প্রকৃতির রানী লামা আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে দিন-রাত চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। আর প্রশাসন? তারা যেন "টিনের চশমা" পরে সব দেখেও না দেখার ভান করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড লাইল্যারমার পাড়া স্কুলের দু'পাশে খুটাখালী ছড়ায় চলছে তাণ্ডব। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরেও সেখানে ৯টি সেলু মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু তুলছিল একদল বালুখেকো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের মুবিনুল হক এবং কাগজিখোলা এলাকার মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে আজিজুল হক। তাদের দাপটে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরো লামা উপজেলায় এখন দুই শতাধিক অবৈধ বালু পয়েন্ট। ফলাফল?
ফসলের জমি নদীগর্ভে, রাস্তাঘাট ভেঙে খানাখন্দ, নদীর পাড় ধসে যাচ্ছে, ব্রিজ-কালভার্ট-অবকাঠামো হুমকির মুখে।
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ জনগণ। কিন্তু তাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো তৎপরতা নেই অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসন অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু নিলামের নামে "বৈধ" করার কাজে ব্যস্ত। অর্থাৎ চোরকে ধরার বদলে চুরির মাল নিলামে তুলে সরকারি বৈধতা দেওয়া হচ্ছে!
স্থানীয় এক শিক্ষক ক্ষোভের সাথে বলেন, “স্কুলের পাশেই বালু তোলা হচ্ছে। বাচ্চারা ধুলোয় অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় ছাত্ররা স্কুলে আসতে পারে না। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। বালুখেকোদের হাতে আমরা জিম্মি।
অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, বালুখেকোদের গ্রেফতার এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষ্ক্রিয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন লামাবাসী।
মতামত