নিজের দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার বিদেশেও খাদ্য ও জীবনযাত্রার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠল উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে। কানাডায় প্রতিবেশীর গরুর মাংসের বারবিকিউ করাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ডেকে উল্টো বিপাকে পড়েছেন এক প্রবাসী ভারতীয় নারী। পুলিশকে ডেকে নিজের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ জানালেও শেষ পর্যন্ত উল্টো ওই নারীর বিরুদ্ধে হয়রানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ এনে তাকেই হাতকড়া পরিয়ে কারাগারে নিয়ে গেছে স্থানীয় পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন ওই নারী তার এক খ্রিস্টান প্রতিবেশী বাড়ির উঠানে গরুর মাংস দিয়ে বারবিকিউ করতে দেখে কানাডিয়ান পুলিশকে ফোন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগ শোনেন যে, প্রতিবেশীর গরুর মাংস রান্না তার ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানছে।
তবে বাকস্বাধীনতার দেশ কানাডায় এই হাস্যকর যুক্তি টিকেনি। পুলিশ উল্টো যাচাই করে দেখে যে, ওই প্রতিবেশী নিজের বাসায় সম্পূর্ণ আইনসম্মতভাবেই খাবার প্রস্তুত করছেন এবং এতে কোনো অপরাধ বা আইন লঙ্ঘন হয়নি। বরং প্রতিবেশীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং মিথ্যা অভিযোগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে পুলিশ ওই নারীকেই আটক করে। হাতকড়া পরিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অনেকেই বলছেন, নিজ দেশের উগ্র ও অসহিষ্ণু পরিবেশকে যারা বিদেশেও টেনে নিয়ে যেতে চান, এটি তাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা। অন্যের খাদ্যাভ্যাস ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের এই চেষ্টাকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
মতামত