দাম্পত্য জীবনের সুখ ও স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ফারাক কতটা হওয়া উচিত—এ নিয়ে নানা সামাজিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক মতামত রয়েছে। তবে সমাজবিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র; একটি দীর্ঘমেয়াদি ও শান্তিময় দাম্পত্যের মূল চাবিকাঠি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা এবং মানসিক পরিপক্বতা।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৫ থেকে ৭ বছরের ব্যবধান থাকলে দম্পতিদের মানসিক পরিপক্বতা ও সমঝোতায় ভালো ভারসাম্য তৈরি হয়, যা অনাকাঙ্ক্ষিত মতবিরোধ কমায়। আবার ১০ বছরের ফারাক থাকলেও অভিন্ন মূল্যবোধ ও জীবনের লক্ষ্য থাকলে সম্পর্ক সুন্দরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব; তবে এ ক্ষেত্রে সম্পর্কে একক কর্তৃত্ব এড়িয়ে চলা জরুরি। অন্যদিকে ব্যবধান ২০ বছর বা তার বেশি হলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা জীবনধারায় অমিল দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বাড়লেও, গভীর বোঝাপড়ার মাধ্যমে এমন বহু সম্পর্ক সফলভাবে টিকে থাকার নজির রয়েছে।
২০১৭ সালের একটি অস্ট্রেলীয় গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব দম্পতির বয়সের ফারাক ১ থেকে ৩ বছর এবং যেখানে পুরুষ সঙ্গী বয়সে বড়, তাদের দাম্পত্য জীবনের সন্তুষ্টির মাত্রা বেশি। তবে বিয়ের ৬ থেকে ১০ বছরের মধ্যে যাদের বিচ্ছেদ ঘটে, তাদের বড় একটি অংশে বয়সের ব্যবধান ৭ বছর বা তার বেশি ছিল। আবার নারীদের বয়স পুরুষ সঙ্গীর চেয়ে বেশি হওয়ার পরও সফল ও সুখী দাম্পত্য বজায় রাখার অঢেল উদাহরণ রয়েছে।
তবে সন্তান গ্রহণের ক্ষেত্রে বয়স একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য মতে, পুরুষের সন্তান জন্মদানের আদর্শ সময় ২১ থেকে ৩৫ বছর। ৩৫ বছরের পর শুক্রাণুর গুণমান কমতে শুরু করে এবং ৪০ পেরোলে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। নারীদের ক্ষেত্রে বিশের কোঠার শুরুর দিক এবং ২৫ থেকে ২৯ বছর মা হওয়ার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।
ত্রিশের পর নারীদের প্রজননক্ষমতা কমে যায় এবং চল্লিশ পেরোলে গর্ভধারণ মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে সন্তানপ্রত্যাশী হলে পুরুষের বয়স ৫০-এর নিচে এবং নারীর বয়স ৪০-এর নিচে থাকা ইতিবাচক।
দিনশেষে কোনো গাণিতিক সূত্রের ওপর নয়, বরং দুটি মানুষের মানসিক নৈকট্য, বিশ্বাস, পারস্পরিক দায়বদ্ধতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পাশে থাকার মাধ্যমেই একটি দাম্পত্যের দীর্ঘস্থায়িত্ব নির্ধারিত হয়।


মতামত