রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

ধর্মের কথা

আজকের নামাজের সময়সূচি

ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলোর মধ্যে নামাজ অন্যতম। ঈমানের পর নামাজকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি বিভিন্ন নফল সালাতও ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।হাদিসে নামাজকে মুমিনের সঙ্গে অমুসলিমের পার্থক্যের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিয়মিত নামাজ মানুষকে অন্যায় ও পাপ থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে এবং আত্মিক প্রশান্তি ও পরিশুদ্ধতা এনে দেয়। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। বাংলা তারিখ ০৯ আশ্বিন ১৪৩৩ এবং হিজরি ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮। এদিন ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি হলো—ফজর: ভোর ৪টা ৩৪ মিনিটজোহর: দুপুর ১১টা ৫৪ মিনিটআসর: বিকেল ৪টা ১২ মিনিটমাগরিব: সন্ধ্যা ৫টা ৫৭ মিনিটএশা: রাত ৭টা ১০ মিনিটনামাজ শুধু একটি ধর্মীয় বিধান নয়, বরং একজন মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়মিত নামাজের মাধ্যমে শারীরিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি আত্মিক শুদ্ধতার চর্চাও হয়। ব্যস্ত জীবনের মাঝেও নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে স্রষ্টার সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি হয়।

আজকের নামাজের সময়সূচি

পিতৃপক্ষ:শিকড়ের কাছে ফেরার পবিত্র আহ্বান

মানুষ যতই আধুনিক হোক,যতই প্রযুক্তির আলোয় নিজের চারপাশ বদলে ফেলুক, তার অস্তিত্বের শিকড় কিন্তু পড়ে থাকে অতীতের গভীরে। সেই শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বাবা-মা,দাদা-দাদি, নানা-নানি,পিতামহ-প্রপিতামহসহ অসংখ্য পূর্বপুরুষের স্মৃতি,ত্যাগ ও উত্তরাধিকার।সনাতন ধর্মের পিতৃপক্ষ সেই শিকড়ের কাছেই ফিরে যাওয়ার একটি পবিত্র সময়। এটি শুধু প্রয়াত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে জল ও অন্ন নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং নিজের অস্তিত্বের উৎসকে স্মরণ করা, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব উপলব্ধি করার এক আধ্যাত্মিক অনুশীলন।প্রতি বছর পিতৃপক্ষ এলে তাই প্রশ্নটি সামনে আসে-আমরা কি শুধু প্রয়াতদের স্মরণ করি,নাকি তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া মূল্যবোধও ধারণ করি?সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাসে মানুষের জীবনে পিতৃঋণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যে জীবন আমরা পেয়েছি,যে পরিবার, সংস্কার ও ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বহন করছি,তার পেছনে রয়েছে পূর্ববর্তী প্রজন্মের অবদান।এই কারণেই পিতৃপক্ষে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ,শ্রাদ্ধ,পিণ্ডদান,অন্নদান ও প্রার্থনার বিধান প্রচলিত হয়েছে।২০২৬ সালের পিতৃপক্ষ ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত পালিত হবে। বিভিন্ন পঞ্জিকা ও আঞ্চলিক রীতিতে তিথি নির্ধারণে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। পিতৃপক্ষের শেষ তিথি সর্বপিতৃ অমাবস্যা, যা মহালয়া অমাবস্যা হিসেবেও পরিচিত।যাঁদের পূর্বপুরুষের মৃত্যুতিথি জানা আছে, তাঁরা সংশ্লিষ্ট তিথিতে শ্রাদ্ধ ও তর্পণ করেন। আর মৃত্যুতিথি জানা না থাকলে সর্বপিতৃ অমাবস্যায় পিতৃকর্ম করার প্রচলন রয়েছে।পিতৃপক্ষের তাৎপর্য বোঝাতে মহাভারতের কর্ণকে ঘিরে একটি বহুল প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনি বলা হয়।কাহিনি অনুযায়ী,দানবীর কর্ণ মৃত্যুর পর স্বর্গে গিয়ে অন্নের পরিবর্তে স্বর্ণ ও রত্ন লাভ করেন। কারণ জীবিত অবস্থায় তিনি বিপুল দান করলেও পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে অন্ন ও জল নিবেদন করেননি।বিষয়টি জানতে পেরে কর্ণ পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে অন্ন ও জল দেওয়ার সুযোগ প্রার্থনা করেন। এই আখ্যানের মধ্য দিয়ে যে শিক্ষা সামনে আসে তা হলো,মানুষের কর্তব্য শুধু জীবিত মানুষের প্রতি দান বা কল্যাণে সীমাবদ্ধ নয়;নিজের পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও ধর্মীয় জীবনের একটি অংশ।কর্ণের এই কাহিনি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, পৌরাণিক আখ্যান। কিন্তু এর নৈতিক শিক্ষা আজও সনাতন সমাজে পিতৃপক্ষের তাৎপর্য ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ।পিতৃপক্ষের সবচেয়ে পরিচিত আচার হলো তর্পণ। কুশ,তিল ও পবিত্র জল ব্যবহার করে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করা হয়।বাহ্যিকভাবে এটি অতি সাধারণ একটি আচার। কিন্তু এর অন্তর্নিহিত ভাব অনেক গভীর। দুই হাতের অঞ্জলি থেকে যখন জল মাটিতে পড়ে,তখন একজন মানুষ যেন প্রতীকীভাবে বলে ওঠেন-‘যাঁদের কারণে আমি আজ পৃথিবীতে,তাঁদের আমি ভুলিনি।’শাস্ত্রীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে তিথি, সময় ও পদ্ধতি নিয়ে পঞ্জিকা ও পারিবারিক পরম্পরা অনুযায়ী পার্থক্য থাকতে পারে। তাই নির্দিষ্ট শ্রাদ্ধ বা তর্পণের ক্ষেত্রে স্থানীয় পুরোহিত বা আচারজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।পূর্বপুরুষের নির্দিষ্ট তিথিতে শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদানের প্রচলন সনাতন ধর্মীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গয়া, কাশী,হরিদ্বার,প্রয়াগরাজসহ বিভিন্ন তীর্থে পিতৃকর্ম করার ঐতিহ্যও রয়েছে।তবে পিতৃকর্মের মূল উদ্দেশ্য জাঁকজমক নয়। সামর্থ্য অনুযায়ী আন্তরিকতার সঙ্গে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করাই এর প্রধান বিষয়।অর্থের সামর্থ্য বেশি হলে বড় আয়োজন হতে পারে,কম হলে সামান্য জল ও তিল দিয়েও ভক্তিভরে স্মরণ করা যায়। ধর্মীয় আচারের সৌন্দর্য অনেক সময় আয়োজনের পরিমাণে নয়,অন্তরের শ্রদ্ধায় প্রকাশ পায়।পিতৃপক্ষে অন্নদান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। শ্রাদ্ধের সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলে দেবতা, মানুষ,গরু,কুকুর ও কাকের উদ্দেশ্যে খাদ্য নিবেদনের পঞ্চবলি প্রথাও প্রচলিত।কাককে অন্ন দেওয়ার সঙ্গে পূর্বপুরুষদের নিয়ে নানা লোকবিশ্বাস রয়েছে। তবে এই আচারকে আরও বিস্তৃত মানবিক অর্থেও দেখা যায়। ক্ষুধার্ত মানুষকে অন্ন দেওয়া, অসহায়কে সাহায্য করা এবং প্রাণীর প্রতি মমতা দেখানো পিতৃপক্ষের করুণাবোধকে বাস্তব জীবনে প্রকাশ করার একটি পথ।অর্থাৎ পিতৃপক্ষ শুধু ‘পূর্বপুরুষের জন্য’ কিছু করার সময় নয়;তাঁদের স্মরণে ‘অন্যের জন্য’ কিছু করারও সময়।পিতৃপক্ষকে বহু পরিবার সংযমের সময় হিসেবে পালন করে। নিরামিষ আহার, নেশা পরিহার,পরিমিত জীবনযাপন, অপ্রয়োজনীয় ভোগ থেকে দূরে থাকা এবং প্রার্থনায় মনোনিবেশ করার রীতি রয়েছে।তবে সব সনাতনী পরিবারে খাদ্যসংক্রান্ত বিধি এক নয়। কোথাও পেঁয়াজ-রসুন বা নির্দিষ্ট কিছু খাবার বর্জন করা হয়, কোথাও আবার ভিন্ন রীতি অনুসরণ করা হয়। তাই কোনো একটি পারিবারিক রীতিকে সর্বজনীন শাস্ত্রবিধি হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।পিতৃপক্ষের আসল সংযম শুধু খাদ্যে নয়। ক্রোধ সংযত করা,মিথ্যা থেকে দূরে থাকা, অন্যকে কষ্ট না দেওয়া এবং নিজের আচরণকে শুদ্ধ করার চেষ্টাও এই সময়ের সাধনার অংশ হতে পারে।‘পিতৃদোষ’ শব্দটি মূলত জ্যোতিষশাস্ত্র ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। জ্যোতিষীয় মত অনুযায়ী,জন্মকুণ্ডলীতে পিতৃদোষ থাকলে জীবনে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করা হয়।তর্পণ,শ্রাদ্ধ,পিণ্ডদান,অন্নদান,পূর্বপুরুষের স্মরণ ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচারের মাধ্যমে পিতৃদোষের প্রতিকার করা যায় বলে জ্যোতিষীয় পরম্পরায় বলা হয়।তবে এসব দাবিকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত কারণ-ফল হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই। এগুলো ধর্মীয় ও জ্যোতিষীয় বিশ্বাসের পরিসরের বিষয়। একজন ধর্মবিশ্বাসী মানুষ চাইলে নিজস্ব বিশ্বাস ও পারিবারিক পরম্পরা অনুযায়ী এসব আচার পালন করতে পারেন।সনাতন আধ্যাত্মিকতায় ভগবান শিব মুক্তি, সংযম ও চেতনার প্রতীক। তাই পিতৃপক্ষে অনেক ভক্ত মহাদেবের আরাধনা করেন।শিবলিঙ্গে জল বা গঙ্গাজল নিবেদন,‘ওঁ নমঃ শিবায়’ জপ,মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ কিংবা নীরবে প্রয়াত স্বজনদের জন্য প্রার্থনা করা যেতে পারে।পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে মহাদেবের কাছে প্রার্থনা হতে পারে খুব সহজ-‘হে মহাদেব,আমাদের পূর্বপুরুষদের শান্তি দাও। তাঁদের অসম্পূর্ণতা ক্ষমা করো। তাঁদের আশীর্বাদে আমাদের পরিবারকে সত্য,ধর্ম ও মানবিকতার পথে চলার শক্তি দাও।’এই প্রার্থনার জন্য বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও নির্মল মন।পিতৃপক্ষের আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় প্রায়ই আড়ালে পড়ে যায়। আমরা প্রয়াত পূর্বপুরুষদের জন্য তর্পণ করি,শ্রাদ্ধ করি,অন্নদান করি; কিন্তু জীবিত বাবা-মায়ের প্রতি আমাদের দায়িত্ব কতটা পালন করছি?একজন বৃদ্ধ বাবা হয়তো একাকী বসে আছেন। একজন মা হয়তো অসুস্থ শরীর নিয়ে সন্তানের অপেক্ষায় আছেন। তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সময় যদি আমরা না পাই, তাহলে মৃত্যুর পর বিশাল আয়োজন করে শ্রাদ্ধ করাই কি আমাদের দায়িত্বকে সম্পূর্ণ করে?পিতৃপক্ষ যেন এখানেই আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা দেয়-জীবিত পিতা-মাতার সেবা এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মানই পূর্বপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধার সবচেয়ে জীবন্ত প্রকাশ।তাঁদের সঙ্গে একটু সময় কাটানো, প্রয়োজনের সময় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, তাঁদের কথা মন দিয়ে শোনা কিংবা শুধু পাশে বসে থাকা-এসবও এক ধরনের পিতৃসেবা।আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে মানুষ অনেক সময় নিজের শিকড় ভুলে যায়। ব্যস্ততার ভিড়ে বাবা-মায়ের জন্য সময় থাকে না,প্রয়াত স্বজনদের স্মৃতি ধীরে ধীরে মুছে যায়,পারিবারিক ইতিহাস হারিয়ে যায় প্রজন্মের পর প্রজন্মে।পিতৃপক্ষ সেই বিস্মৃতির বিরুদ্ধে একটি নীরব আহ্বান।এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়-আমরা একা নই। আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে বহু প্রজন্মের জীবন,শ্রম,ত্যাগ ও ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। তর্পণের জল তাই শুধু জল নয়। এটি কৃতজ্ঞতার অঞ্জলি।শ্রাদ্ধের অন্ন শুধু একটি ধর্মীয় নিবেদন নয়। এটি ভাগ করে নেওয়ার শিক্ষা। প্রদীপের আলো শুধু একটি আচার নয়। এটি অন্ধকারের মধ্যে আলোর সন্ধান।আর পূর্বপুরুষের স্মরণ শুধু অতীতের দিকে তাকানো নয়। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া ভালো মূল্যবোধকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখার অঙ্গীকার।এই পিতৃপক্ষে তাই আসুন,শুধু প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ নয়,জীবিত বাবা-মা ও গুরুজনদের প্রতিও দায়িত্বশীল হই। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই। ক্ষুধার্তকে অন্ন দিই। প্রাণীর প্রতি মমতা দেখাই। নিজের জীবন থেকে অহংকার,হিংসা ও অন্যায়কে যতটা সম্ভব দূরে রাখি।কারণ পূর্বপুরুষদের শান্তির জন্য করা প্রার্থনা তখনই সবচেয়ে অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন সেই প্রার্থনার আলো আমাদের নিজেদের জীবনেও প্রতিফলিত হয়।পিতৃপক্ষে সকল প্রয়াত পিতৃপুরুষের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। জীবিত পিতা-মাতা ও গুরুজনদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা।মহাদেবের চরণে প্রার্থনা-সকলের জীবনে শান্তি,সত্য,মঙ্গল ও মানবিকতার আলো জ্বলে উঠুক। ওঁ পিতৃভ্যঃ স্বধা নমঃ। ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ।

পিতৃপক্ষ:শিকড়ের কাছে ফেরার পবিত্র আহ্বান

ধর্ম ও মানবতার শত্রু অমানুষ শয়তান জিন্নাহ: আল্লামা ইমাম হায়াত

বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রবর্তক ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত বলেছেন ইন্ডিয়া উপমহাদেশের মুসলিমদের জীবনের সকল সংকট দুর্দশা উচ্ছেদ হত্যাযজ্ঞ এবং মানবতার বিপর্যয়ের মূলহোতা ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদি সাম্প্রদায়িক স্বৈররাজনীতির জনক শয়তান জিন্নাহ ও মুসলিম লীগ নামের কুফরি লীগ শয়তান লীগ। আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, মহান খাজাবাবা রঃ এর প্রতিষ্ঠিত সব ধর্মের সব মানুষের ইন্ডিয়াকে বিভক্ত করে খুনি রামরাষ্ট্র ও ইসলামের নামে ধোকার রাষ্ট্র তালেবানি খুনি জালিম পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা অভিশপ্ত কাফের জিন্নাহ। ধর্ম ও মানবতার শত্রু অমানুষ শয়তান জিন্নাহ। মুসলিম লীগ বা জিন্নাহদের রাজনীতি ইসলামের নির্দেশিত মানবতার রাজনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত ধর্মের নামে ধোকার রাজনীতি। 1947 এ মুসলিম লীগ নামধারী জারজ মোনাফেক মীরজাফর ওয়াবিলীগের উগ্রবাদি  সাম্প্রদায়িক  স্বৈররাজনীতির ষড়যন্ত্র সব মানুষের ইন্ডিয়াকে হিংস্র পাশবিক রামরাষ্ট্রে পরিণত করার বিষফল আজ অসহায় নিপীড়িত মুসলিমগণ ভোগ করছেন ।আল্লাহতাআলার নুর রাহমাতাল্লিল আলামীন প্রাণাধিক প্রিয়নবীর দেয়া সব ধর্মের সব মত পথের সব মানুষের সমান নিরাপত্তা-স্বাধীনতা-অধিকার ভিত্তিক বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক সর্বজনীনমানবতার রাষ্ট্র না হলে কেয়ামত পর্যন্ত মুসলিমগণ সাম্প্রদায়িক স্বৈররাজনীতির খুন জুলুম উৎখাত রাষ্ট্রীয়সন্ত্রাস ধ্বংসযজ্ঞ স্বৈরদস্যুতার শিকার হতে থাকবেন। 

ধর্ম ও মানবতার শত্রু অমানুষ শয়তান জিন্নাহ: আল্লামা ইমাম হায়াত

মদিনার সব মসজিদে নারীদের জন্য ৫ ওয়াক্ত নামাজের স্থান খোলা রাখার অনুমোদন

সৌদি আরবের পবিত্র মদিনা শহরের সব মসজিদে নারীদের পৃথক নামাজের স্থান প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য খোলা রাখার ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। সৌদি আরবের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, দাওয়াহ ও গাইডেন্স মন্ত্রী শেখ ড. আবদুল লতিফ আল-শেখ সম্প্রতি এ সংক্রান্ত অনুমোদন দিয়েছেন।নতুন এ নির্দেশনার আওতায় মদিনার ঐতিহাসিক ও বড় বড় জামে মসজিদের পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মসজিদগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।সারাবছর নিয়মিত সুবিধা: ইতিপূর্বে মদিনার বহু মসজিদে নারীদের নির্ধারিত এলাকাগুলো কেবল জুমার নামাজ, রমজানের তারাবিহ, দুই ঈদের নামাজ কিংবা হজের ব্যস্ত মৌসুমে খোলা রাখা হতো; বছরের বাকি সময় তা বন্ধ থাকত। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় এখন থেকে সারা বছর প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সময়ই এসব স্থান খোলা থাকবে।এই সিদ্ধান্তের ফলে চাকরিজীবিনী, শিক্ষার্থী, পর্যটক কিংবা কেনাকাটার কাজে বাইরে থাকা নারীরা সালাতের সময় নিকটস্থ যেকোনো মসজিদে গিয়ে নিরাপদে জামাতে অংশ নিতে পারবেন।বিশ্বজুড়ে পরিচিত মহানবীর (সা.) রওজা মোবারক সংলগ্ন ‘মসজিদে নববী’ এই নতুন নির্দেশনার বাইরে থাকছে; কারণ সেখানে আগে থেকেই নারীদের জন্য সার্বক্ষণিক বিশাল ও পৃথক প্রার্থনার সুব্যবস্থা বিদ্যমান।নারীদের নামাজের স্থানগুলোর সুভোল ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইতিমধ্যেই মাঠপর্যায়ে নারী কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক মসজিদগুলোর ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষার জন্য নতুন করে ১১৫ জন নারী মসজিদ পরিদর্শক ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিয়েছে প্রশাসন।

মদিনার সব মসজিদে নারীদের জন্য ৫ ওয়াক্ত নামাজের স্থান খোলা রাখার অনুমোদন

সূরা আল-ফাতিহার তাফসীর ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ

বিষয়ভিত্তিক সারসংক্ষেপপবিত্র কুরআনের প্রথম ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-ফাতিহার তাফসীর ও তাৎপর্য নিয়ে একটি সুবিন্যস্ত ও বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে উপস্থাপন করা হলো:১. সূরা আল-ফাতিহার ফযীলত ও অনন্য বৈশিষ্ট্যকুরআনের প্রবেশদ্বার: এটি দিয়েই পবিত্র কুরআন এবং সালাত (নামাজ) শুরু হয়। এজন্য একে ‘ফাতিহাতুল-কিতাব’ বা কুরআনের উপক্রমণিকা বলা হয়।অনন্য মর্যাদা: তওরাত, ইনজীল, যাবুর কিংবা অন্য কোনো আসমানী কিতাবে—এমনকি পবিত্র কুরআনেও সূরা আল-ফাতিহার সমকক্ষ অন্য কোনো সূরা নেই।রোগের মহৌষধ (সূরায়ে শেফা): মহানবী (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, "সূরায়ে ফাতিহা প্রতিটি রোগের মহৌষধ।"সর্বশ্রেষ্ঠ সূরা: হাদীস অনুযায়ী, সমগ্র কুরআনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ সূরা হলো "আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন"।বিভিন্ন নাম: বিষয়বস্তুর গভীরতার কারণে একে ‘উম্মুল কোরআন’ (কুরআনের মূল/মাতা), ‘উম্মুল কিতাব’ এবং ‘কোরানে আযীম’ বলা হয়ে থাকে।২. মূল তথ্য, আয়াত ও বাংলা অনুবাদঅবতীর্ণের স্থান: মক্কা মুকাররমা (মাক্কী সূরা)।আয়াত সংখ্যা: ৭টি।অর্থ ও অনুবাদ:১. যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্ তা'আলার, যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।২. যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু।৩. যিনি বিচার দিনের মালিক।৪. আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।৫. আমাদেরকে সরল-সঠিক পথ দেখাও।৬. সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ।৭. তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।৩. ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’-এর তাফসীর ও তাৎপর্যকুরআনের অবস্থান: এটি সূরা আন-নামল-এর একটি পূর্ণাঙ্গ আয়াতের অংশ এবং অন্যান্য সূরার শুরুতে সংযোগ বা পার্থক্য নির্দেশক স্বতন্ত্র আয়াত।ঐতিহাসিক পটভূমি: প্রাক-ইসলামী যুগে আরবরা ‘বাসমিকাল্লাহুম্মা’ বলত। কিন্তু ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ নাযিল হওয়ার পর থেকে ইসলামী রীতি অনুযায়ী প্রতিটি শুভ কাজ এটি দিয়ে শুরু করার বিধান প্রবর্তিত হয়।বরকত ও কল্যাণ: বিসমিল্লাহ ছাড়া শুরু করা কাজে কোনো বরকত থাকে না। দৈনন্দিন কাজ (যেমন: খাওয়া, পান করা, ওজু করা, বাহনে চড়া বা দরজা বন্ধ করা)-র শুরুতে এটি পাঠ করা সুন্নাত।শব্দ বিশ্লেষণ: ‘বিসমিল্লাহ’ গঠিত হয়েছে তিনটি অংশ দিয়ে—‘বা’ (সাহায্য বা সংযোগ), ‘ইসম’ (নাম) এবং ‘আল্লাহ’।৪. গঠনশৈলী ও কাঠামোগত বিন্যাসসূরা আল-ফাতিহার সাতটি আয়াতকে ৩টি মূলভাগে নিখুঁতভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে:অংশআয়াতসমূহবিষয়বস্তুপ্রথম অংশ১-৩ নম্বর আয়াতসম্পূর্ণভাবে আল্লাহর একক প্রশংসা, গুণকীর্তন ও ঈমানের মৌলিক বিষয় (তাওহীদ ও পরকাল)।মধ্যবর্তী অংশ৪ নম্বর আয়াতআল্লাহর প্রশংসা এবং বান্দার আকুতির এক অপূর্ব সংমিশ্রণ (আমরা তোমারই ইবাদত করি ও তোমারই সাহায্য চাই)।শেষ অংশ৫-৭ নম্বর আয়াতবান্দার পক্ষ থেকে হেদায়েতের জন্য আকুল প্রার্থনা ও দোয়ার শিষ্টাচার।৫. আয়াতভিত্তিক বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও গূঢ় অর্থক. আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন (الحمد لله رب العالمين)আলহামদু (সকল প্রশংসা): বিশ্বজগতের যেকোনো স্থানে যে কারো দ্বারা যত প্রশংসা প্রকাশ পায়, তার প্রকৃত হকদার ও রূপকার হলেন একমাত্র আল্লাহ।রব্বিল আলামীন (সৃষ্টিজগতের পালনকর্তা): ‘রব’ তিনি, যিনি সৃষ্টিকে ধারাবাহিকভাবে লালন-পালন করে পূর্ণতার দিকে নিয়ে যান। ‘আলামীন’ হলো বহুবচন (চন্দ্র-সূর্য, মানুষ, জ্বিন, উদ্ভিদ ইত্যাদির পৃথক পৃথক জগত বা আলম)। আল্লাহ এই সমস্ত জগতের একমাত্র লালনকর্তা।খ. আর-রাহমানির রাহীম (الرحمن الرحيم)দুটি শব্দই আল্লাহর অসীম রহমত ও করুণার আধিক্য প্রকাশ করে। আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা প্রতিদানের আশা ছাড়া কেবলই পরম দয়ায় প্রতিপালন করেন।গ. মালিকি ইয়াওমিদ্দীন (مالك يوم الدين)মালিক ও ইয়াওমিদ্দীন: ‘ইয়াওমিদ্দীন’ অর্থ বিচার বা প্রতিদান দিবস। দুনিয়াতে মানুষকে সাময়িক মালিকানা দেওয়া হলেও আখেরাতের বিচারে একমাত্র আল্লাহর একক ও নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রকাশ পাবে।ঘ. ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তায়ীন (إياك نعبد وإياك نستعين)নাবুদু (একমাত্র তোমারই ইবাদত করি): ইবাদত অর্থ পরম ভালোবাসা ও ভক্তির সাথে চূড়ান্ত বিনয় প্রকাশ করা। এটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য প্রযোজ্য নয়।নাস্তায়ীন (তোমারই কাছে সাহায্য চাই): মানুষ প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর মুখাপেক্ষী। এই আয়াত শেখায়, সব ধরণের সাহায্য পাওয়ার মূল উৎস একমাত্র আল্লাহ তা'আলা।ঙ. হেদায়েতের প্রার্থনা (اهدنا الصراط المستقيم...)হেদায়েতের স্তরসমূহ:১. সাধারণ জ্ঞান: যা সকল প্রাণী ও সৃষ্টিকে টিকে থাকার তাগিদ দেয়।২. বিবেকবুদ্ধি ভিত্তিক জ্ঞান: মানুষ ও জ্বিনকে ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝাতে সাহায্য করে।৩. বিশেষ তৌফিক: ঈমানদারদের জন্য আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও নৈকট্য, যা বৃদ্ধির প্রার্থনা নবী-রাসূলগণও করতেন।সারকথা: সূরা আল-ফাতিহা একজন বান্দাকে আল্লাহর দরবারে সঠিক পথের (সিরাতুল মুস্তাকীম) জন্য আবেদন করা এবং অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্টদের রুট এড়িয়ে চলার হেদায়েত দান করে।আপনার সুবিধার্থে মূল তাফসীরের আলোকে তৈরি করা কুইজ নিচে যুক্ত করা হলো:📝 সূরা আল-ফাতিহা আত্মস্থকরণের কুইজ১. হাদীস অনুযায়ী সূরা আল-ফাতিহার বিশেষ নামটি কী?(ক) সূরাতুদ্ব দোয়া(খ) সূরায়ে শেফা(গ) সূরাতুল জিলজাল২. সূরা আল-ফাতিহার মধ্যবর্তী (৪র্থ) আয়াতের মূল বৈশিষ্ট্য কী?(ক) এতে কেবল আল্লাহর শাস্তির কথা বলা হয়েছে(খ) এতে আল্লাহর প্রশংসা এবং বান্দার দোয়ার সংমিশ্রণ রয়েছে(গ) এটি কেবল ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণ৩. ‘রব’ শব্দের মূল অর্থ কী?(ক) যিনি শুধুমাত্র সৃষ্টি করেন(খ) যিনি লালন-পালন করে পূর্ণতার দিকে নিয়ে যান(গ) যিনি কেবল বিচার করেন(উত্তরসমূহ: ১-খ, ২-খ, ৩-খ)সূরার এই গভীর শিক্ষাগুলো রিভিশন দেওয়া বা মূল মূল্যায়ন যাচাইয়ের জন্য এটি কার্যকর হবে। 

সূরা আল-ফাতিহার তাফসীর ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ

স্বামী-স্ত্রীর জামাতে নামাজ আদায়ের নিয়ম ও ফজিলত

স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করলে দাম্পত্য সম্পর্কে সৌহার্দ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ঘরে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও বরকত নাজিল হয়। গ্রহণযোগ্য কোনো ওজর থাকলে ফরজ নামাজ এবং সাধারণ অবস্থায় নফল বা তাহাজ্জুদের নামাজ স্বামী-স্ত্রী ঘরে জামাতে আদায় করা অত্যন্ত সুন্নাহসম্মত ও প্রশংসনীয় আমল।ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে ইকামতও স্বামীই দেবেন। নারীদের জন্য আজান বা ইকামত দেওয়া শরিয়তে মাকরুহ। বায়হাকি শরিফের হাদিসে এসেছে, হজরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— নারীদের ওপর আজান, ইকামত, জুমা এবং জুমার গোসল আবশ্যক নয়।নফল বা তাহাজ্জুদের জামাতে স্বামী ইমামতি করবেন, তবে এতে ইকামতের প্রয়োজন নেই।জামাতে স্ত্রী স্বামীর ডান পাশে কিছুটা পিছিয়ে দাঁড়াবেন (স্ত্রীর পায়ের গোড়ালি যেন স্বামীর গোড়ালি থেকে কিছুটা পেছনে থাকে)।পুরুষ মুক্তাদি একজন হলে একদম পাশে বরাবর দাঁড়ানোর নিয়ম থাকলেও, নারী মুক্তাদির ক্ষেত্রে সামান্য পিছিয়ে দাঁড়ানোই শরিয়তের বিধান।স্ত্রী কখনোই স্বামীর একদম সমান বরাবর দাঁড়াবেন না; বরাবর দাঁড়িয়ে নামাজ পড়লে নামাজ ফাসিদ বা বাতিল হয়ে যায়।নামাজে ইমাম (স্বামী) কোনো ভুল করলে স্ত্রী কথা না বলে নিজ বাম হাতের পিঠের ওপর ডান হাত দিয়ে চাপড়ে মৃদু শব্দ (তালি বা তাসফিক) সৃষ্টি করে স্বামীকে সতর্ক করবেন।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "নামাজে কোনো সমস্যা উপস্থিত হলে সে যেন 'সুবহানাল্লাহ' বলে... আর তালিয়া বা হাতে আওয়াজ করা তো নারীদের জন্য।" (বুখারি: ১২০১)আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন— "তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা কর..." (সুরা আল-মায়েদাহ: ২)।যে দম্পতি গভীর রাতে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করে এবং একে অপরকে নামাজের জন্য ডেকে তোলে, তাদের জন্য মহানবী (সা.) বিশেষ রহমতের দোয়া করেছেন। হাদিস অনুযায়ী, আল্লাহ সেই পুরুষ ও নারীর ওপর রহম করেন, যারা রাতে নিজে সালাত আদায় করে এবং অন্যজনকে ভালোবেসে ডেকে তোলে (প্রয়োজনে চেহারায় হালকা পানি ছিটিয়ে জাগিয়ে দেয়)।

স্বামী-স্ত্রীর জামাতে নামাজ আদায়ের নিয়ম ও ফজিলত

সৌদিতে রমজানের দিনক্ষণ নিয়ে আগাম হিসাব

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের প্রস্তুতি ও সময় গণনা শুরু হয়েছে সৌদি আরবে। আগামী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস সৌদি আরবে ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) শুরু হতে পারে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী। তবে রমজান শুরুর বিষয়টি হিজরি পঞ্জিকা অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। ইসলামি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, ১৪৪৮ হিজরির রমজান হবে ২০২৭ সালের রমজানটি। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ ও তথ্য বিশ্লেষণ করে সৌদি আরবে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম রোজা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, যদি ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ দেখা যায়, তবে সেদিন এশার নামাজের পর থেকে তারাবি শুরু হবে এবং ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে প্রথম রোজা। তবে মেঘলা আকাশ বা অন্য কোনো কারণে ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা না গেলে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করা হবে এবং সে ক্ষেত্রে রোজা শুরু একদিন পিছিয়ে যাবে। সৌদি আরবসহ গোটা মুসলিম বিশ্বে রমজানের আনুষ্ঠানিক সূচনার জন্য চাঁদ দেখা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা কেবল একটি পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হয় এবং চাঁদ দেখা সাপেক্ষেই চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে। উল্লেখ্য, ভৌগোলিক অবস্থান ও চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে সাধারণত সৌদি আরবের পরদিন বাংলাদেশে রোজা শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাংলাদেশে ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে ৯ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার)। সূত্র: ইসলামিক ইনফরমেশন

সৌদিতে রমজানের দিনক্ষণ নিয়ে আগাম হিসাব

স্ত্রীকে ‘আপু’ বা ‘বোন’ বললে কি তালাক হয়ে যাবে?

স্ত্রীকে ‘আপু’ বা ‘বোন’ এবং একইভাবে স্ত্রী স্বামীকে ‘ভাই’ বা ‘ভাইয়া’ বলে ডাকলে তালাক হবে না এবং কোনো কাফফারাও দিতে হবে না। তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে এভাবে সম্বোধন করা মাকরুহ (অপছন্দনীয়)।ভালোবাসা বা অভ্যাসবশত কাউকে বোন বা আপু ডাকলে বিবাহবিচ্ছেদ (তালাক) ঘটে না এবং শরিয়ত অনুযায়ী কোনো কাফফারাও ওয়াজিব হয় না। বৈবাহিক সম্পর্ক পূর্বের মতোই বহাল থাকবে।হাদিস শরিফে এভাবে সম্বোধন করতে নিষেধ করা হয়েছে:আবু তমিমা আল জুহামী (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল, ‘হে আমার বোন’। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, “সে কি তোমার বোন?” তিনি এ রকম সম্বোধন অপছন্দ করলেন এবং তা থেকে নিষেধ করলেন। (সুনানে আবু দাউদ: ২২০৪, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক: ৭/১৫২)স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ পায়—এমন সম্মানজনক নামে ডাকা উচিত।পরস্পরকে নিজস্ব নাম ধরে ডাকা যাবে (যদি স্থানীয় সংস্কৃতিতে তা অসম্মানজনক না হয়)।সন্তানদের নামের সাথে সম্পৃক্ত করে (যেমন: অমুকের আব্বু/আম্মু) অথবা অন্য যেকোনো ভালোবাসাপূর্ণ নামে সম্বোধন করা সর্বোত্তম।

স্ত্রীকে ‘আপু’ বা ‘বোন’ বললে কি তালাক হয়ে যাবে?

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.): তাৎপর্য ও পবিত্রতার বিশেষ বার্তা

হিজরি বর্ষপঞ্জির ১২ রবিউল আউয়াল বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি অত্যন্ত পবিত্র ও বরকতময় দিন। এটি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র ধরণীতে আগমন (জন্ম) এবং তাঁর এই ধরা ধাম থেকে বিদায় (ওফাত)-এর স্মারক। মুসলিম বিশ্বে এ দিনটি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে 'ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)' হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে দিনটি অত্যন্ত মর্যাদার সাথে উদযাপিত হয় এবং সরকারি ছুটির বিধান বহাল রয়েছে।আজ থেকে ১৪শ বছরেরও বেশি আগে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের এ দিনে (১২ রবিউল আউয়াল) আরবের পুণ্যভূমি মক্কায় কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। সে সময় পুরো আরব সমাজ অজ্ঞতা, অনাচার ও কুসংস্কারে নিমজ্জিত ছিল, যাকে ইতিহাসের ভাষায় 'আইয়ামে জাহেলিয়াত' বলা হয়।মহানবী (সা.) তাওহিদের বাণী এবং সুমহান মানবীয় আদর্শ নিয়ে প্রেরিত হন। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান জানান এবং সত্য, ন্যায় ও মানবতার বিজয় নিশ্চিত করেন। ঠিক ৬৩ বছর পর একই দিনে (১২ রবিউল আউয়াল) তিনি নশ্বর পৃথিবী ত্যাগ করেন।মহানবী (সা.)-এর আগমনে আরবের বুকে শান্তি, সাম্য ও ন্যায়ের রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি দাসপ্রথা, বর্ণবাদ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে সুশাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করেন।আল্লাহ তাআলা সুরা ইউনুসে রহমত ও অনুগ্রহ পাওয়ার পর খুশি প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। মহানবী (সা.) মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত (রহমাতুল্লিল আলামিন), তাই তাঁর আগমন উপলক্ষ্যে আনন্দ ও শুকরিয়া প্রকাশ করাই মিলাদুন্নবীর মূল উদ্দেশ্য।ঈদে মিলাদুন্নবী কেবল আনুষ্ঠানিক পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর আসল শিক্ষা হলো মহানবীর (সা.) প্রতিটি কথা, কর্ম ও আদর্শকে (সুন্নাহ) ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে বাস্তবায়ন করা।বিশ্বজুড়ে এবং বাংলাদেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, দরুদ ও সালাম পাঠ, মিলাদ মাহফিল এবং জিলুস (র্যালি)-এর মাধ্যমে দিনটি উদ্যাপন করেন। বিভিন্ন মসজিদ ও সামাজিক-ধর্মীয় সংস্থায় এ দিন রসুল (সা.)-এর সীরাত ও সান্নিধ্য নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং এতিম-দুস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।ঈদে মিলাদুন্নবীর মূল বার্তা হলো মহানবী (সা.)-এর দেখানো ভ্রাতৃত্ব, ক্ষমাশীলতা ও ভালোবাসার পথে হেঁটে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.): তাৎপর্য ও পবিত্রতার বিশেষ বার্তা

স্বপ্নে নিজের বিয়ে দেখলে কী হয়?

স্বপ্নে নিজেকে নতুন বর বা কনের সাজে দেখলে অথবা নিজের বিয়ে হতে দেখলে মনে নানা কৌতূহল ও নানা প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। ইসলামের দৃষ্টিতে স্বপ্নে নিজের বিয়ে দেখলে এর ব্যাখ্যা কী হতে পারে? বিখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) স্বপ্নের শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে বলেন—মানুষ মূলত দুই ধরনের স্বপ্ন দেখে: হাদিস শরিফে আরও এসেছে, ভালো ও পছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে মহান আল্লাহর প্রশংসা আদায় করা এবং তা কেবল ভালোবাসার মানুষের কাছে বলা উচিত। পক্ষান্তরে, অপছন্দনীয় বা মন্দ স্বপ্ন দেখলে শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে ৩ বার ‘আউজু বিল্লাহ...’ পড়া এবং কারও কাছে তা প্রকাশ না করাই উত্তম। (সহিহ বুখারি: ৬৫৮৪, সহিহ মুসলিম: ৫৮৬২) ১. কোনো অবিবাহিত পুরুষ বা নারী যদি প্রতিনিয়ত বিয়ে করার কথা ভাবেন কিংবা বিয়ের প্রস্তুতি ও আকাঙ্ক্ষায় মশগুল থাকেন, তবে অবচেতন মনের চিন্তার প্রতিফলনে স্বপ্নে বিয়ে দেখাটা খুবই স্বাভাবিক। স্বপ্নের তিন প্রকারের এক প্রকার হলো নিজের অন্তরের কল্পনার প্রকাশ। ২. অবিবাহিত কেউ যদি স্বাভাবিক অবস্থায় স্বপ্নে নিজের বিয়ে দেখে, তবে অনেক ফুকাহায়ে কেরামের মতে এর অর্থ দাঁড়ায়—আল্লাহ তাআলা অলৌকিকভাবে তাঁর রিজিক বা আর্থিক অবস্থায় বরকত দেবেন এবং তিনি অতি দ্রুত সম্পদশালী বা সচ্ছল হয়ে উঠতে পারেন। এর আরেকটি ব্যাখ্যা হলো, আল্লাহর হুকুমে সে শিগগিরই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছে। ৩. কোনো বিবাহিত পুরুষ যদি স্বপ্নে দেখেন যে তিনি আবারও বিয়ে করছেন, তবে এর ব্যাখ্যামূলক অর্থ হলো—তার সামাজিক মর্যাদা ও সার্বিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। তার ব্যবসা-বাণিজ্য বা কর্মক্ষেত্রে অগ্রগতি হবে এবং বিশেষ করে নিজ বংশ বা পরিবার থেকে তিনি বিশেষ কল্যাণ ও সাহায্য লাভ করবেন। ৪. কোনো বিবাহিত নারী যদি স্বপ্নে নিজের দ্বিতীয় বিয়ে হতে দেখেন, তবে কিছু ব্যাখ্যাবিদদের মতে তিনি কারও পক্ষ থেকে কোনো অনিষ্ট বা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। এমন স্বপ্ন দেখলে ভয় না পেয়ে কিছু সদকা করে দেওয়া উত্তম; কারণ সদকা বিপদ-আপদ দূর করে। হাদিস গ্রন্থ উমদাতুল কারি ও ফাতহুল বারি-তে বর্ণিত রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত ফজরের নামাজ আদায়ের পরপরই সাহাবিদের থেকে স্বপ্নের কথা শুনতেন এবং এর সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরতেন।  তবে ফজর পরবর্তী সময়টিই সর্বোত্তম। কারণ এই সময়ে স্বপ্ন দেখার পর বেশি সময় অতিবাহিত না হওয়ায় বিস্তারিত তথ্য মনে থাকে এবং ব্যাখ্যায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

স্বপ্নে নিজের বিয়ে দেখলে কী হয়?

যে আমল করলে খুলে যাবে আপনার বরকতের দরজা

জীবনের প্রতিকূল পরিস্থিতি, দুশ্চিন্তা কিংবা রিজিকের সংকটে নিরাশ না হয়ে রবের দিকে ফিরে আসাই মুমিনের কাজ। গুনাহের কারণে মানবজীবনে অনেক সময় নানা বিপদ নেমে আসে। ইস্তিগফারের (ক্ষমা প্রার্থনা) মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা কেবল পাপই মাফ করেন না, বরং আসমানি বরকত ও মানসিক প্রশান্তির দুয়ার খুলে দেন। চারপাশের পরিস্থিতি যখন প্রতিকূল, তখন নিজেকে নিচের প্রশ্নগুলো করুন: যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে নিরাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেবেন না। বরং ফিরে আসুন আপনার রবের দিকে। বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন। হৃদয় থেকে পড়ুন— اَسْتَغْفِرُ الله - اَسْتَغْفِرُ الله - اَسْتَغْفِرُ الله উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ’। অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ গুনাহের কারণে অনেক সময় আমাদের জীবনে বিপদ নেমে আসে এবং রিজিকের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। ইস্তিগফারের মাধ্যমে যখন আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তখন তিনি শুধু গুনাহই মাফ করেন না, বরং আসমানি বরকতের সব দরজা আমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। কুরআন ও হাদিসের আলোকে ইস্তিগফারের ফজিলত— পবিত্র কুরআনে হজরত নুহ (আ.) তার হতাশাগ্রস্ত ও বিপদাপন্ন কওমকে ইস্তিগফারের প্রতি আহ্বান করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা সেই ঘটনাটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন— فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا * يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا * وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا ‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা তোমাদের সাহায্য করবেন, তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ: আয়াত ১০-১২) ইস্তিগফার যে সব ধরনের দুশ্চিন্তা ও রিজিকের অভাব দূর করে, সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্ট সুসংবাদ দিয়েছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—  مَنْ لَزِمَ الِاسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا ، وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا ، وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করবে (ক্ষমা প্রার্থনাকে নিজের ওপর আবশ্যক করে নেবে), আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতিটি বিপদ থেকে মুক্তির পথ বের করে দেবেন, প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।’ (আবু দাউদ ১৫১৮, ইবনে মাজাহ ৩৮১৯) হতাশা শয়তানের হাতিয়ার, আর ইস্তিগফার হলো মুমিনের ঢাল। জীবনের যত বড় সংকটই আসুক না কেন, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও অনেক বেশি বিশাল। তাই বিপদ কিংবা অভাবের সময় মানুষের কাছে অভিযোগ না করে আসুন আমাদের রবের দরবারে হাত তুলি। উঠতে-বসতে, চলতে-ফিরতে ইস্তিগফারকে আমাদের নিত্যসঙ্গী বানিয়ে নিই। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন, আমাদের মানসিক প্রশান্তি দিন এবং আমাদের রিজিকে অশেষ বরকত দান করুন। আমিন।

যে আমল করলে খুলে যাবে আপনার বরকতের দরজা

পবিত্র জুমার দিনে বিশেষ ১০টি আমল

ইসলাম ধর্মে জুমার দিনকে 'সাপ্তাহিক ঈদের দিন' হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি পাপমুক্তি, আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং মহান আল্লাহর অশেষ রহমত হাসিলের এক বরকতময় দিন। কুরআন ও হাদিসের আলোকে জুমার দিনের বিশেষ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ করণীয় নিচে তুলে ধরা হলো:১. শারীরিক পরিচ্ছন্নতা ও নখ কাটাজুমার প্রস্তুতির প্রথম ধাপই হলো পরিচ্ছন্নতা। গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা ও চুল আঁচড়ে পরিপাটি হওয়া সুন্নতি আমল।২. ভালোভাবে গোসল করাজুমার দিন গোসল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার নামাজে যাওয়ার পূর্বে গোসল করার জোর তাগিদ দিয়েছেন।৩. পরিষ্কার পোশাক, মিসওয়াক ও সুগন্ধি ব্যবহারজুমার দিনে সাধ্যমতো পরিচ্ছন্ন ও উত্তম পোশাক পরিধান করা, মিসওয়াক করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত।৪. সুরা কাহফ পাঠ করাজুমার দিনে সুরা কাহফ তিলওয়াতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এ সুরা তিলওয়াতকারীর জন্য এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত আলোর দ্যুতি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।৫. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করাজুমার দিনটি দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। এ দিনে নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।৬. মসজিদে আগেভাগে যাওয়াসকাল সকাল হেঁটে বা আগেভাগে মসজিদে পৌঁছানোর মাধ্যমে উট, গাভী কিংবা দুম্বা কোরবানির মতো বিশাল সওয়াব অর্জিত হয়।৭. হেঁটে মসজিদে যাওয়াপায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া উত্তম। ঘরে অজু করে হেঁটে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে সওয়াব লেখা হয় এবং গুনাহ মাফ হয়।৮. মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনাখুতবা চলাকালে সম্পূর্ণ নীরব থাকা আবশ্যক। এ সময় কোনো কথা বলা, এমনকি অন্যকে 'চুপ করো' বলাও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য হয়, যা জুমার সওয়াব কমিয়ে দেয়।৯. গুরুত্বসহ জুমার নামাজ আদায়জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা আবশ্যক। আজান হলে সব ধরনের কেনাবেচা বা দুনিয়াবি কাজ বন্ধ করে মসজিদের দিকে ধাবিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ তাআলা (সুরা জুমুআ: ৯)।১০. দোয়া কবুলের সময় সন্ধান করাজুমার দিনে একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে, যখন বান্দার যেকোনা ইবাদত ও দোয়া আল্লাহ কবুল করেন। অধিকাংশ হাদিস অনুযায়ী, এই সময়টি হলো আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

পবিত্র জুমার দিনে বিশেষ ১০টি আমল

ইসলাম গ্রহণের ৫ মাসের মধ্যে কুরআন হিফজ

সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম ‘কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন মুখস্থ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতা’য় অংশ নিয়ে নজর কেড়েছেন পূর্ব আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডির তরুণ পেন্ট্রা বুশিমা আমিন। মাত্র পাঁচ মাসে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করা এই তরুণ প্রতিযোগিতায় নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন প্রতিযোগীর অংশ নেওয়া এই আন্তর্জাতিক আসরে পেন্ট্রার গল্পটি বিশেষভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।ইসলাম গ্রহণ: মাত্র ১৪ বছর বয়সে এক মুসলিম বন্ধুর আমন্ত্রণে ইসলাম সম্পর্কে জানতে শুরু করেন পেন্ট্রা। ইসলামের নীতি ও মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। পরে তাঁর অনুপ্রেরণায় বাবা-মা ও বোনসহ পরিবারের আরও চার সদস্যও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।অদম্য মেধা ও কুরআন হিফজ: ইসলাম গ্রহণের পর পরই তিনি কুরআন মুখস্থ শুরু করেন। কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে মাত্র ৫ মাসে পুরো কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন তিনি।জাতীয় প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আসার আগে বুরুন্ডির জাতীয় পর্যায়ে প্রায় ৫০০ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেন পেন্ট্রা। এই সফলতার সূত্র ধরেই তিনি মক্কার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার টিকিট পান। ৬ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বজুড়ে রেকর্ডসংখ্যক ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন।ইসলাম গ্রহণের মাত্র এক বছরের মাথায় মসজিদুল হারামে বিশ্বমানের হাফেজদের সঙ্গে একই মঞ্চে বুরুন্ডির প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে উচ্ছ্বাস ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পেন্ট্রা।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আইকিউএনএ (IQNA) এবং সৌদি প্রেস এজেন্সি (SPA) পেন্ট্রার এই অর্জনকে কুরআনপ্রেম, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার এক বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেছে।সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম ‘কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন মুখস্থ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতা’য় অংশ নিয়ে নজর কেড়েছেন পূর্ব আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডির তরুণ পেন্ট্রা বুশিমা আমিন। মাত্র পাঁচ মাসে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করা এই তরুণ প্রতিযোগিতায় নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন প্রতিযোগীর অংশ নেওয়া এই আন্তর্জাতিক আসরে পেন্ট্রার গল্পটি বিশেষভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে এক মুসলিম বন্ধুর আমন্ত্রণে ইসলাম সম্পর্কে জানতে শুরু করেন পেন্ট্রা। ইসলামের নীতি ও মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। পরে তাঁর অনুপ্রেরণায় বাবা-মা ও বোনসহ পরিবারের আরও চার সদস্যও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।অদম্য মেধা ও কুরআন হিফজ: ইসলাম গ্রহণের পর পরই তিনি কুরআন মুখস্থ শুরু করেন। কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে মাত্র ৫ মাসে পুরো কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন তিনি।আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আসার আগে বুরুন্ডির জাতীয় পর্যায়ে প্রায় ৫০০ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেন পেন্ট্রা। এই সফলতার সূত্র ধরেই তিনি মক্কার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার টিকিট পান।বৃহৎ আন্তর্জাতিক আসর: ৬ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বজুড়ে রেকর্ডসংখ্যক ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন। ইসলাম গ্রহণের মাত্র এক বছরের মাথায় মসজিদুল হারামে বিশ্বমানের হাফেজদের সঙ্গে একই মঞ্চে বুরুন্ডির প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে উচ্ছ্বাস ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পেন্ট্রা।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আইকিউএনএ (IQNA) এবং সৌদি প্রেস এজেন্সি (SPA) পেন্ট্রার এই অর্জনকে কুরআনপ্রেম, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার এক বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেছে।

ইসলাম গ্রহণের ৫ মাসের মধ্যে কুরআন হিফজ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ২৬ আগস্ট

বাংলাদেশের আকাশে আজ (১৩ আগস্ট) পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামীকাল শুক্রবার সফর মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং আগামী শনিবার (১৫ আগস্ট) থেকে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে।এই হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২৬ আগস্ট (বুধবার) দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ (এনডিসি)। দেশের সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং স্পারসো (SPARRSO) থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে আজ বাংলাদেশের কোনো স্থান থেকে চাঁদ দেখা যায়নি।সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী নদভীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ২৬ আগস্ট

নারীরা কি জানাজায় অংশ নিতে পারবেন?

জানাজা আদায় একজন মুসলমানের জন্য মৃত ব্যক্তির প্রতি শেষ  বিদায়ের নারীরা কি জানাজায় অংশ নিতে পারবেন? এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী—তা নিয়েই আলোচনা। রাসুলুল্লাহ (সা.) জানাজায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে মুসলমানদের উৎসাহিত করেছেন। একটি হাদিসে তিনি ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মৃত ব্যক্তির জানাজা আদায় করবে, সে এক ‘কিরাত’ পরিমাণ সওয়াব লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি জানাজা আদায়ের পাশাপাশি দাফনকার্যেও অংশ নেবে, তার জন্য থাকবে দুই ‘কিরাত’ সওয়াব। এক সাহাবি জানতে চাইলে, ‘দুই কিরাত বলতে কী বোঝায়?’ জবাবে মহানবী (সা.) বলেন, ‘দুই কিরাতের ক্ষুদ্রতম কিরাত ওহুদ পাহাড়ের সমান।’ (ইবনে কাছির) বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের অনেক অঞ্চলে সাধারণত পুরুষরাই জানাজায় অংশ নেন। নারীদের জানাজায় উপস্থিত হতে খুব কমই দেখা যায়। এর ফলে অনেকেই মনে করেন, নারীদের জন্য জানাজা আদায় করা বৈধ নয়। কিন্তু ইসলামি ফিকহের আলোচনায় বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফিকহবিদ আলেমদের মতে, নারীদের জানাজা আদায়ে শরিয়তের পক্ষ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। হারাম শরিফ, মসজিদ কিংবা অন্য যেকোনো স্থানে জানাজা অনুষ্ঠিত হলে নারীরা চাইলে তাতে অংশ নিতে পারবেন। এ বিষয়ে ইসলামি আইনবিদদের মধ্যে মৌলিক কোনো মতভেদ নেই। অর্থাৎ, শরিয়তের দৃষ্টিতে নারীদের জানাজা আদায় করা বৈধ।আরও পড়ুনআরও পড়ুনবিয়ে ‘কঠিন’ হওয়ায় বাড়ছে অনৈতিকতা আলেমরা বলেছেন, নারীরা জানাজায় অংশ নিলেও সেখানে পর্দার বিধান, নিরাপত্তা এবং শরিয়তসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত হওয়া জরুরি। যদি পর্দাহীনতা, নিরাপত্তার ঝুঁকি বা শরিয়তবিরোধী কোনো পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ কারণেই অনেক আলেম সামাজিক বাস্তবতা ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নারীদের জানাজায় অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করে থাকেন। তবে এটি জানাজার বৈধতা অস্বীকার করার কারণে নয়; বরং সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর উদ্দেশ্যে। আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নারীরা জানাজা আদায় করতে পারলেও জানাজার সঙ্গে চলাচলা বা ঘন ঘন কবরস্থানে যাওয়া মাকরূহ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তাই শরিয়তের আলোকে নারীদের জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও জানাজার সঙ্গে কবরস্থান পর্যন্ত যাওয়া কিংবা নিয়মিত কবর জিয়ারতের ক্ষেত্রে সংযম ও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সার্বিকভাবে ইসলামি শরিয়তের আলোকে বলা যায়, নারীদের জানাজা আদায়ে কোনো নিষেধ নেই। তবে এ ক্ষেত্রে পর্দা, নিরাপত্তা এবং শরিয়তের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নারীরা কি জানাজায় অংশ নিতে পারবেন?
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream