ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতি, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং দলিল লেখকদের অযৌক্তিকভাবে বহিষ্কারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গৌরীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখকরা।
বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি, গৌরীপুর উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অভিযোগটি দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে গৌরীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত ৬১ জন দলিল লেখকের স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ রফিকুল ইসলাম ২০ অক্টোবর ২০২৪ সালে গৌরীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন ধরনের দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে তাঁর আস্থাভাজন অফিস মোহরা আমিনুল ইসলামের মাধ্যমে উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
দলিল লেখকদের অভিযোগ, দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় নামজারি, পর্চা, ওয়ারিশান সনদসহ অন্যান্য কাগজপত্র যথাযথ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন অজুহাতে দলিল আটকে রেখে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি করা হচ্ছে। এছাড়া দলিলের তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনযোগ্য করণিক ভুলের কারণেও দলিল লেখকদের বিরুদ্ধে লিখিত ও অলিখিতভাবে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সরকারি নির্ধারিত আনুষঙ্গিক ফি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের দলিলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ৩ লাখ টাকা মূল্যের একটি দলিলের জন্য ৩ হাজার ৪০০ টাকা এবং এর বেশি মূল্যের ক্ষেত্রে প্রতি লাখে অতিরিক্ত ৪০০ টাকা নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া পিতা-মাতা ও দাদা-দাদীর নামে বিএস/আরএস খতিয়ানের ভিত্তিতে দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে প্রতি দলিলে ৩ হাজার টাকা এবং দাতার একাধিক নামের ক্ষেত্রে ‘ওরফে’ ব্যবহার করলে প্রতি দলিলে আরও ৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
গৌরীপুর দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোলাম হাচিবেশ শাহীদ মুন্সী বলেন, “মোঃ রফিকুল ইসলাম সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগদানের পর থেকেই দলিল করতে গিয়ে দলিল লেখক ও সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নির্দিষ্ট পরিমাণ অনৈতিক সুবিধা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে জমি রেজিস্ট্রি করতে অনাবশ্যক বিলম্ব করা হয় এবং দলিল লেখকদের অযথাই বহিষ্কার করা হয়।”
তিনি অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে অফিস মোহরা আমিনুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “দলিলের ক্ষেত্রে রাজস্ব খাতের বাইরে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে কেউ প্রোপাগান্ডা ছড়ালে কিছুই করার নেই।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
দলিল লেখকদের দাবি, এসব কারণে সাধারণ মানুষ জমি কেনাবেচা ও দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আদায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগকারীরা বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো অভিযোগকারীদের বক্তব্য ও লিখিত অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে উত্থাপিত হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন।
মতামত