মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা পাতা তোলার সময় একটি বিষধর খৈয়া গোখরা সাপের দেখা পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। পরে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা সাপটি নিরাপদে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া চা বাগানে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়,সকালে চা শ্রমিকরা বাগানে চা পাতা তুলছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি সাপ দেখতে পান তারা। বিষধর সাপটি দেখে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তারা কাজ বন্ধ করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। পরে বিষয়টি চা বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমানকে জানানো হয়। তিনি সাপটি উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।
খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল,পরিবেশকর্মী রাজদ্বীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি শনাক্ত করেন। তারা জানান, সাপটি খৈয়া গোখরা (Spectacled Cobra), যার বৈজ্ঞানিক নাম Naja naja। এটি অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির সাপ।
ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান,খৈয়া গোখরা এল্যাপিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং এর বিষে শক্তিশালী নিউরোটক্সিন ও কার্ডিওটক্সিন রয়েছে। সাধারণত মানুষের বসতবাড়ির আশপাশ,ঝোপঝাড়,খড়ের গাদা ও ইঁদুরের গর্তের মতো স্থানে এদের দেখা যায়।
পরিবেশকর্মী রাজদ্বীপ দেব দীপ বলেন, খৈয়া গোখরার ফণার পেছনে চশমার মতো বা ‘U’ আকৃতির কালো দাগ থাকায় সহজেই এটি শনাক্ত করা যায়। বিপদ অনুভব করলে সাপটি শরীরের সামনের অংশ উঁচু করে ফণা মেলে ধরে এবং হিসহিস শব্দ করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে।
পরে সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তীতে সাপটিকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।
মতামত