কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ১১ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ হয়েছে। ধানের ভালো ফলনের আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে চাষের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চাহিদামতো ইউরিয়া সার না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক কৃষক। কয়েক দিন ডিলারের দোকানে ঘুরেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার না পাওয়ার অভিযোগ তাদের।
কৃষকদের অভিযোগ, দুই-তিন দিন ঘোরার পর অনেক সময় ১০ কেজি করে ইউরিয়া সার দেওয়া হচ্ছে। জমিতে যে পরিমাণ সার প্রয়োজন, সে অনুযায়ী সার না পাওয়ায় কেউ কেউ বাধ্য হয়ে স্থানীয় খুচরা দোকান থেকে বাড়তি দামে সার কিনছেন। এতে একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে সঠিক সময়ে জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারায় ফলন নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট ২০২৬ মাসে ফুলবাড়ীতে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ৫৯৫ মেট্রিক টন এবং সেপ্টেম্বর মাসে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৬৪ মেট্রিক টন। উপজেলার ৭টি বিসিআইসি ডিলারের মাধ্যমে এসব সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ডিলারের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৫২ মেট্রিক টন করে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫ নম্বর ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নে রয়েছে দুইজন ডিলার।
কৃষকদের দাবি, ডিলারের পাশাপাশি উপজেলার বড় বড় বাজারের অনুমোদিত খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমেও সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হলে তাদের ভোগান্তি কমবে। এতে সঠিক সময়ে এবং নির্ধারিত দামে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে পারবেন তারা।
সারের পাশাপাশি বৃষ্টির পানির সংকটেও বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বৃষ্টি কম হওয়ায় অনেক জমিতে সেচ দিয়ে পানি দিতে হচ্ছে। কিন্তু ডিজেলের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন খরচ। একই সঙ্গে জমিতে পানির ঘাটতির কারণে বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে বিসিআইসি ডিলারদের দাবি, তারা বরাদ্দ অনুযায়ীই সার বিতরণ করছেন। অনেক কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার নিয়ে বাড়িতে মজুত করে রাখছেন। এ কারণে কোনো কোনো সময় সাময়িক সংকট তৈরি হচ্ছে এবং অনেক কৃষক সার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১১ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় কিছু জমিতে সেচের প্রয়োজন হচ্ছে। ইউরিয়া সারের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের প্রয়োগ অনেক কৃষক ইতোমধ্যে শেষ করেছেন। যেসব এলাকায় এখনো সারের প্রয়োজন রয়েছে, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সেসব এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী সার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
কৃষকদের দাবি, বরাদ্দ থাকলেও যদি প্রয়োজনের সময়ে চাহিদামতো সার না মেলে, তাহলে আমনের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন হবে। তাই দ্রুত সার বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা এনে কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত দামে সার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মতামত