শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

কৃষি

কাপ্তাইয়ে রাজস্ব বাজেটের আওতায় ১৬টি জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তি

কাপ্তাইয়ে রাজস্ব বাজেটের আওতায় ১৬টি জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তি

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য অধিদপ্তরাধীন রাজস্ব বাজেটের আওতায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক পুকুর ও জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ পুকুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পোনা অবমুক্তি করা হয়।​সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, কাপ্তাই,রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাস্তবায়নে এবারের কার্যক্রমে উপজেলার মোট ১৬টি প্রাতিষ্ঠানিক পুকুর ও জলাশয়ে মোট ১৮৫ কেজি মাছের পোনা বিতরণ ও অবমুক্তি করা হয়।​এসময় উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেলী রুদ্র। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মো. এরশাদ বিন শহীদ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) ড. এনামুল হক হাজারী, কৃষি কর্মকর্তা মো: আহসান হাবীব,রাঙামাটি জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. দিলদার হোসেন এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা নাজমুল হাসান।​এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সংবাদকর্মীরা।​অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন ও আমিষের চাহিদা পূরণে এ ধরনের কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়গুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

সারের দাবিতে কুড়িগ্রামে ফের কৃষকদের সড়ক অবরোধ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সার বিতরণ শুরু করেন।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের নতুন অনন্তপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধের কারণে কুড়িগ্রাম-চিলমারী আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।স্থানীয়রা জানান, নতুন অনন্তপুর বাজারের মেসার্স সুফিয়া এন্টারপ্রাইজ থেকে কৃষকদের সার দেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য সকাল থেকেই কৃষকরা সেখানে সারিবদ্ধ হয়ে অপেক্ষা করছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টার পরও ডিলারের লোকজন না আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে কৃষকরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন।খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সার বিতরণ শুরু হয়।কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, কয়েক দিন ধরে ডিলারের কাছে ঘুরেও তারা সার পাচ্ছেন না। মঙ্গলবার সার দেওয়ার কথা থাকায় সকাল থেকে অপেক্ষা করেও ডিলারের লোকজন না আসায় তারা সড়ক অবরোধে বাধ্য হন। মেসার্স সুফিয়া এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক শামসুল আলম বলেন, ‘সারের জন্য মানুষের প্রচুর চাপ রয়েছে। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সকাল ১০টা বাজতে না বাজতেই কৃষকরা তাড়াহুড়া শুরু করেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করেন। প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে বিতরণ শেষের পথে।’উলিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘হাতিয়া অনন্তপুর বাজারের সার বিতরণ কেন্দ্রে প্রচুর কৃষকের উপস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কিছুটা হিমশিম খেতে হয়। পরে খবর পেয়ে ইউএনও ও পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে কৃষকদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ করা হয়েছে।’উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম আরিফ বলেন, ‘সকাল ৮টায় সার বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু প্রচুর চাপ থাকায় ডিলারের লোকজন বিতরণ করতে সাহস পায়নি। তারা আড়ালে ছিল। দেরি হওয়ায় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা টায়ার জ্বালিয়ে সড়কে আগুন দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সার বিতরণ শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

সারের দাবিতে কুড়িগ্রামে ফের কৃষকদের সড়ক অবরোধ

কাপ্তাই পাহাড়ের ডালে সোনালি উৎসব: জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত জুমিয়ারা

আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রায় জুমচাষ আজও তাদের জীবিকা নির্বাহের মূল চালিকাশক্তি ও অবিনাশী ঐতিহ্য। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার দুর্গম পাহাড়গুলোতে এখন চলছে জুমের সোনালি ধান কাটার ধুম ও ধান মাড়াইসহ উৎসবমুখর ব্যস্ততা। বহুমুখী প্রতিকূলতা ও নানা সংগ্রামের মধ্যেও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার এই লড়াইয়ে জুমিয়াদের মুখে যেমন সোনালি হাসির ঝিলিক রয়েছে, তেমনি রয়েছে কিছু না পাওয়ার আক্ষেপ ও হতাশা।কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম জামাইছড়ি, সীতাপাহাড়, চাকুয়াপাড়া, মৈদং, আড়াছড়ি, কাপ্তাই হরিণছড়া, ব্যাঙছড়ি, ওয়াগ্গা রামপাহাড় এবং মইংপাড়াসহ পাহাড়জুড়ে এখন জুমচাষের এক নান্দনিক সমারোহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে চিৎমরমের জামাইছড়ি প্রায় এক হাজার ফুট উঁচুতে মারমা সম্প্রদায়ের জুমিয়ারা বংশপরম্পরায় এই প্রাচীন চাষাবাদ চালিয়ে আসছেন।​চলতি মৌসুমে কাপ্তাই উপজেলায় মোট ৩৩৬ হেক্টর জমিতে জুমচাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাহাড়ি জাতের বিভিন্ন ধানের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। জুমচাষকৃত ধানগুলোর মধ্যে রয়েছে তুর্কি ধান, গ্যালন ধান, দুলি ধান, মাংসাই ধান, বাসমতি ধান, বাঁশ ধান, পাত্তিকী ধান, বিন্নি ধান (সাদা ও লালসহ) এবং কবরকসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি জাত।ধানের পাশাপাশি জুমের বহুমুখী ফসলের তালিকায় রয়েছে— কলা, হলুদ, আদা, পেঁপে, পাহাড়ি আলু, তিল-তিষী, পাহাড়ি মরিচ, বেগুন, মারফা, মিষ্টি কুমড়া, শিম, ভুট্টাসহ হরেক রকমের শাকসবজি।পাহাড়ে জুমচাষ করা মুখের কথা নয়। তীব্র রোদ, বৃষ্টি আর বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি মাথায় নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় ছোট্ট মাচাং ঘর তৈরি করে রাত পাহারা দেন জুমচাষিরা। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পাহাড় পরিষ্কার করে জুমের উপযোগী করার পর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে বীজ রোপণ করা হয়। এরপর তিন মাস পর ভাদ্র মাস থেকে অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এসব ফসল ঘরে তোলেন জুমিয়ারা। বর্ষার বৃষ্টির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে পরিচালিত এই চাষাবাদে জুমিয়াদের প্রচুর শারীরিক শ্রম দিতে হয়।জুমিয়াদের তথ্যমতে, জুমচাষে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হলেও উপযুক্ত আবহাওয়া ও ভালো ফলন পেলে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হয়। তবে এবারে ফলন নিয়ে কিছু হতাশার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। সময়মতো কীটনাশক ও সঠিক পরিচর্যার অভাবে কিছু ধান ও নানাবিধ ফসল পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় জুমিয়া সুইহ্লামং মারমা ও উসুইসিং মারমা আক্ষেপ করে জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে যদি সময়মতো নিয়মিত সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা পেতেন, তবে তাঁরা আরও অনেক বেশি লাভবান হতে পারতেন। এছাড়া পানির তীব্র সংকট কৃষকদের উৎপাদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল ফলানোর ক্ষেত্রে সরকারিভাবে সেচ বা পানির ব্যবস্থা করলে তাঁরা আরও বড় পরিসরে চাষাবাদ করতে পারতেন বলে আশা প্রকাশ করেন মৈদং ও ব্যাঙছড়ি পাহাড়ের জুমচাষি সাইংসুই ও স্বপ্না মারমা।কাপ্তাই উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি জমিতে নিয়মিত জুমচাষ হয়ে থাকে। এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মো. আহসান হাবীব জানান, পাহাড়ের মানুষের কাছে জুমচাষ একটি ঐতিহ্যবাহী পেশা এবং কৃষি বিভাগ থেকে তাঁদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। জুমচাষের ফলে পাহাড়ি মাটির কিছু ক্ষতি হলেও প্রতিবছর স্থান পরিবর্তন করে চাষ করার কারণে বড় ধরনের ভূমিক্ষয়ের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।​কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগ মানুষ জুম নির্ভর। জুমের ফলন ভালো হলে পাহাড়ে খাদ্য ঘাটতি দেখা যায় না। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যদি জুমচাষ করা যায় এবং উন্নত জাতের বীজ ও সার সহজলভ্য হয়, তবে ফলন দুই থেকে তিন গুণ বাড়বে। এতে জুমিয়ারা কেবল নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফসল বিক্রি করতে পারবেন এবং একই জমিতে সারা বছর চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হলে তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।প্রকৃতির সঙ্গে মিতালি করে বেঁচে থাকা কাপ্তাইয়ের এই পাহাড়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের জুমচাষ কেবল জীবিকার তাগিদ নয়, এটি তাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও টিকে থাকার এক অনন্য সংগ্রামের গল্প।

কাপ্তাই পাহাড়ের ডালে সোনালি উৎসব: জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত জুমিয়ারা

জয়পুরহাটে অবৈধভাবে সার পাচারের সময় ১৯ বস্তা সার জব্দ ন্যায্যমূল্যে কৃষকের মাঝে বিক্রি

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে অবৈধভাবে সার পাচারের সময় দুইটি ভ্যানসহ ১৯ বস্তা সার জব্দ করেছে স্থানীয় জনতা। পরে খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো উদ্ধার করেন। উদ্ধার করা সার সরকারি নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করে বিক্রির অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মনঝার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাশের কালাই উপজেলার মোলামগাড়িহাট বাজারের সার ডিলার মিজানুর রহমানের দোকান থেকে সারগুলো দুইটি ভ্যানে করে জামালগঞ্জের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথে ক্ষেতলালের মনঝার বাজার এলাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ভ্যান দুটি থামিয়ে তল্লাশি করেন। এ সময় ভ্যানে থাকা সার দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা সেগুলো জব্দ করেন এবং দুই ভ্যানচালককে আটকে রাখেন।খবর পেয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোছা. শামীমা রহমান ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আদনাদ মেহেদী ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো উদ্ধার করেন। এ সময় তুলশীগঙ্গা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর শহিদ কালুসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুইটি ভ্যানে মোট ১৯ বস্তা সার পাওয়া যায়। ভ্যান দুটির চালক নয়ন হোসেন ও ফয়সাল হোসেন সারগুলো নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের আটক করে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।এ বিষয়ে অভিযুক্ত সার ডিলার মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।ঘটনার বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রউফ জানান খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়রা দুইটি ভ্যানে থাকা ১৯ বস্তা সার জব্দ করেছেন। পরে সারগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উদ্ধার করা সার সরকারি ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে বিক্রির অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।

জয়পুরহাটে অবৈধভাবে সার পাচারের সময় ১৯ বস্তা সার জব্দ ন্যায্যমূল্যে কৃষকের মাঝে বিক্রি

ব্রাহ্মণপাড়া ভুয়া পশু চিকিৎসকের দাপট, শঙ্কায় খামারিরা

​ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৮৪টি গ্রামেই এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন একশ্রেণির ভুয়া পশু চিকিৎসক। চিকিৎসাসংক্রান্ত ন্যূনতম প্রশিক্ষণ বা প্রাতিষ্ঠানিক সনদ না থাকলেও কাঁধে বড় ব্যাগ আর মোটরসাইকেলের সামনে-পিছনে ‘চিকিৎসক’ লিখে নিজেদের বড় ডাক্তার হিসেবে দাবি করছেন তারা। গ্রামে গ্রামে ঘুরে গবাদিপশুর ভুল চিকিৎসা দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা, আর মনগড়া অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে বিপদে ফেলছেন খামারিদের।​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হতো খামারিদের। তবে বর্তমানে সকাল-বিকেল প্রতিটি গ্রামেই এসব তথাকথিত চিকিৎসকদের আনাগোনা চোখে পড়ে।​উপজেলার চান্দলা করিম এলাকার বাসিন্দা আবদুল জলিল আক্ষেপ করে বলেন, "আগে চিকিৎসা নিতে প্রাণিসম্পদ অফিসে যাওয়া লাগত। আর এখন সকাল-বিকেল বাড়িতে বাড়িতে ভুয়া ডাক্তারের আগমন। তারা ভুলভাল চিকিৎসা দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।"​নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ভ্যাটেরিনারি ওষুধ বিক্রেতা জানান, এসব চিকিৎসকের কোনো ধারণাই নেই গবাদিপশুর সঠিক ওষুধ প্রয়োগ সম্পর্কে। তিনি বলেন, "ভুয়া ডাক্তারের দাপটে এলাকার খামারিরা দিশেহারা। তারা বড় বড় ব্যাগ ঝুলিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ায়। নিজেদের মনগড়া মতো অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে গবাদিপশুর অপূরণীয় ক্ষতি করছে।"​অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন অনেক ভুয়া চিকিৎসকও। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক ভুয়া চিকিৎসক বলেন, "বেকার বসে থাকার চেয়ে কিছু করে খাওয়া ভালো। কয়েক মাসের একটি সাধারণ প্রশিক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেছি। আমাদের সাধ্যের বাইরে গেলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বড় স্যারের কাছে রেফার করি।"​এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতিকুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "উপজেলায় তুলনামূলকভাবে ভুয়া ও হাতুড়ে ডাক্তারের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তারা ভুল চিকিৎসা দিয়ে গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষতি সাধন করছে। এতে বহু গরু ও বাছুর স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।"​এ ধরনের ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী খামারিরা।

ব্রাহ্মণপাড়া ভুয়া পশু চিকিৎসকের দাপট, শঙ্কায় খামারিরা

কুড়িগ্রামে লাউ চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ছয় তরুণ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের খোছাবাড়ী ও রাঙ্গামাটি এলাকায় ওয়াপদা বাঁধের দুই পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাউ চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ছয় তরুণ। দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পতিত জায়গাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা এ লাউয়ের ক্ষেত এখন স্থানীয়দের নজর কেড়েছে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগে সৃষ্টি হচ্ছে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান।​উদ্যোক্তারা হলেন—মো. শাহাদাত হোসেন, মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন, জিয়াউর রহমান, আশরাফুল আলম, মফিজুল হক ও মো. হাকিম। ছয় তরুণ সম্মিলিতভাবে ওয়াপদা বাঁধের দুই পাশের পতিত জায়গায় লাউ চাষ শুরু করেন। বাঁশের মাচা তৈরি করে সেখানে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন জাতের লাউয়ের চারা। জমি তৈরিতে ডায়ামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ও জৈব সার ব্যবহার করা হয়েছে। বাঁশের মাচা তৈরি ও পরিচর্যায় প্রতিদিন ৫ থেকে ৮ জন স্থানীয় শ্রমিক কাজ করছেন, যাদের দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা।​পরিচর্চায় এখন পুরো এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে সবুজের সমারোহ। সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়াপদা বাঁধের দুই পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাউয়ের মাচা। মাচা থেকে ঝুলছে অসংখ্য লাউ। কোথাও শ্রমিকরা ক্ষেত পরিচর্যা করছেন, আবার কোথাও সংগ্রহ করা হচ্ছে পরিপক্ব লাউ।​ক্ষেত্রটিতে কাজ করা স্থানীয় শ্রমিক রহিম উদ্দিন (৪৫) বলেন, ‘‘আগে এই বাঁধে কোনো কাজ ছিল না। এখন লাউ ক্ষেতে কাজ করে সংসার ভালোভাবে চলছে। পতিত জায়গাটা এখন অনেকের রিজিকের ব্যবস্থা করেছে।​উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্পূর্ণ নিজেদের জমানো টাকায় তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন; কোনো ব্যাংক বা এনজিও থেকে ঋণ পাননি তারা। লাউ চাষে তাদের এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে উৎপাদিত লাউ স্থানীয় বাজারসহ পার্শ্ববর্তী শহরের বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের আনুমানিক সাড়ে তিন লক্ষ টাকার লাউ বিক্রি হয়েছে।​বর্তমানে বাজারে প্রতি পিস লাউ পাইকারি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় এবং খুচরা বাজারে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে সব মিলিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকার লাউ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তারা। খরচ বাদ দিয়ে ভালো পরিমাণ অর্থ লাভ হবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা। সরকারি বা ওয়াপদা বাঁধের জায়গায় সবজি চাষ হলেও এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন কোনো প্রকার বাধা দেয়নি, বরং উৎসাহ জুগিয়েছে।​তারা জানান, শুধু লাউ চাষ নয়, একই জমিতে সাথি ফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়াসহ অন্যান্য সবজি চাষের পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে একই জায়গা থেকে একাধিক ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি আয়ও বাড়ানো সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে সাথি ফসলের চাষ শুরু হলে আরও বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন তারা।​উদ্যোক্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘‘পতিত জায়গাকে কাজে লাগিয়ে কিছু করার চিন্তা থেকেই আমরা ছয়জন মিলে নিজের জমানো টাকায় লাউ চাষ শুরু করেছি। পরিশ্রম করছি, এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো লাউ বিক্রি হয়েছে। আশা করছি ভালো দাম পেলে আমরা আরও লাভবান হব। ভবিষ্যতে চাষের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, তবে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেলে কাজটি আরও সহজ হতো।​স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, ‘‘পতিত জায়গায় সবজি চাষের মাধ্যমে একদিকে জায়গার ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষি উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ছে। সঠিক পরিচর্যা, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এ ধরনের উদ্যোগ থেকে উদ্যোক্তারা ভালো ফলন পেতে পারেন।​স্থানীয়রা বলছেন, একসময় পড়ে থাকা জায়গায় এখন সবুজ ফসলের সমারোহ। ছয় তরুণের সম্মিলিত উদ্যোগ শুধু তাদের নিজেদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি করছে না, বরং স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান ও সবজি উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।

কুড়িগ্রামে লাউ চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ছয় তরুণ

অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলনের আশা, ব্রাহ্মণপাড়ায় আমন ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক

মোঃ রেজাউল হক শাকিল, ব্রাহ্মণপাড়া: কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় আমন ধান চাষাবাদ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বর্ষার পানি ও অনুকূল আবহাওয়াকে কাজে লাগিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ ও পরিচর্যার কাজ চলছে পুরোদমে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমনের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। কোথাও জমি প্রস্তুত করতে হালচাষ ও জমি সমান করার কাজ চলছে, আবার কোথাও কৃষকরা বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন করে জমিতে রোপণ করছেন। পাশাপাশি সেচ দেওয়া ও আগাছা পরিষ্কারের কাজও চলছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কৃষক ও শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায় মাঠগুলো প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।কৃষকরা জানান, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় এবার আমন চাষে উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে। বর্তমানে একজন শ্রমিককে দৈনিক ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কানি (৬০ শতক) জমির জন্য আমনের চারা কিনতে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। এর সঙ্গে সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের খরচও রয়েছে।ধানের ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে জানান তারা। তবে ধান কাটার মৌসুমে বাজারদর কমে গেলে উৎপাদন খরচ তুলতে গিয়ে লোকসানের আশঙ্কাও করছেন কৃষকরা।উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, এবার জমিতে ধানের চারা ভালো হয়েছে। আবহাওয়াও অনুকূলে রয়েছে। এভাবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। তবে ধানের ন্যায্যমূল্য না পেলে আমাদের লাভ থাকবে না।চান্দলা ইউনিয়নের বড়ধুশিয়া গ্রামের কৃষক আক্তার হোসেন বলেন, কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় এবার আমন চাষে খরচ বেশি হচ্ছে। ধান কাটার সময় শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকের মজুরি নিয়েও দুশ্চিন্তা রয়েছে। সরকারিভাবে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হলে কৃষকরা আরও উৎসাহিত হবেন।কৃষকদের দাবি, ধান উৎপাদনের খরচ বিবেচনায় নিয়ে সরকারিভাবে ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, সার ও কীটনাশকের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল মতিন বলেন, চলতি বছর ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ৫ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বেশ ভালো। কৃষকেরা এখনো মাঠে চারা রোপণ করছেন। এভাবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশা করছি এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন আবাদ হবে।

অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলনের আশা, ব্রাহ্মণপাড়ায় আমন ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক

গোমতীর চরে আগাম সবজি লাল সবুজ সমারোহ

​কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় গোমতী নদীর জেগে ওঠা চরে ও সমতলে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। উপজেলাজুড়ে আটটি ইউনিয়নের প্রায় সব এলাকাতেই এখন আগাম জাতের সবজি চাষের ধুম পড়েছে। বেশি লাভের আশায় চাষিরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।​সরেজমিনে গোমতীর চর ও বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা কেউ জমি তৈরি করছেন, কেউ নতুন চারা রোপণ করছেন, আবার কেউবা আগে লাগানো ছোট সবজির চারাগুলোর নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত। বাজারে নতুন সবজির চাহিদা ও দাম দুটোই ভালো থাকে, তাই আগাম চাষে লাভের সম্ভাবনা বেশি। কৃষকেরা লালশাক, মুলা, ফুলকপি, পাতাকপি, দেড়শ, মাইলা, পুঁইশাক,টমেটো,  লাউ, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন জাতের সবজি আবাদ করছেন। ইতিমধ্যে অনেকে আগাম জাতের সবজি বাজারে তুলেছেন এবং ভালো দামও পাচ্ছেন।​তবে সবজির এই ভালো দামের বিপরীতে উপকরণ ও শ্রমিকের বাড়তি খরচ নিয়ে চিন্তিত চাষিরা। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় সবজি চাষিদের অন্যতম একজন, নূর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, "সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। তার ওপর শ্রমিকের পারিশ্রমিকও চড়া। এত খরচ করে চাষাবাদ করে আগের মতো লাভ হয় না, পোষাতে কষ্ট হয়ে যায়। এই কারণে আমি এখন আগের মতো বেশি জমি নিয়ে চাষ করছি না।"​আরেকজন চাষি, রবিউল হুসাইন বলেন, "খরচ বাড়লেও আমাদের উপায় নেই। আগাম সবজি বিক্রি করতে পারলে কিছুটা ভালো দাম পাওয়া যায়। এই আশাতেই আমরা ঝুঁকি নিয়ে চাষ করি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভের আশা করছি।"​এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল মতিন বলেন, "উপজেলায় এ বছর আগাম সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ভালো। কৃষকেরা এখন লাভজনক ফসল চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছি, যাতে তারা সুষম সার ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়াতে পারেন। আগাম সবজি চাষ করে তারা যেন লাভবান হতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন।"

গোমতীর চরে আগাম সবজি লাল সবুজ সমারোহ

আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত বীরগঞ্জের চাষীরা

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন সবজি চাষীরা। উঁচু জমিতে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আগাম ফুলকপি আর বাঁধাকপি সবজির আবাদ।কেউ, কেউ আবার নতুন করে জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ চারা রোপণ করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত রয়েছেন সেচ, সার প্রয়োগ ও রোগবালাই দমনের কাজে। আগাম বাজার ধরতে পারলে বাড়তি দামে সবজি বিক্রি করে ভালো লাভের আশায় সোনালি স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা।সরেজমিনে উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের প্রাণনগর, দলুয়া ও ২৫ মাইল, ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি ও বটতলীসহ নিজপাড়া ও পল্টাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে আগাম ফুলকপির আবাদ। কোথাও সারি সারি সবুজ চারা, আবার কোথাও গাছে ফুল ধরতে শুরু করেছে। সবুজে ছেয়ে গেছে কৃষকের মাঠ।বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫৯৩ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১৭০ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপির আবাদ হয়েছে। গত বছর একই সময়ে আগাম ফুলকপি আবাদ হয়েছিল মাত্র ৯২ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আগাম ফুলকপির আবাদ বেড়েছে প্রায় ৭৮ হেক্টর।কৃষকদের প্রত্যাশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং বাজারে আগাম ফুলকপির চাহিদা ও দাম ভালো থাকলে এবারের আবাদ তাঁদের ঘরে কাঙ্ক্ষিত লাভ এনে দেবে।কৃষকেরা জানান, শীতকালীন সবজির মৌসুমের শুরুতে বাজারে ফুলকপির সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকে। এ সময় আগাম শীতকালীন সবজি ফুলকপি বাজারজাত করতে পারলে সাধারণ সময়ের তুলনায় বেশি দাম পাওয়া যায়। মূলত বাড়তি লাভের আশাতেই প্রতিবছর আগাম জাতের ফুলকপি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।উপজেলার দলুয়া গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, তাঁর ফুলকপির ক্ষেত বর্তমানে বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২০ থেকে ২২ দিনের মধ্যে ক্ষেতের ফুলকপি বাজারজাত করা সম্ভব হবে।তিনি বলেন, এবার আগাম ফুলকপি চাষ করেছি ভালো দাম পাওয়ার আশায়। আশা করছি, বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে।উপজেলার ২৫ মাইল এলাকার কৃষক শামীম হায়দার এবার চার বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, আগাম সবজি চাষে পরিশ্রমের পাশাপাশি খরচও বেশি হয়। তবে ফলন ভালো হলে এবং বাজারদর আশানুরূপ থাকলে এবার ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৭০ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।কৃষি কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে আগাম ফুলকপির ক্ষেতগুলোর অবস্থা ভালো রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলন ও বাজারদর—দুটিই অনুকূলে থাকলে আগাম ফুলকপি চাষ করে কৃষকেরা ভালো লাভবান হতে পারবেন। এতে আগামীতে বীরগঞ্জে আগাম ফুলকপির আবাদ আরও বাড়তে পারে।

আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত বীরগঞ্জের চাষীরা

ইউটিউব দেখে নতুন জাতের পেয়ারা চাষ

ইউটিউব দেখে নতুন জাতের পেয়ারা চাষ করেই তাক লাগিয়ে দিয়েছেন দিনাজপুর বিরলের কৃষি উদ্যোক্তা নাঈমুর ইসলাম। তার পেয়ারা বাগানের পাতার আড়ালে ঝুলছে পাকা-আধাপাকা পেয়ারা। সারি সারি গাছজুড়ে সবুজের সমারোহ। কোথাও ফলন পরীক্ষা, কোথাও গাছের পরিচর্যা, আবার কোথাও ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।দিনাজপুরের বিরল উপজেলার শহরগ্রাম ইউনিয়নের রতনৌর গ্রামের নাঈমুর ইসলামের পেয়ারা বাগানে ঢুকলেই চোখে পড়ে এমন মনোরম দৃশ্য।একসময় ইউটিউবে বিভিন্ন কৃষিবিষয়ক ভিডিও দেখে পেয়ারা চাষের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় নাঈমুর ইসলামের। সেই আগ্রহ থেকেই ২০২০ সালে চুয়াডাঙ্গা থেকে গোল্ডেন এইট জাতের প্রায় ২ হাজার ৫০০ চারা সংগ্রহ করে সাত বিঘা জমিতে গড়ে তোলেন পেয়ারা বাগান। মাত্র এক বছরের মধ্যেই গাছে ফলন আসতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বাগানের পরিধি, উৎপাদন ও আয়। এখন পেয়ারা চাষের পাশাপাশি নিজেই চারা উৎপাদন ও বিক্রি করছেন তিনি।নাঈমুরের বাগানে বর্তমানে সারি সারি গাছে প্রচুর পেয়ারা ধরেছে। স্থানীয় বাজারে চাহিদাও রয়েছে বেশ। বাগানের পেয়ারা প্রতি মণ প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। নিজের সফলতার পাশাপাশি আশপাশের কৃষকদেরও বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা চাষে উৎসাহিত করছেন নাঈমুর।বাগানটি দেখতে প্রতিদিনই আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ আসছেন। কেউ জানতে চাইছেন চাষপদ্ধতি, কেউ গাছের পরিচর্যা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন। আবার অনেকেই বাগানের ফলন দেখে নিজেদের জমিতে পেয়ারা চাষের পরিকল্পনা করছেন।বাগান দেখতে আসা মুন্না ইসলাম বলেন, ‘আমি আজ পেয়ারার বাগান দেখতে এসেছি। এসে দেখি গাছে অনেক ভালো পেয়ারা ধরেছে। বাগানের ফলন দেখে আমারও নিজের জমিতে পেয়ারা চাষ করার ইচ্ছা হয়েছে।কৃষি শ্রমিক জুলফিকার আলী  বলেন, ‘আমি প্রায় তিন বছর ধরে এই পেয়ারার বাগানে কাজ করছি। এখানে কাজ করতে করতে চাষাবাদ সম্পর্কে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন করছি। যখন পুরোপুরি অভিজ্ঞ হয়ে উঠব, তখন নিজের জমিতে পেয়ারা বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে।কৃষি উদ্যোক্তা নাঈমুর ইসলাম বলেন, ‘আমি আগে থেকেই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কৃষিকাজের পাশাপাশি ইউটিউব দেখে পেয়ারা চাষ সম্পর্কে ধারণা নিই। এরপর ২০২০ সালে চুয়াডাঙ্গা থেকে চারা এনে সাত বিঘা জমিতে বাগান শুরু করি। এক বছর পরই গাছে ফল আসতে শুরু করে। এরপর আমাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমার বাগান সাত বিঘা জমিতে। এখন নিজেই পেয়ারা চারা বিক্রি করছি। আমার বাগান দেখে এলাকার অনেক কৃষক পেয়ারা চাষে আগ্রহী হয়েছেন এবং কেউ কেউ বাগানও করছেন। কৃষি অফিস থেকেও আমাকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।পেয়ারার বাজারজাত সম্পর্কে নাঈমুর ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে আমার বাগানের পেয়ারা প্রতি মণ ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করছি। ফলন ও বাজারদর ভালো থাকায় পেয়ারা চাষ করে আমি আশাবাদী।বিরল কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন, ‘নাঈমুর ইসলাম ২০২০ সালে ইউটিউব দেখে কৃষিকাজের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য পেয়ারা চাষে আগ্রহী হন। বর্তমানে বিরলে বাণিজ্যিকভাবে এ জাতের পেয়ারা চাষ হচ্ছে।’তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নাঈমুর ইসলামকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতো উদ্যোক্তাদের সফলতা দেখে অন্য কৃষকরাও বাণিজ্যিক কৃষিতে আগ্রহী হচ্ছেন। আমরা চাই, এ ধরনের উদ্যোগ আরও কৃষকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক এবং কৃষকরা কৃষিকে লাভজনক পেশা হিসেবে নিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠুন।

ইউটিউব দেখে নতুন জাতের পেয়ারা চাষ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে চাহিদামতো ইউরিয়া সার না পেয়ে ভোগান্তিতে আমন চাষিরা

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ১১ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ হয়েছে। ধানের ভালো ফলনের আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে চাষের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চাহিদামতো ইউরিয়া সার না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক কৃষক। কয়েক দিন ডিলারের দোকানে ঘুরেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার না পাওয়ার অভিযোগ তাদের।কৃষকদের অভিযোগ, দুই-তিন দিন ঘোরার পর অনেক সময় ১০ কেজি করে ইউরিয়া সার দেওয়া হচ্ছে। জমিতে যে পরিমাণ সার প্রয়োজন, সে অনুযায়ী সার না পাওয়ায় কেউ কেউ বাধ্য হয়ে স্থানীয় খুচরা দোকান থেকে বাড়তি দামে সার কিনছেন। এতে একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে সঠিক সময়ে জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারায় ফলন নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট ২০২৬ মাসে ফুলবাড়ীতে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ৫৯৫ মেট্রিক টন এবং সেপ্টেম্বর মাসে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৬৪ মেট্রিক টন। উপজেলার ৭টি বিসিআইসি ডিলারের মাধ্যমে এসব সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ডিলারের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৫২ মেট্রিক টন করে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫ নম্বর ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নে রয়েছে দুইজন ডিলার।কৃষকদের দাবি, ডিলারের পাশাপাশি উপজেলার বড় বড় বাজারের অনুমোদিত খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমেও সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হলে তাদের ভোগান্তি কমবে। এতে সঠিক সময়ে এবং নির্ধারিত দামে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে পারবেন তারা।সারের পাশাপাশি বৃষ্টির পানির সংকটেও বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বৃষ্টি কম হওয়ায় অনেক জমিতে সেচ দিয়ে পানি দিতে হচ্ছে। কিন্তু ডিজেলের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন খরচ। একই সঙ্গে জমিতে পানির ঘাটতির কারণে বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।তবে বিসিআইসি ডিলারদের দাবি, তারা বরাদ্দ অনুযায়ীই সার বিতরণ করছেন। অনেক কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার নিয়ে বাড়িতে মজুত করে রাখছেন। এ কারণে কোনো কোনো সময় সাময়িক সংকট তৈরি হচ্ছে এবং অনেক কৃষক সার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১১ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় কিছু জমিতে সেচের প্রয়োজন হচ্ছে। ইউরিয়া সারের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের প্রয়োগ অনেক কৃষক ইতোমধ্যে শেষ করেছেন। যেসব এলাকায় এখনো সারের প্রয়োজন রয়েছে, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সেসব এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী সার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।কৃষকদের দাবি, বরাদ্দ থাকলেও যদি প্রয়োজনের সময়ে চাহিদামতো সার না মেলে, তাহলে আমনের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন হবে। তাই দ্রুত সার বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা এনে কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত দামে সার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে চাহিদামতো ইউরিয়া সার না পেয়ে ভোগান্তিতে আমন চাষিরা

পীরগাছায় রাতের আঁধারে ৪১০ টি পেঁপে গাছ কেঁটে ফেলার অভিযোগ

(রংপুর) প্রতিনিধি:রংপুরের পীরগাছায় ৪৪ শতক জমিতে থাকা প্রায় ৪১০টি পেঁপে গাছ রাতের আঁধারে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক শফিকুল ইসলাম।বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর চন্ডিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম ওই এলাকার মৃত বাছের উদ্দিনের ছেলে। তিনি জানান, ৪৪ শতক জমিতে পেঁপের বাগান করেছিলেন তিনি। বুধবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা বাগানে ঢুকে প্রায় ৪১০টি পেঁপে গাছ কেটে ফেলে। সকালে বাগানে গিয়ে গাছগুলো কাটা অবস্থায় দেখতে পান তিনি।তিনি আরও জানান “রাতের আঁধারে আমার বাগানের প্রায় ৪১০টি পেঁপে গাছ কেটে ফেলেছে দূর্বৃত্তরা। এতে আমার আনুমানিক ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম শফিক পীরগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, “এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পীরগাছায় রাতের আঁধারে ৪১০ টি পেঁপে গাছ কেঁটে ফেলার অভিযোগ

কেঁচো থেকে সার, সার থেকে স্বাবলম্বী সেবেন চন্দ্র

কেঁচো থেকে সার, সেই সার বিক্রি করে আয়—এভাবেই স্বাবলম্বিতার পথে এগিয়ে চলেছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুদেব গ্রামের কৃষক সেবেন চন্দ্র। মাত্র ৫ হাজার টাকা দিয়ে কেঁচো সংগ্রহ করে শুরু করা উদ্যোগ এখন রূপ নিয়েছে মাঝারি আকারের ভার্মি কম্পোস্ট খামারে। প্রতি মাসে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ মণ জৈব সার উৎপাদন করছেন তিনি।সেবেন চন্দ্র জানান, শুরুতে দিনাজপুর থেকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ৫ কেজি থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ান জাতের কেঁচো সংগ্রহ করেন। ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির বিষয়ে শুরুতে তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছিল না। ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিও দেখে তিনি কেঁচো পালন ও জৈব সার তৈরির প্রাথমিক ধারণা নেন। পরে কাজটিকে আরও দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে নিতে ঠাকুরগাঁওয়ে তিন দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।প্রশিক্ষণ ও নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে খামারের পরিসর বাড়াতে থাকেন তিনি। বর্তমানে তার খামারে কেঁচোর পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১২ থেকে ১৫ কেজিতে দাঁড়িয়েছে। গোবরসহ বিভিন্ন জৈব উপাদান ব্যবহার করে তৈরি করছেন ভার্মি কম্পোস্ট। কেঁচোর মাধ্যমে এসব জৈব উপাদান প্রক্রিয়াজাত হয়ে তৈরি হচ্ছে উন্নতমানের জৈব সার।সেবেন চন্দ্র বলেন, “শুরুতে ইউটিউব দেখে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির বিষয়টি শিখেছি। পরে ঠাকুরগাঁওয়ে তিন দিনের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর কাজটি আরও ভালোভাবে বুঝতে পারি। এখন নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিয়মিত সার উৎপাদন করছি। খামারটি আরও বড় করার ইচ্ছা আছে।”বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ মণ ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করছেন সেবেন চন্দ্র। প্রতি কেজি সার উৎপাদনে খরচ পড়ে প্রায় ৬ টাকা। আর বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ১০ টাকা দরে। অর্থাৎ প্রতি কেজি সারে প্রায় ৪ টাকা লাভ থাকছে। ৪০ মণ বা ১ হাজার ৬০০ কেজি সার বিক্রি হলে মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৬ হাজার টাকা এবং উৎপাদন খরচ বাদে লাভ থাকে প্রায় ৬ হাজার ৪০০ টাকা।বর্তমানে খামারটি মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে। উৎপাদিত সারের চাহিদা বাড়ায় ভবিষ্যতে খামারের পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন সেবেন চন্দ্র। নতুন বেড ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে উৎপাদন বাড়াতে চান তিনি।সেবেন চন্দ্রের মতে, ভার্মি কম্পোস্ট শুধু বাড়তি আয়ের উৎস নয়, কৃষিজমির মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকেরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী জৈব সার উৎপাদন করলে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি উৎপাদন খরচও কমানো সম্ভব।স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিএস বাদল বলেন, “সেবেন চন্দ্র নিজের আগ্রহ ও চেষ্টায় প্রথমে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির কাজ শুরু করেছেন। ইউটিউব থেকে ধারণা নেওয়ার পর প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। তার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কৃষকেরা এভাবে জৈব সার উৎপাদনে এগিয়ে এলে নিজেদের জমিতে ব্যবহারের পাশাপাশি বাড়তি আয়ও করতে পারবেন।”তিনি আরও বলেন, “ভার্মি কম্পোস্ট মাটির জৈব উপাদান বাড়াতে সহায়তা করে। কৃষিতে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানো গেলে রাসায়নিক সারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।”স্থানীয় কৃষকেরা জানান, সেবেন চন্দ্রের উদ্যোগ এলাকায় ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারে আগ্রহ তৈরি করেছে। কৃষিজ বর্জ্য ও গোবর কাজে লাগিয়ে জৈব সার উৎপাদনের বিষয়টি তাদের কাছেও সম্ভাবনাময় মনে হচ্ছে।কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রামীণ পর্যায়ে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন বাড়ানো গেলে একদিকে কৃষিতে জৈব উপাদানের ব্যবহার বাড়বে, অন্যদিকে কৃষিজ বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও সম্ভব হবে। পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও কৃষকের বাড়তি আয়ের পথ তৈরি হতে পারে।মাত্র ৫ হাজার টাকা দিয়ে কয়েক কেজি কেঁচো সংগ্রহ করে শুরু করা সেবেন চন্দ্রের উদ্যোগ এখন নিয়মিত আয়ের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষির একটি সম্ভাবনাময় দৃষ্টান্ত। নিজের উদ্যোগকে আরও বড় করে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

কেঁচো থেকে সার, সার থেকে স্বাবলম্বী সেবেন চন্দ্র

আউশ ধানের দামে হতাশ চাষিরা

নওগাঁর পত্নীতলায় আউশ ধানের বাম্পার ফলন কিন্ত দামে কম। আউশ চাষিদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। উৎপাদিত ধান বাজারে এনে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় তাদের হিসাব মিলছে না।ধান বিক্রয় করে উৎপাদন খরচই উঠছে না।একদিকে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজারদর পতন, অন্যদিকে ঋণের চাপ,পারিবারিক ব্যয় এবং আমন চাষের প্রস্তুতি সব মিলিয়ে আউশের ভালো ফলন সত্ত্বেও কৃষকের হাতে কাঙ্ক্ষিত আয় থাকছে না।উপজেলার  বিভিন্ন ধানের হাটে গিয়ে দেখা যায়, ধান বর্তমানে প্রতি মণ ৭ শ থেকে ৮ শ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।দিন দিন দাম কমের দিকে।কৃষকরা জানান,গত বছরের তুলনায় এবার জাতভেদে প্রতি মণ ধানের দাম ৪ শ থেকে ৫ শ টাকা পর্যন্ত কমেছে।অপরদিকে সার,বীজ,সেচ, কীটনাশক, জমিচাষ ও শ্রমিকের মজুরিসহ চাষাবাদের ব্যয় বেড়েছে।উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী,চলতি মৌসুমে পত্নীতলায় প্রায় ৬ হাজার ৭ শ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ করা হয়েছে।

আউশ ধানের দামে হতাশ চাষিরা

বান্দরবানে পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ: রঙিন ফলের কাপে ড্রাগন, তরমুজ, আমসহ নানা স্বাদের সমাহার

প্রকৃতির রানী বান্দরবান এখন শুধু পাহাড়-ঝর্ণা নয়, পর্যটকদের জন্য নিয়ে এসেছে স্বাদেরও নতুন চমক। পাহাড়ি ফলের সাথে এখন পাওয়া যাচ্ছে স্বাস্থ্যকর ও আকর্ষণীয় ফ্রুট কাপ"বান্দরবান শহরের বিভিন্ন স্পট ও পর্যটন কেন্দ্রে এখন দেখা যাচ্ছে স্বচ্ছ কাপে সাজানো রঙিন ফলের ছড়াছড়ি। যার মধ্যে রয়েছে লাল টুকটুকে ড্রাগন ফল, রসালো তরমুজ, পাকা আম, জাম্বুরা সহ মৌসুমি বিভিন্ন ফল। পর্যটকদের প্রথম পছন্দছবিতে দেখা যায়, পরিষ্কার প্লাস্টিকের কাপে সুন্দর করে কেটে রাখা হয়েছে ফলগুলো। উপরে পাতলা প্যাকেট দিয়ে মোড়ানো, যাতে ধুলো-ময়লা না লাগে এবং পর্যটকরা হাতে নিয়ে সহজে খেতে পারেন। এক পর্যটক বলেন,  “পাহাড় ঘুরতে এসে গরমে এই ফ্রুট কাপগুলো সত্যিই অসাধারণ। ড্রাগন ফলটা দেখতেই যত সুন্দর, খেতেও তত মজা। স্বাস্থ্যকরও বটে।স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগস্থানীয় ফল বিক্রেতারা জানান, পর্যটকদের চাহিদা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ। বান্দরবানে উৎপাদিত ও আশেপাশের এলাকার টাটকা ফল দিয়েই তৈরি করা হচ্ছে এই ফলের কাপ। এতে যেমন পর্যটকরা পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছেন, তেমনি স্থানীয় কৃষকরাও উপকৃত হচ্ছেন।নতুন রূপে বান্দরবানের ফলআগে যেখানে আস্ত ফল কিনতে হতো, এখন সেখানে কেটে-ধুয়ে রেডি করে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ড্রাগন ফল যা আগে বান্দরবানে সহজে পাওয়া যেত না, এখন সেটিই হয়ে উঠেছে এই ফ্রুট কাপের মূল আকর্ষণ।পাহাড় ভ্রমণের পাশাপাশি এখন বান্দরবানের এই রঙিন ফলের কাপও পর্যটকদের কাছে "সরুপাত" বা স্মৃতি হিসেবে থেকে যাচ্ছে।

বান্দরবানে পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ: রঙিন ফলের কাপে ড্রাগন, তরমুজ, আমসহ নানা স্বাদের সমাহার

ঘোড়াঘাটে এক নলকূপে ১২৫ একর, সেচের অভাবে ফেটে চৌচির আমনের জমি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ১২৫ একর জমির সেচের জন্য রয়েছে মাত্র একটি গভীর নলকূপ। পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় একবার সেচ দেওয়ার পর পরবর্তী সেচের জন্য কৃষকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ দিন। এর মধ্যে পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে আমন ধানের গোড়া। কোথাও কোথাও জমিতে দেখা দিয়েছে ফাটল।বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ করে এখন ফসল ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। দ্রুত আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবিতে রোববার মানববন্ধন করেছেন তারা।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নূরজাহনপুর গ্রামের ৩৫ থেকে ৪০ জন কৃষক অংশ নেন।কৃষকদের অভিযোগ, ঘোড়াঘাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নূরজাহনপুর গ্রামের প্রায় ১২৫ একর জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য একটি মাত্র গভীর নলকূপ রয়েছে। এর অধিকাংশ জমি উঁচু হওয়ায় একবার সেচ দেওয়ার পর পানি বেশিদিন ধরে রাখা যায় না। ফলে সেচের পানি পেতে কৃষকদের সিরিয়ালে দাঁড়াতে হচ্ছে। একবার সেচ দেওয়ার পর পরবর্তী সেচের জন্য অনেককে ১০ থেকে ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে ধানের প্রয়োজনীয় সময়ে জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকরা জানান, প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে। বর্তমানে ধানের কুশি গজানো ও দ্রুত বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সময়। কিন্তু পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকায় আনুমানিক ১৫০ বিঘা জমির ধানের গোড়া শুকিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও মাটিতে ফাটলও দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।মানববন্ধনে কৃষক সামছুল বলেন, ‘১২৫ একর জমির জন্য এখানে মাত্র একটি নলকূপ বসানো হয়েছে। এই একটি নলকূপ দিয়ে সবাইকে সময়মতো পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেউ পানি পাচ্ছেন, আবার কেউ পাচ্ছেন না। পানির অভাবে জমিতে ফাটল ধরেছে।’তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বিঘাপ্রতি বীজ, সার ও কীটনাশক বাবদ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আরও ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হবে। এর সঙ্গে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের খরচও রয়েছে। সময়মতো পানি দিতে না পারলে এই বিনিয়োগ লোকসানে পরিণত হবে।’কৃষক সুরুজ মিয়া বলেন, ‘৩৩ শতকে ২৫ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করি। এই জমির ফসল দিয়েই সারা বছরের সংসার চলে। দ্রুত আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা না হলে ধানের ফলন নিয়ে বড় ধরনের বিপদে পড়তে হবে।’তিনি বলেন, ‘জমির দূরত্ব ও কৃষকদের প্রয়োজন বিবেচনা করে দ্রুত এখানে আরেকটি নলকূপ স্থাপন করা দরকার।’এ বিষয়ে বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা সেচ কমিটির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান সুজন বলেন, ‘নূরজাহনপুরের বিষয়টি আমরা জানি ও অবগত আছি। বিষয়টি আবার সুবিবেচনাপূর্বক পুনরায় তদন্ত করে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হব।’ঘোড়াঘাট উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও ইউএনও রুবানা তানজিন বলেন, ‘সেচের একটি নীতিমালা আছে। নীতিমালার বাইরে কিছুই করার সুযোগ নেই।’তিনি বলেন, ‘নীতিমালার মধ্যে থাকলে আমরা লাইসেন্স দিয়ে থাকি। কেউ নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন করলে অবশ্যই লাইসেন্স পেয়ে যাবেন।’কৃষকদের দাবি, প্রতিবছরই সেচের পানির সংকটে পড়তে হয় তাদের। তাই সাময়িকভাবে পানি সরবরাহের পরিবর্তে জমির পরিমাণ ও কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।মানববন্ধন থেকে দ্রুত আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপন, বিদ্যমান সেচব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এবং আমন মৌসুমে সময়মতো সেচের পানি নিশ্চিত করার দাবি জানান কৃষকরা।

ঘোড়াঘাটে এক নলকূপে ১২৫ একর, সেচের অভাবে ফেটে চৌচির আমনের জমি
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream