স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করলে দাম্পত্য সম্পর্কে সৌহার্দ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ঘরে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও বরকত নাজিল হয়। গ্রহণযোগ্য কোনো ওজর থাকলে ফরজ নামাজ এবং সাধারণ অবস্থায় নফল বা তাহাজ্জুদের নামাজ স্বামী-স্ত্রী ঘরে জামাতে আদায় করা অত্যন্ত সুন্নাহসম্মত ও প্রশংসনীয় আমল।
ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে ইকামতও স্বামীই দেবেন। নারীদের জন্য আজান বা ইকামত দেওয়া শরিয়তে মাকরুহ। বায়হাকি শরিফের হাদিসে এসেছে, হজরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— নারীদের ওপর আজান, ইকামত, জুমা এবং জুমার গোসল আবশ্যক নয়।
নফল বা তাহাজ্জুদের জামাতে স্বামী ইমামতি করবেন, তবে এতে ইকামতের প্রয়োজন নেই।
জামাতে স্ত্রী স্বামীর ডান পাশে কিছুটা পিছিয়ে দাঁড়াবেন (স্ত্রীর পায়ের গোড়ালি যেন স্বামীর গোড়ালি থেকে কিছুটা পেছনে থাকে)।
পুরুষ মুক্তাদি একজন হলে একদম পাশে বরাবর দাঁড়ানোর নিয়ম থাকলেও, নারী মুক্তাদির ক্ষেত্রে সামান্য পিছিয়ে দাঁড়ানোই শরিয়তের বিধান।
স্ত্রী কখনোই স্বামীর একদম সমান বরাবর দাঁড়াবেন না; বরাবর দাঁড়িয়ে নামাজ পড়লে নামাজ ফাসিদ বা বাতিল হয়ে যায়।
নামাজে ইমাম (স্বামী) কোনো ভুল করলে স্ত্রী কথা না বলে নিজ বাম হাতের পিঠের ওপর ডান হাত দিয়ে চাপড়ে মৃদু শব্দ (তালি বা তাসফিক) সৃষ্টি করে স্বামীকে সতর্ক করবেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "নামাজে কোনো সমস্যা উপস্থিত হলে সে যেন 'সুবহানাল্লাহ' বলে... আর তালিয়া বা হাতে আওয়াজ করা তো নারীদের জন্য।" (বুখারি: ১২০১)
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন— "তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা কর..." (সুরা আল-মায়েদাহ: ২)।
যে দম্পতি গভীর রাতে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করে এবং একে অপরকে নামাজের জন্য ডেকে তোলে, তাদের জন্য মহানবী (সা.) বিশেষ রহমতের দোয়া করেছেন। হাদিস অনুযায়ী, আল্লাহ সেই পুরুষ ও নারীর ওপর রহম করেন, যারা রাতে নিজে সালাত আদায় করে এবং অন্যজনকে ভালোবেসে ডেকে তোলে (প্রয়োজনে চেহারায় হালকা পানি ছিটিয়ে জাগিয়ে দেয়)।
মতামত