বর্তমান সরকার দলীয়করণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার সমস্ত সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও সরকারি করপোরেশনগুলোতে দলীয় লোকদের বসানো হচ্ছে।
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শাখা শিবির আয়োজিত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রিয় বাংলা, জন্মভূমি বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। কিন্তু এ দেশের মানুষ আজ পর্যন্ত স্বাধীনভাবে সবকিছু করার সুযোগ পায়নি। আমাদের আন্দোলন ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অসভ্যতার বিরুদ্ধে এবং দলীয়করণের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমরা এখন কী দেখছি? যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তাঁরা কি সেই প্রতিশ্রুতি পালন করছেন।
তিনি বলেন, ‘মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন করা হয়েছে। অথচ তাঁরা বলেছিলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তাঁদের পরিবর্তন করা হবে না। তাঁরা আরও বলেছিলেন, সব ক্ষেত্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। কিন্তু এখন সমস্ত সিটি করপোরেশনে দলীয় লোকদের বসানো হয়েছে, জেলা পরিষদে দলীয় লোকদের বসানো হয়েছে, সরকারি করপোরেশনগুলোতেও দলীয় লোকদের বসানো হচ্ছে। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে তো এমন প্রতিশ্রুতি ছিল না।’
জামায়াত নেতা রফিকুল বলেন, ‘তাঁরা গণভোটের রায়ের কথা বলছেন। প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা সেই রায় মানছেন না। সংসদে একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী বলছেন, তাঁরা নির্বাচন আদায়ের জন্য ‘না’ ভোট চাননি। তার মানে ‘না’ ভোট দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই তাঁদের ছিল না। কিন্তু তাঁরা গণভোটে ‘না’ বলছেন।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা বলেছি গুমের বিরুদ্ধে যাঁদের অভিযোগ থাকবে, সেই সংস্থা সেই অভিযোগের তদন্ত করতে পারবে না। কিন্তু সেটি পরিবর্তন করে পুলিশ গুম করবে, খুন করবে এবং সেই অভিযোগের তদন্তও করবে পুলিশ। আবার সেখানে বলা হয়েছে, কোনো অভিযোগকারী যদি তাঁর অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে তাঁর পাঁচ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে। তাহলে কোনো মানুষ অভিযোগ করতে যাবে?’
তিনি বলেন, ‘এগুলোর উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশকে আবার স্বৈরাচারের দিকে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রী ও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে স্বৈরাচারী সরকারের বিদায় করেছে। আমরা বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার জন্য গণবিপ্লব করেছি। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশে আবারও গণবিপ্লব হবে। বাংলাদেশের মানুষ সেই বিপ্লবকে কেউ ঠেকাতে পারবে না।’
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে, ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের তরুণরা এবং মহিলারা তুলনামূলকভাবে জামায়াতকে বেশি ভোট দিয়েছেন। এর কারণ, বাংলাদেশের মহিলাদের জন্য জামায়াত একটি নিরাপদ ঠিকানা। একইভাবে বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ইসলামী ছাত্রশিবির একটি নিরাপদ ঠিকানা।’
অনুষ্ঠানে শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নূরুল ইসলাম বুলবুল (এমপি) উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্যদের মধ্যে শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের সভাপতিত্বে শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মতামত