মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে হাতেনাতে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পৃথক দুটি মামলায় তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত উপজেলার উদনা ছড়া,লাংলিয়া ছড়া ও ডিংডিংগিয়া ছড়ার গোলগাঁও,সিক্কা ও খারিজ্জমা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়,অভিযানের খবর যাতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতরা আগেভাগে জানতে না পারেন, সে জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পৃথক একটি দলকে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে নজরদারির জন্য পাঠানো হয়। তবে কয়েকজন বালু উত্তোলনকারী অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে ছড়ার অপর পাড় দিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে সাইটুলা গ্রামের ডিংডিংগিয়া ছড়ায় অভিযান চালানোর সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনরত অবস্থায় সিপেন কুর্মী (২৮) ও বিশ্বনাথ কুর্মী (২৬) নামের দুজনকে আটক করা হয়। সিপেন কুর্মী দক্ষিণ সাইটুলা এলাকার বলরাম কুর্মীর ছেলে এবং বিশ্বনাথ কুর্মী একই এলাকার কুশল কুর্মীর ছেলে।
আটক দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে উভয় মামলায় তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম বলেন,অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ছড়া ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ,তীরবর্তী এলাকা এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন,অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে। গত তিন মাসে এ ঘটনায় তিনটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে, যেগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
প্রশাসন জানিয়েছে,অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।
মতামত