মানুষের জীবনে কিছু অনুভূতি থাকে,যা সহজে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মানুষ ফিরে তাকায় নিজের ভেতরে,কখনো স্মৃতির কাছে,কখনো ভালোবাসার কাছে আবার কখনো জীবনের গভীরতর দর্শনের কাছে। অনুভূতি, উপলব্ধি ও আত্মজিজ্ঞাসার এমন এক অন্তর্জগৎকে কেন্দ্র করেই সাজানো হয়েছে তরুণ লেখিকা পারমিতা চৌধুরী মৌ এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'যবনিকায় অর্থ'। দর্শন, প্রেম ও বিরহের মেলবন্ধনে রচিত বইটিতে থাকছে ৬২ কি কবিতা।
২০২৭ সালের বইমেলায় স্বরবর্ণ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে কাব্যগ্রন্থটি। প্রথম একক কাব্যগ্রন্থের মধ্য দিয়ে পারমিতা চৌধুরী মৌ পাঠকদের সামনে তুলে ধরতে যাচ্ছেন তাঁর অনুভব, চিন্তা ও উপলব্ধি এক স্বতন্ত্র কাব্যিক পরিসর।
'যবনিকায় অর্থ' এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য এর বিষয় বৈচিত্র্য। এখানে প্রেম কেবল ভালো লাগা কিংবা প্রাপ্তির আনন্দে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অপেক্ষা, দূরত্ব, অনিশ্চয়তা,না পাওয়া এবং বিচ্ছেদের দীর্ঘশ্বাস। অন্যদিকে বিরহও কেবল হারানোর বেদনা নয়। কখনো তা মানুষকে নিজের অস্তিত্বের সম্পর্কে ভাবতে শেখায়, কখনো সম্পর্কের গভীরতা উপলব্ধি করার সুযোগ করে দেয় আবার কখনো জীবনের এমন কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়, যেগুলোর উত্তর সহজে মেলে না।
এই অনুভূতি সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দর্শনের অনুসন্ধান । জীবন কী, ভালোবাসার অর্থ কোথায়, বিচ্ছেদ মানুষকে কীভাবে বদলে দেয় কিংবা কোনো অভিজ্ঞতার পরিসমাপ্তির পরও তার তাৎপর্য কীভাবে থেকে যায়। এমন ভাব গুলোই কাব্যগ্রন্থটির শিরোনামকে বিশেষ অর্থবহ করে তোলে। ব্যক্তিগত অনুভূতির মধ্যে দিয়ে জীবনকে দেখার এই প্রচেষ্টা পাফককে শুধু আবেগের জগতে নয়,চিন্তার জগতেও প্রবেশ করাবে।
'যবনিকায় অর্থ' নামটির মধ্যেও রয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত। 'যবনিকায়' অর্থ পর্দা যা নাটকের পর্দা নামার মধ্যে দিয়ে যেমন একটি দৃশ্যের সমাপ্তি ঘটে, তেমনি জীবনের কোনো অধ্যায় শেষ হলেও তার অর্থ অনুসন্ধানের পথ বন্ধ হয়ে যায় না। কোনো সম্পর্কের অবসান, কোনো স্বপ্নের অপূর্ণতা কিংবা কোনো প্রিয় মুহূর্তের স্মৃতি। সব কিছুর পরও মানুষের মন থেকে যায় নানা প্রশ্ন। কখনো সমাপ্তির মধ্যেই নতুন উপলব্ধি জন্ম হয়,কখনো হারানোর অভিজ্ঞতা মানুষকে নিজের ভেতর নতুন করে ফিরে যেতে শেখায়।
জীবনের প্রতিটি সমাপ্তি কি সত্যিই শেষ,নাকি তার আড়াইলেই লুকিয়ে থাকে নতুন কোনো অর্থের সূচনা? 'যবনিকায় অর্থ' নামটি যেন পাঠককে সেই প্রশ্নের কাছে দাঁড় করায়। আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই হয়তো কবিতা ও পাঠকের মধ্যে তৈরি হবে এক নীরব সংলাপ। যেখানে শব্দে্য চেয়ে অনুভূতি,আর সমাপ্তি চেয়ে অর্থের অনুসন্ধান হয়ে উঠবে মূখ্য।
মতামত