জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিনিদের অধিকার এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শিশু, নারী, তরুণসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সরকারের নেওয়া পরিকল্পনাগুলোও উঠে এসেছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড এবং ভবিষ্যতে ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও পরিবেশের মতো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন খাতে সরকারের পরিকল্পনার একটি সামগ্রিক চিত্র বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং জনকল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিনের ভাষ্য, ২০ মিনিটের বেশি সময়ের ওই বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শুধু বাংলাদেশের স্বার্থ ও অবস্থান তুলে ধরেননি; বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পক্ষেও কথা বলেছেন।
তিনি আরও জানান, জাতিসংঘ সফরের তৃতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী একাধিক দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন। এসব আলোচনায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার ও বিশ্বশান্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলো আলোচনায় আসে। একইসঙ্গে সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জলবায়ু ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন পরিবেশ ও জলবায়ু উদ্যোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন এবং পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার মতো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্যেও প্রধানমন্ত্রী চারটি প্রস্তাব দিয়েছেন।
স্বাস্থ্যবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমানো এবং প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। আগামী কয়েক বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। এর মধ্যে ৮০ হাজার নারী এবং মিডওয়াইফারি খাতে ২৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্য রয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকটিও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি সদস্যদের অবদানের জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মহাসচিব।
এ সময় বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা এবং বহুপাক্ষিক অঙ্গনে দেশটির ভূমিকারও প্রশংসা করেন আন্তোনিও গুতেরেস। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দেশগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি জোরদারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত