সৌরবিদ্যুৎ, কৃষি প্রযুক্তি, কার্বন ব্যবস্থাপনা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), এই চারটি উদ্ভাবনী গবেষণা প্রকল্প নিয়ে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ অংশ নিয়েছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ মেলা চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
বেরোবির প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে Silicon-based Perovskite Solar Cells সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি নিয়ে, AgriTrace BD কৃষি খাতের প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান নিয়ে, Carbon Setu কার্বন ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নিয়ে এবং DeshGuard AI কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের এসব নির্বাচিত উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে।
শনিবার সকালে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি দেশীয় গবেষণা ও মেধাভিত্তিক উদ্ভাবনগুলোকে শুধু ল্যাবরেটরিতে সীমাবদ্ধ না রেখে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রূপান্তর এবং সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেরোবির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী অংশ নেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় বদ্ধপরিকর।"
উপাচার্য আরও বলেন, "ল্যাবরেটরির নতুন নতুন আবিষ্কার যখন বাণিজ্যিক বাজারে জায়গা পাবে, তখনই দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। এই ইনোভেশন ফেয়ার আমাদের তরুণ গবেষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা ও নেটওয়ার্ক তৈরির অনন্য সুযোগ।”
বেরোবির রেজিস্ট্রার ও গবেষক প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির তেমন কোনো সমন্বয় নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সমন্বয় তৈরির চেষ্টা করছেন। এই সমন্বয় হলে বাংলাদেশে গবেষণার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এই সমন্বয়হীনতার কারণেই সমসাময়িক অনেক দেশ বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে গেছে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেরোবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান, দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ড. মো. এমদাদুল হক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান।
মতামত