রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত বীরগঞ্জের চাষীরা



আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত বীরগঞ্জের চাষীরা
আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত বীরগঞ্জের চাষীরা

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন সবজি চাষীরা। উঁচু জমিতে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আগাম ফুলকপি আর বাঁধাকপি সবজির আবাদ।

কেউ, কেউ আবার নতুন করে জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ চারা রোপণ করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত রয়েছেন সেচ, সার প্রয়োগ ও রোগবালাই দমনের কাজে। আগাম বাজার ধরতে পারলে বাড়তি দামে সবজি বিক্রি করে ভালো লাভের আশায় সোনালি স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা।

সরেজমিনে উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের প্রাণনগর, দলুয়া ও ২৫ মাইল, ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি ও বটতলীসহ নিজপাড়া ও পল্টাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে আগাম ফুলকপির আবাদ। কোথাও সারি সারি সবুজ চারা, আবার কোথাও গাছে ফুল ধরতে শুরু করেছে। সবুজে ছেয়ে গেছে কৃষকের মাঠ।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫৯৩ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১৭০ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপির আবাদ হয়েছে। গত বছর একই সময়ে আগাম ফুলকপি আবাদ হয়েছিল মাত্র ৯২ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আগাম ফুলকপির আবাদ বেড়েছে প্রায় ৭৮ হেক্টর।

কৃষকদের প্রত্যাশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং বাজারে আগাম ফুলকপির চাহিদা ও দাম ভালো থাকলে এবারের আবাদ তাঁদের ঘরে কাঙ্ক্ষিত লাভ এনে দেবে।

কৃষকেরা জানান, শীতকালীন সবজির মৌসুমের শুরুতে বাজারে ফুলকপির সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকে। এ সময় আগাম শীতকালীন সবজি ফুলকপি বাজারজাত করতে পারলে সাধারণ সময়ের তুলনায় বেশি দাম পাওয়া যায়। মূলত বাড়তি লাভের আশাতেই প্রতিবছর আগাম জাতের ফুলকপি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

উপজেলার দলুয়া গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, তাঁর ফুলকপির ক্ষেত বর্তমানে বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২০ থেকে ২২ দিনের মধ্যে ক্ষেতের ফুলকপি বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, এবার আগাম ফুলকপি চাষ করেছি ভালো দাম পাওয়ার আশায়। আশা করছি, বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে।

উপজেলার ২৫ মাইল এলাকার কৃষক শামীম হায়দার এবার চার বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, আগাম সবজি চাষে পরিশ্রমের পাশাপাশি খরচও বেশি হয়। তবে ফলন ভালো হলে এবং বাজারদর আশানুরূপ থাকলে এবার ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৭০ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে আগাম ফুলকপির ক্ষেতগুলোর অবস্থা ভালো রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলন ও বাজারদর—দুটিই অনুকূলে থাকলে আগাম ফুলকপি চাষ করে কৃষকেরা ভালো লাভবান হতে পারবেন। এতে আগামীতে বীরগঞ্জে আগাম ফুলকপির আবাদ আরও বাড়তে পারে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত বীরগঞ্জের চাষীরা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন সবজি চাষীরা। উঁচু জমিতে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আগাম ফুলকপি আর বাঁধাকপি সবজির আবাদ।

কেউ, কেউ আবার নতুন করে জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ চারা রোপণ করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত রয়েছেন সেচ, সার প্রয়োগ ও রোগবালাই দমনের কাজে। আগাম বাজার ধরতে পারলে বাড়তি দামে সবজি বিক্রি করে ভালো লাভের আশায় সোনালি স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা।

সরেজমিনে উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের প্রাণনগর, দলুয়া ও ২৫ মাইল, ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি ও বটতলীসহ নিজপাড়া ও পল্টাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে আগাম ফুলকপির আবাদ। কোথাও সারি সারি সবুজ চারা, আবার কোথাও গাছে ফুল ধরতে শুরু করেছে। সবুজে ছেয়ে গেছে কৃষকের মাঠ।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫৯৩ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১৭০ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপির আবাদ হয়েছে। গত বছর একই সময়ে আগাম ফুলকপি আবাদ হয়েছিল মাত্র ৯২ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আগাম ফুলকপির আবাদ বেড়েছে প্রায় ৭৮ হেক্টর।

কৃষকদের প্রত্যাশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং বাজারে আগাম ফুলকপির চাহিদা ও দাম ভালো থাকলে এবারের আবাদ তাঁদের ঘরে কাঙ্ক্ষিত লাভ এনে দেবে।

কৃষকেরা জানান, শীতকালীন সবজির মৌসুমের শুরুতে বাজারে ফুলকপির সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকে। এ সময় আগাম শীতকালীন সবজি ফুলকপি বাজারজাত করতে পারলে সাধারণ সময়ের তুলনায় বেশি দাম পাওয়া যায়। মূলত বাড়তি লাভের আশাতেই প্রতিবছর আগাম জাতের ফুলকপি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

উপজেলার দলুয়া গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, তাঁর ফুলকপির ক্ষেত বর্তমানে বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২০ থেকে ২২ দিনের মধ্যে ক্ষেতের ফুলকপি বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, এবার আগাম ফুলকপি চাষ করেছি ভালো দাম পাওয়ার আশায়। আশা করছি, বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে।

উপজেলার ২৫ মাইল এলাকার কৃষক শামীম হায়দার এবার চার বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, আগাম সবজি চাষে পরিশ্রমের পাশাপাশি খরচও বেশি হয়। তবে ফলন ভালো হলে এবং বাজারদর আশানুরূপ থাকলে এবার ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৭০ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে আগাম ফুলকপির ক্ষেতগুলোর অবস্থা ভালো রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলন ও বাজারদর—দুটিই অনুকূলে থাকলে আগাম ফুলকপি চাষ করে কৃষকেরা ভালো লাভবান হতে পারবেন। এতে আগামীতে বীরগঞ্জে আগাম ফুলকপির আবাদ আরও বাড়তে পারে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream