নারীদের পোশাকের স্বাধীনতা, ধর্মীয় পোশাক পরিধানের অধিকার এবং সামাজিক সংহতি রক্ষায় জোরালো অবস্থান নিয়েছেন স্কটিশ পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য ও শ্যাডো মিনিস্টার ফর কালচার, ইউরোপ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফয়ছল চৌধুরী এমবিই। বোরকা পরিধানের ইস্যুতে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনির সাম্প্রতিক বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেছেন, নারীদের নিজ পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরার স্বাধীনতাকে সবার সমর্থন করা উচিত।
স্কটল্যান্ডের বৈচিত্র্যময় ও বহুসংস্কৃতির পরিবেশের কথা তুলে ধরে ফয়ছল চৌধুরী বলেন, আমাদের এমন একটি দেশ নিয়ে গর্বিত হওয়া উচিত যেখানে মানুষ সরকারের অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজ নিজ ধর্ম পালন, সংস্কৃতি প্রকাশ এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে। নিজ মেয়াদের পুরো সময়জুড়ে তিনি পার্লামেন্টে এই মৌলিক বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন এবং আইন ও নীতিমালায় সমতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের মূল্যবোধ প্রতিফলিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি স্কটিশ পার্লামেন্টে প্রশ্ন উত্থাপন করে সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন নারীরা যাতে সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়াই তাদের নিজস্ব পোশাক নির্বাচন করতে পারেন সে বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, কট্টর ও বিভক্তিমূলক রাজনৈতিক বক্তব্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তা কীভাবে প্রতিরোধ করা হচ্ছে, এবং হিজাব বা বোরকা পরা নারীদের প্রকাশ্যে হয়রানি থেকে রক্ষায় কী ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে।
রাজনীতিবিদদের একাংশ যেভাবে পার্লামেন্টে এবং সাধারণ মাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন এবং নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে নিশানা করছেন, তাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন ফয়ছল চৌধুরী। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মুসলিম নারীদের নিশানা করে বক্তব্য প্রদান ইসলামোফোবিয়া ও বৈষম্যকে স্বাভাবিক করে তোলে, যা সমাজে নেতিবাচক বার্তা দেয়। এ ধরনের উসকানিমূলক রাজনৈতিক বিতর্কের ফলে দৈনন্দিন জীবনে সংখ্যালঘু নারীদের শারীরিক ও মৌখিক হয়রানির ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়। যখন রাজনীতিবিদরা সম্প্রদায়গুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেন, তখন তা সামাজিক বিশ্বাস ভেঙে দেয় এবং গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি নষ্ট করে।
ধর্মীয় পোশাক নিষিদ্ধ করার কোনো প্রস্তাব নারীদের মুক্ত করে না বরং তাদের অধিকার ও সুরক্ষাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে বলে মন্তব্য করেন এই সাবেক মন্ত্রী। তার মতে, পোশাক নিষিদ্ধ করলে নারীরা ক্ষমতায়িত হওয়ার বদলে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং নিরাপত্তার ভয়ে শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে বাধ্য হন। কোন নারী কী পরবেন তা নির্ধারণ করার সুযোগ যদি সরকারকে দেওয়া হয়, তবে তা সকলের ব্যক্তিগত অধিকার ও স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করার একটি বিপজ্জনক পথ তৈরি করে।
বিবৃতির উপসংহারে ফয়ছল চৌধুরী বলেন, অনেক নারীর জন্যই ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক পোশাক তাদের পরিচয় ও বিশ্বাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা কেবল মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের অবশ্যই রাজনীতিবিদদের বিভাজনের চেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে কারণ সরকারের কাজ নারীদের পোশাক নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং স্বাধীনতা, সমতা ও পছন্দের অধিকার নিশ্চিত করা। বোরকা, হিজাব, পাগড়ি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক কিংবা কোনো ধর্মীয় পোশাক না পরা—যেটাই একজন নারী বেছে নিন না কেন, এই স্বাধীনতা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। স্কটল্যান্ড তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী হয় যখন সবাই নিজেকে এই দেশের অংশ মনে করতে পারে, কারণ আমাদের বৈচিত্র্য কোনো ভয়ের বিষয় নয় বরং এটি আমাদের মূল শক্তি।
মতামত