত পাকা বোরোধান তলিয়ে গেলেও বিভিন্ন পক্রিয়ায় অধিকাংশ কৃষক ধান সংগ্রহও করেছেন।সংগৃহীত ধানের ভিতরে চালের রং ভাল হলেও ধানের গায়ের রং অনেকটাই কালো।উঁচু জমির কর্ত্তণকৃত ধানের রং সোনালী তবেও কৃষক খোলা বাজারেও ধান বিক্রি করতে পারছেন না।পর্যাপ্ত মূল্য না পাওয়া এবং বাজারে ধানের চাহিদা না'থাকার দরুণ।এতে করে কৃষক দিশা হারা হয়ে গুরছেন ধান ক্রেতার আড়ৎ বা মোকামের দ্বারেদ্বারে।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিমণ ধানের মূল্য ১হাজার৪শত৪০ টাকা বেধে দিলেও খোলা বাজারে কৃষকদের ধানের দাম বলছেন না আড়ৎদার বা খরিদদাররা।মাঝে মধ্যে কিছু বিক্রেতার দেখা মিলে সামাণ্য মণকয়েক ধান বিক্রি করেছেন  ৭শত থেকে ৮শত টাকা দরে।আবার কোন কোন ধানের পুটলি হাতে বলছেন এজাতীয় ধানের দামেই বলছে না ত্রেতারা।কোনকোন জায়গায় কালো ধানের দাম৪শত টাকা মণ বিক্রি হতেও জানা গেছে।যা হাঁসের খামারিরা ক্রয় করছেন।দিশাহারা কৃষকদের প্রাণের কথা বুক ফাটে মুখ দিয়ে বেড়িয়ে আসছে "ধান গোলায় তুইল্লা ঠেকছি"অহন বেচতাম পারি না,ফালাইতামও পারি না।মধ্যনগর খাদ্য গোদামের তথ্যানুযায়ী এবছর'মধ্যনগর,চামরদানী,বংশীকুন্ড(উঃ),বংশীকুন্ডা(দঃ)ও জয়শ্রী সহ ৫টি ইউনিয়ন মিলে মোট বরাদ্দ ছিল ১হাজার ৪শত মেট্রিকটন ধান গুদামজাত করণের।যা ফলিত ধানের তুলনায় নামেমাত্র।এমতাবস্থায় ভাটি অঞ্চলের কৃষকেরা মনমরা হয়ে আগামী বছর বোরোধানের মৌসুমে কৃষি কাজ করবেন কিনা তা ভাবছেন।এবং ফলিত ধানের পর্যাপ্ত মূল্য না পেয়ে জেলা ও উপজেলা কৃষি কর্মর্তাদের বাজার মনিটরিং এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জোড় দাবী জানিয়েছেন এলাকার কৃষক মহল।

সুনামগঞ্জের বোরো ধানের বাজারে ধস: গোলায় ধান রেখে দিশাহারা সহস্র কৃষক

দিনাজপুরের দশমাইল কলার হাটে জমজমাট বেচাকেনা

দিনাজপুর কাহারোলের দশমাইলে বসেছে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ কাঁচা কলার পাইকারি হাট। ঢাকা-দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা এই হাটে প্রতিদিন কোটি টাকার কলা বেচাকেনা হচ্ছে।জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের এলাকা থেকে কৃষকরা কলা নিয়ে আসছেন এখানে। আর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা এসব কলা কিনে পাঠিয়ে দিচ্ছেন রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়।বর্তমানে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫টি ট্রাক বোঝাই কাঁচা কলা দশমাইলের হাট থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। ফলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাটজুড়ে থাকে কৃষক, পাইকার, শ্রমিক ও পরিবহন শ্রমিকদের ব্যস্ততা।সরেজমিনে দেখা যায়, হাটের বিভিন্ন স্থানে সারি সারি কলার কাঁদি সাজিয়ে রাখা হয়েছে।কৃষকরা ভ্যান, অটোরিকশা ও বিভিন্ন যানবাহনে করে জমি থেকে সদ্য কাটা কাঁচা কলা নিয়ে আসছেন। হাটে আসার পর পাইকাররা কলার মান ও আকার দেখে দরদাম করছেন। কোথাও ভ্যানের ওপর থেকেই বিক্রি হচ্ছে কলা, আবার কোথাও ট্রাকে তুলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।বড় এই কলার হাটকে ঘিরে তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও। প্রতিদিন কয়েকশ শ্রমিক কলা নামানো, বাছাই, ওজন করা এবং ট্রাকে ওঠানোর কাজে যুক্ত থাকছেন। এতে হাটকেন্দ্রিকভাবে স্থানীয় অনেক শ্রমিকের নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, তিনি সম্প্রতি দশমাইলের বৃহৎ কলার হাটটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সেখানে বিপুল পরিমাণ কলার আমদানি দেখতে পেয়েছেন। জেলার বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকেও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পাইকার এখানে কলা কিনতে আসছেন।তিনি বলেন, কাহারোলের পাশাপাশি বীরগঞ্জ, খানসামা, চিরিরবন্দর ও বোচাগঞ্জ এবং পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও সদর ও পীরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় কলা চাষের উপযোগী জমি রয়েছে। কলা চাষ লাভজনক হওয়ায় এসব এলাকায় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বাংলা বৈশাখ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন সময়ে সারাদেশে কলার চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকে। বর্তমানে বাজারে ভালো দাম ও চাহিদা থাকায় কৃষকরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কলা চাষের দিকে ঝুঁকছেন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ কাঁচা কলা প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।চলতি বছর দিনাজপুরে ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারে ভালো চাহিদার কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩৫০ হেক্টর বেশি জমিতে কলার আবাদ হয়েছে।কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫৪২ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। গত বছর এ পরিমাণ ছিল ৩৩৫ হেক্টর। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উপজেলায় কলার আবাদ বেড়েছে ১০৭ হেক্টর।তিনি বলেন, এ বছর কাহারোলে কলার বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরাও সন্তুষ্ট। অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কলা চাষ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।কাহারোলের গুড়নুরপুর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম লাইজু এবার ৫২ শতক জমিতে কলা চাষ করেছেন। তিনি জানান, দশমাইলের হাটে ১০০টি কলার কাঁদি এনে ৮২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। সব মিলিয়ে তার জমি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার বেশি কলা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।একই গ্রামের কৃষক আব্দুল আহাদ বলেন, তিনি এবার সাড়ে তিন বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছেন। প্রতিটি কলার কাঁদি ৬৯০ টাকা করে বিক্রি করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে এ ধরনের দাম অব্যাহত থাকলে এবার সাড়ে চার লাখ টাকার বেশি কলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। কলা ব্যবসায়ী মো. নিয়ামুল ইসলাম জানান, দশমাইলের হাটে ভালো মানের কলার চাহিদা বেশি এবং সে অনুযায়ী দামও পাওয়া যায়। তিনি নিয়মিত এখান থেকে কাঁচা কলা কিনে ঢাকায় পাঠান। বর্তমানে প্রতিদিন কয়েক ট্রাক করে কলা কিনছেন তিনি।হাটের শ্রমিক মো. সহেন আলী বলেন, কলা ট্রাকে ওঠানোর কাজে প্রতিদিন কয়েকশ শ্রমিক কাজ করেন। একজন শ্রমিক দৈনিক প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। ফলে কলার হাটটি শুধু কৃষকদের জন্যই নয়, স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষেরও আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।দিনাজপুর আঞ্চলিক কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, কলা একটি লাভজনক ফসল। এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া কলা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উন্নত জাতের মেহেরসাগর, মালভোগ, চিনিচাঁপা ও সবরি কলা চাষের আগ্রহ বাড়ছে।তিনি বলেন, কৃষকদের কলা চাষে নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। উন্নত চাষপদ্ধতি, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে ফলন বাড়ার পাশাপাশি কৃষকরা বাজারে ভালো দামও পাচ্ছেন।

দিনাজপুরের দশমাইল কলার হাটে জমজমাট বেচাকেনা

নওগাঁর পত্নীতলায় আমন ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক

আম ও ধানের জন্য বিখ্যাত নওগাঁর উত্তরে সীমান্ত ঘেঁষা বরেন্দ্রভূমি জনপদে শস্য ভান্ডার খ্যাত পত্নীতলা উপজেলায় মাঠজুড়ে চলছে এখন  আমন ধান রোপণের মহাধূম। উপজেলা কৃষি অফিস  সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে চলতি আমন মৌসুমে প্রায় ২৩ হাজার ৭শ ৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।প্রণোদনার আওতায় ৪ হাজার ১শ জন প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ডি.এ.পি-১০কেজি,এম.ও.পি-১০ কেজি ও ধানবীজ-৫ কেজি করে দেওয়া হয়েছে।এছাড়াও কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ,উঠান বৈঠক ও মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ প্রতিনিয়ত ই দেওয়া হচ্ছে।এবার উপজেলায় উচ্চ ফলনশীল ব্রিধান-৮৬,ব্রিধান-৯৫ ব্রিধান-১০৩,বিনা-১৭,স্বর্ণা-৫সহ বিভিন্ন জাতের আমন ধান রোপণ করা হচ্ছে।সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়,আমন ধান রোপণে ব্যস্ত  সময় পার করছেন তারা।কেউ জমি চাষ করছে,কেউ জমিতে মই দিচ্ছে,কেউ চারা তুলে দিচ্ছে,কেউ রোপণ করছে।আমন ধান রোপণ চুক্তিতে বিঘা প্রতি ১ হাজার ৪শ টাকা করে নিচ্ছে কৃষি শ্রমিকরা।উপজেলায় এ পর্যন্ত আমন ধান প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ রোপণ করা হয়েছে। উপজেলার নজিপুর ইউনিয়নের পদ্মপুকুর  গ্রামের কৃষক মো.আ: সামাদ (২৮) বলেন,তিনি এবার প্রায় ৩ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণ করছেন।পাটিচড়া ইউনিয়নের নাগরগোলা গ্রামের কৃষক ও একসময়কার কৃষি ব্যাংকের P.O  মোঃ জিল্লুর রহমান  তার আমন ধান রোপন শেষ করেছেন। রসকানাই গ্রামের মোকসেদুল, জলিল কারী, একরামুল বর্তমানে ধান রোপনের জন্য  মাঠেই  ব্যাস্ত সময় পার করছেন। কৃষি কর্মকর্তার ভাষ্যমতে,আবহাওয়া অনূকুল   থাকলে  ও রোগবালাই কম হলে আমন ধান চাষে কৃষকরা লাভবান হবেন এতে কোন সন্দেহ নেই ।

নওগাঁর পত্নীতলায় আমন ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক

বাউফলে স্লুইসগেট -ব্রিজের অভাবে কৃষকের দুর্ভোগ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের কপুরকাঠি ও শৌলা গ্রামের ৫ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী খালে স্লুইস গেট ও ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। এতে কয়েকশ কৃষক অংশ নিয়ে দ্রুত স্লুইস ও ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান।কৃষকদের অভিযোগ, খালে স্লুইসগেট না থাকায় পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। যখন জমিতে পানির প্রয়োজন হয় না, তখন খালে পানি বেড়ে গিয়ে কৃষিজমি প্লাবিত করে। এতে রবিশস্যসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। আবার প্রয়োজনের সময় পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় চাষাবাদেও ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয় কৃষক শাহিন মাতব্বর বলেন, এ এলাকায় প্রায় ১০০০ থেকে ১৫০০ কৃষক ১০০-১৫০ একর জমিতে রবিশস্য চাষাবাদ করা হয়। কিন্তু পানি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা ভালোভাবে চাষাবাদ করতে পারছেন না। ফলে প্রতিবছর তাদের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।তিনি আরও বলেন, খালের ওপর ব্রিজ না থাকায় কৃষিকাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর, ধান ভাঙার মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এমনকি কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে যায়।স্থানীয় বেল্লাল চৌকিদার বলেন, যখন পানির প্রয়োজন হয় না, তখন পানি উঠে আমাদের রবিশস্য নষ্ট করে দেয়। আবার যখন পানির প্রয়োজন হয়, তখন পানি পাওয়া যায় না। এখানে একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হলে পানি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। আর ব্রিজ হলে কৃষিপণ্য ও কৃষি উপকরণ সহজে আনা-নেওয়া করা যাবে।কৃষকরা জানান, স্লুইসগেট ও ব্রিজ নির্মাণ করা হলে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা ও অতিরিক্ত পানি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে কৃষিপণ্য দ্রুত ও সহজে বাজারজাত করা যাবে। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি কৃষকরা আরও বেশি জমিতে চাষাবাদে উৎসাহিত হবেন।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষক ও এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে খালে স্লুইসগেট ও ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বাউফলে স্লুইসগেট -ব্রিজের অভাবে কৃষকের দুর্ভোগ

দেওয়ানগঞ্জ সীমান্তে সার উদ্ধার

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ সীমান্তে ভারতে পাচারের সময় ১৩ বস্তা সার জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে উপজেলার পাথরেরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব সার উদ্ধার করা হয়।বিজিবির পাথরেরচর বিওপি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সীমান্তের ১০৭৬ নম্বর পিলারের কাছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান চালায় ৩৫ বিজিবি। এ সময় পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা ৮ বস্তা ইউরিয়া, ৩ বস্তা টিএসপি এবং ২ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।পাথরেরচর বিওপির কমান্ডার নায়েব সুবেদার নিজাম উদ্দিন জানান-জব্দ করা সার কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। সীমান্তে দেশের সম্পদ রক্ষায় ও চোরাচালান রোধে বিজিবির কঠোর নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দেওয়ানগঞ্জ সীমান্তে সার উদ্ধার

ডিলারের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার উত্তোলনের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে অবৈধ পন্থায় সার ডিলারের কাছ থেকে সার উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার সময় ২০ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে পুলিশ।রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বালারহাট বাজারে মেসার্স সৈকত ট্রেডার্সের সার বিতরণকেন্দ্রের সামনে থেকে এসব সার জব্দ করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেসার্স সৈকত ট্রেডার্সের সার বিতরণকেন্দ্রে সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সার বিতরণ কার্যক্রম চলে। পরে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ শাহ, ইব্রাহিম আলী ও আসাদুজ্জামান বালারহাট বাজারে নাস্তা করতে গেলে ওই সুযোগে একটি ভ্যানে করে ২০ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।বিষয়টি কৃষি কর্মকর্তাদের নজরে এলে তারা ভ্যানটি থামিয়ে সারগুলো কোথায় নেওয়া হচ্ছে এবং কতজন কৃষকের নামে এসব সার উত্তোলন করা হয়েছে, তা জানতে চান। এ সময় সেখানে থাকা আজিমুল ইসলাম ২০ জন কৃষকের জন্য সারগুলো উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানান।পরে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বিষয়টি অতিরিক্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন ও এআইও সুশান্ত কুমার রায়কে অবহিত করেন। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ২০ জন কৃষকের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে যাচাই-বাছাইয়ে কিছু অসঙ্গতি পাওয়া যায় বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।এ সময় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আজিমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে এবং ২০ বস্তা সার জব্দ করা হয়।আটক আজিমুল ইসলাম নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের নাওডাঙ্গা ওয়ার্ডের বাদশা মিয়ার ছেলে।এদিকে ঘটনার পর থেকে বালারহাট বাজারে মেসার্স সৈকত ট্রেডার্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজারকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অবৈধ পন্থায় সার উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার সময় ২০ বস্তা সারসহ একজনকে প্রাথমিকভাবে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিলারের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার উত্তোলনের অভিযোগ

মধ্যনগরের হাওরে উন্মুক্ত করা হয়নি পোনা মাছ

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রায় পনেরোটির বেশী হাওরে সরকারী ভাবে উন্মুক্ত করা হয়নি পোনামাছ।১৬থেকে ২২আগস্টকে জাতীয় মৎস সপ্তাহ ধরা হয়।এবং দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে পোনামাছ উন্মুক্ত করা হয়। তবে মধ্যনগর উপজেলায় এরঅন্যতা বিষয়টি প্রশ্ন রাখে মাৎসপ্রেমী জনমানুষের মনে।পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে উপজেলার সকল হাওরের পানিতে দেশীয় অসংখ্য প্রজাতির মা ও পোনা মাছ সহ প্রাণীকূল হুমকীর স্বীকার হয়ে আজ বিলুপ্ত।একসময় এই অঞ্চলটি ছিল দেশীয় মাছ ও শুঁটকি মাছের অন্যতম ও সুপরিচিত ভান্ডার।হাওরাঞ্চলে বর্ষার পানি ও শুকনোর মৌসুমে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছের প্রজাতি নিধন করছে একশ্রেণীর অসাধু মৎস শিকাররা।এর মধ্যে কারেন্ট জাল,কোনাজাল,চায়না দোয়ারী জাল, বৈদ্যুতিক শক,কীটনাশক সহ অসংখ্য পদ্ধতিতে মা ও পোনামাছ শিকার করে পানিকে মাছ শূন্য করছে তারা।এসবের বিরুদ্ধে কঠোর কোন পদক্ষেপ নেওয়া না হলেও মাঝে মধ্যে দেখা মিলে আংশিক উদ্যোগ নেয়ার।যা'হাোরের তুলনায়'খুবই নগন্য।ধান ও মাছের উপরে নির্ভর করে বেচে থাকেন এই ভাটির জনপদের বাসিন্দাগণ।এরমধ্যে মা ও পোনা মাছের উৎপাদনের কোন পদক্ষেপ নেয় নি মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসন।এতে করে চলতি বছরে হাওরের পানিতে মাছ নেই বল্লেই চলে।তাছাড়া জেলেরা মাছ আহোরণ না নাকরেও অতিকষ্টে দিনযাপন করছেন।এমতবস্থায় মধ্যনগর হাওরপাড়ের মৎস শ্রমিক তথ্য সচেতন মহল ভাসমান পানিতে মা'মাছ ও মাছের পোনা উন্মুক্ত করার জোরদাবী জানিয়েছেন তারা।এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মৎস কর্মকর্তা মোঃশরিফুল হক আকন্দ'র সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান,উপজেলাটি নতুন তাই অফিস এবং লোকবল না থাকায় কোন বরাদ্দও নেই।যার দরুণ এমনটি।হয়তো খুব শ্রিগ্রই লোকবল নিযুক্ত হতে পারে এবং বরাদ্দ পেলেই হাওরে পোনামাছ উন্মুক্ত করা হবে।

মধ্যনগরের হাওরে উন্মুক্ত করা হয়নি পোনা মাছ

দুশ্চিন্তায় শার্শার কৃষক, আমন ধানে বাড়তি খরচ

মোঃ মারুফ হোসেন, শার্শা উপজেলা প্রতিনিধি: উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধান চাষ ও পরিচর্যা করতে গিয়ে আর্থিক সংকট ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে যশোরের শার্শার কৃষকদের।  তাদের দাবি, লিটারে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় এবার পাওয়ার টিলার ও সেচ মালিকরা গত মৌসুমের চেয়ে খরচ বেশি নিচ্ছে প্রতি বিঘায়। এ ছাড়া সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষি শ্রমিকের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ বেড়েছে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা। অথচ বাজারে ধানের দাম কম। এ অবস্থায় সরকারের কাছে ধানের যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করার দাবি তাদের।  গত বছরের চেয়ে বিঘা প্রতি হাল চাষে খরচ বেড়েছে ৩৫০ টাকা, চারা রোপন করতে কৃষি শ্রমিকরা বেশি নিচ্ছে ৫০০ টাকা, সংকটের অজুহাতে খুচরা বাজারে সারের দাম বস্তা প্রতি বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, কীটনাশকের দামতো বেড়েছে। আবার বীজ ও মাড়াই সহ অন্যান্য খরচতো আছেই। সবমিলিয়ে এবার এক বিঘা জমিতে আমন ধান উৎপাদনে খরচ গতবারের তুলনায় অনেক বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে হয়তো এবার বিঘা প্রতি ২০ থেকে সর্বোচ্চ ২২ মণ ধান উৎপাদন হতে পারে। কিন্তু খরচ অনুপাতে ধানের নায্য দাম যদি না পাওয়া যায়, তাহলে গত ইরি মৌসুমের মতই আমনেও লোকসান গুনতে হবে।উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর শার্শায় ২০ হাজার ৪শত ৪৮হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ করা হয়েছে। উপজেলার সাড়াতলা গ্রামের কৃষক  বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘ফসল চাষ করে লাভ হচ্ছে না। ঋণ করে ইরি চাষ করেছিলাম, কিন্তু বাজারে ধান বিক্রি করতে গিয়ে দাম পাইনি। বিঘাপ্রতি ৪/৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। সব জিনিষের দাম বাড়লেও ধানের দাম নাই।নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কৃষক মনিরুল ইসলাম বলেন, ফসল উৎপাদন করে দাম না পেয়ে দিন দিন আমরা ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ছি। আমন ধানেও যদি কাঙ্খিত দাম না পাওয়া যায়, তাহলে আমরা চলবো কীভাবে’। একই চিত্র উপজেলার অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও।  উপজেলা কৃষি অফিসার দিপক কুমার সাহা বলেন, ‘কৃষকরা যেন লাভবান হতে পারেন সেজন্য ফলন বাড়াতে সার্বক্ষণিক তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।  আবহাওয়া ভালো থাকলে আশা করছি এবার আমন ধান চাষ করে কৃষকরা লাভবান হবেন’।

দুশ্চিন্তায় শার্শার কৃষক, আমন ধানে বাড়তি খরচ

দেশে সারের কোন সংকট নেই: ত্রাণমন্ত্রী

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ‘গত বছরের চেয়ে  এবার সারের বরাদ্দ অনেক বেশি দেওয়া হয়েছে। দেশে সারের কোনো সংকট নেই। আমরা  ডিলারের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছি এবং খুচরা বিক্রেতার সংখ্যাও আরও বাড়ানো হবে।’বুধবার (২৬ আগস্ট) লালমনিরহাট জেলা বিএনপির কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।ত্রানমন্ত্রী আরও বলেন, সার নিয়ে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছি। সার কালোবাজারি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্ঠা, সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ অনিয়ম বা সার মজুদ করার চেষ্টা করলে ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।মন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসককে সারের বিপনণ ও বিতরণ ব্যবস্থা কঠোরভাবে মনিটরিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ অবৈধভাবে সার মজুদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি; সংবাদ পেলেই ডিলারের গুদামে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সার সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সদস্য ত্রানমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু আরো বলেন, সারের সংকট যতটা বাস্তব, তার চেয়ে বেশি রটানো হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সারের সংকটের কথা আলোচনায় এলেও মূলত বাংলাদেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। সরকার সার উৎপাদন ও আমদানিতে প্রচুর ভর্তুকি দিচ্ছে।তবে স্থানীয় খুচরা বাজারে সার বেশী দামে বিক্রি হচ্ছে বলে কৃষকের অভিযোগ করেন। তারা জানান, ইউরিয়া ২০০ টাকা ধারা (৫কেজি) ডিএপি ১৫০ টাকা ধারা হিসেবে ক্রয় করছেন। এছাড়া খুচরা সার বিক্রেতারা জানান,  তারা সার বেশী দামে কিনেছেন ১৩৫০ টাকার ইউরিয়া ১৯০০ থেকে ২০০০ হাজার এবং ১০৫০টাকার ডিএপি ১৪৫০ থেকে ১৫০০ টাকায়। ডিলার সার সংকটের কথা বলে বেশী দামে তাদের কাছ বিক্রি করছেন বলে তারা অভিযোগ জানান।এর আগে মন্ত্রী লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। তিনি হাসপাতাল ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের নির্দেশনা দেন। পরে তিনি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির একটি সভায় অংশগ্রহণ করেন।এ সময় জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হক ও পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

দেশে সারের কোন সংকট নেই: ত্রাণমন্ত্রী

সৈয়দপুরে কৃষি বিভাগের অভিযানে ২ প্রতিষ্ঠানের ২৮ হাজার টাকা জরিমানা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে উপজেলা কৃষি বিভাগের অভিযানে দুইটা সার ও কীটনাশক বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের ২৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুইটা হলো শহরের শহীদ তুলশীরাম সড়কের মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্স ও শেরেবাংলা সড়কের তামান্না সিনেমা হল সংলগ্ন মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্স। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির হোসেন। সাথে ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা ও সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরেফিন ইসলাম। এছাড়াও সৈয়দপুর থানার পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন। প্রথমে শহরের নয়াবাজারে উপজেলা সার ডিলার মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্সের সারের গুদামে যায় আভিযানিক দল। সেখানে সার বিক্রির রেজিস্ট্রারে ক্রেতা কৃষকের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ না থাকায় ও গুদামের সার্বিক পরিবেশ সার সংরক্ষণের উপযোগী না হওয়ায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। যা তাৎক্ষণিক পরিশোধ করেন সার ডিলার মো. নুর ইসলাম। এরপর শহরের তামান্না সিনেমা হল মোড়ে কীটনাশকের দোকান মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্সে অভিযানকালে প্রায় ৫০ হাজার টাকার বিভিন্ন কোম্পানির মেয়াদ উত্তীর্ণ পাওয়া যায়। এসব কীটনাশক জব্দ করা হয় এবং এজন্য দোকান মালিক মো. আ. সালামের ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সাথে আগামীতে এসব বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য উভয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

সৈয়দপুরে কৃষি বিভাগের অভিযানে ২ প্রতিষ্ঠানের ২৮ হাজার টাকা জরিমানা

বরিশালে ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ

বরিশালে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহে প্রকৃত কৃষকের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার সরকারি নিয়ম থাকলেও জেলার কয়েকটি খাদ্যগুদামে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষকের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে সরকারি অর্থ উত্তোলন এবং কম দামে ধান কিনে সরকারি গুদামে সরবরাহের অভিযোগও উঠেছে।সরকার চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য ৩৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে বরিশালের কয়েকজন কৃষক জানিয়েছেন, তাঁরা সরকারি গুদামে ধান দিতে পারেননি। বাধ্য হয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী বা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে ৩০ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে তাঁদের।উজিরপুর উপজেলার বড়াকোঠা গ্রামের কৃষক রহিম মাঝি বলেন, তাঁর কৃষি কার্ড ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পাননি। তাঁর ভাষ্য, গুদামে ধান কেনার জন্য কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়নি। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে ধান কেনা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।রহিম মাঝি বলেন, সরকারি গুদামে ধান দিতে না পেরে তিনি ৩০ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এতে প্রতি কেজিতে ৬ টাকা কম পাচ্ছেন তিনি।বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের চাঁদরা গ্রামের কৃষক মারন হাওলাদারের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে হলতা খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা আলাউদ্দিন এবং স্থানীয় রাজা নামের এক ব্যক্তি ব্যাংক হিসাব খোলার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেন। এ সময় একটি চেক বইয়েও তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়।মারন হাওলাদার বলেন, তাঁর কাছ থেকে ধান নেওয়া হলেও প্রতি কেজির দাম দেওয়া হয়েছে ৩০ টাকা। পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে ব্যাংক হিসাব খুলে সরকারি ধান বিক্রির টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে রাজা নামের ওই ব্যক্তি কৃষকদের নামে একাধিক ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। সরকারি ধান সংগ্রহের টাকা ওই সব হিসাবে জমা হওয়ার পর তা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, বাকেরগঞ্জের দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের কামারখালি সোনালী ব্যাংকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে হিসাব খোলা হয়। কোনো কোনো হিসাব থেকে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।তবে এসব অভিযোগের পক্ষে ব্যাংক হিসাবের নথি বা লেনদেনের কাগজপত্র প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ব্যাংক হিসাব ও খাদ্য বিভাগের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।স্থানীয় কৃষক ও সূত্রগুলোর অভিযোগ, বাকেরগঞ্জের হলতা খাদ্যগুদামে রাজা নামের ওই ব্যক্তির প্রভাব রয়েছে। তিনি খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হলেও ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে তা সরকারি খাদ্যগুদামে সরবরাহ করা হয়েছে। এ কাজে গুদামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আলাউদ্দিন সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে হলতা খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা আলাউদ্দিন অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি। তিনি প্রতিবেদককে চায়ের দাওয়াত দেন।অভিযুক্ত রাজা খাদ্যগুদামের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করলেও কৃষকদের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে সরকারি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল জেলা খাদ্য কর্মকর্তা এস এম তাহানুল হকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি।কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ না পাওয়ায় তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে সরকারি ধান সংগ্রহের তালিকায় প্রকৃত কৃষকের নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ অর্থ তুলে থাকলে তা সরকারি অর্থের অপব্যবহার।খাদ্য বিভাগের নথি অনুযায়ী কোন কৃষকের কাছ থেকে কত ধান কেনা হয়েছে, সেই কৃষকের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে কত টাকা দেওয়া হয়েছে এবং কে সেই অর্থ উত্তোলন করেছেন—এসব তথ্য যাচাই করা হলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।

বরিশালে ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream