দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জলসীমার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত টহল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসমান অবস্থায় থাকা ‘এফবি নাঈম’ নামক মৎস্য ট্রলারসহ ১২ জন জেলেকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ পদ্মা।
গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বঙ্গোপসাগরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত বহাল থাকা সত্ত্বেও রাতের অন্ধকার, বৈরী আবহাওয়া ও সী স্টেট ৪-এর উত্তাল সমুদ্র পরিস্থিতি উপেক্ষা করে বানৌজা পদ্মা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার তীব্র অনুসন্ধান শেষে রাডারের সাহায্যে ভাসমান ট্রলারটি শনাক্ত করা হয় এবং রাত প্রায় সাড়ে দশটায় ট্রলারসহ ১২ জন জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার অভিযانের সময় নৌবাহিনীর সদস্যরা বিপন্ন জেলেদের মাঝে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করেন। পাশাপাশি, মাছ ধরার সময় আহত হওয়া এক জেলেকে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের ঝুঁকি সত্ত্বেও বানৌজা পদ্মা ট্রলারটিকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার টোয়িং করে সুন্দরবন সংলগ্ন দুবলার চরে অবস্থিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের আউটপোস্টের নিকট নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ট্রলার ও জেলেদের কোস্ট গার্ডের নিকট হস্তান্তর করে।
উদ্ধার হওয়া জেলেদের সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পায়রা বন্দর থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ট্রলারটি সাগরে যাত্রা করেছিল। এরপর গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে ১২ জন জেলেসহ এটি বঙ্গোপসাগরে ভাসতে থাকে। সমুদ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে বিপদগ্রস্ত জেলে ও নৌযান রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এমন মানবিক ও পেশাদার পদক্ষেপ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
মতামত