রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

আইন ও আদালত

সিলেটে জঙ্গল থেকে বিদেশি বন্দুক ও গুলি উদ্ধার

সিলেটে জঙ্গল থেকে বিদেশি বন্দুক ও গুলি উদ্ধার

সিলেটের জৈন্তাপুরে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি দোনলা বন্দুক ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯। উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের মধ্যে চার রাউন্ড রাবার কার্তুজ ও দুই রাউন্ড রাইফেলের গুলি রয়েছে।এসআরবি-৯,সিপিএসসি,সিলেটের একটি আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জৈন্তাপুর থানার হরিপুর বাজারের হাউদপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। সিলেট-জাফলং মহাসড়কের পশ্চিম পাশে একটি জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি।এসআরবি সূত্র জানায়,হরিপুর এলাকায় সক্রিয় চোরাকারবারি ও সংঘবদ্ধ চোরাচালানকারীদের বিভিন্ন ধরনের অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহারের বিষয়ে আগে থেকেই তথ্য রয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিদেশি দোনলা বন্দুক এবং বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট থানা থেকে লুট হওয়া চার রাউন্ড রাবার কার্তুজ ও দুই রাউন্ড রাইফেলের গুলির সঙ্গে ওই চক্রের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না,তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎস, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং হরিপুরে সক্রিয় চোরাকারবারি চক্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র শনাক্তে গোয়েন্দা অনুসন্ধান ও তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে চোরাকারবারিদের কাছে থাকা অন্যান্য অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং গত ৫ আগস্ট থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উদ্ধার করা আলামতগুলো জিডিমূলে জৈন্তাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।এসআরবি-৯,সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

ছাতকে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি,৭০ হাজার টাকা জরিমানা

সুনামগঞ্জের ছাতকে নকল,অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির দায়ে তিন ব্যবসায়ীকে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ছাতক থানার মধ্যবাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।এসআরবি-৯,সিপিসি-৩,সুনামগঞ্জ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর,সুনামগঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। এ সময় নকল, অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন,২০০৯-এর ৩৭, ৪৫ ও ৫১ ধারায় তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়।জরিমানাপ্রাপ্তদের মধ্যে বড় মিয়া ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিককে ৪০ হাজার টাকা,লোকনাথ এন্টারপ্রাইজের মালিককে ১০ হাজার টাকা এবং শ্যাম সুন্দর কুন্ড স্টোরের মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।এসআরবি-৯,সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে এসআরবি-৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ছাতকে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি,৭০ হাজার টাকা জরিমানা

রূপগঞ্জে নিবন্ধন ব্যাতিত মাংস বিক্রয়ের অপরাধে ৬ মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা

"পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১১" অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিবন্ধন ব্যাতিত মাংস বিক্রয়ের অপরাধে ৬ মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। শুক্রবার সকালে উপজেলার ভুলতা এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে অভিযানে নেতৃত্ব দেন,  রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ মারজানুর রহমান। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন,  উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: সজল কুমার দাসসহ আরো অনেকে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: সজল কুমার দাস বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাংস বিক্রেতারা কোন প্রকার নিয়ম নীতি না মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন বলে আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে।  আজকে আপাতত ভুলতা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি।  "পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১১" অনুযায়ী নিবন্ধন ব্যাতিত মাংস বিক্রয়ের অপরাধে ৬ জনকে ৫ হাজার  টাকা করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। 

রূপগঞ্জে নিবন্ধন ব্যাতিত মাংস বিক্রয়ের অপরাধে ৬ মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা

শ্রীমঙ্গলে ৯ প্রতিষ্ঠানে ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা

পর্যটননগরী শ্রীমঙ্গলকে পরিচ্ছন্ন,ফুটপাত দখলমুক্ত ও যানজটমুক্ত রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌর এলাকার ব্যস্ততম স্টেশন রোড ও হবিগঞ্জ রোডে এ অভিযান চালানো হয়। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এ সময় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।অভিযানে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা এবং পথচারীদের চলাচলে বাধা দেওয়ার দায়ে আটটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন,২০০৯’ অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার টাকা করে মোট ১৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যসামগ্রী উৎপাদনের দায়ে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনায় অবস্থিত শ্যামা সুইটমিট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে নয়টি প্রতিষ্ঠানকে ৩৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান বলেন,শ্রীমঙ্গল দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। শহরকে যানজটমুক্ত, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক রাখতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে একটি বাসযোগ্য ও সুন্দর শহর গড়ে তুলতে ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের সচেতনতা এবং আইন মেনে চলা জরুরি।জনস্বার্থ ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।

শ্রীমঙ্গলে ৯ প্রতিষ্ঠানে ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা

নাশকতার মামলায় নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা খায়রুল কবির রুমেন কারাগারে

সুনামগঞ্জে জনমনে অশান্তি সৃষ্টি ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ও সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ড. খায়রুল কবির রুমেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে খায়রুল কবির রুমেনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে সুনামগঞ্জের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জনমনে অশান্তি সৃষ্টি এবং নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোপর্দ করা হলে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফ উল্লাহ বলেন, সুনির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে এবং নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে খায়রুল কবির রুমেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।##

নাশকতার মামলায় নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা খায়রুল কবির রুমেন কারাগারে

মানিকগঞ্জে আবারও ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির দায়ে ৯ জনকে কারাদণ্ড

মানিকগঞ্জে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রক্রিয়াজাত করার অভিযোগে ৯ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর এলাকার একটি পরিত্যক্ত গোডাউনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৩টি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রক্রিয়াজাত করার সময় মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে নয় জনকে আটক করা হয়। পরে আজ বুধবার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)ও এক্সুকেটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিক্তা খাতুনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে এক বছর এবং বাকি আটজনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মানিকগঞ্জ সদরের পূর্ব দাশড়া এলাকার লুৎফর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান, গাজীপুরের দিঘিরচালা এলাকার কালো মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম খলিল, ঢাকার বাড্ডা এলাকার নেয়ামতুল্লাহর ছেলে মাসুদ জানা, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী এলাকার আদম আলীর ছেলে হুমায়ুন কবির, ঢাকার বড় বেরাত এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মারুফ, গাজীপুরের তেলিপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে রুবেল, জামালপুরের তুলসীপুর এলাকার জিল হাফেজের ছেলে সোহেল রানা, ঢাকার বাড্ডা এলাকার নিয়ামত মিয়ার ছেলে ইমন হাসান এবং একই এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে তুহিন। জানা যায়, সিংগাইর উপজেলার হিরু নামের এক ব্যক্তি ওই নয়জনকে ভাড়া করে ঘোড়া জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করার জন্য চুক্তি করে ছিলেন। প্রক্রিয়াজাত করা মাংস ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন হোটেলে পাঠানোর উদ্দেশ্যে ঘোড়া জবাই করা হয়।এবিষয়ে, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনির হোসেন জানান, পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ৪ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে তাদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সুকেটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিতা খাতুন বলেন,অবৈধভাবে নিষিদ্ধ ঘোড়া জবাই ও মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রক্রিয়াজাত করার কারনে নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এই অভিযান নিয়মিত চলবে।

মানিকগঞ্জে আবারও ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির দায়ে ৯ জনকে কারাদণ্ড

শ্রীমঙ্গলে ৩২ হাজার বিদেশি সিগারেট জব্দ,গ্রেপ্তার ১

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৩২ হাজার শলাকা বিদেশি সিগারেটসহ জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় সিগারেট পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর হোসেন কমলগঞ্জ উপজেলার শিংরাউলী ঈদগাঁ টিলা এলাকার মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়,মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শ্রীমঙ্গল থানার একটি বিশেষ অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে,একটি প্রাইভেটকারে করে বিদেশি সিগারেট উপজেলার নারায়ণছড়া এলাকায় নেওয়া হচ্ছে। পরে পুলিশ শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫ নম্বর কালাপুর ইউনিয়নের নারায়ণছড়া এলাকায় মাইজদিহি চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ইটসলিং সড়কে অবস্থান নেয়।একপর্যায়ে সন্দেহভাজন প্রাইভেটকারটি সেখানে পৌঁছালে পুলিশ সংকেত দিয়ে গাড়িটি থামায়। এ সময় গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে জাহাঙ্গীর হোসেনকে আটক করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পেছনের যাত্রী আসনের নিচ থেকে পলিথিনে মোড়ানো আট কার্টন ORIS ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়,আট কার্টনে মোট ৩২ হাজার শলাকা সিগারেট ছিল। এ ছাড়া সিগারেট পরিবহনে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-গ-১২-৭৭৭৭ নম্বরের হালকা সবুজ রঙের একটি পুরোনো প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে।জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর হোসেন শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারত থেকে এসব সিগারেট বাংলাদেশে আনার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলে ৩২ হাজার বিদেশি সিগারেট জব্দ,গ্রেপ্তার ১

লালমনিরহাটে বাক-প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ আসামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

বাক্‌প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ মামলার আসামী শহিদুল ইসলাম কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামি শহিদুল ইসলাম লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার নবিয়ার রহমানের ছেলে।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে লালমনিরহাটের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯ (১) ধারায় এ রায় ঘোষণা করেন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট শহিদুল ইসলাম তার লালম‌নিরহাট জেলার হা‌তিবান্ধা উপ‌জেলায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। এ সময় বাড়ি ফাঁকা পেয়ে মোবাইলে ছবি দেখানোর কথা বলে তৃতীয় শ্রেণির ওই বাক্‌প্রতিবন্ধী শিশুকে সেখানে নিয়ে ধর্ষণ করেন।পরে শিশুটি বিবস্ত্র অবস্থায় দৌড়ে বাড়িতে ফিরে আসে। তার মা বিষয়টি জানতে চাইলে শিশুটি ইশারায় শহিদুলের নাম জানায়। পরে শিশুটির বাবা রশিদুল ইসলাম হাতীবান্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন।

লালমনিরহাটে বাক-প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ আসামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কাপাসিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় মাদক সেবন করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগে মোঃ রিয়াজুল ইসলাম (২১) নামের এক যুবককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকালে কাপাসিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদুল হক এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রিয়াজুল ইসলাম উপজেলার কাপাসিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার আবু হানিফের ছেলে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিয়াজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন করে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোসহ নানা ধরনের জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে আসছিলেন। বুধবার সকালে নিজ এলাকায় মাদক সেবনকালে স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং পুলিশে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদুল হক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে রিয়াজুলকে পনেরো দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং দুইশত টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদুল হক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

কাপাসিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড

মৌলভীবাজারে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় পলাতক 'কবির' গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এজাহারনামীয় পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯।গ্রেপ্তার আসামি হলেন কবির (৩০)। তিনি একই জেলার রাজনগর উপজেলার গাঙ্গপাড় হাসপাতালের পেছন এলাকার উকিল মিয়ার ছেলে।এসআরবি-৯ এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর এলাকার একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রায় তিন থেকে চার মাস আগে জাহেদ আহমেদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাহেদের প্ররোচনায় ওই কিশোরী বাড়ি থেকে বের হয়ে মৌলভীবাজার শহরে যায়।পরে জাহেদ তাকে ফুসলিয়ে রাজু আহমেদ ও জুবেল মিয়ার সহযোগিতায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কমলগঞ্জের জুবেলের বাড়িতে নিয়ে যায় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে রাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন সকালে তাকে জাহেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে আরও কয়েকজন তাকে ধর্ষণ করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।পরে কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিএনজিতে করে কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের কালি মন্দির থেকে বড়চেগগামী সড়কে নামিয়ে দিয়ে আসামিরা চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর কমলগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০-এর ৯(৩)/৭ ধারায় মামলা করেন।মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে এসআরবি-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৯,সিপিসি-২,শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজারের একটি দল মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে রাজনগর উপজেলার দক্ষিণ খারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে কবিরকে গ্রেপ্তার করে।এসআরবি-৯,সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।গ্রেপ্তার কবিরকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমলগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

মৌলভীবাজারে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় পলাতক 'কবির' গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ‘বিপ্লব’ হত্যা মামলায় আসামি গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিপ্লব পাশী (৩২) হত্যা মামলায় শাওন পাশী (৪৩) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯।গ্রেপ্তার শাওন পাশী উপজেলার ভূরভুরিয়া চা বাগান এলাকার বর্দি প্রসাদ পাশীর ছেলে। তিনি মামলার এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি।এসআরবি-৯,সিপিসি-২,শ্রীমঙ্গল সূত্রে জানা গেছে,গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিপ্লব পাশী মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেন এবং তাঁর মা ও ভাই বিজয় পাশীকে মারধরের জন্য তেড়ে যান।এ সময় বিজয় পাশী বিপ্লবের হাতে থাকা একটি কাঠের বর্গা কেড়ে নিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। এতে বিপ্লব গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।এসআরবি-৯-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরে বিপ্লবের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। অভিযোগ রয়েছে,তাঁর কাকা (চাচা) শাওন পাশীর প্ররোচনায় পরিবারের সদস্যরা গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে সৎকার করেন।এ ঘটনায় বিপ্লবের মা বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা করেন। মামলাটি ২১ সেপ্টেম্বর দায়ের করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে এসআরবি-৯ ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটের দিকে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ভানুগাছ রোড রেলগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাওন পাশীকে গ্রেপ্তার করা হয়।পরে গ্রেপ্তার শাওন পাশীকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।এসআরবি-৯,সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ‘বিপ্লব’ হত্যা মামলায় আসামি গ্রেপ্তার

১৮০ দিনের বিচারের সময়সীমা পেরোলেও নারী-শিশু নির্যাতন মামলা চলমান থাকবে

নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় বিচার শেষ না হলেও মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল হবে না বলে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, আইনে নির্ধারিত ১৮০ দিনের সময়সীমা বাধ্যতামূলক নয়, বরং নির্দেশনামূলক। ফলে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও শুধু এ কারণে কোনো মামলার বিচারপ্রক্রিয়া অকার্যকর হবে না।মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে পাভেল বনাম রাষ্ট্র মামলায় এ রায় দেন হাইকোর্ট। ইডেন কলেজের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে ২০২৩ সালের ৭ জুন রায় দেন বিচারপতি কে. এম. কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ। সম্প্রতি রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।রায়ে আদালত বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২০ ও ৩১ক ধারা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে না পারার কারণে কোনো মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করার বিধান নেই। তাই এ সময়সীমা পার হয়ে গেলেই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর হয়ে যাবে না।আদালত আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার বিচার ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের জন্য একটি নির্দেশনা। তবে ওই সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না হলে মামলার বিচার বন্ধ বা বাতিল হওয়ার মতো কোনো আইনগত পরিণতি আইনে নির্ধারিত নেই।প্রকাশিত রায়ের বিবরণে জানা যায়, কলেজে যাওয়া-আসার সূত্রে আসামি পাভেলের সঙ্গে ইডেন কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ২০ বছর বয়সী এক ছাত্রীর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। ২০০৭ সালের ৮ জুলাই পাভেলের সঙ্গে একটি বাসায় যাওয়ার পর বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে পাভেল ওই শিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণ করলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো হয়।ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর শ্যামপুর থানায় পাভেলসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর মা। তদন্ত শেষে পুলিশ আসামি মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে পাভেলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার ১-নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয় এবং ২০০৮ সালের ২৩ জুলাই আদালত আসামি পাভেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ অস্বীকার করেন পাভেল।পরবর্তীতে আসামি পাভেল ২০১১ সালের ৮ মে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে দাবি করে বলেন, বিচারের জন্য এই মামলার নথি ২০০৮ সালের ১৩ জুলাই ট্রাইব্যুনালে নথিভুক্ত হওয়ার পরও নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ হয়নি। নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, ২০০০-এর ২০ ধারা অনুযায়ী মামলা গ্রহণের ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।পাভেলের দাবি, বিচারে জন্য মামলাটির নথি ২০০৮ সালের ১৩ জুলাই তারিখে ট্রাইব্যুনালে গৃহীত হয়, কিন্তু ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি তারিখের ৩৪ নম্বর আদেশ থেকে দেখা যায় যে, মামলাটির কার্যক্রম এখনও (২০১১ সালের ৮ মে) ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। যা ২০০০ সালের আইনের ৩১ক ধারার লঙ্ঘন।এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে বিচার শেষ না হলে আইনের ৩১ক ধারা অনুযায়ী বিচার শেষ না হওয়ার কারণ উল্লেখ করে ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল, পাবলিক প্রসিকিউটর ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট ও সরকারের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। পাভেলের দাবি, আইন লঙ্ঘন করে বিচার কার্যক্রম চলতে পারে না। পাভেল বিচার স্থগিতের জন্য আবেদন করলে হাইকোর্ট মামলার বিচারিক কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করে এবং পরে সময়ে সময়ে তা বর্ধিত করা হয়।পরবর্তীতে হাইকোর্ট উভয়পক্ষের যুক্তি পর্যালোচনা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২০ ও ৩১ক ধারা বিশ্লেষণ করে আসামি পাভেলের রিটের প্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে ২০২৩ সালের ৭ জুন রায় দেন।উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট রুলটি খারিজ করেন। আদালত বলেন, মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকার যে দাবি রিটে করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। রায়ে আদালত আরও উল্লেখ করেন, রিটকারী ২০১০ সালের ৭ নভেম্বরের পরবর্তী আদেশগুলো গোপন করেছেন, যা আদালতের কাছে অসৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।আদালত বলেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করার পক্ষে যে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে, তা রিটকারীর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয় নয়। কারণ এ বিষয়ে রিটকারীর পক্ষে কোনো আইনগত অধিকার সৃষ্টি হয়নি।সার্বিক তথ্য-প্রমাণ, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও আইনের বিধান বিবেচনায় রুলের কোনো সারবত্তা নেই উল্লেখ করে হাইকোর্ট তা খারিজ করেন। একই সঙ্গে আগে দেওয়া মামলার বিচারিক কার্যক্রমের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও বাতিল করা হয়।আদালতে পাভেলের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম. এইচ. রশীদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান (জামান) ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. শফিকুজ্জামান (রানা)। রায়ের মূল অংশ লিখেছেন বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী।

১৮০ দিনের বিচারের সময়সীমা পেরোলেও নারী-শিশু নির্যাতন মামলা চলমান থাকবে

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ আলী পোদ্দার রতনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ফুলবাড়ী থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে ফুলবাড়ী থানায় নেওয়া হয়।ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ হাসান নাইম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় আহম্মদ আলী পোদ্দার রতনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে থানায় নেওয়া হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় গত ১২ আগস্ট ফুলবাড়ী থানায় মামলাটি করা হয়। মামলার এফআইআর নম্বর-১৫ এবং জিআর নম্বর-১৫০। ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে আহম্মদ আলী পোদ্দার রতনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।পুলিশের ভাষ্য, গত আগস্ট মাসে ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।আহম্মদ আলী পোদ্দার রতন ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়।তবে মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আহম্মদ আলী পোদ্দার রতন কিংবা তাঁর আইনজীবীর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মামলায় করা অভিযোগের সত্যতা এবং তাঁর দায়-দায়িত্বের বিষয়টি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

দিনাজপুরে শিশু রুহি হত্যা লাশ গুমের ঘটনায় মা ও কথিত প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩

দিনাজপুরের জামতলী বাজার এলাকায় চার বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহি হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আট ঘন্টা অভিযান চালিয়ে শিশুর রুহির বস্তাবন্দী অর্ধ গলিত লাশ ও হাড় কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ।গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন—রিপন টুডু (৩৫) ও সুজন টুডু (২০)। এর মধ্যে রিপন টুডুকে এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।গ্রেপ্তার রিপন টুডুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার সকালে জামতলী এলাকার একটি নারকেল বাহান থেকে শিশু রুহির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সোমবার রাতে রিপন টুডুকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও শিশুটির সন্ধান পায়নি পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য পুনরায় যাচাই করে মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রিপন টুডু দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের জামতলী বাজারসংলগ্ন এলাকার নেপাল টুডুর ছেলে। সুজন টুডু একই এলাকার বাসিন্দা এবং রিপন টুডুর ভাতিজির জামাতা বলে পুলিশ জানিয়েছে। শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগম সদর উপজেলার নশিপুর গ্রামের জমশেদ আলীর মেয়ে।তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জিন্নাতুন বেগমের সঙ্গে রিপন টুডুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। জিন্নাতুনের আগের সংসারে চার বছর বয়সী মেয়ে রাকিবা আক্তার রুহি ছিল। আদিবাসী রিপন টুডুর সাথে জিন্নাতুন এর প্রেমের সম্পর্ক থাকায়। গত ছয় মাস পূর্বে জিন্নাতুন তার মেয়েকে নিয়ে রিপন টুডুর বাড়িতে বসবাস শুরু করে। শিশু রুহিকে নিয়ে রিপন টুডু ও জিন্নাতুনের মধ্যে বিভিন্ন সময় বিরোধ সৃষ্টি হতো।  গত ৫ জুন রাতে কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে রিপন টুডুর সঙ্গে শিশু রুহির কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিশুটির ওপর নির্যাতন করে রিপন টুডু। সাথে যুক্ত হয় জিন্নাতুন বেগম। শিশু রুহি কান্নাকাটি শুরু করলে শিশুটির গলা ও মুখ ওড়না দিয়ে চিপে ধরে। একপর্যায়ে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে গেলে এক পর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পরে রাতেই রিপন টুডু মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সুজন টুডুকে ডেকে আনে।এরপর শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের নারকেল বাগানে  ৬ ফুট গর্ত করে বস্তার মধ্যে ঢুকিয়ে মাটিচাপা দেয়া সুজন টুডু আর রিপন টুডু।ঘটনাটি আড়াল করতে ওই স্থানের আশপাশে অন্য একটি গর্ত করে সেখানে একটি কুকুরের মরদেহ পুঁতে রাখে রিপন টুডু ।রিপন টুডুকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার রাতে তাকে সঙ্গে নিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে অভিযানে নামে দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জামতলী বাজারসংলগ্ন আমবাগান, হলুদখেত ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর তল্লাশি চালানো হয়।অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন কয়েকটি স্থানে মাটি খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি।পরে গ্রেপ্তার রিপন টুডুর দেওয়া তথ্য পুনরায় যাচাই করে মঙ্গলবার সকালে দ্বিতীয় দফায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে জামতলী এলাকার একটি নির্জন ও নারকেল বাগাের নির্দিষ্ট স্থান শনাক্ত করা হয়। সেখান থেকে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।মরদেহ উদ্ধারের সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহাদাত হোসেন, দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিমসহ সাদা পোশাক ও পোশাকধারী পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গ্রেপ্তার রিপন টুডুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে শিশু রুহির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রিপন টুডু ও শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সুজন টুডুকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।এদিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে জামতলী এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। উল্লেখ্য যে, গ্রেপ্তারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ এর আগে শিশু রুহির সন্ধান এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গত রোববার জামতলী বাজার এলাকায় বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। 

দিনাজপুরে শিশু রুহি হত্যা লাশ গুমের ঘটনায় মা ও কথিত প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩

আদালতের কাঠগড়ায় যা বললেন এমপি গাজী নজরুল

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়েরকৃত আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় গ্রেফতার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি দাবি করেন, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) আত্মহত্যার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না এবং এই প্ররোচনার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানিকালে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন।শুনানিকালে আদালতের কাঠগড়ায় সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে বেশ স্বাভাবিক দেখা যায় এবং তাঁরা নিজেদের মধ্যে নিচু স্বরে কথা বলছিলেন। মরিয়ম কেন আত্মহত্যা করেছেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই সংসদ সদস্য জানান, এই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।বেলা তিনটায় শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডের পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।এর আগে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তরুণী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।ঘটনার পর নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা দায়ের করেন। এতে সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর রাতে সাবেক এমপি ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ।

আদালতের কাঠগড়ায় যা বললেন এমপি গাজী নজরুল

জয়পুরহাটে চাঞ্চল্যকর সাজেদা হত্যা মামলা: ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জয়পুরহাট শহরের জানিয়ার বাগান এলাকায় চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ সাজেদা ইসলাম সাজু (৩৭) হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে জয়পুরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক খন্দকার হাসিবুল হাসান এই রায় ঘোষণা করেন।আদালত সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাট শহরের জানিয়ার বাগান এলাকায় পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক কলহের জের ধরে গৃহবধূ সাজেদা ইসলাম সাজুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।মামলার শুনানি চলাকালে দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ, রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক এবং প্রদর্শিত আলামত পর্যালোচনা শেষে বিজ্ঞ বিচারক দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের কড়া নিরাপত্তায় জয়পুরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জয়পুরহাটে চাঞ্চল্যকর সাজেদা হত্যা মামলা: ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream