খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংসের রং লাল থেকে হঠাৎ উজ্জ্বল সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনার সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বিষাক্ত কোনো ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব কিংবা পচনের প্রমাণের বদলে রাসায়নিক পরিবর্তনের কারণেই এমনটি ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।
পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে বিএফএসএ জানিয়েছে, মাংসটি দীর্ঘ সময় ফ্রিজে সংরক্ষণের পর উচ্চ তাপে রান্না করা হয়েছিল। ফলে মাংসের ‘মায়োগ্লোবিন’ বা হিম-রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক ও গাঠনিক রূপান্তর ঘটে, যা মাংসকে সবুজ রঙে পরিবর্তিত করে থাকতে পারে।
বিএফএসএর খাদ্য বিশ্লেষণ শাখার প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয় যে, সংগৃহীত নমুনায় কোনো ক্ষতিকারক বা পিগমেন্ট উৎপাদনকারী Pseudomonas ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মেলেনি। মাংসটিতে কোনো পচনশীল দুর্গন্ধ বা আঠালো ভাবও ছিল না। ফলে ব্যাকটেরিয়াজনিত পচন বা জীবাণুর সংক্রমণে এটি ঘটেনি তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে পরীক্ষাগার থেকে রাসায়নিক পরিবর্তনের বিষয়টিকেই সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল খুলনার পাইকগাছা বাজারের ‘মর্ডান বেকারি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে। স্থানীয় মাংস বিক্রেতা ইসমাইলের কাছ থেকে চার কেজি গরুর মাংস কিনে রান্নার বসানো হলে হুট করেই তার স্বাভাবিক লালচে রং বদলে উজ্জ্বল সবুজ হয়ে যায়। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। পরে বেকারির কর্মীরা কড়াইসহ বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে অবহিত করেন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসীউজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খুলনা জেলা কার্যালয় কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠায়। ল্যাব পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পর মাংসের রং পরিবর্তনের মূল কারণ প্রকাশ পেল।
মতামত