বান্দরবান সদর উপজেলার হক টাওয়ারের পেছনে সাঙ্গু নদীর পাড় দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ৩ তলা একটি ভবন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর জায়গায় অবৈধভাবে নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিনেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে নাকি "বাগার অনুমতি" নেওয়া হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটি নদীর একদম কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে। ভবনের গা ঘেঁষেই নদীর পানি। আশপাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। ভবনের দেয়াল ও ছাদে বড় বড় ফাটল দেখা গেছে। বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে এই ভবনসহ আশপাশের এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা রুমি আক্তার বলেন, "এই জায়গাটা আগে নদীর অংশ ছিল। রাতারাতি মাটি ফেলে ভবন তুলেছে। এখন পানি নামার জায়গা নাই। একটু বৃষ্টি হলেই পানি ঘরে ঢুকে যায়। বাচ্চারা এই নোংরা জায়গা দিয়ে স্কুলে যায়, খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।"
আরেক বাসিন্দার অভিযোগ, "শুনেছি পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে। অনুমতি নিলেও তো নদী দখল করে বাড়ি করার কথা না। আমরা অনেকবার বলেছি, কিন্তু কেউ ভাঙতে আসে নাই।"
ছবিতে দেখা যায়, ভবনের পাশ দিয়ে সরু কাদামাটির রাস্তা। সেই রাস্তা দিয়ে শিশুরা চলাচল করছে। ভবনের নিচে এবং নদীর পাড়ে প্লাস্টিক, পলিথিনসহ নানা বর্জ্য পড়ে আছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা তৈরি করলে একদিকে যেমন নদীর স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হয়, অন্যদিকে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ে। বান্দরবানের মতো পাহাড়ি এলাকায় এটি আরও বেশি বিপজ্জনক।
এ বিষয়ে বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, "অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদী দখল করে কোনো স্থাপনা থাকলে সেটি ভাঙার নির্দেশ আছে।"
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ এই ৩ তলা ভবনটি ভেঙে নদীর জায়গা উদ্ধার করা হোক। অন্যথায় সামান্য বৃষ্টিতেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মতামত