আমরা সৌদি আরব বলতে সাধারণত নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মস্থান মক্কা এবং তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িত মদিনাকে বুঝি। তবে নবীর সময়কার আরব আর বর্তমান সৌদি আরব রাষ্ট্রের ইতিহাস এক নয়। দুইয়ের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১৩০০ বছরের ব্যবধান।
নবী মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। সে সময় বর্তমান সৌদি আরব নামে কোনো রাষ্ট্র ছিল না। আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন গোত্র ও শাসকের কর্তৃত্ব ছিল। নবী মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে মদিনায় হিজরত করেন। ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনাতেই তাঁর ইন্তেকাল হয়।
অন্যদিকে, আধুনিক সৌদি আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। দেশটির প্রতিষ্ঠাতা আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে তিনি বিভিন্ন অঞ্চল নিজের নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর আগে ১৯০২ সালে তিনি রিয়াদ পুনর্দখল করেন, যা তাঁর ক্ষমতা বিস্তারের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
সৌদি রাজপরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাস আরও পেছনে ফিরে যায়। ১৭৪৪ সালের দিকে মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ও ধর্মীয় সংস্কারক মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাবের মধ্যে জোট গড়ে ওঠে। এই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জোট পরবর্তী সময়ে সৌদি শাসনব্যবস্থার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন সংঘাত ও ক্ষমতার পালাবদলের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৯৩২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বর্তমান সৌদি আরব।
দেশটির নামও এসেছে আল সৌদ পরিবার থেকে। অর্থাৎ, আধুনিক সৌদি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের সঙ্গে এই রাজপরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাস গভীরভাবে জড়িত।
তবে মক্কা ও মদিনার ঐতিহাসিক গুরুত্ব আধুনিক সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বহু আগের। ইসলামের ইতিহাস, নবী মুহাম্মদ (সা.) এর জীবন এবং মুসলমানদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে এই দুই শহরের সম্পর্ক গভীর। সে কারণেই সৌদি আরবকে অনেক সময় নবীর দেশ বলা হয়।
কিন্তু নবী মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও ইসলামের সূচনার সঙ্গে বর্তমান সৌদি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। নবীর সময় আরব উপদ্বীপে আজকের মতো সৌদি রাষ্ট্র ছিল না। বর্তমান রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বহু শতাব্দী পরে, আল সৌদ পরিবারের নেতৃত্বে।
ইতিহাসের এই পার্থক্য বোঝা জরুরি। মক্কা-মদিনা ইসলামের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ, আর আধুনিক সৌদি আরব একটি নির্দিষ্ট সময়ে গড়ে ওঠা রাষ্ট্র। ধর্মীয় আবেগ ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা দুটিকে সম্মান করেই তাদের আলাদা প্রেক্ষাপটে দেখা প্রয়োজন।
মতামত