ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছরের বেশি সময় পরও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের সম্পদ ও অর্থ লেনদেন নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশে থাকা তার বিভিন্ন সম্পত্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত যে আয় হচ্ছে, সেই অর্থের বড় একটি অংশ অবৈধ পথে ভারতে পাঠানো হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশাল নগরীর বটতলা এলাকায় নানকের নামে-বেনামে শত কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। রাজধানীর উত্তরায় ছয়তলা ও মোহাম্মদপুরে আটতলা ভবন ছাড়াও বরিশাল শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার একাধিক বাড়ি ও স্থাপনা রয়েছে।
রুপাতলী, মতাসার, সার্কুলার রোড ও করিম কুটির এলাকায় থাকা এসব সম্পত্তি থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বরিশালের নথুল্লাবাদে নানক দম্পতির মালিকানাধীন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও আয় হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরকার পতনের পর এসব সম্পত্তিতে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরিশালের বাড়িগুলো স্বাভাবিকভাবেই ব্যবহৃত হচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমও আগের মতো চলছে।
২০০৮ সালের নির্বাচনী হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর নামে ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন নানক। ২০২৪ সালের নির্বাচনে সেই সম্পদের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১৯ কোটি টাকা দেখানো হয়।
তবে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। কারণ হলফনামায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টির উল্লেখ এবং এর আয়-ব্যয়ের হিসাব পাওয়া যায়নি। একইভাবে বরিশালের প্রবেশপথে থাকা আট একর জমির তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সম্পত্তি থেকে পাওয়া ভাড়া ও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক আয়ের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হচ্ছে। এ কাজে বরিশালের দুই ব্যবসায়ী জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের একজন হোটেল ব্যবসার সঙ্গে এবং অন্যজন স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ঢাকার সম্পত্তি থেকে পাওয়া অর্থ ভিন্ন একটি প্রক্রিয়ায় বেনাপোল সীমান্তের একটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাঠানো হয় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হওয়ার পর তা রুপিতে ভারতে পৌঁছায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি নানকের এক নিকটাত্মীয় তদারক করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নানকের পরিচিত নম্বরগুলোতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
মতামত