চাঁদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একক মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ ইঙ্গিত করে এক বিতর্কিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই পোস্ট কেন্দ্র করে বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন করে তুমুল আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইন অনুযায়ী ট্রাম্পের এই দাবির কোনো আইনি ভিত্তি বা বাস্তবায়নযোগ্যতা নেই।
গত ৬ সেপ্টেম্বর (২০২৬) ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ মার্কিন পতাকার পাশে ‘দ্য মুন ইজ আওয়ার্স’ (চাঁদ আমাদের) লেখা একটি ছবি পোস্ট করেন। পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে—যুক্তরাষ্ট্র কি আনুষ্ঠানিকভাবে চাঁদকে নিজেদের ভূখণ্ড ঘোষণা করল?
ফ্যাক্টচেক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ট্রাম্পের পোস্টটি প্রকৃত হলেও এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাহী আদেশ বা আইনি ঘোষণা নেই।
১৯৬৭ সালের জাতিসংঘের বহিঃমহাকাশ চুক্তি (Outer Space Treaty)-এর ২ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে—চাঁদ বা মহাবিশ্বের অন্য কোনো বস্তু সার্বভৌমত্ব দাবি, ব্যবহার, দখল বা অন্য কোনো উপায়ে কোনো দেশ নিজের একক অধিকারভুক্ত করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র এই আন্তর্জাতিক চুক্তির অন্যতম প্রধান স্বাক্ষরকারী ও প্রতিষ্ঠাতা দেশ।
জাতিসংঘের মহাকাশবিষয়ক দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বার্তা আন্তর্জাতিক চুক্তির আইনি কাঠামো পরিবর্তন করতে পারে না।
চাঁদে সফলভাবে যান পাঠানো ভারত, চীন, রাশিয়া ও জাপানও আউটার স্পেস ট্রিটির অংশীদার। ফলে ট্রাম্পের এই বার্তার আন্তর্জাতিক আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পোস্টটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের উদ্যোগ নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের আক্রমণাত্মক মহাকাশ নীতির একটি রাজনৈতিক প্রতিফলন। ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প প্রশাসন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে স্থায়ী মার্কিন ঘাঁটি (Outpost) প্রতিষ্ঠা ও পারমাণবিক চুল্লি পাঠানোর লক্ষ্য চূড়ান্ত করে।
ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদ থেকেই মহাকাশকে কেবল ‘সকলের জন্য উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক সম্পদ’ হিসেবে দেখার পরিবর্তে মার্কিন জাতীয় স্বার্থ ও মহাকাশ সম্পদের ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জোর নীতি গ্রহণ করেছিলেন।
তবে মূল কথা হলো—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক অবস্থান উপস্থাপন করা আর আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে চাঁদের ভূখণ্ড দাবি করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বিদ্যমান আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইন ও বৈশ্বিক কাঠামোর অধীনে চাঁদ কোনো একক দেশের সার্বভৌম ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত নয় এবং হওয়ার সুযোগও নেই।
মতামত