নীলফামারীর সৈয়দপুরে অতর্কিত হামলা চালিয়ে এক যুবককে রাতের আঁধারে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২ টার দিকে রেলওয়ে বাজারের রেললাইনের পাড় এলাকায় এক চায়ের দোকানে এই ঘটনা ঘটেছে। একদল দুর্বৃত্ত সন্ত্রাসী কায়দায় এই হামলা চালায়।
হামলার শিকার যুবকের নাম হুম্মাম উদ্দিন। সে সৈয়দপুর শিল্প সাহিত্য সংসদ মার্কেটের পিছনে মুন্সিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা জামায়াতে ইসলামীর নেতা মৃত আসলাম ফারুকের ছেলে। একই সাথে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সৈয়দপুর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের সভাপতি বলে জানা গেছে।
ঘটনা সম্পর্কে জানা যায়, ওই সময় হুম্মাম উদ্দিন তার বাসা ও সংলগ্ন পৈত্রিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রিক ওয়ার্কসপের পাশেই রেললাইনের পাড়ে চায়ের দোকানে চা খাওয়ার জন্য যায়। দূর্বৃত্তরা সেখানে এসে অতর্কিত হামলা চালিয়ে টেনে হিঁচড়ে দোকান থেকে বের করে রেললাইনের উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে মাথায়, হাতে ও পায়ে গুরুত্বরভাবে কেটে গেছে।
ফলে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয় এবং রেললাইনের পাশে লুটিয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে ও স্থানীয় লোকজন অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শারিরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
হুম্মামের বন্ধু সুজাউদ্দিন আকতার সিজন বলেন, হুম্মামের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে আক্রমণ করে সন্ত্রাসী কায়দায় কুপিয়েছে। যাদের মধ্যে অনেকেই ছাত্রদলের সাথে সম্পৃক্ত। এটা শান্ত সৈয়দপুর শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির নজির।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এই হত্যাচেষ্টার বিচার চাই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনও থানায় কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি। কারণ আমরা চিকিৎসা নিতে ঢাকায় অবস্থান করছি। ফিরে গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত