প্রফেসর ডক্টর দিপু সিদ্দিকী
সারসংক্ষেপ
ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার তথ্যপ্রবাহকে যেমন গণতান্ত্রিক করেছে, তেমনি সৃষ্টি করেছে নতুন ধরনের নিরাপত্তা-ঝুঁকি। Misinformation, Disinformation এবং Malinformation—এই তিন ধরনের তথ্য-বিকৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমিক বিস্তারব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে ব্যক্তিগত ক্ষতির পাশাপাশি কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংহতি কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার ওপরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
জাতীয় নিরাপত্তার আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু প্রযুক্তিগত নজরদারি বা আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সিভিল সোসাইটির মধ্যে আস্থাভিত্তিক সহযোগিতা এবং দেশব্যাপী Media and Information Literacy বা গণমাধ্যম ও তথ্য-সাক্ষরতার একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ভিত্তি।
UNESCO misinformation-কে অনিচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো মিথ্যা তথ্য এবং disinformation-কে প্রতারণা বা প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য হিসেবে পৃথক করে। Malinformation হলো বাস্তব বা সত্য তথ্যকে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা।
১. ভূমিকা: নিরাপত্তার সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে
একসময় জাতীয় নিরাপত্তা বলতে মূলত সীমান্ত, সামরিক শক্তি, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে বোঝানো হতো। কিন্তু ডিজিটাল যুগে নিরাপত্তার ধারণা আরও বিস্তৃত হয়েছে।
আজ একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে—
তথ্য নিরাপত্তা, জনমত, সামাজিক আস্থা, ডিজিটাল অবকাঠামো, সাইবার সক্ষমতা এবং তথ্যের সত্যতা।
একটি মিথ্যা তথ্য যদি লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোলা ছোড়া না হলেও তার সামাজিক প্রভাব হতে পারে ব্যাপক।
এখানেই তথ্যযুদ্ধের গুরুত্ব।
২. Misinformation, Disinformation ও Malinformation: পার্থক্য কোথায়?
এই তিনটি ধারণাকে এক করে দেখা ভুল।
Misinformation
মিথ্যা বা ভুল তথ্য, যা একজন ব্যক্তি সত্য মনে করে অনিচ্ছাকৃতভাবে শেয়ার করেন।
উদাহরণস্বরূপ, কেউ একটি পুরোনো ছবি নতুন ঘটনা মনে করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলেন। তার উদ্দেশ্য ক্ষতি করা নয়, কিন্তু ফলাফল বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
Disinformation
মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য যা জেনে-বুঝে মানুষকে বিভ্রান্ত, প্রভাবিত বা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে তৈরি বা প্রচার করা হয়।
Malinformation
এখানে তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা নাও হতে পারে; বরং সত্য বা বাস্তব তথ্যকে এমনভাবে ব্যবহার, প্রকাশ বা প্রসঙ্গচ্যুত করা হয় যার উদ্দেশ্য ক্ষতি করা। UNESCO-র উপকরণেও বাস্তব তথ্যকে ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিষয়টি এ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।
অতএব—
সব ভুল তথ্য ষড়যন্ত্র নয়; কিন্তু সব তথ্য নিরীহও নয়।
এই সূক্ষ্ম পার্থক্য বোঝাই প্রথম প্রতিরোধ।
৩. অ্যালগরিদম কীভাবে ঝুঁকি বাড়ায়?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম সাধারণত ব্যবহারকারীর আগ্রহ, আচরণ, engagement এবং পূর্ববর্তী interaction-এর ভিত্তিতে কনটেন্টের দৃশ্যমানতা বাড়ায়।
ফলে একটি উত্তেজনাপূর্ণ পোস্ট যদি বেশি মানুষ দেখে, মন্তব্য করে বা শেয়ার করে, সেটি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি করে।
এখানে একটি বিপজ্জনক চক্র তৈরি হতে পারে—
ভুল তথ্য → আবেগ → শেয়ার → engagement → algorithmic amplification → আরও দর্শক → আরও শেয়ার।
অর্থাৎ একটি ছোট ভুল তথ্য কখনো কখনো একটি বৃহৎ সামাজিক narrative-এ পরিণত হতে পারে।
আর যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কনটেন্ট তৈরি করে, যার উদ্দেশ্য মানুষের ভয়, ক্ষোভ, অবিশ্বাস বা বিভাজন বাড়ানো, তাহলে অ্যালগরিদমিক পরিবেশ তার বিস্তারে সহায়ক হতে পারে।
UNESCO উল্লেখ করেছে যে misinformation ও disinformation মোকাবিলায় Media and Information Literacy নাগরিকদের তথ্যকে সমালোচনামূলকভাবে মূল্যায়নের সক্ষমতা তৈরি করে।
৪. কখন তথ্য-বিকৃতি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন হয়ে ওঠে?
প্রতিটি ভুল পোস্ট জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় নয়।
কিন্তু যখন তথ্য-বিকৃতি—
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি ব্যাপক অবিশ্বাস তৈরি করে;
জনগণকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভক্ত করে;
সংকটের সময় আতঙ্ক বাড়ায়;
সামরিক বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য বিকৃত করে;
ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে সামাজিক সংঘাত উসকে দেয়;
অথবা কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা ধারাবাহিকভাবে ক্ষয় করে,
তখন বিষয়টি জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে কেন্দ্র করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি প্রয়োজন।
সেনাবাহিনীকে নিয়ে তথ্যভিত্তিক প্রশ্ন বা সমালোচনা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ; কিন্তু মিথ্যা, বিকৃত বা ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা জাতীয় আস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
৫. বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সিভিল সোসাইটির সম্পর্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ?
জাতীয় নিরাপত্তা কেবল সামরিক বাহিনীর একক দায়িত্ব নয়।
সেনাবাহিনী রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু সমাজের বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রযুক্তিবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং তরুণ প্রজন্মও জাতীয় স্থিতিশীলতার অংশীদার।
তাই প্রয়োজন Civil-Military Trust, অর্থাৎ সামরিক প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক।
এই সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত—
সংবিধান → আইন → পেশাদারিত্ব → স্বচ্ছতা → আস্থা → সহযোগিতা।
এখানে কোনো পক্ষের ওপর অন্য পক্ষের আধিপত্য নয়; বরং নিজ নিজ সাংবিধানিক ও সামাজিক ভূমিকা বজায় রেখে সহযোগিতা প্রয়োজন।
৬. বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে “National Digital Resilience Hub”
এই জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়; এটি গবেষণা, জ্ঞান, সমালোচনামূলক চিন্তা এবং সামাজিক নেতৃত্বের কেন্দ্র।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাইলে প্রতিটি ক্যাম্পাসে একটি—
“Media, Information and National Resilience Lab”
গড়ে তুলতে পারে।
এর দায়িত্ব হতে পারে—
১. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য-বিকৃতির ধরণ নিয়ে গবেষণা;
২. তরুণদের Media Literacy প্রশিক্ষণ;
৩. Fact-checking সক্ষমতা তৈরি;
৪. AI-generated misinformation ও deepfake নিয়ে গবেষণা;
৫. জাতীয় সংকটে তথ্যপ্রবাহের আচরণ বিশ্লেষণ;
৬. সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের সঙ্গে যৌথ গবেষণা;
৭. নিরাপত্তা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আইন ও প্রযুক্তি বিভাগের আন্তঃবিভাগীয় গবেষণা।
UNESCO ইতিমধ্যে Media and Information Literacy-কে তথ্য-পরিবেশে আস্থা ও ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং বিভিন্ন দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সংগঠনকে এ ধরনের উদ্যোগে যুক্ত করছে।
৭. সেনাবাহিনী–বিশ্ববিদ্যালয়–সিভিল সোসাইটি: একটি “Three-Pillar Model”
বাংলাদেশে একটি কার্যকর কাঠামো হতে পারে—
Pillar 1 — Bangladesh Army
জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে পেশাগত জ্ঞান এবং প্রয়োজনীয় জনসচেতনতা।
Pillar 2 — Universities
গবেষণা, তথ্য যাচাই, Media Literacy, প্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং তরুণ নেতৃত্ব।
Pillar 3 — Civil Society
সামাজিক যোগাযোগ, জনসচেতনতা, মানবাধিকার, গণমাধ্যম এবং স্থানীয় পর্যায়ের নাগরিক অংশগ্রহণ।
এই তিনটি স্তম্ভ পরস্পরের বিকল্প নয়; বরং পরস্পরের সহযোগী।
৮. বিশ্ববিদ্যালয়ে কী ধরনের সেমিনার ও প্রশিক্ষণ হতে পারে?
প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরে অন্তত একবার নয়, বরং নিয়মিতভাবে আয়োজন করা যেতে পারে—
“Digital Security and Responsible Citizenship Week”
এর অধীনে থাকতে পারে—
Misinformation Identification Workshop;
Fact-checking Training;
Deepfake Detection Seminar;
Cyber Ethics;
National Security and Digital Media;
Responsible Journalism;
Social Media Psychology;
AI and Information Integrity।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বাস্তব উদাহরণ দিয়ে শেখানো উচিত—কীভাবে একটি ছবি যাচাই করতে হয়, ভিডিওর উৎস কীভাবে খুঁজতে হয়, তারিখ ও প্রেক্ষাপট কীভাবে যাচাই করতে হয় এবং কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে কী প্রশ্ন করতে হয়।
UNESCO-র Media and Information Literacy curriculum-এ fact-checking এবং information disorder মোকাবিলার দক্ষতাকে শিক্ষার অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৯. সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা কেমন হবে?
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো institutional neutrality।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কোনো সামরিক প্রতিষ্ঠানের প্রচারযন্ত্র হওয়া নয়।
আবার সেনাবাহিনীর কাজও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বাধীনতার ওপর প্রভাব বিস্তার করা নয়।
বরং যৌথভাবে আয়োজন করা যেতে পারে—
Open Academic Dialogue
যেখানে আলোচনার বিষয় হবে—
জাতীয় নিরাপত্তা;
তথ্যযুদ্ধ;
সাইবার নিরাপত্তা;
নাগরিক দায়িত্ব;
ডিজিটাল নৈতিকতা;
misinformation response;
crisis communication।
এই আলোচনায় শিক্ষক, সামরিক বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রযুক্তিবিদ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নিতে পারেন।
১০. “National Information Resilience Network” গড়ে তোলা
বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বয়ে একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যেতে পারে।
এর সদস্য হতে পারে—
বিশ্ববিদ্যালয় + গবেষণা প্রতিষ্ঠান + সাংবাদিক সংগঠন + প্রযুক্তিবিদ + সিভিল সোসাইটি + সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।
এই নেটওয়ার্কের উদ্দেশ্য হবে কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শ প্রচার করা নয়; বরং তথ্যের সত্যতা, ডিজিটাল নাগরিকত্ব এবং সংকটকালীন তথ্য-সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
বাংলাদেশে UNESCO-র Media and Information Literacy উদ্যোগেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যুব সংগঠন, সিভিল সোসাইটি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাকে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
১১. পাঁচ ধাপের নাগরিক প্রতিরোধ
প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহজ মডেল চালু করতে পারে:
STOP
তৎক্ষণাৎ শেয়ার করবেন না।
CHECK
উৎস যাচাই করুন।
COMPARE
অন্য নির্ভরযোগ্য উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
CONTEXT
তথ্যটি সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে দেখুন।
SHARE RESPONSIBLY
তারপর দায়িত্ব নিয়ে শেয়ার করুন।
এই পাঁচটি ধাপ একটি সাধারণ সামাজিক অভ্যাসে পরিণত হলে misinformation-এর বিস্তার অনেকটাই কমানো সম্ভব।
১২. জাতীয় নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ভারসাম্য
এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক প্রশ্ন এখানেই।
তথ্য-বিকৃতি মোকাবিলার নামে যেন বৈধ মতপ্রকাশ বন্ধ না হয়।
কারণ—
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও গণতন্ত্রের অপরিহার্য ভিত্তি।
তাই নীতি হওয়া উচিত—
“Counter disinformation, not dissent.”
অর্থাৎ অপতথ্য মোকাবিলা করা হবে; কিন্তু ভিন্নমতকে অপতথ্য বলে দমন করা হবে না।
এখানেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন গবেষণা ও সিভিল সোসাইটির ভূমিকা অপরিহার্য।
১৩. ভবিষ্যতের কৌশল: Reactive নয়, Preventive
বাংলাদেশকে শুধু কোনো গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর তার জবাব দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
প্রয়োজন Preventive Information Resilience।
অর্থাৎ জনগণ আগে থেকেই জানবে—
কীভাবে তথ্য যাচাই করতে হয়, কীভাবে deepfake চিনতে হয়, কীভাবে সন্দেহজনক উৎস শনাক্ত করতে হয় এবং কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করতে হয়।
এই জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী জ্ঞানভিত্তিক প্রতিরোধব্যবস্থা।
উপসংহার: আস্থার সেতু নির্মাণই ভবিষ্যতের নিরাপত্তা
আজকের তথ্যযুদ্ধের যুগে একটি দেশের নিরাপত্তা শুধু সীমান্তে পাহারা দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না। মানুষের চিন্তা, তথ্যের পরিবেশ এবং সামাজিক আস্থাও নিরাপত্তার অংশ।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের প্রতিরক্ষা ও সার্বভৌমত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন একটি তথ্যসচেতন জনগোষ্ঠী।
এই দুইয়ের মধ্যে সেতু নির্মাণ করতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা করবে।
সেনাবাহিনী জাতীয় নিরাপত্তার পেশাগত অভিজ্ঞতা ভাগ করবে।
সিভিল সোসাইটি নাগরিক সমাজকে যুক্ত করবে।
গণমাধ্যম সত্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি শক্তিশালী করবে।
আর তরুণ প্রজন্ম হবে তথ্য-সচেতন ডিজিটাল নাগরিক।
আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নাতীত করা নয়; বরং প্রশ্ন, তথ্য, জবাবদিহিতা ও আস্থার একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি করা।
কারণ—
অপতথ্যকে পরাজিত করার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র সেন্সরশিপ নয়—সচেতন নাগরিক।
আর সেই সচেতন নাগরিক তৈরি করার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়।
অতএব বাংলাদেশে প্রয়োজন—
সেনাবাহিনী + বিশ্ববিদ্যালয় + সিভিল সোসাইটি + গণমাধ্যম + প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ = National Information Resilience.
এই সমন্বিত শক্তিই পারে misinformation, disinformation ও malinformation-এর বিস্তারকে মোকাবিলা করতে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সামাজিক সংহতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে আরও শক্তিশালী করতে।
আমাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার মূলনীতি হোক—
“Protect the nation by protecting the truth; protect the truth by educating the citizen; and protect the citizen by strengthening trust.”
প্রফেসর ডক্টর দিপু সিদ্দিকী
অধ্যাপক, কবি ও প্রাবন্ধিক
ডিন, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ
রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা
(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলা এফএমের সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)
মতামত