রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রামে গোলাম আযমের বই উপহার দিয়েছে শাখা ছাত্রশিবির। গোলাম আযমের লেখা 'মনকে কাজ দিন' বইটি শিক্ষার্থীদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ ও ক্রিয়াশীল সংগঠনের নেতারা সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ নবীন বরণের নামে চিহ্নিত রাজাকারদের সাধারণীকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নবীন শিক্ষার্থী বলেন, ‘শিবির যে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের বরণ করে নিয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে উপহার সামগ্রীর মধ্যে তারা যে একাত্তরের চিহ্নিত রাজাকার গোলাম আযমের লেখা বই আমাদের দিয়েছে তা নিন্দনীয়।’
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর যাবত একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের নর্মালাইজেশনের প্রক্রিয়া চলছে। শিবিরের নবীনবরণে মাথাপিছু সহস্রাধিক টাকা খরচ হয়েছে। এটা কোনো শিক্ষার্থী সুলভ সংগঠনের কর্মকাণ্ড নয়। এখানে যে দেশি বিদেশি বাংলাদেশ বিরোধী শক্তির বিনিয়োগ নেই তার নিশ্চয়তা কি? একটা হস্তক্ষেপ মুক্ত রাজনৈতিক অঙ্গন আমরা চাই, তবে দেশবিরোধী এজেন্ডার বাস্তবয়নের বেলায় তদারকি জরুরি।’
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘নবীন বরণ আয়োজনের আড়ালে নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ রাজনৈতিক মতাদর্শের বই তুলে দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে গোলাম আযম, যিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতার কারণে ইতিহাসে চিহ্নিত, তার লেখা বই নবীনদের হাতে তুলে দেওয়া কোনোভাবেই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানচর্চার আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
তবে বিষয়টি নিয়ে এখনই কথা বলতে চাচ্ছেন না শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল। তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে আমরা এখন কথা বলতে চাচ্ছি না। যখন এটা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হবে তখন আমরা এটার ক্লিয়ারেন্স দিবো। যত সময় বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে না তত সময় এটা নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন বোধ করতেছি না।’
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয় শাখা ছাত্রশিবির। শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। এছাড়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম (এমপি)।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নূরুল ইসলাম বুলবুল (এমপি), ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (এমপি)। এছাড়া শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের সভাপতিত্বে শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মতামত