সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

ডায়ালাইসিস সেবা মিলবে সকল জেলা-উপজেলায়


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

ডায়ালাইসিস সেবা মিলবে সকল জেলা-উপজেলায়
ছবি: সংগৃহীত

দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৫ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে ডায়ালাইসিস বিষয়ে তিন মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দুই শ্রেণিতে মোট ২ হাজার ৫০০টি নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা বাসসকে জানান, এরই মধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনায় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। শিগগিরই সিলেটসহ আরও কয়েকটি স্থানে বড় পরিসরে এ প্রশিক্ষণ শুরু হবে। একই সঙ্গে সারা দেশে ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নার্স নিয়োগের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় সরকারি মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন নেওয়া হয়েছে। এতে অংশ নিতে হলে সরকারি চাকরিতে কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ হতে হবে এবং বয়স সর্বোচ্চ ৪০ বছর হতে হবে।

গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সমন্বয় সেলের উদ্যোগে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২৪ আগস্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী পাঠানো হয়।

এর আগে ২০ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় অনুষ্ঠিত সভায় দেশের প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। কিন্তু ডায়ালাইসিসের সুযোগ মূলত ঢাকা ও বড় শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন।

বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, দেশে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। এর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ঢাকায় অবস্থিত। ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এ সেবার ঘাটতি রয়েছে।

নথি অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের ডায়ালাইসিস কেন্দ্রগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়ে এ সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য আলাদা কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।

১২ আগস্টের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২ হাজার ৫০০ নার্সসহ মোট ৫ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিটি ব্যাচে থাকবেন ৫০ থেকে ১০০ জন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) এবং ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসক সংকট মোকাবিলায় প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো উপজেলায় উপযুক্ত চিকিৎসক পাওয়া না গেলে পার্শ্ববর্তী উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক পদায়ন করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক ও কনসালট্যান্টদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি এক মাসের মধ্যে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্প একনেকে উপস্থাপন এবং মিরপুরে মেডিকেল কলেজের পরিবর্তে ৬০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ডায়ালাইসিস সেবা মিলবে সকল জেলা-উপজেলায়

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৫ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে ডায়ালাইসিস বিষয়ে তিন মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দুই শ্রেণিতে মোট ২ হাজার ৫০০টি নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা বাসসকে জানান, এরই মধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনায় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। শিগগিরই সিলেটসহ আরও কয়েকটি স্থানে বড় পরিসরে এ প্রশিক্ষণ শুরু হবে। একই সঙ্গে সারা দেশে ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নার্স নিয়োগের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় সরকারি মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন নেওয়া হয়েছে। এতে অংশ নিতে হলে সরকারি চাকরিতে কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ হতে হবে এবং বয়স সর্বোচ্চ ৪০ বছর হতে হবে।

গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সমন্বয় সেলের উদ্যোগে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২৪ আগস্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী পাঠানো হয়।

এর আগে ২০ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় অনুষ্ঠিত সভায় দেশের প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। কিন্তু ডায়ালাইসিসের সুযোগ মূলত ঢাকা ও বড় শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন।

বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, দেশে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। এর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ঢাকায় অবস্থিত। ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এ সেবার ঘাটতি রয়েছে।

নথি অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের ডায়ালাইসিস কেন্দ্রগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়ে এ সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য আলাদা কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।

১২ আগস্টের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২ হাজার ৫০০ নার্সসহ মোট ৫ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিটি ব্যাচে থাকবেন ৫০ থেকে ১০০ জন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) এবং ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসক সংকট মোকাবিলায় প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো উপজেলায় উপযুক্ত চিকিৎসক পাওয়া না গেলে পার্শ্ববর্তী উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক পদায়ন করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক ও কনসালট্যান্টদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি এক মাসের মধ্যে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্প একনেকে উপস্থাপন এবং মিরপুরে মেডিকেল কলেজের পরিবর্তে ৬০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream