নিয়োগ-পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য, টেন্ডার কমিশন এবং বিদেশভিত্তিক হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের মাধ্যমে ভিলা ও ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগ উঠেছে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগে উল্লিখিত আর্থিক অনিয়মের আনুমানিক পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুসন্ধান শুরুর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কেনাকাটা ও নিয়োগ সিন্ডিকেটের অনিয়ম অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগের সেই অনুসন্ধানের সঙ্গেই নতুন যুক্ত হওয়া বৃহৎ পরিসরের এই অভিযোগগুলো সংযুক্ত করে সমন্বিত তদারকি চালানো হবে।
১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগঅভিযোগে দাবি করা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ তাঁর দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নের সহযোগিতায় মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে অর্থ পাচার করেছেন:দুবাই: ৪,৫০০ কোটি টাকা (গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ ও সম্পত্তি ক্রয়)।সিঙ্গাপুর: ৩,০০০ কোটি টাকা।অস্ট্রেলিয়া: ২,০০০ কোটি টাকা (বিলাসবহুল ভিলা ক্রয়)।সুইজারল্যান্ড: ১,৫০০ কোটি টাকা (সুইস ব্যাংকে জমা)।এছাড়া পর্তুগালে জমি কেনাসহ বিভিন্ন দেশে বিশাল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক।
প্রশাসন, পদায়ন ও টেন্ডারে লেনদেনের অভিযোগক্ষেত্র / পদায়নলেনদেন ও কমিশন বাণিজ্যের বিবরণডিএইচকে ও সিটি করপোরেশনঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা, গাজীপুর সিইও নিয়োগে ৬৫ কোটি টাকা এবং ওয়াসার এমডি নিয়োগে ১০ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ।
ডিসি পদায়ন বাণিজ্যসারাদেশে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে নিয়োগে সর্বনিম্ন ২ থেকে ১০ কোটি টাকা হারে মোট ৭২ থেকে ৩৬০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার হিসাব যাচাই করছে সংস্থাটি।টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন লাভ। এছাড়া শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১,২০০ কোটি টাকা এবং সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির অভিযোগ।এলজিইডি ও অন্যান্য নিয়োগএলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগে ৫২ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ।
বাবা, এপিএস ও পিও-র বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণদুদকের প্রাপ্ত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন এবং তাঁর এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয় প্রশাসন থেকে অর্থ আদায় করতেন। তাঁর পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুস লেনদেনের মধ্যস্থতা করার অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় হেলিকপ্টার ব্যবহার করে কম্বল বিতরণ, স্পর্শকাতর বিমানবন্দরে গুলি ভর্তি ব্যাগসহ প্রবেশ, পাঁচ তারকা হোটেলের বিল ও বিলাসবহুল গাড়ি-ফ্ল্যাট ব্যবহারের উৎস খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক।
মতামত