সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং
গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং

তীব্র গরমে দিনে-রাতে লোডশেডিং দেশজুড়ে চলছে। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, এবার জ্বালানি সংকটও রয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার বিপরীতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন না বাড়ালে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদ্যুতের চাহিদা যে হারে বাড়বে, সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে না। 

রাজধানীর বাড্ডা, খিলগাঁও, তেজগাঁও, মগবাজার, মোহাম্মদপুর ও শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, এসব এলাকায় দিনে-রাতে নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও।

প্রতি বছর তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দিতে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং করে শহর ও শিল্পাঞ্চলে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে সরকার। তবে এবার লোডশেডিং করতে হচ্ছে রাজধানীতেও।

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ ভুক্তভোগীরা জানান, যে সময় বাচ্চাদের পড়াইতে বসাব, ঠিক ওই সময়টাই কারেন্ট থাকতেছে না। দুই ঘণ্টার মতো থাকে না। কখনও সন্ধ্যার পরে যায়। আবার কখনও দশটা-এগারোটার পরে যায়। আবার ফ্রিজে সমস্যা হয়। মালপত্র নষ্ট হয়ে যায়। আইসক্রিম নষ্ট হয়ে যায়। আমরা, মধ্যবিত্ত, আমাদের তো জেনারেটর চালানোর মতো কোনো ক্ষমতা নাই। যেদিন দিনে বিদ্যুৎ যাচ্ছে, সেদিন হয়তো রাতে ঠিকঠাক আছে। আর যেদিন রাতে যাচ্ছে, সেদিন আবার দিনে।

পিডিবির তথ্য বলছে, গত মাস আগস্টের ১০ তারিখ রাত ১টায় লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট, যা এ বছরের সর্বোচ্চ। এর ঠিক এক মাস পর চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১০ তারিখে লোডশেডিং হয়েছে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের মতো। অবশ্য ওই দিনই এক ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আদানি পাওয়ারের সরবরাহ নেমেছিল অর্ধেকে।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কোনো কোনো দিন পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে এলএনজি সংকট, টার্মিনালে ত্রুটি, কয়লা ও তেল সংকট, আদানির সরবরাহ কমে যাওয়াসহ নানা কারণে বেড়েছে লোডশেডিংও। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদ্যুতের প্রকৃত চাহিদা দাঁড়িয়েছে আরও বেশি।

এ বিষয়ে আইইইএফএয়ের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, আমাদের পক্ষে ম্যানেজ করা খুবই কঠিন হবে। কারণ, বিদ্যুতের চাহিদা অলরেডি এ বছর ১৯ হাজার মেগাওয়াট প্লাস এবং সামার কিন্তু এক্সটেনডেড হচ্ছে। এখন গ্রীষ্মকালীন সময় বাড়ছে। আগের মতো না। সেপ্টেম্বর মাসে এখনও প্রচণ্ড গরম। তো এই জিনিসগুলোকেও বিবেচনায় নিতে হবে। লোডশেডিং হচ্ছে। অন্যদিকে, এলপিজির প্রাইস ভোলাটিলিটি, নানান বিষয় আছে। তো সবকিছু মিলিয়ে একটা সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন—সংকটের মুহূর্তে সরকারকে কমাতে হবে উৎপাদন ব্যয় ও সিস্টেম লস। আর আগামী বছরের জন্য পরিকল্পনা নিতে হবে দৃশ্যমান।

তবে পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বি. ডি. রহমতউল্লাহ বলেন, এই সরকারের কোনো প্ল্যান নাই। ফার্স্ট প্রায়োরিটি দেওয়া উচিত তাদের, যেসব পাওয়ার স্টেশন মিনিমাম মেইনটেন্যান্সে আমি চালু করতে পারব। কিন্তু সরকার চুপ করে বসে আছে। শুধু মুখে বলছে, আমরা ১০ হাজার মেগাওয়াট করব। কোন সময়ের ভিতর? ৩১ সালের ভিতর। এখন স্টার্ট করো না কেন? 

এছাড়া আগামী দিনে সংকট এড়াতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের। 

বিষয় : বিদ্যুৎ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

তীব্র গরমে দিনে-রাতে লোডশেডিং দেশজুড়ে চলছে। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, এবার জ্বালানি সংকটও রয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার বিপরীতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন না বাড়ালে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদ্যুতের চাহিদা যে হারে বাড়বে, সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে না। 

রাজধানীর বাড্ডা, খিলগাঁও, তেজগাঁও, মগবাজার, মোহাম্মদপুর ও শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, এসব এলাকায় দিনে-রাতে নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও।

প্রতি বছর তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দিতে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং করে শহর ও শিল্পাঞ্চলে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে সরকার। তবে এবার লোডশেডিং করতে হচ্ছে রাজধানীতেও।

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ ভুক্তভোগীরা জানান, যে সময় বাচ্চাদের পড়াইতে বসাব, ঠিক ওই সময়টাই কারেন্ট থাকতেছে না। দুই ঘণ্টার মতো থাকে না। কখনও সন্ধ্যার পরে যায়। আবার কখনও দশটা-এগারোটার পরে যায়। আবার ফ্রিজে সমস্যা হয়। মালপত্র নষ্ট হয়ে যায়। আইসক্রিম নষ্ট হয়ে যায়। আমরা, মধ্যবিত্ত, আমাদের তো জেনারেটর চালানোর মতো কোনো ক্ষমতা নাই। যেদিন দিনে বিদ্যুৎ যাচ্ছে, সেদিন হয়তো রাতে ঠিকঠাক আছে। আর যেদিন রাতে যাচ্ছে, সেদিন আবার দিনে।

পিডিবির তথ্য বলছে, গত মাস আগস্টের ১০ তারিখ রাত ১টায় লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট, যা এ বছরের সর্বোচ্চ। এর ঠিক এক মাস পর চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১০ তারিখে লোডশেডিং হয়েছে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের মতো। অবশ্য ওই দিনই এক ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আদানি পাওয়ারের সরবরাহ নেমেছিল অর্ধেকে।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কোনো কোনো দিন পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে এলএনজি সংকট, টার্মিনালে ত্রুটি, কয়লা ও তেল সংকট, আদানির সরবরাহ কমে যাওয়াসহ নানা কারণে বেড়েছে লোডশেডিংও। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদ্যুতের প্রকৃত চাহিদা দাঁড়িয়েছে আরও বেশি।

এ বিষয়ে আইইইএফএয়ের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, আমাদের পক্ষে ম্যানেজ করা খুবই কঠিন হবে। কারণ, বিদ্যুতের চাহিদা অলরেডি এ বছর ১৯ হাজার মেগাওয়াট প্লাস এবং সামার কিন্তু এক্সটেনডেড হচ্ছে। এখন গ্রীষ্মকালীন সময় বাড়ছে। আগের মতো না। সেপ্টেম্বর মাসে এখনও প্রচণ্ড গরম। তো এই জিনিসগুলোকেও বিবেচনায় নিতে হবে। লোডশেডিং হচ্ছে। অন্যদিকে, এলপিজির প্রাইস ভোলাটিলিটি, নানান বিষয় আছে। তো সবকিছু মিলিয়ে একটা সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন—সংকটের মুহূর্তে সরকারকে কমাতে হবে উৎপাদন ব্যয় ও সিস্টেম লস। আর আগামী বছরের জন্য পরিকল্পনা নিতে হবে দৃশ্যমান।

তবে পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বি. ডি. রহমতউল্লাহ বলেন, এই সরকারের কোনো প্ল্যান নাই। ফার্স্ট প্রায়োরিটি দেওয়া উচিত তাদের, যেসব পাওয়ার স্টেশন মিনিমাম মেইনটেন্যান্সে আমি চালু করতে পারব। কিন্তু সরকার চুপ করে বসে আছে। শুধু মুখে বলছে, আমরা ১০ হাজার মেগাওয়াট করব। কোন সময়ের ভিতর? ৩১ সালের ভিতর। এখন স্টার্ট করো না কেন? 

এছাড়া আগামী দিনে সংকট এড়াতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের। 


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream