বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা: শিক্ষক ও শিক্ষামন্ত্রীর করণীয় ভূমিকা


| ফটো কার্ড

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা: শিক্ষক ও শিক্ষামন্ত্রীর করণীয় ভূমিকা

গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি মৌলিক অধিকারের মধ্যে শিক্ষা অন্যতম। শিক্ষা মানুষকে সুন্দর ও মানবিক মানুষ হতে সাহায্য করে। মানুষকে বিবেকবান করে তোলে। ভালো-মন্দ বিচার-বিশ্লেষণের সক্ষমতা দান করে। মনুষত্ববোধ জাগ্রত করে। জাতিকে আলোকিত করে। শিক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা। শিক্ষা যেখানে অনুপস্থিত, জ্ঞান ও মূল্যবোধ সেখানে খুবই দুর্বল। এজন্য শিক্ষাকে জাতির মেরুদন্ড বলা হয়। 

শিক্ষা এবং সংস্কৃতি একটি জাতিকে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করে। শিক্ষা এবং সংস্কৃতি নষ্ট হলে দেশ ধ্বংস হয়ে যায়। জাতিকে মেধা এবং মননশীলতা তৈরিতে শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থা পরিহার করে কারিকুলাম পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করে যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে। যাতে ছাত্রছাত্রীরা মুখস্থ নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা পরিহার করে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে মানানসই হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। বহির্বিশ্বের সিলেবাসের সাথে আমাদের সিলেবাসের সামঞ্জস্য থাকতে হবে। যাতে করে আমাদের সন্তানেরা যখন বহির্বিশ্বে কোন বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে যাবে তারা যেন সেখানে সামঞ্জস্য বিধান করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে সক্ষম হয়। 

শিক্ষিত জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে ক্ষুধার্ত শিক্ষক দিয়ে তৃষ্ণার্ত শিক্ষার্থীদের তৃষ্ণা মেটানো সম্ভব নয়। শিক্ষকদের পারিশ্রমিক যেমন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন তেমনি শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে মান-সম্মত শিক্ষা দানের জন্য জবাবদিহিতারও ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। শিক্ষাঙ্গনে এবং শ্রেণীকক্ষে উত্তম পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষকদের স্টাডি করে যথাসময়ে শ্রেণীকক্ষে লেকচার শীট নিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করতে হবে। 

বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী মহোদয় দুজনই উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্ব। শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় বিগত বিএনপি সরকারের সময়ে একজন সফল শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। তার সময় নকল বন্ধ হয়েছিল। এবার ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোকে সিসি টিভি ক্যামেরার আওতায় এনে ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে একটা সচেতনতার বীজ রোপন করেছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে যেমন দেখাদেখির প্রবণতা কমে গেছে, তেমনি শিক্ষকরা প্রকৃত অর্থে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সমালোচনা যে যাই করুক শিক্ষামন্ত্রী জাতির বিবেক তৈরি করার জন্য সঠিক কাজটি করেছেন। আমরা লাখ লাখ এ প্লাস পাইনি বটে তবে প্রকৃত অর্থে ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষার হলে লেখনীর মাধ্যমে মেধার পরিচয়ের সাক্ষ্য রেখেছেন। আমরা অটোপাস থেকে মুক্ত হয়েছি। যদিও বর্ষায় কোমর পানিতে ভিজে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়াটা সমীচীন মনে হয়নি। এহেন পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয় এবং মন্ত্রণালয়ের কর্তৃপক্ষ আগামীতে পরীক্ষা গুলো এগিয়ে এনেছেন যা প্রশংসার দাবিদার। 

শিক্ষকদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী মেনে নিবেন এটাই জাতির বিবেক, বা বাতিঘর শিক্ষক সমাজ প্রত্যাশা করেন। ইতোমধ্যে অনেক কিছু বাস্তবায়িত হয়েছে। নবম পে স্কেল ঘোষিত হয়েছে। এতে করে সরকারি এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং কর্মচারীরা উপকৃত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন একজন জনদরদি ব্যক্তিত্ব। ভঙ্গুর অর্থনীতির উপর দাঁড়িয়ে তিনি ইতোমধ্যে যেসব কাজ হাতে নিয়েছেন তা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে এবং তিনি ইতিমধ্যে চমক সৃষ্টি করেছেন। এত দাবি না করে তাকে সময় দেওয়া প্রয়োজন। তার শাসনামলে বাংলার জনপদ হবে শান্তিময়। প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারীকে সমান চোখে দেখে তাদের মানসিক প্রশান্তির বিস্তার ঘটাবেন এটাই হবে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। 

ছাত্র-ছাত্রীদের নৈতিক চরিত্র সমুন্নত করতে হলে ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে সামাজিক আইনগুলো সন্নিবেশিত করতে হবে। যাতে তারা অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকে। আইসিটি ও ইংরেজি শিক্ষার প্রতি জোর দিতে হবে। ছাত্র ছাত্রীদের মনোযোগ বৃদ্ধিকরণের জন্য ক্লাসে আলোচনার পর ফিডব্যাক গ্রহণ করতে হবে। হোমওয়ার্কের উপর জোর দিতে হবে এবং ড্রপআউট ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করে তাদের লেখাপড়ায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা রাখতে হবে। নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে তাদের সন্তানদের আচার-আচরণ এবং পরীক্ষার ফলাফলের বিষয়গুলো জানাতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ যদি তাদের সহকর্মীদের নিয়ে এ ধরনের কাজগুলো অব্যাহত রাখেন তাহলে অবশ্যই ছাত্রছাত্রীরা শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে এবং জাতিকে ভালো কিছু উপহার দিতে সক্ষম হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। 

ইতোমধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য মহোদয় শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন করে ভূয়সি প্রশংসা অর্জন করেছেন। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয় ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছেন। যা জাতির জন্য সুখকরও বটে। 

শিক্ষকদের দাবি চাকুরীর বয়সসীমা ৬৫ করতে হবে। কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অবসর সুবিধার ফান্ড লুটপাট করে নষ্ট করলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্মানিত কোন শিক্ষককে খালি হাতে ফিরিয়ে দেননি। পর্যায়ক্রমে সকলকে প্রাপ্য টাকা তিনি বুঝিয়ে দিবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা যদি নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থেকে নিষ্ঠার সাথে সময়োপযোগী জ্ঞান দান করতে পারেন তাহলে শিক্ষিত জাতি তৈরি হবে। এক্ষেত্রে দুজন মন্ত্রী মহোদয়ের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। তবেই আমাদের সন্তানরা হবে ভাগ্যবান এবং ভাগ্যবতী। এক্ষেত্রে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে মাস্তুলটা সোজা করে ধরে রাখতে হবে। শিক্ষকদেরকে উপযুক্ত ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে পাঠদানে উপযোগী করে শ্রেণীকক্ষে পাঠাতে হবে। শিক্ষিত জাতি তৈরির মাধ্যমে আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ। 

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক

লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। 

অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। সমাজকর্ম বিভাগ। 

মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ, ঢাকা। 

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা: শিক্ষক ও শিক্ষামন্ত্রীর করণীয় ভূমিকা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি মৌলিক অধিকারের মধ্যে শিক্ষা অন্যতম। শিক্ষা মানুষকে সুন্দর ও মানবিক মানুষ হতে সাহায্য করে। মানুষকে বিবেকবান করে তোলে। ভালো-মন্দ বিচার-বিশ্লেষণের সক্ষমতা দান করে। মনুষত্ববোধ জাগ্রত করে। জাতিকে আলোকিত করে। শিক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা। শিক্ষা যেখানে অনুপস্থিত, জ্ঞান ও মূল্যবোধ সেখানে খুবই দুর্বল। এজন্য শিক্ষাকে জাতির মেরুদন্ড বলা হয়। 

শিক্ষা এবং সংস্কৃতি একটি জাতিকে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করে। শিক্ষা এবং সংস্কৃতি নষ্ট হলে দেশ ধ্বংস হয়ে যায়। জাতিকে মেধা এবং মননশীলতা তৈরিতে শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থা পরিহার করে কারিকুলাম পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করে যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে। যাতে ছাত্রছাত্রীরা মুখস্থ নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা পরিহার করে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে মানানসই হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। বহির্বিশ্বের সিলেবাসের সাথে আমাদের সিলেবাসের সামঞ্জস্য থাকতে হবে। যাতে করে আমাদের সন্তানেরা যখন বহির্বিশ্বে কোন বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে যাবে তারা যেন সেখানে সামঞ্জস্য বিধান করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে সক্ষম হয়। 

শিক্ষিত জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে ক্ষুধার্ত শিক্ষক দিয়ে তৃষ্ণার্ত শিক্ষার্থীদের তৃষ্ণা মেটানো সম্ভব নয়। শিক্ষকদের পারিশ্রমিক যেমন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন তেমনি শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে মান-সম্মত শিক্ষা দানের জন্য জবাবদিহিতারও ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। শিক্ষাঙ্গনে এবং শ্রেণীকক্ষে উত্তম পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষকদের স্টাডি করে যথাসময়ে শ্রেণীকক্ষে লেকচার শীট নিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করতে হবে। 

বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী মহোদয় দুজনই উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্ব। শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় বিগত বিএনপি সরকারের সময়ে একজন সফল শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। তার সময় নকল বন্ধ হয়েছিল। এবার ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোকে সিসি টিভি ক্যামেরার আওতায় এনে ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে একটা সচেতনতার বীজ রোপন করেছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে যেমন দেখাদেখির প্রবণতা কমে গেছে, তেমনি শিক্ষকরা প্রকৃত অর্থে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সমালোচনা যে যাই করুক শিক্ষামন্ত্রী জাতির বিবেক তৈরি করার জন্য সঠিক কাজটি করেছেন। আমরা লাখ লাখ এ প্লাস পাইনি বটে তবে প্রকৃত অর্থে ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষার হলে লেখনীর মাধ্যমে মেধার পরিচয়ের সাক্ষ্য রেখেছেন। আমরা অটোপাস থেকে মুক্ত হয়েছি। যদিও বর্ষায় কোমর পানিতে ভিজে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়াটা সমীচীন মনে হয়নি। এহেন পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয় এবং মন্ত্রণালয়ের কর্তৃপক্ষ আগামীতে পরীক্ষা গুলো এগিয়ে এনেছেন যা প্রশংসার দাবিদার। 

শিক্ষকদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী মেনে নিবেন এটাই জাতির বিবেক, বা বাতিঘর শিক্ষক সমাজ প্রত্যাশা করেন। ইতোমধ্যে অনেক কিছু বাস্তবায়িত হয়েছে। নবম পে স্কেল ঘোষিত হয়েছে। এতে করে সরকারি এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং কর্মচারীরা উপকৃত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন একজন জনদরদি ব্যক্তিত্ব। ভঙ্গুর অর্থনীতির উপর দাঁড়িয়ে তিনি ইতোমধ্যে যেসব কাজ হাতে নিয়েছেন তা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে এবং তিনি ইতিমধ্যে চমক সৃষ্টি করেছেন। এত দাবি না করে তাকে সময় দেওয়া প্রয়োজন। তার শাসনামলে বাংলার জনপদ হবে শান্তিময়। প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারীকে সমান চোখে দেখে তাদের মানসিক প্রশান্তির বিস্তার ঘটাবেন এটাই হবে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। 

ছাত্র-ছাত্রীদের নৈতিক চরিত্র সমুন্নত করতে হলে ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে সামাজিক আইনগুলো সন্নিবেশিত করতে হবে। যাতে তারা অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকে। আইসিটি ও ইংরেজি শিক্ষার প্রতি জোর দিতে হবে। ছাত্র ছাত্রীদের মনোযোগ বৃদ্ধিকরণের জন্য ক্লাসে আলোচনার পর ফিডব্যাক গ্রহণ করতে হবে। হোমওয়ার্কের উপর জোর দিতে হবে এবং ড্রপআউট ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করে তাদের লেখাপড়ায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা রাখতে হবে। নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে তাদের সন্তানদের আচার-আচরণ এবং পরীক্ষার ফলাফলের বিষয়গুলো জানাতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ যদি তাদের সহকর্মীদের নিয়ে এ ধরনের কাজগুলো অব্যাহত রাখেন তাহলে অবশ্যই ছাত্রছাত্রীরা শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে এবং জাতিকে ভালো কিছু উপহার দিতে সক্ষম হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। 

ইতোমধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য মহোদয় শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন করে ভূয়সি প্রশংসা অর্জন করেছেন। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয় ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছেন। যা জাতির জন্য সুখকরও বটে। 

শিক্ষকদের দাবি চাকুরীর বয়সসীমা ৬৫ করতে হবে। কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অবসর সুবিধার ফান্ড লুটপাট করে নষ্ট করলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্মানিত কোন শিক্ষককে খালি হাতে ফিরিয়ে দেননি। পর্যায়ক্রমে সকলকে প্রাপ্য টাকা তিনি বুঝিয়ে দিবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা যদি নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থেকে নিষ্ঠার সাথে সময়োপযোগী জ্ঞান দান করতে পারেন তাহলে শিক্ষিত জাতি তৈরি হবে। এক্ষেত্রে দুজন মন্ত্রী মহোদয়ের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। তবেই আমাদের সন্তানরা হবে ভাগ্যবান এবং ভাগ্যবতী। এক্ষেত্রে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে মাস্তুলটা সোজা করে ধরে রাখতে হবে। শিক্ষকদেরকে উপযুক্ত ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে পাঠদানে উপযোগী করে শ্রেণীকক্ষে পাঠাতে হবে। শিক্ষিত জাতি তৈরির মাধ্যমে আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ। 

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক

লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। 

অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। সমাজকর্ম বিভাগ। 

মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ, ঢাকা। 



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream